জুম আর খুতবা- ইসলামে পরনিন্দা হারাম
০৩,জুলাই,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মুমীনদেরকে পরস্পর কল্যাণধর্মী ও তাকাওয়াভিত্তিক কাজে সহযোগী হওয়ার নির্দেশ করেছেন। একে অপরের মান সম্মান ও সম্পদের মর্যাদা রক্ষায় বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তিনি একক, অদ্বিতীয়। তাঁর কোন অংশীদার নেই, তিনি আসমান ও জমীনের অধিপতি। আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমাদের মহান নবী অভিভাবক হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রিয় বান্দা ও মনোনীত রাসূল। তাঁর উপর দরুদ সালাম বর্ষিত হোক, তাঁর পবিত্র বংশধরগণ সম্মানিত সাহাবাগণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁর পদাঙ্ক অনুসারীদের উপর অসংখ্য করুণাধারা বর্ষিত হোক। হে মানব মন্ডলী! আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করুন। মুসলিম ভাতৃত্বের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সচেষ্ট থাকুন। মুসলমান হিসেবে অন্য মুসলমানের গীবত করার মতো জগন্যতম মারাত্মক ব্যাধি থেকে নিজকে রক্ষা করুন। আলকুরআনের আলোকে পরনিন্দা: মহান আল্লাহ তায়ালা গীবতের ভয়াবহ পরিণতি ও কঠিন শাস্তির কথা ঘোষণা করেছেন, গীবতকারী ও পরনিন্দাকারীকে মৃত-ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করার সাথে তুলনা করা হয়েছে। এরশাদ হয়েছে হে মুমীনগণ তোমরা অনেক ধারণা বর্জন করো, নিশ্চয় কোন কোন ধারণা পাপ আর তোমরা পরস্পর দোষ অনুসন্ধান করোনা এবং একে অপরের গীবত করোনা। তোমাদের মধ্যে কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের মাংস ভক্ষণ করতে পছন্দ করবে? তোমরা তো অবশ্যই তা ঘৃণা করো। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয় আল্লাহ তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। (সুরা, আহযাব, আয়াত নং ১২)। গীবত অর্থ ও প্রাসঙ্গিক কথা: গীবত একটি আরবি শব্দ। কোন মানুষের অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে তার এমন কোন দোষ অন্যজনের কাছে বলা বা প্রচার করা যা সে অপছন্দ করে বা শুনলে মনে কষ্ট পাবে তাই গীবত। বা পরনিন্দা। শরিয়তে গীবতকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। এটা এমন এক মারাত্মক ব্যাধি যে ব্যাধিতে আজ গোটা সমাজ আক্রান্ত। পরিবার সমাজ ও দেশের সর্বত্র কোন না কোনভাবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কমবেশী সকলেই আজ এ অপকর্ম তথা গুনাহের সাথে জড়িত। তবে আল্লাহ যার প্রতি বিশেষ দয়াপরবশ হন তিনি ব্যতীত। গীবত শব্দের বাংলারূপ পরনিন্দা, পরচর্চা, নিন্দা করা বা কুৎসা রটনা করা অর্থাৎ কারো অনুপস্থিতিতে তার সম্বন্ধে খারাপ মন্তব্য করা, মন্দ কিছু বলা, যা কিছু বলা হয় তা যদি সত্যিই তার মধ্যে থাকে তা অবশ্যই গীবত হবে। আর যদি তা তার মধ্যে না থাকে তা অপবাদ হিসেবে গণ্য হবে। প্রখ্যাত তাবেঈ হযরত হাসান বসরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনামতে অন্যের কুৎসা রটনায় তিন ধরনের গুনাহ হতে পারে। ১. অন্যের মধ্যে যে দোষ রয়েছে তা আলোচনা করা গীবত। ২. যে দোষ তার মধ্যে নেই তা আলোচনা করা অপবাদ। ৩. যাচাই বাছাই করা ব্যতীত তার সম্পর্কে কেবল শুনা কথা আলোচনা করা মিথ্যাচার করার শামিল। (সূত্র. ইমাম গাযযালী: ইয়াহ্ইয়াউ উলুমুদ্দীন, খন্ড ৩৩, পৃ. ১৪৪)। গীবত ব্যবিচারের চেয়েও মারাত্মক: হযরত আবূ সাঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু তা আলা আনহু হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, গীবত হলো ব্যভিচারের চেয়েও মারাত্মক। সাহাবাগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ গীবত কি করে ব্যভিচারের চেয়ে মারাত্মক? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোন ব্যক্তি যদি ব্যভিচার করার পর তাওবা করে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন, কিন্তু যার গীবিত করা হয়েছে সে যদি গীবতকারীকে ক্ষমা না করে তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না। (বায়হাক্বী শরীফ)। হযরত আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করলেন, তোমরা কি জান? গীবত কাকে বলে? সাহাবাগণ বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রসূলই সবচেয়ে ভাল জানেন। রসূলুল্লাহ্ এরশাদ করেন, তুমি তোমার মুসলমান ভাইয়ের আলোচনা (তার অনুপস্থিতিতে) এমনভাবে করবে যে সে তা শুনলে অসন্তুষ্ট হবে। অতঃপর রসূলুল্লাহ্কে প্রশ্ন করা হলো যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে তা বিদ্যমান থাকে তাহলেও কি গীবত? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন তুমি যা বলছ তা যদি তার মধ্যে বিদ্যমান থাকে তা হবে গীবত। আর তা যদি তার মধ্যে বিদ্যমান না থাকে তা হবে অপবাদ। (মুসলিম শরীফ)। গীবতের তথা পরনিন্দার ধরণ: পরনিন্দা ও পরচর্চায় লিপ্ত এক শ্রেণির লোক অন্যজনের দোষত্রুটি কুৎসা রটনা ও সমালোচনামূলক গর্হিত কাজে সর্বদা ব্যস্ত থাকে। ব্যক্তির চলাফেরা, দেহাকৃতি, চোখ, নাক, কান, হাত, পা, উঠাবসা, কাজ-কর্ম, বংশ, চরিত্র, ধর্মকর্ম পোশাক পরিচ্ছদ ইত্যাদি বিষয়ে ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য করা তার অনুপস্থিতিতেও অরুচিকর অশোভন, অপ্রিয় কথা বলা, এসবই গীবতের পর্যায়ভুক্ত। গীবতের কারণ: ক. পরনিন্দা বা গীবতের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ক্রোধ, হাদীস শরীফে এসেছে, বলবান সেই নয় যে কুস্তিতে অন্যজনকে পরাজিত করেছে বরং সেই বলবান যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। আমাদের সমাজে কেউ কারো প্রতিক্ষুদ্ধ হলে অবলীলায় তার দোষত্রুটি বর্ণনা করতে থাকে, সত্য মিথ্যা, ভাল-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, হালাল-হারাম, তোয়াক্কা না করে স্বাধীনভাবে ব্যক্তির বিরুদ্ধে যা ইচ্ছা তাই ব্যক্ত করতে থাকে। গীবতের মাধ্যমেই ক্রোধ নিবারণ করতে থাকে। তবে আদর্শবান মুত্তাকী পরহেযগার দীনদার চরিত্রবান শান্তিপ্রিয় ও মুক্তিকামী সত্যান্বেষী মানুষেরা গীবতের পরিণাম ও ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত। তারা ক্রোধের বশবর্তী হয়ে গীবতের আশ্রয় নেয় না। তারা গীবত পরিহার করেন। খ. সহযোগীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের জন্য গীবত করা: অনেকে আছেন যারা বন্ধু-বান্ধব ও ঘনিষ্টজনদের সন্তুষ্টি অর্জনের স্বার্থে অন্যজনের গীবত চর্চায় লিপ্ত হয়। তারা মনে করে এ কাজে বন্ধুবান্ধবদের সাথে দ্বিমত প্রকাশ করলে সম্পর্কের অবনতি ঘটবে, দূরত্ব সৃষ্টি হবে, মনোমালিন্য হবে, বন্ধু-বান্ধবদের অন্তরে ক্ষোভ বা অসন্তেষ সৃষ্টি হতে পারে তাই সঙ্গী সাথীদের সাথে তাল মিলিয়ে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সন্তুষ্টিকে অগ্রাহ্য করে গুনাহের বোঝা মাথায় নিয়ে অন্যজনের গীবত করা হয়, এ অনৈতিক আচরণ ও গর্হিত বিবেকবর্জিত বদ আমল তাকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। মুমিনের জীবনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য হবে একমাত্র প্রতিটি কাজে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সন্তুষ্টি অর্জন। গ. অন্যকে তুচ্ছ করার জন্য গীবত করা: অন্যকে তুচ্ছ করা ও নিজকে বড় মনে করার মনোভাব পোষণ করে অন্যজনের গীবত করা হয়। যেমন অনেক জ্ঞানী লোককে দেখা যায় অপর জ্ঞানী লোককে নিজের প্রতিপক্ষ ভেবে তার উপর নিজের কর্তৃত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার জন্য তাকে হেয় ও তুচ্ছভাবে উপস্থাপন করা হয়। সংকীর্ণ মানসিকতা, স্বার্থপরতা, হীনমন্যতা ও অহংকারবোধে অন্যকে কলংকিত করার জন্য গীবত করা হয়। এ ধরনের গর্হিত চরিত্রের লোকেরা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। মাযহাব, মিল্লাত, ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার পবিত্র অঙ্গনে এ ধরনের লোকদের ভূমিকা নিতান্তই নিন্দনীয়, সমাজে এরা ঘৃণিত। ঘ. ঈর্ষাপরায়ণতা: এক শ্রেণির লোক অন্যজনের উন্নতি অগ্রগতি সুনাম, খ্যাতি মোটেই সহ্য করতে পারেনা, সর্বজনশ্রদ্ধেয় গুণিজন ও শ্রদ্ধার পাত্র সম্মানিত ব্যক্তিদের সর্বত্র গ্রহণযোগ্যতার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে অনেক সময় ব্যক্তির গীবত করা হয়, এতে গীবতকারীই ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও নিন্দিত হয়। ঙ. কর্ম বিমুখতা: অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। বেকারত্ব দেশ ও জাতির জন্য অভিশাপ। কর্মবিমুখ অলস ব্যক্তির সময় কাটেনা, শয়তানের প্ররোচনায় তারা অন্য জনের দোষত্রুটি, কুৎসা ও সমালোচনায় লিপ্ত হয়ে সময় অতিবাহিত করে। নিজের স্বার্থের বিপরীতে অপছন্দের লোকের গীবত চর্চা করে আত্মতুষ্টি লাভ করে। চ. পরনিন্দা করা অযোগ্য ও হিংসুক লোকের চরিত্র: অনেক সময় কম যোগ্যতাসম্পন্ন লোকেরা যোগ্যতাসম্পন্ন দায়িত্বশীল লোকদের সামনে নিজদের কর্মদক্ষতা, যোগ্যতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গীবত, সমালোচনা করে নিজের অযোগ্যতা অদক্ষতা, কর্মবিমুখতা, ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালায়। মানুষের বিরুদ্ধে নিন্দুক সমালোচক শ্রেণির লোকদের স্মরণ করিয়ে দেয়া দরকার যে, ইসলামী আদর্শ ও কুরআন সুন্নাহর বিধি বিধানে অনর্থক কথা ও কাজের কোন মূল্য নেই। অনর্থক কথা ও কাজে সময় ও শ্রম দুটোই বিনষ্ট হয়, আমল বরবাদ হয়ে যায়, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন- হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, অনর্থক কথা ও কাজ ছেড়ে দেয়া ইসলামের অন্যতম শোভাবর্ধক স্বভাব। (তিরমিযী শরীফ)। মাগফিরাত কামনা গীবতের কাফ্ফরা: হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে- হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, গীবতের কাফ্ফারা হলো, এ যে, তুমি যার গীবত করেছ তার মাগফিরাত কামনা করে দুআ করো। তুমি দুআ এভাবে করবে যে, হে আল্লাহ তুমি আমার এবং তার গুনাহ ক্ষমা কর। (বায়হাকী শরীফ) আল্লাহ আমাদের আপনাদের সকলকে কুরআনের বরকত দান করুন। কুরআনের আয়াত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ দ্বারা আমাদের নাজাত দান করুন। নিশ্চয় তিনি মহান দানশীল, সৃষ্টি জগতের মালিক পূণ্যময় অনুগ্রহশীল ও দয়ালু। আল্লাহ তাআলা গীবত করা থেকে সকলকে হিফাজত করুন- আমীন। লেখক : অধ্যক্ষ, মাদরাসা-এ তৈয়্যবিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া ফাযিল (ডিগ্রী), বন্দর, চট্টগ্রাম; খতীব, কদম মোবারক শাহী জামে মসজিদ।
দেখা মিলল পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন আকাশের
৩জুন,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন আকাশের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। যার বায়ুমণ্ডল মানুষের কর্মকাণ্ড দ্বারা তৈরি ক্ষতিকর কণা থেকে মুক্ত। অ্যান্টার্কটিকা ঘিরে থাকা দক্ষিণ মহাসাগরে পাওয়া গেল সেই স্থান। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কলোরোডা স্টেট ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক দক্ষিণ সাগরে বায়োঅ্যারোসল কম্পোজিশনের ওপর গবেষণা করে বিরল এ বায়ুমণ্ডলের দেখা যান। এ ধরনের গবেষণা এবারই প্রথম। আবহাওয়া ও জলবায়ু ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। যা আবার বিশ্বের এক প্রান্তের সঙ্গে অন্য প্রান্তকে সংযুক্তও করে। এ কারণ এক অঞ্চলের পরিবর্তন অন্য অঞ্চলেও প্রভাব ফেলে। এরই মাঝে বিজ্ঞানী ও গবেষকরা মানুষের কর্মকাণ্ড দ্বারা প্রভাবিত হয়নি এমন অঞ্চল খুঁজে চলছিলেন। অধ্যাপক সনিয়া ক্রেইডেনউইজ ও তার দল আগেই সন্দেহ করেছিলেন পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে দক্ষিণ মহাসাগরের বায়ুমণ্ডল মানুষ ও ধূলিকণা দ্বারা কম ক্ষতিগ্রস্ত। তারা দেখেন বায়ু মণ্ডলের একদম নিচের স্তর জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার, নির্দিষ্ট ফসল বপন, সার উৎপাদন বা বর্জ্য পানি নিষ্কাশন বা এ ধরনের দূষণ দ্বারা প্রভাবিত নয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ফলাফল উত্তর গোলার্ধের চেয়ে একদম ভিন্ন। ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস জার্নালে সোমবার এ গবেষণা ফলাফল প্রকাশ হয়। সেখানে অ্যান্টার্কটিকার ওই অঞ্চলকে- সত্যিই আদিম বলে উল্লেখ করা হয়। বায়ু দূষণ ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট হিসেবে বিবেচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, বছরে এ কারণে ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ু দূষণ ভৌগলিক সীমানা পার হতে পারে সহজে। দূষণের উৎসের শত শত মাইল দূরের মানুষকেও আক্রান্ত করে।
করোনা: ইন্টারনেট মানুষের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হয়ে উঠেছে
২৫এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপে যখন সবকিছু বন্ধ তখন ইন্টারনেট হয়ে উঠেছে মানুষের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। আমরা আমাদের দাপ্তরিক কাজ ও পড়াশোনার জন্য এখন ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। এমনকি কাউকে দেখতে চাইলেও আমাদের এ প্রযুক্তির শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। আমাদের বিনোদনের প্রাথমিক উৎসও এখন ইন্টারনেট। এ সময়ে ইন্টারনেটে আমরা প্রচুর সময় ব্যয় করছি। জানুয়ারি থেকে মার্চের শেষ ভাগ পর্যন্ত বড় শহরগুলোতে ইন্টারনেট ট্রাফিক প্রায় এক-চতুর্থাংশ বেড়েছে। নির্দিষ্ট কিছু অনলাইন সেবাদান প্রতিষ্ঠানের চাহিদা আকাশ ছুঁয়েছে। সহকর্মী, পরিবার ও বন্ধুদের সরাসরি মুখোমুখি হওয়ার জায়গা নিয়েছে ভিডিও কল। পুরো ২০১৯ সালের চেয়ে ২০২০ সালের প্রথম দুই মাসে অনেক বেশি মানুষ ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যার জুম ব্যবহার করছে। ঘরে অবস্থানকালে বিনোদনের চাহিদাও অনেক বেড়েছে। রেকর্ডসংখ্যক মানুষ এখন জনপ্রিয় অনলাইন পিসি গেম স্টোর স্টিম ব্যবহার করছে। ফেব্রুয়ারি থেকে এর ব্যবহার বেড়েছে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। এমনকি অনলাইন মুদি দোকানগুলো তাদের ব্যবসা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্রাহককে ভার্চুয়াল লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ইন্টারনেট কি তবে তার ইতিহাসের সবচেয়ে আকস্মিক উল্লম্ফন দেখছে? এখানে কিছু প্রতিবন্ধকতাও তৈরি হয়েছে। ওয়াইফাইয়ের গতি কমে গেছে, ওয়েবসাইটগুলো চাপ নিতে পারছে না এবং ভিডিও কল কেটে যাচ্ছে। তবে এসব ছোটখাটো দুর্ঘটনা ছাড়া ইন্টারনেট দারুণভাবে তার কাজ করছে। অবশ্য ইন্টারনেট এ পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে সংগ্রাম করছে বলে মনে করেন ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেডের বিশেষজ্ঞ ম্যাথিউ রোগান। পাশাপাশি যত বেশি আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করব, তত বেশি বিভ্রান্তি আমাদের চোখে পড়বে। যদিও আপনি কেবল সংক্ষিপ্ত ও স্থানীয় প্রভাবগুলো দেখতে পাবেন, বিস্তৃত প্রভাবগুলো না। সামগ্রিক ব্যবহারের পাশাপাশি, আমরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারনেট ব্যবহার করছি। অফিসের কাজ শেষ করে ইন্টারনেট ব্যবহারের যে সূচি তা এখন দুনিয়াজুড়ে বদলে গেছে। এখন দুপুরের খাবারের আগে থেকেই ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ ব্যবহার দেখা যাচ্ছে, বলেছেন ক্লাউডফ্লেয়ারের সিইও ম্যাথিউ প্রিন্স। যদিও এটা কেন হচ্ছে, তা পরিষ্কার নয়। হতে পারে ভার্চুয়াল মিটিং অথবা ক্লাসরুমে অনেক সময় দিতে হচ্ছে। ক্লাউডফ্লেয়ার বলছে, ইতালিতে ইন্টারনেটের ব্যবহার ৪০ শতাংশ বেড়েছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশে, যেখানে আগে থেকেই ইন্টারনেটের বহুল ব্যবহার সেখানে এই পরিবর্তনটি কম। অবশ্য উল্লেখ করা প্রয়োজন দক্ষিণ কোরিয়া করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ইতালির চেয়ে বহুগুণ সফল। তাই হয়তো দেশটিতে মহামারীজনিত এই ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধি পায়নি। ক্লাউডফ্লেয়ারের দেয়া উপাত্তগুলো দেখাচ্ছে কীভাবে মানবিক কার্যকলাপ সিটি সেন্টারকে পেছনে ফেলেছে এবং শহরতলিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এ উপাত্ত বলছে, ফেব্রুয়ারি ১৯ থেকে মার্চের ১৮ তারিখের মাঝে দিনের বেলা ইন্টারনেটের ব্যবহার কীভাবে বদলেছে। এর আগে-পরে অনেক মানুষ ঘরে বসে কাজ শুরু করেছে। আরবান হাবগুলো লাল হয়ে গেছে, যার অর্থ ইন্টারনেটের ব্যবহার কমেছে। অন্যদিকে চারপাশে তৈরি হয়েছে সবুজ রঙের বলয়, যা ব্যবহার বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। আকস্মিকভাবে চাহিদা বাড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া হচ্ছে। ইন্টারনেট মার্কেটের জন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কমিশনার থিয়েরি ব্রেটন তদবির করার পর চাপ এড়াতে নেটফ্লিক্স, ইউটিউব, ফেসবুকসহ ভিডিও স্ট্রিমিং কোম্পানিগুলো ভিডিও চিত্রের মান কমিয়ে দিতে সম্মত হয়। মূলত ভিডিও অ্যাকাউন্টগুলো ইন্টারনেট ট্রাফিকের জন্য অর্ধেকের বেশি দায়ী। ট্রাফিকের কারণে সৃষ্ট চাপের বাইরে আরো দুটি কারণে ইন্টারনেটের ওপর চাপ তৈরি হয়। একটি হচ্ছে স্থানীয় যে ডাটা সেন্টার থেকে আপনি বাসায় সংযোগ নিচ্ছেন তারা সাধারণত দুর্বল হয়ে থাকে। যাদের অনেকেই পুরনো কেবল ব্যবহার করে। অনেক ক্ষেত্রে টিভির জন্য তৈরি করা কেবলগুলো এখানে ব্যবহার করা হয়। যে কারণে ভিডিওগুলো দুর্বল দেখা যায়। পাশাপাশি এর ব্যান্ডউইডথও থাকে অনেক কম। যা কিনা কাজের গতিকে অনেক কমিয়ে দেয়। এছাড়া আশপাশের অনেকেই যখন একসঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবহার করে তখন এর ওপর বেশ চাপও তৈরি হয়। দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে কোম্পানিগুলোকে এখন একাধিক অবস্থান থেকে ট্রাফিক পরিচালনা করতে হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ ড্রপবক্স দিয়ে হাজারো ব্যবহারকারীকে সহজেই সংযুক্ত করা যায়, যখন কিনা তারা একই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অথবা অফিস বিল্ডিংয়ে থাকে। তখন সব কার্যক্রম একটিমাত্র উচ্চগতির সংযোগ দ্বারা পরিচালনা করা যায়। কিন্তু এখন সেই সব হাজারো ব্যবহারকারী সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তারা কয়েকশ ভিন্ন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে।বণিক বার্তা। এসব ছোটখাটো সমস্যার পরও ইন্টারনেট দুনিয়াজুড়ে ভালোভাবেই তার কাজ করছে। এজন্য আমরা শিল্প বিপ্লবকে ধন্যবাদ দিতে পারি। দুই দশক আগেও ইন্টারনেটে মানুষের বাণিজ্যিক আগ্রহ ছিল সামান্য। যার অর্থ হচ্ছে এর অবকাঠামো প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে গেছে। একটি বড় সংবাদ সবকিছুকে বদলে দিতে পারে। ইন্টারনেটে এখন অনেক ইন্ডাস্ট্রি একসঙ্গে দাঁড়িয়ে গেছে। কমকাস্টের মতো টেলিকম কোম্পানি, কন্টেট তৈরির জন্য নেটফ্লিক্স, রিটেইল জায়ান্ট অ্যামাজন, ভার্চুয়াল স্টোরেজ সরবরাহকারী ড্রপবক্স শক্তিশালী সার্ভার ব্যবহারের মাধ্যমে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। যার ফলে সক্ষমতা, গতি ও পারফরম্যান্স সবকিছুই বেড়েছে। ইন্টারনেটের এ বাণিজ্যিকীকরণ নেটওয়ার্কের একটি শক্তিশালী জাল তৈরি করেছে, যা দারুণভাবে কাজ করছে। ক্লাউড পরিষেবা দ্বারা পরিচালিত নেটফ্লিক্স ও ড্রপবক্সের মতো কোম্পানিগুলো তাদের কার্যক্রম অনেক দ্রুতগতির করেছে। যখন চাহিদা বাড়ছে তখন বাড়তি সার্ভার ব্যবহার করা হচ্ছে। কভিড-১৯-এর কারণে এটি বিস্তৃত হয়েছে। তবে এর বাইরে কিছু সমস্যাও আছে। ইন্টারনেটের এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজে মানুষের স্পর্শের প্রয়োজন হচ্ছে। যেখানে সার্ভার বদলে দেয়া বা ঠিক করার প্রয়োজন হচ্ছে। যা কিনা কেবল ইঞ্জিনিয়ারদের পক্ষে সম্ভব। কিন্তু লকডাউন অবস্থায় এ কাজগুলো করা এখন বেশ কঠিন। এছাড়া সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়লে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও হার্ডওয়্যার পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। চীন হচ্ছে অপটিক্যাল ফাইবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যারের সবচেয়ে বড় উৎপাদক। এখন সাপ্লাই বন্ধ হয়ে গেলে, তা বিশ্বের অনেক জায়গায় ইন্টারনেট সেবাকে বাধাগ্রস্ত করবে। বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোর জনসাধারণকে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হতে পারে। কিন্তু সবকিছু মিলিয়ে চিন্তা করলে ইন্টারনেট বর্তমানে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী ও তাত্পর্যময় রূপ নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে।
টাকাতেও এক দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে করোনাভাইরাস
0৮এপ্রিল,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনাভাইরাস থেকে দূরে থাকতে সাধারণ মানুষ একের পর এক উপায় খুঁজে বের করছেন। কখনো মাস্ক কখনো আবার গ্লাভসের সহায়তা নিচ্ছেন। এদিকে করোনা থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিভিন্ন দেশের প্রশাসনগুলো। এমন পরিস্থিতিতে হংকংয়ের বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণা উঠে এলো। টাকার নোটে এক দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে করোনাভাইরাস। এমনকি ব্যাংক থেকে আসা নতুন টাকাতেও একদিন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের বেঁচে থাকার সম্ভবনা বেশি। অন্যদিকে, মাস্কে সাতদিন পর্যন্ত করোনাভাইরাস বেঁচে থাকতে পারে। এমনই তথ্য দিচ্ছে হংকংয়ের বিজ্ঞানীদের গবেষণা। হংকংয়ের বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণা বলছে, করোনাভাইরাস কাপড়ে সেভাবে বাঁচে না। তবে, কাপড় পরিষ্কার রাখা ও ধুয়ে রাখা জরুরি। গবেষকদের দাবি, সিজনড কাঠের ত্বকেও সেভাবে বাঁচে না করোনা। তবে সবকিছুই নির্দিষ্ট সময় পর ধুয়ে মুছে রাখা ভালো বলে মত তাদের।সূত্র,দেশে বিদেশে। এদিকে, হংকংয়ের বিজ্ঞানীদের দাবি, টাকায় একদিন করোনাভাইরাস বাঁচলেও টিস্যু পেপারে তিন ঘণ্টার বেশি বাঁচতে পারে না কোভিড-১৯ রোগের ভাইরাস। এমনকি প্রিন্টেড কোনো কাগজেও ৩ ঘণ্টার বেশি করোনা বাঁচবে না বলে মত বিজ্ঞানীদের।
হোম কোয়ারেন্টিনে যে আমলগুলো করা যায়
২৭মার্চ,শুক্রবার,ইসলামী জীবন,নিউজ একাত্তর ডট কম: ধৈর্য ও নামাজ : নামাজের মাধ্যমে বেশি বেশি বিপদ থেকে পরিত্রাণ প্রার্থনা করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, আর তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৪৫) ইস্তিগফার : দুনিয়ায় আমাদের ওপর বিপদাপদ আসার অন্যতম কারণ আমাদের গুনাহ। আমাদের কৃতকর্মের ফল হিসেবেই কখনো কখনো আমাদের ওপর বিভিন্ন বড় ধরনের বিপদ আসে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, আর তোমাদের প্রতি যে মুসিবত আপতিত হয়, তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল। আর অনেক কিছুই তিনি ক্ষমা করে দেন। (সুরা : শুরা, আয়াত : ৩০) মানুষ যখন আল্লাহকে ভুলে যায়, নিজেদের ক্ষমতাবান ভাবতে শুরু করে এবং দুর্বলদের ওপর প্রভুত্ব কায়েম করতে চায়, তখনই মহান আল্লাহ বিভিন্ন আজাব দিয়ে মনে করিয়ে দেন, মানুষ কতটা দুর্বল। অতীতে বহু জাতিকে এ ধরনের অভ্যাসের কারণে মহান আল্লাহ আজাব দিয়ে শাস্তি দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ফেরাউনের বংশ ও তাদের আগের লোকদের আচরণের মতো তারা আল্লাহর আয়াতগুলো অস্বীকার করেছে, ফলে তাদের পাপের কারণে আল্লাহ তাদের পাকড়াও করেছেন। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিশালী, কঠিন আজাবদাতা। (সুরা : আনফাল, আয়াত : ৫২) কিন্তু বান্দা যখন তার ভুল স্বীকার করে মহান আল্লাহর কাছে ফিরে আসে, তাওবায় লিপ্ত হয়ে যায়, তখন আল্লাহ তাকে আজাব থেকে রক্ষা করেন। মহান আল্লাহ বলেন, আল্লাহ তাদের আজাব দানকারী নন, এমতাবস্থায় যে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করছে। (সুরা : আনফাল, আয়াত : ৩৩) আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার সূর্যগ্রহণ হলো, তখন নবী (সা.) ভীত অবস্থায় উঠলেন এবং কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার ভয় করছিলেন। অতঃপর তিনি মসজিদে আসেন এবং এর আগে আমি তাঁকে যেমন করতে দেখেছি, তার চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কিয়াম, রুকু এবং সিজদা সহকারে নামাজ আদায় করলেন। আর তিনি বললেন, এগুলো হলো নিদর্শন, যা আল্লাহ পাঠিয়ে থাকেন, তা কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে হয় না। বরং আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেন। কাজেই যখন তোমরা এর কিছু দেখতে পাবে, তখন ভীত অবস্থায় আল্লাহর জিকির, দোয়া এবং ইস্তিগফারের দিকে ধাবিত হবে। (বুখারি, হাদিস : ১০৫৯) জিকির : সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ আল্লাহর নিদর্শনগুলোর মধ্য থেকে অন্যতম নিদর্শন। এগুলো দেখা দিলে রাসুল (সা.) ভীষণ চিন্তিত হয়ে যেতেন। লম্বা কিরাত ও সিজদায় নামাজ পড়তেন। এবং সাহাবায়ে কেরামকে এই মুহূর্তগুলোতে বেশি বেশি দোয়া, তাকবির, নামাজ ও সদকার প্রতি গুরুত্ব দিতেন। ইরশাদ হয়েছে, কাজেই যখন তোমরা তা দেখবে তখন তোমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করবে। তাঁর মহত্ত্ব ঘোষণা করবে এবং নামাজ আদায় করবে ও সদকা প্রদান করবে। (বুখারি, হাদিস : ১০৪৪) উল্লেখ্য, এখানে আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা বলতে যেমন আল্লাহর মহত্ত্ব বোঝায়, এমন জিকিরের প্রতি ইঙ্গিত বহন করে, তেমনি বিভিন্ন হাদিসে আজানের কথাও বলা হয়েছে। সম্প্রতি ফ্রান্সে দেখা গেছে, মানুষ করোনা থেকে বাঁচতে সবাই নিজেদের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আজান দিচ্ছে। আবার কুয়েতে সবাই জোরে তাকবির দিচ্ছে। বিপদের মুহূর্তে এই দুই ধরনের কাজই আমরা করতে পারি। বেশি বেশি আল্লাহু আকবার জিকির করতে পারি। সদকা : বিপদের মুহূর্তে আমরা বেশি বেশি সদকা করতে পারি। কারণ সদকার মাধ্যমে বিপদ দূর হয়ে যায়। মানুষের হায়াতে বরকত হয়, অপমৃত্যু কমে ও অহংকার অহমিকা থেকে মুক্ত থাকা যায়। (আত্তারগিব ওয়াত তারহিব : ২/৬৫) আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার ঈদুল আজহা অথবা ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের জন্য আল্লাহর রাসুল (সা.) ঈদগাহের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি মহিলাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন, হে মহিলা সমাজ! তোমরা সদকা করতে থাকো। কারণ আমি দেখেছি, জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে তোমরাই বেশি। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, কী কারণে, হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বলেন, তোমরা বেশি পরিমাণে অভিশাপ দিয়ে থাকো আর স্বামীর অকৃতজ্ঞ হও। (বুখারি, হাদিস : ৩০৪) তা ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে সমাজের একটি বড় অংশকে বেকার করে দিয়েছে, বেশি বেশি সদকার মাধ্যমে তাদেরও অনেক বড় সহযোগিতা হবে। দোয়া : জুবাইর ইবনে আবু সুলাইমান, ইবনু জুবাইর ইবনু মুত্বইম (রা.) সূত্র থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে উমার (রা.)-কে বলতে শুনেছি, রাসুলুল্লাহ (সা.) সকাল ও সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে এই দোয়াগুলো পড়া ছেড়ে দিতেন না। উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফিয়াতা ফিদদুনিয়া ওয়াল আখিরাতি, আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া, ওয়াল আফিয়াতা ফী দ্বিনি ওয়া দুনিয়ায়া, ওয়া আহলি, ওয়া মালি, আল্লাহুম্মাসতুর আওরাতি, ওয়া আমিন রওআতি, আল্লাহুম্মাহফাজনি মিন বাইনি ইয়াদাইয়া ওয়া মিন খলফি ওয়া আন ইয়ামিনি ওয়া আন শিমালি ওয়া মিন ফাউকি ওয়া আউজুবিকা বিআজামাতিকা আন উগতালা মিন তাহতি। অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ক্ষমা এবং আমার দ্বিন, দুনিয়া, পরিবার ও সম্পদের নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ! আপনি আমার দোষত্রুটিগুলো ঢেকে রাখুন এবং ভীতিপ্রদ বিষয়গুলো থেকে আমাকে নিরাপদ রাখুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে হিফাজত করুন আমার সম্মুখ হতে, আমার পিছন দিক হতে, আমার ডান দিক হতে, আমার বাম দিক হতে এবং আমার ওপর দিক হতে। হে আল্লাহ! আমি আপনার মর্যাদার ওয়াসিলায় মাটিতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাইছি। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৭৪) অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সুরা বাকারার শেষে এমন দুটি আয়াত রয়েছে যে ব্যক্তি রাতের বেলা আয়াত দুটি তিলাওয়াত করবে তার জন্য এ আয়াত দুটিই যথেষ্ট। (বুখারি, হাদিস : ৪০০৮) মুআজ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে খুবাইব (রা.) হতে তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক বর্ষণমুখর খুবই অন্ধকার কালো রাতে আমাদের নামাজ পড়াবার জন্য আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে খুঁজছিলাম। আমরা তাঁকে পেয়ে গেলাম। তিনি বললেন, বলো। আমি কিছুই বললাম না। পুনরায় তিনি বলেন, বলো। আমি কিছুই বললাম না। তিনি আবার বললেন, বলো। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! কী বলব? তিনি বলেন, তুমি সন্ধ্যায় ও সকালে উপনীত হয়ে তিনবার সুরা কুল হুয়াল্লাহু (সুরা ইখলাস), সুরা নাস ও ফালাক পড়বে; এতে তুমি যাবতীয় অনিষ্ট হতে রক্ষা পাবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৮২) কোরআন তিলাওয়াত : আমাদের যেহেতু সাধারণত ব্যস্ততার কারণে কোরআন তিলাওয়াতে সময় কম দেওয়া হয়, অনেকের রমজান ছাড়া কোরআন খতমের সুযোগই হয় না। তাদের জন্য বর্তমান সময়টা কোরআন খতম করার জন্য উপযুক্ত সময়। আল্লাহ হয়তো ঘরে ঘরে কোরআন তিলাওয়াতের উসিলায় আমাদের ক্ষমা করে দিতে পারেন।- কালের কন্ঠ
কট্টর দেশভক্ত- পাত্রী চেয়ে ভারতীয় চিকিৎসকের বিজ্ঞাপন
১৯ফেব্রুয়ারী,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পাত্র-পাত্রীর বিজ্ঞাপনে মাঝে মধ্যেই মজার উপাদান দেখা যায়। বিশেষত পাত্রপক্ষের এমন সব চাহিদা থাকে, যা এক কথায় অসাধারণ। এবার এমনই এক চমকদার বিজ্ঞাপনের সন্ধান মিলেছে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাচ্ছে মজার রসদ। ভারতীয় এক যুবকের দেয়া ওই বিজ্ঞাপন ইতোমধ্যেই ভাইরাল হয়ে গেছে। সেখানে এক হিন্দু ব্রাহ্মণ মেয়ের জন্য বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। জাত-ধর্ম উল্লেখ করে বিজ্ঞাপন দেয়া অবশ্য নতুন কিছু নয়। তবে তার সঙ্গে আর যা কিছু যোগ করা হয়েছে, তা খুঁজে বের করাটা মোটেই সহজ নয়। বিজ্ঞাপনটিতে পাত্রের যে বিবরণ রয়েছে, তাতে পাত্রের নাম ডা. অভিনব কুমার। পেশায় দন্ত্য চিকিৎসক, লম্বা ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি। বিহারের ভাগলপুরের বাসিন্দা। ব্রাহ্মণ, গোত্র-ভরদ্বাজ। আর নিজের চাহিদার কথা জানিয়ে তিনি লিখেন, পাত্রী হতে হবে ফর্সা, সুন্দরী, বিশ্বাসযোগ্য, যত্নশীল, সাহসী, ধনী। কট্টর দেশভক্তি থাকতে হবে। ভারতীয় সেনার ক্ষমতা বাড়ানোয় বিশেষ আগ্রহী হতে হবে। সন্তানের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। ভালো রাঁধতে জানতে হবে। বিহার কিংবা ঝাড়খণ্ডের ভারতীয়, হিন্দু, ব্রাহ্মণ, চাকরিরত মেয়ে চাই। ও হ্যাঁ, অবশ্য কুণ্ডলী আর ৩৬ গুণ মিলিয়ে নিতে হবে। তবে পাত্রের বিয়ে করার কোনও তাড়া নেই। সেকথাও জানিয়েছেন বিজ্ঞাপনের নিচে। ফোন নম্বর দিয়ে লেখা হয়েছে, আমি কোনও ফোন রিসিভ করবো না। শুধু এসএমএস-এ কথা বলবো।
বসন্ত রঙিন ভালোবাসার দিন,নারী পুরুষ সবাই রঙে রঙিন
১৪ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দখিন হাওয়ার গুঞ্জরণে হৃদয়ে জেগেছে রেশমি পরশ। নিসর্গ জেগেছে নতুন রূপে। হাওয়ায়-হাওয়ায় দোল লেগেছে বাংলার প্রকৃতিতে। প্রকৃতি আজ জানান দিচ্ছে, আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায় ,ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত। কবির শঙ্কা দূর করে ফুল ফুটেছে। গাছে গাছে ফুটেছে আমের মুকুল। শীতের খোলসে থাকা কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, নাগলিঙ্কন এখন অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠেছে।প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আজ বাসন্তি রঙের শাড়ি পরবে নারীরা। রঙে রঙিন হবে নারী, পুরুষ সবাই। ১লা ফাল্গুনের সঙ্গে আজ যোগ হয়েছে ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালোবাসা দিবস। একই দিনে দুটি দিবসের আনন্দ ছুঁয়ে যাবে প্রাণে। বসন্তের এই দিনে হৃদয় উদার, উন্মুক্ত করতে হবে। বসন্তকে আজ বরণ করে নিতে হবে। কবিগুরু তাই বলেছেন, আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে/তব অবগুণ্ঠিত কুণ্ঠিত জীবনে/কোরো না বিড়ম্বিত তারে/ আজি খুলিয়ো হৃদয়দল খুলিয়ো/ আজি ভুলিয়ো আপনপর ভুলিয়ো। বসন্তকে বরণ করে নিতে বেশ কিছু দিন ধরে ছিল নানা প্রস্তুতি। শপিং মল থেকে বিউটি পার্লার, ফুলের দোকানে ব্যস্ত তরুণ-তরুণীরা। ব্যস্ততা ছিলো, সংস্কৃতি কর্মীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের। শোভাযাত্রার বৈচিত্রময় আয়োজনের ব্যস্ততা শেষে আজ বরণ করা হচ্ছে বসন্তকে।

ইসলামী জীবন পাতার আরো খবর