রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০
সিঙ্গাপুরে আরও এক বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত
১২ফেব্রুয়ারী,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সিঙ্গাপুরে আরও একজন ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেখানে সবশেষ যে দুজন ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশিও রয়েছেন। এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি আরেকজন বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত হন। খবর চ্যানেল নিউজ এশিয়ার। সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সবশেষ নতুন করে ৩৯ বছর বয়সী আরেক বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। তিনি ১০ সেলেটার অ্যারোস্পেস হাইটসে কাজ করেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি আক্রান্ত হওয়া আরেক বাংলাদেশি কর্মীও এখানেই কাজ করতেন বলে জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, এই বাংলাদেশি সাম্প্রতিক সময়ে চীন যাননি, তবে গত ৬ ফেব্রুয়ারি তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরদিন একটি ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসা নেন। পরে ১০ ফেব্রুয়ারি ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইনফেকশাস ডিজিজেসে (এনসিআইডি) যান ওই বাংলাদেশি, যেখানে তার শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এদিকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে আক্রান্ত বাংলাদেশে কাজে যান এবং ভিরাস্বামী রোডে নিজের ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্টে রাতও কাটান। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মঙ্গলবার নতুন করোনাভাইরাসের আনুষ্ঠানিক নাম প্রস্তাব করেছে। এখন থেকে করোনাভাইরাসকে কোভিড-১৯ নামে ডাকা হবে। যার পুরো নাম হচ্ছে করোনাভাইরাস ডিজিস ২০১৯। উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত চীনে ১১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ৬৫৩ জনে।
করোনাভাইরাসে চীনে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়ালো
১১ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে চীনের হুবাই প্রদেশে মৃতের সংখ্যা সোমবার পর্যন্ত এক হাজার ছাড়িয়েছে। এ ভাইরাস সংক্রমণের পর সোমবার সর্বোচ্চ ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। হুবাই স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, সোমবার হুবাই প্রদেশে নতুন করে ২ হাজার ৯৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, রোববার এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৬১৮ জন। চীনে বর্তমানে ৪২ হাজার ২০০ জনের বেশি ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। এ অবস্থায় সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের একটি দক্ষ দল চীনে পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বেইজিংয়ে করোনভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। তিনি প্রাণঘাতী এ ভাইরাস মোকাবেলায় 'আরও সিদ্ধান্তমূলক ব্যবস্থা' গ্রহণের জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রথমবারের মতো উহানে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর চীনসহ ২৮টির বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। এতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এবং প্রাণহানি বাড়তে থাকায় বিশ্বব্যাপী জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এরপর এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশগুলো ব্যাপক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়। চীন থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ফলে কোনও কোনও দেশ চীনা নাগরিকদের নিজ দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মাত্র ৩৫ দিনেই চীনের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ রয়েছে এমন দেশের অর্থনীতিও ঝুঁকিতে পড়েছে। বাংলাদেশের জন্য এই ঝুঁকি অনেকের চেয়ে বেশি।
সব মুসলিম দেশই আমেরিকার টার্গেট: ইরাকের সুন্নি ওলামা পরিষদ
০৮ফেব্রুয়ারী,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরাইল মুসলিম দেশগুলোকে ধ্বংসের জন্য নানা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইরাকের সুন্নি ওলামা পরিষদের প্রধান শেইখ মুহাম্মাদ আল-মোল্লা। খবর ইরানি নিউজ সাইট পার্সটুডের। বসরায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সুলাইমানি ও ইরাকের পপুলার মোবালাইজেশন কমিটির উপপ্রধান আবু মাহদি আল মোহানদেসের শাহাদাতের চেহেলামকে সামনে রেখে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি একথা বলেন। শেইখ মুহাম্মাদ আল-মোল্লা আরও বলেন, আমেরিকা জোর করে ইরাকে প্রবেশ করেছে এবং এখনও অবস্থান করছে। তাদের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে ইরাককে ধ্বংস করা। তিনি বলেন, তার নেতৃত্বাধীন সংগঠন সন্ত্রাসবাদ এবং গোষ্ঠী-প্রীতি ও সাম্প্রদায়িকতার ঘোর বিরোধী। একইসঙ্গে তাদের অবস্থান হচ্ছে আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে। কারণ মার্কিনী ও ইসরাইলিরা মুসলমানদের ধ্বংস চায়। মুসলমানদের শত্রুদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন ইরাকের এই আলেম। গতকাল (শুক্রবার) ইরাকের বসরায় অনুষ্ঠিত ওই শোকানুষ্ঠানে দেশটির বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিত্বরা অংশগ্রহণ করেন।- আরটিভি অনলাইন
করোনাভাইরাসে মৃত্যু ২৫ হাজার
০৬ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশে গত ৩১ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। নতুন প্রকৃতির এই করোনোভাইরাসে আতঙ্কিত বিশ্ব। ইতোমধ্যে এই ভাইরাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। করোনাভাইরাসে আতঙ্কে কাঁপছে বিশ্ব। করোনাভাইরাসের কারণে অচল হয়ে পড়েছে চীন। চীনের সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৫৬৪ জনের মৃত্যু এবং আক্রান্তের সংখ্যা ২৮ হাজার ১৮ জন বলে দাবি করছে চীনের সরকার। তবে শুরু থেকেই চীনের গণমাধ্যমগুলো থেকে করোনাভাইরাসের মৃত্যুর সংখ্যা লুকানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃতের সঠিক সংখ্যা জানালে চীনজুড়ে আতঙ্ক বেশি ছড়িয়ে পড়বে এমন যুক্তিতেই সঠিক তথ্য জানাচ্ছে না চীনের সরকার। এমন অভিযোগের মধ্যে নতুন এক তথ্য দিল চীনা প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান টেনসেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবপেজে বলা হয়েছে, ৫৬৮ নয় করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ২৪ হাজার ৫৮৯ জনের। আর আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৩ জন। তাইওয়ান নিউজের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া। খবরে বলা হয়, গত শনিবার টেনসেন্টের ওয়েবপেজে মহামারি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শিরোনামে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, করোনাভাইরাসের মৃত্যুর সংখ্যা ২৪ হাজার ৫৮৯ জন। অথচ সরকারি তথ্যে হাজারের কাছাকাছিও নয়। এছাড়া ওই ওয়েবপেজে আক্রান্তের সংখ্যা বলা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৩ জন। যা সরকারি তথ্য আক্রান্তের সংখ্যার চেয়ে দশগুণ বেশি। তবে এমন তথ্য দেয়ার কিছুক্ষণ পরই তথ্য সংশোধন করে নেয় ওয়েবপেজ কর্তৃপক্ষ। এরপরই সরকারি হিসাবটি লিখে দেয়া হয় সেখানে। কিন্তু এরইমধ্যে ওয়েবপেজের আগের পরিসংখ্যানটির স্ক্রিনশট করে নিয়ে নেয় অনেকে। বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো ঝড় বইছে বিশ্বজুড়ে। উহান থেকে ছড়িয়ে যাওয়া নভেল করোনাভাইরাস বিষয়ে ওয়েবপেজের এই পরিসংখ্যান নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিষয়টি ভুল নাকি টেনসেন্টের তথ্য ফাঁস, এমন প্রশ্নই এখন চলছে নানা মহলে।
তুরস্কে বিমান ছিটকে পড়ে তিন খণ্ড, নিহত ৩, আহত দেড় শতাধিক
০৬ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সাবিহা গোকসেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়েছে একটি যাত্রীবাহী বিমান। এ ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন, গুরুতর আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক। প্যাগাসাস এয়ারলাইনসের বিমানটিতে ১৭১ জন যাত্রী ও ৬ জন ক্রু ছিলেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় সময় বুধবার বিমানটি তুরস্কের পশ্চিমে ইজমির শহর থেকে যাত্রা করে সাবিহা গোকসেন বিমানবন্দরে অবতরণ করছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে তিন টুকরা হয়ে যায়। তুরস্কের সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, বিমানে তুরস্কের নাগরিক ছাড়াও অন্তত ২০ জন বিদেশি নাগরিক ছিল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। ইতোমধ্যে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন বিমানের দুই পাইলট।
করোনা ভাইরাস: চীনজুড়ে উৎকণ্ঠা, মৃত বেড়ে ৪২৬
০৪ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গোটা চীনকে একঘরে করেছে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস। বিশ্ব থেকে প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ দেশটি। চীনের খাদ্য ও ভারি শিল্প নির্মাণ হয় করোনার উৎপত্তিস্থল হুবেই প্রদেশ থেকেই। ফলে, খুব শিগগিরই তাদের কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশটিতে উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে নতুন করে ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে ৩ হাজারেরও বেশি ব্যক্তির দেহে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে ফিলিপাইনের একজনসহ চীনে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৪২৬ জনে। এর মধ্যে হুবেই প্রদেশেই ৩৪৯ জন। অপরদিকে আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগের বরাত দিয়ে আজ মঙ্গলবার বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। প্রাণঘাতি এ ভাইরাসে চীনের বাইরে প্রথমবারের মত ফিলিপাইনে ৪৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গত রোববার মারা যাওয়ার পর দেশটিতে নতুন করে অন্তত দেড়শ ব্যক্তির শরীরে এ ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। এদিকে এ ভাইরাসের আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত গতিতে বাড়ার কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে চীন। দেশটির নাগরিকদের মাঝে বইছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। মরণঘাতি এ ভাইরাস ক্রমে বেড়ে চললে জাপান, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ তাদের আকাশ পথ সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করে দেয়। তাদের পর গত রোববার থেকে চীনের সঙ্গে সীমান্ত সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ। এবার এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সীমান্ত বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে ধর্মঘটে নেমেছে হংকংয়ের হাসপাতাল কর্মীরা। গতকাল সোমবার হংকংয়ের হসপিটাল অথরিটি এমপ্লয়িজ অ্যালায়েন্সের (এইচএইএ) শত শত সদস্য এ ধর্মঘটে নেমে পড়েন। নতুন এ ভাইরাস চীনের পাশাপাশি বিশ্বের অন্তত ২৫টি দেশে ঢুকে পড়েছে। চীনের বাহিরে সবচেয়ে বেশি সন্ধান মিলেছে ফিলিপাইনে (১৫০)। এরপরই থাইল্যান্ড ও হংকং। তবে এমন পরিস্থিতিতে মেডিকেল কর্মীদের ধর্মঘটে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নগরটির সরকার। তা সত্ত্বেও তাদের ১৮ হাজার সদস্যের মধ্যে দুই হাজার ৪০০ সদস্য ধর্মঘটে অংশ নিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে বলা হচ্ছে। এদিকে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে এক লাখ দুই হাজারের অধিক লোক এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন-এমন সন্দেহে তাদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে মহামারি করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা নিয়ে চীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে যে হিসাব দিয়েছে প্রকৃতপক্ষে ওই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালে মৃতের কোনো রেকর্ড না রেখেই তড়িঘড়ি করে মরদেহগুলো সৎকার করার কাজ করছে চীন। করোনভাইরাসের প্রভাব থেকে রেহাই পায়নি দেশটিতে বসবাসরত অন্যান্য দেশের নাগরিকরা। তবে তা আরও ব্যাপক আকারে যাতে না হয় সেজন্য জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ তাদের দেশের নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ ইতিমধ্যে তাদের অনেককে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে। সন্দেহভাজনদের হাসপাতালে ও আশঙ্কা এড়াতে অন্যান্যদের আলাদা স্থানে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চীনের বাহিরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি ফিলিপাইনে-১৫০ (মৃত-১)। এছাড়া থাইল্যান্ডে (১৯ জন), অস্ট্রেলিয়ায়-১০, কম্বোডিয়ায়-১, কানাডায়-৪, ফ্রান্স-৬, ফিনল্যান্ড-১, জার্মানি-৭, ভারত-১, ইতালি-২, জাপান-১৫, মালয়েশিয়া-৮, নেপাল-১, সিঙ্গাপুর-১৬, দক্ষিণ কোরিয়া-১২, শ্রীলঙ্কা-১, তাইওয়ান-১০, থাইল্যান্ড-১৪, যুক্তরাষ্ট্র-৭, সংযুক্ত আরব আমিরাত-৪, ও ভিয়েতনামে-৫ জনসহ শতকের বেশি মানুষের দেহে প্রাণঘাতি এ ভাইরাস শনাক্ত করেছে দেশগুলোর স্বাস্থ্য বিভাগ। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে চীনাদের জন্য। এদিকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, করেনাভাইরাস রোধে মাস্ক সংকটে পড়েছে চীন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় বিশ কোটি মাস্কের অর্ডার দিয়েছে দেশটি। অর্থনৈতিকভাবে ভয়াবহ সংকটে পড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে বেইজিংয়ের। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর উহানে এই ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যাওয়ার পর চীনের সীমানা পেরিয়ে এই ভাইরাস রাজধানী বেইজিং, সাংহাই, ম্যাকাও ও হংকংয়ের বাইরে বিশ্বের ২৫টি দেশে ছড়িয়েছে। তবে বিস্তার ঠেকাতে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ চীনগামী বিমানের ফ্লাইট বাতিল করছে। এর মধ্যে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স, এয়ার এশিয়া, ক্যাথে প্যাসিফিক, এয়ার ইন্ডিয়া ও ফিনএয়ার ইতোমধ্যে চীনগামী বিমানের সংখ্যা কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে। গত ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের আবির্ভাব ঘটে। প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশির মত সমস্যা দেখা দেয়।
করোনাভাইরাসে মৃত বেড়ে ৩৬১, খুলছে ১০০০ শয্যার হাসপাতাল
০৩ফেব্রুয়ারী,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬১ জনে। এর মধ্যে চীনের বাইরে প্রথমবারের মতো ফিলিপাইনের এক ব্যক্তি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। খবর আল-জাজিরার। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, রোববার নতুন করে ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন ছাড়া বাকি সব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে হুবেই প্রদেশে। এক মাসের বেশি সময় আগে হুবেই প্রদেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে প্রদেশটি এখন কার্যত অবরুদ্ধ। করোনাভাইরাসে চীনজুড়ে অন্তত ৩৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর আক্রান্ত হয়েছে আরও অন্তত ১৭ হাজার ২০৫ জন। এছাড়া নতুন করে দুই হাজার ৮২৯ জন সংক্রমণের শিকার হয়েছে। দ্রুত ছড়াতে থাকায় এবং মৃত্যুর হার বাড়তে থাকায় বিভিন্ন দেশ উহান ও হুবেই থেকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিচ্ছে। তবে অনেক দেশ আবার চীনে যাওয়া ও চীন থেকে আসার ব্যাপারে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। উহান থেকে নিয়ে আসা এসব ব্যক্তিদের অনেককেই ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে এবং সংক্রমণের কোনও লক্ষণ আছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চীন ছাড়াও আরও অন্তত ২২টি দেশে প্রায় ১৫০ লোক কারোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে মাত্র আট দিনে ১০০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল নির্মাণ করেছে চীন। ১৫০০ শয্যার আরেকটি হাসপাতাল নির্মাণাধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
করোনা আতঙ্ক: বিদেশে মাস্ক রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করলো ভারত
০২ফেব্রুয়ারী,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে চীনে মিলছে না মাস্ক। বাতাবি লেবুর খোসা, জলের বোতল, স্যানিটারি প্যাড আর অন্তর্বাসকে মাস্ক বানিয়ে মুখে বাঁধছেন চীনের মানুষ। এই পরিস্থিতি যাতে ভারতে না সৃষ্টি হয়, তাই আগে থেকেই ব্যবস্থা নিল দেশটির প্রশাসন। দেশটির ডিরেক্টর জেনারেল অব ফরেন ট্রেডের পক্ষ থেকে জারি করা এক নির্দেশনা বলা হয়েছে, এখন থেকে শুধু রেসপিরেটরি মাস্ক ই নয়, বায়ুবাহিত ধূলিকণা ঠেকাতে যেসব ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি হয়, তার কোনোটাই দেশের বাইরে রফতানি করা যাবে না। এমনকি পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির পরীক্ষাগার ছাড়াও আলেপ্পে, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও মুম্বাইয়ের ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চের চারটি পরীক্ষাগারে চিকিৎসার জন্য নমুনা পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, চীনের উহান শহরে আটকে পড়া ৩২৪ ভারতীয়কে দেশে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। দেশে ফেরা ওই ভারতীয়দের আপাতত করেনটাইন করে রাখা হবে। অর্থাৎ আগামী ১৪ দিন দিল্লির কাছে মানেসরের বিশেষ আইসোলেশন ক্যাম্পে চিকিৎসকদের নজরদারিতে থাকবেন তারা। এর মধ্যে তাদের দেহে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ না মিললে তবেই বাড়ি ফিরতে পারবেন। তবে বাড়ি ফেরার পরও তাদের ওপর জেলাস্তরে নজরদারি চালানো হবে।
ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ঢুকল মিয়ানমারও
০১ফেব্রুয়ারী,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নিরাপত্তা ইস্যুতে মিয়ানমারসহ আরও ৬টি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এটি মুসলিম এবং অন্য জাতির জন্য বৈষম্যের বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। খবর আল জাজিরার। প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, নতুন করে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে ইরিত্রিয়া, কিরগিজস্তান, নাইজেরিয়া এবং মিয়ানমারের নাগরিক যারা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন তাদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সুদান এবং তানজানিয়াকেও আর ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি লটারি দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। তবে নিষেধাজ্ঞা দেয়া দেশগুলোর নাগরিকরা অভিবাসী ভিসা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে পারবেন। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান চ্যাড উলফ জানায়, নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া ৬টি দেশ মার্কিন নিরাপত্তা এবং তথ্য প্রদান সংক্রান্ত নিয়মাবলি মেনে চলতে পারেনি। তিনি, এই দেশগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাহায্য করতে চেয়েছে। তবে বিভিন্ন কারণে তারা আমাদের বেঁধে দেয়ার সর্বনিম্ন প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর আগে ছয় মুসলিম দেশ- ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের ওপর ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে ট্রাম্প প্রশাসন। উত্তর কোরিয়ার নাগরিক আর ভেনিজুয়েলার সরকারি কর্মকর্তারাও রয়েছেন নিষেধাজ্ঞার আওতায়।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর