সময় পেয়েও করোনা ঠেকাতে ব্যর্থ বিশ্বনেতারা
০২মে,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসের মহামারি ঠেকানোর জন্য চীন ছাড়া বাকি বিশ্ব পর্যাপ্ত সময় পেয়েছিল বলে দাবি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি আরো দাবি করছে, তারা করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে সময় নষ্ট করেনি। শুক্রবার (১ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রধান টেড্রোস আডানোম গেব্রিয়াসিস এ দাবি করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে করোনা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার কারণ হিসেবে বিশ্বনেতাদের পরোক্ষে ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন টেড্রোস। তিনি মনে করিয়ে দেন, চীন ছাড়া বাকি বিশ্বের ক্ষেত্রে করোনা মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত সময় হাতে ছিল। ৩০ জানুয়ারি যখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাকে মহামারি ঘোষণা করে তখন চীনের বাইরে মাত্র ৮২ জনের করোনা শনাক্ত হয় এবং এদের কেউ মারা যাননি।
সারাবিশ্বে এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৫৯২ জনের
০২মে,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘন্টায় বিশ্বে মারা গেছে আরও ৫ হাজার ৬২৪ জন। মোট আক্রান্ত ৩৪ লাখেরও বেশি মানুষ। এরমধ্যে ৫১ হাজারের বেশি মানুষের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সারাবিশ্বে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৫৯২ জনের। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৯৪ হাজার ৫৫২ জন। তবে, এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০ লাখ ৮১ হাজার ৫৯৯ জন। বর্তমানে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২০ লাখ ৭৮ হাজার ৯২৫ জন। বিশ্বের আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে। গেল ২৪ ঘন্টায় যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেছে ১ হাজার ৮৯৭ জন। যা নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা সাড়ে ৬৫ হাজার ছাড়ালো। করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১১ লাখ ৩১ হাজার ৩০ জন । তবে, সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৩ জন। আক্রান্তের দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ইউরোপের দেশ স্পেন। দেশটিতে গত একদিনে ২৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মোট মৃত্যু সাড়ে ২৪ হাজার ছাড়ালো। দেশটিতে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৮ জন। ইউরোপের অরেক দেশ ইতালিতে একদিনে নতুন করে আরও ২৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মোট মৃত্যু ২৮ হাজারে ছাড়িয়েছে। মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৭ হাজার ৪২৮ জন। এদিকে, ফ্রান্সে গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছে আরও ২১৮ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা সাড়ে ২৪ হাজার ছাড়ালো। মোট আক্রান্ত ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৬ জন। তবে সুস্থ হয়ে ফিরেছে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ। অপরদিকে, যুক্তরাজ্যে করোনায় মৃতের সংখ্যা সাড়ে ২৭ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃতের দিক দিয়ে দেশটির অবস্থান তৃতীয়। গত ২৪ ঘন্টায় সেখানে আরও ৭৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৭৭ হাজার ছাড়িয়েছে। ইউরোপ আর যুক্তরাষ্ট্রের পর রাশিয়া ও ব্রাজিলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে আশঙ্কাজনকহারে। একদিনে ব্রাজিলে ৫০৯ জন মারা গেছে। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৯২ হাজার ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ১৪ হাজার ছাড়িয়েছে। এছাড়া, গত ২৪ ঘন্টায় ইরানে ৬৩, বেলজিয়ামে ১০৯, জার্মানিতে ১১৩ জন, নেদারল্যান্ডসে ৯৮, কানাডায় ২০৭ এবং ভারতে ৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে।
অবশেষে জনসমক্ষে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন
০২মে,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নানা জল্পনা, গুজব, কানকথার পর অবশেষে জনসমক্ষে এসেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন। রাষ্ট্রীয় মিডিয়া বলেছে, প্রায় তিন সপ্তাহ পর তিনি একটি সার কারখানায় প্রতিযোগিতায় উপস্থিত হয়েছিলেন। আজ শনিবার খুব সকালে রাষ্ট্রীয় মিডিয়া কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) রিপোর্ট করেছে, রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছে সানচেওন-এ একটি সার কারখানায় একটি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন তিনি। এ সময় তার পাশে ছিলেন বহুল আলোচিত তার ছোটবোন কিম ইয়ো জং। কেসিএনএ বলেছে, শুক্রবারের ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে কিম জং উন ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এ সময় সেখানে যারা উপস্থিত ছিলেন তারা বজ্রনিনাদে হুররে ধ্বনিতে ফেটে পড়েন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এতে বলা হয়, কিম জং উনের ওই সময়কার বেশ কিছু ছবি প্রকাশ পেয়েছে। তাতে তাকে হাস্যোজল দেখা যাচ্ছে। সহযোগীসহ ওই প্লান্ট সফরে গিয়েছিলেন তিনি। তাদের সঙ্গে তাকে এ সময় কথা বলতে দেখা যায়। সরকারি পত্রিকা রোডং সিনমুন-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এসব ছবির যথার্থতা যাচাই করা যায় নি বলে জানাচ্ছে আল জাজিরা। কেসিএনএর রিপোর্ট সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এখনও আমি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করবো না। গত ১৫ই এপ্রিল ছিল উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও কিম জং উনের দাদা কিম ইল সাং-এর জন্মদিন। এদিন রাষ্ট্রীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় ছুটি হিসেবে পালন করা হয়। আয়োজন করা হয় বড় অনুষ্ঠান। তাতে ক্ষমতাসীন নেতার উপস্থিতি একরকম বাধ্যতামূলক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। কিন্তু ২০১১ সালে দেশের ক্ষমতায় আসার পর এবারই প্রথম ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন নি কিম জং উন। কেন তিনি যোগ দেন নি সে বিষয়ে রাষ্ট্রীয় কোনো পর্যায় থেকে, কোনো সূত্র থেকে কিছুই বলা হয় নি। তারপর থেকে প্রকাশ্যে তাকে আর দেখা যায় নি। ফলে স্বাভাবিক কারণেই তিনি কোথায়, বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন- তা নিয়ে তীব্র কৌতুহল সারা বিশ্বে। এরই মধ্যে অনির্ভরশীল সূত্রগুলো প্রকাশ করে যে, তিনি মারা গেছেন। কেউ কেউ বলেন, তার হার্টের অপারেশন করা হয়েছে। এরপর তার অবস্থার অবনতি হয়েছে। তাকে চিকিৎসার জন্য প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে চীন। এ নিয়ে এখনও পর্যন্ত দৃশ্যত এক অন্ধকারের মধ্যে আছেন বিশ^বাসী। কিন্তু কেসিএনএর আজকের ওই রিপোর্ট বাদে আর কোনো তথ্যই প্রকাশ করা হয় নি। এরই মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি পর্যায় থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, কিম জং উন জীবিত আছেন এবং ভাল আছেন। ওদিকে স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবিতে কিমের ব্যবহৃত একটি স্পেশাল ট্রেন এবং একটি বোটের উপস্থিতি ধরা পড়ে। তাতে ধারণা করা হয়, তিনি অবকাশ যাপনের শহর ওনসানে অবস্থান করছেন। কিন্তু এটা শুধু ধারণাই। এর পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।
ভারতজুড়ে ফের বাড়ল লকডাউনের মেয়াদ
০১মে,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতজুড়ে ফের বাড়ল লকডাউনের মেয়াদ। পূর্বঘোষিত লকডাউনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামী ৩ মে। তৃতীয় দফায় আরও ১৪ দিনের জন্য লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করল দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের পরিস্থিতি এখন যে রকম, তার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই চোদ্দ দিনে কোন কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের কার্যকলাপ চলবে অথবা চলবে না, তা নিয়েও সরকার এ দিন নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। গ্রিন জোন এবং অরেঞ্জ জোনে অনেক বিধিনিষেধই শিথিল করার পথে হাঁটছে ভারত। খবর আনন্দবাজারের আজ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৈঠক করেন অমিত শাহ সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের সঙ্গে। সেই বৈঠকেই করোনা পরিস্থিতি এবং লকডাউনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পর্যালোচনা হয়। তার পরে সন্ধ্যা নাগাদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তরফে প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হয়। সরকারের দেওয়া নতুন সিদ্ধান্তগুলি হলো- যে সব জেলায় কেউ সংক্রামিত হননি অথবা গত ২১ দিনে কারও টেস্টিং রিপোর্ট পজিটিভ হয়নি, সেই সব জেলাকে গ্রিন জোন ধরা হবে। কোন কোন জেলাকে রেড জোন হিসেবে ধরা হবে, তা নির্ধারণ করা হবে ওই জেলায় চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার সময়সীমা, টেস্টিংয়ের পরিমাণ এবং নজরদারি থেকে আসা রিপোর্টের ভিত্তিতে। এছাড়া যে জেলাগুলি গ্রিন বা রেড জোনের মধ্যে পড়ছে না, সেগুলিকে অরেঞ্জ জোন ধরা হবে। গ্রিন, রেড এবং অরেঞ্জ জোনে কোন কোন জেলাকে রাখা হচ্ছে, তা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতি সপ্তাহে রাজ্য এবং কেন্দ্রীশাসিত অঞ্চলগুলিকে জানিয়ে দেবে। রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি চাইলে রেড বা অরেঞ্জ জোনের তালিকায় জেলার সংখ্যা বাড়াতে পারবে। কিন্তু কেন্দ্রের দেওয়া রেড বা অরেঞ্জ জোনের তালিকা তারা ছাঁটতে পারবে না।
মৃত্যু নয়, এবার করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার রেকর্ড গড়ল ইতালি
০১মে,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ধ্বংসযজ্ঞে ইতোমধ্যে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি। এখন পর্যন্ত (শুক্রবার দুপুর ১টা) দেশটিতে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৯৬৭ জনের। আর আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ৪৬৩ জন। চীন থেকে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস ছড়ানোর পরপরই যে দেশটি সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ে পড়েছিল, সেটি হচ্ছে ইতালি। তবে দেশটিতে পরিস্থিতি দিন দিন ভালো হচ্ছে। প্রতিদিন সুস্থতা হওয়া মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে নতুন রেকর্ড গড়ে। দেশটিতে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৭৫ হাজার ৯৪৫ জন। এরমধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৬৯৩ জন। যা দেশটিতে এখন পর্যন্ত একদিনের ব্যবধানে সর্বোচ্চ; রেকর্ড। বৃহস্পতিবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একদিনে নতুন রেকর্ড ৪ হাজার ৬৯৩ জন মানুষ সুস্থ হওয়ার কথা জানায়। নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশটির নাগরিক সুরক্ষা সংস্থার প্রধান অ্যাঞ্জেলো বোরেল্লি এ তথ্য দেন। সূত্র: সিনহুয়া
করোনায় ভারতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু
৩০এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,অংশু মন্ডল,ভারত প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতে করোনা ভাইরাসে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যু সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে দেশটিতে। একদিনেই মারা গেছেন ৭৪ জন করোনা রোগী। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৭৩৮ জন। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩ হাজার ছাড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এসব তথ্য জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, সব রাজ্য মিলিয়ে এ পর্যন্ত ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩ হাজার ৬২ জন। মোট মৃতের সংখ্যা এক হাজার ৭৯ জন। সুস্থ হয়েছেন ৮ হাজার ৪৩৭ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৩ হাজার ৫৪৬ জন। বুধবার এক হাজার ৮৭৩ জন নতুন আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৬৯ জন। তার আগের দিন একদিনে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল এক হাজার ৫৬১ এবং মারা যান ৫৮ জন। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত মৃত্যু সংখ্যা আগের সব দিনের রেকর্ড ভেঙেছে। আক্রান্ত ও মৃত্যু দুটোতে শীর্ষে অবস্থান করছে মহারাষ্ট্র। এর পর গুজরাট। মহারাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছুঁই ছুঁই করছে। মৃত্যুও সবার চেয়ে বেশি এই রাজ্যে। ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। গুজরাটে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার। মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ জন। এই ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে ভারতে চলছে টানা লকডাউন। আগামী ৩ মে পর্যন্ত এই লকডাউন জারি রয়েছে। এর পরবর্তীতে এই লকডাউন নিয়ে ভারত সরকার কী সিদ্ধান্ত নেবে সেদিকেই এখন সবার নজর রয়েছে। বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নতুন নির্দেশিকা দেওয়া হবে যার ফলে দেশের অনেক রাজ্যেরই নানা জেলায় বিধিনিষেধে যথেষ্ট শিথিলতা দেওয়া হবে, তবে নতুন এই নিয়মটি ৪ মে থেকে কার্যকর করা হবে।
করোনায় বিশ্বব্যাপী ১৬০ কোটি মানুষ জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে: আইএলও
২৯এপ্রিল,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বা আইএলও মনে করে, করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে অব্যাহতভাবে কর্মঘণ্টা কমে যাওয়ায় প্রায় ১৬০ কোটি মানুষ জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে আছে, যা মোট কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক। আজ বুধবার আইএলও করোনা নিয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ নিয়ে তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশ করেছে। তাতে এ মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের প্রথম প্রান্তিকে যে পরিমাণ কর্মঘণ্টা কমেছে, তা আগে যা ধারণা করা হচ্ছিল তার চেয়েও অনেক বেশি। গত বছরের শেষ প্রান্তিকের (প্রাক-সংক্রমণের সময়) চেয়ে সাড়ে ১০ শতাংশ অবনতি আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা প্রায় সাড়ে ৩০ কোটি পূর্ণকালীন কর্মসংস্থানের (সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা কাজ ধরে) সমান। পূর্ববর্তী অনুমান ছিল ৭ দশমিক ৭ শতাংশ কমার অর্থাৎ সাড়ে ১৯ কোটি পূর্ণকালীন কর্মীর সমতুল্য। বর্তমানে পরিস্থিতি সব বড় আঞ্চলিক গোষ্ঠীর জন্য আরো খারাপ হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র এই বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১২ দশমিক ৪ শতাংশ কর্মঘণ্টা হারাবে। ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া হারাবে ১১ দশমিক ৮ শতাংশ কর্মঘণ্টা। মহামারির কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের ফলে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির প্রায় ১৬০ কোটি শ্রমিকের জীবিকা নির্বাহ ঝুঁকিতে পড়বে। মূলত করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দেশে দেশে নেয়া লকডাউন পদক্ষেপের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এই সংকটের প্রথম মাসে বিশ্বব্যাপী অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকের আয় কমেছে ৬০ শতাংশ, যা আফ্রিকার দেশের ক্ষেত্রে ৮১ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় ৭০ শতাংশ। আইএলওর বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পটিআইনেন বলেন, জনসংখ্যার বিভিন্ন অংশ যেমন নারী, যুবক, বয়স্ক শ্রমিক, অভিবাসী ও চাকরিজীবী ব্যক্তিরা কোভিড-১৯ মহামারির কারণে আলাদাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তরুণ জনগোষ্ঠী এমনিতে উচ্চ বেকারত্বের হারে রয়েছে, তারা জীবিকা হারাতে বসেছেন। বয়স্ক কর্মীরা কর্মঘণ্টা কমে যাওয়ায় বেকারত্বের ঝুঁকিতে আছেন। নারীরা সামাজিক সুরক্ষার অভাবে রয়েছেন। স্ব-কর্মসংস্থানের কর্মীরা প্রচলিত সামাজিক সুরক্ষা প্রক্রিয়া দ্বারা সুরক্ষিত নন। বিকল্প আয়ের উৎস ব্যতীত এই শ্রমিক এবং তাদের পরিবারগুলোর টেকার কোনো উপায় থাকবে না বলে মনে করে আইএলও। এ অবস্থায় কর্মীকে সহায়তা দেয়ার জন্য জরুরি, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অনুযায়ী এবং নমনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আইএলও।
শিগগিরই মসজিদে আল-হারাম ও নববি খুলে দেয়া হবে
২৯এপ্রিল,বুধবার,গাজী মেজবাউল,সৌদি আরব প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: মসজিদে আল-হারাম ও মসজিদে নববীর দরজা আল্লাহর মেহমানদের জন্য অতি শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুই মসজিদের প্রধান শেখ আবদুল রহমান আল-সুইদাসি। গতকাল মঙ্গলবার মক্কায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল-সউদ সরকারি ফরমান মাধ্যমে বলেছিলেন আল্লাহইচ্ছা করলে এই দিন শেষ হয়ে যাবে মেঘ সরে গিয়ে আলোর মুখ দেখব। সেইদিন আর বেশি দূরে নয় আমরা আবার আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (স:) খেদমতে নিজেদের নিযুক্ত করব এবং সমস্ত বিশ্বের মুসলমানদের জন্য আল্লাহর রহমতে প্রার্থনা করব। আল-সুইদাসি আরও বলেন, সৌদি সরকার এই দেশের নাগরিক ও এই দেশে বসবাসরত সকল মুকিমের জন্য একটি সুস্বাস্থ্যকর ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আল্লাহ চাইলে, অতি তাড়াতাড়ি এই মহামারী থেকে ফিরে আসবে এই রাষ্ট্র সহ সমগ্র বিশ্ব। ততক্ষণে এই দেশের সরকারের সতর্কতামূলক ব্যবস্থাগুলির মধ্যে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে এবং তাড়াহুড়ো না করে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্বজুড়ে করোনায় ২ লাখ ১১ হাজার ৬০৩ জনের মৃত্যু
২৮এপ্রিল,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ৬৪ হাজার ৮১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাস মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত ২ লাখ ১১ হাজার ৬০৩ জন মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়ার্ল্ডোমিটারে এ সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯ লাখ ২২ হাজার ৩৮৯ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১৯ লাখ ৩০ হাজার ৮২২ জন। এদের মধ্যে ১৮ লাখ ৭৪ হাজার ৫২২ জনের শরীরে মৃদু সংক্রমণ থাকলেও ৫৬ হাজার ৩০০ জনের অবস্থা গুরুতর। ভাইরাসটির আক্রমণে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৫৬ হাজার ৮০৩ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ১০ লাখ ১০ হাজার ৫০৭ জন। মৃতের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের পরে অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি। দেশটিতে এ পর্যন্ত ২৬ হাজার ৯৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ২৯ হাজার ৪২২ জন। ইতালির পরের অবস্থানেই রয়েছে স্পেন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ৫২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে অবশ্য ২য় অবস্থানে রয়েছে এ দেশটি। এখানে ২ লাখ ২৯ হাজার ৪২২ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যুর তালিকার চার নম্বরে রয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ২৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪৪২ জন। ফ্রান্সের পরের অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২১ হাজার ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৪৯ জন। এদিকে জার্মানিতে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫৮ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ১২৬ জনের। ভাইরাসটি প্রথম শনাক্ত হয় চীনে। সেখানে এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮২ হাজার ৮৩৬ জন এবং মারা গেছেন ৪ হাজার ৬৩৩ জন। এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ইরানে। এখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৯১ হাজার ৪৭২ জন। মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৮০৬ জনের। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৯১৩ জনের শরীরে। এদের মধ্যে মারা গেছেন ১৫২ জন এবং সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১৩১ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৫ হাজার ৬৩০ জন। ডিসেম্বরে চীনে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেলেও বাংলাদেশে ভাইরাসটি শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। ওইদিন তিন জন করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্তকৃত রোগীর সংখ্যা অনেকটাই সমান্তরাল ছিল। কিন্তু এরপর থেকে হুট করেই বাড়তে থাকে রোগীর সংখ্যা। তবে ভাইরাসটি যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য মার্চেই ব্যবস্থা নেয় সরকার। বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। পঞ্চম দফায় বাড়িয়ে সেই ছুটি করা হয়েছে আগামী ৫ মে পর্যন্ত। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের পদক্ষেপ অনেকটা এ রকমই। তবে এর মাঝেও কিছু কিছু দেশ তাদের দেয়া লকডাউন কিছুটা শিথিল করছে। স্পেন, জার্মানি ও ভারত সেই পথে হেঁটেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালিও তেমনটাই ভাবছে।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর