মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টাবলেছেন,উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে প্রস্তুত তার দেশ
মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ আর ম্যাকমাস্টার বলেছেন, উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে প্রস্তুত তার দেশ। এজন্য প্রয়োজনে উত্তর কোরিয়াকে বাধ্য করা হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রকাশের একদিন পর বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে ম্যাকমাস্টার এসব কথা বলেন। এদিকে ওয়ানাক্রাই সাইবার হামলার জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে মাইক্রোসফট এবং গুগল উত্তর কোরিয়ার একটি সাইবার হামলাকে অকার্যকর করে দেয় বলে গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে। স্বাধীন ও মুক্ত সমাজের ক্ষতিসাধন করতে রাশিয়া নাশকতামূলক তৎপরতার একটি সূক্ষ্ম প্রচারণা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জেনারেল এইচ আর ম্যাকমাস্টার। চীন ও রাশিয়াকে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি বলে চিহ্নিত করে ট্রাম্পের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা নীতি ঘোষণার পর ম্যাক মাস্টার এসব কথা বললেন। সোমবার ট্রাম্প তার নতুন জাতীয় নিরাপত্তা নীতি ঘোষণা করেন। অন্যদিকে ট্রাম্পের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা থমাস বোসার্ট ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, গত মে মাসে ওয়ানাক্রাই সাইবার হামলার জন্য দায়ী উত্তর কোরিয়া। এর পক্ষে আমাদের কাছে তথ্য প্রমাণ আছে। চলতি বছরের মে মাসের এই হামলায় ১৫০টি দেশের ২ লাখ ৩০ হাজার কম্পিউটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্বাস্থ্যব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়ে। বিবিসি ও রয়টার্স।
সাফোকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে গাড়িনিয়ে তল্লাশি চৌকিভেঙে অনুপ্রবেশের চেষ্টা
ইংল্যান্ডের সাফোক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে গাড়ি নিয়ে তল্লাশি চৌকি ভেঙে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করার সময় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় মার্কিন সেনা সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। সোমবার বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।ওই ব্যক্তি সামান্য আহত হয়েছেন। তার শরীরের নানা জায়গায় কেটে-ছিঁড়ে গেছে। তাকে হেফাজতে নিয়েছে সাফোক পুলিশ।ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ বিমানঘাঁটি এলাকা ঘিরে ফেলে এবং সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। পুলিশ একে গুরুতর ঘটনা বলে মন্তব্য করেছে।তবে এর সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানানো হয়েছে। টুইটারে এক বিবৃতিতে সাফোক পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ গোলোযোগের খবর পায়।সাফোকে আরএএফ মিডেনহল বিমানাঁটির সুরক্ষার দায়িত্বে রয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পুলিশ ও মার্কিন সশস্ত্র রক্ষী। এই ঘাঁটিতে তিন হাজার ২০০ সামরিক সদস্য রয়েছে। এদের মধ্যে ৪০০ থেকে ৫০০ ব্রিটিশ বেসামরিক কর্মীও রয়েছে
হিমাচল প্রদেশে প্রতি পাঁচ বছর অন্ত্মর সরকারের পরিবর্তন ঘটে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি
টানা ২২ বছর ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও ষষ্ঠবারের মতো গুজরাট শাসনের অধিকার অর্জন করেছে বিজেপি। একই সঙ্গে তারা কংগ্রেসকে ক্ষমতাচু্যত করেছে উত্তর ভারতের পাহাড়ি রাজ্য হিমাচল প্রদেশে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাফল্যের পাগড়িতে এই দুই জয় নিঃসন্দেহে দুটি ঝলমলে পালক। সোমবার সকাল থেকে এই দুই রাজ্যের ফল গণনা শুরম্ন হয়। বেলা যত এগোয়, বিজেপির জয় ততই নিশ্চিত হয়ে যায়। গুজরাটে মোট ১৮২ আসনের মধ্যে বিজেপি ৯৯ আসন জিতেছে, কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন তিন আসনে। হিমাচল প্রদেশে প্রতি পাঁচ বছর অন্ত্মর সরকারের পরিবর্তন ঘটে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ৬৮ আসনবিশিষ্ট বিধানসভায় বিজেপি জিতেছে ৪২ আসনে, কংগ্রেস ২১টিতে। হিমাচল হারানোর ফলে দেশে কংগ্রেসশাসিত রাজ্যের সংখ্যা দাঁড়াল ৪-এ। কর্ণাটক, পাঞ্জাব, মেঘালয় ও মিজোরাম। পাঞ্জাব ছাড়া বাকি তিন রাজ্যে আগামী বছর ভোট। দেশকে কংগ্রেসমুক্ত করার যে ডাক নরেন্দ্র মোদি দিয়েছেন, তা ব্যর্থ করাই কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। হিমাচলে যে পালাবদল ঘটতে চলেছে, সে বিষয়ে কারও মনে বিশেষ সন্দেহ বা সংশয় ছিল না। কিন্তু আগ্রহ ছিল গুজরাট নিয়ে। আগ্রহের কারণ একাধিক। নরেন্দ্র মোদি গুজরাটের মানুষ। মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছেড়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হন ২০১৪ সালে। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহও গুজরাটি। এই প্রথম গুজরাটে ভোট হচ্ছে যখন রাজ্য ও কেন্দ্র দুই জায়গাতেই বিজেপি ক্ষমতায়। কাজেই গুজরাটে জেতা-হারার সঙ্গে জড়িয়েছিল প্রধানমন্ত্রী ও দল সভাপতির সম্মান। একই রকম সম্মানের প্রশ্ন ছিল কংগ্রেসের কাছেও। ২২ বছর ওই রাজ্যে কংগ্রেস ক্ষমতার বাইরে। রাহুল তাই কোমর কষে নেমেছিলেন বিজেপিকে ক্ষমতাচু্যত করতে। গত চার মাস ধরে তিনি রাজ্য চষে বেড়িয়েছেন। ক্ষুব্ধ পাতিদার নেতা হার্দিক প্যাটেলের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। দলে নিয়েছেন অনগ্রসর নেতা অল্পেশ ঠাকোরকে। সমর্থন করেছেন দলিত নেতা জিঘ্নেশ মেওয়ানিকে। জাতপাতের এই সমীকরণ হাতিয়ার করে রাহুল চেয়েছিলেন বিজেপির কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে। কিন্তু লক্ষ্যের অনেক কাছে এগিয়েও শেষ পর্যন্ত্ম কংগ্রেসকে পিছিয়ে পড়তে হলো। বিজেপি গুজরাট দখলে রাখতে পারলেও এবারের ভোটে তাদের রমরমা ও জৌলুশ অনেকটাই ম্স্নান। অমিত শাহ কম করে ১৫০ আসন জেতার দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু দেড় শ তো দূরের কথা, গতবারের জেতা আসনগুলোও তারা ধরে রাখতে পারেনি। ২০১২ সালে বিজেপি জিতেছিল ১১৫ আসন। তুলনায় গতবারের চেয়ে কংগ্রেস তাদের আসনসংখ্যা বাড়াতে পেরেছে। গতবার ছিল ৬১, এবার ৮০র মতো। প্রাপ্ত ভোটের হার বেড়েছে দুই দলেই। বিজেপি পেয়েছে ৪৯ শতাংশ ভোট, কংগ্রেস প্রায় ৪২ শতাংশ। কিন্তু কমে গেছে বিজেপির জয়ের মার্জিন। এসব বিবেচনা করলে দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতা ধরে রাখলেও এই ভোট বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের কাছে অনেকগুলো প্রশ্ন রেখে দিচ্ছে। এবারের ভোট ছিল গুজরাটের গ্রাম বনাম শহরের লড়াই। সেদিক থেকে দেখলে গ্রামীণ গুজরাটে কংগ্রেস তাদের প্রাধান্য বিস্ত্মার করেছে। বিজেপি ভালো করেছে শহর ও আধা শহরে। গ্রামীণ পাতিদাররা কংগ্রেসকে যেমন ঢালাও ভোট দিয়েছে, শহুরে প্যাটেলরা তেমন ঝুলি ভরিয়েছে বিজেপির। বিজেপি লড়াইটা শুরম্ন করেছিল প্রগতি ও উন্নয়নকে হাতিয়ার করে। কিন্তু ভোট যত এগিয়েছে, বিজেপি ততই বড় করে তুলে ধরেছে হিন্দুত্বকে। প্রশ্ন করতে শুরম্ন করে রাহুলের মন্দির পরিক্রমাকে। ভোটের একেবারে শেষ পর্বে তারা সাম্প্রদায়িকতা ও পাকিস্ত্মানকে বড় করে তুলে ধরে। পাশাপাশি টেনে আনে গুজরাটি অস্মিতা বা জাত্যভিমানকে। গুজরাটের ফল কংগ্রেসের কাছে যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। কিন্তু রাহুলের কাছে আগামী দিনের লড়াই আরও কঠিন। আগামী বছরের গোড়ায় মেঘালয় ও মিজোরামে ভোট। এই দুই রাজ্য কংগ্রেসের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে নরেন্দ্র মোদি নতুন উদ্যমে নামছেন। বিজেপি নজর দিয়েছে কর্ণাটকেও। কংগ্রেসের হাত থেকে রাজ্যটি দখল করতে তারা মরিয়া। আগামী বছর কর্ণাটকের সঙ্গে মধ্য প্রদেশ ও রাজস্থানেও ভোট। এই দুই রাজ্যে বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসই। সারাদেশে কৃষক অসন্ত্মোষকে কংগ্রেস যেভাবে বড় করে তুলে ধরেছে, তাতে মধ্য প্রদেশ ও রাজস্থানে বিজেপি বিশেষ স্বস্ত্মিতে নেই। বিজেপি গুজরাট জিতেছে ঠিকই, কিন্তু এই জয় তাদের অবশ্যই আনন্দে উদ্বেলিত করবে না। রাজনৈতিক বিশেস্নষকরা এই ফলকে বিজেপির নৈতিক পরাজয়েরই শামিল বলে মনে করছেন।
গত শুক্রবার রাশিয়া জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের সাত সমর্থককে আটক করেছে রাশিয়া
আমেরিকার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সহায়তায় সেন্ট পিটার্সবার্গে এক সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা ভন্ডুল করে দিয়েছে রাশিয়া। গত শুক্রবার রাশিয়া জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের সাত সমর্থককে আটক করেছে। এরা শনিবার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। তথ্য দিয়ে সহায়তা করায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এই দুই নেতার টেলিফোন আলাপেও ব্যাপারটি উঠে আসে। রাশিয়ার গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। গত শুক্রবার রাশিয়ার এফএসবি নিরাপত্তা সার্ভিস এক বার্তায় বলেছে, তারা জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের সাত সমর্থককে আটক করেছে। আইএস সমর্থকদের কাছ থেকে বিস্ফোরক দ্রব্য, অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ওই বার্তায় আরও বলা হয়েছে, আইএসের সাত সমর্থক শনিবার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার পরিকল্পনা করেছিল।
মার্চের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেবেন ভ্লাদিমির পুতিন
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, মার্চের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেবেন। এ জন্য রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সমর্থন চেয়েছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন তিনি। অন্তত ১ হাজার ৬৪০ জন দেশি-বিদেশি সাংবাদিকের উপস্থিতিতে মস্কোয় বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন এসব কথা বলেন। বাংলাদেশের সময় বেলা তিনটায় মস্কোর বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পুতিনের প্রেস সচিব দিমিত্রি পেসকোভ। সংবাদ সম্মেলনে প্রথম প্রশ্নই ছিল প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে। গাভারিত মাস্কভা বেতার কেন্দ্রের সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতা সম্পর্কে খোলামেলা কথা বলেন পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, এটি হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই অংশ নেব। যারা আমার আদর্শ ধারণ করে এবং আমার ওপর বিশ্বাস রাখে এমন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সমর্থন খুব চাইছি। আমি এই সমর্থন আশা করছি। পুতিন মনে করেন, রুশ জনগণই তাঁর মূল শক্তি। এ প্রসঙ্গে পুতিন বলেন,রুশ জনগণের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি সমর্থন আশা করছি। ইউনাইটেড রাশিয়া দলের হয়ে ২০১২ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করেন পুতিন। রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ বর্তমানে এই দলের সভাপতি। পুতিন মনে করছেন, নির্দিষ্ট একটি দলের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে হয়তো অধিকাংশ ভোটারের সমর্থন তিনি পাবেন না। রাশিয়া গণমতামত গবেষণাকেন্দ্রের সর্বশেষ জরিপে দেখা যায়, শতকরা ৮০ ভাগ রুশ পুতিনকে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিতে তৈরি। ৬ ডিসেম্বর দেওয়া এক ঘোষণায় ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানান রাশিয়ার এই নেতা। অবশেষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ার নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন পুতিন। এতে নির্বাচনে পুতিনের অংশ নেওয়া নিয়ে দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান হলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে মার্কিন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে পুতিন বলেন, যারা ট্রাম্পের বিরোধী দলে রয়েছে, তারাই এই প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা নিজ দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করছে, নিজেদের প্রার্থীদের অসম্মান করছে। পুতিন রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগকে বিকারগ্রস্ত গুপ্তচর; বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ক্রেমলিনের সম্পর্ক প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের অনেক খাতে দারুণ উন্নতি ঘটেছে। তবে ট্রাম্প কেমন কাজ করছেন, তা মূল্যায়ন করার দায়িত্ব সে দেশের ভোটারদের, আমার নয়। ভবিষ্যতে রাশিয়ার অর্থনীতি কেমন হতে পারেএমন প্রশ্নের জবাবে পুতিন বলেন, আমি বিশ্বাস করি, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাশিয়ার অর্থনীতি যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাবে। রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল রেখে আমাদের ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হবে। রাশিয়ার অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগও গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, রাশিয়ার অর্থনীতি দুটি বড় সংকট মোকাবিলা করেছে। তেলের দরপতন ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে উঠেছে রাশিয়া। চলতি মৌসুমে শস্যের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার সামাজিক, অর্থনৈতিক, চিকিৎসা, প্রতিরক্ষা, আইনব্যবস্থা, দুর্নীতি, সিরিয়া ও ইউক্রেন সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নানা প্রশ্নের জবাব দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। রুশ বার্তা সংস্থা তাস জানায়, রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে ১ হাজার ৬৪০ জন দেশি-বিদেশি সাংবাদিক নিবন্ধন করেন। রুশ নেতার একক কোনো সংবাদ সম্মেলনে এই প্রথম এত বিপুলসংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী অংশ নিয়েছেন। বেশির ভাগ সাংবাদিকই রাশিয়ার আঞ্চলিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধি। তবে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, জাপান, ফ্রান্স, চীন, ইউক্রেন, পোল্যান্ড ও এস্তোনিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরাও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ২০১৫ সালে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৯০ জন সাংবাদিক নিবন্ধনপত্র গ্রহণ করেছিলেন। আর গত বছর অংশ নেন ১ হাজার ৪৩৭ জন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভের বরাত দিয়ে তাস অনলাইনের খবরে বলা হয়, বুধবার পুরোটা দিনই সংবাদ সম্মেলনের জন্য প্রস্তুতি নেন পুতিন। সাংবাদিকদের সঙ্গে পুতিনের এটি কোনো সাধারণ সাক্ষাৎ হবে না। এবারের সম্মেলনকে অন্য সব বছরের তুলনায় পুতিন একটু বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার দেড় ঘণ্টা আগে থেকেই সাংবাদিকেরা মিলনায়তনে জড়ো হতে থাকনে। এ সময় অনুষ্ঠানস্থলে সাংবাদিকদের তোলা সেলফিসহ বেশ কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তা অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। জানা যায়, ২০০১ সাল থেকে প্রতিবছর দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আসছেন ভ্লাদিমির পুতিন। ওই বছর ১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিটের সংবাদ সম্মেলন পুতিনের সবচেয়ে কম সময়ের সংবাদ সম্মেলন ছিল। আর ২০০৮ সালে সর্বোচ্চ ৪ ঘণ্টা ৪০ মিনিট সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিয়ে রাশিয়ায় কোনো প্রেসিডেন্টের দীর্ঘতম সংবাদ সম্মেলনের রেকর্ড গড়েন পুতিন। আগামী বছরের মার্চে রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাই প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটিই পুতিনের বড় ধরনের সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলন। সব সময় ডিসেম্বর মাসকে সংবাদ সম্মেলনের জন্য বেছে নেন পুতিন। মূলত সারা বছর প্রেসিডেন্টের কাজের পর্যালোচনা করতেই এমন আয়োজন করে থাকে ক্রেমলিন। এতে আঞ্চলিক গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্ন করার সুযোগ বেশি থাকে। পুতিনের প্রথম সাতটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ক্রেমলিনের প্রেসিডেন্ট বাসভবনের ১৪তম ভবনে। পরে ২০১২-১৬ সাল পর্যন্ত ওই ভবন সংস্কারকাজে বন্ধ হয়ে গেলে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের সাক্ষাতের স্থান ঠিক হয় মস্কোর বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের মিলনায়তন। রাশিয়ার বেশ কয়েকটি সরকারি টেলিভিশন ও বেতারকেন্দ্র পুতিনের সংবাদ সম্মেলন সরাসরি সম্প্রচার করে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও পুতিনের সংবাদ সম্মেলনের খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হয়।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে তীব্র সমালোচনা
ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে জেরুসালেমকে ঘোষণা দেওয়ার পর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি আর ইউরোপীয় ইউনিয়নও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই স্বীকৃতি অসহযোগিতামূলক। তবে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি পাল্টা অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালে বলেছেন, জাতিসংঘ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষা করার বদলে শান্তি নষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে। নিকি হ্যালে বলেন, বহুবছর ধরেই জাতিসংঘ ইসরায়েলের প্রতি অসংযতভাবে বৈষম্যমূলক আচরণ করে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে যা কিনা ক্ষতি এনেছে। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্র এর পক্ষে থাকতে পারে না। পুরো বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার তীব্র বিরোধিতা ও নিন্দা জানানোর দিনে যুক্তরাষ্ট্র এমন অবস্থান নিলো। ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে আবারো বিষয়টির মীমাংসায় দুই দেশের আলোচনার প্রতি জোর দেন। আর ফ্রান্সের প্রতিনিধি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থান পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্যেই আরো ভয়ানক পরিণতি ডেকে আনবে। জরুরি বৈঠকে কার্যত যুক্তরাষ্ট্র সবার প্রতিপক্ষে পরিণত হয়। ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনে মদদ দেবার জন্যে যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেন জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর। তিনি বলেন, এখানে খারাপ কাজের সহযোগিতাকে স্বীকার করতে হবে। অঞ্চলটিতে ইসরায়েলের দমন পীড়ন আর বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত আরো উস্কে দিয়েছে। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার শান্তির মধ্যস্থতাকারীর অবস্থান হারিয়েছে।
বিশ্বব্যাপি বিক্ষোভ
প্যালেস্টাইন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। খবর মান নিউজ,এএফপি,বিবিসি,সিনহুয়ার। বুধবার ওয়াশিংটন সময় দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন আনুষ্ঠানিকভাবে। ট্রাম্পের এ পদক্ষেপকে ইসরায়েল স্বাগত জানালেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ফিলিস্তিন, জর্ডান, তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তানসহ মুসলিম বিশ্বে। হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওআইসি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি। ট্রাম্পের এ পদক্ষপকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেছে তুরস্ক। ট্রাম্পের এই ভুল সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন না করে বলেছেন, সে অঞ্চলে শান্তি আনয়নের পথে এটি কোনো উপকারী পদক্ষেপ হবে না। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস কড়া ভাষায় বলেছেন, শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এতদিন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ছিল। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে তাদের সেই ভূমিকা বিতর্কিত হয়ে পড়েছে ফিলিস্তিনের ধর্মনিরপেক্ষ ও মুসলমানরা সবাই আজ বৃহস্পতিবার প্রতিবাদে দেশব্যাপি ধর্মঘট আহ্বান করেছে। জেরুজালেমের পুরো শহরের ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয় না বিশ্ব সম্প্রদায়। তারা মনে করেন, জেরুজালেমের মর্যাদা কি হবে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। তাই জেরুজালেমে এখন পর্যন্ত অন্য কোনো দেশ তাদের দূতাবাস স্থাপন করে নি। আন্তর্জাতিক মহল ফিলিস্তিন-ইসরাইলের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এমন অবস্থান নিয়েছে।ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ বহু আগে থেকেই পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছে। ঠিক সেই সময় ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রাখতে এমন একটি আন্তর্জাতিক বিরোধপূর্ণ এলাকাকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন।
জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ভাষণে জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিরোধপূর্ণ জেরুসালেম শহরকে এই স্বীকৃতি দিয়েছেন। জেরুজালেম শহর মুসলিম, খ্রিষ্টান ও ইহুদি তিন ধর্মের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে মুসলিমদের তিনটি প্রধান মসজিদের একটি আল-আকসা অবস্থিত। কাবাঘরের আগে এই আল-আকসা মসজিদের দিকে মুখ করেই মুসলমানরা নামাজ আদায় করতেন। এই সিদ্ধান্ত কয়েক দশকের আমেরিকান নীতিকে বদলে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও ঘোষণা করেছেন, যে আমেরিকান দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুসালেমে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের মানে এই নয় যে আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার থেকে সরে আসছে। দীর্ঘ দিনের ইসরায়েল ফিলিস্তিনি সংঘাতের অবসান ঘটাতে আমেরিকা দুই রাষ্ট্র সমাধানকে সমর্থন জানাতে প্রস্তুত, যদি উভয় পক্ষ সেটাই চায়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষণের আগে আমেরিকান কর্মকর্তারা বলেছিলেন, তিনি শুধু এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়েছেন যে, জেরুসালেম ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে বেশি কার্যকর। যদিও ফিলিস্তিনিরা জেরুসালেমকে তাদেরও রাজধানী হিসাবে দাবি করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাবার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত। এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের একজন মুখপাত্র সাবধান করে দেন যে, এই সিদ্ধান্ত এলাকার জন্য বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনবে। অন্যদিকে ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কিন্তু এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় নিন্দা জানিয়ে প্যালেস্টাইনের নেতা মাহমুদ আব্বাস এটিকে দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর হামাস ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, এই সিদ্ধান্ত এতদ অঞ্চলে নরকের দ্বার খুলে দেবে। সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বলেছেন, এই ঘোষণা সারা পৃথিবীর মুসলিমদের ঘোরতরভাবে প্ররোচিত করবে। এই ঘোষণার প্রতিবাদে ইতোমধ্যেই গাজায় এবং তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মার্কিন কনসুলেটের সামনে মিছিল হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বাঁকবদলকারী সিদ্ধান্তটিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভীষণ উদ্বেগের মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন না করে বলেছেন, সে অঞ্চলে শান্তি আনয়নের পথে এটি কোনো উপকারী পদক্ষেপ হবে না। এছাড়া ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান কূটনীতিক ফেদেরিকা মোগেরিনি-ও বিষয়টিকে উদ্বেগের বলে মনে করছেন। সূত্র : বিবিসি।