ভারতের নতুন কেবিনেট সচিব রাজীব
২২আগস্ট,বৃহস্পতিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম:ভারতের বর্তমান স্বরাষ্ট্র সচিবকে কেবিনেট সচিব করা হয়েছে। ৩০ আগষ্ট থেকে আগামী দুই বছরের জন্য তিনি এই দায়িত্বে থাকবেন। কেবিনেটের নিয়োগ কমিটি তাকে এই পদে নিয়োগ করেছে। তিনি বর্তমান কেবিনেট সচিব পি কে সিনহার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। তবে কেবিনেট সচিব পদের পূর্ণ দায়িত্ব নেবার আগে পর্যন্ত তাকে কেবিনেট সচিবালয়ের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটিতে নিয়োগ করা হয়েছে। ১৯৮২ ব্যাচের ঝাড়খন্ডের এই আইএএস অফিসারকে ২০১৭ সালের ৩১ আগষ্ট স্বরাষ্ট্র সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিরক্ষা উৎপাদন দপ্তরের সচিব অজয় কুমারকে প্রতিরক্ষা সচিব পদে নিয়োগ করা হয়েছে। এই পদে দুবছরের বেশি সময় ছিলেন সঞ্জয় মিত্র। প্রতিরক্ষা উৎপাদন সচিব পদে আনা হয়েছে সুভাষ চন্দ্রকে। এছাড়া ব্রিজকুমার আগরওয়ালকে নিয়োগ করা হয়েছে লোকপালের সচিব হিসেবে।
কাশ্মীরে নিহত ২
২২আগস্ট,বৃহস্পতিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম:অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে এক বিদ্রোহী ও এক পুলিশ কর্মকর্তা। অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসন বাতিলের পর সেখানে এটিই প্রথম প্রকাশিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা। বুধবার ভারতীয় পুলিশ এক বিবৃতিতে বন্দুকযুদ্ধের এ খবর নিশ্চিত করেছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছে এক কাশ্মীরি সশস্ত্র বিদ্রোহী। সংবাদমাধ্যমটিকে ভারতীয় পুলিশের পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বিদ্রোহীরা পুলিশের ওপর গ্রেনেড হামলা চালায়। এতে দুই পুলিশ আহত হয়। যার মধ্যে একজন পরে হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। অপর একজনকে সেনা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বিদ্রোহীদের ওপর পাল্টা হামলা চালালে মমিন গুজরি নামের ওই বিদ্রোহী নিহত হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বারামুল্লাহ এলাকার ওই বাসিন্দা জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই- তৈয়বার সদস্য ছিল। এদিকে, পাকিস্তান অভিযোগ করেছে লাইন অব কন্ট্রোলে ভারতীয় গুলিতে ৩ পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছে। এ অঞ্চলে পুলিশের সঙ্গে প্রায়শই বিদ্রোহীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। গত তিন দশকে কাশ্মীরে ব্যাপক পরিমাণে সেনা মোতায়েন করে রেখেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছে অন্তত অর্ধলক্ষ কাশ্মীরি। ৩৭০ ধারা বাতিলের পর গত ১৯শে আগস্ট থেকে পরিষেবা ও স্কুল-কলেজ চালু হতে শুরু করেছে। ফলে আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠছে কাশ্মীর উপত্যকা।
কাশ্মীরে পুলিশসহ বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২
২১আগস্ট,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কাশ্মীরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আজ বুধবার একজন সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর এই প্রথম হিমালয়ের উপত্যকায় এমন ঘটনা ঘটল। পুলিশ আরো জানায়, উত্তর কাশ্মীরের বারামুল্লা এলাকায় হওয়া এই বন্দুকযুদ্ধে পুলিশের দুজন সদস্যও আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজনের মৃত্যু হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫-ক অনুচ্ছেদ দুটি বাতিল করে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। এর ফলে ভারতের অন্য রাজ্যের বাসিন্দাদের কাশ্মীরে সম্পত্তি ক্রয় করার ওপর বিধিনিষেধ উঠে যায়। পাশাপাশি অন্য রাজ্যে বসবাসরত ভারতীয়দের কাশ্মীরে সরকারি চাকরি পাওয়া কিংবা কাশ্মীরে স্থায়ীভাবে বসবাসের বিধিনিষেধও বাতিল হয়ে যায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার শপথ নেয় মুসলিম-অধ্যুষিত কাশ্মীরে যুদ্ধরত জঙ্গিরা। এদিকে কাশ্মীরকে নিজেদের অংশ দাবি করা পাকিস্তান কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কাশ্মীরে সম্ভাব্য নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণের কথা বলে এ মাসের শুরু থেকেই প্রচুর বাড়তি আধাসামরিক সেনা মোতায়েন রেখেছে মোদি সরকার। স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপত্যকার বারামুল্লার এলাকায় অভিযান চালিয়েছে আধাসামরিক সেনারা। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন জঙ্গিদের ছোড়া গ্রেনেডে দুজন পুলিশ সদস্য আহত হন বলেও জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। কাশ্মীরে কারফিউ জারির পর থেকে কমপক্ষে দুই হাজার তিনশর বেশি কাশ্মীরিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া উপত্যকার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত সোমবার রাতভর শ্রীনগরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এপি এসব তথ্য জানিয়েছে। আকস্মিক এক পদক্ষেপে গত ৫ আগস্ট মোদি সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা বাতিল করে অঞ্চলটিকে পুরোপুরি ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দেয়। ভারত সরকার ৪ আগস্ট থেকেই হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করে পুরো কাশ্মীর উপত্যকাকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়িয়ে রেখেছে। দুই সপ্তাহ ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন কাশ্মীরবাসী। সে নিরাপত্তার ঘেরাটোপ উপেক্ষা করে স্বায়ত্তশাসন বাতিলের প্রতিবাদে মাঝেমধ্যেই প্রকাশ্যে বিক্ষোভ করছেন কাশ্মীরের জনগণ। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষও হচ্ছে বিক্ষোভকারীদের।
ভারতীয় হিসেবে গর্বিত নই : অমর্ত্য সেন
২০আগস্ট,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কাশ্মীর নিয়ে ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে নোবেলজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন বলেছেন, ভারতীয় হিসেবে আমি গর্বিত নই। কাশ্মীরে গণতন্ত্র ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে সমাধান মিলবে বলে আমার মনে হয় না। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে এক সাক্ষাৎকারে গতকাল সোমবার অমর্ত্য সেন বলেন,সরকারের সিদ্ধান্তের মধ্যে বহুস্তরে ফাঁকি রয়েছে। গণতান্ত্রিক বিশ্বে ভারতের অনেক অর্জন থাকলেও এই সিদ্ধান্তের কারণে আমি গর্বিত নই। অপশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে প্রথম গণতন্ত্রকে বরণ করা দেশ হলেও ভারত এই সিদ্ধান্তের কারণে চরম ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে। গত ৫ আগস্ট ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে ভারত সরকার। অমর্ত্য সেন সরকারের সমালোচনা করে জানান, অন্য রাজ্যের নাগরিকদের জম্মু ও কাশ্মীরে জমি কেনার সিদ্ধান্তটি কাশ্মীরিদের হাতে ছেড়ে দেওয়া দরকার ছিল। এটা তাঁদেরই বিষয়। এটা যেহেতু কাশ্মীরিদের জমি, যা করার তাঁদেরই করার কথা ছিল। এ সময় তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতাদেরকে গ্রেপ্তার করে রাখারও সমালোচনা করেন। অমর্ত্য সেন বলেন, অতীতে যেসব নেতা সরকার গঠন করেছেন বা দেশটিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, এমন নেতৃবৃন্দসহ হাজার হাজার নেতাকে যদি আপনি অবরুদ্ধ করে রাখেন, জেলে পুরে রাখেন, তাঁদের কণ্ঠস্বর না শোনেন, তাহলে সেখানে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার পাবেন বলে আমার মনে হয় না। কাশ্মীর নিয়ে সিদ্ধান্তের পর সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করেছে ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকার। ড. সেন বলেন,এটা ধ্রুপদী ঔপনিবেশিক যুক্তি। ব্রিটিশরা এভাবেই ২০০ বছর দেশ শাসন করেছে।-ntv
আজ ৩ দিনের সফরে আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী,প্রাধান্য পাবে তিস্তা-রোহিঙ্গা
১৯আগস্ট,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তিন দিনের সরকারি সফরে আজ ঢাকায় আসছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সোমবার এস জয়শঙ্কর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। এ সময় বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন তাঁকে স্বাগত জানাবেন। বার্তা সংস্থা বাসসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর রোডে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। একই দিন সকাল ১১টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ড. এ কে আবদুল মোমেন এবং এস জয়শঙ্কর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। ওই দিনই বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এস জয়শঙ্করের সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এস জয়শঙ্কারের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ভারত সফর, দুই দেশের মধ্যকার যোগাযোগ, তিস্তার পানি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের মতো বিষয়গুলো প্রধান্য পাবে বলে বার্তা সংস্থা ইউএনবির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ৩০ মে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভায় শপথ গ্রহণের পর এস জয়শঙ্করের এটি প্রথম বাংলাদেশ সফর। ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন। ৬৪ বছর বয়স্ক এ পেশাদার কূটনীতিক ১৯৭৭ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। তিনি সিঙ্গাপুরে ভারতের হাইকমিশনার এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত ছিলেন।
আফগানিস্তানে বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ৬৩
১৮আগস্ট,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৬৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৮০ জন। গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৪০ মিনিটে কাবুলের পশ্চিমাঞ্চলে শিয়া অধ্যুষিত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ দায় স্বীকার করেনি। ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে অন্তত এক হাজারের মতো মানুষ অবস্থান করছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নুসরাত রহিমি বার্তা সংস্থা এপিকে জানিয়েছেন, হামলাকারী বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া মানুষদের মধ্যে বিস্ফোরক স্থাপন করে। তালিবান ও ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ হামলা চালাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী গুল মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তি জানান,বিয়ের অনুষ্ঠানের স্টেজের কাছে বাদ্যযন্ত্র নিয়ে শিল্পীরা দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং অনেক শিশু ও যুবক তার পাশে ভিড় করছিল, সেখানেই বিস্ফোরণ চালানো হয়। এর ১০ দিন আগে কাবুলের একটি পুলিশ স্টেশনে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছিল, ওই হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত ও ১৫০ জনের মতো আহত হয়েছিলেন।
জায়গা নেই কাশ্মীর কারাগারে
১৭আগস্ট,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জম্মু-কাশ্মীর থেকে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলকে কেন্দ্র করে প্রায় এক হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করার পর তাঁদের আটক রাখার জায়গা পেতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। উপত্যকার প্রশাসন এখন ব্যক্তিগত সম্পত্তি ভাড়া নিচ্ছে যাতে আটক ব্যক্তিদের সেখানে রাখা যায়। ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রীনগরের শের-ই-কাশ্মীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন কেন্দ্রসহ বারামুল্লা ও গুরেজের কনভেনশন কেন্দ্রকে অস্থায়ী বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব বন্দিশালায় অন্তত ৫৬০ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে আটক রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। ভারত সরকার জম্মু-কাশ্মীর বিষয়ে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ করার ঘোষণা দেওয়ার আগে ৪ আগস্ট রোববার গভীর রাতে কাশ্মীরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহকে গৃহবন্দী করা হয়। এরপর ৫ আগস্ট ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদের পর মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টুডে জানায়, অতীতে যেসব রাজনৈতিক কর্মী পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় জড়িত ছিল তাদেরও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি উপত্যকার পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেজন্য আরো অনেক রাজনৈতিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মুনির খান জানান, জননিরাপত্তা আইনের (পিএসএ) আওতায় কয়েকজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তিকে কয়েক বছর কারাগারে আটকে রাখতে উপত্যকায় এই আইন ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে। এক সংবাদ সম্মেলনে মুনির খান বলেন, ‘জননিরাপত্তা আইনের আওতায় কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা তা চাই না কারো প্রাণহানি হোক।
মোদিকে ইমরান খানের বার্তা পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রস্তুত
১৫ আগস্ট,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক ,নিউজ একাত্তর ডট কম:ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সতর্ক করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। আজাদ জম্মু-কাশ্মীরের পার্লামেন্টে বিশেষ অধিবেশনে বুধবার তিনি বক্তব্য রাখেন। সেখানে ইমরান খান বলেন, পাকিস্তানের ভিতরে ভারতের যেকোনো পদক্ষেপের শক্তিশালী পাল্টা জবাব দেবে পাকিস্তান। ওই অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন আজাদ জম্মু কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী রাজা ফারুক হায়দার। তিনি বলেন, কাশ্মীরের পর পাকিস্তানের ভিতরে সমস্যা সৃষ্টি করবে ভারত। তার সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন ইমরান খান। তিনি বলেন, (ভারতের) এইসব কর্মকান্ড কাশ্মীরেই শেষ হবে না। এই ঘৃণাপূর্ণ আদর্শ পাকিস্তানের দিকেও ধাবিত হবে। আমাদের কাছে তথ্য আছে এবং আমরা এরই মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির দুটি সভা করেছি। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী পুরোপুরিভাবে অবহিত যে, আজাদ জম্মু কাশ্মীরে পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বুধবার আজাদ কাশ্মীর পরিদর্শনে যান ইমরান খান। ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এর কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইমরান। তিনি কাশ্মীরিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে বুধবার যান আজাদ কাশ্মীরে। সেখানে পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখেন। ভারতকে উদ্দেশ্য করে ইমরান খান বলেন, আমাদের তথ্যমতে, পুলওয়ামা হামলার পরে বালাকোটে তারা যেমন পদক্ষেপ নিয়েছিল, তার চেয়ে অধিক ভয়াবহ পরিকল্পনা নিয়েছে এখন। দখলীকৃত কাশ্মীর থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি সরিয়ে দিতে তারা এখন আজাদ কাশ্মীরের দিকে নজর বাড়াতে চায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উদ্দেশ্য করে ইমরান খান বলেন, আপনার জন্য এটা আমার বার্তা: আপনি অ্যাকশনে যেতে পারেন এবং এর প্রতিটিরই পাল্টা জবাব দেয়া হবে। সেনাবাহিনী প্রস্তুত। শুধু সেনাবাহিনীই নয়। পুরো জাতি সেনাবাহিনীর পাশাপাশি যুদ্ধ করবে। মুসলিমরা যখন স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছে তখন তারা বিশ্বের সেরা সেনাবাহিনীকে পরাজিত করেছে তারা। আপনারা যা করবেন তার জবাব দিতে আমরা প্রস্তুত। শেষ পর্যন্ত আমরা লড়াই করব। এর আগে কাশ্মীরিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে ইমরান খান আজাদ জম্মু কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফফরাবাদে যান। সেখানে তিনি বলেন, পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে আমি আমার কাশ্মীরি ভাই ও বোনদের সঙ্গে অবস্থান করছি। তিনি সিরিজ টুইটও করেছেন। এতে ইমরান খান বলেছেন, বিশ্বের কাছে নরেন্দ্র মোদি ভারতীয় জনতা পার্টির প্রকৃত চেহারা তুলে ধরেছেন। তার ভাষায়, আমাদের সামনে এখন ভয়াবহ এক আদর্শ। তা হলো হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর আদর্শ। শৈশব থেকেই এই সংঘের একজন সদস্য মোদি। নাৎসীদের মতো তাদের আদর্শ। তারা ভারত থেকে মুসলিম জাতিকে মুছে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। যদি আপনারা এই আদর্শ বুঝতে পারেন, তাহলে অনেক কিছুই বুঝবেন। ইমরান খান আরো বলেন, আমরা আতঙ্কিত এই ভেবে যে, যখন দখলীকৃত কাশ্মীর থেকে কারফিউ প্রত্যাহার করা হবে তখন আমরা কি দেখব। তারা কি করতে চাইছে? নরেন্দ্র মোদি কৌশলগত ভুল করে ফেলেছেন। তিনি শেষ কার্ডটি ছুড়ে দিয়েছেন। তারা কাশ্মীরকে আন্তর্জাতিকীকরণ করেছেন। এখন বিশ্ববাসীর চোখ কাশ্মীর ও পাকিস্তানের দিকে। কাশ্মীরের কণ্ঠকে উচ্চে তুলে ধরার ক্ষেত্রে আমিই হব দূত। ইমরান খান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও ছেড়ে কথা বলেন নি। তিনি বলেছেন, যদি এ ইস্যুতে যুদ্ধ হয় তাহলে তার জন্য দায়ী থাকবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো, যাদেরকে যুদ্ধ থামানোর জন্য গঠন করা হয়েছিল, তাদের প্রতি আমার বার্তা হলো: যদি যুদ্ধ হয় তাহলে আপনারা দায়ী থাকবেন। তিনি বলেন, পুরো মুসলিম বিশ্বসহ সারা দুনিয়া তাকিয়ে আছে জাতিসংঘের দিকে। সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন চলাকালে জনগণ যখন বেরিয়ে আসবে তখন দেখতে পাবেন তাদের সংখ্যা। তিনি বলেন, কারফিউ চলাকালে যা কিছুই করছে ভারত, আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বলব, আপনারা দায়ী। আমরা যে ফোরামই পাব, সেখানে আমিই দূত হব এবং প্রতিটি ফোরামে কাশ্মীরকে তুলে ধরব। মোদি তার শেষ কার্ডটি খেলে দেয়ার পর কাশ্মীর এখন স্বাধীনতার দিকে ধাবিত হবে। তবে ইমরান খান একথা পুনর্ব্যক্ত করেন যে, যুদ্ধ কোনো সমস্যার সমাধান নয়। এতে বরং আরও সমস্যার সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, তার সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আলোচনার মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে উত্তম সম্পর্ক রক্ষা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তার ভাষায়, কিন্তু আলোচনায় তাদের কোনোই আগ্রহ নেই। তাদের একটিই আগ্রহ। তাহলো, পাকিস্তানকে শিক্ষা দেয়া। তাদের অন্তর ঘৃণায় ভরা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য শেষ করেন ইমরান খান। তিনি বলেন, কোনো ভ্রান্ত ধারণার ওপর থাকবেন না। আপনি একটি আইন পাস করেছেন বলে মনে করবেন না কাশ্মীরিরা পরাজয় বরণ করে নিয়েছে। কিন্তু হিতে তা লড়াইকে আরো কঠোর করেছে। তাদের ভয় চলে গেছে। আমরা দেখেছি, তারা রাস্তায় বেরিয়ে এসেছেন। শুধু সাহসী জাতিই এভাবে বেরিয়ে আসতে পারে। মোদি, আপনি কাশ্মীরিদের ক্রীতদাস বানাতে পারেন না। পাকিস্তানকে শিক্ষা দেয়ার জন্য আজাদ কাশ্মীর নিয়ে পরিকল্পনা রয়েছে আপনার। কিন্তু প্রস্তুত হোন। আমি আবার বলছি, আপনার প্রতিটি পদক্ষেপের পাল্টা জবাব দেব আমরা। এখন সময় এসেছে আপনাকে শিক্ষা দেয়ার।
আমাদের সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে দৃষ্টি দিয়েছে
১৫ আগস্ট,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সংবিধানের ৩৭০ ধারা ও ৩৫-এ ধারা বাতিল করা হলো সরদার বল্লভভাই প্যাটেলের স্বপ্ন বাস্তবায়নের এক ধাপ অগ্রগতি। আজ বৃহস্পতিবার ভারতের ৭৩তম স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ উপলক্ষে রাজধানী নয়া দিল্লিতে অবস্থিত রেড ফোর্টে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। এ সময় জাতির উদ্দেশে তিনি বলেন, দ্বিতীয় মেয়াদে তার সরকার স্বল্প সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তার ভাষায়, মাত্র ১০ সপ্তাহের মধ্যে আমাদের সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে দৃষ্টি দিয়েছে। জনগণকে সেবা দেয়ার জন্য তারা আমাদেরকে আবার ম্যান্ডেট দিয়েছেন। এক মুহূর্তও বিলম্ব না করে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। অল্প সময়ের মধ্যে আমরা সব সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছি। এর মধ্যে রয়েছে জম্মু, কাশ্মীর, লাদাখ। তিন তালাক বন্ধ করা, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কল্যাণে পদক্ষেপ নেয়া। তিন তালাকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আমাদের মুসলিম বোনদের ন্যায়বিচার দিয়েছি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ। নরেন্দ্র মোদি বলেন, তার সরকার সমস্যা সৃষ্টি করা বা তা খুঁড়ে খুঁড়ে নতুন সমস্যা সৃষ্টিতে বিশ্বাসী নয়। তার ভাষায়, নতুন সরকারের ৭০ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে আমরা অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল করেছি। পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ এবং সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ এতে আমাদেরকে সমর্থন দিয়েছেন। যারা অনুচ্ছেদ ৩৭০কে সমর্থন করছেন তাদের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, যদি এটা এতই গুরুত্বপূর্ণ হতো তাহলে কেন এই অনুচ্ছেদ স্থায়ী করা হয়নি? সর্বোপরি তাদেরকে অনেক মানুষ ভোট দিয়েছেন। কিন্তু তারা খুব সহজেই তাদের অবস্থান বদলে ফেলতে পারেন। তাদের বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে ভারতের। নরেন্দ্র মোদি বলেন, তার সরকার জম্মু, কাশ্মীর ও লাদাখের জনগণের সেবা করতে চায়। এ সময় তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন। তাদেরকে সম্ভাব্য সব সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দেন। মোদি বলেন, ২০১৩-১৪ সালে যখন আমি দেশ সফর করেছিলাম, তখন দেশের মানুষের চোখে হতাশার ছাপ দেখেছি। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, আমাদের দেশ কি কখনও পরিবর্তন হবে। কিন্তু গত ৫ বছরে আমরা সবাই একত্রিত হয়ে কাজ করেছি। জাতির মুড এখন পাল্টে গেছে। বিশ্বাস ও আস্থাকে আমরা পরিবর্তন করে দিতে পেরেছি। জনগণের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আমাদেরকে ভাবতে হবে। যদিও এ পথে বাধা আছে, তবু তা অতিক্রম করতে হবে। স্মরণ করুন মুসলিম নারীরা কি রকম ভীতিতে ছিলেন। তারা তিন তালাকের কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন। এই চর্চা এখন আমরা বন্ধ করেছি।