জাতির পিতার মহাপ্রত্যাবর্তন
১০জানুয়ারী ,শুক্রবার,মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ। ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীন স্বভূমে পা রেখেছিলেন স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা। কোটি বাঙালির আবেগমথিত এই দিনটি এবার হাজির হয়েছে অন্য মহিমায়। আগামী ১৭ই মার্চ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী। বেঁচে থাকলে শতবর্ষে পা রাখতেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক শততম জন্মবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে বছরজুড়ে পালিত হবে নানা কর্মসূচি। বছরটিকে ঘোষণা করা হয়েছে মুজিববর্ষ হিসেবে। শুধু কর্মসূচিতেই নয়, মুজিববর্ষে আওয়ামী লীগ ও সরকার জনগণের প্রতি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানাতে চায় বঙ্গবন্ধুর প্রতি। দল এবং সরকারের পক্ষ থেকে এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলা হচ্ছে এই বছরে কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি দল এবং সরকারকে আরো জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেয়া হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি জাতির দ্রষ্টা এবং স্থপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে এখনো পরিপূর্ণ সম্মান দেয়া যায়নি। সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে রেখে জাতির পিতা হিসেবে তাকে সর্বোচ্চ স্থানে প্রতিষ্ঠা করাই হওয়া উচিত জন্মশতবার্ষিকীর অঙ্গীকার। বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন, মাত্র ১৩১৫ দিনের মেয়াদকালে বঙ্গবন্ধু অনেক কিছুরই সূচনা করেছিলেন। একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গঠনে নিয়েছিলেন সময়উপযোগী নানা উদ্যোগ। তিনি তার কাজের মাধ্যমে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে ছিলেন। মানুষের জন্য একটি রাষ্ট্র গড়তে চেয়েছিলেন। সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে চেয়েছিলেন। অনিয়ম দুর্নীতির অচলায়ন ভাঙার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিভেদ-বৈষম্য দূর করতে চেয়েছিলেন। স্বল্প সময়ে তিনি যে স্বপ্নের সিঁড়ির ভিত্তি গড়েছিলেন এতোদিনে তা কতোদূর পৌঁছেছে এটিই এখন মূল্যায়নের বড় বিষয়। দীর্ঘ সংগ্রাম আর পিচ্ছিল পথ পাড়ি দিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতিকে মুক্তির মোহনায় একত্রিত করতে পেরেছিলেন। স্বাধীনতার আকাঙ্খা জাগিয়ে তুলেছিলেন প্রাণে প্রাণে। অবিসংবাদিত এ নেতার ডাকে তাই মরণপণ যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতাকামী মানুষ। পাকিস্তানের কারাগারে থাকা বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ ধীরে ধীরে ধাবিত হয়েছে চূড়ান্ত পর্বে। নয় মাসের সংগ্রাম শেষে উদিত হয় স্বাধীনতার লাল সূর্য। ১৯৭২ সালে দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু দেশগড়ার যে কাজ শুরু করেছিলেন তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের কালো রাতে বিভৎস হত্যাকাণ্ডে থমকে যায় জনকের স্বপ্নযাত্রা। বঙ্গবন্ধুকে সেদিন স্বপরিবারে হত্যা করে ঘাতকরা পৃথিবীর নৃশংসতম ঘটনার অবতারণা করে। কিন্তু তারা যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় তা সফল হয়নি। মাঝে কিছু ব্যত্যয় হলেও বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথ ধরেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু সময় এবং সীমানা পেরিয়ে পরিণত হয়েছেন মহাকালের মহান নেতায়। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চে দেয়া তার ভাষণ পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ভাষণের একটি। জন্মশতবর্ষে এই মহান নেতা নতুন মহিমায় উদ্ভাসিত হবেন জাতীয় জীবনে। মুজিব বর্ষের নানা কর্মসূচিতে তাকে স্মরণ করবেন বিশ্বনেতারা। আজ থেকেই শুরু হবে মুজিব বর্ষের ক্ষণ গণনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয়ভাবে বিকালে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে মুজিব বর্ষের কাউন্টডাউন অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এরপর প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও সকল পাবলিক প্লেসে একইসঙ্গে কাউন্টডাউন শুরু হবে। সারা দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের ২৮টি পয়েন্টে, বিভাগীয় শহরগুলো, ৫৩ জেলা ও দুই উপজেলা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীতে মোট ৮৩টি পয়েন্টে কাউন্টডাউন ঘড়ি বসানো হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি বাস্তবায়ন কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতাসহ রাজনীতিক ও বিভিন্ন পেশার বিশিষ্টজনরা। প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীকে জাতীয় কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে বাস্তবায়ন কমিটি। জাতির পিতার শততম জন্মবার্ষিকী স্মরণীয় করে রাখতে সরকারের পাশাপাশি দলীয়ভাবেও কর্মসূচি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আতশবাজির মাধ্যমে শুরু হবে মুজিব বর্ষের ক্ষণ গণনা। এছাড়া দেশ-বিদেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, স্বল্পদৈর্ঘ চলচ্চিত্র, প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন, গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড এবং হাতে হাত রেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতিকৃতি গড়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্তকরণ। এছাড়া কনসার্টসহ নানা আনন্দ আয়োজন ও রক্তদানসহ সেবাধর্মী কর্মসূচি থাকবে বছরজুড়ে। ১৭ই মার্চ মূল অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং বঙ্গবন্ধুর সময়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিত্বকে। তাদের মধ্যে আছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ, ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোসহ বিশ্বনেতারা। জন্মশতবার্ষিকীর মূল আয়োজন শুরু হবে ১৭ই মার্চ সূর্যোদয়ের সময়ই। সকালে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল অনুষ্ঠান। এদিন ঢাকা ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় একই সঙ্গে অনুষ্ঠান শুরু হবে। সকালে টুঙ্গিপাড়ায় থাকবে জাতীয় শিশু দিবসের নানান আয়োজন। এরপর বিকালে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হবে মূল অনুষ্ঠান। প্রকাশ করা হবে জন্মশতবার্ষিকীর বিভিন্ন স্যুভেনির, স্মারক বক্তৃতা, দেশি-বিদেশি শিল্পীদের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সারা দেশেই এদিন আয়োজন করা হবে আনন্দ RAILLY। সাজানো হবে গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনা, সড়কদ্বীপ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৭ই মার্চের মূল আয়োজনে থাকবেন বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান, বঙ্গবন্ধুর সমসাময়িক সময়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিত্বরা। স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের এদিন বেলা ১টা ৪১ মিনিটে জাতির এই অবিসংবাদিত নেতা সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি পাকিস্তান থেকে প্রথমে লন্ডন যান। তারপর দিল্লী হয়ে ঢাকায় ফেরেন। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধু সর্বস্তরের জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। স্বাধীনতা ঘোষণার অব্যবহিত পর পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে আটক রাখা হয়। স্বাধীনতাকামী এই নেতাকে কারাগারে তাকে হত্যার ভয় দেখানো হয়। কিন্তু তিনি কিছুতেই দমে যাননি। আপসহীন এ নেতা অটল ছিলেন বাংলাদেশকে স্বাধীন করার প্রতিজ্ঞায়। ১৯৭২ সালের ৭ই জানুয়ারি ভোর রাতে বঙ্গবন্ধুকে কারাগার থেকে মুক্ত করে বিমানে পাঠিয়ে দেয়া হল লন্ডনে। তখন তার সঙ্গে ড. কামাল হোসেনও ছিলেন। সকাল সাড়ে ৬টায় তারা পৌঁছান লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে। বেলা ১০টার পর থেকে তিনি কথা বলেন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ, তাজউদ্দিন আহমদ ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ অনেকের সঙ্গে। ব্রিটেনের বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে করে পরের দিন ৯ই জানুয়ারি দেশের পথে যাত্রা করেন বঙ্গবন্ধু। ১০ই জানুয়ারি দিল্লিতে অবতরণ করে ওই বিমান। সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভিভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, পুরো মন্ত্রিসভা, রাজনৈতিক দলের নেতারা রাজকীয় অভ্যর্থনা জানান বঙ্গবন্ধুকে। বঙ্গবন্ধু ঢাকা এসে পৌঁছেন ১০ই জানুয়ারি দুপুরের পর। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের পর বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুকে প্রাণঢালা সংবর্ধনা জানাতে অধির অপেক্ষায় ছিল। আনন্দে আত্মহারা লাখ লাখ মানুষ ঢাকা বিমান বন্দর থেকে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পর্যন্ত তাকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানায়। লাখো মানুষের ভিড় ঠেলে বঙ্গবন্ধুকে বহন করা গাড়ি বহর উদ্যানে পৌঁছতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। বিকাল পাঁচটায় রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ধ্রুপদি ভাষণে বলেন, যে মাটিকে আমি এত ভালবাসি, যে মানুষকে আমি এত ভালবাসি, যে জাতিকে আমি এত ভালবাসি, আমি জানতাম না সে বাংলায় আমি যেতে পারবো কিনা। আজ আমি বাংলায় ফিরে এসেছি বাংলার ভাইয়েদের কাছে, মায়েদের কাছে, বোনদের কাছে। বাংলা আমার স্বাধীন, বাংলাদেশ আজ স্বাধীন। বঙ্গবন্ধু তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে আখ্যা দিয়েছিলেন অন্ধকার থেকে আলোপথে যাত্রা হিসেবে। এদিকে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশে সংগঠনের সকল কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭ টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে প্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন। এছাড়া জন্মশতবর্ষ পালনের ক্ষণ গণনা কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন দলের নেতারা।
মহৎ হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন বঙ্গবন্ধু
বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: (মহৎ গুণ না থাকলে একটা জাতিকে যে নেতৃত্ব দেওয়া যায় না, তার প্রকৃত উদাহরণ স্বয়ং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্কুলের ছাত্রজীবন থেকেই তিনি মহৎ কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ছোটবেলায় মানুষের দুঃখকষ্টে পাশে দাঁড়াতে কখনই কার্পণ্য করেননি বঙ্গবন্ধু। এমনই কয়েকটি ঘটনা যা বঙ্গবন্ধু স্বয়ং লিখেছেন নিজের ডায়রিতে। যা পরবর্তীতে অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থে প্রকাশ পেয়েছে। এই গ্রন্থ থেকে পাঠকদের উদ্দেশে তা তুলে ধরা হলো...)। ১৯৩৬ সালে আবার আমার চক্ষু খারাপ হয়ে পড়ে। গ্লুকোমা নামে একটা রোগ হয়। ডাক্তারদের পরামর্শে আব্বা আমাকে নিয়ে আবার কলকাতায় রওয়ানা হলেন চিকিৎসার জন্য। এই সময় আমি মাদারীপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিলাম লেখাপড়া করার জন্য। দশ দিনের মধ্যে দুইটা চক্ষুই অপারেশন করা হল। আমি ভাল হলাম। তবে কিছুদিন লেখাপড়া বন্ধ রাখতে হবে, চশমা পরতে হবে। তাই ১৯৩৬ সাল থেকেই চমশা পরছি। ১৯৩৭ সালে আবার আমি লেখাপড়া শুরু করলাম। এবার আর পুরানো স্কুলে পড়ব না, কারণ আমার সহপাঠীরা আমাকে পিছনে ফেলে গেছে। আমার আব্বা আমাকে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলেন। আমার আব্বাও আবার গোপালগঞ্জ ফিরে এলেন। এই সময় আব্বা কাজী আবদুল হামিদ এমএসসি মাস্টার সাহেবকে আমাকে পড়াবার জন্য বাসায় রাখলেন। তাঁর জন্য একটা আলাদা ঘরও করে দিলেন। গোপালগঞ্জের বাড়িটা আমার আব্বাই করেছিলেন। মাস্টার সাহেব গোপালগঞ্জে একটা মুসলিম সেবা সমিতি গঠন করেন, যার দ্বারা গরিব ছেলেদের সাহায্য করতেন। মুষ্টি ভিক্ষার চাল উঠাতেন সকল মুসলমান বাড়ি থেকে। প্রত্যেক রবিবার আমরা থলি নিয়ে বাড়ি বাড়ি থেকে চাউল উঠিয়ে আনতাম এবং এই চাল বিক্রি করে তিনি গরিব ছেলেদের বই এবং পরীক্ষার ও অন্যান্য খরচ দিতেন। ঘুরে ঘুরে জায়গিরও ঠিক করে দিতেন। আমাকেই অনেক কাজ করতে হত তাঁর সাথে। হঠাৎ যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। তখন আমি এই সেবা সমিতির ভার নেই এবং অনেক দিন পরিচালনা করি। আর একজন মুসলমান মাস্টার সাহেবের কাছেই টাকা পয়সা জমা রাখা হত। তিনি সভাপতি ছিলেন আর আমি ছিলাম সম্পাদক। যদি কোন মুসলমান চাউল না দিত আমার দলবল নিয়ে তার উপর জোর করতাম। ১৮৪৩ সালে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে। গ্রাম থেকে লাখ লাখ লোক শহরের দিকে ছুটেছে স্ত্রী-পুত্রের হাত ধরে। খাবার নাই, কাপড় নাই। ইংরেজ যুদ্ধের জন্য সমস্ত নৌকা বাজেয়াপ্ত করে নিয়েছে। ধান, চাল সৈন্যদের খাওয়াবার জন্য গুদাম জব্দ করেছে। যা কিছু ছিল ব্যবসায়ীরা গুদামজাত করেছে। ফলে এক ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এই সময় শহীদ সাহেব লঙ্গরখানা খোলার হুকুম দিলেন। আমিও লেখাপড়া ছেড়ে দুর্ভিক্ষপীড়িতদের সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়লাম। অনেকগুলি লঙ্গরখানা খুললাম। দিনে একবার করে খামার দিতাম। মুসলিম লীগ অফিসে, কলকাতা মাদ্রাসায় এবং আরও অনেক জায়গায় লঙ্গরখানা খুললাম। দিনভর কাজ করতাম, আর রাতে কোনোদিন বেকার হোস্টেলে ফিরে আসতাম, কোনদিন লীগ অফিসের টেবিলে শুয়ে থাকতাম। রিলিফের কাজ করার জন্য গোপালগঞ্জ ফিরে আসি। গোপালগঞ্জ মহকুমার একদিকে যশোর জেলা, একদিকে খুলনা জেলা, আর একদিকে বরিশাল জেলা। বাড়িতে এসে দেখি ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ সবই প্রায় না খেতে পেয়ে কঙ্কাল হতে চলেছে। গোপালগঞ্জের মুসলমানরা ব্যবসায়ী এবং যথেষ্ট ধান হয় এখানে। খেয়ে পরে মানুষ কোনোমতে চলতে পারত। অনেকেই আমাকে পরামর্শ দিল, যদি একটা কনফারেন্স করা যায় আর সোহরাওয়ার্দী সাহেব ও মুসলিম লীগ নেতাদের আনা যায় তবে চোখে দেখলে এই তিন জেলার লোকে কিছু বেশি সাহায্য পেতে পারে এবং লোকদের বাঁচাবার চেষ্টা করা যেতে পারে। আমাদের সহকর্মীদের নিয়ে বসলাম। আলোচনা হল, সকলে বলল, এই অঞ্চলে কোনোদিন পাকিস্তানের দাবির জন্য কোনো বড় কনফারেন্স হয় নাই। তাই কনফারেন্স হলে তিন জেলার মানুষের মধ্যে জাগরনের সৃষ্টি হবে। এতে দুইটা কাজ হবে মুসলিম লীগের শক্তিও বাড়বে আরও জনগণও সাহায্য পাবে। সকল এলাকা থেকে কিছু সংখ্যক কর্মীকে আমন্ত্রণ করা হল। আলোচনা করে ঠিক হল, সম্মেলনের দক্ষিণ বাংলা পাকিস্তান কনফারেন্স নাম দেয়া হবে এবং তিন জেলার লোকদের দাওয়াত করা হবে। আমি কলকাতায় রওয়ানা হয়ে গেলাম, নেতৃবৃন্দকে নিমন্ত্রণ করার জন্য। যখন সোহরাওয়ার্দী সাহেবকে দাওয়াত করতে গেলাম, দেখি খাজা শাহাবুদ্দীন সেখানে উপস্থিত আছেন। শহীদ সাহেব বললেন, আমি খুবই ব্যস্ত, তুমি বুঝতেই পারো, নিশ্চয়ই চেষ্টা করব যেতে। শাহাবুদ্দীন সাহেবকে নিমন্ত্রণ কর উনিও যাবেন। এছাড়া ১৯৪০ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং সরবরাহ বিভাগের মন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী একত্রে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুল পরিদর্শনে আগমন করলে ছাত্রদের দাবি-দাওয়া নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান একাই তাঁদের মোকাবেলা করেন। অন্যতম দাবি ছিল অবিলম্বে ছাত্রাবাসের ছাদ মেরামত। এই দাবিতে শেখ মুজিব অনঢ় থাকায় প্রধানমন্ত্রী ফজলুল হক তাৎক্ষণিকভাবে ১২শ টাকা মঞ্জুর করেন।
২০২০ যেতে হবে বহুদূর
৩১ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের বিস্ময়। পাকিস্তানি দুঃশাসনের হাত থেকে স্বাধীনতা লাভ করার পর মাত্র কয়েক কোটি টাকার বাজেট নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল যে ছোট্ট দেশটি, সেই দেশের বাজেট আজ পাঁচ লাখ কোটিকেও ছাড়িয়ে গেছে। ছোট্ট অর্থনীতির দেশটি আজ পরিচিতি পেয়েছে এশিয়ার টাইগার ইকোনমি হিসেবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নের যেকোনো সূচকের বিচারে গত দুই দশকে বাংলাদেশের অগ্রগতি হয়েছে অভূতপূর্ব। যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে সূদীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ পরিণত হতে চলেছে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে। অথচ মাত্র কয়েক দশক আগে একে বলা হতো তলাবিহীন ঝুড়ি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সেই অপবাদ দূর করে এ দেশ সাম্প্রতিক সময়ে অনেক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে সারা বিশ্বে অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। গত দুই দশকে র্অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নের বেশির ভাগ সূচকে বাংলাদেশ ছড়িয়ে গেছে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশকে। দারিদ্র বিমোচনেও সাফল্য সারা বিশ্বে ঈর্ষণীয়। নারীর ক্ষমতায়ন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, গড় আয়ু, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার, সাক্ষরতা, মেয়েদের স্কুলে পড়ার হার ইত্যাদি সামাজিক সূচকেও অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। উন্নয়ন ও অগ্রগতির এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৪ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাবে এই দেশ। আর ২০৪১ সালের মধ্যে এর উত্তরণ ঘটবে উন্নত ও সমৃদ্ধ এক দেশে। সহস্রাব্ধ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) পূরণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ এখন উদাহরণ হয়ে উঠছে। সাফল্যের এ ধারাবাহিকতায় এগিয়ে চলছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য ( এসডিজি) নিয়ে। উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রায় বাংলাদেশ এগিয়ে গেলেও সূচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন চড়াই-উৎরাই পাড়ি দিতে হয়েছে। নানান প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্র আর রাজনৈতিক উথান-পতনে জর্জরিত ছিল দেশটি। ৪৭ এ দেশভাগ: ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে হিন্দু-মুসলিম জনমতের ভিত্তিতেই ব্রিটিশ ভারত বিভক্ত করে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলার পশ্চিমাঞ্চলকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্বাঞ্চল অন্তর্ভুক্ত হয় পাকিস্তানে। পাকিস্তানের মানচিত্রে দুটি পৃথক অঞ্চল অনিবার্য হয়ে ওঠে যার একটি পূর্ব পাকিস্তান এবং অপরটি পশ্চিম পাকিস্তান। পূর্ব পাকিস্তান গঠিত হয়েছিল প্রধানত পূর্ব বাংলা নিয়ে যা বর্তমানের বাংলাদেশ। ৫২ এর ভাষা আন্দোলন: দাসত্বের শিকল বাঙালি জাতির ভাষা-সংস্কৃতিকে বোবা করে রেখেছিল। সেই শিকল ছিঁড়ে বিংশ শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে ১৯৫২-এর রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই আন্দোলন শুরু হয় সাধারণ ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী প্রতিবাদ প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে। রাজনৈতিকভাবে ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে করাচিতে সংবিধান প্রণয়ন সভার বৈঠকে রাষ্ট্রভাষা নির্ধারণ বিষয়ে আলোচনা উঠলে তৎকালীন এমএলএ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলাভাষাকে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কিন্তু পাকিস্তানের অধিকাংশ মুসলিম লীগ সদস্য রাজি হননি। এ অবস্থায় বাংলাকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার উদ্যোগকে পূর্ব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাভাষা আন্দোলন দানা বেঁধে ওঠে। কিন্তু সব ষড়যন্ত্রকে উড়িয়ে দিয়ে বাংলা ভাষা ও বাঙালির জয়ের সূচনা হয় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। এই আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার প্রবক্তা, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ছাত্রনেতা থাকাকালে রাষ্ট্রভাষা বাংলা আন্দোলন শুরু হয়। ছাত্রজনতার কাতারে থেকে দেশব্যাপী নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাভাষা রক্ষার সপক্ষে জনমত গড়ে তুলে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান: ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ফলে স্বাধিকার আন্দোলনের গতি তীব্র হয়। এরপর ১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি। বীর বাঙালির জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে এক উজ্জ্বলতম দিন। ১৯৬৯-এর এই দিনে সংঘটিত হয়েছিল ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান। এই দিনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুব খান সরকার বিরোধী আন্দোলন রূপ নেয় তীব্র এক গণঅভ্যূত্থানে। উত্তাল সংগ্রামের যে দাবানল জ্বলে উঠেছিল তা কখনো মন থেকে মোছা যায় না। ক্ষমতার মদমত্তে অহংকারের পাহাড়ে বসে স্বৈরশাসক আইয়ুব খান মনে করেছিলেন জনগণ বোবা দর্শক, আর তার মসনদ চিরস্থায়ী। আইয়ুব খান বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির মুক্তিসনদ ছয়দফা দেওয়ার কারণে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেদিন বিক্ষুব্ধ বাংলার মানুষ দ্রোহের আগুনে জ্বলে উঠে ব্যাপক গণঅভ্যুত্থান-গণবিস্ফোরণের মুখে আইয়ুব খানকে ক্ষমতার মসনদ থেকে বিদায় জানায় এবং দীর্ঘ ৩৩ মাস কারাগারে আটক থাকার পর মুক্তি পান বঙ্গবন্ধু। মহান মুক্তিযুদ্ধ: ইয়াহিয়া খানের (১৯৬৯-১৯৭১) সামরিক শাসনামলে পাকিস্তানে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এটি ইতিহাসে ১৯৭০-এর নির্বাচন নামে পরিচিত। এ নির্বাচনে মোট ২৪টি দল অংশ নেয়। ৩০০টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন মোট এক হাজার ৯৫৭ জন প্রার্থী। মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে এক হাজার ৫৭৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আওয়ামী লীগ ১৭০ আসনে প্রার্থী দেয়। এর মধ্যে ১৬২টি আসন পূর্ব পাকিস্তানে এবং বাকিগুলো পশ্চিম পাকিস্তানে। আওয়ামী লীগ ১৬০টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। একই সঙ্গে প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তান অ্যাসেম্বলির ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টিতে জয়লাভ করে। নজিরবিহীন এ বিজয়ে আওয়ামী লীগ এককভাবে সরকার গঠন ও ছয় দফার পক্ষে গণরায় লাভ করে। ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়লাভের পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের একক প্রতিনিধি হিসেবে আবির্ভূত হন। তিনিই হন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সংখাগরিষ্ঠ দলের নেতা। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্ব সংখাগরিষ্ঠ আওয়ামী লীগ ও তার নেতা শেখ মুজিবের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ১৯৭১-এর ৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান যে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, তাতেই পাকিস্তানি সামরিক জান্তার নিকট তাঁর মনোভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এরপর শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা বাঙালি হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। ৯ মাসের এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করে বাংলাদেশ। এগিয়ে যাচ্ছে দেশ: বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের বৈশ্বিক মডেল হিসেবে বিবেচিত। স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যাত্রা শুরু করেছে। স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণের এই যাত্রাপথ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার পরিকল্পনার সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। উন্নয়নের ছোয়ায় পরিবর্তন হয়েছে দেশের অবকাঠামো। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল আলোচিত পদ্মা সেতু। বিশ্বব্যাংককে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে পদ্মা সেতু তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাতে বিজয় আজ দ্বারপ্রান্তে। তেমনিভাবে বিদ্যুত্ উত্পাদনের ব্যাপারে বর্তমান সরকার যে গুরুত্ব দিয়েছেন, অতীতের কোনো সরকারই এভাবে গুরুত্ব দেয়নি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, বাসস্থানসহ প্রতিটি সেক্টরেই হয়েছে অভূতপূর্ব পরিবর্তন। আজকের এই ডিজিটাল বাংলাদেশের রুপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ছিল ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সরকারী বিনিয়োগ ২০০৯ সালে ছিল শতকরা ৪ দশমিক ৩ ভাগ। ২০১৮ সালে তা ৮ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২০০৯ সালের ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট হতে ২০১৮ সালে ২০ হাজার মেগাওয়াটে বৃদ্ধি পেয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮.১৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। মাথাপিছু আয় বেড়ে ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলার হয়েছে। মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসসহ রেল, নৌযোগাযোগ ক্ষেত্রে ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশ্বে প্রথম শত বছরের বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এছাড়া জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে সরকারের অবস্থান আজ জিরো টলারেন্স। বাংলাদেশ আজ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে ব্যবসায় পরিবেশ সহজতর করতে নেয়া উদ্যোগের ভিত্তিতে বিশ্বব্যাংকের করা সহজ ব্যবসা করার সূচক বা ইজ অব ডুয়িং বিজনেস তালিকায় শীর্ষ ২০ দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরুর মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তির নিরাপদ ব্যবহার যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। এটা ঠিক বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশের চেয়ে বহুক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। এমন কি উন্নয়নের কোনো কোনো সূচকে কিছু উন্নত দেশকেও ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। আর এসব কারণেই বিশ্বের অনেক দেশের কাছে সত্যিই আজ বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়ন, গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, প্রাথমিক শিক্ষা, বাল্যবিবাহ ইত্যাদির মতো আরো অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। বিশ্বের বিস্ময় হয়ে বাংলাদেশ আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে। তবে সে জন্য সুশাসন ও জনগণের মানবাধিকারের বিষয়টা সুনিশ্চিত করতে হবে। ঘুষ-দুর্নীতি মুক্ত করতে হবে প্রশাসনকে। তাহলেই বাংলাদেশ বিশ্বের প্রকৃত বিস্ময় হয়ে উঠবে। ২০১৮ সাল থেকে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উেক্ষপণের পর থেকে বাংলাদেশ স্পেস যুগে পা দিয়েছে। গত ১০ বছরে বাংলাদেশ আইসিটি সেক্টরে বিশ্বে এক বৈপ্লবিক ও যুগান্তকারী উন্নয়ন সাধন করেছে। ফলে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ায় যেভাবে উন্নয়ন হয়েছে, সেদিন বেশি দূরে নয় আমরাও তাদের কাতারে দাঁড়াতে পারব। জনসংখ্যা, গড় আয়ু, শিশুমৃত্যুর হার, মেয়েদের স্কুলে পড়ার হার, সক্ষম দম্পতিদের জন্মনিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গ্রহণের হার ইত্যাদি সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ সমপর্যায়ের উন্নয়নশীল অন্যান্য দেশ, এমনকি প্রতিবেশী ভারতকেও পেছনে ফেলতে সমর্থ হয়েছে। যে পাকিস্তানের হাত থেকে স্বাধীন হয়েছে বাংলাদেশ, সেই পাকিস্তানিরা আজ বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা। দেশ পরিচালনায় অনন্য শেখ হাসিনা: স্বাধীন বাংলাদেশের ৪৮ বছরে দল ও সরকার পরিচালনায় অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে পরপর তিনবার এবং সব মিলিয়ে চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। গত ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার যাত্রা শুরু করে। একই সঙ্গে গত ২৩ ডিসেম্বর উপমহাদেশের অন্যতম প্রচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ২১তম কাউন্সিলে টানা নবমবার দলটির সভানেত্রী হয়েছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে সবচেয়ে বেশি সময় সরকার ও দলের দায়িত্ব পালনের রেকর্ডও তার। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটির শীর্ষ পদে ৩৮ বছর ধরে অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। মৃত্যুর ভয়কে পায়ের ভৃত্য করে সততা, প্রজ্ঞা, দক্ষতা, দূরদর্শিতা, বিচক্ষণতা আর সাহসী নেতৃত্বগুণে শেখ হাসিনা অনেক আগেই দেশের গণ্ডি পেরিয়ে স্থান করে নিয়েছেন বিশ্বনেতৃত্বের কাতারে। মার্কিন ম্যাগাজিন ফোর্বস এ বছরের বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকা সম্প্রতি প্রকাশ করেছে। তালিকায় ২৯তম অবস্থানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী চার বছর সফলভাবে দেশ পরিচালনার মাধ্যমে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী নারী সরকারপ্রধানের রেকর্ড গড়ার পথে পা দিয়েছেন তিনি। আধুনিক গণতান্ত্রিক বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা নারী সরকারপ্রধানের এলিট ক্লাবে প্রবেশ করেছেন বাহাত্তর বছর বয়সি শেখ হাসিনা। এক বর্ণাঢ্য সংগ্রামমুখর জীবন শেখ হাসিনার। ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে ছয় বছর যন্ত্রণাময় প্রবাসজীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফেরেন। এর আগে ঐ বছরের ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের ত্রয়োদশ সম্মেলনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাকে দলের সভানেত্রী নির্বাচিত করা হয়। এরপর টানা আটবার আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ১৯৯৬ সালে। ঐ বছরের ১২ জুন অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। ২০০১ সালে মেয়াদ শেষে শান্তিপূর্ণভাবে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয় বিএনপির কাছে। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরে জটিলতা সৃষ্টি করলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। প্রায় দুই বছর ক্ষমতায় থাকার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করে। এতে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। এ নির্বাচনের পর ঐ বছরের ১২ জানুয়ারি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শেখ হাসিনা। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে গত ৭ জানুয়ারি সরকার গঠন করেন শেখ হাসিনা। জনগণের নিরঙ্কুশ ম্যান্ডেট পেয়ে অনেকটাই নিস্তরঙ্গ রাজনৈতিক অঙ্গনে বছর জুড়ে ঘর সামলাতেই ব্যস্ত ছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেধা-মনন, সততা, নিষ্ঠা, যোগ্যতা, প্রজ্ঞা, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, উদারমুক্ত গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বজয়ের নবতর অভিযাত্রায় এগিয়ে চলেছে। বিশ্বসভায় আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শত বাধা-বিপত্তি, প্রতিকূলতা, মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ, বারবার তার প্রাণনাশের চেষ্টার সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত টানা ১১ বছর শেখ হাসিনার অনবদ্য নেতৃত্ব উন্নত-সমৃদ্ধের মহাসোপানে নিয়ে গেছে বাংলাদেশকে। অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, মানুষের যে অর্থনৈতিক মুক্তি চেয়েছিলেন, সবার জন্য যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গড়তে চেয়েছিলেন, তাঁরই সুযোগ্য কন্যা সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে সে পথেই তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
চ্যালেঞ্জের মুখে আওয়ামী লীগ
২৮ডিসেম্বর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সামনে তিন চ্যালেঞ্জ দেখছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি মনে করেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া এবং ঘরে ঘরে একজনের চাকরি নিশ্চিত করা আওয়ামী লীগের সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলটির নবগঠিত কমিটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এরপর গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। গত ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী ২১তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন কাউন্সিলে সভাপতি পদে শেখ হাসিনা টানা নবম সবার ও সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদের দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হন। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আরও ৪০ পদে নেতাদের নাম ঘোষণা করেন। ৮১ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটির অন্য ৩৯টি পদের জন্য নাম নির্বাচনের জন্য গত মঙ্গলবার রাতে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চূড়ান্ত হওয়া কমিটির সদস্যদের মধ্যে ৩২ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। বাকি সাতটি পদ যেকোনো সময়ে পূরণ করবেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। শনিবার সকালে নতুন কমিটির নেতাদের নিয়ে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সেতুমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া এবং ঘরে ঘরে একজনের চাকরি নিশ্চিত করা আওয়ামী লীগের বড় চ্যালেঞ্জ। ওবায়দুল কাদের বলেন, দলকে সরকার থেকে আলাদা করার কাজ চলছে। আওয়ামী লীগ মনে করে, দল শক্তিশালী হলে সরকারও শক্তিশালী হবে। বিএনপির নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে কাদের বলেন,অভিযোগ করাই হলো বিএনপির কাজ। সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে-এটা জেনেও তারা অভিযোগ করছে। এ সময় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান সেতুমন্ত্রী। নবগঠিত কমিটির যৌথসভা ৩ জানুয়ারি ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ অনুষ্ঠিত হবে। টুঙ্গিপাড়া সফর কবে হবে সেদিনই তা নির্ধারণ করা হবে বলে জানান ওবায়দুল কাদের।
জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্ত
২৬ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: সপ্তাহিক দিন গুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন জুমা। এই দিন মুসলমানদের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেছেন,সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিন তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিন তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে (মুসলিম, হাদিস: ১৮৬১)। তার মানে দুনিয়াতে মানুষের আগমন ঘটেছিল এই জুমার দিনেই। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) আমাদের সঙ্গে একদিন শুক্রবারের ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন,জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে,সেই সময়টায় যদি কোনো মুসলিম নামাজ আদায়রত অবস্থায় থাকে এবং আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ অবশ্যই তার সে চাহিদা বা দোয়া কবুল করবেন এবং এরপর রাসুল (সা.) তার হাত দিয়ে ইশারা করে সময়টির সংক্ষিপ্ততার ইঙ্গিত দেন। (বুখারি,হাদিস : ৬৪০০)। উক্ত হাদিস দ্বারা বোঝা যাচ্ছে,জুমার দিনের বিশেষ একটি মুহূর্ত আছে,যখন আল্লাহ তাঁর বান্দার সব দোয়া কবুল করেন। কিন্তু জুমার দিনের সেই বিশেষ মুহূর্তটি কোনটি-তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ইমাম মিম্বরে উঠার পর থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত ঃ আবু দারদা ইবনে আবু মুসা আশআরি (রা.) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন,আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি,তিনি বলেন,আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি,তিনি জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্তটি সম্পর্কে বলেছেন, ইমামের মিম্বরে বসার সময় থেকে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত সময়টিই সেই বিশেষ মুহূর্ত। (আবু দাউদ,হাদিস: ১০৪৯)। আসরের শেষ সময় ঃ অর্থাৎ সূর্য ডোবার আগমুহূর্তে। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত,রাসুল (সা.) বলেছেন,জুমার দিনের বারো ঘন্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যদি কোনো মুসলিম এ সময়ে আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে,তাহলে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে দান করেন। এ মুহূর্তটি তোমরা আসরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান করো। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন,রাসুল (সা.) বলেছেন, সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনই হচ্ছে সর্বোত্তম। আদম (আ.)-কে এই দিনেই সৃষ্টি করা হয়েছিল। এই দিনই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল। এই দিনই তাঁর তাওবা কবুল হয়েছিল। এই দিনই তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন এবং এই দিনই কিয়ামত সংঘটিত হবে। জিন ও মানুষ ছাড়া প্রতিটি প্রাণী শুক্রবার দিন ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কিয়ামতের ভয়ে ভীত থাকে। এই দিন এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, নামাজরত অবস্থায় কোনো মুসলিম বান্দা মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে কোনো অভাব পূরণের জন্য দোয়া করলে মহান আল্লাহ তাকে তা দান করেন। কাআব (রা.) বলেন,এই সময়টি প্রতি এক বছরে একটি জুমার দিনে থাকে। আমি (আবু হুরায়রা) বললাম,না,বরং প্রতি জুমার দিনে থাকে। অতঃপর কাআব (রা.) (এর প্রমাণে) তাওরাব পাঠ করে বলেন,রাসুল (সা.) সত্যই বলেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, অতঃপর আমি আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি অবহিত করি। সেখানে কাআব (রা.) ও উপস্থিত ছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বললেন,আমি দোয়া কবুলের বিশেষ সময়টি সম্পর্কে জানি। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন,আমাকে তা অবহিত করুন। তিনি বলেন, সেটি হলো জুমার দিনের সর্বশেষ সময়। আমি (আবু হুরায়রা) বললাম,জুমার দিনের সর্বশেষ সময় কেমন করে হবে? অথচ রাসুল (সা.) বলেছেন,যেকোনো মুসলিম বান্দা নামাজরত অবস্থায় ওই সময়টি পাবে। কিন্তু আপনার বর্ণনাকৃত সময়ে তো নামাজ আদায় করা যায় না। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বলেন,রাসুল (সা.) কি বলেননি,যে ব্যক্তি নামাজের জন্য বসে অপেক্ষা করবে সে নামাজ আদায় করা পর্যন্ত নামাজরত বলে গণ্য হবে। আবু হুরায়রা বলেন,আমি বলালাম,হ্যাঁ। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বলেন,তা এরুপই। (আবু দাউদ,হাদিস : ১০৪৬)। লেখকঃ মোঃ ইরফান চৌধুরী,প্রকাশক,ই-প্রিয়২৪,প্রাবন্ধিক ও মানবাধিকার কর্মী,(ছাত্র)।
শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব
২১ডিসেম্বর,শনিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: পৌষের শুরুতেই জেঁকে বসেছে শীত। হিমশীতল কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে দেশ,কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত। শ্রমজীবী মানুষ ঘর থেকে বের হতে বেশ কষ্ট পাচ্ছে। অনেকে টাকার অভাবে কিনতে পারছে না শীতবস্ত্র। গরম কাপড়ের অভাবে করুণ দশা অনেকের। দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য শীতকাল বড়ো কষ্টের। খাবারের চেয়েও তাদের শীত নিবারণ এখন অতীব প্রয়োজন। শৈত্যপ্রবাহ থেকে রক্ষা পাওয়ার ন্যূনতম ব্যবস্থা ও তাদের নেই। যদিও কনকনে ঠান্ডা হাওয়ায় হাড় কাপানো শীতের কারণে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বিত্তবানদের অনেকেই ঘরের বাইরে বের হন না। কিন্তু দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে জীবিকার তাগিদে প্রচন্ড ঠান্ডায় ও ঘরের বাইরে যেতে হয়। তীব্র শীতে বিশেষ করে শিশু,বৃদ্ধ ও ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ অসহনীয় অবস্থায় পৌছায়। এ সময় বেড়ে যায় জ্বর,শ্বাসকষ্ঠ,সর্দি,কোল্ড ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ। ফুটপাত এবং খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারীদের কষ্ঠের সীমা থাকে না। এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানো সামর্থ্যবান মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। গরিব-দুস্থরা আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মানুষ হিসেবে বেচেঁ থাকার মৌলিক অধিকারগুলো তাদের ও প্রাপ্য। আসুন আমরা মানবিক মূল্যবোধ থেকে মিলেমিশে ফুটপাতে বা খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী অসহায় মানুষের শীত নিবারণে হাত বাড়িয়ে দেই।লেখকঃ মোঃ ইরফান চৌধুরী,প্রকাশক,ই-প্রিয়২৪,প্রাবন্ধিক ও মানবাধিকার কর্মী,(ছাত্র)।
১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতির জীবনের সর্বোচ্চ এক গৌরবের দিন
১৬ডিসেম্বর,সোমবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের দিন। এই দিনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে, আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ সম্মানের সঙ্গে দেখা হয়। বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জিত হয়। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ। দিনটি বাঙালি জাতির জীবনে সর্বোচ্চ গৌরবের দিন। যতদিন পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ থাকবে, বাঙ্গালি জাতি থাকবে, ততদিন এই দিনটির গুরুত্ব ও সম্মান অক্ষুণ থাকবে। বাঙ্গালি জাতির ইতিহাস লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস, আত্মত্যাগের ইতিহাস। সেই ইতিহাসের পথ ধরেই বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। শাসন-শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালি একে একে গড়ে তোলে আন্দোলন-সংগ্রাম। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন, ৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচনে বিজয় লাভের মধ্য দিয়ে বাঙালি চূড়ান্ত বিজয়ের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হতে থাকে। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালির যে আন্দোলন শুরু হয় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই আন্দোলন চূড়ান্ত রুপ নেয়। যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) লাখ লাখ মানুষের সমাবেশে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তত থাকার নির্দেশ দেন। তিনি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার, যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করার আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে প্রস্তুতি নিতে থাকে বাঙালি জাতি। ২৫ মার্চ কালো রাতে নিরীহ বাঙালির ওপর ঝাপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনি, শুরু করে গণহত্যা। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে চলে এই যুদ্ধ। পাক হানাদার বাহিনী বাঙালির স্বাধীনতার সপ্নকে ভেঙে দিতে শুরু করে বর্বর গণহত্যা। গণহত্যার পাশাপাশি নারীনির্যাতন, ধর্ষণ, শহরের পর শহর, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয় হানাদাররা। বাংলাদেশ পরিণত হয় ধ্বংস স্তুপে। আধুনিক অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অদম্য সাহস ও জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করে এদেশের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, যুব, নারীসহ সব শ্রেনী-পেশার সর্বস্তরের বাঙালি। এই সময় বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ায় প্রতিবেশী ভারত। অস্ত্র, সৈন্য, খাদ্য, আশ্রয়সহ সার্বিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশাল ভূমিকা রাখে রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন)। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এগিয়ে আসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুক্তিকামী মানুষ। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হন। বাঙালি জাতির মরণপণ যুদ্ধ এবং দুর্বার প্রতিরোধের মুখে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা পরাজয়ের চূড়ান্ত পর্যায় বুঝতে পেরে বিজয়ের দুই দিন আগে জাতির সূর্যসন্তান বুদ্ধিজীবীদের বেছে বেছে হত্যা করে। অবশেষে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে ও নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় ১৬ ডিসেম্বর। ওই দিন বিকেলে পাকিস্তানি বাহিনী রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। জাতি পায় স্বাধীন রাষ্ট্র, নিজস্ব পতাকা ও জাতীয় সংগীত। বঙ্গবন্ধুর অপরিসীম ত্যাগ ও আপোষহীন নেতৃত্বে পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। ৩০ লাখ শহিদ এবং দুই লাখ মা-বোনের অসামান্য আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ। লেখকঃ মোঃ ইরফান চৌধুরী,প্রকাশক,ই-প্রিয়২৪,প্রাবন্ধিক ও মানবাধিকার কর্মী,(ছাত্র)।
মানবাধিকার হলো ভয় ও পরাধীনতা থেকে মুক্তি
১০ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: মানবাধিকার হচ্ছে একজন মানুষের জন্মগত অধিকার। আর এই অধিকার কেউ কাউকে দেয় না। মানুষ হিসেবে তার প্রাপ্র এই অধিকার। একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠার জন্য এই অধিকার দরকার। সর্বপরি মানবাধিকার হলো সব ধরনের ভয় ও পরাধীনতা থেকে মুক্তি। যা কিছু একজন মানুষের মর্যদাকে রক্ষা করে,সুরক্ষিত করে মর্যদাকে নানাভাবে বিকশিত হতে সাহায্য করে সেটিই হচ্ছে মানবাধিকার। তাই এইখানে একজন মানুষের সাথে আচরণ কি রকম হবে,তার জীবনের প্রতি কোন প্রকার হুমকি আছে কিনা,তার শিক্ষার সুযোগ ও চিন্তার স্বাধীনতা থাকবে কিনা,মানুষ হিসেবে অন্যের কাছ থেকে সম্মান পাওয়ার,মর্যদা পাওয়ার অধিকার রাখে কিনা এই সব কিছু মিলেই মানবাধিকারের ধারণা। মানবাধিকার সার্বজনীন। পৃথিবীর সব মানুষ তিনি যে দেশেরই হোক না কেন,গ্রামে বা শহরে যেখানেই বাস করুক,যে ধর্মেরই হোক সবার অধিকার সমান। একইভাবে সব মানুষ,নারী,পুরুষ,শিশু যাই হোক না কেন,যে ভাষাতেই কথা বলুক না কেন সবারই হবে সমান অধিকার। মানবাধিকারের একটি অন্যতম নীতি হচ্ছে মানুষের জন্মগত অধিকার গুলো কেউ কখনো কারো কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারে না। এমনকি কোন মানুষ নিজেও কখনো তার মানবাধিকার ত্যাগ করতে পারে না। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার রয়েছে। যেমনঃ বাকস্বাধীনতার অধিকার,নির্ভয়ে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার,জীবনধারণের অধিকার,সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিবার পরিচালনার অধিকার, রাষ্ট্রে শান্তিতে বসবাস করার অধিকার,চুরি-ডকাতি ও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচার অধিকার,জুলুম-অত্যাচার ও নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার অধিকার,মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা থেকে বাঁচার অধিকার,নিজের জমি-জমা,গাছ-পালা ও বাগান-বাড়ি সন্ত্রাসীদের লুট-পাট থেকে রক্ষার অধিকার,অন্যায়ভাবে কারো হামলা থেকে বাঁচার অধিকার,স্বাধীনভাবে চাকরি-বাকরি ও ব্যবসা বাণিজ্য করার অধিকার,সন্তানদের নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তোলার পরিবেশ পাওয়ার অধিকার,দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার,দেশ,জাতি,সমাজ ও রাষ্ট্রকে কল্যাণরুপে গড়ে তোলার অধিকার,মানব সেবার অধিকার,পেট্রোল বোমার আঘাত থেকে বেঁচে থাকার অধিকার,জনসভা ও সভা-সমাবেশ করার অধিকার,গণতান্ত্রিক অধিকার সহ জননিরাপত্তার অধিকারও মানুষের মৌলিক মানবাধিকার। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার রয়েছে। মোট কথা- মানুষের মৌলিক জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল নিয়ামকের ওপর যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠাই হচ্ছে মানবাধিকার। মানবাধিকার কথাটি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের নিকট অতি সুপরিচিত ও তাৎপর্যপূর্ন একটি শব্দ,মানবাধিকার শব্দের ইংরেজী প্রতি শব্দ হচ্ছে ঐঁসধহ জরমযঃং। বাংলা ভাষার দুটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের সমন্বয়ে মানবাধিকার শব্দটি গঠিত হয়েছে। একটি শব্দ- মানব অপরটি অধিকার। প্রথমটির অর্থ হচ্ছে মানুষ আর দ্বিতীয়টির অর্থ হচ্ছে যারা মানুষ তাদের অধিকার। অর্থ্যাৎ মানবাধিকার কথাটির পরিপূর্ণ অর্থ দাড়ায় মানুষের অধিকার। মৌলিক চাহিদা পূরণসহ নিরাপত্তামূলক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা বিধান করা সরকার ও মানবাধিকার সংরক্ষণ সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাই শুধু অন্ন, বস্ত্র,বাসস্থান,শিক্ষা ও চিকিৎসা নয় বরং এগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য সকল অধিকার যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল মানবাধিকার নিশ্চিত হবে। নির্যাতিত নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট মহামানব আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। গোটা পৃথিবীর মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ও রক্ষায় তিনি সংগ্রাম করেছেন। আমাদের মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে দ্ব্যর্থহীনভাবে নির্যাতিত নিপিড়ীত মানবতার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষনা করেছেন। তিনি বলেছেন; কি কারনে তোমরা সেসব নারী,পুরুষ ও শিশুদের খাতিরে আল্লাহর অনুসৃত পথে সংগ্রাম করছো না? অথচ যারা নির্যাতিত নিপিড়ীত ও দুর্বল হবার কারণে আমার নিকট ফরিয়াদ করছে। এবং বলছে; হে আল্লাহ! তুমি আমাদের এ জালিমদের অত্যাচার থেকে বের করে নাও। অথবা তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য কোন দরদী-বন্ধু ও সাহায্যকারী পাঠিয়ে দাও,(সূরা নিসা-৭৫)। আমাদের দেশে অতীত নেতৃত্ব দানে যারা স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন, তারাও আমরণ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলন। শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক,হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী,বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। আমাদের দেশের পবিত্র সংবিধানে ও গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা সন্নিবেশিত রয়েছে। সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে- প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে। মানবসত্তার মর্যদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে। এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগনের কার্যকর অংশগ্রহন নিশ্চিত হইবে। লেখকঃ মোঃ ইরফান চৌধুরী,প্রকাশক,ই-প্রিয়২৪,প্রাবন্ধিক ও মানবাধিকার কর্মী,(ছাত্র)।
১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে ১৬ টাকায় মোবাইল ফোন
০১ডিসেম্বর,রবিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: মাত্র ১৬ টাকায় ফিচার ফোন কেনার সুযোগ দিচ্ছে ই-কমার্স ভিত্তিক মার্কেটপ্লেস ইভ্যালি। ইভ্যালির স্মার্টফোন ভিত্তিক মোবাইল অ্যাপ দিয়ে অর্ডার করলেই প্রথম তিন হাজার গ্রাহক পাবেন ১৬ টাকায় ফিচার ফোন কেনার এই সুযোগ। আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস এবং ইভ্যালির প্রথম বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে গ্রাহকদের জন্য আকর্ষণীয় এই অফারের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অফারের ঘোষণা দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী শনিবার (৭ ডিসেম্বর) গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এই অফার। সফলভাবে অর্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা প্রথম তিন হাজার গ্রাহককে ১৬ টাকার বিনিময়ে দেয়া হবে ওয়ালটন অলভিও এমএম২১ মডেলের মোবাইল সেট। এ অফারে মোবাইল কিনতে হলে পুরনো বা নতুন গ্রাহক হওয়ার কোনোদিকের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। নতুন বা পুরনো উভয় ধরনের তিন হাজার গ্রাহকই পাবেন এই সুযোগ। তবে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ একটি (মোবাইল) কিনতে পারবেন মাত্র ১৬ টাকার বিনিময়ে। এ ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল নিউজ একাত্তরকে বলেন, প্রথম বর্ষ পূর্তি উদযাপন এবং দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণের মাহেন্দ্রক্ষণ আগামী ১৬ ডিসেম্বর। বাঙালি জাতির ইতিহাসের জন্যও এ দিনটি বেশ গুরত্বপূর্ণ। মূলত এসব বিষয়কে সামনে রেখেই গ্রাহকদের জন্য আমাদের এই অফার। তিনি বলেন, অফার শুরুর আগেই এবারও গ্রাহকদের পক্ষ থেকে দারুণ সাড়া পাচ্ছি। প্রথমে আমাদের পরিকল্পনা ছিল দুই হাজার গ্রাহককে এই অফারের আওতায় মোবাইল ফোন দেয়া হবে। কিন্তু ঘোষণা শুরুর মুহূর্ত থেকেই গ্রাহকেরা যে সাড়া দিয়ে আসছেন এবং প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তাতে আমরা সদস্য সংখ্যা বাডিয়ে তিন হাজারে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেই।