রবিবার, ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২১
সম্পর্ক ভেঙে গেলে হতাশা নায় !
অনলাইন ডেস্ক :সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া প্রচণ্ড হতাশার সন্দেহ নেই। কিন্তু এই হতাশাকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার নামই জীবন। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভেঙে গেলে বিষাদগ্রস্ত না হয়ে চেষ্টা করুন নতুন করে ভালো থাকতে। জেনে নিন সম্পর্ক ভাঙার কী করা উচিত এবং কী করা একেবারেই উচিত নয়। বাস্তবতা মেনে নিন সম্পর্ক ভাঙার পর সবার আগে বাস্তবতা মেনে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করুন। সে ফিরে আসবে কিংবা আপনি ফিরে যাবেন- এ ধরনের চিন্তা করতে যাবেন না। বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান পরিবার ও খুব কাছের বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন। এটি আপনার মানসিক অস্থিরতা দূর করবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে দূরে থাকুন ফেসবুক কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে যতটুকু সম্ভব দূরে থাকার চেষ্টা করুন। এ ধরনের মাধ্যম আরও বেশি অস্থির ও একাকী করে তুলতে পারে আপনাকে। ঘুরতে বের হন পছন্দের কোনও জায়গায় ঘুরতে চলে যেতে পারেন। এটি মানসিকভাবে আপনাকে স্থিতিশীল করবে। স্মৃতি দূর করুন প্রতিটি সম্পর্কেই অনেক ধরনের স্মৃতি থাকে। চেষ্টা করুন সেগুলো দূর করতে। অযথা এসব স্মৃতি নিয়ে পড়ে থাকলে সামনে আগানো কঠিন হবে আপনার জন্য। প্রাক্তনের খোঁজ জানার চেষ্টা করবেন না ফেসবুকে বা প্রাক্তন সঙ্গীর পরিচিত কারোর কাছ থেকে তার খোঁজ জানার চেষ্টা করবেন না। আপনার খোঁজও তাকে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের মতো সময় কাটান পছন্দের কিছু করে সময় কাটান। বই পড়তে পারেন। রান্না করতে পারেন। মোট কথা এমন কিছু করুন যা করতে আপনার ভালো লাগে। নিজের যত্ন নিতে কার্পণ্য করবেন না জীবন নিয়ে হতাশ হয়ে নিজের অযত্ন যেন না হয় সেদিকে লক্ষ রাখা জরুরি। মনে রাখবেন, আপনার ভালো থাকার উপর নির্ভর করছে আপনার পরিবার ও কাছের মানুষদের ভালো থাকা। সবসময় নিজেকে ভালো রাখার চেষ্টাটা তাই চালিয়ে যেতেই হবে। নতুন কোনও সম্পর্কে জড়িয়ে পড়বেন না পুরনো সম্পর্ক ভোলার জন্য ভুল করেও নতুন কোনও সম্পর্কে জড়াবেন না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।
প্রেমে জড়ানোর আগে কিছু বিষয় ভেবে দেখবেন !
অনলাইন ডেস্ক :মনের মানুষটির দেখা কোথায় মিলবে তা আমরা কেউই জানি না। হতে পারে অনেকদিনের পরিচিত কাউকেই হঠাৎ ভালোলাগতে শুরু করলো। আবার এমনও হতে পারে অপরিচিত কারো প্রতি অনুভব করতে শুরু করলেন ভালোবাসা। এমনকি ছুটির দিনটি বাদ দিয়ে সপ্তাহের পুরোটা সময় যেখানে কাটে, সেই অফিসেও মিলতে পারে পছন্দের মানুষটির দেখা। কারণ, একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে পরস্পরের ভালোলাগা-মন্দলাগার অনুভূতিগুলো সম্পর্কে জানা যায়। এভাবেই হয়তো ধীরে ধীরে জন্ম নেয় ভালোবাসা। তবে কর্মক্ষেত্রে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর আগে কিছু বিষয় ভেবে দেখবেন- কোনো কোনো অফিসের নিয়মাবলীর মধ্যেই উল্লেখ করা থাকে অফিস রোমান্স গ্রহণযোগ্য কিনা। অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি উল্লেখ করা না থাকলেও অলিখিত নিয়ম থাকে সহকর্মীর সঙ্গে প্রেমকে ভালো চোখে না দেখার। তাই প্রথমেই অফিসের নিয়মকানুনগুলো জেনে নিন, প্রয়োজনে এইচআরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলুন। যদি ম্যানেজমেন্টের আপত্তি থাকে তাহলে দুজনের যেকোনো একজন অন্য কোথাও চাকরি খুঁজুন! প্রেম টিকিয়ে রাখা বলে কথা! প্রেমের কারণে অফিসের কাজের মান কমছে কি? দুজন দুজনকে সারাক্ষণ চোখের সামনে দেখতে পেয়ে বাকিসব ভুলে যাচ্ছেন না তো! একসঙ্গে কাজ করতে গেলে সম্পর্কের প্রভাব কাজে পড়বেই। এখন কথা হলো, আপনি তা ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাচ্ছেন না কি নেতিবাচকভাবে? যদি প্রেমকে শক্তি মেনে নিয়ে কাজ করেন তবে আপনার উন্নতি ঠেকায় কে! অফিসের অন্য সহকর্মীরা আপনাদের বিষয়টি সহজভাবে নাও নিতে পারেন। পেছনে কানাঘুষা, গসিপ হবেই। এসব মেনে নিয়ে সম্পর্কে কতটা অটল থাকতে পারবেন? যদি সবকিছু এড়িয়ে নিজেদের মতো ভালো থাকতে পারেন, তবেই এগিয়ে যান। সহকর্মী হওয়ার কারণে মনের মানুষটির সঙ্গেই না আবার পেশাগত দ্বন্দ্ব লেগে যায়! তখন শ্যাম রাখি না কূল রাখি অবস্থায় হাবুডুবু খাওয়াও বিচিত্র নয়। এসবকিছু মাথায় রেখেই সম্পর্কে জড়ান। আজ প্রেম আছে বলে কালও থাকবে এমন কোনো কথা নেই। নানা টানাপোড়েনে পড়ে সম্পর্কটাই ভেঙে যেতে পারে একসময়। কিন্তু সম্পর্ক ভাঙলেও তো আর চাকরি ছাড়া চলবে না। তখন কোনোরকম মানসিক চাপ ছাড়াই চাকরিটা করতে পারবেন তো? ভেবে দেখুন।
জেনে নিন,আপনার সঙ্গী কি আপনার জন্য সঠিক ?
