বুধবার, এপ্রিল ২১, ২০২১
পরিবর্তনের মানসিকতা ছাড়া মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হবে না
১৯,জুলাই,রবিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফেসবুকে চট্রগ্রামের পুলিশ কর্মকর্তা ওসি মোহসীনের আবেগঘন পোস্টটি অনেকেরই হয়ত নজরে পড়েছে। সিনেমা নাটক আর বাস্তবের পুলিশ চরিত্রের বৈষম্যতা দেখে তিনি নিজের অনুভূতি আর অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছিলেন- টিভিতে একটা নাটক দেখছিলাম। কাকতালীয়ভাবে বাসায় আমার সন্তানেরাও একই নাটকই দেখছিল। ছবির মতো সুন্দর একটি গ্রাম। সহজ সরল সে গ্রামের মানুষের জীবন। হাসি, আনন্দ, প্রেম, ভালবাসায় মুখর থাকে সে গ্রাম। কিন্তু হঠাৎই গ্রামের এমন মায়াময় পরিবেশে ছন্দপতন হয়। আর এর নেপথ্যে একজন পুলিশ অফিসার! গ্রামে মাদক ছড়ায়, ইভটিজিং বাড়ে, গরীবের উপর শোষণ বাড়ে, হাতে-পায়ে ধরেও ওই পুলিশের অনিষ্ট থেকে বাঁচতে পারে না আবাল বৃদ্ধ বনিতা... এরপর টিভি বন্ধ করে দিলাম। আর দেখলাম না। কিন্তু হঠাৎই মনে হল, আমার সন্তানরাও তো এটাই দেখছে! বাসায় গিয়ে যদি তারা জিজ্ঞেস করে, 'বাবা, পুলিশ এমন পঁচা কেন?' আমি কী উত্তর দিব? এরপর সিদ্ধান্ত নিলাম। আজ বাসায়ই যাব না। এরপর কাজে ডুব দিলাম। হঠাৎ দেখি ১৩-১৪ বছরের এক ছেলে আসল। এক হাতে বাবার তর্জনি ধরা, অন্য হাতে একটা বোর্ড সদৃশ কিছু। বোর্ডটা আমার জন্য সে উপহার এনেছে। বোর্ড উল্টে দেখি, এ তো আমি! আমাকেই এঁকেছে সপ্তম শ্রেণির আদর!! আমাকে দিয়ে বলল, আঙ্কেল আপনাকে আমার খুব ভাল লাগে। আমি বড় হয়ে আপনার মতো পুলিশ হবে। হঠাৎই আমার নাটকের কথা মনে হল। তাকে ওই নাটকের কথা জিজ্ঞেস করলাম, পুলিশ তো পঁচা। তবুও পুলিশ ভাল লাগে? সে বলে, নাটক তো মিথ্যা দেখায়। এই নাটকে যে নায়ক ছিল। আরেক নাটকে সে গুণ্ডা! নায়ক কি কখনো গুণ্ডা হয়? নাটকই পঁচা। ভালকে তারা পঁচা দেখায়। তার এমন উত্তরে সত্যিই চমকে উঠলাম। নাটক, সিনেমায় আমাদের যেভাবে চিত্রায়িত করা হয় তাতে অন্তত শিশুদের সামনে নিজেদের ক্ষতিকারক মনে হয়। কিন্তু আদরদের মনে যে পুলিশের এমন ছবি আছে তা জেনে আবারও নিজেকে নিয়ে গর্ব হল। সিদ্ধান্ত আবারও পাল্টালাম, আদরের সাথে ছবি তুলেই বাসায় যাচ্ছি আদরের দেওয়া এই ছবি নিয়ে। আমার সন্তানেরা যদি জিজ্ঞেস করে পুলিশ কেন পঁচা আদরের উত্তরটাই তাদের দিব। জোর গলায়ই বলব, তোমাদের বাবা পঁচা না। আমরা পঁচা না। পুলিশ পঁচা না। আদরমাখা ভালবাসা আদরের জন্য। ছোট শিশু আদরের দেখা ওসি মহসীনের মত চিন্তার পুলিশকে সমাজের সবাই দেখতে চায়। কোভিড-১৯ এর মহামারীতে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী মানবিকতার যে পরিচয় দিয়েছে তা অনেকটাই 'স্বপ্ন জাগানিয়া বাঁশি' হয়ে বেজেছিল মানুষের মনে। দেশের প্রতিটি পর্যায়ে পুলিশের মতো মানবিকতার প্রত্যাশা ছিল সকলের। কিন্তু তেমনটা দেখা যায়নি। কারণ অনিয়ম আর দুর্নীতির কাছে নতজানু মানুষ নিজেদের পরিবর্তন করতে পারেনি। বরং কোভিড-১৯ কে হাতিয়ার করে মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে অর্থলোভী ব্যক্তিরা। করোনাভাইরাস সমাজ ও দেশের তথা বিশ্বের চিত্র বদলে দেবে এ প্রত্যাশা ক্রমশ মিথ্যা প্রমাণিত হচ্ছে। কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের মুষ্ঠিমেয় ব্যক্তির চিন্তাচেতনা সবাই ধারণা করবে- সে আশা পোষণ করা ভুল। বিশেষ করে আমাদের দেশে সামাজিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার করা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তাই করোনাকালের মানবিকতা কেবল উদাহরণে সীমাবদ্ধ হয়েছে। যদি ওসি মহসীনের পজিটিভ চিন্তাটা পুলিশের ছোট বড় সকল সদস্যেদের মনে গ্রোথিত হত, তাহলে পুলিশ বাহিনীর পরিবর্তনের মানসিকতা সত্যিকারভাবে মানবিকতাকে প্রতিষ্ঠিত করতো। বদলে যাওয়া এ সমাজে খুব সহজ কাজ নয়। লোভাতুর মন দুর্নীতির হাতছানিকে রুখতে পারে না। একই পেশায় থেকে জীবনযাপনের বৈষম্যতা থেকে কেউ দুর্নীতির পথে পা বাড়ায়। আবার কেউ যে কোন পন্থায় অর্থ উপার্জন করতে ঘুষ, চাঁদাবাজিকে অন্যায় মনে করে না। এসবের বাইরে যে বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ তা হলো 'দুর্নীতির সিস্টেম। এ দুর্নীতির সিস্টেমকে পরিবর্তন করতে না পারলে বাস্তব জীবন থেকে অন্যায় অনিয়ম দুর্নীতি দূর করা সম্ভব হবে না। একটা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে রাতারাতি বদলে দেয়া যায় না। নাটকের চরিত্রের পঁচা পুলিশ কেন পঁচা হলো তা খুঁজে বের করতে হবে। তা না হলে এ সমাজের কোন একক প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের মানসিকতা তৈরি করতে পারবে না। আর মানবিকতা হবে প্রশ্নের সম্মুখীন। লেখক : হাসিনা আকতার নিগার, কলামিস্ট।- বিডি-প্রতিদিন
চট্রগ্রামে বিশ্বমানের একটা চ্যারেঠি হাসপাতাল নির্মাণ করা সময়ের দাবী -তসলিম উদ্দিন রানা
১৮,জুলাই,শনিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্রগ্রাম হল দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী।নামে বাণিজ্যিক রাজধানী হলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছে।শিক্ষা,সাংস্কৃতিক,চিকিৎসা, আদালত সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিন্তু অতীব দুঃখজনক হলেও সত্য সব কিছুতে পিছিয়ে আছে।আমরা চাই এই বৈশম্য দূরীকরণের জন্য সবাই সোচ্চার হতে হবে।যার যার অবস্থান থেকে আওয়াজ তুলতে হবে।আমাদের অধিকার বাস্তবায়নে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। এবার হাসপাতাল প্রসঙ্গ নিয়ে বলি,চট্টগ্রামের সাধারন একটি হাসপাতালের ১২ দিনের বিল ৬ লক্ষ ৯৭ হাজার টাকা।এত ভুতুড়ে বিল কিভাবে আসল আর আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল হলে কি রকম বিল হতো ? সাধারন মধ্যবিত্ত,নিম্মভিত্ত পরিবার পারবে সারাজীবনের উপার্জনে ? সাধারণ মানুষ কিভাবে চিকিৎসা করাবে তা আমার বোধগম্য নয়।চিকিৎসার জন্য সম্পদ বিক্রি করে বা ধার নিয়ে কিভাবে এত টাকার চিকিৎসা কি বীর চট্রলার সাধারণ জনগণ করতে পারবে সেটা আমার প্রশ্ন? বর্তমানে চট্রগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল করার দাবী জানাই কিন্তু অতীব বাস্তব সত্য কথা তা দিয়ে কারা সেবা নিবে বা পারবে সেটা একটু দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর সবাই শুধু চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতালের কথা বলে মুখে ফেনা তুলছে.....আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতালে সাধারন মানুষ চিকিৎসা পাবে ? নাকি বড় লোকদের জন্য তৈরী হবে? স্কয়ার,এ্যাপোলো,ইউনাইটেড,ল্যাবএইড, বাংলাদেশ স্পেপেশেলাইজ,বিআরবির মত হাসপাতালে কারা যাইতে পারে?কারা চিকিৎসা নেয়? মোট জনসংখ্যার কতো % ? তা সহজে অনুমান করা যায়।তবুও বলব ২-৫% এর বেশী বলে মনে হয়না। জানিনা সরকার বেসরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন সেবার মুল্য নির্ধারন করছে কিনা ? সবাই আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণ করার কথা বললে হবেনা তার সাথে মানুষের সাধ্যের কথা চিন্তা করে হাসপাতাল নির্মাণ করা সময়ের দাবী বলে মনে করি।আপনি যদি পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের কথা চিন্তা করেন দেখতে পাবে তারা চিকিৎসা ব্যবস্থায় বিশ্বের অন্যতম।তাদের সেবার মান উন্নত ও মানুষের সীমার মধ্যে আছে।ভারতের আন্তর্জাতিক হাসপাতাল নির্মাণ করার সাথে সাথে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে চ্যারিঠি হাসপাতাল নির্মাণ করে জনগণের চিকিৎসা সেবা করছে। প্রতিটি মানুষ যাতে সেবা পায় সেটা মুখ্য বিষয়। চট্রগ্রামের প্রতিটি মানুষের আওয়াজটা তুলুন সরকারি হাসপাতালগুলোকে চিকিৎসা সেবা আরো উন্নতির জন্য যেন দেশের ৮০% সাধারন মানুষ ভালো চিকিৎসা সেবা পান। মানুষ সুস্থ ও ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা পায়।বেসরকারি হাসপাতালের নীতিমালা সহ বিভিন্ন সেবার মুল্য নির্ধারন করে দিতে সোচ্চার হউন।জনতার দাবী সবাই আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালের মান উন্নত করে মানুষের নাগালের মধ্যে রাখলে সবাই চিকিৎসা সেবা পাবে আর মানুষের কল্যাণে হবে। আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতালের কথা শুধু মুখে ফেনা তুলে লাভ হবেনা।কারণ আমার সাধারণ মানুষ আমাদের চিকিৎসা পেতে হবে।আমাদের বাচতে হবে সেজন্য সবাই আওয়াজ তুলে বলতে হবে হবে আন্তর্জাতিক মানের না?পারলে ভারতের মত চট্টগ্রামে বড় ১টি চ্যারেটি হাসপাতাল তৈরী করুন তখন কম খরচে দামী চিকিৎসাও করতে পারবেন সাধারন আর অসাধারন সবাই ভোগ করতে পারবে। লাভ হবে সবার,লাভ হবে আমজনতার। লেখক - তসলিম উদ্দিন রানা, সাবেক ছাত্রনেতা
শোকজ, বদলি কি অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করে?
১৩,জুলাই,সোমবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহামারি করোনা যখন সমগ্র বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়ে কোটির বেশি মানুষকে আক্রান্ত ও পাঁচ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে। তখন বাংলাদেশে কোভিড আক্রান্ত রোগীর শনাক্তের সংখ্যা ১ লাখ ৮৩ হাজার এর উপরে এবং মৃত্যু হয়েছে ২ হাজারের উপর মানুষের। আমরা দেখতে পাচ্ছি ৫৬ হাজার বর্গমাইল জুড়ে দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাসটি। ব্যবসা বাণিজ্য আজ অচল হয়ে পড়েছে, কর্মহীন মানুষের হাহাকার দিনদিন বেড়েই চলেছে। বন্দীজীবন আর আতঙ্ক স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ধারাকে পরিবর্তন করে অচেনা সময়ের মুখোমুখি করেছে। সেখানে সবচেয়ে বেশি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কোমলমতি শিশু ও আমাদের পরিবারের সিনিয়র সিটিজেন। স্বজনদের হারিয়ে হাজার হাজার পরিবার আজ শোকের সাগরে ভাসছে। পথে বসতে বসেছে ছোট ও মাঝারি মানের লাখ লাখ প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি দুটি ঘটনা আলোচনার- সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। যে আলোচনা দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশের গণমাধ্যমের শিরোনামে পরিণত হওয়া বিষয় নিয়ে বলছি, নিশ্চয় পাঠকও বুঝতে পারছেন। হ্যাঁ আমি জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতালের করোনা টেস্টের ফলাফল জালিয়াতির কথা বলছি। জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতাল সরকারের সাথে চুক্তি করলো বিনামূল্যে সাধারণ মানুষের করোনাভাইরাস সনাক্ত করার জন্য। কিন্তু আমরা দেখলাম তারা প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছে এবং প্রকাশ্যে সরকারের শর্ত ভঙ্গ করেছে। শুধু টাকা নেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না তাদের অপরাধ, তারা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহজনক রোগির কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে না পাঠিয়ে ফেলে দিতো ডাস্টবিনে। পরবর্তীতে দেখা গেলো একটি মনগড়া রিপোর্ট তৈরি করে দেয়া হত রোগিদের কাছে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পূর্বে তারা প্রায় ৫০ হাজার মানুষের টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট সরবরাহ করে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। রিজেন্ট হাসপাতেলের ৬ বছর লাইসেন্স নবায়ন না থাকার পরেও তার সাথে চুক্তি করলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়। রিজেন্টে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের বারবার অভিযোগ করার পরেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হল না। বরং রিজেন্টের মালিক মোহাম্মাদ সাহেদকে সতর্ক করে দিলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জেকেজির আরিফুরকে গ্রেফতার করার পরেও সেই সংস্থার চেয়ারম্যান ডা সাবরিনাকে গ্রেফতারে দীর্ঘ সময় নিলো আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। সাধারণ মানুষের মনে আজ হাজার হাজার প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে মহামারী মোকাবেলায় ব্যর্থ আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সাহেদকে গ্রেফতারে এত গড়িমসি কেন, কোথায় লুকিয়ে আছে সে? শত শত প্রতারণার সাথে জড়িত ৩২ মামলার আসামি কিভাবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটিতে আসে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আয়জনে কারা তাকে দাওয়াত পত্র দিতো? এখানে পরিষ্কার আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা পৃষ্ঠপোষকতা না দিলে এই পর্যন্ত সাহেদদের আসার কথা না। সাহেদ একজন ভয়ঙ্কর প্রতারক জেনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠিতে পুলিশকে জানায় ২০১৬ সালে। কিন্তু তারপরও তাকে কিভাবে অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া হয়, দেয়া হয় ভিআইপি পুলিশ প্রোটোকল? মনে পড়ে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের সহযোদ্ধাদের যখন একে একে হত্যা করা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের যোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করে হুমকি দেয়া হচ্ছে হত্যার, তখন আমাদের অনেক সহযোদ্ধা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য অস্ত্রের জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু কোন সাড়া মেলেনি তখন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা রিপোর্ট ও গণমাধ্যমের তালিকায় নাম থাকাতে আমার আত্মীয় একজন পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে সাথে নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়েছেন কয়েকবার। একদিন আমার আবেদনটি দেখে মহামান্য মন্ত্রী সাহেব যেভাবে হাইকোর্ট দেখালেন তা আজও স্পষ্ট মনে আছে। বাসায় এসে ঠিক করলাম নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই ম্যানেজ করে নিতে হবে। আজ বারবার মনে হয়, জাতির পিতার আদর্শ- মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে জামায়াত শিবির- জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছি জীবনবাজি রেখে যে রাষ্ট্রের জন্য, সেই রাষ্ট্র সাহেদদের দখলে। সেই রাষ্ট্রের আইন কানুন, অস্ত্র, পুলিশ প্রোটোকল সব সব কিছু তাদের পকেটে। হাওয়া ভবন থেকে উঠে আসা মিঠু- শাহেদ-খালেদদের শত শত কোটি টাকার কাজ দেয়া হয় কমিশনের বিনিময়ে ত্যাগি নেতা কর্মীদের উপেক্ষা করে। তাদের অন্দর মহলে ভোগ উপভোগ- সম্ভোগে উন্মাদ থাকেন ক্ষমতার চেয়ারে বসা আদর্শহীন দানবেরা। আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী কাজের সমালোচনা করলে আমাদের বলা হয় বিপ্লবী। আমরা কথা বললে নাকি উন্নয়নের ধারা বাধাগ্রস্থ হয়। অথচ মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু’র কথা বলে স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসন প্রকল্প চলমান নানান ধারায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে শোকজ করা হয়েছে। রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমন চিঠির বিষয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতর কর্মকর্তা বলতে কী বোঝানো হয়েছে এবং রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে কী কী বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে তা জানাতে বলা হয়েছে। কাল হয়তো দেখতে পাবো বদলি করা হয়েছে। কিন্তু জেকেজি বা রিজেন্টের প্রতারণায় সহযোগিতা করার ফলে যে কত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হল, আক্রান্ত হল কিংবা মৃত্যুর মুখোমুখি হল তার কি হবে। এই ভুয়া রিপোর্টের ফলে দেশে কত লাখ মানুষ আক্তান্ত হবে তার হিসেব কে করবে। আজ আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের যে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হল তার নিরূপণ করার কোন যন্ত্র কি আছে সরকারের কাছে। লাখ লাখ প্রবাসিদের ভবিষ্যৎ যারা শঙ্কার মধ্যে ফেললো, পুরো বাংলাদেশকে যারা পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তারা শুধু দুর্নীতির জন্য এমন করেছে এমনটি ভাবতে চাই না। তারা সরকারকে দেশ ও বিদেশে বেকাদায় ফেলতে চায় তা আজ স্পষ্ট। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্ঘুম প্রচেষ্টাকে যারা পরিকল্পিত প্রশ্নবিদ্ধ করলো তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। মহামারীকালে যারা এই দুর্নীতি ও অপরাধের সহযোগিতা করেছে তাদের চিহ্নিত করে মুখোশ উন্মোচন করা হোক। আজ সকল অপকর্ম, দুর্নীতি, অনিয়মের দায় শুধু রাজনীতিবিদদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে ক্ষমতাবান আমলারা পার পেয়ে যাচ্ছে। আর তাদের অপরাধ শোকজ আর বদলীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে বহাল তনিয়তে থেকে পুনরায় নতুন কৌশলে দেশটাকে লুটের জন্য তৈরি হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আজ স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের প্রতি দেশের মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। তাদের দুর্নীতি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনার চিত্র দেশ বিদেশে আলোচিত হচ্ছে। মহামারী করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় এই নেতৃত্ব আজ সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। এখোনো সময় ফুরিয়ে যায়নি আপনার পরিক্ষিত সন্তানদের অর্থাৎ ছত্রলীগ করে আসা দেশ প্রেমিক ব্যক্তিদের দায়িত্বে নিয়ে আসুন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আপনার ও দেশের কথা চিন্তা করে তারা আর যাই করুক, এদের মত পুকুর চুরি করবে না। লেখক: সম্পাদক, ডেইলি জাগরণ ডট কম, সাধারণ সম্পাদক, গৌরব ৭১।- বিডি-প্রতিদিন
সুবিধাবাদীদের ভিড়ে ত্যাগীরা গুমরে কাঁদে
০৮,জুলাই,বুধবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: ছাত্রলীগ করতে যেয়ে ছাত্রদল ও পুলিশের পিটুনিতে আমার তিনবার হাত ভেঙ্গেছিলো। বন্ধুরা যখন ক্লাসরুম বা পড়াশোনায় ব্যস্ত ছিল আমি তখন মধুর ক্যান্টিন আর ক্যাম্পাস দাপিয়ে বেড়াতাম- জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু; শেখ হাসিনা ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই- শ্লোগানে। ওয়ান ইলেভেনে নিজের এবং পরিবারের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় ছিলাম। কত কত নির্ঘুম রাত ... জীবনের একটা পর্যায়ে এসে মনে হয়েছে রাজনীতি আমার জন্য না। তবে একসময় ছাত্রলীগের কর্মী ছিলাম এটা নিয়ে আমি গর্ব করি। ভর্তি পরীক্ষায় বেশ ভালো করেছিলাম। খুব অল্প পড়েই মোটামুটি ভালো নম্বর পেয়েছিলাম অনার্স মাস্টার্সে। আমার যে বন্ধুরা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক, যুগ্ম জেলা জজ, ইউএনও, এডিশনাল এসপি, ডেপুটি ডিরেক্টর কারো চেয়ে একটুও কম মেধাবী ছিলাম না আমি। ছাত্রলীগ না করে ঠিকমত পড়াশোনাটা করলে অথবা ছাত্রজীবনে অন্য কোন সংগঠন করলে আমিও কর্মজীবন শেষে বড় কিছুই হতাম। আমার মত লাখো বাণী ইয়াসমিন হাসির ঘাম শ্রম আর আবেগ মিশে আছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গায়ে। পার্টি যদি ভুল পথে হাঁটে আমার ঘাম শ্রমের বিনিময়ে হলেও সমালোচনার দাবি আমি রাখি। ভালো থাকুক ভালোবাসার আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর ছিল একজন খন্দকার মোশতাক। শেখ হাসিনার শয়ে শয়ে। খন্দকার মোশতাকদের ভিড়ে নিরাপদে থাকুক প্রিয় আপা। কোভিড খাতে বরাদ্দ ৮০০ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ২৫ লাখ টাকার কাজ পেয়েছিলো আমিন ভাইয়ের কোম্পানি। বড় চোরদের বাঁচাতে আমিন ভাইকে ফাঁসানো হলো। উনার নামে পুলিশ কেস হলো, দুদক মামলা করলো। অথচ হাজার কোটি টাকা যারা লোপাট করলো তাদের কিছুই হলো না। আমিন ভাইয়ের সংগঠনের নেতারাই উনার বিরূদ্ধে নিউজ করালেন, নিউজ শেয়ার করালেন আবার বুস্ট করে ভাইরালও করালেন! যশোরের ডিসি তমিজ ভাইকে ছাত্রদলের ক্যাডার বানিয়ে দেওয়া হলো। উনার সময়ের এফ রহমান হলের ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট/ সেক্রেটারি কুমিল্লার এসপি নুরুল ভাই ও মাহফুজ মামা দুইজনই বললেন, তমিজ ভাই উনাদের সাথে ছাত্রলীগ করতেন। একটু খোঁজ নিলেই ব্যাকগ্রাউন্ড টা জানা যেত কিন্তু কেউ সেটা করলেন না। প্রশাসন ক্যাডারের গ্রুপিং এর কারণে ভালো পোস্টিং কেউ পেলেই নোংরামি শুরু হয়। আর এটা করে আমাদের লোকেরাই। বিএনপির নোমান সাহেবের পিএস একটা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিব হলেন, এটা নিয়ে টুশব্দটাও কেউ করলো না। ডিসি কি এত বড় পদ? অথচ সরকারের কত গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে কত পোস্টেড বিএনপি জামাত বসে আছে সেটা নিয়ে কারো কোন মাথাব্যথা নেই। লক্ষ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা হলো। কয় টাকার কাজ সাবেক ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগ বা সহযোগী অংগ সংগঠনের নেতা কর্মীরা পাবে? নিজেদের মধ্যে কামড়াকামড়ি আর কাঁদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করেন। চোখ মেলে দেখেন, আপনারা কাবাডি খেলায় ব্যস্ত। আর অন্যরা সম্পদের পাহাড় গড়ছে। এবার আত্ম উপলব্ধির সময় এসেছে। আপনাদের দল ক্ষমতায় তারপরও আপনারা ক্ষমতাহীন। চাকরি ব্যবসা সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছে অন্য কেউ। আর এর জন্য সবচেয়ে বড় দায়টা কিন্তু আপনাদেরই। দেরী হোক, যায়নি সময়। সবাই এক হয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই টা শুরু করেন। এতে আপনারা বাঁচবেন, দল বাঁচবে, দেশও বাঁচবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক আর যাই হোক মানুষের কথা ভাববে। এভাবে পুকুর চুরি করবে না। এটা আমার বিশ্বাস। দলীয় নেতাকর্মীরা একে অন্যের কাপড় খোলার নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে। ছোট মুখে একটা বড় কথা বলি। খুউব সুপরিকল্পিতভাবে সবগুলো উইং কে দুর্বল বা ধ্বংস করা হচ্ছে। কালিমালেপন করা হচ্ছে। শুরুটা ছাত্রলীগ দিয়ে তারপর যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মূল দলের সম্মেলনে বিতর্কিতদের প্রমোশন অথবা পূনর্বাসন, যুবমহিলা লীগ। এরপর কে বা কোন উইং? কাঁদা ছোড়াছুড়ি না করে একটু ভাবুন। কিসের মোহে ছুটছেন? কাকে ধরতে দৌড়াচ্ছেন? নাকি কেউ আড়াল থেকে আপনাদের একজনের পেছনে অন্যকে লেলিয়ে দিচ্ছে? ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত হচ্ছেন। একে অন্যকে হারাতে গিয়ে দিনশেষে সবাই মিলে হারছেন! মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সরকারের সব গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, প্রশাসনের বড়কর্তা, মিডিয়া সর্বত্রই তার সরব উপস্থিতি। ধরা পড়ার পর জানা গেলো তিনি মীর কাশেম এবং নাজমুল হুদার ঘনিষ্ঠ। তার আওয়ামী রাজনীতির ক্যারিয়ার মাত্র বছর ছয়েকের। এর মধ্যেই তিনি এতকিছু বাগিয়ে নিলেন! অথচ রাজপথে যারা রক্ত ঝরিয়েছে, জেল খেটেছে-গত দুই যুগ বা তারও বেশি সময় ধরে তাদের অধিকাংশই আজও নিজের একটা আইডেনটিটি তৈরি করতে পারেননি। লাইসেন্স এবং নূন্যতম অবকাঠামো না থাকার পরও রিজেন্ট হাসপাতালের সাথে সরকারি চুক্তি হলো। কোটি কোটি টাকার বরাদ্দও মিললো। এর পেছনে কে বা কোন শক্তি সেটা কি কখনো সামনে আসবে? প্রধানমন্ত্রীর এত কাছে যারা তাকে পৌঁছে দিলো, যারা তাকে আওয়ামী লীগের নেতা বানালো এবং বিভিন্নভাবে প্রমোট করলো তাদের দায় কি কোন অংশে কম? আমি বিশ্বাস করি দল বাঁচাতে, দেশ বাঁচাতে দু:সময়ের কর্মীদের এক হওয়া প্রয়োজন। স্বাস্থ্যখাতের মিঠু শাহেদরা হাজার কোটি টাকার মালিক। শুধু স্বাস্থ্যখাত না প্রতিটা সেক্টরে মিঠুদেরই দৌরাত্ম। ছাত্রলীগের কোন সাবেক কাজ পায় না, তাদেরকে কাজ দেওয়া হয় না। আপনারা দশজন একত্র হোন। কোথাও গিয়ে দাঁড়ান তো একসাথে। কে আপনাদেরকে কাজ না দিয়ে পারে। কিন্তু আফসোস কি জানেন, আপনারা কখনোই এক হতে পারবেন না। লোকমান জামিন পায়, সম্রাট জেলে পচে মরে। লোকমান খালেদা জিয়ার পেছনে ছাতা ধরতো আর ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট জান দিয়ে আওয়ামী লীগটা করতো। লোকমানদের সব পাপ মাফ। কিন্তু পেসমেকার বসানো ক্রিটিক্যাল পেশেন্ট সম্রাটের কোন মাফ নেই। এখানে কোন মানবিকতা কাজ করে না! সুবিধাবাদীদের ভিড়ে ত্যাগীরা গুমরে কাঁদে। তাদের চাওয়া পাওয়ার কোন হিসেব নেই। একটাই প্রাণের আকুতি, দিনশেষে দলটা ভালো থাকুক। তাদের প্রিয় আপা নিরাপদে থাকুন। বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগকে এই আমি লীগের ভিড়ে বড্ড অচেনা লাগে! লেখক: বাণী ইয়াসমিন হাসি, সম্পাদক- বিবার্তা২৪ডটনেট।- বিডি-প্রতিদিন
ড. আসিফ লড়াই অব্যাহত থাকুক; হীনমন্যতার পরাজয় হোক
০৬জুলাই,সোমবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: সেই কতযুগ আগে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, সাত কোটি সন্তান রে, হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে, মানুষ করনি। তারপর দীর্ঘকালের লড়াই সংগ্রাম আর আত্মত্যাগের পর বাঙালির জাগরণের মহাজাদুকর সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু তারই উত্তর দিয়েছিলেন তার স্বপ্নের স্বাধীন দেশে পা রেখেই ১০ জানুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে। জাতির পিতা বলেছিলেন, কবিগুরু দেখে যান আপনার সাত কোটি মানুষ আজ মানুষ হয়েছে, তারা যুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছে।' কিন্তু অল্প কিছুদিনের মধ্যে রবীন্দ্রনাথের কথা নির্মমভাবে সত্য প্রমাণ করেছিলেন কিছু বাঙালি ৭৫ এর ১৫ আগস্ট কালো রাতে পাকিস্তানের সাথে হাত মিলিয়ে জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে। আজ এতো বছর পরেও নিশ্চয় কবিগুরু উপর থেকে হাসছেন আমাদের হীনমন্যতা আর সংকীর্ণতার নগ্নরুপ দেখে! দুইদিন আগে গ্লোব বায়োটেকের গবেষক ড. আসিফ মাহমুদ করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ঘোষণা দেয়ার পর থেকে করোনা মহামারীর প্রেক্ষাপটে আমাদের কিছু মানুষকে ভীষণভাবে গর্বিত করলেও কিছু মানুষের নাক ছিটকানতে লজ্জাও পেয়েছি। পৃথিবীর কত বড় বড় ধনবান দেশ ঘোষণা করেও এখনো সফলতার চূড়ান্ত পর্যায়ে আসতে পারেনি। কিন্তু সেই ঘোষণা আসার সাথে সাথে আমরা আশাবাদী হয়ে উঠেছি কত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছি। আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের জন্য প্রার্থনা আর শুভ কামনার বার্তায় ভরে উঠেছে আমাদের ফেসবুক টাইমলাইনে। কিন্তু আমাদের দেশের সন্তান ড. আসিফ মাহমুদ ভ্যাকসিন আবিষ্কারের প্রচেষ্টার খবরে সকলকে কেন গর্বিত করতে পারেনি ? করোনাভাইরাসের আতঙ্কের সারা পৃথিবী যখন কাঁপছে, তখন বাংলাদেশর সন্তান আসিফ মাহমুদের কথাগুলো মন দিয়ে শুনেছি বারবার। তিনি পরিষ্কারভাবে বলেছেন, এটি কেবলই প্রাথমিক ধাপ সফলভাবে শেষ হয়েছে চূড়ান্ত সফলতার জন্য আরও কয়েক ধাপ অতিক্রম করতে হবে। সেটি আরও কঠিন ও জটিলতা রয়েছে, সেখানে সফলও হতে পারি আবার আমাদের সফলতা নাও আসতে পারে। আর সেই ঘোষণা নিয়ে আমরা কি না করলাম। আমরা তো জানি পৃথিবীতে সব গবেষণা সফল হওয়ার ইতিহাস নেই। তাই বলে মানুষ আর বিজ্ঞানের প্রচেষ্টা থেমে থাকতে পারে না। সভ্যতার ইতিহাসও তাই বলে । কথাগুলো বলতে বলতে তার চোখের জল গড়িয়ে পড়ার দৃশ্যগুলো আমার কাছে দ্রেশপ্রেম আর মানবতাবোধের প্রতীক মনে হয়েছে। মানুষের জীবন বাঁচানোর আবেগ, দায়িত্ববোধ ও চেষ্টা তাকে এমন সাহসী কাজের দিকে নিয়ে এসেছে বলে মনে করি। ড. আসিফের চোখের জল নিয়ে যারা ট্রল করেছেন তাদের তেমন কোন দোষ নেই। কারণ এটি ছিল আমাদের মূল্যবোধ ও দেশ প্রেমের অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ। যেখানে রাষ্ট্রের উঁচু থেকে নিচু পর্যন্ত বিভক্তির কালো রেখে স্পষ্ট হয়ে ওঠে প্রতিদিন, যে দেশে আদর্শবান দেশপ্রেমিক মানুষকে ঘরে বাইরে তিরস্কার শুনতে হয়। যেখানে এমন ট্রল খুব বেমানান নয়! যে দেশে নিজের সংস্কৃতিকে অবজ্ঞা করে বিদেশি শুনলে হুমড়ি খেয়ে পড়ি পড়িমরি করে। যে সমাজের নেতৃত্ব দেয়া তথাকথিত শিক্ষিতজনেরা বিদেশি পণ্য, পোশাক আর খাবার নিয়ে গর্ববোধ করে সেই সমাজে কিছু মানুষ এমন আচরণ আমাদের বিচলিত করে না। যেখানে আমাদের দেশের রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, আমলারা বিদেশে একাধিক বাড়ি না থাকলে বিষণ্ণতায় ভোগেন ডিপ্রেশনের ওষুধ খান, সেখানে এমনটাই কাম্য! অনেকে ভাবছেন বৈশ্বিক ভ্যাকসিন বা টিকা শিল্পে বড় নামগুলো যেমন পিফিজার, মার্ক, গ্লাক্সোস্মিথ, স্যানোফি এবং জনসন অ্যান্ড জনসন এর সাথে পাল্লা দেবে বাংলাদেশের গ্লোব বায়োটেক? যারা তার উদ্যোগ নিয়ে বিদ্রুপ করছেন তাদের অভিভাবকদের খবর নিয়ে দেখেন, তাদের চাওয়া ছিল পড়ালেখা করে তাদের সন্তানেরা হবে বিসিএস ক্যাডার কিংবা বিদেশি কোম্পানির বড় কেরানি কিংবা ছলে বলে কৌশলে এদেশের সম্পদ লুটে পাড়ি জমাবেন ভিনদেশে এক নিরাপদ জীবনের জন্য। তারা চায় না তাদের সন্তান লেখক হোক, শিক্ষক হোক কিংবা গবেষক হোক। সত্য এটাই আমাদের সমাজ চায় না কেউ শিল্পী হোক, ক্রিকেটার হোক, সমাজসেবক কিংবা ফুটবলার। আমরা আমাদের প্রজন্মকে শুধু টাকা উপার্জনের রেসে নামিয়ে দিয়েছি। সেই রেসে দেশপ্রেম কিংবা মানবতাবোধের কোন স্থান নেই। যে দায় নিতে হবে এই সমাজের নীতি নির্ধারক মহামান্য সমাজপতিদের। আমরা জেনেছি নটরডেম কলেজের মেধাবী ছাত্র আসিফ আইডিয়াল স্কুল থেকে এসএসসিতে ঢাকা বিভাগে মেধা তালিকায় ৭ম হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাইক্রোবায়োলজিতে অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয়, এমএসসিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছিল। তিনি জাপানের নাম করা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন। কিন্তু আমদের অনেকের কাছে এটাই হয়তো খটকা লেগেছে বিদেশি নিরাপদ জীবন রেখে তিনি কেন দেশে ফিরে আসলেন ? আসলেই তাই যে দেশে গুণীদের কদর নিতে সুপারিশ করতে হয়। ভালো কাজ কিংবা অর্জনের স্বীকৃতি নিতে ঘুষ দিতে হয় সেই দেশে এমন সাহসী উদ্যোগ অন্যায়ও বটে! কোন শুভ কাজে ধন্যবাদ ও শুভ কামনা জানাতে এত কার্পণ্য আমাদের! আজ যারা বাঙালি কিংবা বাঙালির কর্মের উপর আস্থা রাখতে কষ্ট হচ্ছে। তাদের জেনে রাখা দরকার পৃথিবীকে চমকে দেওয়া বাংলাদেশের কিংবদন্তী কয়েকজন বিজ্ঞানী ও তাদের আবিষ্কার এর কথা। যাদের আবিষ্কার পৃথিবীর সভ্যতাকে ভিন্নরূপ দিয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে বাংলা, বাঙালি ও বাংলাদেশকে নতুন করে চিনিয়েছেন তারা। আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু, ময়মনসিংহে ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর জন্ম এই বিজ্ঞানীর। ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স তাকে রেডিও বিজ্ঞানের জনক বলে অভিহিত করে। সবর্প্রথম উদ্ভিদে প্রাণের অস্তিত্ব অনুভব করেছিলেন বাংলাদেশের প্রথম আধুনিক বিজ্ঞানী আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু৷ বিভিন্ন উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণার এক পর্যায়ে তার মনে হলো, বিদ্যুৎ প্রবাহে উদ্ভিদও উত্তেজনা অনুভব করে এবং সাড়া দিতে পারে৷ এর অর্থ, উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে৷ ১৯১০ সালের দিকে বিজ্ঞানী বসু তার গবেষণার পূর্ণাঙ্গ ফলাফল বই আকারে প্রকাশ করেন৷ ড.কুদরাত-এ-খুদা, গবেষণা জীবনের এক পর্যায়ে, তিনি বনৌষধি, গাছগাছড়ার গুণাগুণ, পাট, লবণ, কাঠ কয়লা, মৃত্তিকা ও অনান্য খনিজ পদার্থ নিয়ে কাজ করেন৷বিজ্ঞানী হিসাবে তিনি ও তার সহকর্মীদের ১৮টি আবিষ্কারের পেটেন্ট রয়েছে, যার মধ্যে ৯টি পাট সংক্রান্ত৷ এর মধ্যে পাট ও পাটকাঠি থেকে রেয়ন, পাটকাঠি থেকে কাগজ এবং রস ও গুড় থেকে মল্ট ভিনেগার আবিষ্কার উল্লেখযোগ্য৷ দেশে বিদেশে তার ১০২টি গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে৷ সত্যেন্দ্রনাথ বসু , ১৯২২ সালে পার্টিকেল স্ট্যাটিস্টিক্স নিয়ে সত্যেন বোসের গবেষণাটি, যেটি আইনস্টাইন নিজে জার্মান ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন, অনেকের ভাষায় ২০ শতকের সেরা দশ কাজের একটি৷ যদিও তিনি নোবেল পুরস্কার পাননি, কোয়ান্টাম থিওরির অনেক গবেষণার পথ খুলে দেয় তার গবেষণা৷ কোয়ান্টাম ফিজিক্সের অনন্য আবিষ্কার গডস পার্টিকেলস বা ঈশ্বর কণা-র নামকরণ করা হয়েছে, তার ও আরেক পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগসের নামে - হিগস-বোসন পার্টিকেল৷ পি সি রায়, বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে ভারতীয় উপমহাদেশের শিল্পায়নে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য৷ ১৮৯৫ সালে তিনি মারকিউরাস নাইট্রাইট আবিষ্কার করেন যা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে৷ এটি তার অন্যতম প্রধান আবিষ্কার৷ তিনি তার সমগ্র জীবনে মোট ১২ টি যৌগিক লবণ এবং পাঁচটি থায়োএস্টার আবিষ্কার করেন৷ মেঘনাদ সাহা, মেঘনাদ সাহা পরমাণু বিজ্ঞান, আয়ন মণ্ডল, পঞ্জিকা সংস্কার, বন্যা প্রতিরোধ ও নদী পরিকল্পনা নিয়ে গবেষণা করেন৷ তাপীয় আয়নবাদ সংক্রান্ত তত্ত্ব উদ্ভাবন করে জ্যোতি পদার্থবিজ্ঞানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন৷ আব্দুস সাত্তার খান, নাসা ইউনাইটেড টেকনোলজিস এবং অ্যালস্টমে কাজ করার সময়ে ৪০টিরও বেশি সংকর ধাতু উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানী খান৷ এই সংকর ধাতুগুলো ইঞ্জিনকে আরও হালকা করেছে, যার ফলে উড়োজাহাজের পক্ষে আরও দ্রুত উড্ডয়ন সম্ভব হয়েছে এবং ট্রেনকে আরও গতিশীল করেছে৷ তার উদ্ভাবিত সংকর ধাতুগুলো এফ-১৬ ও এফ-১৭ যুদ্ধবিমানের জ্বালানি সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে৷ কলেরা রোগের কারণ আবিষ্কার করেছেন ডা. ফারুক৷ কলেরার ঘটক ভিবরিও নামে এক ধরনের শক্তিশালী ব্যাক্টেরিয়ার সংস্পর্শে অন্যান্য ব্যাক্টেরিয়া এসে কীভাবে একে আরও কার্যকরী বা শক্তিশালী করে তোলে সেটিই ছিল তার গবেষণা৷ আন্তর্জাতিক কলেরা রোগ গবেষণা কেন্দ্র বা আইসিডিডিআরবি-তে তিনি ও তার গবেষণা দল এ আবিষ্কার করেন৷ পাটের জিনের আবিষ্কারক ড. মাকসুদুল আলম। এই বাংলাদেশি জিনতত্ত্ববিদের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডাটাসফটের একদল উদ্যমী গবেষকের যৌথ প্রচেষ্টায় ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময়ে সফলভাবে উন্মোচিত হয় পাটের জিন নকশা৷ বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকর সৌর বিদ্যুৎ কোষ উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে ম্যারিল্যান্ডের কপিন স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং গবেষক বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. জামালউদ্দিন ইতিহাস গড়েছেন৷ ড. জামাল উদ্দিন এবং তার গ্রুপ সোলার সেল থেকে শতকরা ৪৩.৪ পুনঃব্যবহারযোগ্য শক্তি উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করেছে যা বিশ্বে এই উৎপাদনের সর্বোচ্চ মাত্রা৷ বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম কিডনি তৈরি করেছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী শুভ রায়৷ এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে অসামান্য কীর্তি৷ ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার সহযোগী অধ্যাপক শুভ রায় তার সহকর্মীদের নিয়ে কৃত্রিম কিডনি তৈরির কাজ শুরু করেন৷চলতি দশকের গোড়ার দিকে দলটি ঘোষণা দেয় যে, তারা কৃত্রিম কিডনি তৈরি করে তা অন্য প্রাণির দেহে প্রতিস্থাপন করে সফল হয়েছে৷ হরিপদ কাপালী ছিলেন এক প্রান্তিক কৃষক। কিন্তু তার আবিষ্কার হরিধান কৃষিবিজ্ঞানের এক অনন্য সাফল্য৷ প্রকৃতির কাছ থেকেই শিক্ষা৷ প্রকৃতিতেই তার গবেষণা৷তার নামে নামকরণ করা এই ধানটি অন্য যে কোনো ধানের চেয়ে উচ্চ ফলনশীল৷ এতে সার ও ওষুধও লাগে অনেক কম৷ সব মিলিয়ে সোনার বাংলার সোনালি আবিষ্কার হরিপদ কাপালীর হরিধান৷ এছাড়াও পৃথিবীতে মানব সভ্যতা এগিয়ে নিতে বাঙালির শত শত আবিষ্কার রয়েছে। যে সকল আবিষ্কার পশ্চিমাদের বিশ্ব বাণিজ্য রাজনীতি কিংবা পুঁজিবাদের আগ্রাসন সামনে আসতে দিতে চায় না। মনে রাখা দরকার আজ বিশ্বক্ষমতাধরদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে তলাবিহীন ঝুঁড়ির তকমা মুছে বিশ্ব দরবারে আজ মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে আমাদের আছে গর্বিত ইতিহাস। বিশ্বাস করি, ত্রিশ লাখ শহীদের স্বপ্নকে ধারণ ও জাতির পিতার মানব মুক্তির দর্শন চর্চার মধ্য দিয়ে বাঙালিদের কেউ দাবায় রাখতে পারবে না। ড. আসিফ আজ পৃথিবীর মানুষের কঠিন দুঃসময়ে আপনার এমন উদ্যোগ দেশপ্রেমিক প্রজন্মকে আরও সাহসী করে তুলবে নিশ্চিত। আপনার এই সাহসী উচ্চারণ আজ বিশ্ববাসী শুনেছে। ওরা পারলেও কেন আমরা পারবো না। বাঙালি হিসেবে আজ আমরা গর্বিত। আপানার পূর্ব-পুরুষদের গর্বিত ইতিহাস নিয়ে আপনার গবেষণা সফলার চূড়ান্ত ধাপ অতিক্রম করুক মানবকল্যাণে সেই প্রার্থনা আমাদের। আপনার লড়াই অব্যাহত থাকুক আমাদের সংকীর্ণতা আর হীনমন্যতার পরাজয় ঘটুক। লেখক: সাধারণ সম্পাদক, গৌরব ৭১, সংগঠক, গণজাগরণ মঞ্চ।
জামাল নজরুল ইসলাম ছিলেন চট্টগ্রাম তথা পুরো দেশের গর্ব ও বিশ্বের সম্পদ
৩০জুন,মঙ্গলবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: যা হোক, শেষ পর্যন্ত সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এবং অকুণ্ঠ সহযোগিতা অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে যোগদান করতে সমর্থ হয়েছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণার জন্য উন্নত মানের একটি গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। এর অধীনে অনেক শিক্ষার্থী মাস্টার্স ও পিএইচ.ডি. করেছে এবং তাদের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অবকাশ নেই। একাধারে পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, বিশ্বতত্ত্ববিদ ও অর্থনীতিবিদ জেএন ইসলাম সম্পর্কে বলতে গিয়ে হকিং বলেছিলেন, জেএন ইসলাম আমার রুমমেট, বন্ধু এবং আমরা ছিলাম পরস্পর পরস্পরের শিক্ষক। জামাল নজরুল ইসলাম সেরা। আমি তার কাছে কিছুই না। সারা বিশ্বে বিজ্ঞানী মহলে জেএন ইসলাম জিনিয়াস ইসলাম নামেও পরিচিত ছিলেন। জাপানি প্রফেসর মাসাহিতো বলেছেন, ভারতের বিখ্যাত জ্যোতিপদার্থ বিজ্ঞানী জয়ন্ত নারলিকা জেএন ইসলামের সহপাঠী ছিলেন। ফ্রেডরিক হয়েল, নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী ব্রায়ান জোসেফসন, স্টিফেন হকিং, প্রফেসর আব্দুস সালাম, রিচার্ড ফাইনমেন, অমর্ত্য সেন প্রমুখ ছিলেন জামাল নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাদের মুখে আমি অনেক বার জেএন ইসলামের কথা শুনেছি। জেএন ইসলামের দি আল্টিমেট ফেইট অফ দি ইউনিভার্স লেখা হয়েছে ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে কিন্তু হকিংয়ের অ্যা ব্রিফ হিস্টরি অব টাইম লেখা হয়েছে ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে। দুটি গ্রন্থ তুলনা করলে নিঃসন্দেহে জেএন ইসলামের বইটি যে কোনো বিবেচনায় শ্রেষ্ঠ। কিন্তু ব্রিফ হিস্টরি অব টাইম নিয়ে আমরা যে তোলপাড় করেছি, জেএন ইসলামের আল্টিমেট ফেইট নিয়ে তার এক সহশ্রাংসও করিনি। হকিং তাঁর মূল্যবান গবেষণা সময়ের অধিকাংশই ব্যয় করতেন বাঙালি প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলামের সঙ্গে। তাদের সম্পর্ক ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব থেকে পারিবারিক বন্ধুত্বে উন্নীত হয়েছিল। হকিংয়ের জ্যেষ্ঠ ছেলে রবার্ট, কন্যা লুসি এবং কনিষ্ঠ ছেলে থিমোতি জামাল নজরুল ইসলামের সঙ্গ খুব পছন্দ করতেন। জামাল নজরুল ইসলামের দুই মেয়ে সাদাফ যাস সিদ্দিকি ও নার্গিস ইসলাম ছিলেন তাদের খুব আদরের। সাদাফ যাসের আমন্ত্রণে লুসি ২০১৪ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে লিট ফিস্টে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ এসেছিলেন। অর্থশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অমর্ত্য সেন ছিলেন জামাল নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশে এলে বন্ধু জামাল নজরুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করার জন্য চট্টগ্রাম চলে গিয়েছিলেন। ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিজ্ঞানী আবদুস সালাম বাংলাদেশে এলে বিমান বন্দরে নেমে বলেছিলেন, জেএন ইসলামকে খবর দিন। ওই সফরে জেএন ইসলামকে একটা পদকও দিয়েছিলেন প্রফেসর আবদুস সালাম। উল্লেখ্য, বয়সে জামাল নজরুল ইসলাম ছিলেন হকিংয়ের সিনিয়র কিন্তু আবদুস সালাম এবং অমর্ত্য সেনের জুনিয়র। জেএন ইসলামের লেখা এবং ক্যাম্ব্রিজ থেকে প্রকাশিত রোটেটিং ফিল্ডস ইন জেনারেল রিলেটিভিটি বইটাকে বলা হয় আধুনিক বিজ্ঞানের একটি অদ্বিতীয় বই। সেটা নিয়ে অধিকাংশ বাঙালি কিছুই জানে না। নিজের ঘরের মানুষের কৃতিত্বের খবর যদি ঘরের মানুষ না রাখে তাহলে বাইরের লোকে রাখবে কেন? জেএন ইসলামের দি আল্টিমেট ফেইট অফ দি ইউনিভার্স ছাড়া আর কোনো বাঙালির বই হিব্রু ভাষায় অনূদিত হয়নি। জামাল নজরুল ইসলাম ছিলেন আপাদমস্তক দেশপ্রেমিক। নিজের আয় থেকে অর্থ জমিয়ে দরিদ্র ছাত্রদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছেন। ১৯৭১ সালে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ বন্ধের উদ্যোগ নিতে বলেছিলেন। সর্বোপরি, বিদেশে সহস্র পাউন্ডের লোভনীয় চাকরি ছেড়ে দিয়ে জামাল নজরুল ইসলাম বাংলাদেশে চলে এসেছিলেন। শুধু তাই নয়, মুহম্মদ জাফর ইকবাল দেশে ফেরার আগে জামাল নজরুল ইসলামের পরামর্শ চাইলে তিনি, জাফর ইকবালকে দ্রুত দেশে ফেরার ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছিলেন। দেশের জন্য, দেশের বিজ্ঞানচর্চার জন্য তিনি যে পরিমাণ আন্তরিকতা দেখিয়েছেন,তা সত্যিই অনন্য বিরল।নিভৃতচারী ও প্রচারবিমুখ এই গুণী বিজ্ঞানী ২০১৩ সালে ৭৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরন করেন। তথ্যসূত্রঃ গুগল, দেশি বিদেশী ম্যাগাজিন, প্রথম আলো, ফেইসবুক,উনাকে নিয়ে আরও অনেক কিছু লেখা যায়। কিন্তু লেখা বড় হলে তো আমরা পড়বো না। এতো পড়ার সময় কই? এতোকিছু বলার উদ্দেশ্য হলো আমরা কেন উনাকে চিনি না? জানি না? কারণ আমাদের মিডিয়া তাদের নিয়ে নিউজ করে না। হাইপ তুলেন না। বইয়ে তাদের নিয়ে লেখা প্রকাশিত হয় না। আমাদের লজ্জা লাগে উনাকে কেন আমরা চিনতে পারিনি? অথচ স্টিফেন হকিং কে কতো আগে থেকেই চিনি।আমার জাতি হিসাবে লজ্জার কারণ তাকে বীর বাঙালী চিনতে পারিনি ? এর দায়ভার পুরো দেশের,মিডিয়ার। জামাল নজরুল ইসলাম স্যার ছিলেন চট্টগ্রাম তথা পুরো দেশের গর্ব না বিশ্বের সম্পদ। এই সম্পদকে আমরা চিনি তার বই গুলো পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়ের মত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে পড়ানো হোক।তাকে নিয়ে গবেষণার করা হোক আর কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্কুলে তার জীবন নিয়ে লেখা কাব্যগ্রন্থ পড়ানো হলে তরুণ প্রজন্মের লোকেরা অনেক কিছু শিখতে পাবে আর আজীবন তাকে ম্মরন রাখবে। তার মত মেধাবী দেশপ্রেমিক বিজ্ঞানী জন্ম নিবে এই বাংলায়। আমরা আলোর প্রদীপ পাব। লেখক - তসলিম উদ্দিন রানা, সাবেক ছাত্রনেতা ও নজরুল গবেষক
সব গনতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে ইতিহাস সৃষ্টি করে এগিয়ে যাওয়ার নাম আওয়ামী লীগ
২৩,জুন,মঙ্গলবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২৩ জুন মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী দল আওয়ামী লীগের ৭১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জানাই নিরন্তর ভালবাসা ও শুভেচ্ছা। দুর্বার গতিতে আধুনিক বাংলা গঠনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে প্রিয় স্বাধীনতা আন্দোলন সংগ্রামের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। উপ-মহাদেশের রাজনীতিতে প্রায় ৬ দশকেরও বেশি সময় ধরে আভিজাত্যে ও অবিচ্ছেদ্য স্বত্ব হিসেবে নিজেদের অপরিহার্যতা প্রমাণ করেছে গণতান্ত্রিকভাবে জন্ম নেওয়া এই দলটি। এদেশের প্রতিটি লড়াই,আন্দোলন-সংগ্রামে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী প্রচীনতম রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের ভূমিকা উজ্জ্বল। আওয়ামী লীগ মানেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূলধারা। ৪৭এর দেশ বিভাগ, ৫২র ভাষা আন্দোলন, ৬২র ছাত্র আন্দোলন,৬৬ এর ছয় দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০এর নির্বাচন আর ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা আন্দোলন, ৭৫ এর পর নিঃশেষ হয়ে পুনরায় উজ্জীবিত, ৯০ এর স্বৈরচ্চার বিরোধী আন্দোলন, ৯৬ খালেদা বিরোধী আন্দোলন, ২০০১ এর বিএনপি জামাতের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ২০০৭সালে ১/১১ এর ফখরুদ্দীন -মঈনুদ্দীন তত্ত্ববধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সহ সব লড়াই সংগ্রাম, গনতান্ত্রিক, অসম্প্রাদায়িক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে আওয়ামী লীগ। আর এসবের প্রতিটি আন্দোলনের কৃতিত্ব এককভাবে আওয়ামী লীগের উপর বর্তায়।এদলটির উপর সব ঝড়জঞ্জা গেছে যা বলার উপেক্ষা রাখেনা তবুও সব কিছু উত্তরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে প্রিয় আওয়ামী লীগ। ১৯৪৯ সালে দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দল আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু করেন।১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরনো ঢাকার কেএম দাসলেনের ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে ততকালীন পাকিস্তানের প্রথম প্রধান বিরোধী দল হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।যা পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে রুপান্তরিত লাভ করেন। প্রথম কাউন্সিলে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি এবং শামসুল হককে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। তখন টগবগে তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন কারাগারে বন্দী। বন্দী অবস্থায় তাকে সর্বসম্মতিক্রমে প্রথম কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।১৯৫৩ সালে ময়মনসিংহে দলের দ্বিতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবর ঢাকার সদরঘাটের রূপমহল সিনেমা হলে দলের তৃতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক সংগঠনে পরিণত হয়। মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে দলের নতুন নামকরণ হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। পরে কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বহাল থাকেন। ৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনে দলের আন্তর্জাতিক নীতির প্রশ্নে সোহরাওয়ার্দী-ভাসানীর মতপার্থক্যের কারণে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ ভেঙে যায়। ভাসানীর নেতৃত্বে গঠিত হয় ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)। আর মূল দল আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান বহাল থাকেন।১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হলে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড স্থগিত করা হয়।১৯৬৪ সালে দলটির কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করা হয়। এতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মাওলানা তর্কবাগীশ ও শেখ মুজিবুর রহমান অপরিবর্তিত থাকেন। ১৯৬৬ সালের কাউন্সিলে দলের সভাপতি পদে নির্বাচিত হন শেখ মুজিবুর রহমান,তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তাজউদ্দীন আহমদ।এর পরে ১৯৬৮ ও ১৯৭০ সালের কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অপরিবর্তিত থাকেন। এই কমিটির মাধ্যমেই পরিচালিত হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ।দেশ স্বাধীনতা লাভ করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রথম কাউন্সিলে সভাপতি হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু স্বেচ্ছায় সভাপতির পদ ছেড়ে দিলে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় পঁচাত্তরে কারাগারে ঘাতকদের হাতে নিহত জাতীয় নেতাদের অন্যতম এএইচএম কামরুজ্জামানকে ও সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল থাকেন মো. জিল্লুর রহমান।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আসে আওয়ামী লীগের ওপর মরণাঘাত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি আবারও স্থগিত করা হয়। ১৯৭৬ সালে ঘরোয়া রাজনীতি চালু হলে আওয়ামী লীগকেও পুনরুজ্জীবিত করা হয়। এতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় যথাক্রমে মহিউদ্দিন আহমেদ ও বর্তমান সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে। ১৯৭৭ সালে এই কমিটি ভেঙ্গে করা হয় আহ্বায়ক কমিটি। এতে দলের আহ্বায়ক করা হয় সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনকে। ১৯৭৮ সালের কাউন্সিলে দলের সভাপতি করা হয় আবদুল মালেক উকিলকে এবং সাধারণ সম্পাদক হন আব্দুর রাজ্জাক। এরপরই শুরু হয় আওয়ামী লীগের উত্থানপর্ব, উপমহাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তোলার মূল প্রক্রিয়া। সঠিক নেতৃত্বের অভাবে দলের মধ্যে সমস্যা দেখা দিলে নির্বাসনে থাকা বঙ্গবন্ধু কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে ফেরার আগেই ১৯৮১ সালের কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয় এবং সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল থাকেন আবদুর রাজ্জাক। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে শেখ হাসিনা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী নির্বাচিত হয়। এরপরে ১৯৯২ সালে শেখ হাসিনা সভাপতি ও জিল্লুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। এরপরে ২০০২ সালে শেখ হাসিনা সভাপতি ও আব্দুল জলিল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। এরপরে ২০০৯ ও ১২ সালে শেখ হাসিনা সভাপতি ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। এরপরে ২০১৬ ও ১৮ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা সভাপতি ও ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাঙালি জাতির ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক, সাধারণ মানুষের ভাত, ভোটের অধিকার আদায়ের আন্দোলন, স্বৈরচ্ছার ও স্বৈরচ্চারীনী নেতৃত্বদানের সুমহান গৌরব অর্জন করেছে। আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর এ ভূখণ্ডে যা কিছু বিশাল অর্জন তা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই হয়েছে। আওয়ামী লীগের ইতিহাসের সঙ্গে এ দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত।বাঙালি জাতির প্রতিটি মহত এবং শুভ অর্জনে আওয়ামী লীগের সংগ্রামী ও ত্যাগী ভূমিকা রয়েছে অতুলনীয়।ভবিষ্যতেও আওয়ামী লীগ এদেশের জনগণের পাশে থাকবে। প্রতিটি লড়াই সংগ্রাম ও আন্দোলনে নেতৃত্ব ভুমিকা অতুলনীয়।৭৫ এর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হত্যার মধ্যে দিয়ে যে রাজনীতি শুরু হয়েছিল তার বিরুদ্ধে অনেক অকুতোভয় দুঃসাহসী লোক মৃত্যুবরন করেন ও অনেকে সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়,অনেকে জেল জুলুম শিকার করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করেছে যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাদের ত্যাগ তিতিক্ষা আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে আজ এদল টিকে আছে।সেই সময় খন্দকার মোস্তাক,জিয়া, এরশাদের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করতে গিয়ে অনেকের জীবন চলে যায় আর অনেকে নির্যাতিত হয়ে যায়। দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত করবে আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে এগিয়ে যাচ্ছে প্রিয় দল আওয়ামী লীগ। গনতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে এরশাদকে হটিয়ে ১৯৯১ সালে নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসে আবারো ভোট ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি শুরু করলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে ভোট ও ভাতের অধিকার বাস্তবায়ন হয়। এরপর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসেন।আবারো বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের নক্সা করে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করে ও ২১ শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা করে জননেত্রী শেখ হাসিনা সহ অনেক নেতা নিহত ও আহত তার বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করে যায়।এরপরে ১/১১ এর বিরুদ্ধে আবারো আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদেরকে লড়াই সংগ্রাম আন্দোলনের মাধ্যমে দেশকে অসম্প্রাদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা ও ভোটের অধিকার বাস্তবায়ন করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে যা ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসে ও আধুনিক বাংলা গঠনে কাজ করে যাচ্ছে সেখানেও দলটির বিরুদ্ধে বহু ষড়যন্ত্রের নক্সা করে যাচ্ছে সব ছিন্নজাল ভেদ করে এগিয়ে যাচ্ছে প্রিয় আওয়ামী লীগ।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ উন্নয়ন শিখরে আরোহন করছে যা বিশ্বের নিকট অনুকরণীয় হয়ে যাচ্ছে। এদেশে যত মেঘা প্রকল্প ও মধ্যম আয়ের দেশ উন্নীত হচ্ছে তা একমাত্র আওয়ামী লীগের মাধ্যমে হচ্ছে। আজ বিশ্বের মডেল দেশ রুপান্তর হওয়ার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে প্রিয় আওয়ামী লীগ। লেখক: তসলিম উদ্দিন রানা, সাবেক ছাত্রনেতা
আদর্শিক,ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের মৃত্যুতে জাতি ও দল হুমকির পথে
১৭জুন,বুধবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজনীতিবিদ হারিয়ে যাওয়া মানে দেশের সম্পদ চলে যাওয়া। যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ ক্ষতি পুরন করার নয়।করোনা ভাইরাস দুর্যোগের কারনে দেশের অনেক অভিজ্ঞ,জনপ্রিয়, ত্যাগী, আদর্শিক,জনতার বন্ধু,আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ হারিয়ে আজ মহাসংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছি।এ সংকট আরো বেশি ঘনিভুত হবে বলে মনে করছি কারন যেসব রাজনীতিবিদ ৭০ এর চেয়ে বেশি তাদেরকে এই মহামারী করোনাভাইরাস ধরলে খুব জটিল আকার ধারণ করে।এছাড়াও অনেকে হার্ট স্ট্রোক করে মারা যাচ্ছে।অনেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন যা অত্যন্ত ক্ষতিকর।আর যারা আক্রান্ত হয়ে ভালো হয়ে আছে তারাও সচেতনতা পালন করে যাচ্ছে। আমরা যারা রাজনীতি করি তারা আজ চিন্তায় আছি কারন ভালো ভালো লোক গুলো যদি চলে যায় শুধু দলের না দেশের জন্য সম্পদ চলে যাওয়া।একজন জাতীয় নেতা সৃষ্টি হতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয় হুট করে নেতা জন্ম নেয়না।তাদের ত্যাগ- তিতিক্ষার ইতিহাস দীর্ঘ। ছাত্র জীবনের মুল্যবান সময় নষ্ট করে যুব রাজনীতি করে মুল দলের প্রবেশ করতে তাদের জীবনের সময় চলে যায়।তারা প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসাবে দাড় করাতে সব লড়াই সংগ্রাম ইতিহাস রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে যায় এক কথায় অতুলনীয়। কত জেল জুলুম হুলিয়া আর নির্যাতিত হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে তারা এগিয়ে যায়।তারা সব সময় জনগণের অধিকার বাস্তবায়ন করতে সোচ্চার থাকে। দেশের ভাষা আন্দোলন,৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন,৬৬ এর দফা আন্দোলন,৭০ এর নির্বাচন,৭১ এর স্বাধীনতা আন্দোলন,৭৫ এর জাতির পিতা হত্যার সরকার বিরোধী আন্দোলন,৯০ এর স্বৈরচ্চার বিরোধী আন্দোলন,৯৬ এর স্বৈরচ্চারীনী আন্দোলন, ২০০১ এর ভোট ভাতের অধিকার আন্দোলন,১/১১ এর আন্দোলন সহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজনীতিবিদদের ভুমিকা অতুলনীয় ও ত্যাগের ইতিহাস। আমরা এই সোনার বাংলাদেশ পেয়েছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতত্ত্বে তার সাথে বাংলার বাঘ খ্যাত শেরে বাংলা একে ফজলুল হক,মুজিব সরকারের উপদেষ্টা মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী,বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের নায়ক শহীদ সোহরাওয়ার্দী,আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক,জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম,তাজুদ্দীন আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী,এ এইচ এম কামরুজ্জামান সহ অসংখ্য নেতাদের ত্যাগ তিতিক্ষা ও মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছি। তা সম্ভব হয়েছে ও একমাত্র দাবীদার রাজনীতিবিদদের কারণে।প্রতিটি অসম্প্রাদায়িক,গনতান্ত্রিক আন্দোলন,বিভিন্ন অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেকে শাহাদাত বরন করেন সবাই রাজনীতিবিদ।এসকল বীরদের কারণে আমরা আজ স্বাধীন দেশ পেয়েছি তার সকল মুলের অবদান রাজনীতিবিদ।আমরা সে সকলদেরকে বিনম্র শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি তাদের প্রতি আমাদের আজীবন ভালবাসা ও শ্রদ্ধা রইল। বর্তমান রাজনীতির কথা উঠলে আমরা দেখতে পাব সেই পুরানো রাজনীতিবিদের কথা যারা এদেশের জন্য অনেকে লড়াই সংগ্রাম করতে গিয়ে অনেক কিছু হারিয়ে তবুও এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু হঠাৎ করে মহাদুর্যোগের করোনাভাইরাস এসে অনেকের জীবন নিয়ে যায় যা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।আমরা ইতিমধ্যে হারিয়েছি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ,আদর্শিক,আন্দোলন সংগ্রামের পুরোধা সাবেক মন্ত্রী,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাতীয় নেতা মোহাম্মদ নাসিম,সিলেটের মাটি ও মানুষের নেতা কিংবদন্তি,সাবেক সিটি মেয়র,কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য জননেতা বদরুদ্দীন কামরান,বিশিষ্ট আলেম,মাননীয় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী,কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক ধর্ম সম্পাদক হাফেজ শেখ আব্দুল্লাহ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয়, জেলা ও স্থানীয় অনেক পরিক্ষীত,জনপ্রিয়, আদর্শিক নেতা হারিয়ে দল ও দেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। অদুর ভবিষ্যতে আরও খারাপের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মনে হয়।এসব নেতাদের স্থান পুরনের মত নেতা তৈরি হচ্ছে না।তাদের জায়গা দখল করছে আমলা,ব্যবসায়ী,উত্তরাধিকারী সুত্রে প্রাপ্তরা,অযোগ্য লোকেরা যা ভবিষ্যত রাজনীতির জন্য অশুভ সংকেত।আগের সেই নেতার মত আদর্শিক,ত্যাগী,যোগ্যতা,ইতিহাস সৃষ্টিকারী নেতার অভাবপুরন হচ্ছে না বিধায় দিনদিন রাজনীতি অধঃপতনের চিত্র ফুঠে উঠছে যা বলার উপেক্ষা রাখেনা।দল ও দেশের অপুরনীয় ক্ষতি হচ্ছে। আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতা নাসিম ভাই,সিলেটের মানুষের জনপ্রিয় নেতা কামরান ভাই,গোপালগঞ্জের আদর্শিক নেতা হাফেজ আব্দুল্লাহ সাহেবের মত তৈরি হওয়া নেতা চলে যাওয়া মানে দলের একটা অংশ ঝরে যাওয়া।এধরনের নেতা তৈরি করা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার।তারা মানবতার নেত্রী,বাংলার দুঃখী মানুষের নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অবিচল আস্থা রেখে দলের দুঃসময়ে' নিবেদিত হিসাবে কাজ করেছে।সুখে দুঃখে দলের সাথে ছিল।দলের জন্য তাদের অবদান ও ইতিহাস যেমন আছে তেমনি দেশের জন্য তাদের অবদান অতুলনীয়।দেশের প্রতিটি উন্নয়ন ও ভালো কাজ করে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে। তৃনমুল থেকে নেতা হওয়া খুবই কঠিন ব্যাপার। তবুও অল্প কয়েকজন যারা নেতা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে বিরাট একটা গ্রুপ কাজ করেছে যাতে তারা ভালো জায়গায় না যায়।তারা সুকৌশলে তৃনমুল থেকে উঠে আসা নেতাদের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্রের নক্সা করে যায় আর যারা লড়াই সংগ্রাম করে আদর্শিক নেতারা আপোষহীন হয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তারাও কষ্টে আছে কেননা তারা যে কমিটিতে কাজ করেছে তাতে বেশী তেলবাজ,চামচা আর অযোগ্য লোকেদের ভরপুর। এসব লোকজনের বিরুদ্ধে কাজ করা কঠিন।তবুও কিছু আদর্শিক নেতা এগিয়ে যাচ্ছে।সত্যে,ত্যাগ ও আদর্শের জয় হোক।এদেশে জননেতা নাসিম,কামরান ও শেখ আব্দুল্লাহ এর মত আদর্শিক,পরিক্ষীত নেতা জন্ম হোক সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। লেখক - তসলিম উদ্দিন রানা,সাবেক ছাত্রনেতা
আমরা ভুলে যাই কাফনে কোনো পকেট থাকে না!
১৬জুন,মঙ্গলবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: জন্মের পরে মানুষে মানুষে ধর্মে, বর্ণে, জাতিতে, ধনী-গরিব, বংশে পার্থক্য থাকলেও মৃত্যুর পরে পরিচয় একটাই মৃত লাশ। বিদায় বেলায় যে পোশাক পরে তার শেষ যাত্রার সমাপ্তি ঘটে সেই কাফনে কোনো পকেট থাকে না। অনেকে ক্ষমতার চেয়ারে বসে কত রকমভাবে অঢেল সম্পত্তির মালিক হন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ভাগ্যকে লুট করে পাচার করে ভিনদেশে। কিন্তু কোনো কিছুই নিয়ে যাওয়ার যে নিয়ম নেই। প্রকৃতির নির্ধারিত নিয়মে মানুষ এসেছে একা, যেতে হবেও একা। সুন্দর এ পৃথিবীর মায়াময় জগৎ আকড়ে ধরে আরও কিছুদিন মানুষের মাঝে বেঁচে থাকার কি প্রাণপণ চেষ্টাই না করি। কিন্তু নিঃশ্বাসের মায়া যে বড্ড শক্ত আর মায়াময়! মানুষ তার জীবন সংগ্রামের সকল অর্জন রেখে যেতে হয় সময়ের কাছে। মোহ আর মায়া অতিক্রম করে হেটে যেতে হয় নিশ্চিন্তপুরের আদিম ঠিকানায়। একটা সময় পর যেখানে সবাই যায় কিংবা যেতে হয়। কেউ কেউ আবার ছুটে যায় আমাদের প্রত্যাশার বাইরে। প্রাকৃতিক নানা দুর্যোগ অতিক্রম করে নব সভ্যতায় প্রবেশ করা কিছু মানুষ তাদের লোভ আর মোহের কাছে পরাস্থ হয় নিমজ্জিত হয় অমানবিকতা আর দানবীয় কর্মযজ্ঞে। চিরবিদায়ের পর কেউ তার কর্মে বেঁচে থাকে মানুষে মানুষে বহুদিন যুগের পর যুগ আর কেউ তার নামের উপর ছড়ায় শুধুই দুর্গন্ধ এবং হয়ে ওঠে এক অভিশপ্ত আত্মায়। বিগত তিনমাসে শত সহস্র বছরের গতিময় মানব জীবনকে থামিয়ে দিলো করোনা নামক একটি ভাইরাস! ভাবতে পারেন কোনো বোমারু বিমান নয়, কোনো শক্তিশালী অস্ত্র, বিশ্বের নামকরা প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীও নয়। নয় কোনো নাপাম বোমা, মলোটভ ককটেল কিংবা আণবিক বোমা। অজানা অচেনা একটি ভাইরাস কেড়ে নিচ্ছে লাখ লাখ মানব প্রাণ। আক্রান্ত হয়েছে লাখ লাখ মানুষ। সংক্রমণের আতঙ্কে জীবনকে বন্দী করে রেখেছে কোটি কোটি প্রাণ। আমরা চায়না, ইটালি, স্পেন কিংবা আমেরিকা থেকে কোনো প্রকার শিক্ষা তো নেইনি বরং যারা এই মহামারী নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন তাদের মুখ বন্ধ করার পায়তারা করা হয়েছে বারবার। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙ্গুল তোলা হয়েছে। বলা হয়েছে সরকারকে বিব্রত করতে এমন আলোচনা। কাউকে আবার দেখে নেয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। গতকাল একটি কলাম পড়ে সত্যি ভীষণ অবাক হয়েছি। দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক প্রিয় কলামিস্ট শ্রদ্ধেয় নঈম নিজাম ভাইয়ের লেখার শিরোনাম, মৃত্যুর দুয়ারে নতুন শপথ - পরিণতির কথা ভাবি না, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলবই। তিনি লেখার শুরুতে লিখেছেন, লেখালেখিটাই করছি। আর তো কিছু করছি না। করোনাকালে অনেক আপনজন সতর্ক করলেন। বললেন, আপনারা কয়েকজন বেশি স্পষ্ট কথা বলছেন, লিখছেন ব্যাংক লুটেরা আর স্বাস্থ্য খাতের মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। এভাবে বলতে নেই। এভাবে লিখতে নেই। ব্যাংকিং খাত ও স্বাস্থ্য খাতের লুটেরারা অনেক বেশি শক্তিশালী। ওরা গভীর জলে চলে। চারদিকে বিশাল নেটওয়ার্ক। হয়রানি করার চেষ্টা করবে অনেকভাবে। পরিকল্পনাও নিচ্ছে। জবাবে বললাম, সমুদ্রে রেখেছি পা, শিশিরে কি ভয়। জানি লুটেরারা ভয়ঙ্কর। তারা বিভিন্নভাবে হয়রানি করবেই। মামলা খেয়েছি ৪০টির বেশি। জামিন নিয়েছি ঢাকা ও বাইরের জেলায় গিয়ে। আরও অনেক ধরনের হুমকি আর হয়রানি মোকাবিলা করেই আজকের অবস্থানে। এখন হয়তো নতুনভাবে নতুন কায়দায় কিছু করার চেষ্টা করতে পারে। করুক। ক্ষমতাসীন দলটির জন্য দুঃসময়ে আমাদের কিছুটা হলেও ভূমিকা ছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লুটেরাদের জন্য দেশটি স্বাধীন করেননি। একদম ঠিক বলেছেন নঈম নিজাম ভাই। জাতির পিতার আজীবন লড়াই আর ৩০ লাখ শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দিবো না। অর্থপাচারকারী, ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, ব্যাংক, শেয়ারবাজার লুটেরাদের জন্য এদেশ আমাদের পূর্বপুরুষ স্বাধীন করেননি। আজ আপনারা আমরা কথা বলার কারণে অনেক লুটেরাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে এবং আগামীতে আরো হবে। এসময় মুখ বন্ধ করলে হবে না, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে এ লড়াই অব্যাহত থাকুক। এই করোনাকালে যারা লুটপাটে সক্রিয় তাদের বিরুদ্ধে বলা-লেখা আপনাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যও বটে। আমরা তরুণ প্রজন্ম আছি আপনার সাথে। শহীদের রক্তে ভেজা দেশে একটি দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট এর কাছে ১৮ কোটি মানুষ জিম্মি থাকতে পারে না। আজ আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ বর্তমানে আমলাদের হাতে। সেই সুযোগে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের নেতৃত্বও তারা দিচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি আজ সবার চোখ খুলে দিয়েছে। কয়েকদিন আগে দেখেছি যুব মহিলা লীগ নেত্রী পতিতা গ্যাং পাপিয়াদের মাধ্যমে কিভাবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও শতশত কোটি টাকার কাজ নিয়ন্ত্রণ করা হত। তবে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতি প্রতিরোধে ২০১৮ সালে সরকারি চাকরি যে আইনটি রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাভ করে তা কোনোক্রমেই দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য ইতিবাচক নয়। আইনটিতে দুর্নীতির অপরাধে অভিযুক্ত কোনো কর্মচারীকে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অনুমোদনের বিধানটি দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন না করে। বরং দুর্নীতিপরায়ণ কর্মচারীদের দুর্নীতি করার ক্ষেত্রে আরও সাহসী করে তুলবে এবং দুর্নীতির প্রসার ঘটাবে। এছাড়া প্রস্তাবিত আইনে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অনুমোদনের বিধান সংযোজন করা হলে তা দুদকের কর্মক্ষমতাকে আরও দুর্বল করে দেবে বলে সাধারণের ধারণা। কোনো একজন সরকারি কর্মচারীর পক্ষে এককভাবে দুর্নীতি করা প্রায় অসম্ভব। সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতির সঙ্গে অধিকাংশ সময়ই প্রতিষ্ঠানের একাধিক স্তরের কর্মচারীরা জড়িত থাকে। কোনো দুর্নীতির সঙ্গে যদি প্রতিষ্ঠানের উপরের স্তর জড়িত থাকে, সেক্ষেত্রে গ্রেফতারের অনুমতি পাওয়া কি খুব সহজ হবে! সংবাদ মাধ্যমে জানা যায় প্রস্তাবিত আইনে গ্রেফতারের অনুমোদনের ক্ষমতা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের ওপরও অর্পণ করা হয়েছে। ক্যাডার কর্মকর্তাদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতি হওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে গ্রেফতারের অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি কি আদৌ সহজ হবে ? তাই এই করোনা মহামারীকালে লুটপাট ও দুর্নীতি রুখে দেশকে বাঁচাতে হলে সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতির সুযোগ দিতে যে আইন করা হয়েছে তা বাতিল করে সময়োপযোগী আইন করতে হবে। অপরাধী সে যেই হোক তার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সকল শ্রেণিপেশার মানুষকে সোচ্চার থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লৌহ মানব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। তবে দূর্ভাগা জাতি হিসেবে আমরা কেন ভুলে যাই যে, সাদা কাফনের কোনো পকেট থাকে না। তুমি যত বড় ক্ষমতাধর আমলা বা রাজনীতিবিদ হওনা কেন কোনো কিছুই নেয়া সম্ভব নয়। ডাক আসলে যেতে হবে খালি হাতে। কর্মফলে মনে রাখবে এ বসুন্ধরা। আর কর্মফলে অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি থাকলে তোমার নামের উপর ছড়িয়ে পড়বে শুধুই দুর্গন্ধ, যা কোনো সুগন্ধী দিয়ে ঢেকে রাখা সম্ভব নয়। আবার ভুলে যাই করোনাভাইরাস কোনো জজ-ব্যারিস্টার, এমপি-মন্ত্রী ,আমলা-কামলা চেনে না। চেনে না কোনো সেনাবাহিনী, Rab-পুলিশ। একবার মহামারীতে রুপ নিলে পালিয়েও বাঁচতে পারবেন না কোনো মহারথী। আজ অজানা নয় এই অচেনা ক্ষুদ্র ভাইরাসের আঘাতে পৃথিবীতে হুংকার দেয়া শক্তিধর দেশও উদাসীনতা ও অবহেলায় নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি। মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। যদিও আমরা দীর্ঘ তিন মাস সময় পেয়েও কাজে লাগাতে পারিনি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে স্বাস্থ্য খাতের লাগামহীন দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে আরও নাজুক অবস্থায় আমাদের দেশ। সাধারণ মানুষের যে কোনো রোগের চিকিৎসা ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্থ করেছে দীর্ঘ সময়ের অব্যবস্থাপনা। অথচ আমরা দেখেছি বিজ্ঞানের আর্শীবাদে পৃথিবী চলে এসেছে মানুষের হাতের মুঠোয়। সৃষ্টির নেশায় মত্ত থেকে মানুষ এক এক সময় আবিষ্কার করেছে এক এক ধরনের জিনিস। হাজার বছরের সাধনায় স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিয়েছে এই গ্রহের শ্রেষ্ঠ জীব দাবি করা মানুষ। সেই সফল মানুষ একটি ভাইরাসের কাছে পরাস্থ পর্যদুস্ত। চিরবিদায়ের সময় যে মমতা বা ভালোবাসা পেত নিজ পরিবার ও স্বজনের কাছ থেকে তাও জুটছে না তার কপালে। এক স্পর্শহীন নির্মম বিদায়ে ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন নিশ্চিন্তপুরের আদি ঠিকানায়। লেখক : এফ এম শাহীন,সম্পাদক, ডেইলি জাগরণ ডট কম,সাধারণ সম্পাদক, গৌরব ৭১।- বিডি প্রতিদিন

মুক্ত কলম পাতার আরো খবর