রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০
ঘুম থেকে উঠে যে দোয়া পড়া উত্তম
২৩সেপ্টেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দুনিয়াতে অগণিত অসংখ্য মাখলুক সৃষ্টি করে প্রত্যেককে তার পরিধিতে সংসার জীবন প্রতিপালনে ব্যস্ত করে রেখেছেন এবং এ সকল কাজে মাখলুকের মাঝে ক্লান্তি আসে; আবার তা থেকে মুক্তির ব্যবস্থাও করেছেন ঘুমের মাধ্যমে। আল্লাহ বলেছেন, তোমাদের ঘুম বা নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী হিসেবে। রাত্রিকে করেছি আবরণ। দিনকে করেছি জীবিকা অর্জনের সময়। (সুরা আন-নাবা; আয়াত- ৯, ১০ ও ১১)। ঘুমের মাধ্যমে মানুষের প্রশান্তি লাভের পর ঘুম থেকে উঠার সময় মানুষকে আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করার কথা বলেছেন। হাদীস শরীফে এসেছে, আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আহইয়ানা বাদা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর। (সহিহ বুখারী)। হযরত হুযাইফা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তিনি জাগ্রত হতেন তখন বলতেন, সমস্ত প্রশংসাই আল্লাহর জন্য। যিনি আমাদেরকে মারার পর জীবিত করেছেন। আর তার দিকেই আমাদের ফিরে যেতে হবে। (সহিহ বুখারী, রিয়াদুস সালেহীন-৮১৭)। অতঃপর কালিমাতুশ শাহাদাত পড়বে- আশহাদুআল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসুলুহু।
সপ্তাহের শ্রেষ্ঠতম দিন
০৪সেপ্টেম্বর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ শুক্রবার। আরবিতে এ বারকে বলা হয়- ইয়াউমুল জুমুআ। জুমুআ অর্থ সমাবেশ কিংবা সপ্তাহ। এদিনটি মুসলমানদের সমাবেশের দিন। সপ্তাহের এই একদিন মুসলমানরা বেশি মসজিদে সমবেত হয়। তাই একে ইয়াউমুল জুমুআ বলা হয়। বাংলায় জুমার দিন, জুম্মাবার কিংবা শুক্রবার। দিনটি স্বমহিমায় মহিমান্বিত, অনুপম মর্যাদায় শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এদিনটির আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আছে আলাদা মর্যাদা এবং শ্রেষ্ঠত্ব। আল্লাহতায়ালা নভোমণ্ডল, ভূমণ্ডল এবং গোটা জগতকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। এই ছয় দিনের শেষ দিন ছিল জুমুআর দিন। এদিনেই আদি পিতা হজরত আদম (আ.) সৃজিত হন। এদিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং এদিনেই তাকে দুনিয়ায় পাঠানো হয়। কেয়ামত এদিনেই সংঘটিত হবে। এই দিনে এমন একটি মুহূর্ত আসে, তখন মানুষ যে দোয়াই করে, তা-ই কবুল হয়। - ইবনে কাসির। ইসলাম-পূর্বকালেও জুমুআর দিনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়া হতো। জুমুআর দিন সম্পর্কে হাদিসে এসেছে- জুমার রাত হলো উজ্জ্বল রাত। আর জুমআর দিন প্রোজ্বল। - মিশকাত। অন্য আরেক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, পাঁচটি এমন রাত আছে, যে রাতে দোয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না। এক, জুমআর রাত। দুই. রজবের প্রথম রাত। তিন. শাবানের পনেরোতম রাত। চার. ঈদুল ফিতরের রাত। পাঁচ. ঈদুল আজহার রাত। - বায়হাকি। আল্লাহতায়ালা প্রতি সপ্তাহে মানবজাতির সমাবেশ এবং ঈদের জন্য এদিনটি রেখেছিলেন। কিন্তু পূর্ববর্তী উম্মতরা তা পালন করতে ব্যর্থ হয়। ইহুদিরা শনিবারকে নিজেদের সমাবেশের নির্ধারিত করে নেয়। খ্রিস্টানরা নির্ধারিত করে রোববারকে। আল্লাহতায়ালা শুধু এই উম্মতকে সুযোগ দিয়েছেন, তারা এই দিনকেই তাদের সমাবেশের দিন হিসেবে মনোনীত করে। - ইবনে কাসির। হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই জুমার দিনে এমন মুহূর্ত আছে, কোনো মুসলমান যদি এর মধ্যে কল্যাণ কামনা করে, আল্লাহ তাকে অবশ্যই তা দান করবেন।- মিশকাত। হজরত আনাস (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনের কাঙ্ক্ষিত সময়টা হলো আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত। (মুসনাদে ইবনে আবি শাইবা : ৫৪৬০ , তিরমিজি : ৪৮৯)। জুমার দিনে আরেকটি ফজিলত হলো, যদি কেউ এদিন মারা যায়, তবে সে কবরের আজাব থেকে মুক্তিলাভ করবে। এমন এক সুন্দর সুসংবাদ দিয়েছেন আমাদের নবীজি (সা.)। তিনি বলেছেন, যে মুসলমান জুমার দিন কিংবা জুমার রাতে মারা যায়। আল্লাহতায়ালা তাকে কবরের আজাব থেকে নিরাপদ রাখেন। - তিরমিজি। হজরত সালমান (রা.) হতে একটি হাদিস বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুন্দর করে গোসল করবে, অতঃপর তেল ব্যবহার করবে এবং সুগন্ধি নেবে, তার পর মসজিদে গমন করবে, দুই মুসল্লির মাঝে জোর করে জায়গা নেবে না, সে নামাজ আদায় করবে এবং ইমাম যখন খুতবা দেবেন, চুপ করে মনোযোগসহকারে তাঁর খুতবা শুনবে। দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ে তার সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (মুসনাদে আবু দাউদ : ৪৭৯)
মহররমের চাঁদ দেখা গেছে, পবিত্র আশুরা ৩০ আগস্ট
২১আগস্ট,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশের আকাশে বৃহস্পতিবার ১৪৪২ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। শুক্রবার হিজরি নববর্ষের প্রথম মাস পবিত্র মহররমের তারিখ গণনা শুরু হবে। সে হিসেবে আগামী ৩০ আগস্ট ১০ মহররম সারাদেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে। বৃহস্পতিবার রাতে বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক দীর্ঘ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আলতাফ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাদ মাগরিব শুরু হওয়া সভায় সারাদেশ থেকে প্রাপ্ত চাঁদ দেখার খবর পর্যালোচনা করা হয়। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে রাত প্রায় সাড়ে ১০টা পার হয়ে যায়। সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদসহ চাঁদ দেখা কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এর আগে বুধবার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মহররম মাসের চাঁদ দেখা যায়। ফলে সেখানে বৃহস্পতিবার মহররম মাস গণনা শুরু হয়।
কিয়ামতের ময়দানে জীবজন্তুরও বিচার হবে
০৬আগস্ট,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইসলাম ধর্মের অন্যতম বিশ্বাস হলো, পরকালের জবাবদিহি ও হিসাব-নিকাশ। পবিত্র কোরআনের বহু আয়াতে এ বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। এক আয়াতে আল্লাহ বলেন, মানুষের হিসাব-নিকাশ অতি নিকটে। অথচ তারা উদাসীনতায় মুখ ফিরিয়ে আছে। (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ১)। অবিশ্বাসীরা কিয়ামত ও পুনরুত্থান বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করে মানুষকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দেয়। অথচ পুনরুত্থান দিবস কিংবা কিয়ামতকে অস্বীকার করার মতো কোনো যুক্তি-প্রমাণ নেই। ঘুরেফিরে তাদের একটি প্রশ্ন, মানুষ মরে পচে-গলে মাটি হয়ে যাওয়ার পর কিভাবে জীবিত হবে? তারা কি ভুলে গেছে যে এই মানুষই আগে মাটি ছিল, আল্লাহ তাআলা তাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন? এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে এসেছে, বলে দাও, তোমরা হয়ে যাও পাথর বা লোহা অথবা এমন কিছু, যা তোমাদের ধারণায় খুবই কঠিন তারা বলবে, কে আমাদের পুনরুত্থিত করবে। বলে দাও, তিনিই, যিনি তোমাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তারা তোমার সামনে মাথা নাড়বে এবং বলবে, তা কবে? বলো, সম্ভবত তা শিগগিরই হবে। (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৪৯-৫১)। হাড়, মাংস ও মাটিতে পরিণত হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক এবং সহজ একটি ব্যাপার। মানুষ যদি মরে লোহা কিংবা পাথরেও পরিণত হয়, তথাপি মহান আল্লাহ মানবদেহের ওপর জীবনের পোশাক পরাতে সক্ষম। কেননা মানুষের দুটি গন্তব্য রয়েছে। এক. ব্যক্তিগত পরিণতি, যাকে মৃত্যু বলা হয়। দুই. মানুষের সমষ্টিগত পরিণতি, যাকে কিয়ামত বলা হয়। মানুষ মরণশীল এ নির্মম সত্যকে অদ্যাবধি কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারেনি। অমরত্বের সুধা পান করার অভিলাষ অনেকেই দেখিয়েছে, কেউ সফল হয়নি। কাজেই মৃত্যু মানুষের অনিবার্য নিয়তি ও পরিণতি। মানুষের ব্যক্তিগত মৃত্যুকে যুক্তি ও প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করিয়ে গোটা বিশ্বের ব্যাপক মৃত্যু অর্থাৎ কিয়ামতকে প্রমাণ করা স্বাভাবিক বিষয়। মানুষ একসময় এ পৃথিবীতে ছিল না। পর্যায়ক্রমে বংশপরম্পরায় তারা এ দুনিয়ায় আসে। কালক্রমে তারা নশ্বর এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। এভাবে মৃত (রক্ত-মাটি) জীবিত হওয়া এবং জীবিত বস্তু মৃত হওয়ার বহু নজির মানুষের সামনে প্রতিনিয়তই হাজির হয়। বিশাল এ পৃথিবী পূর্বদৃষ্টান্ত ছাড়া শূন্য থেকে অস্তিত্বে আনা যে স্রষ্টার কাজ; ধ্বংস হয়ে যাওয়া, ক্ষয়ে যাওয়া মৃত বস্তুকে পুনরায় জীবিত করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব নয়। পুনরুত্থান দিবস অস্বীকারকারীদের আরেকটি প্রশ্ন হলো, কিয়ামত কবে সংঘটিত হবে? এ বিষয়ে কোরআনের বক্তব্য হলো, কিয়ামত অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় সম্পর্কে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। কিন্তু কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময় সম্পর্কে না জানার মানে এই নয় যে কিয়ামত বলে কিছু নেই। বিষয়টি মৃত্যুর মতো। মানুষ কি জানে সে কখন মারা যাবে? মৃত্যুর সময় জানা না থাকা সত্ত্বেও এ ব্যাপারে তো কারো কোনো সন্দেহ নেই যে একদিন সে মারা যাবেই! ঠিক তেমনি কিয়ামতের সময় সম্পর্কে মানুষ না জানলেও এটি নিশ্চিত যে একদিন অবশ্যই কিয়ামত কায়েম হবে। কিয়ামত বিষয়ে আরো একটি প্রশ্ন ওঠে, সেটি হলো পৃথিবীতে এত এত প্রাণী আছে, সেগুলোর হাশর-নশর না হয়ে শুধু মানুষের হাশর-নশর কেন হবে? এ প্রশ্নের জবাব হলো, আসলে কিয়ামতের দিন মানুষসহ সব জীবজন্তু বিচারের মুখোমুখি হবে। মহান আল্লাহ বলেন, যখন বন্য পশুদের একত্র করা হবে। (সুরা : তাকভির, আয়াত : ৫)। অন্য প্রাণীর মতো চতুষ্পদ জন্তুরও হাশর হবে। এগুলোকেও কিয়ামতের দিন জীবিত করা হবে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ভূপৃষ্ঠে বিচরণশীল জীব এবং নিজ ডানায় উড়ন্ত পাখি তারা সবাই তোমাদের মতো একেকটি জাতি। কিতাবে (লাওহে মাহফুজ বা কোরআনে) কোনো কিছুই আমি বাদ দিইনি। অতঃপর তাদের রবের দিকে তাদের একত্র করা হবে। (সুরা : আনআম, আয়াত : ৩৮)। অন্য আয়াতে এসেছে, তাঁর (আল্লাহর) অন্যতম নিদর্শন আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং এই দুইয়ের মধ্যে তিনি যেসব জীবজন্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন সেগুলো। তিনি যখন ইচ্ছা তখনই এগুলোকে সমবেত করতে সক্ষম। (সুরা : শুরা, আয়াত : ২৯)। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন সবার হক পরিপূর্ণভাবে আদায় করা হবে। এমনকি শিংবাহী ছাগল যদি শিংবিহীন ছাগলকে গুঁতা দিয়ে কষ্ট দিয়ে থাকে, কিয়ামতের দিন শিংবাহী থেকে কিসাস (মৃত্যুদণ্ড) নেওয়া হবে। (মুসলিম, হাদিস : ৬৭৪৫)। এসব বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, কিয়ামতের দিন জীবজন্তুরও বিচার হবে।- দেশ বিদেশ
লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত ময়দান
৩০জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সৌদি আরবে সীমিত পরিসরে পালিত হচ্ছে পবিত্র হজ। পবিত্র মক্কা-মদিনায় হাজির হওয়া বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ধর্মপ্রাণ মুসলমান বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন। লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি মাতা লাকা ওয়ালমুলক লা শারিকা লাকা ধ্বনিতে তারা জানান দিচ্ছেন তাদের উপস্থিতির কথা। সঙ্গে পাপমুক্তির বাসনায় মহান আল্লাহর স্তুতি গাইছেন, হে আল্লাহ তোমার কোনো শরিক নেই। ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম হজ পালনের এ দিনে হাজিরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে থাকবেন। দিনভর চলবে তাদের ইবাদত বসে ইবাদত করবেন। মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দেন শেখ আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান আল-মানিয়া। প্রতিবছর ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে হজের খুতবা অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণত আরবি ভাষাতেই এ খুতবা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে গত বছর পাঁচটি ভাষায় এ খুতবার অনুবাদ প্রচারিত হয়েছিলো। কিন্তু এবার আরবি ছাড়াও ১০টি ভাষায় খুতবা প্রচার হচ্ছে। যার মধ্যে বাংলাও রয়েছে। অন্য ভাষাগুলো হচ্ছে- ইংরেজি, মালে, উর্দু, ফার্সি, ফ্রেঞ্চ, মান্দারিন, তুর্কি, রাশিয়ান এবং হাওসাবি। এদিন দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ, রহমত প্রাপ্তি ও নিজেদের গোনাহ মাফের জন্য আল্লাহতাআলার দরবারে অশ্রুসিক্ত নয়নে ফরিয়াদ জানান সমবেত ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা।
জুমার দিনের জানা-অজানা আমল
২৪,জুলাই,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বরকতময় একটি দিন। দিনটিকে মহান আল্লাহ তাআলা ইহুদি ও নাছারাদের ওপর ফরজ করেছিলেন। কিন্তু তারা মতবিরোধ করে দিনটিকে প্রত্যাখ্যান করে। পরে ইহুদিরা শনিবার এবং খ্রিস্টানরা রোববারকে তাদের ইবাদতের দিন বানায়। অবশেষে আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুহাম্মদির জন্য এক মহান ও ফজিলতের দিন হিসেবে শুক্রবার দিনটিকে দান করেন। যা উম্মতে মুহাম্মদি সাদরে গ্রহণ করে (বুখারী, হাদিস নং: ৮৭৬, মুসলিম, হাদিস নং: ৮৫৫)। অথচ কিছু অজ্ঞতা এবং অতি ধর্মীয় কিছু অনুভূতি থেকে আমরা এ দিনে এমন কিছু আমল করি বা দিনটিকে নিয়ে আমরা এমন কিছু ভাবি যার সমর্থনে পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে কোনো দলিল খুঁজে পাওয়া যায় না। এমন কিছু বিষয় নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো। ক. শুক্রবারে কবর জিয়ারত করা: কবর জিয়ারত করা সুন্নত। রাসূল (সা.) এ ব্যাপারে আমাদের উৎসাহ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, বুরাইদা আসলামী মহানবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু আমাকে আমার মাতার কবর জিয়ারতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সুতরাং তোমরা তোমাদের মৃতদের কবর জিয়ারত কর। কেননা, তা তোমাদের আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ১০৭)। সাধারণত শুক্রবার জুমার নামাজের পর মুসল্লিরা গোরস্থানে কবর জিয়ারত করতে যান এবং সেখানে যথেষ্ট ভিড় সৃষ্টি করেন দেখা যায়। এ থেকে প্রশ্ন এসে যায়, শুক্রবারে কবর জিয়ারত করা কি আবশ্যক এবং অধিক সোওয়াবের কাজ। এ সম্পর্কে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, শুক্রবার জুমার সালাতের পর অবসর রয়েছে। সুতরাং এ সময় কোনো ব্যক্তি কখনও কখনও কবর জিয়ারত করতে পারেন। কিন্তু এটাকে শুক্রবারের অবশ্য করণীয় কাজ বা এটাকে সুন্নত বানিয়ে ফেলার কোনো সুযোগ নেই। কেননা কোরআন এবং হাদিসে কবর জিয়ারতের জন্য শুক্রবারকে নির্ধারণ করা বা শুক্রবারের নির্দেশিত আমলগুলোর মধ্যে এ কথা কোথাও উল্লেখ নেই। এছাড়া শুধু শুক্রবার কবর জিয়ারত করা সম্পর্কে যে হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, উক্ত হাদিসের সনদে মুহাম্মদ ইবনু নু মান নামের যে রাবী রয়েছেন, তিনি অপরিচিত এবং ইয়াহইয়া নামের রাবী মিথ্যুক (সিলসিলা যঈফাহ, হাদিস নং: ৫৬০৫, মিশকাত, হাদিস নং: ১৬৭৬)। খ. শুক্রবারে নফল রোজা রাখা: শুক্রবার হলো সাপ্তাহিক ঈদের দিন (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ১০৯৮)। নফল রোজা রাখার জন্য শুক্রবারকে নির্ধারণ বা নিদিষ্ট করে নেওয়া নিষেধ। তবে কেউ যদি বৃহস্পতি এবং শুক্রবার অথবা শুক্র ও শনিবার রোজা রাখেন অথবা আইয়ামুল বিজের অর্থাৎ প্রত্যেক আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে যদি রোজা পালন করেন, আর সেটা করতে গিয়ে যদি শুক্রবারে পড়ে যায়, তবে তা জায়েজ। এ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, হযরত আবু হুরায়রা (রা.) কর্তৃক বর্ণিত রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, তোমাদের কেউ জুমার আগে বা পরে একদিন মেলানো ব্যতিত শুধু জুমার দিন রোজা রেখো না (সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ১৮৮৪, মুসলিম, হাদিস নং: ২৫৪৫)। গ. শুক্রবারে মৃত্যু হলে জান্নাত: অনেকেই এ কথা বলে থাকেন যে, শুক্রবারে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয় সুতরাং এ দিন কেউ মৃত্যুবরণ করলেই বিনা হিসেবে জান্নাতে চলে যাবেন। কিন্তু এ মর্মে কোনো দলিল কোরআন বা হাদিস কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। বরং হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যেকোনো মুসলমান জুমার দিনে কিংবা জুমার রাতে মৃত্যুবরণ করবে। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তাকে কবরের ফেতনা থেকে বাঁচিয়ে রাখবেন (তিরমিজী, হাদিস নং: ১০৯৫, মিশকাত, হাদিস নং:১৩৬৭)। উপর্যুক্ত হাদিসের আলোকে ইসলামি স্কলারগণ বলে থাকেন যে, শুক্রবারে মৃত্যুবরণ করলে বিনা হিসেবে জান্নাত বা কিয়ামত পর্যন্ত কবরের আজাব মাফ এ কথা বলার কোনো সুযোগ নেই। এ সম্পর্কে মুল্লা আলী কারী (রহ.) তার মিনাহুর রওদিল আযহার ফি শরহে ফিকহুল আকবার (পৃষ্ঠা: ২৯৫-২৯৬) এ বলেন, জুমার দিনে বা রাতে যে মারা যাবে, তার থেকে কবরের আজাব উঠিয়ে নেওয়া হবে এটা মোটামুটি প্রমাণিত। তবে কিয়ামত পর্যন্ত আজাব আর ফিরে আসবে না এ কথার কোনো ভিত্তি আমার জানা নেই। ঘ. জুমার পরে জোহরের সালাত: অনেকেই এ কথা বলে থাকেন যে, বাড়িতে মহিলাদের জোহরের সালাত জুমার পরে পড়তে হবে। কিন্তু এনটিভিতে প্রচারিত আপনার জিজ্ঞাসা প্রশ্নোত্তর পর্বে ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, যেহেতু মহিলাদের জন্য জুমার সালাত ওয়াজিব নয় সুতরাং ওয়াক্ত হলেই তারা বাড়িতে জোহরের সালাত আদায় করতে পারবেন। এর জন্য তাদের জুমার খুতবা বা সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার কোনো প্রয়োজন নেই। একইসঙ্গে মহিলাদের জোহরের সালাত জুমার পর পড়তে হবে মর্মে কোনো দলিল কোরআন বা হাদিসে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রত্যেকটি আমল জেনে-বুঝে করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
জিহ্বা সংযত রাখুন, নিরাপদ থাকুন
১৬,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শেষ জমানায় মানুষের জবান বেশি দারাজ হয়ে যাবে। অসংলগ্ন ও অনুচিত কথা অধিক হারে বলতে থাকবে। আর এ কারণে বিভেদ ও বিদ্বেষের আগুনে মানুষ জ্বলতে থাকবে। বিপদের মুহূর্তে অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে মাতামাতি করা, প্রজ্জ্বলিত আগুনে ঘি ঢালা এবং দূর থেকে বসে তা উপভোগ করা- এ সবই বর্জনীয় ও নিন্দিত। এগুলো থেকে যে বেঁচে থাকতে পারবে, সেই মুক্তি পাবে, ইনশাআল্লাহ। কথা বেশি বলার মধ্যে উপকারিতা কম, নীরব থাকায় লাভ বেশি। সময়ে সময়ে চর্বিতচর্বণ নানা বিষয়ে যেসব বিতর্ক-বিবাদ হয়ে থাকে, তার বেশিরভাগের সূচনা হয় জিহ্বা থেকে। তাই জিহ্বাকে যে যত বেশি সংযত রাখতে পারবে, তার ওপর যার যতো বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকবে, সে ততো বেশি নিরাপদ থাকবে। অনেক সময় সক্ষমতা থাকলেও বিভিন্ন বিষয় এড়িয়ে যাওয়া উচিত; এটাকে বলে দূরদর্শিতা। কখনো সখনো সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সুযোগ গ্রহণ না করাই উচিত; এটাকে বলে উদারতা। আর কখনোবা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বৃহৎ স্বার্থে নীরব থাকা উচিত; এটাকে বলে বিনয় ও নম্রতা। বর্তমানে যেমন- ইলম ও প্রজ্ঞার দেখা পাওয়া ভার, তার চেয়েও অনেক বেশি বিরল দূরদর্শিতা, উদারতা ও নম্রতার দেখা পাওয়া। বস্তুত জীবনের প্রতিটি যুদ্ধে, প্রতিটি লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার দরকার নেই। কখনো বাহ্যত পরাজিত হয়েও আখেরে জয়ী হওয়া যায়। কথাটি যদিও একটু সূক্ষ্ম, তবে ইতিহাসপড়ুয়া ও বিবেকবানদের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। ধৈর্যধারণ, রাগ নিয়ন্ত্রণ, ভাষার মিষ্টতা ও উদারতা প্রতিটি সত্য প্রচারকের জন্য আবশ্যকীয় বৈশিষ্ট্য। এসব গুণ ভালোভাবে অর্জন না হলে পদে পদে অনেক ধাক্কা খেতে হয়; এমনকি পদস্খলনের আশঙ্কাও থেকে যায়। আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের দ্বারা বেশিরভাগেরই হিদায়াত নসিব হয় না; উল্টো এতে মানুষের মধ্যে জিদ, গোঁড়ামি ও দলান্ধতা শিকড় গেড়ে বসে। তাই আমাদের প্রতিটি আচরণ, প্রতিটি কথা ও প্রতিটি পদক্ষেপ যেন সঠিক হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখা কাম্য। একটি বিশুদ্ধ হাদিস স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। আশা করি, এতে সবার চিন্তার খোরাক হবে। ইমাম তিরমিজি রহ. বর্ননা করেন: عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ: كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ... ثُمَّ قَالَ: أَلاَ أُخْبِرُكَ بِرَأْسِ الأَمْرِ كُلِّهِ وَعَمُودِهِ، وَذِرْوَةِ سَنَامِهِ؟ قُلْتُ: بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ: رَأْسُ الأَمْرِ الإِسْلاَمُ، وَعَمُودُهُ الصَّلاَةُ، وَذِرْوَةُ سَنَامِهِ الجِهَادُ, ثُمَّ قَالَ: أَلاَ أُخْبِرُكَ بِمَلاَكِ ذَلِكَ كُلِّهِ؟ قُلْتُ: بَلَى يَا نَبِيَّ اللهِ، فَأَخَذَ بِلِسَانِهِ قَالَ: كُفَّ عَلَيْكَ هَذَا، فَقُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللهِ، وَإِنَّا لَمُؤَاخَذُونَ بِمَا نَتَكَلَّمُ بِهِ؟ فَقَالَ: ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ يَا مُعَاذُ، وَهَلْ يَكُبُّ النَّاسَ فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ أَوْ عَلَى مَنَاخِرِهِمْ إِلاَّ حَصَائِدُ أَلْسِنَتِهِمْ. মুআজ বিন জাবাল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে সফরে ছিলাম। তিনি বললেন, আমি কি সমস্ত কাজের মূল, স্তম্ভ ও সর্বোচ্চ শিখর সম্পর্কে তোমাকে অবহিত করব না? আমি বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল সা.। তিনি বললেন, সকল কাজের মূল হলো ইসলাম, তার স্তম্ভ হলো সলাত, আর তার সর্বোচ্চ শিখর হলো জিহাদ। তিনি আরও বললেন, আমি কি তোমাকে এসব কিছুর সার সম্পর্কে বলব না? আমি বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর নবি সা.। তিনি তার জিহ্বা ধরে বললেন, এটা সংযত রাখো। আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর নবি সা., আমরা যে কথাবার্তা বলি, এগুলো সম্পর্কেও কি আমাদের পাকড়াও (জবাবদিহি করা) হবে? তিনি বললেন,হে মুআজ, তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক! মানুষকে তো কেবল জিহ্বার উপার্জনের কারণেই অধঃমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (সুনানুত তিরমিজি : ৪/৩০৮, হা. নং ২৬১৬, প্রকাশনী : দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত) হাদিসটি নিয়ে একটু চিন্তা করুন। বেশি না, সামান্য। মানুষকে তো কেবল জিহ্বার উপার্জনের কারণেই অধঃমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে -এ অংশটি আবারও পড়ুন, আবারও, আবারও। একটু চোখ বন্ধ করে ভেবে দেখুন, আমাদের জবানের হিফজত হচ্ছে তো? আমরা সত্যিই জিহ্বার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করছি তো? ঠাণ্ডা মাথায় এ হাদিসটি নিয়ে চিন্তা করলে অনেক প্রশ্নের জবাব পেয়ে যাবেন, অনেক সমস্যার সমাধান পেয়ে যাবেন। কী করতে হবে, আর কী করা উচিত বা অনুচিত, তা নতুন করে আর বলে দিতে হবে না। সবার প্রতি একটাই অনুরোধ থাকবে, নীরব থাকুন আর সত্যটা সঠিক উপায়ে খুঁজতে থাকুন। অসংলগ্ন কথা বলে নিজেও বিপদে পড়বেন না, অন্য ভাইদেরও বিপদে ফেলবেন না। সততা, ইখলাস, হিম্মত, বিনয় ও সত্য পাওয়ার তীব্র আকাঙ্খা আপনাকে হতাশ করবে না। আল্লাহ নিশ্চয়ই সব দেখছেন; তিনিই আপনাকে সঠিক পথ দেখাবেন। আল্লাহ আমাদের পক্ষপাতিত্ব, খিয়ানত, অহংকার, অপবাদ ও হিংসা থেকে রক্ষা করে সত্যানুসন্ধান, সততা, বিনয়, উদারতা ও ধৈর্যসহ সকল উত্তম বৈশিষ্ট্য দান করুন। পবিত্র কুরআনের সূরা মুমিনুনের প্রথম তিনটি আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, নিঃসন্দেহে (সে সব) ঈমানদার ব্যক্তিরা সফলকাম। যারা নিজেদের নামাজে একান্ত বিনয়ানত থাকে। যারা অর্থহিন, বেহুদা কথা ও কাজ থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখে। এই সূরার প্রথম এগারটি আয়াতে যে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে তা হচ্ছে- একজন বিশ্বাসীর মধ্যে যে সকল গুণাবলী থাকা আবশ্যক। যেমন- একজন বিশ্বাসীর প্রথম কাজ হলো- সে নামাজে মনযোগি হবেন এবং একান্ত বিনয় এবং মনোযোগের সাথে নামাজ আদায় করবেন। তিনি অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকবেন। এই আয়াতে দেখা যাচ্ছে- প্রকৃত বিশ্বাসীর অন্যতম গুণাবলী হবে- অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকা। কারণ এই অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজ মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং ভুল চিন্তার দিকে নিয়ে যায়। পরিণতিতে জাহান্নাম। অন্যদিকে, আল্লাহ তায়লা এই গুণাবলীর অধিকারীদের জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত বলে ঘোষণা দিয়েছেন। হায়! মানুষ যদি জানত, জিহ্বার মধ্যে কী পরিমাণ ফিতনা ও ফাসাদ নিহিত রয়েছে, তাহলে অধিকাংশ মানুষ কথাই বলত না! মানুষ কথা বলে নিজের ভালোর জন্য, কিন্তু কথার মধ্যে যদি নিজের চিরমুক্তির পথটাই রুদ্ধ হয়ে যায়, তাহলে বুদ্ধিমান এমন কে আছে, যে স্বেচ্ছায় সে পথ মাড়াবে? বুদ্ধিমানরা কথা বলে মেপে মেপে। যতটুকু বললে লাভ নিশ্চিত, ততটুকুই বলে। ক্ষতি বা আশঙ্কার পথগুলো এড়িয়ে চলে। কোথাও ক্ষতির সামান্য সংশয় থাকলেও তার থেকে দূরে থাকে। তাই মন চাইলেই যখন তখন যাকে তাকে ইচ্ছেমতো কিছু বলে দেওয়াটা বাহাদুরি নয়; বরং নির্বুদ্ধিতা। আর এ নির্বুদ্ধিতাটাই তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে; যেমনটি হাদিসে বলা হয়েছে। আল্লাহ আমাদের জবানকে যথাযথভাবে ব্যবহার করার তাওফিক দিন এবং এটাকে ভুল পথে ভুল জায়গায় ব্যবহার করা থেকে রক্ষা করুন।সূত্র: একুশে টেলিভিশন
জুম আর খুতবা- ইসলামে পরনিন্দা হারাম
০৩,জুলাই,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মুমীনদেরকে পরস্পর কল্যাণধর্মী ও তাকাওয়াভিত্তিক কাজে সহযোগী হওয়ার নির্দেশ করেছেন। একে অপরের মান সম্মান ও সম্পদের মর্যাদা রক্ষায় বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তিনি একক, অদ্বিতীয়। তাঁর কোন অংশীদার নেই, তিনি আসমান ও জমীনের অধিপতি। আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমাদের মহান নবী অভিভাবক হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রিয় বান্দা ও মনোনীত রাসূল। তাঁর উপর দরুদ সালাম বর্ষিত হোক, তাঁর পবিত্র বংশধরগণ সম্মানিত সাহাবাগণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁর পদাঙ্ক অনুসারীদের উপর অসংখ্য করুণাধারা বর্ষিত হোক। হে মানব মন্ডলী! আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করুন। মুসলিম ভাতৃত্বের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সচেষ্ট থাকুন। মুসলমান হিসেবে অন্য মুসলমানের গীবত করার মতো জগন্যতম মারাত্মক ব্যাধি থেকে নিজকে রক্ষা করুন। আলকুরআনের আলোকে পরনিন্দা: মহান আল্লাহ তায়ালা গীবতের ভয়াবহ পরিণতি ও কঠিন শাস্তির কথা ঘোষণা করেছেন, গীবতকারী ও পরনিন্দাকারীকে মৃত-ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করার সাথে তুলনা করা হয়েছে। এরশাদ হয়েছে হে মুমীনগণ তোমরা অনেক ধারণা বর্জন করো, নিশ্চয় কোন কোন ধারণা পাপ আর তোমরা পরস্পর দোষ অনুসন্ধান করোনা এবং একে অপরের গীবত করোনা। তোমাদের মধ্যে কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের মাংস ভক্ষণ করতে পছন্দ করবে? তোমরা তো অবশ্যই তা ঘৃণা করো। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয় আল্লাহ তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। (সুরা, আহযাব, আয়াত নং ১২)। গীবত অর্থ ও প্রাসঙ্গিক কথা: গীবত একটি আরবি শব্দ। কোন মানুষের অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে তার এমন কোন দোষ অন্যজনের কাছে বলা বা প্রচার করা যা সে অপছন্দ করে বা শুনলে মনে কষ্ট পাবে তাই গীবত। বা পরনিন্দা। শরিয়তে গীবতকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। এটা এমন এক মারাত্মক ব্যাধি যে ব্যাধিতে আজ গোটা সমাজ আক্রান্ত। পরিবার সমাজ ও দেশের সর্বত্র কোন না কোনভাবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কমবেশী সকলেই আজ এ অপকর্ম তথা গুনাহের সাথে জড়িত। তবে আল্লাহ যার প্রতি বিশেষ দয়াপরবশ হন তিনি ব্যতীত। গীবত শব্দের বাংলারূপ পরনিন্দা, পরচর্চা, নিন্দা করা বা কুৎসা রটনা করা অর্থাৎ কারো অনুপস্থিতিতে তার সম্বন্ধে খারাপ মন্তব্য করা, মন্দ কিছু বলা, যা কিছু বলা হয় তা যদি সত্যিই তার মধ্যে থাকে তা অবশ্যই গীবত হবে। আর যদি তা তার মধ্যে না থাকে তা অপবাদ হিসেবে গণ্য হবে। প্রখ্যাত তাবেঈ হযরত হাসান বসরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনামতে অন্যের কুৎসা রটনায় তিন ধরনের গুনাহ হতে পারে। ১. অন্যের মধ্যে যে দোষ রয়েছে তা আলোচনা করা গীবত। ২. যে দোষ তার মধ্যে নেই তা আলোচনা করা অপবাদ। ৩. যাচাই বাছাই করা ব্যতীত তার সম্পর্কে কেবল শুনা কথা আলোচনা করা মিথ্যাচার করার শামিল। (সূত্র. ইমাম গাযযালী: ইয়াহ্ইয়াউ উলুমুদ্দীন, খন্ড ৩৩, পৃ. ১৪৪)। গীবত ব্যবিচারের চেয়েও মারাত্মক: হযরত আবূ সাঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু তা আলা আনহু হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, গীবত হলো ব্যভিচারের চেয়েও মারাত্মক। সাহাবাগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ গীবত কি করে ব্যভিচারের চেয়ে মারাত্মক? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোন ব্যক্তি যদি ব্যভিচার করার পর তাওবা করে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন, কিন্তু যার গীবিত করা হয়েছে সে যদি গীবতকারীকে ক্ষমা না করে তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না। (বায়হাক্বী শরীফ)। হযরত আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করলেন, তোমরা কি জান? গীবত কাকে বলে? সাহাবাগণ বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রসূলই সবচেয়ে ভাল জানেন। রসূলুল্লাহ্ এরশাদ করেন, তুমি তোমার মুসলমান ভাইয়ের আলোচনা (তার অনুপস্থিতিতে) এমনভাবে করবে যে সে তা শুনলে অসন্তুষ্ট হবে। অতঃপর রসূলুল্লাহ্কে প্রশ্ন করা হলো যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে তা বিদ্যমান থাকে তাহলেও কি গীবত? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন তুমি যা বলছ তা যদি তার মধ্যে বিদ্যমান থাকে তা হবে গীবত। আর তা যদি তার মধ্যে বিদ্যমান না থাকে তা হবে অপবাদ। (মুসলিম শরীফ)। গীবতের তথা পরনিন্দার ধরণ: পরনিন্দা ও পরচর্চায় লিপ্ত এক শ্রেণির লোক অন্যজনের দোষত্রুটি কুৎসা রটনা ও সমালোচনামূলক গর্হিত কাজে সর্বদা ব্যস্ত থাকে। ব্যক্তির চলাফেরা, দেহাকৃতি, চোখ, নাক, কান, হাত, পা, উঠাবসা, কাজ-কর্ম, বংশ, চরিত্র, ধর্মকর্ম পোশাক পরিচ্ছদ ইত্যাদি বিষয়ে ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য করা তার অনুপস্থিতিতেও অরুচিকর অশোভন, অপ্রিয় কথা বলা, এসবই গীবতের পর্যায়ভুক্ত। গীবতের কারণ: ক. পরনিন্দা বা গীবতের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ক্রোধ, হাদীস শরীফে এসেছে, বলবান সেই নয় যে কুস্তিতে অন্যজনকে পরাজিত করেছে বরং সেই বলবান যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। আমাদের সমাজে কেউ কারো প্রতিক্ষুদ্ধ হলে অবলীলায় তার দোষত্রুটি বর্ণনা করতে থাকে, সত্য মিথ্যা, ভাল-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, হালাল-হারাম, তোয়াক্কা না করে স্বাধীনভাবে ব্যক্তির বিরুদ্ধে যা ইচ্ছা তাই ব্যক্ত করতে থাকে। গীবতের মাধ্যমেই ক্রোধ নিবারণ করতে থাকে। তবে আদর্শবান মুত্তাকী পরহেযগার দীনদার চরিত্রবান শান্তিপ্রিয় ও মুক্তিকামী সত্যান্বেষী মানুষেরা গীবতের পরিণাম ও ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত। তারা ক্রোধের বশবর্তী হয়ে গীবতের আশ্রয় নেয় না। তারা গীবত পরিহার করেন। খ. সহযোগীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের জন্য গীবত করা: অনেকে আছেন যারা বন্ধু-বান্ধব ও ঘনিষ্টজনদের সন্তুষ্টি অর্জনের স্বার্থে অন্যজনের গীবত চর্চায় লিপ্ত হয়। তারা মনে করে এ কাজে বন্ধুবান্ধবদের সাথে দ্বিমত প্রকাশ করলে সম্পর্কের অবনতি ঘটবে, দূরত্ব সৃষ্টি হবে, মনোমালিন্য হবে, বন্ধু-বান্ধবদের অন্তরে ক্ষোভ বা অসন্তেষ সৃষ্টি হতে পারে তাই সঙ্গী সাথীদের সাথে তাল মিলিয়ে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সন্তুষ্টিকে অগ্রাহ্য করে গুনাহের বোঝা মাথায় নিয়ে অন্যজনের গীবত করা হয়, এ অনৈতিক আচরণ ও গর্হিত বিবেকবর্জিত বদ আমল তাকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। মুমিনের জীবনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য হবে একমাত্র প্রতিটি কাজে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সন্তুষ্টি অর্জন। গ. অন্যকে তুচ্ছ করার জন্য গীবত করা: অন্যকে তুচ্ছ করা ও নিজকে বড় মনে করার মনোভাব পোষণ করে অন্যজনের গীবত করা হয়। যেমন অনেক জ্ঞানী লোককে দেখা যায় অপর জ্ঞানী লোককে নিজের প্রতিপক্ষ ভেবে তার উপর নিজের কর্তৃত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার জন্য তাকে হেয় ও তুচ্ছভাবে উপস্থাপন করা হয়। সংকীর্ণ মানসিকতা, স্বার্থপরতা, হীনমন্যতা ও অহংকারবোধে অন্যকে কলংকিত করার জন্য গীবত করা হয়। এ ধরনের গর্হিত চরিত্রের লোকেরা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। মাযহাব, মিল্লাত, ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার পবিত্র অঙ্গনে এ ধরনের লোকদের ভূমিকা নিতান্তই নিন্দনীয়, সমাজে এরা ঘৃণিত। ঘ. ঈর্ষাপরায়ণতা: এক শ্রেণির লোক অন্যজনের উন্নতি অগ্রগতি সুনাম, খ্যাতি মোটেই সহ্য করতে পারেনা, সর্বজনশ্রদ্ধেয় গুণিজন ও শ্রদ্ধার পাত্র সম্মানিত ব্যক্তিদের সর্বত্র গ্রহণযোগ্যতার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে অনেক সময় ব্যক্তির গীবত করা হয়, এতে গীবতকারীই ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও নিন্দিত হয়। ঙ. কর্ম বিমুখতা: অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। বেকারত্ব দেশ ও জাতির জন্য অভিশাপ। কর্মবিমুখ অলস ব্যক্তির সময় কাটেনা, শয়তানের প্ররোচনায় তারা অন্য জনের দোষত্রুটি, কুৎসা ও সমালোচনায় লিপ্ত হয়ে সময় অতিবাহিত করে। নিজের স্বার্থের বিপরীতে অপছন্দের লোকের গীবত চর্চা করে আত্মতুষ্টি লাভ করে। চ. পরনিন্দা করা অযোগ্য ও হিংসুক লোকের চরিত্র: অনেক সময় কম যোগ্যতাসম্পন্ন লোকেরা যোগ্যতাসম্পন্ন দায়িত্বশীল লোকদের সামনে নিজদের কর্মদক্ষতা, যোগ্যতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গীবত, সমালোচনা করে নিজের অযোগ্যতা অদক্ষতা, কর্মবিমুখতা, ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালায়। মানুষের বিরুদ্ধে নিন্দুক সমালোচক শ্রেণির লোকদের স্মরণ করিয়ে দেয়া দরকার যে, ইসলামী আদর্শ ও কুরআন সুন্নাহর বিধি বিধানে অনর্থক কথা ও কাজের কোন মূল্য নেই। অনর্থক কথা ও কাজে সময় ও শ্রম দুটোই বিনষ্ট হয়, আমল বরবাদ হয়ে যায়, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন- হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, অনর্থক কথা ও কাজ ছেড়ে দেয়া ইসলামের অন্যতম শোভাবর্ধক স্বভাব। (তিরমিযী শরীফ)। মাগফিরাত কামনা গীবতের কাফ্ফরা: হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে- হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, গীবতের কাফ্ফারা হলো, এ যে, তুমি যার গীবত করেছ তার মাগফিরাত কামনা করে দুআ করো। তুমি দুআ এভাবে করবে যে, হে আল্লাহ তুমি আমার এবং তার গুনাহ ক্ষমা কর। (বায়হাকী শরীফ) আল্লাহ আমাদের আপনাদের সকলকে কুরআনের বরকত দান করুন। কুরআনের আয়াত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ দ্বারা আমাদের নাজাত দান করুন। নিশ্চয় তিনি মহান দানশীল, সৃষ্টি জগতের মালিক পূণ্যময় অনুগ্রহশীল ও দয়ালু। আল্লাহ তাআলা গীবত করা থেকে সকলকে হিফাজত করুন- আমীন। লেখক : অধ্যক্ষ, মাদরাসা-এ তৈয়্যবিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া ফাযিল (ডিগ্রী), বন্দর, চট্টগ্রাম; খতীব, কদম মোবারক শাহী জামে মসজিদ।
দেখা মিলল পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন আকাশের
৩জুন,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন আকাশের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। যার বায়ুমণ্ডল মানুষের কর্মকাণ্ড দ্বারা তৈরি ক্ষতিকর কণা থেকে মুক্ত। অ্যান্টার্কটিকা ঘিরে থাকা দক্ষিণ মহাসাগরে পাওয়া গেল সেই স্থান। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কলোরোডা স্টেট ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক দক্ষিণ সাগরে বায়োঅ্যারোসল কম্পোজিশনের ওপর গবেষণা করে বিরল এ বায়ুমণ্ডলের দেখা যান। এ ধরনের গবেষণা এবারই প্রথম। আবহাওয়া ও জলবায়ু ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। যা আবার বিশ্বের এক প্রান্তের সঙ্গে অন্য প্রান্তকে সংযুক্তও করে। এ কারণ এক অঞ্চলের পরিবর্তন অন্য অঞ্চলেও প্রভাব ফেলে। এরই মাঝে বিজ্ঞানী ও গবেষকরা মানুষের কর্মকাণ্ড দ্বারা প্রভাবিত হয়নি এমন অঞ্চল খুঁজে চলছিলেন। অধ্যাপক সনিয়া ক্রেইডেনউইজ ও তার দল আগেই সন্দেহ করেছিলেন পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে দক্ষিণ মহাসাগরের বায়ুমণ্ডল মানুষ ও ধূলিকণা দ্বারা কম ক্ষতিগ্রস্ত। তারা দেখেন বায়ু মণ্ডলের একদম নিচের স্তর জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার, নির্দিষ্ট ফসল বপন, সার উৎপাদন বা বর্জ্য পানি নিষ্কাশন বা এ ধরনের দূষণ দ্বারা প্রভাবিত নয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ফলাফল উত্তর গোলার্ধের চেয়ে একদম ভিন্ন। ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস জার্নালে সোমবার এ গবেষণা ফলাফল প্রকাশ হয়। সেখানে অ্যান্টার্কটিকার ওই অঞ্চলকে- সত্যিই আদিম বলে উল্লেখ করা হয়। বায়ু দূষণ ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট হিসেবে বিবেচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, বছরে এ কারণে ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ু দূষণ ভৌগলিক সীমানা পার হতে পারে সহজে। দূষণের উৎসের শত শত মাইল দূরের মানুষকেও আক্রান্ত করে।