উঠানামা করে বিএনপির ভোট
নলাইন ডেস্ক: বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোটের তথ্য বলছে, দেশের দুই প্রধান দলের মধ্যে বিএনপি ভোট উঠানামা করে। দুটি জাতীয় নির্বাচনে তাদের ভোট আগেরবারের চেয়ে বাড়লেও দুটি নির্বাচনে কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। এমনও দেখা গেছে, আগের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েও বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে হেরেছে আবার আগের চেয়ে কম ভোট পেয়েও জিতেছে। অন্যদিকে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের ভোট ১৯৭৯ সালের পর থেকে ক্রমাগত বাড়ছে। কেবল অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ধরলে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর প্রথম নির্বাচনে তারা যত শতাংশ ভোট পেয়েছে তার তুলনায় শেষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে তাদের ভোট বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ। ১৯৭৯ সালে আওয়ামী লীগ ২৪.৫ শতাংশ ভোট পেলেও ২০০৮ সালে সবশেষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ৪৯.৯ শতাংশ ভোট পড়ে। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠার পর বিএনপি যত শতাংশ ভোট পেয়েছে, পরের চারটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে অংশ নিয়ে একবারই কেবল তারা সেই হারে ভোট পেয়েছে। বাকি তিনটি নির্বাচনেই ভোটের হার ছিল তার চেয়ে অনেক কম। বিএনপি ১৯৭৯ সাল প্রথমবার অংশ নিয়েই ৪১.২ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। আর ২০০৮ সালে সবশেষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে তার চেয়ে দলটি ভোট কম পেয়েছে আট শতাংশ, অর্থাৎ ৩৩.২ শতাংশ ভোটারের পছন্দ ছিল ধানের শীষ। বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী এমাজউদ্দিন আহমেদ অবশ্য দুটি নির্বাচনে বিএনপির ভোট কমার বিষয়টি স্বীকার করতে চান না। তার দাবি, ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। ফলে ওই নির্বাচনে কী হলো না হলো, সেটি ধরলে হবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই উপাচার্য ঢাকাটাইমসকে বলেন, ২০০৮ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল সেটা কোন নির্বাচনই ছিল? ওটা তো ভোটের বাক্সে ব্যালট পেপার ঢুকানোর ব্যাপার ছিল। শেখ হাসিনা যখন বলল আপনারা যা কিছু করবেন (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) আমরা তার সবকিছুই সমর্থন করি এবং সংসদে সব পাস করে নেব, তারপরে সামরিক কর্মকর্তারা তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে চলে গেল। তাই ওইটাকে নির্বাচন হিসাবে গণ্যই করা হয় না। ওই নির্বাচনকে বাদ দিলে দেখা যাবে বিএনপির ভোট ওঠানামা করে নাই, এটা বাড়তির দিকেই রয়েছে। ১৯৭৯ সালের তুলনায় ১৯৯১ সালে বিএনপির ১১ শতাংশ ভোট কমার বিষয়টি নিয়ে অবশ্য কোনো ব্যাখ্যা দেননি এই বুদ্ধিজীবী। আর বিএনপির জেতা ওই নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তার মনে কোনো প্রশ্নও নেই। বিএনপিপন্থী আরেক বুদ্ধিজীবী জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে বিএনপির ভোট উঠানামার তথ্য জানিয়ে এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, অতীতে কী হয়েছে না হয়েছে সেটা ধরলে হবে না। তবে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমান সমান। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেছেন, বিএনপি তার রাজনৈতিক আদর্শের বিষয়টি কখনও স্পষ্ট করতে পারেনি। জন্ম থেকেই তারা মূলত আওয়ামী লীগবিরোধী একটি মোর্চা। এর একটি বড় অংশ স্বাধীনতাবিরোধী মুসলিম লীগ থেকে এসেছে, একটি অংশ এসেছে ন্যাপ ভাসানী থেকে এবং একটি অংশ চীনপন্থী বামরা। এ কারণে তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি নেই, লক্ষ্য উদ্দেশ্য নেই। এই দলটি তিনবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলেও তারা উদাহরণ তৈরির মতো কাজ করতে পেরেছে কমই। সুশাসনের দিক থেকেও তাদের সুনাম ছিল না। ফলে তারা সুবিধাভোগী কোনো জনগোষ্ঠী তৈরি করতে পারেনি-এমন মত দিয়ে ওই অধ্যাপক আরও বলেন, এখনও বিএনপি আওয়ামী লীগবিরোধী মোর্চার বাইরে নিজের অবস্থান করতে পারেনি। কোন নির্বাচনে কত ভোট ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর সেনাশাসক জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় বসেই প্রতিষ্ঠা করেন তার দল বিএনপি। আর ১৯৭৯ সালের প্রথম নির্বাচনেও বাজিমাত করেন তিনি। দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪১.