বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৪, ২০১৯
আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের শুভ জন্মদিন
৪ ফেব্রুয়ারী,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের আজ ১৫ তম জন্মদিন। মার্ক জাকারবার্গের হাত ধরে ২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকের যাত্রা শুরু হয়। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের অনলাইনে একত্রীকরণের পরিকল্পনা থেকে দ্য ফেসবুক নাম নিয়ে শুরু হয় ফেসবুকের যাত্রা। ৪৭৯ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্যের প্রতিষ্ঠানটির বর্তমানে ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ২৩২ কোটি। ২০১৮ সালে ফেসবুকের মোট মুনাফা ছিল ২২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার, যা ২০১৭ সালের চেয়ে ৩৯ শতাংশ বেশি। ফেসবুকের বিরুদ্ধে গোপনীয়তা রক্ষা না করা এবং ক্ষতিকর কন্টেন্ট ছড়ানোয় ভূমিকা রাখার অভিযোগ উঠলেও ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ফেসবুকের প্রতারণার শিকার লাখ লাখ শিশু
২৮ জানুয়ারি,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: সামাজিক মাধ্যম জায়ান্ট ফেসবুকের বিরুদ্ধে লাখ লাখ শিশুর সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমটি প্লাটফর্মে গেম খেলার সময় শিশুরা না বুঝেই বাবা-মায়ের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ফেসবুককে অস্বাভাবিকভাবে অর্থ প্রদান করলেও চুপ থেকেছে প্রতিষ্ঠানটি। ফেসবুকের আয় বাড়ানোর জন্য তারা শিশুদের সঙ্গে এই প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিংয়ের কাছে পৌঁছানো কয়েক বছরের পুরনো নথিতে এমন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত আদালতের নথি অনুযায়ী, শিশুরা ফেসবুকে গেম খেলার সময় না বুঝেই মা-বাবার ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে বড় অংকের অর্থ খরচ করে ফেলে আর এ বিষয়ে জেনেও চুপ থাকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। ২০১২ সালে এমন একটি অভিযোগে ফেসবুকের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। ফেসবুকের এমন নিশ্চুপ থাকাকে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতারণা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে গত শুক্রবার (২৫ জানুয়ারি) একটি বিবৃতি দিয়েছে ফেসবুক। সেখানে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যবসা নীতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে। বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতারণার অভিযোগ নিষ্পত্তিতে নীতিমালা পরিবর্তনে সম্মত হয়ে অর্থ ফেরত দেয়ার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। পাশাপাশি যেসব শিশু ফেসবুকে গেম খেলার সময় মাত্রাতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেছে, তাদের অভিভাবকদের ক্ষতিপূরণ দিতে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ ফেরত বা ক্ষতিপূরণ দেয়নি ফেসবুক।-somoynews.tv
১৯৮৮ সালের ২৪ ই জানুয়ারির সেই ভয়াভহ দিনের কথা
সুজন আশ্চ্যার্য: ১৯৮৮ ইংরেজী তৎকালীন সৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ২৪শে জানুয়ারী চট্টগ্রামের লালদীঘির পাড়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর ডাকা ঐতিহাসিক জন সভায় স্থলে তৎকালীন সরকারের নির্দেশে আওয়ামীলীগের নেতা কর্মিদের ওপড় পুলিশি নির্যাতন চলাকালীন সময়ে উপস্থিত তৎকালীন শ্রমিকলীগ নেতার ঐ দিনের ঘটনাবলি নিয়ে স্বাক্ষাতকার প্রদান করেন। স্বাক্ষতকারটি নিয়েছেন নিউজ একাত্তর এর চট্টগ্রাম প্রতিনিধি সুজন আশ্চার্য্য। আমি মোহাম্মদ তসলিম কাদের চৌধুরী ,পিতা-মরহুম ডাক্তার আহামদ হোসেন চৌধুরী, মাতা-মরহুমা আমেনা বেগম, সাং- আব্দুল আলী নগর, ৯ নং উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড, ডাকঘর -ফিরোজশাহ কলোনি,থানা- পাহাড়তলী,জেলা-চট্টগ্রাম এর স্থায়ী বাসিন্দা হই এবং সহ সাধারন সম্পাদক বাংলাদেশ আওয়ামী পেশাজিবিলীগ,পাহাড়তলী থানা শাখায় দায়িত্ব রত আছি। আমার জাতীয় পরিচয় পত্র নং ১৫৯৫৫০৯৬৭০০৩১। লিখনির শুরুতে শ্রদ্ধার সহিত স্বরনকরিতেছি যে হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাংঙ্গালী জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ ৭৫ এর ১৫ ই আগষ্ট এর কালরাত্রের সকল সহিদের আত্বার মাগফেরাত ও সাধিনতা সংগ্রামের সকল সহিদ ও জাতীয় চার নেতা এবং সৈরাচার বিরুদ্ধি আন্দোলন ও বি.এন.পি জামায়াত বিরুদ্ধি আন্দোলন করতে গিয়ে যারা সহিদ হয়েছেন তাদের আত্বার মাগফেরাত কামনা করি।শিক্ষাজিবন হতে আমি আওয়ামীরিগের সমর্তক।আমার বাবাও আওয়ামীলিগ করতো বিধায় একাত্তরের যুদ্ধকালীন সময় পাঞ্জাবীর হাতে অনেক নির্যাতিত হয়েছিল। আমার চাকুরী জীবনে আমি চিটাগাং টেক্্রটাইল মিলস লি: শ্রমিকলীগ ২৫০ রেজি: এর ১৯৮৭ ইং শ্রমিকলীগ নেতা নির্বাচিত হই,ঐ সময় তৎকালিন বিশিষ্ট শ্রমিকলীগ নেতা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলিগের সাধারন সম্পাদক এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম এবং দলিয় কর্মসুচি অনুযায়ী আমার নেতুত্বে মিলস শ্রমিক লীগের সদস্যরা ঝাপিয়ে পড়ত।তখন সৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন চলছিল। দলের কর্মসুচি অনুযায়ী সকল আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে আন্দোলনরত অবস্থায় পুলিশি নির্যাতন ও একাদিক মামলার শিকার হয়েছিলাম। সেই রাজনৈতিক মামলায় (১৪) বৎসর পর্যন্ত আদালতে হাজিরা দিতে হয়। তবে দু:খের বিষয় তখন আমার দলের কোন সহযোগিতা পাইনি।এরশাদ বিরুধী আন্দোলন চলাকালিন সময় ২৪/০১/১৯৮৮ ইং চট্টগ্রাম লালদিঘীর ময়দানে আওয়ামীলিগের জনসভা করার কর্মসূচির ডাক দেন আমার নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমনাত্রী শেখ হাসিনা। ঐ জনসভায় আমি আমার সাথে দশজন কর্মী নিয়ে জনসভায় সেচ্ছাসেবকের দায়িত্বে ছিলাম। সেই জনসভায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথীর ভাষন দেওয়ার কথা ছিল ,তখন অন্যান্য নেতা,নেত্রীসহ ট্টাকে করে পথ সভা করতে করতে যখন সভাস্থলের কাছাকাছি চট্টগ্রাম আদালত ভবনের সামনে এসে পৈাছে তখন পুলিশ বেরিকেড দিয়ে সভাস্থলে আসা মিছিল কারিদের পেটাতে থাকে, এক পর্যায়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহড় ও আটকে ফেলে তখন চারদিকে পুলিশ গুলি চালালে মানুষ ছুটাছুটি করে পালাতে থাকে ,অনেক মানুষ সেই দিন পুলিশের গুলিতে শহিদ হয়েছিল। তখন আমাদের নেত্রী ট্টাকের উপর মাইকের মধ্যে পুলিশের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিছিলেন।এমতাবস্থায় অমি আদালত ভবনের উপরে গিয়ে কয়েকজন পরিচিত আমাদের দলীয় এডভোকেটকে সাথে নিয়ে এসে নেত্রীর গাড়ি আদালতের উপরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করিলে পুলিশের বাধার মুখে পরি এবং পুলিশ হেন্ড মাইক দিয়ে বলতে ছিল ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে কেও সামনের দিকে এগুতে পারবেনা। এ অবস্থায় নিজের জিবনের ঝুকি নিয়ে পুলিশের গুলিকে উপেক্ষা করে নেত্রীর গাড়ির দিকে দৌড় দিয়ে লাফ মেরে ট্টাকে উঠে জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু বলে ধ্বনি দিয়ে গাড়ির ড্রাইভারকে গাড়ি চালাও বলে গাড়ি চট্টগ্রাম আদালতের উপর নিয়ে আসি, সেখানে আমাদের নেত্রী সেই তখনকার পরিস্থিতির উপর বক্তব্য রাখার পর আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ভাইয়ের বাসায় চলে যায়।কিন্তু তখন আমি উচ্ছপর্যায়ের নেতা না হওয়ার কারনে আমার জিবন বাজি রেখে আমার নেত্রীকে আদালত চত্তরে নেওয়ার পরও উনার সামনে দাড়িয়ে আমার পরিচয় দেওয়ার বা কিছু বলার সুযোগ হয়নী এবং ঐ সময় আমার ডাকে যেই আইনজীবী গন এসেছিলেন তারাও আমার নেত্রীর সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দেননী।সেই দিনের কথা এখও মনে হলে লোম শিহরে উঠে।তবে আমার জিবনকে আমি সার্থক মনে করি এই কারনে যে , আমি ঐ দিন পুলিশের গুলির সামনে থেকে আমার নেত্রীকে অক্ষত অবস্থায় আমি সরিয়ে নিয়ে আসতে পেরেছিলাম।জিবনের অনেকটা সময় পার করেছি সৎ ও নিষ্টার সহিত ,যাহাতে আমার দলের ও আমার নেত্রীর দূণার্ম না হয়।কিন্তু আজ আমি বরই মর্মাহত যে বর্তমানে অনেকেই আওয়ামী লীগ না হয়েও দলের পদপদবি নিয়ে আছেন,কিন্তু আমাদের মত ত্যগি নেতাদের আজ পর্যন্ত কেহই কোনো প্রকার কোজ খবর নেন নাই। আমি দলের জন্য আমার সহায় সম্ভল পৈত্রিক সম্পত্তি পর্যন্ত বিত্রুয় করেছি । বর্তমানে আমি আমার পরিবার পরিজনকে নিয়ে অতিব দু:খে কষ্টে ভাড়া বাসায় দিন কাটাচ্ছি। এমতা অবস্থায় আমার ইচ্ছে আমি আমার নেত্রীর সাথে দেখা করে বক্তব্যগুলি উনাকে বলা এবং উনার দোয়া নেওয়ার উদ্দেশ্যে সাক্ষাথের জন্য আবেদন করিয়াছিলাম। এখনো পর্যন্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহিত স্বাক্ষাতের চিটি পত্র বা আদেশ পাইনি। পরিশেষে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দির্ঘায়ু ও সুসাস্থ্য কামনা করি।
রাজনীতির মাঠে আওয়ামী লীগ এখন অপ্রতিদ্বন্দ্বী
নতুন বছরের শুরুতে মূলত নতুনদের নিয়ে গঠিত হয়েছে মন্ত্রিসভা। ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে নির্বাচনের পর অন্যান্য ছোট ছোট দল নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। পঁচাত্তরের পর এই প্রথম সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠাতা নিয়ে একক দল আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে। বিগত পাঁচ বছর জাতীয় পার্টি না ঘরকা না ঘাটকা অর্থাৎ সরকারেও ছিল বিরোধী দলেও ছিল। এবারেই প্রথম জাতীয় পার্টি সংসদে প্রধান বিরোধী দল। এদিকে বিএনপি সংসদে যাবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। যদি শেষ পর্যন্ত শপথ নিয়ে সংসদে যায়, তবে এই প্রথম খালেদা জিয়া সংসদে দলটির সঙ্গে থাকবে না এবং সংখ্যার কারণে দলটির অবস্থান হবে ক্ষীণ ও দুর্বল। উল্টোদিকে যদি সংসদে না যায়, তবে এরশাদ আমল ও বিগত পাঁচ বছরের মতো আবারো সংসদে দলটি থাকবে না। বহু বছর পর এবারই সংসদ জামায়াত শূন্য। সংসদে রাজনৈতিক দলগুলোর এই অবস্থা রাজনীতির গতিপথকে বেশ ভালোভাবেই প্রভাবিত করবে বলে ধারণা করা চলে। তবে ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানও রাজনীতিকে কমবেশি প্রভাবিত করবে। গণফোরাম আগে আর কোনো সময়ে সংসদে ছিল না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় দলটি ঐক্যফ্রন্ট বজায় রেখে বিএনপিকে নিয়ে সংসদে যেতে ইচ্ছুক, তবে বিএনপি না গেলেও দলটি যেতে পারে। এই অনিশ্চয়তার সঙ্গে আরো একটি অনিশ্চয়তা আছে। জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টি শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিত্ব না পেলে সংসদে কোন ধরনের অবস্থান নিবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। অনেক কিছু সুস্পষ্ট না হলেও দলগুলোর উল্লিখিত অবস্থা ও অবস্থান পর্যবেক্ষণে এটা সুস্পষ্ট যে, সংসদের ভেতরে তা যেমন তেমনি সংসদের বাইরে সম্পূর্ণ এক নতুন পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। প্রসঙ্গত এটা বোধকরি বিতর্কের ঊর্ধ্বে হবে যে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশবাসীর মনে একটা ভীতি ও শঙ্কা কাজ করছিল। ঘর পোড়া গরু যেমন সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায় তেমন একটা অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। কেননা হত্যা-ক্যু-পাল্টা ক্যুর ভেতর দিয়ে চলমান রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির শাসনের অধ্যায় পার হওয়ার পর বিগত নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে সংসদীয় পদ্ধতির দেশ শাসনের যে ধারা শুরু হয়, তাতে একটি ছাড়া আর সব কয়টি নির্বাচনের আগেই অস্থিতিশীলতা অরাজকতা ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ ছিল। কেবল আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছাড়ার পর ২০০১ সালের অক্টোবরে নির্বাচনের আগে তেমনটা হয়নি। কিন্তু ১৯৯৬, ২০০৬, ২০০৮, ২০১৪ সালে নির্বাচন সামনে রেখে অস্থিতিশীলতা, অরাজকতা ও অনিশ্চয়তা চরম রূপ নেয়। এবারে তেমনটা হয়নি। প্রতিবারের মতো এবারো নির্বাচন সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ হয়েছে কি না প্রশ্নে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য থাকলেও পূর্বাপর পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রয়েছে। এটা জনগণের আকাক্সক্ষা ও প্রত্যাশারই প্রতিফলন। জনগণ অভিজ্ঞতা থেকে এখন এটা দৃঢ়ভাবে মনে করে অনিশ্চয়তা, অরাজকতা, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়, সংবিধান ও গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয় এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি ও জনগণের জীবন-জীবিকা বিপন্ন হয়ে পড়ে। উল্টোদিকে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেই কেবল ঘাত-প্রতিঘাতের ভেতর দিয়ে গণতন্ত্র স্বচ্ছ ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে এবং গণতন্ত্র কখনো কোনো দলকে আজীবন ক্ষমতায় থাকার গ্যারান্টি সৃষ্টি করে না। তাই গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সব সমস্যার সমাধান চায়। এমনটা চায় বলেই সব দলের অংশগ্রহণ ভেতর দিয়ে যেমন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তেমনি নতুন সরকারও যথা সময়েই কাজ শুরু করে দিয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে বলার অপেক্ষা রাখে না, শুরুটা আওয়ামী লীগ ভালোই করেছে। নতুন মন্ত্রিসভায় বিতর্কিতদের স্থান হয়নি। এবারের ইশতেহারে বলা হয়েছে যে, নতুন প্রজন্মই এই অঙ্গীকারকে অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সহজেই ধারণা করা যায়, এই বিবেচনায় নতুনদের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে এবং অভিজ্ঞতা ও গতির সমন্বয় করতে প্রবীণ ও নবীন মিলিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রীরা সবাই একত্রে বাসে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও বঙ্গবন্ধুর কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শপথ গ্রহণ করে নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রতিজ্ঞার ঐক্য চিন্তার ঐক্য কাজের ঐক্য প্রতিষ্ঠায় বিশাল অবদান রাখার সহায়ক হয়েছে। সর্বোপরি শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রিসভার সদস্যরা যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, তাও জনগণের মনে আস্থা ও বিশ্বাসকে দৃঢ়তর করেছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কমবেশি সব মন্ত্রীর কথার ভেতর দিয়ে সামনে এসেছে। দেশবাসীর ভাবনা ও সমালোচনা, যাকে বলা যেতে পারে মনের কথা, তার প্রতিফলন ঘটেছে মন্ত্রীদের কথায়। ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জমান যখন বলেন, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সম্পত্তির হিসাব দিতে হবে; আইনমন্ত্রী আনিসুল হক যখন বলেন সুবিচার সুনিশ্চিত হবে; শিক্ষামন্ত্রী যখন ভর্তিতে চাঁদা প্রদান বা নকলের বিরুদ্ধে কথা বলেন, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক যখন বলেন পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা হবে, গৃহায়নমন্ত্রী যখন রাজউকের অব্যবস্থাপনার কথা বলেন প্রভৃতি; তখন দেশবাসীর মনে দারুণ আশা সঞ্চারিত হয়। যে যায় লঙ্কা সে হয় রাবণ প্রবাদ, যা দেশবাসীর মনের অনেকটা জুড়েই স্থান করে নিয়েছে, তা এবারে সর্বোতভাবে মিথ্যা প্রমাণ হবে বলে দেশবাসী মনে করতে শুরু করেছে। প্রসঙ্গত বাস্তবতা ও প্রচার যে কারণেই হোক কেন, ব্যাংকিং খাত নিয়ে মানুষ বেশ উদ্বিগ্ন। এই পরিপ্রেক্ষিতে সবচেয়ে আশা জাগানিয়া কথা বলেছেন, অর্থমন্ত্রী আ ফ ম মুস্তাফা কামাল। তিনি ঋণখেলাপি ইস্যুকে একদফা হিসেবে সামনে এনে বেসরকারি ব্যাংক মালিক ও প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বলেছেন, তারা আমাকে আশ্বস্ত করেন, তাই বলছি, আজকের পর থেকে খেলাপি ঋণ আর বাড়বে না ইনশাল্লাহ। দেশ-বিদেশের অভিজ্ঞতা বিশেষত মানি ইজ নো প্রবলেম-এর ধারাবাহিকতায় ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ফেরত না দেয়াটা যেখানে সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে দেশবাসীকে এতটা আশ্বস্ত করা নিঃসন্দেহে সাহসের পরিচায়ক। দেশবাসী সর্বান্তকরণে চাইবে, এই কথাটা সত্য প্রমাণ হোক। প্রসঙ্গত, ঋণসহ ব্যাংক জালিয়াতি কঠোর হস্তে দমন করা এবং খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা বিষয়ে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আওয়ামী লীগ ওয়াদাবদ্ধ। অর্থমন্ত্রী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্য থেকেই যথাযথভাবে ঋণখেলাপি বন্ধ করার জন্য আইনের সংস্কার করতে চাইছেন। অভিজ্ঞতা বিবেচনায় বলা যায়, আইন ও আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া এ বিষয়ে কিছুতেই কিছু হবে না। আশ্বস্ত হওয়া যাচ্ছে যে, তিনি খেলাপিদের নামের তালিকাও সংগ্রহ করছেন। এটা তো অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ব্যাংক ও আর্থিক খাতে যদি কঠোরভাবে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা যায়, তবে দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ছাপ পড়বে। পড়ার সম্ভাবনা যে আছে, তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান থেকে আরো সুস্পষ্ট। প্রার্থী মনোনয়নে, মন্ত্রিসভা গঠনে তিনি যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেই প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি যেন প্রতিবন্ধক না হয় এবং কঠোর নজরদারিতে রাখব বক্তব্যে দেশবাসীর মনে গভীর আস্থা ও বিশ্বাস জন্ম নিয়েছে। এই আস্থা ও বিশ্বাস বেড়ে যায়, যখন নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ব ও উপমহাদেশের দেশগুলোর সঙ্গে তুলনামূলক আন্তর্জাতিক মূল্যায়নের ভালো সংবাদপত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। বিশ্ব ব্যাংকের মতে, বিশে^র সবচেয়ে দ্রুত অগ্রসরমান দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে বাংলাদেশ হচ্ছে ভারতের পরই দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। ১৯১৮-১৯ অর্থবছরে সারা বিশ্বে বাংলাদেশসহ মাত্র নয়টি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। ব্রিটিশ ম্যাগাজিন দ্য গার্ডিয়ানের ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বলে দিয়েছে, বর্তমান অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৯। গণতন্ত্র সূচকে (এর মাপকাঠি নির্ধারিত হয় নির্বাচন পদ্ধতি ও বহুদলীয় অবস্থান, সরকারের কার্যকারিতা, মানুষের অংশগ্রহণ, জনগণের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রভৃতি দিয়ে) চার ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ১৬৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের স্থান ৮৮তম, গতবার ছিল ৯২তম। বর্তমান বিশে^র ৪১তম অর্থনীতির দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ এবং ২০২৩ সালে হবে ৩৬তম। কেবল তাই নয়, জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের সংস্থা দ্য গ্লোবাল ইকোনমিস্ট ফোরাম বলেছে, ২০১৯ সাল বাংলাদেশের সুখের বছর। অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, মার্কিন-চীন বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। বিনিয়োগ বাড়া মনে নতুন কর্মসংস্থান, রপ্তানি বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি। সাফল্য মানেই নতুন প্রাপ্তির জন্য সরকার ও জনগণের সম্মিলিত উৎসাহ-উদ্দীপনা। বলাই বাহুল্য এই ইতিবাচক পরিস্থিতি সরকারকে নতুন উদ্যমে ইশতেহার বাস্তবায়নে অনুপ্রেরণা জোগাবে। এখানে বলতেই হয় যে, পঁচাত্তরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সামরিক শাসনামলে রাষ্ট্রযন্ত্রের ছত্রছায়া ও মদদে এন্টি আওয়ামী বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী যে ধারা পরিপুষ্ট হয়, যাকে নতুন বোতলে পুরনো মদের মতো বলা যেতে পারে বাংলাদেশে পাকিস্তানি ভূতের ধারা, সেই ধারা এই প্রথমবারের মতো জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন ও নেতৃত্বহীন এবং পরাভূত ও বিধ্বস্ত হয়েছে। বিএনপি পড়েছে শাঁখের করাতের মধ্যে। সংসদে গেলে ভাঙন অনেকটাই অনিবার্য আর সংসদে না গেলে বিগত সময়ের মতো সংসদের বাইরে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে উল্টোপাল্টা নানা কথা বলা ছাড়া গত্যন্তর থাকবে না। বিএনপির সামনে এখন কেবলই অন্ধকার, আলোর শেষ রেখাটিও তিরোহিত। বিএনপি জামায়াতকে সঙ্গে রেখে সুকৌশলে