যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নে প্রস্তুত ট্রাম্প: রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
২২ডিসেম্বর,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চিঠিতে জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত আছেন। শনিবার রুশ সম্প্রচার মাধ্যম চ্যানেল ওয়ানে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরভকে এই কথা বলতে দেখা যায়। এদিন তার সাক্ষাৎকারের একটি অংশ প্রচারিত হয়। খবর রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের। ল্যাভরভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি সংক্ষিপ্ত চিঠি পাঠিয়েছেন। তিনি দুই দেশের মধ্যকার সমস্যাগুলো সমাধান করতে প্রস্তুত আছেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের আমন্ত্রণে দেশটি সফর করেন। তাকে অভ্যর্থনা জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এই সফরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গেও কথা হয় তার। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নারী মুখপাত্র মারিয়া জাখারভা জানান, এই সফরের পর তারা নিরাপত্তা, নিরস্ত্রীকরণ এবং কৌশলগত স্থিতিশীলতার পাশাপাশি সিরিয়া ও আফগানিস্তানের দিকে দৃষ্টিনিবদ্ধ করেছেন।
নাগরিকত্বের ব্যাখ্যা দিলো ভারত সরকার
২১ডিসেম্বর,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের নাগরিক কারা, সে ব্যাখ্যা দিয়েছে দেশটির সরকার। শুক্রবার শীর্ষ একজন সরকারি কর্মকর্তা এই ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ওই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে ভারতে জন্ম হয়ে থাকলে বা এই সময়ের আগে যদি কারও বাবা-মা এদেশে জন্মগ্রহণ করে থাকেন তাহলে আইন অনুযায়ী তারা উপযুক্ত ভারতীয় নাগরিক এবং নাগরিকত্ব সংশোধন আইন, ২০১৯ বা সম্ভাব্য দেশব্যাপী জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি নিয়ে তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার দরকার নেই। নাগরিকত্ব আইনের ২০০৪ সালের সংশোধনী অনুসারে, আসামের মানুষদের বাদ দিয়ে দেশের মানুষ, যাদের বাবা মায়ের অন্তত একজন ভারতীয় বা দুজনই অবৈধ অভিবাসী না হলে তারাও ভারতীয় নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবেন। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯-এর বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ এবং সম্প্রতি এই আইনের বেশ কয়েকটি সংস্করণ সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার শুরুর পরেই স্পষ্টভাবে এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা জানান, যারা ১৯৮৭ সালের ১ জুলাই ভারতে জন্মগ্রহণ করেছেন বা যাদের বাবা-মা এই বছরের আগে এই দেশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তারা আইন অনুযায়ী ভারতীয় বলেই বিবেচিত হবেন। তবে আসামের ক্ষেত্রে ভারতীয় নাগরিকত্ব সনাক্তকরণের সালটি হলো ১৯৭১। সারা দেশে এনআরসি শুরু করার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে এই কর্মকর্তা জানান যে এ নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, আমরা জনগণকে বলতে চাই আসামের এনআরসির সঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে তুলনা করবেন না। আসামের কাট-অফ তারিখ আলাদা। নাগরিকত্ব আইনের ২০০৪ সালের সংশোধনী অনুসারে, ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি বা তার পরে ভারতে জন্মগ্রহণ করেছেন কিন্তু ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে জন্মেছেন, যিনি ১ জুলাই ১৯৮৭ বা তার পরে ভারতে জন্মগ্রহণ করেছেন কিন্তু ৩ ডিসেম্বর ২০০৪ সালের আগে জন্মেছেন এবং জন্মের সময় বাবা-মায়ের কেউ একজন ভারতের নাগরিক হলে তারা যথাযথ ভারতীয় নাগরিক বলেই গণ্য হবেন। ১০ ডিসেম্বর ১৯৯২ বা তার পরে কিন্তু ৩ ডিসেম্বর ২০০৪ এর আগে যারা ভারতের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং যার বাবা-মা জন্মসূত্রে ভারতের নাগরিক তারাও ভারতীয়। কেউ যদি ২০০৪ সালের ৩ ডিসেম্বর বা তার পরে ভারতে জন্মগ্রহণ করেন এবং বাবা-মা উভয়েই যদি ভারতের নাগরিক হন বা বাবা-মায়ের কেউ একজন ভারতের নাগরিক এবং অন্যজন তার জন্মের সময়ে অবৈধ অভিবাসী না হন তবে তারা ভারতীয় নাগরিক। গত সপ্তাহেই সংসদ বিতর্কিত এই আইন পাস