পাপুয়া নিউ গিনিতে শক্তিশালী ভূমিকম্প
পাপুয়া নিউ গিনির দক্ষিণাঞ্চলীয় পার্বত্য প্রদেশে ৭.৫ মাত্রার শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প হয়েছে। সোমবার ভোরে পার্বত্য প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে পোরগেরা থেকে ৮৯ কিলোমিটার, প্রায় ৫৫ মাইল দূরে প্রচণ্ড ভূকম্পে অঞ্চলটি কেঁপে ওঠে। খবর প্রকাশ করেছে এবিসি ও সিবিএস নিউজ। খবরে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিক-ভাবে কোন হতাহতের খবর এখনো পাওয়া যায়নি। ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এ ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরো বেশি খবর নেয়ার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় সময় সোমবার ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে রাজধানী পোর্ট মোরসবি থেকে প্রায় ৫৬০ কিলোমিটার দূরে পাপুয়া নিউ গিনির প্রধান দ্বীপের কেন্দ্রস্থলের কাছে ভূপৃষ্ঠের ৩৫ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি। রাজধানী পোর্ট মোরেস্বিতে জিওফিজিক্যাল অবজারভেটরির ভূকম্পনবিদ ফেলিক্স তারানু জানান, প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার দূরে মাউন্ট হেগানেও শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। পাপুয়া নিউ গিনি সরকারের ভূতত্ত্ব ব্যবস্থাপনা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ক্রিস ম্যাকি বলেন, ভূকম্প সংগঠিক এলাকায় প্রায় ১০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। তিনি আরো বলেন, বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে ভূমিকম্পের আভাস ভালমতো পাওয়ার পর ঐ অঞ্চল থেকে অনেককে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। প্রদেশটি খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সমৃদ্ধ। পোরগেরা একটি বৃহৎ স্বর্ণখনি বেষ্টিত এলাকা, যেখানে ২৫০০ স্থানীয় মানুষ কাজ করে।
সিরিয়ায় সরকারি বাহিনীর হামলায় এক সপ্তাহে পাঁচ শতাধিক বেসামরিক নিহত
সিরিয়ায় বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি বাহিনীর বিমান হামলায় ৫ শতাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১২১ জন শিশু। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এই তথ্য জানিয়েছে। এদিকে সিরিয়ায় পৌছেছে রাশিয়ার অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। খবর বিবিসি ও সিএনএনের গত রবিবার থেকে রাশিয়ার সহযোগিতায় সরকারি বাহিনী বিদ্রোহী এলাকা হিসেবে পরিচিত পূর্ব ঘৌতায় বিমান হামলা চালাচ্ছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চালালেও সম্ভব হয়নি। তবে গতকাল শনিবারও পরিষদের বৈঠকে বসার কথা ছিল। মানবাধিকার সংস্থাটি জানিয়েছে, শনিবারের হামলায় নিহত হয়েছে ২৯ বেসামরিক নাগরিক। প্রধান শহর ডৌমাতেই নিহত হয়েছে ১৭ জন। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে ৫শতাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত হলো। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিরিয়ায় রাশিয়া অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এসইউ-৫৭ পাঠিয়েছে। এটা মস্কোর সবচেয়ে জটিল প্রকৃতির যুদ্ধবিমান। মার্কিন কর্মকর্তারা আশংকা করছেন, সিরিয়ার অভ্যন্তরে থাকা মার্কিন বাহিনীর জন্য এটা আতংকের হতে পারে।
উ.কোরিয়ার বিরুদ্ধে এ যাবতকালের সবচেয়ে কঠোর অবরোধের ঘোষণা ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার শিপিং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সম্পদের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি একে পিয়ংইয়ং সরকারের বিরুদ্ধে এ যাবতকালের সবচেয়ে কঠোর অবরোধ হিসেবে উল্লেখ করেন। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির লাগাম টেনে ধরার লক্ষ্যে দেশটিকে সর্বোচ্চ চাপে রাখতে ট্রাম্প শুক্রবার ওয়াশিংটনের উপকণ্ঠে রক্ষণশীলদের উদ্দেশে দেয়া তার প্রচারণামূলক বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, আমরা আজ দেশটির বিরুদ্ধে এ যাবতকালের সবচেয়ে কঠোর অবরোধ আরোপ করেছি। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভ মুচিন অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ মুহুর্তে উত্তর কোরিয়ার ব্যবহৃত সব ধরণের জাহাজ এ অবরোধের আওতায় পড়বে। এছাড়া শনিবার উইন্টাার অলিম্পিকস এর কারণে দক্ষিণ কোরিয়া সফররত হোয়াইট হাউসের নারী মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স বলেন, আমরা আশা করছি নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার দিক থেকে পরিবর্তন আসবে। তিনি আরো বলেন, পূর্বের প্রশাসনের মতো বর্তমান প্রেসিডেন্ট কোন ভুল করবেন না। উত্তর কোরিয়ার প্রতি তিনি কোন ধরণের দূর্বলতা দেখাবেন না।
কুয়েতে অবৈধ বিদেশীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মেয়াদ শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার
উপসাগরীয় দেশ কুয়েতে অবৈধভাবে বসবাসরত বিদেশীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মেয়াদ শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার। এ ঘোষণায় ২৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশী কর্মী বৈধ হওয়ার আবেদনের সুযোগ পেয়েছেন। আর কোন অবৈধ কর্মী দেশটিতে বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন না। অবৈধদের দেশে ফিরতে হবে। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া ঘোষণা গত ২৯ জানুয়ারি থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর ছিল। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আবেদনকৃত সবাইকে বৈধ করে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। কুয়েতের সাধারণ ক্ষমার বিষয়ে বিএমইটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিটি শ্রম বাজারেই এ রকম একটি বিষয় থাকে। প্রতিবছরই অল্প কয়েকদিন সময় বেঁধে দেয়া হয় অবৈধদের বৈধ হওয়ার জন্য। কুয়েতও তাই করেছে। বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য একটি ইতিবাচক। কুয়েতে বাংলাদেশী কর্মীরা ভাল বেতনে কাজ করেন। অবৈধ বৈধ হলে দেশে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়বে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কুয়েতে কর্মীরা বৈধ হওয়ার আবেদন করতে পেরেছেন। তারা অচিরেই বৈধতার কাগজপত্র পেয়ে যাবেন। কুয়েতে কর্মরত কয়েক কর্মী টেলিফোনে জানান, দেশটিতে বাংলাদেশী প্রায় ৩ লাখ লোক বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন। এখান থেকে প্রতিবছরই কিছু লোক অবৈধ হয়ে পড়েন। তারা আবার কুয়েত সরকার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলে বৈধ হওয়ার সুযোগ পান। ২০১৭ সালে দেশটির সরকার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা না করায় বহু লোককে দেশে ফিরতে হয়েছে। তবে এর আগের বছর দেশটির সরকার কর্মীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলে ৩০ হাজারের বেশি কর্মী বৈধ হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। এক বছর বাদ দিয়ে এবার আবার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত ২৯ জানুয়ারি থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুযোগ দেয়া হয় অবৈধ বসবাসকারীদের জন্য। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশীরাও এই সুযোগ নিয়েছেন। দেশটিতে অবৈধভাবে থাকা ২৫ হাজারের বেশি কর্মী বৈধ হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অবৈধ কর্মীরা বৈধ হওয়ার জন্য আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। তবে এবার সাধারণ ক্ষমার বিষয়ে নির্দিষ্ট জরিমানা দিয়ে বৈধ হতে হবে। জরিমানার বিষয়টি সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বসবাস করার কারণে যারা দেশে ফিরতে পারছিলেন না তাদের বৈধ হতে কোন টাকা লাগবে না। কারণ তাদের বৈধ করে দেশে ফেরার সুযোগ দেয়া হবে। যারা দেশেটিতে কাজের জন্য থাকতে চান তাদের নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে বৈধ হতে হবে। যাদের নামে আদালতে মামলা চলছে তারা এই সুযোগ পাবেন না। আবার যাদের ওপর কুয়েতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তারাও এ সুযোগ পাবেন না। সূত্র জানিয়েছে, সরকার ঘোষিত জরিমানার পরিমাণ ৬শকেডি (কুয়েতি দিনার)। বাংলাদেশী টাকায় এক লাখ ৬৬ হাজার ৩১৭ টাকা। ২০১৬ সালে সাধারণ ক্ষমায়ও জরিমানার পরিমাণ একই ছিল। যারা বৈধ হয়ে দেশে ফিরবেন তাদের জন্য কুয়েতে নতুন ভিসা নিয়ে আসতে পারবেন। যারা অবৈধ থেকেই দেশে ফিরবেন তারা আর কুয়েতে যেতে পারবেন না। কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস কুয়েত সরকারের সাধারণ ক্ষমার বিষয়টি কর্মীদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য ফেসবুক পেজসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছিল। দূতাবাস প্রচারপত্র ও মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে কর্মীদের সাধারণ ক্ষমার সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়। দূতাবাসের পক্ষ থেকে কর্মীদের কাছে এসএমএস পাঠানো শুরু হয়। ফেসবুক খোলার বিষয়ে দেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছিল। দূতাবাসের নানা উদ্যোগের কারণেই নির্দিষ্ট সময়ে কর্মীরা বৈধ হওয়ার কাগজপত্র জমা দিতে পেরেছেন। উল্লেখ কুয়েত সরকার সর্বশেষ ২০১৬ সালে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিল। মাঝখানে এক বছর কেটে যাওয়ার পর চলতি বছর সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করল। ২০১৬ সালে সাধারণ ক্ষমায় ৩০ হাজারের বেশি কর্মী বৈধ হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। এবার দেশটিতে ২৫ হাজারের বেশি অবৈধ কর্মী ছিল। যারাই এ সুযোগ হাত ছাড়া করেছে তাদেরই দেশে ফিরে আসতে হবে।
জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর করবে যুক্তরাষ্ট্র
আগামী মে মাসেই যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে তাদের দূতাবাস স্থানান্তর করবে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের বরাতে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। আসন্ন ১৪ই মে ইসরায়েলের ৭০তম স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে বলে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরাইল। শুক্রবার স্থানীয় গণমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট মার্কিন কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানায়, দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে হোয়াইট হাউস তার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আসন্ন স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের আগেই যুক্তরাষ্ট্র এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। গত ডিসেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা দেয়া এবং তার দেশের দূতাবাস সেখানে স্থানান্তরের ঘোষণার পর থেকে বিশ্বজুড়ে নিন্দার মুখে পড়ে ওয়াশিংটন। এ পরিকল্পনা ২০১৯ সালে বাস্তবায়ন হবে বলে সেসময় বলা হয়েছিল। তবে এ বছরের মে মাসেই যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে সেটি নির্দিষ্ট করে এবারই জানা গেলো। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ কার্যক্রম ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা নতুনভাবে বাধাগ্রস্ত করবে।
সিরিয়ার পূর্ব গৌতা পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ
মানবিক মূলনীতি সমুন্নত রাখার আহবান জানিয়ে সিরিয়ার পূর্ব গৌতা পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ সিরিয়ার বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত গৌতার পূর্বাঞ্চলে সরকারি বাহিনীর কয়েকদিনের টানা বোমাবর্ষণের পর সেখানকার পরিস্থিতিকে ধারণাতীত হিসেবে অভিহিত করেছেন দেশটিতে জাতিসংঘের সমন্বয়ক পানোস মৌমজিস। ক্ষেপণাস্ত্র ও মর্টার গোলা পড়ছে বৃষ্টির মতো। বিবিসিকে তিনি বলেছেন, রাজধানী দামেস্কের কাছের এ এলাকায় আসাদবাহিনীর গোলাবর্ষণ চরম যন্ত্রণাদায়কপরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এ দফার হামলায় বিদ্রোহীদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ওই এলাকাটিতে অন্তত আড়াইশ মানুষ নিহতের খবর পাওয়া গেছে। সিরীয় বাহিনীর দাবি, তারা পূর্ব গৌতাকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্ত করতে লড়ছে। অপরদিকে, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস মঙ্গলবার বলেছেন, সিরিয়ার পূর্ব গৌতায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় তিনি গভীরভাবে শঙ্কিত। সেখানে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সরকারি বাহিনীর বিমান হামলায় দু শতাধিক লোক নিহত হওয়ার পর তিনি এ শঙ্কা প্রকাশ করলেন। খবরে বলা হয়, গুতেরেস বেসামরিক নাগরিক রক্ষাসহ মানবিক আইনের মূল নীতি সমুন্নত রাখতে সকল পক্ষের প্রতি আহবান জানান। জাতিসংঘ মুখপাত্র স্টিফান দুজারিক বলেন, পূর্ব গৌতায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এর ভয়াবহ প্রভাব পড়ায় জাতিসংঘ মহাসচিব গভীরভাবে শঙ্কিত। বিবিসি বলছে, রুশ সমর্থিত সিরিয়ার সরকারপন্থি বাহিনী রোববার রাত থেকে বিদ্রোহীদের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি পূর্ব গৌতা পুনরুদ্ধারে তৎপরতা বাড়ায়। দামেস্কের কাছে পূর্ব গৌতাই বিদ্রোহীদের সর্বশেষ বড় ঘাঁটি। এখানকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ইসলামপন্থি দল জঈশ-ই-ইসলাম। আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট সাবেক জিহাদি জোট হায়াত তাহির আল-শামও এলাকাটিতে বেশ সক্রিয়। নারী ও শিশুদের চিৎকার-কান্নার শব্দ তাদের বাড়ির জানালা দিয়ে শুনতে পাচ্ছি আমরা। ক্ষেপণাস্ত্র ও মর্টার পড়ছে যেন বৃষ্টির মতো। এই দুঃস্বপ্ন থেকে পালানোর জায়গা নেই, এটি শেষও হয় নি,বলেন পূর্ব গৌতার অধিবাসী ফিরাস আব্দুল্লাহ। আসাদবাহিনীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত রাশিয়া ও ইরানের পাশাপাশি তুরস্কের অ্যাখ্যা দেওয়া এ ডি-এস্কেলেশন জোনে২০১৩-র রাসায়নিক হামলার পর এবারের বোমাবর্ষণকেই সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী বলছেন এলাকাটিতে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার কর্মীরা।তারা জানান, সরকারি বাহিনীর হামলায় নিহতদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা ৫০-রও বেশি; আহতের সংখ্যা প্রায় ১২০০। মানবাধিকার বিষয়ক সিরীয় পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানায়, মঙ্গলবার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত পূর্ব গৌতায় সিরিয়া ও রাশিয়ার ব্যাপক বিমান হামলায় কমপক্ষে ১০৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১৯ শিশু রয়েছে। সেখানে এরআগের দিন সোমবারের বিমান হামলায় সিরিয়ার ১২৭ নাগরিক নিহত হয়। দুজারিক বলেন, পূর্ব গৌতায় বিমান হামলা ও গোলা বর্ষণের কারণে সেখানকার প্রায় চার লাখ লোক আতংকের মধ্যে রয়েছে।তিনি আরো বলেন,সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর অবরোধের কারণে পূর্ব গৌতার বাসিন্দারা অপুষ্টিসহ চরম দূরাবস্থার মধ্যে বসবাস করছে। গুতেরেস স্মরণ করিয়ে দেন যে পূর্ব গৌতা রাশিয়া, ইরান, তুরস্ক ঘোষিত একটি অস্ত্রবিরতি অঞ্চল হিসেবে আখ্যায়িত। এ ব্যাপারে তিনি সকল পক্ষকে তাদের প্রতিশ্রুতির বিষয়টি মনে করিয়ে দেন। এদিকে জরুরি মানবিক সাহায্য সরবরাহ ও চিকিৎসার সুযোগ দিতে ৩০ দিনের অস্ত্রবিরতি দাবির খসড়া প্রস্তাবের বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার পূর্ব গৌতার আরও ১০টি শহর ও গ্রামে সরকারি বাহিনী নতুন করে বোমাবর্ষণ করেছে বলেও দাবি তাদের। মানবিক সাহায্য পৌঁছাতে এবং আহতদের সরিয়ে নিতে এলাকাটিতে যুদ্ধবিরতির আহন জানিয়েছে জাতিসংঘ। মানুষের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই; তারা টিকে থাকার চেষ্টা করছে, কিন্তু অবরোধের কারণে সৃষ্ট ক্ষুধা তাদের আরও দুর্বল করে ফেলছে, ইউনিয়ন অব মেডিকেল কেয়ার অ্যান্ড রিলিফ অর্গানাইজেশনকে এমনটাই বলেন স্থানীয় এক চিকিৎসক।
আজ বিশ্ব স্কাউট দিবস
আজ ২২ ফেব্রুয়ারি স্কাউটিং আন্দোলনের প্রবক্তা লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন। তারই হাত ধরে ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে স্কাউটিং আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। তাই ২২ ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী স্কাউট দিবস হিসেবে পালিত হয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৩৮ মিলিয়ন স্কাউট আজ এই দিবসটি পালন করছে। বর্তমানে বিশ্বের ২১৭টি দেশে তিন কোটি ৮০ লাখ স্কাউট ও গাইড রয়েছে। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে স্কাউটিং আন্দোলনের সূত্রপাত হলেও আমাদের এই অঞ্চলে (ভারতীয় উপমহাদেশে) স্কাউটিংয়ের যাত্রা শুরু হয় ব্রিটিশ আমলে। আর ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ইস্ট পাকিস্তান বয়স্কাউট অ্যাসোসিয়েশনের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৭২ সালে তার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাংলাদেশ বয়স্কাউট অ্যাসোসিয়েশন। ১৯৭৮ সালে আবার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাংলাদেশ স্কাউটস। ১৯৯৪ সাল থেকে মেয়েরা এর সদস্য হওয়ার অধিকার লাভ করে। দিবসটি উদযাপন বিষয়ে বাংলাদেশ স্কাউটসের পরিচালক (প্রোগ্রাম) মো. আবু সালেক গণমাধ্যমকে জানান, আমরা এ দিনটিকে কেন্দ্র করে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। আজ (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় স্কাউটস ভবনে রচনা প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ স্কাউটস সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে ১০ লাখ ১৫ হাজার ১১৬ জন স্কাউট রয়েছেন। কমিউনিটি সেবা, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিশুকল্যাণ, নির্মাণ ও সস্তায় বাড়িঘর তৈরিতে তারা সহায়তা করে থাকেন। এ ছাড়া বন্যা, ঝড় ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামাল দিতে, অসহায় মানুষের আশ্রয় বা পুনর্বাসনে তারা স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করেন।
সিরিয়ায় বিদ্রোহী-অধ্যুষিত এলাকায় সেনারা বিমান হামলা
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের বাইরে বিদ্রোহী-অধ্যুষিত পূর্ব ঘুটা এলাকার বোমাবর্ষণ করেছে সেনারা। গতকাল সোমবার চালানো বিমান ও রকেট হামলায় কমপক্ষে ৭৭ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ২০ জন শিশু। সিরিয়ার মানবাধিকার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে। সরকারি সেনারা সেখানে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দ্রুত বোমাবর্ষণ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল। ওই এলাকায় চার লাখ লোকের বাস। ২০১৩ সাল থেকে ওই এলাকা বিদ্রোহীদের দখলে। দামেস্কের কাছে এটাই বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি বলে মনে করে সরকারি বাহিনী। বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, সিরিয়ার বাহিনী ওই এলাকা দখলে নিতে এ মাসের শুরু থেকেই হামলা চালাতে শুরু করে। এতে শত শত লোক আহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই এলাকায় কোনো খাবার বা রসদ যাওয়া ঠেকাতে তার ওপর হামলা করা হচ্ছে। ওই এলাকায় বেসামরিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন: বেকারি, ওয়্যারহাউস বা খাবারের গুদামেও হামলা করা হচ্ছে। এটি আরেকটি আলেপ্পো হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই। বিভিন্ন সাহায্য সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ওই এলাকার রাস্তা নষ্ট করা হচ্ছে, যাতে উদ্ধারকাজ চালানো যাচ্ছে না। যেহেতু চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতেও হামলা হচ্ছে, তাই মৃত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়তে পারে। গতকাল চারটি হাসপাতালে হামলা চালানো হয়। ওই এলাকার বিদ্রোহীরা মর্টার ছুড়ে জবাব দেওয়ার চেষ্টা করলেও সরকারি সেনাশক্তি তাদের তুলনায় অনেক বেশি। আগামী মার্চ মাসে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সাত বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। এতে লাখো মানুষ মারা গেছে। ৫০ লাখের বেশি মানুষ শরণার্থী হয়েছে।
রাশিয়ায় গির্জায় বন্দুকধারীর হামলা নিহত ৫ নারী
রাশিয়ার দাগেস্তান প্রদেশের গির্জায় এক বন্দুকধারীর হামলায় ৫ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছে। গতকাল রবিবার প্রার্থনার সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের বরাত দিয়ে রুশ গণমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা তাস জানায়, মুসলিম অধ্যুষিত দাগেস্তানের কিজলিয়ার গ্রামে হামলা চালায় এক বন্দুকধারী। হামলাকারী নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে। তার বয়স ২২ বছর এবং স্থানীয়। তার কাছে রাইফেল, ছুরি এবং বুলেট পাওয়া গেছে। প্রাথমিক খবরে জানা গেছে, নিহত ৫ জনই নারী। চেচনিয়া সীমান্তের কাছে অবস্থিত গ্রামটিতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। চেচনিয়ায় দুটি বিচ্ছিন্নতাবাদী যুদ্ধের পর দাগেস্তানে ইসলামপন্থীদের সশস্ত্র সংগ্রাম ছড়িয়ে পড়ে।