অনলাইন ডেস্ক :রাশি অনুযায়ী আপনার সঙ্গী আপনার প্রতি কতটা বিশ্বস্ত, জেনে নিন বিশদে- ধনু: এদের সততা সময় সাপেক্ষ। মাঝেমধ্যে এরা এতটাই সৎ হয় যে সেই সততার জন্য তাদের প্রায়শই ভুল বোঝাবুঝির স্বীকার হতে হয়। মেষ: এই রাশির মানুষেরা অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য। প্রেম-সম্পর্কের জন্য আদর্শ পছন্দ। সিংহ: এরা নির্ভয়ে সত্যি কথা বলে। সেই কারণে মাঝেমধ্যেই এদের সম্পর্কে সমস্যার সৃষ্টি হয়। কর্কট: এই রাশির লোকেরা অন্য রাশির তুলনায় লাজুক এবং চাপা প্রকৃতির হয়। সেই কারণে অনেক সময় এরা অনেক কথা চেপেও যায়। কন্যা: প্রিয় মানুষদের খুশি করতে এরা প্রায়শই নানা মিথ্যে কথা বলে থাকে। তবে এই অভ্যাস তাদের জন্য অনেক সমস্যার সৃষ্টি করে। বৃষ: এরা শান্তিপ্রিয় প্রকৃতির। ঝগড়া-অশান্তি এড়াতে এরা মিথ্যে কথা বলে থাকে। বৃশ্চিক: এদের চূড়ান্ত অহংবোধ। নিজেকে ঠিক প্রমাণ করতে এরা দ্বিধাহীন ভাবে মিথ্যেকথা বলে। মকর: এরা মিথ্যা কথা বলতে পারদর্শী। কেবল নিজের স্বার্থ বুঝেই তারা সত্যি কথা বলে থাকে। কুম্ভ: গল্প বানাতে এই রাশির মানুষেরা পটু হয়। সত্যি কথাকে ঘুরিয়ে বলতে এরা সিদ্ধহস্ত। মীন: এরা প্রচণ্ড মিথ্যে কথা বলে এবং নিজের বানানো মিথ্যে কথাকেই বিশ্বাস করে। এরা আবেগপ্রবণও হয়। তুলা: শুধু নিজেকে ঠিক প্রমাণ করার জন্য এরা কারণ ছাড়া মিথ্যে কথা বলে। মিথুন:এই রাশির প্রতীকের মতো এদের চিন্তা-ভাবনাও দুতরফা হয়। যেটা নিজে বিশ্বাস করে, সেটা ঠিক না ভুল, তা না ভেবে লোকের কাছে বলে বেড়ায়।
মেয়েরা গোপনে কোন মানুষের প্রেমে পড়ে ?
অনলাইন ডেস্ক :ভালো লাগা বা প্রেম আমাদের জীবনের একটা অংশ। মনের গভীরে কোনো একজন বিশেষ ব্যক্তির জন্য আমাদের আলাদা জায়গা থাকে। ছেলেরা এই কথা প্রকাশ করলেও মেয়েদের ভালো লাগার কথা গোপনই থেকে যায়। মেয়েরা এসব ভালো লাগার মানুষের কাছে তেমন কোনো আশা করে না, কিন্তু তাদের উপস্থিতিতে তারা বেশ আনন্দ অনুভব করে। এদের কথা তারা অবশ্য কারো কাছে বলতে চায় না, এমনকি এটাও চায় না যে যাকে সে পছন্দ করে সেও তার মনের কথা জানুক। এটা এক রকম গোপন প্রেমই বলা যায়! গোপনে মেয়েরা কোন কোন মানুষের প্রেমে পড়ে তার একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়ায়। অপরিচিত মানুষ মেয়েটি যখনই বাইরে যায় তখনই ছেলেটিকে দেখে। বাসার সামনের রাস্তায়, সুপারশপে, এমনকি মায়ের সঙ্গে শপিংয়ে যাওয়ার পথেও তার সঙ্গে দেখা। এই অপরিচিত মানুষটির জন্যই সে একেক দিন একেক পোশাক পরে বের হয়, ঘরের বাইরে যাওয়ার আগে চুলটা ঠিক করে নেয়। অথচ এই মানুষটির সঙ্গে তার কোনোদিনও হয়তো কথা হবে না। তবুও এই অপরিচিত মানুষটির প্রতি তার মনে অন্যরকম ভালো লাগা তৈরি হয়, যা চিরদিন গোপনই থাকে। অফিসের বস আপনার ভাগ্য খুবই ভালো যদি আপনার বস ভালো হয়। আর যদি সে দেখতে সুন্দর, সবসময় হাস্যোজ্জ্বল ও স্মার্ট হয় তাহলে তো আর কথাই নেই। এমন মানুষের প্রেমে না পড়ে থাকা যায়? বসের জন্যই মেয়েটি অফিসের কাজে বেশ মনোযোগী থাকে, যাতে সে তার কাছ থেকে প্রশংসা পায়। সবসময় তার নজরে থাকার জন্যই সে এমন আচরণ করে। হয়তো এই গোপন প্রেমের কথা বসের কান পর্যন্ত কখনো পৌঁছাবেই না। তবুও মেয়েটি গোপনে তাকে ভালোবেসে যায়। এই অনুভূতিতে সে অন্যরকম আনন্দ অনুভব করে। আরও পড়ুন: প্রেমিকাকে হাতের মুঠোয় রাখতে চান? কীভাবে জেনে নিন… বড় ভাইয়ের বন্ধু বড় ভাইয়ের বন্ধুর প্রেমে অনেক মেয়েই পড়ে। সুন্দর কথা, চেহারা আর বন্ধুসুলভ আচরণের কারণে মেয়েরা তাদের প্রেমে হাবুডুবু খায়। কখন ভাইয়ের সঙ্গে সে বাসায় আসবে, কখন পাড়ার মোড়ে আড্ডা দেওয়ার সময় তার সঙ্গে দেখা হবে, এমন ভাবনাতেই অনেক মেয়ে বিভোর থাকে। এই ভাবনা ও অপেক্ষা তখন বেশ মধুর মনে হয়। কিন্তু অনেকেই আবার এই গোপন ভালোবাসার কারণে ঝামেলাতেও পড়ে। গোপন ভালোবাসা প্রকাশ্যে এলে বন্ধুদের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। শিক্ষক বাসার বাইরে আমরা স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশি সময় কাটাই। যেখানে শিক্ষকরাই আমাদের বড় বন্ধু হয়ে যায়। কোনো বিশেষ শিক্ষকের ক্লাস নেওয়া বা তার পড়ানোর ধরন, কথা বলার ভঙ্গি মেয়েদের দুর্বল করে ফেলে। মেয়েরা সহজেই এসব শিক্ষকের প্রেমে পড়ে। হয় তো দু-একজন বন্ধু ছাড়া এই প্রেমের কথা আর কেউই জানে না। মজার বিষয়, অনেক বছর পার হয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ কোনো পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর সেই শিক্ষকের কথা মেয়েরা জিজ্ঞেস করে। তখন তার কথা শুনে আনন্দিত হওয়া মাত্রই বলে দেয় যে, সেই সময়কার ভালো লাগাটা কতটা সুখকর ছিল। আরও পড়ুন: মেয়েরা প্রেমে পড়লে যা করে বান্ধবীর প্রেমিক বন্ধুরা যখন একসঙ্গে হয় তখন একজন আরেকজনের প্রমিককে নিয়ে নানা কথাই বলে। বিশেষ করে ভালো গুণগুলো বেশি প্রকাশ করে। আর এই ভালো ভালো কথা শুনে মেয়েটি তার বান্ধবীর প্রেমিকেরই প্রেমে পড়ে যায়! কিন্তু ভুলেও এ কথা সে তার বান্ধবীকে বলে না। আবার অনেক সময় হিংসার কারণে সে তার বন্ধবীর সম্পর্কও নষ্ট করতে চায়। দূর সম্পর্কের ভাই দূর সম্পর্কের মামাতো ভাই, খালাতো ভাই বা চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে খুব একটা দেখা হয় না। পরিবারের কোনো অনুষ্ঠানেই তাদের সঙ্গে দেখা হয়। অনেক দিন পরপর দেখা হওয়ার কারণে তাকে নতুন মনে হয়। নতুনভাবে তাকে চেনার ইচ্ছে জাগে। কিন্তু পরিবারের ভয়ে এই কথা সে কাউকে বলতে পারে না। যাত্রা পথের সঙ্গী বাস, ট্রেন অথবা প্লেনে কোথাও যাওয়ার সময় আপনার পাশে হয়তো কোনো স্মার্ট ছেলে বসল। যাকে দেখার সঙ্গে সঙ্গেই আপনি একটু নড়েচড়ে বসলেন। হয় তো যাত্রাপথে তার সঙ্গে আপনার দু-একটা কথাও হয়েছে। কিন্তু যাত্রা শেষে এই ভালো লাগার রেশ বহুদিন থেকে যায়।
জেনে নিন,কি ভাবে নতুন বন্ধু বানাবেন?
অনলাইন ডেস্ক :শিশুদের মধ্যে নতুন বন্ধু তৈরির একটা প্রাকৃতিক দক্ষতা থাকে। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় যেটা হয়ে পড়ে দুরূহ। কারণ আপনি চাইলেই কাউকে বলতে পারবেন না যে,আপনি আমার বন্ধু হবেন?। বিষয়টা এতোটা সহজ না বলেই হয়তো বিশ্বে প্রাপ্তবয়স্কদের একাকীত্বের সমস্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আপনিও যদি এমন একাকীত্বে ভোগেন তাহলে নীচের ১০টি টিপসের মাধ্যমে জেনে নিতে পারেন কিভাবে আপনিও সহজে বন্ধু বানাতে পারেন। ক্লাব বা সংগঠনে যোগ দিন কোন একটি দল, সংগঠন, বা পছন্দের কোন বিষয়ের ওপর ক্লাস-ভিত্তিক কোর্সে যোগদানের মাধ্যমে নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। সেখান থেকেই হয়তো পেয়ে যেতে পারেন আপনার প্রিয় বন্ধুকে। একসঙ্গে থাকার কারণে আপনার সহকর্মী বা সহপাঠীরা জানতে পারবেন আপনার কিসের প্রতি উৎসাহ রয়েছে।আপনার এমন কয়েকটি বিষয় যখন আরেকজনের আগ্রহের সঙ্গে মিলে যাবে তখনই বন্ধুত্বের সুযোগ সৃষ্টি হবে।যদি কোন মিল নাও থাকে, তাহলে নতুন কিছু চেষ্টা করতেও তো দোষ নেই। এর মাধ্যমে আপনি যেমন আপনার নিজের দক্ষতার দিকগুলো যাচাই করতে পারবেন। তেমনি জানতে পারবেন কে হতে পারেন আপনার কাছের একজন বন্ধু। স্বেচ্ছাসেবক হোন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা মানে, মানুষের প্রতি আপনার মমত্ববোধ আছে। এখন এই সেবা আপনার স্থানীয় কমিউনিটির প্রতি হোক বা আরও বড় পরিসরে সেটা বিষয় না। বিষয় হল, এই কাজের মাধ্যমে আপনার নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় হবে। এবং এই মানুষগুলো তারাই হবে যাদের মন উদার। এবং একজন বন্ধুর ভেতরে এই গুনটাই সবচেয়ে বেশি থাকা চাই। বন্ধুত্ব যেকোন স্থানে, যেকোন সময়ে, যে কারও সঙ্গেই হতে পারে, তাই কোন সুযোগ হাতছাড়া হতে দেবেন না। যোগাযোগ তৈরি করুন কোন বিয়ের পার্টিতে বা জিমে অথবা খেলতে গিয়ে যদি নতুন কারও সঙ্গে আপনার পরিচয় হয় যার সঙ্গে কিনা আপনি মিল পাচ্ছেন তাহলে তার ফোন নম্বর বা ইমেইল ঠিকানাটি চেয়ে নিন।কারণ তার সঙ্গে আপনার আবার দেখা হবে কিনা সেটার কোন নিশ্চয়তা নেই। এজন্য তার সঙ্গে যোগাযোগের একটা মাধ্যম বের করা জরুরি। আপনি তার সঙ্গে দেখা হওয়ার পরের দিন একটি লাইন লিখে জানান যে তার সঙ্গে সময় কাটানোটা আপনি কতো উপভোগ করেছেন। এরপর তাকে কোথাও খেতে যাওয়ার জন্য অথবা কোথাও ঘুরতে বা হাটতে যাওয়ার জন্য ডাকতে পারেন।নিজ থেকে এই একটা পদক্ষেপের কারণেই হয়তো আপনি পেয়ে যেতে পারেন প্রাণ প্রিয় বন্ধুকে। হ্যাঁ বলতে শিখুন যদি নতুন পরিচিত কেউ আপনাকে রাতের খাবারের জন্য আমন্ত্রণ জানান বা আপনাকে থিয়েটার টিকিট অফার করে তাহলে হ্যাঁ বলুন। এতে আপনি সাময়িক স্নায়ুচাপের মুখে পড়তে পারেন। মনে হতে পারে যে আপনি আপনার গণ্ডির বাইরে গিয়ে কিছু করছেন। কিন্তু জেনে রাখবেন, সাহস না রাখলে, কিছুই অর্জন করা যায় না। যদি আপনি সত্যিকার অর্থে সেই সাহস যোগাতে না পারেন, অথবা সে আপনাকে যেখানে নিয়ে যাওয়ার কথা বলছে সেটা আপনার ঠিক পছন্দ না, তাহলে আপনি তাকে ভদ্রভাবে না বলুন।- তবে সেই না বলার মধ্যে এটাও পরিষ্কারভাবে বলুন যে ভবিষ্যতে সে যদি আপনাকে আমন্ত্রণ জানান তাহলে আপনি সেটা সাদরে গ্রহণ করবেন। প্রত্যাখ্যানের ভয় কাটিয়ে উঠুন সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনার প্রতিটি প্রচেষ্টা যে কাজে লাগবে, এমন কোন কথা নেই।কিন্তু আপনি যদি প্রতিনিয়ত প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়ে থাকেন তাহলে আপনার পক্ষে কিছুই করা সম্ভব হবে না। সাহসী হন এবং নিজের প্রতি আস্থার জায়গাটা একটু মজবুত করুন। আপনি যদি নতুন কারও সঙ্গে পরিচয়ের পর তার সঙ্গে আবারও দেখা করার প্রস্তাব দেন এবং তাদের উত্তর যদি না সূচক হয়, তাহলে ভেঙ্গে পড়বেন না। কেননা এটাই পৃথিবীর শেষ নয়। সম্ভবত সেই ব্যক্তি আপনার জন্য ছিল না। আপনার বন্ধু হওয়ার জন্য হয়তো আরও ভাল কোন মানুষ অপেক্ষা করছে। মাঝে মাঝে না খুঁজেও আপনি পেয়ে যেতে পারেন প্রিয় বন্ধুকে। সহকর্মীদের বন্ধু বানান বর্তমান ব্যস্ত সমাজে পরিবারের চাইতে আমাদের বেশি সময় কাটানো হয় কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে। তাই এই সহকর্মীদের বন্ধু বানানোর চেষ্টা করা যৌক্তিক। এটা ঠিক যে অফিসের অনেক কথায় আপনি হয়তো কষ্ট পেতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি বিশ্বস্ত কোন সহকর্মীর কাছে নিজেকে একটু প্রকাশ করতে পারেন। হয়তো সেও আপনাকে এর প্রতিদানে হয়তো ভাল কিছু দেবে। কাজের পর কোথাও খেতে যাওয়ার পরিকল্পনা-গুলোয় যোগ দিন। এমনকি আপনি ক্লান্ত হলেও হ্যাঁ বলুন। অথবা লাঞ্চ বিরতিতে আপনি কলিগদের কাউকে নিয়ে স্থানীয় স্যান্ডউইচ দোকানে যেতে পারেন। অফিস ডেস্কের থেকে দূরে কোথাও গেলে সহকর্মীর সঙ্গে কাজের বাইরে আরও নানা বিষয়ে কথা বলা সহজ হবে। এতে সহকর্মীদের, প্রকৃত বন্ধুতায় বদলে ফেলাও হয়ে যাবে অনেক সহজ। কৌতূহলী হন আপনি যদি লাজুক স্বভাবের হন বা কিছু বলতে গিয়ে আটকে যান, তাহলে সেই জড়তা কাটিয়ে ওঠার সহজ উপায় হল অপর পাশের মানুষের বিষয়ে জানতে চাওয়া। কেননা অধিকাংশ মানুষই নিজের বিষয়ে কথা বলাটা উপভোগ করে। আপনি যদি ভাল শ্রোতা হন এবং ভবিষ্যতে তার সেই বিষয়গুলো টেনে আনেন। তাহলে বুঝে নিন যে আপনি খুব দ্রুত বন্ধু পেতে যাচ্ছেন। ভাল বন্ধুরা আপনার ভাল বা খারাপ দুই সময়েই আপনার পাশে থাকবে। প্রয়োজনের সময় এগিয়ে আসুন জন্ম তারিখ মনে রাখা বা তার প্রয়োজনীয় কোন কিছু কিনে দেয়ার মতো ছোট ছোট বিষয়গুলো মনে রাখা, বন্ধুত্ব গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। একইসঙ্গে নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করার মোক্ষম সুযোগ পাওয়া যায় খারাপ সময়গুলোতে। যদি আপনার পছন্দের মানুষটি কঠিন সময় মধ্যে দিয়ে যান তাহলে তার সাহায্যে এগিয়ে আসুন। সে অসুস্থ থাকলে তার প্রিয় কোন খাবার নিজ হাতে তৈরি করে পাঠিয়ে দিতে পারেন। অথবা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলতে পারেন এই ছোট্ট বিষয়গুলোর মাধ্যমে আপনি বোঝাতে পারবেন, আপনি বন্ধু হিসেবে কতোটা দারুণ। খোলা মনের মানুষ হন একজন নতুন বন্ধুর প্রকৃতি বিভিন্ন রকম হতে পারে। যে সতেরো বছরের হতে পারে আবার সত্তরও হতে পারে, তার বেড়াল পছন্দ হতে পারে আবার শুধু কুকুর পছন্দ হতে পারে। তার পছন্দের গান হতে পারে মেটাল বা ক্লাসিক্যাল। মনে রাখবেন যে, ভিন্ন ব্যক্তিত্ব আমাদের আকর্ষণ করে বেশি। তাই প্রথম দেখাতেই কাউকে বিচার করা ঠিক হবে না প্রত্যেকেই একটা সুযোগ দিন। সেইসব মানুষদের কথা ভাবুন যাদের আপনি প্রথম দেখায় ভীষণ বিরক্তিকর ভেবেছিলেন, অথচ যারা এখন কিনা আপনার ভীষণ প্রিয়। পর্যাপ্ত সময় দিন রাতারাতি কারো বন্ধু হয়ে ওঠার সম্ভাবনা খুব কমই থাকে।বন্ধুত্বকে লালন করতে হয়। এজন্য নতুন কারও সঙ্গে বন্ধুতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে, সেটাকে বাড়িয় তুলতে এর পেছনে আপনার সময় আর যত্ন বিনিয়োগ করতে হবে। কেননা বিশ্বাস ও ভরসার ভিত্তি সময়ের সাথে সাথে মজবুত হয়ে ওঠে। নতুন বন্ধু তৈরির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল আপনি তাকে যা দিতে পারবেন, সেটার প্রতি বিশ্বাস রাখা। ইতিবাচক ভাবে ভাবার চেষ্টা করুন। নিজের প্রতিও যত্ন নিন।
উঁকুন তাড়ানোর সহজ উপায় জেনে নিন !
অনলাইন ডেস্ক :আপনার প্রতিদিনের সহজ জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলতে উঁকুনই যথেষ্ট। নানা কারণেই হতে পারে উঁকুন। এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো পরিচ্ছন্নতার অভাব। আবার একজনের মাথায় হলে সেখান থেকে গোটা বাড়িশুদ্ধ সবার মাথায় ছড়াতে সময় লাগে না মোটেই। উঁকুনের কারণে মাথার ত্বকেও নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এটি তাড়ানোর রয়েছে খুব সহজ দুটি উপায়। চলুন জেনে নেয়া যাক- ১. রসুনের ব্যবহার: ১০ কোয়া রসুন নিন। ভালো করে খোসা ছাড়িয়ে বেটে নিন। এর সঙ্গে ২ চা চামচ লেবুর রস মেশান। পেস্টের মতো তৈরি করে মাথার ত্বকে ভালো করে ঘষে লাগিয়ে নিন। চুলের গোঁড়ার কোনো অংশ যেন বাদ না যায়! এভাবে ৩০ মিনিট পেস্টটি চুলে লাগিয়ে রাখুন। এরপর হালকা গরম পানিতে চুল ধুয়ে নিন। সপ্তাহে ৩ দিন এই পদ্ধতিটি কাজে লাগালে উঁকুনের সমস্যা খুব দ্রুত দূর হয়ে যাবে। ২. মেয়োনেজের ব্যবহার: সুস্বাদু মেয়োনেজের মধ্যেই রয়েছে উঁকুন তাড়ানোর অসাধারণ ক্ষমতা। সমস্ত চুলে এবং মাথার ত্বকে ভালো করে মেয়োনেজ লাগিয়ে নিন। এরপর চুল ভালো করে শাওয়ার ক্যাপ বা অন্য কিছু দিয়ে বেধে ঘুমুতে চলে যান। সকালে উঠে ভিনেগার মেশানো পানি দিয়ে ভালো করে চুল ধুয়ে নিন। এরপর স্বাভাবিকভাবে চুলে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করে চুল ধুয়ে নিন। চুল ধোয়ার সময় আলতো করে চিরুনি চালিয়ে দিন। এই পদ্ধতিতে উঁকুন তো দূর হবেই সেই সঙ্গে চুলের সঙ্গে আটকে থাকা উঁকুনের ডিমও নিমেষে দূর হয়ে যাবে। সপ্তাহে মাত্র ২বার ব্যবহারেই ভালো ফলাফল পেয়ে যাবেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হরেক রকম বিয়ে
অনলাইন ডেস্ক : বলেন, কবুল। কাজী সাহেবের কথার উত্তর বের হয় না মেয়ের মুখ থেকে। কথার বদলে ঘোমটার আড়াল থেকে হাতের ওপরে টপটপ করে পানি ঝরতে দেখা যায়। বোঝা যায়, কনে কাঁদছে। কাজী সাহেব আবার বলেন, বলেন মা কবুল। সবাই কান খাঁড়া করে থাকে। মেয়ে কবুল বলছে কিনা। মা, ভাবী, ননদ, পাড়াপড়শি নারীকূল সবাই মিলে কনেকে বলতে থাকে,বল মা কবুল, বল। অবশেষে আরো খানিক চোখের পানি ঝরিয়ে লজ্জার মাথা খেয়ে মেয়েটি বলল কবুল। সবাই বলে ওঠেন আলহামদুলিল্লাহ। মুসলিম বিয়ের রীতিতে সবচেয়ে ক্লাইমেক্স বোধহয় এটাই। এত আয়োজন, আত্মীয়-স্বজনের আনন্দ, খাওয়া-দাওয়ার জৌলুস সবকিছুর কেন্দ্রে দুটি ছেলে-মেয়ের ধর্মীয়ভাবে সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। ছেলে-মেয়ের কাছে এরচেয়ে রোমান্টিক আনন্দের মুহূর্ত আর হয় না। একটি বিয়ের জন্য কত প্রস্তুতি; কত স্বপ্ন যে মিশে থাকে। মা-বাবার এক রকম আবেগ, ভাই-বোনদের আবেগ ভিন্ন আর বর কনের কথা না হয় বাদই দিলাম। তারাই এ আয়োজনের প্রধান দুই চরিত্র। বিয়ে ছেলে-মেয়ের মনে এমন এক রোমান্সের জন্ম দেয়; যা তাদের কল্পনার আবেশে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। রবীন্দ্রনাথের গানের কথায় সমাজ সংসার মিছে সব, মিছে এ জীবনের কলরব, কেবল আঁখি দিয়ে আঁখির সুধা পিয়ে হূদয় দিয়ে হূদি অনুভব। বিয়ে আমাদের সমাজের সবচেয়ে আনন্দমুখর ঘটনা। দুটি ছেলে-মেয়ের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দুটি পরিবার তাদের আত্মীয়-স্বজন বন্ধুদের সম্মিলনের এমন সামাজিক উত্সব আর নেই। এ উপমহাদেশে দুটি ছেলে-মেয়ের বিয়ের পাকা কথার সময় থেকেই শুরু হয়ে যায় আনন্দ আয়োজন। প্রথমে এনগেজমেন্ট, এরপর গায়ে হলুদ তারপর বিয়ে। সবশেষে বউভাত দিয়ে শেষ হয় বিয়ের অনষ্ঠান। এ সবরে ফাঁকে আরো কত শত আচার যে রয়েছে তার শেষ নেই। যেমন বর যখন আসে তখন গেট ধরার রেওয়াজ রয়েছে। রয়েছে বিয়ের পরে মুখ দেখানোর রেওয়াজ। এত দিনের আনন্দের পর মেয়েকে বিদায় দেয়ার সময় মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজনের কান্না দুঃখের আবহ তৈরি করে। এ যাত্রা আনন্দের যাত্রা, একইসঙ্গে অপরিচিত পরিবিশে একটি মেয়ের অনিশ্চিত ভবিষ্যত্ যাত্রাও। বিয়ে যখন উত্সব ছেলে-মেয়ের বিয়ের পাঞ্জাবি কেমন হবে, হলুদে মেয়ের সাজ, হলুদে আসা মেয়েদের অনুষ্ঠানের থিম রঙের সঙ্গে মিলিয়ে শাড়ি দেয়ার চল হয়েছে এখন। হলুদের স্টেজ, হলুদে গানের রিহার্সাল তো শুরু হয়ে যায় ১০ দিন আগে থেকেই। গায়ে হলুদের পরে ডিজে পার্টির চল হয়েছে এখন। হলুদের পরেই আসে বিয়ে। মেয়ের পোশাক, ছেলের পাঞ্জাবি, শেরওয়ানির ডিজাইন, মেয়ের শাড়ির রং কি হবে এ নিয়েই তো আলোচনা চলে দুই সপ্তাহ। এরপর মার্কেটে মার্কেটে ঘোরা। পছন্দের শাড়ি আর মেলে না। যদিও মেলে এরপর তার সঙ্গে ম্যাচিং গয়না খোঁজা চলে আরো কিছুদিন। এ সবের পাশাপাশি রয়েছে বিয়ের কার্ড। কার্ড যেন বিয়ের সমস্ত বিয়ের পরিবারের রুচির ছাপ নিয়ে আত্মীয়দের সামনে হাজির হয। তাই কার্ডটি হওয়া চাই স্পেশাল। এরপর রয়েছে বিয়ের দিন খাবারে মেন্যু আর ছেলে পক্ষের বউ ভাতের অনুষ্ঠানের খাবার নির্বাচন। আয়োজন কি আর কম। এ সব তো গেল কিন্তু বিয়ে তো হবে একদিন। কিন্তু সেই স্মৃতিকে ধরে রাখতে হবে জন্ম জন্মান্তরের জন্য। সেজন্য চাই বিয়ের এলবাম। ওয়েডিং ডায়েরি করবার জন্য এখন বিশেষ ফটোগ্রাফাররাও তৈরি হয়ে রয়েছে। শুধু আপনার ডাক দেবার অপেক্ষা। বিয়ের অনুষ্ঠানের জৌলুস দিন দিনে এমন বাড়ছে যারা দুই দশক আগে বিয়ে করেছেন তাদের তো রীতিমত হাপিত্যেশ করতে শোনা যায়। ইশ, আমাদের সময় যদি এ সব আয়োজন থাকত। কিন্তু হায় তা হবার কী আর উপায় আছে! সামাজিক বন্ধন বিয়ে শুধু আমাদের সমাজেই নয়; সব দেশে সব সমাজেই খুব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বিয়েকে ঘিরে দুটি মানুষের মধ্যে যে সম্পর্কের সূচনা হয় তার সঙ্গে অন্য কোনো সামাজিক বন্ধনের তুলনায় হয় না। কিন্তু এ বিয়ের মূল উদ্দেশ্য কী? বিয়ে কেন হয়? বিয়ের প্রয়োজনীয়তাই বা কেন? ধর্ম মতে, যখন থেকে মানুষের সৃষ্টি তখন থেকেই বিয়ে প্রথার চালু। তবে, নৃবিজ্ঞানীদের মতে, অতি আদিমকালে বিয়ে বলতে কিছু ছিল না। কালক্রমে সামাজিক প্রয়োজনে ও শৃঙ্খলা বিধানে বিয়ে প্রথা চালু হয়। বিয়ে নিয়ে অনেক মজার মজার কৌতুক প্রচলিত রয়েছে। বিয়ের ক্ষণস্থায়িত্ব নিয়ে এমন এক কৌতুক রয়েছে। এক চিত্রতারকা ঘন ঘন স্বামী বদলাতেন। একবার নতুন স্বামী নিয়ে এসে তিনি আগের কোনো পক্ষের সন্তানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন। সন্তানটি ছুটে গিয়ে অটোগ্রাফ বই নিয়ে এসে নতুন বাবাকে বলল, জলদি একটা সই দিন। কবে আবার হুট করে বাতিল হয়ে যাবেন সই নেয়ার সময় পাব না। আরেকটি কৌতুক এমন- ঘন ঘন বিয়ে করা এক তারকা সদ্যবিবাহিত স্বামীর ঘরে এসে দেখলেন সবকিছু তার চেনা চেনা লাগছে। তিনি স্বামীকে জিগ্যেস করলেন, আচ্ছা, তোমার সঙ্গে কি আমার আগেও বিয়ে হয়েছিল? এই ক্ষণস্থায়ী ও বহু বিয়ে নিয়ে যেমন অনেক কথা রয়েছে এর বিপরীতে রয়েছে সম্পর্কের চিরস্থায়ী বন্ধনে বিশ্বাস। ইসলাম ধর্মে বিয়ে অত্যন্ত পবিত্র সম্পর্ক হিসেবে বলা হয়েছে। হিন্দু সমাজে বিয়ে হচ্ছে জন্ম জন্মান্তরের বন্ধন। সাধারণভাবে বললে, বিয়ে হচ্ছে সন্তান জন্ম দেয়ার মধ্যদিয়ে মানুষ সৃষ্টির ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। বিয়ে সমাজের প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান। এ প্রথাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে প্রধানত ধর্ম। বিয়ে নিয়ে জারি করা হয়েছে রীতিনীতি ধর্মীয় অনুশাসন। বৈদিক যুগ থেকেই বিয়ে নারী-জীবনের প্রধান প্রাপ্তি ও পরম সার্থকতা বলে বিবেচিত। ইসলাম ধর্মে বিবাহ একটি আইনগত, সামাজিক এবং ধর্মীয় বিধান। ইসলামে বিবাহ বলতে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে সামাজিকভাবে স্বীকৃত ও ধর্মীয়ভাবে নির্ধারিত একটি চুক্তি বোঝায়। এই চুক্তির মাধ্যমেই একজন পুরুষ ও একজন নারীর মধ্যে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক স্থাপিত হয়ে তাদের দাম্পত্য জীবন শুরু হয়। মুসলিম বিবাহের চুক্তিপত্রে (যা কাবিননামা নামে পরিচিত) উল্লেখ করতে হয় বরের পক্ষ থেকে স্ত্রীকে দেয়া মোহরানার পরিমাণ। স্ত্রীকে দেয়া অর্থকে বলা হয় দেনমোহর। তাত্ক্ষণিকভাবে দেনমোহর পরিশোধ স্বামীর জন্য বাধ্যতামূলক যদিও স্ত্রী এ দায়িত্ব থেকে স্বামীকে স্বেচ্ছায় মওকুফ করে দিতে পারেন বা পরে দেয়ার অনুমতি দিতে পারেন। মুসলিম আইন অনুসারে দেনমোহর হচ্ছে স্ত্রীর একটি বিশেষ অধিকার। বিয়েতে পণপ্রথা হিন্দু ধর্মে একটি স্বীকৃত রীতি। বর্তমানে যৌতুক একটি বড় সামাজিক ব্যাধি। বাংলার হিন্দু পরিবারগুলোর মধ্যে প্রাচীনকাল থেকেই বাল্যবিবাহ প্রচলিত ছিল। ১৮৭২ সালে হিন্দু বিবাহ আইন পাস হলে বিবাহের সর্বনিম্ন বয়স মেয়েদের ১৪ এবং ছেলেদের ১৮ ধার্য করা হয়েছিল। বহুবিবাহ প্রাচীনকাল থেকে এ দেশে প্রচলিত ছিল। তবে, ১৯০১ সালের আদমশুমারিতে দেখা যায়, ধনী মুসলমান পরিবার ছাড়া সকল পরিবারে দ্বিতীয় স্ত্রী বিরল। ১৯৬১ সালের পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ একটি মাইলফলক। এতে পুরুষের বহুবিবাহের প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা ছিল। পারিবারিক আইনে যখন দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি প্রয়োজন হয় তখন থেকে দ্বিতীয় বিয়ের হার কমতে থাকে। হিন্দুবিবাহ একটি ধর্মীয় আচারিক বা আধ্যাত্মিক বিষয় এবং এ জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত দলিলের প্রয়োজন হয় না। হিন্দু পরিবারে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা কয়েকদিন ধরে চলে। বিয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাঙ্গলিক আচার-অনুষ্ঠানগুলো ছিল: শুভদৃষ্টি, মাল্যদান, মন্ত্রপাঠ, যজ্ঞসম্পাদন, কন্যাদান, অগ্নিপ্রদক্ষিণ, সপ্তপদীগমন এবং স্বস্তিবচন। হিন্দু সমাজে পাত্র-পাত্রীর কোষ্ঠী বিচার করে দেখার রীতি আছে। যদিও আধুনিক ছেলে-মেয়েরা এগুলো এখন খুব একটা মানে না। বিয়ের খাবার বিয়ের খাবারের লোভ সামাল দেয়া মুশকিল। অসুস্থ মানুষও এই একদিন খাই; বলে পাত পাড়েন বিয়ের অনুষ্ঠানে। আগের দিনে হিন্দু বিয়ে বাড়িতে মেঝেতে বসিয়ে কলাপাতায় খেতে দেয়া হতো। একদিকে থাকত লবণ আর লেবু। কলাপাতার বাইরে পানির জন্য মাটির গ্লাস আর দই ও ক্ষীর দেয়ার বাটি। ভোজনপর্ব শুরু হতো গরম লুচি, বেগুন পটল ভাজা, এরপরে আসত কুমড়ার ছক্কা, শীতকালে বাঁধাকপির তরকারি, ডাল, ধোঁকা, আলুর দম, মাছের কালিয়া, চাটনি, পাঁপড় ভাজা, মিষ্টি। মিষ্টিরও ছিল নানা রকমফের। অবস্থাপন্ন বাড়িতে যুক্ত হতো পোলাও, মাংস। মেয়েদের খাওয়ানো হতো আলাদা স্থানে। সেখানে পরিবেশনও করত মেয়েরা। আর এ সময় বাড়ির কর্তা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতেন সবার পাতে খাবার ঠিকমত পড়েছে কিনা। সবাই খেয়ে শান্তি পেয়েছেন কি না। আর মুসলিমদের বিয়েতে পোলাও, বিরিয়ানি, বোরহানি, চিকেন সবজি, চাটনি, দই মিষ্টি এসব খাওয়ানোর চল বেশ আগে থেকেই। দেশে দেশে বিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সমাজে বিয়ের জন্য রয়েছে বিভিন্ন রীতি। কখনো এক সমাজের বিয়ের রীতি অন্য সমাজের বিপরীত। কোনো সমাজের বিয়ের রীতি আবার আরেক সমাজে হাসির কারণ। বাংলাদেশ: বাংলাদেশে ঘটক ছেলের পক্ষ থেকে মেয়ের বাড়িতে প্রস্তাব নিয়ে যাওয়ার চল রয়েছে তবে, মেয়ের বাড়ি থেকে প্রস্তাব যাওয়ার চল খুব কম। আগে থেকে ইতিবাচক ইশারা না পেলে সাধারণত মেয়ের বাড়ি থেকে প্রস্তাব যাওয়ার চল নেই। ছেলে পক্ষ মেয়ের বাড়িতে এসে নানাভাবে মেয়েকে প্রশ্ন করার চল রয়েছে বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে। যেটা আধুনিক শিক্ষিত পরিবারে অনেকটা কমে এলেও সাধারণ পরিবারগুলোতে এভাবে মেয়ে দেখানো ও তাকে প্রশ্ন করার চল রয়েছে। তবে, যৌতুক প্রথা আইনিভাবে নিষিদ্ধ হলেও সামাজিকভাবে যৌতুক প্রথা দূর হয়নি। ফ্রান্স: সাদা রং ফ্রান্সের বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রধান রং। সাজগোজের অলঙ্কার, ফুল, কনের কাপড় সবই সেখানে সাদা হয়ে থাকে। এ থেকে বোঝা যায়, ফরাসিদের চোখে বিয়ে হচ্ছে শান্তি ও পবিত্রতার প্রতীক। যুক্তরাজ্য: পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে ঐতিহ্যবাহী ব্রিটিশ-রীতির বিয়ে অনুষ্ঠানে কনে পদ্মফুল হাতে রাখে। ব্রিটিশদের চোখে এই ফুল সৌভাগ্যের প্রতীক। ব্রিটিশদের বিয়ের অনুষ্ঠান সাধারণত দুপুরে আয়োজিত হয়। তাদের বিয়ের কেক তৈরিতে নানা রকম ফল ব্যবহার করা হয়। এ কেককে তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম পর্যন্ত রেখে দেওয়া হয়। গ্রিস: এ দেশে কনেরা নিজের হাত মোজার ভেতরে কিছু মিষ্টি ক্যান্ডি রাখে। এ ব্যতিক্রমী ঘটনার কারণ, নিজের বিবাহিত জীবনকে আরো মধুর করে তোলা। এছাড়া গ্রিকরা ঐতিহ্যবাহী রাউন্ড ডান্সের গোলাকার নৃত্যের মাধ্যমে বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানায়। কঙ্গো: বিয়ের দিন যখন চারিদিক আনন্দমুখর হয়ে থাকবে, তখন বর কিংবা কনের মোটেও হাসা চলবে না। নিজেদের আনন্দকে গোপন রেখে তাদের অবশ্যই গাম্ভীর্য ধরে রাখতে হবে। যদি পুরো অনুষ্ঠানের মধ্যে কোনো সময় বর কিংবা কনে হেসে দেয় তবে ধরে নেওয়া হয় তারা বিয়ের ব্যাপারে একনিষ্ঠ নয়। চীন: কনের পরিবার একজন সৌভাগ্যবতী মহিলাকে ভাড়া করবে কনেকে শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য, এটি চীনে বিয়ের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। শুধু এটুকুই নয়, কনে যাবে সুসজ্জিত পালকিতে চড়ে এবং তার পরিচারিকারা একপ্রকার হালকা ছাতার সাহায্যে তাকে ঢেকে রাখবে এবং কিছু পরিচারিকা পালকিতে চাল ছিটাবে। ট্র্যাডিশনাল চীনা মানুষেরা এই রীতিকে সুস্বাস্থ্য ও সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করে। জার্মানি: বর এবং কনের প্রথম গৃহস্থালী কাজ হবে ভাঙা চীনামাটির বাসনের স্তূপ পরিষ্কার করা, যা বিয়ের দিন উপস্থিত অতিথিরা মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে। মনে করা হয় এটি নববিবাহিতদের খারাপ আত্মার হাত থেকে সুরক্ষিত রাখবে। এছাড়াও এটি নববিবাহিতদের একসাথে কাজ করা এবং যে কোনো সমস্যা একসাথে মোকাবেলা করা শেখায়। জাপান: জাপানে বিয়েতে কনেরা ঐতিহ্যবাহী শিনতো অনুষ্ঠানে পা থেকে মাথা পর্যন্ত সাদা পোশাক পরিধান করে থাকে। এমনকি তাদের মেকআপও হবে সাদা। ঐতিহ্যবাহী কিমোনো পোশাকের সাথে তারা মাথায় সাদা রঙের হুড পরিধান করে। সাদা রঙ কনের মনের শুভ্রতা প্রকাশ করে এবং মাথার হুড কনের কথিত হর্ন অফ জেলাসি অর্থাত্ হিংসের শিং ঢেকে রাখে যা তারা তার শাশুড়ির প্রতি অনুভব করে। রাশিয়া: নববিবাহিত রাশিয়ান দম্পতিদের একপ্রকার মিষ্টি জাতীয় রুটি খেতে দেওয়া হয় যা গম থেকে তৈরি। বর অথবা কনের মধ্যে যে সবচেয়ে বড় রুটির অংশটি খেতে পারবে তাকেই বাড়ির কর্তা হিসেবে ধরে নেওয়া হবে। এ দেশে বিয়ের অনুষ্ঠানে স্বামী ও স্ত্রীকে দাঁড়িয়ে গভীরভাবে চুমু খাবে। শুধু একবার নয় অনুষ্ঠান চলার সময় বহুবার। তাদের ধারণা বিয়ের সময় যত চুমু খাবে তাদের সম্পর্ক ততই মধুর হবে। পাকিস্তান: কনের বোন এবং মেয়ের বন্ধুরা বরের জুতো নিয়ে লুকিয়ে রাখে, যদি বর তার জুতো ফেরত চায় তবে তাকে একটি মোটা অংকের টাকা দিয়ে জুতো জোড়া ফেরত নিতে হবে, নয়ত খালি পায়েই তাকে পুরো বিয়ের অনুষ্ঠান পার করতে হবে। বলা বাহুল্য আমাদের দেশেও এই রীতিটি কম বেশি প্রচলিত আছে। ফিলিপাইন: বিয়ের অনুষ্ঠানে ফিলিপিনো নবদম্পতিরা একজোড়া কবুতর উড়িয়ে দেয়, যার একটি মেয়ে ও অন্যটি ছেলে। নবদম্পতির জন্য এই কবুতর জোড়া তাদের বিবাহিত জীবনের শান্তির প্রতীক হিসেবে গণ্য হয়। ভেনেজুয়েলা: বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বর ও কনের সাথে কথা বলার জন্য অপেক্ষা করা একদমই বৃথা, কারণ বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই বর ও কনে সেখান থেকে পালিয়ে যাবে। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগে কারও কাছে ধরা না পড়ে এভাবে পালিয়ে যাওয়াকে সৌভাগ্য হিসেবে ধরা হয়। আর যে ব্যক্তি তাদের অনুপস্থিতি প্রথম ধরতে পারবে তার জন্যও এটি সৌভাগ্যের প্রতীক। পেরু: পেরুতে বিয়ের জন্য তৈরি বিশেষ কেকে একটি নকল বিয়ের আংটি দেয়া থাকে। কেক পরিবেশনের সময় যে আংটিসহ কেকের অংশটি পাবে তাকে সৌভাগ্যবান মনে করা হবে এবং ধারণা করা হয় পরবর্তী বিয়েটি তারই হতে যাচ্ছে।
কীভাবে তারুণ্য ধরে রাখবে নারীরা ? জেনে নেন
অনলাইন :সময়ের স্রোতে বাড়তে থাকে প্রত্যেকের বয়স। বয়স বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমতে থাকে আপনার চেহারার লাবণ্য।তবে নারীদের ক্ষেত্রে এটি বেশি ঘটে থাকে। তাই বেশির ভাগ নারীরা যেমন বয়স কমাতে চান আবার লুকাতেও চান। তবে আপনি চাইলেই চেহারায় ধরে রাখতে পারেন তারুণ্য। বয়স বাড়লেও তার ছাপ পড়বে না চেহারায়। আসুন জেনে নেই কীভাবে তারুণ্য ধরে রাখবে নারীরা ময়েশ্চারাইজার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের ওপরের স্তরে আর্দ্রতা রক্ষাকারী মলিকিউলের পরিমাণ ক্রমশ কমতে থাকে। তাই সারা দিনে অন্তত দুই থেকে তিনবার ময়েশ্চারাইজার লাগান। হাইড্রেটিং সিরাম ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার ব্যাপারে খুবই কাজের। পানিপান তারুণ্য ধরে রাখতে পানি খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। খাবারে রাখুন ফল, সালাদের মতো জিনিস। ত্বকের শুকনোভাব নিয়ে আর ভাবতে হবে না। চোখের কালো দাগ বয়স ত্রিশে পার হতে না হতেই চোখের নিচে কালো দাগ পড়তে থাকে। চোখের কোলে কালির সমস্যাও দেখা দেয় অন্যতম হাতিয়ার রেটিনল সমৃদ্ধ আই ক্রিম। রেটিনলে এ ভিটামিনের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি হওয়ায় চোখের চারপাশের সংবেদনশীল ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না। তবে দিনের বেলায় রোদের মধ্যে কখনও আই ক্রিম লাগাবেন না। সবসময় রাতে শুতে যাওয়ার আগে আই ক্রিম লাগান। দিনের বেলা ফাউন্ডেশন নয় দিনের বেলা ফাউন্ডেশনের বদলে এসপিএফ যুক্ত বিবি ক্রিম ব্যবহার করুন। পাউডার-বেসড মেকআপের বদলে নিয়ে আসুন লিকুইড মেকআপ। ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে লিকুইড মেকআপ আদর্শ! ঠোঁট আর চোখের মেকআপ কেনার সময়ও লিকুইড প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে পারলে ভালো হয়। ঘুমানোর আগে অবশ্যই মেকআপ তুলে নেবেন। সূর্যরশ্মি এড়িয়ে চলুন গরমের দিনে ফুলস্লিভ জামাকাপড় পরে বাইরে বের হওয়া উচিত। গাড়িতে বসে থাকাকালীন এমনভাবে স্কার্ফ জড়িয়ে নিন, যাতে গাল ও ত্বকের কোনো অংশ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। প্রসাধনী পরিবর্তন নয় লোশন, ক্রিম, সিরাম এগুলো অতিদ্রুত পাল্টানো ত্বকের জন্য ভালো নয়। অ্যান্টি-এজিং ক্রিম ব্যবহার করলে অন্তত চার সপ্তাহ সময় দিতে হবে, যাতে ত্বক সেটার সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার সুযোগ পায়। ভালো ব্র্যান্ডের প্রসাধনী ত্বকের জন্য ভালোমানের ও ব্র্যান্ডের প্রসাধনী ও উপকরণ ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। ত্বকের কোনো সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই বিশষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে ও সে অনুযায়ী ত্বকের জন্য পণ্য ব্যবহার করতে হবে। হাসিখুশি থাকুন অতিরিক্ত রাগ, দুশ্চিন্তা, ক্ষোভ, ভীতি ত্বকের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। এতে করে ত্বকে বলিরেখা পড়তে পারে। চোখের নিচে কালির ও ত্বক কুঁচকে যাওয়ার অন্যতম কারণ স্ট্রেস। সবসময় চেষ্টা করুন ফুরফুরে মেজাজে থাকতে।
কেমন ফ্রেমের চশমা আপনার জন্য মানানসই হবে
অনলাইন :ফ্যাশনের জন্য এবং প্রয়োজনে অনেককেই চশমা ব্যবহার করতে হয়। যাদের চোখে পাওয়ারের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য চশমা পড়া একটি বাধ্যগত কাজই ধরা হয়। আবার অনেকেই নিজের মধ্যে স্টাইলিশ লুক আনতেও ব্যবহার করেন চশমা। কিন্তু কোন মুখে কেমন ফ্রেমের চশমা মানায় তা যদি বুঝতে না পারেন তাহলে আপনার লুকে স্টাইলিশ ভাব একেবারেই আসবে না। বরং দেখতে বিশ্রীই লাগবে। তাই আপনার মুখের সাথে কেমন ধরণের ফেম মানাবে তা বুঝে নেয়া জরুরী। চলুন তবে দেখে নেয়া যাক কোন আকারের মুখে কেমন ফ্রেমের চশমা মানানসই হবে। চারকোণা মুখের জন্য চারকোণা আকৃতির মুখে সব চাইতে বেশি মানায় গোল, ক্যাট আই ও কার্ভড ধরণের ফ্রেমের চশমা। কারণ এই আকারের চশমাগুলো চয়ালের চারকোণা ভাবটা দূর করে মুখের ভারসাম্য বজায় রাখে। চারকোণা মুখে ওপরে সমান ফ্রেম, পুরু ফ্রেম ও চারকোণা আকারের ফ্রেম একেবারেই মানানসই নয়। গোলাকৃতি মুখের জন্য গোল মুখের জন্য এমন ধরণের ফ্রেমের চশমা ব্যবহার করা উচিৎ যা মুখটিকে আরও বেশি গোল না দেখায়। এর জন্য গোল ফ্রেমের চশমা ও ছোট ফ্রেমের চশমা থেকে দূরে থাকুন। আয়তাকার বা চারকোণা ফ্রেমের চশমা এবং পুরু ফ্রেমের চশমা গোল মুখের সাথে বেশ ভালো মানিয়ে যায়। ডিম্বাকৃতি মুখের জন্য ডিম্বাকৃতি মুখের সবচাইতে ভালো সুবিধা হচ্ছে যে কোনো আকারের ফ্রেম মানিয়ে যায়। গোল, চারকোণা যে কোন ফ্রেমের চশমা ব্যবহার করতে পারেন এই আকারের মুখের অধিকারী মানুষেরা। বেশ ভালো দেখাবে। তবে খুব ছোট ও অনেক বড় আকারের ফ্রেম এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। হার্ট আকৃতির মুখের জন্য হার্ট আকৃতির মুখের সমস্যা হলো কপাল একটু বড় থাকে মুখের নিচের অংশের তুলনায়। তাই হার্ট আকৃতির মানুষের জন্য এমন ফ্রেমের চশমা দরকার যা কপাল থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিতে পারে। এর জন্য চারকোণা, আয়তাকার ও ক্যাট আই ফ্রেম একদম মানিয়ে যায়।ওপরে নিচে সমান আকারের ফ্রেম ব্যবহার করবেন। লম্বাটে মুখের জন্য লম্বাটে মুখের জন্য এমন ফ্রেমের প্রয়োজন যা মুখের লম্বাটে ভাব দূর করে। তাই একটু বড় আকারের চশমার ফ্রেম বেঁছে নিন। ছোট আকারের এবং চারকোণা ফ্রেমের চশমা থেকে দূরে থাকুন।