তথ্যপ্রযুক্তির ফলে দক্ষতা প্রর্দশনের সুযোগ পাচ্ছে এ দেশের যুবকরা
১৪ জুন২০১৯,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:সময়টা তথ্যপ্রযুক্তির। তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রের দক্ষতা প্রর্দশনরে সুযোগ পাচ্ছে এ দেশের যুবকরা। অনেকেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে কাজের ক্ষেত্র গড়ে তুলতে সক্ষম হচ্ছেন। ফলে সমাজে সম্ভাবনার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। আসলে যুব সমাজই হচ্ছে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতামুক্ত আধুনিক, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রধান চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়তে দেশের এই বিশাল শক্তির উপযুক্ত ব্যবহার হওয়া দরকার। এরাই নিজেদের মতো ও মনন শক্তি ব্যবহার করে নির্ধারণ করবে দেশের আগামী দিনের চলার পথ। তাই সমাজের এই সৃজনশীল ও উৎপাদনমুখী অংশকে উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। এ জন্য যুব সমাজের দক্ষতা ও র্কমক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও কর্মের জোগান দিতে হবে। যুব সমাজের অমিত সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তাই প্রবাসে নয়, স্বদেশেই র্কমসংস্থান নিশ্চিতের ব্যবস্থা করতে হবে।অফুরন্ত সম্ভাবনার অপর নাম বাংলাদেশ। এ দেশের রয়েছে অমিত সম্ভাবনাময় ষোল কোটি মানুষের বত্রিশ কোটি হাত। ষোল কোটি মানুষ বাংলাদেশের জন্য অভিশাপ নয়, আর্শীবাদ। কেননা, আবহমান কাল থেকেই এ দেশের মানুষরা কর্মনিষ্ঠ, পরিশ্রমী। অচিরেই এ দেশ পরিণত হবে পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ পোশাক, জুতা, ওষুধ, সিরামিক ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানিকারক দেশে। সৃষ্টির্কতার অপার কৃপায় ধন্য এ দেশে রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে র্উবর মাটি আর দূষণমুক্ত পানি। গ্যাস ও কয়লার প্রার্চুযের পাশাপাশি এ দেশে বছের তিনবার ফসল উৎপাদিত হয়। ফলে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইতোমধ্যেই খাদ্যে স্বয়ংসর্ম্পূণতা র্অজিত হয়েছে, এ দেশে এখন আর কেউ না খেয়ে মরে না। কৃষিতে বৈপ্লবিক পরির্বতনের পাশাপাশি দেশের দরিদ্র, শ্রমজীবী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নির্ভর প্রবাসী আয়কে পুঁজি করে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ঘামঝরা শ্রমের ফসল পোশাকশিল্প উন্নয়নের ধারাকে করেছে আরও বেগবান। দেশে যেভাবে প্রবৃদ্ধি র্অজিত হয়েছে, র্অথনীতি এগিয়েছে, যেভাবে বিশ্বমন্দা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবেলা করেছে, তাতেই বোঝা যায় বাংলাদেশের মানুষ অপরিসীম ক্ষমতার অধিকারী।সত্তর দশকের 'ষড়যন্ত্রমূলক' তলাবিহীন ঝুড়ি, নব্বই দশকের বিশ্ব পরিমন্ডলে তুলনামূলক অচেনা বাংলাদেশ এখন বিশ্বব্যাপী এক বিস্ময়ের নাম। উন্নয়ন নিয়ে ভাবনা-চন্তিা করা মানুষদের কপালে ভাঁজ ফেলে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও সম্ভাবনার দিগন্তে সাফল্যের পতাকা উড়িয়ে দেশ অব্যাহত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।আন্তজাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিএমআই রিসাচের মতে আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশ হয়ে উঠবে বিশ্বের র্অথনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি। বিএমআই রিসাচ মনে করছে, ২০২৫ সালের মধ্যে এই ১০টি দেশ সম্মিলিতভাবে বিশ্ব র্অথনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ৪ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন র্অথাৎ চার লাখ তিন হাজার কোটি ডলার যোগ করবে, যা বিনিয়োগকারীদের বড় সুযোগ এনে দেবে। সম্প্রতি জাতিসংঘ উন্নয়ন র্কমসূচির (ইউএনডিপি) এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৪৫টি দেশ সর্ম্পকে প্রকাশিতব্য মানব উন্নয়ন প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে তরুণদের দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশের ৪৯ শতাংশ মানুষের বয়স ২৪ বছর কিংবা তার নিচে। দেশের কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ৫৬ লাখ বা মোট জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশ। জনসংখ্যাতাত্ত্বিক এই অবস্থান বাংলাদেশকে র্অথনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুর্বণ সুযোগ এনে দিয়েছে। ইউএনডিপি বলছে, এ সুযোগ কাজে লাগাতে হলে আরও বেশি কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। আর বিনিয়োগ বাড়াতে হবে উৎপাদনশীল খাতে। ইউএনডিপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম জনসংখ্যা ১০ কোটি ৫৬ লাখ। র্অথাৎ মোট জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশই র্কমক্ষম। আগামী ১৫ বছরে র্অথাৎ ২০৩০ সাল নাগাদ র্কমক্ষম জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১২ কোটি ৯৮ লাখে যা হবে মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ। দেশে বয়স্ক বা ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষ ৭ শতাংশ। ২০৩০ ও ২০৫০ সালে তা বেড়ে দাঁড়াবে যথাক্রমে ১২ ও ২২ শতাংশে।উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ এবং র্অথনীতিবিদদের মতে চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া র্অথনৈতিক ক্ষেত্রে র্ঈষণীয় সাফল্য র্অজন করেছে তরুণ জনগোষ্ঠীকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে। বাংলাদেশের সামনেও সোনালি ভবিষ্যৎ হাতছানি দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সফল হবে কিনা তা নির্ভর করছে সৃষ্ট সুযোগ কতটা কাজে লাগানো যাবে তার ওপর। বাংলাদেশের জন্য এ মুর্হূতে সমস্যা হলো জনগোষ্ঠীর এক বিরাট অংশ বেকার। যুব জনগোষ্ঠীর একটি অংশ অভিভাবকদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। যুব সমাজের র্কমসংস্থানের যথাযথ পদক্ষেপ যেমন দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করবে তেমন এ ক্ষেত্রে র্ব্যথতা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। দেশের সোনালি ভবিষ্যতের র্স্বাথেই কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে গতি আনার উদ্যোগ নিতে হবে।নিজেদের সম্পদ কাজে লাগিয়ে দেশেই কর্মসংস্থানের পথ খুঁজতে হবে। সময়টা তথ্যপ্রযুক্তির। তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা প্রর্দশনের সুযোগ পাচ্ছে এ দেশের যুবকরা। অনেকেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে কাজের ক্ষেত্র গড়ে তুলতে সক্ষম হচ্ছেন। ফলে সমাজে সম্ভাবনার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। আসলে যুব সমাজই হচ্ছে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতামুক্ত আধুনিক, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রধান চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়তে দেশের এই বিশাল শক্তির উপযুক্ত ব্যবহার হওয়া দরকার। এরাই নিজেদের মতো ও মনন শক্তি ব্যবহার করে নির্ধারণ করবে দেশের আগামী দিনের চলার পথ। তাই সমাজের এই সৃজনশীল ও উৎপাদনমুখী অংশকে উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। এ জন্য যুব সমাজের দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও কর্মের জোগান দিতে হবে। যুব সমাজের অমিত সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তাই প্রবাসে নয়, স্বদেশেই কর্মসংস্থান নিশ্চিতের ব্যবস্থা করতে হবে।লেখক: মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী , সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিষ্ট , গবেষক ও সম্পাদক-নিউজ একাত্তর ডট কম ।
বিচারহীনতার সংস্কৃতিই অপরাধকে প্রশ্রয় দিচ্ছে
০৬জুন২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:দেশে ধর্ষণের ঘটনা একে পর এক ঘটছেই। খবরের কাগজ উল্টালেই ধর্ষণের খবর পাচ্ছি। শতবর্ষী বৃদ্ধার ধর্ষিত হওয়ার খবর আমাদের সত্যিই ব্যথিত করে। বাড়িতে, কর্মস্থলে ও পথে-ঘাটে ধর্ষিত হয় নারী। ধর্ষকদের কাছে শিশু, বৃদ্ধাও রেহাই পায় না। মসজিদের ইমাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ড্রাইভার, হেলপার, সাংবাদিক, ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, রাজনৈতিক, পুলিশ, ব্যবসায়ী ঘরে বাইরে লাঞ্ছিত করে নারীদের। ওদের হাত থেকে আয়া, বুয়া,বুড়া কেউ বাদ যায় না। লাঞ্ছিত হয়, ধর্ষিত হয়।প্রশ্ন হলো ধর্ষণ রোধের উপায় কি? আলেম সমাজ বলবেন- 'পর্দা প্রথায় ফিরে আসলে ধর্ষণ আর হবে না।' আবার অনেকে বলবেন- 'কঠোর শাস্তি দিলে ধর্ষণ কমবে।' সবটাই মানি। ধর্ষকরা কুরুচিপূর্ণ হয় এ কথা কিন্তু সত্য। আমি বলব, আগে ধর্ষকদের মানুষিকতা বদলাতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্ষণের এ ব্যাপকতার পেছনে অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে, মূল্যবোধের অবনতি আর অপরাধীর শাস্তি না হওয়া। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্লিপ্ততাই এ জন্য দায়ী। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে যথেষ্ট শক্তিশালী আইন থাকা সত্ত্বেও নির্যাতনকারীরা বিভিন্ন উপায়ে পার পেয়ে যায়।আমরা জানি, বাংলাদেশের আইন ভারতের চেয়েও শক্তিশালী। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো পুরুষ- কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে তবে সে যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত হবে। একই আইনের ৯(২) ধারায় আছে, 'ধর্ষণ বা ধর্ষণ-পরবর্তী কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটলে ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড হবে।' একই সঙ্গে জরিমানার কথাও আছে। সর্বনিম্ন জরিমানা ১ লাখ টাকা। ৯(৩) ধারায় আছে, 'যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে এবং ওই ধর্ষণের ফলে কোনো নারী বা শিশু মারা যায় তাহলে প্রত্যেকের যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা মৃত্যুদন্ড, কমপক্ষে ১ লাখ টাকা জরিমানা হবে।' ভারতে এ ক্ষেত্রে শুধু যাবজ্জীবনের কথা বলা আছে।অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনে অযোগ্য লোক থাকায় অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় পার পেয়ে যাওয়া ও এর আরেক কারণ। এ ছাড়া ফৌজদারি আইনের দুর্বলতার কারণে অপরাধীর উপযুক্ত শাস্তি হয় না। এ বিষয়ে জনগণের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই এরা শাস্তি পাবে। শুধু আইন প্রয়োগের অভাবে এখানে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ মহামারী ব্যাপক রূপ নিয়েছে। আমাদের প্রচলিত ব্যবস্থায় অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান বেশ কঠিন। সব কিছুতেই আজ দলবাজি চলে। তাতে কিছু মানুষ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে। যৌন নির্যাতনের সঙ্গে ক্ষমতার সম্পর্ক আছে। নারীর ওপর বলপ্রয়োগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটতে পারে। কখনও দেখা যায়, সামাজিকভাবে কোণঠাসা কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ার আশায় অলীক কল্পনা করতে থাকে। কিন্তু কাঙ্খিত সমাধান না পেয়ে, বলপ্রয়োগের পথ বেছে নেয়। ঘরে-বাইরে নারীর ওপর আগ্রাসী যৌন আচরণ, যৌন হয়রানি, যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ সবই পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামোতে নারীর অধস্তনতাই প্রকাশ করে নানারূপে। তাই ধর্ষণ, যৌন হয়রানি বা নিপীড়ন, নারীর সম্মতি ছাড়া তার ওপর যে কোনো ধরনের আগ্রাসী যৌন আচরণ ক্ষমতা প্রদর্শনের, দমন-পীড়নের, কর্তৃত্ব করার কুৎসিত বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়। দৃষ্টিভঙ্গি পুরুষতান্ত্রিক বলেই নারীকে তারা গণ্য করে অধস্তন লৈঙ্গিক পরিচয়ের বস্তু হিসেবে- যা পীড়নযোগ্য। এটা খুবই আশঙ্কার কথা যে, সমাজে বেশিরভাগ নারীই নিরাপদ নয়। যারা উচ্চবিত্ত, সমাজের ওপরতলার মানুষ, এ জাতীয় বিপদ তাদের ছুঁঁতে পারে কম।এ দেশে নিপীড়নের শিকার হচ্ছে নিম্নবিত্ত আর মধ্যবিত্তরাই বেশি। যারা নিম্নবিত্ত বাসিন্দা, তারা সম্ভবত এখনও ধর্ষণকে স্বাভাবিক মনে করেন। ভয়ে চুপ থাকেন। ইজ্জত হারিয়েও মুখ খোলেন না। তারা জানেন, আইন-আদালত করলে তাদের ভাগ্যে উল্টো বিপত্তি ঘটবে। অন্যায় করে অপরাধীরা এভাবে পার পেয়ে যাচ্ছে বলেই দেশে ধর্ষণ বেড়ে গেছে। বর্তমানে আমরা ইমানি শক্তি হারিয়েছি। দেশপ্রেম, সততা, নৈতিক মূল্যবোধ, যৌন কামনা ইত্যাদি নেতিবাচক প্রেরণা আমাদের অন্ধ করে ফেলেছে। তাই সমাজ থেকে সুখ, শান্তি বা আনন্দ হারিয়ে যাচ্ছে। নিঃশর্ত ভালোবাসা বা ভক্তি কমে যাওয়ার কারণে আমাদের গঠনমূলক মনোভাব বা সৃষ্টিশীলতা নষ্ট হচ্ছে। এ কারণে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি শ্রদ্ধার পরিবর্তে আমাদের ভোগের মনোভাব সৃষ্টি হচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত যৌন কামনার প্রভাবে আমাদের মধ্যে ধর্ষণ, জেনা, পরকীয়া ইত্যাদির প্রবণতা বাড়ছে। পার্শ্ববর্তী ভারতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে হৈচৈ পড়ে যায়। এ ব্যাপারে আমাদের দেশের জনগণ একেবারেই নীরব। সচেতন কম। প্রতিবাদ হয় না, হলেও খুবই সামান্য।আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে একাধিকবার চলন্ত বাসের ভেতর নারীর ওপর গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ তার জোর প্রতিবাদ জানিয়েছে। আমাদের দেশে এমন ঘটনা মাঝে মাঝেই ঘটছে কিন্তু প্রতিবাদ নেই। নেই প্রতিকারও। ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা যায়, বাংলাদেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের হার ভারতের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশে সারা বছর ধর্ষণের ঘটনা নারী নির্যাতনের শতকরা ১৮ ভাগ, যা ভারতে ৯.৫ ভাগ। এ ছাড়া শুধু ঢাকায় সারা বছরে ধর্ষণের ঘটনা মোট নারী নির্যাতনের শতকরা ২০.৪৬ ভাগ, যা নতুন দিল্লিতে ৯.১৭ ভাগ। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মতো সমাজ ব্যবস্থায় নারীদের অধিকাংশই এখনও তাদের ওপর নির্যাতন এবং ধর্ষণের মতো ঘটনার কথা প্রকাশ করতে চান না। আর ঘটনা জানাজানি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা পুলিশের কাছে থানায় কিংবা আদালতে মামলা করেন না। তাই সরকারের খাতায় প্রতি বছর যতগুলো ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হচ্ছে প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি হবে বলে মনে করেন সমাজবিদরা।ধর্ষণ রোধে আমাদের সচেতন হতে হবে। অবাধ মেলামেশার সুযোগ, লোভ-লালসা- নেশা, উচ্চাভিলাষ, সংস্কৃতির নামে অশ্লীল নাচ-গান, যৌন সুড়সুড়িমূলক বই-ম্যাগাজিন, অশ্লীল নাটক-সিনেমা ইত্যাদি মানুষকে প্রবলভাবে ব্যভিচারে প্ররোচিত করে, তা বর্জন করতে হবে। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষা ও যৌন শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। বাজে সঙ্গ ও নেশা বর্জন করতে হবে। ধর্ষণের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে হলে কেবল আইনের কঠোর প্রয়োগেও কোনো কাজ হবে না। এর জন্য প্রয়োজন জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে নিজ নিজ পারিবারিক বলয়ে ধর্মানুশীলনে একনিষ্ঠতা, অশ্লীল সংস্কৃতিচর্চার পরিবর্তে শিক্ষণীয় বিনোদনমূলক ও শালীন সংস্কৃতি চর্চার প্রচলন নিশ্চিতকরণ। আর এটা করতে হলে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। অপরাধ তদন্তে ও অপরাধীদের বিচারাধীন রায় পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ধর্ষক যে-ই হোক তাদের দ্রুত আটক করতে হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি, সরকারকে নারীর মর্যাদার আসন নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের বদলে যেতে হবে। আসুন আমরা নারীর ওপর লোলুপ দৃষ্টি নয়; মায়া-মমতার দৃষ্টিতে তাকাই। পরনারীকে কখনও মা, কখনও বোন, কখনো বা মেয়ে ভাবতে হবে। তবেই ধর্ষণ, নারী নির্যাতন কমে আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস।ঘরের বাইরে নারীর নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে আইন রয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর বাস্তবায়ন নেই। বিচারহীনতার সংস্কৃতিই অপরাধকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কাজটিই এখন বেশি জরুরি।ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি শহরেই বহু কর্মজীবী নারীকে সন্ধ্যার পর কর্মস্থল থেকে একাকী ঘরে ফিরতে হয়। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যা যা করা দরকার প্রশাসন তা সুনিশ্চিত করবে, এমনটাই মানুষের প্রত্যাশা। ধর্ষকদের ধরতে হবে প্রথমে, এরপর সুষ্ঠু তদন্তও বিচারের মাধ্যমে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষিতাদের সার্বিক সহায়তা দেয়াটাও সরকারে মানবিক কর্তব্য। এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যাতে নারীরা ঘরের বাইরে নিজেদের নিরাপদ ভাবে। কাজটা কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়। লেখকঃ লেখক: মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী , সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিষ্ট , গবেষক ও সম্পাদক-নিউজ একাত্তর ডট কম ।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ
২০মে,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩৮ তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করেছে দেশবাসী। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে ইতিহাসের এক কলঙ্কময় অধ্যায় রচনা করে কতিপয় জঘন্য এবং বিপদগামী সেনা সদস্য। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা ইতিহাসে আজীবন ঘৃনীত হয়ে থাকবে।সেই কালো রাতে বিদেশে অবস্থান করার কারণে প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা। পরে দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে ভারত হয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে প্রিয় মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। লাখো জনতা সেদিন অভ্যর্থনা জানায় গনতন্ত্রের মানস কন্যা শেখ হাসিনাকে। সেদিন শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানোর জন্য শুধুমাত্র বিমানবন্দরেই উপস্থিত হয় ১৫ লক্ষ্য মানুষ। ১৯৮১ সালের ফ্রেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। দেশে ফিরেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্দোলন শুরু করেন শেখ হাসিনা। এরই ধারাবাহিকতায় ৯০ এর গণ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন হয় এবং বিজয় হয় গণতন্ত্রের। ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালে মোট চার মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয় শেখ হাসিনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্রলীগে সক্রিয় ছিলেন। ছিলেন রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকও। শিক্ষা জীবন থেকেই শেখ হাসিনা গণ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন। শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিরোধী শক্তি কমপক্ষে ১৯ বার সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে বিভিন্ন সময়ে। আল্লাহর অশেষ রহমতে প্রত্যেকবারই প্রাণে বেঁচে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে সংসদ ভবন চত্বরে সাব জেলে পাঠায়। প্রায় ১ বছর পর ২০০৭ সালের ১৯ জুন তিনি মুক্তি লাভ করেন। গণতন্ত্রের মানস কন্যা শেখ হাসিনা মিয়ানমার সামরিক সরকারের হাতে নির্যাতিন এবং বিতাড়িত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে বাংলাদেশে আশ্রয় প্রদান করে সৃষ্টি করেছেন মানবতার এক অনন্য উদাহরণ। পেয়েছেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও। শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে নিচ্ছে। সমুদ্র বিজয় শেখ হাসিনার অন্যতম সাফল্য। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ২১ টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার যে মহৎ উদ্দেশ্য তা সমৃদ্ধ করেছে শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীত্বকে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, বেড়েছে মাথাপিছু আয়। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে গেছে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জায়গায়। যা বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে কল্পনা করা যেত না। কিছু দিনের মধ্যেই পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল এর মত বড় বড় প্রকল্প গুলো বাস্তবায়ন দেখবে এ দেশের জনগন। ভিশন ২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়ন কেবল মাত্র শেখ হাসিনার পক্ষেই সম্ভব বলে এদেশের জনগণ ইতিমধ্যে বিশ্বাস এবং আস্থা স্থাপন করে ফেলেছে। শিক্ষাখাতে যে পরিবর্তন বাংলাদেশে ঘটেছে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনও ঘটেনি। উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে গড়ে তোলা হয়েছে বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রযুক্তিতে এগিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের মানুষ এখন খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ন। অর্থাৎ সার্বিক উন্নয়ন বলতে যা বুঝায় শেখ হাসিনা তা করে দেখিয়েছেন। পরিশেষে বলা যায়, মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও মানুষের হৃদয় মন্দিরে সহস্র শতাব্দি ধরে বেঁচে থাকবে নিজ কর্মগুণে। লেখক: মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী , সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিষ্ট , গবেষক ও সম্পাদক-নিউজ একাত্তর ডট কম ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন ভীষণ বাবাভক্ত
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী :হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যাঁর ঔরসে জন্মগ্রহণ করেন তিনি শেখ লুৎফর রহমান। শেখ মুজিব বঙ্গবন্ধু হতে পেরেছিলেন লুৎফর রহমানের মত আদর্শ বাবা এবং সায়েরা খাতুনের মত আদর্শ মা পেয়েছেন বলেই। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সকল প্রকার আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর বাবা-মায়ের জোরালো সমর্থন ছিল। বাবা লুৎফর রহমান তাঁদের আদরের খোকাকে আর্থিক, সামাজিক, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সহযোগিতা করে গেছেন সবসময়।শেখ লুৎফর রহমানের পূর্বপুরুষবৃন্দ ইরাক থেকে এ দেশে আসেন ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে। তাঁর বাবার নাম শেখ আবদুল হামিদ। পূর্ব পুরুষদের মত তিনিও ছিলেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। শেখ লুৎফর রহমান গোপালগঞ্জ আদালতে সেরেস্তাদারের কাজ করতেন। তিনি যৌবনে তাঁর ভাই, বোনদের দায়িত্ব কাঁধে নেন। শেখ মুজিবুর রহমান মেট্রিক পাসের পর কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে পড়তে যাওয়ার দিনই শেখ লুৎফর রহমান চাকুরি থেকে অবসর নেন। গ্রামের সকলেই তাঁকে মান্য করত। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন বলে মুসলমানরা তো বটেই, হিন্দু ও অন্য ধর্মের লোকজনও তাঁকে শ্রদ্ধা করতেন। অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইয়ের ১৩তম পৃষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, সকলেই আমার আব্বাকে সম্মান করতেন।শৈশবে শেখ মুজিব ছিলেন ভীষণ বাবাভক্ত ছেলে। তিনি বাবার আশেপাশে থাকতে ভালবাসতেন। বঙ্গবন্ধু শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেছেন, তাঁর গলা ধরে রাতে না ঘুমালে আমার ঘুম আসত না। শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়ে জানতে পারি, শেখ লুৎফর রহমান খেলাধুলা পছন্দ করতেন, নিজে ভালো খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি স্থানীয় অফিসার্স ক্লাবের সেক্রেটারী ছিলেন। বঙ্গবন্ধুরও খেলাধুলায় ঝোঁক থাকার কারণে মাঝে মাঝে তাঁর বাবার টিমের সাথে তাঁদের খেলা পড়ত। বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, আর আমি মিশন স্কুলের ক্যাপ্টেন ছিলাম। আব্বার টিম আর আমার টিমে যখন খেলা হত তখন জনসাধারণ খুব উপভোগ করত।শেখ মুজিবুর রহমান ছোটবেলা থেকে সাধারণ মানুষের সুখ, দুঃখ, বেদনা নিয়ে ভাবতেন। অসহায় গরিবদের সাধ্যমত সহযোগিতা করতেন। গায়ের চাদর দিয়ে, ক্ষুধার্তকে খাবার দিয়ে তাঁর সাধারণ অসহায় মানুষদের পাশে থাকার অসংখ্য নজির রয়েছে। শেখ লুৎফর রহমান ও সায়েরা খাতুন ছেলের কর্মকান্ডে খুশি হতেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শেখ মুজিব আমার পিতা বইতে তাঁর দাদা-দাদী সম্পর্কে লিখেছেন, ''আমার দাদা-দাদী অত্যন্ত উদার প্রকৃতির ছিলেন। আমার আব্বা যখন কাউকে কিছু দান করতেন তখন কোনোদিনই বকাঝকা করতেন না বরং উৎসাহ দিতেন। আমার দাদা ও দাদীর এই উদারতার আরও অনেক নজির রয়েছে।''শেখ লুৎফর রহমান সংস্কৃতিমনা ছিলেন। পত্রপত্রিকা পড়তে পছন্দ করতেন বলে নিয়মিত খবরের কাগজ রাখতেন। আনন্দবাজার, আজাদ, বসুমতি, মোহাম্মদী, সওগাত পত্রিকা পড়তেন তিনি। তাঁর দেখাদেখি শেখ মুজিব শৈশব থেকে পত্রিকা পড়তে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। আমরা জানি, শেখ মুজিব জীবনের তিনভাগের একভাগ সময় জেলে কাটিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুকে কোন জেলে রাখা হয়েছে তা অনেকসময় সহজে জানা যেত না। তখন শেখ লুৎফর রহমান ছেলের খোঁজখবর নিতে ছুটে বেড়াতেন এক কারাগার থেকে আরেক কারাগারে। পুত্রের অনিশ্চিত জীবন জানা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে দূরে থাকতে কখনো বলেননি। উল্টো তিনি শেখ মুজিবের পাশে থেকেছেন এবং সাহস যোগাতেন। শেখ মুজিব জেলে গেলে তিনি তাঁকে টাকা পাঠাতেন নিয়মিত, তিনি ছেলের জন্য সবসময় কী খেলো না খেলো, শরীরটা শেখ মুজিবরের কেমন যাচ্ছে কিংবা কারাগারে কী রকম কষ্ট দিচ্ছে, তা নিয়ে চিন্তায় থাকতেন। বঙ্গবন্ধু স্মৃতিচারণ করে লিখেছেন, 'আমি আস্তে আস্তে রাজনীতির মধ্যে প্রবেশ করলাম। আব্বা আমাকে বাধা দিতেন না, শুধু বলতেন, লেখাপড়ার দিকে নজর দেবে।' বঙ্গবন্ধু রাজনীতি করেন-এ নিয়ে মানুষের মাথা ব্যথার শেষ ছিল না। কেউ কেউ বিচার দিত বাবা শেখ লুৎফর রহমানের কাছে। একবার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি তাঁকে হুশিয়ারি করে বলেছেন, আপনার ছেলে যা আরম্ভ করেছে সে জেল খাটবে, তার জীবন নষ্ট হয়ে যাবে। ঐ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সেইদিন এক ঐতিহাসিক জবাব দিয়েছিলেন বাবা শেখ লুৎফর রহমান। তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ''দেশের কাজ করছে, অন্যায় তো করছে না; যদি জেল খাটতে হয়, খাটবে; তাতে আমি দুঃখ পাব না। জীবনটা নষ্ট নাও তো হতে পারে, আমি ওর কাজে বাধা দিব না।'' এমনই দেশ প্রেমি পিতা ছিলেন শেখ লুৎফর রহমান। তাঁর বলিষ্ঠ অবস্থানের কারণে বঙ্গবন্ধু সক্রিয় রাজনীতি করতে পেরেছিলেন।অল্প বয়সে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন শেখ মুজিব। তাঁর স্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা শেখ পরিবারে বড় হয়েছেন। শেখ লুৎফর রহমান ও সায়েরা খাতুন তাঁকে মেয়ের মত করে সংসারে স্থান দিয়েছেন। অপরদিকে সংসারের বড় ছেলে হয়েও বঙ্গবন্ধু রাজনীতি করে বেড়িয়েছেন, সংসার সামলানোর কাজ করে গেছেন শেখ লুৎফর রহমান। শেখ মুজিবুর রহমান বলেছেন, ''আমি তো আব্বার বড় ছেলে। আমি তো কিছুই বুঝি না, কিছুই জানি না সংসারের। কত কথা মনে পড়ল, কত আঘাত আব্বাকে দিয়েছি, তবু কোনোদিন কিছুই বলেন নাই, আমার বাবা একজন সাদা মনের মানুষ ছিলেন। সকলের পিতাই সকল ছেলেকে ভালবাসে এবং ছেলেরাও পিতাকে ভালবাসে ও ভক্তি করে। কিন্তু আমার পিতার যে স্নেহ আমি পেয়েছি, আর আমি তাঁকে কত যে ভালবাসি সে কথা প্রকাশ করতে পারব না।'' বাবা হিসেবে শেখ লুৎফর রহমান ছিলেন শেখ মুজিবের মাথার ওপর বটবৃক্ষ। পিতা হিসেবে তিনি যথার্থই শেখ মুজিবকে বাংলার মানুষের জন্যে উৎসর্গ করেছিলেন।পিতা হিসেবে শেখ মুজিবকে নিয়ে শেখ লুৎফর রহমান গর্বিত বোধ করতেন। স্বাধীনতার পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, 'শেখ মুজিব সৎসাহসী ছিল। উদ্দেশ্য তার সবসময় নেক উদ্দেশ্য ছিল।....গরিবের প্রতি ছোটবেলা থেকে তার খুব দয়া ছিল। সে যেখানেই যেত সেখানেই নেতৃত্ব দিত। শেখ মুজিবকে শৈশবে তাঁর পিতামাতা 'খোকা' বলে ডাকতেন। শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গবন্ধু থেকে তিনি হয়েছেন বাঙ্গালি জাতির জনক, তখনও তিনি শেখ লুৎফর রহমান ও সায়েরা খাতুনের কাছে আদরের 'খোকা'ই ছিলেন। আবার আজকের বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনারও শৈশব কেটেছে দাদা-দাদীর সাথে। তাঁদের আদর যতে টুঙ্গিপাড়ায় বেড়ে উঠেন অতি আদরের নাতনি হাসু হিসেবে। সেই নাতনি শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের প্রধানমন্ত্রী, দেশকে ছাড়িয়ে আজ পৃথিবীর ইতিহাসে শেখ লুৎফর রহমানের নাতনি শেখ হাসিনা পৃথিবীর দ্বিতীয় সৎ প্রধানমন্ত্রী, শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে এক ইতিহাস হিসেবে নিয়ে গেছেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বে রোলমডেল, আমাদের মহান সৃষ্টকর্তার কাছে প্রার্থনা থাকবে শেখ লুৎফর রহমানের নাতনি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা যেন দীর্ঘজীবী হন এবং আমৃত্যু প্রধানমন্ত্রী থাকেন।শেখ লুৎফর রহমান আজীবন সাদামাটা জীবনযাপন করে গেছেন। তিনি জীবত অবস্থায় বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও পরে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু তিনি (শেখ লুৎফর রহমান) বঙ্গভবনে থাকতেন না, বরং গ্রামেই সাধারণের মত জীবনযাপন করতেন। এত সাদামাটা জীবনযাপন আর কোন প্রধানমন্ত্রীর বাবা করেছেন বলে আমার জানা নেই। শেখ লুৎফর রহমান ১৯৭৫ সালের ২৯ মার্চ ইন্তেকাল করেন। তাঁকে নিজ গ্রাম গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় দাফন করা হয়। তাঁর নামে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নামকরণ করা হয়েছে। প্রতিবছর আওয়ামী লীগ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধু থাকবেন। আর যতদিন বঙ্গবন্ধু থাকবেন, ততদিন কৃতজ্ঞতার সাথে জাতি স্মরণ করবে এই মহৎপ্রাণ পিতা, শেখ লুৎফর রহমানকে। লেখক :মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক,কলামিষ্ট ও গবেষক,সম্পাদক-নিউজ একাত্তর ডট কম ।
সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই
৩ মে শুক্রবার, একাত্তর ডট কম,মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী : রমজানে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পায়, আমরা এমন দৃশ্য দেখতেই অভ্যস্ত। কারণ প্রতি রমজানে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে একটি অবৈধ চক্র বরাবরই নিজেদের স্বার্থ হাসিলে তৎপর থাকে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে ওঠে। কিন্তু এবার আমরা তার ব্যতিক্রম লক্ষ করছি। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের মূল্য এখনো সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনে কমেছে ১০ টাকা। শাকসবজি, মাছ-মাংসের দাম এখনো স্থিতিশীল। তবে বাজারভেদে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা।ব্যবসায়ীদের মন্তব্য, রোজার কারণে পেঁয়াজের দাম একটু বেড়েছে। সামনে হয়তো আরেকটু বাড়তে পারে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার পেঁয়াজের দাম বাড়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম। আর এসবের মূলে রয়েছে সরকারের একটি বিশেষ উদ্যোগ, তা হলো রমজানে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সাত সংস্থাকে বাজার তদারকির দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি; যা নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ, RAB ভ্রাম্যমাণ আদালত, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি), কৃষি বিপণন অধিদফতর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশনের বাজার মনিটরিং সেল ও পুলিশ বাহিনী খুচরা বাজার থেকে শুরু করে দেশের পাইকারি ও মোকামগুলোয় অভিযান চালাবে, যাতে রমজানকে পুঁজি করে কারসাজির মাধ্যমে কেউ অতি মুনাফা লুটতে না পারে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে। আমরা সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা যেন অব্যাহত থাকে।মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,সম্পাদক-নিউজ একাত্তর ডট কম
বসবাসযোগ্য হোক ঢাকা পরিকল্পিত শিক্ষার আশা
লন্ডনভিত্তিক ম্যাগাজিন দ্যা ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বা ইআইইউ বাসযোগ্যতা নির্ণয়ে বিশ্বের ১৪০টি শহরের যে তালিকা প্রকাশ করেছে সেখানে বসবাসের অযোগ্য শহর হিসেবে এবারও দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। এটি অবশ্য প্রকাশ করেছে ১৪ আগস্ট ২০১৮ সালে। তাদের জরিপ অনুযায়ী বিশ্বের বাসযোগ্য শহরগুলোর মধ্যে প্রথম ১০টি হলো- অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা, অস্টেলিয়ার মেলবোর্ন, জাপানের ওসাকা, কানাডার ক্যালগেরি, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, কানাডার ভ্যাঙ্কুভার, জাপানের টোকিও, কানাডার টরেন্টো, ডেনমার্কের কোপেনহেগেন ও অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড। বিপরীতে বিশ্বের সবচেয়ে বসবাসের অযোগ্য শহরগুলোর প্রথমে রয়েছে সিরিয়ার দামেস্ক। তালিকার পরবর্তী শহরগুলো হলো- ঢাকা, নাইজেরিয়ার লাগোস, পাকিস্তানের করাচি, পাপুয়া নিউগিনির পোর্ট মরিসবি। ২০১১ সাল থেকে সিরিয়ায় দেশি-বিদেশি বহুমুখী যুদ্ধ চলছে। বিমান হামলা, বোমা বিস্ফোরণ এমনকি রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহারও হচ্ছে সেখানে। ফলে দামেস্কের বসবাস অযোগ্য শহরের তালিকায় এক নম্বরে থাকা অস্বাভাবিক নয়; কিন্তু আমাদের স্বপ্নছোঁয়া উন্নয়নশীল দেশের রাজধানী ঢাকা বছরের পর বছর বসবাস অযোগ্য শহরের তালিকার তলানিতে থাকাটা গভীর বেদনা আর শংকা তৈরি করে। যদি সিরিয়ায় যুদ্ধ না থাকত তবে ঢাকা বসবাস অযোগ্য নগরীর তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করত, এই ভাবনাও আমাদের কাচুঁমাচুঁ করে। অবশ্য আশংকা তো আর নতুন নয়। রাজধানী ঢাকা আর নাগরিক সমস্যা সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছে বহু আগেই। আমাদের প্রাণের শহর বর্তমানে ঢাকার ভেতরের চিত্র দিন দিন প্রত্যাশার বেড়াজাল ছিন্ন করছে। শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদী দখলদারিত্বের কবলে পড়ে আবদ্ধ জলাভূমিতে পরিণত হয়েছে ঐতিহাসিক এই নদ-নদী। নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে দুর্বিষহ যানজট, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংকট, পয়ঃনিস্কাশনের জটিলতা, দুর্গন্ধময় ও বিষাক্ত বাতাস, দূষিত পরিবেশ, অসম্ভব ঘনবসতি, ভেজাল খাবার, গাড়ির বিষাক্ত ধোঁয়া, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্দশা, জলাবদ্ধতা, ফুটপাত দখল, চাঁদাবাজি, মাদকের ভয়াল ছোবল, ছিনতাই, আকাশছোঁয়া দ্রব্যমূল্য, লাগামহীন বাসা ভাড়া, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি ইত্যাদি নানা সমস্যা। অসংখ্য সমস্যার মধ্যে যেটি প্রধান হয়ে উঠেছে তা হচ্ছে যানজট। এ সমস্যা এখন নিত্যদিনের নৈমিক্তিক বিষয়। যানজটে মানুষের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়, তার হিসাব বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্ন সময়ে দিয়েছে। বুয়েটের এক গবেষণায় বলা হয়েছে যানজটের কারণে বছরে ২২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পিপিআরসি বলেছে ২০ হাজার কোটি টাকা। সর্বশেষ জাতিসংঘের ইউএনডিপি এক গবেষণায় বলেছে, যানজটে বছরে ক্ষতি হয় ৩৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। বাস্তবতা হয়তো আরো ব্যাপক, ভিন্ন, আমাদের অন্তরাত্মা বিমর্ষ বিদির্ণ। ঢাকা মহানগরে যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি ও বিভিন্ন নির্মাণকাজের কারণে বায়ুদূষণ আশঙ্কাজনক; মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে মাত্রা সবচেয়ে বেশি। সেখানে প্রতি ঘনমিটার বাতাসে পার্টিকুলেট ম্যাটার (পিএম) ১৭২ মাইক্রোগ্রাম। অথচ জাতীয়ভাবে পিএম ৬৫ মাইক্রোগ্রাম। জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিও ভয়াল ভয়াবহ। মশাবাহিত রোগ; যেমন- চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু প্রভৃতির ঝুঁকি রয়েছে যথেষ্ট মাত্রায়। ময়লা-আবর্জনার কারণে দূষিত পরিবেশ; পেটের পীড়া, জন্ডিস ও টাইফয়েড আক্রান্ত হয় মানুষ। ঢাকার একটি বার্ষিক উপদ্রব ডায়রিয়া। বছরে দুবার, বর্ষার শুরুতে ও শেষে এ উপদ্রব দেখা দেয়। পয়োনিস্কাশন ভালো নয়। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ঢাকার মলমূত্রের মাত্র ২ শতাংশের নিরাপদ নিষ্কাশন হয়। বাকিটা মিশে যায় প্রকৃতিতে, পানির উৎসে। বিবিএস ও ইউনিসেফের তথ্য মতে, ঢাকায় সরবরাহ করা পানির দুই-তৃতীয়াংশে মলবাহিত জীবাণু থাকে। এটি জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় ঝুঁকি। স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভালো নয় বলে একটু বৃষ্টি হলেই স্যুয়ারেজ, ড্রেন আর পাইপের পানি একাকার হয়ে যায়। বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা প্রকট সমস্যা। ঘন্টাখানেকের টানা বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় ঢাকার রাস্তাঘাট। কিছু এলাকা; যেমন- মিরপুর, মানিকনগর, মালিবাগ, ওয়্যারলেস, তেজগাঁও, পল্লবীর কালশী রোড, দৈনিক বাংলা মোড়ে রাস্তায় পানি থইথই করে। ভোগান্তিতে পড়ে নগরবাসী। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও অফিসগামী যাত্রীরা। বেশির ভাগ রাস্তা ও গলি অপ্রশস্ত, ইট-খোয়া-বিটুমিন ওঠা, ময়লায় ভর্তি। এসবের ফল যানজট। রাস্তার সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ নেই। সারা বছর খোঁড়াখুঁড়ি চলে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক না হলেও সন্তোষজনক নয়। ছিনতাই-রাহাজানি নিত্য ঘটনা; খুনখারাবি আছে। বাজারও নিয়ন্ত্রণহীন, বিশেষ করে শাকসবজির বাজার। পাইকারি ও খুচরা দরে পার্থক্য অনেক। বাসযোগ্যতার সূচকে এসব তথ্য-উপাত্ত বিবেচনা করেই তালিকা চূড়ান্ত করে। অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলশ্রুতিতে যেসব সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে তার সবগুলোর উপস্থিতি এখানে ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কোনো কোনো সমস্যা এতটাই প্রকট আকার ধারণ করেছে যে, সেগুলোর সমাধান আদৌ সম্ভবপর কিনা তা ভাবনার বিষয়। দেশের রাজধানী শহরে বসবাসকারী নাগরিকদের যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার কথা তার ধারে কাছেও নাই অভাগা নগরবাসী। তারপরও প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ ঢুকছে এ শহরের পেটে। বিদ্যমান জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরো কিছু মানুষ, সেই সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন সমস্যা আর প্রকট হয়ে উঠছে পুরাতন সমস্যা। এক দুঃসহ জীবন পার করছে এই নগরবাসী। বিভিন্ন সময় ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করার উপায় নিয়ে অনেক নগরবিশারদ, জ্ঞানী গুণী ব্যক্তি তাদের মতামত তুলে ধরার চেষ্টা করেন। প্রতিটি সরকারই বিভিন্ন সময়ে তাদের নানামুখী পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করে নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে থাকে। কখনো কখনো কিছু বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ চোখেও পড়ে। এসব পদক্ষেপের বেশির ভাগই সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছতে পারে না। মাঝপথেই হোঁচট খায়, অর্থের অপচয় হয়, জনগণের ভোগান্তি যে স্তরে ছিল সেই স্তরেই আটকে থাকে। ভাবা হয়ে থাকে অতিরিক্ত জনসংখ্যাই মূল সমস্যা। যে পরিমাণ মানুষ এখানে বাস করে তার ভার সহ্য করার ক্ষমতা এ শহরটি হারিয়ে ফেলেছে। বাকশক্তি থাকলে নিশ্চিত অনেক আগেই চিৎকার করে জানিয়ে দিত এ অক্ষমতার কথা। ঘর থেকে বের হলেই চোখে পড়বে হাজারো মানুষের নানামুখী । রাস্তাঘাট, টার্মিনাল, শপিংমল, পার্কÑ কোথায় নেই মানুষের ভিড়। সরকারি হিসাবে ঢাকায় বর্তমান বসবাসরত জনসংখ্যা ১ কোটি ৬৫ লক্ষ। আর প্রতি বর্গকিলোমিটার বাস করে ৪৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। এসব মানুষের বাসস্থান পয়ঃনিস্কাশন সুবিধা পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ চলাচলের পর্যাপ্ত যানবাহন বাস, রিকশা, চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল, ক্লিনিক, শিক্ষার জন্য স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় তো কোন না কোনভাবে ব্যবস্থা হচ্ছে। এত মানুসের চাওয়া পূরণ করা এই শহরটির পক্ষে সম্ভব কিনা তাও তো ভাবনায় ফেলার কথা। সকল নাগরিকের পরিপূর্ণ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার মতো সম্পদ, সামর্থ্য এ রাষ্ট্রের যেমন নেই, সামর্থ্য থাকলেও এই ছোট্ট জায়গায় সে ধরনের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করাও সম্ভব নয়। একারণেই জনসংখ্যার ভার কমানো, শহরমুখী প্রবণতা রোধ করার জোরালে পদক্ষেপই অযোগ্য এই শহরটিকে বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার প্রথম পদক্ষেপ। গ্রামে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, জীবনযাত্রার মান সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির জন্যই স্লোগান হচ্ছে আমার গ্রাম, আমার শহর আর তা সম্ভব হলে গ্রামাঞ্চলে বিকল্প কাজের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে মৌল মানবিক চাহিদা মিটিয়ে আমার গ্রাম স্বপ্ন পূরণ সম্ভব হবে। অন্যদিকে শহরমুখী প্রবণতাও রোধ করা যাবে। গ্রামে প্রচুর সম্পদ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক যে, প্রতিটি সরকার ঢাকা শহরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান যত পদক্ষেপ নিয়েছে, যত অর্থ ব্যয় করেছে বা যত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তার এক-দশমাংশ পদক্ষেপও নেয়নি গ্রামাঞ্চলে। স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগিয়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে শহরমুখী প্রবণতা রোধ করা যেতো। গ্রামীণ পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে প্রয়োজন নিরীখে কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষাতেও জোর দেওয়া হয়নি। একটি জাতির উন্নতির চাবিকাঠি হলো ডিপ্লোমা শিক্ষা। দারিদ্র বিমোচন, স্বনির্ভর জাতি গঠন ও সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ডিপ্লোমা শিক্ষাই হচ্ছে প্রধান অবলম্বন। মেধা ও মননে আধুনিক এবং চিন্তা চেতনায় অগ্রসর একটি সুশিক্ষিত জাতিই একটি দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। সেজন্যই ডিপ্লোমা শিক্ষাকে জাতির মেরুদ- বলা হয়। জাতির মেরুদ- শিক্ষা, জ্ঞান, প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ডিপ্লোমা শিক্ষার ভূমিকা অনস্বীকার্য। ডিপ্লোমা শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো- জ্ঞান সঞ্চারণ, নতুন জ্ঞানের উদ্ভাবন এবং উদ্ভাবিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা। দুভার্গ্য যে এসমস্ত প্রযুক্তিমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেশীরভাগই রাজধানীমুখী ঢাকা শহরে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ডিপ্লোমা শিক্ষা নিয়ন্ত্রণকারী বিচ্ছিন্ন মতাদর্শের ভিন্ন ভিন্ন ৭টি প্রতিষ্ঠানও ঢাকা শহরে। বাংলাদেশের সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে স্বাস্থ্য, কৃষি, মেরিন প্রকৌশল শিক্ষায় ১১৭২ টি ইনস্টিটিউটের মধ্যে ঢাকাতেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে অর্ধেকের বেশি ৬১৮ টি। বাকি ৫৫৪ প্রতিটি করা হয়েছে ৩৩টি জেলায়। ৩০টি জেলায় কোন ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। উল্লেখ করা প্রয়োজন যে কেবল প্রকৌশল বিষয়টি নিয়ে মাতামাতি করলে উৎপাদনমুখী শিক্ষার মাত্র ৭/৮ ভাগ করা হয়, বাকীরা থাকে আঁধারে। ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত ৬১৮টি ইনস্টিটিউটে প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়। শিক্ষার্থীরা উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকায় অবস্থিত সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। বাকি অল্প কিছু নিজেই শিল্প, কারখানা, খামার, হাসপাতাল, ক্লিনিক গড়ে তুলেন। ঢাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করে ঢাকা শহরের উপর জনসংখ্যার বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেন। অন্যদিকে বাকি ৩৩টি জেলায় ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের স্বল্পতা এবং ৩০টি জেলায় ডিপ্লোমা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকা সত্বেও এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্র/ছাত্রীরা প্রতিবছর ডিপ্লোমা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিভাগ, জেলা, উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত ইপিজেট, স্পেশাল ইকোনামিক জোন, বিসিক শিল্প নগরীতে প্রতিষ্ঠিত শিল্পগুলোতে প্রশিক্ষিত দক্ষ যোগ্যতাসম্পন্ন জনবল নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতাল, ক্লিনিকে প্রশিক্ষণবিহীন অদক্ষ লোক নিয়োগ দিয়ে প্রায় প্রতিদিনই ভুল চিকিৎসার শিরোনাম হচ্ছে। ঢাকা শহরের জনসংখ্যার চাপ হ্রাস করতে হলে প্রতিটি উপজেলায় জেলায় ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট নির্মাণ করে শিল্প কারখানা, খামার, হাসপাতাল, ক্লিনিকে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ঢাকা শহরে নতুন করে কোন শিল্প কারখানা, হাসপাতাল, ক্লিনিক যাতে গড়ে না উঠে তার জন্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট অনুমোদন স্থগিত করতে হবে। এই চিন্তা থেকেই পরিকল্পিত ডিপ্লোমা শিক্ষা ব্যবস্থা, পরিকল্পিত শিল্প কারখানা, হাসপাতাল, ক্লিনিক পরিকল্পিত ঢাকা মহানগরী, পরিকল্পিত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। ডিপ্লোমা শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের সমন্বিত কর্মফলে দূর হবে আঞ্চলিক উন্নয়ন বৈষম্য। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি হবে আলোকিত রাজধানীর নাগরিকরাও আলাদা মর্যাদা ভোগ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। খন রঞ্জন রায়, মহাসচিব,ডিপ্লেমা শিক্ষা গবেষণা কাউন্সিল,khanaranjanroy@gmail.com
শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভাতে সবসময়ই একেকটি চমক থাকে
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে প্রথম সরকার মাত্র সাড়ে তিনবছর দায়িত্বপালনের পর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ট্র্যাজেডির মাধ্যমে তার অবসান ঘটে। তারপর ১৯৮২ সাল পযর্ন্ত ষড়যন্ত্রকারী, সামরিক এবং খুনিদের দ্বারা গঠিত কোনো সরকারই তাদের মেয়াদ পূণর্ করতে পারেনি। তারপর ১৯৮২ সাল থেকে ৯০ সালের শেষাবধি প্রায় ৯ বছরাধিক এরশাদের স্বৈরশাসন চলতে থাকে। ১৯৯১ সাল থেকে গণতান্ত্রিক ধারা সূচিত হলে বিএনপি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ পযর্ন্ত পূণর্ দুই মেয়াদে সরকার পরিচালনা করেন। তবে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রয়ারিতে বিএনপি এককভাবে একটি নিবার্চন করে সরকার গঠন করেছিল যার মেয়াদ ছিল মাত্র দুই সপ্তাহ।কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার গঠনের বিষয়টি অতীতের সব রেকডের্ক ছাপিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন রেকডর্ সৃষ্টি করেছেন। তিনি ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১ এবং ২০০১ সালের সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী হয়েও যেমন রেকডর্ সৃষ্টি করেছেন, ঠিক তেমনি ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পযর্ন্ত প্রথম মেয়াদে, ২০০৯ থেকে ২০১৪ পযর্ন্ত দ্বিতীয় মেয়াদে এবং ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পযর্ন্ত তৃতীয় মেয়াদে এবং ২০১৯ সাল থেকে পরবতীর্ পঁাচ বছরের জন্য টানা তৃতীয় মেয়াদে এবং মোট সবোর্চ্চ চারবার সরকার গঠন করে বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন রেকডর্ সৃষ্টি করলেন শেখ হাসিনা। এবারে একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৯টি আসনে জয়লাভ করে রেকডর্ করেছে। পূবের্ ৪৮ সদস্যের মন্ত্রিসভার ছিল। এবারে ৪৭ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। যেখানে তারুণ্যকে দেয়া হয়েছে অন্যরকম গুরুত্ব। কারণ নিবার্চনের মনোনয়নেও এবার তারুণ্যকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল। মোট ৪৭ সদস্যের মন্ত্রিসভায় ২৪ পূণর্মন্ত্রী, ১৯ প্রতিমন্ত্রী এবং ৩ উপমন্ত্রী দিয়ে সাজানো হয়েছে যারা ৭ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে শপথ নিলেন। সেখানে অধিকতর যোগ্য ও আগামীর পরিকল্পনামাফিক উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উপযোগীদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে মমের্ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভাতে সবসময়ই একেকটি চমক থাকে। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। কারণ প্রতিবার মন্ত্রিসভা গঠনের সময় এমন এমন বিষয় তিনি সামনে নিয়ে আসেন তা আগে কারো মাথাতেই কখনো আসেনি। কারণ, দেখা গেছে, ১৯৯৬ সালের অভিজ্ঞতার পর ২০০৯ সালের সরকারে সম্পূণর্ নতুন একঝঁাক মন্ত্রী নিয়ে সরকার গঠন করে শেষদিকে এসে জোটের শরিক এবং আগে বাদপড়া কিছু জ্যেষ্ঠ নেতাদের পুনরায় মন্ত্রিসভায় অন্তভুর্ক্ত করেন। ২০১৪ সালেও তাদের মন্ত্রিসভায় নিয়েই সরকার পরিচালনা করেন। মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,সম্পাদক-নিউজ একাত্তর ডট কম
ট্রাফিক আইন মানা আমাদের সকলের প্রয়োজন
রাজধানী ঢাকা সহ বাংলাদেশের অন্যান্য শহরগুলোতে যানবাহনের বৃদ্ধির সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। গাড়ি চালানোর সঠিক আইন-কানুন না জানা কিংবা আইন-কানুনকে তোয়াক্কা না করার প্রবণতাই এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও রয়েছে গাড়ির জন্য প্রযোজ্য বিশেষ আইন। গাড়ি চালাতে গিয়ে এগুলো অমান্য করলে আপনার বিরুদ্ধে জরিমানা কিংবা মামলা হতে পারে। ট্রাফিক আইন মানা আমাদের সকলের প্রয়োজন।সড়কের চলার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে পারি। রাস্তা পারাপারে ফুট ওভারব্রীজ বা আন্ডারপাস অথবা জেব্রাক্রসিং ব্যবহার করুন। তাছাড়া যত্রতত্র রাস্তা পারাপার দন্ডনীয় অপরাধ। রাস্তা পারাপারের সময় হেডফোন ব্যবহার করা ও মোবাইলে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। পায়ে হেঁটে চলার সময় ফুটপথ ব্যবহার করুন। চলন্ত গাড়িতে ওঠা-নামা করবেন না। রাস্তায় বা ফুটপথে নির্মাণ সামগ্রী, দোকানের মালামাল, দোকানের সাইনবোর্ড রাখবেন না।ঝুঁকি নিয়ে গাড়িতে ভ্রমণ করবেন না। বাসের ছাদের বাম্পারে, পা-দানিতে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন। বাস স্টপেজ ব্যতীত অন্য কোথাও থেকে বাসে উঠবেন না বা বাস থেকে নামবেন না। কখনই চালককে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাতে উদ্বুদ্ধ করবেন না। রেলওয়ে ক্রসিং বা লেভেল ক্রসিংয়ে লাল বাতি জলন্ত অবস্থায় রাস্তা পার হবেন না। ট্রেন চলে যাবার পর রাস্তা পার হবেন। ভ্রমণকালীন সময়ে অপরিচিত লোকের দেয়া কোনো কিছু খাবেন না। শারীরিক প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ, শিশু ও নারীদেরকে বসার সু্যোগ দিন। বাসের নির্ধারিত স্থান ছাড়া রাস্তায় দাঁড়িয়ে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করা হতে বিরত থাকুন। যাত্রার পরে যাত্রীর নিরাপত্তার ভার অনেকটা থাকে চালকদের ওপর। তাই চালকদেরও মেনে চলতে হবে এই ট্রাফিক আইন-কানুন সমূহ যেমন- অযথা হর্ণ বাজাবেন না। গাড়ি চালানোর সময় অবশ্যই সিটবেল্ট ব্যবহার করুন। গাড়ি চালানোর সময় গতিসীমা মেনে চলুন। ঘনঘন লেন পরিবর্তন করা থেকে বিরত থাকুন। অযথা ওভারটেকিং করবেন না । দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গাড়ির যন্ত্রাংশ চেক করে নিন। উল্টো পথে যে কোন যান চালানো থেকে বিরত থাকুন। গাড়ি চলাচলের নির্ধারিত পথে গাড়ি পার্ক করবেন না। ধারন ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করবেন না। ক্লান্ত বা অসুস্থ বা মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালাবেন না।ট্রাফিক আইন মেনে না চললে আইন অমান্যকারীর প্রতি মোটরযান আইন- ১৯৮৩ প্রয়োগ করা হয়। তাই আসুন, দুর্ঘটনা এড়াতে এবং সমাজের মানুষের সড়ক নিরাপত্তার জন্য ট্রাফিক আইন মেনে চলি। মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,সম্পাদক-নিউজ একাত্তর ডট কম
যেকোনো বিরোধ আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে
শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসছে। ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং হাজার হাজার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিকপক্ষ দফায় দফায় আলোচনা করে রবিবার একটি সমাধানে পৌঁছে। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা নতুন সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে শ্রমিকদের অবিলম্বে কাজে যোগদান করতে বলেছেন। কিন্তু অনলাইনে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, গতকালও আশুলিয়ায় কিছু কারখানা থেকে শ্রমিকরা বেরিয়ে এসে রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করে। পরে পুলিশ এসে তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। সেখানে আটটি কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে।জানা যায়, গত নভেম্বরে ঘোষিত নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। শ্রমিকদের দাবি, কোনো কোনো গ্রেডে বেতন বাড়েনি কিংবা অন্যান্য গ্রেডের সঙ্গে তুলনায় বেতন কমেছে। এই দাবিতে নির্বাচনের আগেই গত ডিসেম্বর মাসে বিচ্ছিন্নভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু হয়। তখন বলা হয়েছিল, নির্বাচনের পর আলাপ-আলোচনা করে বেতনকাঠামোর অসংগতিগুলো দূর করা হবে। নির্বাচনের পর শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে গত ৯ জানুয়ারি বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য শ্রমসচিবকে প্রধান করে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেখানে মালিকপক্ষ ও শ্রমিকপক্ষের পাঁচজন করে প্রতিনিধি রাখা হয়। কমিটির পর্যালোচনার ভিত্তিতে বিভিন্ন গ্রেডে বেতন আরো বাড়িয়ে অসংগতিগুলো দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মালিকপক্ষ যেমন তা মেনে নিয়েছে, তেমনি শ্রমিক প্রতিনিধিরাও তা মেনে নিয়েছেন। বিগত দিনের শ্রমিক বিক্ষোভগুলোতে বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটানো হয়েছে। অভিযোগ আছে, বিক্ষোভের আড়ালে থাকা কিছু স্বার্থান্বেষী মহল শ্রমিকদের ব্যবহার করে দেশে উত্তেজনা ছড়াতে চায়। যদি এমনটিই হয়ে থাকে, তাহলে উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না কেন?শিল্প-কারখানায় শ্রমবিরোধ সব সময়ই ছিল। শ্রমবিরোধ নিরসনের কিছু পদ্ধতিও আছে। ধ্বংসাত্মক আচরণ করা কিংবা রাস্তা অবরোধ করে লাখ লাখ মানুষকে অসহনীয় দুর্ভোগের মধ্যে ফেলে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সহনশীলতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দেবে। যেকোনো বিরোধ আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে। কেউ যাতে শ্রমিকদের ব্যবহার করে ভিন্ন স্বার্থে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকেও কড়া নজর দিতে হবে। সম্পাদকীয়, মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,সম্পাদক-নিউজ একাত্তর ডট কম

মুক্ত কলম পাতার আরো খবর