গাছে ঝুলছে সবুজ মাল্টা, চাষিদের মনে আনন্দের ঢেউ
০৬জুলাই,সোমবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাস। মাল্টা চাষি এক বন্ধুর পরামর্শে এ ফল চাষের উদ্যোগ নেন শহিদুল ইসলাম সাচ্চু এবং ঢাকায় বসবাসরত তার আরও ৫ বন্ধু আনোয়ার হোসেন মিঠু, মেজবাহুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, মো. মাসুম ও মো. মনিরুজ্জামান। তাদের করা বাগান ভরে গেছে সবুজ মাল্টায়, ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে বহু গাছ। যা দেখতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন মানুষ। আর মাল্টার এ বাম্পার ফলনে চাষিদের মনে জেগেছে আনন্দের ঢেউ। স্বপ্ন দেখছেন ব্যবসায়ীকভাবে লাভবান হওয়ার। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বরাব এলাকায় দুলাল মার্কেটের পাশে শহিদুল ইসলাম সাচ্চুদের এ বাগানের অবস্থান। বাগানের আয়তন ১১ বিঘা। সাচ্চু ও তার বন্ধুরা এ জমি ১০ বছরের জন্য ভাড়া নেন। বছরপ্রতি জমির ভাড়া প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। পরে সেখানে বাণিজ্যিকভাবে বারি-১ ও ভারতীয় জাতের মাল্টা চাষ শুরু করেন। আলাদা দুটি বাগানে প্রায় দেড় হাজার মাল্টা গাছ রয়েছে। জানা যায়, এবছর তারা মাল্টা বিক্রি করবেন। যদিও গত বছর থেকে তাদের বাগানে মাল্টা ধরতে শুরু করে। কিন্তু সেসময় তেমন একটা মাল্টা বিক্রি করতে পারেননি। মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থানার কোলা এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম সাচ্চু। ৮ থেকে ১০ বছর আগে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ী পুকুরপাড় এলাকায় বাড়ি করে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছেন তিনি। তিনি জানান, ১৯৯৭ সালে তিনি সিঙ্গাপুর যান। কিছু টাকা জমা হলে ২০১১ সালে দেশে ফিরে আসেন। এক বছর পর মিনি গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করেন। লোকসানের কারণে তিনি এ ব্যবসা ছাড়তে বাধ্য হন। পরে এক বন্ধুর পরামর্শে ২০১৭ সালে মাল্টা চাষ শুরু করেন। বাগানে মাল্টার ফলন ভালো হওয়ায় লাভবান হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী শহিদুল ইসলাম সাচ্চু ও তার বন্ধুরা। জানা যায়, আগস্ট-সেপ্টেম্বর থেকে এ বাগানের মাল্টা বাজারে বিক্রি করা হবে। পাইকারিতে কেজিপ্রতি মাল্টার দাম হতে পারে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। শহিদুল ইসলাম সাচ্চু জানান, তাদের মাল্টা বাগানে কোনো ধরনের রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয় না। তাদের বাগানে ব্যবহার করা হয় তরল জৈব সার। উদ্যোক্তাদের একজন আনোয়ার হোসেন মিঠু। তিনি জানান, তিনি ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। পাশাপাশি কয়েক বন্ধু মিলে গাজীপুরে মাল্টা চাষ শুরু করেছেন। এ বছর তাদের বাগানে প্রচুর মাল্টা ধরেছে। প্রতিটি গাছে গড়ে ৭০ থেকে ৮০টি মাল্টা ধরেছে।
১ লাখ কোটি টাকা আমানতের মাইলফলক অতিক্রম করলো ইসলামী ব্যাংক
০১,জুলাই,বুধবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এখন এক লাখ কোটি টাকা আমানতের ব্যাংক। ৩০ জুন (মঙ্গলবার) এ মাইলফলক অতিক্রম করেছে দেশের শীর্ষ এই বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক। ২০১৯ সালে ব্যাংকের আমানত ছিল ৯৪৬৮১ কোটি টাকা, ২০১৮ সালে ৮২২৫৭ কোটি, ২০১৭ সালে ৭৫৫০২ কোটি এবং ২০১৬ সালে ছিল ৬৮১৩৫ কোটি টাকা। আমানতের পাশাপাশি এবছরের মে ও জুন মাসে অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করে সর্বোচ্চ বৈদেশিক রেমিট্যান্স আহরণ করেছে ইসলামী ব্যাংক। এর পরিমাণ মে মাসে ৪৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং জুন মাসে ৫৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অতীতে কখনো রেমিট্যান্স আহরণ ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেনি। রেমিট্যান্স আহরণে ২০১৯ সালের জুন মাসের তুলনায় ২০২০ সালের জুন মাসে ইসলামী ব্যাংকের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১১৬ শতাংশ। বর্তমানে রেমিট্যান্স আহরণে ইসলামী ব্যাংকের মার্কেট শেয়ার ৩২ শতাংশ। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আহরণ বাড়িয়ে জাতীয় রিজার্ভে (বিদেশি মুদ্রার মজুদ) উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে এই ব্যাংক। ইসলামী ব্যাংক দেশের সুষম উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সার্বিক অবদানের পাশাপাশি অনগ্রসর ও পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়তে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিপালনের সংস্কৃতি লালন করা ও যথাযথ পেশাদারিত্বের সঙ্গে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে জনগণের সঞ্চয়ের বিশ্বস্ত আমানতদার হিসেবে কাজ করছে এই ব্যাংক। শরীআহ ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের অগ্রপথিক ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে ৩৫৭টি শাখা, ৪৩টি উপশাখা, ১২০০ এজেন্ট আউটলেট ৬৬০টি নিজস্ব ও প্রায় ১১ হাজার শেয়ারড এটিএম ও সিআরএম বুথের মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবা প্রদান করছে। আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ও আন্তরিক গ্রাহক সেবার মাধ্যমে এই ব্যাংক শ্রেণি-পেশা, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের অনন্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। চলতি বছরে ব্যাংকটির গ্রাহকসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বর্তমানে ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা দেড় কোটি। আর্থিক সেবা বঞ্চিত মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছাতে ইসলামী ব্যাংক ২০১৭ সালে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেটসমূহের গ্রাহক সংখ্যা ৭ লাখ ৫৩ হাজার এবং আমানতের পরিমাণ দেশের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সর্বোচ্চ ২৬০০ কোটি টাকা। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ইসলামী ব্যাংক অতীতের মতোই শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। যা চলমান আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সময়ে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখছে। গ্রাম ও শহরের অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে এবং বণ্টনমূলক সুবিচার নীতি অনুসরণ করে বিনিয়োগ প্রদানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক দেশের টেকসই উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করছে। ইসলামী ব্যাংকের রয়েছে সর্বোচ্চ এসএমই বিনিয়োগ যা এসএমই সেক্টরের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তারুণ্যদীপ্ত, সৎ, যোগ্য ও চৌকস নারী-পুরুষের সমন্বয়ে গঠিত একদল পেশাদার কর্মকর্তা দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এই ব্যাংক। সৎ, আত্মবিশ্বাসী ও গ্রাহকসেবায় সদা প্রস্তুত কর্মী বাহিনীই এই ব্যাংকের বড় সম্পদ। ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এ পর্যন্ত অসংখ্য পদক পেয়েছে এ ব্যাংক। বিশ্বের শীর্ষ এক হাজার ব্যাংকের তালিকায় বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকের এই সাফল্যের কৃতিত্ব দেশ ও প্রবাসের সব গ্রহক, শুভাকাঙ্খী ও ইসলামী ব্যাংক পরিবারের সব সদস্যের। স্থানীয় মালিকানা পরিবর্তনের কারণে ব্যাংকের গ্রহণযোগ্যতা আরও বেড়েছে সর্বত্র। সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও গ্রাহকসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য : অর্থমন্ত্রী
১২জুন,শুক্রবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট সরকার বাস্তবায়ন করতে পারবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন,প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এবার আমরা গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে বাজেট প্রণয়ন করেছি। আমাদের ভৌত অবকাঠামো আছে,পাশাপাশি অতীতের অনেক সাফল্য আমাদের সামনে আছে এবং আমরা এবার বাজেটটি যেভাবে সাজিয়েছি, তাতে আশা করি প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারব। তিনি আরো বলেন, এবারের বাজেটে মূলত মানুষকে রক্ষা করার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো মানুষকে বাঁচানোর জন্য আগে খরচ কর, টাকা কোথা থেকে আসবে সেটা পরে দেখা যাবে। তাই এবার আমরা আগে খরচ করব, পরে আয় করব। অর্থমন্ত্রী জানান, মানুষকে খাবার দিতে হবে, চিকিৎসা দিতে হবে এবং যারা চাকরি হারিয়েছেন,তাদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরিসহ জরুরি বিষয়কে এবারের বাজেটে অগ্রাধিকার দিয়েছি। শুক্রবার বাজেটোত্তর এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড, মসিউর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ;ালানী ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব আব্দুর রউফ কালুকদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম প্রমূখ যুক্ত হন। অর্থমন্ত্রী গতকাল জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। এটি দেশের ৪৯তম বাজেট। বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য উল্লেখ করে মুস্তফা কামাল বলেন,আমাদের প্রত্যাশা হলো করোনা বেশিদিন প্রলম্বিত হবে না। আইএমএফ বলছে, বাংলাদেশ ২০২০-২১ অর্থবছরে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। আমাদের অবকাঠামো ও জনবল আছে, সুতরাং আমরা বিশ্বাস করি ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব। কোভিড-১৯ প্রেক্ষিতে বাজেটে স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ প্রাধিকার দেয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে এবার টাকার কোন অভাব হবে না। কিন্তু শর্ত হলো স্বাস্থ্য বিভাগকে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। কার্যকরভাবে দ্রুত সেবার মান বাড়াতে হবে। তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা উল্লেখ করে বলেন,প্রধানমন্ত্রী বলেছেন,স্বাস্থ্য খাতে সেবা বাড়ানোর জন্য যা কিছু করার দরকার, তা করা হবে। সেবা বাড়ানো মানে নামে সেবা বাড়ানো নয়। সেবা যতদূর বাড়ানো যাবে এবং সুযোগ থাকে বাড়ানোর, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা টাকার জন্য না করব না। তিনি বলেন, করোনা মোকাবেলায় ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ আছে, এটা অনেক টাকা। এটা খরচ করতে অনেক দিন লাগবে। এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতকে এবার এতটা গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে যে, এই দুই খাতে প্রয়োজন হলে জরুরি ভিত্তিতে নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, এবার আমরা অনেক নতুন নতুন খাত উন্মোচনের চেষ্টা করেছি। এর পাাশাপাশি আশা করি অটোমেশন ঠিকঠাক মত করা গেলে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যাবে। তিনি বলেন, করোনার কারণে ইএফডি মেশিন ব্যবহার বিলম্বিত হয়েছে। তবে শীঘ্রই এর ব্যবহার শুরু হবে বলে তিনি জানান। এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম জানান, প্রস্তাবিত রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য রাজস্ব বোর্ড প্রস্তুত আছে। তিনি বলেন, মোবাইল ফোনে কথা বলার ওপর মাত্র ৫ শতাংশ মূসক বাড়ানো হয়েছে, অর্থাৎ এক টাকায় ৫ পয়সা বাড়বে, অনেকে এটাকে ভুল বুঝছেন, যেটা বাড়ানো হয়েছে-সেটা খুব সীমিত। তিনি রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য করনেট সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। করোনাভাইরাস মহামারির প্রেক্ষিতে কোন মানুষ যেন অভুক্ত না থাকে, সে বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সতর্ক উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বার বার বলছেন, এখন আমাদের শিকড়ের সন্ধানে বেরিয়ে পড়তে হবে। অর্থাৎ কৃষিখাতকে অধিকতর সচল করতে হবে। তাই আমরা কৃষিখাতে এবার বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কর সুবিধা প্রদান করেছি। এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা যেন কোন ধরনের খাদ্য সংকটে না পড়ি,এজন্য এবার আমাদের বিশেষ উদ্যোগ হলো এক ইঞ্চি ফসলি জমি অনাবাদি রাখতে চাই না। কৃষিখাতে এবার ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রণোদনা রাখা হয়েছে। এই অর্থ সার, বীজ, কীটনাশনক সহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যয় করা হবে। মুস্তফা কামাল বলেন, করোনার কারণে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেটাকে কাজে লাগানোর জন্য এবারের বাজেটে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর রেয়াত ও কর আইন সহজ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ১৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চল বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত আছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব অঞ্চলে এবার বড় আকারে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে, যা নতুন কর্মসংস্থান তৈরির ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, তিনি মনে করেন যে, বর্তমানে সুদহার ৯ শতাংশে নেমে আসায় এবার বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ প্রবাহ যথেষ্ট পরিমাণে বাড়বে। এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী জানান, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে অর্থ পাচারের ঘটনা গত দেড় বছরে অনেক কমে এসেছে। তিনি বলেন, আমরা চাই দেশের একটি টাকাও যেন বাইরে পাচার না হয়। এজন্য আমরা অটোমেশনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহবান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এবার আমরা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাজেট প্রণয়ন করতে পারিনি। একটা প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে দিয়ে সময় পার করছি। এমতাবস্থায় বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি দেশবাসী বিশেষ করে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করছি। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসার আহবান জানান।
৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়ালো ভর্তুকি-প্রণোদনা-নগদ ঋণ খাতের বরাদ্দ
১২জুন,শুক্রবার,সুমন মজুমদার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতীয় বাজেটে প্রথমবারের মত ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়ালো ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতের বরাদ্দ। ২০২০-২১ অর্থবছরে বাজেট প্রস্তাবনায় এ খাতে রাখা হয়েছে ৫২ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা। যা জিডিপির ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ ও চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৫ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা বেশি। বিশেষ নজর দেয়া হয়েছে তথ্য-প্রযুক্তি ও এসএমই খাতে। বরাদ্দ ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করাকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এবারের বাজেটে থোক বরাদ্দের ১৬ হাজার কোটি টাকার মধ্যে করোনা পরবর্তী ধাক্কা সামলাতেই ব্যয় করা হবে ১০ হাজার কোটি টাকা; ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প, সেবাখাত, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মূলধন বিবেচনায় সুদ ভর্তুকি বাবদ সাড়ে ৩ হাজার, বিজেএমসি'র শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য আড়াই হাজার ও আয়কর দাতার সংখ্যা বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ বরাদ্দ। করোনায় টালমাটাল ব্যবসা-বাণিজ্য, ঝুঁকির মুখে উৎপাদন ব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান। তাই মন্দার কবলে ঝুঁকে পড়া অর্থনীতির পুর্নবাসনে এবারের বাজেটে বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এরই অংশ, আগামী অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫২ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ১১ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি। প্রণোদনার ভাগবণ্টনে সবচেয়ে বেশি রাখা হয়েছে কৃষিতে, সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা। এরপর রপ্তানিতে ৬ হাজার ৮২৮ কোটি ও রেমিটেন্সে ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা। প্রণোদনা ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাটাই চ্যালেঞ্জ জানালেন কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. সদরুল আমিন। এবার ৫শ কোটি টাকা কমানো হয়েছে বিদ্যুৎখাতের ভর্তুকি। তারপরও সর্বোচ্চ বরাদ্দ এ খাতেই, ৯ হাজার কোটি টাকা। এরপর গুরুত্ব পেয়েছে করোনা ভাইরাসের কারণে ঝুঁকিতে পড়া খাদ্যনিরাপত্তা। বিদ্যুৎখাতের ভর্তুকি নিয়ে প্রশ্ন তুলে এ খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম। এবার বাজেটে নগদ ঋণখাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা। কর্মসংস্থান ও দক্ষতার উন্নয়নে তথ্য-প্রযুক্তিখাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে.কোটি টাকা। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে.কোটি টাকা বেশি/কম। বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এসএমই খাতে। জিডিপি'র প্রায় ২৫ ভাগ যোগান দেয়া এই খাত পেয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটের.শতাংশ। যাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী নেতারা। অথবা নগদ ঋণখাতে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও মোট জিডিপির প্রায় ২৫ ভাগ যোগান দেয়া এসএমই খাতের উন্নয়নে বিশেষ নজর দেয়া হয়নি এবারের বাজেটে।
করোনাকালেও ১৪ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়
৩জুন,বুধবার,সুমন মজুমদার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাগানে বাগানে সারিবদ্ধ লিচু গাছ। প্রতিটি গাছে ঝুলে আছে থোকা থোকা বিভিন্ন জাতের রসালো লিচু। লিচুর ভারে গাছের ঢালগুলো মাটিতে নুয়ে পড়েছে। প্রতিটি থোকাতেই ১০/ ১২টি করে লিচু ধরেছে। গাছগুলোতে চোখ পড়লে নজর কাড়বে যেকোনো মানুষের। এ মনোরম দৃশ্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা আখাউড়া, কসবা, ও বিজয়নগরে। এরই মধ্যে রসালো এই ফল কিনতে বাগানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় জমছে। চলমান করোনা সংকটে ব্যাপক আকারে না হলেও সীমিতভাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা এই লিচু ক্রয় করতে আসছেন। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে বাগান মালিকদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। সরেজমিনে বাগানগুলো ঘুরে দেখা যায়, চলতি মৌসুমে পাটনায়, বম্বে, চায়না থ্রি এবং দেশীয় জাতের লিচু আবাদ করা হয়েছে। মধুমাস জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি হওয়ায় লিচুগুলো রসালো তো বটেই সুমিষ্ট ও মাংসল হয়েছে। পরিপক্ব লিচুগুলো বাগান থেকে পাড়তে ব্যস্ত সময় পার করছেন লিচু চাষিরা। প্রতিটি গাছ থেকে দুই/তিন জন করে লিচু পাড়ছেন। অন্যদিকে মাটিতে আরেকদল সারিবদ্ধভাবে বসে লিচু বাছাই করে ১০০টির থোকা বানাচ্ছেন। জাত ভেদে ১শ লিচু বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। ক্রেতারাও দরদাম করে লিচু কিনে তা বিভিন্ন পরিবহনে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। কৃষিবিভাগ জানিয়েছে, জেলায় ২০০১ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে লিচুর আবাদ শুরু হয়। তারপর থেকে বছর বছর বাড়ছে আবাদের পরিমাণ। এবার ৪৫৫ হেক্টর জমিতে লিচু আবাদ হয়েছে। ছোট বড় মিলিয়ে বাগান রয়েছে ৪২০টির মত। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা হলো ১৩৬৮ মেট্রিকটন। জেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ রবিউল হক মজুমদার বলেন, করোনার মধ্যেও নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছি। ফল ধরার সময় গাছে যাতে পোকামাকড় আক্রমণ না করতে পারে সময়ে সময়ে আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত বাগানগুলো পরিদর্শন করেছেন এবং চাষিদের পরামর্শ দিয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলন ভাল হয়েছে। জেলায় এ বছর প্রায় ১৪ কোটির টাকার মত লিচু বিক্রি হবে। চাষিরাও ভাল দাম পাবে।
ব্যয় মেটাতে ব্যাংকনির্ভর সরকার
৩জুন,বুধবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সারা বিশ্বেই ভোক্তা চাহিদা কমে গেছে। বাংলাদেশেরও আমদানি কমছে, রপ্তানিও কমে গেছে। প্রবাসী আয় এলেও সামনে কঠিন সময়। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি এখনো ভালো। অন্যদিকে দেশের রাজস্ব আয়ের পরিস্থিতি নাজুক। সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমে যাওয়ায় সরকারের সুদ পরিশোধ ব্যয় কমলেও আগের চেয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে অনেক বেশি। ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা এক দফা বাড়ানো হয়েছিল। করোনা পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্যও ছাড়িয়ে গেছে। এ ছাড়া আমদানি-রপ্তানি হ্রাস ও সুদহার কমায় ব্যাংকগুলোর আয়ও কমে যাচ্ছে। ফলে সব মিলিয়ে ভালো নেই দেশের প্রধান প্রধান আর্থিক সূচক। সামনে খুব দ্রুত ভালো হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন না অর্থনীতিবিদেরা। ইতিমধ্যে কর্মসংস্থানে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এ রকম প্রেক্ষাপটেই অর্থমন্ত্রীকে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট দিতে হচ্ছে। সামগ্রিক বিষয় নিয়ে অর্থনীতিবিদ, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, করোনাভাইরাস চলে গেলেও যদি ভোক্তা চাহিদা তৈরি না হয়, তাহলে সূচকগুলো সহজেই ভালো হবে না। এ জন্য আমাদের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। সুরক্ষাসামগ্রী উৎপাদন বাড়াতে হবে, রপ্তানি করতে হবে। আর কাঁচামাল সহজে আনার জন্য আমদানি জটিলতা দূর করতে হবে। জাহিদ হোসেন আরও বলেন, ব্যাংকগুলোর সুদহার নির্দিষ্ট করে দিয়ে যে একতরফা নীতি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা পুনর্বিবেচনা করতে হবে। যে প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তার জন্য সরকারকে গ্যারান্টি দিতে হবে, যাতে ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে ভয় না পায়। এই ঋণ সঠিকভাবে ব্যবহার হলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারে। কমেছে আমদানি-রপ্তানি: বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে ঋণপত্র খোলা হয়েছে ১৬০ কোটি ডলারের। আগের বছরের একই সময়ে ঋণপত্র খোলা হয় ৫২৬ কোটি ডলার। আর গত মার্চে খোলা হয়েছিল ৪৯৭ কোটি ডলারের। সে হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় গত এপ্রিলে ঋণপত্র খোলা কমেছে ২৬৮ শতাংশ। ঋণপত্র নিষ্পত্তিও কমেছে অনেক। গত এপ্রিলে ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে ১৯৫ কোটি ডলারের, আগের বছরের এপ্রিলে যা ছিল ৫০৮ কোটি ডলার। ঋণপত্র নিষ্পত্তি কমেছে ৬২ শতাংশ। গত মার্চে ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছিল ৪১৭ কোটি ডলারের। দেশের পণ্য রপ্তানিতেও দেখা দিয়েছে বিপর্যয়। গত এপ্রিলে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৫২ কোটি বা ৪ হাজার ৪২০ কোটি ডলারের পণ্য, যা গত বছরের এপ্রিলের চেয়ে ৮২ দশমিক ৮৫ শতাংশ কম। এর মধ্যে ঈদের আগে প্রবাসীদের পাঠানো আয়ে (রেমিট্যান্স) কিছুটা স্বস্তি দিলেও অস্বস্তি কিছুটা রয়েই গেছে। গত মে মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ১৫০ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় ১২ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা। আর ২০১৯ সালের মে মাসে এসেছিল ১৭৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এ হিসাবে আয় কমেছে ১৪ শতাংশ। আর পুরো অর্থবছরের হিসাবে আগের একই সময়ের তুলনায় আয় বেড়েছে ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা সংকট চললেও ঈদের কারণে অনেকেই টাকা পাঠাচ্ছেন। অনেক সাহায্যও আসছে। যাঁরা দেশে চলে আসছেন, তাঁরাও টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছেন। আবার প্রবাসী আয়ে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার প্রভাবও রয়েছে। তবে সামনের দিনে প্রবাসী আয় পরিস্থিতি খুব খারাপ হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা। ফলে দেশের আমদানি ও রপ্তানির মতো অর্থনীতির প্রধান নাজুক সূচকের সঙ্গে প্রবাসী আয় যুক্ত হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এর মধ্যেও ভালো রয়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। গত ২০ মে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৩১৯ কোটি ডলার। তবে ব্যাংকগুলোতে নগদ ডলারের সংকট আছে। সংকট কাটাতে ডলার বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সামগ্রিক বিষয় নিয়ে বলেন, আমদানি ও রপ্তানি কমে যাওয়ায় ব্যাংকের আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এখনই ডলারের ওপর চাপ আছে। এর সঙ্গে প্রবাসী আয় কমে গেলে চাপ সামনে আরও বাড়তে পারে। এমনিতেই ব্যাংকগুলো চাপে, আবার অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় প্রধান দায়িত্ব ব্যাংকের হাতেই। অন্যদিকে সরকারের ব্যাংকঋণও বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। বাড়ছে ব্যাংকঋণ: সরকারের রাজস্ব আয় কমেছে। আবার আইনকানুন কঠোর করায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমে গেছে। সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যও কমিয়ে এনেছে। ফলে সরকার এখন সহজ পথ, অর্থাৎ ব্যাংকঋণের দিকেই ঝুঁকছে বেশি। চলতি অর্থবছরের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৩ লাখ ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। গত এপ্রিল পর্যন্ত ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি আদায় হয়েছে, যা ওই সময়ের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬২ হাজার কোটি টাকা কম। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে ৭ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৫ শতাংশ কম। এ জন্য চলতি অর্থবছরের সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ২৭ হাজার কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ১২ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। এর ফলে খরচ মেটাতে সরকার পুরোপুরি ব্যাংকব্যবস্থার ওপর নির্ভর হয়ে পড়েছে। চলতি অর্থবছরের গত ১৩ মে পর্যন্ত সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ৮১ হাজার কোটি টাকা ঋণ করেছে। যদিও সরকার প্রথমে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের লক্ষ্য ঠিক করেছিল। পরে তা বাড়িয়ে ৭২ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা করা হয়। নতুন অর্থবছরের বাজেটে আয় বাড়াতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ওপর করের বোঝা বাড়ানো হবে কি না, সেটাই এখন প্রশ্ন। বরং বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভোক্তা চাহিদা বাড়াতে পারলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে, তাহলেই অর্থনীতিতে গতি আসবে। তবে এ জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগ বৃদ্ধি। বাজেটের মূল লক্ষ্য হতে হবে এটাই। অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন আরও যেমনটা বললেন, এখন ব্যবসায়ীদের চাপ দিয়ে লাভ নেই, সবাই বিপদে আছে। ব্যাংক থেকে এভাবে ঋণ নিলে ব্যবসায়ীরা ঋণবঞ্চিত হবে। এদিকে সরকারের নজর দিতে হবে।
লেনদেন শুরু পুঁজিবাজারে
১জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসের কারণে টানা ৬৬ দিন বন্ধের পর কার্যক্রম শুরু হয়েছে দেশের দুই শেয়ারবাজারে। দীর্ঘ বিরতির পর শুরুটি বেশ ভালোই হয়েছে। প্রথম দিনে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই মূল্যসূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধারায় শেষ হয়েছে লেনদেন। কারণ ফ্লোর প্রাইসের কারণে শেয়ারের দাম কমতে পারেনি বলে সূচকে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। কিন্তু অল্প হলেও যে কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে তার প্রভাবে বেড়েছে সূচক। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার গত ২৬শে মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার পর তার সঙ্গে সমন্বয় করে শেয়ারবাজারের লেনদেনও বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। সেই হিসেবে শেয়ারবাজারে সর্বশেষ লেনদেন হয়েছিল ২৫শে মার্চ। এরপর দুই মাসেরও বেশি সময় লেনদেন বন্ধ থাকে। এরই মধ্যে বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে লেনদেন চালুর দাবি জানানো হয়। পরে গত বৃহস্পতিবার লেনদেন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৫২ দশমিক ১৫ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়েছে। দিন শেষে সূচকটির অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬০ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট। এদিন ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩১ পয়েন্ট বেড়ে ৯৫২ পয়েন্টে এবং ডিএসই৩০ সূচক ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৩৬৫ পয়েন্টে উন্নীত হয়। দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৩২টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৬০টির, দর কমেছে ৬৮টির এবং দর অপরিবর্তীত রয়েছে ১৯৫টির। ডিএসইতে ১৪৩ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। যা আগের দিন থেকে ২০৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা কম। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৪৮ কোটি ১৩ লাখ টাকার। এদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সব সূচক বেড়েছে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৪১ পয়েন্ট বেড়ে ১১ হাজার ৪৬৯ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। সিএসইতে ১০৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। তার মধ্যে ৩১টির দর বেড়েছে, কমেছে ২৪টির আর ৫৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
করোনা:ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয় কমতে যাচ্ছে ২০ শতাংশ
২৫এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নভেল করোনাভাইরাসের ব্যাপক বিস্তারের কারণে বড় ধরনের বিপর্যয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি। দেশে দেশে লকডাউনের কারণে বহু মানুষের উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থনীতি সংকটে পড়ায় চাকরি ও ব্যবসা নিয়ে অনিশ্চয়তায় জনসাধারণ। একই দশায় দিনাতিপাত করছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত অভিবাসী শ্রমিকরাও। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য রেমিট্যান্স আয়ের পথ সংকুচিত হয়ে আসছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংক আশঙ্কা করছে, চলতি বছর শেষে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর রেমিট্যান্স আয় কমতে যাচ্ছে ২০ শতাংশ। কভিড-১৯ ক্রাইসিস থ্রু এ মাইগ্রেশন লেন্স শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশ থেকে মধ্যম ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোয় শ্রমিকদের রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিমাণ চলতি বছর ৪৪৫ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণে এসে ঠেকতে পারে। ২০১৯ সালে এর পরিমাণ ৫৫৪ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এসব দেশের রেমিট্যান্স আয় কমতে যাচ্ছে ২০ শতাংশ। এ চিত্রের প্রতিফলন দেখা যাবে দক্ষিণ এশিয়ায় তিন শীর্ষ রেমিট্যান্স আহরণকারী দেশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের আয়ের ক্ষেত্রেও। বিশ্বব্যাংক বলছে ২০২০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের রেমিট্যান্স প্রবাহ ২৩ শতাংশ কমবে। অন্যদিকে বাংলাদেশে চলতি বছর রেমিট্যান্স আসতে পারে ১৪ বিলিয়ন ডলার। নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বিশ্বব্যাপী চলতি বছরের শুরু থেকেই অভিবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মজুরির ওপরও। স্বাস্থ্যবীমাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ছেন অভিবাসী শ্রমিকরা। করোনার কারণে ভ্রমণে নিয়ন্ত্রণ আরোপের আগেই বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় বিদেশ থেকে প্রচুর শ্রমিক ফেরত এসেছেন। বিদেশের কর্মস্থলে কাজে যোগ দিতে পারছেন না তারা। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের সরকার প্রবাসী শ্রমিকদের চলে যেতেও নির্দেশ দিয়েছে এরই মধ্যে। নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৬ দিনেই বাংলাদেশের রেমিট্যান্স ৩৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ কমেছে। যদিও পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় প্রবৃদ্ধি আসে। আর গত মার্চে রেমিট্যান্স কমেছে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০১৯ সালের এপ্রিলে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৩ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। সে হিসাবে গড়ে ওই মাসের প্রথম ১৫ দিনে ৭১ কোটি ৭১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৬ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৪৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। এ হিসাবে চলতি এপ্রিলের প্রথম পক্ষেই বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ কমেছে। ২০১৯ সালের মার্চে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৫ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। চলতি বছরের মার্চে ১২৮ কোটি ৬৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। এ হিসাবে আগের বছরের তুলনায় ২০২০ সালের মার্চে ১৭ কোটি ১৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স কম এসেছে। মার্চে রেমিট্যান্স কমেছে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এর আগে চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছিল আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ২০ শতাংশ। এ সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ২৪৯ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। সে সময় দেশে মোট রেমিট্যান্স আসে ১ হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। টাকার অংকে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৪১ হাজার ২০৮ কোটিতে। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে সৌদি আরব থেকে। দেশটি থেকে গত অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩১১ কোটি ডলার। দেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে এমন শীর্ষ ২০টি দেশের তালিকায় থাকা অন্য দেশগুলো হলো কুয়েত, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, ওমান, কাতার, ইতালি, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্রান্স, লেবানন, জর্দান, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও জাপান। নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই বাংলাদেশের বৃহত্তম রেমিট্যান্স আয়ের উৎস প্রায় সব দেশেই লকডাউন চলছে। ওই সব দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের বড় অংশই বেকার হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় নিজেদের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহের সামর্থ্যই হারিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রকৃত চিত্র পূর্বাভাসের চেয়েও খারাপ হাতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী এক কোটির বেশি বাংলাদেশীর অর্ধেকেরই এখন কোনো আয় নেই। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্থায়ী চাকরি করেন, এমন প্রবাসীর সংখ্যাও খুব বেশি নয়। ফলে বিদ্যমান দুর্যোগ শেষ হলেও বহু বাংলাদেশী কাজ পাবেন না। এ কারণে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি খারাপ হতে পারে।বণিক বার্তা। ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের শ্রমবাজারের বৃহৎ অংশ মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক। ওই সব দেশের অর্থনীতির ভিত্তিই হলো জ্বালানি তেল। বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে। এতে সহসাই মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এমন সম্ভাবনাও নেই। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের নিজ নিজ দেশে টিকে থাকাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় বেকার প্রবাসীরা বাংলাদেশে ফিরে আসা শুরু হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছবে। রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে উল্লেখ করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, এমন একটি অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্য সংকটের মধ্যে রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। এতে তাদের অন্যান্য যেসব দুর্দশা রয়েছে সেগুলো আরো জটিল হয়ে উঠবে। এরই মধ্যে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার প্রবণতা এটাই নির্দেশ করছে, যারা বিদেশে আছেন, তারাও কম আয় করছেন। হয়তো আয়ই নেই অনেকের। তাদের সঞ্চয়ও অনেক কম। আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতির দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের রিজার্ভ, আমাদের আমদানি সক্ষমতা, আমাদের বিনিময় হারএগুলোর ক্ষেত্রে রেমিট্যান্স একটা বড় ভূমিকা রাখে। সেখানেও একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি আরো বলেন, আমাদের শ্রমবাজার যে একটা স্বস্তি দিত, বছরে একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ দেশের বাইরে যেত, তার ওপরও একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে বোঝা যাচ্ছে। সবটা মিলিয়ে আমাদের অর্থনীতির ব্যষ্টিক ও সামষ্টিকদুই দিক থেকেই দুঃসংবাদই বলব আমি। এ পরিস্থিতি থেকে উঠে আসাটা কভিডের ওপর আংশিকভাবেই নির্ভর করবে। কারণ কভিড যে একটা ফুটপ্রিন্ট রেখে যাচ্ছে, সবাই যে বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা করছে, সবটা মিলিয়ে আগের জায়গায় ফিরে যাওয়াটাও কঠিন হবে।
করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ১০০ মিলিয়ন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক
0৪এপ্রিল,শনিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশকে দেয়া জরুরি সহায়তার প্রথম ধাপ অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রথম দিকে বাংলাদেশকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা দেয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।আজ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই জরুরি সহায়তার মাধ্যমে করোনা ভাইরাস রোগী শনাক্তকরণ, মহামারীকে প্রতিরোধ, কিভাবে তারা আক্রান্ত হয়েছেন, তার অনুসন্ধান, ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি, ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী ও নতুন আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপনে ১০০ মিলিয়ন ডলার ব্যবহার করা হবে। বাংলাদেশ যাতে নিজেদের অর্থনৈতিক ক্ষত ও স্বাস্থ্যগত বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারে, সে জন্যই এই সহায়তা বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।এছাড়া এই অর্থ সন্দেহজনক, সংক্রমণ হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্য কর্মীদের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকরি পরিষেবা সরবরাহকারী এবং জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের উন্নয়নে ব্যয় হবে। বাংলাদেশ ও ভুটানের বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মের্সি টেম্বন বলেন, করোনা ভাইরাস প্রসারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এই প্রকল্পটি করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাব জানতে বাংলাদেশের জাতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।পাশাপাশি এটি নজরদারি এবং ডায়াগনস্টিক সিস্টেমগুলি রয়েছে কিনা তা নির্ধারণে গ্রুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া দেশের স্বাস্থ্যবিধি, ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম, ভেন্টিলেটর এবং হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট স্থাপনে জোরালো ভূমিকা রাখেতে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে করোনা ভাইরাস কঠিন আঘাত হানতে পারে। কাজেই চলমান সংকট উত্তরণে আঞ্চলিক ও দেশভিত্তিক সমাধানে জোর দেয়া হচ্ছে।

অর্থনীতি পাতার আরো খবর