আক্রান্তের হারে শীর্ষে ব্রাজিল, মৃত্যু ২৭ হাজার ছুঁই ছুঁই
২৯মে,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের প্রকৃত রূপ দেখতে শুরু করেছে ব্রাজিল। প্রতিদিনের রেকর্ড আক্রান্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাপিয়েই চলেছে লাতিন আমেরিকার দেশটি। এতে এখন আক্রান্তের হারে শীর্ষে উঠেছে দেশটি। যেখানে সংক্রমিতের সংখ্যা সোয়া চার লাখ পেরিয়েছে। প্রাণহানি ২৭ হাজার ছুঁই ছুঁই। শুধু ব্রাজিল নয়, ভাইরাসটি দাপট দেখাচ্ছে সহগোত্রীয় পেরু, চিলি, এল সালভেদর, গুয়েতেমালা ও নিকারগুয়ার মতো দেশগুলাতে। যেখানে হু হু করে বাড়ছে সংক্রমণ, স্বজন হারা হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪ হাজার ৫৩ জনের দেহে মিলেছে করোনা সংক্রমণ। এতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৮১২ জনে দাঁড়িয়েছে। নতুন করে প্রাণ গেছে ১ হাজার ৬৭ জনের। এ নিয়ে লাতিন আমেরিকার দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ২৬ হাজার ৭৬৪ জনে ঠেকেছে। যদিও এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১ লাখ ৯৩ হাজারের বেশি মানুষ। এদিকে আক্রান্ত ও প্রাণহানির এমন হারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা-ডব্লিউএইচও। সংস্থাটির বলছে, ‘চলমান অবস্থা অব্যাহত থাকলে আগামী আগস্টের মধ্যে লাতিন আমেরিকার দেশটিতে মৃতের সংখ্যা সোয়া লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। শুধু তাই, এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে করোনা।’ খবর আল জাজিরার। লাতিন আমেরিকার আরেক দেশ পেরুতে আক্রান্ত ১ লাখ ৪২ হাজার ছুঁই ছুঁই। প্রাণহানি ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। চিলিতে সংক্রমিতের সংখ্যা প্রায় ৮৭ হাজারের কাছাকাছি। এখন পর্যন্ত ৮৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে সেখানে। এদিকে, রোগটি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় চাপে রয়েছে ব্রাজিলের প্রশাসন। অভিশংসনের ঝুঁকিতে রয়েছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো। তবে এসবের দায় তিনি নিতে নারাজ। মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকার কথা বলসোনারোকে স্মরণ করিয়ে দিলে গত সোমবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি তো মিরাকল কাজ করতে পারি না। আমাকে দিয়ে কী করাতে চান?
সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ চীনা প্রেসিডেন্টের
২৭মে,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিজ দেশের সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য সবাইকে তৈরি থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শি জিনপিং বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। সামরিক প্রশিক্ষণ বাড়াতে হবে এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ভারত সীমান্তে চীনের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির মধ্যেই ভাষণে তিনি এমন নির্দেশ দিলেন। মঙ্গলবার (২৬ মে) পিপলস লিবারেশন আর্মি ও পিপলস আর্মড পুলিশ ফোর্স-এর প্রতিনিধিদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। এদিকে চীনের প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ প্রস্তুতির নির্দেশের দিন নিজ দেশের তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর আগে গত ২২ মে চীনের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই লাদাখ সফরে যান ভারতের সেনাপ্রধান এম এম নারাভানে। সম্প্রতি ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ-রেখা বরাবর প্রবল উত্তেজনা বিরাজ করছে। চীন সেখানে ভারতীয় এলাকায় ঢুকে পড়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ভারতের পানিসীমা ও আকাশসীমা লঙ্ঘনেরও অভিযোগ উঠছে বেইজিং-এর বিরুদ্ধে। লাদাখ ও উত্তর সিকিমে দুই দেশই সেনা ও সমরাস্ত্রের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়িয়েছে। ভারতের অবসরপ্রাপ্ত স্কোয়াড্রন লিডার সমীর জোশি ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে বলেছেন, চীনের যুদ্ধবিমানগুলো ওই উচ্চতায় এক ঘণ্টার বেশি উড়তে পারবে না। সেই তুলনায় ভারতের যুদ্ধবিমানগুলো সমতলের এয়ারবেস থেকে তিন থেকে চার ঘণ্টা উড়তে পারবে। অবশ্য তার জন্য এয়ার টু এয়ার রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার ব্যবহার করতে হবে। লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ। প্রায় তিন হাজার ৪৮৮ কিলোমিটারজুড়ে চীন-ভারত সীমান্ত অবস্থিত। দিল্লির দাবি, ২০১৫ সাল থেকে চীনা সেনারা দফায় দফায় ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে। তবে এবার চীনা প্রেসিডেন্ট যেভাবে সরাসরি যুদ্ধ প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন তাতে পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায় তা সময়ই বলে দেবে। সূত্র: ডিডব্লিউ, এনডিটিভি।
চীন-ভারত উত্তেজনা: ৩ বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে মোদির বৈঠক
২৭মে,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চীন ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায় লাদাখের পরিস্থিতিতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তাই জরুরি বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৬ মে) দু'দফা বৈঠক করেন তিনি। লাদাখে নিরাপত্তা সংক্রান্ত দিকগুলো খতিয়ে দেখতে এবং সেনাবাহিনীর কৌশল ঠিক করতে প্রথমে বৈঠক করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত এবং তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে। কূটনৈতিক অবস্থান ঠিক করতে তারপর আলাদা করে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার সঙ্গেও। এর আগে মোদি লাদাখ নিয়ে একদফা বৈঠক করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে। তিনবাহিনীর প্রধান এবং চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াতের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তার বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখেন তারা। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে রাজনাথকে সবিস্তার তথ্য দেন সেনাপ্রধান এমএম নারাভানে। লাদাখ সীমান্তের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দিকগুলো পর্যালোচনা করে দেখেন তারা। ভারতের স্থানীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, সীমান্ত চুক্তি লঙ্ঘন করে ভারতে ঢুকে পড়া নিয়ে একাধিকবার চীনের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায় ভারত। চলতি মাসের প্রথম দিকে তা নিয়ে নতুন করে দু'দেশের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। গত ৯ মে উত্তর-পূর্ব সীমান্তে নাকুলা সেক্টরে চীনা বাহিনীর সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন ভারতীয় জওয়ানরা। এতে বেশ কয়েকজন আহতও হন। দু'পক্ষের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমলেও, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বরং গত কয়েক দিনে প্যাংগং এবং গালওয়ান উপত্যকায় সেনা মোতায়েন করেছে দু'পক্ষই। গালওয়ান নদীর তীর বরাবর তাঁবু ফেলেছে চীন। শুরুতে সেখানে দু-তিন হাজার সেনা মোতায়েন করলেও, তা বাড়িয়ে পাঁচ হাজার করা হয়েছে। এদিকে, মঙ্গলবারই লাদাখ সীমান্ত এলাকা থেকে বেশ কিছু স্যাটেলাইট ইমেজ সামনে এসেছে। তাতে দেখা গেছে, প্যাংগং থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে তিব্বতের নারি গানসা বিমানঘাঁটিতে হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান অবতরণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্মাণকাজ চলছে। বিমানঘাঁটির টারম্যাকে সারি দিয়ে চারটি যুদ্ধবিমান দাঁড়িয়ে থাকতেও দেখা গেছে একটি ছবিতে। সেগুলো চীনা বাহিনীর জে-১১ এবং জে-১৬ যুদ্ধবিমান হতে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের, যা কি-না ভারতের সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমানের সমকক্ষ। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে চীনা সেনার ভারতীয় এলাকায় ঢোকা নিয়ে এর আগেও দু পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কিন্তু যে গালওয়ানে চীনা সেনার সমাবেশ ঘটেছে, তা নিয়ে দু'দেশের মধ্যে কোনো কালেই বিরোধ ছিল না। আর তাতেই উদ্বেগ বেড়েছে ভারতের। সূত্র: আজকাল।
পঙ্গপালের হানায় কাঁপছে ভারতের ৫ রাজ্য
২৬মে,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসের আতঙ্কের মধ্যে ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপালের হানা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে ভারতের। দেশটির পশ্চিম ও মধ্য অঞ্চলের রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশের একাধিক গ্রাম ও শহরে ঢুকে পড়েছে পঙ্গপালের দল। ক্ষতি করছে ফসলের। এমনিতেই করোনায় ক্ষতির সম্মুখীন, তার মধ্যে পঙ্গপালের হানায় সেই ক্ষতি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে ভারতে পঙ্গপাল দেখা যায়। কিন্তু এ বছর অনেকটা আগেই হানা দিয়েছে এরা। পূর্ব মহারাষ্ট্রের চার-পাঁচটি গ্রামে হানা দিয়েছে পঙ্গপাল। ফসল বাঁচাতে ইতিমধ্যেই জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করতে শুরু করেছেন কৃষকরা। উত্তরপ্রদেশের মথুরাতেও হানা দিয়েছে পঙ্গপাল। পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে টাস্ক ফোর্স তৈরি করেছে জেলা প্রশাসন। এপ্রিলের প্রথম দিকে পাকিস্তান থেকে রাজস্থানে ঢুকেছিল পঙ্গপালের দল। সে সময় জয়পুর শহরেও দেখা গিয়েছিল পঙ্গপাল। এর পর তা ছড়িয়ে পড়েছে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ-সহ বিভিন্ন রাজ্যে। দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে পঙ্গপাল যে হানা দিচ্ছে, তা নিয়ে গত সপ্তাহেই সতর্কবার্তা জারি করেছিল কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রণালয়। এমনকি ভারতের রাজধানী দিল্লিতেও ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত বছরও গুজরাটে পঙ্গপাল হামলা চালিয়েছিল। সে সময়ে ২৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছিল ওই রাজ্যে। কিন্তু এবার আরও বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। পঙ্গপাল গড়ে ৯০ দিন জীবিত থাকে। মরু পঙ্গপালের ঝাঁক দিনে ১৫০ কিমি পর্যন্ত যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পূর্ব আফ্রিকা, দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া এবং লোহিত সাগর সংলগ্ন এলাকায় অনুকূল আবহাওয়ার কারণেই পঙ্গপালের বিপুল প্রজনন ঘটেছে। আর সেই ধাক্কাই এখন সামলাতে হচ্ছে ভারতের অন্তত পাঁচটি রাজ্যকে। সূত্র আনন্দবাজার
করাচিতে বিধ্বস্ত বিমানের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার
২৪মে,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পাকিস্তানের করাচি শহরের আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটির ব্ল্যাক বক্সটি দুর্ঘটনাস্থল থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের (পিআইএ) এক মুখপাত্র। লাহোর থেকে ছেড়ে আসা পিআইর একটি যাত্রীবাহী বিমান শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে করাচি বিমানবন্দরে অবতরণ করার সময় অল্প দূরের আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। এতে যাত্রী ও ক্রুসহ ৯৯ জনের ৯৭ জনই প্রাণ হারান। বেঁচে যান দুজন। ঘটনাস্থল থেকেই বিমানটির ডাটা রেকর্ডার তথা ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিআইর মুখপাত্র আব্দুল্লাহ খান। সিএনএনকে তিনি জানান, বিধ্বস্তের আগে বিমানটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে বলে করাচির এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে বলছিলেন পাইলট। পাকিস্তানি সূত্র মারফত সিএনএনর হাতে আসা একটি অডিও রেকর্ডে পাইলটকে বলতে শোনা গেছে- আমরা সরাসরি অবতরণ করছি। ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেছে। তখন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে বলা হচ্ছিল, বিমানটি বেলি ল্যান্ডিং করানো যাবে কিনা। ল্যান্ডিং গিয়ার কাজ না করলে এই ধরনের ল্যান্ডিংয়ের পরামর্শ দেয়া হয়। এরপর পাইলটের উত্তর স্পষ্ট শোনা যায়নি। কিন্তু কেন ল্যান্ডিং গিয়ার ব্যবহার না করার পরামর্শ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে দেয়া হচ্ছিল এর সদুত্তর পাওয়া যায়নি। পবিত্র রমজান শেষে পাকিস্তানিরা যখন ঈদুল ফিতর উদ্যাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন এমন ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশটিতে। যাত্রীদের অধিকাংশই ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফিরছিলেন।
বিশ্বে করোনায় প্রাণহানি তিন লাখ ৪৩ হাজার, আক্রান্ত ৫৪ লাখ
২৪ মে,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কোনভাবেই বাগে আনা যাচ্ছে না অদৃশ্য করোনা ভাইরাসকে। যার প্রকোপে এখনও প্রতিদিনই ঘটছে রেকর্ড আক্রান্ত, স্বজন হারাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। এশিয়া থেকে ইউরোপ, আমেরিকা থেকে আফ্রিকা সবখানে আঘাত হেনেছে ভাইরাসটি। ইতিমধ্যে করোনার শিকার হয়েছেন বিশ্বের প্রায় ৫৪ লাখ মানুষ। এর মধ্যে পৃথিবী ছাড়তে হয়েছে ৩ লাখ ৪৩ হাজারের বেশি জনকে। যার নতুন হটস্পট হতে চলেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো। অন্যদিকে, প্রতিদিনের আক্রান্তের তুলনায় সুস্থ হওয়ার হার অনেকটা কম। তারপরও প্রতিনিয়তই স্রষ্টার অপার কৃপায় বেঁচে ফিরছেন হাজার হাজার মানুষ। যার সংখ্যা পৌঁছেছে ২২ লাখ ৪৭ হাজার ২৫০ জনে। আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল পর্যন্ত বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনার শিকার হয়েছেন ৫৩ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫০ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৯৯ হাজার ৮৫৪ জন। নতুন করে প্রাণ গেছে ৪ হাজার ১৮৩ জনের। এ নিয়ে করোনাঘাতে পৃথিবী থেকে গত হয়েছেন বিশ্বের ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৬০৮ জন মানুষ। করোনা মরণ আঘাত হেনেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনাক্রান্তের সংখ্যা ১৬ লাখ ৬৬ হাজার ৮২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ২১ হাজার ৮৪৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। প্রাণ গেছে আরও ১ হাজার ৩৬ জনের। ফলে, প্রাণহানি বেড়ে ৯৮ হাজার ৬৮৩ জনে ঠেকেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত ব্রাজিলে সাড়ে তিন লাখ ছুঁই ছুই। যেখানে প্রাণহানি ২২ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে আক্রান্ত সাড়ে ১৬ হাজার, মৃত্যু হয়েছে ৯৬৫ জনের। আক্রান্তের তালিকায় তিনে থাকা রাশিয়ায় করোনার শিকার ৩ লাখ প্রায় ৩৬ হাজার মানুষ। সে তুলনায় অবশ্য প্রাণহানি অনেকটা কম পুতিনের দেশে। এখন পর্যন্ত সেখানে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৩৮৮ জনের। নিয়ন্ত্রণে আসা স্পেনে আক্রান্ত ২ লাখ সাড়ে ৮২ হাজার ৩৭০ জন। এর মধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে ২৮ হাজার ৬৭৮ জনের। যুক্তরাজ্যে সংক্রমণ ২ লাখ ৫৭ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে সেখানে ৩৬ হাজার ৬৭৫ জনের। যা করোনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া ও আংশিক লকডাউনে থাকা ইতালিতে ৩২ হাজার ৭৩৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। যেখানে আক্রান্ত ২ লাখ সাড়ে ২৯ হাজারের বেশি। দু’দিন আগে হঠাৎ করেই আক্রান্ত বাড়ে ফ্রান্সে। তবে, গত ৪৮ ঘণ্টায় কিছুটা থেমেছে প্রকোপ। ইউরোপের দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা হানা দিয়েছে ১ লাখ প্রায় সাড়ে ৮২ হাজার মানুষের দেহে। যেখানে মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ৩৩২ জনের। এদিকে আক্রান্ত দেড় লাখ পেরোনো তুরস্কে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে। যেখানে প্রাণহানি ঘটেছে ৪ হাজার ৩০৮ জনের। আর দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ভারতে। দেশটির সংক্রমিতের ১ লাখ ৩১ হাজারের বেশি। মৃত্যু হয়েছে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৮৬৮ জনের। আর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যানুযায়ী গতকাল শনিবার পর্যন্ত করোনার শিকার ৩২ হাজার ৭৮ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৪৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বেঁচে ফিরেছেন ৬ হাজার ৪৮৬ জন।
করোনা পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ঈদুল ফিতর উদযাপন
২৪ মে,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উদযাপন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। করোনা মহামারীর কারণে এ বছর মক্কা-মদিনাসহ সৌদি আরবের কোথাও ঈদের জামাতের আয়োজন নেই। সৌদি আরবে গেলো দুমাস ধরে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় বন্ধ রয়েছে। এ কারণে এবারই প্রথম রমজান মাসে মসজিদে তারাবির নামাজ পড়া থেকে বঞ্চিত হন দেশটির ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। সৌদি আরবে প্রতিবছর কয়েক লাখ মুসল্লির উপস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় মসজিদুল হারাম এবং মসজিদে নববীতে। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে এ বছর মক্কা মদিনায় ঈদের জামাত হচ্ছে না। এমন অবস্থার মধ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এদিকে, অসহায় প্রবাসীদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করছে সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।
বিশ্বব্যাপী করোনায় মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৮ হাজার
২৩ মে,শনিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারিতে বিশ্বব্যাপী আক্রান্তের সংখ্যা ৫২ লাখ। আর এ মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৮ হাজার। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ জনের এবং আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২ লাখ ১০ হাজার ৮১৭ জনে। ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২০ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪৩ জন। বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, ৯৫ হাজার ৯৭৯ জন। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যাও বিশ্বে সর্বোচ্চ, ১৬ লাখ ৯৩৭ জন। মৃতের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের পরেই উঠে এসেছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৩৬ হাজার ৪৭৫ জন। আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৪ জন। আর আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে ব্রাজিল। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৯০ জন। আর মারা গেছে ২১ হাজার ৪৮ জন। করোনায় মৃত্যুর দিক দিয়ে যুক্তরাজ্যের পরের অবস্থানে আছে ইতালি। দেশটিতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৩২ হাজার ৬১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ২৮ হাজার ৬৫৮ জন। মৃত্যুতে চতুর্থ অবস্থানে থাকা স্পেনে মারা গেছে ২৮ হাজার ৬২৮ জন ও আক্রান্ত ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮২৪ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ হাজার ২০৫ জন এবং মোট মৃতের সংখ্যা ৪৩২ জন। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় এবং ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৮৮টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯। গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
করাচিতে ১০৭ আরোহী নিয়ে বিমান বিধ্বস্ত
২২ মে,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচির একটি আবাসিক এলাকার উপর পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের (পিআইএ) একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় বহু মানুষের হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। পিআইএ এয়ারলাইন্সের বিমানটিতে ৯৯ যাত্রীসহ ১০৭ জন আরোহী ছিল। খবর আল জাজিরা, রয়টার্স ও এএফপির। লাহোর থেকে করাচিগামী বিমানটি স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে বিধ্বস্ত হয়। করাচি বিমানবন্দরে অবতরণের আগ মুহূর্তে বিমানটি মডেল কলোনি আবাসিক এলাকার কাছে এসে দ্রুত নীচে নেমে যায় এবং কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে এটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এয়ার বাস এ ৩২০ মডেলের বিমাটি বিধ্বস্ত হওয়ার কিছুক্ষণ আগে যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানিয়েছিল। কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে এ সময় পাইলটকে জানানো হয় বিমানবন্দরের দুটি রানওয়েই উন্মুক্ত রয়েছে তিনি যে কোনো একটিতে অবতরণ করতে পারেন। কিন্তু পাইলট তা না করে মধ্য আকাশে বিমানের গতি পরিবর্তন করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাস্থল থেকে কালো ধোঁয়া উড়তে এবং মানুষকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিমানটি প্রায় পাঁচটি বাড়ি জুড়ে বিধ্বস্ত হয় এবং এসব বাড়িতেও আগুন ধরে গেছে। এ ঘটনায় হতাহতের বিবরণ এখনো প্রকাশিত হয়নি। বিমানের কিছু যাত্রীর বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে পাকিস্তানের একাধিক গণমাধ্যম।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর