বাংলাদেশকে পেঁয়াজ কেনার অনুরোধ করলো ভারত
১৫জানুয়ারী,বুধবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের সরকারের চাহিদার ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানি করার পর বিপদে পড়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার। কেন্দ্রীয় সরকার পেঁয়াজ আমদানির পর ভারতের বেশিরভাগ রাজ্য সরকার তাদের চাহিদা প্রত্যাহার করে নেয়ায় এ বিপদ দেখা দিয়েছে। সোমবার ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার রকিবুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দেশীয় চাহিদার ভিত্তিতে আমদানিকৃত পেঁয়াজ রাজ্য সরকাররা কিনতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশকে কিনে নেয়ার প্রস্তাব দেন ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী। বৈঠকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভারতের জ্যেষ্ঠ এক সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দেশটির ইংরেজি দৈনিক দ্য প্রিন্ট এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ভারত বিদেশ থেকে মোট ৩৬ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির চুক্তি করেছে। ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটিতে ১৮ হাজার টন পেঁয়াজ পৌঁছেছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রদেশের সরকার আমদানিকৃত পেঁয়াজের মাত্র ৩ হাজার টন নিয়েছে। অবশিষ্ট পেঁয়াজ মুম্বাইয়ের জওহরলাল নেহরু বন্দরে খালাসের অপেক্ষায়। চলতি মাসের শুরুর দিকে ভারতের ভোক্তা কল্যাণবিষয়ক মন্ত্রী রাম বিলাস পাসওয়ান জানান, আমদানিকৃত পেঁয়াজের মহারাষ্ট্র সরকার ১০ হাজার টন, আসাম ৩ হাজার টন, হরিয়ানা ৩ হাজার ৪৮০ টন, কর্ণাটক ২৫০ টন ও ওড়িশ্যা প্রদেশ সরকার ১০০ টন চাহিদা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। গত নভেম্বর এবং ডিসেম্বরে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ১০০ রুপি পেরিয়ে যাওয়ার পর এসব রাজ্য এই নিত্যপণ্যটি আমদানি করতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। এখন তারা আমদানিকৃত পেঁয়াজের উচ্চমূল্য এবং স্বাদের ভিন্নতার অজুহাত দেখিয়ে সেগুলো নিতে রাজি হচ্ছে না। রাজ্যগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের আমদানিকৃত পেঁয়াজ নিতে রাজি না হওয়ায় সেগুলো পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ভারত এসব পেঁয়াজ প্রতি টন ৫০ হাজার থেকে ৫৯ হাজার (৬০০ থেকে ৭০০ ডলারে) টাকায় আমদানি করেছে। এখন বাংলাদেশকে এসব পেঁয়াজ প্রতি টন ৫৫০ থেকে ৫৮০ ডলারে কিনে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে মোদি সরকার। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার রকিবুল হক বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানি করেছে এবং নেপাল হয়ে আরও পেঁয়াজ দেশের বাজারে ঢোকার অপেক্ষায় আছে। সুতরাং বিনামূল্যে পরিবহনসহ ভারতের কিছু প্রণোদনা দেয়া উচিত। প্রায় তিন মাস আগে ভারত সফরে গিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্যে নরেন্দ্র মোদি সরকারের সমালোচনা করেছিলেন। ওই সময় বাংলাদেশকে না জানিয়ে হঠাৎ পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত। যে কারণে বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ২০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। চারদিনের ওই সফরে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আমি আশা করেছিলাম ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ার আগে আমাদের অন্তত জানাবে। আমি রাঁধুনিকে বলেছি, আমার কোনো বিকল্প নেই। সুতরাং পেঁয়াজ ছাড়াই রান্না করতে হবে। আমি অনুরোধ করবো, আপনারা এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার আগে দয়া করে আমাদের অবগত করবেন।
ইসলামী ব্যাংকের ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন ২০২০-এর উদ্বোধন
১১জানুয়ারী,শনিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর তিন দিনব্যাপী ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন ১০ জানুয়ারি (শুক্রবার) হোটেল রয়েল টিউলিপ সী পার্ল বীচ রির্সোট, কক্সবাজারে উদ্বোধন করা হয়েছে। ব্যাংকের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. নাজমুল হাসান, পিএইচডি প্রধান অতিথি হিসেবে এ সম্মেলন উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও সিইও মো. মাহবুব উল আলম। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. সেলিম উদ্দিন, এফসিএ, এফসিএমএ, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিন, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোলায়মান, এফসিএ, পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন, প্রফেসর ডা. কাজী শহিদুল আলম, সৈয়দ আবু আসাদ, ডা. তানভীর আহমেদ, মো: কামরুল হাসান, প্রফেসর ড. মো. সালেহ জহুর, প্রফেসর ড. মো. ফসিহ উল আলম ও মো. নাছির উদ্দিন, এফসিএমএ এবং শরী আহ সুপারভাইজরি কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ। স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মুহাম্মদ কায়সার আলী। অনুষ্ঠানে ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর, প্রধান কার্যালয়ের উর্ধ্বতন নির্বাহী, জোনপ্রধান ও ৩৫৭ টি শাখার ব্যবস্থাপকগণ অংশ নেন। সম্মেলনে জানানো হয় ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা যা গত বছরের তুলনায় ১২ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা বেশি। একই সময়ে সাধারণ বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯০ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা এবং গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ। ২০১৯ সালে ইসলামী ব্যাংক আমদানি, রপ্তানি বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স আহরণ করেছে যথাক্রমে ৩৯ হাজার ৯৮৮ কোটি, ২৩ হাজার ৪৪৪ কোটি এবং ৩০ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা। চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. নাজমুল হাসান, পিএইচডি প্রধান অতিথির ভাষণে ২০১৯ সালে ব্যাংকের ব্যবসায়িক সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন। ব্যাংকের অগ্রগতিকে আরও বেশি ত্বরান্বিত করতে অভ্যন্তরীণ গবেষনা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের জন্য আহবান জানান। আগামী দিনের অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং সেক্টরের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তিনি তরুণ নেতৃত্বকে আরো বেশি সুযোগ দেয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। ইসলামী ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যাংকিং সেবা জনপ্রিয় করতে তিনি ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানান। ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও সিইও মো. মাহবুব উল আলম সভাপতির ভাষণে বলেন, ইসলামী ব্যাংক বিগত বছর সমূহের ধারাবাহিকতায় এ বছরও ব্যবসায়িক বিভিন্ন সূচকে প্রথম স্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সরকার ঘোষিত মুজিববর্ষের ক্ষনগণনার মুহুর্তে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন তথা দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে অগ্রণী ভুমিকা রাখার দৃঢ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আর্থিক অন্তর্ভূক্তিমূলক ব্যাংকিয়ের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের রুপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নেও ইসলামী ব্যাংক অগ্রণী ভুমিকা পালন করছে। তথ্য প্রযুক্তিসমৃদ্ধ পেপারলেস ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে শহর ও গ্রামের সকল শ্রেণীপেশার মানুষের নিকট ইসলামী ব্যাংকের সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য তিনি সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানান। অন্যান্য বক্তারা বলেন, ২০১৯ সালে ইসলামী ব্যাংক ১০০০ এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট খোলার মাইলফলক অতিক্রম করেছে। উপশাখা ব্যাংকিংয়ের কার্যক্রমও দ্রুততার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। টানা ৮ বারের মতো বিশ্বব্যাপী এক হাজার ব্যাংকের তালিকায় ইসলামী ব্যাংক নিজেদের ক্রমোন্নতির ধারা অব্যাহত রাখায় বক্তারা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, বিশ্বসেরা সিবাফি অ্যাওয়ার্ড, স্ট্রংগেস্ট ব্যাংক অ্যাওয়ার্ড, সেরা করদাতা ও বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিটেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রমাণ করে ইসলামী ব্যাংক তার সক্ষমতা ও উৎকর্ষতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করছে।
বিশ্বের সেরা অর্থমন্ত্রী ভূষিত হলেন মুস্তফা কামাল
০২জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গ্লোবাল ফিন্যান্স মিনিস্টার অব দ্য ওয়ার্ল্ডে ভূষিত করা হয়েছে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিজনেস পত্রিকা ‘দ্য ব্যাংকার’ বিশ্বের সেরা অর্থমন্ত্রী নির্বাচিত করেছে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীকে। গেল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে দলটি। গতবছরের ৭ জানুয়ারি মন্ত্রিসভায়ও আনা হয় চমক। নতুনদের জায়গা দিতে বাদ দেয়া হয় কয়েকজন হেভিওয়েট মন্ত্রীকে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তার পরিবর্তে অর্থ মন্ত্রাণালয়ের দায়িত্ব পান আ হ ম মুস্তফা কামাল। এর আগে তিনি পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, অর্থমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে অর্থ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ রয়েছে। একটি দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে হলে প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার ও প্রয়োগের দিকটি গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে তত্ত্বীয় জ্ঞানের তুলনায় ব্যবহারিক বা বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন কাউকেই নতুন অর্থমন্ত্রী বানানো জরুরি। এ জন্যই আ হ ম মুস্তফা কামালকে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেয়া হয়। আ হ ম মুস্তফা কামাল ১৯৪৭ সালের ১৫ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও ক্রিকেট সংগঠক। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-১০ সংসদীয় আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সংসদ সদস্য তিনি। এছাড়াও মুস্তফা কামাল ২০১৪-১৫ মেয়াদে আইসিসি এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট কামাল এ পর্যন্ত চারবার এমপি হিসেবে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চতুর্থ মেয়াদে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্যরূপে কুমিল্লা-১০ সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কুমিল্লা জেলা (দক্ষিণ)-এর আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়াও, তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সচিব পদে আসীন। বর্তমানে তিনি সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পূর্বে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ত্রিশ বছর ধরে ক্রিকেটের সাথে সম্পৃক্ত থেকে এর উন্নয়নে বিভিন্ন দায়িত্বে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে লোটাস কামাল পেস বোলিং ক্রিকেট একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন।
এক সার্কুলারেই গ্রাহকের সাশ্রয় ৫২৮ কোটি টাকা
৩০ডিসেম্বর,সোমবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ব্যাংকের টাকা রেখে মুনাফা ঘরে তোলা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছিল। নানা রকম সার্ভিস চার্জ আর করজালে গ্রাহকের মুনাফার একটি বড় অংশ চলে যায়। এতে সঞ্চয়ে নিরুৎসাহ হচ্ছে মানুষ, কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়ছে না আমানত। এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রতি এক সার্কুলার জারি করে গ্রাহকের হিসাব সংরক্ষণ ফি কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সঞ্চয়ী ও চলতি উভয় হিসাবে গ্রাহকের এই চার্জ কমানো হয়েছে। এতে প্রতিবছর গ্রাহকদের সাশ্রয় হবে প্রায় ৫২৮ কোটি টাকা, যা এত দিন ব্যাংকগুলোর পকেটে ঢুকত। ওই নির্দেশনা বাস্তবায়িত হওয়া নিয়ে অবশ্য শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ বেশির ভাগ ব্যাংকই বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী তাদের হিসাব সংরক্ষণ ফির তথ্যটি এখনো হালনাগাদ করেনি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের নজরদারি অব্যাহত আছে। এ ছাড়া গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হিসাব সংরক্ষণের নতুন ফি নির্ধারণ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো যাতে অযৌক্তিক চার্জ নিতে না পারে সে জন্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কঠোর অবস্থান। ব্যাংকগুলো তাদের কোন সেবায় কত চার্জ নেবে, আর কোন সেবায় চার্জ আরোপ করতে পারবে না এ বিষয়ে সর্বশেষ ২০০৯ সালের ২২ ডিসেম্বর একটি মাস্টার সার্কুলার জারি করা হয়েছিল। ওই সার্কুলারে অন্যান্য সেবার মতো সঞ্চয় ও চলতি হিসাবে কত টাকা চার্জ নেওয়া যাবে সেটি নির্ধারণ করে দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সময় সব ধরনের সঞ্চয়ী হিসাবে প্রতি ছয় মাস অন্তর ৩০০ টাকা এবং চলতি হিসাবে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে ২০১০ সালের ১৩ মে আরেক সার্কুলারে সঞ্চয় হিসাবের পাঁচ হাজার টাকা গড় আমানত স্থিতির আমানতকারীদের ক্ষেত্রে হিসাব সংরক্ষণ চার্জ আদায় না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘদিন এই নিয়মেই হিসাব সংরক্ষণ ফি কেটে আসছিল ব্যাংকগুলো। কিন্তু গত ৩১ অক্টোবর গ্রাহকের হিসাব সংরক্ষণ ফি কমিয়ে আরেকটি সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত গড় আমানতকারীর হিসাব থেকে কোনো ফি আদায় করা যাবে না। আগে এ সীমা ছিল পাঁচ হাজার টাকা। আর ছয় মাস অন্তর ১০ হাজার এক টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত গড় আমানতের স্থিতির ক্ষেত্রে ১০০ টাকা, ২৫ হাজার এক টাকা থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ২০০ টাকা, দুই লাখ এক টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ২৫০ টাকা এবং ১০ লাখ টাকার অধিক আমানতের ক্ষেত্রে ৩০০ টাকা হিসাব সংরক্ষণ ফি আদায় করা যাবে। এ ছাড়া চলতি হিসাব পরিচালনা চার্জ ছয় মাস অন্তর ৩০০ টাকা আদায় করা যাবে। আগে ২৫ হাজারের অধিক যেকোনো পরিমাণ আমানত স্থিতির ক্ষেত্রে ছয় মাস অন্তর ৩০০ টাকা এবং চলতি হিসাবে ছয় মাস অন্তর ৫০০ টাকা করে আদায় করতে পারত ব্যাংকগুলো। এতে ব্যাংকগুলোর বছরে আয় হতো প্রায় এক হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা। কিন্তু ফি নতুন করে নির্ধারণ করে দেওয়ায় ব্যাংকগুলোর আয় কমে হবে এক হাজার ১২৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা। ফলে গ্রাহকের সাশ্রয় হবে ৫২৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন,মূল্যস্ফীতির কারণে এমনিতেই আমানতকারীদের প্রকৃত আয় কমে গেছে। তার মধ্যে ব্যাংকের সার্ভিস চার্জ বছরে দুইবার কাটা হচ্ছে। এর বাইরে আবগারি শুল্ক এবং উৎস করও কর্তন করা হয়। এত ব্যয় নির্বাহ করে প্রকৃতপক্ষে কোনো আমানতকারীই মুনাফা নিয়ে ফিরতে পারে না। এ জন্য আমরা আমানতকারীদের কথা চিন্তা করে হিসাব সংরক্ষণ ফি কমিয়েছি। এর মাধ্যমে কিছুটা হলেও আমানতকারীদের প্রকৃত আয় বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক হিসাব সংরক্ষণ ফি কমিয়ে নির্ধারণসংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোতে পাঁচ লাখ টাকার আমানতকারী গ্রাহক ছিলেন চার কোটি ৬৭ লাখ ২৩ হাজার ১৫০ জন। এসব গ্রাহক আগে থেকেই হিসাব সংরক্ষণ ফির বাইরে আছেন। ব্যাংকে পাঁচ লাখ এক টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতকারী আছেন ২৪ লাখ ১৮ হাজার ৬৪৬ জন। নতুন নির্দেশনার ফলে এ শ্রেণির আমানতকারীদের হিসাব সংরক্ষণ ফি দিতে হবে না। এখানে সাশ্রয় হবে ৪৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। ২৫ লাখ এক টাকা থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতকারীর সংখ্যা এক কোটি চার লাখ ৫৮ হাজার ৮৬০। তাঁদের হিসাব সংরক্ষণ ফি ১০০ টাকা কমানোয় বছরে সাশ্রয় হবে প্রায় ২০৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা। দুই লাখ এক টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতকারীর সংখ্যা ৪৬ লাখ ৮০ হাজার ৬৪৬। তাঁদের হিসাব সংরক্ষণ ফি ৫০ টাকা কমানোয় বছরে সাশ্রয় হবে ৪৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা। অন্যদিকে বর্তমানে ৫৫ লাখ ৮২ হাজার ১৪৬ জন গ্রাহকের চলতি হিসাব থেকে সংরক্ষণ ফি কাটতে পারে ব্যাংকগুলো। চলতি হিসাবে ফি ২০০ টাকা কমানোয় এখানে সাশ্রয় হবে আরো ২২৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবের গ্রাহকদের বছরে ৫২৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকার মতো সাশ্রয় হবে। এর মধ্যে সঞ্চয়ী হিসাবের গ্রাহকদেরই সাশ্রয় হবে ৩০৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। আগামী ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংক হলিডে। ওই দিন ব্যাংকগুলো পঞ্জিকা বছরের আর্থিক হিসাব চূড়ান্ত করবে। ফলে তখন বছরের দ্বিতীয় ছয় মাসের জন্য বিভিন্ন সেবার বিপরীতে নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ ও ফি কেটে নেবে ব্যাংকগুলো। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী অনেক ব্যাংক তাদের হিসাব সংরক্ষণ ফির তথ্য হালনাগাদ না করায় গ্রাহকরা আতঙ্কে আছেন।
আগামীকাল থেকে ৩৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি
২২ডিসেম্বর,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ১০ টাকা কমিয়েছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। আগামীকাল সোমবার থেকে খোলাবাজারে ৩৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করবে সরকারি এ সংস্থা। রোববার টিসিবির নিজস্ব ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে টিসিবি জানিয়েছে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামীকাল ২৩ ডিসেম্বর সোমবার থেকে টিসিবির পেঁয়াজ খোলাবাজারে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি করা হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উল্লিখিত দরে পেঁয়াজ বিক্রির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, এর আগে টিসিবি ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে গত ৩০ সেপ্টেম্বর। গত সেপ্টেম্বরে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। তখন বাজারদর নিয়ন্ত্রণে টিসিবি খোলাবাজারে ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে। প্রাথমিকভাবে এ কার্যক্রম ঢাকায় শুরু করা হলেও পরবর্তীতে সারাদেশে উক্ত দরে পেঁয়াজ বিক্রি করে টিসিবি।
অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত ফিড উৎপাদন বাড়ছে, জনপ্রিয় হচ্ছে ফার্মের মাংস ডিম
২১ডিসেম্বর,শনিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সরকার আইন করে পোলট্রি ও মাছের খাবারে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। অ্যান্টিবায়োটিকের দায়িত্বহীন ব্যবহারের বিরুদ্ধে আদালতের রুল জারি হয়েছে। বিগত কয়েক বছরে অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসেবে প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিকের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে (কেআইবি) গোলটেবিল বৈঠকটি আয়োজন করে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)। বৈঠকে মিডিয়া প্যানেলে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিবিসি নিউজের সম্পাদক প্রণব সাহা, আরটিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক লুৎফর রহমান, ইনডিপেন্ডেন্ট টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক আশীষ সৈকত এবং এসএ টিভির বার্তা সম্পাদক সালাহউদ্দীন বাবলু। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. নাথু রাম সরকার, পোলট্রি বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো: মকবুল হোসেন, অধ্যাপক ড. শওকত আলী, অধ্যাপক ড. এস সি দাস, অধ্যাপক ড. কে এম এস ইসলাম প্রমুখ। ওয়ার্ল্ডস পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হাসান তার প্রেজেন্টেশনে জানান, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী ২০১৭ সালে প্রায় তিন হাজার মেট্রিক টন এজিপি অলটারনেটিভ এডিটিভস (এএএ) দেশে আমদানি হয়েছে এবং প্রায় তিন দশমিক চার মিলিয়ন টন মুরগি ও মাছের খাবার তৈরিতে তা ব্যবহৃত হয়েছে, যা দেশে উৎপাদিত মোট ফিডের প্রায় ৮০ শতাংশ। তিনি বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত ফিড উৎপাদনের ক্ষেত্রে এটি একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে তিনি বলেন, নিরাপদ ডিম ও মাংস উৎপাদনে ফিড একটি অন্যতম নিয়ামক হলেও নানাভাবেই এতে জীবাণুর সংক্রমণ ঘটতে পারে। যেমন, জবাই, প্রসেস ও স্টোরেজ করার সময়, এমনকি রান্নার সময়ও জীবাণুর সংক্রমণ ঘটতে পারে। তাই এক দিকে যেমন নজরদারি বাড়ানো, আইন ও নীতিমালা প্রয়োগে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরকে আরো বেশি কঠোর হতে হবে, অন্য দিকে তেমনি ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের প্রফেসর খালেদা ইসলাম বলেন, দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ এবং পুষ্টিসূচকের উন্নতিতে বড় ভূমিকা রেখে চলেছে পোলট্রি শিল্প। ব্রয়লার মাংস ও পোলট্রির ডিম স্বাস্থ্যসম্মত এবং বিশ্বজুড়েই হোয়াইট মিট খাওয়ার পরিমাণ বাড়ছে।
এক কেজি পেঁয়াজের বিমান ভাড়া ১৫০ টাকা : বাণিজ্যমন্ত্রী
১২ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি মেটাতে উড়োজাহাজে করে প্রতি কেজি ১৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। মানুষের উপকারের জন্য সরকার এটা করেছে। বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি ভবনে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এ কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত যখন পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। সেদিন সন্ধ্যায় ঢাকার বাজারে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়। কিন্তু সেসময় বাজারে যে পেঁয়াজ ছিল তাতো আমদানি আগেই করা হয়েছে। তাদের ধরলে বলে এখন সুযোগ পেয়েছে বলে লাভ করছে। তারা আসলে সুযোগ নিয়েছে। পেঁয়াজের দাম এমন একটা পর্যায়ে থাকা উচিত, যেখানে থাকলে কৃষকের লোকসান হবে না আবার সাধারণ মানুষেরও ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকবে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মো. মফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন ড. শামসুল আলম, বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন, এফবিসিসআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম প্রমুখ। পাশাপাশি, প্রতিযোগিতা কমিশনের কার্যক্রমের বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. ফরাসউদ্দিন।
সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে
২৮নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়লেও উৎপাদকরা বলছেন, এর পেছনে তাদের কোনো হাত নেই। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনও বলছে, এই সময়ে কোম্পানিগুলো তেলের দাম বাড়াবে না। কিন্তু খুচরা বাজারে তেলের দাম ঠিকই বেড়ে গেছে। পাইকারি ব্যবসায়ীদের অজুহাত, আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং রেট বাড়ায় তেলের দাম বাড়ছে। যদিও এখনকার বুকিং করা তেল বাজারে আসবে কয়েক মাস পর। খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ১৫ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫-৭ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে বিক্রি হতো ৭৮-৮০ টাকায়। আর পামওয়েলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বেড়ে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়েনি। কোম্পানিভেদে প্রতি লিটার সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকা দরে। জানতে চাইলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের তেল বিক্রেতা আবুল কাশেম জানান, প্রতি লিটার খোলা সয়াবিনে ৫-৭ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণেই এই দাম বাড়ানো হয়েছে। রাজধানীর বৃহৎ পাইকারি বাজার মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তি। বুকিং রেট (এলসি মূল্য) বেড়ে যাওয়ায় প্রতি মণ সয়াবিনে ২০০ টাকা এবং পাম ওয়েলে ৩৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার বিশ্লেষণ বলছে, এক মাসের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রায় দুই শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। যেখানে পামওয়েলের দাম বেড়েছে ৮ শতাংশ পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে পামওয়েলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে এর প্রভাব দেশি বাজারেও পড়েছে। তবে এ বিষয়টি স্বীকার করছে না ট্যারিফ কমিশন। তারা বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে পামওয়েলের দাম বেড়েছে। জানা যায়, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন সয়াবিন ৬৭১-৬৮০ ডলার এবং পামওয়েল ৬৩১-৬৫০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। দুটি কোম্পানি বোতলজাত তেলের দাম বৃদ্ধির একটি প্রস্তাবনা দিয়েছিল ট্যারিফ কমিশনের কাছে। তবে ট্যারিফ কমিশন তাদের আবেদনটি বাতিল করে দিয়ে বলেছে, দাম বৃদ্ধি করতে হলে ভোজ্যতেল পরিশোধন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্মিলিতভাবে আবেদন করতে হবে। তখন যাচাই-বাছাই শেষ করে তবেই দাম বৃদ্ধির অনুমতি দেয়া হবে। গতকাল বুধবার ট্যারিফ কমিশনে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী, পরিশোধনকারী শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে শীর্ষস্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, টিকে গ্রুপ, বাংলাদেশ এডিবল ওয়েল, এস আলমসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান উপস্থিত ছিলো। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মো. নূর-উর-রহমান বলেন, উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা তেলের দাম বাড়াবে না বলে আমাদের জানিয়েছে। তাই আপাতত তেলের দাম বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। খোলা সয়াবিনের দাম বৃদ্ধিতে কোম্পানিগুলোর কোনো ভূমিকা রয়েছে কিনা- জানতে চাইলে সিটি গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক বিশ^জিত সাহা বলেন, বোতলজাত তেলের দাম বাড়েনি, আগের দামেই আমরা বিক্রি করছি। তবে খোলা তেলের বাজার আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। এ বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না।
দেশে যানজটের কারণে রপ্তানি মূল্য বাড়ছে: বিশ্বব্যাংক
১৪ নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সড়কে যানজটের কারণে পণ্য রপ্তানির মূল্য বাড়ছে। এজন্য রপ্তানি প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় মসৃণ পরিবহন অবকাঠামো তৈরিতে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। বললেন বিশ্ব ব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি মার্সি টেম্বন। আজ বুধবার বিশ্ব ব্যাংকের মুভিং ফরওয়ার্ড: কানেক্টিভিটি অ্যান্ড লজিস্টিকস টু সাসটেইন বাংলাদেশ জ সাকসেস শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, যানজটমুক্ত সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার পাশাপাশি সাশ্রয়ী যোগাযোগ মাধ্যম রেল ও জলপথের অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে রপ্তানি সক্ষমতাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো উচিত। অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন বিশ্ব ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ম্যাটিয়াস হেরেরা ড্যাপে, প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান। মার্সি টেম্বন আরও বলেন, আন্তর্জাতিক রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এই প্রতিযোগিতায় যে দেশ যত বেশি কম দামে পণ্য দিতে পারছে, সে দেশ রপ্তানি বাজারে ততই এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে পণ্য পরিবহণে লজিস্টিক সহায়তা বাড়িয়ে বিশেষ করে যানজট কমানোর মাধ্যমে পণ্য পরিবহণ ব্যয় কমিয়ে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। টেম্বন বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগী দেশগুলো রপ্তানি পণ্য পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন করে এগিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো মসৃণ সংযোগ অবকাঠামোতে তৈরিতে পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগ খাতের যানজট রপ্তানি পণ্য গন্তব্যে পৌঁছানোর খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারের প্রায় ৭ শতাংশ পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ। বর্তমান অবস্থায়ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১০ শতাংশ রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ আছে। এছাড়াও বিশ্ববাজারে রপ্তানি বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আমদানিকারকরা কম দামে পণ্য চায়। যে দেশ কম দামে পণ্য দিতে পারে তারা সেই দেশ থেকেই পণ্য কেনে। রপ্তানি বাড়িয়ে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের দিকে এগিয়ে যেতে বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, কম খরচের পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো।