যে দেশে নারীর বয়স বাড়ে না,প্রাকৃতিকভাবেই সুন্দরী
১৭জানুয়ারী,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নিজেকে অন্যদের তুলনায় সুন্দর দেখাতে কে না চায়? নারী-পুরুষ সবাই চায় যৌবনে পাওয়া সৌন্দর্য জীবনভর অটুট থাকুক। এই চাওয়াকে পাওয়ায় রূপ দিতে তাদের চেষ্টারও অন্ত নেই। যে কারণে দেশে-বিদেশে রূপচর্চা কেন্দ্রগুলোতে ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় নারী একটু এগিয়ে। আপন সৌন্দর্য ধরে রাখতে তারা যুগ যুগ ধরেই বিভিন্ন পন্থা ব্যবহার করছে। অনেকে কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করতেও দ্বিধা করছে না। কিন্তু পৃথিবীর এমন একটি দেশ আছে যেখানে নারীর রূপ-সৌন্দর্য ধরে রাখতে খুব বেশি কসরত করতে হয় না। প্রাকৃতিকভাবেই সেই দেশের নারীরা সুন্দরী। জন্ম থেকেই তারা অপরূপ! তাদের সৌন্দর্য বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে লোপ পায় না। অর্থাৎ বয়স বাড়লেও তাদের ষোড়শী তন্বী তরুণীর মতোই দেখায়। দেশটির নাম তাইওয়ান। দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৩৮ লাখ। পার্শ্ববর্তী দেশ চীনে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা অপ্রতুল হলেও তাইওয়ানে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি। এখানকার নারীদের সৌন্দর্য বয়সের কারণে হেরফের হয় না। এজন্য তাদের মেকআপ বা কৃত্রিম ব্যবস্থার সাহায্য নিতে হয় না। তারা প্রাকৃতিকভাবেই ষোড়শী। তবে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে তাইওয়ানের নারীরা বেশ কিছু রীতি পালন করে। নেহায়েত বিশ্বাস থেকে উদ্বুদ্ধ হলেও রীতিগুলো নারীদের জীবনাচারকে প্রভাবিত করে। প্রথমত তারা রোদ এড়িয়ে চলে। ভর দুপুরে কিংবা প্রখর রোদে যত গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকুক না কেন তারা ঘরের বাইরে যায় না। সামাজিক বিশ্বাস তারা রোদে গেলে কালো হয়ে যাবে। সৌন্দর্য ধরে রাখতে তাদের অদ্ভুত আরও একটি বিশ্বাস হচ্ছে বৃষ্টিতে না ভেজা। তাইওয়ানের অধিকাংশ নারী বিশ্বাস করে বৃষ্টিতে ভিজলে তাদের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে। এ কারণে তাদের বৃষ্টিতে ভিজতে তীব্র আপত্তি।বিজনেস বাংলাদেশ । নিজেদের সুস্থ-সতেজ রাখতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তারা প্রচুর পরিশ্রম করে। সবাই দিনে কমপক্ষে ১০ ঘণ্টা কাজ করে। নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করে। তাছাড়া তাইওয়ানে যোগাযোগের সব রকম আধুনিক ব্যবস্থা থাকলেও তারা দ্রুত গতির যান এড়িয়ে সাইকেল ও স্কুটার ব্যবহার করে। ফলে তারা অন্য দেশের মানুষের তুলনায় অনেক বেশি সুস্থ থাকে। শরীর সুস্থ থাকলে মনও ভালো থাকে। মন ভালো থাকলে শারীরিক সৌন্দর্যে তার ছাপ পড়ে।
ঠাণ্ডা নাকি গরম দুধ উপকারী
নকশা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দুধে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন-১২, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস। যা হাড়-দাঁত মজবুত করে। শক্ত করে পেশি। শরীরে পুষ্টি জুগিয়ে সুস্থ রাখে ওষুধ ছাড়াই। তাই প্রত্যেকের নিয়মিত খাদ্য তালিকায় দুধ রাখা উচিত। কিন্তু দুধ গরম খাবেন না ঠাণ্ডা? কোনটা বেশি উপকারী শরীরের জন্য? ঠাণ্ডা দুধ অম্বল ও ওজন কমায় সহজে। আবার ভালো ঘুম বা হজমশক্তি বাড়াতে গরম দুধের প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে একেক জনের জন্য একেক রকম দুধ উপকারী। জেনে নিন ঠাণ্ডা নাকি গরম কোন দুধ আপনার জন্য উপকারী। হজমশক্তি বাড়ায় গরম দুধ। দুধ বা দুধ থেকে তৈরি খাবার যাদের হজম হয় না তাদের খেতে হবে ঈষদুষ্ণ দুধ। ঠাণ্ডা দুধ তুলনায় ভারী। হজম করা কষ্ট। আর গরম দুধে ল্যাক্টোজের পরিমাণ কম থাকে। তাই এই দুধ সহজে হজম হয়। ঘুম আনবে