সকালের নাস্তায় স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে জেনে নেন
অনলাইন ডেস্ক : সকালের নাস্তা আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি সারা দিন আমাদেরকে প্রাণবন্ত ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, সকালের নাস্তা বেশি পরিমাণে ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে এবং সারাদিন ধরে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন সকালে স্বাস্থ্যকর এবং ভারী নাস্তা খেলে মস্তিষ্ক পুরোদিনের জন্য তৈরি হয়ে যায় এবং সারাদিন শক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু সব ভারী খাবারই স্বাস্থ্যকর নয়। তাই আমাদের জানতে হবে সকালের নাস্তায় কোন খাবারগুলো খাওয়া একেবারেই উচিত নয় এবং কোনগুলো খাওয়া উচিত। তবে আর দেরি না করে চলুন জেনে নেই সকালের নাস্তায় ৭টি স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে। ১. ফল সকালের নাস্তার জন্য সব চাইতে ভালো খাবার হচ্ছে ফলমূল। কলা, আপেল, কমলা, আঙুর ইত্যাদি ধরণের ফলমূল অথবা মৌসুমি ফলমূল দিয়ে সকালের নাস্তা করা সব চাইতে ভালো। ২টি কলা, ১টি আপেল, ১টি কমলা, ২/৩টি স্ট্রবেরি এভাবে শুধুমাত্র ফল দিয়ে নাস্তা করা সকালের জন্য ভালো। চাইলে ফলমূল দিয়ে সালাদের মত তৈরি করেও খেতে পারেন। ২. ওটস ওটস জিনিসটা খেতে ভালো না লাগলেও এটি আমাদের দেহের জন্য অনেক ভালো একটি খাবার। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। ওজন কমাতে এবং কলেস্টোরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওটসের জুড়ি নেই। সকালে হাবিজাবি খাবার বাদ দিয়ে একবাটি ওটস রাখুন। তবে কোন ফ্লেভারড বা চিনিযুক্ত ওটমিল খাবেন না। চিনির পরিবর্তে মধু এবং সাথে কিছু ফলমূল যোগ করে নিতে পারেন। ওটস খিচুড়িও নাস্তা হিসেবে চমৎকার। ৩. ডিম ডিমকে বলা হয় ‘সুপারফুড’। ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং মিনারেলস। প্রোটিনের সব চাইতে ভালো উৎস হচ্ছে ডিম। এতে ক্যালোরিও থাকে বেশ কম। সকালের নাস্তায় অবশ্যই প্রত্যেকের ডিম খাওয়া উচিৎ। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ হিসেবে সকালে ২ টি ডিম খেলেই যথেষ্ট। তবে যারা একটু বেশি স্বাস্থ্যবান তাদের ডিমের কুসুম এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ। সকালে ডিম সেদ্ধ বা ডিমের অমলেট দিয়ে নাস্তা সারতে পারেন। ৪. আটার রুটি সকালের নাস্তার জন্য বেশ ভালো একটি খাবার হচ্ছে আটার রুটি। বিশেষ করে যারা ভারী খাবার পছন্দ করেন। সকালে পাউরুটি বা ভাত খাবার চাইতে আটার রুটি সবজি ভাজি বা ডিম অথবা ঝোলের তরকারি কিংবা কলা দিয়ে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ভালো। এছাড়া রুটি বেশ ভালো এনার্জি সরবরাহ করে আমাদের দেহে যা পুরো দিনই রাখবে সতেজ। তবে অবশ্যই তেলে ভাজা পরটা থেকে দূরে থাকবেন। ৫. খিচুড়ি অনেকেরই সকালে ভাত খাওয়ার অভ্যাস। তারা ভাতের বদলে সকালের নাস্তায় রাখতে পারেন খিচুড়ি। তবে অবশ্যই সবজি খিচুড়ি। চালের পরিমাণ কমিয়ে বেশি পরিমাণে সবজি দিয়ে রান্না করা সবজি খিচুড়ি দিয়ে সেরে নিতে পারেন সকালের নাস্তা। এতে করে ভারী নাস্তা করা হলেও দেহে পৌঁছাবে পর্যাপ্ত পুষ্টি। ৬. দই দিনের শুরুটা দই দিয়ে শুরু হোক অনেকেই তা চান না। কিন্তু দই দেহের জন্য অনেক বেশি কার্যকরী একটি খাবার। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম যা হাড়ের গঠনে কাজ করে। দিনের শুরু দই দিয়ে করলে পুরো দিন আপনার দেহে থাকবে অফুরন্ত এনার্জি। ক্লান্তি স্পর্শ করবে না দিনের শেষেও। সুতরাং সকালের নাস্তায় কিছু ফলমূলের পাশাপাশি রাখুন দই। ৭. সালাদ সালাদ মানেই যে শসা, টমেটো এবং গাজরের হতে হবে এমনটা মনে করার কোনো কারণ নেই। সুস্বাস্থ্যের জন্য এই সকল সবজির সাথে সালাদে ব্যবহার করতে পারেন সেদ্ধ ডিম বা সেদ্ধ মাংস অথবা সেদ্ধ ছোলাবুট। এছাড়া খেতে পারেন ফলমূলের সালাদ। এইসব ধরণের সালাদ স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এবং দিনের শুরুটা চমৎকার করতে বেশ কার্যকরী।
শীতে আপনার ত্বকের যত্ন
অনলাইন ডেস্ক :শীতে শুষ্ক ত্বকের যত্ন নিতে অনেকেই হাবুডুবু খান। দেখা যায়, ত্বকের যত্ন নেওয়ার সঠিক পদ্ধতি জানলেও সময় পান না অনেকেই। অনেকে আবার একাধিক জিনিস ব্যবহার করে ত্বকের ক্ষতি করে ফেলেন। গ্লিসারিন, বডি ওয়েল, ফেস ক্রিম, লোশনের মতো প্রয়োজনীয় অনেক উপাদানই পাবেন বাজারে। এর মধ্যে মাত্র তিনটি জিনিস ব্যবহারে শীতে আপনার ত্বক রাখবে মসৃণ, বাড়াবে উজ্জ্বলতা। চলুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক ঘরোয়া উপায়ে শীতের ত্বকের যত্ন নেওয়ার সহজ পদ্ধতি- যা যা লাগবে- গ্লিসারিন- ৫ ফোঁটা গোলাপ জল- ২০ মিলিলিটার লেবুর রস- একটা আস্ত লেবু ১. এই তিনটি উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে একটি কাচের শিশিতে রেখে দিন। ফ্রিজে রাখলে ভাল হয়। ২. ফলাফল বেশি ভালো পেতে চাইলে, এই মিশ্রণের সঙ্গে একটি ভিটামিন ই ক্যাপস্যুল মিশিয়ে নিন। ৩. প্রতিদিন অল্প অল্প করে এই মিশ্রণ মুখে মেখে নিন। এতে মুখের শুষ্ক ভাব কেটে ত্বক হবে ঝলমলে। প্রসঙ্গত, যারা মেক-আপ ব্যবহার করেন, মেক আপ তুলে ফেলার পরে এই মিশ্রণ মুখে স্প্রে বা তা দিয়ে মুখ মুছে নিন। উপকার পাবেন।
মহিলাদের প্রকৃত বয়স জেনে নিন
অনলাইন ডেস্ক :অনেকেই বয়স লুকোতে চান। এই প্রবণতা মহিলাদের মধ্যেই বেশি। তবে ঠিক কেন তাঁরা বয়স লুকোতে চান তা অজানা। কিন্তু কয়েকটি উপায় রয়েছে, যার মাধ্যমে মহিলাদের প্রকৃত বয়স জেনে নিতে পারেন। ১. গল্পের ছলে জেনে নিন সেই মহিলা কবে মাধ্যমিক পাশ করেছেন। সঙ্গে জেনে নিন স্কুলে পড়তে কখনও ফেল করছেন কিনা। তার পরেই হিসেব করে নিন। ২. মহিলার মা-বাবার কততম বিবাহবার্ষিকী আসছে জেনে নিন। তার পরে আন্দাজ করে নিন লুকিয়ে রাখা বয়স। ৩. জিজ্ঞাসা করুন, স্কুলে থাকাকালীন হলে গিয়ে কোন সিনেমা প্রথম দেখেছেন। আর তখন তিনি কোন ক্লাসে পড়তেন। ব্যস! ওই সিনেমা কত সালে বেরিয়েছিল জেনে নিলেই হিসেব মিলে যাবে। ৪. পছন্দের মহিলার বয়স জানতে একটু আধটু মিথ্যে চলে। তাই বলুন আপনি জ্যোতিষ শাস্ত্র একটু জানেন। এবারে কোষ্ঠী বিচার করতে তার জন্ম সালটা জেনে নিন। ৫. এমন কোনও কাজ নিয়ে কথা বলুন যাতে তাঁর ভোটার কার্ড নিয়ে আপনি কথা বলতে পারেন। উঁকি মেরে দেখে নিন ছাপানো জন্ম তারিখ। ৬. মহিলা যখন ডাক্তার দেখাতে যাবেন, তাঁর সঙ্গে যান। বয়স জানতে পারবেনই। ৭. মহিলাকে বলুন আপনার খোঁজে ভাল চাকরি আছে। এই বলে তাঁর বায়ো-ডেটা চান। বয়স জেনে যাবেন। ৮. মহিলাকে দেখে হয়তো মনে হয়, তাঁর বয়স ৩০-এর আশপাশে। তাঁকে দেখে আপনি বলুন, আপনাকে দেখে মনেই হয় না আপনার ৩৫ হয়ে গিয়েছে। এই শুনে উনি নিজেই সঠিক বয়স বলে দেবেন।
মাদক সভ্য ও সুন্দরের পথে বাধা
অনলাইন ডেস্ক :ইসলাম সুন্দরের ধর্ম। শাশত সৌন্দর্যের পবিত্র এক সামিয়ানার নাম ইসলাম। ইসলামের আরশের ছায়ায় অপবিত্রতা নেই। মাদকতা নেই। ধোঁকা নেই। মাদক সভ্য ও সুন্দরের পথে বাধা। আলোকিত জীবন চলাচলে বিঘ সৃষ্টি করে। মাদকের কারণে জীবন সংকটে পড়ে। ইসলামে মাদককে একদিনে নিষেধ করা হয়নি। ধীরে ধীরে নিষেধ করা হয়েছে। ইসলামী আইন খুব সূক্ষ্মভাবে প্রতিরোধ করেছে মাদককে। মদিনায় ইসলামের প্রথম যুগে মদ সম্পর্কে কোরআনুল কারিমে প্রথমে যে আয়াত নাজিল হয়েছিল, তাতে বৈধতার যৎসামান্য আভাস ছিল। প্রথমে হুট করে এক দফায় নিষেধ করে দিলে মানুষের জন্য পালন করা কষ্টকর ও অনেকে অবজ্ঞা করত। কারণ মাদক তাদের রক্ত, শিরায়, ধমনিতে মিশে গেছে। এ জন্য প্রথমে বৈধতার কিঞ্চিৎ আভাস দিয়ে বলে দেওয়া হয়েছে বোধ সম্পন্ন ব্যক্তির জন্য নিদর্শনের কথা। এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, জ্ঞানীরা মাদক পরিত্যাগ করবে। শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ কোরআনে পঠিত হয়েছে, খেজুর বৃক্ষের ফল ও আঙুর থেকে তোমরা মাদক ও উত্তম খাদ্য সংগ্রহ করে থাক, তবে অবশ্যই বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন। (সূরা নাহল : ৬৭)। তখনও মদ অবৈধ করা হয়নি। যার ফলে অনেক মুসলমান সাহাবি আগের মতো মদ পানে অভ্যস্ত ছিল। সর্ব যুগেই মদ পান মানুষের জ্ঞান চিন্তা শক্তিকে গ্রাস করেছে। বুদ্ধি বিনষ্ট করেছে। আকল বিকল করেছে। তখনকার সময়ে হযরত ওমর, মুয়ায ইবনে জাবালসহ কিছু সাহাবি রাসুল (সা.) এর কাছে এই মর্মে আরজ করলেন যে, হে আল্লাহর রাসুল! মাদকের ব্যাপারে আমাদের ফতোয়া দিন। এতে আকল নষ্ট হয় এবং মাল ধ্বংস হয়। মুসলমানের চেতনার বারান্দায় যখন মদের মন্দ বিষয় উঁকি দিল, তারা যখন স্বেচ্ছায় স্বীকার করল মদের কারণে তাদের চিন্তাশক্তি লোপ পায়, তখনই মহান প্রভু নাজিল করেন মদ পানে উপকারের তুলনায় মদের মন্দ বিষয়। কোরআনে ঘোষণা হয়েছে, ‘লোকে আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, উভয়ের মধ্যে মহাপাপ এবং মানুষের উপকার আছে। কিন্তু তাদের পাপ উপকার অপেক্ষা অধিক। (সূরা বাকারা : ২১৯)। এই আয়াত নাজিল হলে মানব মাঝে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। কেউ চিরতরে মদ পান ছেড়ে দেন। কেউ আগের অভ্যাসে চালিয়ে নেয় জীবনকে। এভাবে কিছুদিন চলতে থাকে। এ সময় আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) বাড়ির এক অনুষ্ঠানে সাহাবিদের দাওয়াত করেন। খাবার শেষে ব্যবস্থা করেন মদের। জমে যায় আরবীয় ঐতিহ্যের মদ আসর। ইচ্ছামতো পান করেন অনেকে। তৃপ্তির ঢেঁকুর গিলেন। সবার মধ্যে এক উন্মাদনা। মদের ঘোরে তারা নামাজে দাঁড়ায়। তখন তাদের কোনো একজন নামাজে পাঠ করে ফেলেন, কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন, আবুদু মা তাবুদুন। অর্থাৎ লাঅক্ষরটি বাদ দিয়ে পড়েন। নেশার ঘোরে নামাজে মারাত্মক ভুল করে ফেলে। অর্থে ভুল বিরাট বড়। তখনই আল্লাহ নাজিল করেন, হে মোমিনরা! মদপানোত্তর মাতাল অবস্থায় তোমরা নামাজের নিকটবর্তী হবে না। যতক্ষণ তোমরা যা বল তা বুঝতে পার।(সূরা নিসা : ৪৩)। ওই আয়াত নাজিল হলে তুলনামূলক মদপায়ীর সংখ্যা হ্রাস পায়। বেশিরভাগ সাহাবি মদপান ছেড়ে দেন। একদিন ওসমান (রা.) তার বাসায় খাবারের দাওয়াতে আয়োজন করেন। খানা শেষে তাদের রীতি অনুযায়ী মদ পানে উন্মাদ হয়ে ওঠেন অনেকে। উন্মাদনায় সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) আনসারদের দোষারোপ করে কবিতা আবৃত্তি করেন। এতে আনসারী এক যুবক রাগ করে তার মাথায় ছুড়ে মারেন উটের গাদেশের একটি হাড়। এতে তিনি গুরুতরভাবে জখম হন। পরে নবীজির কাছে অভিযোগ দায়ের করলে নবীজি আল্লাহর কাছে মোনাজাতে আঁখি ভেজান। তখন আল্লাহ নাজিল করেন, হে মোমিনরা! মদ, জুয়া, মূর্তি পূজার বেদি ও ভাগ্য নির্ণয়ক সব ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো। তাহলে তোমরা সফলকাম হতে পারবে। (সূরা মায়েদা : ৯০)। এই আয়াত নাজিল হলে রাসুল (সা.) এর সব সাহাবি মদ পান ছেড়ে দেয়। এমনকি মদের পাত্র পর্যন্ত ভেঙে আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করে। তাদের হৃদয়ের উঠান থেকে চিরতের মুছে যায় মদের নাম। নেশার জগৎ। আল্লাহর প্রতি বিশ^াস, রাসুল (সা.) এর প্রতি ভালোবাসর সঙ্গে কখনও মদ থাকতে পারে না। আল্লাহ ও নবীর প্রেম আর মদ; সম্পূর্ণ দুই মেরুর। মানব হৃদয় থেকে মদের প্রভাব ছিন্ন করার জন্য ইসলাম যে দিকদর্শন দিয়েছে, হৃদয়ের উর্বর জমিনে ঈমান নামক যে মধুর সজীব ফসল ফলন করেছে এমন ফসল ফলাতে পারলে মানব মাঝে মদের কোনো গন্ধ থাকবে না। মানব জনম হবে আলোকিত। আলোড়িত। সুন্দরের মিছিলে দেশ হবে তারাভরা আকাশ। মাদকসেবীর জন্য নির্ধারণ করা যেতে পারে শাস্তির বিধান। ইসলামী আইনে মাদকসেবন ফৌজদারি অপরাধরূপে গণ্য। মাদকসেবীকে ইসলামী আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া যেতে পারে। কোরআন মজিদে এর কোনো শাস্তির উল্লেখ নেই। কিন্তু ফকিহবিদরা এ ব্যাপারে একমত যে, মদ্যপায়ীর শাস্তি হচ্ছে দোররা। দোররা কতটা মারতে হবে বা কী পরিমাণ, এতে ইমামদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালেক (রহ.) এর মতে, মদ্যপায়ীর শাস্তি হচ্ছে আশি দোররা। তারা তাদের মতের স্বপক্ষে ওমর ফারুক (রা.) সম্পর্কে বর্ণিত হাদিস দারা দলিল পেশ করেন। মদ্যপানের হালকাতম শাস্তি হচ্ছে আশি দোররা।(মুসলিম : ১৭০৬)। ইমাম শাফি (রহ.) এর মতে মদ্যপানের শাস্তি হচ্ছে চল্লিশ দোররা। তারা দলিল দেন আনাস বিন মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা। আনাস (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) মদ্যপানের শাস্তি হিসেবে জুতো বা বেত দিয়ে চল্লিশটি বেত্রাঘাত করতেন। (বোখারি : ৬৩৯১)। আমাদের উচিত, অনাগত প্রজন্মকে সুন্দর পৃথিবী উপহার দিয়ে যাওয়া। নিরাপদ শহর তাদের হাতে তুলে দিয়ে বিদায় নেওয়া। কিন্তু আমরা যদি মরে যাওয়ার সময় পরবর্তী প্রজন্মের কাছে নিরাপদ পৃথিবী উপহার দিতে না পারি, তাহলে পৃথিবী সভ্যতা হারিয়ে ইতিহাস স্বীকৃত এমন একটা অন্ধকার জগতে আবার চলে যাবে। আমাদের জীবন, আমাদের পৃথিবী সুস্থ নিরাপদ ও আলোকিত রাখতে হলে মাদককে না বলতে হবে। জীবন এবং পৃথিবীর ডায়েরি থেকে মুছে দিতে হবে ধ্বংসাত্মক মাদকের নাম। জীবনকে নিষিদ্ধ আঁধারে কলঙ্কিত করার আগেই জালাতে হবে আলোর মশাল। পবিত্রতার ঘ্রাণ ছড়াতে হবে পৃথিবীর পাড়া মহল্লায়। এ ঘ্রাণ গায়ে মেখে সবাইকে নিয়ে যেতে হবে আলোর মিছিলে। সুন্দরের এ মানুষেরা পৃথিবীর মাজারে ফেরি করে বেড়াবে মহাসত্যের গান। সভ্যতার প্রদীপ্ত আলো।
জেনে নিন কেন হিন্দু বিয়েতে সাত পাকে ঘোরা হয় ?
বিয়ে মানে দুটো মনের মিলন, দুটো পরিবারের মিলন। বিয়েতে অনেক নিয়ম কানুন মানা হয়। এক এক ধর্মের এক এক নিয়ম। হিন্দু মতে বিয়ে মানেই, শুভদৃষ্টি, সাত পাকে ঘোরা, খই পোড়ানো, সিঁদুর দান। তবে এই সমস্ত রীতি কিন্তু শুধুই ধর্মীয় কারণে নয়। এর পিছনে আরও অনেক কারণ রয়েছে। হিন্দু মতে বিয়েতে আমরা দেখতে পাই, আগুনের কুন্ডলীর চারপাশে বর-বউকে ঘুরতে। একে সাত পাকে বাঁধা পড়া বলা হয়। বলা হয়, এর মাধ্যমে অগ্নিদেবতাকে বিয়েতে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়। শুধু আগুনের চারপাশে ঘোরাই নয়, এই সময়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিও দিতে হয় একে অপরকে। প্রথম প্রতিশ্রুতি- প্রথমে বর তাঁর বউ এবং তাঁর ভাবী সন্তানদের যত্ন নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।বিনিময়ে কনেও প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি তাঁর স্বামী এবং তাঁর পরিবারের যত্ন নেবেন। দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতি- এবার বর প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি তাঁর স্ত্রীকে সবরকম পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করবেন।বিনিময়ে কনেও প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি স্বামীর সবরকম যন্ত্রণায় পাশে থাকবেন। তৃতীয় প্রতিশ্রতি- এবার বর প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি তাঁর পরিবারের জন্য রোজগার করবেন এবং তাঁদের দেখভাল করবেন।একই প্রতিশ্রুতি এবার কনেও করেন। চতুর্থ প্রতিশ্রুতি- স্ত্রীর কাছে তাঁর পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব তুলে দেওয়া এবং একইসঙ্গে স্ত্রীর সমস্ত মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বর।স্ত্রী তাঁর সমস্ত দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করার প্রতিশ্রুতু দেন। পঞ্চম প্রতিশ্রুতি- যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার প্রতিশ্রুতি দেন বর।স্বামীকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি দেন স্ত্রী। ষষ্ট প্রতিশ্রুতি- স্ত্রীর প্রতি সত্য থাকার প্রতিশ্রুতি দেন স্বামী।স্ত্রীও স্বামীর প্রতি সত্য থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। সপ্তম প্রতিশ্রুতি- শুধু স্বামী হিসেবেই নয়, বন্ধু হিসেবেও সারাজীবন স্ত্রীর সঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন বর।বিনিময়ে স্ত্রীও স্বামীর সঙ্গে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।বাংলা রিপোর্ট
রমজানে স্বাস্থ্য ঠিক রাখার উপায়
রমজানে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সচেতনতা ও সতর্কতা মানুষের স্বাস্থ্যগত সমস্যা মোকাবেলা করতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতামতের আলোকে জেনে নিন রমজানে স্বাস্থ্য ঠিক রাখার উপায়:ভাজাপোড়া খাবার না খাওয়া অনেকে মনে করেন ইফতারে ভাজা পোড়া না থাকলে ইফতারই হবে না। কিন্তু দিনভর অভুক্ত থাকার পর ভাজাপোড়া, তৈলাক্ত, গরম খাবার পেটে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। পেট জ্বালাপোড়া করতে পারে।সেহরি খাওয়ার অভ্যাস করা ফজরের আজানের কিছু আগে সেহরি খাওয়ার অভ্যাস করুন। এটাই সঠিক অভ্যাস। এ সময়ে সেহরি খাওয়ার ফলে ফজরের নামাজটাও পড়া হয়ে যাবে। তাছাড়া দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবারও এটি।শীতল স্থানে অবস্থান করা দিনের সবচেয়ে গরম সময়টিতে শীতল স্থানে থাকার চেষ্টা করুন। হতে পারে অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা বাড়ি। শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা যথাসম্ভব কমিয়ে আনুন। সম্ভব হলে নিয়মিত বিরতিতে বিশ্রাম নিন।পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা নিয়মিত হাত ধোঁয়ার অভ্যাস করুন। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন। কারো সর্দি-কাশি বা হাঁচি হলে সাবধান থাকুন। কারণ এর মাধ্যমে আপনার শরীরে ভাইরাস জ্বর বা এ জাতীয় কোনো রোগের জীবাণু সংক্রমণ ঘটতে পারে। আর ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করুন।পর্যাপ্ত ঘুমপর্যাপ্ত ঘুমের দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। কেননা সাত থেকে আট ঘণ্টার কম ঘুম আপনার রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কমিয়ে দেবেধীরে ধীরে খাবার খানসারাদিন খাবার না খাওয়ায় রোজার মাসে শরীরের পুষ্টির চাহিদা থাকে আলাদা। তাই ইফতারে একসঙ্গে অনেক কিছু খাবেন না। ধীরে ধীরে খান। কিছু খেজুর এবং পানি দিয়ে ইফতার শুরু করুন এবং ধীরে ধীরে অন্য খাবারগুলো খান
পায়ের গন্ধ দূর করবেন কীভাবে?
ছোট থেকে বড় অনেকেই পায়ে মোজা পরতে ভয় পান। কারণ কিছুক্ষণ পায়ে পরে থাকলেই মোজা থেকে কটু গন্ধ বেরয়। এমনকী এও দেখা গিয়েছে, মোজা না পরলেও পায়ে গন্ধ হচ্ছে অনেকের। গন্ধ হয়ে থাকে জুতো। প্রতিদিন রোদে না শুকিয়ে নিলে পায়ে পরা যায় না। খেয়াল করলে দেখা যাবে এই সব মানুষের পায়ের সঙ্গে হাতের তালুও ঘামে। বস্তুত, এই ঘাম বেরনোর সঙ্গেই রয়েছে শরীরে দুর্গন্ধ হওয়ার মূল যোগাযোগ। #ঘাম কেন হয়? ঘাম হল আমাদের শরীর থেকে বেরনো তরল পদার্থ। ত্বকের নিচে থাকা এক্রাইন গ্রন্থি থেকে ঘাম নির্গত হয়। দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘর্মগ্রন্থির যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। দেহের উষ্ণতার তুলনায় বাইরে পরিবেশের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে আমরা ঘামতে শুরু করি। এভাবেই শরীর ঠান্ডা হয়। মানবশরীরে প্রায় ৪০ লক্ষ এক্রাইন গ্রন্থি ছড়িয়ে রয়েছে। মজার ব্যাপার হল, সারা শরীরে ঘর্মগ্রন্থি ছড়িয়ে থাকলেও হাত পায়ের তালুতে ঘর্মগ্রন্থির ঘনত্ব সবচাইতে বেশি। কারও কারও ক্ষেত্রে হাতের এবং পায়ের তালু বেশি ঘামে। এইসব মানুষের হাত ও পায়ের তালুর এক্রাইন গ্রন্থি কোনও কারণ ছাড়াই বেশি পরিমাণে ঘাম নিঃসরণ করে। এই ধরনের সমস্যাকে বলে পামোপ্লান্টার হাইপারহাইড্রোসিস। বাচ্চা থেকে বড় সবাই এই অসুখে ভুগতে পারেন। দেখা গিয়েছে, আবেগ, মানসিক চাপ নানা কারণে হাত এবং পায়ের তালু ঘামতে থাকে। অফিসের একটু কঠিন কাজ পড়ে গেলে, টেনশন হলে, বাড়ির বাইরে হঠাৎ কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়লে হাতের ও পায়ের তালু ঘামার সঙ্গে হাত কাঁপার সমস্যাও হয়। ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে হাত ঘামার কারণে পরীক্ষার খাতা ভিজে যায়। বড়দের ক্ষেত্রে জরুরি কাগজে সই করার সময় কাগজ ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। এমনকী যাদের হাতের তালু ঘামার সমস্যা থাকে তাদের সেনাবাহিনীতেও নেওয়া হয় না। কারণ ঘামের কারণে হাত থেকে অস্ত্র পিছলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। দেখা গিয়েছে যাঁদেরই বেশি ঘাম হয়, তাঁরা শরীর থেকে খুব খারাপ গন্ধ হওয়ার অভিযোগ জানান। #কেন হয় দুর্গন্ধ? আসলে শরীর থেকে ঘাম বেরলে বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করতে থাকে। এই ব্যাকটেরিয়ার নাম স্ট্যাফাইলোকক্কাস হোমিনিস। এই ব্যাকটেরিয়াই দুর্গন্ধের মূল উৎস। তাই যাঁদের পা বেশি ঘামে তারা মোজা পরলে পায়ে আর মোজায় বেশ দুর্গন্ধ হয়। # চিকিৎসা: এই ধরনের সমস্যার চটজলদি সমাধান নেই। তবে নানাভাবে চিকিৎসা করার সুযোগও রয়েছে। রোগীর অবস্থা বুঝে চিকিৎসক অ্যালুমিনিয়াম হেক্সাহাইড্রেট লোশন, ফর্ম্যালডিহাইড এবং গ্লুটারালডিহাইড দ্রবণ, বটুলিনিয়াম টক্সিন জাতীয় ইঞ্জেকশন ও আয়নটোফোরেসিস পদ্ধতিতে চিকিৎসা করার কথা ভাবেন। এমনকী দরকার পড়লে অপারেশনও রয়েছে। #লোশন: প্রতিদিন রাতে পা শুকনো করে মুছে নিয়ে তারপর অ্যালুমিনিয়াম হেক্সাহাইড্রেট লোশন মাখতে হবে। সকালে উঠে পা ধুয়ে ফেললেই চলে। রোগীকে একটানা বেশ কিছুদিন ধরে এইভাবে লোশন দিয়ে চিকিৎসা করতে হতে পারে। সাধারণত যে পথে ঘাম বেরিয়ে ত্বকে আসে, সেই কূপের মুখ বন্ধ করে দেয় লোশন। তবে পায়ের ফাটা অংশে এই লোশন ব্যবহার করা যাবে না। সেক্ষেত্রে পায়ে নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। # দ্রবণ: রোগীরা চাইলে ফর্ম্যালডিহাইড এবং গ্লুটারালডিহাইড দ্রবণে হাত এবং পা ডুবিয়ে রাখতে পারেন। এভাবে ত্বকের উপরে আক্রান্ত জায়গাগুলির চিকিৎসা করা যায়। # আয়নটোফোরেসিস: একটি যন্ত্র এবং ট্যাপ কলের জলের সাহায্যে মৃদু বিদ্যুৎ তরঙ্গ (১৫ থেকে ২০ মিলি অ্যাম্পেয়ার) প্রয়োগ করা হয় ত্বকের উপরিভাগে। পর পর ১০ দিন ৩০ মিনিট করে এই চিকিৎসা চালাতে হয়। এরপর সপ্তাহে ১ বা ২ দিন এই চিকিৎসা করালেই চলে। এর সঙ্গে অ্যান্টিকোলিনার্জিক ওষুধও দেওয়া হতে পারে। # বটুলিনাম টক্সিন: হাত ও পায়ের ঘাম ও দুর্গন্ধ বাগে আনতে বটুলিনাম টক্সিন ইঞ্জেকশন দেওয়া যায়। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই চিকিৎসা প্রায় ব্যথাহীন। ক্ষুদ্রাকৃতি সুঁচের সাহায্যে হাত পায়ের তালুতে ইঞ্জেকশনের সাহায্যে ওষুধ পুরে দেওয়া হয়। # মুখে খাওয়ার ওষুধ: মুখে খাওয়ার অ্যান্টিকোলিনার্জিক ওষুধ রয়েছে। ওষুধগুলি ঘাম নিঃসরণ রোধ করে। তবে এই ওষুধগুলির কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। নিয়মিত এই ওষুধ সেবনে রোগীর মুখ ও চোখে চোখ শুষ্কভাব দেখা যায়। হতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্য। কারও কারও ক্ষেত্রে ইউরিন করতেও সমস্যা দেখা দেয়। দুঃশ্চিন্তা কমানোর যে সমস্ত ওষুধ রয়েছে সেগুলি খেলেও সমস্যা কিছুটা কমে, তবে এই ধরনের ওষুধের প্রতি রোগীর আসক্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। #অপারেশন: রোগীর শোচনীয় অবস্থা না হলে এবং সব ধরনের চিকিৎসা ব্যর্থ হলে তারপর অপারেশনের কথা ভাবেন চিকিৎসক। তবে সার্জারি করালে রোগীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়। এই অপারেশনের নাম সার্জিকাল সিমপ্যাথেকটমি। বড়সড় কাটাছেঁড়া করতে হয় না। মিনিমালি ইনভেসিভ এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতিতে সার্জারি করা হয় বলে রোগীর শরীরে সামান্য ক্ষত তৈরি হয়। রোগী খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। ঘরোয়া উপায় #পায়ের দুর্গন্ধের কারণ কী? # শরীরের অত্যধিক ঘাম এবং মৃত কোষ হল ব্যাকটেরিয়ার খাবার। সেই খাবার খেয়ে ব্যাকটেরিয়া একধরনের রাসায়নিক নিঃসরণ করে। এই রাসায়নিকই দুর্গন্ধের উৎস। সারা শরীরের অন্যান্য অংশের থেকে পায়ে বেশি দুর্গন্ধ হওয়ার কারণ হল পা বেশি ঢাকাঢাকিতে থাকে। দেখবেন, বেশিরভাগ মানুষেরই মোজা খোলার পর পা থেকে দুর্গন্ধ বেরচ্ছে। মোজা এবং ঢাকা জুতো পরার কারণে পায়ে বায়ু চলাচলে সমস্যা হয়ে অতিরিক্ত ঘাম তৈরি হয়। তবে এছাড়াও নির্দিষ্ট অঞ্চলে রক্ত সঞ্চালন কম হওয়াও অত্যধিক ঘামের অন্যতম কারণ। ডায়াবেটিস মেলিটাস, হার্টের রোগ ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যা থেকে পায়ে স্বাভাবিক রক্তসঞ্চালন ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, বায়ু, পিত্ত এবং কফ হল শরীরের চালিকাশক্তির উৎস। শরীরে এগুলির অসামঞ্জস্যতা নানাবিধ সমস্যা ডেকে আনে। এখানে সমস্যার মূলে রয়েছে পিত্ত। আয়ুর্বেদ মতে, পিত্ত প্রকৃতির মানুষের ঘাম বেশি হয়। পিত্ত প্রকৃতির মানুষের লক্ষণগুলি হল—এরা গরম সহ্য করতে পারেন না। অম্ল জাতীয় খাদ্য খান (টক)। অন্যান্যদের তুলনায় একটু বেশিই চনমনে থাকেন ইত্যাদি। এছাড়াও পিত্ত বৃদ্ধিকারক আহার (খাদ্য) এবং বিহারের (জীবনযাপন) মাধ্যমেও অনেকের শরীরে পিত্ত বৃদ্ধি পায়। আবার শরীর গঠনের সাতটি ধাতুর মধ্যে মেদ ধাতুর (ফ্যাট) পরিমাণ বেশি থাকলেও অতিরিক্ত ঘাম হয়। # শীতে পায়ে দুর্গন্ধের সমস্যা বাড়ে কেন? #এভাবে শীত বলে নির্দিষ্ট কোনও ঋতুকে দায়ী করা ঠিক নয়। আসলে সমস্যাটা হল ঘামের। বেশিরভাগ মানুষ সারা বছর খোলা জুতো পরেন। মোজাও পরেন না। ফলে পায়ে ভেন্টিলেশনের কোনও সমস্যা হয় না। তাই দুর্গন্ধও থাকে না। অথচ শীত আসতেই শুরু হয় মোজা এবং পা ঢাকা জুতোর ব্যবহার। সেখান থেকে ঘাম। ঘাম থেকে দুর্গন্ধ। তাই শীত বলে আলাদা করে বলা যায় না। যাঁদের বেশি ঘাম হয়, তাঁরা সারা বছরই এই সমস্যায় ভুগতে পারেন। # চিকিৎসা কী? # চিকিৎসার প্রথম ধাপ হল শরীরের সেই নির্দিষ্ট জায়গার যত্ন। এটা দুভাবে করা যেতে পারে। প্রথমটি হল, পায়ের ভেন্টিলেশন নিশ্চিত করা। আর দ্বিতীয়টি অবশ্যই সেই জায়গার ব্যাকটেরিয়া নিধন। এবার এমন কয়েকটি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতি সম্বন্ধে জেনে নেওয়া যাক # জলে কয়েকটি নিম পাতা ফেলে ফুটিয়ে ফেলুন। এবার সেই জল সহনযোগ্য ঊষ্ণতায় এলে পা দুটিকে ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে। নিমের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ক্ষমতা জীবাণু নিধনে বিশেষভাবে কার্যকরী # অগ্নেয়গিরি থেকে উঠে আসা লাভা জমে পাথরে (ভলক্যানিক রক) পরিণত হয়। এই পাথরের নাম জিওলাইট। বাজারে প্যাকেটের মধ্যে জিওলাইট ভরে বিক্রি করা হয়। এই পাউচ প্যাকেটটি মোজার মধ্যে ভরে ব্যবহার করলেও পায়ের দুর্গন্ধ দূর হয় # গরম জলে চা মিশিয়ে তার মধ্যে দুটি পা আধঘণ্টা চুবিয়ে রাখলেও উপকার পাবেন। চায়ে উপস্থিত ট্যানিন নামক পদার্থটি ভালো অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ক্ষমতাসম্পন্ন # স্নান করার মোটামুটি আধঘণ্টা আগে পায়ে চন্দনাদি তেল ভালো করে মালিশ করে নিলেও পায়ে দুর্গন্ধের সমস্যা প্রতিহত করা সম্ভব # পায়ে ব্রাহ্মী তেল লাগালেও দুর্গন্ধ দূর হয় # এক্ষেত্রে আয়ুর্বেদের পঞ্চকর্ম থেরাপির অন্তর্গত বিরেচন (পারগেশন) অত্যন্ত ফলপ্রসূ। এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন উপায়ে শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রেখে প্রায় ৩০ বার মলত্যাগ করানো হয় # আমলকী হল পিত্তনাশক ফল। তাই প্রতিদিন ১ চামচ বা ৩ থেকে ৬ গ্রাম আমলকী চূর্ণ (পাউডার) ঘি-এর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে শরীরের পিত্তবৃদ্ধিজনিত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আসে # প্রতিদিন ১ চামচ ত্রিফলা চূর্ণ (হরীতকী, আমলকী ও বহেরা) ঘি মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাবেন # বিভিন্ন যোগ ব্যায়ামের মধ্যে পিত্তনাশক হিসাবে প্রাণায়াম করা খুবই উপকারী। তাই নিয়মিত প্রাণায়াম করুন # এছাড়াও নিয়মকরে ব্যবহৃৎ মোজা ও জুতো পরিষ্কার করতে হবে। চেষ্টা করুন খোলা জুতো পরার। মোজা সুতির কাপড়ের হলেই ভালো। দিনের শেষে পা ভালো করে পা ধুয়ে নিন। পায়ের গন্ধ দূর করবেন কীভাবে?
মোবাইলে বেশি কথা বললে কী কী ক্ষতি হতে পারে
নানা সমীক্ষা থেকে জানা যাচ্ছে, মোবাইলের রেডিয়েশনের ফলে শুধু শরীর নয়, ক্ষতি হয় মনেরও। আমাদের অজান্তেই মোবাইলের অদৃশ্য তরঙ্গ পাল্টে দেয় দেহ-মনের রসায়ন। মোবাইল ব্যবহারের করার আগে বেশ কিছু সাবধানতা গ্রহণ করা অবশ্য কর্তব্য। * মোবাইল ফোন থেকে শরীরে সমস্যা তৈরি হয় কীভাবে? ** মোবাইল ফোনের এক প্রান্তের বার্তা অন্য প্রান্তে পৌঁছানোর কাজটি ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশনের মাধ্যমে হয়। সমস্যা হল, এই ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন মানব শরীরেও গৃহীত হয়। সাধারণত মোবাইলের ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশেনের মাত্রা ৪৫০ থেকে ৩৮০০ মেগাহার্টজের মধ্যে থাকে। এবার প্রশ্ন হল, ঠিক কতটা পরিমাণ ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন শরীরে গৃহীত হলে সমস্যা সৃষ্টি করে? উত্তর হল, ঠিক যতটা পরিমাণ রেডিয়েশন থেকে শরীরের কেমিক্যাল বন্ড ভেঙে যায় বা শরীরের মধ্যে আয়োনাইজিং এফেক্ট তৈরি হয়। বিষয়টিকে একটু বুঝিয়ে বলি, আসলে আমাদের শরীরের সমস্তটাই রাসায়নিক পদ্ধতিতে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত। মাত্রাতিরিক্ত ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন শরীরের রাসায়নিক বন্ধন ভেঙে ফেলতে সক্ষম। আবার রেডিয়েশনের মাধ্যমে শরীরে আয়োনাইজিং এফেক্ট তৈরি হলেও কোষের মধ্যে হঠাৎ পরিবর্তন আসে। তৈরি হয় নানাবিধ শারীরিক সমস্যা। মোবাইলের ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন মানুষের ক্ষতি করতে পারে বলে প্রাথমিক পর্যায়ে মোবাইলের স্রষ্টারা বিশ্বাসই করতেন না। তাঁদের যুক্তি ছিল, মোবাইল থেকে এতই সামান্য পরিমাণে রেডিয়েশন উৎপন্ন হয় যে তা শরীরে কোনও ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে না। তবে বর্তমানে বিভিন্ন গবেষণায় অত্যধিক মোবাইল ব্যবহারের বিভিন্ন ক্ষতিকর শারীরিক প্রভাবগুলি নিয়ে নানা মতামত উঠে আসছে। * কী কী সমস্যা হয়? ** বিভিন্ন গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মোবাইল ফোন থেকে মানবশরীরে ঘটে যাওয়া নেতিবাচক প্রভাবগুলিকে দুভাবে চিহ্নিত করা যায়। প্রথমটি হল ছোটদের উপর প্রভাব। আর দ্বিতীয়টি প্রাপ্তবয়স্কদের উপর প্রভাব। এবার ছোটদের উপর ক্ষতিকর প্রভাবের প্রশ্নে বলি, প্রাপ্ত বয়স্কদের তুলনায় ছোটদের শরীরে ৬০ শতাংশ বেশি হারে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন গৃহীত হয় বলে গবেষণায় দেখা গিয়েছে। এর কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, ছোটদের মস্তিষ্কের হাড় এবং সফ্ট টিস্যু সরু এবং পাতলা হওয়ার জন্যই প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ রেডিয়েশন গৃহীত হয়। তাই এটা সহজেই অনুমেয় যে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব বড়দের তুলনায় ছোটদের অনেক বেশি। ছোটদের মধ্যে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের মুখ্য সমস্যা হল লার্নিং ইম্পেয়ারমেন্ট। জটিল এই সমস্যায় ছোটদের নতুন কিছু শেখার আগ্রহ এবং ক্ষমতা দুই-ই কমে আসে । * অনেক বাচ্চাই শুয়ে-বসে বিভিন্ন ভুল শারীরিক কায়দায় মোবাইল ব্যবহার করে। এভাবে ব্যবহারে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা হওয়ায় আশঙ্কা থাকে * দীর্ঘক্ষণ মোবাইল স্ক্রিনে চোখ রাখার জন্য মাথা ব্যথার সমস্যা হওয়ারও আশঙ্কা থাকে * রাতে মোবাইল ব্যবহারে ঘুমের সমস্যা হয় * ক্লান্তি এবং দুর্বলতাও আসতে পারে * দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে * কান গরম হয়ে আসে। বড়দের ক্ষেত্রে তালিকার প্রথমেই রয়েছে মাথা ব্যথা। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় মোবাইলের ব্যবহারে ঘুমের সমস্যা, দুশ্চিন্তা এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির মতো সমস্যাও হামেশাই ঘটে। এছাড়াও মোবাইলের ব্যবহার অনেকক্ষেত্রেই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মোবাইল কানে রাস্তা পারাপার, রেললাইন পার বা গাড়ি চালালে যে কোনও মুহূর্তে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আবার বেশ কিছু গবেষণায় মোবাইল ফোনের বেশি ব্যবহারের সঙ্গে ক্যান্সার এবং প্রজননের অক্ষমতার দিকেও নির্দেশ করা হয়েছে। এখানে বলা দরকার, ইতিমধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু মোবাইল রেডিয়েশনকে প্রোবাবেল কার্সিনোজেনিক হিসাবে বর্ণনা করেছে। অর্থাৎ মোবাইলের রেডিয়েশন থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার একটা আশঙ্কা রয়েছে বলেই সংস্থার মতামত। তবে এই বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও প্রমাণ এখনও পর্যন্ত নেই। অপরদিকে কোনও শক্তিশালী প্রমাণ না মেলায় প্রজনন ক্ষমতা হ্রাসজনিত সমস্যাটিকেও তেমন কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয় না। * কী করলে ভালো হয়? ** বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল থেকে এটা পরিষ্কার যে সুস্থ শরীরে বাঁচতে মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমানোই একমাত্র উপায়। তবে ঠিক কতটা কমালে ভালো হয়? উত্তরে বলা যায়, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের সারা দিনে ৩০ মিনিটের বেশি মোবাইল ফোনে কথা বলা উচিত নয়। আর বয়স ১৮ বছরের নীচে হলে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময়টা সারাদিনে ২০ মিনিটের মধ্যে রাখাই শ্রেয় * মোবাইল কেনার আগে অবশ্যই মোবাইলের স্পেসিফিক অ্যাবসর্পশন রেট বা সার ভ্যালু সম্বন্ধে জেনে নিন। বর্তমানে সরকারি নিয়ম মতো সব মোবাইল ফোনেই এই ভ্যালু উল্লেখিত থাকে * ফোনটিকে শরীর থেকে অন্তত ২০ সেন্টিমিটার দূরে সরিয়ে রাখলে রেডিয়েশনের প্রভাব কম পড়ে * মোবাইল টাওয়ারের সিগন্যাল কম থাকলে মোবাইলের রেডিয়েশনের প্রভাব অনেকাংশে বেড়ে যায়। তাই এমন সময় মোবাইল ব্যবহার না করাই ভালো * রাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার ঘুমের সমস্যার প্রধান কারণ। তাই কোনওভাবেই রাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না। ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোন শরীর থেকে অনেকটা দূরে রেখে শোওয়াই ভালো। পারলে ঘুমের সময় মোবাইল বন্ধ বা সাইলেন্ট মোডে রাখুন * মোবাইল ব্যবহার করার সময়ে সঠিক দেহভঙ্গি বজায় রেখে কথা বলুন। বেঁকে-টেরে বসে বা শুয়ে কথা না বলাই ভালো * দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ফোন কানে নিয়ে কথা বলার বদলে হেডফোন ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে হেডফোনের বেশি ব্যবহার আবার কানের নানাবিধ ক্ষতি করে। তাই এক্ষেত্রেও মেপেবুঝে চলতে হবে * মোবাইলে চোখ রেখে বা কথা বলতে বলতে অন্য কাজ না করাই ভালো * মোবাইলে ব্যবহার করতে করতে রাস্তায় হাঁটা, রেললাইন পারাপার, রাস্তা পার, গাড়ি চালানো একদমই উচিত নয় * ছোটদের উপর মোবাইলের খারাপ প্রভাবকে লক্ষ করে বলা যায়, বয়সের গণ্ডি ১৮ না পেরনো পর্যন্ত মোবাইল না ব্যবহার করাই ভালো।