তুরস্কে মদ্যপানে ৪৪ জনের মৃত্যু
১৩,অক্টোবর,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তুরস্কে অবৈধ উপায়ে বাসায় তৈরি মদ্যপানের পর বিষক্রিয়ায় অন্তত ৪৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। গত এক সপ্তাহে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে মদ্যপানে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিআরটি বলছে, মদ্যপানে প্রথম প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় ইজমির প্রদেশে। মদ্যপানের পর বিষক্রিয়ায় গত শুক্রবার এই অঞ্চলে অন্তত ১৮ জন মারা যান। তুরস্কের আরও অন্তত সাতটি প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় বাকিদের প্রাণ গেছে। পুলিশ বলছে, অবৈধ উপায়ে মদ তৈরি এবং বিক্রির দায়ে গত চারদিনে পুলিশ অন্তত ৫৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বলছে, মৃতদের মধ্যে কয়েকজন মাদকযুক্ত কিছু পরিষ্কারক ব্যবহার করে বাসায় পানীয় তৈরি করে পান করেছেন বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। তুরস্কের ইসলামপন্থী ক্ষমতাসীন একে পার্টি দেশটিতে মদের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে। দেশটিতে ব্যাপক জনপ্রিয় মৌরির স্বাদযুক্ত পানীয় রাকির ওপর গত এক দশকে ৪৪৩ শতাংশ ও বিয়ারে ৩৬৫ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে। ৭০ ঘন-সেন্টিমিটারের একটি রাকির বোতলের দাম প্রায় ২২ মার্কিন ডলার; এর ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে ২৩৪ শতাংশ বেশি।
নাগোর্নো-কারাবাখে তীব্র সংঘর্ষে লিপ্ত আর্মেনিয়া-আজারবাইজান
১২,অক্টোবর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সমঝোতার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করে নাগোর্নোা-কারাবাখ অঞ্চলে আবারো সংঘর্ষে জড়িয়েছে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান। দুই পক্ষই একে অন্যের প্রতি সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সত্যিকারে অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। খবর এএফপি। সংঘাত বন্ধে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অনুরোধ জানালেও তাতে রাজি হচ্ছিল না আর্মেনিয়া-আজারবাইজান কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার দুই দেশের নেতাদের কাছে ফোন করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ সময় তিনি আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মস্কোয় গিয়ে শান্তি আলোচনায় অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানান। তার এ আহ্বানে সাড়া দিয়েই শনিবার আলোচনায় বসেছিলেন দুই দেশের মন্ত্রীরা। স্থানীয় সময় শনিবার সকাল থেকে মস্কোয় টানা ১০ ঘণ্টার আলোচনা শেষে অস্ত্রবিরতির সিদ্ধান্তে পৌঁছায় আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান কর্তৃপক্ষ। বৈঠক শেষে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভ জানান, ১০ অক্টোবর মধ্যরাত থেকেই এ অস্ত্রবিরতি কার্যকর হচ্ছে। এ সুযোগে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান সংঘর্ষে নিহতদের মরদেহ এবং বন্দিদের বিনিময় করবে। কিন্তু অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই দুই পক্ষ শর্ত লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে। রোববার আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, আর্মেনিয়ার একটি স্থাপনায় বোমা হামলা করেছে আজারবাইজান। তাদের দাবি, অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার ৫ মিনিটের মাথায় আজারি বাহিনী আবারো সহিংস পদক্ষেপ শুরু করেছিল। বিপরীতে আজারবাইজান দাবি করেছে, শত্রুপক্ষই শর্ত ভেঙে তাদের এলাকায় হামলা চালিয়েছে। তবে আর্মেনিয়া-আজারবাইজান উভয়ই প্রতিপক্ষের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিতর্কিত নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চলের নেতা আরাইক হারুতইউনিয়ান রোববার দাবি করেন, পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত রয়েছে, তবে অস্ত্রবিরতি নাজুক অবস্থায় রয়েছে বলে সতর্ক করেন। অঞ্চলটির প্রশাসনিক রাজধানী স্টেপানাকার্ট থেকে বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক জানান, ওই এলাকায় ভারী গোলাবর্ষণ হয়েছে এবং সারারাত ধরেই ভারী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। নাগোর্নো-কারাবাখ নেতার মুখপাত্র ভাহরাম পগহোসিয়ান বলেন, স্টেপানাকার্ট এলাকায় রাতব্যাপী হামলা মস্কোতে আসা সমঝোতা ও অস্ত্রবিরতি উদ্যোগের প্রতি অসম্মান। এছাড়া সংঘাত নিরসনে অঞ্চলটির স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিতে আঞ্চলিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান রাখেন তিনি। গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিবাদপূর্ণ নাগোর্নো-কারাবাখের মালিকানা ঘিরে প্রতিবেশী দুই দেশ আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার সামরিক বাহিনীর মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ৯০-এর দশকের পর এ অঞ্চলে এত বড় সংঘাত আর দেখা যায়নি। গত দুই সপ্তাহে এ সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৩০০ জন। উভয়পক্ষের গোলা, রকেট ও ড্রোন হামলায় নিখোঁজ রয়েছেন আরো অনেকে। এ সহিংসতার জন্য উভয় পক্ষই একে অন্যকে দায়ী করেছে। আজারবাইজানের অভ্যন্তরে দেড় লাখ মানুষ অধ্যুষিত বিরোধপূর্ণ অঞ্চলটিকে জাতিগত আর্মেনীয়রা নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। ৯০-এর দশকে সর্বশেষ সংঘাতে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। নাগোর্নো-কারাবাখের বিচ্ছিন্নতাবাদী সরকারকে মদদ দিয়ে আসছে আর্মেনিয়া। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর একই সঙ্গে স্বাধীনতা পেয়েছিল আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান।
সংক্রমণের মধ্যেই উত্তর কোরিয়ায় বৃহত্তম কুচকাওয়াজের প্রস্তুতি
১০,অক্টোবর,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেই সামরিক কুচকাওয়াজের প্রস্তুতি নিয়েছে উত্তর কোরিয়া। শনিবারের (আজ) এ আয়োজন দেশটির ইতিহাসের সর্ববৃহৎ কুচকাওয়াজ হতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ সময় দেশটির সর্বাধুনিক ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হতে পারে। খবর রয়টার্স ও বিবিসি। উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দল ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছুটির এ দিনে কুচকাওয়াজের পাশাপাশি কনসার্ট, কলা ও শিল্প এবং আলোক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরীয় সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে কুচকাওয়াজ সম্প্রচার করা হতে পারে। তবে এ সম্প্রচার সরাসরি করা হবে কিনা সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। ইয়োনহাপ আরো জানিয়েছে, এদিন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উন ভাষণও দিতে পারেন। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কুচকাওয়াজে উত্তর কোরিয়া তাদের একটি নতুন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) প্রদর্শন করতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার ইউনিফিকেশন মিনিস্ট্রি বলছে, দুর্বল অর্থনৈতিক অর্জনের এ সময়ে মনোযোগ আকর্ষণের জন্য উত্তর কোরিয়ার নতুন কৌশলগত অস্ত্র উন্মোচনের সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন এসব অস্ত্রের মধ্যে থাকতে পারে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক কিংবা সাবমেরিন থেকে উেক্ষপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র। ২০১৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের পর এখন পর্যন্ত কিম কোনো কুচকাওয়াজে আইসিবিএম প্রদর্শন করেননি। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম বন্ধে তাদের আলোচনা স্থগিত হওয়ায় বর্তমানে ওয়াশিংটনের প্রতি ধৈর্য হারিয়েছে পিয়ংইয়ং।
দ. কোরিয়ায় ৩৩তলা টাওয়ারে আগুন নিয়ন্ত্রণে
০৯,অক্টোবর,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩৩ তলা বিশিষ্ট একটি টাওয়ারে আগুন লাগার পর তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১১ টায় এ ঘটনা ঘটে দক্ষিণের শহর উলসানে। প্রথম দিকে ওই ভবন থেকে উদ্ধার করা হয় কয়েক শত মানুষকে। কমপক্ষে ৮০ জনকে ধোয়া থেকে সৃষ্ট শ্বাসকষ্টের জন্য ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, আগুন লাগার পর তা উচ্চ গতির বাতাসের কারণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ইয়ানহোপ নিউজ বলেছে, কমপক্ষে ১৩ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে ফায়ারফাইটাররা আগুন ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন। ইয়ানহোপ আরও জানিয়েছে, উচ্চ গতির বাতাসের কারণে প্রথম দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ে। সামওয়ান আর্ট নুভেউ বাণিজ্যিক এবং আবাসিক ভবনের ৮ম ও ১২তম তলার মধ্যবর্তী স্থানে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। এই ভবনে রয়েছে ১২০টি পরিবারের বসতি। এ ছাড়া আছে মার্কেট। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, আকস্মিকভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়। সঙ্গে সঙ্গে জানালা ভেঙে পড়তে থাকে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে লিভিং রুম এবং বেডরুমে। তবে কিভাবে আগুনের সূত্রপাত তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
সিরীয় বাহিনী ও আইএসের সংঘর্ষে নিহত ৯০
০৮,অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সিরিয়ার মরুভূমিতে সরকারপন্থী বাহিনী ও ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে চলতি মাসে অন্তত ৯০ যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে দ্য সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস। খবর এএফপি। সংস্থাটি জানায়, বিশাল মরুভূমি অঞ্চলের দুটি পৃথক এলাকায় মূলত এ সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এতে সিরিয়ার সরকারপন্থী বাহিনীর ৪১ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে আইএস জিহাদি নিহত হয়েছে ৪৯ জন। ব্রিটেনভিত্তিক যুদ্ধ পর্যবেক্ষক সংস্থাটির প্রধান রামি আব্দুল রহমান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায়ই অন্তত ১০ জন সরকারপন্থী ও ১৩ জন আইএস জিহাদি নিহত হয়েছে। তার মতে, এ সংঘাতের মধ্য দিয়ে আইএস প্রমাণ করতে চাইছে যে তারা এখনো বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। গত বছরের মার্চে আইএস তার স্বঘোষিত খেলাফতের সর্বশেষ অংশেরও নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর থেকে আইএসের ভ্রাম্যমাণ ইউনিটগুলো সিরিয়ার মরুভূমিতে সক্রিয় রয়েছে। আরবি ভাষায় এ অঞ্চলকে বলা হয় বাদিয়া। এর আগে গত মাসে সংঘর্ষে ১৩ জন সরকারপন্থী যোদ্ধা ও ১৫ জন আইএস জিহাদির মৃত্যু হয়েছিল। তারও আগে জুলাইয়ের প্রথমদিকে দুই দিনে নিহত হয় সরকারপন্থী ২০ যোদ্ধা ও ৩১ জিহাদি।
ফের তালেবান শাসনের শঙ্কা আফগানদের
০৭,অক্টোবর,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঠিক ১৯ বছর আগে আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালানোর মাধ্যমে এমন এক যুদ্ধের সূচনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যা আজও চলমান। মার্কিন ইতিহাসের দীর্ঘতম এ যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল তালেবান শাসনের অবসান ঘটানো। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের কুখ্যাত সন্ত্রাসী হামলার মূল হোতা হিসেবে দাবি করা আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে তালেবানদের অস্বীকৃতি জানানোর ফল এ যুদ্ধ। এ যুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো তালেবানদের ক্ষমতাচ্যুত করতে পেরেছে, কিন্তু পুরোপুরি শক্তিহীন করে দিতে পেরেছে কি? খোদ আফগানরাই বলছেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন মিত্রবাহিনী তালেবানদের নির্মূল করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং এখন তারা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। আফগানরা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো সময় ফের ক্ষমতায় চলে আসতে পারে চরমপন্থী দলটি। ১১ সেপ্টেম্বরের ওই সন্ত্রাসী হামলা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ঘৃণ্য ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্র ওই ঘটনার জন্য জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদাকে দায়ী করেছিল। এই আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে তাদের হাতে তুলে দিতে তালেবান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তালেবানরা জানায়, লাদেনকে তখনই তারা হস্তান্তর করবে, যখন যুক্তরাষ্ট্র তার সংশ্লিষ্টতার সপক্ষে অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারবে। আল-কায়েদার আশ্রয়দাতা ও লাদেনকে হস্তান্তরে অপারগতা জানানো তালেবান সরকারে উত্খাতের লক্ষ্যে ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর আফগানিস্তানে বিমান হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলার মাধ্যমে তারা তালেবানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পেরেছে ঠিকই, কিন্তু তাদের অস্তিত্ব একেবারে নিশ্চিহ্ন করতে পারেনি। যার ফলে আবার দৃশ্যপটে আবির্ভাব হয়েছে দলটির। নতুন করে ক্ষমতায় যাওয়ার ছক আঁকছে তারা। গত ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সৈন্য প্রত্যাহারবিষয়ক একটি ঐতিহাসিক চুক্তি করে তালেবানরা। এছাড়া বর্তমানে আফগান সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে তারা। আর তাদের এসব কার্যক্রমকে পুনরায় ক্ষমতায় আসার অপতত্পরতা হিসেবে দেখছেন খোদ আফগানিস্তানের নাগরিকরাই। আফগানদের জন্য সবচেয়ে আশঙ্কার জায়গা যেটি, সেটি হলো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দীর্ঘ ১৯ বছরেও তালেবানদের চরিত্র খুব বেশি বদলায়নি। তাই তাদের শাসনামলে ব্যভিচারের দায়ে নারীহত্যা, সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর নৃশংসতা অথবা নারীশিক্ষায় প্রতিবন্ধকতা তৈরির মতো নৈরাজ্য প্রত্যক্ষ করেছেন যেসব আফগান, তাদের জন্য তালেবানের পুনরায় ক্ষমতায় আসাটা নরকবাসের শামিল। তাদেরই একজন কাবুলের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী কাতায়ুন আহমাদি। তিনি বলেন, আমার কাছে তালেবান শাসন ছিল রীতিমতো এক দুঃস্বপ্ন। আমরা নিজেদের ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি। এখন পর্যন্ত আফগান সরকার ও তালেবানদের মধ্যে যে শান্তি আলোচনা হয়েছে, তাতে নারী অধিকার, নারী স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো নিয়ে তালেবানদের কথা বলতে দেখা গেছে খুব কমই। কাতায়ুন আহমাদির স্বামী ফরজাদ ফরনুদ আফগানিস্তান ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির পর থেকেই তালেবান সহিংসতা বেড়ে গেছে। এর মাধ্যমেই প্রতীয়মান হয় যে তাদের মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি। গত ১৮ বছরে আমরা যা কিছু অর্জন করেছি, তালেবানদের শাসনামলে সেগুলো ছিল না। দোহায় আফগান সরকার ও তালেবানদের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় এখন পর্যন্ত কোনো মতৈক্য তৈরি হয়নি। এ দুই পক্ষের মধ্যে গঠনমূলক চুক্তিতে পৌঁছতে আরো কয়েক বছর সময় লেগে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন, যে চুক্তি নারী ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিতে পারবে না, সেই চুক্তির বিরোধিতা করবেন তারা। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে, এটি আফগানিস্তানের নিজস্ব বিষয়, তাই এটি নিয়ে মাথা ঘামাতে চায় না তারা। যুক্তরাষ্ট্রের এ নির্লিপ্ততার সুযোগ নিয়ে তালেবানরা ফের ক্ষমতায় আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আফগানরা। তাদের মতে, সরকারের সঙ্গে তালেবানদের কোনো চুক্তি হলে সেটি শান্তি চুক্তি হবে না, তা হবে তালেবানদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়ার চুক্তি। এএফপি
দুই বছরের সংস্কার শেষে খুলেছে দুবাইয়ের সাফারি পার্ক
০৬,অক্টোবর,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দুই বছর ধরে সংস্থার কার্যক্রমের পর স্থানীয় সময় সোমবার দর্শনার্থীদের জন্য ফের খুলেছে দুবাইয়ের সাফারি পার্কের দরজা। ১১৯ হেক্টর জমির ওপর নির্মিত এ সাফারি পার্ক প্রথম দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছিল ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু পার্কের উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য পাঁচ মাস পরই সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়। খবর এএফপি। পার্কের অপারেশন ডাইরেক্টর মুনা আলহাজেরি এক বিবৃতিতে বলেন, দুবাইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় মরুভূমিতে অবস্থিত এ পার্কে বর্তমানে তিন হাজারের কাছাকাছি প্রাণী রয়েছে। কিছু প্রাণী রয়েছে খুবই বিরল, যেগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথমবারের মতো আনা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় প্রাণীর মধ্যে অন্যতম হলো আফ্রিকান হাতি, এশিয়ার কালো ভালুক এবং আফ্রিকান বংগো হরিণ। তিনি আরো বলেন, মূলত বর্জ্য ফেলার সাবেক এ স্থানটিকে দুবাইয়ের অন্যতম পর্যটন, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা হয়েছে। মূলত ১৯৭০ দশকের শেষ দিক থেকে ১৯৯০ দশকের প্রথম দিক পর্যন্ত পার্কের এ স্থান কঠিন বর্জ্য ফেলার কাজে ব্যবহার করা হতো। এক সময় এখানে বর্জ্য জমে প্রায় ১০০ ফুটের মতো উঁচু হয়ে যায়। এরপর সেখানে শুরু হয় পুলসহ পার্ক নির্মাণের কাজ। মোট কথা, এমনভাবে পার্কটি নির্মাণ করা হয়, যাতে সেটি বন্যপ্রাণীর জন্য আদর্শ আবাসস্থল হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে সেখানে পাখিরাও বাসা বাঁধছে।
কোয়ারেন্টাইনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী
০৫,অক্টোবর,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মুহিদ্দিন ইয়াসিন কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। সম্প্রতি কোভিড-১৯ আক্রান্ত এক মন্ত্রীর সংস্পর্শে আসার কারণে সেলফ কোয়ারেন্টাইনে থাকছেন এই প্রধানমন্ত্রী। সোমবার মুহিদ্দিন ইয়াসিন নিজেই তার কোয়ারেন্টাইনে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১৪ দিন তিনি সেলফ কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তার শরীরে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কোভিড-১৯ নেগেটিভ এসেছে। তবুও অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য তিনি কোয়ারেন্টাইনেই থাকছেন। তিনি জানিয়েছেন, গত শনিবার তিনি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জুলকিফলি মোহাম্মদ আল বাকরির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সোমবার ওই মন্ত্রীর দেহে করোনার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জুলকিফলির করোনায় আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার কথা জানালেন মুহিদ্দিন ইয়াসির। গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশে প্রথম করোনার উপস্থিতি ধরা পড়ে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে এই ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুতে এখনও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১২ হাজার ৮১৩ জন। দেশটিতে নতুন করে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩২। মালয়েশিয়ায় করোনা সংক্রমণে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১৩৭ জন। দেশটিতে ইতোমধ্যেই করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছে ১০ হাজার ৩৪০ জন। সেখানে বর্তমানে করোনার অ্যাক্টিভ কেস ২ হাজার ৩৩৬টি। অপরদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে ৩২ জন। ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ৫৪ লাখ ৩৭ হাজার ৪৬৬। করোনা সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ১০ লাখ ৪২ হাজার ৩৪৩ জনের। অপরদিকে, সুস্থ হয়ে উঠেছে ২ কোটি ৬৬ লাখ ৪৫ হাজার ৩২৩ জন।
শুরু হচ্ছে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা
০৫,অক্টোবর,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা। সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে বাংলাদেশ সময় বিকালে চিকিৎসায় বিশেষ অবদানের জন্য এ বছর কে বা কারা নোবেল পাচ্ছেন সেই নাম ঘোষণা করা হবে। যদিও এ বছর চিকিৎসায় নোবেলের জন্য মনোনীত ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান বা সংক্ষিপ্ত তালিকা সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। বরাবরের মতো সব নথিপত্র অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে রেখে তা জনসাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখা হয়েছে। চলতি বছর মর্যাদাপূর্ণ নোবেল পুরস্কারজয়ীদের গত বছরের তুলনায় ১০ লাখ ক্রোন বা প্রায় এক লাখ ১০ হাজার ডলার বেশি দেওয়া হবে বলে সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন নোবেল ফাউন্ডেশনের প্রধান লারস হেইকেনস্টেন। ডিনামাইট আবিষ্কারক আলফ্রেড নোবেল ৩ কোটি ১০ লাখ ক্রোনার রেখে গিয়েছিলেন, আজকের বাজারে যা প্রায় ১৮০ কোটি ক্রোনের সমান। তার রেখে যাওয়া ওই অর্থ দিয়েই ১৯০১ সাল থেকে মর্যাদাপূর্ণ এ নোবেল পুরস্কারের প্রচলন করা হয়। এতদিন এ নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ছিল ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার। আলফ্রেড নোবেলের উপার্জিত অর্থ দিয়ে ১৯০১ সালে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে গোড়াপত্তন ঘটে। ১৯৬৮ সালে এ তালিকায় যুক্ত হয় অর্থনীতি।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর