আজ বিশ্বের ৮০ দেশে সরকারি ছুটি
০১মে ,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহান মে দিবস আজ বুধবার। শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সংহতি জানাতে দেশে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে দিবসটি। এ উপলক্ষে আজ দেশে সরকারি ছুটি। শ্রমিক দিবসে বিশ্বের অন্তত ৮০টি দেশে সরকারি ছুটি থাকে। মে দিবস, শ্রমিক দিবস বা বিশ্ব শ্রমিক দিবস যে নামেই ডাকা হোক না কেন, দিনটি বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মান-সংহতি জানানোর দিন হিসেবেই পালিত হয়ে আসছে ১৯০৪ সাল থেকে। ১৮৮৬ সালের ১ মে আমেরিকার শ্রমিকেরা দৈনিক শ্রমঘণ্টা ১২ থেকে কমিয়ে ৮ ঘণ্টা করার দাবিতে একটি ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন। মে মাসের ৪ তারিখ শিকাগো শহরের হে মার্কেট স্কয়ারে পুলিশের উপস্থিতিতে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে অজ্ঞাতনামা কেউ বোমার বিস্ফোরণ ঘটালে একজন পুলিশ অফিসারের মৃত্যু হয়। এ সময় পুলিশ গুলি চালালে অনেক শ্রমিক নিহত হন। পরের বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে আমেরিকান সরকার শ্রমিকদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজ করার দাবি পূরণ, শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনাকে স্মরণ এবং তাঁদের প্রতি সংহতি জানাতে ১ মে শ্রমিক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্তত ৮০টি দেশে এই দিন জাতীয়ভাবে ছুটি থাকে। এদিন বেশির ভাগ দেশে শ্রমিকদের শোভাযাত্রা, আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি হয়। তবে যে দেশে শ্রমিক হত্যা ঘটেছিল, সেই আমেরিকা সরকারিভাবে লেবার ডে পালন করে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সোমবার। কানাডাতেও একই দিনে লেবার ডে পালন করা হয়। আমেরিকায় মে মাসের ১ তারিখ মে ডে পালন করা হয় বসন্তকালের আগমন দিবস হিসেবে। আমেরিকা ও কানাডায় সেখানকার কেন্দ্রীয় শ্রমিক ইউনিয়ন এবং আমেরিকান লেবার ফেডারেশন (নাইট অব লেবার) এই দিনটি পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। হে মার্কেট হত্যাকাণ্ডের পর আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড মনে করেছিলেন, ১ মে তারিখে আয়োজন করা যেকোনো অনুষ্ঠান বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। সে জন্য ১৮৮৭ সালে তিনি নাইট অব লেবার সমর্থিত শ্রম দিবস পালনে উৎসাহিত করেন। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ১ মে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়। ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, চীন, জাপান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইরাক, ফিলিপাইন, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ইত্যাদি দেশে এদিনে সরকারিভাবে ছুটি থাকে। ১৯২৩ সালের ১ মে ভারতের চেন্নাইয়ে প্রথম শ্রমিক দিবস পালন করা হয়। এরপর থেকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য বিভিন্নভাবে দিনটি পালন করে আসছে। স্বাধীনতা লাভের পর থেকে বাংলাদেশ সরকার এই দিনকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে আসছে। এশিয়ার বাইরেও বিভিন্ন মহাদেশে দিনটি পালিত হয় শ্রমিকদের প্রতি সম্মান ও সংহতি প্রকাশ করতে। আলজেরিয়ায় ১ মে সরকারি ছুটি থাকে। ১৯৬২ সাল থেকে দেশটিতে ১ মে পেইড ব্যাংক হলিডে হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। মিসরেও ১ মে ছুটির দিন হিসেবে পালন করা হয়। এদিন দেশটির প্রেসিডেন্ট কায়রোতে মে দিবসের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করে থাকেন। ইথিওপিয়া, ঘানা, কেনিয়া, মরক্কো, মোজাম্বিক, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, তানজানিয়া, উগান্ডা, জিম্বাবুয়েতে ১ মে সরকারি ছুটি থাকে। দক্ষিণ আফ্রিকা ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতিবছর সরকারিভাবে দিনটি ছুটির দিন হিসেবে পালন করে আসছে। ১৮৯০ সালে আর্জেন্টিনায় প্রথম শ্রমিক দিবস পালিত হয়। ১৯৩০ সাল থেকে আর্জেন্টিনায় ১ মে সরকারি ছুটি দিন হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বলিভিয়া ও ব্রাজিলেও এই দিন ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়। শ্রমিকদের সম্মানে ১৯৩১ সাল থেকে চিলি ১ মে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালন করে আসছে। কলম্বিয়াতেও এই দিন সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়। কোস্টারিকাতে এই দিন সরকারি ছুটি থাকে। এদিন কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। সমাজতান্ত্রিক কিউবায় শ্রমিক দিবসে ছুটি থাকে। এই দিনটি কিউবানরা ব্যাপকভাবে দিবসটি উদ্;যাপন করেন। এদিন কিউবার সবচেয়ে বড় জমায়েত হয় রেভুল্যুশন স্কয়ারে। সারা দিন অনুষ্ঠান চলে সেখানে। এ ছাড়া হাইতি, হন্ডুরাস, প্যারাগুয়ে ও পেরুতেও ১ মে সরকারি ছুটি থাকে। মেক্সিকোতেও দিনটি ফেডারেল হলিডে বা সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়।
পাঁচ বছর পর দেখা দিলেন আইএসপ্রধান
৩০এপ্রিল,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পাঁচ বছর পর তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রধান আবু বকর আল বাগদাদির একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। আল ফুরকান নামে আইএসের একটি মিডিয়া নেটওয়ার্কে প্রকাশ করা হয় ভিডিওটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। ভিডিওটি কখন ধারণ করা হয়েছে, তা জানা যায়নি। তবে আইএস দাবি করেছে, এপ্রিলেই ধারণ করা হয় ভিডিওটি। ওই ভিডিওবার্তায় বাগদাদি বলেন, তাঁদের অধীনে থাকা শেষ অঞ্চল বাঘুজ দখল করে নেওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলা চালিয়েছেন তাঁরা। ১৮ মিনিটের ওই ভিডিওবার্তায় আলজেরিয়া ও সুদানের বিক্ষোভের ব্যাপারেও কথা বলেন বাগদাদি। তিনি বলেন,জালেমদের বিরুদ্ধে জিহাদই একমাত্র সমাধান। সম্প্রতি এই দুই দেশের জনগণই বিক্ষোভের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা শাসকদের উৎখাত করে। ওই ভিডিওবার্তায় বাগদাদি আরো বলেন, বাঘুজের যুদ্ধ শেষ হলেও আরো অনেক কিছুই বাকি আছে। এর আগে ২০১৪ সালে ক্যামেরার সামনে এসেছিলেন বাগদাদি। এরপর তাঁকে আর কোথাও দেখা যায়নি। ইরাকে জন্ম নেওয়া বাগদাদির আসল নাম ইব্রাহিম আওয়াদ ইব্রাহিম আল-বাদরি। গত আগস্টে বাগদাদির একটি অডিওবার্তা প্রকাশ করা হয়েছিল। এরপরই এই ভিডিওবার্তা প্রকাশ করা হয়। জঙ্গি সংগঠন আইএস একসময় সিরিয়া ও পার্শ্ববর্তী ইরাকের ৮৮ হাজার বর্গকিলোমিটার (৩৪ হাজার বর্গমাইল) এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। গত পাঁচ বছর রক্তক্ষয়ী ব্যবস্থা চালানোর পর অবশেষে শক্তিহীন হয়ে পড়ে এই জঙ্গি সংগঠনটি।
স্পেনে জাতীয় নির্বাচনে সোস্যালিস্ট পার্টির জয়
২৯এপ্রিল,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্পেনের জাতীয় সাধারণ নির্বাচনে জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক দল বা সোশ্যালিস্ট পার্টি। অবশ্য পার্লামেন্টের মোট ২৮ দশমিক ১ শতাংশ ভোট এবং ১১৬ থেকে ১২১টি আসন পেলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সোশ্যালিস্টরা শেষ পর্যন্ত সরকার গঠন করতে পারবে কি না তা নিয়ে আছে সংশয়। কেননা সরকার গঠনের জন্য এখন বিরোধীদের ওপর নির্ভর করতে হবে সোশ্যালিস্ট পার্টিকে। স্পেনের সাধারণ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয় রোববার। বিগত চার বছরের তৃতীয়বারের মতো আয়োজিত হয় এই সাধারণ নির্বাচন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বে সোশ্যালিস্টদের সবচেয়ে কাছের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছে পাবলো ক্যাসাডোর নেতৃত্বে পপুলার পার্টি। তারা পেয়েছে ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট (৬৯ থেকে ৭৩ আসন)। আলবার্ট রিভেরার সিটিজেন্স পেয়েছে ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট (৪৮ থেকে ৪৯ আসন)। আর পাবলো গ্লেসিয়াসের উনিডাস পডেমাস এবং স্যান্টিয়েগো এবাসকালের ভক্স পেয়েছে যথাক্রমে ১৬ দশমিক ১ শতাংশ (৪২ থেকে ৪৫ ভোট) এবং ১২ দশমিক এক শতাংশ (৩৬ থেকে ৩৮ আসন) করে ভোট। স্পেনে সরকার গঠনের নিয়ম অনুযায়ী, একটি রাজনৈতিক দলকে ৩৫০টি আসনের মধ্যে এককভাবে সরকার গঠন করতে হলে কমপক্ষে ৫০ শতাংশের বেশি বা ১৭৬টি আসনে জয় পেতে হবে। সেই হিসেবে সোশ্যালিস্টরা নির্বাচনে ৫০ শতাংশ আসন না পাওয়ায় জয় নিয়েও সরকার গঠনের সংশয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। এবার প্রায় ৬০ দশমিক ৮ শতাংশ স্প্যানিশ ও কাতালানরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে বলে জানায় দেশটির নির্বাচন কমিশন।
যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় উপাসনালয়ে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ১
২৮এপ্রিল,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলার রেশ কাটতে না কাটতে এবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত তিনজন। স্থানীয় সময় শনিবার (২৭ এপ্রিল) এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী এক হামলাকারীকে আটক করেছে পুলিশ। গণমাধ্যম জানায়, ইহুদি উপাসনালয় সিনাগগে হামলাকারী প্রবেশ করে এলোপাথাড়ি গুলি করে। হামলার সময় সেখানে ইহুদিদের অন্যতম বড় উৎসব পাসওভার চলছিল। এতে মারা যান এক নারী। ধর্মবিদ্বেষ এ হামলার কারণ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হামলাকারীকে প্রতিহত করায় হতাহতের সংখ্যা বাড়েনি। পুলিশ এখন হামলার কারণ অনুসন্ধান করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে 'হেট ক্রাইম' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।
শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক সংঘর্ষ, নিহত ১৫ জঙ্গি
২৭এপ্রিল,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: থমথমে শ্রীলঙ্কার প্রতিটি অলিতে গলিতে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এর ভেতর জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৫ জনকে মেরে ফেলার দাবি করেছে দেশটির প্রশাসন। শ্রীলঙ্কার স্থানীয় গণমাধ্যম নিউজ ফার্স্ট জানিয়েছে, সাইন্দামারুদু এলাকায় একটি জঙ্গি দলের খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের সঙ্গে এসটিএফ অভিযানে নামে। ঘটনাস্থলের একটি ঘরে ঢোকার মুখে বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। পরে সেখানে তিন আত্মঘাতী পুরুষ জঙ্গির লাশ পাওয়া যায়। নারী ছিল তিনজন। সঙ্গে তাদের ৬ ছেলেমেয়েও মারা গেছে। ঘরের বাইরে পাওয়া যায় আরও তিনটি লাশ। পুলিশের মুখপাত্র এসপি রুয়ান গুনাসেকারা জানিয়েছেন, এই অভিযানে পুলিশের কোনো সদস্য আহত হননি। ওই এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। এর আগে গত রোববার দিনের শুরুতে দেশটির খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের ইস্টার সানডের প্রার্থনা চলাকালে তিনটি গির্জা এবং তিনটি হোটেলে মোট ছয়টি বিস্ফোরণ ঘটে। পরে হয় আরও দুটি। এখন পর্যন্ত ২৫৩ জন মানুষ মারা গেছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫০০ জন। একদিন বাদে কুখ্যাত জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস এই হামলার দায় স্বীকার করে।
শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলায় নিহত বেড়ে ৩৫৯
২৪এপ্রিল,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডে উদযাপনের সময় একাধিক গির্জা ও হোটেলকে লক্ষ্য করে চালানো ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা ক্রমশঃ বেড়েই চলেছে। এ সংক্রান্ত শেষ খবরে ওই হামলায় ৩৫৯ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ভয়াবহ ওই হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচ শতাধিক মানুষ। এর আগে শ্রীলঙ্কান প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওই হামলায় মোট ৩২১ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। ভয়াবহ এই হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার দেশ জুড়ে জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে। দুই মিনিট শোকে স্তব্ধ ছিল গোটা দেশ। ওই একই দিনে নিহতদের গণ অন্ত্যোষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে শ্রীলঙ্কার গীর্জা ও হোটেলে এই সিরিজ বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। মঙ্গলবার আইএস পরিচালিত সংবাদমাধ্যম আমাক নিউজ এজেন্সিতে শ্রীলঙ্কায় হামলার দায় স্বীকার করে আরবিতে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। তবে তারা ওই দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করেনি বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। এর আগে দেশটির চরমপন্থী ইসলামিক গোষ্ঠী ন্যাশনাল তাওহীদ জামায়াতকে হামলার মূল সন্দেহভাজন হিসেবে দায়ী করে সরকার। একই সঙ্গে তারা এটিও জানিয়েছিলো যে, কোনো আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সাহায্য ছাড়া সে দেশের কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের পক্ষে এ ধরনের হামলা চালানো সম্ভব নয়। শ্রীলঙ্কার এই হামলার ঘটনার তদন্তে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকে (এফবিআই) এ বিষয়ে দায়িত্ব দিয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় হামলার দায় স্বীকার করলো আইএস
২৩এপ্রিল,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। তবে এই দাবির স্বপক্ষে কোনো ভিডিও বা তথ্যপ্রমাণ দেখায়নি তারা। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) আইএসের নিজস্ব বার্তা সংস্থা আমাকে উদ্ধৃত করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। এর আগে, শ্রীলঙ্কার চরমপন্থী ইসলামিক গোষ্ঠী ন্যাশনাল তাওহীদ জামাতকে হামলার মূল সন্দেহভাজন হিসেবে দায়ী করে দেশটির সরকার। এর আগে, গত রোববার (২১ এপ্রিল) ইস্টার সানডের সকালে শ্রীলঙ্কার তিনটি গির্জা, তিনটি বিলাসবহুল হোটেল ও আরো দুটি স্থাপনায় সিরিজ বোমা হামলায় ৩২১ জনের প্রাণহানি ও ৫ শতাধিক মানুষ আহত হয়। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩৮ জন বিদেশি নাগরিক। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই শেখ সেলিমের নাতিও রয়েছেন। জানা যায়, শ্রীলঙ্কায় এক দশকের গৃহযুদ্ধ অব্সানের পর গত রোববারের সিরিজ বোমা হামলাটি ছিল সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী নৃশংসতা। এ হামলার পরপরই গতকাল সোমবার অনলাইনে এর প্রশংসা করে আইএস সমর্থকরা। এদিকে আইএসের বার্তা সংস্থা আমাক-এ মঙ্গলবার হামলার দায় স্বীকার করে আরবিতে লেখা একটি বার্তা আসে। তবে এতে তাদের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স। এর আগে, শোনা গিয়েছিল, ন্যাশনাল তৌহিদ জামাত নামে একটি সংগঠন এই বিস্ফোরণের পেছনে আছে। ২০১৪ সালে ওই সংগঠন তৈরি হয়। এমনিতে তাদের নাম বিশেষ শোনা যেত না। ছোট একটি সংগঠনের পক্ষে অত বড় হামলা চালানো কীভাবে সম্ভব হল, তা ভেবে পাচ্ছিলেন না অনেকে। তদন্তকারীদের মনে হয়েছিল ন্যাশনাল তৌহিফ জামাত সংগঠনটি আইসিসের দ্বারা প্রভাবিত। কিন্তু আইসিসের সঙ্গে তাদের সরাসরি যোগাযোগ আছে কিনা জানা যাচ্ছিল না। কিন্তু আইসিস দায়িত্ব স্বীকার করার পরে অনেকেই মনে করেন, বিদেশ থেকে তৌহিদ সাহায্য পেয়েছিল। এদিকে অনলাইনে জঙ্গি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী মার্কিন সাইট ইনটেলিজেন্স গ্রুপ জানায়, ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে গোলাগুলির প্রতিশোধ হিসেবে শ্রীলঙ্কার হামলাকে দেখছে আইএস। একই সঙ্গে তারা এই হামলার ঘটনায় উল্লাস প্রকাশ করেছে। এ ঘটনার একদিন পর চরমপন্থী ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস শ্রীলঙ্কায় হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিলো। সাইট ইনটেলিজেন্স গ্রুপের পরিচালক রিটা কাটজ বলেছিলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইএসের সমর্থকরা শ্রীলঙ্কায় হামলার প্রশংসা করে হতাহতের ঘটনায় উল্লাস প্রকাশ করেছে। আইএস পরিচালিত চ্যানেলে শ্রীলঙ্কায় বিস্ফোরণের বুনো উল্লাস করা হয়েছে। এতে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীদের যেন আল্লাহ কবুল করে নেন সেই প্রার্থনাও করা হয়।
মধ্যরাত থেকে শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি
২২এপ্রিল,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ সোমবার মধ্যরাত থেকে শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি করা হচ্ছে। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যরাত থেকে জরুরি অবস্থা জারির এই পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। দেশটির প্রেসিডেন্টের মিডিয়া ইউনিট এ বিষয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এর আগে গতকাল রোববার সকালে পরপর এ বোমা হামলায় ২৯০ নিহত ও ৫০০ জন আহত হয়েছেন। পরে দেশটিতে ১২ ঘণ্টার জন্য কারফিউ জারি করা হয়। আজ সোমবার সকাল ৬টায় তা তুলে নেয়া হয়। এদিকে শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বোমা হামলায় হতাহতের ঘটনায় দেশটি আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় শোক পালন করবে।
শ্রীলংকায় বোমা হামলায় নিহত ২৯০, গ্রেপ্তার ২৪
২২এপ্রিল,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শ্রীলংকায় তিনটি গির্জা ও চারটি হোটেলে ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। বোমা হামলায় কারা জড়িত তা এখনো চিহ্নিত করতে না পারলেও এ পর্যন্ত ২৪ জনকে আটক করেছে দেশটির আইন-শঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ ও স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। গতকাল রোববারের ওই হামলায় পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। বিবিসির ওই খবরে বলা হয়েছে, হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৩৬ জন বিদেশি রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শীর্ষ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের আট বছর বয়সী নাতি জায়ান চৌধুরীও হয়েছে। আর আহত হয়েছেন তার জামাতা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স। পুলিশের মুখপাত্র রুয়ান গুনাসেকেরা জানান, রোববারের আট দফা বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্রায় পাঁচ শতাধিক আহত হয়েছে। এ হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান শ্রীলংকান পুলিশের এই কর্মকর্তা। ইস্টার সানডে উপলক্ষে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা রোববার সকালে গির্জায় প্রার্থনা করার সময় শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোর একটিসহ দেশটির তিনটি গির্জায় একযোগে বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। প্রায় একই সময় কলম্বোর তিনটি পাঁচ তারকা হোটেল– শাংরি লা, সিনামন গ্র্যান্ড ও কিংসবুরিতেও বোমার বিস্ফোরণ হয়। রোববার সকালে ছয়টি স্থাপনায় হামলার কয়েক ঘণ্টা পর দুপুরে কলম্বোর দক্ষিণাঞ্চলের দেহিওয়ালা এলাকায় একটি হোটেলে সপ্তম বিস্ফোরণটি ঘটে। এরপর কলম্বোর উত্তরে ওরুগোদাওয়াত্তা এলাকায় আরেকটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। শ্রীলংকায় গৃহযুদ্ধ অবসানের প্রায় এক দশক পর দেশটিতে এমন ভয়াবহ হামলার পেছনে কারা জড়িত তা সোমবার সকাল পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এছাড়া কোনো গোষ্ঠী এখনও এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। এদিকে শ্রীলংকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৩৬ জন বিদেশি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মর্গে থাকা মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় তারা নিহত বিদেশির সংখ্যা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে এরই মধ্যে নিহত কয়েকজন বিদেশির পরিচয় মিলেছে। এদের মধ্যে পাঁচজন যুক্তরাজ্যের নাগরিক, যাদের মধ্যে দু'জনের যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ নাগরিকত্বও রয়েছে। এছাড়া ডেনমার্কের তিনজন, পর্তুগালের একজন, তুরস্কের দুজন, নেদারল্যান্ডসের একজন ও জাপানের একজন নাগরিক রয়েছে।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর