বুধবার, মার্চ ৩, ২০২১
স্থপতি তসলিম উদ্দিন চৌধুরী, প্রখর যুক্তিবাদী মানুষ ছিলেন: মো.এনামুল হক লিটন ও সাহেনা আক্তার হেনা
১৩নভেম্বর,শুক্রবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রামের বহুল প্রচারিত, স্বনামধন্য পত্রিকা দৈনিক পূর্বকোণ-এর সম্পাদক কর্মবীর স্থপতি তসলিম উদ্দিন চৌধুরী একজন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী অসাম্প্রদায়িক ও প্রখর যুক্তিবাদী মানুষ ছিলেন। তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত দৈনিক পূূর্বকোণ চট্টগ্রামের উন্নয়ন তথা জনস্বার্থমূলক সকল ইস্যুতে বরাবরই ছিল সোচ্ছার। তিনি বিলাসি নয় পরিশ্রমী ও শ্রমজীবী মানুষদের সবসময় পছন্দ করতেন। আতপ্রচার বিমুখ এই মণিষী নিজেকে আড়াল রাখতে পছন্দ করতেন। মানবীয় গুণ সম্পন্ন এই ব্যক্তিত্ব অসংখ্য শিক্ষা, সেবামূলক ও রাষ্ট্রীয় গুরুদায়িত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পিতা দৈনিক পূর্বকোণের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরীর মৃত্যুর পরে যোগ্য ও বলিষ্ট হাতে পত্রিকার হাল ধরেছিলেন তিনি। দেশ এবং জনগনের কল্যানের ও জন সেবার লক্ষ্যেই এই জগতকে তিনি বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর সৃষ্টিশীল চিন্তা-ভাবনা, প্রতিভা ও মেধা দিয়ে ঢেলে সাজানো দৈনিক পূর্বকোণ হয়ে ওঠেছিল পাঠক প্রিয়, জননন্দিত এবং পৌঁছে যায় সর্বস্থরের জনগণের পছন্দের সর্বোচ্চ শিখরে। কেননা গণ মানুষের চাহিদা, সমস্যা-সম্ভাবনা তুলে ধরতে, বস্তুনিষ্ঠ সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি করেছিলেন তিনি। এছাড়া তিনিই ছিলেন সৎ সাংবাদিকতাসহ দেশ ও জনগণের পাশে থেকে জন কল্যাণকর সংবাদপত্র বিকাশের ও প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের অন্যতম এক অগ্রসৈনিক। তিনি ছিলেন চিন্তা-চেতনায় সমাজ সচেতন ও দায়বদ্ধ, সংস্কারমুক্ত, ধর্মপ্রাণ, দায়িত্বপ্রবন, চিন্তায় ও মননের আধুনিক এবং স্পষ্টভাষী এক আলোকিত মানুষ। স্থপতি তসলিম উদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার হাজ্বী বাড়ী নিবাসী, আধুনিক সংবাদপত্রের রুপকার চট্টলদরদী, ব্যবসা উদ্যোক্তার পথিকৃৎ, দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী ও মাতা মরহুমা জোহরা বেগম চৌধুরীর সূযোগ্য সন্তান। ১৯৫৪ সালের ১ জানুয়ারি আন্দরকিল্লা রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তিনি সেন্ট মেরিস ও সেন্ট প্লাসিডস স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। ছাত্র জীবনে তিনি ছিলেন বিজ্ঞানের একনিষ্ঠ অনুধ্যান শিক্ষার্থী। ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের ছাত্র জীবন থেকেই তিনি শিল্প-সংস্কৃতি সাহিত্যের প্রতি ছিলেন গভীর অনুরাগী। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বুয়েট থেকে স্থাপত্য বিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। স্থাপত্যবিদ্যা ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ে অগাধ পান্ডিত্যও জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। অসংখ্য দুর্লভ বই, পত্র- পত্রিকা সংগ্রহে রাখা ছাড়াও চিত্রকলা, গান, রন্ধন শিল্প, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফির বিষয়ে গভীর আগ্রহী ছিলেন তিনি। ১৯৮৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারী দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন শুরু করেন। এই বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী, কর্মবীর স্থপতি তসলিম উদ্দিন চৌধুরী একাধারে বাসস ও চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের পরিচালক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নগর উন্নয়ন কমিটির সদস্য, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিমেল সাইসেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, চিটাগাং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম চাপ্টারের সভাপতি, চিটাগাং ক্লাব লিমিটেডের সদস্য, চিটাগাং বোট ক্লাবের নির্বাহী কমিটির সদস্য, নিউজ পেপার ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর নির্বাহী কমিটির সদস্য, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের স্থায়ী সদস্য, বাংলাদেশ করোগেটেড কার্টন এন্ড এক্সেসরিজ এন্ড এক্সপোর্ট এসোসিয়েশনের প্রথম সহ-সভাপতি ও এডভাইজার, ওল্ড ফৌজিয়ান এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট, চট্টগ্রাম সংবাদপত্র পরিষদের সদস্য, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক এসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ কিডনি ফাউন্ডেশনের সদস্য, স্যার মরিস ব্রাউন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের প্রেসিডেন্ট, চিটাগাং ডেইরি ফার্ম এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট, চাটগাঁ ভাষা পরিষদের উপদেষ্টা, রাউজান মডেল ইনস্টিটিউট ও ঢেউয়া হাজিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া যোগ্য পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দূরদর্শিতার জন্য তাকে ২০০৭ সালে পূর্বকোণ গ্রুপের চেয়ারম্যান পদে মনোনীত করা হয়। দীর্ঘ ২৪ বছর এক দুরারোগ্য ব্যাধির সাথে লড়ে অবশেষে ২০১৭ সালে ঢাকার ধানমন্ডি রেঁনেসা হাসপাতাল এন্ড রির্সাচ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ১৫ নভেম্বর তাঁর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে প্রায় দেড়যুগের বেশি সময় লড়তে-লড়তেও মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত দেশ ও মানুষের সেবায় কাজ করে গেছেন। একজন বিরল প্রতিভাদীপ্ত, কীর্তিমান, নিরলস পরিশ্রমী, দৈনিক পূর্বকোনের প্রয়াত সম্পাদক স্থপতি তসলিম উদ্দিন চৌধুরী তাঁর সৃষ্টিশীল কর্মের মধ্যেই আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল। আল্লাহ তাকে বেহেস্ত নসিব দান করুন। আমিন।- লেখকদ্বয় : প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, প্রগতিশীল সংবাদপত্র পাঠক লেখক ফোরাম, কেন্দ্রিয় কমিটি।
মাদকে আসক্ত পথ শিশুরা, এদের রক্ষা করতে হবে: মো. এনামুল হক লিটন ও সাহেনা আক্তার
১২নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: মরণ নেশা ভয়াল মাদকে জড়িয়ে পড়ছে পথ শিশুরা। দারিদ্র্যের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে অবহেলা, অযত্ন আর অনাদরে বেড়ে উঠা ঠিকানাবিহীন হাজার-হাজার পথ শিশু মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন বস্তির আনাচে-কানাচে টোকাইয়ের কাজ করে এমন শিশুদের মাদক সেবনের দৃশ্য দেখলে যে কেউ শিউরে উঠবে। সারাদিন কাগজ বা অন্যান্য ভাঙ্গারির মালামাল কুঁড়িয়ে তা সংশ্লিষ্ট দোকানে বিক্রি করে যে টাকা আয় করে, তার একটি অংশ তারা ব্যয় করে মাদক সেবনে। পথ শিশুদের এমন অবস্থার অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে বেড়িয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর নানা কাহিনী। যা রীতিমত আতকে উঠার মতো। পথশিশু বলতে আমরা অভিভাবকহীন বা ঠিকানাবিহীন কোনো শিশুকে পথ শিশু মনে করি। কিন্তু বাস্ততাটা হচ্ছে ভিন্নরূপ। অধিক মুনাফালোভী এক শ্রেণির ভাঙ্গারী ব্যবসায়িরা স্কুলে পড়ুয়া এমন শিশুদেরও টোকাই বানিয়ে ফেলছে কৌশলে। করিম (ছদ্মনাম) থাকে বায়েজিদের একটি বস্তিতে। বাবা রিক্সা চালক আর মা গার্মেন্টস শ্রমিক। সে স্থানীয় একটি ব্রাক স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। প্রায়শ : স্কুল চুরি করে মাঠে খেলা করে নতুবা ভিসিডি প্রদর্শিত হয় এমন চায়ের দোকানগুলোতে ৫-১০ টাকা খরচ করলে সময় কাটানো যায়, এমন সব দোকানে বসে সময় কাটায়। একদিন মুখচেনা এক ভাঙ্গারি ব্যবসায়ি তাকে ডেকে ২০টি টাকা হাতে দিয়ে চা-নাস্তা খেতে বলে। সে নিতে না চাইলে, বলে নাও পরে পরিশোধ করে দিবে। কিন্তু কিভাবে পরিশোধ করবে প্রশ্ন করলে ওই ব্যবসায়ি অন্য টোকাইদের দেখিয়ে দিয়ে বলে, ওদের মতো ভাঙ্গারি মালামাল খুঁজে এনে দিলেই হবে। ব্যস সেই থেকে করিম টোকাই। শুধু এখানেই শেষ নয়। আসক্ত হয়ে পড়ে মাদকে। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় পরিবার থেকেও। ঠিকানাবিহীন শিশু ছাড়াও করিমের মতো অনেক পথ শিশু আমাদের চারপাশে আছে। ভাঙ্গারি ব্যবসায়ি ছাড়াও পথ শিশুরা মাদকাসক্ত হয়ে উঠার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তাদেও ব্যবহার করছে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও মাদক ব্যবসায়িরা। এতে করে এক সময় জড়িয়ে পড়ছে তারা নানা অপরাধের সাথে। এদের বয়স সাধারণত : ১১ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। ১৯৭৪ সালের শিশু আইন অনুযায়ী ১৬ বছরের কম বয়সিদের শিশু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আবার আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদ, ১৯৮৯ অনুযায়ী ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিটি মানব সন্তানই শিশু এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এ শিশুর ১৪ এবং কিশোরের বয়স ১৮ বছর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপির) বিভিন্ন থানায় বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার হওয়া কিশোর অপরাধীদের আদালতে সোপর্দ করা হলে, আদালতের মাধ্যমে প্রথমে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়। পরে চট্টগ্রাম জেলা কারাগার থেকে এসব কিশোরদের গাজীপুরে টঙ্গির কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া কিশোরি অপরাধীদের হাটহাজারীস্থ শেল্টার হোমে প্রেরণ করা হয়। এরপরও শিশু-কিশোর অপরাধ বেড়েই চলেছে। মাদক সেবন থেকেই তারা জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধের সঙ্গে। এসব পথ শিশুরদের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মাদক ব্যবসাও চালানো হচ্ছে। চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ এমনকি হত্যার মতো ঘৃণ্য অপরাধেও শিশু-কিশোরদের জড়িয়ে পড়ার বহু প্রমাণ অতীতে পুলিশ, Rab ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পেয়েছে। বলাবাহুল্য যে, পথশিশুদের ভবিষ্যত আজ কতটা অন্ধকারে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এদের কাছে মাদকের সবচেয়ে বেশি প্রচলিত মরণঘাতি নেশা ড্যান্ডি। তারা জানায়, ড্যান্ডি খুব সহজলভ্য নেশা। জুতা জোড়া লাগানোর কাজে ব্যবহৃত আইকা গাম ড্যান্ডির প্রধান উপকরণ। মাদক সেবনের মাধ্যমে পথ শিশুরা মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত হওয়া ছাড়াও ধীরে-ধীরে মাদকের ছোবলে আক্রান্ত হয়ে শারীরিক-মানসিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চট্টগ্রাম মহানগরীতে পথ শিশুরা সংখ্যায় প্রায় ২৫ হাজার। এর মধ্যে বিভিন্ন বস্তি এলাকা ছাড়াও বহদ্দারহাট, রেলওয়ে স্টেশন, কোতোয়ালি ও রিয়াজউদ্দিন বাজার, বায়েজিদ ও বাকলিয়া এলাকায় ২-৩ হাজার। এদের মধ্যে কেউ-কেউ মাদক পাচারসহ নানা অপরাধের সাথেও জড়িত। দিন-দিন নগরীতে বাড়ছে এসব পথ শিশুদের সংখ্যা। তাদের দ্বারা বাড়ছে অপরাধ। সেই সাথে বাড়ছে মাদক সেবনকারির সংখ্যাও। এসব শিশু-কিশোরদের যারা মাদক সেবনে উৎসাহিত করছে, অপরাধি বানাচ্ছে, মাদক পাচারের সাথে জড়াচ্ছে তাদের খুঁজে বের করা দরকার। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও রাখে। একই সাথে এসব পথ শিশুদের রক্ষায় দ্রত ব্যবস্থা নেয়া না হলে, তারা অন্ধকারে নিমর্জ্জিত হয়ে ধীরে-ধীরে মৃত্যুর দিকে চলে যাবে। জড়িয়ে পড়বে অপরাধে। এদের পুনর্বাসন করে মাদকমুক্ত জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে এবং সেটাই প্রত্যাশিত।- লেখকদ্বয় : প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, প্রগতিশীল সংবাদপত্র পাঠক লেখক ফোরাম, কেন্দ্রিয় কমিটি।
কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে: মো. এনামুল হক লিটন ও সাহেনা আক্তার হেনা
১১নভেম্বর,বুধবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা দিন-দিন মাত্রাতিরক্তভাবে বেড়েই চলেছে। উদ্বেগজনক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে তাদের আচরনে। চট্টগ্রাম মহানগর ও আশ-পাশের বিভিন্ন এলাকায় অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোররা নানা অপরাধ সংগঠিত করে যাচ্ছে এমন সংবাদ প্রায়শ: পত্রিকান্তরে প্রকাশ পাচ্ছে। সামাজিক মূল্যবোধহীন এক সমাজে বেড়ে ওঠা এসব কিশোররা যেমনি ক্রমেই অস্থির ও সহিংস হয়ে উঠেছে, তেমনি বিভিন্ন বস্তি, রাস্তা-ফুটপাতে বেড়ে উঠা সমাজের দারিদ্র-লাঞ্চিত, ভাগ্যবিড়ান্ধিত ও বখে যাওয়া কিশোরদের ব্যবহার করে একাধিক সন্ত্রাসীগোষ্ঠি গড়ে তুলেছে ভয়ঙ্কর অপরাধ জগত। এছাড়া মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক আনা-নেয়া বা বেচা-বিক্রিতে ব্যবহার করছে শিশু-কিশোরদের। এলাকার ওঠতি বয়সি কিশোররা বড়দের সামনেই একের পর এক সিগারেট খাচ্ছে। মেয়েদের সাথে ইভটিজিং করছে। এলাকায় নতুন কোনো লোক দেখলে পথ আগলে নানা প্রশ্ন করে। এক কথায় তাদের চক্ষুলজ্জা বলতে কিছুই নেই। সালাম দেওয়া দূরের কথা, ভালো ভাবে কথা বলার সৌজন্যতাও তাদের নেই। তাদের ভবিষ্যত নিয়ে অভিভাবকরাও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। শিশু-কিশোর ও তরুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের আচরণে উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। বড়দের সম্মান করা কিংবা অভিভাবকদের নির্দেশ মেনে চলার মানসিকতা নেই অধিকাংশের। রাজনৈতিক ও পারিবারিক অস্থিরতা, প্রযুক্তির অপব্যবহার অভিভাবকদের অবৈধ সম্পত্তি, সুস্থ বিনোদনের অভাব, শিক্ষাব্যাবস্থার বিভাজন, অভিভাবকদের সঙ্গ না পাওয়া ও অসৎ সঙ্গের কারনে ছেলে-মেয়েদের আচরণে পরিবর্তন হচ্ছে। তারা রাত জেগে মোবাইল ফোনে কাথোপকথন করছে, ইন্টারনেট ব্যবহার করছে এবং ধীরে-ধীরে তারা অস্থির ও সহিংস হয়ে উঠছে। এর উদাহরণ সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একাধিক ধর্ষণের ঘটনা। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, কিশোর অপরাধের বিষয়টি শুধুমাত্র আমাদের দেশেই নয়, ইউরোপের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বৃটেনের সাম্প্রতিক দাঙ্গা এবং লুটতরাজের ঘটনায়ও কিশোররা অপরাধ সংঘটন করেছে। সে বিবেচনায় অবশ্যই বলা যায়, অপরাধ মোকাবেলায় কোনো না কোনোভাবে কিশোররা এক নতুন সমস্যা আর সংকটের কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে বিশেষ করে চট্টগ্রাম মহানগরীতে কিশোর সন্ত্রাসীরা দিন-দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। নগরীর বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও কথিত বড় ভাইদের নামে সর্বনিম্ন ১০ থেকে ১৭ বছরের কিশোরেরা গ্রুপ বা বাহিনী গড়ে তুলেছে। এরা স্ব-স্ব এলাকায় মাস্তানী-চাঁদাবাজি, ছিনতাই জায়গা-জমি দখল-বেদখলে সহযোগীতা এবং আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে নানা দাঙ্গাঁ-হাঙ্গামা করে যাচ্ছে। কেউ-কেউ মাদক সেবনের মতো মরন নেশায় জড়ানোর পাশাপাশি মাদকদ্রব্য আনা-নেয়া ও বেচা-বিক্রির কাজ ও চালাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যায়, ১০ থেকে ১৭ বছরের এসব কিশোররা পান থেকে চুন খসলেই দলবদ্ধভাবে লাঠি-সোটাসহ নানারকম আগ্মেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিপক্ষের উপর। (যদিও বর্তমানে প্রশাসনিক তৎপরতার কারণে কিশোর গ্যাংয়ের আস্ফালন কিছুটা কমেছে)। এসব কিশোররা রাজনৈতিক আশ্রয়-পশ্রয়ে থাকার কারনে প্রশাসনও এদের বিরূদ্ধে সহজে এ্যাকশনে যায়না। ১৯৭৪ সালের শিশু আইন অনুযায়ী শিশু বলতে ১৬ বছরের কম বয়স্ক কোনো ব্যক্তিকে বোঝায়। আবার আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদ, ১৯৮৯ অনুযায়ী ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিটি মানব সন্তানই শিশু এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এ শিশুর ১৪ এবং কিশোরের বয়স ১৮ বছর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপির) বিভিন্ন থানায় বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার হওয়া কিশোর অপরাধীদের আদালতে সোপর্দ করা হলে, আদালতের মাধ্যমে প্রথমে তাদের কারাগারে প্রেরন করা হয়। পরে চট্টগ্রাম জেলা কারাগার থেকে এসব কিশোরদের গাজীপুরে টঙ্গীর কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া কিশোরী অপরাধীদের হাটহাজারীস্থ শেল্টার হোমে প্রেরন করা হয়। এরপরও কিশোর অপরাধ উদ্ধেগজনক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। তারা জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধের সঙ্গে। নানা কৌশল অবলম্বন করেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এদের যেমনি নিয়ন্ত্রনে আনতে পারছেনা তেমনি রাজনৈতিক শেল্টারের কারনে অনেক সময় নিরব ভূমিকা পালন করে থাকে পুলিশ। অপরাধ জগতের দাগী শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আর এলাকাভিত্তিক দলীয় বড় ভাইয়েরা এসব কিশোরদের সন্ত্রাসী বানাচ্ছে। এরপর কিশোর সন্ত্রাসীদের নানাভাবে ব্যবহার করে ফায়দা লুটছে। সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের পাশাপাশী কিশোর সন্ত্রাসীদের দিয়ে কোটি-কোটি টাকার মাদক ব্যবসাও চালানো হচ্ছে। চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরন এমনকি হত্যার মতো ঘৃন্য অপরাধেও কিশোরদের জড়িয়ে পড়ার বহু প্রমান পুলিশ, Rab ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পেয়েছে। সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-পশ্রয় ছাড়াও পারিবারীক নিয়ন্ত্রনহীনতা, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং আকাশ সংস্কৃতির কু-প্রভাবের কারনেই কিশোরদের অপরাধি হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। সঙ্গত কারনেই একটি সুস্থ, সুন্দর, আদর্শবান ও উন্নত সমাজ গঠনের বিবেচনায় কিশোর অপরাধের বিষয়টি গভীর মনোযোগের দাবী রাখে। এদের কঠোর হস্তে দমনেরও দাবী রাখে। অন্যথায় এরা আরো ভয়ঙ্কর শক্তিধর সন্ত্রাসীতে রূপান্তর হবে। দুরন্তপনার শিশু বয়স পেরিয়ে যৌবনে পদার্পনের মধ্যবর্তী বয়সকে কিশোর হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। বর্তমানে শিশু বয়সসীমা আইনগতভাবে পরিবর্তিত হলেও তাতে বাস্তবে কোনো কিছুই পরিবর্তন হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়না। আমাদের সমাজে কিশোরদের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্নতর। ঠিক যেভাবে আদরে-যতেœ শিশুরা বেড়ে উঠার কথা সেভাবে কিশোরদের বেড়ে উঠার সূযোগ-সুবিধা হয়না। এতে করে প্রতিটি কিশোরের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কিছু মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা থেকেই যায়। এই বিশেষ সময়ে পরিবারের পিতা-মাতা, অভিভাবক, গুরুজন এবং সমাজ পরিচালকরা সতর্ক দৃষ্টি না দিলে যে কোন শিশু-কিশোরের বখে যাওয়ার শতভাগ আশঙ্কা থাকে। অভাবী ও বেকার এবং বখে যাওয়া শিশু-কিশোরদের এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অপরাধ জগতের সন্ত্রাসীরা নানা লোভ-লালসা দেখিয়ে অতি সহজেই তাদের দিয়ে অনেক বড়-বড় অপরাধ সংঘটন করিয়ে নেয়। অনেক ক্ষেত্রে রোমান্টিকতা ও অপরাধ সংঘটনের কাজ করে থাকে। কিশোররা প্রায় অপরাধ কর্মকান্ডের ক্ষেত্রে সন্দেহের উর্ধ্বে থাকে বিধায় আইনগত যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা লাভ করে বলে সন্ত্রাসী অপরাধী চক্রগুলো তাদের ফায়দা হাসিল করতে এসব কিশোরদের ব্যবহার করে। এ পর্যন্ত পত্র-পত্রিকায় প্রকাশীত বিভিন্ন খবর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, শুধুমাত্র প্রচলিত অপরাধ জগতের সাথেই নয়, বরং সমাজের উচ্চবিত্ত অনেক পরিবারের অনেক কিশোর সঙ্গ দোষে অথবা এ্যাডভেঞ্চার করতে গিয়ে এমন সব অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে যা বিশ্বাস করতেও কষ্ট হয়। ভয়ঙ্করভাবে মাদকাসক্তি, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি, অপহরণ, খুন, গুমসহ নানা অপরাধে জড়িত হয়ে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা আইন-শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর হাতে ধরাও পড়েছে। প্রকৃতপক্ষে, সর্বনাশা মাদকাসক্তি ও নীতি এবং আদর্শহীন অসৎ সম্পর্ক অধিকাংশ কিশোরদের মধ্যে অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি করে চলেছে। বিশেষ করে মোবাইল ফোনের যথেচ্ছা ব্যবহারের কারনে এসব অপরাধ ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। মোবাইল ফোনের ব্যবহারে বয়স সংক্রান্ত আইন পাস করা হলেও এর কোনো প্রয়োগ দেখা যাচ্ছেনা। ১০ থেকে ১৭ বছরের প্রায় প্রতিটি কিশোরই অবাধে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর বস্তিগুলো, পাড়া-মহল্লায় এবং প্রায় সব অলি-গলিতে বর্তমানে একশ্রেণীর কিশোর সন্ত্রাসী রীতিমতো আতঙ্কের কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এদের রাজনৈতিক গডফাদার রয়েছে। আগেকার দিনে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক কারনে পোষ্টার লাগানো বা এ ধরনের কাজের জন্য কিশোরদের ব্যবহারের যে নিয়মনীতি ছিল বর্তমানে সেটাই এক ধরনের সুবিধাবাদী রাজনৈতিক পশ্রয়ে ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয়ে সাধারণ নাগরিকদের জন্য বড়ধরনের সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। এক্ষেত্রে পরিবারের বন্ধনহীনতা, সমাজের উদাসীনতা এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগ না থাকায় কিশোর অপরাধ এখন জাতীয় সমস্যায় উপনীত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। কিশোর অপরাধী আর প্রাপ্ত বয়স্ক অপরাধী আইনের চোখে একভাবে বিবেচিত না হওয়ায় গুরুতর অপরাধ করেও কিশোর অপরাধীরা লঘুদন্ড পাচ্ছে। এ অবস্থা অপরাধ দমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং অপরাধ প্রবণতাকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানের লঘু সাজা পাওয়া অপরাধি পরবর্তীতে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হয়ে আত্ম-প্রকাশের সুযোগ লাভ করছে। আমাদের দেশে কিশোর অপরাধ সংশোধনের জন্য সরকারীভাবে যে ব্যবস্থা রয়েছে, তা মোটেও কার্যকর নয়। এক্ষেত্রে বেসরকারীভাবে অন্য কোনো উদ্ব্যোগ নেয়া যায় কিনা সেটাই ভেবে দেখা একান্ত প্রয়োজন। এ কথা অনস্বীকার্য যে, কিশোর অপরাধ দমন এবং প্রতিকারে পারিবারিক বন্ধন আর পিতা-মাতার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি জরুরী।- লেখকদ্বয় : সাংবাদিক ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, প্রগতিশীল সংবাদপত্র পাঠক লেখক ফোরাম, কেন্দ্রিয় কমিটি।
মুজিব কোট কোনও অন্যায়কারী দুর্নীতিবাজের পরিধান নয়
১২সেপ্টেম্বর,শনিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফেসবুকে লোপা তালুকদার নামের এক নারীর মুজিব কোট পরিধেয় ছবি নিয়ে বেশ হইচই চলছে। তার ফেসবুক প্রোফাইলে কর্ম আর গুনের বিশাল ফিরিস্তি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সকল স্তরের উচ্চ পর্যায়ের মন্ত্রী নেতাদের সবার সাথে ছবি। যে কেউ দেখলেই ভাববেন লোপা তালুকদার কতটা ক্ষমতাধর। হয়তো তার কর্মগুণ ক্ষমতা সবই আছে। সে আলোচনা সাপেক্ষে বিষয়। তবে এমন করিৎকর্মা নারী আওয়ামী লীগের একটি অংগ সংগঠনের বিশেষ পদ ধারণ করে শিশু অপহরণ কেন করছে তা সত্যি চিন্তনীয়। বর্তমান সময়ে কেবল লোপা তালুকদার নয়, দেশে সংঘটিত দুর্নীতি বা অন্য অপরাধসমুহের হোতাদের খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, অপরাধীরা কোনও না কোনভাবে আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত। সরকার হিসাবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে দীর্ঘ সময় ধরে। আর এতে করে দলে পরগাছার পরিমান বৃদ্ধি পাওয়া অমূলক কিছু নয়। এ পরগাছাকে 'কাউয়া হাইব্রিড' নানা উপাধি দেয়া হয়। যে নামই দেয়া হোক না কেন এরা ক্রমশ মহীরুহ হয়ে উঠছে। কারণ এদের ছেঁটে ফেলার মত কোনও উদ্যোগ নেয়া হয় না। পাপিয়া, শাহেদ, সাবরিনার ঘটনার রেশ না কাটতেই মুজিব কোট পরিহিত লোপা তালুকদার আবার প্রশ্নবিদ্ধ করছে দলের কর্মকাণ্ডকে। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের পরিচালক, সাংবাদিক, কবি সাহিত্যিক সব পদবীর ধারণ করার এ নারীর বিরুদ্ধে হত্যাসহ আরও মামলা আছে বলে গণমাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে। আর জিনিয়াকে অপহরন কেন করা হয়েছে তা পুলিশের তদন্তে বের হয়ে আসবে বলে বিশ্বাস। এ মুহূর্তে যে প্রশ্নটি বারবার মানুষের সামনে আসছে তা হলো দলের ভেতরে অবস্থান করে যেসব দূর্নীতিবাজ, অসৎ ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুর আর্দশকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে এর প্রতিকার কি? হঠাৎ করে মুজিব কোট পরিধান করে আর্বিভূত এসব মানুষ কি জানে বঙ্গবন্ধুর মুজিব কোট শুধু ফ্যাশন নয়। এ কোট বাংলার ইতিহাসে কতটা জায়গা জুড়ে আছে। বলা হয়ে থাকে মুজিব কোটের ৬ টি বোতাম বাংলার মানুষের ছয় দফার প্রতীক। যে ছয় দফাকে সামনে রেখে বাঙালি স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিল। প্রকৃত দেশ প্রেম থাকলে মুজিব কোট পরিধান করে অন্যায় করা যায় না। আর এ কোটের দেশ প্রেমের সাহস, প্রেরনাকে যারা উপেক্ষা করতে পারে তারা এ সমাজের কীট। এরা দেশের ক্ষতি করতে পিছপা হয় না তা অতীতে ও প্রমাণিত হয়েছে। এ দুর্ভাগা জাতি মুজিব কোটের মর্যাদা দিতে পারেনি সেই ১৯৭৫ সাল থেকে। খন্দকার মোশতাকের মুজিব কোট পরিহিত ছবিকে জাতি ভুলে যায় বলে শাহেদ, লোপারা আশ্রয় পায় আওয়ামী লীগে। মিথ্যা বুলি দিয়ে মিথ্যা লেবাসধারীরা আওয়ামী সরকারের অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে। দেশের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছেন। অথচ সে লড়াইয়ের পথকে রুদ্ধ করছে নিজের দলের ভেতর অনুপ্রবেশকারীরা। এ নব্য আওয়ামী প্রেমীদের মুখে এক, মনে আরেক রয়েছে বলে বাড়ছে দুর্নীতি, অন্যায় ও অপরাধ। এরা ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করতে মুজিব কোট পরে মুজিব প্রেমী হয়। নির্মম সত্য হলো মুজিব কোট পরিধান করলেই মুজিব প্রেমী হতে পারে না। নিজের ভেতরে মুজিব আর তার ইতিহাসকে ধারণ করতে হবে। এ কারণেই মুজিব কোটকে অন্যায় আর দুর্নীতির হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে আগামীতে দেশের মানুষ আওয়ামী সরকারের ভালোটুকু ভুলে গিয়ে মন্দটুকুই মনে রাখবে। সময়ের সাথে আজ অনেক কিছু বদলে গেছে, তা বাস্তবতাতে সুস্পষ্ট। তাই দলের ভেতর আওয়ামী লীগের আর্দশ আর বিশ্বাসকে যারা শেষ করে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে না সত্যিকারের দলের ত্যাগী নেতা কর্মীরা। কারণ তাদের যে মুজিব কোটের লেবাসে উচ্চ পর্যায়ের নেতা কিংবা হর্তাকর্তাদের সাথে ছবি বা যোগাযোগ নেই। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে যারা আলাদা করে চিন্তা করতে পারে না কিংবা যারা নেত্রীর সাথে ছবি তোলার চেয়ে রাজপথের আন্দোলনকে মূল কাজ মনে করেছে আজ তারা মূল্যহীন। তাই লোপা তালুকদার, শাহেদদের পরনের মুজিব কোট লজ্জিত করে বঙ্গবন্ধুর আর্দশধারণকারী দেশপ্রেমীকে। লেখক: হাসিনা আকতার নিগার,কলামিস্ট।- বিডি-প্রতিদিন
আদর্শিক-ত্যাগী কর্মীকে মুল্যায়ন করলে রাজনীতির সেই পুরানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আসবে- তসলিম উদ্দিন রানা
৩০আগস্ট,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সঠিক পরিচর্যা,ত্যাগ-মেধার অবমুল্যায়ন ও আদর্শের অভাবে বর্তমানে নেতা সৃষ্টি হচ্ছে না। সব জায়গায় হযবরল অবস্থা। কেউ কারো নই। সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। কারো কাছে কোন দায় দায়িত্ব আছে বলে মনে হয় না। সবাই ক্ষমতা আর টাকার নিকট জিম্মি বলে মনে করি। গুটিকয়েক যোগ্য লোক মন্ত্রী, এমপি, পদে আসলেও তারা একই অবস্থা বলে মনে হয়। নিজের পদ ঠিক রাখার জন্য তারাও তেলবাজি, চামচামি ও যত রকমের অসংগতি আছে তা করে যাচ্ছে। সবাই এখন ক্ষমতা আর টাকা মুখী। আর কয়েকজন মাঠ কাপানো নেতা পদবী ও ক্ষমতা পেয়ে কিছু করতে চাইলেও ব্যবসায়ী, হাইব্রিড ও সিন্ডিকেটের বলয়ের কারণে পেরে উঠতে পারছেনা। তবুও তারা হল আমাদের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। এককালে রাজনীতি ছিল রাজার নীতি। যাদের অর্থ সম্পদ,পরিবারের ঐতিহ্য, শিক্ষার আলো ছিল তারা রাজনীতি করত। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সব মিছিল মিটিং করত।এমনকি ইউনিয়ন লেবেলের নেতাকে সবাই শ্রদ্ধা আর সম্মান করত। তাদের বাড়ি ঘর ছিল মানুষের প্রাণ কেন্দ্র। মানুষ মানুষের জন্য কাজ করে যেত। বিপদে পড়লে এগিয়ে যেত।অন্যায়কে প্রশয় দিতনা। আমাদের এলাকায় একজন উপজেলার নেতা রাজনীতি করতে গিয়ে নিজের সব জমি বিক্রি করে সংগঠন করেছে কিন্তু দুঃখের বিষয় হল বর্তমানে তাকে কোন পদে রাখেনি কারণ টাকা। সেসময় রাজনীতি ছিল রাজার নীতি আর বর্তমানে তার সম্পুর্ন উল্টা। কেননা দেখতে পাবে অনেক মানুষ ক্ষমতার কারণে আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে। জীবনে রাজনীতি কি জিনিস জানেনা, রাজনীতি কেন করে তার খবর ছিল না। তারা ক্ষমতার জন্য দলে এসে টাকা দিয়ে পদবী কিনে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যায়। আর অনেকে রাজনীতিকে ব্যবসা হিসাবে ব্যবহার করেছে। যে রাজনীতি রাজনীতিবিদের কাছে নেশা ছিল সেই রাজনীতি এখন পেশা হিসেবে ব্যবহার করছে এক শ্রেণীর ধান্ধাবাজ লোক। যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও ক্ষতিকর দিক। ছাত্র রাজনীতি করতে গিয়ে অনেক মেধাবী সংগঠক নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে কাজ করেছে কিন্তু দুঃখের বিষয় হল আজকের দিনে অনেক ছাত্র ফাও খাওয়া,হলের সিট ও ক্ষমতার জন্য রাজনীতিতে যোগ দেয়। একসময় তারা নেতা বনে যায় এমনকি সব কিছু তারা নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের ক্ষমতার দাপটে সবাই মেধাবী, ত্যাগীরা হারিয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে নেতা জন্ম নিবে তারা যদি আদর্শিক ও ত্যাগী নাহয় তাহলে কিভাবে দেশ চালাতে পারবে তা বোধগম্য নয়। মুলে যদি গলদ হয় তাহলে সব শেষ। রাজনীতি বর্তমানে রাজনীতির মধ্যে নেই। সম্ভবত রাজনীতির অকাল সময় পার করছে। ছাত্র রাজনীতি শুরু করে সব অঙ্গ সংগঠন নতুন এক সংস্কৃতি শুরু হয়েছে তা হল তেলবাজি,টাকা, ক্ষমতা, নেতার কোটা, আত্ত্বীয়তা, চামচামি আর হাইব্রিডদের প্রতিষ্ঠা। এসব হওয়ার পিছনে আমাদের এক শ্রেণীর নেতারা দায়ী। তারা সামান্য কিছুর জন্য আজ আদর্শ চ্যুত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় আমাদের আদর্শ ও ত্যাগী কর্মীদের বঞ্চিত করে হাইব্রিড, চামচা, টাকা, ক্ষমতা, নেতার আজ্ঞাবহ ব্যক্তিকে নেতা বানিয়ে দলের তেরেটা বাজিয়ে দিচ্ছে। যা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য হুমকি মুখে পতিত হচ্ছে। যা অশুভ লক্ষণ।নতুন প্রজন্ম আজ আদর্শিক ও ত্যাগ কি জিনিস তা বেমালুম ভুলে গেছে। তারা বেশী ভাগ স্রোতের সাথে থাকতে চাই বিধায় রাজনীতির মাঠ আজ কর্মী শুন্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ছাত্র,যুব সংগঠন থেকে শুরু করে মুল সংগঠনে আজ অযোগ্য,অথর্ব,হাইব্রিড,আত্ত্বীয়করন,ব্যবসায়ী লোকে ভরা তার প্রধান কারণ হল ক্ষমতা।ক্ষমতা আজ আমাদেরকে অন্ধকারে নিয়ে গেছে। এই ক্ষমতার জন্য সব জায়গায় আমরা আদর্শিক, মেধাবী,ত্যাগী লোকজন সরিয়ে দিয়ে হাইব্রিড,চামচা,নিজস্ব লোক,আত্ত্বীয়তার লোকজন বসিয়ে দিয়ে দেশ ও দলের তেরেটা বাজিয়ে দিচ্ছি যা বলার বাহুল্য নেই। আগামী প্রজন্মের জন্য অশনিসংকেত। যা অত্যন্ত ক্ষতিকর ও অমানবিক। রাজনীতি রাজনীতির জায়গা নেই বললে চলে। রাজনীতি এখন অরাজনৈতিক ব্যক্তির নিকট চলে যাচ্ছে। কিন্তু কেন হচ্ছে? কি জন্য হচ্ছে? তার তদুক্তর দেওয়া কঠিন। তবুও বলতে হয় রাজনীতি হল একটি নীতি এবং আদর্শের প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি রাজনৈতিক দল হল এক একটি পাঠশালার প্রতিষ্ঠান। সব কর্মিরা হল এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র। প্রত্যেক নেতারা হল তার শিক্ষক। এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা দেয়া হয় সামাজিক, নীতি, আদর্শ, সততা, দেশপ্রেম আর সাংগঠনিক দক্ষতা।কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হন তারা যারা মেধাবী ছাত্র। প্রত্যেক শিক্ষক নিয়ন্ত্রণ করেন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষক ভাল হলে প্রতিষ্ঠানের মানও ভাল হয়। যে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক যত সে প্রতিষ্ঠান তত ভালো চলবে আর খারাপ হলে পড়ালেখার মানও খারাপ হবে। তদ্রূপ রাজনীতির প্রতিষ্ঠানের নেতারা যদি খারাপ হয় কর্মীরা খারাপ হবে এটাই নির্ধারিত।যদি ভালো নেতা হয় কর্মীরা ভালো হবে এটাই চিরাচরিত নিয়ম। আগে রাজনীতির প্রতিষ্ঠানের নেতা হতেন যারা তারা আদর্শিক,ত্যাগী,মেধাবী, সাংস্কৃতিক,বিবেকবান,নীতিবান,কথাবার্তার ধরন,সামাজিক, কর্মীবান্ধব লোক। তেমনি কর্মীরা ছিল তাদের মত। গ্রামে কথা আছে ফুল গাছে ফুল ধরে আর মদর গাছে কাটা থাকে। তাই নেতা যেমন হবে কর্মী তেমন হবে। সেই সময়ে রাজনীতি ছিল অত্যন্ত সুন্দর, আদর্শের চর্চা কেন্দ্র, ত্যাগের মহিমান্বিত উদ্ভাসিত নাম। আর বর্তমানে রাজনীতির নেতা হন হাইব্রিড,চামচা,ব্যবসায়ী,তেলবাজ। যে যত চামচামি,তেলবাজি করতে পারবে সে তত বেশি বড় নেতা বা যার যত বেশি টাকা আছে সে বড় নেতা। রাজনীতি নামক প্রতিষ্ঠান পরিচালক হয়ে পরিচালিত করে। তার ধারা সৃষ্টি হবে হাইব্রিড আর চামচা। আর ব্যবসার মত টাকা ইনকাম করার জন্য চারদিকে আরও বেশি টাকাওয়ালা লোক খুজবে। আর রাজনীতি হয়ে যায় একধরনের ব্যবসা যা ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত। রাজনীতিকে তার নিজস্ব গতি হারিয়ে যায়। যে রাজনীতি ছিল আদর্শ ও ত্যাগের আর তা হল ক্ষমতা আর টাকার। এই অপরাজনীতির বর্তমানে আরও বেশি এগিয়ে যাচ্ছে। সেজন্য রাজনীতিবিদ ও দক্ষ পার্লামেন্টিয়ান তোফায়েল আহমেদ বলেন - রাজনীতি এখন রাজনীতিবিদের কাছে নাই। সত্যি কথা রাজনীতি বিপর্যয়ের মুখে পতিত হচ্ছে। তার থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য সঠিক জায়গায় সঠিক নেতা বানাতে হবে।- তসলিম উদ্দিন রানা,সাবেক ছাত্রনেতা
আগস্ট মানে শেখ মুজিবের পুনর্জন্ম
০৬আগস্ট,বৃহস্পতিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: কালের প্রতিটি মুহূর্তে মানুষ তার নিকটতম পূর্ববর্তী অতীত অভিজ্ঞতা নিয়ে পুনর্জন্ম গ্রহণ করে। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রসহ পৃথিবীর সকল কিছুই তার জন্মের উপাদান হিসেবে কাজ করে। আগস্ট যেমন বাঙালির শোকের মাস, তেমনি আগস্ট মানে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সন্তানকে হারিয়ে আবার ফিরে পাওয়ার সময়। তিনি হয়ে উঠেন শোকে কাতর এক দিকভ্রান্ত জাতির আলোর দিশারী, সকল সঙ্কটে মুক্তির ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত সর্বময়। যার মানবমুক্তির দর্শনে বাঙালি আজ স্বাধীন ও মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে নিজের আত্মপরিচয় নির্মাণ করেছে। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বাঙালির জাতির পিতা শেখ মুজিবের দেহবিনাশ হলেও প্রতি-দিন-প্রতি-ক্ষণ কোটি কোটি বাঙালি নতুন করে আবিষ্কার করেছে বাঙালির জাগরণের এই মহাজাদুকরকে, পুনর্জন্ম দিয়েছে তাদের অন্তরে, সংগ্রামে, প্রতিবাদে, বঞ্চনায় ও অধিকারের লড়াইয়ে। যে দর্শন পাকিস্তানী মতাদর্শের প্রেতাত্মারা থামিয়ে দিতে চেয়েছিল, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ইতিহাসের কালোরাতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। সেদিন ধানমণ্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে যখন সপরিবারে হত্যা করা হয়, ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি। তাদের হাতে একে একে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামালসহ অনেকে। সেদিনের সেই ভয়াল বীভৎসতা স্মৃতিতে আনলে পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট খুনিও বোধ হয় আঁতকে উঠবে। পৃথিবীর ইতিহাসের এক নির্মম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে যারা ভেবেছিল শেখ মুজিবের দেহের বিনাশের মাধ্যমে মুছে ফেলা যাবে বাঙালির মন ও মনন থেকে। তার ছবিগুলো মুছে ফেললে হারিয়ে যাবে প্রতিকৃতি। হাজার হাজার বানানো মন গড়া শব্দ লিখে গল্প ফাঁদা যাবে ভিন্নরূপে। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিল ইতিহাস আর সময়কে বাঁধ দিয়ে বেঁধে রাখা যায় না। ইতিহাস তার পথ নির্মাণ করে নেয় আপন গতিতে। ইতিহাস তার মহানায়ককে খুঁজে নেয় আপন মহিমায়। মিথ্যা বানোয়াট তথ্য মানুষ ছুড়ে ফেলে সঠিক সময়ে আবর্জনার স্তূপে। তাই উল্টোপথে হেঁটেও বহু চেষ্টার পরেও শেখের বেটা মুজিবকে বাঙালির অন্তর থেকে মুছে ফেলা যায়নি বরং বারংবার ফিরে এসেছে তাদের স্বপ্নের স্বদেশে মহাকালের এক অবিনশ্বর চরিত্র ধারণ করে। বাঙালির হৃদয় জয় করে এখনো তার আর্দশ বাঙালির হৃদয়রাজ্যে রাজত্ব করছে। টুঙ্গিপাড়ার সেই খোকা আর কেউ নয়, বাঙালির ইতিহাসের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, বাঙালি জাগরণের মহান জাদুকর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই জনদরদী মহান নেতা মানুষের মুক্তির জন্য আজীবন লড়াই সংগ্রাম করে গেছেন। (১৭ মার্চ ১৯২০- ১৫ আগস্ট ১৯৭৫) ৫৪ বছর বয়সের জীবনে বঙ্গবন্ধু ৪ হাজার ৬৮২ দিন কারাগারে ছিলেন, যা তার মোট জীবনের সিকিভাগ। ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রাম দিয়ে শুরু। পরবর্তীতে বাঙালির ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকাও অসীম এবং গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক অনন্য অবিস্মরণীয় দিন। এই দিনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সর্বাত্মক সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। এটাই ছিল ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে তথা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর এ দেশে প্রথম সফল হরতাল। এই হরতালে শেখ মুজিব নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়ে গ্রেফতার হন। বাঙালি জাগরণের এই মহাজাদুকর বাংলাদেশের স্বাধীনতা আনা পর্যন্ত সারাজীবনের এক-চতুর্থাংশ সময় কারাগারেই কাটতে হয়েছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বাঙালির মুক্তির জন্য এতো বড় আত্মত্যাগ আর কেউ করেনি। যে মহান নেতা পরিবার পরিজনকে বঞ্চিত করে সারা জীবন বাঙালির অধিকার আদায়ের মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন, বাঙালির সকল আন্দোলোন সংগ্রাম-জাগরণের বাতিঘর হয়ে লড়াই করেছেন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ছুটে চলেছেন, অকুতোভয়ে হাজার বছরের পরাধীনতার জাল ছিন্ন করতে মহান মুক্তিযুদ্ধের জন্য বাঙালিদের তৈরি করেছেন- তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ছিলেন তার কর্মীদের প্রাণের মুজিব ভাই। সেই ৭ মার্চ ১৯৭১ এর ভাষণ আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ দলিলে পরিণত হয়েছে। যে ভাষণে ৭ কোটি বাঙালির মুক্তির কথা উঠে এসেছে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায়। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। তার আপসহীন সাহসী নেতৃত্বে বাঙালি পেছে স্বাধীনতা। তারই উদাত্ত আহ্বানে মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ বীর বাঙালি জীবন বিলিয়ে দিতে দ্বিধা করেনি। তবে আজ যখন দেখি চকচকে মলাটে আর রঙ্গিন পর্দার আড়ালে বাহারী বর্ণিল আয়োজনের মধ্যে মানবমুক্তির শোষিতের কণ্ঠস্বরকে আবদ্ধ করা হয়। তার আজীবন লড়াইয়ের ইতিহাসের সহযোদ্ধাদের নিয়ে কটূক্তি করা হয় প্রকাশ্যে। তার আদর্শ থেকে দূরে সরে পুঁজিপতিদের প্রতিনিধিত্ব করে তারই রক্ত ঘামে সংগঠিত সংগঠন। বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ নির্মাণে যে মানুষটি আমৃত্যু সংগ্রাম করলেন, আত্মত্যাগ করলেন আজ তাদের উত্তরসূরিরা সেই সকল অপশক্তির সাথে আপোষকামিতায় দ্বিধাহীন। তখন তার আদর্শিক সন্তানদের বুকের মাঝে ভীষণ রক্তক্ষরণ হয়। তারা নীরবে-নিভৃতে কেঁদে কেঁদে চোখের জল মুছে। তখন বড় শঙ্কা জাগে মনে ভোগ-উপভোগ- সম্ভোগের রাজনীতির বেড়াজাল ছিন্ন করে ফিরতে পারবে তো ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তে রঞ্জিত প্রাণের স্বদেশ। মনে পড়ে জাতির পিতার অসাধারণ সংশয়োক্তি। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন,আমার দলে নব্য-ধনীরাও আছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ায় তাদের আরও বড় ধনী হওয়ার সুযোগ বেড়ে গেছে, আমি তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যে'ই দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করেছি এবং দেশকে গড়ে তোলার জন্য জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছি। যদি এই ব্যবস্থা সফল করতে ব্যর্থ হই এবং কোনো কারণে আমার মৃত্যু ঘটে, তা হলে দলকে কবজা করে ওরা আরও উন্মত্ত হয়ে উঠতে পারে, এমনকি স্বাধীন বাংলাদেশের মূল মন্ত্রে শত্রু পক্ষের নীতি ও চরিত্র অনুসরণ করে আওয়ামী লীগেরও চরিত্র ও নীতি পাল্টে ফেলতে পারে। যদি তা হয় সেটাই হবে আমার দ্বিতীয় মৃত্যু। সেজন্য আগেই বলেছি আমার দল, আমার অনুসারীদের হাতেই যদি আমার এই দ্বিতীয় মৃত্যু ঘটে, তাহলে দীর্ঘকালের জন্য বিস্মৃতির অন্ধকারে চলে যেতে হবে। কবে ফিরবো তা আমি জানি না। আজ এই শোকের মাসে সঙ্গত কারণেই নবীন প্রজন্মকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই- নিজের জীবনের চেয়েও দেশ আর দেশের মানুষকে যিনি ভালোবেসে ছিলেন, ফাঁসি নিশ্চিত জেনেও যিনি পাকিস্তানের কারাগারে বসে আপোস করেননি স্বাধীনতার প্রশ্নে, যিনি বারবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বলেছিলেন, এ দেশের স্বাধীনতা আর জনসাধারণের আর্থ-সামাজিক মুক্তির কথা, এ জাতি তারই উত্তরসূরি। যিনি ১৫ আগস্ট কালরাতে ঘাতকদের মেশিনগানের মুখেও ছিলেন অকুতোভয়, প্রশ্ন করেছিলেন, তোরা কী চাস? কোথায় নিয়ে যাবি আমাকে?- বাঙালি জাগরণের এই মহাজাদুকরের দৈহিক বিনাশ ঘটলেও তার আদর্শের মৃত্যু হতে পারে না। মানুষ মরে যায়, আদর্শ মরে না। তাই বঙ্গবন্ধু কোন ব্যক্তিমাত্র নন, অবিনশ্বর এক আদর্শ ও প্রেরণার নাম। সেই প্রেরণাতেই এগিয়ে যাবো আমরা। বাঙালির সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের মানবমুক্তির দর্শনে বলীয়ান হয়ে গড়বো প্রাণের স্বদেশ। লেখক: এফ এম শাহীন, সম্পাদক, ডেইলি জাগরণ ডটকম, সাধারণ সম্পাদক, গৌরব ৭১, সংগঠক, গণজাগরণ মঞ্চ।- বিডি প্রতিদিন
পরিবর্তনের মানসিকতা ছাড়া মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হবে না
১৯,জুলাই,রবিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফেসবুকে চট্রগ্রামের পুলিশ কর্মকর্তা ওসি মোহসীনের আবেগঘন পোস্টটি অনেকেরই হয়ত নজরে পড়েছে। সিনেমা নাটক আর বাস্তবের পুলিশ চরিত্রের বৈষম্যতা দেখে তিনি নিজের অনুভূতি আর অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছিলেন- টিভিতে একটা নাটক দেখছিলাম। কাকতালীয়ভাবে বাসায় আমার সন্তানেরাও একই নাটকই দেখছিল। ছবির মতো সুন্দর একটি গ্রাম। সহজ সরল সে গ্রামের মানুষের জীবন। হাসি, আনন্দ, প্রেম, ভালবাসায় মুখর থাকে সে গ্রাম। কিন্তু হঠাৎই গ্রামের এমন মায়াময় পরিবেশে ছন্দপতন হয়। আর এর নেপথ্যে একজন পুলিশ অফিসার! গ্রামে মাদক ছড়ায়, ইভটিজিং বাড়ে, গরীবের উপর শোষণ বাড়ে, হাতে-পায়ে ধরেও ওই পুলিশের অনিষ্ট থেকে বাঁচতে পারে না আবাল বৃদ্ধ বনিতা... এরপর টিভি বন্ধ করে দিলাম। আর দেখলাম না। কিন্তু হঠাৎই মনে হল, আমার সন্তানরাও তো এটাই দেখছে! বাসায় গিয়ে যদি তারা জিজ্ঞেস করে, 'বাবা, পুলিশ এমন পঁচা কেন?' আমি কী উত্তর দিব? এরপর সিদ্ধান্ত নিলাম। আজ বাসায়ই যাব না। এরপর কাজে ডুব দিলাম। হঠাৎ দেখি ১৩-১৪ বছরের এক ছেলে আসল। এক হাতে বাবার তর্জনি ধরা, অন্য হাতে একটা বোর্ড সদৃশ কিছু। বোর্ডটা আমার জন্য সে উপহার এনেছে। বোর্ড উল্টে দেখি, এ তো আমি! আমাকেই এঁকেছে সপ্তম শ্রেণির আদর!! আমাকে দিয়ে বলল, আঙ্কেল আপনাকে আমার খুব ভাল লাগে। আমি বড় হয়ে আপনার মতো পুলিশ হবে। হঠাৎই আমার নাটকের কথা মনে হল। তাকে ওই নাটকের কথা জিজ্ঞেস করলাম, পুলিশ তো পঁচা। তবুও পুলিশ ভাল লাগে? সে বলে, নাটক তো মিথ্যা দেখায়। এই নাটকে যে নায়ক ছিল। আরেক নাটকে সে গুণ্ডা! নায়ক কি কখনো গুণ্ডা হয়? নাটকই পঁচা। ভালকে তারা পঁচা দেখায়। তার এমন উত্তরে সত্যিই চমকে উঠলাম। নাটক, সিনেমায় আমাদের যেভাবে চিত্রায়িত করা হয় তাতে অন্তত শিশুদের সামনে নিজেদের ক্ষতিকারক মনে হয়। কিন্তু আদরদের মনে যে পুলিশের এমন ছবি আছে তা জেনে আবারও নিজেকে নিয়ে গর্ব হল। সিদ্ধান্ত আবারও পাল্টালাম, আদরের সাথে ছবি তুলেই বাসায় যাচ্ছি আদরের দেওয়া এই ছবি নিয়ে। আমার সন্তানেরা যদি জিজ্ঞেস করে পুলিশ কেন পঁচা আদরের উত্তরটাই তাদের দিব। জোর গলায়ই বলব, তোমাদের বাবা পঁচা না। আমরা পঁচা না। পুলিশ পঁচা না। আদরমাখা ভালবাসা আদরের জন্য। ছোট শিশু আদরের দেখা ওসি মহসীনের মত চিন্তার পুলিশকে সমাজের সবাই দেখতে চায়। কোভিড-১৯ এর মহামারীতে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী মানবিকতার যে পরিচয় দিয়েছে তা অনেকটাই 'স্বপ্ন জাগানিয়া বাঁশি' হয়ে বেজেছিল মানুষের মনে। দেশের প্রতিটি পর্যায়ে পুলিশের মতো মানবিকতার প্রত্যাশা ছিল সকলের। কিন্তু তেমনটা দেখা যায়নি। কারণ অনিয়ম আর দুর্নীতির কাছে নতজানু মানুষ নিজেদের পরিবর্তন করতে পারেনি। বরং কোভিড-১৯ কে হাতিয়ার করে মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে অর্থলোভী ব্যক্তিরা। করোনাভাইরাস সমাজ ও দেশের তথা বিশ্বের চিত্র বদলে দেবে এ প্রত্যাশা ক্রমশ মিথ্যা প্রমাণিত হচ্ছে। কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের মুষ্ঠিমেয় ব্যক্তির চিন্তাচেতনা সবাই ধারণা করবে- সে আশা পোষণ করা ভুল। বিশেষ করে আমাদের দেশে সামাজিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার করা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তাই করোনাকালের মানবিকতা কেবল উদাহরণে সীমাবদ্ধ হয়েছে। যদি ওসি মহসীনের পজিটিভ চিন্তাটা পুলিশের ছোট বড় সকল সদস্যেদের মনে গ্রোথিত হত, তাহলে পুলিশ বাহিনীর পরিবর্তনের মানসিকতা সত্যিকারভাবে মানবিকতাকে প্রতিষ্ঠিত করতো। বদলে যাওয়া এ সমাজে খুব সহজ কাজ নয়। লোভাতুর মন দুর্নীতির হাতছানিকে রুখতে পারে না। একই পেশায় থেকে জীবনযাপনের বৈষম্যতা থেকে কেউ দুর্নীতির পথে পা বাড়ায়। আবার কেউ যে কোন পন্থায় অর্থ উপার্জন করতে ঘুষ, চাঁদাবাজিকে অন্যায় মনে করে না। এসবের বাইরে যে বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ তা হলো 'দুর্নীতির সিস্টেম। এ দুর্নীতির সিস্টেমকে পরিবর্তন করতে না পারলে বাস্তব জীবন থেকে অন্যায় অনিয়ম দুর্নীতি দূর করা সম্ভব হবে না। একটা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে রাতারাতি বদলে দেয়া যায় না। নাটকের চরিত্রের পঁচা পুলিশ কেন পঁচা হলো তা খুঁজে বের করতে হবে। তা না হলে এ সমাজের কোন একক প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের মানসিকতা তৈরি করতে পারবে না। আর মানবিকতা হবে প্রশ্নের সম্মুখীন। লেখক : হাসিনা আকতার নিগার, কলামিস্ট।- বিডি-প্রতিদিন
চট্রগ্রামে বিশ্বমানের একটা চ্যারেঠি হাসপাতাল নির্মাণ করা সময়ের দাবী -তসলিম উদ্দিন রানা
১৮,জুলাই,শনিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্রগ্রাম হল দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী।নামে বাণিজ্যিক রাজধানী হলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছে।শিক্ষা,সাংস্কৃতিক,চিকিৎসা, আদালত সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিন্তু অতীব দুঃখজনক হলেও সত্য সব কিছুতে পিছিয়ে আছে।আমরা চাই এই বৈশম্য দূরীকরণের জন্য সবাই সোচ্চার হতে হবে।যার যার অবস্থান থেকে আওয়াজ তুলতে হবে।আমাদের অধিকার বাস্তবায়নে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। এবার হাসপাতাল প্রসঙ্গ নিয়ে বলি,চট্টগ্রামের সাধারন একটি হাসপাতালের ১২ দিনের বিল ৬ লক্ষ ৯৭ হাজার টাকা।এত ভুতুড়ে বিল কিভাবে আসল আর আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল হলে কি রকম বিল হতো ? সাধারন মধ্যবিত্ত,নিম্মভিত্ত পরিবার পারবে সারাজীবনের উপার্জনে ? সাধারণ মানুষ কিভাবে চিকিৎসা করাবে তা আমার বোধগম্য নয়।চিকিৎসার জন্য সম্পদ বিক্রি করে বা ধার নিয়ে কিভাবে এত টাকার চিকিৎসা কি বীর চট্রলার সাধারণ জনগণ করতে পারবে সেটা আমার প্রশ্ন? বর্তমানে চট্রগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল করার দাবী জানাই কিন্তু অতীব বাস্তব সত্য কথা তা দিয়ে কারা সেবা নিবে বা পারবে সেটা একটু দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর সবাই শুধু চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতালের কথা বলে মুখে ফেনা তুলছে.....আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতালে সাধারন মানুষ চিকিৎসা পাবে ? নাকি বড় লোকদের জন্য তৈরী হবে? স্কয়ার,এ্যাপোলো,ইউনাইটেড,ল্যাবএইড, বাংলাদেশ স্পেপেশেলাইজ,বিআরবির মত হাসপাতালে কারা যাইতে পারে?কারা চিকিৎসা নেয়? মোট জনসংখ্যার কতো % ? তা সহজে অনুমান করা যায়।তবুও বলব ২-৫% এর বেশী বলে মনে হয়না। জানিনা সরকার বেসরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন সেবার মুল্য নির্ধারন করছে কিনা ? সবাই আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণ করার কথা বললে হবেনা তার সাথে মানুষের সাধ্যের কথা চিন্তা করে হাসপাতাল নির্মাণ করা সময়ের দাবী বলে মনে করি।আপনি যদি পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের কথা চিন্তা করেন দেখতে পাবে তারা চিকিৎসা ব্যবস্থায় বিশ্বের অন্যতম।তাদের সেবার মান উন্নত ও মানুষের সীমার মধ্যে আছে।ভারতের আন্তর্জাতিক হাসপাতাল নির্মাণ করার সাথে সাথে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে চ্যারিঠি হাসপাতাল নির্মাণ করে জনগণের চিকিৎসা সেবা করছে। প্রতিটি মানুষ যাতে সেবা পায় সেটা মুখ্য বিষয়। চট্রগ্রামের প্রতিটি মানুষের আওয়াজটা তুলুন সরকারি হাসপাতালগুলোকে চিকিৎসা সেবা আরো উন্নতির জন্য যেন দেশের ৮০% সাধারন মানুষ ভালো চিকিৎসা সেবা পান। মানুষ সুস্থ ও ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা পায়।বেসরকারি হাসপাতালের নীতিমালা সহ বিভিন্ন সেবার মুল্য নির্ধারন করে দিতে সোচ্চার হউন।জনতার দাবী সবাই আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালের মান উন্নত করে মানুষের নাগালের মধ্যে রাখলে সবাই চিকিৎসা সেবা পাবে আর মানুষের কল্যাণে হবে। আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতালের কথা শুধু মুখে ফেনা তুলে লাভ হবেনা।কারণ আমার সাধারণ মানুষ আমাদের চিকিৎসা পেতে হবে।আমাদের বাচতে হবে সেজন্য সবাই আওয়াজ তুলে বলতে হবে হবে আন্তর্জাতিক মানের না?পারলে ভারতের মত চট্টগ্রামে বড় ১টি চ্যারেটি হাসপাতাল তৈরী করুন তখন কম খরচে দামী চিকিৎসাও করতে পারবেন সাধারন আর অসাধারন সবাই ভোগ করতে পারবে। লাভ হবে সবার,লাভ হবে আমজনতার। লেখক - তসলিম উদ্দিন রানা, সাবেক ছাত্রনেতা
শোকজ, বদলি কি অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করে?
১৩,জুলাই,সোমবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহামারি করোনা যখন সমগ্র বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়ে কোটির বেশি মানুষকে আক্রান্ত ও পাঁচ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে। তখন বাংলাদেশে কোভিড আক্রান্ত রোগীর শনাক্তের সংখ্যা ১ লাখ ৮৩ হাজার এর উপরে এবং মৃত্যু হয়েছে ২ হাজারের উপর মানুষের। আমরা দেখতে পাচ্ছি ৫৬ হাজার বর্গমাইল জুড়ে দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাসটি। ব্যবসা বাণিজ্য আজ অচল হয়ে পড়েছে, কর্মহীন মানুষের হাহাকার দিনদিন বেড়েই চলেছে। বন্দীজীবন আর আতঙ্ক স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ধারাকে পরিবর্তন করে অচেনা সময়ের মুখোমুখি করেছে। সেখানে সবচেয়ে বেশি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কোমলমতি শিশু ও আমাদের পরিবারের সিনিয়র সিটিজেন। স্বজনদের হারিয়ে হাজার হাজার পরিবার আজ শোকের সাগরে ভাসছে। পথে বসতে বসেছে ছোট ও মাঝারি মানের লাখ লাখ প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি দুটি ঘটনা আলোচনার- সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। যে আলোচনা দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশের গণমাধ্যমের শিরোনামে পরিণত হওয়া বিষয় নিয়ে বলছি, নিশ্চয় পাঠকও বুঝতে পারছেন। হ্যাঁ আমি জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতালের করোনা টেস্টের ফলাফল জালিয়াতির কথা বলছি। জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতাল সরকারের সাথে চুক্তি করলো বিনামূল্যে সাধারণ মানুষের করোনাভাইরাস সনাক্ত করার জন্য। কিন্তু আমরা দেখলাম তারা প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছে এবং প্রকাশ্যে সরকারের শর্ত ভঙ্গ করেছে। শুধু টাকা নেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না তাদের অপরাধ, তারা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহজনক রোগির কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে না পাঠিয়ে ফেলে দিতো ডাস্টবিনে। পরবর্তীতে দেখা গেলো একটি মনগড়া রিপোর্ট তৈরি করে দেয়া হত রোগিদের কাছে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পূর্বে তারা প্রায় ৫০ হাজার মানুষের টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট সরবরাহ করে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। রিজেন্ট হাসপাতেলের ৬ বছর লাইসেন্স নবায়ন না থাকার পরেও তার সাথে চুক্তি করলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়। রিজেন্টে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের বারবার অভিযোগ করার পরেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হল না। বরং রিজেন্টের মালিক মোহাম্মাদ সাহেদকে সতর্ক করে দিলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জেকেজির আরিফুরকে গ্রেফতার করার পরেও সেই সংস্থার চেয়ারম্যান ডা সাবরিনাকে গ্রেফতারে দীর্ঘ সময় নিলো আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। সাধারণ মানুষের মনে আজ হাজার হাজার প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে মহামারী মোকাবেলায় ব্যর্থ আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সাহেদকে গ্রেফতারে এত গড়িমসি কেন, কোথায় লুকিয়ে আছে সে? শত শত প্রতারণার সাথে জড়িত ৩২ মামলার আসামি কিভাবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটিতে আসে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আয়জনে কারা তাকে দাওয়াত পত্র দিতো? এখানে পরিষ্কার আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা পৃষ্ঠপোষকতা না দিলে এই পর্যন্ত সাহেদদের আসার কথা না। সাহেদ একজন ভয়ঙ্কর প্রতারক জেনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠিতে পুলিশকে জানায় ২০১৬ সালে। কিন্তু তারপরও তাকে কিভাবে অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া হয়, দেয়া হয় ভিআইপি পুলিশ প্রোটোকল? মনে পড়ে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের সহযোদ্ধাদের যখন একে একে হত্যা করা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের যোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করে হুমকি দেয়া হচ্ছে হত্যার, তখন আমাদের অনেক সহযোদ্ধা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য অস্ত্রের জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু কোন সাড়া মেলেনি তখন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা রিপোর্ট ও গণমাধ্যমের তালিকায় নাম থাকাতে আমার আত্মীয় একজন পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে সাথে নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়েছেন কয়েকবার। একদিন আমার আবেদনটি দেখে মহামান্য মন্ত্রী সাহেব যেভাবে হাইকোর্ট দেখালেন তা আজও স্পষ্ট মনে আছে। বাসায় এসে ঠিক করলাম নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই ম্যানেজ করে নিতে হবে। আজ বারবার মনে হয়, জাতির পিতার আদর্শ- মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে জামায়াত শিবির- জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছি জীবনবাজি রেখে যে রাষ্ট্রের জন্য, সেই রাষ্ট্র সাহেদদের দখলে। সেই রাষ্ট্রের আইন কানুন, অস্ত্র, পুলিশ প্রোটোকল সব সব কিছু তাদের পকেটে। হাওয়া ভবন থেকে উঠে আসা মিঠু- শাহেদ-খালেদদের শত শত কোটি টাকার কাজ দেয়া হয় কমিশনের বিনিময়ে ত্যাগি নেতা কর্মীদের উপেক্ষা করে। তাদের অন্দর মহলে ভোগ উপভোগ- সম্ভোগে উন্মাদ থাকেন ক্ষমতার চেয়ারে বসা আদর্শহীন দানবেরা। আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী কাজের সমালোচনা করলে আমাদের বলা হয় বিপ্লবী। আমরা কথা বললে নাকি উন্নয়নের ধারা বাধাগ্রস্থ হয়। অথচ মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু’র কথা বলে স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসন প্রকল্প চলমান নানান ধারায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে শোকজ করা হয়েছে। রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমন চিঠির বিষয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতর কর্মকর্তা বলতে কী বোঝানো হয়েছে এবং রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে কী কী বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে তা জানাতে বলা হয়েছে। কাল হয়তো দেখতে পাবো বদলি করা হয়েছে। কিন্তু জেকেজি বা রিজেন্টের প্রতারণায় সহযোগিতা করার ফলে যে কত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হল, আক্রান্ত হল কিংবা মৃত্যুর মুখোমুখি হল তার কি হবে। এই ভুয়া রিপোর্টের ফলে দেশে কত লাখ মানুষ আক্তান্ত হবে তার হিসেব কে করবে। আজ আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের যে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হল তার নিরূপণ করার কোন যন্ত্র কি আছে সরকারের কাছে। লাখ লাখ প্রবাসিদের ভবিষ্যৎ যারা শঙ্কার মধ্যে ফেললো, পুরো বাংলাদেশকে যারা পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তারা শুধু দুর্নীতির জন্য এমন করেছে এমনটি ভাবতে চাই না। তারা সরকারকে দেশ ও বিদেশে বেকাদায় ফেলতে চায় তা আজ স্পষ্ট। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্ঘুম প্রচেষ্টাকে যারা পরিকল্পিত প্রশ্নবিদ্ধ করলো তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। মহামারীকালে যারা এই দুর্নীতি ও অপরাধের সহযোগিতা করেছে তাদের চিহ্নিত করে মুখোশ উন্মোচন করা হোক। আজ সকল অপকর্ম, দুর্নীতি, অনিয়মের দায় শুধু রাজনীতিবিদদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে ক্ষমতাবান আমলারা পার পেয়ে যাচ্ছে। আর তাদের অপরাধ শোকজ আর বদলীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে বহাল তনিয়তে থেকে পুনরায় নতুন কৌশলে দেশটাকে লুটের জন্য তৈরি হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আজ স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের প্রতি দেশের মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। তাদের দুর্নীতি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনার চিত্র দেশ বিদেশে আলোচিত হচ্ছে। মহামারী করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় এই নেতৃত্ব আজ সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। এখোনো সময় ফুরিয়ে যায়নি আপনার পরিক্ষিত সন্তানদের অর্থাৎ ছত্রলীগ করে আসা দেশ প্রেমিক ব্যক্তিদের দায়িত্বে নিয়ে আসুন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আপনার ও দেশের কথা চিন্তা করে তারা আর যাই করুক, এদের মত পুকুর চুরি করবে না। লেখক: সম্পাদক, ডেইলি জাগরণ ডট কম, সাধারণ সম্পাদক, গৌরব ৭১।- বিডি-প্রতিদিন

মুক্ত কলম পাতার আরো খবর