শনিবার, জানুয়ারী ২৩, ২০২১
আরও বেশি প্রাণঘাতী হতে পারে করোনার নতুন ধরন
২৩,জানুয়ারী,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনার নতুন ধরন নিয়ে সতর্ক করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি বলেছেন, করোনার নতুন ধরনটি আগের ধরনের চেয়ে আরও বেশি প্রাণঘাতী হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনও অনেক অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এছাড়া দেশজুড়ে ভ্যাকসিন কার্যক্রমও চলছে। যদিও ভ্যাকসিন কতটা কাজ করছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। করোনার পুরোনো এবং নতুন ধরনের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার গবেষণা করে নতুন নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য থেকেই জানা যাচ্ছে যে, পুরোনো ধরনের চেয়ে নতুন ধরনের করোনাভাইরাসে বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যেই করোনার নতুন ধরনটি ছড়িয়ে পড়েছে। ডাউনিং স্ট্রিট থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জনসন বলেন, দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে এই নতুন ধরনটির কারণে মৃত্যু হারও বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। লন্ডন এবং দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে প্রথম করোনার এই নতুন ধরনের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। করোনার নতুন ধরনটি কতটা ভয়াবহ তা মূল্যায়ণের চেষ্টা করছে ইংল্যান্ডের গণস্বাস্থ্য, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, দ্য লন্ডন স্কুল অব হাইজিন এবং ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড দ্য ইউনিভার্সিটি অব এক্সিটার। এই গ্রুপটি বলছে যে, নতুন ধরনের ভাইরাসটি মারাত্মক হয়ে উঠেছে বলে- বাস্তববাদী সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে এ বিষয়টি এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। যুক্তরাজ্য সরকারের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা প্যাট্রিক ভ্যালেন্স এই তথ্যকে এখনও পর্যন্ত ততটা শক্তিশালী নয় বলেই বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনও অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে। আমাদেরকে এ বিষয়ে আরও কাজ করে যেতে হবে। তবে মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়াটা অবশ্যই উদ্বেগের। একই সঙ্গে সংক্রমণও বাড়ছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এর আগে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে, করোনার নতুন ধরনটি আগের ধরনের চেয়ে ৩০ থেকে ৭০ ভাগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে এটি ৩০ শতাংশ বেশি প্রাণঘাতী বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। উদাহরণস্বরুপ বলা যায়, করোনার পুরোনো ধরনে ৬০ বছর বয়সী এক হাজার আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হতে পারে বলে ধরে নেয়া যায়। কিন্তু নতুন ধরনের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা প্রায় ১৩ জন। অর্থাৎ নতুন ধরনে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হারও বেশি। গত সেপ্টেম্বরে কেন্ট এলাকায় প্রথম করোনার নতুন ধরনের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এটি এখন ইংল্যান্ড এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে করোনাভাইরাসের সাধারণ ধরনে পরিণত হয়ে গেছে। বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে এই ধরনটি ছড়িয়ে পড়েছে।
ইউক্রেনে নার্সিং হোমে আগুন লেগে ১৫ জনের মৃত্যু
২২,জানুয়ারী,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইউক্রেনের একটি নার্সিং হোমে আগুন লেগে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫ জন। এছাড়া ঘটনায় আরও পাঁচ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) দেশটির পুলিশকে উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিল্ডিংটি মূলত একটি আবাসিক ভবন ছিল। তবে এটিতে একটি নার্সিং হোম কাজ চালাচ্ছিল। বিল্ডিংটি নার্সিং হোমের জন্য নিবন্ধিত কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ বিয়য়ে বাড়ির মালিক ও নার্সিং হোমের কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে দমকল বাহিনী। নার্সিং হোমে আটকে থাকা প্রচুর মানুষকে উদ্ধারও করা হয়েছে। তবে এরমধ্যেই ১৫ জনের মৃত্যু হয় এবং আরও পাঁচ জন মারাত্মক আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
ফের বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হবে আমেরিকা: বাইডেন
২১,জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শপথ নেওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে ধীরে ধীরে বের করে নিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি মিত্র দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক মজবুত রেখে যাননি ক্ষমতা থেকে যাওয়ার আগে। তার স্থলে জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ঘোষণা দিলেন, মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করবেন তিনি। বুধবার (২০ জানুয়ারি) ক্যাপিটল হিলে শপথ অনুষ্ঠান শেষে বাইডেন এ ঘোষণা দেন। বিশ্বের প্রতি বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের প্রতি বার্তা হলো, আমেরিকাকে পরীক্ষা করা হয়েছে, আমরা এটির জন্য আরও শক্তিশালী হয়ে এসেছি। আমরা আমাদের মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত করবো। পাশাপাশি ফের বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হবে আমেরিকা। আমরা বিশ্বকে শক্তি দিয়ে নয় বরং উদাহরণ সৃষ্টি করে নেতৃত্ব দেবো। আমরা শান্তি, অগ্রগতি এবং সুরক্ষার জন্য শক্তিশালী এবং বিশ্বস্ত অংশীদার হবো। এদিকে বাইডেন এবং কমলা হ্যারিস শপথ নেওয়ার পরপর ইউরোপের বহু নেতা নতুন প্রশাসনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে টুইট করেছেন। এসব টুইটে তারা নতুন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নীরবতা ভেঙে বিদায়ী বক্তব্য দিলেন ট্রাম্প
২০,জানুয়ারী,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে পরাজয়ের পর আমেরিকার ইতিহাস পাল্টে দিয়েছেন। তর্ক-বিতর্ক আর আলোচনার মধ্যেই বিদায় নিচ্ছেন এই প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউসে আজই তার শেষ দিন। তার চেয়ারে বসতে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ওপর হামলার পর গত এক সপ্তাহ ধরে দেখা মেলেনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের। অবশেষে এক ভিডিওবার্তায় নীরবতা ভেঙে বিদায়ী বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত পূর্বে রেকর্ড করা ভাষণে ট্রাম্প বলেন, তিনি কঠোর লড়াইয়ের মোকাবিলা করেছেন, কঠিনতম যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। হোয়াইট হাউসের ইউটিউব চ্যানেলে পোস্ট করা ভাষণে ট্রাম্প বলেন, আমরা এখানে যা করতে এসেছিলাম তা করেছি, তার চেয়ে বেশি করেছি। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর মেয়াদের শেষ দিনে দেওয়া ভাষণে আরো বলেন, আমরা নতুন প্রশাসনের অভিষেক করতে যাচ্ছি এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সম্ভাবনার ক্ষেত্রে সফল হোক সেই প্রার্থনা করছি। এ সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সসহ বেশ কয়েকজনকে ধন্যবাদ জানান। তিনি তার পরিবার, হোয়াউট হাউসের কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রশাসন এবং দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে আমি সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ জানাতে চাই। প্রেসিডেন্ট হিসেবে আপনাদের সেবা করা অনেক বেশি সম্মানের। ট্রাম্প তার ভাষণে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি আমার মেয়াদ শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে আমরা একসঙ্গে যা অর্জন করেছি তাতে সত্যিই গর্বিত। এই সপ্তাহে, একটি নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে এবং নতুন প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ ও সমৃদ্ধ রাখবে এই প্রার্থনা করছি। আমার শুভকামনা রইল। ট্রাম্প বলেন, মনে রাখতে হবে যে মার্কিনিদের মধ্যে মতবিরোধ থাকবে, তবে মার্কিন জনগণ বিশ্বস্ত এবং শান্তিকামী নাগরিক, যারা তাদের দেশকে সমৃদ্ধ দেখতে চায়। তিনি আরও বলেন, সারা যুক্তরাষ্ট্র ক্যাপিটলে আক্রমণের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়েছিল। এ রকম রাজনৈতিক সহিংসতা যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের ওপর আক্রমণ। এটি কখনোই সহ্য করা যায় না। ট্রাম্প বলেন, (আজ) বুধবার দুপুরে আমি যখন নতুন প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি জানাতে চাই যে আন্দোলন আমরা শুরু করেছি, তার কেবল সূচনা হলো।
ভারতে ঘুমন্ত শ্রমিকদের ওপর ট্রাক, নিহত ১৫
১৯,জানুয়ারী,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতে ঘুমন্ত শ্রমিকদের ওপর ট্রাক চাপায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। আজ মঙ্গলবার ভোরের দিকে গুজরাটের সুরাটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মুখোমুখি দুই ট্রাকের সংঘর্ষের পরই মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। খরব জি নিউজের। নিহতরা সবাই রাজস্থানের বাঁশওয়াদা জেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সময় শ্রমিকরা একটি ফুটপাতে সারিবদ্ধভাবে ঘুমাচ্ছিল। সকলেই পরিযায়ী শ্রমিক। সুরাট কামরেজ বিভাগের ডেপুটি সুপারেইন্টেনডেন্ট সি এম জাদেজা বলেন, আঁখ বোঝাইবাহী একটি ট্রাক্টরের সঙ্গে অন্য একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়, তারপরে ট্রাকের চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাথের উপর চলে যায়। প্রথমে ১৩ ও পরে আরও দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করছে পুলিশ। দুর্ঘটনায় আহত ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃতদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে। পুলিশ জানায়, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ চালায়।
৭ মুসলিম দেশের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বাতিল করবেন বাইডেন
১৮,জানুয়ারী,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নব-নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথম দিনই মুসলিমপ্রধান কয়েকটি দেশের ওপর ট্রাম্পের আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বাতিল করতে পারেন। খবর সিএনএন-এর। বাইডেনের মনোনীত হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ রন ক্লেইনের এক নথি থেকে জানা গেছে, ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিনই বাইডেন বেশ কয়েকটি নির্বাহী আদেশ জারি করতে পারেন। এরমধ্যে মুসলিম দেশগুলোর ওপর আরোপ করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সংশ্লিষ্ট আদেশ থাকতে পারে। এছাড়া প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেরা, করোনা ভাইরাস মহামারির সময় শিক্ষার্থীদের বিতাড়ন ও ঋণ স্থগিত সংক্রান্ত ট্রাম্পের আদেশ বাতিল, অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়গুলো থাকতে পারে। আরও জানা গেছে, মেক্সিকোর সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা অবৈধ অভিবাসন প্রত্যাশীদের সন্তানদের সঙ্গে বাবা-মার পুনর্মিলনের ব্যবস্থা করতেও পদক্ষেপ নেবে নব-নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে ২০১৭ সালে ক্ষমতা গ্রহণের কিছুদিন পরই সাতটি মুসলিমপ্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। সেই দেশগুলো হলো- ইরান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, সুদান, ইয়েমেন ও সোমালিয়া।
ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত ৫৬
১৭,জানুয়ারী,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম ইন্দোনেশিয়ার সুলায়েসি দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (১৬ জানুয়ারি) দিনভর উদ্ধার অভিযানে আরও ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রোববারও (১৭ জানুয়ারি) উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তুপের নিচে আরও কেউ আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ৮২০ জন আহত হয়েছেন। গৃহহারা হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ হাজার মানুষ। স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোরে সুলাওসি দ্বীপে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ২। ভূমিকম্পের পর কয়েক হাজার মানুষকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকবার পরাঘাত (আফটার শক) অনুভূত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা জানিয়েছে, ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের একদিন পর পশ্চিম সুলায়েসি জেলা এবং মামুজু ও মাজিনে এলাকায় ৫ মাত্রার পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। তবে এ থেকে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু এবং ভূ-প্রকৃতির এজেন্সি প্রধান দ্বিকোরিতা কর্নাবতী জানিয়েছেন, রোববার সকাল পর্যন্ত ৫৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভূমিকম্পে একটি হাসপাতাল ধসে পড়েছে। ওই হাসপাতালে ১২ জনের বেশি চিকিৎসক এবং নার্স ছিলেন। তারা ধ্বংসস্তুপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া কমপক্ষে একটি হোটেল আংশিক ভেঙে পড়েছে। শুক্রবারের ওই শক্তিশালী ভূমিকম্পে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ১৫ হাজার বাসিন্দা নিজেদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ৮২০ জন গুরুতর আহত হয়েছে। ভূমিকম্পে মামুজু শহরের বিমানবন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার রেড ক্রস জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থলে ওষুধ এবং ত্রাণ সরবরাহ করতে গিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তাদের বেশ কয়েকটি টিম ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়া লোকজনকে খুঁজে বের করতে কাজ করে যাচ্ছেন। শুক্রবার মামুজু থেকে ৩৬ কিলোমিটার দক্ষিণে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর গভীরতা ছিল ১৮ কিলোমিটার। প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অব ফায়ারে অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে থাকে। এর আগে ২০১৮ সালে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প ও এরপর সুনামির আঘাতে ৪ হাজার তিনশো জনের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে অনেকেরই কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামির আঘাতে ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।
ভয়াবহ সংকটে ইউরোপ, মৃত্যু আরও ৬ হাজার
১৬,জানুয়ারী,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইউরোপে করোনারঘাত শুরু হয়েছিল ইতালি দিয়ে, যা এখন গোটা অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালাচ্ছে। ভয়াবহ সংকটে ফেলেছে দেশগুলোকে। কয়েকটি দেশে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হলেও সুখবর মিলছে না। ফলে দীর্ঘ হয়েই চলেছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল। গত একদিনেও যার শিকার আড়াই লাখ মানুষ, প্রাণ ঝরেছে প্রায় ৬ হাজার ভুক্তভোগীর। বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডমিটারের নিয়মিত পরিসংখ্যানের তথ্যমতে, ইউরোপে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা হানা দিয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৯ জনের শরীরে। এতে করে আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ৭১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। নতুন করে প্রাণহানি ঘটেছে ৫ হাজার ৭২১ জনের। এ নিয়ে মৃত্যুর মিছিল বেড়ে ৬ লাখ ১৮ হাজার ৯৪৯ জনে ঠেকেছে। যদিও সুস্থতা লাভ করেছেন ১ কোটি ৪৬ লাখ ৯০ হাজার রোগী। ইউরোপীয় অঞ্চলের প্রায় সবগুলো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা। এর মধ্যে সবচেয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, জার্মানি, পোলান্ড, ইউক্রেন, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়ামের মতো দেশগুলোতে। এর মধ্যে চরম সংকটে রাশিয়া। গত বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি দেশটিতে করোনা হানা দেয়। শুরুতে ততটা ভয়াবহতা না দেখা গেলেও একই বছরের শেষের দিক থেকে এখন পর্যন্ত উপর্যুপুরী আঘাত হেনেই চলেছে ভাইরাসটি। যেখানে এখন পর্যন্ত ৩৫ লাখ ২০ হাজার ৫৩১ জনের শরীরে হানা দিয়েছে করোনা। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। নতুন করে প্রাণহানি ঘটেছে ৫৫৫ জনের। ফলে মৃতের সংখ্যা ৬৪ হাজার ৪৯৫ জনে ঠেকেছে। সুস্থতা বাড়লেও তা সংক্রমণের তুলনায় কম। করোনা রুখতে নিজ দেশের টিকা প্রয়োগ শুরু করেছে দেশটি। যদিও এখনও তেমন সুখবর মিলেনি। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বর্তমানে যুকরাষ্ট্রের পরই শোচনীয় অবস্থায় এ অঞ্চলের আরেক দেশ ব্রিটেন। কঠোর লকডাউন জারি রয়েছে দেশটিতে। তারপরও থামছে না ভাইরাসটি দাপট। তাই, এবার ব্রিটেন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটি। এখন পর্যন্ত সেখানে করোনা হানা দিয়েছে ৩৩ লাখ ১৬ হাজার মানুষের দেহে। এর মধ্যে প্রাণ ঝরেছে ৮৭ হাজার ২৯৫ জনের। অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করায় নতুন করে ধুকছে ফ্রান্স। যা এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ সংক্রমিত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণ হারাচ্ছেন শত শত ভুক্তভোগী। এমতাবস্থায় মহামারি থামাতে দেশব্যাপী কারফিউ জারি করেছে দেশটির সরকার। যা আজ শনিবার (১৬ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হচ্ছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল পর্যন্ত জারি করা এই কারফিউ চলবে টানা ১৫ দিন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২৮ লাখ ৭৩ হাজার মানুষ। প্রাণহানি ঘটেছে ৬৯ হাজার ৯৪৯ জনের। একই অবস্থায় ইতালিও। যেখানে কোনভাবেই বাগে আনা যাচ্ছে না করোনার গতি-প্রকৃতি। আগের তুলনায় সুস্থতার বাড়লে থামানো যাচ্ছে না মৃত্যুর মিছিল। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২৩ লাখ ৫২ হাজারের বেশি মানুষ করোনার কবলে পড়েছেন। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৮১ হাজার ৩২৫ জন। আশার খবর নেই পার্শ্ববর্তী দেশ স্পেনেও। আক্রান্ত ও মৃতু হলেও বেশ কয়েকদিন ধরেই সুস্থতা শূন্য দেশটি। যেখানে আজ শনিবার পর্যন্ত ২২ লাখ ৫২ হাজারের অধিক মানুষের দেহে হানা দিয়েছে ভাইরাসটি। প্রাণ ঝরেছে ৫৩ হাজার ৩১৪ জনের। আশঙ্কার খবর ইউরোপের প্রাণকেন্দ্র জার্মানিও নতুন করে মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। নতুন বছরের শুরু থেকে দেশটি করোনার যেন লাগাম ছাড়া। প্রতিদিনই হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ হারাচ্ছেন সেখানে। গত একদিনেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। এখন পর্যন্ত ২০ লাখ ২৪ হাজার জার্মান করোনার শিকার হয়েছেন। এর প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার সুস্থতা লাভ করলেও প্রাণ হারিয়েছেন সাড়ে ৪৬ হাজার। দেশটিতে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কঠোর লকডাউন জারি করা হয়েছে। তারপরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে করোনা পরিস্থিতি। এমতাবস্থায় ভ্রমণে কঠোর বিধি আরোপ করেছেন জার্মান চ্যাঞ্জেলর। এছাড়া পোলান্ডে আক্রান্ত ১১ লাখ ৪৭ হাজার মানুষ, মৃত্যু হয়েছে ৩২ হাজার ৮৪৪ জনের। নেদারল্যান্ডসে করোনার হানা দিয়েছে ৯ লাখ ২ হাজার মানুষের দেহে, প্রাণহানি ঘটেছে ১২ হাজার ৮৬৮ জন ভুক্তভোগীর। বেলজিয়ামে সংক্রমিত ৬ লাখ ৭৩ হাজার, মৃত্যু ২০ হাজার ২৯৪ জনের।
করোনায় মৃত্যু ২০ লাখ ছাড়াল
১৫,জানুয়ারী,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার ৫৫৪ জন। এতে মারা গেছেন ২০ লাখ ২ হাজার ৪৬৫ জন। সুস্থ হয়েছেন ছয় কোটি ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ জন। শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। ওয়ার্ল্ডোমিটারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন তিন লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৪ জন এখন পর্যন্ত মারা গেছেন। বিশ্বে সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যাও এই দেশটিতে। এ পর্যন্ত সেখানে দুই কোটি ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার ৮১০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। দেশটিতে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন এক কোটি ৪১ লাখ ১২ হাজার ১১৯ জন। যুক্তরাষ্ট্রের পর মৃত্যু বিবেচনায় করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ব্রাজিল। আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে থাকলেও মৃত্যু বিবেচনায় দেশটির অবস্থান দ্বিতীয়। ল্যাটিন আমেরিকার দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮৩ লাখ ২৬ হাজার ১১৫ জন। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ৭ হাজার ১৬০ জনের আর সুস্থ হয়েছেন ৭৩ লাখ ৩৯ হাজার ৭০৩ জন। আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা ভারত মৃত্যু বিবেচনায় আছে তৃতীয় স্থানে। এ পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি পাঁচ লাখ ২৮ হাজার ৫০৮ জন। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ৫১ হাজার ৯৫৪ জনের আর সুস্থ হয়েছেন এক কোটি এক লাখ ৬২ হাজার ৭৩৮ জন। গত বছরের ডিসেম্বরে চীন থেকে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সঙ্কটকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।