করোনাভাইরাসে মৃত বেড়ে ৩৬১, খুলছে ১০০০ শয্যার হাসপাতাল
০৩ফেব্রুয়ারী,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬১ জনে। এর মধ্যে চীনের বাইরে প্রথমবারের মতো ফিলিপাইনের এক ব্যক্তি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। খবর আল-জাজিরার। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, রোববার নতুন করে ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন ছাড়া বাকি সব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে হুবেই প্রদেশে। এক মাসের বেশি সময় আগে হুবেই প্রদেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে প্রদেশটি এখন কার্যত অবরুদ্ধ। করোনাভাইরাসে চীনজুড়ে অন্তত ৩৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর আক্রান্ত হয়েছে আরও অন্তত ১৭ হাজার ২০৫ জন। এছাড়া নতুন করে দুই হাজার ৮২৯ জন সংক্রমণের শিকার হয়েছে। দ্রুত ছড়াতে থাকায় এবং মৃত্যুর হার বাড়তে থাকায় বিভিন্ন দেশ উহান ও হুবেই থেকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিচ্ছে। তবে অনেক দেশ আবার চীনে যাওয়া ও চীন থেকে আসার ব্যাপারে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। উহান থেকে নিয়ে আসা এসব ব্যক্তিদের অনেককেই ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে এবং সংক্রমণের কোনও লক্ষণ আছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চীন ছাড়াও আরও অন্তত ২২টি দেশে প্রায় ১৫০ লোক কারোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে মাত্র আট দিনে ১০০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল নির্মাণ করেছে চীন। ১৫০০ শয্যার আরেকটি হাসপাতাল নির্মাণাধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
করোনা আতঙ্ক: বিদেশে মাস্ক রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করলো ভারত
০২ফেব্রুয়ারী,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে চীনে মিলছে না মাস্ক। বাতাবি লেবুর খোসা, জলের বোতল, স্যানিটারি প্যাড আর অন্তর্বাসকে মাস্ক বানিয়ে মুখে বাঁধছেন চীনের মানুষ। এই পরিস্থিতি যাতে ভারতে না সৃষ্টি হয়, তাই আগে থেকেই ব্যবস্থা নিল দেশটির প্রশাসন। দেশটির ডিরেক্টর জেনারেল অব ফরেন ট্রেডের পক্ষ থেকে জারি করা এক নির্দেশনা বলা হয়েছে, এখন থেকে শুধু রেসপিরেটরি মাস্ক ই নয়, বায়ুবাহিত ধূলিকণা ঠেকাতে যেসব ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি হয়, তার কোনোটাই দেশের বাইরে রফতানি করা যাবে না। এমনকি পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির পরীক্ষাগার ছাড়াও আলেপ্পে, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও মুম্বাইয়ের ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চের চারটি পরীক্ষাগারে চিকিৎসার জন্য নমুনা পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, চীনের উহান শহরে আটকে পড়া ৩২৪ ভারতীয়কে দেশে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। দেশে ফেরা ওই ভারতীয়দের আপাতত করেনটাইন করে রাখা হবে। অর্থাৎ আগামী ১৪ দিন দিল্লির কাছে মানেসরের বিশেষ আইসোলেশন ক্যাম্পে চিকিৎসকদের নজরদারিতে থাকবেন তারা। এর মধ্যে তাদের দেহে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ না মিললে তবেই বাড়ি ফিরতে পারবেন। তবে বাড়ি ফেরার পরও তাদের ওপর জেলাস্তরে নজরদারি চালানো হবে।
ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ঢুকল মিয়ানমারও
০১ফেব্রুয়ারী,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নিরাপত্তা ইস্যুতে মিয়ানমারসহ আরও ৬টি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এটি মুসলিম এবং অন্য জাতির জন্য বৈষম্যের বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। খবর আল জাজিরার। প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, নতুন করে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে ইরিত্রিয়া, কিরগিজস্তান, নাইজেরিয়া এবং মিয়ানমারের নাগরিক যারা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন তাদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সুদান এবং তানজানিয়াকেও আর ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি লটারি দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। তবে নিষেধাজ্ঞা দেয়া দেশগুলোর নাগরিকরা অভিবাসী ভিসা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে পারবেন। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান চ্যাড উলফ জানায়, নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া ৬টি দেশ মার্কিন নিরাপত্তা এবং তথ্য প্রদান সংক্রান্ত নিয়মাবলি মেনে চলতে পারেনি। তিনি, এই দেশগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাহায্য করতে চেয়েছে। তবে বিভিন্ন কারণে তারা আমাদের বেঁধে দেয়ার সর্বনিম্ন প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর আগে ছয় মুসলিম দেশ- ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের ওপর ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে ট্রাম্প প্রশাসন। উত্তর কোরিয়ার নাগরিক আর ভেনিজুয়েলার সরকারি কর্মকর্তারাও রয়েছেন নিষেধাজ্ঞার আওতায়।
চীনে সব কার্যালয় বন্ধ করছে গুগল
৩০জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস চীনজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় এবার সাময়িক সময়ের জন্য সব কার্যালয় বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি গুগল। খবর সিএনবিসি’র। এর আগে একই কারণে দেশটিতে একটি স্টোর বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক প্রযুক্তি সংস্থা অ্যাপল। একই সঙ্গে চীন ভ্রমণের ক্ষেত্রেও সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানটি। স্থানীয় সময় বুধবার গুগলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চীনে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় ভোক্তা সংখ্যা কমে গেছে। লোকজন এখন বাড়ির বাহিরে বের হচ্ছেন না। এছাড়া কর্মীদের এই ভাইরাসে আক্রান্তের সম্ভাবনা থাকায় দেশটির মূল ভূখণ্ড, হংকং এবং তাইওয়ানে অবস্থিত গুগলের সব অফিস বন্ধ করে দেওয়া হবে। শুধু গুগল নয় আরও অনেক প্রতিষ্ঠানই চীনে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে আনছে বা সাময়িক সময়ের জন্য সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। এমনকি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। উহান এবং চীনের অন্যান্য শহরে যেখানে নিজেদের কর্মীরা রয়েছে তাদের মধ্যে কেয়ার কিট সরবরাহ করছে অ্যাপল। অপরদিকে, অপ্রয়োজনে চীন ভ্রমণে কর্মীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকও। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নিজেদের কর্মীদের ভাইরাসের প্রকোপ থেকে রক্ষা করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে যেসব কর্মী বর্তমানে চীনে অবস্থান করছেন তাদের বাড়িতে বসেই কাজ করতে বলেছে ফেসবুক। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র বলেন, আমাদের কর্মীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি। এই ভাইরাস বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। কারণ এ বিষয়ে এখনও ভালোভাবে জানা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে এ ভাইরাস কতটা বিপজ্জনক এবং এটা একজন থেকে আরেকজনের শরীরে কীভাবে ছড়িয়ে পড়ছে এ বিষয়গুলো এখনও পরিষ্কার নয়। এখন পর্যন্ত এটা জানা সম্ভব হয়েছে যে, এ ভাইরাস থেকে নিউমোনিয়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এটা অনেক ভয়াবহ হতে পারে। অপরদিকে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের ক্ষমতা আরও প্রবল হচ্ছে এবং সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন। রহস্যময় এ ভাইরাসে চীনে এখন পর্যন্ত ১৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে দেশটির সরকার। যার ১৬২ জনই উহান প্রদেশের। এছাড়া আরও এক হাজার ৭০০ জন নতুন করে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। তবে অনেকের ধারণা চীন সরকার মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা গোপন করছে। আক্রান্তের সংখ্যা ৯০ হাজার ছাড়িয়েছে বলেও দেশটিতে বসবাসরত অনেকেই জানান।
চীনে করোনাভাইরাসে মৃত বেড়ে ১৩২, আক্রান্ত প্রায় ৬ হাজার
২৯জানুয়ারী,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চীনে করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩২ জনে। আর সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা হয়েছে প্রায় ছয় হাজার। চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশন এসব তথ্য জানিয়েছে। এছাড়া চীনের বাইরে আরও অন্তত ১৬টি দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষ পাওয়া গেছে। তবে সেসব দেশে কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এদিকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভাইরাসটিকে খারাপ উল্লেখ করে বলেছেন, এটি মোকাবিলায় তৎপর রয়েছে তার। অন্যদিকে শীর্ষস্থানীয় এক বিশেষজ্ঞের বরাত দিয়ে শিনহুয়া জানিয়েছে, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ আকার ধারণ করতে পারে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসের কেন্দ্রস্থল চীনের উহান শহরে আটকে পড়া বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা চীন ছাড়তে শুরু করেছে। নিজ দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে সবার আগে তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান। এছাড়া ভারত ও ফ্রান্স তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে তৎপরতা শুরু করেছে। ওদিকে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে গবেষণাগারে করোনাভাইরাস তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। একে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন তারা। উল্লেখ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর থেকে পাল্লা দিয়ে দেশটিতে আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা বাড়ছে।
আমরা অবরুদ্ধ, দেশে ফিরতে চাই: চীনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আকুতি
২৮জানুয়ারী,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চীনের যে শহর থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হয়, সেই উহান শহরে তিন শতাধিক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আটকে পড়েছেন। তারা সবাই যার যার ছাত্রাবাসের রুমের ভেতরে প্রায় বন্দি অবস্থায় আছেন। বাইরে বের হতে পারছেন না, খাবার ফুরিয়ে আসছে, আতঙ্কিত উহান নগরীতে এখন তাদের দিন কাটছে দেশে ফেরার প্রতীক্ষায়। আটকে পড়া শিক্ষার্থীরা বলেছেন, আমরা দেশে ফিরতে চাই। বিবিসি বাংলার সঙ্গে স্কাইপে কথা বলেছেন উহানে এমন দুজন বাংলাদেশি। উহানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্রী তাহকিম আনজুম মৃদুলা। তিনি বলেন, আমাদের ইউনিভার্সিটিতে আমরা ১২৭ জনের মতো বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রী আছি। আমাদের যেন এখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। কারণ উহানই এখন সবচেয়ে বেশি এই ভাইরাসের শিকার হয়েছে। মৃদুলা বলেন, আমাদের ডরমিটরির বাইরে একেবারেই যাওয়া নিষেধ। আমরা টোটাল লকডাউনের (পুরোপুরি অবরুদ্ধ) মধ্যে আছি। আমাদের খাবারের সংগ্রহ খুবই সীমিত। মাস্ক না পরে, এমনকি রুমের বাইরে পর্যন্ত যেতে নিষেধ করা হয়েছে। একটা আতঙ্ক কাজ করছে আমাদের মধ্যে। বাতাসে বেরিয়ে আমরা না আবার এই ভাইরাসের আক্রমণের শিকার হই। বাংলাদেশে এই ছাত্রী আরও বলেন, দেশে বাবা-মা খুবই চিন্তিত। তারা চাইছেন আমরা দেশে ফিরে যাই। আমরা দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছি। অপেক্ষায় আছি কখন একটা পদক্ষেপ নেয়া হয়। আমরা সবাই দেশে ফিরে যেতে চাই। যত দ্রুত সম্ভব। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। উহানে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাকিবিল হাফিজ। তিনি বলেন, আজ কয়েকদিন ধরে এই ডরমিটরিতে আমরা অবরুদ্ধ। শুয়ে-বসে দিন কাটাচ্ছি। এটা একটা ইন্টারন্যাশনাল হোস্টেলের মতো। ৫০০-র মতো বিদেশি ছাত্র-ছাত্রী আছে এখানে। আমরা বাংলাদেশিরা ছাড়াও আছে রাশিয়া, কাজাখাস্তান, উজবেকিস্তান, ভারত, পাকিস্তান থেকে শুরু করে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের ছেলে-মেয়েরা আছে এখানে। রাকিবিল বলেন, মাঝখানে আমাদের খাবার পর্যন্ত ফুরিয়ে গিয়েছিল। এখন আবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করেছেন। ইউনিভার্সিটি এই মুহূর্তে বন্ধ, চাইনিজ লুনার ইয়ারের ছুটি। ফেব্রুয়ারির ১৬ তারিখে খোলার কথা, কিন্তু শোনা যাচ্ছে এটি পিছিয়ে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাস আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা সব তথ্য নিয়ে আমাদের তালিকাভুক্ত করছেন। এখানে যারা মাস্টার্সের ছাত্র, তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাস যোগাযোগ করছে। তাদের কাছে আমাদের টোটাল সংখ্যা জানতে চেয়েছে। কত ছাত্র-ছাত্রী এখন আমরা এখানে আছি।
ইরাকে মার্কিন দূতাবাসের কাছে ৫টি রকেট হামলা
২৭জানুয়ারী,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইরাকের রাজধানী বাগদাদের গ্রিন জোনে মার্কিন দূতাবাসের কাছে কয়েকটি রকেট হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাতে এই হামলা হয় বলে দেশটির গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচটি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। এসব রকেটের মধ্যে একটি রকেট মার্কিন দূতাবাসে আঘাত হেনেছে বলে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে। তবে কে বা কারা এসব হামলা চালিয়েছে বা এতে সম্ভাব্য হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। বাগদাদের গ্রিন জোনের পাশাপাশি ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আত-তাজি ও আল-বালাদে গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকবার রকেট হামলা হয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি শুক্রবার ভোররাতে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে জেনারেল সোলাইমানিকে বহনকারী গাড়ির ওপর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে মার্কিন সন্ত্রাসী সেনারা। হামলায় ইরাকের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী হাশদ আশ-শাবির উপ প্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিসসহ দুই দেশের আরও ৮ কমান্ডার নিহত হন। জেনারেল সোলাইমানির হত্যাকাণ্ডের পরপরই ইরাকি পার্লামেন্ট দেশটি থেকে মার্কিন সেনা বাহিষ্কারের বিল পাস করে। এ ছাড়া, গত শুক্রবার ইরাকের প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ রাজধানী বাগদাদে বিক্ষোভ মিছিল করে তাদের দেশ থেকে মার্কিন সেনা বহিষ্কারের দাবি জানায়।
করোনাভাইরাসে মৃত ৫৬, কানাডায় আক্রান্ত শনাক্ত
২৬জানুয়ারী,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চীনের কর্তৃপক্ষ রোববার সকালে জানিয়েছে, নতুন রহস্যময় করোনাভাইরাসে আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবশেষ সাংহাই শহরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল হুবেই প্রদেশে ১৩ জন এবং হেনান প্রদেশে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৫৬ জনে। রোববার চীনের সরকার জানিয়েছে, শনিবার নতুন করে আরও প্রায় সাত শতাধিক ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এর ফলে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২০১৯ জনে। সাংহাই পৌরসভার স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, যে রোগীর মৃত্যু হয়েছে তার বয়স ছিল ৮৮ বছর। এর আগে হুবেইয়ের বাইরে চীনের অন্যান্য শহরেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু চীনের অন্যতম জনবহুল শহর এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নগরী সাংহাইয়ে এই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো। যা এই রোগটি আরও ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে নতুন করে কানাডায় একজন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি। এর ফলে বিশ্বের অন্তত ১২টি দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত করা হলো। অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পিপলস ডেইলি জানিয়েছে, দেশটি ২০১৯-এনসিওভি ভাইরাসটির প্রতিষেধক তৈরির কাজ শুরু করেছে। এছাড়া ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল উহানে ৪৫০ জন মিলিটারি মেডিকেল স্টাফ পাঠিয়েছে সরকার। দৈনিকটি জানিয়েছে, এসব স্টাফদের অনেকেরই সার্স ও ইবোলা ভাইরাসের বিস্তার সময় কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তুরস্কে ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১৮
২৫জানুয়ারী,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় অংশের জনবহুল এলাকায় শুক্রবার ৬ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আরও ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছে এবং ভবন ধসে পড়ে আরও প্রায় ৩০ জন ধ্বংসস্তুপের নিচে আটকা পড়েছে। তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা প্রেসিডেন্সি বা এএফএডি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে ওই ভূমিকম্প হয়। ৬.৭ কিলোমিটার গভীরতার ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল এলাজিগের সিভরিচ শহরের কাছাকাছি। ওই ভূমিকম্পটির পর আরও বেশ কয়েকবার কম্পন অনুভূত হয়েছে বলেও জানিয়েছে এএফএডি। এসব আফটার-শেকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল ৫ দশমিক ৪ মাত্রা ও ৫ দশমিক ১ মাত্রার দুটি কম্পন। এলাজিগ প্রদেশটি রাজধানী আঙ্কারা থেকে প্রায় ৭৫০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলো থেকে আক্রান্ত এলাকায় ছুটে গিয়েছে উদ্ধারকারী দলগুলো। তারা অন্ধকার ও তীব্র ঠাণ্ডার মধ্যে ফ্লাডলাইটের সাহায্যে কাজ করছেন। তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুলুসি আকার বলেছেন, সেনাসদস্যদের সহায়তার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। ভূমিকম্পের পর বহু বাসিন্দা গৃহহীন হয়ে পড়েছে বা অনেকে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টিভি ফুটেজে দেখা গেছে, পূর্বাঞ্চলীয় এলাজিগ প্রদেশের গেজিন জেলার একটি ধসে পড়া ভবনের ভেতর একজন আহত ব্যক্তিকে টেনে বের করছে উদ্ধারকারী। তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেইমান সৌলু বলেছেন, এলাজিগ প্রদেশের বিভিন্ন ভবনের নিচে প্রায় ৩০ জন আটকা পড়েছেন বলে আমরা মনে করছি। এদিকে সৌলুর সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহরেট্টিন কোকা। তিনি বলেন, এলাজিগে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয় হার্ট অ্যাটাকে। আর অন্য পাঁচজনের মৃত্যু হয় মালাটিয়ায়। তুরস্কের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর ৫৫৩ জন আহত হয়েছে, তাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর। দেশটির পরিবেশমন্ত্রী মুরাত কুরুম বলেছেন, ভূমিকম্পে দুই প্রদেশে প্রায় ৩০টি ভবন ধসে পড়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তায়েপ এরদোয়ান এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি বরেন, এলাজিগ ও অন্যান্য প্রদেশে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সব ধনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর