স্পেনে মৃত্যুর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে
0২এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্পেনে কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না করেনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। সরকারের ব্যাপক বিধি-নিষেধেও লাভের লাভ তেমন চোখে পড়ছে না। এরিমধ্যে দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে মারা গেছেন ৯৫০ জন। খবর বিজনেসট ইনসাইডার ইউকের। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একদিনে আর আর কোনো দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এত বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে গত ২৭ মার্চ ইতালিতে একদিনে রেকর্ড ৯২৯ জন মারা গিয়েছিলেন। আজ সেই সংখ্যাও ছাড়িয়ে গেল স্পেনে।ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালির পর করোনার ভয়াবহ প্রকোপের মুখোমুখি হয়েছে স্পেন। বুধবার দেশটিতে ৭ হাজার ৭১৯ জন করোনায় আক্রান্ত হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় সেই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে; নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ১০২ জন। এ নিয়ে ইউরোপের এই দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ২৩৮ জনে।করোনার প্রাদুর্ভাব দ্রুতই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে স্পেনের সরকারের পক্ষ থেকে যে আশার বানী শোনানো হয়েছিলো বৃহস্পতিবারের মৃত্যুর সংখ্যা তাতে জল ঢেলে দিয়েছে। একদিন আগেই দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্যালভাদর ইলা বলেছিলেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে এবং আমরা করোনার একটি ধীরগতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।এর আগে গত ১৪ মার্চ জরুরি অবস্থা জারির পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার ও ওষুধের দোকানপাট ছাড়া অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে স্পেন। দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয় বলছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে শুধু মার্চেই দেশটিতে তিন লাখের বেশি মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন।
এখনই হজের পরিকল্পনা নয়
0১এপ্রিল,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক:,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে এখনই হজের পরিকল্পনা করতে নারাজ সৌদি আরব। আরব নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়ার আগ পর্যন্ত হজের ব্যাপারে কোনও চুক্তি না করতে মুসলিম বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদ। করোনার ভয়ে গত মাসের শুরুর দিকে মৌসুমের ওমরাহ স্থগিত করা হয়। অভূতপূর্ব এই পদক্ষেপের কারণে এবছরের হজ নিয়ে তখনই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। আরব নিউজ জানিয়েছে, দেশটির হজ ও ওমরাহ বিষয়কমন্ত্রী মোহাম্মদ সালেহ বেনতেন মঙ্গলবার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে এ প্রসঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, হজ ও ওমরাহ পালনে ইচ্ছুকদের সেবায় সৌদি আরব পুরোপুরি প্রস্তুত। বেনতেন বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে আমরা যখন বৈশ্বিক মহামারি মোকাবেলা করছি, তখন সৌদি আরব মুসলিমসহ অন্য নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাই পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত হজের বিষয়ে কোনও চুক্তিতে না যেতে আমরা সব দেশের মুসলিম ভাইদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। জুলাইয়ে অনুষ্ঠেয় এক সপ্তাহের হজ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ২৫ লাখ মুসলিম এবারও আসার কথা। ওই সময় তারা মক্কা ও মদিনা শহরের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। হজ মৌসুমে যে আয় হয় তা সৌদি আরবের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখে। ওমরাহ হজ স্থগিত ছাড়াও ভাইরাস ছড়ানো ঠেকাতে সৌদি আরব সব আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রেখেছে এবং গত সপ্তাহে মক্কা-মদিনা সহ কয়েকটি শহরে আগমন-বহির্গমন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
করোনা আক্রান্ত হয়েও দায়িত্ব পালনে পিছপা হননি সিএনএন সাংবাদিক
0১এপ্রিল,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনা আক্রান্ত হয়েও দায়িত্ব পালনে কোন অবহেলা করেননি বার্তা সংস্থা সিএনএনর উপস্থাপক অ্যাঙ্কর ক্রিস কুওমো। শরীরে জ্বর নিয়েই চালিয়ে গেছেন সিএনএন-এ তার নিয়মিত প্রোগ্রাম কুওমো প্রাইম টাইম। তিনি বলেন, তিনি ভালোবোধ করছেন তাই তিনি তার প্রোগ্রাম চালিয়ে যাবেন। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্ক সিটির হাডসন ইয়ার্ডস পাড়ায় তার বাড়ির বেজমেন্টে কোয়ারেন্টাইনে আছেন। আর সেখান থেকেই তার প্রোগ্রাম লাইভ করছেন। করোনা পজেটিভ আসার পর তিনি জানান, আমরা এর বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ আছি এবং আমরা একে পরাজিত করবো। এসময় তিনি তার বেজমেন্টে আছেন এবং এটি বাড়ি থেকে একদম পৃথক করে রাখা হয়েছে এমনকি তার কুকুরও সেখানে প্রবেশের কোন সুযোগ পায়না বলে জানিয়েছেন তিনি। এরআগে, মঙ্গলবার তিনি জানিয়েছিলেন তার করোনা টেস্টে রেজাল্ট পজেটিভ এসেছে। বর্তমানে করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে সিএনএনর বেশিরভাগ গণমাধ্যমকর্মী কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়ি থেকে কাজ করছেন। ছোট স্টুডিও এবং হোম অফিসগুলি থেকে তাদের সম্প্রচার করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সংকটে বিশ্ব
0১ এপ্রিল,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মহামারি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই মহামারি কঠিন অর্থনৈতিক মন্দা এনে দিতে পারে, যার সমকক্ষ সম্ভবত বিগত অতীতে দেখা যায়নি। আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ডের ওপর করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য প্রভাব শীর্ষক জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে এ আশঙ্কার কথা জানান জাতিসংঘ মহাসচিব। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বিশ্বে লাশের মিছিল শুধু দীর্ঘই হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী ভাইরাসটিতে প্রাণহানির সংখ্যা ৪২ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত সাড়ে আট লাখের বেশি মানুষ। এরমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ৮৮ হাজারের বেশি। দেশটিতে এরইমধ্যে প্রাণহানি ছাড়িয়েছে চার হাজার। হোয়াইট হাউস শঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে এক থেকে দুই লাখের বেশি মানুষ মারা যেতে পারে। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও স্পেনে একদিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানি রেকর্ড করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় ৬০ পত্রিকার ছাপা বন্ধ,অনলাইন সচল
0১ এপ্রিল,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনা ভাইরাসে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করায় ৬০ টি পত্রিকার ছাপার সংস্করণ বন্ধ হয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ায়। আজ বুধবার মিডিয়া গ্রুপ নিউজ করপোরেশন বলেছে, তারা ছাপার সংস্করণ বন্ধ করলেও অনলাইন সচল থাকবে। অনলাইন বিবিসি এ খবর দিলেও কোন কোন পত্রিকার ছাপা বন্ধ হয়েছে সে বিষয়ে কোনো তালিকা প্রকাশ করে নি। তাৎক্ষণিক রিপোর্টে বলা হয়েছে এসব কথা। নিউজ করপোরেশন অস্ট্রেলিয়ার প্রধান মাইকেল মিলার বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত আমরা হালকাভাবে নিই নি। তিনি এমন সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, এমনিতেই মিডিয়া খাত বড় সমস্যার মধ্যে পড়েছে। পত্রিকা বিলিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তা ছাড়া বিজ্ঞাপনে ধস নেমেছে।ফলে এ শিল্প আরো একটি বড় আঘাতে পড়েছে।
বেদনাদায়ক পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকুন, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র
