রবিবার, ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২১
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান বিশ্বের পুনরুত্থান করা সবচেয়ে আইকনিক বিশ্বনেত্রী
০৮ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মদাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সন্তান লালন-পালনের স্বপ্ন থাকলেও তা পূরণের সময় দেয়নি হায়েনারা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সঠিক কাজটি করে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা।স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ঘাতকদের হাতে সপরিবারে নিহত হন। দীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে একে একে কর্মসূচি হাতে নেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকণা দিয়ে মহাদেশ গড়ে ওঠে। বিন্দু বিন্দু জলের সমষ্টি সৃষ্টি করে মহাসমুদ্র আর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মুহূর্তের সমষ্টিতে তৈরি হয় মহাকাল। এগুলো দৃষ্টান্তমাত্র। কিন্তু এগুলোর সাথেই মানবজীবন ও মানবসমাজের প্রতিটি বিষয় তুলনীয়। কারণ বড় কোন কিছু হঠাৎ করেই বড় হয় না। ক্ষুদ্র যখন সামষ্টিক আকার ধারণ করে তখনই কেবল তা বৃহৎ হয়ে ওঠে। ঠিক তেমনভাবে বিশ্ব রাজনীতির কবি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা, রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা, ত্যাগ তিতিক্ষার পর দেশের রাজনীতিতে একজন সফল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।শুধু তাই নয়, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ রোল মডেলের দেশ হিসেবে বিশ্বে নেতৃত্বে দিচ্ছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু দেশের না, তিনি বিশ্বের । তিনি বাঙালি জাতির চেতনার প্রতীক৷ আমাদের অহংকার।বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৩৭টির অধিক পুরস্কার ও পদক অর্জন করেছেন।আন্তর্জাতিক একাডেমিক কমিউনিটি শেখ হাসিনার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম এবং ভারতের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন, সাহিত্য, লিবারেল আর্টস এবং মানবিক বিষয়ে ৯টি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেছে। ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ (এমডিজি) অর্জনে বিশেষ করে শিশু মৃত্যুর হার হ্রাসে অবদানের জন্য জাতিসংঘের এওয়ার্ড লাভ করেন।২০১৫ সালে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে আইসিটির ব্যবহারে প্রচারণার জন্য শেখ হাসিনাকে- আইসিটি সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। দেশের উন্নয়নে তার অব্যাহত অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে এ পদক প্রদান করা হয়। উইমেন ইন পার্লামেন্ট (ডব্লিউআইপি) ও ইউনেস্কো বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীকে- ডব্লিউআইপি গ্লোবাল ফোরাম অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে। এছাড়া পার্ল এস বাক এওয়ার্ড (১৯৯৯) সিইআরইএস পদক, মাদার তেরেসা পদক, এমকে গান্ধী পদক, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার (২০০৯), ইন্দিরা গান্ধী স্বর্ণ পদক, হেড অব স্টেট পদক, গ্লোবাল ডাইভারসিটি অ্যাওয়ার্ড (২০১১, ২০১২) ও নেতাজী স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯৭) পেয়েছেন শেখ হাসিনা।শুধু পুরস্কারপ্রাপ্তিতেই নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফলতার কথা এখন বিশ্বনেতারা জানতে চান বিভিন্ন ফোরামে। বহুপক্ষীয় সম্মেলনগুলোয় শেখ হাসিনা উপস্থিত হলেই অন্যান্য রাষ্ট্রনায়ক ও সরকারপ্রধান কাছে এসে অভিনন্দন জানান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এমন পরিচিতি বাংলাদেশের আর কোনো নেতা পাননি।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন ক্ষমতায় থাকা বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি নারীনেত্রী। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, ব্রিটেনের মার্গারেট থ্যাচার, জার্মানির অ্যাঙ্গেলা মের্কেল এবং শ্রীলঙ্কার চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গাকেও টপকে গেছেন শেখ হাসিনা। উইকিলিকসের সর্বশেষ গবেষণা মতে, শেখ হাসিনা বর্তমান বিশ্বের পুনরুত্থান করা সবচেয়ে আইকনিক নেত্রী।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা তৃতীয় ও মোট চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা নদীর পানি চুক্তি, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি, যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ এবং খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ং-সম্পূর্ণতা অর্জন। তিনি কৃষকদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি এবং ভূমিহীন, দুস্থ মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি চালু করেন। এর মধ্যে দুস্থ মহিলা ও বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্কদের জন্য শান্তি নিবাস, আশ্রয়হীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প। ইনডেমনিটি আইন বাতিল করে করে বিচার ব্যবস্থা পূর্ণগঠন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম শুরু, রাজনৈতিক হত্যা, বঙ্গবন্ধু ও তার সপরিবার, কারাগারে জাতীয় চার নেতা হত্যাসহ সকল হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু করেন।২০০১ সালের পহেলা অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিরোধী দলে অবস্থানকালে আওয়ামী লীগকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন ও নেতৃত্বশূন্য করতে বেশ কয়েকবার মারণাঘাত চালায় ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াত জোট। এরপর ২০০৮ সালে ফের আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর একুশ শতকে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো শপথ নেন। তারপর বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ১৩,২৬০ মেগাওয়াটে উন্নতিকরণ, গড়ে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন, ৫ কোটি মানুষকে মধ্যবিত্তে উন্নীতকরণ, ভারত ও মায়ানমারের সঙ্গে সামুদ্রিক জলসীমা বিরোধের নিষ্পত্তি, প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন,মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, কৃষকদের জন্য কৃষিকার্ড এবং ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলা, বিনা জামানতে বর্গাচাষীদের ঋণ প্রদান, চিকিৎসাসেবার জন্য সারাদেশে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কমুউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন, দারিদ্র্যের হার ২০০৬ সালের ৩৮.৪ থেকে ২০১৩-১৪ বছরে ২৪.৩ শতাংশে হ্রাস করে।তারপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতকরণ, ভারতের পার্লামেন্ট কর্তৃক স্থল সীমানা চুক্তির অনুমোদন এবং দুই দেশ কর্তৃক অনুসমর্থন, (এর ফলে দুই দেশের মধ্যে ৬৮ বছরের সীমানা বিরোধের অবসান হয়েছে), মাথাপিছু আয় ১,৬০২ মার্কিন ডলারে উন্নীতকরণ, দারিদ্র্যের হার ২২.৪ শতাংশে হ্রাস, ৩২ বিলিয়ন ডলারের উপর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন কাজ করে।সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর ৭ জানুয়ারি ২০১৯ শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তারপর মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতা বিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচার কাজে সফলতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। স্বাস্থ্য, কৃষি, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুত্তি, বিদ্যুৎ খাত, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন দেশের ভেতর-বাইরে প্রশংসিত হয়েছে। শিক্ষাখাতে অভাবনীয় উদ্যোগ করেছে সরকার। বিনামূল্যে বই বিতরণ, মেধাবৃত্তি ও উপবৃত্তি প্রদান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, শিক্ষাখাতে বাজেট বরাদ্দ যা জোট সরকারের আমলের ১৩ গুণ বেশি, শিক্ষক নিয়োগ ও মর্যাদা বৃদ্ধি, নতুন বিদ্যালয় স্থাপন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা, দারিদ্রপীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ড, কম্পিউটার ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ করছে।বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ এখন শুধু উন্নয়নের রোল মডেলই নয়, একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবেও প্রশংসিত। কথিত তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ আজ ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি খাদ্য, বস্ত্র-চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।এছাড়াও নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সহ আরো অনেক বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। দেশের আইটি খাতের নতুন সম্ভাবনা যশোরে- শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক করা হয়েছে। শেখ হাসিনা তার চতুর্থ মেয়াদও সফলতার সঙ্গে শেষ করবেন তা হলফ করে বলা যায়। বর্তমান হিসেবে শেখ হাসিনা বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকা নারীনেত্রী। শেখ হাসিনা নানা ইস্যুতে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় রাষ্ট্রপ্রধানও।এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দল ও সরকারের নেতৃত্বে থেকে বাংলাদেশের জন্য বড় বড় অর্জনও বয়ে এনেছেন শেখ হাসিনা। আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ তার নেতৃত্বেই এগিয়ে যাচ্ছে। এই ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা তিনিই দিয়েছেন। মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে তার গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি জাতীয় আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। শুধু বাংলাদেশই নয়, বৈশ্বিক নানা সংকট নিয়ে কথা বলা এবং মতামত দেওয়ার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও শেখ হাসিনার পরিচিতি বেড়েছে।বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি সবার বড়। তার মাতার নাম বেগম ফজিলাতুননেসা। তিনি টুঙ্গিপাড়ায় বাল্যশিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৫৪ সাল থেকে তিনি ঢাকায় পরিবারের সাথে মোগলটুলির রজনীবোস লেনের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে ওঠেন। ১৯৫৬ সালে তিনি টিকাটুলির নারী শিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৬৫ সালে তিনি আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৬৭ সালে গভর্নমেন্ট ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ (বর্তমানে বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। বিয়ের কারণে স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনে ছেদ পড়ায় তাকে অনার্স পাঠ স্থগিত রাখতে হয়। পরে ১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সরকারি ইডেন মহিলা কলেজের ছাত্রসংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি)ছিলেন। তিনি এই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরের বছর সভাপতি ছিলেন। শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন সদস্য এবং ছাত্রলীগের রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই শেখ হাসিনা সকল গণআন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।তার স্বামী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়া ২০০৯ সালের ৯ মে ইন্তেকাল করেন।শেখ হাসিনার জ্যেষ্ঠ পুত্র সজীব আহমেদ ওয়াজেদ একজন তথ্য প্রযুক্তি বিশারদ। তার একমাত্র কন্যা সায়মা হোসেন ওয়াজেদ একজন মনোবিজ্ঞানী এবং তিনি অটিস্টিক শিশুদের কল্যাণে কাজ করছেন। শেখ হাসিনার নাতি-নাতনীর সংখ্যা ৭ জন।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা সেসময় পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় বেঁচে যান। পরবর্তীকালে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ে ৬ বছর ভারতে অবস্থান করেন। ১৯৮০ সালে ইংল্যান্ডে থেকে তিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন।১৯৮১ সালে দেশের মাটিতে ফিরে এলে ঢাকায় লাখো জনতা তাকে স্বাগত জানায়। এ সময় শেরেবাংলা নগরে আয়োজিত সমাবেশে লাখো জনতার সংবর্ধনার জবাবে শেখ হাসিনা সেদিন বলেছিলেন, সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি; বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির জনকের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই। পিতা-মাতা, ভাই রাসেল সবাইকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি, আমি আপনাদের মাঝেই তাদের ফিরে পেতে চাই। আপনাদের নিয়েই আমি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়ন করে বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই, বাঙালি জাতির আর্থসামাজিক তথা সার্বিক মুক্তি ছিনিয়ে আনতে চাই। এরপর থেকেই শুরু হয় শেখ হাসিনার নতুন করে আরেক সংগ্রামের পথচলা। তার নেতৃত্বে দ্বিধাবিভক্ত আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে সামরিক স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে। তাকে বারবার কারান্তরীণ করা হয়। তাঁকে হত্যার জন্য কমপক্ষে ১৯ বার সশস্ত্র হামলা করা হয়।শত বাধা-বিপত্তি এবং হত্যার হুমকিসহ নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা ভাত-ভোট এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য অবিচল থেকে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ অর্জন করেছে গণতন্ত্র ও বাক-স্বাধীনতা। বাংলাদেশ পেয়েছে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা। শেখ হাসিনার অপরিসীম আত্মত্যাগের ফলেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে।তার নেতৃত্বে চারবার রাষ্ট্রক্ষমতার মধ্যে বর্তমানে টানা তৃতীয়বার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে। আর চারবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তিনি তিনবার বিরোধী দলের নেতাও ছিলেন।করোনাভাইরাস মহামারী থেকে মানুষের জীবন বাঁচাতে, মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে দরিদ্র মানুষকে ত্রাণ সহযোগিতার পাশাপাশি জীবিকা ও অর্থনীতি বাঁচাতে নিয়েছেন নানা পদক্ষেপ। করোনা সংকট মোকাবিলায় দ্রুত বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ায় দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হচ্ছেন শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ফোর্বস ম্যাগাজিনসহ আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করা হয়েছে।২৪ এপ্রিল এক আর্টিকেলে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে বিখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বস। একইসঙ্গে প্রশংসা করা হয়েছে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বেরও।শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ১৬১ (১৬ কোটির বেশি) মিলিয়ন মানুষের বাস। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দক্ষতার সঙ্গে সংকট মোকাবিলা করা তার জন্য নতুন কিছু নয়। এরই ধারাবাহিকতায় করোনা মোকাবেলায়ও তিনি নিয়েছেন দ্রুত পদক্ষেপ। যার প্রশংসা করেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামও।শেখ হাসিনা নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে পিতার মতোই অবিচল, দৃঢ় ও সাহসী। তিনি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণে যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছেন। রূপকল্প ২০২১-এর মধ্যম আয়ের বাংলাদেশকে রূপকল্প ২০৪১-এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি উন্নত, আধুনিক, সমৃদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দৃঢ়প্রতীজ্ঞ। করোনা সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রতিমূহুর্তের করণীয় ঠিক করতে দিনরাত এক করে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।- লেখকঃ সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিষ্ট
বেগম রোকেয়া : নারীমুক্তি ও প্রগতিশীল আন্দোলনের পথিকৃৎ- মো. এনামুল হক লিটন ও সাহেনা আক্তার হেনা
০৭ডিসেম্বর,সোমবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঊনবিংশ শতাব্দীর খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক ও বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া ছিলেন, একজন নারীমুক্তি, সমাজ সংস্কার ও প্রগতিশীল আন্দোলনের পথিকৃৎ। তিনি কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিধিনিষেধের অন্ধকার যুগে শৃঙ্খলিত বাঙালি মুসলিম নারীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পর্দার অন্তরালে থেকেই নারীশিক্ষা বিস্তারে অগ্রসর হন এবং মুসলিম নারী সমাজকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তির পথ সুগমের অগ্রসেনানী ছিলেন। বেগম রোকেয়া সামাজিক নানা বিধিনিষেধ, নিয়ম-নীতির বেড়াজাল উপেক্ষা করে আবির্ভূত হয়েছিলেন, অবরোধবাসিনীদের মুক্তিদূত হিসেবে। নারীদের ভোটাধিকার আন্দোলনেও নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ১৯৩০ সালের দুই ডিসেম্বর প্রথম মুসলিম মহিলা হিসেবে উড়োজাহাজে চড়ে আকাশভ্রমণের সুযোগও গ্রহণ করেছিলেন রোকেয়া। তাঁর এ-সংক্রান্ত লেখা বায়ুুযানে পঞ্চাশ মাইল এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। ৯ ডিসেম্বর বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার ১৪০তম জন্ম ও ৮৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। তাই দিনটি বেগম রোকেয়া দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সে সময়কার সমাজ ব্যবস্থা ছিল নানাবিধ কুসংস্কারে পূর্ণ। তিনি সম্ভ্রান্ত রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং ক্রমান্বয়ে নারী জাগরণের অগ্রদূতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। পরবর্তীতে ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। বেগম রোকেয়ার প্রকৃত নাম ছিল রোকেয়া খাতুন। বৈবাহিকসূত্রে নাম হয় রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। কিন্তু বেগম রোকেয়া নামেই তিনি সর্বময় পরিচিত। তাঁর জীবন পর্যালোচনায় জানা যায়, ছোট বেলাতেই তৎকালীন সমাজব্যবস্থার প্রেক্ষাপটেও রোকেয়া স্বপ্ন দেখেছিলেন, একদিন প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করে মানুষের মতো মাথা উঁচু করে দাঁড়াবেন। কিন্তু পারিবারিক ও সামাজিক বিধিনিষেধের কারণে পরিবেশ অনুকূলে আনা যাচ্ছিলো না। কারণ বাবা জহির উদ্দীন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের সমাজ ব্যবস্থার নীতিতে অটল ছিলেন। তিন ভাই, তিন বোনের মধ্যে রোকেয়া ছিলেন পঞ্চম। তাঁর বড় ভাইদের মধ্যে ইব্রাহিম সাবের প্রথম এবং দ্বিতীয় ভাই খলিলুর রহমান সাবের, তৃতীয় জন ছিলেন ইসরাইল সাবের যিনি অল্প বয়সেই মারা যান। বোনদের মধ্যে বড় ছিলেন করিমুন্নেসা খানম আর ছোট ছিলেন বেগম রোকেয়া এবং তৃতীয় বোন হোমায়রা খানম। তখন তাদের পরিবারে উর্দু ভাষার প্রচলন ছিল। তবে বেগম রোকেয়ার ভাইয়েরা উচ্চ শিক্ষিত ছিল। দুই ভাই কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। অথচ বেগম রোকেয়া ও তার বোনদের বাইরে পড়াশুনা করতে পাঠানো হয়নি, তাদের ঘরে আরবি ও উর্দু শেখানো হয়। তবে রোকেয়ার বড় ভাই ইব্রাহীম সাবের আধুনিকমনা ছিলেন। তিনি রোকেয়া ও করিমুন্নেসাকে ঘরেই গোপনে বাংলা ও ইংরেজি শেখান। বেগম রোকেয়া ১৮ বছর বয়সে ভাগলপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর তাঁর আধুনিক পড়ালেখা আরও পুরোদমে শুরু হয়। একপর্যায়ে তিনি সাহিত্যাঙ্গনেও পদার্পণের সুযোগ পান। এসময় তিনি বেশ কয়েকটি স্কুল পরিচালনা ও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিজেকে সাংগঠনিক ও সামাজিক সকল কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত রাখেন। বেগম রোকেয়ার ভাষায়, আমাদিগকে অন্ধকারে রাখিবার জন্য পুরুষগণ ধর্মগ্রন্থগুলোকে ঈশ্বরের আদেশপত্র বলিয়া প্রকাশ করে। আর সেই সব গ্রন্থের দোহাই দিয়া নারীদের অন্তঃপুরে আবদ্ধ করিয়া রাখে তারা। এরপর বয়ে গেলো ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের আরো অনেক ইতিহাস। দুই কন্যা সন্তানের জননী ছিলেন, তিনি। কিন্তু নিয়তির কারণে তিনি বেশিদিন কন্যা সন্তানের মা ডাক শোনতে পান নি। মারা যান দুই কন্যা। এরপর স্বামীও মারা যান। স্বামী পূর্ব বিবাহিতা হওয়ায় স্বামী মারা যাওয়ার পর স্বামীর বাড়ীর কোনো সহযোগীতা পেলেন না তিনি। এক পর্যায়ে তিনি ১৯১৬ সালে মুসলিম বাঙালি নারীদের সংগঠন আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন। তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রচনা , যার অনূদিত রূপ সুলতানার স্বপ্ন। এটিকে বিশ্বের নারীবাদী সাহিত্যে একটি মাইলফলক হিসেবে ধরা হয়। তার অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো- পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী, মতিচুর। প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাসের মধ্য দিয়ে তিনি নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আর লিঙ্গসমতার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। হাস্যরস আর ব্যঙ্গ-বিদ্রপের সাহায্যে পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীর অসম অবস্থান ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। তখনকার প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামা বেগম রোকেয়ার বহুবিধ অবদানের জন্য ঊনবিংশ শতাব্দীর খ্যাতিমান এ বাঙালি সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারককে বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়। বলাবাহুল্য যে মহীয়সী এই নারী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার আগমূহুত্বেও লেখালেখি করেছেন। মৃত্যুর পর তাঁর টেবিলে পেপারওয়েটের নিচে- নারীর অধিকার শীর্ষক একটি অর্ধসমাপ্ত লেখা পাওয়া গিয়েছিল। বেগম রোকেয়ার প্রতিটি নিশ^াস-বিশ্বাস, কর্ম ও ধ্যানে মৃত্যুর আগমূহুর্ত্ব পর্যন্ত একই চিন্তাধারাকে লালন করে গেছেন। নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করলেন, নারীকে মানুষ হিসেবে মানুষের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করতে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য ১৯১১ সালে মাত্র ৮জন ছাত্রী নিয়ে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরী করে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। এই স্কুলটি ছিল ইংরেজি ভাষায় শিক্ষাদানকারী প্রথম মুসলিম বালিকা বিদ্যালয়। এই আটজন ছাত্রীর যাতায়াতের জন্য কলকাতার একজন ব্যবসায়ী প্রথম একটি ঘোড়ার গাড়ী উপহার দিয়েছিলেন। কিছু দানশীল ব্যক্তির সাহায্য এবং স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্যদের মাসিক চাঁদার ওপর নির্ভর করে স্কুলটি চালিয়ে গেলেন। এরপর ১৯১৫ সালে ছাত্রীসংখ্যা ৪০-এ উন্নীত হলে স্কুলটিতে পঞ্চম শ্রেণি চালু করলেন এবং একে একটি উচ্চবিদ্যালয়ে উন্নীত করলেন। ১৯৩১ সালে ওই স্কুল থেকে তিনজন ছাত্রী মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণও হলো। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে মেয়েরা ধীরে-ধীরে শিক্ষার আলো পেতে শুরু করেছে। তিনি সবসময় মনে করতেন নারী-পুরুষের মধ্যে বিভাজন নয়; বরং সহযোগীতা প্রয়োজন। প্রগতিশীল মনা মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়া উন্নত মানসিকতা, দূরদর্শী চিন্তা, যুক্তিপূর্ণ মতামত প্রদান ও বিশ্লেষণ, উদার মানবতাবোধের অবতারণা এবং সর্বোপরি দৃঢ় মনোবল দিয়ে তৎকালীন নারী সমাজকে জাগিয়ে তুলেছিলেন। তাঁর জীবনাদর্শ ও কর্ম দেশের নারী সমাজের অগ্রযাত্রায় পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে। তাই বেগম রোকেয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে নিজেদের উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে অগ্রগতির পথে দেশের যে যাত্রা তা আরো গতিময় করতে এদেশের নারীসমাজকে ভূমিকা রাখতে হবে। এটাই হোক বেগম রোকেয়া দিবসের অঙ্গিকার।- লেখকদ্বয় : সাংবাদিক ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, প্রগতিশীল সংবাদপত্র পাঠক লেখক ফোরাম, কেন্দ্রিয় কমিটি।
ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের বাসস্থান: প্রধানমন্ত্রীর মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ
০৬ডিসেম্বর,রবিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ভাসানচরে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এক লাখের বেশী মানুষের বসবাসের জন্য ২৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরী করা হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে সরকারের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ওই চরঞ্চলের ১৩ হাজার একর আয়তনের উপর রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করার জন্য সরকার দ্বীপটিকে অত্যাধুনিক বাসস্থান নির্মাণসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে এক নান্দনিক স্থানে পরিণত করেছে। যা নান্দনিক পরিবেশে বসবাসের জন্য খুবই আকর্ষণীয় একটি স্থান। এখানে গত ৩রা ডিসেম্বর কক্সবাজারের ৩৪টি ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিক আবস্থায় ছয় শতাধিক পরিবারের ২ হাজার ৭০০ জন এবং পরদিন অথ্যাৎ ৪ ডিসেম্বর আরও তিন হাজার জনকে ভাসানচরে নেয়া হয়েছে। সরকারি তরফ থেকে তাদের জন্য এক মাসের খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য পণ্যেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর আগে কক্সবাজারের শরনার্থী শিবির কুতুপালংসহ ও তার বাইরে অবস্থান নিয়ে থাকা প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে নিয়ে নানা সামাজিক সমস্যা সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে দুই বছর আগে তাদের একটি অংশকে হাতিয়ার কাছাকাছি মেঘনা মোহনার দ্বীপ ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করে সরকার। এরই অংশ হিসেবে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া এই শুরু হয়। কিন্তু দূঃখজনক সত্য যে, রোহিঙ্গাদের সেখানে স্থানান্তর নিয়ে জাতিসংঘ শরনার্থী সংস্থাসহ বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক সংস্থা সরকারের এ মহতী উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছে। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, গত ২ ডিসেম্বর এক বিবৃতির মাধ্যমে জাতিসংঘ বলেছে, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেয়ার যে পরিকল্পনা সরকার করেছে, তার সঙ্গে জাতিসংঘের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। ভাসানচরে যাওয়ার ক্ষেত্রে রোহিঙ্গারা যেন সব তথ্য জেনে স্বাধিনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তা নিশ্চিত করতেও সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয় ওই বিবৃতিতে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট পরবর্তী মিয়ানমারে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে এদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয় ১০ লক্ষাধিক আশ্রয়হীন অসহায় রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গারা তখন কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেই থেকে অদ্যবদি জাতিসংঘ ও এসব সংস্থা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে কোনো ভূমিকাই পালন করেন নি এবং এখনো করছেন না। এরপরও বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসনীয় এ কার্যক্রমে তাদের আপত্তির কোনো মানে হয় না। রোহিঙ্গারা যে বাংলাদেশের জন্য অসহনীয় এক বোঝায় পরিণত হয়েছে এবং তাদের ভরণ-পোষণ করতে গিয়ে সরকার যে হিমশিম খাচ্ছে, তা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যাথা নেই। তাই তাদের পক্ষে রোহিঙ্গাদের উন্নত জীবনযাপনের ব্যবস্থা হিসেবে ভাসানচরে স্থানান্তরের বিরোধিতা কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কেননা যেখানে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র সীমায় বাস করছে, সেখানে এত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া যেনতেন ব্যাপার না। নিজভৌম থেকে বিতাড়িত লাখ-লাখ অসহায় রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় এবং ভাসানচরে উন্নত পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে বঙ্গকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। শুধু তাই নয়, রোহিঙ্গাদের বাসস্থান এবং ভরণ-পোষণের দায়িতও নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের মানুষ একবেলা কম খেয়ে হলেও অসহায় রোহিঙ্গাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করবে। যার মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জল হওয়ার পাশাপাশী প্রধানমন্ত্রীর এমন অসাধারণ মানবিকতা সারাবিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দেশের সাথে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে একইসাথে মিয়ানমারের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা জোরালো করতে হবে। এবং তা সফল না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের বাসস্থান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে বাংলাদেশকেই ভাবতে হবে। আমরা মনে করি ভাসানচরে স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের জন্য আপাতত নাগরিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে বিশাল জনগোষ্ঠিকে কাজে লাগানো হলে, সরকারের ব্যয়ভার অনেকাংশে কমে আসার পাশাপাশী দেশের উপর থেকে অর্থনৈতিক চাপও কমবে। বিষয়টি সরকারি মহল ভেবে দেখবেন। এমনটা প্রত্যাশা আমাদের।- লেখকদ্বয় : মো. এনামুল হক লিটন ও সাহেনা আক্তার হেনা, সাংবাদিক ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, প্রগতিশীল সংবাদপত্র পাঠক লেখক ফোরাম, কেন্দ্রিয় কমিটি।
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিতর্ক : পরিস্থিতি ঘোলাটে করার পায়তারা রুখতে হবে- মো. এনামুল হক লিটন
২৮নভেম্বর,শনিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: উগ্রবাদীদের আস্ফালন দেখে হতবাক না হয়ে পারা যায় না। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে তারা কিভাবে এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আস্ফালন দেখানোর দূঃসাহস দেখায় তা বোধগম্য নয়। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে দুই ইসলামপন্থী নেতা। এনিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গণে বিরাজ করছে চাঁপা ক্ষোভ। প্রগতিশীল মানুষের মাঝে উত্তেজনার পাশাপাশী দেশের মানুষের মাঝে এক ধরণের উৎকন্ঠা বিরাজমান। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে হওয়ায় আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। অপরদিকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতা কারীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিসহ আওয়ামী লীগ। সারাদেশে এ নিয়ে তুমুল গুঞ্জন চললেও রা নেই জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি-জাতীয় পাটিসহ সরকার বিরোধি সংগঠনগুলোর। বিষয়টি নিয়ে রাজনীতির মাঠে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তা হলো, দেশের পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে কেউ কি পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন? আর যদি তা-ই হয়, তাহলে সরকারকে এটি শক্ত হাতে মোকাবেলা করতে হবে। কেন না সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অপসারণের দাবী জানিয়ে প্রথমে মৌলবাদী দুই নেতা চরমোনাইর পীর ও ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম এবং হেফাজত ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হক সমাবেশ করেছে। তাদের দাবি, মূর্তি স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তৌহিদি জনতার আন্দোলন চলবে। সরকার যদি ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন থেকে সরে না আসে, তাহলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে তারা। এর পরপরই ২৭ নভেম্বর এক মাহফিলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা এবং হেফাজতের যুগ্ন মহাসচিব মামুনুল হককে প্রধান বক্তা করা হয়। কিন্তু মামুনুল হকের চট্টগ্রামে আসা প্রতিহত করতে মাঠে নামে আওয়ামী লীগসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং স্বাধীনতার পক্ষের সংগঠনগুলো। চট্টগ্রামের সবর্ত্র চলে বিক্ষোভ। সাধারণ মানুষের মাঝে এ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা চলে দিনব্যাপী। অবশেষে সেই মাহফিলে মাওলানা মামুনুল হক যোগদান না করলেও যে কোনো দল ভাস্কর্য বসালে তা টেনে হিঁচরে ফেলে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমীর জুনায়েদ বাবুনগরী। আল-আমিন সংস্থা আয়োজিত হাটহাজারীর পার্বত্য সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তিন দিনের তাফসীরুল কোরআন মাহফিলের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তার এমন হুমকি আসে। এর প্রেক্ষিতে উত্তেজনা দেখা দেয় আওয়ামী লীগসহ প্রগতিশীল মানুষের মাঝে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবাইদুল কাদের সংবাদ সম্মেলন করে বাবুনগরীর ওই বক্তব্যকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। এছাড়া দলটির অঙ্গ-সংগঠনগুলো চট্টগ্রাম নগরীসহ ঢাকার রাজপথে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। অন্যদিকে কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবল আলম হানিফও হেফাজত নেতার বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এবং চট্টগ্রামে গত ২৮ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ভাস্কর্যবিরোধি বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন। সবমিলিয়ে আবারো উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গন। কেউ-কেউ বলছেন, সরকার পতন আন্দোলনের ইস্যু হিসেবে দাঁড় করাতেই এসব করা হচ্ছে। অথচ যে মহান ব্যক্তির জন্য বাংলাদেশের জন্ম তার ভাস্কর্য নাকি মূর্তি। তাই মসজিদের শহরে মূর্তি স্থাপন করা যাবে না বলে ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে উস্কে দিয়ে মৌলবাদীরা অন্যকোনো ফায়দা হাসিলে ব্যস্ত কিনা তা বলা মুশকিল। তারা কখনও মাঠ গরম করে ধর্ম অবমাননার নামে, কখনও কাউকে নাস্তিক আখ্যা দেয়ার নামে, আবার কখনও ভাস্কর্যকে মূর্তি বানিয়ে তা অপসারণের নামে। আসলে তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নস্যাৎ করে জনমনে ভীতির সৃষ্টি করা। তারা যে আসলেই স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি তা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অপসারণের দাবী জানিয়ে আবারো স্পষ্ট করেছে। বলাবাহুল্য যে, ২০১৭ সালের ২৬ মার্চ রাতে দেশের সব্বোর্চ বিচার প্রাঙ্গণ সুপ্রীম কোর্ট চত্বর থেকে মৌলবাদীদের দাবী মেনে নিয়ে লেডি জাষ্টিজ ভাস্কর্যটি লোক চক্ষুর অন্তরালে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর রাতে রাজধানীর বলাকা ভবণের সামনের রাস্তায় বলাকা ভাস্কর্যে হামলা চালায় একটি উগ্রবাদী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। একইবছর হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরের সামনের গোল চত্বরে বাউল ভাস্কর্যে হামলা চালায় মৌলবাদী গোষ্ঠি। ২০১৩ সালের ৫মে ঢাকা অবরোধ করে হেফাজতে ইসলাম দেশ থেকে সব ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলার আল্টিমেটাম দিয়েছিল সরকারকে। তারা ওই সমাবেশে সরকারের প্রগতিমূখী নারীনীতি, শিক্ষানীতি বাতিলের দাবীও তুলেছিল। তাদের ঘোষিত কর্মসূচীতে নারীকে পঞ্চম শ্রেণীর বেশী লেখাপড়া না করিয়ে ঘরে বন্দি করে রাখার কথা বলা হয়েছিল এবং নারীর প্রতি অমর্যাদাও দেখানো হয়েছিল। আরো অনেক অগ্রহণযোগ্য দাবী ছিল তাদের। এসব দাবী মেনে না নিলে সরকার পতনেরও হুমকি দিয়েছিল তারা। সরকারের ররফ থেকে ওই সময়ে কিছু দাবী মানাও হয়েছিল। এরপরও তারা থেমে থাকে নি। তখন থেকে প্রশ্রয় পেয়ে আজ তারা মাথায় উঠেছে। আজ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যকে মূর্তি আখ্যা দিয়ে বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেয়ার আস্ফালন দেখাচ্ছে। ভাস্কর্য আর মূর্তি কখনো এক হতে পারে না। তারা তা জেনেও দেশে অরাজকতা সৃষ্টির খেলায় মেতে উঠেছে। ভাস্কর্য শুধুই একটি শিল্প। যা একটি দেশের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি সেই দেশের প্রকৃতি, জলবায়ু, ইতিহাস ও ঐতিহ্যেরই ধারক-বাহক হয়ে থাকে। এটি যেমনি আইন করে চাপিয়ে দেওয়া যায় না, তেমনি আবার কৃত্রিমভাবে সৃষ্টিও করা যায় না। বাংলাদেশের সামাজিক ও জাতীয় জীবনে যেসব অধ্যায় পার করে জাতি আজ সভ্যতা ও আধুনিক যুগে এসে দাঁড়িয়েছে, সেখানে এক শ্রেণির ইসলামপন্থী কয়েক সংগঠনের নেতাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা সবারই জানা। ১৯৭১-এর আগে এবং ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে ও পরবর্তীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক শ্রেণির তথাকথিত আলেম-উলামারা যে ভূমিকা রেখেছিলেন, সে কারণে সমাজে তাদের ব্যাপারে স্বাভাবিকভাবেই একটি নেতিবাচক ধারনা বিদ্যমান। আর এসব প্রতিক্রিয়ার প্রতিফলন ঘটে থাকে আমাদের শিল্প, সাহিত্য এবং গণমাধ্যমে। দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে, অযুক্তিক ইস্যু দ্বাড় করিয়ে এবং জলাও-পোড়াওয়ের মাধ্যমে ধর্মের দোহাই দেয়া কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশ ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবার। আমরা চাই, সবাই তার নিজ-নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে। এক্ষেত্রে যারা নানা অযুক্তিক ইস্যুতে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইবে, তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীও রাখে। দেশের মানুষকে বাচাঁতে বঙ্গকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার অতীতেও অনেক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাই এ ব্যাপারেও সরকারকে এখন থেকেই সজাগ হয়ে আবারো কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নেই। আমাদের প্রত্যাশা যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের পরিস্থিতি ঘোলাটে করার পায়তারা করছে, তা যে কোন মূল্যে রুখতে হবে। তাই তাদের বিরুদ্ধে সরকার কালক্ষেপন না করে তড়িৎ কঠোর পদক্ষেপ নেবেন। এমনটা প্রত্যাশা আমাদের। -লেখক : সাংবাদিক ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, প্রগতিশীল সংবাদপত্র পাঠক লেখক ফোরাম, কেন্দ্রিয় কমিটি।
স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নই হোক বিজয়ের মাসের অঙ্গিকার: সাহেনা আক্তার হেনা
২৮নভেম্বর,শনিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বাধীনতা অমূল্য সম্পদ। স্বাধীনতা যেকোন মুক্তি পিপাসু মানুষের জন্য এক অমূল্য সম্পদ। মানুষ ক্রীতদাস হয়ে বাঁচতে চায় না। সে চায় তার স্বাধীন সত্ত্বা নিয়ে স্ব গৌরবে বিরাজ করতে। বায়ু ছাড়া যেমন মানুষ বেঁচে থাকতে পারেনা, তেমনি স্বাধীনতা ছাড়া কোন জাতি আত্নবিকশিত হতে পারেনা। মানুষের আত্মার বিকাশের জন্য চাই স্বাধীনতা। ডিসেম্বর মাস মহান বিজয় দিবসের মাস। এই বিজয় দিবসেই আমরা বাঙালি জাতি স্বাধীন জাতি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলাম। ১৯৭১ সালের এই মাসেই মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মাত্যাগ, ২ লাখ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয়ের দিনটিতে আনন্দের পাশাপাশি বেদনাও বাজে বাঙালির বুকে। বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে যে স্বাধীন বাংলাদেশ তৈরি হয়েছিল এই স্বাধীনতার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ২শত ১৪ বছর। এই সুদীর্ঘ সময়ে মুক্তির সোপান তলে কতো-কতো প্রাণ যে বলিদান হয়েছে, তার হিসেব ইতিহাসের পাতায় অসম্পূর্ণ। দীর্ঘ যুগের দীর্ঘ শতাব্দীর বঞ্চনার ভেতর দিয়ে স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের পূর্ব পুরুষ বার-বার জ্বলে উঠেছে শৃঙ্খল ভাঙ্গার লড়াইয়ে। সে লড়াইয়ের এক পর্যায়ে ১৯৪৭-এ একটি ভুল স্বাধীনতার নাগাল আমরা পেয়েছিলাম। তা ছিল স্বাধীনতার নামে এক নব্য পরাধীনতার ক্রান্তিকাল। একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, ৪৭-এ লাহোর প্রস্তাবের প্রেক্ষাপটে যদি আমাদের এই বাঙালি জনগোষ্ঠীর মুক্তি আসতো, তবে হয়তো একাত্তর পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হতোনা। ৪৭-এ দেশ ভাগ হয়েছিল সাম্পদায়িক ভাবনা থেকে। যার ফলে পাকিস্তান নামের রাষ্ট্রের অধীনস্থ হয়েই পরাধীনতার শেকল পরে এই বাঙলার ভূখন্ডের সহজ-সরল মানুষ নতুন করে আটকে যায় শোষণের জালে। তখন দেশ ভাগের বছর না ঘুরতেই প্রথমেই নামে মাতৃভাষার অধিকার হরণের খড়গ। বাঙলার কত বীর সন্তানেরা মাতৃভাষা রক্ষায় প্রাণ দিয়েছে এই খড়গের নিচে। অবশেষে দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মাতৃভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠা পেলেও বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছিল সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা-চাকরীসহ সব দিকেই। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাও ছিল পশ্চিমা উগ্র বৈষম্যবাদীদের কব্জায়। এমন অবস্থায় স্বাধীনভাবে স্বনির্ভর হয়ে বেঁচে থাকার প্রত্যয়ে বিদ্রোহী বাঙালি সৃষ্টি করেছিল এক ইতিহাস। পশ্চিমা বৈষম্যবাদী শাসক ও শোষনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, মাতৃভাষার অধিকার, শিক্ষা আন্দোলন, গনঅভ্যুত্থান, ৬দফা আন্দোলনসহ সবশেষে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, ইতিহাসের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্রকন্ঠের ডাকে এই দেশের নিরীহ-নিরস্ত্র-নিপীড়িত-অধিকার বঞ্চিত মানুষগুলো তাদের স্বীয় অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে, স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল বীর মুক্তিযোদ্ধারা। করেছিল মুক্তির জন্য যুদ্ধ। এনেছিল স্বাধীনতা, এনেছিল বিজয়। এই বিজয়ের মাসের জন্য, স্বাধীনতার জন্য ১৯৭১ সালে বাঙালী সর্বস্ব দিয়ে পাকিস্তানি নারকিয়তা ও পশুশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়ে চরম ত্যাগ ও পরম বীরত্বে স্বাধীন ভূ-খন্ডই কেবল পায়নি, একইসাথে পেয়েছিল রক্তাক্ত এক উত্তরাধিকার। কিন্তু, যে কথা আজ না বললেই নয়; স্বাধীনতার জন্য, মুক্তির জন্য, গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য অনিবার্য এই যুদ্ধের অর্ধ শতাব্দীর পরও আমরা যখন দেখি এই স্বাধিন বাংলার পতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য্যকে টেনে নামিয়ে ফেলার হুংকার আসে তখন মনে প্রশ্ন জাগে, আমরা কি পেরেছি জাতির পিতার প্রতি সম্মান দেখাতে? আমরা কি পেয়েছি আমাদের প্রকৃত স্বাধীনতা? যদিও আমরাই আমাদের সব কিছুর নিয়ন্ত্রক। তবুও আমরা নিয়ত অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছি। আমরা স্বাধীন সত্ত্বা নিয়ে বেঁচে থাকার স্বাধীনতাটাও যেন হারাতে বসেছি। নিজেরা নিজেদের মধ্যে হানাহানীতে লিপ্ত হচ্ছি। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও সন্ত্রাস, হানাহানি, রাহজানি, অগ্নিসন্ত্রাস, ধর্ষন, অপহরণ ঘটেই চলছে। এ যেন, এক টুকরো স্বস্তির নিঃশ্বাস পেতে বা নিজেদের মনের অব্যক্ত হাহাকার ব্যক্ত করতে নেই এতটুকু আশ্রয়। অবস্থাদৃষ্টে মনেই হয় না যে আদৌ আমরা কোন সভ্য সমাজে বসবাস করছি। বাঙালীর হাজার বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ। চলমান মুক্তির জন্য যুদ্ধ এবং স্বধীন সার্বভৌম স্বদেশ অর্জনের লক্ষ্যে ছিনিয়ে আনা ১৬ডিসেম্বরের এই বীর বিজয় আমাদের উত্তর প্রজন্মের চির প্রদীপ্ত অক্ষয় এক পটভূমি, অন্তহীন এক অনুপ্রেরণা, অনিঃশেষ এক অহংকার। কিন্তু, স্বাধীন দেশের কি চিত্র রেখে যাচ্ছি আমরা আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য? স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার। কিন্তু এ স্বাধীনতা অর্জন এবং তা রক্ষাকরণে যা সর্বাধিক প্রয়োজন, তা হচ্ছে স্বার্থহীন সত্যনিষ্ট ও ন্যায়পরায়নতা। এখনি সময় অনেক বিড়ম্বনা সহ্য করে দূর্নিবার আন্দোলন আর প্রতিরোধে যে স্বাধীনতা তা রক্ষা করতে প্রত্যেকের হীন স্বার্থসিদ্ধির লোলুপ মনমানসিকতা থেকে বের হয়ে আসার। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব এবং মানুষ মানুষের জন্যেই। মানুষ স্বাধীন সত্ত নিয়েই জন্ম গ্রহণ করে। শুধু তাই নয়, মানুষ জন্মগতভাবে সমঅধিকার ও মর্যাদা সম্পন্ন প্রাণী। যদি এটাই সত্যি হয়, তবে আসুন আমরা আমাদের মানবিক ভাবনার শুভ ও কল্যাণকর দিকগুলোকে প্রগতিশীল চিন্তায় স্নাত করে সব অপরাধ, স্বার্থপরতা, হিংস্রতা জলাঞ্জলী দিয়ে অপরাধহীন, কুলসহীন, গনতান্ত্রিক একটি সুন্দর সমাজ ও দেশ গড়ার হৃদয়স্পর্শী প্রত্যয়ে সকলে মিলে একাত্মতা ঘোষণা করে নির্মোহ দৃষ্টিতে নিজেরদের না হয় আরো একবার পরিশুদ্ধ করি। প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই আমরা আমাদের স্বাধীন সত্ত্বার কাছে, নতুন প্রজন্মের জন্য একটি অপরাধহীন, সন্ত্রাসহীন সুখী সমৃদ্ধ নির্মল দেশ গড়ে দেবার মানুসিকতায়। আর তাই সব ধরনের স্বার্থপরতা আর অপরাধ, দুর্নীতিসহ বিকৃত মানসিকতা রুখতে শুধু আইনের প্রতি নির্ভরশীলতা বা শুধু আইন প্রয়োগই নয় প্রণীত আইনের সঠিক প্রয়োগ, সচেতনতা, সামাজিক সম্প্রীতি, উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের মানবিক মূল্যবোধকে জাগ্রত করার পাশাপাশি ধর্মীয় ও পারিবারিক সঠিক শিক্ষাদ্বারা তাদের আমূল পরিবর্তন, নারী নির্যাতন ও ধর্ষন প্রতিরোধে প্রতিটি এলাকায় নারী সংগঠেনের মাধ্যমে সচেতনতামূলক সভা-সমাবেশ সেমিনারসহ নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা এবং আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে ওঠে দেশ ও সমাজের আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে নাগরিক অধিকারসহ স্বাধীনতার পরিপূর্ণতায় বাস্তবায়িত গনতান্ত্রিক ও একটি সুন্দর, সূখী-সমৃদ্ধশালী এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে এগিয়ে আসি। এটাই হোক এবারের মহান বিজয়ের মাসের অঙ্গিকার। -লেখক : সাংবাদিক ও সাধারণ সম্পাদক, প্রগতিশীল সংবাদপত্র পাঠক লেখক ফোরাম, কেন্দ্রিয় কমিটি।
পত্রিকা পাড়ার আব্দুল গণি: সাহেনা আক্তার হেনা
২৪নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: চেরাগী পাহাড়ের আব্দুল গণি। খুবই পরিচিত একটি নাম। লেখক-সাংবাদিক, কবি-সাহিত্যিক, গবেষক-সংগঠক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ সবাই তাকে এক নামেই চিনেন যুগ-যুগ ধরে। প্রায় ৩ যুগেরও বেশি সময় ধরে- বোয়ালখালীর গণি ষ্টোর নামের স্টলের মাধ্যমে পত্রিকা বিক্রি করে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন চট্টগ্রামের পত্রিকা পাড়াখ্যাত চেরাগি পাহাড়ের আব্দুল গণি। দীর্ঘ ৩৭ বছর একটি মাত্র পেশায় জড়িত থাকা সদা হাস্যোজ্জল আব্দুল গণি স্বাবলম্বী হতে না পারলেও কোনো রকম স্ত্রী সন্তান নিয়ে এই ব্যবসার মাধ্যমে মোটামুটি ভালোভাবে জীবন যাপন করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। আব্দুল গণি বোয়ালখালী উপজেলার চরখিজিরপুর এলাকার মৃত আব্দুল সালাম সওদাগরের পুত্র। দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে আব্দুল গণি ছিলেন বাবা মায়ের দ্বিতীয় সন্তান। লেখাপড়ার প্রবল ইচ্ছে থাকলেও দারিদ্র্যের যাতাকলে পড়ে বেশীদূর এগোতে পারেন নি। পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়াকে সম্বল করেই নেমে যান জীবন সংগ্রামে। ফড়িং ধরা, মাছ ধরা, পুকুরে সাতাঁর কাটা, হা-ডু-ডু, ফুটবল খেলা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়াসহ শৈশবের কোনোকিছুই তাকে আকৃষ্ট করতে পারে নি। অভাব-অনটনের আলিঙ্গনে কখনো দূরে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার মতো শৈশব-কৈশোরের আনন্দ উচ্ছ্ল দিন তাঁর জীবনে যেন অধরা স্বপ্ন। বর্তমানে পত্রিকা বিক্রির মাধ্যমে মোটামুটি সচল হয়ে উঠা জীবনের কিছু আনন্দ স্বপ্ন দেখায় তাঁর বেঁচে থাকার। তিনি ১৯৯১ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তিন পুত্র সন্তান নিয়ে বিত্তের প্রাচুর্য না থাকলেও বর্তমানে অভাবহীন সুখী-সুন্দর পরিবার তার। নিজে পড়ালেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলেও ছেলেদের মোটামুটিভাবে পড়ালেখা শিখিয়েছেন। তবে আব্দুল গণির এই ব্যবসায় সহযোগিতা করে তার দ্বিতীয় মো. পুত্র আরিফ। সারাদিন পত্রিকা বিক্রি করে ৩ থেকে ৫ শত টাকা আয় করা যায় বলে জানান তিনি। আব্দুল গণি এক সময় অত্যন্ত দারিদ্রতার যাতাকলে থাকলেও সম্পুর্ন নিজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টাতে বর্তমানে উঠে এসেছেন এ পর্যায়ে। দীর্ঘ এ পথ পরিক্রমায় তিনি কারো সাহায্য পান নি বললেই চলে। ছোট বড় দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক বা যেকোন ম্যাগাজিনসহ সব ধরনের পত্র-পত্রিকা পাওয়া যায় তার ছোট্ট পরিসরের পসরায়। কাক ডাকা ভোর হতে রাত পর্যন্ত লেখক-পাঠক, কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, ক্রেতাসহ পত্রিকা সংশ্লিষ্ট সকলের আনাগোনা থাকে তার পসরায়। সব ধরনের পত্রিকা তার দোকানে পাওয়া যায় বলে পাঠকরা এখানে পত্রিকা ক্রয় ছাড়াও পড়ার জন্য ভীড় জমায়। এতে তিনি বা তার পুত্র একটুও বিরক্তবোধ করেন না। পাঠকদের মন জয় করতে পারাতেই যেন তার আনন্দ। বোয়ালখালীর এই গণি ষ্টোরে পাওয়া যায় বহুদিন-বছর আগের পূরনো পত্রিকাও। আর এতে করে সকলের সাথে তার গড়ে উঠেছে নিবিড় এক বন্ধনের সম্পর্ক। সবসময় চেহারায় স্বভাব সুলভ লাবন্য মাখা সদা হাস্যোজ্জ্বল আব্দুল গণিকে সকলে গনি ভাই বলেই ডাকে। চেরাগী পাহাড় এলাকার পত্রিকা বিক্রেতা এক নামে পরিচিত গনি ভাই, সকলের কাছেই অত্যন্ত পরিচিত মুখ। তবে গনি জানান, পারিবারিক সূত্রে আামার নামের পরে সওদাগর টাইটেল আছে। আমার পিতার নাম ছিল আব্দুল সালাম সওদাগর। তবে গনি ভাই হিসাবেই তিনি সকলের কাছে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পত্রিকা বিক্রির এই ব্যবসাটা যদি আরেকটু প্রসার করা যেত তাহলে ভালো লাগতো। তবে এর জন্য বেশকিছু পুঁজির প্রয়োজন যা তার নেই। তার শেষ ইচ্ছে পত্রিকার স্টলটি কারেন্ট বুক সেন্টারের মতো বড় পরিসরে করার। কথা প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ঢাকার পত্রিকা ছাড়াও চট্টগ্রামের পত্রিকাগুলোসহ অন্যান্য সব ধরনের বইগুলো এখানে বেশী চলে। তিনি তার ছোট্ট এ ইচ্ছে পুরণে সমাজের বিত্তবান বা সরকারি কোন সংস্থার সুদৃষ্টি কামনা করছেন। তার এমন সৎ ও কর্মমুখী সদইচ্ছা পূরণে আমাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।- লেখক : সাংবাদিক ও সাধারণ সম্পাদক, প্রগতিশীল সংবাদপত্র পাঠক লেখক ফোরাম, কেন্দ্রিয় কমিটি।
সীতাকুণ্ডের অবিসংবাদিত নেতা কাসেম মাস্টারের প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা
২৪নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: সীতাকুণ্ডের দুইবারের সাবেক এমপি ও প্যানেল-স্পিকার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সভাপতি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সভাপতি ও সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের আমৃত্যু সভাপতি এ বি এম আবুল কাসেম মাস্টারের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৫ সালের এ দিনেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। প্রয়াত এ নেতার মৃত্যু দিবসে এ বি এম আবুল কাসেম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে স্মরণসভাসহ নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ত্যাগী এ নেতার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক-জীবনাবলম্বনে প্রকাশিত হয়েছে- কাসেম মাস্টার শিরোনাম শীর্ষক এ বি এম আবুল কাসেম স্মারকগ্রন্থ। কাসেম মাস্টার ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দের ২১ ফেব্রুয়ারি সীতাকুণ্ড উপজেলার দক্ষিণ সলিমপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আবদুল জলিল, মা আমেনা খাতুন। তিনি পড়াশোনা করেন কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে। কাট্টলী হাইস্কুলে তিনি শিক্ষকতাও করেন। এ কারণেই তিনি কাসেম মাস্টার হিসেবে পরিচিত। তাই তার জীবনাবলম্বনে রচিত স্মারকগ্রন্থের নামকরণ করা হয়েছে- কাসেম মাস্টার। জনসেবার মহান ব্রত নিয়ে যারা রাজনীতিতে আসেন, যারা ভোগ নয়, ত্যাগেই বিশ্বাসী, ব্যক্তিস্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে যারা আর্তমানবতার সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করেন, কাসেম মাস্টার তাঁদেরই একজন। কর্মজীবনের শুরুতে শিক্ষকতা করেছেন বলে কাসেম মাস্টার হিসেবে তিনি সমধিক পরিচিত ছিলেন। দেশ, মাটি ও নীতি আদর্শকে ভালোবেসে তিনি রাজনীতির শেকড় থেকে শিখরে ওঠেছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে নিবেদিতপ্রাণ এ কর্মীবান্ধব নেতা সীতাকুণ্ডের- নেলসন ম্যাণ্ডেলা হিসেবে সম্মোধন করতাম। ধৈর্যের পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে আওয়ামী লীগ থেকে ৫বার মনোনয়ন দিয়েছিলেন। পঁচাত্তরোত্তর আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয়ের ঝুঁকি নিতে সীতাকুণ্ডের কোনো নেতা যখন সাহস করতেন না, তখন কাসেম মাস্টার বারবার এমপি প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগের ঝাণ্ডা উড্ডীন রেখেছিলেন। কাসেম মাস্টার সত্যিকার অর্থে তৃণমূল থেকে গড়ে ওঠা একজন জনপ্রতিনিধি ছিলেন। হঠাৎ করে তিনি এমপি নির্বাচিত হননি। শেকড় থেকে তিনি শিখরে উঠেছিলেন। ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত টানা ১৫ বছর তিনি সলিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। দু'বার তিনি চট্টগ্রাম ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সমিতির চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সীতাকুণ্ড সংসদীয় এলাকা থেকে দুইবার এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে প্রথম এমপি নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদের প্যানেল স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। সংসদ-সদস্য থাকাকালীন তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৯৭ সালে তিনি সংসদীয় দলের সদস্য হিসেবে চীন সফর করেন। দ্বিতীয়বার এমপি হওয়ার পর কাসেম মাস্টার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে তিনি বাংলাদেশ-কোরিয়া পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। কাসেম মাস্টার আওয়ামী লীগের একজন পোড়খাওয়া ত্যাগী নেতা ছিলেন। টানা এক যুগের বেশি সময় তিনি সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগেরও তিনি আমৃত্যু সভাপতি ছিলেন। দীর্ঘ সময়ে তিনি সীতাকুণ্ড আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র নেতা ছিলেন। বলা যায়, এমপি থাকাকালীন সীতাকুণ্ডের আওয়ামী রাজনীতি ছিল তারই একক নিয়ন্ত্রণে। দলের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের সঙ্গেও তার সম্পর্ক ছিল খুবই ঘনিষ্ঠ ও নিবিড়। তার স্মরণশক্তি ছিল অত্যন্ত প্রখর। ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পর্ক ছিল। তাদের নামধাম ছিল তার নখদর্পণে। সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর থেকে সলিমপুর পর্যন্ত বিয়ে-শাদি থেকে শুরু করে সামাজিক যে কোনো ছোটখাটো অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি সবার নজর কাড়তো। কাসেম মাস্টার একজন সমাজহিতৈষী ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। লতিফপুর আলহাজ আবদুল জলিল উচ্চ বিদ্যালয়, দক্ষিণ সলিমপুর আমেনা বিদ্যানিকেতন, সলিমপুর আবাসিক এলাকা বিদ্যাপীঠ, বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের ধর্মপুর আবুল কাসেম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ছিলেন। এছাড়া তিনি সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ, সীতাকুণ্ড বালিকা বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়, বিজয়স্মরণী কলেজ, মোস্তফা হাকিম কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ছিলেন। অন্যদিকে তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিদর্শক ছাড়াও এলাকার বহু সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। সীতাকুণ্ড এলাকার সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য এ জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের একক প্রচেষ্টায় সীতাকুণ্ড সদর ইউনিয়নকে পৌরসভায় রূপান্তর করা হয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এমপি আবুল কাসেম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীকে সীতাকুণ্ডে এনে যুগান্তকারী নানা উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ শুরু করেছিলেন। আজকের এই দিনে তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।
প্রশ্নবিদ্ধ স্বাস্থ্যখাত: দুষ্টচক্র নির্মূল করতে হবে- মো. এনামুল হক লিটন ও সাহেনা আক্তার হেনা
২৩নভেম্বর,সোমবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: একের পর এক অনিয়মে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে দেশের স্বাস্থ্যখাত। স্বাস্থ্য হলো মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম একটি। দেশের যেকোন সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার জনগণের দৌরগোড়ায় চিকিৎসা সুবিধা পৌঁছে দেয়া। কিন্তু আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ এখনো আধুনিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। শুধু তাই নয়, পদে-পদে হচ্ছে প্রতারণার শিকার। এর উপর অপচিকিৎসা, ওষুধে ভেজাল ও খাদ্যদ্রব্যে বিষাক্ত রাসায়নিক মিশ্রণ মানুষকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। নকল-ভেজাল ওষুধ আর ভূয়া চিকিৎসক এ দুয়ে মিলে আজ মানুষের জীবন বিপন্ন। দেশের গ্রামগঞ্জ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের দোকানগুলো ক্রেতাদের কাছে আসল ও কার্যকর ওষুধ বিক্রি করছে কিনা তা এখন একটি যেমন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, তেমনি চট্টগ্রামের অভিজাত এলাকা চান্দগাঁও থানার পুরাতন কালুরঘাটের তারানন্দ যুগী আশ্রমের কালি মন্দিরের সামনের একটি বিল্ডিং থেকে ভেজাল ওষুধ ও ওষুধ তৈরীর সরঞ্জামাদি উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষ শঙ্কিত হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, গত ১৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি অভিযান দল রাতভর ওই বিল্ডিংয়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ ও ওষুধ তৈরির সরঞ্জামাদিসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন বিকেলে গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ আলী হোসেন সাংবাদিকদের জানান, গ্রেপ্তারকৃত মোহাম্মদ হোসেন নামের ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে নামিদামি কোম্পানির ওষুধের নাম ব্যবহার করত এবং সেগুলো ভেজালভাবে প্রস্তুত করে উচ্চ দামে বাজারজাত করে আসছিল। এসব নকল ওষুধ খেলে মানুষের স্বাস্থ্যে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি এসব ওষুধ তৈরীতে বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহার করতো এবং কারিহো ল্যাবরেটরিজ নাম দিয়ে ওষুধগুলো বাজারে বিক্রি করতো। ওই অভিযানে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ওষুধ ও ওষুধ তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। অপরদিকে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ১৪৪ জন ভূয়া চিকিৎসকের সন্ধান মিলেছে। যারা সবাই নামের আগে ডাক্তার লিখেন। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, চলতি বছরের ২৭ জুলাই পটুয়াখালীর বাউফল থানার একটি জিআর মামলায় একজন হাজতীকে তার আইনজীবি বিজ্ঞ আদালতে হাজির করেন। একইসঙ্গে একটি প্রেসক্রিপশন দাখিল করে হাজতীকে অসুস্থ বলে দাবী করেন তিনি। বিজ্ঞ আদালত সেটি পর্যালোচনা করে দেখেন, পেসক্রিপশন প্রদানকারি ডাক্তার এমবিবিএস ডিগ্রীধারী নন। এমনকি বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০-এর অধীন নিবন্ধিতও নন। প্রেসক্রিপশনে ওই মহিলা ডাক্তার তাঁর ডিগ্রী হিসেবে বিভিডি-এ ঢাকা উল্লেখ করেন। বিজ্ঞ আদালত সেদিনই ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পাশাপাশী পটুয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন স্বঃপ্রনোদিত হয়ে বাউফল উপজেলায় অনিবন্ধিত অন্য কোনো চিকিৎসক রয়েছে কি না তা, ন্যায় বিচারের স্বার্থে তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে আদেশ দেন। এজন্য তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০-এর অধীন নিবন্ধিত নন; কিন্তু চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে বেআইনীভাবে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন, তদন্তের মাধ্যমে এমন ব্যক্তিদের একটি তালিকা প্রণয়ন করে আদালতে জমা দিতে বাউফল সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক ওই সহকারি পুলিশ সুপার সম্প্রতি ১৪৪ জন ভূয়া চিকিৎসকের একটি তালিকা আদালতে জমা দেন। একটি উপজেলায় ১৪৪ জন ভূয়া চিকিৎসকের অস্তিত্ব পাওয়া যাওয়ায় সাধারণ মানুষ বিস্মিত ও শঙ্কিত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে করোনার এ সময়ে দেশের স্বাস্থ্য খাতের এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগছে- এতোদিন আমরা প্রতারিত, অর্থ অপচয় ছাড়াও ভূয়া চিকিৎসকের অপ-চিকিৎসা ভেজাল ও নিন্মমানের ওষুধ সেবন করে নিজেদের জীবনকে তিল-তিল করে শেষ করেছি। অন্তহীন সমস্যার দেশ বাংলাদেশ। এদেশে কৃষক-শ্রমিক, মেহনতি মানুষ, শিশু-বৃদ্ধ, তরুণ কেউই শান্তিতে স্বস্তিতে নেই। একদিকে অভাব-অনটন অন্যদিকে বিভিন্ন ব্যবস্থা অব্যবস্থা মানুষকে প্রতিদিনই নিত্য-নতুন সমস্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সরকারি প্রশাসন, সেবা সেক্টরগুলো যদিও জনগণের কল্যাণ ও সেবার জন্য প্রতিষ্ঠিত; কিন্তু বাস্তবতাটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভিন্ন অভিজ্ঞতার জন্ম দেয়। শুধু বাউফল নয়, ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সারাদেশে ভূয়া চিকিৎসক আর ভেজাল ওষুধের বহু পিলে চমকানো তথ্য অতীতে দেশের পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে। এখনো হচ্ছে। এসব সংবাদ কতটা ভয়ংকর ও উদ্বেগের তা বলার অপেক্ষা রাখে না! কেবল এক উপজেলায় যদি ১৪৪ জন ভুয়া চিকিৎসকের সন্ধান মেলে, তাহলে সারাদেশে কত ভুয়া চিকিৎসক রয়েছেন, তা বলা মুশকিল। ভুয়া চিকিৎসক আর ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর ঘটনা প্রায়শই পত্রিকান্তরে প্রকাশ পায়। এনিয়ে নানা অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে। তবুও কমছে না এদের দৌরাত্ম্য। বরং ধর-পাকড় শুরু হলে, কিছুদিন চেম্বার গুটিয়ে নতুবা নামের আগে বসানো ডাক্তার লিখাটি কৌশলে মুছে ওষুধ বিক্রেতা সেজে দিব্যি প্রতারণা চালায়। এসব ভুয়া চিকিৎসকের কেউ-কেউ রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে। অধিকাংশ ভুয়া চিকিৎসক নগরীর বস্তি এলাকাগুলোকে টার্গেট করে। চট্টগ্রামের বাকলিয়া, বায়েজিদ, চাঁন্দগাও, কর্ণফুলীসহ বিভিন্ন এলাকার বস্তিগুলোতে টার্গেট করে ভূয়া চিকিৎসকরা চাকচিক্য চেম্বার খুলে বাহারি সাইন বোর্ডে ডাক্তার ও বিভিন্ন উপাধি লিখে অশিক্ষিত অজ্ঞ মানুষের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাদের চেম্বারে ফার্মেসিসহ থাকায় নিন্মমানের ওষুধগুলোই তারা প্রেসক্রাইব করে। অতীতে তারা গ্রেপ্তার হলেও বেরিয়ে এসে আবারো একই কর্মে লিপ্ত হয়েছে। এসব চিকিৎসকরা খৎনা থেকে শুরু করে পায়ের তালু থেকে মাথার তালু পর্যন্ত চিকিৎসার বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেকে জাহির করে অপচিকিৎসা দেয়। একই সাথে নকল-ভেজাল এবং নিন্মানের ওষুধও বিক্রি করে। থানা পুলিশের নাকের ডগায় বসেও কেউ-কেউ প্রতারণা অব্যাহত রেখেছে। এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে দেশের মানুষ কোন চিকিৎসকের উপর আস্থা রাখতে পারবেন? প্রায় ডাক্তারের নামের পাশে কয়েক লাইন ধরে নানা রকম ডিগ্রি লিখা থাকে। সাধারণ মানুষের পক্ষে এসব ডিগ্রির অর্থ বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। আর এটাই তাদের বড় ধরনের বাণিজ্য। মানুষকে বোকা বানানোর এ ধরনের সাইনবোর্ড প্রশাসনের সামনেই ঝুলছে। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় এ ধরনের চিকিৎসকদের খোঁজে বের করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে। পাশাপাশি পুলিশ Rab ও অভিযান চালিয়ে কিছু ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিয়েছে। তাতে কাজের কাজ কতটুকু হয়েছে, তা বলা যাচ্ছে না। যারা জনগণের সাথে এ ধরনের জঘন্য প্রতারণা করছে, তারা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করছে। সুতারাং কোনভাবে তাদেরকে ছাড় দেয়া হলে, মানুষের স্বাস্থ্যসেবা চরম হুমকির মুখে পড়বে। এসব ভুয়া চিকিৎসকরা ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ব্যক্তিগত চেম্বার বা ফার্মেসিতে বসে রোগী দেখেন। তারা বাহারি সাইনবোর্ডও ভিজিটিং কার্ডে যেসব ডিগ্রি ব্যবহার করছেন, তার সবই ভুয়া। ইতিপূর্বে অনেক কথিত চিকিৎক তাদের ডিগ্রি সংক্রান্ত তথ্য সঠিক নয় বলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে স্বীকারও করেছেন। অনেকে একাধিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডিগ্রিও ব্যবহার করেছেন। এদের মধ্যে কেউ-কেউ অল্টারনেটিভ মেডিসিন (এএম) বা বিকল্প চিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন মাত্র। এদের হাতে রোগীর জীবন মোটেই নিরাপদ নয়। এই প্রতারণার সাথে যারা জড়িত তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত । কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত তাদেরও যারা নকল-ভেজাল ও নিন্মমানের ওষুধ বেচা-বিক্রির সাথে জড়িত। শুধু পটুয়াখালীর বাউফল, ঢাকা-চট্টগ্রাম নগরীই নয় দেশের কোনো এলাকার মানুষই নকল ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ক্ষতিকর ওষুদের আওতা থেকে মুক্ত নয়। এর শিকার রোগনিরাময় প্রত্যাশী দেশের প্রত্যেক এলাকার মানুষ। অর্থ সম্পদ খরচ করে যে মৃত্যুকে ঠেকানোর জন্য রোগাক্রান্ত মানুষের আকুল প্রচেষ্টা, সেই মৃত্যুকেই যে আহবান করা হচ্ছে ওই সব বিপজ্জনক ওষুধ সেবন করে তা অনেক হতভাগ্য রোগীর ও তাদের অভিভাবকদের অজানা থেকে যায়। এ নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে সংবাদপত্রে। কিন্তু জনঅকল্যাণকর এ হীন ব্যবসা বা প্রতারণা বন্ধে কেউ কখনো এগিয়ে আসেনি। দেশে চলমান এমন প্রাণঘাতী আয়োজন বন্ধ করতে হবে। আর তাই ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ, জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা, ওষুধ শিল্পের মঙ্গল বিধান এবং রোগ নিরাময় প্রত্যাশী মানুষের জীবন রক্ষা ও ক্রেতাস্বার্থ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ওই দুষ্টচক্রকে স্থায়ীভাবে নির্মূলের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখবেন। এমনটাই প্রত্যাশা আমাদের। - লেখকদ্বয় : সাংবাদিক ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, প্রগতিশীল সংবাদপত্র পাঠক লেখক ফোরাম, কেন্দ্রিয় কমিটি।
সাইবার ক্রাইম, দুষ্টচক্র নির্মূল করতে হবে: মো. এনামুল হক লিটন ও সাহেনা আক্তার
১৬নভেম্বর,সোমবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: আমাদের সমাজে বর্তমানে যে অবক্ষয় দেখা দিয়েছে, তার মূলে রয়েছে ফেসবুক হয়রানি। ফেসবুক হয়রানি এখন মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। উপর্যূপরি এসব হয়রানির ঘটনায় নারী-পুরুষ সর্বত্রই বিশেষ করে অভিভাবক মহলে দেখা দিয়েছে চরম উৎকন্ঠা। নিয়ন্ত্রক সংস্থার উদাসীনতার কারণে দিন-দিন এ হয়রানির মাত্রা বাড়ছে ভয় কমছে না। একশ্রেণীর সমাজ বিরোধি ও দুষ্টচক্রের দল ইন্টারনেট, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ওয়েবসাইটে বেনামি একাউন্ট ব্যবহার করে সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষসহ স্কুল-কলেজ পড়-য়া ছাত্রীদের আপত্তিকর ছবি, ক্ষেত্রবিশেষে ভিডিও ক্লিপসসহ বিদ্বেষমূলক নানা তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পত্র-পত্রিকায় এ নিয়ে বিস্তর তথ্য ছাপা হয়েছে। এখনো হচ্ছে। তবুও নিয়োজিত সংস্থা এর প্রতিকারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে যা হওয়ার তা-ই হচ্ছে। এ যেন চলছে এবং চলতেই থাকবে। অবস্থাদৃষ্টে মনেই হয় না আমরা আদৌ কোনো সুস্থ সভ্য সমাজে বাস করছি। চারদিকে অজস্র আলো- সূর্যের ও বিজলি বাতির, জ্ঞানবিজ্ঞান ও সভ্যতার, মনন ও অগ্রসরতার। তবুও আমরা নিয়ত অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছি। জীবনানন্দ দাশের সেই অদ্ভুত আধার এক আমাদের বেপথু করছে; অসভ্য জঙ্গলি এক মধ্যযুগীয় বর্বরতায় মানুষ নামের জীবশ্রেষ্ঠ গর্বিত সত্তাকে ক্রমাগত অমানুষে পরিনত করছে যেন। আমরা এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে রাত-দিন অতিক্রান্ত করছি। বলাবাহুল্য যে, সাইবার ক্রাইমে যুক্ত প্রতিটি ব্যক্তিই কম-বেশি শিক্ষিত। বিভিন্ন সময়ে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদগুলো বিশ্লেষন করলে এটাই পরিস্কার বোঝা যায় যে ইন্টারনেট হয়রানির কারণে পরিবারে এবং সামাজিক জীবনে বড় ধরনের সঙ্কটে পড়তে হচ্ছে দেশের এক-তৃতীয়াংশ নারীকে। সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেসবুক খুললেই দেখা যায় নারীদের নিয়ে নানা আপত্তিকর ছবি ও তথ্য ছড়ানো। এছাড়া ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে কথিত প্রেমিকের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে অনেক মেয়ে সর্বশান্ত হয়েছে। আবার দেখা যায় কেউ-কেউ কৌশলে কিংবা প্রেমের অভিনয় করে মোবাইলে মেয়েদের আপত্তিকর ছবি তুলে সেই মেয়েটিরই নাম ব্যবহার করে ফেসবুকে নানা আবেদন-নিবেদন তুলে ধরছে। অথচ ওই মেয়েটি এর কিছুই জানে না। এসব অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভূয়া অ্যাকাউন্ট খুলে অনৈতিক কর্মকান্ড করা হচ্ছে। এ নিয়ে অতীতে পত্রিকাগুলোয় বিস্তর লেখা ছাপা হয়েছে, কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি হয় না। সাইবার জগতে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোয় নারীদের হয়রানির ঘটনা যে ক্রমে বাড়ছে- বিটিআরসি গঠিত বাংলাদেশ কম্পিউটার সিকিউরিটি ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিমে (বিডিসিএসআইআরটি)-তে বিভিন্ন সাম্প্রতিক সময়ে জমা পড়া বেশকিছু অভিযোগই তার প্রমান। বর্তমান আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশে বিজ্ঞানের প্রযুক্তিগত নানা সুবিধা যখন মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছছে, ঠিক তখনি তা যেন বুমেরাং হয়ে ফিরে যাচ্ছে। দেখা দিচ্ছে অভিশাপ হয়ে। ব্যাপক তথ্য অনুসন্ধান মতে, সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে ২০১২ সালের ২৫ জানুয়ারি বিডিসিএসআইআরটি সেল গঠিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অনেক ওয়েবসাইট ব্লক করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক বিদ্বেষ ছড়ায় এমন সাইটসহ আরো কিছু সাইটের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ওই সময়ে বেশকিছু ওয়েবসাইট বন্ধ করতে পারলেও ফেসবুকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে নি। সবমিলিয়ে বুঝা যাচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ভালো দিকগুলোকে কাজে না লাগিয়ে একটি দুষ্টচক্র ব্যবহারে কারচুপির মাধ্যমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে একরকম অভিশাপ হিসেবে উপস্থাপন করছে। বর্তমানে সাইবার ক্রাইম এতটাই বেড়ে গেছে যে নরম হাতে এদের দমন করা কঠিন হয়ে পড়বে। সম্ভবত নিয়োজিত সংস্থা অবস্থা আঁচ করতে পেরে বেশ কয়েক বছর পূর্বে একটি গোয়েন্দা সংস্থারও সহযোগীতা নিয়েছিল। ওই সময়ে সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অভিযোগের কিছুটা সুরাহা হলেও নারীদের নিয়ে যৌন হয়রানির মতো ঘৃণ্য ও জঘন্যতম বিষয়গুলোর আশানুরুপ ফল পাওয়া য়ায় নি। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, যেসব ভূয়া অ্যাকাউন্ট থেকে আপত্তিকর ছবি, তথ্য ও বার্তা ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হলেও তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ওই দুষ্টচক্র আবার নতুন করে অ্যাকাউন্ট খুলে একই কাজ করে যাচ্ছে। আবার বৈধ অ্যাকাউন্ট ধারিরাও তাদেরই বন্ধু-বান্ধবীদের মধ্যে ফেসবুক বা ফেসবুকের গ্রুপের মাধ্যমে যে অশ্লীল কথাবার্তা এবং আপত্তিকর ছবি শেয়ার করছে তা চোখে পড়লে, যে কাউকেই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হবে। তাই আমরা চাই সুস্থ-সভ্য ও সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠায় অনতিবিলম্বে সাইবার ক্রাইমের সঙ্গে জড়িত এই দুষ্টচক্রকে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে নির্মূল করা হোক।- লেখকদ্বয় : সাংবাদিক ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, প্রগতিশীল সংবাদপত্র পাঠক লেখক ফোরাম, কেন্দ্রিয় কমিটি।

মুক্ত কলম পাতার আরো খবর