তুরস্কে ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১৮
২৫জানুয়ারী,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় অংশের জনবহুল এলাকায় শুক্রবার ৬ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আরও ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছে এবং ভবন ধসে পড়ে আরও প্রায় ৩০ জন ধ্বংসস্তুপের নিচে আটকা পড়েছে। তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা প্রেসিডেন্সি বা এএফএডি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে ওই ভূমিকম্প হয়। ৬.৭ কিলোমিটার গভীরতার ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল এলাজিগের সিভরিচ শহরের কাছাকাছি। ওই ভূমিকম্পটির পর আরও বেশ কয়েকবার কম্পন অনুভূত হয়েছে বলেও জানিয়েছে এএফএডি। এসব আফটার-শেকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল ৫ দশমিক ৪ মাত্রা ও ৫ দশমিক ১ মাত্রার দুটি কম্পন। এলাজিগ প্রদেশটি রাজধানী আঙ্কারা থেকে প্রায় ৭৫০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলো থেকে আক্রান্ত এলাকায় ছুটে গিয়েছে উদ্ধারকারী দলগুলো। তারা অন্ধকার ও তীব্র ঠাণ্ডার মধ্যে ফ্লাডলাইটের সাহায্যে কাজ করছেন। তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুলুসি আকার বলেছেন, সেনাসদস্যদের সহায়তার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। ভূমিকম্পের পর বহু বাসিন্দা গৃহহীন হয়ে পড়েছে বা অনেকে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টিভি ফুটেজে দেখা গেছে, পূর্বাঞ্চলীয় এলাজিগ প্রদেশের গেজিন জেলার একটি ধসে পড়া ভবনের ভেতর একজন আহত ব্যক্তিকে টেনে বের করছে উদ্ধারকারী। তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেইমান সৌলু বলেছেন, এলাজিগ প্রদেশের বিভিন্ন ভবনের নিচে প্রায় ৩০ জন আটকা পড়েছেন বলে আমরা মনে করছি। এদিকে সৌলুর সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহরেট্টিন কোকা। তিনি বলেন, এলাজিগে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয় হার্ট অ্যাটাকে। আর অন্য পাঁচজনের মৃত্যু হয় মালাটিয়ায়। তুরস্কের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর ৫৫৩ জন আহত হয়েছে, তাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর। দেশটির পরিবেশমন্ত্রী মুরাত কুরুম বলেছেন, ভূমিকম্পে দুই প্রদেশে প্রায় ৩০টি ভবন ধসে পড়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তায়েপ এরদোয়ান এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি বরেন, এলাজিগ ও অন্যান্য প্রদেশে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সব ধনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
আদালতের এ রায় মানতে মিয়ানমার বাধ্য
২৩জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাখাইনে থাকা রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় মিয়ানমারের প্রতি অন্তবর্তী আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। আদেশে আদালত স্পষ্ট করেই বলেছে, নির্যাতিত ওই জনগোষ্ঠির নিরাপত্তাসহ সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এখনই মিয়ানমার রাষ্ট্রকে পদক্ষেপ নিতে হবে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কিংবা অন্য যে কোন নিরাপত্তা বাহিনী যেনো আর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কোনো গণহত্যায় না জড়ায়, উস্কানি না দেয় কিংবা নির্যাতন না করে সে ব্যাপারেও ব্যবস্থা নিতে হবে মিয়ানমারকে। অতীতে রোহিঙ্গা নির্যাতনে জড়িত মিয়ানমারের সেনা বাহিনীর (দোষী) সদস্যদেরকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালত-আইসিজে বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। হেগের স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) সর্বসম্মত ওই রায় পড়া শুরু করেন আদালতের প্রেসিডেন্ট আব্দুল কাওয়াই আহমেদ ইউসুফ। আদালত বলেন, এ রায় মানতে মিয়ানমার বাধ্য। আদেশে বলা হয় অন্তবর্তীকালীন নির্দেশনা বাস্তবায়নের ব্যাপারে চার মাসের মধ্যে রিপোর্ট দাখিল করতে হবে মিয়ানমারকে। চূড়ান্ত রায় না দেয়া পর্যন্ত ছয় মাস অন্তর অন্তর রিপোর্ট দিতে হবে দেশটিকে। দৃশ্যত গত মাসে আদালতে দেয়া মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে আদেশে। সুচি মামলাটি স্থগিতের পক্ষে আদালতে আবেদন এবং পাল্টা যুক্তি দিয়েছিলেন। কিন্তু আদালত সেটি খারিজ করে দিয়ে বলেছেন, গাম্বিয়ার পূর্ণ অধিকার আছে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার। বিচারক বলেছেন, রোহিঙ্গা গণহত্যার দায় কোনভাবেই এড়াতে পারে না মিয়ানমার। মামলায় মিয়নমার যথাযথ সহযোগিতা করেনি বলেও অভিযোগ করেছেন আদালত। এই মামলা নিয়ে মিয়ানমারের আপত্তি খারিজ করে বিচারক খোলাসা করে বলেন, এখনও মিয়ানমারে থাকা আনুমানিক ৬ লাখ রোহিঙ্গা সামরিক বাহিনীর হাতে চরম মাত্রায় সহিংসতার ঝুঁকিতে আছে। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। প্রাথমিকভাবে গাম্বিয়ার অভিযোগের প্রমাণ পেলেও আদালত বলেছেন, অন্তবর্তীকালীন আদেশ চূড়ান্ত রায়কে প্রভাবিত করবে না। ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর হামলা চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। নির্বিচারে রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ করা হয়। অগ্নিসংযোগ করা হয় তাদের বাড়িতে। আক্রমণের মুখে প্রায় সাতে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এই নৃশংসতাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে গত বছরের ১১ নভেম্বর আইসিজিতে মামলা দায়ের করে গাম্বিয়া। নেদারল্যান্সসের দ্য হেগের পিস প্যালেসে গত বছরের ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর মামলার শুনানি চলে। মামলায় গাম্বিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির বিচারমন্ত্রী আবু বাকার তাম্বাদু। মিয়ানমারের নেতৃত্ব দেন অং সান সুচি। রায়ের বিস্তারিত: মিয়ানমারের প্রতি মোটাদাগে চারটি অন্তবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত। প্রথমত: মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য সশস্ত্রবাহিনীগুলোকে সব ধরনের গণহত্যার অপরাধ ও গণহত্যার ষড়যন্ত্র থেকে বিরত থাকতে হবে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সব ধরনের সুরক্ষা দেয়ার বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে হবে মিয়ানমারকে। গণহত্যা সনদের ধারা-২ এর আওতায় আদালত এ নির্দেশনা দেন, যা আদালতের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের হত্যা, নিপীড়ন, বাস্তুচ্যুতির মতো পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত রাখতে যে যে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি তার সবটুকুই নিতে হবে মিয়ানমার রাষ্ট্র ও সরকারকে। সর্বপরি রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট অন্তবর্তী ব্যবস্থা নিতে হবে। আদালত বলেন, গণহত্যা সনদের ধারা-৪১ এর আওতায় অন্তবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশের শর্তসমূহ বিরাজ করছে বলে আদালত মনে করেন। গাম্বিয়ার দায়ের অন্তবর্তী ব্যবস্থা সংক্রান্ত আদেশের আবেদনের প্রথম তিনটির রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা সম্পর্কিত এবং তা আমলযোগ্য বলে মনে করেন আদালত। জাতিসংঘ তথ্যানুসন্ধানী দলের উপসংহার, যা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অনুমোদিত হয়েছে তাতে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতায় গণহত্যার উদ্দেশ্য ছিল বলে যা বলা হয়েছে সেটি আদালতের নজরে এসেছে। গণহত্যা সনদের ধারা-২ মতে রোহিঙ্গারা একটি বিশেষ সুরক্ষার অধিকারী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচ্য উল্লেখ করে আদালত বলেন, জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনে যেসব বিবরণ উঠে এসেছে তার আলোকে গাম্বিয়া মিয়ানমারকে যে নোট ভারবাল বা কূটনৈতিক পত্র দিয়েছিল তা বিরোধের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করা যথেষ্ট।
রোহিঙ্গা সংকট : সু চিকে হেগে নিয়ে গেছেন যে ব্যক্তি
২৩জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেছিল গাম্বিয়া। সেই মামলার শুনানিতে প্রথমবারের মতো আদালতে দাঁড়িয়ে ওই ইস্যুতে কথা বলেন মিয়ানমারের নোবেলজয়ী নেত্রী অং সাং সু চি। কিন্তু সু চিকে আদালতে হাজির করার ক্ষেত্রে যে মানুষটির বিশেষ অবদান রয়েছে তাকে হয়তো অনেকেই চেনন না। তিনি আর কেউ নন, গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী আবুবকার তাম্বাদুর। জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত আজ বৃহস্পতিবার ওই মামলায় আদেশ দিতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে অনেকের মনে কৌতুহল দেখা দিয়েছে কে এই আবুবকর তাম্বাদুর। তাই আসুন জেনে নেয়া যাক রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বের আলোচিত এই মানুষটি সম্পর্কে- ১৯৭২ সালে জন্ম নেয়া আবুবকার তাম্বাদুর গাম্বিয়ার রাজধানী বানজুলে বড় হয়ে ওঠেন। তিনি ছিলেন আঠারো ভাইবোনের মধ্যে একজন। এতো ভাই বোন থাকার পেছনে রয়েছে অন্য রহস্য। আর তা হচ্ছে তার পিতার তিনজন স্ত্রী ছিল। তরুণ বয়সে আবুবকার খেলাধুলায় খুব ভালো ছিলেন। তিনি ফুটবল খেলতে পছন্দ করতেন। নিজের দেশের জন্য শিরোপাও এনে দিয়েছিলেন তিনি। এ বিষয়ে আবুবকার তাম্বাদুর বলেন, আমি খারাপ খেলোয়াড় ছিলাম না। ৪৭ বছর বয়সী এই ব্যক্তি তার শৈশব জীবনকে ভাগ্যবান বলে বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যবিত্ত পরিবার দেশে একটি প্রাইভেট স্কুল এবং ব্রিটেনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তার পড়াশোনার খরচ বহন করতে সমর্থ হয়েছিল। পিতাকে অসন্তুষ্ট করার ভয়ে তিনি খেলাধুলার স্বপ্ন বাদ দিয়ে দেন এবং একাডেমিক পথে হাঁটতে শুরু করেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি কখনোই আইন নিয়ে পড়তে চাইনি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে (ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়) প্রথম যে বিষয়টি পড়ার জন্য আমাকে বলা হয়, সেটা ছিল আইনবিদ্যা। পড়াশোনা শেষ করে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং একজন সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে কাজ শুরু করেন। ক্রমে রাজনীতি সচেতন হয়ে উঠছিলেন তিনি। বুঝে নিচ্ছিলেন গাম্বিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এক পর্যায়ে তিনি ও তার বন্ধুরা মানবাধিকার লঙ্গনের বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করেন। ২০০০ সালে এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া জাম্মেহর কুখ্যাত নিরাপত্তা বাহিনী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি করে, এতে ১৪জন শিক্ষার্থী, একজন সাংবাদিক এবং একজন রেডক্রস স্বেচ্ছাসেবী নিহত হন। তাম্বাদু দেখতে পান যে, তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে এবং নির্যাতন