করার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। আসামে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের গুলিতে কমপক্ষে তিনজন, কর্নাটকের মেঙ্গালুরুতে আরও দুজন এবং উত্তরপ্রদেশের লখনউতে একজন নিহত হয়েছেন। নাগরিকত্ব আইনের পাশাপাশি সারা দেশে প্রস্তাবিত এনআরসির বিরুদ্ধেও শুরু হয়েছে প্রতিবাদ। উল্লেখ্য, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন অনুসারে- হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা যারা ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত এদেশে এসেছেন তাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে গণ্য করা হবে না এবং তাদেরকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেয়া হবে।
অভিশংসিত হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
১৯ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অনুমোদিত হয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভিশংসন করতে যে পরিমাণ ভোট প্রয়োজন, হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভে প্রথম দুই অভিযোগে সেই পরিমাণ ভোট পড়েছে। খবর বিবিসির। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিশংসনের জন্য প্রতিনিধি পরিষদে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট পড়লেও কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস-এর চেয়ারের অনুমোদন দেয়ার পর তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়া হবে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ দুটি হলো- ট্রাম্প তার পদ ব্যবহার করে তার ডেমোক্র্যাট রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চেষ্টা করেছিলেন। দ্বিতীয়টি হলো- অভিশংসনের তদন্ত কাজে সহায়তা করতে অস্বীকার করে ট্রাম্প কংগ্রেসের কাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন। প্রথম অভিযোগের ক্ষেত্রে অভিশংসনের পক্ষে ২৩০ ভোট পড়েছে এবং বিপক্ষে পড়েছে ১৯৭টি ভোট। দ্বিতীয় অভিযোগে অভিশংসনের পক্ষে পড়েছে ২২৯টি ভোট এবং বিপক্ষে পড়েছে ১৯৮টি ভোট। আগামী মাসে সিনেটের বিচার অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প হলেন অভিশংসিত হওয়া তৃতীয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর আগে মাত্র দুজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট অভিশংসিত হয়েছিলেন। তারা হলেন- অ্যান্ড্রু জনসন ও বিল ক্লিনটন। তবে সিনেটে তাদের কাউকে সরিয়ে দেয়া হয়নি।
এক মাস পর নতুন সরকার পেলো কুয়েত
১৮ডিসেম্বর,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কুয়েতের নতুন সরকারের প্রধান হিসেবে মঙ্গলবার শপথ হিসেবে নিয়েছেন দেশটির আমির শেখ সাবাহ আল আহমাদ আল সাবাহ। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়া শেখ সাবাহ বিগত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। এর প্রায় এক মাস আগে পদত্যাগ করে কুয়েতের সরকার। শেখ সাবাহর নতুন সরকারে দুজন উপ-প্রধানমন্ত্রী ও তিনজন নারী মন্ত্রী রয়েছেন বলে জানিয়েছে কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনা। কুনার খবরে বলা হয়েছে, শেখ আহমাদ মনসুর আল আহমাদ ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং আনাস আল খালেদ নাসের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। নারী মন্ত্রীদের মধ্যে মরিয়ম ওকুয়েলে আল ওকুয়েল অর্থ মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া রানা আব্দুল্লাহ আল ফারেস পাবলিক অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী ও হাউজিং অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। আর গাদির মোহাম্মদ মাহমুদ পেয়েছে সামাজিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। সরকারি তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ গণমাধ্যমে আসার পর দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এই বিরোধের জের ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের ডাক দেন আইনপ্রণেতারা। এরপরই নভেম্বরে তৎকালীন সরকার পদত্যাগ করে। এরপর অনাস্থা প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ জাবের আল মুবারক আল সাবাহকে প্রথমে নতুন সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। কুয়েতে বিক্ষোভের কিছুদিন পরই সেখানে সরকারের পদত্যাগের ঘটনা ঘটে।
ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে সারা ভারতে
১৭ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সদ্য পাশ হওয়া সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে আন্দোলন ক্রমেই গোটা ভারতে ছড়িয়ে পড়ছে। দিল্লিতে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় পুলিশি অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রসমাজ। পাশে দাঁড়িয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরাও। এখন সেই আগুন উত্তর প্রদেশের রাজধানী শহর লখনৌ ও গুরুত্বপূর্ণ শহর আলিগড় হয়ে ক্রমশই ছড়িয়ে পড়ছে সারা ভারতে। নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে প্রথমে সহিংস হয়ে উঠে আসাম-মেঘালয়সহ ভারতের উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলো। এরপর, সেই আগুন এসে লাগে পশ্চিমবঙ্গে। এখন তা রাজধানী শহর দিল্লি হয়ে ছড়াচ্ছে লখনৌ-আলিগড়সহ অন্যান্য শহরেও। সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, দিল্লিতে সংঘর্ষের পর দেশজুড়ে রাতভর প্রতিবাদ করেছে শিক্ষার্থীরা। নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করে আজ বিক্ষোভ শুরু হয়েছে লখনৌ শহরের নাদওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। এনডিটিভি জানায়, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আয়োজিত সংহতি মিছিলের পর সংঘর্ষ বাঁধে পুলিশের সঙ্গে। গত সন্ধ্যায় দিল্লিতে সংঘর্ষের পর মধ্যরাতেই প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠে হায়দরাবাদের মওলানা আজাদ উর্দু বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও, জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আহ্বানে দিল্লির পুলিশ সদর দপ্তরের বাইরে কয়েকশ মানুষ সমবেত হয়ে বিক্ষোভ করেন। দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে বাসে আগুন দেওয়া অভিযোগ: দেশটির গণমাধ্যমগুলো জানায় গতকাল দিল্লিতে ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষ চলাকালে পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সেই জন্যে কিছু বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড় এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বাসে বোতল থেকে তরল কিছু ছিটিয়ে দিচ্ছেন এক পুলিশ সদস্য। এর আগে, দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করলে সেসময়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাঁধে। গতকাল সন্ধ্যায় বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে ভারতের রাজধানী শহর। রণক্ষেত্রের রূপ নেয় দক্ষিণ দিল্লির নিউ ফ্রেন্ডস কলোনি এলাকা। ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি বাস ও দুই চাকার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর দিল্লির উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়াসহ অনেকেই অভিযোগ করছেন যে পুলিশের কিছু সদস্য এই ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এই ধরণের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে আন্দোলন এবং জামিয়া মিলিয়ার ঘটনার প্রতিবাদে মুখর অন্য রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও। দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, আইআইটি বম্বে, কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, পণ্ডিচেরি বিশ্ববিদ্যালয়, আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়, হায়দরাবাদের মউলানা আজাদ জাতীয় উর্দু বিশ্ববিদ্যালয়, লক্ষ্ণৌয়ের নাদোয়া কলেজ, মুম্বাইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের ছাত্রছাত্রীরা জামিয়া মিলিয়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভে শামিল হন। জামিয়া মিলিয়া, নাদোয়া কলেজ ও আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে বিরোধী দলও। দিল্লিতে বিরোধী নেতাদের ডাকা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পুলিশি অত্যাচারের নিন্দা করা হয়। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল রোববারের সহিংসতাকে শাসকদলীয় চক্রান্ত মনে করছেন। তাঁর দলের পক্ষ থেকে কিছু ছবি পেশ করে এটা প্রমাণের চেষ্টা হয় যে পুলিশের একাংশও সরকারি বাসে আগুন দিয়েছে। কেজরিওয়াল বলেন, এই ঘটনা নিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করতে চান। আম আদমি পার্টি মনে করছে, দিল্লির নির্বাচনের আগে বিজেপির একাংশ আম আদমি পার্টির বদনাম করতে সচেষ্ট। সোমবারও সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। তবে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ মিছিল বের হয় কলকাতায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দলের নেতা-কর্মীরা।
দিল্লির জামিয়ার ক্যাম্পাসে ঢুকে শিক্ষার্থীদের পেটালো পুলিশ
১৬ডিসেম্বর,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দাউ দাউ করে জ্বলছে একের পর এক বাস। কুণ্ডলি পাকানো কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে আকাশ। নাগরিকত্ব আইনে সংশোধনের প্রতিবাদে এতদিন যে দৃশ্য দেখা যাচ্ছিল পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে এবার সেটির সাক্ষী হলো ভারতের রাজধানী দিল্লির দক্ষিণ অংশ। রোববার বিকেলে দক্ষিণ দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া সংলগ্ন নিউ ফ্রেন্ডস কলোনিতে এই ঘটনার পর দিল্লি পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকে ছাত্রছাত্রীদের ওপর চড়াও হয়। জামিয়ার ক্যাম্পাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। সে সময় বহু ছাত্রছাত্রী সেখানে পড়াশোনা করছিলেন। তাদের অনেকেই পুলিশের লাঠি ও কাঁদানে গ্যাসে আহত হন। অভিযোগ উঠেছে, টয়লেটে ঢুকেও শিক্ষার্থীদের পিটিয়েছে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদেরও বেধড়ক লাঠিপেটা করা হয়। লাইব্রেরির বাইরের ছাত্রছাত্রীদের মাথার ওপরে হাত তুলে লাইন দিয়ে হাঁটিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বার করে দেয়া হয়। জামিয়ার বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রীকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গেছে। পুলিশের এই আচরণে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, আমরা কি দাগী অপরাধী? আটক সহপাঠীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে গতকাল রাতেই কয়েকশ শিক্ষার্থী দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তর ঘেরাও করেন। মাঝরাতের কড়া ঠান্ডা উপেক্ষা করেও চলতে থাকে তাদের বিক্ষোভ। কারও কারও হাতে ছিল গান্ধীর ছবি। পরিস্থিতি আয়ত্বের বাইরে যেতে পারে, সেই আশঙ্কায় জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস নিয়ে তৈরি ছিল পুলিশও। এদিকে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী টুইট করে বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ঢুকে শিক্ষার্থীদের পেটানো হচ্ছে। যে সময়ে সরকারের উচিত এগিয়ে এসে মানুষের কথা শোনা, তখন বিজেপি সরকার উত্তর-পূর্ব, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লিতে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপরে দমনপীড়ন চালিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করছে। এই সরকার কাপুরুষ। #লজ্জা। শুনে নিন মোদিজি, তারা ভারতীয় যুবা, আজ নয় কাল, তাদের কথা শুনতেই হবে। অন্যদিকে গতকাল রাতেই বিক্ষোভ শুরু হয়েছে কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, হায়দরাবাদের মৌলানা আজাদ উর্দু বিশ্ববিদ্যালয়, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়, আইআইটি মুম্বাইসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। আজ দিল্লি জুড়ে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলোর একাংশ। শুক্রবারও জামিয়া মিলিয়ার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নতুন নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-মিছিল করেছিলেন। তখনও পুলিশ লাঠি এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। বহু শিক্ষার্থী আহত হন। কিন্তু গতকাল নিউ ফ্রেন্ডস কলোনি এলাকায় বিক্ষোভে তারা অংশ নেননি বলে জানিয়েছেন জামিয়ার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিবৃতি, রোববারের বিক্ষোভে জামিয়ার শিক্ষার্থীরা ছিলেন না। আশপাশের মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। দিল্লি পুলিশ অমিত শাহর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন। জামিয়ার চিফ প্রক্টর ওয়াসিম আহমেদ খান বলেন, পুলিশ গায়ের জোরে, বিনা অনুমতিতে ক্যাম্পাসে ঢুকেছে। আমাদের কর্মী, শিক্ষার্থীদের পেটানো হয়েছে। জোর করে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। জামিয়ার উপাচার্য নাজমা আখতার পুলিশের কাজকে নিন্দনীয় বলেছেন। রোববার দুপুর থেকেই দক্ষিণ দিল্লির জামিয়া সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। নিউ ফ্রেন্ডস কলোনি, মাতা মন্দির রোড, মথুরা রোডে পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বাধে বিক্ষোভকারীদের। বেপরোয়া লাঠি চালায় পুলিশ। বেশ কিছু বাইক ও দিল্লি পরিবহন নিগমের তিনটি বাস জ্বালিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। অনেকের অভিযোগ, পুলিশ নিজেই বাসে আগুন ধরিয়েছে। আগুন নেভাতে গিয়ে আক্রান্ত হন দমকলকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই চত্বরে মেট্রোরেলের একাধিক স্টেশন বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপরই পুলিশ জামিয়া ক্যাম্পাসে চড়াও হয়। ক্যাম্পাসের গেটে বেধড়ক লাঠিপেটা করার পাশাপাশি বেশ কয়েকজনকে আটকও করা হয়। পুলিশ অবশ্য কারও পরিচয় জানায়নি। এরই মধ্যে জামিয়ার ঘটনা নিয়ে কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু হয়েছে। জামিয়ার এ ঘটনার জন্য দিল্লির বিজেপি প্রদেশ সভাপতি মনোজ তিওয়ারি ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি (আপ)-র ওপর দায় চাপিয়েছেন। যদিও আপ সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লির উপ-রাজ্যপালের সঙ্গে কথাও বলেন। দিল্লির এ দিনের ঘটনার পরে কংগ্রেস নেতা রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেন, বিরোধ করলেই এখন দেশদ্রোহী! জামিয়া এর টাটকা উদাহরণ।
নাগরিকত্ব আইন নিয়ে সুর নরম অমিত শাহর
১৫ডিসেম্বর,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নাগরিকত্ব আইন কার্যকর হওয়ার পর ভারতের আসাম ও পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলন জোর হয়েছে। ব্যাপক চাপের মুখে সুর নরম করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এমন পরিস্থিতিতে আইনে পরিবর্তন আনার কথাও বলেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সইয়ের পর সেদিন রাত থেকেই কার্যকর হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন। আর এরপর রীতিমতো অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসামে কারফিউ জারি করা হয়। কারফিউ জারি করা হয় উত্তর-পূর্ব ভারতের আরেক রাজ্য মেঘালয়েও। তারপরও বিক্ষোভ কমার নাম নেই। উল্টো বিক্ষোভের মধ্যেই আসামের পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এদিকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে পুরো দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে যাওয়ায়, এর দায় কংগ্রেসের ওপর চাপিয়েছেন অমিত শাহ। তার দাবি, মানুষকে ভুল তথ্য দিয়ে উস্কানি দিচ্ছে কংগ্রেস। কংগ্রেসই দেশে আশান্তি ছড়াচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে এখন এই আইনে পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ঝাড়খণ্ডে এক নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে অমিত বলেন, তিনি মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী ও সেখানের মন্ত্রীদের সঙ্গে শুক্রবার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, তারা (মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী ও প্রতিনিধিদল) আমাকে কিছু পরিবর্তন (আইনে) আনতে অনুরোধ করেছেন। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি সাংমাজিকে (কনরাড সাংমা) বলেছি আমার সঙ্গে দেখা করতে। এরপরই অমিত শাহ জানান, ক্রিস্টমাসের পর সম্ভবত মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমার সঙ্গে তিনি বৈঠকে বসবেন। সেখানে একটি সংগঠিত আলোচনা হবে বলে দাবি করেন অমিত শাহ। পাশাপাশি তিনি বলেন, কারোর ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
ব্রিটেনের নির্বাচনে জয় পেলেন আরেক বাঙালি নারী
১৫ডিসেম্বর,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ব্রিটেনের এবারের নির্বাচনে জয় পেয়েছেন পাঁচজন বাঙালি নারী। এই পাঁচ নারীই লেবার পার্টি নির্বাচনে থেকে অংশ নিয়ে জয়ী হয়েছেন। যদিও তাদের দল নির্বাচনে ধরাশায়ী হয়েছে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভদের হাতে। তবে খুব শক্তিশালীভাবেই জয় তুলে নিয়েছে এই পাঁচ বঙ্গকন্যা। এই পাঁচ নারীর মধ্যে চারজনই বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত। তবে পঞ্চম নারী হচ্ছেন ব্রিটিশ বাঙালি লিসা নন্দী। তিনি ম্যানচেস্টারের উইগান আসন থেকে জয়লাভ করেছেন। ব্রিটিশ মা ও বাঙালি বাবার কন্যা লিসা ২১,০৪২ ভোটে জিতেছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ প্রার্থী অ্যাশলে উইলিয়ামস ১৪৩১৪ ভোট পেয়েছেন। ২০১০ সাল থেকে এই আসনটি লিসার দখলে রয়েছে। তবে এবারের লড়াই সবচেয়ে কঠিন ছিল বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। সমর্থকদের উদ্দেশে তার বার্তা, আপনারা আমায় প্রতিটি দিন অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। সাধারণ মানুষ ৯ বছর ধরে আমার ওপরে আস্থা রেখেছেন। সবাইকে এজন্য ধন্যবাদ। লিসা দুই দফায় শ্যাডো মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। লিসার বাবা দীপক নন্দী ছিলেন কলকাতার বাসিন্দা। ১৯৫৬ সালের মার্চে তার বাবা ব্রিটেনে এসে বসবাস শুরু করেন। ১৯৭৯ সালে যুক্তরাজ্যে লিসার জন্ম। যুক্তরাজ্যে বর্ণবাদী হামলা রুখে দিতে কাজ করছেন তিনি। এদিকে গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে জয় পাওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত নারী হচ্ছেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক, রুশনারা আলী, রূপা হক ও আফসানা বেগম।
নাগরিকত্ব আইনের সংশোধনী নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা কে এই মহুয়া
১৪ডিসেম্বর,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নাগরিকত্ব আইনের সংশোধনী নিয়ে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল মোদি সরকার। শুক্রবার সকালে সুপ্রিম কোর্ট খুলতেই তার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। প্রধান বিচারপতি শরদ এ বোবডের বেঞ্চে মহুয়ার আইনজীবী অনুরোধ জানান, দ্রুত এই মামলার শুনানি হওয়া দরকার। তার অনুরোধ ছিল, শুক্রবারই শুনানি হোক। না হলে সোমবার। কিন্তু প্রধান বিচারপতি জানান, দ্রুত শুনানির জন্য রেজিস্ট্রারের কাছে যেতে হবে। তৃণমূল সাংসদের আইনজীবীদের আশা, আগামী সপ্তাহেই এর শুনানি হতে পারে। মহুয়া মৈত্রের জন্ম ১৯৭৫ সালের ৫ মে। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে মাউন্ট হলিয়োক থেকে তিনি গনিত ও অর্থনীতি নিয়ে পড়াশুনা করেছেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনে জে.পি মরগ্যান ব্যাংকের হয়ে কাজ করেছেন। ২০০৯ সালে ভারতীয় কংগ্রেস পার্টিতে যোগদান করেন মহুয়া। এর পরের বছরই পশ্চিমবঙ্গের মুখমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন মহুয়া মৈত্র। এ বছর ভারতীয় লোকসভায় প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস পার্টির মহুয়া মৈত্র। সংসদে প্রথম ভাষণে নজর কাড়েন তিনি। ওই ভাষণে তিনি ফ্যাসিবাদ বা কর্তৃত্ববাদী জাতীয়তাবাদের প্রাথমিক লক্ষণসমূহ নিয়ে বক্তব্য দেন যেটিকে 'বছরের সেরা' ভাষণ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়। মহুয়া ছাড়াও সুপ্রিম কোর্টে নাগরিকত্ব আইন সংশোধনীকে অসাংবিধানিক বলে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা করেছেন কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ জয়রাম রমেশও। এর পর রিহাই মঞ্চ ও সিটিজেনস এগেন্সট হেট নামক দুটি অসরকারি সংগঠনও সুপ্রিম কোর্টে একসঙ্গে মামলা করেছে। বৃহস্পতিবারই ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন অব মুসলিম লিগ সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিল। বিল পাশের আগেই বছরের গোড়ায় আসামের বিদ্বজ্জনেরা নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তখন সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, এই বিল পাশের পরে শুনানি হবে। জয়রাম রমেশশের পিটিশনে বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব আইনে সংশোধন সংবিধানের মৌলিক অধিকারের ভিতে নির্লজ্জ হামলা। তার অভিযোগ, সংবিধানের ১৪-তম অনুচ্ছেদ ও ২১-তম অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। কারণ নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রশ্নে ধর্ম ও ভূখণ্ডের ভিত্তিতে ভেদাভেদ করা হয়েছে।- বিডি প্রতিদিন

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর