রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০
নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিকল্প অর্থায়নের দাবি বিল্ডের
২৩সেপ্টেম্বর,বুধবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নারী উদ্যোক্তা ও সুবিধাবঞ্চিত কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় পাবলিক-প্রাইভেট ডায়ালগ প্ল্যাটফর্ম বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড)। ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের (আইটিসি) সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে গতকাল অ্যাকসেস টু এমএসএমইজ অ্যান্ড উইম্যান এন্ট্রাপ্রেনিউরস টু স্টিমুলাস প্যাকেজ শীর্ষক ভার্চুয়াল পলিসি ডায়ালগ থেকে এ দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রাম ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী পরিচালক আবু ফারাহ মো. নাসের। প্যানেল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শরিফা খান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিল্ডের চেয়ারপারসন আবুল কাসেম খান। পলিসি ডায়ালগে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিল্ডের গবেষণা সহযোগী বেলালুর রহমান। নারী উদ্যোক্তা ও সুবিধাবঞ্চিত সিএমএসএমইদের জন্য বিকল্প অর্থায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে সিএমএসএমইরা প্রণোদনা প্যাকেজের নির্দেশনার বিষয়ে সচেতন নয়। সেক্ষেত্রে তথ্যের প্রবেশাধিকার সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করতে পারে। সর্বোচ্চ সংখ্যক নারী উদ্যোক্তাকে প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় আনতে প্রণোদনা প্যাকেজের আকার বৃদ্ধির সুপারিশ করে বিল্ড। এছাড়া ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বৃদ্ধিরও সুপারিশ করে প্রতিষ্ঠানটি। আবু ফারাহ মো. নাসের বলেন, শুধু ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজই নয়, সিএমএসএমইদের জন্য আরো বেশকিছু প্যাকেজ রয়েছে। যদি কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক পূর্বের ঋণ পরিশোধের ভিত্তিতে কোনো নারী উদ্যোক্তাকে প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ঋণ প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়, তবে তারা যেন ব্যাংকের নির্দিষ্ট হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমএ বাকি খলিলী, বেসিসের সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির, এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম, আইটিসির শিট্রেডস ইনিশিয়েটিভসের কান্ট্রি ডিরেক্টর তানভির আহমেদ, বিল্ডের সিইও ফেরদাউস আরা বেগম বক্তব্য দেন।
রেমিট্যান্স বিতরণে কৃতিত্বের জন্য কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করল অগ্রণী ব্যাংক
২১সেপ্টেম্বর,সোমবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গত ঈদ উৎসব উপলক্ষে বৈদেশিক রেমিট্যান্স আহরণ ও বিতরণে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য ১০টি শাখার সাতজন শাখাপ্রধান এবং ১০ জন রেমিট্যান্স সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করেছে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড। পুরস্কার বিতরণের জন্য গতকাল ব্যাংকের বোর্ডরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ব্যাংকের এমডি ও সিইও মোহম্মদ শামস্-উল ইসলাম এবং ডিএমডি মো. আনিসুর রহমান ও মো. রফিকুল ইসলামসহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে পুরস্কার হিসেবে একটি করে ল্যাপটপ দেয়া হয়।- বিজ্ঞপ্তি
লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালেও মোংলা বন্দরের মুনাফা কমেছে ১৮ কোটি টাকা
২০সেপ্টেম্বর,রবিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে গত মার্চের পর থেকে উৎপাদন, আমদানি, রফতানি থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যায়ের চাহিদায় এক ধরনের স্থবিরতা নেমে আসে। তবে দেশে লকডাউনে ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নামলেও ব্যতিক্রম ছিল মোংলা সমুদ্রবন্দর। লকডাউনের মধ্যেও বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি চালু ছিল। ফলে এ সময় রাজস্ব আহরণের পরিমাণও বেড়েছে। সবমিলিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৯১ কোটি ৯৬ লাখ ৩১ হাজার টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১১৫ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। যদিও আগের অর্থবছরের তুলনায় মুনাফা কমেছে ১৮ কোটি টাকা। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ বন্দরে ৯১২টি দেশী-বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজ আসে। হ্যান্ডলিং হয় ১ কোটি ১৩ লাখ টন বাল্ক কার্গো এবং ৫৭ হাজার ৭৩২টি ইউজ কনটেইনার জাতপণ্য। আর ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৯০৩টি বাণিজ্যিক জাহাজের বিপরীতে হ্যান্ডলিং হয় ১ কোটি ১০ লাখ টন পণ্য। একই সঙ্গে ৫৯ হাজার ৪৫৭টি ইউজ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। অন্যদিকে আমদানি-রফতানি খাতের পণ্য হ্যান্ডলিং করে ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের আয় হয়েছে ৩২০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি, সংস্কার ও উন্নয়নকাজে ২০৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ফলে এ সময় বন্দর কর্তৃপক্ষের মুনাফা হয় ১১৫ কোটি টাকার বেশি। যেখানে এ সময় মুনাফার লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ৯১ কোটি ৯৬ লাখ ৩১ হাজার টাকা। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩২৯ কোটি ১২ লাখ টাকা আয় হয়। এ সময়ে ব্যয় হয় ১৯৬ কোটি ১১ লাখ টাকা। সে হিসাবে এ অর্থবছরে মুনাফা ছিল ১৩৩ কোটি টাকা। বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত এপ্রিলে বন্দরে জাহাজ আসার সংখ্যা কিছুটা কম হলেও মে ও জুনে সেই সংখ্যা বেড়ে যায়। যে কারণে রাজস্ব আয়ও বাড়ে। ফলে করোনার মধ্যেও রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হয় দেশের দ্বিতীয় এ সমুদ্রবন্দরটি। বন্দর ব্যবস্থাপনা এবং সঠিক নির্দেশনা মেনে চলায় এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে মনে করছেন বন্দরসংশ্লিষ্টরা। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অর্থ ও হিসাবরক্ষণ বিভাগ থেকে জানা যায়, করোনাকালীন গত মে মাসে মোংলা বন্দরে বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজ এসেছে ৫৯টি এবং রাজস্ব আয় হয়েছে ২০ কোটি ২৯ লাখ ৮২ হাজার টাকা। জুনে এসেছে ৫২টি এবং রাজস্ব আয় হয়েছে ১৮ কোটি ৬২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। জুলাইয়ে ৬৪টি জাহাজের বিপরীতে রাজস্ব আয় হয়েছে ২৩ কোটি ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, আগস্টে ৭০টি জাহাজের বিপরীতে আয় হয়েছে ২৪ কোটি ৫২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে গত এক দশকে এ বন্দর দিয়ে দেশী-বিদেশী জাহাজ আসা ও যাওয়ার সংখ্যা বেড়েছে পাঁচ গুণ। সব ক্ষেত্রে রাজস্ব আয় হয়েছে ৩২০ কোটি টাকা। মোংলা বন্দরের ট্রাফিক পরিচালক মো. মোস্তফা কামাল জানান, করোনা পরিস্থিতিতে জাহাজ আগমন ও নির্গমন কার্যক্রমে কোনো ভাটা পড়েনি। এ বন্দরে গত অর্থবছরে ৯০৩টি জাহাজ আসে এবং ১ লাখ ১০ হাজার টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে। এছাড়া করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বন্দরে দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি বলে জানান তিনি। এদিকে করোনার বিস্তার ঠেকাতে লকডাউন চলাকালীন পণ্য বোঝাই ও খালাসে কোনো ধরনের অসুবিধা হয়নি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী মেসার্স নুরু অ্যান্ড সন্সের মালিক এইচএম দুলাল বলেন, করোনাকালীন পণ্য বোঝাই ও খালাসে তাদের কোনো বেগ পেতে হয়নি। সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে যখন করোনার প্রভাবে ভাটা দেখা দিয়েছে। তখন মোংলা বন্দর আমাদের পণ্য ওঠানামা স্বাভাবিক রেখে লক্ষ্যমাত্রার রাজস্ব আয় করেছে। একই ধরনের কথা জানান বন্দরের আরেক ব্যবসায়ী মশিউর রহমান। তার মতে, করোনাকালীন ভিন্ন চিত্র ছিল মোংলা বন্দরের। এ বন্দর দিয়ে তারা নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য ছাড় করাতে পেরেছেন। ফলে বন্দরের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েক লাখ মানুষ করোনার সময়ও তাদের উপার্জন স্বাভাবিক রাখতে পেরেছেন। সার্বিক বিষয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, বিগত বছরের তুলনায় বিদেশনির্ভর খাদ্যশস্য আমদানি হ্রাস এবং করোনাকালীন সময় বেশির ভাগ (অধিক ড্রাফটের) বাণিজ্যিক জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ঘুরে যথাসময় মোংলা পৌঁছাতে পারেনি। তাই বন্দরের আয় গত বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে গেল অর্থবছরে বেশি মুনাফা অর্জন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ইতোমধ্যে নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে সব বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে বন্দর ব্যবহারকারীদের সঙ্গে নিয়ে প্রায় ১০ লাখ ইউজ কনটেইনারজাত পণ্য হ্যান্ডলিং করতে সক্ষম হব। আর চলমান বিশ্বব্যাপী করোনার প্রাদুর্ভাব কাটিয়ে উঠলে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের আয় আরো বৃদ্ধি পাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বন্দরের শীর্ষ কর্মকর্তা।
২০১৯ সালে পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৯০০ কোটি টাকা
১৩সেপ্টেম্বর,রবিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালন মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ২০১৯ সালে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ১৩তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এ তথ্য জানান ব্যাংকের এমডি সিইও মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. জায়েদ বখেতর সভাপতিত্বে সভায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবিএম রুহুল আজাদসহ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও নিরীক্ষা ফার্মের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ব্যাংকের এমডি ও সিইও মোহাম্মদ শামস্-উল ইসলাম বলেন, ২০১৯ সালে ব্যাংকের মোট সম্পদ ২০১৮ সালের তুলনায় ৬ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা বা ৮ দশমিক ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৫ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ব্যাংকের মোট সম্পদের মধ্যে সুদবাহী সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ২ কোটি টাকা, যা মোট সম্পদের ৬২ শতাংশ। ২০১৯ সালে ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ ১৭ দশমিক ৭১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকায়, যা ২০১৮ সালে ছিল ৩৯ হাজার ৫৭৫।
বিশুদ্ধ পানি ব্যবস্থাপনা ও ওষুধ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হাঙ্গেরি
১১সেপ্টেম্বর,শুক্রবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণ, বিশুদ্ধ পানি ব্যবস্থাপনা ও ওষুধ খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে হাঙ্গেরি। গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে বাংলাদেশে সফররত হাঙ্গেরির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার সিজিজারটোর নেতৃত্বে আসা উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠক থেকে এ আগ্রহের কথা জানানো হয়। এজন্য একটি জয়েন্ট ট্রেড কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেন প্রতিনিধি দলটি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রফতানি) মো. ওবায়দুল আজমসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে অ্যাগ্রোফুড প্রসেসিং, বিশুদ্ধ পানি ব্যবস্থাপনা ও ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে হাঙ্গেরির বিনিয়োগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানাবে। এছাড়া আইসিটি, সেবা খাতে বিনিয়োগের প্রচুর সুযোগ রয়েছে দেশটির। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে জাপান, ভারত, চীন, কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে এগিয়ে এসেছে। পরিবর্তনশীল বিশ্ববাণিজ্য পরিস্থিতিতে আমেরিকা, জাপানসহ অনেক দেশ তাদের শিল্প-কলকারখানা বাংলাদেশে স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করছে। দেশগুলো বাংলাদেশকে এখন বিনিয়োগের উপযুক্ত স্থান মনে করছে। হাঙ্গেরির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, সরকার দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগে (এফডিআই) ট্যাক্সসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশ পণ্যের একটি বড় বাজার। এখানে হাঙ্গেরি বিনিয়োগ করলে লাভবান হবে। হাঙ্গেরির ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে আগ্রহী উল্লেখ করে দেশটির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে হাঙ্গেরি অ্যাগ্রোফুড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিসহ বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক ইন্ডাস্ট্রিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও মেশিনারিজ সরবরাহ করার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা আকর্ষণীয়। হাঙ্গেরি এসব সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে চায়। এ সময় করোনা মোকাবেলা, করোনাকালে রফতানি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় হাঙ্গেরি অংশীদার হওয়ার আগ্রহের কথা জানান তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি হাঙ্গেরির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রীর প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দক্ষতার সঙ্গে সফলভাবে কভিড-১৯ মোকাবেলা করছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কলকারখানা চালু রেখে রফতানি বাণিজ্য সচল রেখেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের চাহিদা মোতাবেক বিশ্বমানের মাস্ক, পিপিইসহ বিভিন্ন মেডিকেল পণ্য রফতানি করছে। বাংলাদেশ কভিড-১৯ প্রতিরোধকারী ফ্যাব্রিক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। বিভিন্ন দেশে এগুলোর চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশ বিশ্বমানের মেডিকেল পণ্য উৎপাদন করে প্রায় ১৪২টি দেশে রফতানি করছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে হাঙ্গেরিতে ১৮ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ। যেখানে জুলাই-মার্চ সময়ে দেশটি থেকে আমদানি করেছে ১১ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য। এ অবস্থায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হাঙ্গেরি জয়েন্ট ট্রেড কমিশন গঠনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠায়।
নগদ থেকে ১.১২ কোটি টাকা লাভ করল ডাক বিভাগ
০৬সেপ্টেম্বর,রবিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনার কারণে সবকিছুতে যখন মন্দাভাব ঠিক সেই সময়ে ভাগাভাগির অংশ হিসেবে ডাক বিভাগকে এক কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার ৫৭৬ টাকা দিয়েছে সরকারি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস- নগদ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ডাক বিভাগের সদ্য নির্মিত ডাক ভবনে এক অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের হাতে এই চেক তুলে দেন- নগদ ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুক। করোনার কারণে সবকিছুতে যখন মন্দাভাব ঠিক সেই সময়ে ভাগাভাগির অংশ হিসেবে ডাক বিভাগকে এক কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার ৫৭৬ টাকা দিয়েছে সরকারি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস- নগদ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ডাক বিভাগের সদ্য নির্মিত ডাক ভবনে এক অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের হাতে এই চেক তুলে দেন নগদ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুক। সদ্য সম্পন্ন হওয়া ২০১৯-২০ অর্থ বছরের সেবার ওপর থেকে আয়ের অংশ হিসেবে নগদ ডাক বিভাগকে এই অর্থ প্রদান করে। ডাক বিভাগ তার অন্য কোনো সেবা থেকে কখনো নেট আয় না পলেও নগদ এর যাত্রার মাত্র দেড় বছরের মাথায় তারা পেয়ে গেল বাড়তি এই আয়। কোনো ধরনের বিনিয়োগ না করেই আয়ের অংশ পাওয়া ডাক বিভাগের জন্য এক অনন্য নজির। নগদ এর মাধ্যমে ডাক বিভাগের এমন আয় সামনের দিনে ডিজিটাল আর্থিক সেবার দুয়ারকে আরও সম্প্রসারিত করবে। এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. নূর-উর-রহমান এবং ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সুধাংশু শেখর ভদ্রসহ নগদ এর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রথমত সারাদেশের ওপর কোভিডের মতো অতিমারির আক্রমণ, দ্বিতীয়ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিক থেকেও আছে একচেটিয়াত্বের দাপট। এসব কিছুর পরও নিজেদেও সেবার মান বাড়িয়ে কোভিডের মধ্যেও আয়ের চাকা সচল রাখে- নগদ। আর তা থেকেই আসে এই আয়। এই অঞ্চলে ডাক সেবার ২শ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার কোনো সেবা থেকে এমন আয় জমা পড়ল ডাক বিভাগের অ্যাকাউন্টসে। শেষ হওয়া ২০১৯-২০ অর্থ বছরের ডাক বিভাগের আয়-ব্যয়ের হিসেব এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ডাক বিভাগের আয় আর ব্যয়ের মাঝে ঘাটতি ছিল ৪৩৩ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ডাক বিভাগের লোকসান হয় ৪৩৬ কোটি টাকা। স্বাধীনতার পর প্রথম বছরও ডাক বিভাগের শুরু হয়েছিল লোকসান দিয়ে। সেবার এক কোটি ৬০ লাখ টাকার লোকসান দিয়ে বাংলাদেশের ডাক বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। তারপর থেকে সময় যত গড়িয়েছে, ঘাটতির পরিমাণ ততই বেড়েছে। তবে নগদ এর মতো ডিজিটাল আর্থিক সেবা চালু হওয়ায় গোটা ডাক বিভাগও যেন নতুন করে জেগে ওঠার সুযোগ পেয়েছে। নগদ এর এই সাফল্য যাত্রায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ডাক বিভাগ এমন অর্জন করতে পারবে, এটা অকল্পনীয় ব্যাপার ছিল। আমার বিশ্বাস নগদ এর এই পথ ধরেই সামনের দিনে ডাক বিভাগ ঘুরে দাঁড়াবে। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের আদলে সরকারি সহায়তার সঙ্গে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের ইনোভেশনে যুক্ত হয়ে প্রায় অসম্ভব কাজটি সম্ভব হয়েছে। এমএফএস সার্ভি থেকে নগদ এখন একটি ডিজিটাল ব্যাংকে পরিণত হওয়ার স্বপ্নও দেখছে। সেটি হলে দেশের সব মানুষকে সহজেই ডিজিটাল আর্থিক সেবার মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব হবে। কোভিডের সময় সেবা চালু রেখে মানুষের জীবন-যাত্রাকে সহজ করতে কর্মীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে যে কোনো কর্মী আক্রান্ত হলে পাঁচ লাখ টাকার ঝুঁকিভাতার ঘোষণা দেয় নগদ। এর মধ্যেই একেরপর পর এক সরকারি সহায়তা গ্রাহকেদের পৌঁছে দেওয়া এবং নতুন নতুন সেবা নিজেদের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে মানুষে ঘরে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে নগদ। সেই ধারাবাহিকতায়ই আয় বাড়তে থাকে নগদ এর। এসব বিষয়ে নগদ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুক বলেন, শুরু থেকেই আমরা মানুষের চাহিদাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আমাদের সেবা কাঠামো সাজিয়েছি। সে কারণে সবচেয়ে কম খরচে সর্বাধুনিক সেবা নিয়ে আসতে পেরেছে- নগদ। আর তার ফলস্বরূপ সেবা শুরুর মাত্র এক বছরের মধ্যে নগদ-কে বিশ্বের দ্রুতবর্ধনশীল ডিজিটাল আর্থিক সেবা হিসেবে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় পোস্টাল ইউনিয়ন স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই দিন বেশি দূরে নয়, যখন নগদ এর মাধ্যমেই গোটা বিশ্বে বাংলাদেশের ডাক বিভাগের সুনাম ছড়িয়ে পড়বে। আর নগদ-ই হবে দেশের জাতীয় ডিজিটাল আর্থিক সেবা সংস্থা।
এশিয়ার ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে আধুনিক দাসপ্রথার ঝুঁকি বাড়ছে
০৪সেপ্টেম্বর,শুক্রবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের প্রভাবে এশিয়ার ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে আধুনিক দাসপ্রথার ঝুঁকি বাড়ছে। এই বৈশ্বিক মহামারীর কারণে অর্থনীতিতে প্রভাব যতো গুরুতর হচ্ছে, পাশাপাশি এই অঞ্চলে শ্রম অধিকার লঙ্ঘন এবং আইন প্রয়োগে দুর্বলতার কারণে এই পরিস্থিতি ততো ঘনীভূত হচ্ছে। আজ শুক্রবার প্রকাশিত এক বৈশ্বিক সূচকে এমন ইঙ্গিতই মিলছে। ঝুঁকি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফট আধুনিক দাসপ্রথা সূচক (মডার্ন স্ল্যাভারি ইনডেক্স) বিশ্লেষণ করে দেখেছে, দাস শ্রমিকের পর্যায়ে পড়ার মতো মারাত্মক ঝুঁকিতে চীন ও মিয়ানমারসহ ৩২টি দেশ। সেই গ্রুপে প্রথমবারের মতো এক্সট্রিম রিস্ক (চরম ঝুঁকি) ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ। কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের শ্রমিকরাও চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এ সূচকে ১৯৮টি দেশের মধ্যে যথাক্রমে ৩২তম এবং ৩৫তম স্থানে উঠে এসেছে এ দুটি দেশ। আর সবচেয়ে মারাত্মক শ্রমদাসের ঝুঁকিতে রয়েছে উত্তর কোরিয়া, সিরিয়া ও ইয়েমেন। এ ব্যাপারে ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফটের মানবাধিকার বিশ্লেষক সোফিয়া নাজালিয়া বলেন, বৈশ্বিক মহামারীর কারণে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি যেভাবে চাপের মুখে পড়ছে তাতে আধুনিক দাসপ্রথার ঝুঁকি আরো আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। কর্মপরিবেশ ক্রমেই সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে। রয়টার্সকে ইমেইলে দেয়া এক মন্তব্যে তিনি বলেন, পরিস্থিতির চাপে শ্রমিকরা ক্রমেই অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত হচ্ছে, এতে আরো বেশি শোষণমূলক কর্মপরিবেশের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এর মধ্যে অনেকে বাধ্যতামূলক শ্রমের পরিস্থিতিতেও পড়তে পারে। এশিয়ার পোশাককর্মীরা যারা বিশ্বব্যাপী ফ্যাশল ব্র্যান্ডগুলো পোশাক সরবরাহের মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেন গত মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত তারা প্রায় ৫৮০ কোটি ডলার মজুরি হারিয়েছেন। শ্রমকি অধিকার আদায়ের প্রেসার গ্রুপ ক্লিন ক্লথ ক্যাম্পেইন গত মাসে এমন তথ্যই দিয়েছে। কভিড-১৯ মহামারীতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুম বন্ধ এবং ক্রয়াদেশ বাতিলের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিকদের এভাবেই মূল্য দিতে হয়েছে। শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এশিয়ার পোশাক শিল্পে প্রায় ৬ কোটি শ্রমিক কাজ করেন। পোশাক সামগ্রীর বিক্রি কমে যাওয়ায় তাদের একটি বড় অংশের চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অনেক কারখানা শ্রমিক ছাঁটাই করছে। এতে শ্রমিকরা শোষণের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন। আয় কমে যাওয়ায় অনেকে সন্তানদেরও কর্মে নিয়োজিত করছেন।- রয়টার্স
ইবিএল ডাচ্-বাংলা ব্র্যাক ব্যাংকই শীর্ষে
২৩আগস্ট,রবিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২০১৯ সালজুড়ে নয়-ছয়ের ডামাডোল ছিল দেশের ব্যাংকিং খাতে। ছিল নজিরবিহীন তারল্য সংকটও। এছাড়া বেসরকারি খাতে ইতিহাসের সর্বনিম্ন ঋণ প্রবৃদ্ধি, খেলাপি ঋণের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, সুশাসনের ঘাটতি ও ছোট-বড় ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় বছরজুড়েই আলোচনা-সমালোচনায় মুখর ছিল ব্যাংকিং খাত। বহুমাত্রিক এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ভালো করছে বেশকিছু ব্যাংক। আবার কিছু ভালো ব্যাংক যাচ্ছে ক্রমে খারাপের দিকে। দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো নিয়ে ২০১৩ সাল থেকেই প্রতি বছর ধারাবাহিকভাবে Ranking করে আসছে বণিক বার্তা। ২০১৯ সালের আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অষ্টম Ranking তৈরি করা হয়েছে এবার। লংকাবাংলা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের রিসার্চ টিমের সহায়তায় প্রস্তুত করা Ranking এ দেখা যাচ্ছে, ২০১৮ সালে শীর্ষে থাকা ব্যাংকগুলোর স্কোর কমেছে, আবার স্কোর বেড়েছে নিচের দিকে থাকা বেশকিছু ব্যাংকের। সব মিলিয়ে সাতটি সূচক বিবেচনায় নিয়ে তৈরি করা Ranking এ ৭০ স্কোরের মধ্যে ৩০-এর বেশি পেয়েছে মাত্র দুটি ব্যাংক। স্কোরের এ দীনতা দেশের ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একটি ব্যাংকের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে বৈশ্বিক কিছু মানদণ্ড রয়েছে। এগুলো হচ্ছে সম্পদের বিপরীতে আয় (রিটার্ন অন অ্যাসেট বা আরওএ), শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানার বিপরীতে আয় (রিটার্ন অন ইকুইটি বা আরওই), শ্রেণীকৃত ঋণ (এনপিএল) অনুপাত, কর-পরবর্তী নিট মুনাফা, শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস), মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত (ক্যাপিটাল অ্যাডেকোয়েসি রেশিও বা সিএআর) ও শাখাপ্রতি পরিচালন মুনাফা (ওপিবি)। আগের বছরগুলোয় শেয়ারপ্রতি আয়কে (ইপিএস) সেরা ব্যাংক নির্ধারণের ক্ষেত্রে অন্যতম নির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে ২০১৯ সালের সেরা ব্যাংক নির্ধারণের ক্ষেত্রে নির্দেশক হিসেবে ইপিএসের পরিবর্তে কর-পরবর্তী নিট মুনাফাকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। মূলত স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করার কারণে ব্যাংকের নিট মুনাফায় হেরফের না হলেও ইপিএস কমে যায়। এ কারণে এবার ইপিএসের পরিবর্তে নিট মুনাফাকে হিসাব করা হয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের ২০১৯ সালের আর্থিক প্রতিবেদনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাত নির্দেশকের ভিত্তিতে তৈরি করা Ranking এ প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল), ডাচ্-বাংলা ও ব্র্যাক ব্র্যাংক। এর আগের দুই বছরের Ranking ও এ তিনটি ব্যাংক শীর্ষ তিনে ছিল। নিট মুনাফা ও এনএভিপিএস-বহির্ভূত তালিকায় ২০১৯ সালে শীর্ষ তিনের মধ্যে রয়েছে ইবিএল, ডাচ্-বাংলা ও প্রিমিয়ার ব্যাংক। ২০১৯ সালের সেরা ব্যাংকের সার্বিক তালিকায় শীর্ষ দশে জায়গা করে নেয়া অন্য ব্যাংকগুলো হচ্ছে প্রিমিয়ার, ইসলামী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ট্রাস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড। অন্যদিকে নিট মুনাফা ও এনএভিপিএস বাদে করা Ranking এ শীর্ষ দশে থাকা বাকি ব্যাংকগুলো যথাক্রমে ব্যাংক এশিয়া, ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। দুই বছরের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে স্কোর বেড়েছে ১৬টি ব্যাংকের। একই সময়ে ১৩টি ব্যাংকের স্কোর কমেছে। অপরিবর্তিত ছিল একটি ব্যাংকের স্কোর। ২০১৯ সালে স্কোর বেড়েছে এমন ১৬টি ব্যাংক হলো ইবিএল, প্রিমিয়ার, ব্যাংক এশিয়া, ট্রাস্ট, সিটি, যমুনা, ঢাকা, ইউসিবি, এনসিসি, শাহজালাল ইসলামী, এক্সিম, আইএফআইসি, উত্তরা, ফার্স্ট সিকিউরিটি, স্ট্যান্ডার্ড ও এবি ব্যাংক। অন্যদিকে স্কোর কমে যাওয়া ব্যাংকগুলো হলো ডাচ্-বাংলা, ব্র্যাক, ইসলামী, সাউথইস্ট, মার্কেন্টাইল, আল-আরাফাহ্, প্রাইম, এনবিএল, এমটিবি, পূবালী, ওয়ান, এসআইবিএল ও রূপালী ব্যাংক। আর স্কোর অপরিবর্তিত রয়েছে Ranking এর একেবারে তলানিতে থাকা আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের। খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও শাখাপ্রতি পরিচালন মুনাফার টেবিলে শীর্ষস্থান ধরে রেখে এবার সার্বিক টেবিলে এক নম্বরে উঠে এসেছে ২০১৮ সালে তিন নম্বরে থাকা ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটির সার্বিক স্কোর ২০১৮ সালের ৩২ দশমিক ১৯ থেকে এবার ৩৫ দশমিক ২৫-এ উন্নীত হয়েছে। একইভাবে নিট মুনাফা ও এনএভিপিএস বাদ দিয়ে করা Ranking এ ৫০-এর স্কেলে ২০১৮ সালের ২৫ দশমিক ৯২ থেকে এবার স্কোর বেড়ে ২৮ দশমিক শূন্য ৬ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ২০১৮ সালের মতোই এবার ব্যাংকটি ৫০-এর স্কেলে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। ২০১৮ সালে শীর্ষে থাকা ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এবার দ্বিতীয় অবস্থানে নেমে গেছে। এবার ব্যাংকটি এনএভিপিএসে শীর্ষে অবস্থান করছে। তাছাড়া আরওইতে দ্বিতীয় এবং নিট মুনাফায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। ২০১৮ সালে ব্যাংকটি আরওই ও এনএভিপিএসে প্রথম এবং আরওএতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। ৭০ স্কেলে ২০১৯ সালে ব্যাংকটির প্রাপ্ত স্কোর এর আগেরবারের তুলনায় কমে গেছে। এবার ব্যাংকটি ৩৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ স্কোর অর্জন করেছে, যেখানে এর আগের বছর স্কোর ছিল ৩৭ দশমিক ৪৯। এদিকে নিট মুনাফা ও এনএভিপিএস বাদ দিয়ে ৫০ স্কেলে করা স্কোরিংয়েও ব্যাংকটির প্রাপ্ত স্কোর ২৩ দশমিক ২৯ থেকে ২৩ দশমিক ৯১-এ উন্নীত হয়েছে, যার সুবাদে ৫০ স্কেলের Ranking এ ৩ থেকে এবার ২ নম্বরে উঠে এসেছে ব্যাংকটি। স্কোর আগের বছরের চেয়ে কমে যাওয়ার কারণে সেরা ব্যাংকের তালিকায় দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে বাজার মূলধনে দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটির সার্বিক স্কোর ৩৪ দশমিক শূন্য ৯ থেকে ২৯ দশমিক ৪০-এ নেমে এসেছে। পাঁচ নির্দেশকে স্কোর ২৫ দশমিক ১৩ থেকে ২১ দশমিক ৫৩-তে নেমে আসায় ৫০ স্কেলের Ranking এ দ্বিতীয় থেকে ৬ নম্বরে নেমে গেছে ব্র্যাক ব্যাংক। গত বছর ব্যাংকটি আরওএ চ্যাম্পিয়ন হলেও এবার তারা ৩ নম্বরে নেমে গেছে। ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বিদায়ী বছরে আমরা ব্যাংকের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করেছি। এজন্য ব্র্যাক ব্যাংকের মুনাফা কিছুটা কমেছে। এর প্রভাবই ব্যাংকের অন্যসব সূচকে পড়েছে। প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগকে আমরা ব্যয় হিসেবে না দেখে বিনিয়োগ হিসেবে দেখছি। এ বিনিয়োগের সুফল আমরা সহসা পেতে শুরু করব। ব্র্যাক ব্যাংকের সামাজিক দায়দায়িত্ব রয়েছে। এজন্য আমরা শুধুই মুনাফার পেছনে ছুটতে চাই না। তিন বছর ধরে Ranking এ ধারাবাহিক উন্নয়ন করেছে প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড। ২০১৭ সালে Ranking এ ব্যাংকটির অবস্থান ছিল ১৫। প্রত্যাশার চেয়েও ভালো করায় ২০১৮ সালে সার্বিক Ranking তালিকায় ৫ নম্বরে উঠে এসেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এবার আরো এক ধাপ এগিয়ে Ranking এ প্রিমিয়ার ব্যাংক স্থান পেয়েছে শীর্ষ ৪-এ। আবার ৫০ স্কেলের Ranking এ ৪ থেকে ৩ নম্বরে উঠে এসেছে ব্যাংকটি। Ranking এ পাশাপাশি প্রাপ্ত নম্বরেও উন্নতি করেছে প্রিমিয়ার ব্যাংক। ৭০-এ তাদের স্কোর ২৬ দশমিক ২১ থেকে ২৮ দশমিক ৮৬ এবং ৫০ স্কেলে ২২ দশমিক শূন্য ১ থেকে ২৩ দশমিক ৪৯-এ উন্নীত হয়েছে। দেশের শীর্ষ চার ব্যাংকের মধ্যে স্থান করে নেয়াকে গৌরবের বলে জানান প্রিমিয়ার ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম রিয়াজুল করিম। তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে আমরা গণমানুষের ব্যাংক হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। এ চেষ্টায় আমরা শতভাগ সফল। ব্যাংকের প্রতিটি সূচকে উন্নতি হয়েছে। উদ্বৃত্ত তারল্য দিয়ে আমরা প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার সরকারি বিল-বন্ড কিনেছি। এর মাধ্যমে ব্যাংকের ভিত আরো মজবুত হয়েছে। এম রিয়াজুল করিম জানান, প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনা আমাদের সমৃদ্ধির পথে চলতে অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা ব্যাংকের কস্ট অব ফান্ড কমিয়ে এনেছি। বড় ঋণ থেকে বেরিয়ে এসএমই ও রিটেইল ব্যাংকিংয়ে জোর দেয়া হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রিমিয়ার ব্যাংক ছড়িয়ে পড়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে ব্যাংককে ঢেলে সাজানো হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রিমিয়ার ব্যাংক যে ভিতের ওপর দাঁড়িয়েছে, তাতে আগামীর পথ চলা আরো উজ্জ্বল হবে। আকারের দিক থেকে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যাংক হলো ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটির দায় ও ইকুইটির পরিমাণ ছাড়িয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। তবে বিদায়ী বছরে Ranking এ এক ধাপ পিছিয়েছে ব্যাংকটি। একই সঙ্গে ব্যাংকটির প্রাপ্ত নম্বরও কিছুটা কমেছে। মূলত আরওএ, আরওই এবং সিএআরের দিক থেকে পিছিয়ে থাকায় ইসলামী ব্যাংকের Ranking অবনমন হয়েছে। ২০১৮ সালে ব্যাংকটির সার্বিক Ranking ছিল ৪। এবার এক ধাপ পিছিয়ে ইসলামী ব্যাংক ৫ নম্বরে নেমেছে। তবে নিট মুনাফার দিক থেকে ব্যাংকটির অবস্থান সবার শীর্ষে। এনপিএলের হারে তৃতীয় এবং এনএভিপিএসের দিক থেকে চতুর্থ অবস্থানে আছে ইসলামী ব্যাংক। সব মিলিয়ে সার্বিক সূচকে ইসলামী ব্যাংক নম্বর পেয়েছে ২৮ দশমিক ৭৪, ২০১৮ সালে মোট ২৯ দশমিক ৬৩ নম্বর পেয়েছিল ব্যাংকটি। এনএভিপিএস ও নিট মুনাফা বাদ দিয়ে করা Ranking এ ইসলামী ব্যাংকের অবস্থান নবম থেকে দশম স্থানে নেমেছে। ৫০ স্কেলে ব্যাংকটির স্কোর ১৯ দশমিক ৫৭। ইসলামী ব্যাংক বিশ্বের শীর্ষ এক হাজার ব্যাংকের একটি বলে জানান মো. মাহবুব-উল-আলম, যিনি দেশের বৃহৎ ব্যাংকটির শীর্ষ নির্বাহীর দায়িত্বে রয়েছেন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক Ranking এ বাংলাদেশের অন্য কোনো ব্যাংক গণনায়ই আসেনি। এক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ব্যাংকিংকে ব্যবসা হিসেবে না দেখে আমরা মানব সেবা হিসেবে দেখি। এজন্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইসলামী ব্যাংকের সেবা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সম্পদের আকার বড় হওয়ায় আমাদের সিএআরের আকারও অনেক বড়। আমরা ব্যাসেল-৩ অনুযায়ী পর্যাপ্ত মূলধন সংরক্ষণ করতে পেরেছি। গত এক মাসে ইসলামী ব্যাংকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার আমানত বেড়েছে। গ্রাহকদের আস্থা ও বিশ্বাসের কারণেই আমানতের এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ভবিষ্যতে ইসলামী ব্যাংক আরো ভালো করবে। Ranking টেবিলে ধারাবাহিক উন্নতি করছে ব্যাংক এশিয়া। ২০১৬ সালে সাত নির্দেশকে ২১ দশমিক ৫৩ স্কোর নিয়ে ব্যাংকটি ছিল ১৯ নম্বরে। ২০১৭ সালে ২৪ দশমিক ৫৯ স্কোর নিয়ে তারা উঠে আসে ১০ নম্বরে। এরপর ২০১৮ সালে ব্যাংক এশিয়া Ranking এ সপ্তম স্থানে উঠে আসে। আর বিদায়ী বছরে ব্যাংকটি স্থান করে নিয়েছে শীর্ষ ৬-এ। আর ৫০ স্কেলের Ranking এ ব্যাংক এশিয়া চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। সিএআর সূচকে ব্যাংকটির অবস্থান দেশসেরা। আর শাখাপ্রতি আয়ের দিক থেকে ব্যাংক এশিয়ার অবস্থান দ্বিতীয়। সব মিলিয়ে সাতটি সূচকে ব্যাংক এশিয়া পেয়েছে ২৬ দশমিক ৩২ নম্বর। ৫০ স্কেলে ব্যাংকটির স্কোর ২২ দশমিক ২৫। ২০১৮ সালে এ দুটি স্কেলে ব্যাংক এশিয়ার প্রাপ্ত নম্বর ছিল যথাক্রমে ২৫ দশমিক ৪৮ ও ২১ দশমিক ১৬। ব্যাংক এশিয়ার শীর্ষ নির্বাহী মো. আরফান আলী বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই ব্যাংক এশিয়া ধারাবাহিক উন্নতি করেছে। বণিক বার্তার Ranking এ আমাদের উন্নতি তার প্রমাণই দিচ্ছে। গত কয়েক বছর ডিভিডেন্ড কম দিয়ে আমরা ব্যাংকের ভিত মজবুত করার দিকে বেশি নজর দিয়েছি। ফলে মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত বা সিএআরের দিক থেকে ব্যাংক এশিয়া দেশসেরা অবস্থান পেয়েছে। করোনাকালে দেশের অনেক ব্যাংকই ঝুঁকিতে আছে, এক্ষেত্রে ব্যাংক এশিয়া অনেকটাই ঝুঁকিমুক্ত। ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছে এমন ব্যাংকগুলোর একটি ট্রাস্ট। ২০১৮ সালে Ranking এ ট্রাস্ট ব্যাংকের অবস্থান ছিল অষ্টম। এবারের Ranking এ ব্যাংকটি এক ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে। এনএভিপিএস ও নিট মুনাফা বাদ দিয়ে ৫০ স্কেলের স্কোরে ট্রাস্ট ব্যাংক স্থান করে নিয়েছে পঞ্চম স্থানে। সবকটি সূচক মিলিয়ে ট্রাস্ট ব্যাংকের প্রাপ্ত নম্বর ২৬ দশমিক ২৪। ২০১৮ সালে ২৫ দশমিক শূন্য ১ নম্বর পেয়েছিল ব্যাংকটি। ট্রাস্ট ব্যাংকের শক্তির জায়গা হলো আরওই এবং শাখাপ্রতি মুনাফা। আর দুর্বলতার জায়গা হলো খেলাপি ঋণের উচ্চহার। ট্রাস্ট ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী ফারুক মঈনউদ্দীন বলেন, অতীতের কিছু খেলাপি ঋণ না থাকলে Ranking এ ট্রাস্ট ব্যাংক আরো ভালো করত। তবে কিছু সূচক আছে যেগুলো সংখ্যা বা অর্থের পরিমাপে মাপা যায় না। করপোরেট সুশাসনের দিক থেকে ট্রাস্ট ব্যাংকের অবস্থান সবার ঊর্ধ্বে। আর কস্ট-টু-ইনকাম রেশিওর দিক থেকে আমরা সবার শীর্ষে। ১০০ টাকা আয় করতে ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যয় হয় মাত্র ৩৫ টাকা। এজন্যই করোনাকালে ব্যয় সংকোচন নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তা করতে হয়নি। অথচ দেশের অনেক ব্যাংকই কর্মীদের বেতন কমিয়ে কস্ট-টু-ইনকাম রেশিও কমানোর চেষ্টা করছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোর একটি দ্য সিটি। ২০১৬ সালে বণিক বার্তার Ranking এ ব্যাংকটির অবস্থান ছিল তৃতীয়। এর পর থেকেই Ranking এ পেছাতে থাকে ব্যাংকটি। তবে ২০১৯ সালে আবারো ঘুরে দাঁড়িয়েছে সিটি ব্যাংক। এবারের Ranking এ সামগ্রিকভাবে ব্যাংকটির চার ধাপ উন্নতি হয়েছে। সাতটি সূচকে দেশসেরা ব্যাংকের তালিকার অষ্টম স্থান পেয়েছে সিটি ব্যাংক। ২০১৮ সালে ব্যাংকটির অবস্থান ছিল ১২তম। সামগ্রিক সূচকে সিটি ব্যাংকের প্রাপ্ত নম্বর ২৫ দশমিক ৯৮। আগের বছর ২৩ দশমিক শূন্য ৩ স্কোর পেয়েছিল ব্যাংকটি। সিটি ব্যাংকের শক্তির জায়গা হলো শাখাপ্রতি আয়, সিএআর, আরওএ ও আরওই। অন্যদিকে দুর্বলতার জায়গা হলো খেলাপি ঋণের উচ্চহার ও এনএভিপিএস। Ranking এ চার ধাপ উন্নতিতে খুশি সিটি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী মাসরুর আরেফিন। তিনি বলেন, সিটি ব্যাংক তার হারানো Ranking ফিরে পাচ্ছে, এটি আনন্দের সংবাদ। সমগ্রিক দিক থেকে আমাদের ব্যাংকের ভিত অনেক শক্তিশালী। তবে দুর্বলতার দিক হলো খেলাপি ঋণ কিছুটা বেড়ে গেছে। খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনাকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। আশা করছি, এক্ষেত্রে দ্রুতই আমরা সফলতা পাব। একই সঙ্গে সিটি ব্যাংকের শাখাগুলো পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে শাখাপ্রতি ব্যাংকের আয় আরো বাড়বে। Ranking তালিকায় নিজের জায়গা ধরে রাখতে পেরেছে যমুনা ব্যাংক লিমিটেড। ২০১৮ সালে সমগ্রিক Ranking এ ব্যাংকটির অবস্থান ছিল নবম। ২০১৯ সালেও একই অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে ব্যাংকটি। তবে ২০১৯ সালে যমুনা ব্যাংকের প্রাপ্ত স্কোর বেড়েছে। একই সঙ্গে ৫০ স্কোরের সূচকে এক ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে ব্যাংকটি। সাতটি সূচকে বিদায়ী বছর যমুনা ব্যাংক পেয়েছে ২৫ দশমিক ৭৮ নম্বর, যা ২০১৮ সালে ছিল ২৪ দশমিক ৭৮। যমুনা ব্যাংকের শক্তির জায়গা হলো খেলাপি ঋণের নিম্নহার, আরওএ ও আরওই। অন্যদিকে দুর্বলতা হলো শাখাপ্রতি কম আয় ও এনএভিপিএস। জনসেবার প্রতি গুরুত্ব দেয়ার কারণেই যমুনা ব্যাংকের শাখাপ্রতি আয় কম বলে মনে করেন ব্যাংকটির শীর্ষ নির্বাহী মির্জা ইলিয়াছ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, যমুনা ব্যাংক দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শাখার সংখ্যা বাড়ানোয় গুরুত্ব দিয়েছে। এজন্যই আমাদের শাখাপ্রতি আয় কিছুটা কম। তবে খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরাটি আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় সফলতা। ব্যাংকের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আমরা ব্যাসেল-৩-এর সবকটি সূচক সফলতার সঙ্গে পালন করেছি। এছাড়া করপোরেট সুশাসন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের কারণে বাজারে যমুনা ব্যাংকের কোনো বদনাম নেই। Ranking তালিকায় ছয় ধাপ এগিয়ে এবার শীর্ষ ১০-এ উঠে এসেছে ঢাকা ব্যাংক। ব্যাংকটির সার্বিক স্কোর ২২ দশমিক ৮২ থেকে এবার ২৪ দশমিক ১৩-এ উন্নীত হয়েছে। এবার ব্যাংকটি মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাতের তালিকায় ১০ থেকে ৪-এ উঠে এসেছে। অন্যদিকে শাখাপ্রতি পরিচালন মুনাফার দিক দিয়ে ৪ থেকে ৯-এ নেমে গেছে। পাঁচ নির্দেশকে ৫০-এর স্কেলে ব্যাংকটির স্কোর ১৯ দশমিক ২৮ থেকে ২০ দশমিক ৪১ এ উন্নীত হয়েছে। এতে ব্যাংকটি এ তালিকায় ১১ থেকে ৯-এ উন্নীত হয়েছে। ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমরানুল হক বলেন, Ranking এ এক সঙ্গে ছয় ধাপ উন্নয়ন আমাদের জন্য আনন্দের। উন্নতির ধারাবাহিকতা আমরা ধরে রাখতে চাই। এজন্য আরওএ, আরওই, নিট মুনাফা ও এনএভিপিএসসহ যেসব সূচকে আমরা কিছুটা পিছিয়ে আছি, তা উন্নয়নে জোর দেয়া হবে। তবে এ বছর ও আগামী বছরে আমরা ঢাকা ব্যাংকের ব্যালান্সশিটের আকার খুব বেশি বাড়াব না। এই দুই বছর আমরা ব্যাংকের স্বাস্থ্য ভালো করায় জোর দিচ্ছি। সেরা ব্যাংকের তালিকায় এবার সবচেয়ে বেশি উত্থান হয়েছে ইউসিবি ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের। এর মধ্যে ইউসিবি ১৯ থেকে ১১-তে এবং শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ২৪ থেকে ১৬-তে উঠে এসেছে। ইউসিবির সার্বিক স্কোর ২২ দশমিক শূন্য ৫ থেকে ২৩ দশমিক ৯১ এবং শাহজালাল ইসলামীর ১৯ দশমিক ৮৬ থেকে ২২ দশমিক ৭৪-এ উন্নীত হয়েছে। আর ৫০-এর স্কেলে ইউসিবি ২২ থেকে ১৭ এবং শাহজালাল ইসলামী ২১ থেকে ১২তম অবস্থানে উঠে এসেছে। মূলত মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাতের দিক দিয়ে উন্নতির কারণে ইউসিবির এবং শ্রেণীকৃত ঋণ অনুপাতে উন্নতির কারণে সেরা ব্যাংকের তালিকায় শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের উত্থান হয়েছে। Ranking এ উন্নতির ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়ে আশাবাদী শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত দুই বছরে আমরা ব্যাংকের কস্ট অব ফান্ড কমানো, খেলাপি ঋণের লাগাম টানা ও মূলধনের ভিত শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছি। বণিক বার্তার Ranking এ এসবের প্রতিফলনই ফুটে উঠেছে। যে শক্তিশালী ভিতের ওপর ব্যাংক দাঁড়িয়েছে, তাতে আগামীতে আমরা আরো ভালো করব। এদিকে সেরা ব্যাংকের তালিকায় সবচেয়ে বড় অবনমন হয়েছে এমটিবি, পূবালী, মার্কেন্টাইল ও এনবিএলের। এর মধ্যে এমটিবি ১৫ থেকে ২৩, পূবালী ১৭ থেকে ২৪, মার্কেন্টাইল ৬ থেকে ১৩ এবং এনবিএল ১১ থেকে ১৮-তে নেমে গেছে। এমটিবির সার্বিক স্কোর ২২ দশমিক ৮৭ থেকে ২০ দশমিক ৫৩, পূবালীর ২২ দশমিক ৬৭ থেকে ১৯ দশমিক ৭২, মার্কেন্টাইলের ২৬ দশমিক ১৫ থেকে ২৩ দশমিক ৭৫ এবং এনবিএলের ২৩ দশমিক শূন্য ৪ থেকে ২২ দশমিক ৪৪-এ নেমে গেছে। আর ৫০-এর স্কেলে এমটিবি ১২ থেকে ২০, পূবালী ২৪ থেকে ২৬, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ৬ থেকে ১৩ এবং এনবিএল ১৭ থেকে ২২-এ নেমে গেছে। আরওইতে অবনমনের কারণে এমটিবির; আরওএ, আরওই, নিট মুনাফা ও এনএভিপিএসে অবনমনের কারণে পূবালীর; আরওএ, আরওই, নিট মুনাফা ও শ্রেণীকৃত ঋণ অনুপাতে অবনমনের করণে মার্কেন্টাইলের এবং আরওই, মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত ও শাখাপ্রতি পরিচালন মুনাফায় অবনমনের ফলে এনবিএলের Ranking এর অবনতি হয়েছে। তাছাড়া এনসিসি ব্যাংক ১৮ থেকে ১৪, আইএফআইসি ২৬ থেকে ২০, উত্তরা ব্যাংক ২৩ থেকে ২১, ফার্স্ট সিকিউরিটি ২৫ থেকে ২২, এক্সিম ব্যাংক ২০ থেকে ১৯ এবং এবি ব্যাংক ২৯ থেকে ২৮তম স্থানে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে সাউথইস্ট ব্যাংক ১০ থেকে ১২, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ১৪ থেকে ১৫, প্রাইম ব্যাংক ১৩ থেকে ১৭, এনবিএল ১১ থেকে ১৮, ওয়ান ব্যাংক ২২ থেকে ২৫, এসআইবিএল ২১ থেকে ২৬ এবং রূপালী ব্যাংক ২৮ থেকে ২৯তম স্থানে নেমে এসেছে। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক (২৭) ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের (৩০)Ranking গত বছরের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে। সাতটি নির্দেশকে করা Ranking এ মোট নম্বর ছিল ৭০। কিন্তু ইবিএল ও ডাচ্-বাংলা বাদে আর সব ব্যাংকই নম্বর পেয়েছে ৩০-এর নিচে। অর্থাৎ দেশের প্রায় শতভাগ ব্যাংকই অর্ধেক নম্বরও পায়নি। অন্যদিকে পাঁচ নির্দেশকের ভিত্তিতে করা Ranking এর মোট নম্বর ছিল ৫০। এর মধ্যে ইবিএল বাদে আর সব ব্যাংকই অর্ধেকের কম নম্বর পেয়েছে।- প্রতিবেদক: হাছান আদনান ও মেহেদী হাসান রাহাত, বণিক বার্তা অনলাইন

অর্থনীতি পাতার আরো খবর