ড. কামালের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে মাথা তুলে দাঁড়াতে চেষ্টা করেছিল। এখন জামায়াত সম্পর্কে ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামালের অবস্থানে আত্মরক্ষার শেষ খড়কুটোটাও ভেসে যাওয়ার উপক্রম। তবুও দলটি যতটুকু সচল থাকতে পারত, তারেক রহমানের মনোনয়ন বাণিজ্য সেই সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়েছে। সুদীর্ঘ বছর বিভক্ত ছত্রখান ও অচল থাকার পর যদি মনোনয়ন বাণিজ্যের জন্য তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দলীয় অফিস আক্রমণ করে, তবে আর দলের থাকেটা কী! বর্তমান বিএনপির পতিত দশার উৎস হলো নৈতিক শক্তি হারানো। আগে অর্থ আত্মসাৎ-লুটপাট, বিদেশে অর্থ পাচার, হত্যা-খুনসহ হাওয়া ভবনের অপকর্ম-দুষ্কর্ম আর সেই সঙ্গে বর্তমানে একদিকে জামায়াত আর অন্যদিকে ড. কামালকে রেখে দিকনির্দেশহীন জগাখিচুরি মার্কা রাজনৈতিক ঐক্য প্রভৃতির ফলে বিএনপির নেতাকর্মীদের নৈতিক শক্তি সম্পূর্ণ রূপে তছনছ ও বরবাদ হয়ে গেছে। এদিকে এবারে নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের পক্ষের বামশক্তি মন্ত্রিত্ব না পেয়ে নিঃসন্দেহে রয়েছে সমস্যার মধ্যে। আর আওয়ামী লীগ বিরোধী বামশক্তি কার্যকলাপের ভেতর দিয়ে রাজনৈতিকভাবে বিএনপির সঙ্গে বন্ধনীযুক্ত হয়ে আছে। ইসলামী দলগুলো নির্বাচনের ভেতর দিয়ে তাদের অন্তঃসারশূন্যতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। হেফাজত রাজনৈতিক দল না হলেও নিঃসন্দেহে একটা সামাজিক শক্তি। নির্বাচনের পর নিজেদের অবস্থান জানান দিতে গিয়ে নারী শিক্ষা নিয়ে কথা বলে পড়েছে গণনিন্দার মধ্যে। গাছেরটাও খাবে, তলারটাও কুড়াবে- এই মধ্যযুগীয় নীতি কৌশল চালু রেখে এই শক্তি নিঃসন্দেহে সমাজবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। সার্বিক বিচারে রাজনীতির মাঠে আওয়ামী লীগ এখন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক নীতি-কৌশল, সাহস-একাগ্রতা, প্রত্যুৎপন্নতা-দূরদর্শিতার ফলে বিরোধী সব রাজনৈতিক দল শক্তি মহল এবং এমনকি নিরপেক্ষ দাবিদার সুশীলরাও কোণঠাসা ও বিচ্ছিন্ন। বিরোধী সবাই হয়ে গেছে নস্যি! পিতা শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় স্বাধিকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয় এবং বিরোধীদের করেছিলেন গণবিচ্ছিন্ন। প্রায় অর্ধ শতক পর শেখ হাসিনা উন্নয়ন ও দুঃখী মানুষের হাসি ফোটানোর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে একই অবস্থার সৃষ্টি করেছেন। সরকার যদি নীতিতে সুদৃঢ় ও কৌশলে নমনীয় থেকে বিশেষ ভুল না করে, ক্ষমতা ও বিদেশ নীতিতে যদি ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে, ষড়যন্ত্র-চক্রান্তকে যদি অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে পারে, সাংগঠনিকভাবে নিচে ওপরে ঐক্যবদ্ধ ও সচল থাকতে পারে, শ্রেণি-পেশার দাবিদাওয়া ও আন্দোলনকে যদি যথাসময়ে সামাল দিতে পারে, সর্বোপরি আগামী ৫ বছর যদি ইশতেহার বাস্তবায়নে লক্ষ্যাভিমুখী অগ্রসর হতে পারে; তবে দেশ আর সেই সঙ্গে দলকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। জাতি মানচিত্র পেয়েছিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে, এবারে মানচিত্রের ওপরে বুক উঁচিয়ে গর্বভরে দাঁড়ানোর সংগ্রামেও আওয়ামী লীগই নেতৃত্ব দিবে।মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,সম্পাদক-নিউজ একাত্তর ডট কম
আমরাই আসছি, মানুষ আমাদের চাইছেন: একান্ত সাক্ষাৎকারে হাসিনা
নির্বাচন একেবারে দোড়গোড়ায়। হাতে রয়েছে মাত্র তিনটে দিন। ভোটের সেই উত্তেজনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন বড় নিশ্চিন্ত! নির্বাচনের প্রাক্ মুহূর্তে আনন্দবাজার ডিজিটালকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, তাঁর দল আওয়ামি লিগ ফের জিতছে।আগামী রবিবার বাংলাদেশে ১১তম সংসদ নির্বাচন। তার আগে বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকার ধানমন্ডির সুধাসদনে হাসিনাকে অন্য মেজাজে পাওয়া গেল। সেই হাসিনার মুখে দেখা গেল তৃপ্তির হাসি। বড় নিশ্চিন্ত ভাবে বললেন, বাংলাদেশের জনগণের উপর আমার বিপুল আস্থা। মানুষ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। জনগনের ভোটেই আমরা নির্বাচিত হব।;এতটা নিশ্চিত কী ভাবে হচ্ছেন? হাসিনার যুক্তি, ২০১৩-র নির্বাচনে প্রায় ছ শো স্কুল পোড়ানোর কথা বাংলাদেশের মানুষ ভুলে যায়নি। মুছে যায়নি প্রিসাইডিং অফিসার-সহ অজস্র নাগরিককে হত্যার স্মৃতি। রাস্তা কেটে মানুষের যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, সেই সময়ে জনগণই রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। ভোটও দিয়েছিলেন তাঁরা। সেই জনগণ ফের তাঁকেই ভোট দেবেন বলে বিশ্বাস হাসিনার।একই সঙ্গে হাসিনা মনে করিয়ে দিলেন, নির্বাচনের পরে বাংলাদেশে একের পর এক সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সাধারণ মানুষ সে সব ভোলেননি। আর ভোলেননি বলেই ওই সব ঘটনা যে রাজনৈতিক দল ঘটিয়েছিল, তারা জনসমর্থনহীন হয়ে পড়েছে। আর সেই জোরের জায়গা থেকেই ফের সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদী আওয়ামি লিগ।কিন্তু, নির্বাচনের আগে বিরোধীরা তো তাঁর দলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলছে। কথাটা বলতেই যেন একটু বিরক্ত হলেন প্রধানমন্ত্রী। বললেন, নালিশ করার পাশাপাশি বিভ্রান্তি ছড়াতে এবং মিথ্যা কথা বলতে ওরা ভীষণ পারদর্শী। হাসিনার পাল্টা দাবি, নির্বাচনে বিরোধীদের হয়ে যাঁরা প্রার্থী হতে চেয়েছেন, তাঁদেরই ওরা নমিনেশন দিয়েছে। কিন্তু, দলীয় প্রতীক পেয়েছেন এক জন। এর পর নিজেদের মধ্যেই সঙ্ঘাত শুরু হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর দাবি। তাঁর কথায়, দলের পুরনো বা জিতবেন এমন নেতাদের নমিনেশন দেয়নি ওরা। যে কারণে বঞ্চিতদের কাছে ওদের আক্রান্ত হতে হচ্ছে। কয়েক জন নেতা-কর্মীকে খুনের ঘটনা ঘটেছে সম্প্রতি। নির্বাচন সুষ্ঠু ভাবে শেষ হওয়ার পর সে বিষয়ে তদন্ত হবে বলেও জানালেন হাসিনা।বাংলাদেশের যুব সম্প্রদায় আওয়ামি লিগ সম্পর্কে খুবই উৎসাহী বলে মনে করেন হাসিনা। তাঁর মতে, বাংলাদেশে মানুষের মন থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসটাই মুছে ফেলা হয়েছিল। এখনকার নতুন প্রজন্মের মধ্যে সত্যকে জানার একটা আগ্রহ রয়েছে। ইন্টারনেটে খুঁজলেই একাত্তরের অনেক তথ্য এখন জানা যায়। ফলে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার বিষয়টি এখন অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে। হাসিনার কথায়, এর জেরে আওয়ামি লিগের প্রতি যুব সম্প্রদায়ের মতটাই পাল্টে গিয়েছে।নির্বাচন উপলক্ষে হাসিনা দেশের বিভিন্ন জায়গায় সফর করেছেন। সেই সফরে তিনি মানুষের কাছ থেকে ভালই সাড়া পেয়েছেন বলে এ দিন দাবি করেন হাসিনা। তাঁর কথায়, ;মানুষের মধ্যে সেই ভালবাসাটা দেখতে পেলাম জানেন! তাঁরা অন্তর থেকে চাইছেন, আওয়ামি লিগ আবার ক্ষমতায় আসুক। জনগণ এটা জানেন, আওয়ামি লিগের মাধ্যমেই তাঁদের ভাগ্য পরিবর্তিত হবে।মহিলাদের থেকে তো বটেই, আওয়ামি লিগ তরুণ সমাজের কাছ থেকেও অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছে বলে এ দিন দাবি করেন হাসিনা। তিনি বলেন, এ বারের নির্বাচনটা আগের মতো অত চ্যালেঞ্জিং নয়। বৈরীতার পরিবেশও নেই। বরং আমাদের স্বপক্ষে একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এর আগের নির্বাচনগুলোয় একটা বিভেদ লক্ষ করতাম। এ বার কিন্তু একচেটিয়া ভাবে সকলের সমর্থনটা আমাদের সঙ্গে রয়েছে। সেটা টেরও পাচ্ছি।;পাকিস্তান প্রসঙ্গেও এ দিন মুখ খুলেছেন হাসিনা। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে কিছু পাকিস্তানপ্রেমী মানুষ আছেন। যুদ্ধাপরাধীদের মন পড়ে আছে পাকিস্তানে,;এমন মন্তব্যও করলেন তিনি। পাশাপাশি জানিয়ে দিলেন, তাঁরা সতর্ক আছেন। কারও সঙ্গে বৈরীতা করতে না চাইলেও, দেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে কাউকে যে কোনও ভাবেই নাক গলাতে দেবে না বাংলাদেশ, সে কথাও এ দিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন হাসিনা। বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত যে আসামিরা লন্ডনে বসে রয়েছে, তাদের সম্পর্কে আওয়ামি লিগের মনোভাব এ দিন স্পষ্ট হয়েছে হাসিনার কথায়। তাঁর মতে, ওই সব আসামিরা সব সময় বিদেশে বসে দেশের ভিতর একটা অশান্ত পরিবেশ তৈরি করতে চায়। অস্ত্র পাচার, চোরা কারবার এবং দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ওই সব মানুষের অঢেল টাকা বলে হাসিনার অভিযোগ। তাঁর দাবি, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাতে যারা সুযোগসুবিধা পেয়েছে, সেই সব ব্যবসায়ীরাও ওই দলকে টাকাপয়সা দেয়। তাঁর কথায়, ক্ষমতায় ছিল যখন, দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ না করলেও নিজেদেও আখের ওরা গুছিয়ে নিয়েছে। ওই টাকা তো ওরা এখন ব্যয় করে দেশের ভেতরে অশান্ত পরিবেশ তৈরি করতে। পাশাপাশি তাঁর প্রতিশ্রুতি, ব্রিটেনের সঙ্গে কথা বলে ওই আসামীদের দেশে ফেরত এনে রায় কার্যকর করা হবে।এ বারের নির্বাচনে জামাতে ইসলাম কী ভাবে ধানের শীষ প্রতীক পেল তা নিয়েও এ দিন প্রশ্ন তুলেছেন হাসিনা। তাঁর প্রশ্ন, যাদের নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন বাতিল করল, তাদের কী ভাবে নমিনেশন দেওয়া হয়? তিনি বলেন,জামাত তো গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল। বুদ্ধিজীবি হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল। মেয়েদেরকে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া থেকে ঘরবাড়ি দখল করেছিল। ওদের নমিনেশন দেওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই মানুষ শঙ্কিত!এ দিন কামাল হোসেনের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাসিনা। কামাল হোসেনকে দেশের সংবিধান রচয়িতা বলা হয়। তিনি আওয়ামি লিগ থেকে চলে গিয়ে নিজে দল করেন। ধানমন্ডি থেকে দাঁড়িয়েছিলেন এক বার। ওই নির্বাচনে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। হাসিনার কথায়, সেই তিনি কিনা গেলেন জামাত-বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে! এর পরেই একগাল হাসি-সহ তাঁর সংযোজন, আমি অবাক হইনি। কারণ কী জানেন? ওঁর শ্বশুরবাড়ি পাকিস্তানে। ছেলেদের একটু শ্বশুরবাড়ির টানটা বেশি থাকে।ঘণ্টাখানেক কথার পর সুধাসদনে তখন সন্ধ্যা বেশ গাঢ় হয়ে নেমে এসেছে। বিদায় পর্বে ফের জিজ্ঞেস করা গেল, ভোটের ফল কেমন হবে? হাসিনা জানালেন, ওই যে প্রথমেই বলেছিলাম, আমরাই আসছি। কারণ, মানুষ আমাদেরই চাইছেন। আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হল।
দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার পরিবারকে জানাই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন,ইত্তেফাক বস্তুনিষ
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী :গণমানুষের মুখপত্র দৈনিক ইত্তেফাক ৬৬ বছরে পা দিল আজ। ইত্তেফাক তার প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলে এসেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপ্ন-লালিত যে বাংলাদেশ ইত্তেফাক সেই জাতি-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য নিজেকে উত্সর্গ করেছিল। সেই পথ ছিল অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু সত্ সাংবাদিকতা ছিল সেই কঠিন পথ পাড়ি দেওয়ার মন্ত্র। সত্ সাংবাদিকতার সেই মন্ত্র ইত্তেফাক আজও হূদয়ে ধারণ করে চলেছে। মূলত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মানিক মিয়া ও ইত্তেফাক- এই ত্রয়ী এক হয়ে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করেছিল। তারই পথ ধরে মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ইত্তেফাক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করে চলেছে। দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন, সীমাহীন ভালোবাসাই ছিল ইত্তেফাকের সুদীর্ঘ পথচলার একমাত্র শক্তি ও সাহস। আজকের শুভ মুহূর্তে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা, শুভেচ্ছা। মুক্তিযুদ্ধের পরে নতুন বাস্তবতায় দৈনিক ইত্তেফাক নতুন আঙ্গিকে প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু সত্য, ন্যায়, গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশের মানুষের অধিকারের প্রশ্নে ইত্তেফাকের অবস্থান কখনো বদলায়নি। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ইত্তেফাকের সেই পুরানো আদর্শই এখনও একমাত্র সম্পাদকীয় নীতি। আর তা হলো, নিরপেক্ষ ও নির্ভীক সাংবাদিকতার ধারা অনুসরণ এবং গণমানুষের মনে স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখা, সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের সঙ্গে আপস না করা এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে অবিচল থাকা। মুক্তিযুদ্ধ দৈনিক ইত্তেফাকের নিরন্তর প্রেরণার উত্স। আজকের শুভক্ষণে তাই ইত্তেফাক গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে বাঙালির স্বাধীকার আন্দোলনে নিহত শহীদদের। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও নির্ভীক সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে। এঁদের সীমাহীন প্রেরণা, ভালোবাসা ও ত্যাগের বিনিময়ে ইত্তেফাক এই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসার শক্তি পেয়েছে। ১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের মুখপত্ররূপে সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন পত্রিকার আনুষ্ঠানিক সম্পাদক। কলকাতা প্রত্যাগত তফাজ্জল হোসেন সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকার সাথে যুক্ত হন এবং ১৯৫১ সালের ১৪ আগস্ট থেকে এই পত্রিকার পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর ইত্তেফাক দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে তত্কালীন ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ সরকারের যে ভরাডুবি হয়, এর পেছনে ছিল দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার শক্তিশালী রিপোর্ট ও মানিক মিয়ার ক্ষুরধার লেখনি। ১৯৬৯ সালে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া আকস্মিকভাবে ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুর পর ইত্তেফাক প্রকাশনা অব্যাহত থাকে এবং বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ও স্বাধীনতা আন্দোলনে পত্রিকাটি সরাসরি সমর্থন দেয়। বিশেষ করে ১৯৭০ সালের নির্বাচন, আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়, ক্ষমতা হস্তান্তরে পাকিস্তানিদের অনীহা ও ষড়যন্ত্র এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ ও সর্বাত্মক অসহযোগের আহ্বান থেকে ২৫শে মার্চ রাতে আক্রান্ত হবার পূর্বপর্যন্ত ইত্তেফাক গৌরবময় ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনে ইত্তেফাক অসামান্য ভূমিকা পালন করেছিল। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে আপসহীনভাবে সত্য প্রকাশ করে গেছে। একসময়ে তদানীন্তন পাকিস্তান সরকারের সামরিক শাসক ইত্তেফাকের প্রকাশনা বন্ধ করে দেয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে ২৫ মার্চ রাতে ইত্তেফাক ভবন পুড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু মানুষের ভালোবাসায় বারবার প্রবল প্রতাপে ফিরে এসেছে ইত্তেফাক।অনলাইন দৈনিক www.newsekattor.com ও সাপ্তাহিক সংবাদের কাগজ পত্রিকার পক্ষ থেকে দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার পরিবারকে জানাই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,সম্পাদক/প্রকাশক www.newsekattor.com ও সাপ্তাহিক সংবাদের কাগজ।
এ বছর বিশ্বব্যাপী সাংবাদিক হত্যা বেড়েছে দ্বিগুণ
অনলাইন ডেস্ক :পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ বছর বিশ্বব্যাপী ৫৩ জন সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে ৩৪ জন সরাসরি তাদের প্রকাশিত রিপোর্টের জন্য টার্গেটে পরিণত হন। এই সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা নিউইয়র্ক ভিত্তিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টের (সিপিজে) এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদেন এ কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১লা জানুয়ারি থেকে ১৪ই ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বে ৫৩ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। গত তিন বছরের মধ্যেই এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সিপিজের নির্বাহী পরিচালক জোয়েল সাইমন বলেন, হত্যাকাণ্ড হলো নৃশংস সেন্সরশিপ, যাতে তথ্য প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। যেসব সাংবাদিক আমাদের তথ্য সরবরাহ করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন, তাদের পক্ষে দাঁড়াতে ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক নেতাদের অবশ্যই সোচ্চার হতে হবে।সিপিজের প্রতিবেদন অনুসারে, এ বছর সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী দেশ ছিল আফগানিস্তান। এরপরে রয়েছে সিরিয়া ও ভারত। বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের হত্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি এ বছরে গণমাধ্যমকর্মীদের জেলে পাঠানোর ঘটনাও বেড়েছে। এ ছাড়া বিশ্বনেতাদের গণমাধ্যমবিরোধী আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেয়ার ঘটনা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে সার্বিকভাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকটের মুখে পড়েছে। সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট জামাল খাসোগিসহ এ বছরে প্রভাবশালী একাধিক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে স্লোভাকিয়ার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জান কুসিয়াককে গুলি করে হত্যা করা হয়। আফগানিস্তানে একদল সাংবাদিককে টার্গেট করেন এক আত্মঘাতী হামলাকারী। এতে নিহত হয় ৯ জন। সব মিলিয়ে সংবাদ প্রকাশের কারণে এ বছরে ৩৪ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল মাত্র ১৭ জন।উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত সিপিজে ১৯৯২ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী সাংবাদিক হত্যার তথ্য লিপিবদ্ধ করে। কোনো সাংবাদিক শুধুমাত্র তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে টার্গেটে পরিণত হলে তখনই তাকে সিপিজের তালিকাভুক্ত করা হয়।
জাপার ইশতেহারের ১৮ দফা,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পানি ও বিদ্যুৎ বিল মওকুফ করা হবে
অনলাইন ডেস্ক :একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। আজ শুক্রবার দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বনানীর কার্যালয়ে ইশতেহারটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষণা করেন চেয়ারম্যানের বিশেষ সহকারী ও সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার।ইশতেহারে বলা হয়েছে, জাপা ক্ষমতায় এলে শিক্ষাব্যবস্থা থেকে পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হবে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য সংসদে ৩০টি আসন রাখা হবে। এর জন্য সংসদে থাকবে ৩৮০টি আসন। এ ছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পানি ও বিদ্যুৎ বিল মওকুফ করা হবে এরশাদ সরকার ক্ষমতায় এলে। নির্বাচনে জয়ী হলে জাপা কী করবে, তার ১৮ দফা তুলে ধরেছেন রুহুল আমিন হাওলাদার। এ ছাড়া ইশতেহারে দফাগুলো পূরণে সময়সীমাও বলা হয়েছে।জাপার ইশতেহারের ১৮ দফা তুলে ধরা হলো : ১. প্রদেশিক ব্যবস্থার প্রবর্তন দেশে এককেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তন করে প্রদেশিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে। দেশের আটটি বিভাগকে আটটি প্রদেশে উন্নীত করা হবে। দুই স্তরবিশিষ্ট কাঠামো থাকবে শাসন ব্যবস্থায়।২. নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কার নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার করে আনুপাতিক ভোটের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা দেওয়া হবে। সন্ত্রাস, অস্ত্র, কালো টাকার প্রভাবমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কার করা হবে। ৩. পূর্ণাঙ্গ উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তনউপজেলা আদালত ও পারিবারিক আদালতসহ পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা চালু করা হবে। স্থানীয় সরকার কাঠামো শক্তিশালী করে ও নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে উপজেলা ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।৪. বিচার বিভাগের স্বাধীনতাবিচার বিভাগের স্বাধীনতা দেওয়া হবে ৷ জাতীয় পার্টি সুযোগ পেলে এক বছরের মধ্যে এটি নিশ্চিত করা হবে। পাঁচ বছরের মধ্যে মামলার জট শূন্যের কোঠায় আনা হবে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলার প্রবণতা বন্ধ করা হবে। ৫. ধর্মীয় মূল্যবোধধর্মীয় মূল্যবোধকে সবার ওপরে স্থান দেওয়া হবে। সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও পানির বিল মওকুফ করা হবে। এক বছরে এ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ৬. কৃষকের কল্যাণ সাধনকৃষককে ভর্তুকি মূল্যে সার, ডিজেল ও কীটনাশক সরবরাহ করা হবে। কৃষি উপকরণের কর শুল্ক মওকুফ করা হবে। এ ছাড়া কৃষকদের বিরুদ্ধে কোনো সার্টিফিকেট মামলা করা হবে না। সহজ শর্তে কৃষিঋণ সরবরাহ করা হবে।৭. সন্ত্রাস দমনে কঠোর ব্যবস্থা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটা কোনো কঠিন কাজ নয়, সরকারের সদিচ্ছা যথেষ্ট। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় এলে তিন মাসে এসব নির্মূল করবে।৮. জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য স্থিতিশীল করা হবে। সারা দেশে পর্যায়ক্রমে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। উত্তরবঙ্গের শিল্পায়ন ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অনগ্রসর অঞ্চলে শিল্পায়ন ব্যবস্থা চালু করা হবে।৯. ফসলি জমি নষ্ট করা যাবে না জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থে শিল্প প্রতিষ্ঠা ব্যতীত আবাসিক স্থাপনা গঠনে কৃষিজমি বা ফসলি জমি নষ্ট করা প্রতিরোধে আইন গড়ে তোলা হবে।১০. শিক্ষা পদ্ধতির সংশোধন পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষা বাদ দেওয়া হবে। শিক্ষা পদ্ধতির সংশোধনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের টিউশন নির্ভরতা কমানো হবে। সুলভ মূল্যে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ করা হবে। ১১. স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ইউনিয়নভিত্তিক সেবা খাত উন্নত করা হবে। প্রতিটি ইউনিয়নের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা হবে।১২. খাদ্য নিরাপত্তা খাদ্যে ভেজাল কিংবা বিষাক্ত দ্রব্য মেশানোর বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করা হবে।১৩. শান্তি ও সহাবস্থানের রাজনীতি প্রবর্তন হরতাল অবরোধের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি নিষিদ্ধ করা হবে। শান্তি ও সহাবস্থানের রাজনীতি প্রবর্তন করে সত্যিকারের গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটানো হবে। ১৪. সড়ক নিরাপত্তা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে রাস্তাঘাট সংস্কার করা হবে। প্রয়োজনীয় রাস্তায় ৫০ ভাগ প্রশস্ত করা হবে। ১৫. গুচ্ছগ্রাম ও পথকলি ট্রাস্ট পুনঃপ্রতিষ্ঠা গুচ্ছগ্রাম ও পথকলি ট্রাস্ট পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। ১৬. পল্লী রেশনিং পদ্ধতি চালু করা হবে পল্লী অঞ্চলের মানুষের ন্যূনতম অন্নের সংস্থান নিশ্চিত করতে পল্লী অঞ্চলে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। এক বছরের মধ্যে রেশনিং ব্যবস্থায় চাল, ডাল, তেল, চিনি পৌঁছে দেওয়া হবে। ১৭. শিল্প ও অর্থনীতির অগ্রগতি সাধনদেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অঞ্চলে অঞ্চলে অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস করতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। শিল্পঋণ সহজলভ্য ও নতুন শিল্প স্থাপন করা হবে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।১৮. ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষাসাধারণ নির্বাচন বাদে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য ৩০টি আসন সংরক্ষিত করা হবে। সে ক্ষেত্রে সংসদের মোট আসন ৩৮০টি করা হবে। তাদের জনসংখ্যার হার অনুসারে চাকরি ও শিক্ষার হার নিশ্চিত করা হবে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও কমিশন গঠন করা হবে।
চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন নিয়েছেন যারা
অনলাইন :একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের ২২৫ এবং বিএনপির ৯৭ জন এ পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।সূত্র : মানবজমিন।আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা উপকমিটির সদস্য আরশেদুল আলম বাচ্চু জানান, চট্টগ্রামের ১৬ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা ২২৫ জন। যা প্রতিটি আসনে গড়ে ১৪ জনে পৌছেছে। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বেশি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে। এখানে মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা ২৬ জন। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন ৫ জন। এরা হলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, একই আসনে ২০০৮ সালে বিএনপির প্রার্থী ও নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম, তাঁর ছেলে মো. শোয়েব রিয়াদ, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, মহানগর মহিলা দলের সিনিয়র সহ সভাপতি বেগম ফাতেমা বাদশা। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, সিডিএ চেয়ারম্যান মো. আবদুচ ছালাম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, পিপি অ্যাডভোকেট এম এ নাসের, কাউন্সিলর তারেক সোলায়মান সেলিম, কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান মনসুর রয়েছেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বাকলিয়া-কোতোয়ালীর ১৫ থেকে ২৩ ও ৩১ থেকে ৩৫ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত আসনটি চট্টগ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদার আসন হিসেবে বিবেচিত। এরপর চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন ১১ জন। এরা হলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, সাবেক এমপি ও মহিলা কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বেগম নুরী আরা ছাফা, ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ ছালাউদ্দিন, চট্টগ্রাম পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিভিল সার্জন ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী, সাবেক পিজিআর প্রধান কর্নেল (অব.) আজিমুল্লাহ বাহার চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়জী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, সরোয়ার আলমগীর, চসিকের কাউন্সিলর জেসমিনা খানম ও শিল্পপতি রফিকুল আলম চৌধুরী। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম, প্রয়াত সংসদ সদস্য রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, তরুণ আইনজীবী ব্যারিস্টার তানজীব উল আলমসহ ২৫ জন। চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. মোহসিন জিল্লুর করিম, যুব বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক এহছানুল মৌলা, সাতকানিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি সালাউদ্দিন, মোক্তার আহমেদ ও চন্দনাইশ পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল আনোয়ার চৌধুরী। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানসহ ২৩ জন। চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালীর শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউপি) আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, তাঁর ভাতিজা শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী, অধ্যাপক ইউনুছ চৌধুরী, কুতুব উদ্দিন বাহার, ইলিয়াছ চৌধুরী, আবু আহমেদ হাসনাত, মোহাম্মদ আইয়ুব, জসিম উদ্দিন চৌধুরী, উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরী ও এডভোকেট রেজাউল করিম রেজাসহ ১১ জন। আর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ড. হাছান মাহমুদ, বিএমএ নেতা ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সাদেক চৌধুরীর ছোট ভাই ওসমান গণি চৌধুরীসহ চার জন। চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, গোলাম আকবর খোন্দকার, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জসিম সিকদার ও এডভোকেট ফরিদা আকতার। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনসহ চার জন। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, তাঁর পুত্র ব্যরিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক, ব্যরিস্টার শাকিলা ফারজানা, নগর বিএনপির সহ-সভাপতি সৈয়দ আজম উদ্দিন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউনূস গণি চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য মাহমুদ সালাহউদ্দিন চৌধুরীসহ ১০ জন। চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক যুবদল নেতা কাজী বেলাল উদ্দীন, নগর যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তী। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. আফছারুল আমিন, বিএনপির সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম, নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদসহ ১৬ জন। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এম এ লতিফ, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চুসহ ১৭ জন। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোরশেদ খান, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান ও এরশাদ উল্লাহ। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, সিডিএ চেয়ারম্যান মো. আবদুচ ছালামসহ ১৭ জন। চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ আলী আব্বাস, আবু মোহাম্মদ নিপার, মোস্তাফিজুর রহমান ও দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক সালাউদ্দিন সুমন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়শা খানসহ চার জন। চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড-কাট্টলী) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও দলের যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী, নগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তি, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, সাবেক সচিব ও আইজিপি এ আই ওয়াই বি সিদ্দিকী, এ কে এম আবু তাহের বিএসসি, উত্তর জেলা কৃষক দলের সভাপতি ইসহাক কাদের চৌধুরী, পারভেজ মুন্না, মোহাম্মদ ফেরদৌস মুন্না ও দিদারুল আলম দিদার। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলম, উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি এস এম আল মামুন, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সদস্য মোস্তফা কামাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়াসহ ১৭ জন। চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েল, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সৈয়দ সাদাত আহমদ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক পটিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া, এনামুল হক এনাম ও দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইফুদ্দীন সালাম মিঠু। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরী, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম, সাবেক সংসদ সদস্য চেমন আরা তৈয়ব, বিজিএমইএ নেতা মোহাম্মদ নাছিরসহ ৯ জন। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শেখ মো. মহিউদ্দীন, প্রচার সম্পাদক নাজমুল মোস্তফা আমিন, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক মুজিবুর রহমান, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুল গফফার চৌধুরী এবং তাঁর ছেলে তরুণ আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল নাঈম চৌধুরী রিকু। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরীসহ ১৮ জন। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, সহ সভাপতি এডভোকেট ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন, সাবেক পৌর মেয়র ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কামরুল ইসলাম হোসাইনী, মহিলা দল নেত্রী মাহমুদা সুলতানা চৌধুরী ঝর্ণা প্রমুখ। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, দৈনিক পূর্বদেশের সম্পাদক মুজিবুর রহমান, শিল্পপতি আবদুল্লাহ কবির লিটনসহ ১২ জন । চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন সাবেক এমপি এম. এ জিন্নাহ, মেজর জেনারেল (অব.) জেড এ খান, মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় নেতা মনিরুল ইসলাম ইউসুফ, উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক নুরুল আমিন, উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, মেজর (অব.) নুরুল মোস্তফা, সাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, আতিকুল ইসলাম লতিফী, সাবেক ছাত্রদল নেতা সরোয়ার উদ্দিন সেলিম, ড. এম এম এমরান চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, ফখরুল ইসলাম ও আজিজুর রহমান চৌধুরী। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন ও সদস্য মাহবুব উর রহমান রুহেল এবং ব্যবসায়ী নিয়াজ মোর্শেদ এলিটসহ ৯ জন। চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা, উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ফোরকান উদ্দিন রিজভী, উপজেলা বিএনপি সদস্য নুরুল মোস্তফা খোকন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, এডভোকেট আবদুল হামিদ ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য আশরাফ উদ্দিন জনি। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতাসহ ১৪ জন।