করা হচ্ছে। কিন্তু তার পরিবার জাম্মেহর বিরোধিতা করার পরিণতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে এবং তাকে দেশের বাইরে কাজ করতে রাজি করান। এরপর তিনি আন্তর্জাতিক বিচারের ক্ষেত্রে কাজ করতে শুরু করেন। এই স্বেচ্ছা নির্বাসন তাকে জাতিসংঘের সেই আদালতে কাজ করার সুযোগ এনে দেয়, যেটি রোয়ান্ডা গণহত্যার কুশিলবদের বিচার করার জন্য স্থাপিত হয়েছিল। রোয়ান্ডা সেনাবাহিনীর সাবেক চিফ অফ স্টাফ মেজর জেনারেল অগাস্টাস বিজিমুনগুর বিচারে তার ভূমিকা ছিল। তিনি বিশ্বাস করেন, তিনি যা করছিলেন, সেটা শুধুমাত্র রোয়ান্ডার গণহত্যাকারীদের বিচারের জন্যই নয়। তার ভাষায়- এটা ছিল আফ্রিকান সব নেতাদের প্রতি একটা বার্তা। আমি এটাকে দেখি আফ্রিকায় বিচার এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি সংগ্রাম হিসাবে। এটা শুধুমাত্র রোয়ান্ডার ব্যাপার নয়। ২০১৭ সালের শুরুতে জাম্মেহর পতনের পর তাম্বাদু গাম্বিয়ায় ফিরে আসেন এবং প্রেসিডেন্ট আদামা ব্যারোর মন্ত্রিসভায় কাজ করতে শুরু করেন। এক অপ্রত্যাশিত সফরে কক্সবাজারে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা শিবিরে এসেছিলেন আবুবাকার তাম্বাদুর। যখন তিনি বেঁচে ফিরে আসা মানুষজনের কাহিনী শুনছিলেন, তখন মিয়ানমারের সীমান্তের অন্য পাশ থেকেও যেন তিনি গণহত্যার দুর্গন্ধ টের পাচ্ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমি উপলব্ধি করছিলাম, টেলিভিশনের পর্দায় আমরা যা দেখি, পরিস্থিতি আসলে তার চেয়েও কতটা গুরুতর। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনী এবং বেসামরিক বাসিন্দারা সংগঠিত হামলা চালাচ্ছে, বাড়িঘর পুড়িয়ে দিচ্ছে, মায়ের কোল থেকে শিশুদের ছিনিয়ে নিয়ে জ্বলন্ত আগুনে ছুঁড়ে মারছে, পুরুষদের ধরে ধরে মেরে ফেলছে, মেয়েদের ধর্ষণ করছে এবং সবরকমের যৌন নির্যাতন করছে। মানবাধিকার সংগঠন গ্লোবাল সেন্টার ফর দি রেসপনসিবিলিটি টু প্রটেক্টের প্রধান, সাইমন অ্যাডামস বলেন, কথিত নৃশংসতার দায়ে মিয়ানমারকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করার জন্য শুধুমাত্র একজন ব্যক্তিই সাহস, দক্ষতা এবং মানবতা দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেকে চীনাদের প্রতিশোধের ভয়ে ভীত। অন্যরা বলেছেন, এই কাজ করার জন্য এটা উপযুক্ত সময় নয়, রাজনৈতিকভাবে এটা ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু আমি তার সাহস দেখে মুগ্ধ। তিনি বুঝতে পারছিলেন, এর জন্য কতটা চাপ আসতে যাচ্ছে, কিন্তু সেটা সামলাতে তিনি একটা কৌশল বেছে নিয়েছেন। সূত্র : বিবিসি
পদত্যাগ করছেন বিবিসির মহাপরিচালক
২১জানুয়ারী,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন বা বিবিসির মহাপরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন লর্ড টনি হল। এই গ্রীষ্মেই তিনি পদত্যাগ করবেন। গত সাত বছর ধরে বিবিসির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন লর্ড হল। নিজের এই সিদ্ধান্ত খুব কঠিন ছিল উল্লেখ করে লর্ড হল বলেন, যদি আমি আমার মনের কথা শুনতাম, তাহলে আমি কখনই পদত্যাগ করতাম না। কিন্তু আগামী ২০২২ সালে বিবিসির মিড-টার্ম রিভিউ ও ২০২৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি চার্টার পুনঃনবায়নের সময় একই নেতৃত্ব থাকা বলে মনে করেন লর্ড হল। এদিকে ন্যাশনাল গ্যালারি এক ঘোষণায় জানিয়েছে, তাদের বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে লর্ড হলকে। অন্যদিকে বিবিসির চেয়ারম্যান স্যার ডেভিড ক্লেমেন্টি বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিবিসির নতুন নেতা খোঁজা শুরু হবে। তিনি বলেন, এই কাজের জন্য সেরা যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচন করতে বিবিসি বদ্ধপরিকর। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের নভেম্বরে তৎকালীন বিবিসি মহাপরিচালক জর্জ এনটুইসেলের পদত্যাগের পর এ পদে আসীন হয়েছিলেন বার্তা বিভাগের সাবেক পরিচালক এবং রয়েল অপেরা হাউজের প্রধান নির্বাহী লর্ড টনি হল।
তুষারঝড়ে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের জীবনযাত্রা ব্যাহত
২০জানুয়ারী,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রবল তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ডে কয়েক ফুট উঁচু তুষার জমে যাওয়ায় জরুরি সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া বিভাগ। ভারী তুষারপাতের কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না স্থানীয়রা। এদিকে এসটি জনস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৭৭ সেন্টিমিটার পর্যন্ত তুষার জমে, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। ১৯৯৯ সালের পর এমন তুষারপাত হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে কনকনে ঠান্ডায় জবুথবু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপশ্চিমাঞ্চলের জনজীবন। ভারী তুষারপাতে নর্থ ডাকোটা, মিনিসোটাসহ কয়েকটি প্রদেশে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। তুষার অপসারণে নেমেছে জরুরি বিভাগ।
রাজকীয় উপাধি হারালেন প্রিন্স হ্যারি-মেগান
১৯জানুয়ারী,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: এই বসন্ত থেকেই যুক্তরাজ্যের ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্স উপাধি আর ব্যবহার করতে পারবেন না প্রিন্স হ্যারি এবং তার স্ত্রী মেগান মার্কেল। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। রাজপরিবারের বরাত দিয়ে বিবিসি এ তথ্য প্রকাশ করেছে। শনিবার হ্যারি-মেগান দম্পতি জানান, যুক্তরাজ্যে তাদের ফ্রগমোর কটেজ সরকারি অর্থে সংস্কার করতে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা তারা শোধ করবেন। যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে তারা এখন থেকে ওই কটেজেই থাকবেন। জানুয়ারির শুরতে প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রাজপদবী ছাড়ার ঘোষণা করেন। হ্যারির ব্রিটিশ রাজপরিবার ছাড়ার ঘোষণায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথ। রয়েল প্যালেস সূত্র জানিয়েছে, হ্যারি ও মেগান তাদের সন্তান আর্চিকে নিয়ে বেশিরভাগ সময় উত্তর আমেরিকাতে অবস্থান করবেন। অর্থ উপার্জানের জন্য তারা নিজেদের মতো করে কাজ করতে পারবেন। তবে রানির সম্মানহানি হয় এমন কিছুর সঙ্গে জড়িত হবেন না। চলতি বসন্তের শেষেই এই আদেশ কার্যকর হবে। এক বছর পর তা পুন মূল্যায়ন করা হবে। প্রসঙ্গত, শৈশব থেকেই প্রিন্স হ্যারি কিছুটা স্বাধীন জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। ২০১৬ সালে হলিউড অভিনেত্রী মেগান মার্কেলের সঙ্গে হ্যারির প্রণয় হয়। এরপর থেকেই ব্রিটেনের ট্যাবলয়েডগুলো হ্যারি-মেগানের মুখরোচক সব সংবাদ ছাপিয়ে তাদের পিছনে লেগে ছিল। কিছুদিন আগে বড় ভাই উইলিয়ামের সঙ্গে হ্যারির সম্পর্কের অবনতি হয়েছে এমনটা আভাস দেয় সংবাদপত্রগুলো। হ্যারি ও মেগান দম্পতি তাদের প্রথম সন্তান আর্চির নামেও ব্রিটিশ রাজপরিবারের পদবি ব্যবহার থেকে বিরত থাকেন।
কেরালার পর পাঞ্জাব বিধানসভায় সিএএ বিরোধী প্রস্তাব পাস
১৮জানুয়ারী,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের পাঞ্জাব বিধানসভায় সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ বিরোধী প্রস্তাব পাস হয়েছে। বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে গতকাল শুক্রবার ওই প্রস্তাব পাস হয়। পাঞ্জাবের মন্ত্রী ব্রহ্ম মহিন্দ্র বিধানসভায় প্রস্তাবটি পেশ করেন। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন তৈরি করেছে তার বিরুদ্ধে এ নিয়ে দুটি রাজ্য বিধানসভা প্রস্তাব পাস করলো। এর আগে সিপিএম নেতৃত্বাধীন কেরালার এলডিএফ সরকার বিধানসভায় সিএএ প্রত্যাহারের দাবিতে প্রস্তাব পাস করেছিল। এবার পাঞ্জাবের কংগ্রেস সরকারও একই পথে হাঁটলো। কংগ্রেসশাসিত পাঞ্জাব সরকারের মন্ত্রী ব্রম্ম মহিন্দ্রা বিধানসভায় সিএএ বিরোধী প্রস্তাব পেশ করতে গিয়ে বলেন, নতুন নাগরিকত্ব আইন ঘিরে দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দেশের সর্বত্র বিক্ষোভ চলছে। পাঞ্জাবেও সিএএ বিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে, তবে তা হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে। এবং এতে সমাজের সব অংশের মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। পাঞ্জাব বিধানসভায় পেশ করা প্রস্তাবে বলা হয়, সিএএ দেশের সংবিধান এবং এর মূল চেতনার পরিপন্থী। এটি দেশের নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষদের পরিচিতি নষ্ট করার প্রয়াস। এই আইনের মাধ্যমে অভিবাসী মানুষকে বিভক্ত করার চিন্তাভাবনা রয়েছে এবং এটি সাম্যের অধিকার বিরোধী। প্রস্তাবটিতে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি এবং জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন বা এনপিআর সম্পর্কে লোকদের সন্দেহ ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে, এগুলো দূর করে একে পাস করা উচিত। সিএএ তেও পরিবর্তন করা উচিত বলেও প্রস্তাবে বলা হয়। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং সম্প্রতি বলেছিলেন, তার সরকার এই বিভাজনমূলক আইন কার্যকর করতে দেবে না। তিনি বলেন, এই আইনটি এনআরসি এবং এনপিআরের পাশাপাশি ভারতীয় সংবিধান লঙ্ঘন করে। অমরিন্দর সিং বলেন, তিনি সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেয়ার বিরোধী নন, কিন্তু তিনি সিএএ তে মুসলিমসহ কিছু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বৈষম্যের বিরোধী। মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন সম্পর্কে সাফ জানান, ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ অবকাঠামো সবসময়ই শক্তিশালী ছিল। কিন্তু কেউ যদি এটিকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেন তবে কংগ্রেসের পাশাপাশি এদেশের মানুষও এর বিরোধিতা করবে। বিজেপি এবং তার মিত্ররা এর পরিণতির কথা চিন্তা না করেই এই বুনিয়াদকে ধ্বংস করতে ব্যস্ত বলেও মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং মন্তব্য করেন।
বিল গেটসের প্রশংসায় ভাসলেন বাংলাদেশি বাবা-মেয়ে
১৭জানুয়ারী,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বাংলাদেশের শিশুমৃত্যু হ্রাস করার জন্য বাংলাদেশের বাবা-কন্যা মাইক্রোবায়োলজিস্টের দুজনের কাজের প্রশংসা করেছেন। বাবা মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক ডা. সমির সাহার সঙ্গে বর্তমানে শিশু স্বাস্থ্য গবেষণা ফাউন্ডেশন (সিএইচআরএফ)-এ কাজ করছেন ডা. সেঁজুতি সাহা। গত মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিল গেটস তার ব্যক্তিগত ব্লগ গেটসনোটসে লিখেছেন, একসঙ্গে, বাবা-মেয়ের এই টিম বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যের একটি গতিশীল জুটি। ইতিবাচক কাজে সমাজের রূপ বদলে দেয়ার স্বপ্ন নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের নিয়ে নিয়মিত বিল গেটস হিরোস ইন দ্য ফিল্ড শিরোনামে ব্লগ লেখেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। মঙ্গলবার বিল গেটস বাংলাদেশি এই বাবা-মেয়েকে বেছে নিয়েছেন তার এবারের নায়ক হিসেবে। তিনি লিখেন, নিম্ন আয়ের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পদশালী দেশের স্বাস্থ্যসেবার পার্থক্য, যেখানে শিশু মৃত্যুর হার বেশি রয়েছে; সেসব কমিয়ে আনতে কাজ করছেন তারা। এক্ষেত্রে তারা উপাত্ত, রোগ নির্ণয়ের সর্বাধুনিক পদ্ধতি এবং সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে টিকাদানকে কাজে লাগাচ্ছেন। তাদের এই গবেষণা শুধু বাংলাদেশেই নয় বরং একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও তাদের কাজ ব্যবহৃত হচ্ছে, লিখেন গেটস। বাংলাদেশ এবং অন্যান্য দেশে শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস করতে সিএইচআরএফ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন ডা. সামির। গেটস বলেন, সিএইচআরএফ-র কাজ এবং শিশুদের জন্য সরকারের গৃহীত টিকাদান কর্মসূচি এবং স্বাস্থ্যসেবায় জোরালো সহায়তার কারণে বাংলাদেশে পাঁচ বছর বয়সের নিচের শিশু মৃত্যুহার কমেছে এবং সার্বিক স্বাস্থ্যসেবারও উন্নয়ন ঘটেছে। বাংলাদেশে এখন প্রায় ৯৮ শতাংশ টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এসেছে বলেও জানান তিনি। ডা. সমিরের গেটস লিখেন, তিনি ঢাকা শিশু হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান। শিশুমৃত্যুর বড় দুই ঘাতক ব্যাধি মেনিনজাইটিস ও নিউমোনিয়া রোগের টিকা ব্যবহারে বাংলাদেশকে সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তিনি। মাইক্রোসফটের এই সহ-প্রতিষ্ঠাতা আরও লিখেন, স্বাস্থ্যখাতের উন্নতি ঘটলেও বাংলাদেশের এখনও অনেক পথ পাড়ি দেয়ার রয়েছে। চলতি বছরে গোলকিপারস ইভেন্টে অংশ নিয়ে ডা. সেঁজুতি সাহা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে এখনও যে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেসব গল্প তুলে ধরেছেন। শিশুদের চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ চিকিৎসা কেন্দ্র ঢাকা শিশু হাসপাতালে প্রত্যেক বছর ৬ হাজারের বেশি শিশু ভর্তি না হতে পেরে ফিরে যায়। কারণ হাসপাতালটি ৬৬৫ শয্যার। আর এসব আসন সবসময় পূর্ণ থাকে। ডা. সমির ও ডা. সেঁজুতির কাজের প্রশংসা করে নিজের ব্লগের ইতি টেনেছেন গেটস। তিনি লিখেন, এই বাবা-মেয়ের কাজের কল্যাণে বাংলাদেশ এমন এক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে সংক্রামক ব্যাধি খুব কম থাকবে এবং হাসপাতালের শয্যাগুলো ফাঁকা থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর
১৬জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অবশেষে বাণিজ্যযুদ্ধ অবসানে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বিশ্বের দুই পরাশক্তি চীন ও যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার ওয়াশিংটনে দুই দেশের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। একে বলা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রথম ধাপের বাণিজ্য চুক্তি। চুক্তি স্বাক্ষরের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টিকে মার্কিন অর্থনীতির জন্য রূপান্তরকারী হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে চীন এ চুক্তিকে উভয় দেশের জন্য উইন-উইন বলে অভিহিত করেছে। চুক্তির আওতায় মার্কিন পণ্যসামগ্রী আমদানির পরিমাণ বাড়াবে চীন। এরই মধ্যে আগামী দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাড়তি ২শ বিলিয়ন ডলারের পণ্য ও সেবা কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বেইজিং। এর বিপরীতে চীনের ওপর আরোপিত কিছু শুল্ক স্থগিত রাখবে ওয়াশিংটন। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর