মঙ্গলবার, মার্চ ৯, ২০২১
কানাডার ইতিহাসে প্রথম নারী অর্থমন্ত্রী
১৯,আগস্ট,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রথমবারের মতো নারী অর্থমন্ত্রী পেল কানাডা। নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডকে নিয়োগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। এর মধ্য দিয়ে তিনি দেশটির অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা বিল মোর্নিয়াওর স্থলাভিষিক্ত হলেন। খবর এএফপি গত সোমবার করোনা মহামারির সময়ে অর্থনীতি সুরক্ষায় সরকারি ব্যয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে বিরোধের জেরে পদত্যাগের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী বিল মোর্নিয়াও। তারপরই ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডকে অর্থমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিলেন ট্রুডো। রাজধানী অটোয়াতে স্বল্প পরিসরের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান শেষে নতুন অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডকে সবাই দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান। অবশ্য শপথ অনুষ্ঠানে সবাইকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং মাস্ক পরাসহ করোনাভাইরাস নির্দেশিকা মানতে হয়েছে। করোনার কারণে নতুন প্রধানমন্ত্রী ৫২ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়া প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর সঙ্গে হাত না মিলিয়ে কনুই মেলান। নারী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া প্রসঙ্গে ট্রুডো বলেন, আমরা কাচের দেয়ালটা ভেঙেছি। সাবেক সাংবাদিক ক্রিস্টিয়া কানাডার সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্বপালন করেছেন লিবারেল পার্টি অব কানাডার এই রাজনীতিক। পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনের পর অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন বিল মোর্নিয়াও। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, একটি দাতব্য সংস্থার কার্যক্রম দেখতে পরিবার নিয়ে অনেক দেশ সফর করলেও কোনো খরচ তিনি পরিশোধ করেননি। এছাড়া, করোনাকালে বিধ্বস্ত কানাডার অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে মোর্নিয়াও এবং ট্রুডো মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো ফিলিপাইন
১৮,আগস্ট,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো ফিলিপাইন। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.৬। স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার সকাল ৫টা ৩৩ নাগাদ ভূমিকম্প আঘাত হানে দেশটির রাজধানী ম্যানিলায়। ফিলিপাইনের ভূ-তাত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে আফটার শকের ঝুঁকি রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় কিছু বাড়ি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা থেকে ৪৫১ কিমি দক্ষিণ পূর্বে ছিল এই কম্পনের কেন্দ্রস্থল। ভূ-পৃষ্ঠের ১০ কিমি গভীরে আঘাত হানে এই ভূমিকম্প। উল্লেখ্য, এই আগস্ট মাসের ১ তারিখে ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল ফিলিপাইনে। আর এ নিয়ে একই মাসেই দেশটিতে দুবার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলো। অন্যদিকে চলতি মাসেই ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প হয় নর্থ ক্যারোলিনায়। ১০০ বছরে নর্থ ক্যারোলিনায় সবথেকে বড় ভূমিকম্প ছিল এটাই। রিখটার স্কেলের কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.১। ১৯১৬ সালের পর প্রথমবার এত বড় ভূমিকম্প হল এই অঞ্চলে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ভারসাম্য রক্ষায় জোর দেন বিজ্ঞানীরা। তারপরেও দেখা যায় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মানুষ। তাই কয়েকদিন আগেই টেক জায়েন্ট গুগলের জানিয়েছে আশার বাণী। আগে থেকেই নাকি আঁচ করা সম্ভব হবে সুনামী বা ভূমিকম্পের। নিজস্ব পরীক্ষার পর এই সিদ্ধান্তে আসে গুগল। ফাইবার অপটিক কেবলের সাহায্যে পরীক্ষার পরেই আশার বাণি শুনিয়েছে তারা। তবে ওই পরীক্ষায় কেবলমাত্র ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে সংগঠিত কোনও ভূমিকম্পের খবর আগাম জানা যাবে। ইতিমধ্যে গুগল পরীক্ষা শুরু করেছে যাতে কয়েক হাজার কিলোমিটার এলাকা জুড়েও এই সুবিধা পাওয়া সম্ভব হয়।
মাস্ক বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল স্পেনের রাজধানী
১৭আগস্ট,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছে স্পেনের সরকার। কিন্তু সরকারের এমন সিদ্ধান্তে নাখোশ দেশটির কিছু মানুষ রীতিমত আন্দোলনে নেমে পড়েছেন। বিবিসির সংবাদে এমনটাই জানানো হয়েছে। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত প্লাসা কোলোনে রোববার (১৬ আগস্ট) হাজারো মানুষ মাস্ক বিরোধী বিক্ষোভে জড়ো হন। মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতার বিরুদ্ধে তাদের থেমে থেমে নানান স্লোগান দিতে দেখা গেছে। অনেকের হাতে ছিল মাস্ক ও অন্যান্য বিধিনিষেধ বিরোধী প্ল্যাকার্ড। গত মে মাসেই স্পেনের মাদ্রিদে গণপরিবহনে ভ্রমণকালে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। পরে পুরো দেশেই এই নিয়ম চালু করা হয়। দু’দিন আগে সেই নিয়মের পাশাপাশি আরও কিছু নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসে, যার মধ্যে প্রকাশ্যে ধূমপান নিষিদ্ধ করা একটি। গত জুনে তিন মাসের লকডাউন তুলে নেওয়ার পর থেকে স্পেনে ফের করোনা শনাক্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশটির ২৮ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক জায়গায় মাস্ক বিরোধী বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। অনেককে প্রকাশ্যে জনসভা এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মাস্কের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতেও দেখা গেছে। এমনকি মাস্ক না পরার জন্য ভুয়া ছাড়পত্রও বাজারে বিক্রি শুরু হয়ে গিয়েছিল। মাস্ক পরা নিয়ে অনেক গুজব ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, মাস্ক পরার কারণে রক্তচাপ বেড়ে যায়, ফুসফুসে অক্সিজেনের চলাচল কমে যায়, কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। কিন্তু বাস্তবে এসব দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়া যায় এমন জিনিস দিয়ে তৈরি ফেস মাস্ক যদি ঠিকমত পরা হয় তা শরীরের জন্য কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না। আমেরিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র সিডিসি করোনার বিস্তার ঠেকাতে পরামর্শ দিয়েছে মুখ ঢাকার জন্য যে কোনো কাপড় ব্যবহারের। ফলে মাস্ক বিরোধী এই আন্দোলন আদতে করোনা সংক্রমণ বিস্তারে ভূমিকা রাখছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
যুক্তরাষ্ট্র শীঘ্রই ঘাতক রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে পাঠাবে: রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিন
১৬আগস্ট,রবিবার,যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচিতে ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত খুনীরা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশের মাটিতে লুকিয়ে আছে। আমরা আশ্বস্ত হয়েছি যে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধুর খুনীকে শীঘ্রই বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে। রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে স্বাধীনতার চেতনা এবং উদ্দেশ্য স্বাধীন গণতান্ত্রিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। হত্যাকারীরা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সাথে হাত মিলিয়ে জেনারেল জিয়ার নেতৃত্বে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল, গণতন্ত্রকে হত্যা এবং হত্যা, সামরিক অভ্যুত্থান, ষড়যন্ত্রের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করে। রাষ্ট্রদূত বলেন, জেনারেল জিয়া সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত এবং কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ প্রণয়ন করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ বন্ধ করে এবং খুনীদের বাংলাদেশের বিদেশি মিশনে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করে। দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীবৃন্দ কালোব্যাজ পরিধান করে ১৫ আগস্টে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন এবং তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে দূতাবাস প্রাঙ্গণে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর আবক্ষমূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং মহান নেতার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করা হয়।
ইসরাইলের সঙ্গে চুক্তি ইরান বিরোধী নয়: আমিরাত
১৬আগস্ট,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইসরাইলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই ইরানকে মোকাবেলা করার জন্য নয় বলে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। একই সঙ্গে দেশটি এই চুক্তির বিষয়ে তুরস্কের সমালোচনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। খবর খালিজ টাইমসের। আমিরাতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ড. আনোয়ার মোহাম্মদ গারগাস বলেন, এই চুক্তিটি ইরানের বিষয় নয়। বরং এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আমিরাতের সঙ্গে ইসরাইলের শান্তি চুক্তি। এটি কোনোভাবেই ইরানের বিরুদ্ধে দল পাকানোর বিষয় নয়। ড. আনোয়ার মোহাম্মদ গারগাস সম্প্রতি ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দেশ দুটি মিলে ইরানকে মোকাবেলা ও আরও একঘরে করার চেষ্টা করেছিলেন, তখন আমিরাত তার নিকটতম প্রতিবেশীকে উস্কে দেয়নি। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আমাদের খুবই জটিল সম্পর্ক রয়েছে। কিছু কিছু বিষয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে, তবুও আমরা অনুভব করি এগুলো কূটনৈতিকভাবে সমাধান করা উচিত। এদিকে, এই শান্তি চুক্তিকে কেন্দ্র করে আমিরাত থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিতে পারে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়েপ এরদোগান। একই সঙ্গে শুক্রবার তিনি বলেন, এই চুক্তি ফিলিস্তিনি অধিকারকে ঘায়েল করেছে। এ বিষয়ে আমিরাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, তুরস্কের এই হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ তারা নিজেরাই ইসরাইলের সঙ্গে বিভিন্ন বাণিজ্যিক সম্পর্ক জড়িয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, তুরস্কে প্রতি বছর কমপক্ষে অর্ধ লাখ ইসরাইলি পর্যটক ভ্রমণে যায়। একই সঙ্গে দেশ দুটির মধ্যে দুই বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য রয়েছে। তিনি বলেন, এই চুক্তির আওতায় ইসরাইল আপাতত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন বন্ধ রাখার কথা দিয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে আমরা একটি গ্রহণযোগ্য আলোচনার সুযোগ পেয়েছি। যেটা ফিলিস্তিনিদের অধিকারকে সংরক্ষণ করবে। আর এই শান্তি চুক্তি করার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ইসরাইলের বিমান, প্রযুক্তি ও পর্যটন বিষয়ে ব্যাপক বিভিন্ন দক্ষতা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে না ফেরার দেশে ১ লাখ ৭১ হাজার মানুষ
১৫আগস্ট,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: লাগামহীন করোনায় সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রমণের হার আগের মতোই ঊর্ধ্বমুখী। প্রতিদিনই দেশটিতে অর্ধ লক্ষের বেশি মানুষের শরীরে শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি সহস্রাধিক মানুষের প্রাণ কাড়ছে ভাইরাসটি। গত একদিনেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। তবে কমেছে সুস্থতার সংখ্যা। ফলে, নাগরিকদের জীবন বাঁচাতে কার্যকরি ভ্যাকসিনের অপেক্ষায় দিন গুণছে দেশটির সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১২০ জনের প্রাণ কেড়েছে করোনা। এতে করে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৩৫ জনে ঠেকেছে। একই সময়ে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ৬০ হাজার ৬০০ জনের দেহে। এ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫৪ লাখ ৭৬ হাজার ২৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে সুস্থতার হার কমলেও এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের অর্ধেক রোগী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছেন। যার সংখ্যা ২৮ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি শিকাগোর এক বাসিন্দার মধ্যে প্রথম করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এরপর থেকে ক্রমান্বয়ে ভয়ানক হতে থাকে পরিস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ধারণা ইতোমধ্যে তাদের দেশের অন্তত ২০ মিলিয়ন (দুই কোটি) মানুষ করোনার শিকার হয়েছেন। দ্য সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) বলছে, প্রকৃত তথ্য হলো, প্রকাশিত সংখ্যার অন্তত ১০ গুণ বেশি মানুষ করোনার ভয়াবহতার শিকার। এর মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থা এখন ক্যালিফোর্নিয়ায়। প্রাণহানি তুলনামূলক কম হলেও এ শহরে করোনার শিকার ৬ লাখ ১৩ হাজারের বেশি মানুষ। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১১ হাজার ১৪৮ জনের। ফ্লোরিডায় সংক্রমণ এক লাফে ৫ লাখ ৬৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ইতোমধ্যে সেখানে ৮ হাজার ৯৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। সংক্রমণ আশঙ্কাজনকহারে দীর্ঘ হয়েই চলেছে টেক্সাসে। এ শহরে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ৪৯ হাজার। যেখানে প্রাণহানি ঘটেছে ৯ হাজার ৭৩৬ জনের। প্রাণহানিতে শীর্ষ শহর নিউইয়র্কে আক্রান্ত ৪ লাখ ৫৪ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ৩২ হাজার ৮৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। জর্জিজায় করোনা রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৩২ হাজারের কাছাকাছি। মৃত্যু হয়েছে সেখানে ৪ হাজার ৫৭৩ জন মানুষের। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে গেছে ইলিনয়েসে। যেখানে এখন পর্যন্ত করোনার ভুক্তভোগী ২ লাখ ৪ হাজার। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৭ হাজার ৯৩২ জন। নিউ জার্সিতে করোনার শিকার প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার মানুষ। এর মধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে ১৫ হাজার ৯৭৩ জনের। বর্তমানে সেখানে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে ভাইরাসটি। এছাড়া, অ্যারিজোনা, ম্যাসাসুয়েটসস, পেনসিলভেনিয়া, উত্তর ক্যারোলিনা, লুসিয়ানা, টেনেসি ও অ্যালাবামার মতো শহরগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে।
ইরানের চারটি জাহাজ আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র
১৪আগস্ট,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করায় এই প্রথমবারের মতো ইরানের ৪টি জ্বালানীবাহী জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কোনো রকম বল প্রয়োগ ছাড়াই জাহাজগুলো জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি যুক্তরাষ্ট্রের। জব্দ হওয়া জাহাজগুলো হলো, লুনা, পান্ডি, বেরিং এবং বেলা। খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’র। ভেনেজুয়েলাগামী ইরানের এ জাহাজগুলো জব্দ করার জন্য গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে একটি মামলা দায়ের করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে বিবেচিত এই দুই দেশকে অর্থনৈতিক চাপে রাখার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন মামলাটি দায়ের করে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মামলাটি করে ইরান জ্বালানী বিক্রি করে যে রাজস্ব আদায় করে সেটি বন্ধ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। গত ২০১৮ সালের মে মাসে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরান বলছে, শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে তারা পরমাণু কার্যক্রম চালাচ্ছে।
প্রথমবারের মতো লকডাউনে ভুটান
১৩আগস্ট,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিদেশফেরত এক নাগরিকের দেহে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর দেশজুড়ে প্রথমবারের মতো লকডাউন দিয়েছে ভুটান। সম্প্রতি কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ওই ব্যক্তি রাজধানী থিম্পুর অনেক বাসিন্দার সংস্পর্শে আসেন এবং গত সোমবার তিনি করোনায় পজিটিভ শনাক্ত হন। এ নিয়ে দেশটিতে কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ১১৩-তে দাঁড়িয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। খবর রয়টার্স হিমালয়ের এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। মার্চে ট্যুরিজমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি বিদেশফেরত প্রত্যেককে তিন সপ্তাহের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখার নির্দেশনা দিয়েছিল ভুটান কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন কুয়েত থেকে আসা ২৭ বছর বয়সী এক নারী। সোমবার একটি ক্লিনিকে করা শনাক্তকরণ পরীক্ষায় তার দেহে এ ভাইরাসের উপস্থিতি মেলে। এর পরপরই দেশজুড়ে লকডাউনের ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ। সংক্রমণের বিস্তৃতি ও রোগটি থেকে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষিত রাখতে সবাইকে ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে। ঘোষিত লকডাউনে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস ও বাণিজ্যিক স্থাপনা বন্ধ থাকবে। স্থগিত করা হয়েছে সব ধরনের পরীক্ষাও। আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে থাকা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজ নিজ ক্যাম্পাসের মধ্যেই থাকতে বলা হয়েছে। সীমান্ত সিল করে দেওয়া হয়েছে, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দেশটির একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটিও। বাণিজ্যিক যাতায়াত বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন দেশে আটকেপড়া ভুটানের নাগরিকদের নিয়ে আসতে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর দেশটিতে ঢোকার সব প্রবেশপথে যাচাই-বাছাই, পর্যবেক্ষণ ও শনাক্তকরণ পরীক্ষার ওপর জোর দিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
করোনায় দেউলিয়া যেসব বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড
১২আগস্ট,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা মহামারির ধাক্কায় বিপর্যস্ত বিশ্ব বাণিজ্য। নিরবে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে ছোট ছোট কোম্পানিগুলো। এমনকি অনেক বড় প্রতিষ্ঠানও নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করছে। ইতিমধ্যে মহামারি আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাসে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে টিকে থাকার লড়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। করোনার কোপে বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল। বিশ্বব্যাপী বহু কোম্পানি কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। কেউ কেউ কর্মীদের বেতন দেওয়া বন্ধ করেছে। কেউ কোম্পানি বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। বিশ্ব এখনও এই করোনা সংকটের পরিস্থিতির মাঝামাঝিতে অবস্থান করছে। পুরো পরিস্থিতি অনুধাবন আর আসল ধাক্কাটি সম্ভবত টের পাওয়া যাবে আগামী বছরে। অনেক জায়গাতেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো দুয়ার এখনও বন্ধ। এমন পরিস্থিতিতে কত প্রতিষ্ঠানে চিরতরে হারিয়ে যাবে আর কতগুলো শেষ পর্যন্ত ফিরবে তা অনিশ্চিত। তারপরও ইতিমধ্যে অনেক বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে গেছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ভিক্টোরিয়া সিক্রেট, জারা, জেসিপেনি, নাইকি, শ্যানেল ও রোলেক্স-এর মতো বিশ্বখ্যাত সব ব্রান্ড। ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক নারীদের পোষাক, ল্যানজারি, ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী পণ্য নির্মাতা, বিপণন, ও বিক্রয় প্রতিষ্ঠান। বিশ্বখ্যাত এই প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া ঘোষণা করেছে। পৃথিবীর বিখ্যাত চেইন ষ্টোর ZARA তাদের ১২শ আউটলেট বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া করোনার ধাক্কায় এবার ১১৮ বছরের পুরোনো মার্কিন চেইন ডিপার্টমেন্ট স্টোর জেসি পেনি দেউলিয়া হওয়ার পথে। ইতিমধ্যে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণার জন্য আবেদন করেছে তারা। দেউলিয়া আইনে সুরক্ষা পেতে আবেদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিম্যান মার্কাসের মতো বৃহৎ ডিপার্টমেন্ট স্টোর। বিখ্যাত পারফিউম ব্র্যান্ড শ্যানেল এবং বিখ্যাত ঘড়ি রোলেক্স তাদের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। বিখ্যাত জুতা কোম্পানি নাইকি (Nike) প্রথম পর্বের পর দ্বিতীয় পর্ব লে অফ করার জন্য তৈরি হচ্ছে। বিখ্যাত আবাসন ব্যবসা এয়ারবিএনবি-এর মালিক বলেছে, তাদের ১২ বছরের পরিশ্রম মাত্র ছয় সপ্তাহে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। বিখ্যাত কফি শপ স্টারবাক তাদের ৪০০ দোকান বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে.......! এছাড়া এই পরিস্থিতিতে ছোট ছোট কোম্পানীগুলো রয়েছে বেশ বিপদে। করোনার কারণে সবচেয়ে বড় লোকসান পড়েছে খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠানগুলো। যুক্তরাষ্ট্রে ফ্যাশন পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান জে ক্রু নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছে। হংকং এবং জার্মান ভিত্তিক ফ্যাশন পণ্য বিক্রেতা এসপ্রি বলেছেন, এশিয়া থেকে সব স্টোর তারা গুটিয়ে নিবে। অনলাইন বেচাকেনা জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় কোভিড-১৯ এর ধাক্কা লাগার আগে থেকেই অবশ্য এই কোম্পানিগুলো অস্তিত্ব সংকটে ভুগছিল। মহামারি তা আরো ত্বরান্বিত করছে মাত্র। এই করোনাকালীন সময়ে ধস নেমেছে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়। বিভিন্ন জায়গায় রেস্টুরেন্টগুলো তাদের চেয়ার গুটাতে শুরু করেছে। বলা হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত এই ব্যবসায় শুধু দেশীয় কিংবা আন্তর্জাতিক চেইনগুলোই হয়তো টিকে থাকবে। তবে কিছু বড় চেইনও নড়বড়ে অবস্থানে রয়েছে। যেমন ভাপিয়ানোর মত জনপ্রিয় চেইনটি জার্মানিতে দেউলিয়া আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মারিদো নামের আরেকটি কোম্পানি তাদের তৃতীয় রেস্টুরেন্ট বন্ধ করেছে।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর