রবিবার, ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২১
বিজয় দিবস: বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের
১৫,ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহান বিজয় দিবস। দিনটি বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিবস। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখন্ডের নাম জানান দেয়ার দিন। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃতে নয়মাস সশ্রস্র মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে বিকেলে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। যে অস্ত্র দিয়ে বর্বর পাকিস্তানী বাহিনী দীর্ঘ নয় মাস ত্রিশ লাখ বাঙালিকে হত্যা করেছে, দু লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছে সেই অস্ত্র পায়ের কাছে নামিয়ে রেখে এক রাশ হতাশা এবং অপমানের গ্লানি নিয়ে লড়াকু বাঙালির কাছে পরাজয় মেনে নেয় তারা। সেই থেকে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালিত হয়ে আসছে। একাত্তরের মানবতা বিরোধী যদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে এবং হচ্ছে এই সস্তি নিয়ে জাতি সশ্রদ্ধ বেদনায় স্মরণ করবে দেশের পরাধীনতার গ্লানি মোচনে প্রাণ উৎসর্গ করা বীর সন্তানদের। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল নামবে। শ্রদ্ধার সাথে তারা শহীদের উদ্দেশে নিবেদন করবেন পুষ্পাঞ্জলি। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের সব প্রান্তের মানুষ অংশ নেবে বিজয় দিবসে। বঙ্গবন্ধুর বজ্র নিনাদ ভাষণ আর মুক্তিযুদ্ধের সময়ের জাগরণী গানে আকাশ-বাতাস হবে মুখরিত। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার যা কিছু আছে তা নিয়েই স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। পরে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালিরা অস্ত্র হাতে পাকিস্তানী হানাদারদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অবশেষে বাঙালি দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে বুকের উষ্ণ রক্তে রাঙিয়ে রাত্রীর বৃন্ত থেকে ছিনিয়ে আনে ফুটন্ত সকাল।- সৃজন দত্ত, চট্টগ্রাম সংবাদদাতা,বাংলার নবকন্ঠ।
মহান বিজয় দিবস: পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন ভূখন্ডের নাম জানান দেয়ার দিন
১৫,ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহান বিজয় দিবস। দিনটি বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিবস। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখন্ডের নাম জানান দেয়ার দিন। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃতে নয়মাস সশ্রস্র মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে বিকেলে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। যে অস্ত্র দিয়ে বর্বর পাকিস্তানী বাহিনী দীর্ঘ নয় মাস ত্রিশ লাখ বাঙালিকে হত্যা করেছে, দু লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছে সেই অস্ত্র পায়ের কাছে নামিয়ে রেখে এক রাশ হতাশা এবং অপমানের গ্লানি নিয়ে লড়াকু বাঙালির কাছে পরাজয় মেনে নেয় তারা। সেই থেকে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালিত হয়ে আসছে। একাত্তরের মানবতা বিরোধী যদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে এবং হচ্ছে এই সস্তি নিয়ে জাতি সশ্রদ্ধ বেদনায় স্মরণ করবে দেশের পরাধীনতার গ্লানি মোচনে প্রাণ উৎসর্গ করা বীর সন্তানদের। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল নামবে। শ্রদ্ধার সাথে তারা শহীদের উদ্দেশে নিবেদন করবেন পুষ্পাঞ্জলি। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের সব প্রান্তের মানুষ অংশ নেবে বিজয় দিবসে। বঙ্গবন্ধুর বজ্র নিনাদ ভাষণ আর মুক্তিযুদ্ধের সময়ের জাগরণী গানে আকাশ-বাতাস হবে মুখরিত। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার যা কিছু আছে তা নিয়েই স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। পরে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালিরা অস্ত্র হাতে পাকিস্তানী হানাদারদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অবশেষে বাঙালি দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে বুকের উষ্ণ রক্তে রাঙিয়ে রাত্রীর বৃন্ত থেকে ছিনিয়ে আনে ফুটন্ত সকাল।- লেখক: রাশেদুল আজিজ, চট্টগ্রাম সংবাদদাতা,নিউজ একাত্তর ডট কম।
বিজয় দিবস: বাঙালি জাতির বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিন
১৫,ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহান বিজয় দিবস। দিনটি বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিবস। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখন্ডের নাম জানান দেয়ার দিন। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃতে নয়মাস সশ্রস্র মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে বিকেলে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। যে অস্ত্র দিয়ে বর্বর পাকিস্তানী বাহিনী দীর্ঘ নয় মাস ত্রিশ লাখ বাঙালিকে হত্যা করেছে, দু লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছে সেই অস্ত্র পায়ের কাছে নামিয়ে রেখে এক রাশ হতাশা এবং অপমানের গ্লানি নিয়ে লড়াকু বাঙালির কাছে পরাজয় মেনে নেয় তারা। সেই থেকে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালিত হয়ে আসছে। একাত্তরের মানবতা বিরোধী যদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে এবং হচ্ছে এই সস্তি নিয়ে জাতি সশ্রদ্ধ বেদনায় স্মরণ করবে দেশের পরাধীনতার গ্লানি মোচনে প্রাণ উৎসর্গ করা বীর সন্তানদের। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল নামবে। শ্রদ্ধার সাথে তারা শহীদের উদ্দেশে নিবেদন করবেন পুষ্পাঞ্জলি। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের সব প্রান্তের মানুষ অংশ নেবে বিজয় দিবসে। বঙ্গবন্ধুর বজ্র নিনাদ ভাষণ আর মুক্তিযুদ্ধের সময়ের জাগরণী গানে আকাশ-বাতাস হবে মুখরিত। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার যা কিছু আছে তা নিয়েই স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। পরে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালিরা অস্ত্র হাতে পাকিস্তানী হানাদারদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অবশেষে বাঙালি দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে বুকের উষ্ণ রক্তে রাঙিয়ে রাত্রীর বৃন্ত থেকে ছিনিয়ে আনে ফুটন্ত সকাল। -লেখক: মোঃ ইলিয়াছ, চট্টগ্রাম সংবাদদাতা,দৈনিক বাংলার নবকন্ঠ।
মহান বিজয় দিবস: জাতির শ্রেষ্ঠ গৌরব ও উজ্জ্বলতার সাক্ষ্য বহনকারী অনন্য দিন
১৫,ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। জাতির শ্রেষ্ঠ গৌরব, অহঙ্কার ও আনন্দ উজ্জ্বলতার সাক্ষ্য বহনকারী একটি অনন্য দিন। ১৯৭১ সালের এই বিশেষ দিনটিতে ২৬ মার্চ ১৯৭১-এ সূচিত মহান মুক্তিযুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা মিত্রবাহিনীর সক্রিয় সহযোগিতায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে এ বিজয় ছিনিয়ে আনে। ১৬ ডিসেম্বর ৯৫ হাজার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্য রমনা রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। ৩০ লাখ বাঙালির বুকের রক্তে, ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি ও অগণিত মানুষের সীমাহীন দুঃখ-দুর্ভোগের বিনিময়ে বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন এই বিজয় মুকুট শিরে পরেছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানি শাসকরা বাঙালির আশা-আকাঙ্খাকে পদদলিত করে ২৫ মার্চ গভীর রাতে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি জনগণের ওপর অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বঙ্গবন্ধু চূড়ান্ত ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে ওই রাতেই গ্রেপ্তারের আগে, বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করে দেশবাসীকে যার যা আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বর্বরতার নিন্দা এবং বাংলাদেশের পক্ষে সাহায্য ও সহযোগিতার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছিলেন। যে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ কার্যত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন, সেই ময়দানেই ৯৫ হাজার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যকে ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করতে হয়। বিজয়ের এই দিনে স্বাধীনতার সেই মহানায়কের প্রতি জানাই আমাদের অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা। তার সঙ্গে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি তাদের, যাদের অমূল্য সংগ্রামী জীবনের বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছি, মুক্ত স্বাধীন স্বদেশভূমি পেয়েছি। বিজয় দিবসে আমাদের শপথ হোক সব ষড়যন্ত্রের অর্গল ভেঙে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসম্পন্ন-গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, সুখী-সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমেই অর্জিত হবে আমাদের প্রকৃত বিজয়।- লেখক: সাবরিন জেরিন, সহ সম্পাদক, নিউজ একাত্তর ডট কম।
বিজয় দিবস: বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন
১৫,ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহান বিজয় দিবস। দিনটি বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিবস। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখন্ডের নাম জানান দেয়ার দিন। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃতে নয়মাস সশ্রস্র মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে বিকেলে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। যে অস্ত্র দিয়ে বর্বর পাকিস্তানী বাহিনী দীর্ঘ নয় মাস ত্রিশ লাখ বাঙালিকে হত্যা করেছে, দু লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছে সেই অস্ত্র পায়ের কাছে নামিয়ে রেখে এক রাশ হতাশা এবং অপমানের গ্লানি নিয়ে লড়াকু বাঙালির কাছে পরাজয় মেনে নেয় তারা। সেই থেকে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালিত হয়ে আসছে। একাত্তরের মানবতা বিরোধী যদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে এবং হচ্ছে এই সস্তি নিয়ে জাতি সশ্রদ্ধ বেদনায় স্মরণ করবে দেশের পরাধীনতার গ্লানি মোচনে প্রাণ উৎসর্গ করা বীর সন্তানদের। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল নামবে। শ্রদ্ধার সাথে তারা শহীদের উদ্দেশে নিবেদন করবেন পুষ্পাঞ্জলি। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের সব প্রান্তের মানুষ অংশ নেবে বিজয় দিবসে। বঙ্গবন্ধুর বজ্র নিনাদ ভাষণ আর মুক্তিযুদ্ধের সময়ের জাগরণী গানে আকাশ-বাতাস হবে মুখরিত। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার যা কিছু আছে তা নিয়েই স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। পরে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালিরা অস্ত্র হাতে পাকিস্তানী হানাদারদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অবশেষে বাঙালি দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে বুকের উষ্ণ রক্তে রাঙিয়ে রাত্রীর বৃন্ত থেকে ছিনিয়ে আনে ফুটন্ত সকাল।- লেখক: মো. আশরাফুল ইসলাম,সদস্য- আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, কেন্দ্রীয় কমিটি, কমান্ডার- বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
১৬ ডিসেম্বর: বাঙালি জাতির অবিস্মরণীয় দিন
১৫,ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস।এই মাসটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে,আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ সম্মানের সঙ্গে দেখা হয়। বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষনার পর দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জিত হয়। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ। দিনটি বাঙালি জাতির জীবনে সর্বোচ্চ গৌরবের একটি অবিস্মরনীয় দিন। যতদিন পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ থাকবে,বাঙ্গালি জাতি থাকবে,ততদিন এই দিনটির গুরুত্ব ও সম্মান অক্ষুন্ন থাকবে। বাঙ্গালি জাতির ইতিহাস লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস,আত্মত্যাগের ইতিহাস। সেই ইতিহাসের পথ ধরেই বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খলা ভাঙতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। শাসন-শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালি একে একে গড়ে তোলে আন্দোলন-সংগ্রাম।বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন,৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন,৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন,৬দফা,৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান,৭০ এর নির্বাচনে বিজয় লাভের মধ্য দিয়ে বাঙালি চূড়ান্ত বিজয়ের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হতে থাকে। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালির যে আন্দোলন শুরু হয় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই আন্দোলন চূড়ান্ত রুপ নেয়। যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) লাখ লাখ মানুষের সমাবেশে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তত থাকার নির্দেশ দেন। তিনি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলেন,যার যা কিছু আছে,তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করার আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে প্রস্তুতি নিতে থাকে বাঙালি জাতি। ২৫ মার্চ কালো রাতে নিরীহ বাঙালির ওপর ঝাপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনি,শুরু করে গণহত্যা। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে চলে এই যুদ্ধ। পাক হানাদার বাহিনী বাঙালির স্বাধীনতার সপ্নকে ভেঙে দিতে শুরু করে বর্বর গণহত্যা। গণহত্যার পাশাপাশি নারী নির্যাতন,ধর্ষণ,শহরের পর শহর,গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয় হানাদাররা। বাংলাদেশ পরিণত হয় ধ্বংস স্তুপে। আধুনিক অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অদম্য সাহস ও জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করে এদেশের কৃষক,শ্রমিক,ছাত্র,যুব,নারীসহ সব শ্রেনী-পেশার সর্বস্তরের বাঙালি। এই সময় বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ায় প্রতিবেশী ভারত। অস্ত্র,সৈন্য,খাদ্য,আশ্রয়সহ সার্বিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশাল ভূমিকা রাখে রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন)। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এগিয়ে আসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুক্তিকামী মানুষ। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হন। বাঙালি জাতির মরণপণ যুদ্ধ এবং দুর্বার প্রতিরোধের মুখে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা পরাজয়ের চূড়ান্ত পর্যায় বুঝতে পেরে বিজয়ের দুই দিন আগে জাতির সূর্য সন্তান বুদ্ধিজীবীদের বেছে বেছে হত্যা করে। অবশেষে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে ও নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় ১৬ ডিসেম্বর। ওই দিন বিকেলে পাকিস্তানি বাহিনী রেসকোর্স ময়দানে মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। জাতি পায় স্বাধীন রাষ্ট্র,নিজস্ব পতাকা ও জাতীয় সংগীত। বঙ্গবন্ধুর অপরিসীম ত্যাগ ও আপোষহীন নেতৃত্বে পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। ৩০ লাখ শহিদ এবং দুই লাখ মা-বোনের অসামান্য আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ।- লেখক:মো.ইরফান চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক- পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন লিমিটেড।
ধর্ষনের অপরাধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ে বিচারের জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল আবশ্যক
১৪,ডিসেম্বর,সোমবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে গত জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত তিন মাসে ২৫৭ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ৫০টি ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। ১২ জন নারীকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। আর চার জন নারী ধর্ষণের পরবর্তীতে আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে ২০১৯ সালে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে পাঁচ হাজার ৪০০টি। এ তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ধর্ষণের হার ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে প্রায় চার জন নারী-শিশুকেই ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে, যা স্মরণকালের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে সব সরকারি অফিস ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর ১৬ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদফতর সমগ্র বাংলাদেশকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণকে ঘরে থাকার জন্য বার বার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিদিন দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের জনগণ প্রতি মুহূর্তে মৃত্যু ভয়ে দিন কাটাচ্ছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতেও ধর্ষণ থামেনি। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই জামালপুরে করোনা আক্রান্ত রোগী তল্লাশির নামে পুলিশ পরিচয়ে ঘরে ঢুকে এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করা হয়। গত ৫ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জে ত্রাণ দেয়ার নাম করে ১০ বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণ করা হয়। ৭ এপ্রিল বরগুনার তালতলীতে এক দিনমজুরের মেয়েকে ত্রাণের কথা বলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। গত ৯ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ৯ বছরের একটি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। সর্বশেষ গাজীপুরে এক প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই মেয়ে এবং এক ছেলে হত্যার ঘটনায় জানা যায় যে, হত্যার পূর্বে প্রবাসীর স্ত্রী ও দুটি শিশু মেয়েকে ধর্ষণ করা হয় এবং আসামিদের মধ্যে দুজন ছিল বাবা-ছেলে। কত ঘৃণ্য মানসিকতার ও বর্বর হলে বাবা-ছেলে মিলেও ধর্ষণের মত জঘন্য অপরাধ করতে দ্বিধাগ্রস্ত হয় না! এতক্ষণ বাংলাদেশে ধর্ষণের সার্বিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এবার আইনগত বিষয়ে আসা যাক। ২০০০ সালের আগে বাংলাদেশে ধর্ষণের বিচার হতো ১৮৬০ সনের দন্ডবিধি অনুযায়ী। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে বিশ্বের অনেক দেশের মত বাংলাদেশেও বৃদ্ধি পায় নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা। বেড়ে যায় যৌন হয়রানি, ধর্ষণসহ অপহরণের ঘটনা। এগুলোর মধ্যে কিছু ঘটনা প্রকাশিত হলেও বেশিরভাগ ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায় লোকলজ্জার কারণে। এসব ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতনমূলক অপরাধসমূহ কঠোরভাবে দমন করার জন্য সরকার ২০০০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন নামে বিশেষ আইন পাস করে। এই আইনের আওতায় ৫৪টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হয়। এরপর ২০১৮ সালে গঠিত হয় ৪১টি এবং সর্বশেষ চলতি বছরের শুরুতে অর্থাৎ আরো ছয়টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ছয়টি মিলে এখন দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা হবে ১০১টি। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য এ ধরনের ট্রাইব্যুনালে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল যদি ১৮০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার কারণ সংবলিত একটি প্রতিবেদন ৩০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করতে হবে। যার একটি অনুলিপি সরকারকেও দিতে হবে। তাছাড়া এক্ষেত্রে পাবলিক প্রসিকিউটর ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে কারণ উল্লেখপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করবেন। কিন্তু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণ ছাড়াও নারী পাচার, শিশু পাচার, নারী ও শিশু অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, নারীর আত্মহত্যায় প্ররোচণা, যৌন নিপীড়ন, যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো, ভিক্ষাবৃত্তি ইত্যাদির উদ্দেশ্যে শিশুর অঙ্গহানি, দাহ্য পদার্থ দ্বারা জখম বা মৃত্যু ঘটানো ইত্যাদি অপরাধের বিচার করা হয়। ২০০০ থেকে ২০২০ সালের চলতি সময় পর্যন্ত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার মামলা বিচারাধীন আছে। অর্থাৎ এসব মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতিটি ট্রাইব্যুনালে গড়ে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা এক হাজার ৭০০টি। ফলে ধর্ষণ ও এ সংক্রান্ত মামলাসমূহ প্রত্যাশিত হারে দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি সম্ভবপর হচ্ছে না। অথচ ধর্ষণ এমন একটি জঘন্য অপরাধ যাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করাও অযৌক্তিক হবে না। এই জঘন্য অপরাধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ে বিচার করা উচিত। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার উত্তরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র ধর্ষকের দ্রুত বিচার দাবিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এমনকি জাতীয় সংসদে কয়েকজন সংসদ সদস্য ধর্ষণ নির্মূলে ক্রসফায়ার দাবি করেন। যদিও এর কোন আইনগত ভিত্তি নেই। কিন্তু জনগণ চায় দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি। এক্ষেত্রে সম্ভাব্য সমাধান হতে পারে পৃথক আইন পাস করে পৃথক ট্র্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা। এবার আলোচনা করা যাক প্রস্তাবিত আইনে কোন কোন বিষয় থাকা উচিত। আইনে বলা থাকতে পারে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যেক বিভাগীয় শহরে একটি করে পৃথক ট্রাইব্যুনাল হবে। জেলা জজ পদ মর্যাদার একজন বিচারক হবেন এই ট্রাইব্যুনালের বিচারক। এই ট্রাইব্যুনাল কেবল ধর্ষণ ও ধর্ষণ সংক্রান্ত অপরাধসমূহ বিচার করবে। যে সংস্থার হাতেই তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হোক না কেন; তদন্তের সময়সীমা ১০ দিন পর্যন্ত বেঁধে দেয়া যেতে পারে এবং তদন্ত কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবেন। আর বিচার শেষ করে দুই মাসের মধ্যে ট্রাইব্যুনালকে রায় দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হবেন অবশ্যই একজন নারী আইনজীবী। আইনে বলে দিতে হবে, এই ধরনের ট্রাইব্যুনালে বিচার চলাকালীন অভিযোগকারী পক্ষ এবং আসামী পক্ষ এবং উভয়পক্ষের আইনজীবী ছাড়া অন্য কেউ আদালত কক্ষে থাকবে না। সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে এ ধরনের মামলার তদন্ত তদারকি করার দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে এবং তিনি খেয়াল রাখবেন যাতে নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে এ ধরণের মামলার তদন্তভার দেয়া হয়। নারী পুলিশ কর্মকর্তা পাওয়া না গেলে যাতে সবচেয়ে দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে তদন্তভার দেয়া হয়। আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতেও গত বছর তদন্ত ও বিচারের জন্য খুব সংক্ষিপ্ত সময় দিয়ে ধর্ষণ ও ধর্ষণ সংক্রান্ত মামালাসমূহ বিচারের জন্য অন্ধ্রপ্রদেশ দিশা এ্যাক্ট, ২০১৯ নামে নতুন আইন পাস করা হয়। বাংলাদেশে ধর্ষণের যেসব মামলায় বিচার হয়েছে, তার মধ্যে দ্রুততম সময়ে বিচারের উদাহরণ হলো টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী ধর্ষণের মামলা। উক্ত ঘটনায় দ্রততম সময়ে অর্থাৎ মামলা দায়েরের ১৭১তম দিনে মাত্র ১৪ কার্যদিবসে রায় প্রচার করা হয়। রায়ে চারজনের ফাঁসি, একজনকে দেয়া হয়েছে সাত বছরের কারাদন্ড। অন্তত বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হলে এভাবে প্রত্যেকটি ধর্ষণ ও ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলা দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি করে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা সম্ভব হবে। এতে কিছুটা হলেও সম্ভাব্য আসামিরা ভয় পাবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, ৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এদেশের সংবিধান প্রণয়নের সময় আমরা অঙ্গীকার করেছি আমাদের রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা- যেখানে সব নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হবে। সেই অঙ্গিকার মাথায় রেখে পুরুষের পাশাপাশি নারী সমাজের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধানসহ সার্বিক উন্নয়নের জন্য সরকার এবং জনগণকে সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনই হবে মূলমন্ত্র।- লেখক: শেখ সাদী রহমান, সিনিয়র আইন গবেষণা কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা
বিনম্র শ্রদ্ধায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ
১৩,ডিসেম্বর,রবিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অগণিত প্রাণের বিনিময়ে আমরা অর্জন করেছি আমাদের রাষ্ট্র স্বাধীন বাংলাদেশ। যুদ্ধের পেছনে আছে দীর্ঘ সংগ্রাম। ছাত্ররা, শ্রমিকরা সংগ্রাম করেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বে সব মানুষ সংগ্রাম করেছে। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের বিজয়।বিজয়ের মাসের ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতি আজ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করছে। প্রতিবছর যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। এদিন বাংলার সূর্যসন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। যখন পরাজয় সুনিশ্চিত তখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী একে একে হত্যা করে এ দেশের বুদ্ধিজীবীদের। এদের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক, লেখক, সাহিত্যিক, ইতিহাসবিদ, চিকিৎসক, সাংবাদিক, প্রকৌশলীসহ নানা পেশাজীবী। দেশকে মেধাশূন্য করার পৈশাচিক পরিকল্পনা নেয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে মাস্টারমাইন্ডের ভূমিকায় ছিলেন মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলি। পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তিনি। ২৫ মার্চ রাতে অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনার সঙ্গেই বুদ্ধিজীবীদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পাকিস্তানি সেনারা অপারেশন চলাকালীন খুঁজে খুঁজে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করতে থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষককে ২৫ মার্চের রাতেই হত্যা করা হয়। তবে, পরিকল্পিত হত্যার ব্যাপক অংশটি ঘটে যুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং তাদের প্রশিক্ষিত আধা-সামরিক বাহিনী আলবদর এবং আল-শামস বাহিনী একটি তালিকা তৈরি করে। যেখানে এসব স্বাধীনতাকামী বুদ্ধিজীবীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।মুক্তিবাহিনী যখন বীরবিক্রমে পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণ একের পর এক উড়িয়ে দিচ্ছিল, তখন দিশাহারা হয়ে পড়ে বর্বর পাকিস্তানিরা। পরাজয়ের চরম প্রতিহিংসায় উন্মত্ত হয়ে ওঠে ওরা। আঁকে নতুন ছক।এর আগে ডিসেম্বরের ৪ তারিখ থেকে ঢাকায় নতুন করে কারফিউ জারি করা হয়। ডিসেম্বরের ১০ তারিখ থেকেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। মূলত ১৪ ডিসেম্বর পরিকল্পনার মূল অংশ বাস্তবায়ন হয়। অধ্যাপক, সাংবাদিক, শিল্পী, প্রকৌশলী, লেখকসহ চিহ্নিত বুদ্ধিজীবীদের পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং তাদের দোসররা জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। ওই দিন প্রায় ২০০ জনের মতো বুদ্ধিজীবীকে তাদের বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের চোখে কাপড় বেঁধে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, নাখালপাড়া, রাজারবাগসহ অন্যান্য আরও অনেক স্থানে অবস্থিত নির্যাতন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের ওপর বীভৎস নির্যাতন চালানো হয়। পরে তাদের নৃশংসভাবে রায়েরবাজার এবং মিরপুর বধ্যভূমিতে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়। এ দুটি স্থান এখন বধ্যভূমি হিসেবে সংরক্ষিত।শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে রয়েছেন- অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, ডা. আলিম চৌধুরী, অধ্যাপক মনিরুজ্জামান, ড. ফজলে রাব্বী, সিরাজউদ্দীন হোসেন, শহীদুল্লাহ কায়সার, অধ্যাপক জিসি দেব, জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, সাংবাদিক খন্দকার আবু তাহের, নিজামউদ্দিন আহমেদ, এস এ মান্নান (লাডু ভাই), এ এন এম গোলাম মোস্তফা, সৈয়দ নাজমুল হক, সেলিনা পারভীনসহ আরও অনেকে। কিন্তু কী অপরাধ ছিল জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের? শুধু মেধাশূন্য করে বাঙালি জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিতেই এই গভীর এবং ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ঠিক দুই দিন পর ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।বুদ্ধিজীবীদের হত্যাযজ্ঞের স্মরণে বাঙালি জাতি সশ্রদ্ধচিত্তে সেই ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর থেকে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করে আসছে। বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী মরহুম তাজউদ্দীন আহমদ ১৪ ডিসেম্বরকে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ঘোষণা করেছিলেন কারণ, অপহরণ ও পরে নির্বিচারে হত্যা এই ১৪ ডিসেম্বরেই অর্থাৎ পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণ এবং বাঙালির বিজয় অর্জন তথা বিজয় দিবসের ঠিক দুই দিন আগে সংঘটিত হয়েছিল সবচেয়ে বেশি। জাতিকে পঙ্গু করার প্রয়াসে ২৫ মার্চ থেকে শুরু করে সারা দেশে টার্গেট করে প্রায় দুই হাজার শিক্ষক, শিল্পী, সাহিত্যিক, আইনজীবী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারকে হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। এর মধ্যে ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর ঢাকাতেই খুন হন প্রায় ১ হাজার ১০০। যুদ্ধের পরও কয়েকজন শহীদ হয়েছেন, যাদের মধ্যে জহির রায়হান অন্যতম।দৈনিক পত্রিকাগুলো নিখোঁজ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় এবং চতুর্থ সপ্তাহে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। গোপন তথ্যসূত্রের ভিত্তিতে ১৮ ডিসেম্বরে একদল সাংবাদিক ঢাকার পশ্চিমে রায়েরবাজার এলাকায় পচনশীল, ক্ষতবিক্ষত লাশের একটি গণকবরের সন্ধান লাভ করে। জাতির মেধাবী ব্যক্তিবর্গের দেহগুলো অত্যাচারের সুস্পষ্ট চিহ্ন নিয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে, একে-অন্যের নিচে চাপা পড়ে ছিল। লালমাটিয়ায় শারীরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সাংবাদিকরা একটি বন্দীশালা আবিষ্কার করেন, যা ছিল রাজাকার, আলবদর, আল-শামসদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।ঢাকা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ এবং কামালউদ্দিন, চিকিৎসক ফজলে রাব্বী, আবদুল আলিম চৌধুরী, আবুল খায়েরের পচনশীল লাশগুলো পরিবারের সদস্যরা শনাক্ত করেন সেদিনই। সাংবাদিক সেলিনা পারভীনের লাশ শনাক্ত করা হয় পরের দিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য, সিরাজুল হক, ফাইজুল মাহী এবং চিকিৎসক গোলাম মুর্তোজা, আজহারুল হক, হুমায়ুন কবীর ও মনসুর আলীর লাশ পরবর্তীতে চিহ্নিত করা হয়। লাশ শনাক্তকরণের সময় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবারের সদস্যদের অনেকেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছিলেন। এরকম আরও বধ্যভূমি ছিল মিরপুর এবং রায়েরবাজার এলাকায়, তেজগাঁওয়ের কৃষি বর্ধিতকরণ বিভাগের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মহাখালীর টিবি হাসপাতালসহ সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায়। অনেক লাশই পরবর্তীতে শনাক্তকরণের পর্যায়ে ছিল না।শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সেই আত্মত্যাগের স্মরণেই আধুনিক স্থাপত্যকলার অপূর্ব নিদর্শন হিসেবে রায়েরবাজারে গড়ে তোলা হয়- শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ। এই সৌধটি গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ১৯৯৬ সালে। ৬ দশমিক ৫১ একর জমির ওপর এ সৌধটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ১৯৯৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর।একাত্তরের সেই বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে।বুদ্ধিজীবী দিবস পালনের পরও আমাদের ভেতরে ক্রোধ জাগছে না; স্বপ্ন সৃষ্টি হচ্ছে না হারানো বুদ্ধিজীবীদের মতো বা তাঁদের চেয়ে বড় বুদ্ধিজীবী সমাজ গড়ে তোলার। তরুণদের আমরা পাঠাগার থেকে পার্কে নিয়ে গিয়েছি। স্বদেশি চেতনা ভুলে দিন দিন বিদেশপ্রেমী হয়েছি, রোধ করতে পারছি না মেধা পাচার। যা হোক, এক কথায় হলো আমরা আমাদের তরুণদের বুদ্ধিজীবীতে রূপান্তরের কার্যক্রমে ভীষণভাবে পিছিয়ে রয়েছি। কী উপায়ে শোককে প্রকৃতপক্ষে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারি আমরা? উপায় সহজ! শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের মূল তাৎপর্য তরুণদের মধ্যে তুলে ধরা। অবিরত বুদ্ধির চর্চা, বুদ্ধির বিকাশে সহনশীলতা বাড়িয়ে বিতর্কে উদ্বুদ্ধ করা। পাকিস্তানিরা আমাদের যে ক্ষতি ১৪ ডিসেম্বরে করেছে, ঝাঁকে ঝাঁকে শক্তিশালী তরুণ বুদ্ধিজীবী সৃষ্টি করে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বাঁকে বাঁকে বিশ্বের মাঝে শ্রেষ্ঠ অবস্থান অর্জন করে তার প্রতিশোধ নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। অর্থাৎ শোককে শক্তিতে রূপান্তর মূলত জাতিগতভাবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের সব ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা। এটাই মূলত শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের শপথ রক্ষা করার উত্তম পথ।- লেখকঃ মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সাংবাদিক ও কলামিষ্ট।
প্রগতিশীল সংবাদপত্র পাঠক লেখক ফোরাম পথচলার ৯ বছর : আমাদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা
১২,ডিসেম্বর,শনিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: গৌরব, ঐতিহ্য আর সফলতার নবম বর্ষে পা রাখলো- প্রগতিশীল সংবাদপত্র পাঠক লেখক ফোরাম। সকলের সহযোগীতা ও আন্তরিকতায় হাটি-হাটি পা-পা করে ৮ বছর অতিক্রম করে ১২ ডিসেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দে ৯ বছরে পর্দাপণ করলো আমাদের প্রাণপ্রিয় সংগঠনটি। প্রতিবছর ঘটা করে পালিত হয় বর্ষপূর্তির এ দিনটি। কিন্তু এবারের করোনা মহামারির কারণে সভা-সমাবেশের উপর বিধিনিষেধ থাকায় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের চিন্তা-ভাবনা আপাতত আমাদের মাথায় না থাকলেও সামান্যতম ঘরোয়া আয়োজনের ব্যবস্থা হয়তো এ মাসেই করা হবে। বর্ষপূর্তির এই মাহেন্দ্রক্ষণে সংগঠনের কেন্দ্রিয় কমিটির পক্ষথেকে সকলের প্রতি রইল আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। দুহাজার বারো খ্রীষ্টাব্দের বারোই ডিসেম্বর মহান বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ও আদর্শকে সমুন্নত রেখে ও ধারণ করে একটি গঠনমূলক সচেতন পাঠক-লেখক, তরুণ ও যুবসমাজ গঠন এবং সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা সত্য ও সুন্দরের পক্ষে, দেশ ও জনগণের কল্যাণের পক্ষে এ শ্লোগান নিয়ে সামনে এগিয়েছি। এখনও সেই লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়েই আমাদের পথচলা অব্যাহত। বিগত ৮ বছরে আমরা কতটুকু সফল হয়েছি, তা, দেশের সংবাদপত্রগুলো এবং এ সংগঠনের সাথে যারা সম্পৃক্ত, যারা সবসময় পাশে থেকেছেন, সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন, কাছথেকে দেখেছেন তাঁরাই মূল্যায়ন করবেন, তবে আমরা সত্য ও সুন্দরের পক্ষে আমাদের এ উদ্দেশ্যকে সততার সাথে লালন করার প্রাণপণ প্রচেষ্টা এখনো চালিয়ে যাচ্ছি। ম্যাজিক ডেট- ১২-১২-১২ খ্রীষ্টাব্দে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বিশিষ্ট লেখক- সংগঠক ও সাংবাদিক মো. এনামুল হক লিটন। তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তাঁর নেতৃত্বে প্রগতির পথে অপ্রতিরোধ্যভাবে হেঁটে চলেছি আমরা। এভাবেই হাঁটতে-হাঁটতে আমরা পৌঁছে যেতে চাই সমৃদ্ধির শীর্ষে। বারো. বারো. দুই হাজার বিশ খ্রীষ্টাব্দে ৮ বছর অতিক্রম করে সফলতার নবম বর্ষে পদার্পণ করেছে- প্রগতিশীল সংবাদপত্র পাঠক লেখক ফোরাম। প্রতিবছর বর্ষপূর্তির দিনটি যখন ঘনিয়ে আসে তখন আমাদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। জম্মদিনের এই শুভক্ষণে শুরুতেই শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি, সংগঠনের প্রয়াত প্রধান পৃষ্ঠপোষক, ষাটের দশকের শেষ পর্যায়ে বাঙালীর অধিকারের অগ্নিঝরা সংগ্রামের অগ্রসৈনিক ১৯৭১ সালের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধকালীন বিএলএফ-এর গ্রুপ কমান্ডার, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামি লীগের সাবেক বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক, তুখোর রাজনীতিবীদ, লেখক-সাহিত্যিক কাজী ইনামুল হক দানু প্রকাশ আমাদের দানু ভাইকে। সেই সাথে কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি সকল শ্রদ্ধাভাজন সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক, সম্পাদকীয় বিভাগের সকল বিভাগীয় সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি। প্রচারেই প্রসার কথাটি যদি সত্যি হয় তবে, আমাদের ৮টি বছরের সাফল্যের পেছনে সবচাইতে বড় অবদান হচ্ছে, সংবাদপত্র গুলোর। সংবাদপত্রের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের পক্ষে আজকের অবস্থানে আসাটা ছিল অনেক কঠিন। এক্ষেত্রে আরো যাদের অবদানের বিষয়টি আমরা কৃতজ্ঞচিত্রে স্মরণ করি তাঁরা হলেন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক, চসিক মেয়র প্রার্থী, বিশিষ্ট লেখক-গবেষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব এম রেজাউল করিম চৌধুরী, প্রতিষ্ঠাকালিন উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী সদস্য, সাংবাদিক মুজাহিদুল ইসলাম, দৈনিক সাঙ্গু ও দৈনিক বায়ান্নের প্রকাশক সম্পাদক কবির হোসেন সিদ্দিকী, চসিক ১৬ নং চকবাজার ওয়ার্ডের সাবেক সফল জনপ্রিয় ও কাউন্সিলর সাইয়্যেদ গোলাম হায়দার মিন্টু, ৩৬ নং নিমতলা-গোসাইল ডাঙ্গা ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ২নং জালালাবাদ ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আলহাজ শাহেদ ইকবাল বাবু, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব আব্দুল নবী লেদু, প্রবীণ শ্রমিক লীগ নেতা মো. নুরুল হক জেহাদী ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও সাংবাদিক আলী আহমেদ শাহীন। একইসাথে এই সংগঠনের সাথে যারা সম্পৃক্ত যাদের ঐকান্তিক প্রচষ্টায় আমরা সফলভাবে ৮ বছর অতিক্রম করতে পেরেছি, তাদের সকলের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তাদের সহযোগীতা, উৎসাহ-অনুপ্রেরণা আমাদের প্রচন্ড সাহস যুগিয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে বিগত সময়ে এই সংগঠনের কমপক্ষে তিনশ পাঠক এবং কয়েক শতাধিক লেখক সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া অনেক নেতা-কর্মি, সদস্যরা লেখার সম্মানি হিসেবে বিভিন্ন পত্রিকা থেকে পূরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন। এক্ষেত্রে আমরা নিজেদেরকে সার্থক মনে করি। মিথ্যাচার, বিভ্রান্তি, হিংসা-বিদ্বেষ, ষড়যন্ত্রসহ নানা পরিস্থিতি মোকাবেলা করে আজকের অবস্থানে আসাটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জের কাজ ছিল। শুরু থেকেই আমরা সমাজের দারিদ্র-পীড়িত ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে চালিয়ে গেছি কলম যুদ্ধ। শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, নগরীর বিভিন্নস্থানে ব্লাডগ্রুপিং ক্যাম্পেইন, দারিদ্র-পীড়িত এলাকায় মাদক, যৌতুক বিরোধি জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচী পালন, বাল্য বিবাহ বন্ধে ব্যাপক প্রচারনা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীসহ সামাজিক কর্মকান্ডেও সম্পৃক্ত ছিলাম এবং দুর্যোগাক্রান্ত, অধিকার বঞ্চিত ও নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইতিহাস ও মানসিকতা আছে আমাদের। বিগত ৮ বছরে নানা প্রতিকুলতার মুখোমূখি হয়েও আমরা এগিয়ে গেছি। সকলের ভালবাসা আর আন্তরিকতায় আমাদেরকে দীর্ঘ পথ চলতে উৎসাহিত এবং অনুপ্রাণিত করেছে। এর জন্য মহান আল-াহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে শোকরিয়া আদায় করছি। আমাদের এক ঝাঁক নেতা-কর্মি, সদস্য স্ব-স্ব এলাকা ভিত্তিক বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে পত্র-পত্রিকায় লেখালেখির মাধ্যমে দেশ প্রেম, স্বজাগবৌধ জাগ্রত ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের শহর ও শহরতলীতে বসবাসকারি সর্বস্থরের জনগনের মধ্যে দেশাত্নবোধ জাগ্রত ও চর্চার পরিবেশ সৃষ্টি করে, সার্বিক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের মূলস্রোতে পাঠক-লেখকরা সাংগঠনিকভাবে সংগঠিত হওয়া এবং অধিকার বঞ্চিত মানুষের কল্যাণ সাধন, তাদের মধ্যে সপ্রীতি ও সৌহাদ্যপূর্ণ মনোভাব গড়ে তোলা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গণ-গ্রন্থাগারভিত্তিক পাঠক লেখকদের সম্পৃক্ত করে ব্যাপক প্রচারনা, উদ্যোগ গ্রহণসহ নাগরিক, সামাজিক সমস্যা-সমাধানে পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি ও সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করাই এই সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। যা জন্মলগ্ন থেকেই আমরা অনুধাবন করতে চেয়েছি। চলার পথে আমরা নানা আলোচনা-সমালোচনা, সহযোগিতা ছাড়াও পেয়েছি নানা অসহযোগীতাও। অবশেষে বহু শ্রম, ত্যাগ-তিতিক্ষা পেরিয়ে অসীম সাহসিকতা ও দৃঢ় মনোবলের সহিত আমরা এগিয়ে গেছি এবং ৮ বছর পেরিয়ে দুই হাজার বিশ খ্রীষ্টাব্দের বারোই ডিসেম্বর নবম বর্ষে যাত্রা শুরু করেছি। এ যাত্রায় আমরা প্রগতির পথে অবিচল হেঁটে যাব-এ লক্ষ্যে আগামীতেও সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। একইসাথে সবাইকে প্রগতিশীল সংবাদপত্র পাঠক লেখক ফোরাম কেন্দ্রিয় কমিটির পক্ষথেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।-লেখক : সাহেনা আক্তার হেনা, সাংবাদিক ও সাধারণ সম্পাদক, প্রগতিশীল সংবাদপত্র পাঠক লেখক ফোরাম,কেন্দ্রিয় কমিটি।

মুক্ত কলম পাতার আরো খবর