২ শতাংশ ভোট এবং ২০৭ আসন পেয়ে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করে বিএনপি। তবে ওই সরকার তার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূরণ করতে পারেনি। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান এক ব্যর্থ অভ্যুত্থানে নিহত হওয়ার পর নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারকে হটিয়ে ১৯৮২ সালে ক্ষমতা দখল করেন আরেক সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সেনাশাসক এরশাদ ১৯৮৬ এবং ১৯৮৮ সালে নির্বাচন দিলে তাতে অংশ নেয়নি বিএনপি। ১৯৯০ সালে এরশাদের পতনের পরের বছরের নির্বাচনেও রায় আসে বিএনপির পক্ষেই। তবে আগের নির্বাচনের তুলনায় ওই নির্বাচনে দলটির ভোট কমে প্রায় ১১ শতাংশ। পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে রায় দেয় ভোটারদের ৩০.৮১ শতাংশ। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের নৌকা যত ভোট পেয়েছে, তত ভোটও না পেয়েও ক্ষমতায় আসে বিএনপিই। ওই নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ভোট পড়ে মোট ৩১.৩ শতাংশ ভোট। তবে ০.৫ শতাংশ ভোট কম পেয়েও বিএনপি যেখানে ১৪০টি আসন পায়, সেখানে নৌকা প্রতীকে জেতেন আওয়ামী লীগের ৮৮ এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির পাঁচ জন সংসদ সদস্য। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ বিরোধী দলগুলো বর্জন করে। আর বিএনপি এককভাবে নির্বাচন করে। কিন্তু তখন সব কটি আসনে ভোট করা যায়নি। আর ২১ শতাংশ ভোট পড়েছে বলা হলেও বিএনপি বা অন্য কোন দল কত ভোট পেয়েছে, সেই পরিসংখ্যান নেই নির্বাচন কমিশনে। তবে ওই সরকার দুই মাসও টিকতে পারেনি। আর আন্দোলনের মুখে বিএনপি সরকার পদত্যাগ করে ওই বছরেরই জুনে আরেকটি নির্বাচন দেয়, যেখানে দলটি হেরে যায়। তবে ১৯৯১ সালের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের তুলনায় ৯৬ এর জুনের নির্বাচনে বিএনপি ভোট বাড়ে। তখন ভোটারদের ৩৩.৬ শতাংশের পছন্দ ছিল ধানের শীষ। ১৯৯১ সালের তুলনায় ২.৮ শতাংশ ভোট বেশি পেলেও এই নির্বাচনে বিএনপির আসন কমে ২৪টি। ১১৬টি আসন পেয়ে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বিরোধী দল হয় বিএনপি। অবশ্য এই নির্বাচনে আগেরবারের তুলনায় ৬.১৪ শতাংশ ভোট বাড়ে আওয়ামী লীগের। ২০০১ সালে পরের নির্বাচনেও বিএনপির ভোট বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকে। এই নির্বাচনে ৪১.৪ শতাংশ ভোট পায় বিএনপি। আসন পায় ১৯৩টি। দলটির চেয়ে ১.৩৮ শতাংশ ভোট কম পেয়ে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ আসন কম পায় ১৩১টি। তারা জেতে ৬২টি আসনে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠার পর বিএনপি ২০০১ সালে সর্বোচ্চ হারে ভোট পেয়েছে। তবে সেটি তাদের প্রথম নির্বাচনের তুলনায় খুব বেশি নয়। এরপরের নির্বাচনেও আবার ছন্দপতন ঘটে বিএনপির। প্রথমবারের তুলনায় দ্বিতীয়বারের নির্বাচনে যেমন তাদের প্রায় ১১ শতাংশ ভোট কমে, তেমনি বিএনপির অংশ নেয়া চতুর্থবারের তুলনায় পঞ্চমবারেও তাদের ভোট কমে যায় আট শতাংশ। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পছন্দ ছিল ভোটারদের ৩৩.২ শতাংশ। আর ভোট কমার পাশাপাশি তাদের আসনও কমে ১৬৩টি। মাত্র ৩০টি আসন নিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে ফল করে দলটি। পরের জাতীয় নির্বাচনে তারা আসেনি। চতুর্থ এবং পঞ্চম সংসদ নির্বাচনের মতোই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনও বর্জন করে বিএনপি। ঢাকাটাইমস
মাদ্রাসাছাত্ররা কোনো উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়: হানিফ
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, মাদ্রাসাছাত্ররা কোনো উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। মঙ্গলবার রাজধানীর বারিধারা এলাকায় একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠানে মাহবুব উল আলম হানিফ এ মন্তব্য করেন। এক্সট্রিমিজম অ্যান্ড ফেইক কনটেন্ট ইন সোশ্যাল মিডিয়া: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে এমওভিই ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সংগঠন। মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উগ্রতা, ভুয়া কনটেন্ট তৈরি বা সন্ত্রাসবাদে ইসলাম, মুসলমান, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কওমি মাদ্রাসা কোনোভাবেই জড়িত নয়। এসবের পেছনে রাজনৈতিক সুবিধাভোগীরা জড়িত। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় সংগঠিত ঘটনার পেছনে উপকারভোগী কারা, সেটি বের করতে হবে। তাহলেই কারা উগ্রবাদে জড়িত, তা বেরিয়ে আসবে। আওয়ামী লীগের নেতা হানিফ বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পরপর কক্সবাজারের রামু, উখিয়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধর্মীয় উসকানি দিয়ে মানুষের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় গুজব ছড়িয়ে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হয়েছে। এসবের পেছনে রাজনৈতিক সমর্থন ও সহযোগিতা ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে হানিফ বলেন, সবার সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকা উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আরও সচেতন হওয়া উচিত। এর নেতিবাচক প্রভাব জানা দরকার। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেমন যোগাযোগ সহজ করেছে, তেমনি পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধও কমিয়ে দিয়েছে। এসবের ফলে বিবাহবিচ্ছেদ বেড়ে গেছে। মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পড়েন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান। আলোচনায় আরও অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার বেনোই প্রিফনটেইন, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার গোলাম রহমান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মুহাম্মদ ইবরাহিম, আওয়ামী লীগের উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোটের নেতা মাওলানা আলতাফ হোসাইন, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, হুমায়ূন কবির, অজয় দাস গুপ্ত প্রমুখ।
মির্জা ফখরুলকে আটকিয়ে দেন নাই কেন: দুদু
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের জাতিসংঘের সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব আমাদের দলের মহাসচিবকে আমন্ত্রিত জানিয়ে ছিলেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা যে যখনই বিদেশে যায় তাকে এয়ারপোর্টে আপনারা আটকিয়ে দেন, তাহলে মির্জা ফখরুলকে কে আটকিয়ে দেন নাই কেন? তার বিদেশে যাওয়ার ব্যাপারটাও তো আপনারা জানতেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ লেবার পার্টির উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে’ সংহতি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। দুদু বলেন, আমাদেরকে যদি গ্রেফতার করতে চান তাহলে আমাদেরকে বলেন আমরা নিজেরাই গিয়ে হাজির হব, এভাবে বাসা বাড়ি তছনছ করিয়েন না, ছেলে মেয়েদেরকে আর ভয় দেখাবেন না। আমরা মিছিল করে হাজির হব দেখবো কত লক্ষ কোটি মানুষকে-নেতাকর্মীদেরকে আপনারা কারাগারে রাখতে পারেন, জায়গা দিতে পারেন। এভাবে আতঙ্কগ্রস্ত করেন কেন? এটাতো বাংলাদেশ যুদ্ধ হয়েছে গণতন্ত্রের জন্য, কথা বলার জন্য, লেখার জন্য। ডিজিটাল আইনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আপনারা (প্রধানমন্ত্রী) কি ডিজিটাল আইন করেছেন? পাকিস্তান আমলেও এত বড় নির্মম আইন হয় নাই। দুদু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাগ অভিমান যাই থাকুক না কেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী (খালেদা জিয়া) যাকে দেশের মানুষ, বিশ্বের মানুষ শ্রদ্ধা করে তাকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে রেখেছেন? কারাগারে যখন রেখেছেন তার পছন্দের ডাক্তার এবং তাকে সুচিকিৎসা দিচ্ছেন না কেন? এটা কি ধরনের নির্মমতা? ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শেখ হাসিনা আপনি যত চেষ্টাই করুন না কেন বিএনপি নির্বাচনে যাবে। শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে বিএনপি নির্বাচনে যাবে। আর আপনাদেরকে এমন হারানো হারাবে যে, আঞ্চলিক একটা কথা আছে যে- গো হারানো হারাবে। আর এসব ঘটবে আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে। লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আলবার্ট পি কস্তা প্রমুখ। শীর্ষনিউজ
সরকারের বিরুদ্ধে এখন জীবিত নয় মৃতরাও আন্দোলন করছে: নজরুল ইসলাম খান
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, গণতন্ত্র আজ মৃতপ্রায়। তা বাঁচানোর জন্য জনগণ লড়াই করতে চায়। আর খালেদা জিয়াকে সামনে রেখে তা করতে চায়। তাই আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। আজ বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। “দেড় বছর আগে মৃত ব্যক্তিদেরও পুলিশ ককটেল মারতে দেখেছে’ গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন খবরের কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে এখন জীবিত নয় মৃতরাও আন্দোলন করছে। সরকার এখন গোরাস্থানেও প্রটোকল দিতে পারে। পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি রাজনৈতিক দূষণেও দেশে অনেক মানুষ মারা গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার দাবিতে সরকারের অযৌক্তিক কথা বলা এড়িয়ে চলা উচিত। এগুলো জনগণকে বিভ্রান্তি করে।
এরশাদের কথা কেউ বিশ্বাস করে না: ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যে কথা বলেন ওনি নিজেও জানেন না তার কথা কেউ বিশ্বাস করে না। একটি দৈনিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। ফখরুল বলেন, ইরশাদ সাহেব ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি তার অবস্থান জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন। তবে তার কথা কেউ বিশ্বাস করে বলে তার জানা নেই। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এবং টিকে থাকার জন্য কোনো নীতি-নৈতিকতার প্রয়োজন আছে বলে এরশাদ মনে করেন না। তিনশ’ আসনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি এ সরকারকেই সহযোগিতা করার বিষয়। বিএনপি মহাসচিব বলেন, এরশাদ সাহেব ২০১৪ সালে নির্বাচন বর্জন করে কোনো নমিনেশন পেপারে স্বাক্ষর না করেও সংসদ সদস্য হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত পদ পেয়েছেন। তার বক্তব্য দেশের মানুষ কখনও গুরুত্বের সঙ্গে নেয় না। শীর্ষ নিউজ
বঙ্গবন্ধুর দুই খুনিকে ফেরাতে সরকারের উদ্যোগ
অনলাইন ডেস্ক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পলাতক দুই খুনিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আছেন রাশেদ চৌধুরী। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার আমাদের সহযোগিতা করছে। তাকে ফিরিয়ে আনতে ওখানে একটি মামলা করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। তেমনি নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার কানাডায় একটি মামলা করেছে বলে জানান সেতুমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধুর দুই খুনি রাশেদ চৌধুরী ও নূর চৌধুরীকে ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার আদালতে সরকার দুটি মামলা করেছে বলেও তিনি জানান। এ ব্যাপারে কানাডা সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত আছে জানিয়ে কাদের বলেন, কানাডার একটি আইন আছে, সেটি হল- কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার বিধান সে দেশের আইনে নেই। এ কারণে আইনটিকে শিথিল করে তাকে ফিরিয়ে আনতে মামলা করা হয়েছে। ছয় খুনি এখনও পলাতক থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, এই ছয়জনকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জোরদার হচ্ছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবকে সপরিবারে হত্যা করে সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা ও সৈনিক। দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। দীর্ঘদিন বিচার বন্ধের পর শুরু আইনি প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে ২০১০ সালে। বাকিদের একজন মারা গেছেন এবং ছয়জন পলাতক আছেন। তারা হলেন- আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এম রাশেদ চৌধুরী, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী, আব্দুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন। তাদের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা আছে। এদের মধ্যে নূর চৌধুরী কানাডায় এবং এম রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন বলে নিশ্চিত হয়েছে ইন্টারপোলের বাংলাদেশ শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। নূর চৌধুরীকে ফেরাতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী বরাবর অনলাইন পিটিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের। সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন গৌরব ৭১, কানাডা আওয়ামী লীগ অল ওভারসিস বাংলাদেশি এবং মুভমেন্ট ফর ডিপারটেশন অব কিলার নুর চৌধুরী টু বাংলাদেশ যৌথভাবে এ উদ্যোগ নিয়েছে। আইপিটিশন নামক ওয়েবসাইটের https://www.ipetitions.com/petition/petition-for-deportation-of-killer-nur-chowdhury লিঙ্কে অনলাইনে পিটিশন দাখিল করা যাবে বলে জানানো হয় ওই অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে কাদের বলেন, আমি বারবার একই প্রশ্ন করছি বিএনপির নেতৃত্বের কাছে- বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে কারা জড়িত, সেই খুনিদের বিচারের পথ বন্ধ করতে কেন ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, কেন এই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে বাংলাদেশের লাখো শহীদের রক্তের আখরে রচিত সংবিধান পরিবর্তন করে পঞ্চম সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল? হত্যাকারীদের বিচারের পথ রুদ্ধ করতে। এই প্রশ্নের জবাব বিএনপি আজও দেয়নি। আমি আবারও সেই প্রশ্নের জবাব চাচ্ছি।
মির্জা ফখরুল জাতিসংঘে যাওয়ায় আতঙ্কিত আ-লীগ
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতিসংঘে যাওয়ায় আওয়ামী লীগ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ। তিনি বলেছেন, আমাদের দলের মহাসচিব জাতিসংঘ সফরে যাওয়ায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এ জন্য তারা বিচলিত হয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলছে। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে মরহুম নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তির দাবিতে এ সভার আয়োজন করা হয়। মওদুদ বলেন, মির্জা ফখরুল যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগ আতঙ্কিত, তারা উৎকণ্ঠায় আছে। এ জন্য তারা এ সফরের সমালোচনা করছে। তারা এখন ভীত হয়ে মহাসচিবের সফর নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে, এ দাবিটি যারা অসাংবিধানিক কথা বলেছে, তারা অবাস্তব কথা বলছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এ নেতা। তিনি বলেন, এ কথা সংবিধানসম্মত কিনা এর জবাব জনগণ দেবে এবং নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন আদায় করবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার বলতে কিছুই নেই। সরকার যদি তা করতে চায়, তা হলে সব দলের মতামতের ভিত্তিতে করতে হবে। আর যদি অবৈধভাবে সরকার ক্ষমতায় থাকতে চায়, তা হলে দেশের জনগণ তা করতে দেবে না। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সভাপতিত্বে আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম নাহিদের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহসভাপতি মোশাররফ হোসেন খোকন, তেজগাঁও থানার সহসভাপতি হাফিজুর রহমান কবির, শাহবাগ থানার কৃষক দলের সভাপতি এম জাহাঙ্গীর আলম। আলোকিত বাংলাদেশ
লন্ডনে মির্জা ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক: জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিবের পর শুক্রবার ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এদিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে শনিবার স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ৮টায় লন্ডনে পৌঁছান তিনি। সেখানে পৌঁছে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। তার সঙ্গে রয়েছেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। লন্ডন থেকে আজ দেশে ফেরার কথা বিএনপি মহাসচিবের। দলীয় সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। সূত্র জানায়, লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দলের সাংগঠনিক অবস্থার পাশাপাশি জাতিসংঘের রাজনীতিবিষয়ক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিরোস্লাভ জেনকার এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তাদের বৈঠকের বিষয়টিও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অবহিত করবেন বিএনপি মহাসচিব। এর আগে শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ডেস্কের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন মির্জা ফখরুল। ওই বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। মির্জা ফখরুলের সঙ্গে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সঙ্গে মতবিনিময় করেন ফখরুল। এতে অন্তত ৫০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুকও ছিলেন। সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে বিএনপি নেতারা নির্বাচনের পরিবেশ এবং নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার বিষয়ে ব্রিফ করেন। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপির মতামত জানতে চান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর। বিএনপি তাদের মতামত দেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর বলেছে, বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে সেখানকার রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যই তাদের বক্তব্য। বৈঠকে উপস্থিত দলের এক নেতা জানিয়েছেন, খুব ভালো বৈঠক হয়েছে। আগামী মাসে বিএনপির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর আবারও ফলোআপ বৈঠক করতে পারে। বৈঠকে খালেদা জিয়ার মামলা, সাজা ভোগ এবং জামিনের বিষয়ে কথা বলেন। তারা অভিযোগ করেন, মিথ্যা অভিযোগে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। এজন্য বিএনপি নেতারা মনে করেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত হচ্ছে খালেদা জিয়ার মুক্তি। থিঙ্কট্যাঙ্কদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নির্বাচন, কোটা পদ্ধতি ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় থিঙ্কট্যাঙ্করা জানতে চান, ক্ষমতায় এলে তারা কী ধরনের পরিবর্তন আনবেন। এ ব্যাপারে বিএনপি নেতারা ভিশন-২০৩০ এর আলোকে কথা বলেন। শীর্ষ নিউজ
সরকারি জুলুমের তীব্র কষাঘাতে বিরাণভূমিতে পরিণত দেশ: রিজভী
অনলাইন ডেস্ক: সরকারি জুলুমের তীব্র কষাঘাতে সারা দেশ বিরাণভূমিতে পরিণত হয়েছে। গোটা দেশকে ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত করার উদ্যোগ চলছে। একদিকে লাগামহীন গ্রেপ্তারের উন্মাদনা, অন্যদিকে গায়েবি মামলার জলোচ্ছ্বাসে সারা দেশ প্লাবিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা গ্রাম থেকে শহরে, শহর থেকে বন্দরে ছুটে বেড়াচ্ছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘরছাড়া, গ্রাম ও শহর নেতাশূন্য, কর্মীশূন্য। তৃণমূলের ওয়ার্ড থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন কমিটিতে সভাপতি থেকে সর্বশেষ সদস্য পর্যন্ত সবার বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর সাধারণ সমর্থকরাও এই হামলার ছোবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না। শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী আরো বলেন, মূলত ভোটারশূন্য করার জন্যই অবৈধ সরকার বিএনপির ওপর আগাম আক্রমণ শুরু করেছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা যাতে আন্দোলন বা নির্বাচনের কাজে অংশগ্রহণ করতে না পারে সেজন্যই এই আগাম অভিযান। আগামী নির্বাচনে বিএনপির এজেন্ট দেওয়া দূরে থাক, প্রার্থীও যাতে খুঁজে না পাওয়া যায়, সেজন্য সরকার মামলা-হামলার আগাম আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। কারাবন্দি খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভূক্ত না করায় সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়ার পছন্দমতো চিকিৎসকদের দ্বারা চিকিৎসা নেওয়ার অধিকার নেই। সরকারই ঠিক করে দিচ্ছে কারা হবেন খালেদা জিয়ার চিকিৎসক। তাই সরকার পরিবারসহ জনগণের দাবিকে পাত্তা না দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় এমন চিকিৎসকদের দিয়ে তাঁর মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ না দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের ডাক্তারদের দিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন দূরভিসন্ধিমূলক। গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসা নিয়ে এটি এক চরম তামাশা। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভূক্ত করার আশ্বাস দেওয়ার পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কথা রাখেননি বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে প্রকৃতিগতভাবেই ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের। চিকিৎসা নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অপরিণামদর্শিতার মাশুল একদিন তাদের দিতেই হবে। সরকার ইচ্ছাকৃতভাবেই খালেদা জিয়াকে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সরকার সংসদের চলতি অধিবেশনে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল আনতে পারে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রুহুল কবির রিজভীর অভিযোগ, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতকে উপেক্ষা করে বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলের ওপর প্রতিবেদন তৈরি করেছে সংসদীয় কমিটি। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এই আইন পাস করা হলে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে। গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করতেই এই আইন করা হচ্ছে। শুধু গণমাধ্যমই নয়, সরকারবিরোধী যেকোনো সমালোচনার পায়ে জিঞ্জির পরাতেই এই আইন। যাতে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে টু শব্দটিও উচ্চারণ করতে না পারে। এটি একটি ভয়ঙ্কর কালাকানুন। দলমত নির্বিশেষে সব মানুষকে এই আইনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জোর আহ্বান জানান রিজভী। আলোকিত বাংলাদেশ