দুধ। রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধ মানেই এর মধ্যে থাকা সেরেটোনিন, মেলাটোনিনের গুণে মাথা থাকবে ঠাণ্ডা। যারা ঘুমের সমস্যায় ভোগেন তারা অবশ্যই ঘুমানোর আগে গরম দুধ খাবেন। অম্বল কমায় ঠাণ্ডা দুধ। যারা সবসময় গ্যাস-অম্বলে ভোগেন তাদের জন্য ঠাণ্ডা দুধ ভীষণ উপকারী। এতে বুক-পেট জ্বালাও কমে। তাই খাবার পর রোজ আধা গ্লাস ঠাণ্ডা দুধ খান। ওষুধ ছাড়াই এই সমস্যার সমাধান পাবেন। শরীরে পানির ঘাটতি মেটে ঠাণ্ডা দুধে। ঠাণ্ডা লাগার সমস্যা না থাকলে সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে ঠাণ্ডা দুধ খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে শরীরে পানির ঘাটতি মিটবে। তবে রাতে ভুলেও ঠাণ্ডা দুধ খাবেন না। এতে পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সূত্র : এনডিটিভি
শিব যে ৫টি গোপন সত্য পার্বতীকে জানিয়েছিলেন
২৫ ডিসেম্বর,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: একদা পার্বতী শিবকে মানব চরিত্র সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন করেন। এবং শিব সেগুলির যথাযথ উত্তর দেন। এই প্রশ্নোত্তরগুলিকে মানব জীবনের গোপন সত্য বলে অভিহিত করে বিবিধ শৈবাগম। সনাতন ধর্মে শিব পরাশক্তির প্রতীক এবং পার্বতী বা দেবীশক্তি বৈখরী শক্তির। সহজ করে বললে, শিব এমনই এক সত্য যাঁর প্রকাশ নেই। বৈখরী শক্তি সেই সত্যের প্রকাশ ঘটান। সত্য, শিব ও সুন্দর প্রকাশিত হয় বাক্যে, যার অধিষ্ঠাত্রী স্বয়ং জগন্মাতা। শিবপুরাণ ও বিবিধ তন্ত্রগ্রন্থে হরপার্বতীর কথোপকথনকে বিপুল গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই সংলাপই জগৎ-রহস্যকে উন্মোচন করে বলে বিশ্বাস করে সনাতন হিন্দু ধর্ম। এমনই এক সংলাপ থেকে জানা যাচ্ছে, একদা পার্বতী শিবকে মানব চরিত্র সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন করেন। এবং শিব সেগুলির যথাযথ উত্তর দেন। এই প্রশ্নোত্তরগুলিকে মানব জীবনের গোপন সত্য বলে অভিহিত করে বিবিধ শৈবাগম। এখানে রইল সেই প্রশ্নোত্তর থেকে প্রাপ্ত ৫টি সত্যের কথা। পার্বতীর প্রশ্ন ছিল, মানব জীবনে সব থেকে বড় পুণ্য আর সবথেকে ঘৃণ্য পাপ কী। উত্তরে শিব জানান, সত্যনিষ্ঠ থাকাই মানব জীবনে সব থেকে বড় পুণ্য। এর সত্যভ্রষ্ট হওয়াই সব থেকে বড় পাপ। নিজেকে কীভাবে সত্যনিষ্ঠ রাখা যায় পার্বতীর পরবর্তী প্রশ্ন। শিবের উত্তর ছিল আত্মপর্যবেক্ষণই সত্যের পথে অবিচল থাকার একমাত্র পথ। নিজের উপলব্ধিই মানুষের অন্তরে ঔচিত্য-অনৌচিত্য বোধ জাগায়। প্রসঙ্গক্রমে শিব জানান, যে সব বাক্য, কর্ম ও চিন্তা মনে পাপচিন্তার উন্মেষ ঘটায়, তা থেকে দূরে থাকাই সত্যনিষ্ঠার জন্ম দেয়। আসক্তি থেকেই যাবতীয় সমস্যার উদ্ভব বলে জানান মহাদেব। আসক্তিই মানুষকে পিছনের দিকে টানে। তার সাফল্যে বাধা দেয়। মানব জীবনের ক্ষণস্থায়িত্বের কথা ভেবে আসক্তিকে পরিহার করাই উচিত। এর পরে শিব পার্বতীকে মৃগতৃষ্ণা-র কথা বলেন। মৃগতৃষ্ণা বা বাসনার তীব্র বোধ যাবতীয় দুঃখ-দুর্দশার জন্ম দেয়। এক মাত্র ধ্যান ও মোক্ষচিন্তাই মৃগতৃষ্ণা থেকে মানুষকে উদ্ধার করতে পারে।
স্বামীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ ঈমানদার স্ত্রী
৩০অক্টোবর,বুধবার,মো:ইরফান চৌধুরী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: যে কারণে স্বামীর জন্য ঈমানদার স্ত্রী শ্রেষ্ঠ সম্পদ: হাদিসে সে বিষয়গুলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুস্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা করেছেন। তিনি পুরুষের জন্য চারটি বিষয়কে শুভলক্ষণ বলেছেন। আর তা হলো- নেককার নারী, প্রশস্ত ঘর, সৎ প্রতিবেশী এবং সহজ প্রকৃতির আনুগত্যশীল-পোষ্য বাহন। পক্ষান্তরে চারটি জিনিসকে কুলক্ষণা বলেছেন। তার মধ্যে একটি হলো বদকার নারী। (হাকেম, সহিহ আল জামে) অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন ঈমানদার স্ত্রীকে তার স্বামীর জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হাদিসটি তুলে ধরা হলো- হজরত ছাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,যখন এ আয়াত নাজিল হলো- আর যারা সোনা-রূপা সঞ্চয় করে (আয়াতের শেষ পর্যন্ত); তখন আমরা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে কোনো এক সফরে ছিলাম। তখন তাঁর এক সাহাবি বললেন, এটাতো (আয়াত) সোনা-রূপা সর্ম্পকে নাজিল হলো। আমরা যদি জানতে পারতাম কোন সম্পদ উত্তম, তবে তা সঞ্চয় করতাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমাদের কারো শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো- আল্লাহর জিকিরকারী রসনা (জিহ্বা); কৃতজ্ঞ অন্তর; এবং ঈমানদার স্ত্রী, যে তার ঈমানের (দ্বীনের) ব্যাপারে তাকে (স্বামীকে) সহযোগিতা করে। (মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মিশকাত) হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ মাজাহেরে হক এ হাদিসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা বর্ণনা করেছেন। এ হাদিসে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈমানদার স্ত্রীর ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছেন। একজন ঈমানদার স্ত্রী তার স্বামীর জন্য সর্বোত্তম সম্পদও বটে। দ্বীনের ব্যাপারে স্বামীকে সহযোগিতার মর্মার্থ হলো- ঈমানদার স্ত্রী ধর্মীয় কার্যক্রম ও দ্বীনি দায়িত্বসমূহ পালনের ক্ষেত্রে তার স্বামীকে সহযোগিতা করবে। যেমন- নামাজের সময় হলে তার স্বামীকে নামাজের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে; রমজান মাসের রোজা রাখার ব্যাপারে স্বামীকে সহযোগিতা করবে। অনুরূপভাবে একজন ঈমানদার স্ত্রী তার স্বামীকে ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি, পরিবারের আনুসাঙ্গিক কাজকর্মসহ অন্যান্য সব ইবাদত-বন্দেগিতেও স্বামীকে বুদ্ধি পরামর্শ ও উপদেশ দিয়ে যথাসাধ্য সহযোগিতা করবে। ঈমানদার স্ত্রী বাড়িতে এমন পরিবেশ এবং আবহ সৃষ্টি করবে, যাতে স্বামী সারাক্ষণ পূণ্যকর্মে লিপ্ত থাকেন। অপকর্ম, অবৈধ উপার্জন এবং হারাম পেশা থেকে বিরত থাকেন। এমনকি স্বামী যদি কোনো মন্দ কাজে লিপ্ত হন তবে ঈমানদার স্ত্রী তাকে সেই মন্দ কাজ থেকে ফিরিয়ে আনবে। অবাধ্য স্বামীকে মন্দ কাজ থেকে ফিরিয়ে আনতে তার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈমানদার নেক্কার স্ত্রীকে স্বামীর জন্য সর্বোত্তম সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহ সব নারীকে দ্বীনদার ও ঈমানদার হিসেবে কবুল করুন। পৃথিবীর সব মুমিন নারীকে নেককার সন্তান, নেককার স্ত্রী ও নেককার মা হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
মিষ্টি খেয়েও নিয়ন্ত্রণে থাকবে ডায়াবেটিস
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ বাসা বাধে। তাই সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। অনেকে মনে করেন ডায়াবেটিস রোগীরা মিষ্টি খেতে পারবেন না। আপনি জানেন কি? নিয়ম মেনে ডায়াবেটিস রোগীরা মিষ্টি খেতে পারবেন। আসুন জেনে নিই যেসব নিয়ম মেনে ডায়াবেটিস রোগীরা মিষ্টি খেতে পারবেন? ১. ডায়াবেটিস রোগীদের সব থেকে বড় শত্রু হলো দুধ। মিষ্টি তৈরির জন্য প্রয়োজন হয় দুধের। তাই দুধ ছাড়া যদি অন্য কিছু দিয়ে মিষ্টি তৈরি করা যায়, তবে তা ডায়েটের প্রথম ধাপেই আমরা ব্লাড সুগার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। ২: দুধ ছাড়াও আরও অনেক উপাদান আছে, যা দিয়ে বাড়িতে বসে মিষ্টি বানানো যায়। দুধের বিকল্প হিসাবে আপনি বেছে নিতে পারেন, প্রাকৃতিক মধু, নারিকেলের মাখন, গুড়, নারিকেলের চিনি প্রভৃতি। ৩. দুধের বিকল্প হিসাবে মিষ্টি তৈরিতে অ্যালমণ্ড, সয়াদুধ বা নারিকেলের দুধ অথবা বাদাম দুধও ব্যবহার করে দেখতে পারেন। ৪. এসব খাওয়ার আগে আপনাকে সুগারের লেভেল চেক করে নিতে হবে। কারণ না হলে আপনি বুঝতে পারবেন না যে খাবারগুলো আপনি রোজ গ্রহণ করছেন, সেগুলো আপনার শরীরের ব্লাড সুগারে কতটা প্রভাব ফেলছে। এ নিয়মগুলো মেনে চললে উৎসবের দিনে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে হয়ে উঠুন আরও চনমনে প্রাণবন্ত।
শারদীয় পূজার সাজে
০৪অক্টোবর,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বছর ঘুরে আবারও বেজে উঠল পূজার ঘণ্টা। বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব এ দুর্গাপূজা। ঢাকের শব্দ আর বাতাসের তালে কাশফুলের দোলা, নাড়ু-মুড়কি ম ম ঘ্রাণ আর চিরায়িত লালপেড়ে সাদা শাড়ি মনে করিয়ে দেয় পূজার আগমনী বার্তা। পূজার সময়ে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত সাজতে পারবেন একদম মনের মতো করে। কারণ এসময় সবচেয়ে বেশি ঘোরাঘুরির; বেশি বেশি নিমন্ত্রণের। এমন আনন্দের দিনে সাজটাও থাকা চাই নিখুঁত। চলুন জেনে নেই কেমন সাজে এ পূজায় হয়ে উঠবেন অনন্যা- ষষ্ঠী এবং সপ্তমীর সাজ: মেকআপ ভারি না রেখে সাজে স্নিগ্ধতা রাখলেই দেখতে ভালো লাগবে। মেকআপের শুরুতে একটা প্রাইমার লাগিয়ে নেবেন। এতে করে মেকআপ ত্বকে বসবে এবং নষ্ট হবে না সহজে। স্নিগ্ধ সাজের বেইজের জন্য বেছে নিন বিবি ক্রিম। এতে মেকআপ ভারি লাগবে না দেখতে। হালকা কন্ট্যুরিং, ব্লাশ এবং চাইলে হাইলাইটার লাগিয়ে নিতে পারেন। ভারি এবং গর্জিয়াস চোখের সাজ রেখে দিন অষ্টমী থেকে দশমীর জন্য। ষষ্ঠী এবং সপ্তমীতে হালকা গোল্ডেন, শ্যাম্পেইন, রোজগোল্ড কালারগুলো আইশ্যাডো হিসেবে লাগাতে পারেন। তবে আইলাইনার এবং মাশকারা কিন্তু অবশ্যই রাখবেন। পূজার লুকে আইলাইনারটা দেখতে বেশ লাগে! চাইলে কাজলও লাগাতে পারেন। স্নিগ্ধ লুকের জন্য ষষ্ঠীর দিন একটু হালকা ধাঁচের লিপস্টিক ব্যবহার করতে পারেন। তবে সপ্তমীতে একটু কালার যোগ করলে মন্দ হয় না। ব্যবহার করতে পারেন- ন্যুড, ব্রাউন, টেরাকোটা, অরেঞ্জ, পিংক, ব্রাউনিশ পিংক ইত্যাদি কালার। অষ্টমীর সাজ অষ্টমীতে গাঢ় রঙের শাড়ি ও পোশাক বেছে নিন। লাল, মেরুন, তসর, সিল্ক, কাতান অথবা সাদা-লালপাড় শাড়ি পরে যেতে পারেন এদিন। আঁচলে ভারি কাজ আছে এ রকম লালপাড়ের শাড়ি এক প্যাঁচ করে পরলে ভালো দেখাবে। অষ্টমীর দিন সকালে লাল শাড়ি পরার প্রচলন আছে। মেকআপের শুরুতে ক্লিনজিং মিল্ক দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে টোনার বুলিয়ে সানস্ক্রিন লোশন লাগিয়ে নিন। দিনের সাজে মেকআপ যতটা সম্ভব হালকা হওয়া উচিত। পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বা কন্ট্রাস্ট করে চোখে আইশ্যাডো লাগান। পেনসিল আইলাইনার দিয়ে কিছুটা মোটা করে লাইন টেনে আইশ্যাডো ব্রাশ দিয়ে স্মাঞ্জ করে নিন। মাশকারা দিন ঘন করে। ঠোঁটে লাল রঙের লিপস্টিক লাগাতে পারেন। সঙ্গে হালকা পিংক ব্লাশন। কপালে বড় লাল টিপ লাগিয়ে নিতে পারেন। আর বিবাহিতদের সিঁথিতে সিঁদুর তো আছেই। পায়ের আলতা দিতে পারেন পছন্দ অনুযায়ী। গোল্ড প্লেটের গয়না বেছে নিতে পারেন এ দিন। বাইরে বের হওয়ার আগে ভালো পারফিউম ব্যবহার করে নিন। চুল সামনের দিকে সেট করে পেছনে কার্ল করে ছেড়ে বা বেঁধে নিতে পারেন। কানের পেছনে চুলে গুঁজে দিন বেলি ফুলের মালা বা সাদা ও লাল জারবেরা। নবমী ও দশমীর সাজ: এ দুই দিন সাজ হবে বেশ জমকালো। এসময় প্রচুর ঘোরাফেরা, দাওয়াত ইত্যাদি থাকে। তাই মেকআপ এক্সপেরিমেন্টাল হলে মন্দ হয় না! প্রথমেই ত্বকটাকে মেকআপের জন্য তৈরি করে নিয়ে প্রাইমার লাগিয়ে নেবেন। যেহেতু দুর্গাপূজা বলে কথা! অবশ্যই মেকআপ ফুল কভারেজ হবে। আর মেকআপটাও ভারি হবে। তাই বেছে নিন পছন্দের ফুল কভারেজ ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশন ত্বকে লাগিয়ে ব্রাশ বা বিউটি স্পঞ্জের সাহায্যে ব্লেন্ড করে নিন। মুখটাকে উজ্জ্বল দেখানোর জন্য ক্রিম হাইলাইটিং করতে পারেন। এর জন্য আপনার ত্বকের থেকে ২-৩ শেইড লাইট একটা কন্সিলার নিয়ে আপনার চোখের নিচে, কপালে, নাকের উপরে, থুতনিতে, কন্ট্যুরিং লাইনের নিচের দিকে লাগিয়ে নিন। কন্সিলারটি ব্রাশ-বিউটি স্পঞ্জের সাহায্যে ব্লেন্ড করে নিন। এবার পুরো ফেস লুজ পাউডার দিয়ে সেট করে নিন। মুখ স্লিম এবং শার্প দেখাতে পাউডার কন্ট্যুরিং করে নিন। চাইলে আগে ক্রিম কন্ট্যুরিংও করে নিতে পারেন। চিকসের নিচে, কপালে হেয়ার লাইনে, নাকের দুই পাশে, থুতনির নিচে কন্ট্যুরিং এবং ব্লেন্ড করে নিন। মুখে একটু কালার যোগ করতে ব্লাশ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন পিংক, কোরাল, অরেঞ্জ, ব্রাউন, পিচ ইত্যাদি রং। পূজার গর্জিয়াস মেকআপের সঙ্গে হাইলাইটার কিন্তু বেশ জমকালো লুক আনতে সাহায্য করবে। হাইলাইটার ব্রাশের সাহায্যে পাউডার হাইলাইটার নিয়ে চিক বোনে, কপালে, আইব্রো বোনে, আইব্রোর ওপরের দিকে, নাকের ওপরে, থুতনিতে এবং ঠোঁটের ওপরে লাগিয়ে নিন। আই মেকআপের শুরুতে আইব্রোগুলো একটু ড্রামাটিকভাবই এঁকে নিলেই ভালো লাগবে। আই মেকআপ হিসেবে আপনি কাট ক্রিজ, হাফ কাট ক্রিজ, গ্লিটারি আই মেকআপ, স্মোকি, গ্লিটার কাট ক্রিজ, হেলো স্মোকি আই, স্পটলাইট আই মেকআপ ইত্যাদি ট্রাই করতে পারেন। চাইলে একেকদিন, একেকটা ট্রাই করবেন। দেখতে কিন্তু বেশ দারুণ লাগবে। আইশ্যাডো হিসেবে বেছে নিন ব্রাউন, রেড, ব্লু, গ্রিন, পিচ, কোরাল, ইয়েলো, পিংক, পার্পল, গোল্ডেন, সিলভার, রোজ গোল্ড, অরেঞ্জ, কপার, শ্যাম্পেইন, পার্ল, ব্রোঞ্জি, ব্ল্যাক ইত্যাদি কালার। আইলাইনার, মাশকারা, মোটা করে কাজল লাগিয়ে নিন মন মতো। চাইলে লেন্স এবং ফলস আইল্যাশও পরতে পারেন। লিপস্টিক হিসেবে আপনার পছন্দসই যে কোনো কালার বেছে নিতে পারেন। পূজায় কিন্তু লাল রং প্রাধান্য পায়। পরতে পারেন ব্রাউন, ম্যাজেন্টা, পার্পল, বারগেন্ডি, ন্যুড, কোরাল, পিংকিস ব্রাউন, পিচ ইত্যাদি কালারও লাগাতে পারেন। এছাড়াও পূজার সাজে কপালে টিপ কিন্তু বেশ মানাবে। দীর্ঘসময় মেকআপ ধরে রাখতে চাইলে সবশেষে মেকআপ সেটিং স্প্রে ব্যবহার করবেন। এবং চুলের সাজ: সাজগোজে চুলের স্টাইল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। চুল একটু লম্বা হলে পূজার সকালে হালকা হাত খোঁপাও ভালো লাগবে। শাড়ির সঙ্গে দিব্যি মানাবে। মাঝখানে সিঁথি করে সামনের দিকটা অল্প ফুলিয়ে নিতে পারেন। একটু কায়দা করতে চাইলে পুরো চুল ব্যাক কোম করে নিয়ে লো বান করতে পারেন। পূজার সন্ধ্যায় একটু গর্জিয়াস সাজতে চাইলে খোঁপায় ফুল বা একটু সাবেকি ধাঁচের খোঁপার কাঁটা বা হেয়ার অ্যাকসেসরিজ লাগাতে পারেন। খোঁপার ওপরে হেয়ার পিনও শাড়ির সঙ্গে ভালো মানাবে। চুল সবসময় বাঁধতে হবে এমন নয়, খোলা চুলেও স্টাইলিং করা যায়। স্ট্রেট করিয়ে নিতে পারেন আবার হালকা কার্লও করতে পারেন। পূজার সাজে ফুল কিন্তু থাকতেই হবে। সকালে মন্দিরে যাওয়ার সময় অর্কিডের গুচ্ছ গুঁজে দিন চুলে। অথবা চুল খোঁপা করে তাতে জড়িয়ে নিতে পারেন শিউলি ফুল, বেলি ফুল বা কাঠবেলির মালা। ছেলেদের সাজ: পূজায় এখনও পাঞ্জাবি আর ধুতির আবেদনটাই অন্যরকম। পূজার শুরুর দিনগুলোতে তারা হালকা রঙের পাঞ্জাবি ও পায়ে আরামদায়ক ফিতাযুক্ত স্যান্ডেল পরতে পারেন। আর শেষ দিনগুলোতে জমকালো পাঞ্জাবি, ফতুয়া পছন্দ করতে পারেন। যারা একটু অন্যভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে চান তারা ধুতি পরতে পারেন। তবে অঞ্জলি বা মণ্ডপে ঘোরার সময় পাঞ্জাবি, ধুতির রাবীন্দ্রিক সাজ থাকলেও অন্যান্য সময় তো হাল ফ্যাশনের ছোঁয়া চাই। শার্ট, টি-শার্ট পরে সন্ধ্যার পর মণ্ডপে ঘোরার মজাই আলাদা। তাই তরুণরা হাল ফ্যাশনের টি-শার্ট আর শার্টের দিকেও ঝুঁকছেন। পূজায় দিনের বেলা হালকা রঙের পোশাককেই প্রাধান্য দিন। সাদা, ঘিয়ের পাশাপাশি শরতের স্নিগ্ধতা বজায় রাখতে নীল রংও বেছে নিতে পারেন। রাতের জন্য গাঢ় রং নির্বাচন করাই ভালো। লাল, কালো, সবুজ, চকলেট, মেরুন ইত্যাদি রং বেছে নিতে পারেন। ছেলেরা চুলে জেল ব্যবহার করে এ দিন ভিন্ন লুক আনতে পারেন। বাজারে বিভিন্ন স্টাইলের আংটি ও ব্রেসলেট পাওয়া যায়, পরতে চাইলে হাতের জন্য পছন্দমতো ও মানানসই বেছে নিতে পারেন। দিনের বেলা রোদের কারণে এবং ধুলোবালি থেকে বাঁচতে হাতের কাছে অবশ্যই রাখবেন সানগ্লাস।
রুক্ষ শুষ্ক ত্বকের পরিচর্যায় অ্যালোভেরা
১৩জুলাই২০১৯,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: রুক্ষ শুষ্ক ত্বকের পরিচর্যায় অ্যালোভেরা কার্যকারি উপাদান। ত্বকের যত্নে অনেকেই নিয়মিত অ্যালোভেরার রস বা অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু অ্যালোভেরাও যে ওজন কমাতে পারে সে খবর কয়জন জানে? অ্যালোভেরায় রয়েছে অ্যালোইন নামের প্রোটিন। যা সরাসরি ফ্যাট না কমালেও শরীরে জমে থাকা টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। তবে একটা বিষয়ে সতর্ক থাকবে হবে সবাইকে। অ্যালোভেরার রস বেশি পরিমাণে শরীরে গেলে পেটের সমস্যা, ডায়রিয়া হতে পারে। তাই অ্যালোভেরার রস খান সঠিক পরিমাণে। কি পরিমাণ অ্যালোভেরার রস আমাদের শরীরে প্রয়োজন তা জানা থাকা দরকার। এক গ্লাস পানিতে ৫০ মিলিলিটার অ্যালোভেরা রস মিশিয়ে দিনের যে কোনও সময় খেতে পারেন। ব্লাড সুগার, হজমের সমস্যা, পাকস্থলির সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে এই রস। দ্রুত শরীরের বাড়তি ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অ্যালোভেরার রস অত্যন্ত কার্যকরী। তবে সাবধান! গর্ভবতী মহিলাদের জন্য অ্যালোভেরার রস অনেক বড় ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ ডার্মাটোলজি তে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গর্ভবতী মহিলা বা নতুন মায়েদের ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতিকর এই রস। কারণ অ্যালোভেরার রস জরায়ু বা ইউটেরাসের সংকোচন ঘটায়। এ ছাড়াও অন্ত্রনালীতে নানা সমস্যার সৃষ্টি করে।
যেসব নারীকে বিয়ে করা হারাম
১২জুলাই২০১৯,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:যেসব নারীকে বিয়ে করা হারাম নিম্নে বর্ণিত ১৩ প্রকার নারীকে বিয়ে করা হারাম: ১. আপন মা, বাবা ও দাদা-নানার স্ত্রীরা এবং তাদের কামভাব নিয়ে স্পর্শকৃত নারী। এরূপ ঊর্ধ্বতন সব দাদা-নানার স্ত্রীরা। ২. মেয়ে এবং ছেলে ও মেয়ের ঘরের সব নাতনি। ৩. সহোদরা, বৈপিত্রেয়-বৈমাত্রেয় ফুফু। ৪. সহোদরা, বৈপিত্রেয়-বৈমাত্রেয় খালা। ৫. সহোদরা, বৈপিত্রেয়-বৈমাত্রেয় বোন ও তাদের সন্তানাদি। ৬. সহোদরা, বৈপিত্রেয়-বৈমাত্রেয় ভ্রাতৃকন্যা ও তাদের সন্তানাদি। ৭. দুধমাতা, তার মাতা, দাদি, নানিএমনিভাবে ওপরের সব নারী। ৮. স্ত্রীর মেয়ে, যদি স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস হয়ে থাকে। ৯. পুত্রবধূ, আপন ছেলের হোক বা দুধছেলের হোক। ১০. আপন শাশুড়ি, দাদিশাশুড়ি, নানিশাশুড়ি এবং ওপরে যারা রয়েছে। ১১. দুই বোন একত্রীকরণ, এমনিভাবে ফুফু ও তার ভাতৃকন্যা, খালা ও তার ভাগ্নিকন্যাকে একসঙ্গে বিয়ের মধ্যে রাখা। ১২. উল্লিখিত রক্ত সম্পর্কের কারণে যারা হারাম হয়েছে, দুধ সম্পর্কের কারণেও তারা সবাই হারাম হয়। ১৩. যে মেয়ে অপরের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ রয়েছে। এ ছাড়া অন্য সব নারীকে বিয়ে করা হালাল। (দেখুন : সুরা : নিসা, আয়াত ২৩-২৪) স্ত্রীর বর্তমানে শালিকে বিয়ে করা অবৈধ কোনো নারী কারো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ থাকাকালীন তার বোনের সঙ্গে বিয়ে সম্পূর্ণ হারাম। প্রথম বোনের সঙ্গে তালাক হয়ে গেলে মহিলার ইদ্দত শেষ হওয়ার পর অথবা বোন মারা গেলে তখন তার বোনের সঙ্গে বিয়ে বৈধ। (হিন্দিয়া : ১/২৭৭) পরস্পর লেগে থাকা যমজ দুই বোনের বিয়ের বিধান জন্মগতভাবে পরস্পর জড়ানো যমজ দুই বোনের জন্ম হলে দুই বোনকে এক ব্যক্তি একত্রে বিয়ে করতে যেমন পারবে না, তেমনি দুই বোনকে দুই ব্যক্তির কাছে বিয়ে দেওয়াও সম্ভব নয়। শুধু এক বোনকে একজন লোকের কাছে বিয়ে দিলেও পর্দার বিধান রক্ষা করে তাকে নিয়ে সংসার করা সম্ভব হবে না। তাই এ সমস্যার একমাত্র সমাধান হবে, অপারেশনের মাধ্যমে দুই বোনকে আলাদা করার চেষ্টা করা, যা বর্তমান যুগে ব্যয়বহুল হলেও সম্ভব। অতঃপর দুই বোনকে পৃথক দুই ব্যক্তির কাছে বিয়ে দেওয়া। আর পৃথক করা কোনোভাবে সম্ভব না হলে তাদের চিরকুমারী থাকা ছাড়া কোনো উপায় নেই। (বাদায়েউস সানায়ে: ২/২৬২; ইমদাদুল ফাতাওয়া: ২/২৩৯) চাচাতো ভাই-বোনের মেয়েকে বিয়ে করা বৈধ আপন ভাই বা বোনের মেয়েকে বিয়ে করা হারাম। তবে চাচাতো, মামাতো, খালাতো, ফুফাতো ভাই ও বোনের মেয়ে মুহাররমাতের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই তাদের বিয়ে করা জায়েজ হবে। (বিনায়া : ৪/৫০৮) দুধবোন ও তার মেয়েকে বিয়ে করা হারাম শরিয়তের আলোকে দুধবোনকে বিয়ে করা সম্পূর্ণ হারাম ও নিষেধ। বংশীয় সম্পর্কে সহোদর বোনের মেয়েকে বিয়ে করা যেমন হারাম, দুধবোনের মেয়ে বিয়ে করাও তেমনি হারাম। (বুখারি, হাদিস: ২৬৪৫; বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২) প্রাপ্তবয়স্ক স্বামী স্ত্রীর দুধ পান করলে স্ত্রী হারাম হবে না সাবালক স্বামীর নিজ স্ত্রীর দুধ পান করা শরিয়তে নিষিদ্ধ ও গর্হিত কাজ। তবে এর দ্বারা বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হবে না। সহবাসের সময় উত্তেজনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্ত্রীর স্তন মুখে নিতে পারবে, তবে দুধ যেন ভেতরে না যায় তা খেয়াল রাখতে হবে। (আদ্দুররুল মুখতার: ৩/২২৫) পালিত মেয়েকে বিয়ে করা বৈধ যদি কারো পালিত মেয়ে ওই ব্যক্তির স্ত্রীর অথবা কোনো মাহরামের দুধ দুই বছর বয়সের মধ্যে পান করে না থাকে, তাহলে ওই ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে জায়েজ। এ ক্ষেত্রে পর্দা করাও ফরজ। (সুরা : আহজাব, আয়াত ৩৩; ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ: ৭/২৪৪) কামভাব নিয়ে পুত্রবধূকে স্পর্শ করা ও তাকানো শ্বশুরের জন্য পুত্রবধূর দিকে কুদৃষ্টিতে তাকানো মারাত্মক গুনাহ ও হারাম। যদি শ্বশুর কামভাব নিয়ে পুত্রবধূর খালি শরীরে বা পাতলা কাপড়ের ওপর দিয়ে স্পর্শ করে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ছেলের জন্য ওই পুত্রবধূ হারাম হয়ে যাবে। তবে শর্ত হলো, স্পর্শের বিষয়টি স্বীকারোক্তি বা সাক্ষীর মাধ্যমে প্রমাণিত হতে হবে অথবা ছেলে ওই কথার দাবিকারীকে প্রবল ধারণামতে সত্য মনে করতে হবে। এ অবস্থায় উভয়ে পৃথক হয়ে যেতে হবে। (বাদায়েউস সানায়ে: ২/২৬০, রদ্দুল মুহতার ৩/৩৩) জামাতা-শাশুড়ি পরস্পর কামভাব নিয়ে দেখা বা স্পর্শ করা বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দিকে কামভাব নিয়ে তাকালে গুনাহ হলেও হুরমাতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হয় না। বরং খোলামেলা কোনো অঙ্গ কামভাবে স্পর্শ করার দ্বারা হারাম সাব্যস্ত হয় তথা স্ত্রী চিরতরে হারাম হয়ে যায়। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস: ১০৮৩২) অবৈধ শয্যাসঙ্গিনীর মেয়েকেও বিয়ে করা হারাম যার সঙ্গে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে তার মেয়েকে বিয়ে করাও অবৈধ। কেননা ওই মেয়ের সঙ্গে এখন তার কন্যার সম্পর্ক হয়ে গেছে। (বাদায়েউস সানায়ে: ২/২৬০) তালাক গ্রহণ ছাড়া অন্যজনের সঙ্গে বিয়ে আগের স্বামীর তালাক প্রদান ছাড়া অন্য কোনো বিয়ে শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। ওই বিয়ে বাতিল বলে গণ্য হবে। তেমনি আগের স্বামীর ইদ্দত চলাকালেও বিয়ে বাতিল হবে। (তাফসিরুল জালালাইন, পৃষ্ঠা ১০৪; রদ্দুল মুহতার : ৩/৫১৯) ইহুদি-খ্রিস্টান মেয়ে বিয়ে করা বর্তমান যুগের ইহুদি-খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী বলে যারা পরিচিত, নির্ভরযোগ্য মতানুসারে তারা ইহুদি-খ্রিস্টানদের মূলনীতির অবিশ্বাসী। বর্তমানে বাস্তব আহলে কিতাব নেই বললেই চলে। এ ছাড়া বর্তমানে তাদের নারীদের বিয়ে করা অনেক ফিতনার কারণ হয়ে থাকে বিধায় তাদের বিয়ে করা বৈধ নয়। তবে এ ধরনের নারীদের সঙ্গে বিয়ে হয়ে গেলে তার ব্যাপারে খোঁজ নিতে হবে যে সে প্রকৃত অর্থে মুসা (আ.) ও ঈসা (আ.)-এর আনীত ধর্মে বিশ্বাসী কি না। তাওরাত বা ইঞ্জিলে বিশ্বাসী কি না। এবং আল্লাহকে বিশ্বাস করে কি না। যদি সত্যিই তা হয় তাহলে তাকে দাওয়াতের মাধ্যমে মুসলমান বানানোর চেষ্টা করার শর্তে ওই বিয়েকে বাতিল বলা যাবে না। আর যদি প্রমাণিত হয় যে সে নাস্তিকতায় বিশ্বাসী, তাহলে এই বিয়ে বাতিল বলে গণ্য হবে। (রদ্দুল মুহতার: ৩/৪৫; ফাতাওয়া দারুল উলুম: ৭/২৬১) হিন্দু-মুসলিম বিয়ের বিধান শরিয়তের দৃষ্টিতে মুসলিম পুরুষ কোনো হিন্দু মহিলাকে, তেমনি মুসলিম নারী হিন্দু পুরুষকে বিয়ে করতে পারে না, যতক্ষণ তারা ইসলাম গ্রহণ না করে। ইসলাম গ্রহণ ছাড়া বিয়ে অবৈধ। এ ধরনের বিয়ে শরিয়তে বিয়ে বলে গণ্য হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা মুশরিককে বিয়ে কোরো না, যতক্ষণ তারা ঈমান না আনে। (সুরা: বাকারা, আয়াত: ২২১)।
সেলফি রোগ থেকে বাঁচতে কী করবেন?
২জুলাই২০১৯,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:রাগ,বিষাদ ও প্রেম সব কিছুই এখন খুব সহজে জানা যায় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। তবে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় মধ্যে ফেসবুক এখন খুবই জনপ্রিয়।ফেসবুকে অনেকে সেলফি দিয়ে স্ট্যাটাস দিতে দেখা যায়। পছন্দমত ছবি তোলা ও পোস্ট করা এখন রীতিমত নেশা রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।এই সেলফি তুলেতে গিয়ে অনেকের অকাল মৃত্যু হচ্ছে। যত্রতত্র সেলফি তোলার কারণে সারা বিশ্বের মারা যাচ্ছে অনেক মানুষ্। ২০১১ অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত শুধুমাত্র সেলফি তুলতে গিয়ে বিশ্বে মৃত্যু হয়ছে ২৫৯ জনের। ভারতের জার্নাল অব ফ্যামিলি মেডিসিন অ্যান্ড প্রাইমারি কেয়ার-এর সমীক্ষা ও তার ফল অনুযায়ী, ওই সময়ে পৃথিবীতে হাঙরের কামড়ে মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের। তবে সেলফি তুলতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে তার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি মানুষের। গত ১০ বছরে এই অসুখ আরও বেড়েছে বলেই মত মনোবিদদের। তবে নারীদের এই রোগের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। সমীক্ষায় দেখা গেছে, পুরুষদের মধ্যেও এই আসক্তি রয়েছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীদের ছবি তুলতে গিয়ে তাদের মৃত্যু হচ্ছে। সেলফি রোগ থেকে বাঁচতে কী করবেন? সেলফি তুলতে গিয়ে অনেকের মৃত্যু হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে কিছু সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। ১. কীভাবে ভালো সেলফি তো যায় তার জন্য আপনি বিভিন্ন ওয়েবসাইট সাহায্যে নিতে পারেন। ৩. সেলফি তোলার জন্য শুধু স্টিক নয়,নিজস্বী তোলার জন্য বিশেষ জুতোও পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। সেলফি-ফ্রেন্ডলি হওয়ার উপরেই স্মার্টফোনের বিক্রি বাড়ছে। ইতিমধ্যে ইউরোপে সেলফি স্টিক কে নার্সিসাস স্টিক বলেও ডাকা হচ্ছে। ৪. ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় দাড়িয়ে সেলফি তোলা থেকে বিরত থাকুন। ৫. গাড়ি চালানোর সময় সেলফি তুলবেন না। তবে সেলফি তুলতে গিয়ে যে মৃত্যু হচ্ছে তা ঠেকাতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সচেতনতা।