মঙ্গলবার, মার্চ ৯, ২০২১
সেনা অভ্যুত্থান: জোরদার হচ্ছে মিয়ানমারের আন্দোলন
৬,ফেব্রুয়ারী,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে কারাবন্দি অং সান সু চিসহ অন্যান্যদের মুক্তির দাবিতে দেশটিতে চলমান আন্দোলন ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। গত সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) সেনা অভ্যুত্থানের পরপরই প্রথম প্রতিবাদ এসেছিল চিকিৎসাকর্মীদের কাছ থেকে। এরপর থেকে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ইয়াঙ্গুনের ড্যাগন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে জড়ো হন কয়েকশ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সেখানে তারা সু চির পক্ষে তাদের সমর্থন জানিয়ে লাল পতাকা বহন করেন। এ সামরিক অভ্যুত্থান চাই না, সু চি মা জিন্দাবাদ স্লোগান দেন তারা। আমরা আমাদের প্রজন্মকে এ ধরনের সামরিক স্বৈরাচারের যাঁতাকলে ভুগতে দেব না; বলে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায় এক বিক্ষোভকারী। শিক্ষার্থীরাসহ সরকারি ও বেসরকারি বহু কর্মী এ আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। শুক্রবার সর্বশেষ আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন শিক্ষকরা। সোমবার মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী এবং অং সান সু চি-সহ অন্য রাজনীতিক নেতা ও কয়েকশ আইনপ্রণেতাকে আটক করে। এরপর অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা একটি সুপ্রিম কাউন্সিলও গঠন করে। এরপর বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) যোগাযোগের সরঞ্জাম অবৈধভাবে আমদানির অভিযোগে সু চির বিরুদ্ধে মামলা করে দেশটির পুলিশ। এ অভিযোগ প্রমাণিত হলে সু চির সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) সদস্যরা।
সু চির প্রধান সহযোগী গ্রেফতার
৫,ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিল অং সান সু চির অন্যতম সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। মিয়ানমারের রাজনৈতিক নেতা উইন হাতেইন শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে তার বোনের বাসা থেকে গ্রেফতার হন। সু চিকে গ্রেফতার করে সামরিক শাসন জারি করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের হুমকি-ধামকির মধ্যেই নতুন করে এই শীর্ষ রাজনীতিককে আটক করেছে। সু চির দল এনলডি জানিয়েছে, ইয়াঙ্গুনে তার বোনের বাসায় রাত্রিযাপন করছিলেন। ওখান থেকেই তাকে ধরে নাইপিদোর পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হয়েছে। ৭৯ বছর বয়সী সু চির এই সহযোগীকে এর আগেও দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটাতে হয়। উইন হাতেইনকে সু চির ডান হাত হিসেবেও বিবেচিত। গ্রেফতারের আগে এক গণমাধ্যমকে তিনি বলেছিলেন, সামরিক অভ্যুত্থান কোনো জ্ঞানসম্পন্ন কাজ নয়, সামরিক শাসনে দেশকে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নেওয়া হবে, এর বিরুদ্ধে জনতাকে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখনই সময়। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির তথ্যমতে, গত সোমবার সামরিক অভুত্থ্যানের পর এ পর্যন্ত ১৩০ জনের বেশি রাজনৈতিক ও আইনপ্রণেতাকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ অবস্থায় মিয়ানমারের পরিস্থিতি দিন দিন আরো নাজুকের দিকে যাচ্ছে। সামারিক শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের ভেতর ক্ষোভের জন্ম হচ্ছে, অনেককে রাস্তায় প্রতিবাদ জানাতেও দেখা গেছে। শুধু সু চির সহযোগীদেরই আটক করা হচ্ছে না, দেশটির অনেক জায়গায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন খুবই বিরক্ত মিয়ানমারে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে। সামরিক বাহিনীকে অবশ্যই ক্ষমতা ছেড়ে রাজবন্দিদের মুক্তি দেওয়া উচিত মনে করছেন বাইডেন। গত বছরের নভেম্বরের অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পায় সু চির দল এনএলডি। নির্বাচনে ভুরাডবি হয় সেনাসমর্থিত দলের। সু চির বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ তোলে পুনরায় নির্বাচনের আহ্বান জানান সেনাবাহিনী। এমকি ক্ষমতা নিয়ে চলে বনিবনা না হওয়ায় গত সোমবার ভোরে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সু চিসহ অনেক আইন প্রণেতাকে গ্রেফতার করে সেনারা। দীর্ঘ ১০ বছর পর আবারো মিয়ানমার জান্তা সরকারের অধীনে ফিরে গেল। অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞারও হুমকি দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন।
স্বার্থে আঘাত না এলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যাবে না চীন
৫,ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মিয়ানমারের একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের মতামত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, স্বার্থে আঘাত না এলে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানকারীদের রক্ষা করবে চীন। দ্য ইরাবতীতে প্রকাশিত একটি মতামত প্রতিবেদনে পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান সম্পাদক অং জো এ দাবি করেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান ব্যর্থ করতে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিলেও মিয়ানমারের সরকার কে হবে, তা নিয়ে চীনের কোনো মাথাব্যথা নেই। চীন শুধু ওই অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করতে আগ্রহী। সে স্বার্থে আঘাত না আসা পর্যন্ত সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেবে না চীন। সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাবাহিনী দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং অং সান সু চি-সহ অন্য রাজনীতিক নেতা ও কয়েকশ আইনপ্রণেতাকে আটক করে। এরপর অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা একটি সুপ্রিম কাউন্সিলও গঠন করেছে। ওই কাউন্সিলের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হলাইং। মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসলেও চীনের সমর্থন না থাকায় অভ্যুত্থানের নিন্দা করে কোনো বিবৃতি দিতে পারেনি। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের একজন হওয়ায় যে কোনো বিবৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে চীনের সমর্থন প্রয়োজন হয়।
উগান্ডায় ভয়বাহ দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ৩২
৪,ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: উগান্ডায় ভয়বাহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, আহত হয়েছেন আরও পাঁচ জন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় কাসেসি জেলায় একটি ট্রাকের সঙ্গে যাত্রীবাহী গাড়ির সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। যাত্রীরা একটি শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিল বলে উগান্ডা রেড ক্রস সোসাইটির যোগাযোগ কর্মকর্তা আইরিন নাকাসিতা বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। রেড ক্রস সোসাইটির ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, নির্মাণাধীন সড়কটি ছিল খুবই সংকীর্ণ এবং অন্ধকার হয়ে আসায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৩২ জন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়। আইরিন নাকসিতা বলেন, দুর্ঘটনার শিকার লরিটি বুড়িবুগিয়ো থেকে মালিবা গ্রামে একটি লাশ নিয়ে যাচ্ছিল। ঘটনাস্থল থেকে আমরা ৩২টি মরদেহ উদ্ধার করেছি। দুর্ঘটনার সাথে জড়িত অন্য পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছিলেন এবং আমরা তাদের দ্রুত কিলম্ব মাইন হাসপাতালে নিয়ে যাই। পুলিশ জানিয়েছে, কাসেস জেলার নিকটে একটি দ্রুতগামী লরি গাড়ি এবং শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়া বেশকিছু শোকযাত্রীসহ একটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষের সময় এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এসময় আরও তিনটি গাড়ি লরির উপর এসে পড়ে, যাতে আরও বেশি বিঘ্ন ঘটায়। পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে দুই হাজারেরও বেশি লোক প্রাণ হারায়।
মিয়ানমারে অভ্যুত্থান: জাতিসংঘের নিন্দা আটকে দিলো চীন
৩,ফেব্রুয়ারী,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে নিন্দা প্রকাশ আটকে দিল চীন। সোমবারের ওই অভ্যুত্থান নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক বসে মঙ্গলবার। সেখান থেকে নিন্দা জানিয়ে একটিম যৌথ বিবৃতি দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে উদ্যোগকে আটকে দিয়েছে চীন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবারের বৈঠক শেষে একটি যৌথ নিন্দা প্রস্তাবে আসতে ব্যর্থ হয় পরিষদ। এর কারণ, এমন প্রস্তাবে সমর্থন দেয়নি চীন। এমন যৌথ বিবৃতিতে চীনের সমর্থন প্রয়োজন। কারণ, নিরাপত্তা পরিষদের একজন স্থায়ী সদস্য হওয়ার কারণে তার আছে ভেটো দেয়ার ক্ষমতা। নিরাপত্তা পরিষদে এই আলোচনা শুরুর আগে মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ক্রিস্টিন শ্রানার সামরিক অভ্যুত্থানের কড়া নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি নভেম্বরের নির্বাচনের ফল নিয়ে মন্তব্য করেছেন। বলেছেন, নির্বাচনে অং সান সুচির দলের ভূমিধস বিজয় হয়েছে- এটা স্পষ্ট। সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ইলিয়ট প্রাসে-ফ্রিম্যান বলেছেন, (চীনের এই) পররাষ্ট্রনীতি গ্যাসলাইটিংয়ের সমতুল্য। দৃশ্যত জোরালো সমর্থন না হলেও মিয়ানমারের জেনারেলদের অভ্যুত্থানে চীনের নীরব সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়। এই অভ্যুত্থান মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ইস্যু এমনটা ভাবধারা দেখাচ্ছে চীন। তিনি মনে করেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ থেকে কোনো বিবৃতি দেয়া হলেও তাতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পরিবর্তন এনে দিতো না। তবে এটা হতো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রথম সমন্বিত পদক্ষেপ। যা এখন আর আসছে বলে মনে হয় না।
মিয়ানমারে ২৪ মন্ত্রী বরখাস্ত, জায়গা নিচ্ছেন সেনা কর্মকর্তারা
২,ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের প্রথমে দিনেই অং সান সু চির সরকারের অধিকাংশ মন্ত্রীকে বরখাস্ত করে নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন মন্ত্রীদের অধিকাংশই জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং বিবিসি বার্মিজ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সু চি সরকারের অন্তত ২৪ জন মন্ত্রী, উপমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে নতুন ১১ মন্ত্রীকে। নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনই সেনাসমর্থিত দল ইউএসডিপির সদস্য। জানা গেছে, ইউএসপিডির অন্যতম নেতা উনা মং লউন হয়েছেন মিয়ানমার জান্তা সরকারের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি গত নভেম্বরের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তবে জিততে পারেননি। গত ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) পেয়ছিল ৮৩ শতাংশ আসন। ২০১১ সালে সামরিক শাসন শেষ হওয়ার পর দেশটিতে এটি দ্বিতীয় নির্বাচন ছিল। এতে এনএলডি ৪৭৬টির মধ্যে ৩৯৬টি আসনে জয় পায়। অন্যদিকে, সেনাসমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি পায় মাত্র ৩৩টি আসন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে সু চির দল আরেক দফায় পাঁচ বছরের জন্য দেশ শাসনের সুযোগ পায়। তবে ভোটের ফলাফল মেনে নেয়নি সামরিক বাহিনী। তারা সুপ্রিম কোর্টে দেশটির প্রেসিডেন্ট এবং নির্বাচন কমিশনের প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। এরপর সোমবার সকালে সু চি, দেশটির প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করে অভ্যুত্থান ঘোষণা করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সকাল থেকে জরুরি অবস্থা জারির পর রাজধানী নেপিদোতে মোবাইল ফোন ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং রেডিওর প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন মায়াবতির সম্প্রচার চালু রয়েছে। নতুন মন্ত্রীদের নিয়োগের খবরও তারাই প্রচার করেছে। টেলিভিশনটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত ৮ নভেম্বরের বহুদলীয় সাধারণ নির্বাচনে যে ভোটার তালিকা ব্যবহার করা হয়েছে তাতে গড়মিল পাওয়া গেছে। এ বিষয়টির সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে ইউনিয়ন নির্বাচন কমিশন। এতে আরও বলা হয়, ভোটার তালিকা নিয়ে জালিয়াতি করা হয়েছে, যার ফলে গণতন্ত্র নিশ্চিত সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে অস্বীকৃতি জানানো এবং উচ্চ ও নিম্নকক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে পার্লামেন্ট। মিয়ানমার সেনাবাহিনী বলছে, এই সমস্যার সমাধান না হলে এটি গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করবে। আইন অনুযায়ী, এই সমস্যার অবশ্যই সমাধান করতে হবে। একারণে ২০০৮ সালের সংবিধানের ৪১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। আগামী এক বছর এই জরুরি অবস্থা বহাল থাকবে।
সেনা অভিযানে সু চি ও মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতি আটক
১,ফেব্রুয়ারী,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতি উইন মিন্ট, ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চিসহ শাসক দলের শীর্ষ কয়েকজন নেতাকে আটক করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। সোমবার (০১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সেনাবাহিনীর অভিযানে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন দলের এক মুখপাত্র। ক্ষমতাসীন দলের মুখপাত্র মায়ো নিউন্ট সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, অং সান সু চি, রাষ্ট্রপতি উইন মিন্ট এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সোমবার ভোরে আটক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমি জনগণকে উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া না দেখানোর আহ্বান জানাই। তারা যেন আইন অনুসারে প্রতিক্রিয়া জানায়। বিবিসির দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সংবাদদাতা জোনাথন হেড বলেছেন, রাজধানী নেপিটো এবং প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় সৈন্যরা নেমে পড়েছে। বিবিসির বার্মিজ সার্ভিসের খবরে বলা হয়েছে, নেপিটোয় টেলিফোন ও ইন্টারনেট লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। সেনা সদস্যরা বেশ কয়েকটি অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করেছে বলে জানিয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। দেশটির সামরিক বাহিনী গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তোলে। সেনাবাহিনী নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে সোমবার বসতে যাওয়া সংসদ অধিবেশন বাতিলের দাবি জানায়। অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) নভেম্বরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পায়। তবে সেই নির্বাচনে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের ভোটারদের ভোট বঞ্চিত করার সমালোচনা করেছিল মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো। সেনাবাহিনী সমর্থিত বিরোধী জোট নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তোলে। তাদের দাবি নির্বাচনে ৮.৬ মিলিয়ন ভোট কারচুপি হয়েছে। গত সপ্তাহে সামরিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল জাও মিন তুন বলেন, সেনাবাহিনীর প্রধান মিন অং হ্লাইয়াং যৌক্তিকভাবে নির্বাচনের জালিয়াতিকে চিহ্নিত করেছেন।
বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেবে আরব আমিরাত
৩১,জানুয়ারী,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মানুষকে নাগরিকত্ব দিতে যাচ্ছে। শনিবার (৩০ জানুয়ারি) দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। খবর আল জাজিরার। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী শেখ মাকতুম বিন রশিদ আল মাকতুম বলেছেন, বিনিয়োগকারী, বিশেষ মেধাসম্পন্ন ব্যক্তি, কর্মদক্ষ, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, লেখক, চিত্রশিল্পী, ও তাদের পরিবারদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে গত বছরের নভেম্বরে বিদেশিদের শতভাগ মালিকানার সুবিধা দিতে আইন সংশোধন করে দেশটি। আর এবারে নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিলো তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ মাকতুম আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মন্ত্রিসভা, স্থানীয় আমির আদালত এবং নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা যাচাই-বাছাই শেষে কারা নাগরিকত্ব পাবেন সেটি ঠিক করবেন। আরব আমিরাত সরকার জানিয়েছে, দেশটিতে অবস্থানরত মেধাবী ও দক্ষ বিদেশিদের নাগরিকত্ব প্রদানের লক্ষ্যেই নাগরিকত্ব আইনের সংশোধন করা হয়েছে। এর ফলে আমিরাতে আরও বেশি মেধাবী ও দক্ষ লোকজনকে আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী নির্বাচিত বিদেশিরা নিজেদের বর্তমান নাগরিকত্ব বহাল রেখেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন। প্রসঙ্গত, আরব আমিরাতে নাগরিকের সংখ্যা খুবই কম। দেশটিতে বিপুল সংখ্যক বিদেশিরা কাজ করেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের।
কৃষি আইনের পক্ষেই বক্তব্য দিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি
২৯,জানুয়ারী,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সংসদের যৌথ অধিবেশনে কৃষি আইনের পক্ষে জোর সাফাই গেয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। বাজেট অধিবেশনের শুরুতে সংসদের যৌথ অধিবেশনে ভারতের রাষ্ট্রপতির ভাষণের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে ছিল কৃষি আইন এবং কৃষকদের জন্য মোদি সরকার কী কী করেছে, তার বর্ণনা। খবর আনন্দবাজারের। কৃষি আইন নিয়ে যে দেশটির সরকার পিছু হটবে না, রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে কৌশলে তা আরও একবার যেন বুঝিয়ে দিতে চাইল মোদি সরকার। শুক্রবার থেকে দেশটির সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ করবেন ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। শুক্রবার সেই অধিবেশনের শুরুতে বক্তৃতায় কৃষি আইনে নিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, নতুন ৩টি আইনের ফলে দেশের ১০ কোটিরও বেশি মানুষ উপকৃত হবেন। কয়েকটি রাজ্য সরকারও কৃষি আইনের প্রশংসা করেছেন। প্রজাতন্ত্র দিবসে কৃষকদের ট্রাক্টর Railly তে দিল্লি জুড়ে অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছিল। রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল বহু এলাকা। লালকেল্লায় ঢুকে পতাকা উত্তোলনের ছবি দেখা গিয়েছিল। কৃষকদের সেই আন্দোলনের নিন্দা জানিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রজাতন্ত্র দিবসে কৃষকরা ট্রাক্টর Railly করেছেন। সেই আন্দোলনে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। লালকেল্লায় জাতীয় পতাকার অবমাননা করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। সংবিধান, যার জন্য আমরা প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করি, আমাদের স্বাধীনতার কথা বলে। কিন্তু এটাও বলে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিশ্চিত করা নাগরিকদের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের রোজগার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী- কিসান সম্মান নিধি প্রকল্প চালু করেছে। কৃষি খরচের দেড় গুণ ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সুফল বিকাশ যোজনার সুবিধাও পেয়েছেন কৃষকরা। ২০২০ সাল প্রায় পুরো বছরই করোনার প্রকোপ ছিল ভারতে। ওই ভারতের রাষ্ট্রপতি মনে করেন, সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে দেশে করোনার সংক্রমণ রুখে দিয়ে ফের ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে অর্থনীতি। করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সারা বিশ্বকে পথ দেখিয়ে নজির সৃষ্টি করেছে ভারত সরকার। করোনার টিকাদান কর্মসূচিও সফল ভাবে চলছে দেশে।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর