প্রথম স্টেট অব দ্য ইউনিয়নে ট্রাম্প ভাষণ দিলেন ঠিক প্রেসিডেন্টদের মতো
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেওয়া প্রথম স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শোনাল ঠিক প্রেসিডেন্টদের মতো। কেবল নির্বাচনের খাতিরে যে আক্রমণাত্মক আগ্রাসী প্রার্থী রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন চেয়েছিলেন, গত বুধবার রাতের ভাষণে মনে হলো, তিনিই ভেতরে-ভেতরে একজন রিপাবলিকান। ভোটে জয়ের খাতিরে আগ্রাসী আর আক্রমণাত্মক রূপ ধরেছিলেন। একেবারে একজন মার্কামারা রিপাবলিকানের মতো করে ট্রাম্প আওড়ালেন দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ আর আমেরিকান ড্রিমের বুলি, ঠিক যেন তিনি আশির দশকের রোনাল্ড রেগান। তিনি বললেন সমন্বয়ের কথা, একতার কথা। শতবর্ষী মিঠে কথার রাজনীতির সংস্কৃতি অনুসারে তিনিও দেখালেন স্বপ্ন, সেই পর্যন্ত পৌঁছানোর বাস্তবতাকে পুরোপুরি আবছা রেখেই। তবে যদিও ট্রাম্প একজন রাজনীতিবিদের মতো করে কথা বলতে বা স্ক্রিপ্ট পড়তে শিখে গেছেন, তাঁর পৃথিবী এখনো রাজনীতিবিদ হিসেবে তাঁর ভাষণ শুনতে শেখেনি। যাঁরা ট্রাম্পকে ভালোবেসেছিলেন তাঁর সোজাসাপটা বক্তব্যের জন্য, তাঁর অনড় অবস্থানের জন্য আর তাঁর অরাজনীতিবিদসুলভ আচরণের জন্য, তাঁদের কাছে এই জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ বরং একটি হৃদয়ভঙ্গেরই কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তবে তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীদের খুশি করবার জন্য কি যথেষ্ট বুলি আওড়াননি ট্রাম্প? তা আউড়েছেন। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের বিল গ্যালস্টনের মতে, তাঁর এই আবৃত্তি পুরোপুরি মিছে কথাও নয়। আমেরিকার অর্থনীতি আসলেই ফুঁসে উঠেছে, আয় বাড়ছে, বিনিয়োগ বাড়ছে। ট্রাম্পের নেতৃত্বে এরই মাঝে পাস হয়েছে ট্যাক্স রিফর্ম, রক্ষণশীল বিচারকেরা পেয়েছেন আসন আর ওবামাকেয়ারের দারুণ অজনপ্রিয় স্বাস্থ্যবিমা কেনার বাধ্যবাধকতা গিয়েছে আস্তাকুঁড়ে (যদিও ওবামাকেয়ার পুরোপুরি বাতিলের বিষয়টি দারুণ হোঁচট খেয়ে পড়েছে)। কাজেই ভালো অর্থনীতিতে টিকে থাকা সব প্রেসিডেন্টের মতোই সব গুণ নিজের বলে দাবি করে বসেছেন ট্রাম্প। যদিও এর অনেকটাই তিনি পেয়েছিলেন উত্তরাধিকারসূত্রে। উপাত্ত আসলেই বলছে যে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের বেকারত্বের হার রেকর্ড পরিমাণে কমেছে, তবে এই কমার ধারা শুরু হয়েছিল সেই ২০১০ সালে। উপাত্ত আরও বলছে, আমেরিকার ঋণের বোঝাও বেড়েই চলেছে আর ট্রাম্পের নীতির কারণে আগামী দশকে তা এক ট্রিলিয়ন পেরোবে। তবে এসব ক্ষতিকর উপাত্ত লুকিয়ে ফেলা ট্রাম্পের জন্য কোনো ব্যাপারই নয়। যতই তাঁর বিরোধীরা মাইক হাঁকাক না কেন, ট্রাম্পের কাছে টুইটার আছে! এ জন্যই বলছি যে ট্রাম্পের আজকের ভাষণটি আরেকটু হলেই সফল হয়ে যেত, যদি তাঁর সমর্থকেরা মধ্যপন্থী রক্ষণশীল হতেন। ট্রাম্পের আজকের ভাষণ আবারও প্রমাণ করেছে যে তিনি রক্ষণশীলদের বলে দেওয়া পথেই হাঁটছেন। তবে ট্রাম্পের জন্য দুঃসংবাদ হলো, তাঁর সমর্থকেরা খুব একটা মধ্যপন্থী নন যে এতে তাঁদের মন গলবে। তাঁর সত্যিকারের জীবন-মরণ সমর্থকেরা অনেক বেশি ভাবেন বরং অন্য একটি ইস্যু নিয়ে, যেটি নিয়েই ট্রাম্প কথা বলে ফেলেছেন বড্ড বেশি। আর সব ছেড়েছুড়ে কেবল অভিবাসন নিয়েই সবিস্তারে আলোচনা করতে গেছেন তিনি, আর সেটা বলতে গিয়েই বলে ফেলেছেন আপসের কথা। বলেছেন যে সীমান্তদেয়ালের জন্য ২৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ আর আইনগত অভিবাসন সীমিত করার বিনিময়ে তিনি দেড় মিলিয়নের বেশি কাগজবিহীন অভিবাসীকে নাগরিকত্বের সুযোগ করে দেবেন। তবে আইনি অভিবাসনের গলা টিপে ধরার কারণে আর বাজেটের থেকে দেয়ালের নামে টাকা নিয়ে যাওয়ার কারণে ডেমোক্র্যাটরা বা স্বাধীন মধ্যবামপন্থীরা এই আপসে রাজি হবেন বলে মনে হয় না। সত্যিকারের আপসে আসতে গেলে আর মধ্যপন্থীদের দলে টানতে গেলে ট্রাম্পকে আরও অনেক ছাড় দিতে রাজি হতে হবে। কাজেই আজকের ভাষণের মধ্য দিয়ে মধ্যপন্থীদের সঙ্গে পাওয়ার বদলে বরং নিজের দলের কড়া ডানপন্থীদের সমর্থন হারাতে বসেছেন ট্রাম্প। রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ (ট্রাম্পের সাবেক নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী) এরই মাঝে বলেছেন, কাগজহীনদের নাগরিকত্বের কথা বলে ট্রাম্প তাঁর প্রতিশ্রুতির খেলাপ করছেন। যে অতি ডান ব্রাইটবার্ট নিউজ তীব্রভাবে ট্রাম্পের পক্ষের শক্তি হিসেবে কাজ করেছিল, তাঁরাই এখন ট্রাম্পের বদনাম করে তাঁকে ডাকছেন ‘অ্যামনেস্টি ডন’ বা ক্ষমার সরদার। ডানপন্থী থিংক ট্যাংক হেরিটেজ অ্যাকশন ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেও যত তীব্রভাবে তাঁর সমালোচনা করা যায়, ততটুকুন করছে। এর সব ঘটে গেছে আজকের ভাষণের আগেই। আর আজকের এই ভাষণে তাঁর এই সমালোচিত প্রকল্পের কথা আবারও আউড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বরং নিশ্চিত করলেন যে তাঁর অন্তঃপ্রাণ সমর্থকদের সবাই তাঁর প্রতিশ্রুতিতে আপসের কথা শুনছেন। কাজেই যে মুলা ঝোলানো রাজনীতির থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় ট্রাম্পকে তাঁরা ভোট দিয়েছেন, অনেকের কাছে মনে হবে যে ট্রাম্প নির্বাচিত হয়ে ঠিক সেই মুলা ঝোলানোর রাজনীতিরই পুনরাবৃত্তি করছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটন ডিসির বাতাস আর রাজনৈতিক বাতাসার মিঠে ভাষা শিখতে শুরু করেছেন। তাঁর ভাষণ তাই সেই মিঠে ভাষার ওপরে ভাসা প্রচারণা আর ভবিষ্যৎ স্বপ্নের মাঝেই সীমিত থাকা উচিত ছিল। তা না করে বরং ট্রাম্প কথা বলতে গিয়েছেন তাঁর প্রকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আর বেছে নিয়েছেন ঠিক সেই প্রকল্প, যেটি হয়তো ভেঙে দেবে তাঁর কঠিনতম সমর্থকদের হৃদয়। ট্রাম্পের সমর্থকেরা আজ টিভি খুলেছিলেন তাঁদের স্বপ্নের বাস্তবায়নের হালখাতা দেখতে, তার বদলে ট্রাম্প তাঁদের ধরিয়ে দিয়েছে আদিম অকৃত্রিম মুলা, যার স্বাদ পেয়েই এত দশক ধরে রাজনীতিবিমুখ হয়ে ছিল আমেরিকার সুপ্ত সংখ্যাগুরু। কাজেই এই ভাষণের পর রিপাবলিকানরা যখন নির্বাচনে লড়তে যাবেন সামনের দিনে, তখন হয়তো তাঁদের হাতেও হারিকেন ধরিয়ে দেবে সুপ্ত জনতা—হয়তো লুপ্ত হয়ে যাবে তাদের ট্রাম্পকার্ড।
আইএসকে পরাজিত না করা পর্যন্ত লড়াই অব্যাহত থাকবে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলামিক স্টেট গ্রুপ বিরোধী যুদ্ধে আরো অনেক কিছু করার রয়েছে বলে সতর্ক করতে যাচ্ছেন। তিনি মঙ্গলবার তার স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণে এ বিষয়ে সতর্ক করবেন বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট ইরাক ও সিরিয়া ভূ-খন্ডের প্রায় শতভাগ এলাকা আইএস মুক্ত করেছে বলে ট্রাম্প ঘোষণা দেবেন। এক সময় দেশ দুটির বিশাল এলাকা এ জঙ্গি গ্রুপের দখলে ছিল। এ যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন সৈন্যের উপস্থিতি অব্যাহত রাখার ব্যাপারে তার প্রশাসনের যুক্তি তুলে ধরে তিনি আরো বলবেন, এক্ষেত্রে আরো অনেক কিছু করার রয়েছে। ২০১১ সালে ইরাক থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়ার ব্যাপারে তার পূর্বসূরি বারাক ওবামার ভুলের কথা তুলে ধরে এ ব্যাপারে তার নিজের পর্যবেক্ষণ তুলনা করে অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলবেন, আইএসকে পরাজিত না করা পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, ২০০৩ সাল থেকে ইরাকে মার্কিন সৈন্য মোতায়েন রয়েছে।
উত্তর কোরিয়াকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সং ইয়ং-মু হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করলে দেশটির নাম বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বরাত দিয়ে দেশটির বার্তা সংস্থা ইওনহ্যাপ এ খবর জানিয়েছে। সং ইয়ং-মু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। উত্তর কোরিয়া নিজের পরমাণু সক্ষমতাকে শক্তিশালী করার যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সেকথা উল্লেখ করে ইয়ং-মু বলেন, আমেরিকা কিংবা দক্ষিণ কোরিয়া যার বিরুদ্ধেই পিয়ংইয়ং পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করুক না কেন তা হবে দেশটির জন্য আত্মহত্যার শামিল। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী এর আগে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে পরমাণু অস্ত্রের সম্ভাব্য ব্যবহারের ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে দেশটির হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে দুই প্রতিরক্ষমন্ত্রী কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার ব্যাপারে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হন। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়া নিজের পরমাণু সক্ষমতা ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মাত্রা শক্তিশালী করেছে। দেশটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আমেরিকা ও তার মিত্রদের পক্ষ থেকে যতদিন হুমকি বজায় থাকবে ততদিন নিজের সামরিক সক্ষমতা জোরদার করে যাবে পিয়ংইয়ং।
(এফবিআই) ডেপুটি ডিরেক্টর এন্ড্রু ম্যাককেবি এর পদত্যাগ
ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) ডেপুটি ডিরেক্টর এন্ড্রু ম্যাককেবি পদত্যাগ করেছেন। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক সমালোচনার শিকার হচ্ছিলেন তিনি। আগামি মার্চে তার মেয়াদ শেষ হবার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। এফবিআইতে এন্ড্রুকে চান না ট্রাম্প এ ধরণের সংবাদ প্রকাশের এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি পদত্যাগ করলেন। তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ আনেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স সোমবার এক প্রেস ব্রিফিং-এ বলেন, তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত হোয়াইট হাউজ থেকে আসেনি। তিনি বলেন, এর সাথে প্রেসিডেন্টের কোন ধরণের সম্পর্ক নাই। গত বছর মে মাসে এফবিআই ডিরেক্টর জেমস কমি বরখাস্ত হওয়ার পর এন্ড্রু ম্যাককবি তার স্থলে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ২০১৬ সালে মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার যোগসাজশ নিয়ে তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন কমি।
রাস্তার দখল নিয়েহিন্দু মুসলিমদের মাঝে সহিংসতা
ভারতের উত্তর প্রদেশের কাসাগঞ্জে রাস্তার দখল নিয়ে আবারো হিন্দু মুসলিমদের মাঝে সহিংসতা শুরু হয়েছে। যোগি আদিত্যনাথের রাজ্যে সংঘর্ষে ইতোমধ্যেই একজন নিহত হয়েছেন। অন্তত ৫০ জনকে আটক করে নিয়ে গেছে পুলিশ। উত্তেজনা থামাতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। জানা গেছে, ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে বিজেপির একটি মোটরবাইক মিছিল রাস্তা দিয়ে আগে যাবে, নাকি এলাকার মুসলিমরা রাস্তায় মঞ্চ করে আগে জাতীয় পতাকা তুলবেন তা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। বদ্দুনগরের বাসিন্দা মুহাম্মদ মুনাজির রফি জানান, মিছিলের লোকজনকে আমরা অনুরোধ করে বলি আমাদের অনুষ্ঠানটা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। কিন্তু তারা যাওয়ার জন্য জেদ ধরে স্লোগান দিতে শুরু করে। পরে হাতাহাতি থেকে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। প্রথমবার তারা ফিরে গেলেও কিছু সময় পরে আবার ফিরে আসে। কাসগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পবিত্র মোহন ত্রিপাঠিী জানিয়েছেন, ওই অনুষ্ঠানের লোকজন মনে করে, তাদের ওপর বদলা নিতেই তারা হামলা চালাতে এসেছে। একজন গুলি চালালে ২৮ বছর বয়সী চন্দন গুপ্তা নামের একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার ক্ষুব্ধ জনতা নতুন করে বিভিন্ন এলাকায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। কাসগঞ্জ জেলার নাদরি ও চুঙ্গি গ্রামের দুটি আলাদা ঘটনায় তিনটি গাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালিয়ে অন্তত ৫০ জনকে আটক করে।
কাবুলের মিলিটারি একাডেমিতে হামলা
কাবুলের মার্শাল ফাহিম মিলিটারি একাডেমির কাছে আফগান সেনাদের অবস্থান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের মার্শাল ফাহিম মিলিটারি একাডেমিতে তালেবান বিদ্রোহীদের হামলায় ১৫ ক্যাডেট নিহত হয়েছেন। পাল্টা অভিযানে হামলাকারী তিন বন্দুকধারী নিহত ও একজন আটক হয়েছে। এখনও একাডেমিকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি চলছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় হামলা বলে জানিয়েছেন আফগানিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে কাবুল সিটি সেন্টারের পশ্চিম দিকে অবস্থিত একাডেমিতে এ হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা একাডেমির ভেতরে প্রবেশ করতে চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। কাবুল পুলিশের মুখপাত্র বাসির মুজাহিদ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, হামলাকারীরা রকেট ছুড়ে ও গুলিবর্ষণ করে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে বলেন, ভোর ৫টার দিকে তারা মিলিটারি একাডেমিতে বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের শব্দ শুনেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে কেউ এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে কাবুলে অ্যাম্বুলেন্স হামলা চালিয়ে শতাধিক মানুষকে হত্যার একদিন পর এ হামলা চালানো হল। কাবুলের এ মিলিটারি একাডেমিতে আফগান সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এটি বহুদিন ধরেই জঙ্গি সংগঠনগুলোর লক্ষ্যবস্তু ছিল। গত বছরের অক্টোবরেই এ মার্শাল ফাহিম সামরিক একাডেমির বাইরে এক বিস্ফোরণে ১৫ সামরিক ক্যাডেট নিহত হন।
কাবুলে অ্যাম্বুলেন্স বিস্ফোরণ
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি জনাকীর্ণ এলাকায় শনিবার বিস্ফোরকভর্তি একটি অ্যাম্বুলেন্স বিস্ফোরণে অন্তত ৯৫ জন নিহত ও অপর ১৫৮ জন আহত হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা একথা জানান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গোলযোগপূর্ণ নগরীটিতে এটি অন্যতম শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা। জঙ্গি সংগঠন তালেবান এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তালেবানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে আফগানিস্তানের রাজধানীতে এটি জঙ্গি সংগঠনটির দ্বিতীয় হামলা। বিস্ফোরণের পর আতঙ্কিত মানুষ দিশেহারা হয়ে ছুটতে থাকে। সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে মানুষের ছিন্নভিন্ন দেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে। হাসপাতালগুলোতে বিপুল সংখ্যক আহত মানুষের স্থান সংকুলান হয়নি। যখন তালেবান জঙ্গি ও ইসলামিক স্টেট গ্রুপ উভয়ই কাবুলে তাদের হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে, ঠিক সেই সময়েই ঘটনাটি ঘটল। বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক বলেন, হাসপাতালে বিপুল সংখ্যক আহত ও নিহত বেসামরিক লোক এসেছে। হাসপাতালটি ঘটনাস্থল থেকে কয়েক মিটার দূরে অবস্থিত। চিকিৎসা কর্মীরা রক্তাক্ত নারী, পুরুষ ও শিশুদের চিকিৎসা দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারছে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াহিদ মাজরোহ বলেন, এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ১৫৮ জন আহত হয়েছে। যে এলাকায় হামলাটি চালানো হয়েছে সেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বেশি কয়েকটি বড় বড় সংস্থার অফিস রয়েছে। কাবুলে অবস্থানরত ইইউর প্রতিনিধি দলের সদস্যরা নিরাপদ রয়েছে। তাদের কেউ হতাহত হয়নি। বিস্ফোরণের ধাক্কায় দুই কিলোমিটার দূরের ভবন কেঁপে ওঠে। কয়েকটি অবকাঠামো ধসে পড়ে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানায়, আত্মঘাতী হামলাকারী অন্তত একটি চেকপয়েন্ট দিয়ে প্রবেশ করে। সে জানায়, অ্যাম্বুলেন্সে করে সে একজন রোগীকে জামুরিয়াতে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় চেকপয়েন্টে সে ধরা পড়ে গেলে বিস্ফোরক ভর্তি গাড়িটির বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা নাসরাত রহিমি বলেন, হতাহতদের অধিকাংশই বেসামরিক লোক।
ক্ষমা চাইবেন ট্রাম্প
মুসলিমবিরোধী একটি টুইটের জন্য ক্ষমা চাইবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আইটিভি নামের একটি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, আপনারা যদি বলেন যে তারা খুবই ভয়ংকর, ভয়ংকর বর্ণবাদী হন তাহলে তাদের ভিডিও শেয়ার করার জন্য আমি ক্ষমা চাইবো। আর আমার টুইটে যদি কেউ দু:খ পেয়ে থাকেন তাদের কাছেও আমি ক্ষমা চাইবো। উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের কট্টরপন্থীদের একটি ভিডিও শেয়ার করেন। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এমনকি ব্রিটিশ সরকারও এই ধরনের কর্মকান্ডের নিন্দা জানায়। তবে এই প্রথম কোনো টুইটে মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার কথা জানালেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
মাত্র ৯ ঘন্টায় রেল স্টেশন নির্মান করে বিশ্ব রেকর্ড গড়লো চীন
দ্রুততম সময়ে রেল স্টেশন নির্মান করে বিশ্ব রেকর্ড গড়লো চীন। মাত্র ৯ ঘণ্টায় একটা রেলস্টেশন সম্পূর্ণ তৈরি করে ফেললেন চীনের নির্মাণকর্মীরা। চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের লঙ্গিয়ান শহরে দেড় হাজার নির্মাণকর্মী ১৯ তারিখ ওই স্টেশনটি তৈরি শুরু করেন। ২০ তারিখ ভোররাতের মধ্যেই কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যায়। মালপত্র বয়ে দিয়ে কর্মীদের সাহায্য করেছিল ৭টি ট্রেন এবং ২৩টি খননযন্ত্র বা ডিগার। এই স্টেশনের মাধ্যমে গানলং শাখা, গানরুইলং শাখা এবং ঝ্যাংলং শাখার সঙ্গে জুড়ল রেলের নতুন শাখা নানলং। শুধু স্টেশন তৈরিই নয়, সিগন্যাল বসানো, রেল ট্র্যাফিক মনিটারিং সিস্টেম তৈরিও করেছেন ওই দেড় হাজার কর্মী। চীনের প্রধান রেল নির্মাণকারী সংস্থার ডেপুটি ম্যানেজার ঝ্যান ডাওসং-এর মতে, ৭টি শাখায় পুরো দলটিকে বিভাজিত করা হয়েছিল। প্রতিটি শাখা নিজস্ব ভূমিকা ঠিকভাবে পালন করার ফলেই এত দ্রুত কাজ হয়েছে। তবে এখনও নানলং শাখা সম্পূর্ণ হতে আরও বাকি আছে। এবছরের শেষের মধ্যেই ২৪৬ কিলোমিটার লম্বা এই রেলরুট তৈরি হবে। এর ফলে দক্ষিণ-পূর্ব চীনের সঙ্গে জুড়ে যাবে মধ্য চীন।