রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০
বৈশ্বিক বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের
২৬,জুন,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলায় বৈশ্বিক অভিন্ন প্রধান নীতি হিসেবে বিশ্বে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘ সনদের ৭৫তম বার্ষিকীর প্রক্কালে তিনি বলেন, বিশ্ব অশান্তিতে রয়েছে, করোনা ভাইরাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াই করছে, পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান বর্ণবৈষম্য এবং অসমতা মোকাবেলায় নতুন করে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার সবচেয়ে উত্তম উপায়। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আগে আমরা যে অবস্থায় ছিলাম সে অবস্থায় আবার ফিরে যেতে পারি না এবং আমরা পুনরায় এমন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে পারি না, যা পরিস্থিতিকে আরো খারাপের দিকে নিয়ে যাবে। আমাদের নতুন করে ভাবতে এবং অভিন্ন বিশ্বের উদ্ভাবনায় অবশ্যই আমাদের একত্রিত হতে হবে। আমাদের প্রয়োজন কার্যকর জোটবদ্ধতা যা বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থায় একটি কার্যকর উপাদান হিসেবে কাজ করবে, এটির এখন খুব প্রয়োজন। গুতেরেস বলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় জাতিসংঘ কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে, শিশুদের শিক্ষা এবং পরিবার ও শিশুদের পরিচর্চাকারীদের সহায়ক হিসেবে বিশ্বের ১৩০ টির বেশি দেশে ২৫ কোটি ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়া রোধে বিশ্বব্যাপী মেডিকেল সরঞ্জাম সরবরাহে জাতিসংঘের সরবরাহ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ৭৫ বছর আগে গৃহীত জাতিসংঘের বহুপাক্ষিক সম্পর্কের নীতি অনুসরণ করে করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্য জাতিসংঘ সহযোগিতা দিচ্ছে, করোনা ছড়িয়ে পড়া রোধে গত মার্চে জাতিসংঘ নিজস্ব উদ্যোগে অনেক গোলযোগপূর্ণ এলাকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সক্ষম হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে ১৯৪৫ সালের ২৬ জুন সানফ্রানসিসকোতে জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরিত হয়, যা এর চার মাস পর থেকে কার্যকর হয়।
রাশিয়ায় গিয়ে এস-৪০০সহ একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রের তদবিরে রাজনাথ!
২৪,জুন,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতীয় গণমাধ্যমের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রাশিয়ায় অবস্থানরত ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ এস-৪০০ সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়ণ ও ক্ষেপণাস্ত্র হস্তান্তর নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভিক্টরি ডে উৎসবে যোগ দিতে রাশিয়ায় যান রাজনাথ। দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ দুজনের মধ্যে কথা হয়। উভয় দেশই পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও দৃঢ় ও বৃদ্ধি করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হন বলে জানা গিয়েছে। ভারত ও রাশিয়া ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এস-৪০০ অ্যান্টি-এয়ারক্র্যাফট (বিমান-বিধ্বংসী) এই ক্ষেপণাস্ত্র যাতে যত দ্রুত সম্ভব ভারতে আসে, তার জন্য জোর তদ্বির করবেন রাজনাথ। ২০১৮ সালে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তি হয় ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ওই মিসাইল সিস্টেম ভারতে আসার কথা। কিন্তু, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভারত এখন চাইছে, সময়ের আগেই ওই ক্ষেপণাস্ত্র হাতে পেতে। পরে রুশ উপ-প্রধানমন্ত্রী ইয়ুরি বরিসভের সঙ্গে কথা বলেন রাজনাথ। বরিসভ হলেন ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, অর্থনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বিষয়ক ইন্টার গভর্নমেন্টাল কমিশনের চেয়ারম্যান। আরও বেশি সংখ্যক রুশ সুখোই-৩০এমকেআই ও মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়েও কথা হবে বলে জানা গেছে। গত বছর, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে একটি পৃথক মউ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। যার মাধ্যমে রাশিয়া থেকে ২০০টি কামোভ কেএ-২২৬ হেলিকপ্টার কেনার কথা ভারতের। এছাড়া, রাশিয়া থেকে আর-২৭ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল কেনার জন্য ১৫০০ কোটি টাকার চুক্তি করে ভারতীয় এয়ারফোর্স। ওই মিসাইলগুলি সুখোই-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
মিজোরামে ১২ ঘণ্টা পর ফের ভূমিকম্প, আবারও কাঁপলো বাংলাদেশ
২২,জুন,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে পুনরায় ভারতের মিজোরাম রাজ্যে ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারেও অনুভূত হয়েছে এর প্রভাব। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৩। সোমবার (২২ জুন) ভারতের স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৪টা ৪০ মিনিট) এ ভূমিকম্প হয় বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল মিজোরামের চম্পাই এলাকা থেকে ২৭ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে। এর গভীরতা ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ২০ কিলোমিটার। ভারতের মিজোরামে উৎপত্তি হওয়া মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও অনুভূত হয়েছে। তিন পার্বত্য জেলা এবং চট্টগ্রাম মহানগরী ও এর আশপাশের উপজেলাগুলোতে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এদিকে মিজোরামের পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেশ কিছু জায়গায় এ ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মিয়ানমারেও। সর্বশেষ এ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইন্ডিয়া টুডে জানায়, এর ১২ ঘণ্টা আগে রোববার (২১ জুন) বিকেল সোয়া ৪টায়ও ৫.১ মাত্রা ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে মিজোরাম। আইজল অঞ্চলের ওই ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৩৫ কিলোমিটার। আসাম, মেঘালয়, মণিপুরেও তার প্রভাব পড়ে। এরও আগে গত ১৮ জুন ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয় মিজোরামে। চম্পাই এলাকার ওই ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল ভূমি থেকে ৮০ কিলোমিটার।
চীনে মার্কিন কোম্পানির মুরগির মাংস নিষিদ্ধ
২২,জুন,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চীনের রাজধানী শহর বেইজিংয়ে কিছুদিন ধরেই নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠান থেকে মুরগির মাংস আমদানি নিষিদ্ধ করেছে বেইজিং কর্তৃপক্ষ। জানা যায়, টাইসন ফুডস নামের একটি মার্কিন কোম্পানির হিমায়িত মুরগির মাংস চীন আমদানি করতো। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত তাদের একটি উৎপাদন কারখানায় সম্প্রতি কোভিড-১৯ সংক্রমণ দেখা দেবার পর আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এ কোম্পানির যেসব পণ্য চীনে ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছে, তা বাজেয়াপ্ত করা হবে বলেও চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সেই সঙ্গে পেপসির একটি ফ্যাক্টরিও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বেইজিংয়ে। এদিকে টানা প্রায় দুই মাস পর বেইজিংয়ে নতুন করে সংক্রমণের পর ২২০ জনেরও বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বেইজিং শহরের ২০ লাখ বাসিন্দাকে টেস্ট করিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে, বেইজিংয়ের একটি পাইকারি বাজার থেকে নতুন করে এই সংক্রমণ শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে লকডাউন আরোপ করা হয়েছে বেইজিংয়ের অনেক এলাকায়।
বোল্টনের বই আটকাতে পারলেন না ট্রাম্প
২১,জুন,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের লেখা একটি বইয়ের প্রকাশ আটকে দিতে ব্যর্থ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বইটি যাতে প্রকাশ না হয় সেজন্য তিনি আদালতকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্পের সে অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন একজন বিচারক। তবে আদালত বইটির সমালোচনা করেছেন। বোল্টনের বই - দ্য রুম হোয়্যার ইট হ্যাপেন্ড (যে ঘরে এসব ঘটেছে) প্রকাশ হতে যাচ্ছে ২৩ জুন। বলা হচ্ছে, এই বইয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদদ্ধে মারাত্মক সব দাবি করেছেন বোল্টন। আমেরিকার বিচার বিভাগের যুক্তি ছিল বইটিতে যেসব বিষয় রয়েছে তা ছাপানোর আগে যথাযথভাবে যাচাই করে দেখা হয়নি। বোল্টন আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে জুয়া খেলেছেন এবং দেশকে ক্ষতির মুখে ফেলেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ওয়াশংটন ডিসিতে ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক রয়েস ল্যামবার্থ। কিন্তু রায় দেওয়ার বেলায় তিনি বলেছেন, প্রকাশনাটিতে নিরাপত্তাজনিত যেসব উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে ইঞ্জাংশনই যে তার যথাযথ প্রতিকার যুক্তরাষ্ট্রের সরকার তা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। বোল্টনের দাবিগুলোর বেশিরভাগেরই ভিত্তি ব্যক্তিগত কথাবার্তা। ফলে সেগুলো যাচাই করা অসম্ভব। ট্রাম্প প্রশাসন এরইমধ্যে বোল্টনের সেসব দাবি নাকচ করে দিয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, বোল্টনের বই মিথ্যা কাহিন আর আষাঢ়ে গল্পে ভরা। বইয়ে বোল্টন যেসব দাবি করেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যাতে জিততে পারেন তার জন্য চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাহায্য চেয়েছিলেন। তিনি লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট কৃষকদের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এবং নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করতে চীনে সয়াবিন এবং গমের বিক্রি বাড়িয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্প সে সময় বলেন, শিনজিয়াং এলাকায় মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বন্দী শিবিরে আটকে রাখার চীনা সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফৌজদারি তদন্তকাজে নাক গলাতে আগ্রহ দেখিয়েছেন যেসব একনায়কদের তার পছন্দ, তাদের ট্রাম্প তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইপ এরদোয়ানকে বলেছিলেন, তিনি নিজে এই তদন্তের দেখভাল করবেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানতেন না ব্রিটেন পরমাণু শক্তিধর দেশ এবং একবার তার ঊর্ধ্বতন একজন সহযোগীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ফিনল্যান্ড রাশিয়ার অংশ কিনা।
ব্রাজিলে করোনা আক্রান্ত ১০ লাখ ছাড়ালো
২০জুন,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ব্রাজিলে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্তের সংখ্যা মোট ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। শনিবার (২০ জুন) সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে করোনার সার্বক্ষণিক পরিসংখ্যান প্রদানকারী ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের সবশেষ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ব্রাজিলে করোনারোগীর সংখ্যা এখন ১০ লাখ ৩৮ হাজার পাঁচশ ৬৮ জন। এ সময়ে নতুন করে আরও ১৩৬ জনের মৃত্যুর পর দেশটিতে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা এখন ৪৯ হাজার ৯০ জন। দেশটির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটির প্রকৃত অবস্থা খুব ভয়াবহ। আক্রান্তের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। পর্যাপ্ত টেস্ট হচ্ছে না বলেই আক্রান্তের সংখ্যা কম দেখাচ্ছে। ব্রাজিলে লকডাউন সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় সংক্রমণ বেড়েছে এটা আরও বাড়তে থাকবে বলে শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। দেশটিতে প্রথম করোনারোগী শনাক্ত হয় ২৬ ফেব্রুয়ারি। প্রাদুর্ভাব শুরুর প্রথমদিকে দেশটিতে ভাইরাসটির প্রকোপ ততটা না ছড়ালেও মে ও জুন থেকে প্রকোপ তরতর করে বাড়ছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট প্রথমে ভাইরাসটিকে সামান্য ফ্লু বলে অভিহিত করার মাশুল দিতে হচ্ছে পুরো দেশটিকে।
দ্বিতীয় দফা আলোচনাও ব্যর্থ, লাদাখে শক্তি বাড়াচ্ছে চীন
১৯জুন,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চীনের মার্কেটে ৫১৬১টি পণ্যের শুল্ক মুক্ত রপ্তানির সুবিধা পেয়েছে বাংলাদেশ। আগামী ১ জুলাই থেকে এই সুবিধা কার্যকর হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য জানায়। সূত্র জানায়, চীন বাংলাদেশের জন্য যেসব পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে, তার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ চীনা বাজারে মোট রপ্তানি পণ্যের ৯৭ শতাংশই শুল্ক মুক্ত সুবিধা পাবে। চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাহবুব উজ জামান বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চীনা শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন। সেই বার্তায় ৫১৬১টি পণ্যের শুল্ক মুক্ত রপ্তানির সুবিধার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে দিয়ে চীনা বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির দুয়ার খুলবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেছেন, বাংলাদেশ যে অর্থনৈতিক কূটনীতি চালু করেছে, এটা সেদিক থেকে খুব বড় একটা অর্জন। চীন সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির বাজারে বাংলাদেশ যত পণ্য পাঠাবে তার ৯৭ শতাংশই শুল্ক মুক্ত সুবিধা পাবে। এটাকে এক অর্থে শতভাগ শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধাও বলা হচ্ছে। কারণ বাংলাদেশ থেকে যত ধরনের পণ্য চীনে রপ্তানি হয় তার মধ্যে মাত্র তিনটি বাদে সবই বিনা শুল্কে দেশটির বাজারে ঢুকতে পারবে। এদিকে, বাংলাদেশ সরকার তথা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে এমন সুবিধার অনুরোধ করে চীন সরকারকে চিঠি দেয়া হয়। এ অনুরোধের প্রেক্ষিতে চীনের স্টেট কাউন্সিলের ট্যারিফ কমিশন সম্প্রতি এ সুবিধা প্রদান করে নোটিশ জারি করে। বাংলাদেশ আগে থেকে চীনে ‍Asia Pacific Trade Agreement (APTA) এর আওতায় ৩ হাজার ৯৫টি পণ্যের শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা ভোগ করে আসছে। নতুন করে দ্বিপক্ষীয় সুবিধা প্রাপ্তির ফলে এখন চীনে বাংলাদেশের ৮ হাজার ২৫৬টি পণ্য বিনা শুল্কে ঢুকবে।
দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ী হতে জিনপিংয়ের সাহায্য চেয়েছিলেন ট্রাম্প
১৮জুন,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় জয়ের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাহায্য পেতে চেষ্টা করেছিলেন। এই তথ্য নিজের লেখা বইতে প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। নতুন এই বইটিতে বোল্টন দাবি করেছেন, ট্রাম্প চেয়েছিলেন চীন মার্কিন কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য কিনুক। জাপানের ওসাকায় গত বছরের জুনে জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প এবং শির মধ্যে হওয়া এক বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়। দ্য রুম হোয়্যার ইট হ্যাপেনড' নামের বইটি ২৩শে জুন প্রকাশ হবার কথা রয়েছে। জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউজ বলেছিল বইটিতে টপ সিক্রেট' তথ্য এবং বর্ণনা রয়েছে, যা অবশ্যই বাদ দিতে হবে। তবে বোল্টন সে সময় তা নাকচ করে দিয়েছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন বিচারের ক্ষেত্রে যেসব প্রশ্ন উঠেছিল, তাও এই বইটিতে স্থান পেয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত নতুন এই বইটির সারসংক্ষেপে বোল্টন দাবি করেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেছিলেন যে কিছু মার্কিন সমালোচক চান চীনের সঙ্গে যাতে নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়। এ অভিযোগে ট্রাম্প ভেবেছিলেন হয়তো ডেমোক্রেটিক প্রতিপক্ষের কথা বলছেন শি জিনপিং। বোল্টন বলেছেন, এরপর বিস্ময়করভাবেই ট্রাম্প আলোচনা ২০২০ সালে অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিকে ঘুরিয়ে দেন। চীনের অর্থনৈতিক সামর্থ্যের কথা উল্লেখ করে নির্বাচনে জেতার জন্য শি জিনপিংয়ের সাহায্য চান ট্রাম্প। এ সময়ে কৃষকদের গুরুত্বের ওপর এবং দেশটি থেকে চীনের সয়াবিন ও গম ক্রয়ে বর্ধিত হারের ওপর বার বার জোর দিচ্ছিলেন ট্রাম্প। বইটিতে বোল্টন উল্লেখ করেন, এর পরই মি. শি যখন বাণিজ্য আলোচনায় কৃষি উৎপাদনের ওপর জোর দেয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তখন ট্রাম্প তাকে চীনের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নেতা' বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে বোল্টনের বক্তব্যকে নাকচ করে দিয়ে মার্কিন ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ রবার্ট লাইথিজার বলেছেন, চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ওই আলোচনায় দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে জেতার ব্যাপারে কোন আলোচনা হয়নি। ২০১৮ সালের এপ্রিলে হোয়াইট হাউজে যোগ দেন জন বোল্টন। একই বছরের সেপ্টেম্বরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দেবার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রেসিডেন্টের সাথে মতানৈক্য হবার কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
চীনেরও ৪৩ সৈন্য হতাহত: দাবি ভারতের
১৭জুন,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: লাদাখ সীমান্তের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চীন সেনাবাহিনীর সংঘাতে দুই দেশের কমপক্ষে ৬০ জন সেনা অফিসার ও জওয়ান হতাহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ভারতের দাবি এদের মধ্যে ৪৩ জনই চীনা সৈন্য। তবে এদের মধ্যে কতজন আহত বা নিহত হয়েছে তা কোনো পক্ষই নিশ্চিত করে নি। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে এ হামলায় ভারতের ২০ সেনা নিহত হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৫ জুন) রাতে হামলার ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন ওই সীমান্ত সংঘাতে। সরকারি সূত্রের মতে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে। ভারতীয় বাহিনীর প্রত্যাঘাতে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির সেনা জওয়ানদের হতাহতের সংখ্যা তুলনায় এখনও পর্যন্ত বেশি। পিএলএ'র অন্তত ৪৩ জন সৈনিক হতাহত হয়েছে বলে ভারতীয় সেনা গোয়েন্দারা বেতারে আড়ি পেতে জানতে পেরেছে। এর আগে, ১৯৭৫ সালে ভারত-চীন সীমান্তে শেষবার কোনও সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর থেকে ওয়েস্টার্ন সেক্টরে লাদাখে বা ইস্টার্ন সেক্টরে অরুণাচলে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে হাতাহাতি-মারামারি কম হয়নি। কিন্তু এ ধরনের প্রাণঘাতী মারামারি কখনও হয়নি। অবাক করার বিষয়; এই সংঘাতে কোনও পক্ষই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেনি। লোহার রড, লাঠি, পাথর নিয়ে হামলা করেছে চীনা সেনা। তারপরই প্রত্যাঘাত করেছে ভারতীয় সেনারা। উল্লেখ্য, ভারত ও চীনের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশ দুটি বেশ কিছুদিন ধরে সীমান্তে ভারী অস্ত্র মজুত করেছে। পূর্ব লাদাখের সীমান্ত অঞ্চলে ধীরে ধীরে এসব অস্ত্র নিয়েছে দুই দেশ। ভারী অস্ত্রের মধ্যে কামান এবং যুদ্ধের গাড়িও রয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘাতের পরিবেশ বিরাজ করায় এসব অস্ত্রের মজুত করা হয়েছে। কিছুদিন আগে ভারতীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছিল, চীন সেনাবাহিনী সীমান্তের যে এলাকায় রয়েছে সেখান থেকে ভারতের অংশে ঢুকতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা লাগবে। লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের বিভিন্ন জায়গায় ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়াচ্ছে চীনা বাহিনী। ভারতীয় সূত্রের বরাতে খবরে বলা হয়, চীনের সেনাবাহিনী লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের কাছের ঘাঁটিগুলিতে নানান যুদ্ধের গাড়ি ও ভারী যুদ্ধের সঞ্জাম নিয়ে এসেছে। বিষয়টি জানতে পেরে ভারতও আর্টিলারের মতো অস্ত্র ওই এলাকায় পাঠিয়েছে। এদিকে ভারত সীমান্ত থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে পুরোদস্তুর বিমানঘাঁটি গড়ে তুলছে চীন। তাদের ঘাঁটিতে জে-১১ বা জে-১৬ যুদ্ধ বিমানও রয়েছে। গত ২৬ মে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর দেয়। খবরে বলা হয়, লাদাখে প্যাংগং লেকের ২০০ কিলোমিটার দূরে তিব্বতের গাড়ি কুনসায় দশ বছর আগেই একটি বিমানবন্দর বানিয়েছে চীন। বেইজিং তখন জানিয়েছিল, অসামরিক বিমান পরিবহণের জন্যই ওই বিমানবন্দর তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে, গত এক মাসে ওই বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের কাজ রাতারাতি বেড়ে গেছে। এবং সেখানে রীতিমতো একটি বিমানঘাঁটি তথা এয়ারবেস বানিয়ে ফেলেছে চীন। উপগ্রহ চিত্রে দেখা যাচ্ছে, সেখানে যুদ্ধবিমানও দাঁড় করিয়ে রেখেছে চীনের বিমানবাহিনী।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর