বুধবার, মার্চ ৩, ২০২১
২০২০ সালে লক্ষ্য পূরণ হয়নি ভিয়েতনামের চাল রফতানির
১৬,জানুয়ারী,শনিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর ধাক্কা লেগেছে ভিয়েতনামের চাল রফতানিতে। সংকটকালে অভ্যন্তরীণ খাদ্যশৃঙ্খল বজায় রাখা ও জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাল রফতানি সাময়িক বন্ধ রেখেছিল ভিয়েতনাম। এর প্রভাব পড়েছে খাদ্যপণ্যটির সামগ্রিক রফতানিতে। ২০২০ সালে ভিয়েতনাম থেকে ৬১ লাখ টনের বেশি চাল রফতানি হলেও খাদ্যপণ্যটির বার্ষিক রফতানি লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি দেশটি। তবে গত বছর চাল রফতানি করে আয় বেড়েছে ভিয়েতনামের রফতানিকারকদের। ভিয়েতনামের রাষ্ট্রায়ত্ত জেনারেল স্ট্যাটিস্টিকস অফিসের (জিএসও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স ও বিজনেস রেকর্ডার। ভিয়েতনাম বিশ্বের পঞ্চম শীর্ষ চাল উৎপাদনকারী দেশ। খাদ্যপণ্যটি রফতানিকারদের বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় দেশটি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। ভিয়েতনামের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী বছরে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৬১ লাখ ৪৬ হাজার টন চাল রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কম। এ সময় চাল রফতানি করে ভিয়েতনামিজ রফতানিকারকদের আয় আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৩০৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা মহামারীর মধ্যে চালের রফতানি মূল্য বাড়তি ছিল। এ কারণে গত বছর চাল রফতানির পরিমাণ কমলেও এ বাবদ ভিয়েতনামের আয় বাড়তির দিকে ছিল। মাসভিত্তিক হিসাবে গত ডিসেম্বরে ভিয়েতনাম থেকে সব মিলিয়ে ৪ লাখ ৪৩ হাজার টন চাল রফতানি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে জিএসও। এ সময় খাদ্যপণ্যটির রফতানি বাবদ দেশটির আয় দাঁড়িয়েছে ২৪ কোটি ডলারে। বিদায়ী বছরজুড়ে প্রায় সাড়ে ৬১ লাখ টন চাল রফতানি করলেও খাদ্যপণ্যটির বার্ষিক রফতানি লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে ভিয়েতনাম। ভিয়েতনাম ফুড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৬৩ লাখ টন চাল রফতানি হয়েছিল। আয় হয়েছিল ২৮০ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ২০২০ সালে ভিয়েতনাম থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৬৭ লাখ টন চাল রফতানির পূর্বাভাস দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু করোনা মহামারী এ লক্ষ্য পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছর লক্ষ্যের তুলনায় ৫ লাখ ৫৪ হাজার টন কম চাল রফতানি করতে পেরেছে ভিয়েতনাম। ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বছরজুড়ে ভিয়েতনাম থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৬৪ লাখ টন চাল রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটি থেকে খাদ্যপণ্যটির রফতানি আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমতে পারে। ২০১৯ সালে ভিয়েতনাম থেকে মোট ৬৭ লাখ টন চাল রফতানি হয়েছিল। ২০২০ সাল শেষে ইউএসডিএর এ লক্ষ্য পূরণেও ব্যর্থ হয়েছে ভিয়েতনামের চাল রফতানি খাত। চাল রফতানিতে বার্ষিক লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতার পেছনে করোনা মহামারীকে দায়ী করছেন ভিয়েতনামের ব্যবসায়ী ও রফতানিকারকরা। তাদের ভাষ্য, গত বছরের মার্চের শেষভাগে চাল রফতানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভিয়েতনাম সরকার। মূলত করোনাকালে জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অভ্যন্তরীণ খাদ্যশৃঙ্খল নির্বিঘ্ন রাখতে সাময়িক এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে মে মাসে এসে বিদ্যমান এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। ফলে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে চাল রফতানি ফের শুরু হয়। তবে খাদ্যপণ্যটির রফতানিতে এ সাময়িক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে বার্ষিক রফতানি লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হতো। করোনাকালীন সংকট কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া আরো সহজ হতো ভিয়েতনামের চাল রফতানি খাতের।
বরিশালে আগাম ইরি-বোরো চাষে ব্যস্ত কৃষক
১৪,জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বরিশালের বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকরা আগাম ইরি-বোরো চাষে নেমেছেন। বিশেষ করে আগৈলঝাড়া উপজেলায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের শুরুতেই কনকনে শীত উপেক্ষা করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানের চারা বীজ লাগাতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। কৃষকরা জানিয়েছেন, গতবারের চেয়ে এবার দ্বিগুণ চাষি আগাম ইরি-বোরো চাষের জন্য কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। অন্য বছরের ন্যায় এবারও ইরি-বোরোর পুরো মৌসুমে সার ও সেচকাজের জন্য সঠিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে চলতি মৌসুমেও ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। এছাড়া, অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দোলন চন্দ্র রায় জানান, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে মোট প্রায় ৯ হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষ করে উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, যার মধ্যে ৪৮ হাজার ৪শ মেট্রিক টন হাইব্রিড ও ২ হাজার ৫০ মেট্রিক টন উফসী চাল। এ কৃষিবিদ আরও জানান, উপজেলায় মোট আবাদি জমির মধ্যে ৮ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধান ও ৫শ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল (উফসী) বোরো ধান আবাদ করা হবে। এর মধ্যে ৪৫০ হেক্টর জমিতে আগাম বোরো আবাদ করেছেন চাষিরা। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সূত্র মতে, চলতি রবি মৌসুমে ৯১ জন চাষিকে সরিষা, ভুট্টা, মুগ, মশুর, খেসারি, আলু ও আখের বীজ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, সরকারের পুনর্বাসন বীজ সহায়তা, প্রণোদনা, প্রকল্প ও রাজস্ব খাতের আওতায় উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৪ হাজার ৩২৫টি কৃষক পরিবারকে ধানের বীজসহ বিভিন্ন ধরনের বীজ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
১০ লাখ টাকার মেয়াদি আমানতে ৮০ লাখের ইন্স্যুরেন্স সুবিধা এবি ব্যাংকে
১২,জানুয়ারী,মঙ্গলবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: এবি নিশ্চিন্ত- নামের একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রডাক্ট চালু করেছে বেসরকারি এবি ব্যাংক। এ প্রডাক্টের আওতায় ১০ লাখ টাকার বেশি মেয়াদি আমানত করলে গ্রাহকরা ৮০ লাখ টাকার ইন্স্যুরেন্স সুবিধা পাবেন। গতকাল রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে এবি নিশ্চিন্ত নামের প্রডাক্টটি উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ৫-১০ লাখ টাকার মেয়াদি আমানত করলে গ্রাহকরা ৫০ লাখ টাকার ইন্স্যুরেন্স সুবিধা পাবেন। আর মেয়াদি আমানত ১০ লাখ টাকার বেশি হলে কোনো প্রিমিয়াম প্রদান ছাড়াই মেট লাইফ থেকে ৮০ লাখ টাকার ইন্স্যুরেন্স সুবিধা পাবেন গ্রাহকরা। নতুন প্রডাক্ট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এবি ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আফজাল সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। নতুন প্রডাক্টটি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন এবি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিটেইল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান আবদুর রহমান। আবদুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশে ৬১টি ব্যাংক হয়েছে। কিন্তু এবি ব্যাংক নতুন যে প্রডাক্টটি নিয়ে এসেছে, তা কেউ চিন্তা করতে পারেনি। মানুষের জীবন অনিশ্চয়তায় ভরা। করোনা মহামারী আমাদের জীবনের অনিশ্চিত দিকগুলোকে আরো বেশি করে স্পষ্ট করে দিয়েছে। এ অবস্থায় দেশের সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করেই এবি নিশ্চিন্ত- প্রডাক্টটি সাজানো হয়েছে। তিনি বলেন, এবি ব্যাংকের শাখার পাশাপাশি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে নতুন প্রডাক্টটি চালু করা যাবে। আমাদের ব্যাংকের হেলপলাইনে ফোন করলে আমরা বাড়িতে গিয়েও গ্রাহকদের সেবাটি দিতে চাই। আমেরিকান ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি মেটলাইফ সারা বিশ্বেই সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছে। এবি ব্যাংক মেটলাইফের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আমানতকারীদের বীমা সুবিধাটি দেবে। ৫-১০ লাখ টাকা মেয়াদি আমানত রেখে গ্রাহকরা ৫০ লাখ টাকার এবং ১০ লাখ টাকার বেশি আমানত রেখে ৮০ লাখ টাকার বীমা সুবিধা প্রাপ্য হবেন। গ্রাহক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা গেলে তার পরিবার বীমাকৃত অর্থ পাবেন। আর স্বাভাবিক মৃত্যু হলে ২০ লাখ টাকার বীমা সুবিধা পাবেন। বীমার জন্য গ্রাহককে কোনো প্রিমিয়াম জমা দিতে হবে না। আমানতটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মেয়াদ বাড়বে। প্রতি মেয়াদ শেষে সর্বোচ্চ হারে গ্রাহক মুনাফা সুবিধা প্রাপ্য হবেন। অনুষ্ঠানে এবি ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আফজাল বলেন, এবি ব্যাংক দেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক। দেশের ব্যাংকিং খাতের নিত্যনতুন ও বৈচিত্র্যপূর্ণ অনেক সেবাই এবি ব্যাংকের হাত ধরে এসেছে। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবেই আমরা এবি নিশ্চিন্ত প্রডাক্টটি চালু করেছি। তিনি বলেন, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দুই বছর ধরে আমরা অভিযান চালিয়েছি। এ অভিযান চলমান থাকবে। সংকট কাটিয়ে এবি ব্যাংক স্বমহিমায় ফিরেছে। বিদায়ী বছরে আমরা আগের চেয়ে বেশি মুনাফা করেছি। ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ও হার কমেছে। অনুষ্ঠানে ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাজ্জাদ হুসাইন, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসিয়া আই মুতাসিমসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশে হুন্দাই গাড়ির কারখানা করবে ফেয়ার টেকনোলজি
০৮,জানুয়ারী,শুক্রবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বখ্যাত গাড়ি প্রস্তুতকারী কোম্পানি হুন্দাই মোটর কোম্পানির বাংলাদেশের একমাত্র পরিবেশক ফেয়ার টেকনোলজি লিমিটেড গতকাল দেশেই হুন্দাই গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে হাই-টেক পার্কে জমি বরাদ্দের বিষয়ে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ও ফেয়ার টেকনোলজির মধ্যে একটি চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে। রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) হোসনে আরা বেগম ও ফেয়ার টেকনোলজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল আলম আল মাহবুব নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং কেয়ান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম, ফেয়ার টেকনোলজির ডিরেক্টর মুতাসিম দাইয়ান, ফেয়ার গ্রুপের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) হামিদ আর চৌধুরী, চিফ মার্কেটিং অফিসার মেসবাহ উদ্দিনসহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ফেয়ার গ্রুপের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের অটোমোবাইল গ্রাহকদের সম্পূর্ণ নতুন গাড়ি ও মানসম্পন্ন বিক্রয়োত্তর সেবা দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে ফেয়ার টেকনোলজির নিজস্ব অর্থায়নে ও হুন্দাই মোটর কোম্পানির কারিগরি সহায়তায় গাজীপুরের কালিয়াকৈরে প্রায় ছয় একর জমির ওপর গড়ে উঠবে হুন্দাই গাড়ি উৎপাদনকারী কারখানা। প্রাথমিকভাবে হুন্দাইয়ের সাম্প্রতিক মডেলের সর্বাধিক জনপ্রিয় সেডান, এসইউভি ও এমপিভি উৎপাদনের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। কারখানাটি বাংলাদেশ সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী স্থাপিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে, ফেয়ার টেকনোলজির মাধ্যমে বিশ্বখ্যাত হুন্দাই গাড়ির কারখানা বাংলাদেশে স্থাপন হচ্ছে। এটি অন্যতম মাইলফলক হয়ে থাকবে। হুন্দাইয়ের মতো বিশ্বখ্যাত গাড়ি বাংলাদেশে নির্মাণ শুরু হলে বিশ্বের কাছে যেমন বাংলাদেশের মর্যাদা অনেক বাড়বে, তেমনি এ কারখানা বাংলাদেশে যোগাযোগ ও কর্মসংস্থান তথা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) হোসনে আরা বেগম বলেন, ফেয়ার টেকনোলজির সঙ্গে চুক্তি করতে পেরে আমরা অত্যন্ত খুশি। কারণ হুন্দাইয়ের মতো বিশ্বখ্যাত গাড়ি হাই-টেক পার্কে তৈরি হলে তা যেমন বিদেশী বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করবে, তেমনি যোগাযোগ ও প্রযুক্তি শিল্পে বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে। ফেয়ার টেকনোলজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল আলম আল মাহবুব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ স্বপ্ন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফেয়ার টেকনোলজি বাংলাদেশে হুন্দাই গাড়ি তৈরি করবে। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে হুন্দাই গাড়ি উৎপাদন কারখানার ঘোষণা দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। হুন্দাইয়ের প্রযুক্তি ও দক্ষতা ব্যবহার করে আমরা নিশ্চিত করব যেন হুন্দাইয়ের বিশ্বমানের গাড়ি বাংলাদেশের গ্রাহকরা সাশ্রয়ী মূল্যে কিনতে পারেন।
মার্সেল ফ্রিজ-ওয়াশিং মেশিনে প্রতি ঘণ্টায় টিভি ফ্রি
০৬,জানুয়ারী,বুধবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড মার্সেল সারা দেশে শুরু করেছে- ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-৯। এর আওতায় ক্রেতাদের জন্য প্রতি- ঘণ্টায় টিভি ফ্রি শীর্ষক সুবিধা ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সিজন-৯ এ মার্সেল ফ্রিজ অথবা ওয়াশিং মেশিন কিনে ক্রেতারা প্রতি ঘণ্টায় টিভি ফ্রি পেতে পারেন। এছাড়া থাকছে লাখ লাখ টাকার নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচার। ২ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে কার্যকর করা হয়েছে এই সুবিধা। বুধবার (০৬ জানুয়ারি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। রাজধানীর মার্সেল করপোরেট অফিসে আয়োজিত এক ডিক্লারেশন প্রোগ্রামে- ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-৯ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। অনলাইনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক এস এম আশরাফুল আলম ও তাহমিনা আফরোজ তান্না। ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন প্রকৌশলী গোলাম মুর্শেদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নজরুল ইসলাম সরকার, ইভা রিজওয়ানা নিলু, এমদাদুল হক সরকার ও মো. হুমায়ূন কবীর, নির্বাহী পরিচালক এস এম জাহিদ হাসান, উদয় হাকিম, মোহাম্মদ রায়হান, প্রকৌশলী আনিসুর রহমান মল্লিক, আরিফুল আম্বিয়া, আমিন খান, ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রকৌশলী ইয়াসির আল-ইমরান, ফিরোজ আলম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিক্রয়োত্তর সেবাকে অনলাইনের আওতায় আনতে কাস্টমার ডাটাবেজ তৈরি করছে মার্সেল। উদ্দেশ্য, গ্রাহকদের আরও দ্রুত বিক্রয়োত্তর সেবা দেওয়া। আর তাই সারা দেশে চালাচ্ছে ডিজিটাল ক্যাম্পেইন। এখন চলছে সিজন-৯। এর মাধ্যমে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতিতে ক্রেতার নাম, মোবাইল নম্বর এবং বিক্রি করা পণ্যের মডেল ও বারকোডসহ বিস্তারিত তথ্য ওয়ালটনের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ফলে, ওয়ারেন্টি কার্ড হারিয়ে গেলেও দেশের যেকোনো ওয়ালটন সার্ভিস সেন্টার থেকে দ্রুত সেবা পাচ্ছেন গ্রাহক। অন্যদিকে সার্ভিস সেন্টারের প্রতিনিধিরাও গ্রাহকের ফিডব্যাক জানতে পারছেন। এ কার্যক্রমে ক্রেতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উদ্বুদ্ধ করতে ক্যাম্পেইনের প্রতিটি সিজনেই আকর্ষণীয় উপহারসহ লাখ লাখ টাকার নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচার দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে সাশ্রয়ী দামে বিএসটিআইয়ের ফাইভ স্টার এনার্জি এফিশিয়েন্সি রেটিং প্রাপ্ত, ব্যাপক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ইনভার্টার প্রযুক্তির সাইড বাই সাইড গ্লাস ডোরের মতো সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ফ্রিজ ক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছে মার্সেল। ফলে, স্থানীয় বাজারে ব্যাপক গ্রাহকপ্রিয়তা পাচ্ছে মার্সেল ফ্রিজ। আন্তর্জাতিক মান যাচাইকারি সংস্থা নাসদাত ইউনিভার্সাল টেস্টিং ল্যাব থেকে মান নিশ্চিত হয়ে মার্সেলের প্রতিটি ফ্রিজ বাজারে ছাড়া হচ্ছে। আর তাই ফ্রিজে এক বছরের রিপ্লেসমেন্ট সুবিধার পাশাপাশি কম্প্রেসরে ১২ বছরের গ্যারান্টি দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, বাজারে রয়েছে মার্সেলের ৪ মডেলের টপ লোড অটোমেটিক ও ম্যানুয়াল ওয়াশিং মেশিন। এগুলোর দাম ৬ হাজার ৯শ টাকা থেকে ২২ হাজার টাকা। দ্রুত ও সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে সারা দেশে আইএসও সনদপ্রাপ্ত সার্ভিস ম্যানেজমেন্টের আওতায় ৭৬টি সার্ভিস সেন্টার রয়েছে মার্সেলের। যার পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফ্রিজের সার্ভিস দিতে সক্ষম হচ্ছে দেশীয় প্রতিষ্ঠানটি।
টেকসই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শ্রমিকের নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণে মনোযোগ দেয়া জরুরি: মন্নুজান
০৫,জানুয়ারী,মঙ্গলবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের বিভিন্ন শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের বড় অংশ অপুষ্টির শিকার। শুধু তৈরি পোশাকশিল্পেই কর্মরতদের মধ্যে শতকরা ৪৩ জন নারী অপুষ্টিতে ভুগছেন। অপুষ্টির কারণে শ্রমিকের কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা ২০ ভাগ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারের রুপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়ন এবং টেকসই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শ্রমিকের নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া জরুরি। মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) খুলনার সিটি ইন হোটেলে- শ্রমিকদের জন্য বিদ্যমান পুষ্টিসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ প্রকল্প বিষয়ক আলোচনা সভায় বক্তারা এই তথ্য তুলে ধরেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর এবং শ্রম অধিদফতর আয়োজিত- এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। আয়োজনে সহযোগিতায় ছিল সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (গেইন)। অনুষ্ঠানে বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত এবং উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা; তিনি ৪৮ বছর আগে পুষ্টি বিষয়টিকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। সে কারণেই জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টির বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারপ্রধান মনে করেন, অপুষ্টির কারণে সংঘটিত রোগব্যাধি ব্যক্তিজীবনে কর্মঘণ্টা হ্রাস ও আর্থিক ক্ষতিসাধন করে, যা সার্বিকভাবে জাতীয় উন্নয়ন ব্যাহত করে। তাই অপুষ্টির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রুপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়ন এবং টেকসই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শ্রমিকের নিরাপদ খাবার ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণে মনোযোগ দেয়া জরুরি। এছাড়া যারা খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সরবরাহ ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত তাদেরকেও নিরাপদ ও পুষ্টির বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। অনুষ্ঠানে এই সংক্রান্ত উপস্থাপনায় বলা হয়, বাংলাদেশ ও বিশ্বের নানা গবেষণা অনুযায়ী- শ্রমিকের যথাযথ পুষ্টি জাতীয় উৎপাদনশীলতা ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। শুধু আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর উত্পাদনশীলতার পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কমিয়ে দেয়। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খুলনার সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক এ কে এম মিজানুর রহমান, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক ড. মো. মুস্তাফিজুর রহমান, গেইন-বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. রুদাবা খন্দকার, খুলনার ডিভিশনাল কমিশনার ইসমাঈল হোসেন, শ্রমও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের খুলনা ডিভিশনের পরিচালক মিজানুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে শ্রমিকদের পুষ্টির গুরত্ব বিষয়ক উপস্থাপনা তুলে ধরেন গেইন বাংলাদেশের পোর্টফোলিও লিড মনিরুজ্জামান বিপুল। আলোচনায় বক্তারা পুষ্টির ক্ষেত্রে টেকসই ও ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য একটি অ্যালাইন্স তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কেএন৯৫ মাস্ক বাজারে আনল জেএমআই
০৫,জানুয়ারী,মঙ্গলবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাস প্রতিরোধী বিশ্বমানের কেএন নাইন্টি ফাইভ মাস্ক নিয়ে বাজারে এল দেশে চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং। সোমবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই মাস্ক বাজারজাতের প্রক্রিয়া শুরু হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি প্রফেসর ইকবাল আর্সলান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেএন৯৫ মাস্কের কথা এত দিন শোনা গেলেও এখন বিশ্বমানের কেএন নাইন্টিফাইভ মাস্ক আমাদের হাতের নাগালে। কেএন৯৫ মাস্ক বাজারে আনার মাধ্যমে দেশে একটি ইতিহাস তৈরি করেছে জেএমআই। এজন্য জেএমআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রাজ্জাকের দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করেন তিনি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতায় জেএমআই গ্রুপের চেয়ারম্যান জাবেদ ইকবাল পাঠান বলেন, করোনাকালে জেএমআই গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ডিএনএ সলিউশনের ল্যাবের আরটিপিসিআর মেশিনে প্রায় ১০ হাজার পুলিশ সদস্যের করোনা পরীক্ষা হয়েছে। সরবরাহ করা হয়েছে কভিড চিকিৎসার ওষুধপত্র। এই ল্যাবে করোনার জিনম সিকোয়েন্স করছেন বেশ কয়েকজন গবেষক ও শিক্ষক, যারা ইতোমধ্যে ভাইরাসের গতিপ্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চিহ্নিত করতে পেরেছেন। জেএমআই গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রাজ্জাক বলেন, মাস্কটিতে থাকছে পাঁচ স্তরের সুরক্ষা। এর মধ্যে তিন স্তরে থাকছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ফিল্টার পেপার। পরীক্ষামূলক উৎপাদন শেষে দেশ-বিদেশের পরীক্ষাগারে মাস্কের মান ও যোগ্যতা পরীক্ষা করা হয়েছে। আবদুর রাজ্জাক জানান, ১০০ টাকায় প্রতিটি মাস্ক বিক্রি করবে জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড। জেএমআই গ্রুপ দীর্ঘ ২১ বছর চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন ব্যবসায় যুক্ত। কেএন৯৫ মাস্ক তৈরিতে তাদের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে আছে চীনা পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লিজ ফ্যাশন।- বিজ্ঞপ্তি
আবারও দেশের সেরা ব্র্যান্ড বিকাশ
০১,জানুয়ারী,শুক্রবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম পরিচালিত ভোক্তা জরিপে টানা দ্বিতীয়বারের মতো দেশের সেরা ব্র্যান্ড পুরস্কার জিতেছে বিকাশ। ৩৭টি বিভাগে সন্মাননা জানানো ১০৫টি ব্র্যান্ডের মধ্যে বিকাশকে সামগ্রিকভাবে আবারো সেরা ব্র্যান্ড হিসেবে নির্বাচন করেছেন ভোক্তারা। একইসঙ্গে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস বিভাগেও টানা চতুর্থবারের মতো শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হয় বিকাশ। গত বুধবার রাতে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সেরা ব্র্যান্ডগুলোকে পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে সম্মাননা জানানো হয়। এআইইউবির সহযোগিতায় নিয়েলসেন বাংলাদেশের অংশীদারিত্বে এবং ডেইলি স্টারের পৃষ্ঠপোষকতায় ব্র্যান্ড ফোরাম এ আয়োজন করে। নিয়েলসেনের বিশ্বমানের জরিপ পদ্ধতি উইনিং ব্র্যান্ডস অনুসারে এই জরিপ পরিচালিত হয়। এবার দেশজুড়ে প্রায় সাত হাজার ৬০০ ভোক্তা এ জরিপে অংশ নেন। দেশের ব্র্যান্ডগুলোকে অনুপ্রাণিত করতে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম ১২ বছর ধরে বেস্ট ব্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড দিচ্ছে। ভোক্তা সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে যে ব্র্যান্ডগুলো সর্বাধিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে তাদেরই এই সম্মাননা জানানো হয়। সামগ্রিকভাবে সেরা ১৫টি ব্র্যান্ডের মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান লাভ করেছে যথাক্রমে ক্লোজআপ ও ইস্পাহানি। উল্লেখ্য, সম্প্রতি নিয়েলসন পরিচালিত- ক্যাম্পাস ট্র্যাক সার্ভে ২০২০ এ অংশ নিয়ে বিকাশকে সেরা- এমপ্লয়ার অব চয়েস নির্বাচিত করে দেশের শীর্ষ ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ শেষ বর্ষ ও এমবিএ শিক্ষার্থীরা।
কৃষি ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৬৩০ কোটি টাকা
২৬ডিসেম্বর,শনিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর মাসে ব্যাংকগুলোর কৃষি ঋণ বিতরণের অংক আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.৫৯ শতাংশ বা ৬৩০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বেশি। করোনা মহামারির কারণে সৃষ্টি হওয়া অর্থনৈতিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্প্রসারণমূলক আর্থিক নীতিমালা জারি করায় এটি সম্ভব হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত কৃষি ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এই বিতরণের অংক অনেক কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো জুলাই-নভেম্বর মাসে ৮৯৩৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বিতরণ করেছে, আগের বছরের একই সময়ে কৃষি ঋণ বিতরণ হয়েছিল ৮৩০৫ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থ বছরের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২৬,২৯২ কোটি টাকার কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছিল। সেই বিবেচনায় ব্যাংকগুলোর গড়ে ২,১৯১ কোটি টাকা বিতরণ করার কথা। কিন্তু ব্যাংকগুলো কৃষকদের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৮.৪৩ শতাংশ কম বিতরণ করেছে। ঋণ বিতরণের পরিমান প্রথম দুই মাস খুবই ভালো ছিল, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৫ শতাংশ বেশি। ঋণ বিতরণের প্রবৃদ্ধির হার ধীরে ধীরে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রথমবারের মতো ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো ২৪১২৪ কোটি টাকা কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণ বিতরণ করতে ব্যাংকগুলোতে কঠোর নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। কৃষিখাত যেহেতু দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তাই করোনা মহামারির প্রভাব কাটিয়ে উঠতে কৃষি প্রধান অর্থনীতিকে প্রাণবন্ত করতে কৃষি ঋণ বিতরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে দেশের কর্মশক্তির ৪০ শতাংশের বেশি সরাসরি কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। জুনে সারাদেশে বন্যার ফলে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিশাল জনগোষ্ঠী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষিতে জড়িত বলে ব্যাংকগুলোকে খামার ঋণ বিতরণে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কার্যক্রমের অংশ হিসেবে, বন্যাকবলিত খামারিদের জন্য ঝামেলামুক্ত এবং সময়োপযোগী ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল। এ বিষয়ে চলতি বছরের ২৩ জুলাই একটি সার্কুলার জারি করে কৃষকদের ঋণ সুবিধা দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছিল। যাতে তারা হাঁস-মুরগি পালন ও গবাদি পশু পালন ও খাদ উত্পাদনের মত কার্যক্রম শুরু করতে পারে। গত অর্থ বছরের ব্যাংক ঋণের চেয়ে ২০২০-২১ অর্থ বছরের কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালায় ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকো কমিয়ে ২ শতাংশ কমানো হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে কৃষকদের ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা কমানোরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কারণ এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিতে কৃষককে ২০ শতাংশেরও বেশি সুদ দিতে হয়।

অর্থনীতি পাতার আরো খবর