চীনের সঙ্গে ২৬৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সৌদির
২৭এপ্রিল,সোমবার,গাজী মেজবাউল,সৌদি আরব প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা মোকাবেলায় চীন থেকে চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয়ের জন্য দুইশ ৬৫ মিলিয়ন বা ২৬ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের চুক্তি করেছে সৌদি আরব। রবিবার দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির ফলে সৌদি আরবে দৈনিক ৬০ হাজার করোনাভাইরাস পরীক্ষা সম্ভব হবে। জানা যায়, এই চুক্তির আওতায় চীন থেকে ছয়টি পরীক্ষাগার ও পাঁচশ বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেবে সৌদি আরব। বিশাল পরিমাণ টেস্ট কিট আমদানিও করবে। এর ফলে দৈনিক ৬০ হাজার করোনা পরীক্ষার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে দেশটিতে। চীন থেকে পাঁচশ টেস্ট কিট বিশেষজ্ঞও সৌদি আরবে এসে স্থানীয় টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণ দেবেন। সৌদি আরবের ন্যাশনাল ইউনিফায়েড প্রকিউরম্যান্ট কম্পানি ও চীনের বেইজিং জিনোম ইনস্টিটিউটের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড এবং দক্ষিণ কোরিয়ার আরও কয়েকটি সংস্থার কাছ থেকে করোনা পরীক্ষার কিট কিনেছে। যার পরিমাণ ছিল ১৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন। আর এবার চীন থেকে কিনতে যাচ্ছে বিপুল পরিমাণ করোনা পরীক্ষার কিট। সৌদি আরবে ১৭ হাজার পাঁচশ ২২ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন একশ ৩৯ জন। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় শুরু থেকেই নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে সৌদি আরব। করোনার বিস্তার ঠেকাতে দেশটির মসজিদে জমায়েত বন্ধ ও সারাদেশে কারফিউ জারি করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে মক্কা ছাড়া বেশ কয়েকটি অঞ্চলে কারফিউ কিছুটা স্তগিত করেছে সৌদি আরব।
বেঁচে আছেন কিম জং উন
২৭এপ্রিল,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: উত্তর কোরিয়ার শীর্ষনেতা কিম জং উনের মৃত্যুর গুঞ্জনে কয়েকদিন থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যম সরগরম। এ গুঞ্জনের মধ্যে কিম জং উন বেঁচে আছেন এবং ভালো আছেন বলে দাবি করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা চাং ইন মুন। ১৫ এপ্রিল দেশের প্রতিষ্ঠাতা ও তার দাদা কিম ইল সুংয়ের জন্মদিনে তাকে অনুপস্থিত দেখা গেছে। এরপরই নানা জল্পনা ছড়িয় পড়ে। রোববার দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা চাং বলেন, আমাদের সরকারের অবস্থান স্পষ্টকিম জং উন বেঁচে আছেন ও সুস্থ আছেন। তিনি ১৩ এপ্রিল থেকে ওনসান এলাকায় অবস্থান করছেন। এখনও সন্দেহজনক কিছু মনে হয়নি। খবর এনডিটিভির। তিনি জানিয়েছেন, কিমের হলিডে রিসোর্টের কাছে একটি ব্যক্তিগত রেলস্টেশন আছে। সেখানে তার ট্রেন দেখা গেছে। কিম জং উনকে সর্বশেষ জনসমক্ষে দেখা যায় ১১ এপ্রিল দলের পলিটব্যুরোর এক মিটিংয়ে। জাপানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, হার্টের অপারেশনের পর তিনি অচেতন হয়ে গেছেন। হংকংয়ের একটি টেলিভিশনের দাবি, তিনি আসলে মারাই গেছেন। এ নিয়ে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এখনও কিছূ জানানো হয়নি।
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে মারা গেছেন ২ লাখ ৬ হাজার ৯৯০ জন
২৭এপ্রিল,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত ২৯ লাখ ৯৪ হাজার ৭৩৪ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২ লাখ ৬ হাজার ৯৯০ জন। অন্যদিকে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮১৬ জন। তবে রবিবার (২৭ এপ্রিল) বিশ্বব্যাপী করোনার মৃত্যু উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। অনেক দিন ধরে ছয় হাজারের বেশি করে দৈনিক মৃত্যু হচ্ছিল সেখানে গতকাল রবিবার বিশ্বে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৭৫১ জন। এই সংখ্যায় আশা দেখছে বিশ্ববাসী। একদিনে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ। এছাড়া একদিনে বিশ্বে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৪২ হাজারের বেশি করোনা রোগী। এ তথ্য জানিয়েছে করোনাভাইরাস নিয়ে লাইভ আপডেট দেয়া ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার। বর্তমানে ভাইরাসটির উপস্থিতি রয়েছে ১৯ লাখ ৮ হাজার ৯২৮ জনের শরীরে। এর মধ্যে ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৩২৫ জনের শরীরে রয়েছে মৃদু সংক্রমণ ও ৫৭ হাজার ৬০৩ জনের শরীরে অবস্থা গুরুতর। যুক্তরাষ্ট্রে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৬০ জনের শরীরে। সেখানে মারা গেছেন ৫৫ হাজার ৪১৩ জন। এছাড়া স্পেনে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৬২৯ জনের শরীরে এবং সেখানে মারা গেছেন ২৩ হাজার ১৯০ জন। বাংলাদেশে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৪১৬ জনের শরীরে এবং মারা গেছেন ১৪৫ জন ও সুস্থ হয়েছেন ১২২ জন।
উহানকে করোনা মুক্ত ঘোষণা করেছে চীন
২৬এপ্রিল,রবিবার,এম.সিরাজ সাকি,চীন প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনার গতি থামাতে বিশ্বের অন্যান্য দেশ যেখানে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে উহানকে করোনা মুক্ত ঘোষণা করেছে চীন। যদিও রাজধানী বেইজিংসহ অন্যান্য স্থানে এখনও সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে তা অনেক কম। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে। স্বাস্থ্য কমিশনের মুখপাত্র মি ফেং বলেন, ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত উহানে করোনা রোগীর সংখ্যা শূন্য। এর জন্য উহান ও সারাদেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের যৌথ প্রচেষ্টাকে ধন্যবাদ জানাই। উহানে এখন পর্যন্ত ৪৬ হাজার ৪৫২ জন ভাইরাসটির শিকার হয়েছেন। প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৮৬৯ জন, যা চীনে মোট মৃত্যুর প্রায় ৮৪ শতাংশ। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর দেশটির হুবেই প্রদেশের উহান শহরের একটি সবজি বাজার থেকে কোন এক প্রাণীর মাধ্যমে ভাইরাসটির সৃষ্টি হয়। যদিও তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। যা বিশ্বের ২১১টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। করোনার প্রকোপ দেখা দিলে গত জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে গোটা হুবেইজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় সবধরনের যান চলাচল, কলকারখানা ও বিমান চলাচল। জরুরি নিত্যপণ্য কেনা ছাড়া বাইরে বের হওয়ায় দেয়া হয় কড়া নিষেধাজ্ঞা। বন্ধ হয়ে যায় অনেক নামিদামি প্রতিষ্ঠান। ক্ষতিরমুখে পড়ে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার। যার প্রভাব পড়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে। হাজারো প্রচেষ্টায় দেশটিতে গতমাসের প্রথম দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে করোনা। এরপর সম্প্রতি তুলে নেয়া হয় লকডাউন। ফলে অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থায় এখন চীন। তবে বহিরাগতদের এখনও পরীক্ষা ছাড়া শহরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। কারণ, বাকি অঞ্চলগুলোতে সংক্রমণ কমে গেলেও উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় হেইলংজিয়াং প্রদেশে রাশিয়াফেরত নাগরিকদের মাধ্যমে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮২ হাজার ৮২৭ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৪ হাজার ৬৩২ জন। উৎপত্তিস্থল চীন স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেও মৃত্যু উপত্যকায় ইউরোপ ও আমেরিকা। ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও। যার শিকার হয়েছেন এখন পর্যন্ত ২৯ লাখ প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ সাড়ে ৩ হাজার মানুষের। যদিও সুস্থ হয়ে এখন পর্যন্ত হাসপাতাল ছেড়েছেন ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৯শ জন।
করোনায় বিশ্বব্যাপী নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯৭ হাজার ২৪৫
২৫এপ্রিল,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনাভাইরাস মহামারিতে বিপর্যস্তি বিশ্ব। এর মধ্যে কয়েকটি দেশে এর প্রকোপ ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বে ছয় হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ। এছাড়া একদিনে বিশ্বে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৫০ হাজারের বেশি করোনা রোগী। এ তথ্য জানিয়েছে করোনাভাইরাস নিয়ে লাইভ আপডেট দেয়া ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার। শনিবার সকাল পর্যন্ত করোনায় বিশ্বব্যাপী নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯৭ হাজার ২৪৫ জনে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৫১ জন। অপরদিকে ৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৭২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে চীন থেকে এই মহামারি শুরু হলেও এখন ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে। আক্রান্ত ও নিহতের সংখ্যায় সবাইকে ছাড়িয়ে গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৫২ হাজার ১৮৫ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ৪৩২ জন। আক্রান্তের দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে স্পেন। সেখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৬৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২২ হাজার ৫২৪ জনের। মৃত্যুর দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইতালি। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৯২ হাজার ৯৯৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৫ হাজার ৯৬৯ জনের। চীনের উহান থেকে বিস্তার শুরু করে গত তিন মাসে বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। চীনে করোনার প্রভাব কমলেও বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশে মহামারি রূপ নিয়েছে। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নেয়া হয়েছে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। অধিকাংশ দেশেই মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করতে মানুষের চলাফেরার ওপর বিভিন্ন মাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। কোনো কোনো দেশে আরোপ করা হয়েছে সম্পূর্ণ লকডাউন, কোথাও কোথাও আংশিকভাবে চলছে মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রম। এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকার প্রায় অর্ধেক মানুষ চলাফেরার ক্ষেত্রে কোনো না কোনো মাত্রায় নিষেধাজ্ঞার ওপর পড়েছেন। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ পড়ার কারণে কিছুদিনের মধ্যেই অনেক দেশেই স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা সরঞ্জাম ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের ঘাটতি দেখা যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। নিউমোনিয়ার মত লক্ষণ নিয়ে নতুন এ রোগ ছড়াতে দেখে চীনা কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এরপর ১১ জানুয়ারি প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।
ঘরবন্দী অবস্থায় সংবাদপত্র পড়া বেড়ে গিয়েছে ৭২ শতাংশ
২৫এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:লকডাউনের একত্রিশ দিন পেরিয়ে গিয়েছে। ঘরবন্দী অবস্থায় সকলেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। টিভির পর্দায় চোখ রেখেও সময় কাটছে না। টিভিতে একঘেয়েমি খবরে ঘরবন্দী মানুষ রীতিমত দিশেহারা। তাই আমরা ক্লান্ত হলেও দিনে একাধিবার সংবাদপত্র টেনে নিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ে নানা কিছু জানার চেষ্টা করছি। আগে সকালে সংবাদপত্র হকার দিয়ে যাবার পর সেটা নিয়ে কেটে যেত বেশ খানিকটা সময়। তার পরে আর সংবাদপত্রে খুব একটা কেউ চোখ বোলাতেন না। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় জানা গেছে, আগে সাধারণত আমরা দিনে যেখানে একবারই সংবাদপত্রে চোখ বোলাতাম সেখানে এখন ৪২ শতাংশ মানুষ একাধিকবার সংবাদপত্রের পাতা ওল্টাচ্ছেন।মানবজমিন। আরও জানা গেছে, আগে যেখানে সাধারনত পাঠকরা ৩৮ মিনিট সংবাদপত্র পড়তেন, এখন লকডাউনের সময় ৩৮ শতাংশ পাঠক গড়ে এক ঘন্টার বেশি সময় ধরে সংবাদপত্র থেকে নিত্যনতুন তথ্য জানার চেষ্টা করছেন। সব বিভাগে মনোযোগ দিয়ে চোখ বেলাচ্ছেন। এভান্স ফিল্ড এন্ড ব্রান্ড সলুউশান নামের একটি মার্কেট রিসার্চ সংস্থা সমীক্ষা করে জানিয়েছে, লকডাউনের আগে আমার-আপনার মধ্যে মাত্র ১৬ শতাংশ পাঠক এক ঘন্টা ধরে সংবাদপত্র পড়তেন। এখন লকডাউনের সময়ে সংবাদপত্র পাঠে সকলেই অনেক বেশি সময় ব্যয় করছেন। আগে যেখানে ৪২ শতাংশ পাঠক ৩০ মিনিটের বেশি সংবাদপত্র পড়তেন, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ শতাংশ। আর আগে যেখানে ১৪ শতাংশ মানুষ ১৫ মিনিটের কম সময় সংবাদপত্র পড়তেন এখন তা কমে এসেছে ৩ শতাংশে। সমীক্ষা থেকে একটি জিনিষ স্পষ্ট হয়েছে, এই সঙ্কটের সময়ে লকডাউনের সময়ে পাঠকদের সঙ্গে সংবাদপত্রের সখ্যতা অনেক বেড়ে গিয়েছে। এই ধারা যদি লকডাউনের পরেও বজায় থাকে তাহলে সংবাদপত্র শিল্পেই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।
কাবা তাওয়াফ ও মক্কা-মদিনা হেরামে রোজার প্রথম তারাবীহ
২৪এপ্রিল,শুক্রবার,গাজী মেজবাউল,সৌদি আরব প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: মুসলিম বিশ্বের প্রথম ও প্রাচীন স্থাপনা ইসলাম ধর্মের সর্বোচ্চ ধর্মীয় স্থান মসজিদুল হেরাম বায়তুল্লাহ কাবা ও রসূলের রওজা মোবারক মদিনা হেরামে এবারের রোজার প্রথম ১০ রাখাত তারাবীহ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাহে রমজান উপলক্ষে ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বায়তুল্লাহ কাবা-ঘরের আংশিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা তাওয়াফ করছেন। এশা নামাজের পরপর তারাবীহ নামাজ শুরু হয়। এশা নামাজে ইমামতি করেন মক্কা-মদিনা হেরামের প্রধান ইমাম শাইখ আবদুর রহমান আল সুইদাস। দশ রাকাত তারাবীহ নামাজের শুরুতে ইমামতি করেন সাউদ উদ আল সুরাইম। পরে তারাবীহ এর কিছু অংশ ও বিতরের নামাজে ইমামতি করে মসজিদুল হেরামের ইমাম শাইখ সুইদাসি। বিতর নামাজ চলাকালীন সময়ে দু'হাত তুলে সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য মোনাজাত করেন শাইখ আবদুর রহমান আল সুইদাসি। তিনি মোনাজাত দোয়া চেয়ে বলেন, আল্লাহ তুমি আমাদেরকে তোমার ঘর ছাড়া করো না। আমাদের বর্তমান চলামান পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দাও। করোনা বিস্তার প্রতিরোধে গত ২ মার্চ ১৩টি বড় শহরে অনির্দিষ্টকালের জন্য ও সমগ্র সৌদি আরবজুড়ে কারফিউ জারি করেন। মাহে রমজানকে সামনে রেখে গত ২২ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কারফিউ পরিবর্তন এনে মক্কা-মদিনা হেরামে ২০রাকাত থেকে ১০ রাকাত তারাবীহ নামাজ পড়ার অনুমোদন দেন দেশটির সরকার।
রাষ্ট্রপতির স্ত্রী নিজ হাতে মাস্ক বানালেন
২২এপ্রিল,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসের কবলে পড়ে যখন কঠিন সংকটের মধ্যে গোটা বিশ্বের প্রায় সব দেশ, তখন সাধারণ মানুষের সেবায় বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদ ছেড়ে হাসপাতালে কাজ করতে নেমে এসেছেন সুইডিশ রাজকন্যা সোফিয়া, চিকিৎসকের খাতায় নাম লিখিয়েছেন আইরিশ প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকার। এবার তেমনই এক খবর এলো প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত থেকে। ভারতে এবার করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামিল হলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের স্ত্রী সবিতা কোবিন্দ। ভারতের ফার্স্ট লেডি সাবিতা অতি সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি ভবন শক্তি হাটে বসে নিজের হাতে বানান ঘরোয়া মাস্ক। তার সেই হাতে বানানো মাস্কগুলো বিতরণ করা হয় রাজধানী দিল্লির বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে। সবিতা নিজেও পরেছিলেন লাল রঙের কাপড়ের তৈরি মাস্ক। খবর এনডিটিভির। কিন্তু কেন তার এই মাস্ক বানানোর সিদ্ধান্ত? সবিতা জানান, মাস্ক বানিয়ে সবাইকে বিতরণের মাধ্যমে তিনি সবাইকে এই বার্তা দিতে চান যে, এভাবেই যেন ভারতবাসীরা সবাই নিজের মুখ ঢেকে করোনা রোগের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই চালান। সেই সাথে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার বার্তাও পাঠাতে চান তিনি। উল্লেখ্য, ভারতে ক্রমশ বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। বাড়ছে রোগমুক্তির সংখ্যাও। এমন সময়ে কীভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সংক্রমণ এড়ানো যেতে পারে তার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
সৌদিতে রমজানে কাজের সময় ও অভিবাসীদের জন্য নির্দেশনা
২৩এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,গাজী মেজবাউল,সৌদি আরব প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা পরিস্থিতির কারণে যে সকল অভিবাসী সেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরতে ইচ্ছুক, তাদেরকে দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানায়, আপনি ছুটিতে অথবা একবারেই সৌদি ত্যাগ করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ব্যক্তির আবশির একাউন্ট থেকে আবেদন করতে হবে। এদিকে রমজানে সৌদি আরবে সরকারি অফিস আদালতে দিনে ৫ ঘণ্টা (সকাল ১০টা-বিকেল ৩টা) কাজের সময় নির্ধারণ করেছে সরকার। যদিও সর্বসাধারণের জন্য সরকারি অফিসে সরাসরি সেবা গ্রহণ বন্ধ রয়েছে। আর প্রাইভেট সেক্টরে কাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ ঘণ্টা। এই এসময় কোম্পানিসমূহ তাদের সুবিধামত নির্ধারণ করবে। এদিকে যে সমস্ত অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টার কারফিউ বলবৎ ছিল না, সেখানে সকাল ৯টা হতে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলাচল করা যাবে। তবে, যে সমস্ত শহর ও অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টা কারফিউ চলমান রয়েছে, সেখানে জরুরি চিকিৎসা সেবা, খাদ্যদ্রব্য কেনাকাটা ও ব্যাংকিং সেবা অত্যান্ত নিয়ন্ত্রিতভাবে চলছে। ইতিপূর্বে বড় বড় শহরের মধ্যে যে সকল নির্দিষ্ট এলাকাগুলো সম্পূর্ণরুপে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছিল (আল আজল আস সিহহী আত তাম) সেখানে আগের মতোই ২৪ ঘণ্টা কোনক্রমেই ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না। শুধু জরুরি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনার জন্য নিজের এলাকার ভেতরে অবস্থিত তাম উইনাত (মুদির দোকান) বাক্কালাতে যেতে পারবেন এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য বের হতে পারবেন। কেনাকাটার পর রশিদ রাখতে হবে। পুলিশি বাধায় পড়লে তা দেখাতে পারবেন। প্রয়োজনে ৯৯৭ এ কল করেও সাহায্য নিতে পারবেন সাধারণ মানুষ। রমজানে মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদীনার মসজিদে নববীতে সর্বসাধারণের জন্য তারাবীহসহ ৫ ওয়াক্ত নামাজে উপস্থিতি এবং ওমরা বন্ধ থাকবে।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর