ইরাকে মার্কিন দূতাবাসকে লক্ষ্য করে ফের রকেট হামলা
০৯জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই বাগদাদের উচ্চ নিরাপত্তা সম্পন্ন গ্রিন জোনে ফের রকেট হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি দূতাবাসগুলো অবস্থিত। বুধবারের (৮ জানুয়ারি) ওই হামলায় বাগদাদ কেঁপে উঠলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা সিএনএন। প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার মধ্যরাতে দুটি কাতিউশা রকেট দিয়ে গ্রিন জোনের ভেতর হামলা চালানো হয়। এ সময় বিকট শব্দ হয়। এতে ৬ জন আহত হয়। তবে কেউ নিহত হয়নি বলে জানিয়েছে ইরাকের সামরিক বাহিনী। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি মার্কিন হোয়াইট হাউজ। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে ইরাকের আইন আল-আসাদ ও এরবিলে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে অন্তত ২২টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়ে। এর মধ্যে আইন আল-আসাদের ঘাঁটি উদ্দেশ্য করে ছোড়া ১৭টি মিসাইলের দুটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। আর এরবিলের দিকে ছোড়া হয় ৫টি মিসাইল। তেহরানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দেশটির সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে ওই হামলায় ৮০ জন মার্কিন সৈন্য নিহত হওয়ার দাবি করে। তবে ইরানের এ দাবি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মিসাইল হামলায় ৮০ মার্কিন সেনা হত্যার দাবি ইরানের
০৮জানুয়ারী,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইরানের মিসাইল হামলায় অন্তত ৮০ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও ২০০ জন আহত হয়েছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে দাবি করা হয়েছে। বুধবার (৮ জানুয়ারি) ভোররাতে ইরাকে দুটি মার্কিন সেনাঘাঁটিতে এক ডজনেরও বেশি মিসাইল ছোড়ে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হামলার শিকার হওয়ার কথা জানানো হলেও হতাহতের বিষয়ে অফিসিয়ালি কিছুই বলা হয়নি। এদিকে ইরানি সেনাবাহিনীর শীর্ষ এক কর্মকর্তার বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন দুই সেনাঘাঁটিতে ১৫টি মিসাইল ছোড়া হয়েছে। এতে ৮০ জন 'আমেরিকান সন্ত্রাসী' নিহত হয়েছেন। খবরে আরো দাবি করা হয়েছে, ওই হামলায় আমেরিকার বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার গানশিপ ধ্বংস হয়েছে এবং যুদ্ধ সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই দুই ঘাঁটি ছাড়াও আমেরিকার আরো অন্তত ১০০টি স্থাপনা টার্গেট করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। তবে মার্কিন সামরিক সূত্রের বরাতে সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, হামলার আগাম সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন ঘাঁটি দুটিতে অবস্থান করা মার্কিন সেনারা। আর তাই সময়মতো নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে সক্ষম হয়েছিলেন তারা। ফলে হতাহতের তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। বুধবার ভোরে এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে অন্তত এক ডজন মিসাইল হামলা চালায় ইরান। ইরানের ভূমি থেকে ইসলামী রেভল্যুশনারি গার্ডের সদস্যরা মিসাইলগুলো ছোড়ে বলে ফার্স নিউজের খবরে বলা হয়েছে। খবরে বলা হয়, ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ আনবারের আইন আল আসাদ মার্কিন সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে অন্তত দশটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরই ইরবিলে দ্বিতীয় হামলার খবর দেওয়া হয়। একইসঙ্গে তেহরান হুঁশিয়ার করে বলে, মার্কিন বাহিনী পাল্টা হামলা চালালে কঠোর জবাব দেয়া হবে। এরপরই ইরাকে দুটি সেনাঘাঁটি আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। খুব শিগগিরই হামলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানায় যুক্তরাষ্ট্র। ইরানি হামলার পরই জরুরি বৈঠকে বসে হোয়াইট হাউস। সেইসঙ্গে ইরাক, ইরান এবং পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় বেসামরিক বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) মার্কিন হামলায় ইরানি সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর, তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।
সোলেইমানির জানাজায় পদদলিত হয়ে নিহত ৩৫
০৭জানুয়ারী,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলেইমানির জানাজায় পদদলিত হয়ে অন্তত ৩৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ইরানি এই জেনারেলের নিজ শহর কেরমানে দাফনের আগে অনুষ্ঠিত জানাজার সময় পদদলনের ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪৮ জন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেরমানে দেশটির জনপ্রিয় এই জেনারেলের জানাজায় লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। সেখানেই মানুষের ভীড়ে পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এর আগে সোমবার সকালে যখন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সোলেইমানির মরদেহ ইনকিলাব চত্বরে পৌঁছায় তখন লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে রূপ নেয় তেহরান। পরে তার মরদেহ তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত কাসেম সোলেইমানির জানাজায় ইমামতি করেন। গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তারের স্থপতি হিসেবে পরিচিত কুদস ফোর্সের শীর্ষ এই জেনারেলকে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়।
দিল্লিতে সিএএ বিরোধী বিক্ষোভের ঘটনায় দুই বাংলাদেশি গ্রেপ্তার
০৭জানুয়ারী,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: উত্তর-পূর্ব দিল্লির সীমাপুরীতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) বিরোধী বিক্ষোভের ঘটনায় দুই বাংলাদেশিসহ পাঁচজনকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। সোমবার দেশটির কর্মকর্তারা এমনটাই দাবি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত ওই পাঁচজনের মধ্যে দুই বাংলাদেশি রয়েছে। অপর তিনজনের মধ্যে দুজন উত্তরপ্রদেশ ও একজন সীমাপুরীর বাসিন্দা। তারা বলছে, অভিযুক্তরা হচ্ছেন- মোহাম্মদ শোয়েইব (১৯), মোহাম্মদ আমির (২৪), ইউসুফ (৪০) ও দুই বাংলাদেশি মোহাম্মদ আজাদ ও মোহাম্মদ সুবহান। একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই পাঁচজন ছাড়াও দুজন কিশোরকে আটক করা হয়েছে। ওই দুই কিশোরকে কিশোর বিচার বোর্ডে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। এ
সোলাইমানির জানাজায় জনতার ঢল, কাঁদলেন খামেনি
০৬জানুয়ারী,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইরানের সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির জানাজায় জনতার ঢল নেমেছিল। রাজধানী তেহরানের রাস্তায় অনেক মানুষকে কাঁদতে দেখা গেছে। কেউ কেউ সোলাইমানির ছবি আঁকড়ে ছিলেন। জানাজার নামাজের ইমামতি করেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। এক পর্যায়ে তাকেও কাঁদতে দেখা যায়। আজ সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় সোলাইমানিসহ নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে জানাজায় অংশ নিতে ভোররাত থেকে সারা তেহরান থেকে লাখ লাখ মানুষ তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের জুমার নামাজের চত্বরে আসতে থাকেন। এ সময় জনতার হাতে শহীদ জেনারেল সোলাইমানি ও আবু মাহদি আল-মুহানদিসের ছবি শোভা পাচ্ছিল। তারা আমেরিকা ধ্বংস হোক, ইসরাইল নিপাত যাক, আমার ভাইকে যারা মেরেছে তাদেরকে হত্যা করব ইত্যাদি স্লোগান দেন। প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে অনেকে নিজেদের শিশুসন্তান নিয়ে নামাজে জানাজায় অংশ নেন। ফলে এই জানাজার নামাজ জনতার সমুদ্রে পরিণত হয়। এত বিশাল লোকসমাগম দেখে মনে হরা হচ্ছে, আজকের জানাজায় ইরানের স্থপতি ইমাম খোমেনির নামাজে জানাজার চেয়ে বেশি লোক অংশ নিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে গত শুক্রবার মার্কিন ড্রোন হামলায় হত্যা করা হয় সোলাইমানিকে। ইরানের জাতীয় নায়ক এবং সর্বোচ্চ নেতা খামেনির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান ব্যক্তি হিসেবে সোলেইমানিকে দেখা হতো। ইতিমধ্যে সোলাইমানি হত্যার কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। গতকাল রবিবার ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে নিজের প্রত্যাহার করে নিয়েছে তারা। ৬২ বছর বয়সি সোলাইমানির কফিন মানুষ মাথার উপর দিয়ে বয়ে নিয়ে চলে এবং আমেরিকার মৃত্যু বলে স্লোগান দিতে থাকে। সোলাইমানির মেয়ে জয়নাব সোলাইমানি হুঁশিয়ার করে বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কালো দিন দেখবে। তিনি আরও বলেছেন, পাগল ট্রাম্প, তুমি ভেবো না যে আমার বাবার শাহাদাতের মধ্য দিয়ে সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। আজ জানাজার পর জেনারেল সোলাইমানির মরদেহ শিয়া ইসলামের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কোমে নিয়ে যাওয়া হবে। পরে আগামীকাল মঙ্গলবার কেরমানে তাঁর গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হবে। এর আগে তেহরানে সোলাইমানির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট রূহানি বলেন, আমেরিকানরা আসলেই বুঝতে পারেনি যে তারা কত বড় ভুল করেছে। এই এলাকার উপর থেকে যেদিন আমেরিকার নোংরা হাত কেটে ফেলা হবে, সেদিনই তাঁর রক্তের বদলা পূরণ হবে।
পরমাণু চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিলো ইরান
০৬জানুয়ারী,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২০১৫ সালে ছয় জাতির সঙ্গে করা পরমাণু সমঝোতা থেকে পুরোপুরি সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয় রৌহানি প্রশাসন। সম্প্রতি মার্কিন হামলায় দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা কাসেম সোলাইমানি নিহতের জেরে আসে এ সিদ্ধান্ত। ফলে পরমাণু অস্ত্র তৈরির অন্যতম উপাদান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পাশাপাশি এর মজুত গবেষণা এবং উন্নয়নে আর কোনও সীমাবদ্ধতা মেনে চলবে না ইরান। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। এদিকে, সোলাইমানিকে হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখনো চরমে। পাল্টাপাল্টি হামলা ও হুমকিতে যুদ্ধাবস্থা, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ ৩৫টি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরানের প্রভাবশালী বিপ্লবী গার্ড। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা, ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছে লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিযবুল্লাহ। মার্কিন সেনাদের লাশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে কফিনে করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন হিযবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ।
ইরানের ৫২ স্থানে কঠোর হামলার হুমকি ট্রাম্পের
০৫জানুয়ারী,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ৫২ স্থানে কঠোর হামলার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান যদি আমেরিকানদের বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনও সম্পদ লক্ষ্য করে হামলা চালায় তবে তেহরানের ৫২ স্থানে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। খবর রয়টার্স। এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৫২ স্থানকে টার্গেট করেছে। এর মধ্যে কিছু ইরানের প্রথম সারির এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এগুলো ইরানের সংস্কৃতি এবং ইরানিদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এসব স্থানে খুব দ্রুত ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আর কোনও হুমকি চায় না। তিনি আরও বলেন, ১৯৭৯ সালের নভেম্বরে তেহরানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে ৫২ জন আমেরিকানকে জিম্মি করা হয়েছিল। তারা ৪৪৪ দিন বন্দি ছিলেন। ওই ৫২ জনের কথা স্মরণ করেই ইরানের ৫২ স্থানকে টার্গেট করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে জেনারেল সোলেইমানিকে হত্যার ঘটনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। শনিবার তার প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়। তার জানাজার কয়েক ঘণ্টা পরেই বাগদাদে কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
কতটা শক্তিশালী ইরানি সামরিক বাহিনী?
০৪জানুয়ারী,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাগদাদ বিমানবন্দরে জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করেছে ইরান। যারা জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার পেছনে দায়ী তাদের জন্য কঠিন প্রতিশোধ অপেক্ষা করছে,বলেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা। কিন্তু কতটা সক্ষমতা আছে ইরানের সামরিক বাহিনীর? দেশটির আর্মি কতটা বিশাল? যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মতে প্রায় ৫ লাখ ২৩ হাজার সক্রিয় সদস্য আছে দেশটির সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন স্তরে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৫০ হাজার নিয়মিত আর্মি আর কমপক্ষে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার ইসলামিক রিভলিউশানারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। এছাড়া আরও ২০ হাজার আছে আইআরজিসির নৌ বাহিনীতে। এরা হরমুজ প্রণালিতে আর্মড পেট্রল বোট পরিচালনা করে। আইআরজিসি বাসিজ ইউনিটও নিয়ন্ত্রণ করে যারা মূলত স্বেচ্ছাসেবী ফোর্স। মূলত অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ মোকাবেলায় তারা কাজ করে। এরা দ্রুত হাজার হাজার মানুষকে জমায়েত করতে পারে। আইআরজিসি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ৪০ বছর আগে যা পরে বড় মিলিটারি, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। এটাকে ইরানর সবচেয়ে প্রভাবশালী ফোর্স বলে মনে করা হয়। দেশের বাইরে অভিযান: কুদস ফোর্স যার নেতৃত্বে ছিলেন জেনারেল সোলেইমানি, সেটি বিদেশে অনেক গোপন অভিযান পরিচালনা করে এবং তারা সরাসরি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কাছে জবাবদিহি করে। এই ইউনিটকেই সিরিয়াতে মোতায়েন করা হয়েছিল যারা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ও সশস্ত্র শিয়া মিলিশিয়াদের সঙ্গে একসাথে যুদ্ধ করেছে। ইরাকে তারা শিয়া নিয়ন্ত্রিত একটি প্যারা মিলিটারি ফোর্সকে সমর্থন করতো যারা ইসলামিক স্টেট গ্রুপের পরাজয়ে সহায়তা করেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বলছে, কুদস ফোর্স অর্থ, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও উপকরণ দিয়েছে এমন সংগঠনকে যাদের যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসেবে মনে করে। এর মধ্যে লেবাননের হেজবোল্লাহ আন্দোলন এবং প্যালেস্টিনিয়ান ইসলামিক জিহাদও রয়েছে। অর্থনৈতিক সমস্যা ও অবরোধ ইরানের অস্ত্র আমদানিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা খাতে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে যে পরিমাণ আমদানি হয়েছে তা সৌদির আরবের মোট সামরিক আমদানির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ মাত্র। ইরানিরা সামরিক খাতে বেশী আমদানি করেছে রাশিয়া থেকে এবং এর পরেই আছে চীনের অবস্থান। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আছে?- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের মতে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড়, বিশেষ করে স্বল্প পাল্লা আর মাঝারি পাল্লার। তারা আরও বলছে, ইরান স্পেস টেকনোলজি নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করছে যাতে করে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা যায়। তবে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ইরান স্থগিত করেছিল ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির পর, বলছে রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিস ইন্সটিটিউট। তবে তারা এও বলছে যে এটি আবার শুরু হয়ে যেতে পারে ওই চুক্তির অনিশ্চয়তার কারণে। অনেক ক্ষেত্রেই সৌদি আরব ও উপসাগরীয় এলাকার অনেক টার্গেট ইরানের স্বল্প বা মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আওতাতেই আছে, বিশেষ করে ইসরায়েলে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলো। এছাড়া আরও প্রমাণ আছে যে তেহরানের আঞ্চলিক মিত্ররাও ইরানের সরবরাহ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও গাইডেন্স সিস্টেম ব্যবহার করে বিশেষ করে সৌদি আরব, ইসরায়েল ও আরব আমিরাতের টার্গেটগুলোর ক্ষেত্রে। গত বছর মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র প্যাট্রিয়ট অ্যান্টি মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম মোতায়েন করে মধ্যপ্রাচ্যে যা ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়। এর মানে হলো পাল্টা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ মিসাইল ও অগ্রবর্তী এয়ারক্রাফট। অপ্রচলিত (নন কনভেনশনাল) অস্ত্র কোনগুলো কয়েক বছরের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান তার ড্রোন সক্ষমতা বাড়িয়ে নিয়েছে। ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ২০১৬ সাল থেকেই ইরাকে ড্রোন ব্যবহার করে ইরান। ২০১৯ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোনকে ভূপাতিত করে তারা এই অভিযোগে যে ড্রোনটি ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। এর বাইরে তারা ড্রোন প্রযুক্তি তাদের মিত্রদের কাছেও স্থানান্তর বা বিক্রিও করেছে, বলছেন বিবিসির প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সংবাদদাতা জোনাথন মার্কাস। ২০১৯ সালেই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছিল সৌদি তেল ক্ষেত্রে। সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র এজন্য ইরানকেই দায়ী করেছিল। যদিও তেহরান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বরং তারা ইয়েমেনের বিদ্রোহীদের দায় স্বীকারের দিকে ইঙ্গিত করেছে। ইরানের সাইবার সক্ষমতা আছে? - ২০১০ সালে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর বড় ধরণের সাইবার অ্যাটাকের পর তারা সাইবার স্পেস সক্ষমতায় জোর দেয়। আইআরজিসিরি নিজস্ব সাইবার কমান্ড আছে বলে মনে করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালের এক রিপোর্টে বলেছে, ইরান অ্যারোস্পেস কোম্পানি, প্রতিরক্ষা ঠিকাদার, এনার্জি ও ন্যাচারাল রিসোর্সেস কোম্পানি ও টেলিকম ফার্মগুলোকে তাদের বিশ্বব্যাপী সাইবার অপারেশনের কাজে টার্গেট করেছে। ২০১৯ সালে মাইক্রোসফট বলেছিল ইরান ভিত্তিক একটি হ্যাকার গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণাকে টার্গেট করেছিল ও তারা আমেরিকা সরকারের অ্যাকাউন্টগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করেছিল। সূত্র: বিবিসি বাংলা
নববর্ষের উৎসব কেড়ে নিলো ৩১৭ প্রাণ
০২জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নববর্ষ উদযাপনের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৩১৭ জন নিহত এবং ৩ হাজার ১৬০ জন আহত হয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে থাইল্যান্ডের দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন বিভাগ (ডিডিপিএম)। দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটিতে নববর্ষের ছুটি ২৭ ডিসেম্বর শুরু হয়ে চলে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত। থাইল্যান্ডজুড়ে ৩ হাজার ৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৩৯ শতাংশ দুর্ঘটনার কারণ ছিল মাতাল হয়ে গাড়ি চালানো। আর অতিরিক্ত গতির কারণে ঘটেছে ২৮ শতাংশ দুর্ঘটনা। ডিডিপিএম আরও জানায়, দুর্ঘটনায় পতিত যানগুলোর মধ্যে ৭৯ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেল। এদিকে, নববর্ষের সময়ে হতাহতদের মাঝে পুরো দেশের সবগুলো প্রদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৪ জন মারা গেছেন ব্যাংককে। আর সবচেয়ে বেশি ১০০ জন আহত হয়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের প্রদেশ সোংখালাতে। সূত্র- শাইন.সিএন

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর