যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে রোমিও নামের একটি হেলিকপ্টার কিনবে ভারত
অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে MH-60 রোমিও নামের একটি হেলিকপ্টার কিনতে চায় ভারত সরকর। হেলিকপ্টারের দাম দুই বিলিয়ন ডলার। গত শুক্রবার দেশটির প্রতিরক্ষা দফতর এই খবর জানিয়েছে। জানা যায়, রোমিও সমুদ্রের নিচে লুকিয়ে থাকা শত্রুর সাবমেরিন খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে পারদর্শী। মনে করা হচ্ছে, কয়েক মাসের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কথাবার্তা হয়ে চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়ে যাবে। কলকাতা টুয়েন্টিফোর-র প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত ইতিমধ্যে নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি জরুরি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে ২৪টি ক্ষমতাসম্পন্ন MH 60 রোমিও সি-হক হেলিকপ্টারের প্রয়োজনের কথা বলা হয়েছে।
মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘে নতুন প্রস্তাব পাস
অনলাইন ডেস্ক: রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে সদস্য দেশসমূহের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত ভোটের মাধ্যমে ওআইসি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথভাবে আনীত একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। প্রস্তাবের পক্ষে ১৪২টি, বিপক্ষে ১০টি এবং ভোট প্রদানে বিরত থাকে ২৬টি দেশ। ওআইসি ও ইউর পক্ষে যথাক্রমে বাংলাদেশ ও অস্ট্রিয়া এই প্রস্তাব উত্থাপন করে। ওআইসি ও ইইউর সকল সদস্যরাষ্ট্র এবং যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া ও মেক্সিকোসহ মোট ১০৩টি দেশ এই প্রস্তাবে কো-স্পন্সর করে। শনিবার জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, প্রস্তাবটি ভোটে যাওয়ার আগে এর যৌক্তিকতা তুলে ধরে ওআইসির পক্ষে তুরস্ক ও ইইউর পক্ষে অস্ট্রিয়া বক্তব্য রাখে।তুরস্ক ও অস্ট্রিয়ার বক্তব্য সমর্থন করে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দানের আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও বাংলাদেশ। ভোট গ্রহণের আগে ও পরে দেওয়া বক্তব্যে প্রায় সকল সদস্য দেশ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের অব্যাহতভাবে মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের অবদানের কথা উল্লেখ করে। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন তার বক্তব্যে প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের প্রতি দায়িত্ব পালনের স্বার্থে এই প্রস্তাবকে সমর্থন করতে সদস্য দেশসমূহের প্রতি আহ্বান জানান। গত ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশ থেকে স্বেচ্ছায় রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত না যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা মিয়ানমারের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে এবং মিয়ানমারের ছাড়পত্র অনুযায়ী কিছু রোহিঙ্গা পরিবার ও সদস্যদের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন কাজ গত ১৫ নভেম্বর শুরু করতে সম্মত হয়েছিলাম। কিন্তু তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গা সদস্যরা মিয়ানমারের আশ্বাসের প্রতি কোনভাবেই আস্থা রাখতে পারেনি এবং একটি পরিবারও মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে সম্মত হয়নি। তারা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে নাগরিকত্বের পূর্ণ নিশ্চয়তা, নিজভূমিতে অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান, সহিংসতা থেকে সুরক্ষা ও সহিংসতার বিচার করা এবং ন্যায় বিচার প্রাপ্তির পূর্ণ নিশ্চয়তা ব্যতীত মিয়ানমারে ফিরে যাবে না। অতএব রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির নিশ্চয়তা বিধানে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহকে অবশ্যই মিয়ানমারে বাধাহীন প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে”। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে শেখ হাসিনা সরকারের নীতিগত অবস্থানের কথা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আবারও মনে করিয়ে দেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ধরে রাখা বা জোর করে ফেরত পাঠানো এর কোনটিতেই একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের কোন স্বার্থ নেই। গত বছর সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে ওআইসির আহ্বানে উন্মুক্ত ভোটের মাধ্যমে একই বিষয়ে প্রস্তাব গৃহীত হয় যা পরবর্তীতে সাধারণ পরিষদের প্লেনারিতে পূনরায় পাস হয়। সেসময় তৃতীয় কমিটির এই প্রস্তাবে ১৩৫টি দেশ পক্ষে, ১০টি দেশ বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল এবং ভোট প্রদানে বিরত ছিল ২৬টি দেশ। গত বছর সাধারণ পরিষদ গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী মিয়ানমারে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়। পাশাপাশি জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের আওতায় মিয়ানমার সংক্রান্ত স্বাধীন ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন ২০১১ সাল থেকে মিয়ানমারের রাখাইন, কাচিন ও সান প্রদেশে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনাবলীর বিবিধ প্রমান ও তথ্য-উপাত্ত নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। স্বাধীন ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের চেয়ারপারসন মারজুকি দারুসমান এ প্রতিবেদনের ওপর সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জোরালো সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরেন। এবছরের এই প্রস্তাব মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধির নিয়োগ আরও এক বছরের জন্য বর্ধিত করাসহ তার কাজকে আরও বেগবান করার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়াও এতে রাখাইন প্রদেশে মিয়ানমার সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের জঘন্যতম কার্যকলাপের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার বিষয়টি জোরালোভাবে আনা হয়েছে।রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ হতে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের চেয়েও বেশী ভোটে এবারের প্রস্তাব পাস মিয়ানমারের বিপক্ষে বিশ্ব জনমতের অধিকতর জোরালো অবস্থানেরই সুস্পষ্ট প্রতিফলন। তৃতীয় কমিটিতে গৃহীত এই প্রস্তাব আগামী ডিসেম্বর মাসে সাধারণ পরিষদের প্লেনারিতে উপস্থাপিত হবে। এই প্রস্তাব মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে চলমান মিয়ানমার সঙ্কটের সুষ্ঠু ও স্থায়ী সমাধানে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
শ্রীলঙ্কায় ঘটে গেলো নজিরবিহীন ঘটনা পার্লামেন্টে এমপিরা কেড়ে নিলো স্পিকারের চেয়ার
অনলাইন ডেস্ক: নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে গেলো শ্রীলঙ্কায়। স্পিকার প্রধানমন্ত্রীর সামনেই পার্লামেন্ট ব্যাপক হট্টগোল প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার সামনেই তার ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্স (ইউপিএফএ) জোটের আইনপ্রণেতারা। প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতেই স্পিকারের চেয়ারে বসেন তারই দলের এমপিরা। শুধু তাই নয় বরখাস্ত প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের এমপিদের ওপর ছুড়ে মারে মরিচের গুঁড়া গোলা পানি। ছুড়ে মারেন পার্লামেন্টের চেয়ার-টেবিল, আর তাক ভাঙা বই। এতে মাথা ফেটে যায় কয়েকজন এমপির। পার্লামেন্টের জরুরি চিকিৎসা কেন্দ্রে তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়। শুক্রবার তৃতীয় দিনের অধিবেশনে এ দিন বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে অধিবেশন শুরু হয়। পার্লামেন্টে প্রবেশের সময় এমপিদের শরীর তল্লাশি করা হয়। কারণ আগের দিন বৃহস্পতিবার ছুরি নিয়ে প্রবেশ করেন বিক্রমাসিংহের ইউএনএফের দুই এমপি। এরপরই হট্টগোল শুরু করে সিরিসেনা ও রাজাপাকসের এমপিরা। আগের দিনও একইভাবে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন দুই প্রধানমন্ত্রীর এমপিরা। আগের দিনের মতো দফায় দফায় মারামারি ও ঘুষাঘুষিও হয়। আহত এক এমপিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। হট্টগোলে ২ ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয় অধিবেশন। ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ২টা ২০ মিনিট। ভরা পার্লামেন্টের পার্শ্ব দরজা দিয়ে প্রবেশ করেন স্পিকার জয়সুরিয়া। তাকে পাহারা দিয়ে প্রবেশ করেন ৩০ জন পুলিশ সদস্যও। হট্টগোলের মধ্যেই নিজের চেয়ারের দিকে এগিয়ে যান স্পিকার। কিন্তু ইতিমধ্যে স্পিকারের চেয়ার দখলে নেয় সিরিসেনা ও রাজাপাকসের দলের এমপিদের একটি দল। এমপিদের দলটি তখন স্পিকার ও পুলিশের দিকে লক্ষ্য করে চেয়ার-টেবিল, বইপত্র ও মরিচের গুঁড়া গোলা পানি নিক্ষেপ করেন। মুহুর্মুহু আক্রমণ সত্ত্বেও পাল্টা কোনো আক্রমণ করেনি পুলিশ। বরং মাথার ওপর বালিশ ধরে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা করেন তারা। এভাবে বেশ কিছুক্ষণ চলার পর স্পিকারের চেয়ারের পাশে অস্থায়ী একটি বেঞ্চে বসে অধিবেশন শুরু করেন স্পিকার।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বের অর্থ এই নয় যে,তার দেশ ওয়াশিংটনের খেলার পুতুলে পরিণত হয়েছে!
অনলাইন ডেস্ক: ফ্রান্স মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খেলার পুতুল নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বের অর্থ এই নয় যে, তার দেশ ওয়াশিংটনের খেলার পুতুলে পরিণত হয়েছে। আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল হওয়া ইউরোপের উচিত হবে না। ইউরোপের জন্য আলাদা বাহিনী গঠনের প্রস্তাবে ফ্রান্সকে একহাত নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার জবাবেই এমন মন্তব্য করেন ম্যাক্রোঁ। সম্প্রতি ইউরোপের জন্য আলাদা সেনাবাহিনী গঠনের প্রস্তাব দেন ম্যাক্রোঁ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীলতা বাদ দিয়ে ইউরোপের উচিত আত্মরক্ষার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে গ্রহণ করা। ম্যাক্রোর এমন প্রস্তাবের পর ক্ষুদ্ধ হয়ে ট্রাম্প বলেন, নিজ দেশে ফরাসি প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় তিনি ইউরোপের জন্য সেনাবাহিনী গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এছাড়া প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর কথিত অবদানের কথা স্মরণ করে ট্রাম্প ম্যাকরনকে বলেন, সে সময় মার্কিন বাহিনী এগিয়ে না এলে আপনাদেরকে আজ প্যারিসে বসে জার্মান ভাষা শিখতে হতো। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর ফ্রান্স সরকারের মুখপাত্র বেনিয়ামিন গ্রিভক্স তার দেশের প্রেসিডেন্টকে আক্রমণ করে ট্রাম্পের দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ফরাসি প্রেসিডেন্টের সমালোচনা না করে প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার বার্ষিকীকে ট্রাম্পের উচিত ছিল কিছুটা হলেও ভদ্রতা বজায় রাখা।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সিএনএন-এর মামলা
অনলাইন ডেস্ক :মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সে দেশের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ক্যাবল নিউজ নেটওয়ার্ক (সিএনএন)। গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কে জড়ানোর পর সিএনএন এর প্রধান হোয়াইট হাউজ সংবাদদাতা জিম অ্যাকোস্টার হোয়াইট হাউজে প্রবেশে মার্কিন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা এবং তার প্রেস পাস বাতিল করা হয়। এ ঘটনার জেরে মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে এ মামলা দায়ের করা হয় বলে জানিয়েছে সিএনএন ও ওয়াশিংটন পোস্ট। মামলার বাদী হয়েছে সিএনএন এবং অ্যাকোস্টা। আর বিবাদী করা হয়েছে ছয়জনকে। এরা হলেন- প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, চিফ অব স্টাফ জন এফ কেলি, প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স, হোয়াইট হাউজের যোগাযোগ বিষয়ক উপ-প্রধান বিল শাইন, গোয়েন্দা পরিচালক র‌্যানডলফ অ্যালেস ও অপর এক কর্মকর্তা যিনি অ্যাকোস্টার 'হার্ড পাস' জব্দ করে নিয়ে যান। সিএনএন এক বিবৃতিতে বলেছে, অ্যাকোস্টার প্রেস পাস ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার সকালে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প সিএনএন এবং সাংবাদিক অ্যাকোস্টার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছেন। গত ৭নভেম্বর সাংবাদিক অ্যাকোস্টার হোয়াইট হাউজে প্রবেশের প্রেস পাস বাতিল করে ট্রাম্প প্রশাসন। যা সিক্রেট সার্ভিস 'হার্ড পাস' নামে পরিচিত। ওই দিন এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নত্তোর পর্বে সীমান্তে শরণার্থীদের ঢল ঠেকানোর ইস্যু থেকে শুরু করে অভিবাসন বিরোধী বিজ্ঞাপন প্রচার এমনকি ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিয়েও ট্রাম্পকে নানা রকম প্রশ্ন করে যাচ্ছিলেন অ্যাকোস্টা। তার প্রশ্নবানে বিব্রত ট্রাম্প এক পর্যায়ে বলে ওঠেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে। এবার মাইক্রোফোন রাখুন।’ তার এ কথার পরই হোয়াইট হাউজের এক নারী কর্মী এগিয়ে এসে অ্যাকোস্টার হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অ্যাকোস্টা তাকে বাধা দেন। ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে সম্মেলনকক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান। তবে একটু পরই ফিরে এসে অ্যাকোস্টাকে ‘অত্যন্ত রূঢ়’ ও ‘ভয়ঙ্কর’ বলে মন্তব্য করেন। ওই নারী কর্মীর সঙ্গে অ্যাকোস্টার আচরণকেও ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। হোয়াইট হাউজ একজন সাংবাদিকের এ ধরনের কখনো সহ্য করবে না। আর এ কারণেই তার প্রেস পাস বাতিল করা হয়েছে বলে পরে জানান হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স। তবে অ্যাকোস্টাকে সমর্থন করে কথা বলেন অন্য আরেক সাংবাদিক। তিনি অ্যাকোস্টাকে ‘অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন প্রতিবেদক’ বলে মন্তব্য করেন। সিএনএন বলেছে, অ্যাকোস্টা চ্যালেঞ্জিং সব প্রশ্ন করার কারণেই তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। অ্যাকোস্টার পক্ষ সমর্থন করেছে হোয়াইট হাউজ করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনও। তারা বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে যা ঘটেছে তার জন্য অ্যাকোস্টার হোয়াইট হাউজে প্রবেশ নিষিদ্ধ করাকে বাড়াবাড়ি আখ্যা দিয়েছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সিএনএন এর মামলাকেও জোর সমর্থন দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন। সিএনএন এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব অ্যাকোস্টা যাতে সঠিক উপায়ে হোয়াইট হাউজে ফিরে আসতে পারেন, প্রাথমিকভাবে তারা সেই চেষ্টা করছেন। হোয়াইট হাউজ থেকে অ্যাকোস্টার কার্ড প্রত্যাহারের বিষয়ে আদালতের রায় চাওয়া হয়েছে।
২ কমান্ডারসহ ৬ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করল ইসরাইলি সেনারা
অনলাইন ডেস্ক: ইহুদিবাদী ইসরাইলি সেনারা অবরুদ্ধ গাজায় অনুপ্রবেশ করে ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের একজন শীর্ষস্থানীয় কমান্ডারকে হত্যা করেছে। একইসঙ্গে ইহুদিবাদী সেনাদের আগ্রাসী হামলায় হামাসের আরেকজন স্থানীয় কমান্ডারসহ আরো পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। হামাস রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়ছে, ইসরাইলি বিশেষ বাহিনীর একটি দল প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে একটি বেসামরিক গাড়িতে করে গাজা উপত্যকায় অনুপ্রবেশ করে। তারা চলন্ত গাড়ি থেকে গুলি চালিয়ে হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জাদ্দিন আল-কাস্সাম ব্রিগেডের সিনিয়র কমান্ডার নূর বারাকাকে হত্যা করে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের কাছে এই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ইসরাইল সীমান্ত থেকে গাজা উপত্যকার তিন কিলোমিটার ভেতরে এই হামলা হয় বলে হামাস জানিয়েছে। কমান্ডার নিহত হওয়ার পর হামাস যোদ্ধারা ঘাতক ইসরাইলি সেনা বহনকারী গাড়িটির ওপর হামলা চালালে দু পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় শুরু হয়। এ সময় আকাশে উড়ে আসে একটি ইহুদিবাদী জঙ্গিবিমান। ইসরাইলি বিশেষ সেনা বহনকারী গাড়িটিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার জন্য ওই বিমান থেকে অন্তত ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এই গুলি বিনিময় ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে হামাসের স্থানীয় কমান্ডার মোহাম্মাদ আল-কারা সহ আরো পাঁচজন নিহত হন।
ভারতের প্রতিরক্ষা তথ্য তছনছে চীনের গোপন ইউনিট
অনলাইন ডেস্ক: ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সাইবার হামলার লক্ষ্যবস্তু করতে পারে চীন। সম্ভাব্য এ সাইবার হামলার ব্যাপারে সতর্ক করেছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। গোয়েন্দা রিপোর্ট মতে, চীনের লক্ষ্য মোটেও অস্ত্রে ঘায়েল করা নয়। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর সাইবার হামলা চালিয়ে সব তথ্য তছনছ করে দিতে চায় দেশটি। এ লক্ষ্যে একটি গোপন সামরিক ইউনিট গড়ে তুলেছে চীনা সেনাবাহিনী পিপল’স লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। নাম দেয়া হয়েছে ‘ইউনিট ৬১৩৯৮’। সাইবার হামলার মাধ্যমে স্পর্শকাতর যেকোনো তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে দলটি। শনিবার এ খবর দিয়েছে রয়টার্স। গোয়েন্দাদের দাবি, বিশ্বব্যাপী বৃহৎ পরিসরে সাইবার যুদ্ধ শুরু করেছে চীন। এ যুদ্ধের অন্যতম প্রতিপক্ষ ভারত। পিএলএর ইউনিট ৬১৩৯৮ বর্তমানে ভূ-অবস্থানগত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিভিন্ন তথ্যসূত্র ট্র্যাকিং বা শনাক্তকরণ, উৎসগুলোতে ঢুকে পড়ে তথ্য চুরির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। ইউনিটটির সদর দফতর সাংহাইয়ে। চীনের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ ইউনিটে প্রস্তুত একদল হ্যাকারও। এর আগেও বিদেশি সংস্থায় হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে এই ইউনিটের বিরুদ্ধে। তাই আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না ভারত। বিভিন্ন ম্যালওয়্যারের সাহায্যে মূলত তথ্য চুরি করে এই ইউনিট। এরা চীনা সেনার স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সের অংশ। গেল অক্টোবরেই যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ আনে, জেট ইঞ্জিন ডেটা হ্যাক করেছেন চীনা গোয়েন্দা কর্মকর্তরা। ভারত সম্প্রতি দেশের মাটিতে বেশ কয়েকটি এয়ারক্রাফট তৈরি করেছে। সদ্য জলে নেমেছে নিউক্লিয়ার সাবমেরিন। তাই ভারতের সামরিক শক্তিতে চীনের নজর বাড়ছে বলে মনে করছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। সম্প্রতি চীনা সেনাবাহিনীর এই বিশেষ ইউনিট বিশ্বজুড়ে সাইবার-গুপ্তচরবৃত্তি চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠলে তা অস্বীকার করে চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে আমেরিকাভিত্তিক একটি কম্পিউটার নিরাপত্তা সংস্থা দাবি করেছিল তারা আন্তর্জাতিক একটি হ্যাকিং সিস্টেমের সঙ্গে সাংহাইয়ের একটি সামরিক ইউনিটের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে। কিন্তু চীন বলছে, এ অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। আর তা ছাড়া হ্যাকিং কাকে বলে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সেরকম কোনো সংজ্ঞাও নেই। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যে জবাব দেয়া হয়, তার প্রধান যুক্তি- সাইবার জগতে যারা হামলা চালায় তারা প্রায়শই তাদের নাম-পরিচয় গোপন রাখে। তারা বলছে, যে ইন্টারনেট ঠিকানা থেকে এসব হামলা চালানো হয়েছে তার সঙ্গে চীনের যোগাযোগটি মার্কিন কম্পিউটার কোম্পানি ম্যানডিয়েন্ট প্রমাণ করতে পারেনি। শীর্ষ নিউজ
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে নিহত ৫, এলাকা ছেড়েছে দেড় লাখ মানুষ
অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে ভয়াবহ দাবানলে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মৃতদেহগুলো একটি আগুনে পোড়া গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রাণে বাঁচাতে এলাকা ছেড়েছে অন্তত দেড় লাখ মানুষ। লস এঞ্জেলেসের দুটি বড় বনাঞ্চলের ১৪ হাজার একর অঞ্চল জুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। রাজ্যটির পশ্চিমাঞ্চলে মহাসড়ক পর্যন্ত দাবানলের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। খবর বিবিসির। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুরে (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা) দাবানল ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকল বাহিনী চেষ্টা চালিয়ে গেলেও শুষ্ক আবহাওয়া ও তীব্র বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। দাবানলে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি শহর পুরোপুরি পুড়ে গেছে। পুড়ে ছাই হয়ে গেছে প্রায় বিশ হাজার একর বনাঞ্চল। এরমধ্যে প্যারাডাইস শহরটি সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আশপাশের এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর।
ভারতকে অগ্রাহ্য করে চীন-কাশ্মীর বাস চালু
অনলাইন ডেস্ক: ভারতের তীব্র আপত্তি অগ্রাহ্য করেই পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) মধ্যে দিয়ে লাহোর-কাশগড় বাস পরিষেবা চালু করল পাকিস্তান। পিওকের গিলগিট, বাল্টিস্তান হয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে সময় লাগবে সময় লাগবে ৩০ ঘণ্টা। মঙ্গলবার বাস চালু হওয়ার পর কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও আগেই এ নিয়ে তীব্র আপত্তি করেছিল নয়াদিল্লি। ইসলামাদ ও বেইজিংয়ের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের অঙ্গ হিসেবেই এই বাস পরিষেবা চালু হল। চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে আপত্তি রয়েছে ভারতের। আন্তর্জাতিক স্তরে তার প্রতিবাদও জানিয়েছে নয়া দিল্লি। বাস চালুর বিষয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার বলেন, পিওকের মধ্যে দিয়ে যে কোনও বাস পরিষেবা চালুর অর্থ ভারতের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা। এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। জানা গেছে, পাকিস্তান ট্যুরিজম ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশনের সঙ্গে একটি বেসরকারি পরিবহণ সংস্থার চুক্তি অনুযায়ী সপ্তাহে চার দিন এই বাস চলবে। এক দিকের ভাড়া ১৩০০০ পাকিস্তানি রুপি। রিটার্ন টিকিট একসঙ্গে কিনলে লাগবে ২৩০০০। সঙ্গে নিতে হবে পাসপোর্ট-ভিসা।