শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভাতে সবসময়ই একেকটি চমক থাকে
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে প্রথম সরকার মাত্র সাড়ে তিনবছর দায়িত্বপালনের পর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ট্র্যাজেডির মাধ্যমে তার অবসান ঘটে। তারপর ১৯৮২ সাল পযর্ন্ত ষড়যন্ত্রকারী, সামরিক এবং খুনিদের দ্বারা গঠিত কোনো সরকারই তাদের মেয়াদ পূণর্ করতে পারেনি। তারপর ১৯৮২ সাল থেকে ৯০ সালের শেষাবধি প্রায় ৯ বছরাধিক এরশাদের স্বৈরশাসন চলতে থাকে। ১৯৯১ সাল থেকে গণতান্ত্রিক ধারা সূচিত হলে বিএনপি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ পযর্ন্ত পূণর্ দুই মেয়াদে সরকার পরিচালনা করেন। তবে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রয়ারিতে বিএনপি এককভাবে একটি নিবার্চন করে সরকার গঠন করেছিল যার মেয়াদ ছিল মাত্র দুই সপ্তাহ।কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার গঠনের বিষয়টি অতীতের সব রেকডের্ক ছাপিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন রেকডর্ সৃষ্টি করেছেন। তিনি ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১ এবং ২০০১ সালের সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী হয়েও যেমন রেকডর্ সৃষ্টি করেছেন, ঠিক তেমনি ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পযর্ন্ত প্রথম মেয়াদে, ২০০৯ থেকে ২০১৪ পযর্ন্ত দ্বিতীয় মেয়াদে এবং ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পযর্ন্ত তৃতীয় মেয়াদে এবং ২০১৯ সাল থেকে পরবতীর্ পঁাচ বছরের জন্য টানা তৃতীয় মেয়াদে এবং মোট সবোর্চ্চ চারবার সরকার গঠন করে বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন রেকডর্ সৃষ্টি করলেন শেখ হাসিনা। এবারে একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৯টি আসনে জয়লাভ করে রেকডর্ করেছে। পূবের্ ৪৮ সদস্যের মন্ত্রিসভার ছিল। এবারে ৪৭ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। যেখানে তারুণ্যকে দেয়া হয়েছে অন্যরকম গুরুত্ব। কারণ নিবার্চনের মনোনয়নেও এবার তারুণ্যকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল। মোট ৪৭ সদস্যের মন্ত্রিসভায় ২৪ পূণর্মন্ত্রী, ১৯ প্রতিমন্ত্রী এবং ৩ উপমন্ত্রী দিয়ে সাজানো হয়েছে যারা ৭ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে শপথ নিলেন। সেখানে অধিকতর যোগ্য ও আগামীর পরিকল্পনামাফিক উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উপযোগীদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে মমের্ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভাতে সবসময়ই একেকটি চমক থাকে। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। কারণ প্রতিবার মন্ত্রিসভা গঠনের সময় এমন এমন বিষয় তিনি সামনে নিয়ে আসেন তা আগে কারো মাথাতেই কখনো আসেনি। কারণ, দেখা গেছে, ১৯৯৬ সালের অভিজ্ঞতার পর ২০০৯ সালের সরকারে সম্পূণর্ নতুন একঝঁাক মন্ত্রী নিয়ে সরকার গঠন করে শেষদিকে এসে জোটের শরিক এবং আগে বাদপড়া কিছু জ্যেষ্ঠ নেতাদের পুনরায় মন্ত্রিসভায় অন্তভুর্ক্ত করেন। ২০১৪ সালেও তাদের মন্ত্রিসভায় নিয়েই সরকার পরিচালনা করেন। মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,সম্পাদক-নিউজ একাত্তর ডট কম
ট্রাফিক আইন মানা আমাদের সকলের প্রয়োজন
রাজধানী ঢাকা সহ বাংলাদেশের অন্যান্য শহরগুলোতে যানবাহনের বৃদ্ধির সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। গাড়ি চালানোর সঠিক আইন-কানুন না জানা কিংবা আইন-কানুনকে তোয়াক্কা না করার প্রবণতাই এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও রয়েছে গাড়ির জন্য প্রযোজ্য বিশেষ আইন। গাড়ি চালাতে গিয়ে এগুলো অমান্য করলে আপনার বিরুদ্ধে জরিমানা কিংবা মামলা হতে পারে। ট্রাফিক আইন মানা আমাদের সকলের প্রয়োজন।সড়কের চলার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে পারি। রাস্তা পারাপারে ফুট ওভারব্রীজ বা আন্ডারপাস অথবা জেব্রাক্রসিং ব্যবহার করুন। তাছাড়া যত্রতত্র রাস্তা পারাপার দন্ডনীয় অপরাধ। রাস্তা পারাপারের সময় হেডফোন ব্যবহার করা ও মোবাইলে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। পায়ে হেঁটে চলার সময় ফুটপথ ব্যবহার করুন। চলন্ত গাড়িতে ওঠা-নামা করবেন না। রাস্তায় বা ফুটপথে নির্মাণ সামগ্রী, দোকানের মালামাল, দোকানের সাইনবোর্ড রাখবেন না।ঝুঁকি নিয়ে গাড়িতে ভ্রমণ করবেন না। বাসের ছাদের বাম্পারে, পা-দানিতে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন। বাস স্টপেজ ব্যতীত অন্য কোথাও থেকে বাসে উঠবেন না বা বাস থেকে নামবেন না। কখনই চালককে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাতে উদ্বুদ্ধ করবেন না। রেলওয়ে ক্রসিং বা লেভেল ক্রসিংয়ে লাল বাতি জলন্ত অবস্থায় রাস্তা পার হবেন না। ট্রেন চলে যাবার পর রাস্তা পার হবেন। ভ্রমণকালীন সময়ে অপরিচিত লোকের দেয়া কোনো কিছু খাবেন না। শারীরিক প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ, শিশু ও নারীদেরকে বসার সু্যোগ দিন। বাসের নির্ধারিত স্থান ছাড়া রাস্তায় দাঁড়িয়ে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করা হতে বিরত থাকুন। যাত্রার পরে যাত্রীর নিরাপত্তার ভার অনেকটা থাকে চালকদের ওপর। তাই চালকদেরও মেনে চলতে হবে এই ট্রাফিক আইন-কানুন সমূহ যেমন- অযথা হর্ণ বাজাবেন না। গাড়ি চালানোর সময় অবশ্যই সিটবেল্ট ব্যবহার করুন। গাড়ি চালানোর সময় গতিসীমা মেনে চলুন। ঘনঘন লেন পরিবর্তন করা থেকে বিরত থাকুন। অযথা ওভারটেকিং করবেন না । দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গাড়ির যন্ত্রাংশ চেক করে নিন। উল্টো পথে যে কোন যান চালানো থেকে বিরত থাকুন। গাড়ি চলাচলের নির্ধারিত পথে গাড়ি পার্ক করবেন না। ধারন ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করবেন না। ক্লান্ত বা অসুস্থ বা মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালাবেন না।ট্রাফিক আইন মেনে না চললে আইন অমান্যকারীর প্রতি মোটরযান আইন- ১৯৮৩ প্রয়োগ করা হয়। তাই আসুন, দুর্ঘটনা এড়াতে এবং সমাজের মানুষের সড়ক নিরাপত্তার জন্য ট্রাফিক আইন মেনে চলি। মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,সম্পাদক-নিউজ একাত্তর ডট কম
যেকোনো বিরোধ আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে
শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসছে। ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং হাজার হাজার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিকপক্ষ দফায় দফায় আলোচনা করে রবিবার একটি সমাধানে পৌঁছে। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা নতুন সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে শ্রমিকদের অবিলম্বে কাজে যোগদান করতে বলেছেন। কিন্তু অনলাইনে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, গতকালও আশুলিয়ায় কিছু কারখানা থেকে শ্রমিকরা বেরিয়ে এসে রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করে। পরে পুলিশ এসে তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। সেখানে আটটি কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে।জানা যায়, গত নভেম্বরে ঘোষিত নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। শ্রমিকদের দাবি, কোনো কোনো গ্রেডে বেতন বাড়েনি কিংবা অন্যান্য গ্রেডের সঙ্গে তুলনায় বেতন কমেছে। এই দাবিতে নির্বাচনের আগেই গত ডিসেম্বর মাসে বিচ্ছিন্নভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু হয়। তখন বলা হয়েছিল, নির্বাচনের পর আলাপ-আলোচনা করে বেতনকাঠামোর অসংগতিগুলো দূর করা হবে। নির্বাচনের পর শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে গত ৯ জানুয়ারি বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য শ্রমসচিবকে প্রধান করে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেখানে মালিকপক্ষ ও শ্রমিকপক্ষের পাঁচজন করে প্রতিনিধি রাখা হয়। কমিটির পর্যালোচনার ভিত্তিতে বিভিন্ন গ্রেডে বেতন আরো বাড়িয়ে অসংগতিগুলো দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মালিকপক্ষ যেমন তা মেনে নিয়েছে, তেমনি শ্রমিক প্রতিনিধিরাও তা মেনে নিয়েছেন। বিগত দিনের শ্রমিক বিক্ষোভগুলোতে বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটানো হয়েছে। অভিযোগ আছে, বিক্ষোভের আড়ালে থাকা কিছু স্বার্থান্বেষী মহল শ্রমিকদের ব্যবহার করে দেশে উত্তেজনা ছড়াতে চায়। যদি এমনটিই হয়ে থাকে, তাহলে উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না কেন?শিল্প-কারখানায় শ্রমবিরোধ সব সময়ই ছিল। শ্রমবিরোধ নিরসনের কিছু পদ্ধতিও আছে। ধ্বংসাত্মক আচরণ করা কিংবা রাস্তা অবরোধ করে লাখ লাখ মানুষকে অসহনীয় দুর্ভোগের মধ্যে ফেলে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সহনশীলতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দেবে। যেকোনো বিরোধ আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে। কেউ যাতে শ্রমিকদের ব্যবহার করে ভিন্ন স্বার্থে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকেও কড়া নজর দিতে হবে। সম্পাদকীয়, মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,সম্পাদক-নিউজ একাত্তর ডট কম
তারুণ্যের শক্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি, তরুণদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা :নাছির উদ্দিন চৌ
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী :তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে এবং স্বাবলম্বী তরুণ সমাজ গঠন করতে ২০২১ সালের মধ্যে তরুণ উদ্যোক্তা নীতি একটি দক্ষ ও কর্মঠ যুবসমাজ তৈরি করতে ২০২৩ সালের মধ্যে কর্মঠ প্রকল্প এবং প্রতি উপজেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে স্বল্প ও অদক্ষ তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা নিবে আওয়ামী লীগ।প্রশাসন, নীতি ও বাজেট প্রণয়ন,একটি সুচিন্তিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে জাতীয় যুবনীতি পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। তরুণদের কল্যাণ ও উন্নয়ন কাজে প্রশাসনিক গতি আনতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতায় গঠন করা হবে পৃথক যুব বিভাগ।জাতীয় বাজেটে বাড়ানো হবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আর্থিক বরাদ্দ। জেন্ডার বাজেটের আলোকে প্রণয়ন করা হবে বার্ষিক যুব বাজেট।তরুণদের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করার জন্য গঠন করা হবে যুব মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যুব গবেষণা কেন্দ্র। শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি,স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষাকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যুগোপযোগী করতে কারিগরি শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে অধিকতর বিনিয়োগ করা হবে ।বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অগ্রাধিকার পাবে।তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রসারিত করা হবে।প্রতিটি উপজেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি এই কেন্দ্রগুলোকে পর্যায়ক্রমে তরুণ কর্মসংস্থান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য দুটি নতুন প্রকল্প হাতে নেয়া হবে। কর্মঠ প্রকল্প-এর অধীনে স্বল্প শিক্ষিত/স্বল্প দক্ষ/অদক্ষ শ্রেণীর তরুণদের শ্রমঘন, কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যের উপোযোগী জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সুদক্ষ প্রকল্প-এর অধীনে দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা ও যোগানের মধ্যে যে ভারসাম্যহীনতা রয়েছে তা দূর করতে নানামুখি কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।জাতীয় পর্যায়ে স্বল্প, মধ্যম ও উচ্চ শিক্ষিত তরুণদের তথ্য সম্বলিত একটি ইন্টিগ্রেটেড ডাটাবেইজ তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রয়োজন ও তরুণদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির জন্য আবেদন করার আহ্বান জানাতে পারবে।বেকারত্বের হার ২০২৩ সালে ১২ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং কর্মসংস্থানে কৃষি, শিল্প ও সেবার অংশ যথাক্রমে ৩০, ২৫ ও ৪৫ শতাংশে পরিবর্তন করা হবে। ২০২৩ সাল নাগাদ অতিরিক্ত ১ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে। এছাড়া উক্ত সময়ে নতুনভাবে ১ কোটি ১০ লক্ষ ৯০ হাজার মানুষ শ্রমশক্তিতে যুক্ত হবে। আত্মকর্মসংস্থান ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতরুণদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা ও আত্মকর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে কর্মসংস্থান ব্যাংক এর মাধ্যমে বিনা জামানতে ও সহজ শর্তে জনপ্রতি দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা ইতোমধ্যে প্রদান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সুবিধা আরও বিস্তৃত করা হবে।তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে যারা সম্ভাবনার ছাপ রাখতে সক্ষম হবে তাদের জন্য আর্থিক, প্রযুক্তি, উদ্ভাবনসহ অন্যান্য সরকারি সুযোগ সুবিধা আরও বৃদ্ধি করা হবে।তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি করার জন্য প্রণয়ন করা হবে একটি যুগোপযোগী তরুণ উদ্যোক্তা নীতি।বিনোদন, মানসিক স্বাস্থ্য ও শারীরিক বিকাশে সুযোগ বৃদ্ধি,তরুণদের সুস্থ বিনোদনের জন্য প্রতিটি উপজেলায় গড়ে তোলা হবে একটি করে যুব বিনোদন কেন্দ্র যেখানে থাকবে বিভিন্ন ইনডোর গেমস এর সুবিধা, মিনি সিনেমা হল, লাইব্রেরি, মাল্টিমিডিয়া সেন্টার, সাহিত্য ও সংস্কৃতি; কর্নার, মিনি থিয়েটার ইত্যাদি।স্বল্প খরচে তরুণদের কাছে ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছে দিতে ইয়ুথ প্ল্যান চালু করা হবে।উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ও জঙ্গিবাদের প্রথম লক্ষ্য যুবসমাজকে আকৃষ্ট করা। এই যুবসমাজ যাতে আদর্শিক ভ্রান্তিতে মোহাবিষ্ট হয়ে জঙ্গি তৎপরতায় যুক্ত না হয় সেজন্য কাউন্সিলিং এবং তাদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশকে ত্বরান্বিত করা হবে। তরুণদের মাদকের ভয়াল আসক্তি থেকে মুক্ত করতে প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র করা হবে ও বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর জন্য সরকারি অনুদান বাড়ানো হবে।প্রতিটি জেলায় একটি করে যুব স্পোর্টস কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে।নাগরিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন,টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের যাত্রায় যুক্ত করা হবে তরুণদের। মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে আমলে নেয়া হবে তরুণদের বক্তব্য। জাতীয় যুবনীতির বাস্তবায়নের অগ্রগতি পরিবীক্ষণেও যুক্ত করা হবে সমাজের সকল স্তরের তরুণদের। (তারুণ্যের শক্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি) গত ২৩ নভেম্বর দেশের তরুন প্রজন্মের সাথে সরাসরি মতবিনিময় করেন প্রধান্মন্ত্রি শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে তরুণদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুরো অনুষ্ঠানের কথোপকথন এখানে তুলে ধরা হলো- উপস্থাপক: সবাইকে স্বাগতম, শুরু করছি সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) আয়োজিত লেটস টক। আজকের পর্বে আমাদের সাথে উপস্থিত আছেন বিশেষ একজন মানুষ, একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আমাদের সবার প্রিয় আপা। আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি আমাদের এই অনুষ্ঠানে। প্রধানমন্ত্রী: আমারও ভালো লাগছে এই ছোট ছোট বাচ্চাদের দেখে। আমার কাছে বাচ্চাই, কেননা আমার নাতী-নাতনীর বয়সী সব। উপস্থাপক: আজকে আমরা যারা এখানে আছি, তরুণ-তরুণী যারা আছেন, তারা সৌভাগ্যবান আপনার সাথে কথা বলতে পেরে। আমি যদি একটু ঘুরিয়ে আবার জিজ্ঞেস করি, যেই সুন্দর একটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে আপনার নিরলস প্রচেষ্টা, এত পরিশ্রম, সেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কিন্তু তারা (উপস্থিত তরুণ-তরুণীরা)। এই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের সাথে আমাদের এই আয়োজনে এসেছেন আপনি কথা বলতে আপনার কেমন লাগছে? প্রধানমন্ত্রীঃ আমার সৌভাগ্য যে এই তরুণ প্রজন্ম আমার সামনে। আর আমি মনে করি বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে আমাদের তরুণ প্রজন্মই পারবে। আজকে যারা তরুণ শুধু তারা নয়, বরং ভবিষ্যতেও, যেমন আজকেও যে শিশুটি জন্মাবে সেও তো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে। তবে তাদের জন্য একটি সুন্দর সমাজ গড়ে রেখে যেতে চাই। উপস্থাপক: তরুণ শেখ হাসিনা সেটা সমন্ধে একটু জানতে চাই প্রধানমন্ত্রীঃ প্রথমে ঢাকায় আসলাম ৫২ সালে। তখন বাবা কারাগারে কিন্তু উনার সাথে দেখা হলো না। হাঙ্গার স্ট্রাইক করার কারনে তাকে নিয়ে যাওয়া হলো ফরিদপুরে। আবার আমরা ফিরে গেলাম। এরপরে নির্বাচন হলো ১৯৫৪ সালে। আব্বা তখন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য। তিনি আমাদেরকে নিয়ে এলেন ঢাকায় ৫৪ সালে। আমরা, আমি, কামাল আর জামাল তখন ছোট মাত্র হামাগুড়ি দেয়, একেবারেই ছোট, কোলে। তখন যখন এসেছি তখনো আমার বাবা খুব ব্যস্ত। পাইনা। উনি সেই সকাল থেকে বেরিয়ে যান আর গভীর রাতে যখন ফেরেন আমরা ঘুমিয়ে থাকি। উপস্থাপকঃ অভাবটা বোধ করতেন, তাই না? প্রধানমন্ত্রীঃ হ্যাঁ, ওই অভাবটা ছিলো। তা ছাড়াও গ্রামের বাড়িতে দাদা-দাদি, আত্মীয়-স্বজন তাদের সবার সাথে থেকে যেটা পেতাম শহরে পাশে মনে হত একটু অন্যরকম, ঐ পরিবেশটা নেই। এরপরেই আব্বা মিনিস্টার হলেন। মিনিস্টার হওয়ার পরে আমরা মিন্টো রোডে ছিলাম। তখন জীবনটা একটু অন্যরকম হলো, বেশ একটু গাড়িতে বেড়াতে যেতাম। স্কুলে ভর্তি করতে নিয়ে গেলেনম ভর্তি করে দিলেন। এরপর ধীরে ধীরে আবার একসময় আব্বা জেলে। তারপর আবার আমরা বাড়ি ছাড়া। ১৪ দিনের নোটিশে আবার আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হলো। কোথায় মিন্টো রোড, সেখান থেকে গেলাম নাজির বাজার, আলাউদ্দিন রোড। পুরনো ঢাকায় যেখানে গাড়িটারি ভেতরে যায় না। রিকশাই চলে। আমাদের গাড়িটারি কিছুই নাই। আমরা রিকশায় চড়ি। এই যে আমাদের জীবনটা, সব সময় উত্থান পতনের মধ্য দিয়েই চলত। তাতে একটা জিনিস, আমরা কখনো অভাব বোধ করতাম না। আমার বাবা বোধয় ছোট বেলা থেকে আমাদের এমনভাবে শিক্ষা দিয়েছিলেন, জীবনটা যখন যেভাবে আসবে সেভাবে মেনে নিতে হবে। আমরা কিন্তু সেভাবেই মেনে নিতাম এবং সেভাবেই করতাম। আব্বা জেলে স্কুল বন্ধ। যেহেতু সরকারি স্কুলে ছিলাম, তারা নাম কেঁটে দিত। একবার নয়, বারবার এ অবস্থা আমাদের জীবনে এসেছিলো। দর্শক প্রশ্ন- মুক্তিযুদ্ধ কালে আপনার পরিবার অবরুদ্ধ ছিলো, সেই সময়টার বিষয়ে জানতে চাই। কিভাবে কেটেছিলো? প্রধানমন্ত্রীঃ আমি যেহেতু সব সময় রাজনীতিতে ছিলাম, আমরা ভাই-বোন সবাই রাজনীতিতে ছিলাম। আর দেশ স্বাধীন হওয়ার জন্য আমার বাবার যে পরিকল্পনা ছিলো, এটাও আমরা নিজেরা অনেকটাই জানতাম। বাহিরে হয়ত ততটা প্রচার ছিলো না। কিন্তু তিনি আমাদের বলতেন জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত কি হবে না হবে সব কিন্তু তিনি ঠিক করে দিয়ে গিয়েছিলেন। যখন স্বাধীনতা ঘোষণাটা আসল, ৭ই মার্চের পর থেকে দেখলাম সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছে। ৭১ সালের ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরু হওয়ার সাথে সাথে উনার যেই মেসেজটা ছিলো, সেটা বিজিবি তৎকালীন ইপিআর ওয়ারলেসের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দিলো। সেই সাথে সাথে পাকিস্তান হানাদার বাহিনি আমাদের বাড়িতে আক্রমণ করে। তারা বাড়িতে ঢোকার ঠিক কিছুক্ষণ আগে জাকির খান নামে এক ভদ্রলোক আমাদের পরিচিত তিনি এসেছিলেন। তিনি আমাকে, আমার ছোট বোন রেহানাকে এবং আমাদের এক খালাতো বোনকে বললেন, আপনারা এখনই এই বাসা থেকে চলে যাবেন। এদের বিশ্বাস করবেন না। এরা কি করতে পারে আপনারা জানেন না। এক রকম জোর করেই আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দিলেন। এরপর আব্বাকে এরেস্ট করার পর কারফিউ জারি হলো। আর আমার মা ছিলেন বাসায়, আমার ছোট ভাইটা রাসেল আর মেঝো ভাই জামাল। আমরা এসে মাকে খুঁজে পেলাম। ঐ সময় আমরা বিভিন্ন যায়গা থেকে শেল্টার নিয়েছিলাম। কিন্তু এক সময় আমরা গ্রেফতার হয়ে গেলাম। আর যেহেতু তখন আমি অন্তসত্তা ছিলাম। আমার প্রথম সন্তান হবে। কোথাও থাকা, শেল্টার পাওয়াও খুব কষ্টকর হয়ে যাচ্ছিলো। যখন এরেস্ট করা হলো, পুরাতন ধানমন্ডি-১৮ নম্বর রোডের এক তলা একটি বাড়িতে আমাদের নিয়ে রাখা হলো। সেই বাড়িটায় কিছুই ছিলো না। কোন ফার্নিচার নাই, কিছুই নাই। সব ধূলো মাটিতে ভরা। আর পাকিস্তান আর্মিরা আমাদের একটি কম্বল দেয়া হলো। পুরো পরিবারের জন্য ঐ একখানা কম্বল ছিলো একমাত্র সম্বল। কোন খাওয়া-দাওয়া কিছু নাই। কারণ দুপুর বেলা এরেস্ট করে নিয়ে গেছে সারাদিন-সারারাত আমরা ঐ অবস্থায় থাকতে হলো আমাদেরকে। আর তারপর থেকে ঐ বন্দিখানায় তাদের অত্যাচারের শেষ ছিলো না। খুব অত্যাচার করত। অনেক সময় বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিতো। আর আমাদের কোন প্রাইভেসি ছিলো না। কোন পর্দা নাই, আমাদের কাছে কিছুই ছিলো না। এই অবস্থায় থাকতে হয়েছে। এই অবস্থায় আমার প্রথম সন্তান জন্ম হলো। সবচাইতে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, জন্ম হওয়ার পর ওকে যে প্রথম কাপড়টা দেয়া হবে সেটাও দেবার কোন ক্ষমতা আমাদের ছিলো না। কারণ আমাদের বাজারটাজার করার এত তখন সুযোগও ছিলো না। হাসপাতালের কাপড় দিয়েই কোন মতে তাকে রাখা হলো। আমার এক বান্ধবী ছিলো, সেই সন্তান সম্ভাবা ছিলো। ওর বোনের অপারেশন হয়েছিলো, পাশের কেবিনে ছিলো। ও কতগুলো কাপড় দিয়ে গেলো আমাকে। সেখানে ঐ অবস্থায় আমরা যখন থাকতাম, মাটিতে, স্যাতস্যাতে ফ্লোর, সেখানেই থাকতে হতো। তবে একটা জিনিস আমরা কখনো মনের জোর হারাইনি। আমাদের একটা ধারনাই ছিলো, দেশ একটি মুক্ত হবেই, স্বাধীন হবেই। আর জামাল ঐ জেলখানায় থাকতে একদম প্রস্তুত ছিলো না। সে বলত, আমাকে মুক্তিযুদ্ধে যেতে হবেই। ও খুব গেরিলা কায়দায় একদিন পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে চলে গেলো। অতকষ্টের মধ্যে থেকেও দেশ স্বাধীন হয়েছে এটাই বড় কথা। কিন্তু যেদিন পাকিস্তান আর্মি সেরেন্ডার করল ১৬ ডিসেম্বর। আমরা কিন্তু মুক্তি পাইনি। তখন মনে হতো সত্যেন সেনের কথা, রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ। চারিদিকে শুনি জয় বাংলা স্লোগান। আমরা ভেতর থেকে স্লোগান দিতাম। আমি, মা, রেহানা সবাই কিন্তু ভেতর থেকে স্লোগান দিচ্ছি। আমরা কিন্তু তখনো বন্দী এবং সারাদিন ওরা ওখানে মানুষ হত্যা করল। আমরা শুনছি মানুষের চিৎকার, আহাজারি, কান্না। ১৭ ডিসেম্বর আমরা মুক্তি পেলাম। ত ঐ সময়টার কথা আসলে, খাওয়া নাই, দাওয়া নাই। যেমন একটা কেরোসিনের চুলা, একটা হাড়ি। অল্প কিছু চাল-ডাল দিয়ে কোন মতে একটু খিচুরি করে ..। কেউ আসলে পেট ভরে খেতে পারবে না। যখন কারো ক্ষুধা লাগবে, এক মুঠ খেতে পারবে। কারণ ঐ খাবারটা ফুরিয়ে গেলে এরপর যে কি হবে আমরা জানি না। দেশ যখন স্বাধীন হয়ে গেলো, মনে হলো যেনো সব কষ্ট ভুলে গেলাম। সব কষ্টই ভুলে গেলাম। এটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা। দর্শক প্রশ্ন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীম আমরা জানতে চাচ্ছি আপনার সেই তরুণ রাজনীতি জীবনের কিছু কথা। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, আমরা তরুণরা যারা আছি, যারা ভবিষ্যতে রাজনীতি করতে চাই আজকের কথা তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রীঃ রাজনৈতিক একটি পরিবারে জন্ম। আর রাজনীতি আমাদের সাথে এমনভাবে জড়ানো ছিলো যে রাজনীতি ঠিক কখন প্রবেশ করালাম তা সঠিকভাবে বলতে পারব না। স্কুল জীবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত। সেই সময় শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বাতিলের আন্দোলন, তারপর আরো বিভিন্ন আন্দোলন। যখন আন্দোলন হতো, তখন এটা ঠিক স্কুল পালিয়ে চলে যেতাম সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বট তলায় মিটিং শোনার জন্য। আবার স্কুল থেকে আমাদের সংগঠন করতে হবে, ছাত্রলীগ করতে হবে বলা হলো। তাই স্কুল থেকে বিভিন্ন স্কুলে যেতাম। মেয়েদেরকে বোঝাতাম কেনো আমাদের সংগঠন করতে হবে। ‘৫২র আন্দোলন। মানে আমরা আমাদের বাংলা ভাষায় কথা বলার অধিকার আদায় করলাম ঠিকই। কিন্তু প্রথমে আসল আরবী হরফে বাংলা লিখতে হবে। তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হলো। এরপর রোমান হরফে বাংলা লিখতে হবে। তার বিরুদ্ধে আন্দোলন হলো। তা আন্দোলন শুনলেই আমরা ওখান (স্কুল) থেকে চলে যেতাম। ছোটবেলার একটা মজার ঘটনা বলি, ধর্মঘট চলছে তখন। আমাদের হেড মাস্টার আবার ভিষণ কড়া ছিলেন। কাজী ওমর আলী সাহেব, আমি উনাকে দেখলে ভয়ে দৌড়ে পালাতাম। কিন্তু খুব আদরও করতেন, খুব ভালো শিক্ষক ছিলেন। মানে গাধা পিটিয়ে মানুষ করা বলে না, উনিও তেমন আমাদেন গাধা পিটিয়ে মানুষ করতেন। আমরা ঠিক করলাম, স্কুল ছুটি দিতে হবে। তা এমনিতে ত আর দিবে না। ত হেড স্যারের রুমের পাশেই স্কুলের ঘণ্টিটা। এখন ঘণ্টিটা আমরা কিভাবে বাজাব। ত আমরা একটা মেয়েকে দায়িত্ব দিলাম ঘণ্টিটা বাজাবে, আরো কয়েকজনকে দায়িত্ব দিলাম দাড়োয়ান কিছু বোঝার আগেই গেটটা খুলে দিবে। যখন ঘণ্টি বাজাতে শুরু করলাম ছোট বাচ্চারা তারা সব ছুটে পালাতে শুরু করল। তখন মজাদার বিষয় হলো বাচ্চারা ছুটছে তাদের ধরার জন্য শিক্ষকেরাও ছুটছে। আর তখন আমরা বের হয়ে চলে এলাম। স্কুল থেকে সবাই দৌড় দিয়ে এক দৌড়ে চলে গেলাম সব। মিটিংয়ে গেলাম। তখন ক্লাস সেভেনে পরি। (হেসে) বেশিদিনের কথা না! একদিন স্কুলে স্ট্রাইক করাতে গিয়ে দেখি খুব লম্বা চওড়া এক পুলিশ অফিসার সে আমাকে ধমক দিচ্ছে। আমরা গেটের বাহিরে দাড়িয়ে, যে কেউ যেতে পারবে না। ত খুব ধমক দিচ্ছে যে, তুমি জানো আমি কে? তোমাকে আমি জেলে নিতে পারি। জেল খানায় ত আমরা প্রতি ১৫ দিন পরপর যাই। ত আমাকে এই ভয় দেখিয়ে ত লাভ নাই। আমি বললাম, আমি ত জেল খানায় সব সময় যাই। বলল সে, হ্যাঁ! তোমার নাম কী? আমি বললাম, আমার নাম, বাবার নাম হেড স্যার জানেন। তাকে জিজ্ঞাসা করে নিয়েন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু মেয়েরা ছিলো, তারা ইশারা দিয়ে আমাকে চলে আসতে বলল সেখান থেকে। ব্যস ওখান থেকে চলে আসতে গেলাম। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের বেড়া ফাঁক করে ওখান থেকে ঢুকে যেতাম। তখন বাস ছিলো মুড়িট টিনের মত। তা সেরকম একটা গাড়িতে পুলিশ আমাদের ধাওয়া করছে। ওখান থেকে বের হয়ে পলাশী মোড় হয়ে এখন যেটা জহরুল হক হলের ভিতর দিয়ে ওয়াল টপকে ওখান থেকে আমরা রোকেয়া হলে ঢুকে গেলাম। যখন কলেজে ভর্তি হলাম। আমি ভর্তি হওয়ার সাথে সাথে সেখানকার ছাত্রীরা খুবই উৎসাহীত। আবার আমাদের ছাত্রলীগের নেতারাও খুব উৎসাহীত। আমাকে প্রথমে ছাত্রলীগের সেক্রেটারি করা হলো কলেজ ইউনিটের। আমরা বিভিন্ন কলেজে গিয়ে গিয়ে সংগঠন করতাম। তখন প্রত্যেক কলেজে বার্ষিক নির্বাচন হতো। তখন আমাকে সংগঠনের সেন্ট্রাল কমিটি থেকে জানানো হলো, তোমাকে নির্বাচন করতে হবে। তখন আমার মা আবার বাঁধা দিলেন। কেননা আমার বাবা তখন ছয় দফা দিয়েছেন। ছয় দফা দেয়ার পর তিনি জেলে। আমাদের পার্টির তখন অধিকাংশ নেতাই বলতে গেলে জেল খানায় বন্দী। ঐ অবস্থায় নির্বাচন করাটা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো। আমি যে কলেজে পড়তাম, সেটা ছিলো সরকারি কলেজ। স্বাভাবিকভাবেই সরকারি কলেজে শেখ মুজিবের মেয়ে নির্বাচন করে জিতবে এটা কলেজ কর্তৃপক্ষ কিছুতেই মানতে পারেনি। কলেজ কর্তৃপক্ষ শুধু না, তখনকার সরকারও। কারণ তখন গভর্নর ছিলো মোনায়েম খান আর প্রেসিডেন্ট ছিলো আইয়ুব খান। মিলিটারি ডিকটেটর আইয়ুব খান। তার বিরুদ্ধেই আমাদের সংগ্রাম ছিলো। তাদের কথা ছিলো, আমি যেনো কিছুতেই নির্বাচনে জিততে না পারি। আবার আমার মা খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন। মা বলেন, যদি তুমি ইলেকশনে জিততে না পারো, তাহলে মানুষ মনে করবে ৬ দফার প্রতি সমর্থন নাই। আর সরকারের কথা ছিলো, যদি আমি জিতে যাই। তাহলে প্রমাণ হবে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থীদের ৬ দফার প্রতি সমর্থন রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে একটা বাধা। বাসায় আসলে মা বলত, এখনই যাও, উইথড্রো করো। কলেজে গেলে আমার বান্ধবী যারা ছিলো বা সংগঠন থেকে বলত, না, উইথড্রো করা যাবে না। তুমি ত জিতবে তুমি কেনো প্রার্থী থাকবে না? এই এক টানাপোড়েনের মধ্যে। আমার মা খুব শক্ত ছিলেন। মা বললেন, সবকিছু বন্ধ। টাকা পয়সা সব বন্ধ। কিছু দেবন না। তুমি ইলেকশন করতে পারবে না। যাই হোক এরপর একটা পর্যায়ে ইলেকশন হলো। ইলেকশনে আমি জিতলামই না শুধু, আমার বিপক্ষে দুই প্রার্থী ছিলো। তাদের দুইজনের ভোট যোগ করেও তার দ্বিগুণ ভোট আমি পেলাম। তখনকার ছবিও আছে। কাগজের মালাটালা দিয়ে আমাকে নিয়ে গেলো শহীদ মিনারে। বক্তৃতা দিতে হবে। তখন মুখে রংটং মাখা ঐ অবস্থায়। শহীদ মিনারে যখন আমাকে দাড় করিয়ে দিলো বক্তৃতা দিতে, তখন হাজার হাজার শিক্ষার্থী সেখানে। কলেজে আমগাছের একটা বেদি ছিলো। কোন কিছু হলে সেটার ওপর দাড়িয়ে খুব বক্তৃতা দিতাম। কিন্তু ওখানে গিয়ে সত্যিই আমি আর বক্তৃতা দিতে পারলাম না। খুব ইমশনাল হয়ে গেলাম। চোখে শুধু পানি আসছিলো। জীবনে প্রথম শহীদ মিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে আমি সত্যিই নার্ভাস হয়ে গেলাম। আমি কি বলব আমি আর কিছু খুঁজে পাচ্ছি না। আমি সবাইকে কেবল ধন্যবাদ দিলাম। দিয়েই আমি চুপ। আমার ছাত্রলীগের অন্যরা বলছিলো, তুমি এটা বলো, ওটা বলো। আমি বললাম, আর কিছু বলতে পারব না। আপনারা বলেন। যখন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হলাম তখন শুনলাম, গভর্নর ডেকে ভিসিকে বলছেন, গণি সাহেব ভিসি ছিলেন। তাকে বলছেন, শেখ মুজিবের মেয়ে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হলো কিভাবে? তিনি জানান, হাজার হাজার ছেলে-মেয়ে প্রতি বছর ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়। আলাদাভাবে খোঁজ নেয়ার সুযোগ কোথায়? তিনি বেশ একটু ডাটের লোকই ছিলেন। পরে একজন শিক্ষক আমাকে জানিয়েছিলেন, তুমি কি জানো, তুমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর গভর্নর ভিসিকে ডেকে নিয়ে ধমক দিয়েছেন, শেখ মুজিবের মেয়ে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলো কিভাবে। ত আমাদের জীবনটা এমনই ছিলো। আব্বা যখন মন্ত্রী ছিলো তখন শিক্ষকরা খুব আদর করতেন। আবার আব্বা যখন জেলে গেলো তখন বলত, ও, ওর বাবা ত জেলে। তখন যত দোষ আমাদের ওপর। মানে, যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন কেষ্টা বেটাই চোর। এমন চড়াই উৎরাইয়ের মধ্য থেকে আমাদের যেতে হয়েছে। তবে বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির জন্য আমার বাবা কাজ করছে এটা জানতাম বলে এই চরাই উৎরাইটাকে আমরা বেশ সহজভাবে নিতে পেরেছিলাম। এটা আমার মায়ের শিক্ষা, আমার দাদা-দাদির শিক্ষা। হয়ত মিটিংয়ে যাব। মা হঠাৎ করে বললেন মিটিংয়ে যেতে পারবে না। আর মা যদি একটা কথা বলতেন তা অমান্য করে কিছু করা আমাদের সাধ্যে ছিলো না। মা দরজাও লাগাতেন না, গেটও লাগাতেন না। কিছু করতেন না। শুধু বলতেন যেতে পারেব না। আর আমাদের সেই শিক্ষা ছিলো, মা বললে শুনতে হবে। কিন্তু প্রতিবাদও ত করতে হবে। সুতরাং হাঙ্গার স্ট্রাইক। নাস্তা খাব না ভাত খাব না, কিচ্ছু খাবো না। বসে বসে ভ্যা ভ্যা করে কান্না। কিন্তু আমার দাদা থাকলে খুব ভালো হতো। তিনি থাকা অবস্থায় এমন হলো, খুব জরুরি মিটিং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে যেতেই হবে। মা বললেন, না আজকে বের হতে পারবে না। দাদা শুধু ডেকে মাকে বললেন, দেখ, আমিত কোনদিন আমার ছেলেকে মানা করিনি। আমিত কোনতদিন নিষেধ করিনি। ত তুমি নিষেধ করছ কেনো। ও যেতে চায়, যেতে দাও। আমার মা আবার মুরুব্বিদের কথা খুব মেনে চলতেন। দাদা বলেছেন। মা আর কিছু বললেন না। যাও, দাদাকে পেয়েছো এখন যাও। উপস্থাপক- ৭৫ এ হঠাৎ করে ছোট বোন বাদে বাকি সবাইকে হারালেন। এমন মর্মান্তিক একটি আঘাতের পর আপনি নিজেকে শক্ত করলেন কিভাবে? প্রধানমন্ত্রী-এটা এতটা অপ্রত্যাশিত ছিলো! আর সেই সাথে একটা ভয়ও হত। আব্বা এভাবে একটা দেশকে স্বাধীন করলেন, তারপর স্বাধীনতা বিরোদী এই গোষ্ঠীটি সব সময় সক্রিয় ছিলো। আমার স্বামী যেহেতু নিউক্লিয়ার সাইনটিস্ট ছিলেন। উনি ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেন রিসার্চের জন্য। আমাকেও বললেন চলে আসতে। আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আমি ভিসি স্যারের সাথে দেখা করলাম ছুটির জন্য। বঙ্গবন্ধুর তখন যাবার কথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবেন, আর আমি থাকব না! ত আমি ভিসি স্যারের কাছে গেলাম, আমার স্বামী আবার মতিন চৌধুরী সাহেব ভিসি স্যার তার ছাত্র। তিনি বললেন, তুমি চলে যাবে এটা একটা কথা হলো নাকি?; আমি বললাম, স্যার আপনার ছাত্রকে ত আপনি চেনেন, ভীষণ চাপ দিচ্ছে। আপনার ছাত্রকে বলেন, আমি এখন যাব না, ১৫ তারিখের পরে যাব। তখন তিনি বললেন, তুমি ওকে আমার কথা বলে ফোন করো। তখন ত আর এখনকার মত এত ফোন ছিলো না। একটাই ইন্টারন্যাশনাল কল করা যেত যেই ফোনে সেটা আমার আব্বার বেড রুমে ছিলো। ওখানে বসা উনি, বললাম, আমি একটা ফোন করব। ফোন করে যখন আমি বললাম তখন খেলাম বকা। আব্বার সামনে ঝগড়াও করতে পারছি না। আবার কিছু বলতেও পারছি না। হয়ত অন্য সময় হলে কিছু বলতাম। কিন্তু তখন কিছু বলতে পারছি না। কিন্তু আব্বা সব বুঝছিলেন। বলছিলেন, কি, ওয়েজেদ এটা বলছে, ও কথা বলছে। ঠিক আছে, তাহলে তুমি যাও। তখন আমার খুব মন খারাপ। একটা ছবি আছে না, আব্বা আমাকে জড়িয়ে ধরে আছেন। সেন্ডু গেঞ্জি গায়ে, ওটা আব্বার সাথে আমার শেষ ছবি। আমি কাঁদছিলাম, আর আমাকে ধরে সান্তনা দিচ্ছিলো। ঠিক আছে তুমি যাও। চলে গেলাম। তবে এটা ঠিক, খুব মনটা খারাপ ছিলো। কারণ তার কিছুদিন আগে আমার দুই ভাইয়ের বিয়ে হয়েছে। আমরা খুব একটা আনন্দের মধ্যে থাকব, আর আমার সব ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে। আর বিদেশে যাবার সময় মানুষ যেমন খুশি হয়, তেমন কোন খুশি ছিলো না। আর আমার মাও খুব কাঁদলেন। খুব ভারাক্রান্ত মন নিয়ে গেলাম। আমরা আবার তখন ইউরোপ ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম। তখন আমরা বেলজিয়ামে। হঠাৎ একদিন সকালে ফোন। বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর বললেন, ওখানে খুন হয়েছে। ওই কথা শোনার পর মনে হলো, তাহলে তো আমাদের আর কিছু নাই। ওদের ভাষায় টিভিতে আব্বার শুধু ছবি দেখছি। কিছু বুঝতে পারছিলাম না। জার্মানিতে ফিরে এলাম। তখন সেখানে অ্যাম্বাসেডর যিনি ছিলেন, তিনি আমাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। উনি, উনার ওয়াইফ, সবাই খুব সান্তনা দিলেন। তিনি এক সময় আমাকে আলাদা করে ডেকে নিয়ে বললেন, তিনি বিভিন্ন ভাবে খবর নিয়েছেন, সম্ভবত কেউ আর বেঁচে নাই। আমি আসলে বলতে পারব না। পৃথিবীর ঐ সময়টা আমার কাছ থেকে হারিয়ে গেছে। আমি এসে দেখলাম, রেহানা শুয়ে আছে। আমি আস্তে করে রেহানাকে জড়ায়ে ধরে শুয়ে থাকলাম। বলতে পারলাম না কিছু। ওকেও আমি বলিনি। আর ও যখন জানতে পারল, ও কিছু আমাকে বলেনি। এরকম একটা অবস্থার মধ্যে দিয়ে। তখন আমাদের অ্যাম্বাসিডর, ভারতের অ্যাম্বাসিডর কথা বলছিলেন। কেননা তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আমাদের খোঁজ খবর নিচ্ছিলেন। মার্শাল টিটোও ফোন করেছিলেন। তারপর আমরা ভাবলাম, না আমরা ফিরে যাই দেশে। দেখি দেশে যেতে পারি কিনা। তারপর চলে এলাম দিল্লিতে। তখন জানতে পারলাম, কেউই বেঁচে নেই। এর আগেও মনে আশা ছিলো, মা, রাসেল হয়ত বেঁচে আছে। কিন্তু মিমেস গান্ধীর সাথে দেখা হলে তিনি জানালেন, না কেউ ই বেঁচে নেই। তিনি আমাদের ওখানে শেল্টার নিয়ে থাকতে বললেন। ছয়টা বছর ওখানে থাকতে হলো। প্রথম কয়েকটা বছর আসলে বিশ্বাস করতে পারিনি। বিশ্বাস করতে চাইনি। নামাজ পড়তাম, মোনাজাত ধরতাম। কিন্তু বাবা-মার কথাটা কখনই বলতে পারতাম না। ভেতর থেকে আসত না। যাই হোক, দিন চলে যায়। দর্শক প্রশ্ন- ১৯৮১ সালে যখন আপনি ফেরত আসলেন, তখন কারা বা কোন বিষয়টা আপনাকে মোটিভেট করেছিলো। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে, মানে আপনি সাহস কোথা থেকে পেলেন? আপনার ভয় করেনি? প্রধানমন্ত্রীঃ ৭৫ পরবর্তী ৩-৪ বছর একটা অন্ধকার সময় ছিলো। বলা যায় একটা বাসায় বন্দী। সব যায়গায় যাবার সুযোগ ছিলো না। এমনকি নিজের পরিচয় দেবারও সুযোগ ছিলো না। একটা নামও দেয়া ছিলো। ঐ নামে আমাদের পরিচয়। নিজের পরিচয়টাও ছিলো না। তখন মনে হতো, জীবনের সবথেকে কম যেটুকু প্রয়োজন সেটুকু নিয়েই চলব। সেখানে থেকে সংসারের প্রতিটি কাজ একে একে আমাদের শিখতে হলো, করতে হলো। করে করে শিখলাম। আসলে বাড়ির বড় মেয়ে ছিলাম। আলসেও ছিলাম খুব। এমনও অনেক দিন গেছে, না খেয়ে ঘুমিয়ে যেতাম। আব্বা এসে ঘুম ভাঙ্গিয়ে ভাত মাখিয়ে মুখে তুলে দিতেন। আমার খুব বদ অভ্যাস ছিলো বসে গল্পের বই পড়া আর গান শোনার। তখন মা এক কাপ চা বানিয়ে এনে দিতেন। নিজে খুব একটা বেশি কাজ করতাম না, আলসে ছিলাম এটা ঠিক। আর সেখান থেকে এমন একটা অবস্থায় পড়ে গেলাম, যে ঘর ঝাড়ু দেয়া থেকে শুরু করে সবকিছু নিজেদের করতে হতো, করতাম। একটা পর্যায়ে এসে আমার চাচা এসে রেহানাকে নিয়ে গেলো লন্ডনে। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং দেশের মানুষের জন্য কিছু করা। কেননা ছোট বেলা থেকে আব্বার সাথে সাথে থেকে জানা, উনি বাংলাদেশের জন্য কি করবেন, বাংলাদেশটাকে কিভাবে গড়ে তুলবেন; সব সময় এ গল্পটা করতেন। করতেন বলেই মনে হলো, এভাবে বসে থাকলে তো চলবে না। আমাদের তো কিছু করতে হবে, দেশের জন্য। আর কিছু না হোক, মানুষের জন্য কিছু করতে হবে। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আমি আসব। এটা ঠিক, ঐ সময় আসাটা বেশ ভয়াবহ ছিলো। তার কারণ খুনিদের কিন্তু বিচার হয়নি। এতগুলো খুন যারা করল, একটা ছোট্ট শিশুকেও তারা ছাড়েনি। তাদের বিচার করা যাবে না, এমন ইনডেমনিটি বিল তারা পাশ করল। আইন করে দেয়া হলো খুনিদের বিচার করা যাবে না। আমি আমার বাবা-মাকে হারিয়েছি আমি বিচার চাইতে পারব না। আমি মামলা করতে পারব না। এই অবস্থায় দেশে ফেরা অবশ্য সাহসের বিষয়। কেননা অনেকেই আমাকে বলেছে, দেশে ফিরলে এয়ারপোর্টেই আমাকে গুলি করে মারবে। সেখানে আমার চিন্তা ছিলো, বাবা-মা, ভাই-বোন সবাইকে তো হারিয়েছি। হারানোর আর তো কিছু নাই। সবই যখন হারিয়েছি। জীবনটাও না হয় চলে যাবে। তাই বলে মৃত্যু ভয়ে বসে থাকলে ত আর হবে না। আর মরার আগে মরতে আমি রাজি না। আমি দেখতে চাই বাংলাদেশের জন্য কিছু করতে পারি কিনা। আর সে জন্যেই ফিরে আসি। যখন এয়ারপোর্টে নামলাম। ঐ সময়টা ছিলো খুব কষ্টের। কারণ আমি যখন যাই, তখন এয়ারপোর্টে ত আমাদের সবাই ছিলো। কামাল-কামালেই বউ, জামাল-জামালের বউ, ছোট রাসেল সবাই আমাকে বিদায় দেয়। আর আমি যখন ফিরে এলাম, তখন হাজার হাজার মানুষ। আর মুষুলধারে বৃষ্টি। আকাশে ঘণ মেঘ। আমার মন তখন হাহাকার করছে। কারণ যে মুখগুলো আমি দেখতে চাচ্ছি। সে মুখগুলোত দেখতে পাচ্ছি না। তাদেরকে ত খুঁজে পাচ্ছি না। এয়ারপোর্ট থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত আসতে ৪ ঘণ্টা লেগেছিলো এত মানুষের ভীড় ছিলো। সেখানে বৃষ্টিতে ভিজে মাইক্রোফোনের সামনে আমাকে বক্তৃতা দিতে বলা হল। ওখানে দাড়িয়ে প্রতিজ্ঞা করলাম। ১৫ আগস্ট এটা মেনে নেয়া যায় না। এই বাংলাদেশ আমার বাবা স্বাধীন করে গেছেন। এই বাংলাদেশের মানুষগুলো দরিদ্র, দুঃখি। তাদের জন্য আমার কিছু করতেই হবে। তবে এত বড় দলের দায়িত্ব নিতে হবে। সেটা ভেবে আমি আসিনি। কিন্তু কাজ করব, একজন কর্মী হিসেবে। এটা ভেবেই দেশে এসেছিলাম। এখনো আমি আওয়ামী লীগের একজন সার্বক্ষনিক কর্মী। আর প্রধানমন্ত্রী হবার পর মনে করি আমি বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মী। আর যখন ভালো কিছু করতে পারে দেশের জন্য, তখন মনে হয় আব্বা দেখছেন। ভয় পাইনি কখনো, আর ভয় পাবও না মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত। উপস্থাপকঃ এই স্রোতের বিপরীতে আপনার যাত্রা সম্পর্কে বলেন প্রধানমন্ত্রীঃ বনানী কবরস্থানে আমি যখন গেলাম। সেখানে সারি সারি কবর। কিন্তু ৩২ নম্বরের বাড়িতে আমাকে কিন্তু ঢুকতে দেয়া হয়নি কখনো। এমনকি আমি যে একটু মিলাদ পড়াব বা বাবা-মার জন্য দোয়া করাব সেই সুযোগও তৎকালীন সরকার আমাকে দেয়নি। তখন ক্ষমতায় জিয়াউর রহমান। বললেন, আমার থাকার জন্য অনেক বড় বাড়ি দেবেন। আমি বললাম, অনেক বড় বাড়ির দরকার নেই। এই বাড়িতে আমার বাবা-মা শাহাদাৎ বরন করেছেন। আমি এখানে যেতে চাই তাদের জন্য জন্য মিলাদ পড়ব, দোয়া করব। আমাকে কিন্তু ঢুকতে দেয়নি। আর একটি মাত্র টিভি, একটি মাত্র রেডিও। মিথ্যা ও অপপ্রচার ছিলো। সরকারের তরফ থেকে বাঁধা ছিলো। দলের ভিতর থেকেও ছিলো বাঁধা। কিন্তু তা অতিক্রম করতে পেরেছি। দর্শকের প্রশ্ন- ২০০৭ সালে আপনি আপনার ছেলেকে দেখতে বিদেশে গেলে দেশে আসার ক্ষেত্রে বাধা দেয়া হয়। বলা হয় দেশে আসলে আপনাকে গ্রেফতার করা হবে। আপনি কি তারপরও ভয় পাননি? প্রধানমন্ত্রীঃ ২০০১ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলাম। সে সময় বাংলাদেশের মানুষের জন্য কিছু কাজ করেছিলাম। দুর্ভাগ্য হলো সে কাজগুলো আর থাকল না। বরং জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস আর দুর্নীতিতে ৫ বার চ্যাম্পিয়ান হলো বাংলাদেশ। তারপর যখন আরেকটি নির্বাচন এলো। অনেক ঝড়-ঝাপ্টা আসল। দেখা গেলো ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার দিয়ে ভোটার তালিকা তৈরি করা হলো এবং এমনভাবে নির্বাচন সাজানো হলো যে জনগণের ভোট দেয়ার আর ক্ষমতা ছিলো না। এর মধ্যে আমার ছেলের বউয়ের বাচ্চা হয়েছে। জয়েরও গলব্লাডার অপারেশন হয়েছে। তাদের সাথে দেখা করতে বিদেশে গেলাম। তখন আমার বিরুদ্ধে মার্ডারের মামলা দিয়ে এরেস্ট ওয়ারেস্ট ইস্যু করা হলো। এরপরও যখন আমি দেশে ফিরেত চাইলাম, তখন তারা বলল, আপনি দেশে ফিরতে পারবেন না এবং প্রতিটি এয়ারলাইনসকে বলে দেয়া হলো আমাকে নিয়ে তারা এলো তাদের বাংলাদেশের এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করতে দেয়া হবে না। আমেরিকা থেকে লন্ডনে যাওয়ার সময় আমি যেই এয়ার লাইনস ব্যবহার করতাম, তারা আমাকে বোর্ডিং পাস দেবে না। ঝগড়া করে বললাম, তোমার এয়ারক্রাফট লন্ডনে যাচ্ছে। ঢাকায়ত যাচ্ছে না। তিন ঘণ্টা বাকবিতণ্ডা শেষে আমি লন্ডনের ফ্লাইটে উঠি। সেখান থেকে লন্ডনে পৌছানোর পর আমাকে বাংলাদেশের ফ্লাইটে নেয়া হচ্ছে না। কিন্তু আমি দেশে ফিরবই। তখন আন্তর্জাতিক সমর্থন পেলাম আমি। সকলের কথা এটাই ছিলো। আমারও যুক্তি ছিলো, আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তা মুকাবিলায় আমি দেশে আসব। কিন্তু ওদের ধারণা ছিলো আমাকে মামলার ভয় দেখালে হয়ত আর দেশে ফিরব না। আমি বললাম, না আমি দেশে আসব এবং মামলার মুখোমুখি হবো। শেষে আন্তর্জাতিক চাপে বাধ্য হয়ে আমাকে দেশে আসতে দেয়া হলো এবং এয়ারপোর্ট থেকে গ্রেফতার করে কোর্টে নিয়ে যাওয়া হলো। কোর্ট থেকে আমাকে পরিত্যক্ত একটা ঘরে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হলো। আর রাজনীতি করতে দেখেছি, করে এসেছি। জানি আমাকে জেলে যেতে হবে। তাই এটা নিয়ে আমার কখনো দুশ্চিন্তা ছিলো না। বরং আগে থেকেই গুছিয়ে রেখে দিয়েছিলাম। কি বই নেব। রেহানা আরো ফোন করে বলে দিয়েছিলো- টর্চ, মোম, লেখার কাগজ ইত্যাদি নিয়ে নিলাম। কিছু টাকাও নিয়েছিলাম সাথে। কারণে দেখতাম, বাবা কিছু টাকা সাথে রাখতেন। দর্শক প্রশ্ন- জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আপনি কাজ করে গেছেন। এটি নিয়ে আপনার মধ্যে কোন শঙ্কা কাজ করে বা করছে কিনা? প্রধানমন্ত্রীঃ আমি চেয়েছি দেশের মানুষ শান্তিতে থাকুক। কিন্তু সারা দেশে যখন একযোগে ৫০০ স্থানে বোমা হামলা হয়, বোমা পুতে রাখা। এ ধরণের কাজ আমি পছন্দ করিনি। আর আমি এর আগে ক্ষমতায় এসে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিচুক্তি করে সেখানকার অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়ে প্রতিবেশী দেশে হামলা করা হতো। আমি বুঝেছিলাম, জঙ্গিবাদ থাকলে কোন দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। বিরোধী দলে থাকি, আর সরকার দলে; যেটা নীতির ব্যাপার সেটার বিষয়ে সোচ্চার হওয়া শুধু সরকারি দলে আসলেই করব, বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় করব না এমন নয়। আমার দেশকে আমি ভালবাসি। আর সে কারণেই এ বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে সব সময় প্রতিবাদ করেছি। আর আমাকেতো অনেক বার হত্যার চেষ্টা হয়েছে। কয়েকবার না অনেকবার। এমনকি সামনে থেকে গুলি করেও হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে আমাকে। যখন বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়েছি তখনও বাধা পেয়েছি। কিন্তু একটা বিষয়, এ দেশের মানুষ, যেখানে গিয়েছি সেখানে এত ভালবাসা পেয়েছি। এই ভালবাসা আমার শক্তি। সেটাই আমার প্রেরণা। আজকে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। এটাও তো বড় বিষয়। উপস্থাপকঃ এতক্ষন আমরা রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনার কথা শুনলাম। এখন আমরা ব্যক্তি শেখ হাসিনা সম্পর্কে জানতে চাই। আমার নিজেরই একটা প্রশ্ন আছে আপনার কাছে। আপনি এত খাটেন, আপা নিজের জন্য সময় পান? প্রধানমন্ত্রীঃ আমি আমার জীবনটাকে তো উৎসর্গ করেছি দেশের মানুষের জন্য। আসলে আমার নিজের বলে তো কিছু নেই। আর রাতে ৫ ঘণ্টা ঘুমাই। আর বাকি সময় চেষ্টা করি, কত দ্রুত আমার কাজগুলো শেষ করতে পারি। কারণ আমি জানি যে কোন মুহুর্তে চলে যেতে হতে পারে। কখনও গুলি, কখনও গ্রেনেড হামালায়। তাই প্রতিটি মুহুর্তে দেশের মানুষের জন্য কিছু করে যাওয়ার চেষ্টা করি। দর্শক প্রশ্ন- রাজনীতিতে না আসলে কি করতেন? ছোটবেলায় কি হতে চেয়েছিলেন? প্রধানমন্ত্রীঃ আমার ছোট বেলায় ইচ্ছা ছিলো ডাক্তার হবো। এসএসসি পরীক্ষা দিলাম, তখন দেখলাম অঙ্কে কাঁচা। আর বন্ধুরা সবাই আর্টসে ছিলো, আমিও আর্টসে ভর্তি হই। এরপর ইচ্ছা ছিলো শিক্ষক হবার। আবার শিক্ষক মানে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। বাচ্চাদের পড়াব। দর্শক প্রশ্ন- নিজের শরীরকে কিভাবে ঠিক রাখছেন? প্রধানমন্ত্রীঃ আমাদের জীবনে রুটিন ঠিক থাকে না। তবে ফিট থাকতে- আমি নামাজ পড়ি নিয়মিত। আর তেমন ব্যয়াম হয় না। আর গণভবনে থাকা বন্দী জীবনের মতন। তারপরও চেষ্টা করি সকালে উঠে একটু হাটতে। ছাদে হাঁটি। আর পরিমিতভাবে খেলে সুস্থ্ থাকা যায়। আর চিন্তা ভাবনাকে সচ্ছ রাখা এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ আমি সুস্থ থাকব এটা ভাবা। দর্শক প্রশ্ন- নানী বা দাদী হিসেবে আপনি কেমন? আপনার নাতী-নাতনীদের সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন? প্রধানমন্ত্রীঃ সেটা আমার নাতীদের জিজ্ঞাসা করলে বলবে। আমরা লুডু খেলি, ক্যারাম খেলি, দাবা খেলি। তারা আমার হাতের রান্না পছন্দ করে। আর ছোট একটা আছে সে আবার খুব ডিমান্ড করে। বলে দেয়, তুমিই রান্না করবে। ববির ছোটটা। সে বলে, তুমিই রান্না করবে। সে কোলে চড়ে বসে আবার নির্দেশও দেয়। এটা দাও, ওটা দাও। বৃদ্ধ বয়সে নাতী-নাতনী নিয়ে থাকার থেকে আর কোন সুখের সময় হয়না। প্রধানমন্ত্রীঃ আমি তরুণদের কাছেজানতে চাই, তারা কি চায়। জানলে পরে আমার সুবিধা হবে পরিকল্পনা গ্রহণে। দর্শক প্রশ্নঃ সংসদে র\তরুন নেতৃত্ব বাড়াতে আপনার পরিকল্পনা কি? প্রধানমন্ত্রীঃ আমরা কত বেশি মেয়ে এবং কত বেশি তরুণকে সুযোগ দিতে পারি এই চেষ্টা করি। বিগত বছরগুলোতে আমরা অনেককে সুযোগ দিয়েছি। তাদের মধ্যে অনেকে ভালো করেছে। অনেকের ক্ষেত্রে পরিবর্তন করতে হবে। তবে আমরা বয়োবৃদ্ধ দেখে একেবারে অবহেলা করা উচিত হবে না। দর্শক প্রশ্ন- মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীর কোটা তুলে দেয়া হয়েছে। এটি পুনঃবিবেচনা করবেন কিনা? কোটা বাতিলের জন্য আন্দোলন করা হয়েছে। সে কারণে কোটা তুলে দেয়া হয়েছে। অনেকে বলেছে, এই দাবি মেনে নেয়া মানে হেরে যাওয়া। আমি বলেছি, না হেরে যাওয়া নয়। কেননা বাচ্চারা দাবি করেছে। সেই দাবির প্রেক্ষিতে কোটা বাতিল করা হয়েছে। যারা প্রতিবন্ধী, নৃ-তাত্বিক গোষ্ঠী বা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আছেন তাদের বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করে নতুন দিক নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। দর্শক প্রশ্ন- প্রান্তিক পর্যায়ের উন্নয়নে কি ব্যবস্থা নিচ্ছেন? প্রধানমন্ত্রীঃ আমরা দেশের প্রন্তিক পর্যায়ে উন্নয়ন পৌছে দিতে চাই। আমরা কাজ করছি। গ্রাম আর গ্রাম থাকবে না, শহরে পরিণত হবে। উন্নয়ন পরিকল্পনা নেয়ার সময় শহর কেন্দ্রিক বা রাজধানী কেন্দ্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়না। বরং দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের কথাও ভাবা হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্যও কাজ করা হচ্ছে। হাওর অঞ্চলের উন্নয়নের জন্যও কাজ করে যাচ্ছি। আমরা বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব। বাংলাদেশ নিয়ে যে দীর্ঘ পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে, আমি হয়ত ততদিন বাঁচব না। কিন্তু তোমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। দর্শক প্রশ্ন- স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাবার পথ কিভাবে বন্ধ হবে, কবে বন্ধ হবে? প্রধানমন্ত্রীঃ কারো ভেতরে যদি মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বা দেশের প্রতি ভালবাসা না থাকে, তারা কখনও দেশের উন্নয়ন করবে না, করতে চাইবেও না। পরাজিত শক্তির দোসর যারা তারা ত দেশকে পিছিয়েই রাখতে চায়। এর ফলাফল আমরা দেখেছে ৭৫ সাল থেকে পরবর্তীত বছরগুলোতে। ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর আমি দাবি করতে পারি আমরা প্রমাণ করেছি, সরকার জনগণের সেবক। গত ১০ বছর বাংলাদেশের উন্নয়ন ও পরিবর্তনের চিত্র একবার খুঁজে দেখার চেষ্টা করলে তোমরাই দেখতে পাবে কতটা এগিয়েছি আমরা। এর একমাত্র কারণ আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করি। আগে যারা ছিলো, সেখানে ভেজাল ছিলো। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে শক্তি, মুক্তিযোদ্ধা সব মিলিয়ে এক জগাখিচুড়ি অবস্থা। দর্শক প্রশ্ন- কবে দুর্নীতি মুক্ত হবে বাংলাদেশ? প্রধানমন্ত্রীঃ এটা আমার লক্ষ্য আছে। আমি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আভিযান চালিয়েছি। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। এরপর দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোসণা করা হবে। আমরা সরকারি কর্মকর্তাদের আয় উপার্জনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। সেখানে দুর্নীতি করার দরকার কী? অসুস্থ প্রতিযোগীতা থেকে সরে আসতে পারলে দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব। তরুণ উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা দেশকে ভালোবাসতে হবে। মানুষকে ভালোবাসতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে কি পেলাম না পেলাম আমি দেশের জন্য কতটুকু দিতে পারলাম, মানুষের জন্য কতটা দিতে পারলাম তা ভাবতে হবে। পরশ্রী কাতরতা থেকে বের হয়ে এসে নিজেকে নিজের বলতে হবে, আমি পারি। আমি আমার মত করেই ভালো করব। কেউ দ্রুত উপরে উঠে গেলো দেখে আমাকে একটা অসুভ প্রতিযোগীতা করতে হবে সেটা ঠিক নয়। সেই সাথে দেশ প্রেম এবং মানুষের প্রতি ভালবাসা থাকতে হবে। আমরা যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসি হই তাহলে একটি মানুষও অবহেলিত থাকবে না। প্রত্যেক মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হবে। সরকার হিসেবে আমাদের দায়িত্ব সেই সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া। আর তোমাদের দায়িত্ব নিজের মাঝে সেই ব্যক্তিত্ব সৃষ্টি করে দেশের প্রতি দায়িত্ব, নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব এবং প্রতিবেশি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। আর সব সময় একটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে চললে দেশকে কিছু দিতে পারবে, নিজেও জীবনে কিছু করতে পারবে। হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই। জীবনে অনেক ঝড় ঝাপ্টা আসবে। কিন্তু ইচ্ছা শক্তি প্রবল থাকলে যে কোন বাধা অতিক্রম করা যায়। একটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে যদি কেউ এগিয়ে যায়। তাহলে কোন বাধাই বাধা বলে মনে হবে না। দেশকে এতদূর নিয়ে আসতে পেরেছি তার প্রধান কারণ এই ইচ্ছা শক্তি। জাতির জনক বলে গেছেন, মহৎ অর্জনের জন্য মহান ত্যাগের প্রয়োজন। ত্যাগের মধ্যে দিয়েই অর্জন করা যায়। আর সৎ থাকতে হবে। যদি সৎ না থাকতাম, তাহলে ওয়ার্ল্ড ব্যাংককে চ্যালেঞ্জ করতে পারতাম না। পদ্মা সেতুর কাজও শুরু করতে পারতাম না। আমার এই একটি সিদ্ধান্ত বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের আত্মমর্যাদাকে অন্য এক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। আমি তোমাদের কাছে এটাই চাই, যে সেই আত্মমর্যাদা তোমরা ধরে রাখবে। যেখানে আমরা বাংলাদেশকে রেখে যাচ্ছি, তোমরা সেখান থেকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে। তোমাদের হাতে বাংলাদেশকে তুলে দিচ্ছি কারণ তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,সম্পাদক-নিউজ একাত্তর ডট কম
গত দশ বছরে নজিরবিহীন উন্নয়ন সাধন করেছে আওয়ামী লীগ সরকার :মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী :দেশের উন্নয়নের মুল শর্ত হলো সুপরিকল্পিত, টেকসই অবকাঠামো এবং নিরবিচ্ছিন্ন জ্বালানী সরবরাহ সুবিধা। গত দশ বছরে আওয়ামী লীগ বিদ্যুৎ, জ্বালানী, যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন সাধন করেছে তা নজিরবিহীন। আগামী ৫ বছরেও এই অগ্রগতি চলমান রাখার পরিকল্পনা আছে উন্নয়নমুখী দলটির। প্রতিটি মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা, ২০২৩ সালের মধ্যে ২৮০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জন, এলিভেটেড হাইওয়ে, আন্তজেলা এক্সপ্রেসওয়ে, নতুন বিমানবন্দর, নতুন নৌ পথ তৈরি ইত্যাদি পরিকল্পনা আবাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই পূরণ হবে উন্নত দেশের লক্ষ্য। অবকাঠামো উন্নয়নে বৃহৎ প্রকল্প (মেগা প্রজেক্ট) দেশের উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চারের জন্য বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রকল্পের প্রয়োজন অপরিহার্য। মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়নের ফলে অবকাঠামো খাতে বাঁধা দূর হবে এবং সার্বিক অর্থনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মেগা প্রজেক্ট গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে, পদ্মাসেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গভীর সমুদ্র বন্দর, ঢাকা দ্রুত গণপরিবহনের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ, এলএনজি ফ্লোটিং স্টোরেজ এ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট, মহেষখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম, পায়রা সমুদ্রবন্দর, পদ্মাসেতু রেল সংযোগ এবং চট্রগ্রাম হতে কক্সবাজার পর্যন্ত ১২৯.৫ কিমি রেললাইন স্থাপন। আওয়ামী লীগ এ সকল মেগা প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ ও ভূমিকা পালনে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। এসব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি সাধিত হবে এবং সেই সাথে মানুষের কর্মসংস্থান, আয় ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে বহুগুণ। লক্ষ্য ও পরিকল্পনা অবকাঠামো রূপান্তরের লক্ষ্যে বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের পরিকল্পনা অব্যাহত রাখা হবে। পদ্মা রেল সেতু সংযোগ এবং কক্সবাজার-দোহাজারী-রামু-গুনদুম রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ ত্বরান্বিত করা হবে। মাতারবাড়ী কয়লা বন্দর, ভোলা গ্যাস পাইপ লাইন ও উপকূলীয় অঞ্চলে একটি পেট্রোকেমিক্যালস কারখানা স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিদ্যুৎ ও জ্বালানী যে কোনো দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রার একটি অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি। বঙ্গবন্ধু সংবিধানের ১৪৩ অনুচ্ছেদে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ সমুন্নত রেখে রাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশীয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের উপর রাষ্ট্রীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেন। পঁচাত্তরের পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী শক্তি ক্ষমতাসীন হওয়ার কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী নিরাপত্তা অবহেলার শিকার হয়। ১৯৯৬-২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়। পরবর্তীতে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময় লুটপাটের ফলে আবারও মুখ থুবড়ে পড়ে। দেশ এখন আবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হচ্ছে। লক্ষ্য ও পরিকল্পনা ২০২৩ সালের মধ্যে ২৮,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং প্রায় ২৩,০০০ সার্কিট কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে সকলের জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা হবে। ২০২৩ সালের মধ্যে প্রায় ৫ লক্ষ কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। মহেশখালী ও মাতারবাড়ী অঞ্চলে ১টি এবং পায়রাতে ১টি করে এনার্জি হাব গড়ে তোলা হবে। ২০২৩ সালের মধ্যে মোট ৫,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সমপরিমাণ এলএনজি সরবরাহ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের অধিকতর কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে ভারতের শিলিগুড়ি টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর পর্যন্ত ১৩০ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ পাইপলাইন, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ৩০৫ কিলোমিটার পাইপলাইন, গভীর সমুদ্র থেকে চট্টগ্রামে তেল আনার লক্ষ্যে পাইপ লাইনসহ ইতোপূর্বে গৃহীত অন্যান্য প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। ইস্টার্ণ রিফাইনারীর (ERL) জ্বালানি তেল পরিশোধন ক্ষমতা ১৫ লাখ মেট্রিক টন থেকে বৃদ্ধি করে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করা হবে। এছাড়া বেসরকারি উদ্যোগে রিফাইনারী প্রতিষ্ঠায় সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। দেশের কয়লা সম্পদের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। যোগাযোগ উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে, উন্নত দক্ষ ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা। যোগাযোগ খাতে আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে যে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে, তা এখন সর্বমহলে স্বীকৃত ও প্রশংসিত। গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকার খাত হিসাবে যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, সুগম ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে সড়ক, রেল ও নৌপথের সম্প্রসারণ ও সংস্কার বাস্তবায়ন চলমান রয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে ৪৫ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাজনৈতিক দল সড়কপথ, রেলপথ, বিমানপথ ও জলপথ যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও কর্মসূচি (রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১) সামনে রেখে তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। ইতোমধ্যে দেশবাসী এর সুফল পেতে শুরু করেছে। সড়কপথ, রেলপথ ও বিমানপথ লক্ষ্য ও পরিকল্পনা মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে ১৬,৩৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৯.২৪ কিমি বিস্তৃত ঢাকা পূর্ব-পশ্চিম এলিভেটেড হাইওয়ে নির্মাণ করা হবে। ঢাকাকে ঘিরে একটি এলিভেটেড রিংরোড এবং ইস্টার্ন বাইপাস নির্মাণেরও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে এবং এক্সপ্রেস রেলওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে যাতে চট্টগ্রামে পৌঁছানো যায় সেজন্য বুলেট ট্রেন (দ্রুতগামী ট্রেন) চালু করা হবে। ক্রমে বুলেট ট্রেন সিলেট, রাজশাহী,দিনাজপুর, পটুয়াখালি, খুলনা এবং কলকাতা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। রাজশাহী, সিলেট,চট্টগ্রাম, বরিশাল বিমানবন্দরকে উন্নত করা হবে। ঢাকা শাহজালাল বিমান বন্দরে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ, নতুন রাডার স্থাপন ও জেট ফুয়েল সরবরাহ করার জন্য পাইপলাইন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হবে। কক্সবাজারে প্রতিষ্ঠা করা হবে সুপিরিয়র বিমান অবতরণে সক্ষম দেশের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন বিমানবন্দর। বাগেরহাটে খান জাহান আলী বিমান বন্দর নির্মাণ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। ইতোমধ্যে নিরাপদ সড়ক আইন-২০১৮ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনটি প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্ঘটনা ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আগামীতে সময়ের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে নতুন ধারা পরিবর্তন-পরিবর্ধনের মাধ্যমে এটাকে আরো যুগোপযোগী ও কার্যকর করা হবে। বেসরকারি বিমান পরিবহনকে আরো উৎসাহিত করা হবে। স্বল্প খরচে রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। রাজধানী ঢাকার জনপরিবহন সমস্যার সমাধান ও যানজটমুক্ত করার লক্ষ্যে পাতাল রেল, মেট্রোরেল অথবা সার্কুলার রেলপথ এবং রাজধানীতে নাব্য ও প্রশস্থ নৌপথ নির্মাণ করা হবে। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে উন্নত করে আঞ্চলিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যাতে আমাদের সীমান্তবর্তী ভারতের ৭টি প্রদেশ এবং নেপাল ও ভুটান এই বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারে। ট্রান্স এসিয়ান হাইওয়ে এবং ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে, বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল এবং বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক জোটের যোগাযোগ ব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত হওয়ার ফলে অঅন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। নৌপথ ও বন্দর লক্ষ্য ও পরিকল্পনা ব্যাপক খননের পরিকল্পনা হিসাবে আগামী মেয়াদে প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খনন করা হবে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দরের সাথে আভ্যন্তরীণ নৌপথগুলোর সংযোগ স্থাপন করার মাধ্যম আমদানি-রপ্তানি সুগম করা হবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাণিজ্যকে সহজতর করার লক্ষ্যে ভারতের সাথে নৌপথ বাণিজ্য আরো বাড়িয়ে একে নেপাল-ভুটান পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে । ২০২৩ সালের মধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বে-টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে বন্দরের সক্ষমতা ৪ গুণ বৃদ্ধি পাবে। ঢাকার চারপাশের ৪টি নদী-খালগুলোকে দূষণ ও দখলমুক্ত করে খননের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে এনে নদী তীরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির মাধ্যমে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,সম্পাদক-নিউজ একাত্তর ডট কম
উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ,দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যাহত রাখতে সক্ষম আওয়ামী লীগ সরকার
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী :২০০৯ সালে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ওই সময়ে আশু করণীয়, মধ্য-মেয়াদি ও দীর্ঘ-মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে তারা। পরে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে করারর পাশাপাশি দশ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করে সরকার। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবারো জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। ধরে রাখে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা। ৯ বছর একটানা সরকারের দায়িত্বগ্রহণ করে বিশ্বব্যাপী মন্দা থাকা সত্বেও দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যাহত রাখতে সক্ষম আওয়ামী লীগ সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ইতিমধ্যে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা পেয়েছে। মাথাপিছু আয় ২০০৫ সালের ৫৪৩ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৬১০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। দেশে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ ছিল শুন্য দশমিক ৭৪৪ বিলিয়ন ডলার। দিন বদলের সনদ ঘোষণা দিয়ে গড়ে তোলেন ডিজিটাল বাংলাদেশ। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জীবনমান সহজ করা এবং উন্নত করার উদ্যোগ নেয় সরকার। দেশে ১৩ কোটি মোবাইল সীম ব্যবহৃত হচ্ছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ৮ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল স্থাপন করে ব্যান্ডওয়াইথ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে জনগণ ২০০ ধরনের সেবা পাচ্ছেন। সকল ধরনের সরকারি ফরমস, জমির পর্চা, পাবলিক পরীক্ষার ফল, পাসপোর্ট-ভিসা সম্পর্কিত তথ্য, কৃষিতথ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইনগত ও চাকুরির তথ্য, নাগরিকত্ব সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রক্রিয়া, ক্রয়-বিক্রয়সহ বিভিন্ন বিল প্রদানের সুবিধা জনগণ পাচ্ছেন। ঘরে বসে আউটসোর্সিং-এর কাজ করে অনেক তরুণ-তরুণী স্বাবলম্বী হয়েছে। বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে প্রবাসীরা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৬১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার প্রায় ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। সে সময় এডিপির আকার ছিল ১৯ হাজার কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এডিপির আকার ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৩৪ দশমিক আট-পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ছিল ৩ দশমিক চার-আট বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৩৩ দশমিক চার-চার বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। ২০০৫ সালে ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থান হয়। ২০১৭ সালে বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে ১০ লাখ ৮ হাজার ১৩০ জনের। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স ২০০৫-০৬ বছরে ছিল ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেমিটেন্স এসেছে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল ৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ৮১৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক দুই-আট শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ১৯৯১-৯৬ সময়ে বিএনপি আমলে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ শতাংশ। ২০০১-এ আওয়ামী লীগ যখন দায়িত্ব ছাড়ে তখন মূল্যস্ফীতি ছিল মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বিএনপির সময় মূল্যস্ফীতি আবার ৭ দশমিক এক-ছয় শতাংশে পৌঁছে। ২০০৮-০৯ বছরে মূল্যষ্ফীতি দাঁড়ায় ১২ দশমিক ৩ শতাংশে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে মুল্যস্ফীতি ৫ দশমিক আট-চার শতাংশে নেমে আসে। বিগত ৯ বছরে ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে। ১ হাজার ৪৫৮টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার সাথে ৩৬৫টি কলেজ সরকারিকরণ করা হয়েছে। ৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম স্থাপন করেছি। বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বই বিতরণ করা হয়েছে। স্বাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা গ্রাম পর্যায়ে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সারাদেশে সাড়ে ১৮ হাজার কম্যুনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করে সরকার। এ সময়ে ১১৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১৬ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। শতকরা ৮৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেন। ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হবে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য উৎপাদন ৪ কোটি মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে আমাদের অবস্থান ৪র্থ। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭২ বছর। বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে বেশ কয়েকটি মেগা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করছে সরকার। পদ্মা সেতুর কাজ অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকায় মেট্টোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। সমগ্র বাংলাদেশকে রেল সংযোগের আওতায় আনা হচ্ছে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ করা হচ্ছে। ঈশ্বরদীর রূপপুরে দেশের প্রথম পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। খুব শিগগিরই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করা হবে। পটুয়াখালীতে পায়রা বন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। কক্সবাজারের মাতারবাড়ি এবং রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। গ্রিডবিহীন এলাকায় ৪৫ লাখ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। সৌর বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের কাজ শুরু হয়েছে। গ্যাসের সমস্যা দূর করতে এলএনজি আমদানি শুরু হচ্ছে। রান্নার জন্য দেশে এলপিজি গ্যাস উৎপাদনের কাজ শুরু হয়েছে। দেশে সড়ক, মহাসড়ক, সেতু, কালভার্ট নির্মাণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছে সরকার। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ৪-লেনে উন্নীত করা হয়েছে। চন্দ্রা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার-লেনে উন্নয়নের কাজ চলছে। সারাদেশে ২ কোটি ২৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৭ জন কৃষকের মধ্যে কৃষি উপকরণ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। প্রায় ৯৮ লাখ কৃষক ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খুলে ভর্তুকির টাকা পাচ্ছেন। প্রাইমারি থেকে মাস্টারস ডিগ্রি ও পিএইচডি পর্যন্ত ২ কোটি ৩ লাখ শিক্ষার্থী বৃত্তি ও উপবৃত্তি পাচ্ছে। ১ কোটি ৩০ লাখ প্রাইমারি শিক্ষার্থীর মায়ের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বৃত্তির টাকা পৌঁছে যাচ্ছে। শিক্ষা খাতে মোট উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৭ হাজার। মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,সম্পাদক-নিউজ একাত্তর ডট কম
জামায়াতের প্রার্থিতা বাতিল আইনিভাবেই সম্ভব
২০০৮ সালের ১ অগাস্ট তরিকত ফেডারেশনের দায়ের করা এক রিট মামলার রায়ে হাইকোর্ট ২০১৩ সালে রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে। চলতি বছরের ২৯ অক্টোবর রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নিবন্ধন বাতিল হলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী এ দলের ২২ নেতা এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের জোটসঙ্গী বিএনপির মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন। স্বতন্ত্র হিসেবেও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৩ জননেতা। নিবন্ধন বাতিল হওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২৫ নেতার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে চার ব্যক্তির করা একটি রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ গত মঙ্গলবার (১৮ ডিসেম্বর ২০১৮) রুলসহ আদেশ দেয়। জামায়াত নেতাদের প্রার্থিতা বাতিলের পদক্ষেপ নিতে ওই চার রিটকারী নির্বাচন কমিশনে যে আবেদন করেছিলেন, তা তিনদিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলা হয় ওই আদেশে। উচ্চ আদালতের সেই আদেশের চিঠি বৃহস্পতিবার (২০ ডিসেম্বর) ইসিতে পৌঁছায়। ওইদিনই ইসি সচিব জানান, আইন শাখায় বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ইসিতে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। এরপর ইসি তিনদিনের সময়সীমা মেনে সোমবারের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবে। এখানে উল্লেখ্য যে, রিটকারীরা তাদের করা রিট আবেদনে বলেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন নেই, তাই ওই দলের কোনো নেতা নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করতে পারছেন না। যেহেতু নিজস্ব প্রতীকে পারছেন না, সেহেতু অন্য কোনো দলের প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণেরও সুযোগ তাদের নেই। তাদের সেই সুযোগ দিয়ে নির্বাচন কমিশন হাইকোর্টের রায় ও গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের বিভিন্ন বিধির সঙ্গে প্রতারণা, প্রবঞ্চনা করেছে। ইতিপূর্বে, গত ২৩ অক্টোবর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেছেন, জামায়াতের সদস্যদের স্বতন্ত্র বা জোটগতভাবে নির্বাচন করা থেকে বিরত রাখতে প্রয়োজনীয় আইন নেই। বিদ্যমান আইনে কী করা সম্ভব তা কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে বসে পর্যালোচনা করা হবে। অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নেতারা নিবন্ধিত দলের সঙ্গে জোটগতভাবে নির্বাচন করতে পারবেন কি-না সাংবাদিকরা জানতে চাইলে গত ৯ নভেম্বর ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, এটি আইনে কোথাও নেই। কিন্তু কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল যদি অনিবন্ধিত দলের প্রার্থীকে নমিনেশন দেয়, তাহলে তো আমরা বাধা দিতে পারব না। এ বিষয়ে আইনে কোনো ব্যাখ্যাও নেই। একই ধারাবাহিকতায় গতকাল রোববার (২৩ ডিসেম্বর) রাত প্রায় সাড়ে ৮টায় ইসির প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে জানতে পারলাম যে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের ২৫ নেতার প্রার্থিতা বহাল রেখেছে ইসি। এই প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ ইসির হাতে নেই বলেই তাদের প্রার্থিতা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসি সচিব বলেন, কমিশন সভায় জামায়াতের ২৫ প্রার্থীর প্রার্থিতা বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। আদেশ বিশ্লেষণ করে কমিশন দেখেছে, বিদ্যমান আইনে এসব প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করার কোনো সুযোগ নেই। ফলে এই ২৫ জামায়াত নেতার প্রার্থিতা বহাল থাকছে। তাহলে বোঝা গেল, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতকে নির্বাচন করা থেকে বিরত রাখার আইন কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ইসি হাইকোর্টের আদেশ চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছে। ইসির বিজ্ঞতা ও প্রাজ্ঞতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। ইসিকে প্রশ্নবিদ্ধ করাও আমার উদ্দেশ্য নয়। তবে একটা কিন্তু থেকে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী, আইন অর্থ কোন আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যে কোনো প্রথা বা রীতি। আইনের সাংবিধানিক সংজ্ঞা থেকে আমরা তাহলে দেখতে পাচ্ছি আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যে কোন প্রথা বা রীতিও আইন হিসেবে গণ্য। বিশ্ব জুড়ে একটি অত্যন্ত সুপ্রতিষ্ঠিত Legal Maxim বা আইনি রীতি হচ্ছে: What cannot be done directly cannot be done indirectly অর্থাৎ কোনো কাজ যদি সরাসরি না করা যায়, তবে সেই কাজ পরোক্ষভাবেও করা যাবে না। এই Legal Maxim টি তার যাত্রা শুরু করেছে সেই ১৮৮১ সালে কানাডাতে। তবে তা সুপ্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮২ সালের যুক্তরাজ্যের Privy Council-এর Charles Russell vs. The Queen এবং Queens Bench Division-এর Todd vs. Robinson মামলা দুটির রায়ের মাধ্যমে। Legal Maxim টি যুক্তরাষ্ট্রে সুপ্রতিষ্ঠিত হয় Hammer vs. Dagenhart মামলাটির মাধ্যমে। অস্ট্রেলিয়াতে প্রথমবারের মতো এই Legal Maxim কে গ্রহণ করা হয় ১৯০৪ সালের অস্ট্রেলিয়া হাই কোর্টের Sydney Municipal Council vs. Commonwealth এবং D’Emden vs. Pedder মামলা দুটিতে। তবে Legal Maxim অস্ট্রেলিয়াতে সুপ্রতিষ্ঠিত হয় অস্ট্রেলিয়া হাইকোর্টের ১৯০৮ সালের R vs. Barger এবং ১৯১১ সালের Osborne v. Commonwealth মামলা দুটির রায়ের মাধ্যমে। আলোচ্য Legal Maxim ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের বহু মামলাতেও প্রয়োগ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা যায়, ১৯৭৯ সালের Jagir Singh vs. Ranbir Singh, ২০০০ সালের M C Mehta vs. Kamal Nath, ২০১০ সালের Sant Lal Gupta vs. Cooperative Group Housing Society Ltd, ইত্যাদি। এখন তাহলে আইনি ব্যাপারটা আমরা একটু মিলিয়ে নেই। হাইকোর্ট ২০১৩ সালে রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করেছে। অর্থাৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধিত না হওয়ার কারণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। দল তো আর প্রার্থী হয় না, হয় দলের সদস্যরা। তাই যদি হয়ে থাকে, তবে হাই কোর্টের রায় অনুযায়ী অনিবন্ধিত হওয়ার কারণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলটির কোনো সদস্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এটাই তাহলে আদালত কর্তৃক ঘোষিত আইন যাকে আমরা Judge-made Law বলি এবং আমাদের সংবিধান অনুযায়ী তা খুবই আইনসিদ্ধ। এবার আসি, বিশ্বজুড়ে সুপ্রতিষ্ঠিত খবমধষ গধীরস বা আইনি রীতি What cannot be done directly cannot be done indirectly বিষয়ে। আগেই বলেছি এই সুপ্রতিষ্ঠিত খবমধষ গধীরস বা আইনি রীতির অর্থ হচ্ছে কোনো কাজ যদি সরাসরি না করা যায়, তবে সেই কাজ পরোক্ষভাবেও করা যাবে না। তাহলে, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলটির কোনো সদস্য যদি নির্বাচনে directly (সরাসরি) অংশগ্রহণ করতে না পারে, তবে সে কি করে অন্য দলের আড়ালে লুকিয়ে নির্বাচনে directly (পরোক্ষভাবে) অংশগ্রহণ করতে পারে? সেটা কি সুপ্রতিষ্ঠিত Legal Maxim বা আইনি রীতিকে লঙ্ঘন করা হলো না? বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী, আইনের সাংবিধানিক সংজ্ঞাতে যেহেতু আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যে কোনো প্রথা বা রীতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাহলে বিএনপি দলটির আড়ালে লুকিয়ে বা স্বতন্ত্রভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলটির ২৫ জন সদস্য কিছুতেই নির্বাচনে indirectly অংশগ্রহণ করতে পারে না। আর যদি তারা সেই কাজ করে, তবে তারা নিজেরা এবং তাদের সহযোগিতা করার জন্য বিএনপি দু দলই আইন ভঙ্গের দোষে দুষ্ট যা নিঃসন্দেহে আদালত অবমাননার শামিল। জানি না, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থিতা বিষয়ে আমাদের ইসি যখন সংশ্লিষ্ট আইন খুঁজে ব্যর্থ হয়েছেন, বিশ্বজুড়ে সুপ্রতিষ্ঠিত Legal Maxim বা আইনি রীতিনীতিগুলোতেও চোখ বুলিয়েছেন কিনা! লেখক: ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ,আইনজীবী ও আইনের শিক্ষক, প্রকাশিত মানবকণ্ঠ
প্রাণশক্তি স্পর্শ করা স্লোগান গ্রাম হবে শহর
অনলাইন ডেস্ক :গ্রাম শব্দটি মূলত সংস্কৃত ভাষা হতে উদ্ভূত। লোকমুখে এই গ্রাম গেরাম হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই গেরাম গাঁও গাইগাঞি গাঁ- এ রূপান্তরিত হয়েছে। কারো কারো মতে, সংস্কৃত ব্যাকরণের অনুশাসন মেনে এ শব্দ গ্রামে রূপান্তরিত হয়েছে। মার্কগেুয়-পুরাণের মতে, যে ভূখ-ে ভদ্রগণ ও সমৃদ্ধশালী কৃষকেরা বাস করে তার নাম গ্রাম। ইতিহাস প-িত নীহাররঞ্জন রায় এর উদ্ধৃতিতে বাংলাদেশের গ্রাম গড়ে ওঠার সমগ্র প্রেক্ষাপটটি তুলে ধরতে সমর্থ হয়েছেন। একই বংশে জাত সন্তান-সন্ততি এবং তাদের বংশধরদের নিয়ে কয়েকটি পরিবারের ছোট একটি উপনিবেশ হলো গ্রামের স্বাভাবিক রূপ। গ্রামের উৎপত্তি সম্বন্ধে প্রাচীন গ্রীক দার্শনিকের এই বক্তব্য সূচনায় সঠিক হলেও কালে গ্রামের এই স্বাভাবিক রূপ অক্ষুন্ন থাকেনি। বিভিন্ন জাতের ও শ্রেণির মানুষের বসতি রয়েছে গ্রামে। স্বনির্ভর হয়েছে সংশোধন। সর্বোপরি প্রভাবশালী যোদ্ধা শ্রেণি, রাজন্যবর্গ এবং ধর্মযাজক গোষ্ঠীর প্রভূত্বকে স্বীকার করে নেওয়ার ফলে গ্রামের সামাজিক অর্থনৈতিক জীবনেও এসেছে পরিবর্তন যার ফলে সকল সিদ্ধান্ত কেবল পরিবারের বা গ্রাম সমাজের নিজ প্রয়োজনে নেয়া সম্ভব হয়নি। রাজ শক্তির উত্থান-পতন সামন্ত যুগে গ্রামীণ সমাজকে স্পর্শ করেছে প্রত্যক্ষভাবে। বর্তমানে গ্রাম কেবল মানুষের বসতির একটি রূপ নয়। তা এখন উন্নয়নের অংশীদার। এর অভ্যুদয়ের সাথে জড়িত ছিলো জীবিকার্জ্জনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য এবং বিশেষ উৎপাদন ব্যবস্থা। আদিম যাযাবর মানুষ যখন পশু শিকার এবং ফলফূস আহরণ ছেড়ে কৃষিকাজ শিখল তখন ইে নতুন জীবিকার তাগিদেই তাকে গ্রহন করতে হলো উপযুক্ত উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সেই উৎপাদন ব্যবস্থাই যাযাবর মানুষকে স্থায়ী বসতি স্থাপনে বাধ্য করলো। গ্রামীণ সমাজের আদিলগ্নে প্রাকৃতিক অর্থনীতিই ছিল প্রধান। তখন গ্রামের মানুষেরা কেবলমাত্র নিজেদের ব্যবহারের জন্য দ্রব্য সামগ্রী তৈরী করতো। আদিম সাম্যবাদের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিলো যে গ্রাম ক্রমে ব্যক্তি মালিকানার স্বীকৃতি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পণ্য-বিনিময়ের প্রসারের ফলে তার প্রকৃতিতে পরিবর্তন হলো। শুধু প্রাকৃতিক সুষম্য নয়, আলো ও অন্ধকারের বাস্তবতায় গ্রামকে দেখার অবকাশ এখনো রয়ে গেছে। পালাবদলের পৃথিবীতে বাংলাদেশের গ্রামগুলোর সঙ্কট আর সম্ভাবনা দিব্য দৃষ্টি নিয়ে দেখার চেষ্টা করছে পুরোনো প্রাচীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। গ্রামীণ বাংলার এক শাশ্বত প্রতিরূপ ভেসে উঠে হেমন্ত ও শীতের সন্ধিক্ষণে আমরা এখন তা উপলব্ধি করছি। চোখ মেলে চাইলেই চিরায়ত বাংলার সমৃদ্ধিতে ভরপুর ছবিটি দেখা যায়। কিছু উন্নয়ন আর রঙরূপ, দৃশ্যপট বদল হলেও বাংলাদেশের ভূগোলে গ্রাম এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। কিন্তু প্রাকৃতিক ও নান্দনিক সৌরভের গ্রামগুলোর ভেতরে রয়েছে আলো ও আঁধারের পুঞ্জীভূত অন্য এক জগৎ। গভীর অর্ন্তদৃষ্টি না থাকলে গ্রামের সেসব ছবি দেখা অসম্ভব। আর একারণেই অতি সাম্প্রতিক প্রিয় লেখক হুমায়ন আহম্মদ পূর্ণিমা ও অমাবষ্যার আলো আধার উপভোগ করতে গহীণ গ্রামে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন। অতীতের সাহিত্যিকরাও গ্রামর সম্ভাবনা গভীর অনুসন্ধান করেছিলেন। বঙ্কিমের বঙ্গদেশের কৃষক ছাড়াও শরৎচন্দ্র গ্রামীণ জীবনের আলো ও অন্ধকারকে তুলে ধরেছেন। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ইউরোপের পুঁজিবাদী দানবীয় চাহিদা সৃষ্টিকারী সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনার বিরোধিতা করছিলেন রক্তকরবী নাটকে। রক্তকরবী লেখার আগেই রবীন্দ্রনাথ তাঁর সিটি অ্যান্ড ভিলেজ নামের ইংরেজি নিবন্ধে খেয়াল করিয়ে দিয়েছিলেন কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি প্রকৃতি-পরিবেশকে বিনষ্ট করছে। রবীন্দ্র পরবর্তী সাহিত্যিকদের মধ্যে গ্রামসমাজের অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধতম তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধায়। তারাশঙ্কর নিজেও তাঁর গ্রাম-কেন্দ্রীক সাহিত্যধর্মে অবিচল ছিলেন আজীবন। দলমত নির্বিশেষে গ্রামসমাজের সাধারণ মানুষের জীবনধারাকে বুঝতে গ্রামীণ জনতার জীবনের সমস্যার নানা বাস্তব সমাধানও প্রদান করতে তৎপর হয়েছিলেন। বর্তমানের রাজনৈতিক ব্যক্তিরা অনেকেই গ্রামে যান বা গ্রামের সাথে সম্পর্কীত থাকেন, কিন্তু কয়জন গ্রামের রূপবৈচিত্র ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরতে পেরেছেন? গল্প-উপন্যাসের কৃৎ-কৌশল গ্রামের দুঃখদুর্দশা বারোয়ারী ভাষায় বর্ণনা আছে। ১৯৬৩ সালের ১৭ আগস্ট তারাশঙ্কর স্বাধীন দেশের উপরওয়ালাদের প্রসঙ্গে গ্রামের চিঠিতে বিদ্রুপ ও শ্লেষ ভরা বাক্যে লিখেছিলেন: ইহারা গ্রামের লোকের সঙ্গে সর্ম্পক রাখেন না কারণ ইহারা উপরওয়ালা। তারাশঙ্কর গ্রামকে ভেতর থেকে চিনতে ও চেনাতে চেয়েছিলেন। আমাদের রাজনীতিবিদগণ বা সাহিত্যিক, সমাজ-গবেষকরা হৃদয়ে ধারন ও লালন করে সে চেষ্টাটি সরেজমিনে অবিরাম করে যাচ্ছেন তা একাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রস্ফূটিত হয়েছে। তারাশঙ্কর যে গ্রামের চেহারা দেখেছিলেন, সে চেহারা হয়তো এখন খুঁেজ পাওয়া যাবে না। রাজনীতিও জটিলতর হয়েছে। তবে গ্রাম সম্বন্ধে মূলগত সমস্যার স্বরূপ একই। তা হলো, আমরা গ্রামের উন্নয়নের কথা ভাবি, কিন্তু গ্রামকে ভেতর থেকে চেনার চেষ্ট করি না। এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে গ্রামবাংলার শাশ্বত শততকে দৃশ্যমানরূপে অঙ্গিকারাবদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচনে জনগণ শুধু দল ও মার্কা নয়; প্রার্থীর যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা, অতীত কর্মকা- ও অঙ্গীকার বিষয় বিবেচনা করেই ভোট দিয়ে থাকে। নির্বাচন-পরবর্তী রাষ্ট্র পরিচালনা কিভাবে করা হবে তার রূপরেখাই হলো নির্বাচনী ইশতেহার। ইশতেহার রাজনৈতিক দলের অঙ্গীকারপত্র। বাস্তবভিত্তিক ও যুগোপযোগী চিন্তা চেতনার বহিঃপ্রকাশ নির্বাচনী ইশতেহার এবং তার পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রতিফলন ও বাস্তবায়নের অঙ্গীকার সামর্থও গুরুত্বের। নির্বাচনী ইশতেহার গতানুগতিক না করে জনকেন্দ্রিক, জনকল্যাণমুখী, ভিন্নধর্মী এবং চমক দেখানোর মতো বিষয়গুলো পারদর্শীতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নে আলো ও অন্ধকারের গ্রামকে দৃশ্যমান করা হয়েছে। বাংলাদেশকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ডেল্টা প্ল্যান বা বদ্বীপ পরিকল্পনা প্রাধান্য পাচ্ছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক তরুণ ভোটারকে আকৃষ্ট করার জন্য তাদের কর্মসংস্থান এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার থাকছে। ইশতেহারে স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ও গ্রাম হবে শহর। এই শ্লোগানের ফলে গ্রামগুলোতে শহরের মতো নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একটি রাষ্ট্র তখনই উন্নয়নের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছবে যখন দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সাধিত হবে। আমাদের দেশে শহর থেকে গ্রামের আয়তন বেশি সেই সঙ্গে সস্তা শ্রম ও প্রাকৃতিক সম্পদও বেশি, গ্রামের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের উন্নয়ন হবে স্থায়ী ও নির্ভরশীল। একটি গ্রামকে আলোকিত করতে খুব বেশি কিছু প্রয়োজন নেই; শুধু সরকারের একটু দৃষ্টি ও পরিকল্পিত রূপরেখা পালটে দিতে পারে গ্রামের চিত্র। গ্রামীণ অর্থনীতি এগিয়ে না গেলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ব্যাহত হবে। প্রতিটি গ্রামে উৎপাদনমুখী একটি গ্রাম একটি পণ্যের কুটিরশিল্প গড়ে তোলা গেলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে অন্যদিকে শহরে মানুষের চাপ কমে আসবে। এই প্রেক্ষাপটে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গ্রাম হবে শহর সেগান বাস্তবধর্মীয় ও যুগোপযোগী হয়েছে। গ্রামের স্বল্প ও সীমিত আয়ের মানুষের আশা জেগেছে। তা সম্ভব হলে শহরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাবে গ্রামীণ অর্থনীতি সাধিত হবে সামগ্রিক উন্নতি। বিশেষত এই সেগানের হাত ধরে আমাদের গ্রামে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। তরুণ যুব প্রৌঢ় বৃদ্ধ সকলের সমন্বিত প্রয়াস শহর ও গ্রামকে একসঙ্গে উন্নয়নের শিখরে পৌঁছে দেবে এমন স্বপ্ন দেখা আমরা শুরু করেছি। খন রঞ্জন রায়,Khanaranjanroy@gmail.com
নির্বাচনী ইশতেহার, প্রতিশ্রুতি চাই ডিপ্লোমা শিক্ষার প্রসার
ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখি প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে গ্রিসের নগর রাষ্ট্রগুলোতে গণতন্ত্রের উদ্ভব এবং অনুশীলন শুরু হয়। বর্তমানে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা দেশ শাসনের প্রচলিত ধারণাই গণতন্ত্র। গণতন্ত্র আজ বিশ্বনন্দিত একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা। গণতন্ত্র যেহেতু জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসন, তাই নির্বাচনের এত গুরুত্ব। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সম্মেলন গৃহ বা পরিষদ হচ্ছে পার্লামেন্ট বা সংসদ। সংসদের দুটি প্রধান কাজ হচ্ছে দেশের আইন প্রণয়ন এবং নীতিনির্ধারণ। তাছাড়া দেশ ও জনগণের নানা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ও দাবি-দাওয়ার কথা তুলে ধরা ও আলোচনা করাও সাংসদ বা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাজ। আমাদের মতো স্বল্পোন্নত এবং স্বল্পশিক্ষিত মানুষের দেশে গণতন্ত্রের নামে যে নির্বাচন হয় তা জনস্বার্থের প্রতিফলন ঘটায় কিনা তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। তবু অনেকটা অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তাকে আমরা বিশ্বাসযোগ্য বা গ্রহণযোগ্য বলে ধরে নেই।নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে দেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ৩০ ডিসেম্বর। এই নির্বাচন কেন্দ্র করে দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহার তৈরিতে ব্যস্ত। নির্বাচনে জনগণ শুধু দল ও মার্কা নয়, প্রার্থীর যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা, অতীত কর্মকা- ও সার্বিক বিষয় বিবেচনা করেই ভোট দিয়ে থাকে। নির্বাচন-পরবর্তী রাষ্ট্র পরিচালনা কিভাবে করা হবে তার রূপরেখাই হল নির্বাচনী ইশতেহার। ইশতেহার রাজনৈতিক দলের অঙ্গীকারপত্র। রাজনৈতিক দলগুলোর রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং ক্ষমতায় গেলে করণীয় ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থার খসড়া তুলে ধরা হয় ইশতেহারে। বাস্তব পর্যবেক্ষণে আমাদের ধারণা রাজনৈতিক দলগুলো কী নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে তা জানার জন্য মানুষ কৌতুহল নিয়ে অপেক্ষা করছে। প্রতিটি দল জরুরি ভিত্তিতে সাড়া জাগানো ও জনগণকে ভোটে উদ্বুদ্ধ করতে একটি ইশতেহার ঘোষণা করে। একইভাবে মুখে মুখে স্থানীয় সাংসদও এলাকার অনেক কিছু করবেন বলে জনসভায় বলে রাখেন ভোটের আগে। ভোট শেষে জাতীয় বা স্থানীয় পর্যায়ে তা নিয়ে আলাপ আলোচনা ও বাস্তবায়নে প্রদক্ষেপ নিয়ে থাকেন। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে তরুণরাই হবে মূলশক্তি। কারণ তাদের হাতে রয়েছে একটা বড় অংকের ভোটব্যাংক। আওয়ামীলীগ সরকারের দুই আমলে নতুন ভোটার হয়েছে ২ কোটি ৩৫ লাখ ১২ হাজার ৯৯৭ জন। এর মধ্যে ২৭ বছর বয়সী ভোটার সংখ্যা রয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৮৪ হাজার ১৪৬ জন। আর ২১ থেকে ২২ বয়সী ভোটার রয়েছে ৮০ লাখ ২৮ হাজার ৮৩৩ জন। অন্যদিকে একেবারে নতুন অর্থাৎ ১৮ বছর বয়সী ভোটার হচ্ছে ৪৬ লাখের মতো। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি তাদের চূড়ান্ত হিসেবের ফিরিস্থি এটি। ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১০,১৪,৪০৬০১ । এর সঙ্গে নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছিল ৩৩,৩২,৫৯৩ জন। এখানে নতুন পুরুষ ভোটার ১৬,৩২,৯৭১ আর নারী ভোটার ১৬,৯৯,৬২২ জন যুক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে মৃত ভোটার ১৭,৪৮,৯৩৪ জনকে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। সবশেষে বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী দেশে মোট ভোটার রয়েছে ১০,৪১,৪২,৩৮১ জন। সংখ্যার দিক থেকে নতুন ভোটারদের মধ্যে তরুণরা কয়েক ধাপ এগিয়ে রয়েছে। আগামী নির্বাচনে নতুন নেতৃত্ব ও বাংলাদেশকে কেমন দেখতে চায়- সে বিবেচনায় তারা ভোট প্রয়োগ করবে। তাদের ওপরই নির্বাচনের ফলাফল নির্ভর করবে বলে ধারণা করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরাও। সেক্ষেত্রে এ তরুণরা কোনো দলের জন্য নতুন সরকার গঠনে বাধা হয়েও দাঁড়াতে পারে। ২০১৫ সালে জাতিসংঘ যে এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছিল, তার ১৭টি অভীষ্টের মধ্যে অন্তত ১০টির সঙ্গে যুবশক্তি সরাসরি জড়িত। কিন্তু তিন বছর পার হলেও যুবক বা তরুণদের ভাগ্যোন্নয়নে বাংলাদেশ বড় ধরণের সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। এখনও আমাদের যুবকদের একাংশ দারিদ্র্যের নিগড়ে বন্দি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবাসহ মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত। আবার নানা বাধাবিঘ পেরিয়ে যেসব তরুণ উচ্চ শিক্ষা নিয়েছে, তাঁরাও চাকরি পাচ্ছে না। তরুণরা তাদের সৃজনশীল শক্তি প্রয়োগ করে গবেষণামনস্ক সমাজ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে চায়। তরুণরা লেখক, কবি, সাহিত্যিক, অভিনয় শিল্পীসহ সংস্কৃতির বিভিন্ন অঙ্গনে তাদের জয়যাত্রার পদচিহ্ন এঁকে দিতে চায়। তরুণরা সমাজ সংস্কারক, উদার মনোভাবাপন্ন এবং তারা রাষ্ট্রের উন্নয়নের নীতিমালা প্রণয়নে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে চায়। এবারের নির্বাচনে তরুণদের বিকাশের পরিকল্পনার বিষয়গুলোকে অবশ্যই জোড় দিতে হবে। প্রতিটি তরুণই চায়Ñ লেখাপড়া শেষে প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ মেধা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হোক। হাতেঘোনা দুই-একজন বাদে লেখাপড়া শেষে প্রায় প্রত্যেকেই কর্মসংস্থানের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না। শিক্ষিত বেকারের বড় একটি অংশ সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত। তাঁরা পারছে না সাধারণ স্বল্পশিক্ষিত মানুষের মতো শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে। আবার অফিশিয়াল কাজের সুযোগ সীমিত এবং দুষ্প্রাপ্য। ফলে তারা কর্মক্ষম হওয়া সত্বেও বেকার হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার গলদের জন্য কোনো কোনো বিষয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্রাজুয়েট আমরা তৈরি করছি, আবার কোথাও প্রয়োজনের কম প্রযুক্তিবিদ তৈরি হচ্ছে। ফলে চাকরির ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলাফল দেশে অনেক বেকার জনবল আর প্রয়োজনে দেশের বাইরে থেকে লোক এনে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ সুনির্দিষ্ট পেশাভিত্তিক ডিপ্লোমা শিক্ষায় শিক্ষিত কিংবা প্রশিক্ষিতদের শুধু দেশে নয়; দেশের বাইরেও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। আমাদের দেশের প্রায় এক কোটি মানুষ বিদেশে থাকে; যাদের অধিকাংশই অদক্ষ শ্রমিক। কিন্তু তারাই আবার রেমিট্যান্স অর্জনে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। বিপুলসংখ্যক শ্রমিক শুধু দক্ষতার অভাবে নিমানের কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। তারা যদি বাজার চাহিদাভিত্তিক কোনো ডিপ্লোমা ট্রেডে প্রশিক্ষিত হতো, তাহলে তিন থেকে চার গুণ বেশি উপার্জন করার সুযোগ পেত। কেন বেশির ভাগ মানুষ সবসময় গরীব থেকে যায়, এই বিষয়ে রবার্ট টি. কিউস্যাকির ‘ধনী পিতা গরীব পিতা’ বইটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রবার্টের মতে, ‘গরীব থাকার অন্যতম মূল কারণ হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা। কারণ আমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকি, ব্যবহারিক জীবনে শুধুমাত্র ১০ ভাগ শুধু কাজে লাগে, বাকি ৯০ ভাগ কোন কাজে আসে না’। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা যেন ব্যবহারিক জীবনে কাজে লাগতে পারে সেজন্য ডিপ্লোমা শিক্ষার প্রতি জোর দিতে হবে। কারণ এর মাধ্যমে অর্জিত সকল জ্ঞানই ব্যবহারিক ভাবে কাজে লাগে। শুধু প্রশিক্ষিত জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমেই বেকারত্বের হার শুন্যের কোঠায় নামানো সম্ভব। বর্তমানে দেশের প্রধান সমস্যা বেকারত্ব। নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণদের কর্মসংস্থানের স্বীকৃতির পাশাপাশি নেতৃত্বে তরুণদের অবস্থানের কথাও থাকা দরকার। সবকিছুতেই মেধার ভূমিকা অনেক সন্দেহ নেই, কিন্তু রাজনীতিতে মেধার প্রয়োজন আরো বেশি। কারণ রাজনীতি শুধু একের নয়, বহুর; শুধু বর্তমানের নয়, ভবিষ্যতেরও; শুধু কোনো গোষ্ঠীর নয়, পুরো জাতি, সমাজ ও দেশের। অতএব সুদূরপ্রসারী দূরদর্শিতা, দিকনির্দেশনা, প্রজ্ঞা রাজনীতিতে বড় প্রয়োজন এবং এ সবকিছুর জন্য দরকার মেধা ও মননের। আমাদের উপমহাদেশের রাজনীতিতে নানা সময়ে মেধাবী ও মননশীল ব্যক্তিত্বরা নানা ভূমিকা রেখেছেন। তাতে দেশ, জাতি ও সময় সমৃদ্ধ হয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রাজনীতি ও জনসেবা মেধাকে আকৃষ্ট করতে চায় নানাভাবে। রাজনীতিতে তরুণ মেধার আগমনকে স্বাগত জানানোর সংস্কৃতি তৈরী করতে হবে। তরুণদের ভবিষ্যৎ তৈরি করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবনা ইশতেহারে জানা দরকার। আমাদের প্রত্যাশা, নির্বাচনী ইশতেহারে দল ও জোট ডিপ্লোমা শিক্ষার আলাদা বোর্ড প্রতিষ্ঠা ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনিদের্শনা দেবে।খন রঞ্জন রায়, মহাসচিব ডিপ্লোমা শিক্ষা গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ ৮৭, চট্টেশ্বরী রোড, চকবাজার, চট্টগ্রাম,Khanaranjanroy@gmail.com

মুক্ত কলম পাতার আরো খবর