ড. আসিফ লড়াই অব্যাহত থাকুক; হীনমন্যতার পরাজয় হোক
০৬জুলাই,সোমবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: সেই কতযুগ আগে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, সাত কোটি সন্তান রে, হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে, মানুষ করনি। তারপর দীর্ঘকালের লড়াই সংগ্রাম আর আত্মত্যাগের পর বাঙালির জাগরণের মহাজাদুকর সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু তারই উত্তর দিয়েছিলেন তার স্বপ্নের স্বাধীন দেশে পা রেখেই ১০ জানুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে। জাতির পিতা বলেছিলেন, কবিগুরু দেখে যান আপনার সাত কোটি মানুষ আজ মানুষ হয়েছে, তারা যুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছে।' কিন্তু অল্প কিছুদিনের মধ্যে রবীন্দ্রনাথের কথা নির্মমভাবে সত্য প্রমাণ করেছিলেন কিছু বাঙালি ৭৫ এর ১৫ আগস্ট কালো রাতে পাকিস্তানের সাথে হাত মিলিয়ে জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে। আজ এতো বছর পরেও নিশ্চয় কবিগুরু উপর থেকে হাসছেন আমাদের হীনমন্যতা আর সংকীর্ণতার নগ্নরুপ দেখে! দুইদিন আগে গ্লোব বায়োটেকের গবেষক ড. আসিফ মাহমুদ করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ঘোষণা দেয়ার পর থেকে করোনা মহামারীর প্রেক্ষাপটে আমাদের কিছু মানুষকে ভীষণভাবে গর্বিত করলেও কিছু মানুষের নাক ছিটকানতে লজ্জাও পেয়েছি। পৃথিবীর কত বড় বড় ধনবান দেশ ঘোষণা করেও এখনো সফলতার চূড়ান্ত পর্যায়ে আসতে পারেনি। কিন্তু সেই ঘোষণা আসার সাথে সাথে আমরা আশাবাদী হয়ে উঠেছি কত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছি। আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের জন্য প্রার্থনা আর শুভ কামনার বার্তায় ভরে উঠেছে আমাদের ফেসবুক টাইমলাইনে। কিন্তু আমাদের দেশের সন্তান ড. আসিফ মাহমুদ ভ্যাকসিন আবিষ্কারের প্রচেষ্টার খবরে সকলকে কেন গর্বিত করতে পারেনি ? করোনাভাইরাসের আতঙ্কের সারা পৃথিবী যখন কাঁপছে, তখন বাংলাদেশর সন্তান আসিফ মাহমুদের কথাগুলো মন দিয়ে শুনেছি বারবার। তিনি পরিষ্কারভাবে বলেছেন, এটি কেবলই প্রাথমিক ধাপ সফলভাবে শেষ হয়েছে চূড়ান্ত সফলতার জন্য আরও কয়েক ধাপ অতিক্রম করতে হবে। সেটি আরও কঠিন ও জটিলতা রয়েছে, সেখানে সফলও হতে পারি আবার আমাদের সফলতা নাও আসতে পারে। আর সেই ঘোষণা নিয়ে আমরা কি না করলাম। আমরা তো জানি পৃথিবীতে সব গবেষণা সফল হওয়ার ইতিহাস নেই। তাই বলে মানুষ আর বিজ্ঞানের প্রচেষ্টা থেমে থাকতে পারে না। সভ্যতার ইতিহাসও তাই বলে । কথাগুলো বলতে বলতে তার চোখের জল গড়িয়ে পড়ার দৃশ্যগুলো আমার কাছে দ্রেশপ্রেম আর মানবতাবোধের প্রতীক মনে হয়েছে। মানুষের জীবন বাঁচানোর আবেগ, দায়িত্ববোধ ও চেষ্টা তাকে এমন সাহসী কাজের দিকে নিয়ে এসেছে বলে মনে করি। ড. আসিফের চোখের জল নিয়ে যারা ট্রল করেছেন তাদের তেমন কোন দোষ নেই। কারণ এটি ছিল আমাদের মূল্যবোধ ও দেশ প্রেমের অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ। যেখানে রাষ্ট্রের উঁচু থেকে নিচু পর্যন্ত বিভক্তির কালো রেখে স্পষ্ট হয়ে ওঠে প্রতিদিন, যে দেশে আদর্শবান দেশপ্রেমিক মানুষকে ঘরে বাইরে তিরস্কার শুনতে হয়। যেখানে এমন ট্রল খুব বেমানান নয়! যে দেশে নিজের সংস্কৃতিকে অবজ্ঞা করে বিদেশি শুনলে হুমড়ি খেয়ে পড়ি পড়িমরি করে। যে সমাজের নেতৃত্ব দেয়া তথাকথিত শিক্ষিতজনেরা বিদেশি পণ্য, পোশাক আর খাবার নিয়ে গর্ববোধ করে সেই সমাজে কিছু মানুষ এমন আচরণ আমাদের বিচলিত করে না। যেখানে আমাদের দেশের রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, আমলারা বিদেশে একাধিক বাড়ি না থাকলে বিষণ্ণতায় ভোগেন ডিপ্রেশনের ওষুধ খান, সেখানে এমনটাই কাম্য! অনেকে ভাবছেন বৈশ্বিক ভ্যাকসিন বা টিকা শিল্পে বড় নামগুলো যেমন পিফিজার, মার্ক, গ্লাক্সোস্মিথ, স্যানোফি এবং জনসন অ্যান্ড জনসন এর সাথে পাল্লা দেবে বাংলাদেশের গ্লোব বায়োটেক? যারা তার উদ্যোগ নিয়ে বিদ্রুপ করছেন তাদের অভিভাবকদের খবর নিয়ে দেখেন, তাদের চাওয়া ছিল পড়ালেখা করে তাদের সন্তানেরা হবে বিসিএস ক্যাডার কিংবা বিদেশি কোম্পানির বড় কেরানি কিংবা ছলে বলে কৌশলে এদেশের সম্পদ লুটে পাড়ি জমাবেন ভিনদেশে এক নিরাপদ জীবনের জন্য। তারা চায় না তাদের সন্তান লেখক হোক, শিক্ষক হোক কিংবা গবেষক হোক। সত্য এটাই আমাদের সমাজ চায় না কেউ শিল্পী হোক, ক্রিকেটার হোক, সমাজসেবক কিংবা ফুটবলার। আমরা আমাদের প্রজন্মকে শুধু টাকা উপার্জনের রেসে নামিয়ে দিয়েছি। সেই রেসে দেশপ্রেম কিংবা মানবতাবোধের কোন স্থান নেই। যে দায় নিতে হবে এই সমাজের নীতি নির্ধারক মহামান্য সমাজপতিদের। আমরা জেনেছি নটরডেম কলেজের মেধাবী ছাত্র আসিফ আইডিয়াল স্কুল থেকে এসএসসিতে ঢাকা বিভাগে মেধা তালিকায় ৭ম হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাইক্রোবায়োলজিতে অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয়, এমএসসিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছিল। তিনি জাপানের নাম করা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন। কিন্তু আমদের অনেকের কাছে এটাই হয়তো খটকা লেগেছে বিদেশি নিরাপদ জীবন রেখে তিনি কেন দেশে ফিরে আসলেন ? আসলেই তাই যে দেশে গুণীদের কদর নিতে সুপারিশ করতে হয়। ভালো কাজ কিংবা অর্জনের স্বীকৃতি নিতে ঘুষ দিতে হয় সেই দেশে এমন সাহসী উদ্যোগ অন্যায়ও বটে! কোন শুভ কাজে ধন্যবাদ ও শুভ কামনা জানাতে এত কার্পণ্য আমাদের! আজ যারা বাঙালি কিংবা বাঙালির কর্মের উপর আস্থা রাখতে কষ্ট হচ্ছে। তাদের জেনে রাখা দরকার পৃথিবীকে চমকে দেওয়া বাংলাদেশের কিংবদন্তী কয়েকজন বিজ্ঞানী ও তাদের আবিষ্কার এর কথা। যাদের আবিষ্কার পৃথিবীর সভ্যতাকে ভিন্নরূপ দিয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে বাংলা, বাঙালি ও বাংলাদেশকে নতুন করে চিনিয়েছেন তারা। আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু, ময়মনসিংহে ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর জন্ম এই বিজ্ঞানীর। ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স তাকে রেডিও বিজ্ঞানের জনক বলে অভিহিত করে। সবর্প্রথম উদ্ভিদে প্রাণের অস্তিত্ব অনুভব করেছিলেন বাংলাদেশের প্রথম আধুনিক বিজ্ঞানী আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু৷ বিভিন্ন উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণার এক পর্যায়ে তার মনে হলো, বিদ্যুৎ প্রবাহে উদ্ভিদও উত্তেজনা অনুভব করে এবং সাড়া দিতে পারে৷ এর অর্থ, উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে৷ ১৯১০ সালের দিকে বিজ্ঞানী বসু তার গবেষণার পূর্ণাঙ্গ ফলাফল বই আকারে প্রকাশ করেন৷ ড.কুদরাত-এ-খুদা, গবেষণা জীবনের এক পর্যায়ে, তিনি বনৌষধি, গাছগাছড়ার গুণাগুণ, পাট, লবণ, কাঠ কয়লা, মৃত্তিকা ও অনান্য খনিজ পদার্থ নিয়ে কাজ করেন৷বিজ্ঞানী হিসাবে তিনি ও তার সহকর্মীদের ১৮টি আবিষ্কারের পেটেন্ট রয়েছে, যার মধ্যে ৯টি পাট সংক্রান্ত৷ এর মধ্যে পাট ও পাটকাঠি থেকে রেয়ন, পাটকাঠি থেকে কাগজ এবং রস ও গুড় থেকে মল্ট ভিনেগার আবিষ্কার উল্লেখযোগ্য৷ দেশে বিদেশে তার ১০২টি গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে৷ সত্যেন্দ্রনাথ বসু , ১৯২২ সালে পার্টিকেল স্ট্যাটিস্টিক্স নিয়ে সত্যেন বোসের গবেষণাটি, যেটি আইনস্টাইন নিজে জার্মান ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন, অনেকের ভাষায় ২০ শতকের সেরা দশ কাজের একটি৷ যদিও তিনি নোবেল পুরস্কার পাননি, কোয়ান্টাম থিওরির অনেক গবেষণার পথ খুলে দেয় তার গবেষণা৷ কোয়ান্টাম ফিজিক্সের অনন্য আবিষ্কার গডস পার্টিকেলস বা ঈশ্বর কণা-র নামকরণ করা হয়েছে, তার ও আরেক পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগসের নামে - হিগস-বোসন পার্টিকেল৷ পি সি রায়, বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে ভারতীয় উপমহাদেশের শিল্পায়নে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য৷ ১৮৯৫ সালে তিনি মারকিউরাস নাইট্রাইট আবিষ্কার করেন যা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে৷ এটি তার অন্যতম প্রধান আবিষ্কার৷ তিনি তার সমগ্র জীবনে মোট ১২ টি যৌগিক লবণ এবং পাঁচটি থায়োএস্টার আবিষ্কার করেন৷ মেঘনাদ সাহা, মেঘনাদ সাহা পরমাণু বিজ্ঞান, আয়ন মণ্ডল, পঞ্জিকা সংস্কার, বন্যা প্রতিরোধ ও নদী পরিকল্পনা নিয়ে গবেষণা করেন৷ তাপীয় আয়নবাদ সংক্রান্ত তত্ত্ব উদ্ভাবন করে জ্যোতি পদার্থবিজ্ঞানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন৷ আব্দুস সাত্তার খান, নাসা ইউনাইটেড টেকনোলজিস এবং অ্যালস্টমে কাজ করার সময়ে ৪০টিরও বেশি সংকর ধাতু উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানী খান৷ এই সংকর ধাতুগুলো ইঞ্জিনকে আরও হালকা করেছে, যার ফলে উড়োজাহাজের পক্ষে আরও দ্রুত উড্ডয়ন সম্ভব হয়েছে এবং ট্রেনকে আরও গতিশীল করেছে৷ তার উদ্ভাবিত সংকর ধাতুগুলো এফ-১৬ ও এফ-১৭ যুদ্ধবিমানের জ্বালানি সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে৷ কলেরা রোগের কারণ আবিষ্কার করেছেন ডা. ফারুক৷ কলেরার ঘটক ভিবরিও নামে এক ধরনের শক্তিশালী ব্যাক্টেরিয়ার সংস্পর্শে অন্যান্য ব্যাক্টেরিয়া এসে কীভাবে একে আরও কার্যকরী বা শক্তিশালী করে তোলে সেটিই ছিল তার গবেষণা৷ আন্তর্জাতিক কলেরা রোগ গবেষণা কেন্দ্র বা আইসিডিডিআরবি-তে তিনি ও তার গবেষণা দল এ আবিষ্কার করেন৷ পাটের জিনের আবিষ্কারক ড. মাকসুদুল আলম। এই বাংলাদেশি জিনতত্ত্ববিদের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডাটাসফটের একদল উদ্যমী গবেষকের যৌথ প্রচেষ্টায় ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময়ে সফলভাবে উন্মোচিত হয় পাটের জিন নকশা৷ বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকর সৌর বিদ্যুৎ কোষ উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে ম্যারিল্যান্ডের কপিন স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং গবেষক বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. জামালউদ্দিন ইতিহাস গড়েছেন৷ ড. জামাল উদ্দিন এবং তার গ্রুপ সোলার সেল থেকে শতকরা ৪৩.৪ পুনঃব্যবহারযোগ্য শক্তি উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করেছে যা বিশ্বে এই উৎপাদনের সর্বোচ্চ মাত্রা৷ বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম কিডনি তৈরি করেছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী শুভ রায়৷ এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে অসামান্য কীর্তি৷ ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার সহযোগী অধ্যাপক শুভ রায় তার সহকর্মীদের নিয়ে কৃত্রিম কিডনি তৈরির কাজ শুরু করেন৷চলতি দশকের গোড়ার দিকে দলটি ঘোষণা দেয় যে, তারা কৃত্রিম কিডনি তৈরি করে তা অন্য প্রাণির দেহে প্রতিস্থাপন করে সফল হয়েছে৷ হরিপদ কাপালী ছিলেন এক প্রান্তিক কৃষক। কিন্তু তার আবিষ্কার হরিধান কৃষিবিজ্ঞানের এক অনন্য সাফল্য৷ প্রকৃতির কাছ থেকেই শিক্ষা৷ প্রকৃতিতেই তার গবেষণা৷তার নামে নামকরণ করা এই ধানটি অন্য যে কোনো ধানের চেয়ে উচ্চ ফলনশীল৷ এতে সার ও ওষুধও লাগে অনেক কম৷ সব মিলিয়ে সোনার বাংলার সোনালি আবিষ্কার হরিপদ কাপালীর হরিধান৷ এছাড়াও পৃথিবীতে মানব সভ্যতা এগিয়ে নিতে বাঙালির শত শত আবিষ্কার রয়েছে। যে সকল আবিষ্কার পশ্চিমাদের বিশ্ব বাণিজ্য রাজনীতি কিংবা পুঁজিবাদের আগ্রাসন সামনে আসতে দিতে চায় না। মনে রাখা দরকার আজ বিশ্বক্ষমতাধরদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে তলাবিহীন ঝুঁড়ির তকমা মুছে বিশ্ব দরবারে আজ মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে আমাদের আছে গর্বিত ইতিহাস। বিশ্বাস করি, ত্রিশ লাখ শহীদের স্বপ্নকে ধারণ ও জাতির পিতার মানব মুক্তির দর্শন চর্চার মধ্য দিয়ে বাঙালিদের কেউ দাবায় রাখতে পারবে না। ড. আসিফ আজ পৃথিবীর মানুষের কঠিন দুঃসময়ে আপনার এমন উদ্যোগ দেশপ্রেমিক প্রজন্মকে আরও সাহসী করে তুলবে নিশ্চিত। আপনার এই সাহসী উচ্চারণ আজ বিশ্ববাসী শুনেছে। ওরা পারলেও কেন আমরা পারবো না। বাঙালি হিসেবে আজ আমরা গর্বিত। আপানার পূর্ব-পুরুষদের গর্বিত ইতিহাস নিয়ে আপনার গবেষণা সফলার চূড়ান্ত ধাপ অতিক্রম করুক মানবকল্যাণে সেই প্রার্থনা আমাদের। আপনার লড়াই অব্যাহত থাকুক আমাদের সংকীর্ণতা আর হীনমন্যতার পরাজয় ঘটুক। লেখক: সাধারণ সম্পাদক, গৌরব ৭১, সংগঠক, গণজাগরণ মঞ্চ।
জামাল নজরুল ইসলাম ছিলেন চট্টগ্রাম তথা পুরো দেশের গর্ব ও বিশ্বের সম্পদ
৩০জুন,মঙ্গলবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: যা হোক, শেষ পর্যন্ত সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এবং অকুণ্ঠ সহযোগিতা অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে যোগদান করতে সমর্থ হয়েছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণার জন্য উন্নত মানের একটি গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। এর অধীনে অনেক শিক্ষার্থী মাস্টার্স ও পিএইচ.ডি. করেছে এবং তাদের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অবকাশ নেই। একাধারে পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, বিশ্বতত্ত্ববিদ ও অর্থনীতিবিদ জেএন ইসলাম সম্পর্কে বলতে গিয়ে হকিং বলেছিলেন, জেএন ইসলাম আমার রুমমেট, বন্ধু এবং আমরা ছিলাম পরস্পর পরস্পরের শিক্ষক। জামাল নজরুল ইসলাম সেরা। আমি তার কাছে কিছুই না। সারা বিশ্বে বিজ্ঞানী মহলে জেএন ইসলাম জিনিয়াস ইসলাম নামেও পরিচিত ছিলেন। জাপানি প্রফেসর মাসাহিতো বলেছেন, ভারতের বিখ্যাত জ্যোতিপদার্থ বিজ্ঞানী জয়ন্ত নারলিকা জেএন ইসলামের সহপাঠী ছিলেন। ফ্রেডরিক হয়েল, নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী ব্রায়ান জোসেফসন, স্টিফেন হকিং, প্রফেসর আব্দুস সালাম, রিচার্ড ফাইনমেন, অমর্ত্য সেন প্রমুখ ছিলেন জামাল নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাদের মুখে আমি অনেক বার জেএন ইসলামের কথা শুনেছি। জেএন ইসলামের দি আল্টিমেট ফেইট অফ দি ইউনিভার্স লেখা হয়েছে ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে কিন্তু হকিংয়ের অ্যা ব্রিফ হিস্টরি অব টাইম লেখা হয়েছে ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে। দুটি গ্রন্থ তুলনা করলে নিঃসন্দেহে জেএন ইসলামের বইটি যে কোনো বিবেচনায় শ্রেষ্ঠ। কিন্তু ব্রিফ হিস্টরি অব টাইম নিয়ে আমরা যে তোলপাড় করেছি, জেএন ইসলামের আল্টিমেট ফেইট নিয়ে তার এক সহশ্রাংসও করিনি। হকিং তাঁর মূল্যবান গবেষণা সময়ের অধিকাংশই ব্যয় করতেন বাঙালি প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলামের সঙ্গে। তাদের সম্পর্ক ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব থেকে পারিবারিক বন্ধুত্বে উন্নীত হয়েছিল। হকিংয়ের জ্যেষ্ঠ ছেলে রবার্ট, কন্যা লুসি এবং কনিষ্ঠ ছেলে থিমোতি জামাল নজরুল ইসলামের সঙ্গ খুব পছন্দ করতেন। জামাল নজরুল ইসলামের দুই মেয়ে সাদাফ যাস সিদ্দিকি ও নার্গিস ইসলাম ছিলেন তাদের খুব আদরের। সাদাফ যাসের আমন্ত্রণে লুসি ২০১৪ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে লিট ফিস্টে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ এসেছিলেন। অর্থশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অমর্ত্য সেন ছিলেন জামাল নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশে এলে বন্ধু জামাল নজরুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করার জন্য চট্টগ্রাম চলে গিয়েছিলেন। ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিজ্ঞানী আবদুস সালাম বাংলাদেশে এলে বিমান বন্দরে নেমে বলেছিলেন, জেএন ইসলামকে খবর দিন। ওই সফরে জেএন ইসলামকে একটা পদকও দিয়েছিলেন প্রফেসর আবদুস সালাম। উল্লেখ্য, বয়সে জামাল নজরুল ইসলাম ছিলেন হকিংয়ের সিনিয়র কিন্তু আবদুস সালাম এবং অমর্ত্য সেনের জুনিয়র। জেএন ইসলামের লেখা এবং ক্যাম্ব্রিজ থেকে প্রকাশিত রোটেটিং ফিল্ডস ইন জেনারেল রিলেটিভিটি বইটাকে বলা হয় আধুনিক বিজ্ঞানের একটি অদ্বিতীয় বই। সেটা নিয়ে অধিকাংশ বাঙালি কিছুই জানে না। নিজের ঘরের মানুষের কৃতিত্বের খবর যদি ঘরের মানুষ না রাখে তাহলে বাইরের লোকে রাখবে কেন? জেএন ইসলামের দি আল্টিমেট ফেইট অফ দি ইউনিভার্স ছাড়া আর কোনো বাঙালির বই হিব্রু ভাষায় অনূদিত হয়নি। জামাল নজরুল ইসলাম ছিলেন আপাদমস্তক দেশপ্রেমিক। নিজের আয় থেকে অর্থ জমিয়ে দরিদ্র ছাত্রদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছেন। ১৯৭১ সালে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ বন্ধের উদ্যোগ নিতে বলেছিলেন। সর্বোপরি, বিদেশে সহস্র পাউন্ডের লোভনীয় চাকরি ছেড়ে দিয়ে জামাল নজরুল ইসলাম বাংলাদেশে চলে এসেছিলেন। শুধু তাই নয়, মুহম্মদ জাফর ইকবাল দেশে ফেরার আগে জামাল নজরুল ইসলামের পরামর্শ চাইলে তিনি, জাফর ইকবালকে দ্রুত দেশে ফেরার ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছিলেন। দেশের জন্য, দেশের বিজ্ঞানচর্চার জন্য তিনি যে পরিমাণ আন্তরিকতা দেখিয়েছেন,তা সত্যিই অনন্য বিরল।নিভৃতচারী ও প্রচারবিমুখ এই গুণী বিজ্ঞানী ২০১৩ সালে ৭৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরন করেন। তথ্যসূত্রঃ গুগল, দেশি বিদেশী ম্যাগাজিন, প্রথম আলো, ফেইসবুক,উনাকে নিয়ে আরও অনেক কিছু লেখা যায়। কিন্তু লেখা বড় হলে তো আমরা পড়বো না। এতো পড়ার সময় কই? এতোকিছু বলার উদ্দেশ্য হলো আমরা কেন উনাকে চিনি না? জানি না? কারণ আমাদের মিডিয়া তাদের নিয়ে নিউজ করে না। হাইপ তুলেন না। বইয়ে তাদের নিয়ে লেখা প্রকাশিত হয় না। আমাদের লজ্জা লাগে উনাকে কেন আমরা চিনতে পারিনি? অথচ স্টিফেন হকিং কে কতো আগে থেকেই চিনি।আমার জাতি হিসাবে লজ্জার কারণ তাকে বীর বাঙালী চিনতে পারিনি ? এর দায়ভার পুরো দেশের,মিডিয়ার। জামাল নজরুল ইসলাম স্যার ছিলেন চট্টগ্রাম তথা পুরো দেশের গর্ব না বিশ্বের সম্পদ। এই সম্পদকে আমরা চিনি তার বই গুলো পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়ের মত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে পড়ানো হোক।তাকে নিয়ে গবেষণার করা হোক আর কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্কুলে তার জীবন নিয়ে লেখা কাব্যগ্রন্থ পড়ানো হলে তরুণ প্রজন্মের লোকেরা অনেক কিছু শিখতে পাবে আর আজীবন তাকে ম্মরন রাখবে। তার মত মেধাবী দেশপ্রেমিক বিজ্ঞানী জন্ম নিবে এই বাংলায়। আমরা আলোর প্রদীপ পাব। লেখক - তসলিম উদ্দিন রানা, সাবেক ছাত্রনেতা ও নজরুল গবেষক
সব গনতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে ইতিহাস সৃষ্টি করে এগিয়ে যাওয়ার নাম আওয়ামী লীগ
২৩,জুন,মঙ্গলবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২৩ জুন মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী দল আওয়ামী লীগের ৭১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জানাই নিরন্তর ভালবাসা ও শুভেচ্ছা। দুর্বার গতিতে আধুনিক বাংলা গঠনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে প্রিয় স্বাধীনতা আন্দোলন সংগ্রামের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। উপ-মহাদেশের রাজনীতিতে প্রায় ৬ দশকেরও বেশি সময় ধরে আভিজাত্যে ও অবিচ্ছেদ্য স্বত্ব হিসেবে নিজেদের অপরিহার্যতা প্রমাণ করেছে গণতান্ত্রিকভাবে জন্ম নেওয়া এই দলটি। এদেশের প্রতিটি লড়াই,আন্দোলন-সংগ্রামে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী প্রচীনতম রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের ভূমিকা উজ্জ্বল। আওয়ামী লীগ মানেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূলধারা। ৪৭এর দেশ বিভাগ, ৫২র ভাষা আন্দোলন, ৬২র ছাত্র আন্দোলন,৬৬ এর ছয় দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০এর নির্বাচন আর ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা আন্দোলন, ৭৫ এর পর নিঃশেষ হয়ে পুনরায় উজ্জীবিত, ৯০ এর স্বৈরচ্চার বিরোধী আন্দোলন, ৯৬ খালেদা বিরোধী আন্দোলন, ২০০১ এর বিএনপি জামাতের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ২০০৭সালে ১/১১ এর ফখরুদ্দীন -মঈনুদ্দীন তত্ত্ববধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সহ সব লড়াই সংগ্রাম, গনতান্ত্রিক, অসম্প্রাদায়িক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে আওয়ামী লীগ। আর এসবের প্রতিটি আন্দোলনের কৃতিত্ব এককভাবে আওয়ামী লীগের উপর বর্তায়।এদলটির উপর সব ঝড়জঞ্জা গেছে যা বলার উপেক্ষা রাখেনা তবুও সব কিছু উত্তরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে প্রিয় আওয়ামী লীগ। ১৯৪৯ সালে দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দল আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু করেন।১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরনো ঢাকার কেএম দাসলেনের ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে ততকালীন পাকিস্তানের প্রথম প্রধান বিরোধী দল হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।যা পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে রুপান্তরিত লাভ করেন। প্রথম কাউন্সিলে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি এবং শামসুল হককে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। তখন টগবগে তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন কারাগারে বন্দী। বন্দী অবস্থায় তাকে সর্বসম্মতিক্রমে প্রথম কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।১৯৫৩ সালে ময়মনসিংহে দলের দ্বিতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবর ঢাকার সদরঘাটের রূপমহল সিনেমা হলে দলের তৃতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক সংগঠনে পরিণত হয়। মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে দলের নতুন নামকরণ হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। পরে কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বহাল থাকেন। ৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনে দলের আন্তর্জাতিক নীতির প্রশ্নে সোহরাওয়ার্দী-ভাসানীর মতপার্থক্যের কারণে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ ভেঙে যায়। ভাসানীর নেতৃত্বে গঠিত হয় ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)। আর মূল দল আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান বহাল থাকেন।১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হলে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড স্থগিত করা হয়।১৯৬৪ সালে দলটির কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করা হয়। এতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মাওলানা তর্কবাগীশ ও শেখ মুজিবুর রহমান অপরিবর্তিত থাকেন। ১৯৬৬ সালের কাউন্সিলে দলের সভাপতি পদে নির্বাচিত হন শেখ মুজিবুর রহমান,তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তাজউদ্দীন আহমদ।এর পরে ১৯৬৮ ও ১৯৭০ সালের কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অপরিবর্তিত থাকেন। এই কমিটির মাধ্যমেই পরিচালিত হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ।দেশ স্বাধীনতা লাভ করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রথম কাউন্সিলে সভাপতি হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু স্বেচ্ছায় সভাপতির পদ ছেড়ে দিলে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় পঁচাত্তরে কারাগারে ঘাতকদের হাতে নিহত জাতীয় নেতাদের অন্যতম এএইচএম কামরুজ্জামানকে ও সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল থাকেন মো. জিল্লুর রহমান।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আসে আওয়ামী লীগের ওপর মরণাঘাত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি আবারও স্থগিত করা হয়। ১৯৭৬ সালে ঘরোয়া রাজনীতি চালু হলে আওয়ামী লীগকেও পুনরুজ্জীবিত করা হয়। এতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় যথাক্রমে মহিউদ্দিন আহমেদ ও বর্তমান সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে। ১৯৭৭ সালে এই কমিটি ভেঙ্গে করা হয় আহ্বায়ক কমিটি। এতে দলের আহ্বায়ক করা হয় সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনকে। ১৯৭৮ সালের কাউন্সিলে দলের সভাপতি করা হয় আবদুল মালেক উকিলকে এবং সাধারণ সম্পাদক হন আব্দুর রাজ্জাক। এরপরই শুরু হয় আওয়ামী লীগের উত্থানপর্ব, উপমহাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তোলার মূল প্রক্রিয়া। সঠিক নেতৃত্বের অভাবে দলের মধ্যে সমস্যা দেখা দিলে নির্বাসনে থাকা বঙ্গবন্ধু কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে ফেরার আগেই ১৯৮১ সালের কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয় এবং সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল থাকেন আবদুর রাজ্জাক। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে শেখ হাসিনা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী নির্বাচিত হয়। এরপরে ১৯৯২ সালে শেখ হাসিনা সভাপতি ও জিল্লুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। এরপরে ২০০২ সালে শেখ হাসিনা সভাপতি ও আব্দুল জলিল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। এরপরে ২০০৯ ও ১২ সালে শেখ হাসিনা সভাপতি ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। এরপরে ২০১৬ ও ১৮ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা সভাপতি ও ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাঙালি জাতির ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক, সাধারণ মানুষের ভাত, ভোটের অধিকার আদায়ের আন্দোলন, স্বৈরচ্ছার ও স্বৈরচ্চারীনী নেতৃত্বদানের সুমহান গৌরব অর্জন করেছে। আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর এ ভূখণ্ডে যা কিছু বিশাল অর্জন তা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই হয়েছে। আওয়ামী লীগের ইতিহাসের সঙ্গে এ দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত।বাঙালি জাতির প্রতিটি মহত এবং শুভ অর্জনে আওয়ামী লীগের সংগ্রামী ও ত্যাগী ভূমিকা রয়েছে অতুলনীয়।ভবিষ্যতেও আওয়ামী লীগ এদেশের জনগণের পাশে থাকবে। প্রতিটি লড়াই সংগ্রাম ও আন্দোলনে নেতৃত্ব ভুমিকা অতুলনীয়।৭৫ এর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হত্যার মধ্যে দিয়ে যে রাজনীতি শুরু হয়েছিল তার বিরুদ্ধে অনেক অকুতোভয় দুঃসাহসী লোক মৃত্যুবরন করেন ও অনেকে সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়,অনেকে জেল জুলুম শিকার করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করেছে যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাদের ত্যাগ তিতিক্ষা আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে আজ এদল টিকে আছে।সেই সময় খন্দকার মোস্তাক,জিয়া, এরশাদের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করতে গিয়ে অনেকের জীবন চলে যায় আর অনেকে নির্যাতিত হয়ে যায়। দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত করবে আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে এগিয়ে যাচ্ছে প্রিয় দল আওয়ামী লীগ। গনতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে এরশাদকে হটিয়ে ১৯৯১ সালে নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসে আবারো ভোট ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি শুরু করলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে ভোট ও ভাতের অধিকার বাস্তবায়ন হয়। এরপর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসেন।আবারো বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের নক্সা করে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করে ও ২১ শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা করে জননেত্রী শেখ হাসিনা সহ অনেক নেতা নিহত ও আহত তার বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করে যায়।এরপরে ১/১১ এর বিরুদ্ধে আবারো আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদেরকে লড়াই সংগ্রাম আন্দোলনের মাধ্যমে দেশকে অসম্প্রাদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা ও ভোটের অধিকার বাস্তবায়ন করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে যা ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসে ও আধুনিক বাংলা গঠনে কাজ করে যাচ্ছে সেখানেও দলটির বিরুদ্ধে বহু ষড়যন্ত্রের নক্সা করে যাচ্ছে সব ছিন্নজাল ভেদ করে এগিয়ে যাচ্ছে প্রিয় আওয়ামী লীগ।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ উন্নয়ন শিখরে আরোহন করছে যা বিশ্বের নিকট অনুকরণীয় হয়ে যাচ্ছে। এদেশে যত মেঘা প্রকল্প ও মধ্যম আয়ের দেশ উন্নীত হচ্ছে তা একমাত্র আওয়ামী লীগের মাধ্যমে হচ্ছে। আজ বিশ্বের মডেল দেশ রুপান্তর হওয়ার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে প্রিয় আওয়ামী লীগ। লেখক: তসলিম উদ্দিন রানা, সাবেক ছাত্রনেতা
আদর্শিক,ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের মৃত্যুতে জাতি ও দল হুমকির পথে
১৭জুন,বুধবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজনীতিবিদ হারিয়ে যাওয়া মানে দেশের সম্পদ চলে যাওয়া। যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ ক্ষতি পুরন করার নয়।করোনা ভাইরাস দুর্যোগের কারনে দেশের অনেক অভিজ্ঞ,জনপ্রিয়, ত্যাগী, আদর্শিক,জনতার বন্ধু,আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ হারিয়ে আজ মহাসংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছি।এ সংকট আরো বেশি ঘনিভুত হবে বলে মনে করছি কারন যেসব রাজনীতিবিদ ৭০ এর চেয়ে বেশি তাদেরকে এই মহামারী করোনাভাইরাস ধরলে খুব জটিল আকার ধারণ করে।এছাড়াও অনেকে হার্ট স্ট্রোক করে মারা যাচ্ছে।অনেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন যা অত্যন্ত ক্ষতিকর।আর যারা আক্রান্ত হয়ে ভালো হয়ে আছে তারাও সচেতনতা পালন করে যাচ্ছে। আমরা যারা রাজনীতি করি তারা আজ চিন্তায় আছি কারন ভালো ভালো লোক গুলো যদি চলে যায় শুধু দলের না দেশের জন্য সম্পদ চলে যাওয়া।একজন জাতীয় নেতা সৃষ্টি হতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয় হুট করে নেতা জন্ম নেয়না।তাদের ত্যাগ- তিতিক্ষার ইতিহাস দীর্ঘ। ছাত্র জীবনের মুল্যবান সময় নষ্ট করে যুব রাজনীতি করে মুল দলের প্রবেশ করতে তাদের জীবনের সময় চলে যায়।তারা প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসাবে দাড় করাতে সব লড়াই সংগ্রাম ইতিহাস রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে যায় এক কথায় অতুলনীয়। কত জেল জুলুম হুলিয়া আর নির্যাতিত হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে তারা এগিয়ে যায়।তারা সব সময় জনগণের অধিকার বাস্তবায়ন করতে সোচ্চার থাকে। দেশের ভাষা আন্দোলন,৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন,৬৬ এর দফা আন্দোলন,৭০ এর নির্বাচন,৭১ এর স্বাধীনতা আন্দোলন,৭৫ এর জাতির পিতা হত্যার সরকার বিরোধী আন্দোলন,৯০ এর স্বৈরচ্চার বিরোধী আন্দোলন,৯৬ এর স্বৈরচ্চারীনী আন্দোলন, ২০০১ এর ভোট ভাতের অধিকার আন্দোলন,১/১১ এর আন্দোলন সহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজনীতিবিদদের ভুমিকা অতুলনীয় ও ত্যাগের ইতিহাস। আমরা এই সোনার বাংলাদেশ পেয়েছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতত্ত্বে তার সাথে বাংলার বাঘ খ্যাত শেরে বাংলা একে ফজলুল হক,মুজিব সরকারের উপদেষ্টা মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী,বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের নায়ক শহীদ সোহরাওয়ার্দী,আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক,জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম,তাজুদ্দীন আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী,এ এইচ এম কামরুজ্জামান সহ অসংখ্য নেতাদের ত্যাগ তিতিক্ষা ও মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছি। তা সম্ভব হয়েছে ও একমাত্র দাবীদার রাজনীতিবিদদের কারণে।প্রতিটি অসম্প্রাদায়িক,গনতান্ত্রিক আন্দোলন,বিভিন্ন অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেকে শাহাদাত বরন করেন সবাই রাজনীতিবিদ।এসকল বীরদের কারণে আমরা আজ স্বাধীন দেশ পেয়েছি তার সকল মুলের অবদান রাজনীতিবিদ।আমরা সে সকলদেরকে বিনম্র শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি তাদের প্রতি আমাদের আজীবন ভালবাসা ও শ্রদ্ধা রইল। বর্তমান রাজনীতির কথা উঠলে আমরা দেখতে পাব সেই পুরানো রাজনীতিবিদের কথা যারা এদেশের জন্য অনেকে লড়াই সংগ্রাম করতে গিয়ে অনেক কিছু হারিয়ে তবুও এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু হঠাৎ করে মহাদুর্যোগের করোনাভাইরাস এসে অনেকের জীবন নিয়ে যায় যা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।আমরা ইতিমধ্যে হারিয়েছি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ,আদর্শিক,আন্দোলন সংগ্রামের পুরোধা সাবেক মন্ত্রী,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাতীয় নেতা মোহাম্মদ নাসিম,সিলেটের মাটি ও মানুষের নেতা কিংবদন্তি,সাবেক সিটি মেয়র,কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য জননেতা বদরুদ্দীন কামরান,বিশিষ্ট আলেম,মাননীয় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী,কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক ধর্ম সম্পাদক হাফেজ শেখ আব্দুল্লাহ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয়, জেলা ও স্থানীয় অনেক পরিক্ষীত,জনপ্রিয়, আদর্শিক নেতা হারিয়ে দল ও দেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। অদুর ভবিষ্যতে আরও খারাপের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মনে হয়।এসব নেতাদের স্থান পুরনের মত নেতা তৈরি হচ্ছে না।তাদের জায়গা দখল করছে আমলা,ব্যবসায়ী,উত্তরাধিকারী সুত্রে প্রাপ্তরা,অযোগ্য লোকেরা যা ভবিষ্যত রাজনীতির জন্য অশুভ সংকেত।আগের সেই নেতার মত আদর্শিক,ত্যাগী,যোগ্যতা,ইতিহাস সৃষ্টিকারী নেতার অভাবপুরন হচ্ছে না বিধায় দিনদিন রাজনীতি অধঃপতনের চিত্র ফুঠে উঠছে যা বলার উপেক্ষা রাখেনা।দল ও দেশের অপুরনীয় ক্ষতি হচ্ছে। আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতা নাসিম ভাই,সিলেটের মানুষের জনপ্রিয় নেতা কামরান ভাই,গোপালগঞ্জের আদর্শিক নেতা হাফেজ আব্দুল্লাহ সাহেবের মত তৈরি হওয়া নেতা চলে যাওয়া মানে দলের একটা অংশ ঝরে যাওয়া।এধরনের নেতা তৈরি করা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার।তারা মানবতার নেত্রী,বাংলার দুঃখী মানুষের নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অবিচল আস্থা রেখে দলের দুঃসময়ে' নিবেদিত হিসাবে কাজ করেছে।সুখে দুঃখে দলের সাথে ছিল।দলের জন্য তাদের অবদান ও ইতিহাস যেমন আছে তেমনি দেশের জন্য তাদের অবদান অতুলনীয়।দেশের প্রতিটি উন্নয়ন ও ভালো কাজ করে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে। তৃনমুল থেকে নেতা হওয়া খুবই কঠিন ব্যাপার। তবুও অল্প কয়েকজন যারা নেতা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে বিরাট একটা গ্রুপ কাজ করেছে যাতে তারা ভালো জায়গায় না যায়।তারা সুকৌশলে তৃনমুল থেকে উঠে আসা নেতাদের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্রের নক্সা করে যায় আর যারা লড়াই সংগ্রাম করে আদর্শিক নেতারা আপোষহীন হয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তারাও কষ্টে আছে কেননা তারা যে কমিটিতে কাজ করেছে তাতে বেশী তেলবাজ,চামচা আর অযোগ্য লোকেদের ভরপুর। এসব লোকজনের বিরুদ্ধে কাজ করা কঠিন।তবুও কিছু আদর্শিক নেতা এগিয়ে যাচ্ছে।সত্যে,ত্যাগ ও আদর্শের জয় হোক।এদেশে জননেতা নাসিম,কামরান ও শেখ আব্দুল্লাহ এর মত আদর্শিক,পরিক্ষীত নেতা জন্ম হোক সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। লেখক - তসলিম উদ্দিন রানা,সাবেক ছাত্রনেতা
আমরা ভুলে যাই কাফনে কোনো পকেট থাকে না!
১৬জুন,মঙ্গলবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: জন্মের পরে মানুষে মানুষে ধর্মে, বর্ণে, জাতিতে, ধনী-গরিব, বংশে পার্থক্য থাকলেও মৃত্যুর পরে পরিচয় একটাই মৃত লাশ। বিদায় বেলায় যে পোশাক পরে তার শেষ যাত্রার সমাপ্তি ঘটে সেই কাফনে কোনো পকেট থাকে না। অনেকে ক্ষমতার চেয়ারে বসে কত রকমভাবে অঢেল সম্পত্তির মালিক হন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ভাগ্যকে লুট করে পাচার করে ভিনদেশে। কিন্তু কোনো কিছুই নিয়ে যাওয়ার যে নিয়ম নেই। প্রকৃতির নির্ধারিত নিয়মে মানুষ এসেছে একা, যেতে হবেও একা। সুন্দর এ পৃথিবীর মায়াময় জগৎ আকড়ে ধরে আরও কিছুদিন মানুষের মাঝে বেঁচে থাকার কি প্রাণপণ চেষ্টাই না করি। কিন্তু নিঃশ্বাসের মায়া যে বড্ড শক্ত আর মায়াময়! মানুষ তার জীবন সংগ্রামের সকল অর্জন রেখে যেতে হয় সময়ের কাছে। মোহ আর মায়া অতিক্রম করে হেটে যেতে হয় নিশ্চিন্তপুরের আদিম ঠিকানায়। একটা সময় পর যেখানে সবাই যায় কিংবা যেতে হয়। কেউ কেউ আবার ছুটে যায় আমাদের প্রত্যাশার বাইরে। প্রাকৃতিক নানা দুর্যোগ অতিক্রম করে নব সভ্যতায় প্রবেশ করা কিছু মানুষ তাদের লোভ আর মোহের কাছে পরাস্থ হয় নিমজ্জিত হয় অমানবিকতা আর দানবীয় কর্মযজ্ঞে। চিরবিদায়ের পর কেউ তার কর্মে বেঁচে থাকে মানুষে মানুষে বহুদিন যুগের পর যুগ আর কেউ তার নামের উপর ছড়ায় শুধুই দুর্গন্ধ এবং হয়ে ওঠে এক অভিশপ্ত আত্মায়। বিগত তিনমাসে শত সহস্র বছরের গতিময় মানব জীবনকে থামিয়ে দিলো করোনা নামক একটি ভাইরাস! ভাবতে পারেন কোনো বোমারু বিমান নয়, কোনো শক্তিশালী অস্ত্র, বিশ্বের নামকরা প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীও নয়। নয় কোনো নাপাম বোমা, মলোটভ ককটেল কিংবা আণবিক বোমা। অজানা অচেনা একটি ভাইরাস কেড়ে নিচ্ছে লাখ লাখ মানব প্রাণ। আক্রান্ত হয়েছে লাখ লাখ মানুষ। সংক্রমণের আতঙ্কে জীবনকে বন্দী করে রেখেছে কোটি কোটি প্রাণ। আমরা চায়না, ইটালি, স্পেন কিংবা আমেরিকা থেকে কোনো প্রকার শিক্ষা তো নেইনি বরং যারা এই মহামারী নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন তাদের মুখ বন্ধ করার পায়তারা করা হয়েছে বারবার। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙ্গুল তোলা হয়েছে। বলা হয়েছে সরকারকে বিব্রত করতে এমন আলোচনা। কাউকে আবার দেখে নেয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। গতকাল একটি কলাম পড়ে সত্যি ভীষণ অবাক হয়েছি। দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক প্রিয় কলামিস্ট শ্রদ্ধেয় নঈম নিজাম ভাইয়ের লেখার শিরোনাম, মৃত্যুর দুয়ারে নতুন শপথ - পরিণতির কথা ভাবি না, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলবই। তিনি লেখার শুরুতে লিখেছেন, লেখালেখিটাই করছি। আর তো কিছু করছি না। করোনাকালে অনেক আপনজন সতর্ক করলেন। বললেন, আপনারা কয়েকজন বেশি স্পষ্ট কথা বলছেন, লিখছেন ব্যাংক লুটেরা আর স্বাস্থ্য খাতের মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। এভাবে বলতে নেই। এভাবে লিখতে নেই। ব্যাংকিং খাত ও স্বাস্থ্য খাতের লুটেরারা অনেক বেশি শক্তিশালী। ওরা গভীর জলে চলে। চারদিকে বিশাল নেটওয়ার্ক। হয়রানি করার চেষ্টা করবে অনেকভাবে। পরিকল্পনাও নিচ্ছে। জবাবে বললাম, সমুদ্রে রেখেছি পা, শিশিরে কি ভয়। জানি লুটেরারা ভয়ঙ্কর। তারা বিভিন্নভাবে হয়রানি করবেই। মামলা খেয়েছি ৪০টির বেশি। জামিন নিয়েছি ঢাকা ও বাইরের জেলায় গিয়ে। আরও অনেক ধরনের হুমকি আর হয়রানি মোকাবিলা করেই আজকের অবস্থানে। এখন হয়তো নতুনভাবে নতুন কায়দায় কিছু করার চেষ্টা করতে পারে। করুক। ক্ষমতাসীন দলটির জন্য দুঃসময়ে আমাদের কিছুটা হলেও ভূমিকা ছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লুটেরাদের জন্য দেশটি স্বাধীন করেননি। একদম ঠিক বলেছেন নঈম নিজাম ভাই। জাতির পিতার আজীবন লড়াই আর ৩০ লাখ শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দিবো না। অর্থপাচারকারী, ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, ব্যাংক, শেয়ারবাজার লুটেরাদের জন্য এদেশ আমাদের পূর্বপুরুষ স্বাধীন করেননি। আজ আপনারা আমরা কথা বলার কারণে অনেক লুটেরাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে এবং আগামীতে আরো হবে। এসময় মুখ বন্ধ করলে হবে না, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে এ লড়াই অব্যাহত থাকুক। এই করোনাকালে যারা লুটপাটে সক্রিয় তাদের বিরুদ্ধে বলা-লেখা আপনাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যও বটে। আমরা তরুণ প্রজন্ম আছি আপনার সাথে। শহীদের রক্তে ভেজা দেশে একটি দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট এর কাছে ১৮ কোটি মানুষ জিম্মি থাকতে পারে না। আজ আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ বর্তমানে আমলাদের হাতে। সেই সুযোগে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের নেতৃত্বও তারা দিচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি আজ সবার চোখ খুলে দিয়েছে। কয়েকদিন আগে দেখেছি যুব মহিলা লীগ নেত্রী পতিতা গ্যাং পাপিয়াদের মাধ্যমে কিভাবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও শতশত কোটি টাকার কাজ নিয়ন্ত্রণ করা হত। তবে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতি প্রতিরোধে ২০১৮ সালে সরকারি চাকরি যে আইনটি রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাভ করে তা কোনোক্রমেই দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য ইতিবাচক নয়। আইনটিতে দুর্নীতির অপরাধে অভিযুক্ত কোনো কর্মচারীকে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অনুমোদনের বিধানটি দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন না করে। বরং দুর্নীতিপরায়ণ কর্মচারীদের দুর্নীতি করার ক্ষেত্রে আরও সাহসী করে তুলবে এবং দুর্নীতির প্রসার ঘটাবে। এছাড়া প্রস্তাবিত আইনে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অনুমোদনের বিধান সংযোজন করা হলে তা দুদকের কর্মক্ষমতাকে আরও দুর্বল করে দেবে বলে সাধারণের ধারণা। কোনো একজন সরকারি কর্মচারীর পক্ষে এককভাবে দুর্নীতি করা প্রায় অসম্ভব। সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতির সঙ্গে অধিকাংশ সময়ই প্রতিষ্ঠানের একাধিক স্তরের কর্মচারীরা জড়িত থাকে। কোনো দুর্নীতির সঙ্গে যদি প্রতিষ্ঠানের উপরের স্তর জড়িত থাকে, সেক্ষেত্রে গ্রেফতারের অনুমতি পাওয়া কি খুব সহজ হবে! সংবাদ মাধ্যমে জানা যায় প্রস্তাবিত আইনে গ্রেফতারের অনুমোদনের ক্ষমতা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের ওপরও অর্পণ করা হয়েছে। ক্যাডার কর্মকর্তাদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতি হওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে গ্রেফতারের অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি কি আদৌ সহজ হবে ? তাই এই করোনা মহামারীকালে লুটপাট ও দুর্নীতি রুখে দেশকে বাঁচাতে হলে সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতির সুযোগ দিতে যে আইন করা হয়েছে তা বাতিল করে সময়োপযোগী আইন করতে হবে। অপরাধী সে যেই হোক তার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সকল শ্রেণিপেশার মানুষকে সোচ্চার থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লৌহ মানব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। তবে দূর্ভাগা জাতি হিসেবে আমরা কেন ভুলে যাই যে, সাদা কাফনের কোনো পকেট থাকে না। তুমি যত বড় ক্ষমতাধর আমলা বা রাজনীতিবিদ হওনা কেন কোনো কিছুই নেয়া সম্ভব নয়। ডাক আসলে যেতে হবে খালি হাতে। কর্মফলে মনে রাখবে এ বসুন্ধরা। আর কর্মফলে অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি থাকলে তোমার নামের উপর ছড়িয়ে পড়বে শুধুই দুর্গন্ধ, যা কোনো সুগন্ধী দিয়ে ঢেকে রাখা সম্ভব নয়। আবার ভুলে যাই করোনাভাইরাস কোনো জজ-ব্যারিস্টার, এমপি-মন্ত্রী ,আমলা-কামলা চেনে না। চেনে না কোনো সেনাবাহিনী, Rab-পুলিশ। একবার মহামারীতে রুপ নিলে পালিয়েও বাঁচতে পারবেন না কোনো মহারথী। আজ অজানা নয় এই অচেনা ক্ষুদ্র ভাইরাসের আঘাতে পৃথিবীতে হুংকার দেয়া শক্তিধর দেশও উদাসীনতা ও অবহেলায় নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি। মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। যদিও আমরা দীর্ঘ তিন মাস সময় পেয়েও কাজে লাগাতে পারিনি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে স্বাস্থ্য খাতের লাগামহীন দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে আরও নাজুক অবস্থায় আমাদের দেশ। সাধারণ মানুষের যে কোনো রোগের চিকিৎসা ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্থ করেছে দীর্ঘ সময়ের অব্যবস্থাপনা। অথচ আমরা দেখেছি বিজ্ঞানের আর্শীবাদে পৃথিবী চলে এসেছে মানুষের হাতের মুঠোয়। সৃষ্টির নেশায় মত্ত থেকে মানুষ এক এক সময় আবিষ্কার করেছে এক এক ধরনের জিনিস। হাজার বছরের সাধনায় স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিয়েছে এই গ্রহের শ্রেষ্ঠ জীব দাবি করা মানুষ। সেই সফল মানুষ একটি ভাইরাসের কাছে পরাস্থ পর্যদুস্ত। চিরবিদায়ের সময় যে মমতা বা ভালোবাসা পেত নিজ পরিবার ও স্বজনের কাছ থেকে তাও জুটছে না তার কপালে। এক স্পর্শহীন নির্মম বিদায়ে ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন নিশ্চিন্তপুরের আদি ঠিকানায়। লেখক : এফ এম শাহীন,সম্পাদক, ডেইলি জাগরণ ডট কম,সাধারণ সম্পাদক, গৌরব ৭১।- বিডি প্রতিদিন
ত্যাগী সাবেক ছাত্রনেতা ডাঃ ফেরদৌসের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের নক্সা করে দেশের অফুরনিয় ক্ষতি করছি
৯জুন,মঙ্গলবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: ডাঃ ফেরদৌস বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের নক্সা করেছে কিছু অতী উৎসাহি ও ক্ষমতা লোভী দুর্নীতিবাজ লোক।তারা নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারছে।স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট এই অপ্রচার করার জন্য অনেক কিছু করেছে যা দেশ ও জাতির জন্য অশুভ সংকেত। তারা যে সব অপ্রচার করেছে তা নিজের স্বার্থে করেছে। তারা মনে করেছে ষড়যন্ত্রে করে বিশিষ্ট চিকিৎসক ও ৯০ দশকের মেধাবী ছাত্রনেতা ডাঃ ফেরদৌস খন্দকারকে সরিয়ে নিজেরা অনেক বড় ধরনের লাভবান হবে আর তিনি দেশ ত্যাগ করবে। কিন্তু দেশপ্রেমিক, মানবতার প্রতীক ডাঃ ফেরদৌস তাদের সেই ষড়যন্ত্র বুঝে যায় এবং এক এক করে তার উত্তর দিয়ে যায়।এমনকি তার আমলের আন্দোলন সংগ্রামের সব ছবি ও ভিপি- জিএসসের সব ডকুমেন্টস সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে দাতভাঙা জবাব দিয়েছে। কারন তিনি চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের ৯১-৯২ সালের হেলাল-যোসেফ-ফয়সাল পরিষদের সদস্য ছিলেন আর মিছিলের অগ্রভাগে থাকতেন। সে সময় বিএনপি জামাতের বিরুদ্ধে রাজনীতি করা দুরুহ কাজ ছিল।সব কিছু প্রমান করে তিনি শুধু মেধাবী নয় আদর্শিক ছাত্রনেতা ছিলেন।তার আমলে সবাই ছাত্র রাজনীতি করতে পারত না অসম্ভব দুরদর্শিতার ও সাহস লাগত। ডাঃ ফেরদৌস সাহেবের কোন দোষ নাই।দোষ হল তার নামের সাথে খন্দকার আর বাড়ি কুমিল্লা।সে দোষ নিয়ে এক শ্রেণীর ধান্ধাবাজ লোক নিজের স্বার্থে গুজব ছড়িয়ে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ঢাকতে এসব কাজ করেছে। কারন ডাঃ ফেরদৌস আসলে তাদের সব গোপন ফাঁস হয়ে যাবে।তারা দুর্নীতি করতে পারবেনা। আমেরিকার নিউইয়র্কে, নিউজার্সি,ফ্লোরিডায় অনেক সাবেক ছাত্রনেতার নিকট প্রশ্ন করেছি আর জানতে পেরেছি ডাঃ ফেরদৌস অসম্ভব মেধাবী ও দেশপ্রেমিক লোক।আমেরিকা জুড়ে তার যশ খ্যাতি।সব মিডিয়া তার নাম প্রচার করে আর তার সাক্ষাৎকার নেয়।তারা বলেন তার মত গুনী লোক খুব কম আছে। তোমরা দুর্ভাগ্য তাকে নিয়ে অপ্রচার করেছ।আমেরিকায় করোনা দুর্যোগের সময় তার ভুমিকা অতুলনীয় যা আজীবন এদেশের মানুষ স্মরণ করবে। দেশপ্রেম আর সাবেক ছাত্রনেতা হিসাবে নিজের বিবেকের তাড়নায় দেশের করোনা রোগীর জন্য এসেছে কিন্তু এন্টিবডি সার্টিফিকেট থাকার সত্ত্বেও আমরা তাকে বিমানবন্দরে প্রথমে হোমকোন্টায়মে পাঠিয়ে আর চিকিৎসার সামগ্রী আটকিয়ে রাখে যা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।শুধু আমেরিকা থেকে দেশে মানবতার সেবায় আসে তাকে যে হেনস্তা করেছে তা অত্যন্ত ক্ষতিকর ও অমানবিক কাজ।আর আমরা নিজেরা নিজের ক্ষতি করলাম।আর গুনীজনের অসম্মান করা মানে দেশের ক্ষতি করা।কিজন্য তাকে হোমকোন্টায়মে রাখে আর চিকিৎসা সামগ্রী আটকিয়ে রাখে তার প্রশ্ন সবাই জানে।তবুও বলব ডাঃ ফেরদৌস শুধু আমাদের দেশের সম্পদ না বিশ্বের সম্পদ।এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে দেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন আর মহাদুর্যোগের করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের সেবার করলে জাতি লাভবান হবে,আমরা জয়ী হব,মানুষের অশেষ কল্যাণ হবে। নিউইয়র্কে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে দিনরাত লড়ে ক্লান্তি ভুলে দেশের টানে, মানুষের জন্য মানুষের কল্যাণে ডাঃ খন্দকার ফেরদৌস আসেন বিনা পয়সায় মানুষের সেবা দিতে।তাই আমরা তাকে ফুলে ফুলে ও করতালির মাধ্যমে অভিবাদন জানিয়ে গণসংবর্ধনা করবো,তা না তাকে ছোট করতে গিয়ে নিজেরাই ছোট আর ইতিহাসের খলনায়ক হয়েছি।সবকিছু ভুলে গিয়ে নিজেদের ভুলের ক্ষমাপ্রার্থী হয়ে বাঙালীর সম্পদ,আমাদের সন্তান ডাঃ ফেরদৌসকে গ্রহণ করা হবে উত্তম কাজ।তাহলে দেশ উপকৃত হবে,মানুষ সেবা পাবে। ন্যায় ও সত্য কখনো গোপন থাকেনা। একদিন না একদিন প্রকাশ পাবে।তা চিরন্তন মেনে আমাদের এগুতে হবে তার প্রমাণ ডাঃ ফেরদৌস। তার অতীত কর্মকাণ্ড গুলো বিশ্লেষণ করলে দেখতে পাবে তিনি ৯০ দশকে কত মেধাবী,ত্যাগী ও আদর্শিক ছাত্রনেতা ছিলেন।চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তার সমসাময়িক ডাক্তারেরা তার প্রমাণ। তিনি আমাদের আদর্শের প্রতিক ও ত্যাগের মহিমান্বিত উদ্ভাসিত হয়ে একটি নাম ডাঃ ফেরদৌস। তিনি আমাদের কাছে মানবতার প্রতীক রুপে আবির্ভূত হয়ে দেশের মানুষের কল্যাণে এগিয়ে যাবে এটা আমাদের প্রত্যাশা। জয় হোক মানবতার জয় হোক ডাঃ ফেরদৌসের। লেখক: তসলিম উদ্দিন রানা, সাবেক ছাত্রনেতা।
বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক অধিগ্রহণ করে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দিন
৭জুন,রোববার,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহামারী করোনার পূর্বে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক কতৃপক্ষ জনগণের সেবা দিয়েছেন, জনশ্রুতি আছে বিপুল অর্থ সম্পদের মালিকও হয়েছেন । আজ কেন অসুস্থদের চিকিৎসা দিতে অনিহা? যুদ্ধ এবং আপকালীন সেবা দিতে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করেছে এবং নিজ প্রশিক্ষণ ও দৃঢ়তা মানবিকতার গুণে দেশকে বিশ্বের দরবারে সম্মানের জায়গায় নিয়ে গেছেন। চট্টগ্রামে করোনা রোগীর সেবা নিয়ে যে অবস্থা দৃশ্যমান বা গণমাধ্যমে ও অনলাইন অপলাইন এর মাধ্যমে আমরা দেখছি তা শুধু দুঃখজনকই নয়, মানুষের মৌলিক অধিকার নিয়ে একশ্রেণির ব্যক্তিদের চরম উদাসীনতা। ক্লিনিক মালিকগণ সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে সেবা দেওয়ার চুক্তি করে আজ অবদি তা কার্যকর করছে না, কেন করছে না তার কোন প্রকার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাদের পক্ষ থেকে এখনো আসে নাইন।অসুবিধা থাকলে তা তো জাতিকে জানাতে হবে কিন্তু তা না করে তারা তাদের মতোই চলছে। এইভাবে একটি দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা চলতে পারে না। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক এর এই জাতীয় আচরণ সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিব্রত করেছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এই মুহুর্তে কাল বিলম্ব না করে সরকার যেকোন ২টি বা ৩টি বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অধিগ্রহণ করে (খন্ডকালিন সময়ের জন্য বা আপদকালিন সময়ের জন্য) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোর চট্টগ্রাম ব্রিগেডের হাতে হস্তান্তর করার আহবান করছি। আশাকরি আপদকালিন চিকিৎসায় অত্যন্ত দক্ষ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রয়োজনে নৌ ও বিমান বাহিনীর সহায়তা নিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা করে চট্টগ্রামবাসীকে সুস্থ করে তুলবেন। হাসপাতাল পরিচালনায় অধিগ্রহণকৃত হাসপাতাল / ক্লিনিক এর ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ড বয়, টেকনিশিয়ান সহ সকল মেডিকেল স্টাফ অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। চট্টগ্রামের আপামর জনসাধারন আপনার / আপনাদের সাথে থাকবে। কোন ছাড়, দয়া বা করুণা নয় প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে চট্টগ্রামের সাধারণ জনগণের স্বার্থে । মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই অধিগ্রহণকৃত হাসপাতাল-ক্লিনিক সমূহ পরিচালনায় সেনাবাহিনীকে প্রণোদনা বা এককালীন দেওয়ার অনুরোধ করছি। আমরা চিকিৎসা নিয়ে বাঁচতে চায়, আমাদের বাঁচান - আল্লাহ সহায়। লেখক: শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী,অ্যাডভোকেট,বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ও জজ কোর্ট চট্টগ্রাম,সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক -চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি,আইন বিষয়ক সম্পাদক- চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগ।
জেগে উঠুক বিবেক আর মানবতা
৩জুন,বুধবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্রগ্রামে জীবন নিয়ে চলছে ছিনিমিনি খেলা। দায়িত্বশীল সরকারী দলের নেতা,এমপি,মন্ত্রীরা নির্বিকার। কারো কোন দায়িত্ব নাই। সবাই নিজের মত চলছে, নেই কোন মানবিকতা, নেই কোন দয়া মায়া। মৃত্যুপরী হয়ে বিপন্ন আজ চট্রলবাসী। প্রাইভেট ক্লিনিক গুলো চলছে ডাক্তারদের সিন্ডিকেটে।এই সিন্ডিকেট লুফে নিচ্ছে টাকা আর টাকা।সব কিছু তাদের নিয়ন্ত্রণে।নীরবে বীর চট্রলার জনগণ কাঁদছে আর মরছে।এমনকি উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম,ভাষা সৈনিক,মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক,পীরে কামেল মাওলানা কাজী নুরুল ইসলাম হাশেমী রঃ ডেল্টা কেয়ার,ম্যাক্স ও মেট্রোপলিটন হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে অবশেষে চট্রগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি হন,পরিশেষে তিনি আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেন। তেমনিভাবে এছাক ব্রাদার্সের এমডি হাজী ইউনুস আইসিউর অভাবে মৃত্যুবরন করেন তদ্রূপ ম্যাক্স হাসপাতালের ডাঃ লুতফুল কবির করোনা রোগী হওয়া নিজ হাসপাতালে নেয়নি।এগুলো ছাড়াও অহরহ ঘটনা ঘটেছে তার কোন ইয়ত্তা নেই।লাশের মিছিল চলছে।আরও ভয়ংকর হবে যা বলার উপেক্ষা রাখেনা। হাসপাতাল গুলো কত অমানবিক হলে এইরুপ কাজ করতে পারে তা চট্রলায় দেখতে পাবেন।তারা পশুর চেয়ে অধম যা বলার ভাষা নাই।কত অমানবিক নিষ্ঠুর তার প্রমাণ চট্রগ্রাম। এমনকি দেখতে পাবেন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে চট্রগ্রামে হাসপাতাল করার নামে এক গ্রুপ সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক হতে টাকা হাতিয়ে নিয়ে নাম সর্বস্ব হাসপাতাল করেন।সেই হাসপাতালে চিকিৎসা বলতে কিছুই নাই।সব আইওয়াস।তেমনি আবার আরেকটা গ্রুপ হাসপাতালের নামে ভিন্ন কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ধান্ধায় লিপ্ত।সেই গ্রুপের সাথে আগের অনেক সদস্য দেখতে পাবেন তারা যোগ দিয়েছে যা চট্রলার জন্য খুব কষ্ট আর দুঃখজনক। চট্রগ্রামের সহজ সরল মানুষকে ঠকিয়ে তারা নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারছে।মানুষ না নিজেরা মরবে সেটা তারা টের পাচ্ছে না।চট্রগ্রাম নিউইয়র্কের মত রুপ নিচ্ছে।তাদের মানবতা ও দেশপ্রেমের অভাবে প্রিয় চট্রলা জ্বলে পুড়ে ছারখার। আজ চট্টগ্রামে বড়ই ক্রাইসিস চলছে তা বলার ভাষা নাই।কি হবে প্রিয় চট্রলার? কেমন ভাবে এই নিষ্টুর মানুষরুপী দানবের হাত থেকে রক্ষা পাবে? কখন মানুষের রক্ত চুষা শেষ হবে?সেটাই চট্রলার জনগণের প্রশ্ন? জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে সচেতন,সাহসী আর দেশপ্রেমিক মানুষের এগিয়ে আসার বিকল্প নেই। লেখক: তসলিম উদ্দিন রানা, সাবেক ছাত্রনেতা।
তথ্যমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানাই
২১মে,বৃহস্পতিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঝুঁকিতে থাকা সংবাদকর্মীদের জন্য সরকারের বিশেষ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ ঘোষণা দেন। তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সম্প্রতি চাকরিচ্যুতি, ছয় মাস ধরে কর্মহীনতা বা দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়া এ তিন কারণে সংকটে পড়া সাংবাদিকদের জন্য দলমত নির্বিশেষে আপদকালীন সহায়তার পরিমাণ হবে এককালীন ১০ হাজার টাকা।সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষকে সংবাদ দেওয়ার জন্য কাজ করছেন। করোনাকালের শুরু থেকে এ পেশাজীবীর মানুষ অবসর নেননি। সবাই যে যার দায়িত্ব পালন করে গেছেন। এর মধ্যে করোনা ধরা পড়েছে কয়েকজন মানুষের। একাধিক সাংবাদিক মারাও গেছেন আক্রান্ত হয়ে।সম্প্রতি করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষার জন্যে ব্র্যাকের সহযোগিতায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে নমুনা সংগ্রহের জন্য একটি বুথ চালু করা হয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) উদ্যোগে চালু করা এ বুথে ক্লাব ও ডিইউজে-এর সদস্য, তার স্ত্রী/স্বামী ও সন্তানরা সেবা গ্রহণ করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।আনুষ্ঠানিকভাবে এর কার্যক্রমের সূচনা করেন জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি সাইফুল আলম, ডিইউজে সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মাঈনুল আলম বিএফইজের নির্বাহী পরিষদ সদস্য শেখ মামুনুর রশীদ ও ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদুর রহমান জিহাদ। উপস্থিত ছিলেন ডিইউজের প্রচার সম্পাদক আছাদুজ্জামান, জনকল্যাণ সম্পাদক সোহেলী চৌধুরী ও দফতর সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস সোহেল।এদিকে গত ১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রণোদনা চেয়ে আবেদন করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা। ওইদিন বিকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএফইউজে এবং ডিইউজে নেতারা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে এ বিষয়ে আবেদনপত্র হস্তান্তর করেন। এই আপদকালে সাংবাদিকদের শীর্ষ দুই সংগঠন যে উদ্যোগ নিয়েছে আমরা সেটাকে সাধুবাদ জানাই। সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা এবং তাদের পরিবার-পরিজনকে এর মাধ্যমে অনাকাক্সিক্ষত ঝক্কি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে। এমন উদ্যোগের পাশাপাশি সাংবাদিকদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের ভালোমন্দ বিষয়েও সংশ্লিষ্টরা খোঁজ রাখবেন বলেই আমরা প্রত্যাশা করি। লেখকঃ মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সাংবাদিক,কলামিষ্ট ,সম্পাদক নিউজ একাত্তর ডট কম ও চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান,দৈনিক আজকের বিজনেস বাংলাদেশ ।

মুক্ত কলম পাতার আরো খবর