0১এপ্রিল,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র। তাই সব মার্কিনীকে সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করতে উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। কর্মকর্তারা সতর্কতা দিয়েছেন আগামী কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ থেকে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ করোনা ভাইরাসে মারা যেতে পারেন। নিউ ইয়র্কের হাসপাতালগুলোর মর্গ উপচে পড়ছে মৃতদেহ। এখন আর মৃতদেহ রাখার জায়গা নেই। হাসপাতালের বাইরে রেফ্রিজারেটর ট্রাকের ভিতর সারিবদ্ধ রাখা হয়েছে মৃতদেহ। টাইমস অব ইসরাইল, অনলাইন বিবিসিসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় এ খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। করোনা ভাইরাস মহামারি সামাল দিতে বিশ^জুড়ে জাহাজ, স্টেডিয়াম, পার্ককে অস্থায়ী হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হয়েছে। মানবজমিন । মঙ্গলবার েেস্পন ও ফ্রান্সে মারা গেছেন কমপক্ষে ৮০০ মানুষ। বৃটিশ সরকার তার দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। বিশ^জুড়ে এখন কমপক্ষে ৮ লাখ মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত। এমন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সামনে আরো অত্যন্ত কঠিন বেদনাদায়ক সময় অপেক্ষা করছে। এ জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে তিনি তার নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, পীড়াময় ওই সময়কে আলিঙ্গন করতে প্রস্তুত থাকা উচিত। সবচেয়ে খারাপ কথা হলো সামনের কয়েক সপ্তাহ বা মাসে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে আড়াই লাখ মানুষ মারা যেতে পারেন বলে প্রক্ষেপন বা প্রজেকশনে বলা হচ্ছে। তাই এই মহামারিকে একটি প্লেগ-এর মতো আখ্যায়িত করে হোয়াইট হাউজ থেকে বক্তব্য রাখছিলেন প্রসিডেন্ট ট্রাম্প। তার ভাষায়, সামনের দুটি সপ্তাহ হবে অত্যন্ত কঠিন বেদনাদায়। কঠিন এক বেদনাদায়ক অবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে পরিস্থিতি। সামনের এই কঠিন দিনগুলোর জন্য প্রস্তাত থাকার জন্য প্রতিটি মার্কিনীর প্রতি আমি আহ্বান জানাচ্ছি।
বৃটেনে হু হু করে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা
১এপ্রিল,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:লকডাউনের পর এক সপ্তাহ কেটে গেছে বৃটেনে। থমকে গেছে জীবনযাত্রা। প্রগতির দেশ যুক্তরাজ্য এখন কার্যত স্থবির। অফিস, আদালত, শপিং মল, সিটি সেন্টার থেকে সাধারণ দোকানপাট সবই। কয়দিন আগেও যেখানে লোকজনের আনাগোনায় মুখরিত থাকতো সেখানে এখন সুনসান নীরবতা। রাস্তাঘাটে যানবাহন খুবই কম। লোকজন ঘরবন্দি।কিন্তু এখনো হু হু করে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর ঘটনা। সবচেয়ে বেশী মৃত্যু ঘটেছে লন্ডনে, তারপরই বার্মিংহামের অবস্থান। তবে পরিস্থিতি তুলনামূলক নিয়ন্ত্রনে আছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দান আয়ারলযান্ডে। লকডাউনের আগে যারা সংক্রমিত হয়েছেন তাদের শরীরে ভাইরাসের লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে ফলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। যাদের আগে থেকেই বয়সজনিত বা অন্যান্য শারীরিক জটিলতা রয়েছে তারা দ্রুতই কাবু হচ্ছে করোনায়। মৃতের সংখ্যা বাড়ছে তাই। সংক্রমন বিস্তাররোধে লকডাউনের ঘোষনা দেয়ার পর দেখা যাচ্ছে তার কঠোর বাস্তবায়ন। পাশাপাশি চিকিৎসাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নাগরিকদের মোবাইল বার্তার মাধ্যমে ঘরে থাকার নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন পরীক্ষা করা হচ্ছে হাজার হাজার রোগির। আক্রান্তদের মধ্যে যারা প্রাথমিক স্তরে রয়েছেন তাদের পাঠানো হচ্ছে আইসোলেশনে।গুরুতর আক্রান্তদের ভর্তি করা হচ্ছে হাসপাতালে। সরকারের তরফে লন্ডন, বার্মিংহাম ও মানচেস্টারে চালু করা হচ্ছে তিনটি অস্থায়ী বিশেষ হাসপাতাল। এই তিন হাসপাতাল মিলিয়ে শয্যা থাকবে ১০ হাজার। পাশাপাশি বার্মিংহাম বিমানবন্দরের একটি অংশে ১৫০০ মৃতদেহ রাখার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে মর্গ। জাতীয় স্বাস্হ্য সংস্থা এনএইচএস তাদের অবসরে যাওয়া স্বাস্থ্যকর্মীদের তলব করেছে। স্বেচ্ছাসেবি হিসেবে কাজ করার জন্য আবেদন আহ্বানের পর বিপুল সাড়া পড়েছে সে আহ্বানে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছেন ইতালীর মতো বড় ধরনের বিপর্যয়ের শিকার হতে পারে বৃটেন। ২৮ মার্চ এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের কমিউনিটি সেক্রেটারি রবার্ট জেরনিক বলেছেন, ‘দেশের সব জায়গা এখন জরুরি অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এটি শান্তির সময়ের এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আমরা এ জাতীয় কিছু করিনি।এর অর্থ এই যে আমরা পুরো দেশ জুড়ে কৌশলগত সমন্বয় কেন্দ্র স্থাপন করছি।’ ২০২০ সালের জানুয়ারীর শেষে যুক্তরাজ্যে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগি সনাক্ত হয়। ফেব্রুয়ারি জুড়ে বেশ কয়েকজন লোকের করোনা টেস্ট পজেটিভ আসে। মার্চের শুরুতে যুক্তরাজ্যের পরিসংখ্যান বাড়তে শুরু করে। মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে এসে এই সংখ্যা এখন অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পায়। মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে হু হু করে। শনিবারে প্রতিদিনের নিশ্চিত হওয়া মামলার আগের দিনের তুলনায় ২,৫০০-রও বেশি লাফিয়ে উঠেছে। সবচেয়ে আতংকের বিষয় হচ্ছে আক্রান্তের মতোই ইংল্যান্ডে অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাড়ছে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ষাটোর্ধ বয়সি মানুষের সংখ্যাই বেশি। তবেত্রিশের কোটার বয়সিও রয়েছে মৃতের তালিকায়। যুক্তরাজ্যের বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ইংল্যান্ডে। মূলত লন্ডনে। লন্ডনে এপর্যন্ত সাড়ে তিনশ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। ৩০ মার্চের সরকারী পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, লন্ডনে এখন আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার। লন্ডনের সাউথওয়ার্ক, ল্যাম্বেথ, ব্রেন্ট, ক্রয়েডন, ওয়ান্ডসওয়ার্থ সবখানেই প্রতিদিন সনাক্ত হচ্ছে উল্লেখ যোগ্য সংখ্যক আক্রান্ত। লন্ডনের বাইরে বার্মিংহাম, শেফিল্ড এবং হ্যাম্পশায়ারই বেশি। বার্মিংহাম সিটিসহ আশপাশের টাউনগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। তবে বৃটেনের অপর তিন অংশ স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডেপরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। এই তিন দেশে মৃতের সংখ্যা ১০০ পেরোয়নি। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ২৩ শে মার্চ এই রোগের অপ্রয়োজনীয় সংক্রমণ এড়াতে লোকজনকে ঘরেই থাকার আহ্বান জানিয়েলকডাউন ঘোষণা করেছেন। তারপর তিনি নিজেই ভাইরাস পরীক্ষায় পজেটিভ হয়েছেন। ব্রিটিশ রাজপরিবারের সিনিয়র সদস্যপ্রিন্স চালর্স করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। দুটো ঘটনাই সবার জন্য আলার্মিং। এনএইচএস ইংল্যান্ডের চিকিত্সক পরিচালক স্টিফেন পাওস সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাজ্য যদি মৃতের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে আমাদের প্রত্যেকেরই ভূমিকা রাখতে হবে।বৃটেনের আশংকার কারণ হচ্ছে, দেশে শ্বাস-প্রশ্বাসের সংক্রমণে আক্রান্তদের প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি। ফলে করোনা ঝুঁকিরমাত্রাও অত্যাধিক। ইংল্যান্ডের হাসপাতাল কর্মীরা ডাক্তার-নার্স থেকে শুরু করে প্রতিদিন হাজার হাজার লোকের করোনা টেস্ট করছেন। পেশাগত কারণে ঝুঁকির শীর্ষে রয়েছেন চিকিৎসক ও নার্স। ইংল্যান্ডের পাশাপাশি ওয়েলস, স্কটল্যান্ড এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে স্বাস্থ্য কর্মীদের ইতিমধ্যে পরীক্ষা করা হচ্ছে। হাসপাতালের প্রতিনিধিত্বকারী এনএইচএস সরবরাহকারী ক্রিস হপসনের মতে লন্ডনের হাসপাতালগুলো করোনা ভাইরাসরোগের শুনানীর মুখামুখি হচ্ছে এবং নিবিড় পরিচর্যা শয্যা শেষ হতে শুরু করেছে। পূর্ব লন্ডনের এক্সকেল প্রদর্শনী কেন্দ্রটি রূপান্তর করা হচ্ছে একটি ফিল্ড হাসপাতালে। যেখানে সর্বমোট চার হাজার রোগী ভর্তি রাখা যাবে। এছাড়া ইংল্যান্ডে আরও দুটি অস্থায়ী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছে সরকার। যার একটি বার্মিংহামের এনইসি কেন্দ্রে পাঁচ হাজার শয্যা এবং অন্যটি ম্যানচেস্টারের কনভেনশন কমপ্লেক্সে এক হাজার শয্যা বিশিষ্ট। অন্যদিকে বার্মিংহাম বিমানবন্দরের কিছু অংশে একটি মর্গে পরিনত করার কাজ শুরু হয়েছে। যেখানে কমপক্ষে ১,৫০০ মৃতদেহ রাখা যাবে। যদি মৃতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এটি ব্যবহ্নত হবে। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবসরপ্রাপ্ত এনএইচএস কর্মীদের কাজে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। দুর্বলদের জন্য খাবার ও ওষুধ সরবরাহে সহায়তার জন্য এনএইচএস যে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের ঘোষনা দেয় তাতে বিপুল পরিমান (প্রত্যাশার চেয়ে বেশী) আবেদন জমা পড়েছে। জন হপকিন্স ইউভার্সিটির ২৬ মার্চ প্রকাশিত এক গবেষনার গ্রাফ করে ইউরোপের দেশগুলোর পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। সে গ্রাফ অনুযায়ী ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় বিপর্যস্ত দেশ ইতালি। ইতালিতে মৃত্যুর সংখ্যা গড়ে প্রতি তিন দিনে দ্বিগুণ হয়েছে। তবে লকডাউন পরবর্তি এই বর্ধনের ধীর গতিতে এটি ইঙ্গিত দেয় যে মহামারীটির ক্রমটি পরিবর্তিত হচ্ছে। অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোর তুলনায় ব্যতিক্রম কেবল স্পেন। এখানে মৃত্যুর হার অত্যন্ত বেশী। সে গ্রাফমতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য কি ইতালির মতো সংক্রমন ও মৃতের সংখ্যায় শিখরের পৌঁছানোতে কয়েক সপ্তাহ পিছনে রয়েছে? তবে তারা কোনো সরাসরি উপসংহারে আসেনি। তারা বলেছে, প্রতিটি দেশে আলাদা আলাদা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা রয়েছে এবং ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছে। মৃত্যুর সংখ্যা ভাইরাসের সংক্রমণ এবং লোকেরা যখন তাদের কাছে নিয়ে যেতে পারে তখন যে চিকিত্সা ব্যবহার করতে পারে তার উপর নির্ভর করে। প্রতিটি দেশের ভবিষ্যত সরকার এবং নাগরিকরা যেপদক্ষেপ নেয় তার উপর নির্ভর করে।
করোনায় আক্রান্ত ছাড়ালো ৫ লাখ, শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র
২৭মার্চ,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের ছোবল যেন দিন দিন বাড়ছেই। বিশ্বব্যাপি কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে এই ভাইরাস। এরই মধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখেরও বেশি মানুষ। অন্যদিকে মারা গেছেন ২৪ হাজার ৭৩ জন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও লড়াই করে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪২ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে এখন পর্যন্ত ৮৩,৫০০ জনেরও বেশি মানুষের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী আক্রান্তের সংখ্যার হিসেবে চীন (৮১,৭২৮ জন) এবং ইতালিকে (৮০,৫৮৯) ছাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ভাইরাসের প্রকোপে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর সংখ্যা এই দুই দেশের তুলনায় কম। যুক্তরাষ্ট্রে ভাইরাসের কারণে এ পর্যন্ত মারা গেছেন প্রায় ১২০০ জন। যেখানে চীনে করোনাভাইরাসে মোট মৃত্যু হয়েছে ৩,২৯১ জনের এবং ও ইতালিতে মারা গেছেন ৮,২১৫ জন। এদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে হোয়াইট হাউজে সংবাদ সম্মেলনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যাপক হারে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স জানান যে দেশটির ৫০টি রাজ্যেই এখন করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার ব্যবস্থা রয়েছে এবং সারাদেশে ৫ লাখ ৫২ হাজারের বেশি পরীক্ষা করা হয়েছে। চীনে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে বেইজিংয়ের প্রকাশিত তথ্য সম্পর্কে সন্দেহও প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আপনি সঠিকভাবে জানেন না চীনে আসল সংখ্যাটা কত।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর