পাঁচ দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন শুরু হচ্ছে রোববার
১২জুলাই২০১৯,শুক্রবার,বিশেষ প্রতিনিধি ,নিউজ একাত্তর ডট কম:দেশে প্রথমবারের মতো পাঁচ দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু হচ্ছে। ৩৩৩ প্রস্তাব নিয়ে ডিসি সম্মেলন শুরু হবে রোববার। এই প্রথম স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের জন্য থাকছে আলাদা আলাদা সেশন। প্রতি বছরের মতো এবারো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে সকাল ৯টায় সম্মেলন উদ্বোধন হবে। গতকাল সচিবালয়ে ,জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৯ নিয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানান। এর আগে সাধারণত তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন হতো। এবার ডিসি সম্মেলন ১৪ জুলাই শুরু হয়ে শেষ হবে ১৮ জুলাই। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারের নীতিনির্ধারক ও জেলা প্রশাসকদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্য প্রতি বছর ডিসি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এবার জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রথমবারের মতো প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনী প্রধান, জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে ডিসিদের বৈঠক হবে। তিনি বলেন, এবার সম্মেলনে মোট ২৯টি অধিবেশন হবে। এর মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে কার্য অধিবেশন ২৪টি। এ ছাড়া একটি উদ্বোধন অনুষ্ঠান, একটি মুক্ত আলোচনা, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও একটি সমাপনী অনুষ্ঠান হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছাড়া মোট ৫৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অংশগ্রহণ করবে। কার্য অধিবেশন গুলোতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব ও সচিবরা উপস্থিত থাকবেন। অধিবেশন গুলো হবে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে। কার্য অধিবেশনগুলোতে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এবার ডিসি সম্মেলন উপলক্ষে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের কাছ থেকে ৩৩৩টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, জেলা প্রশাসকদের তাৎক্ষণিক যদি কোনো প্রস্তাব থাকে সেটি অধিবেশনে উপস্থাপন হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এ বছর সবচেয়ে বেশিসংখ্যক প্রস্তাব পাওয়া গেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ-সংক্রান্ত। এ বিভাগ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ২৯টি। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (২৬টি প্রস্তাব) ও ভূমি মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত (২০টি) প্রস্তাব পাওয়া গেছে। ১৬ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনরত বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে দিকনির্দেশনা নেবেন জেলা প্রশাসকরা। ১৮ জুলাই বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকারের (স্পিকার না থাকায়) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ডিসিরা দিকনির্দেশনা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন শফিউল আলম। ১৭ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সকাল পৌনে ৯টা থেকে পৌনে ১০টা পর্যন্ত তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে ডিসিরা বৈঠক করবেন। ডিসি সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলো তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ পুনর্বাসন কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসৃজন, দারিদ্র বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার, শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ রোধ, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও সমন্বয়। এ বিষয়গুলো মূলত আলোচনায় স্থান পাবে।
১লা জানুয়ারি থেকে ৩০শে জুন পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২,৩২৯
৪জুলাই২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:গত ছয় মাসে সারা দেশে ২,১৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২,৩২৯ জন নিহত ও ৪,৩৬১ জন আহত হয়েছেন। নিহতের তালিকায় ২৯১ নারী ও ৩৮১ শিশু রয়েছে। চলতি বছরের ১লা জানুয়ারি থেকে ৩০শে জুন পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ক, আন্ত:জেলা সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কসহ সারা দেশে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন শিপিং এন্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (এসসিআরএফ) জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ২২টি বাংলা ও ইংরেজি জাতীয় দৈনিক, ১০টি আঞ্চলিক সংবাদপত্র এবং আটটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থার তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারিতে ৩৮৩টি দুর্ঘটনায় ৫৩ নারী ও ৭১ শিশুসহ ৪১১ জনের প্রাণহানি এবং ৭২৫ জন আহত হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ৪০১টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হয়েছে যথাক্রমে ৪১৫ জন ও ৮৮৪ জন। এই মাসে নিহতের তালিকায় ৫৮ নারী ও ৬২ শিশু রয়েছে। মার্চে ৩৮৪টি দুর্ঘটনায় ৪৬ নারী ও ৮২ শিশুসহ ৩৮৬ জন নিহত ও ৮২০ জন আহত হয়েছে। এপ্রিলে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩২৭টি। এতে ৩৪০ জন নিহত ও ৬১০ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩৮ নারী ও ৫৩ শিশু রয়েছে। মে মাসে ২৯৭টি দুর্ঘটনায় ৪৭ নারী ও ৪৪ শিশুসহ ৩৩৮ জন নিহত হয়েছে। এ সময়ে আহত হয়েছে ৫০৪ জন। জুনে দুর্ঘটনার সংখ্যা ৩৬৭। এতে ৪৩৯ জন নিহত ও ৮১৮ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা যথাক্রমে ৪৯ ও ৬৯।
হিন্দু মুসলমানের এই বিদ্বেষের অবসান কবে হবে?
২১জুন২০১৯,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: উপমহাদেশের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা নির্বাচনে জিতে সাংসদ হিসেবে কাজ শুরু করার প্রাক্কালে আল্লাহ, ভগবান, ঈশ্বরের নামে শপথ করেন যে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কর্তব্য পালন করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আরও ভয়াবহ। ওখানে বাইবেল, কোরআন ইত্যাদি ধর্মগ্রন্থের ওপর হাত রেখে সাংসদদের শপথ করতে হয়। সাংসদদের ব্যক্তিগত ধর্ম-বিশ্বাস রাষ্ট্র পরিচালনায় আদৌ কি কোনও ভূমিকা রাখে? ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের উচিত ধর্মীয় বিশ্বাসের চেয়ে সংবিধানে বিশ্বাসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া। যে সাংসদ রাষ্ট্রের সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, যে সাংসদ জনগণের সেবা করতে চান, কারণ তিনি দেশকে ভালোবাসেন, সমাজের উন্নতি চান, মানুষের সুশিক্ষা, সুস্বাস্থ্য এবং সুনিরাপত্তা চান, তাঁর কারও নামে শপথ করতে হয় না, তিনি দেশ ও দশের সেবায় নিজেই ঝাঁপিয়ে পড়েন কোনও রকম শপথ ছাড়াই। যাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়েন, আদর্শের কারণেই পড়েন। কথার খেলাপ করলে ঈশ্বর শাস্তি দেবেন, এই ভয়ে কেউ জনগণের সেবা করেন না। যাঁরা ঈশ্বরের নামে শপথ করে সাংসদ হিসেবে কাজ শুরু করেন, তারা কি তাঁদের শপথ ভাঙেন না? অহরহই ভাঙেন। এমন নয় যে তারা এমনই গোঁড়া ধার্মিক যে শপথ করেছেন কখনও অন্যায় করবেন না, তাই অন্যায় করবেন না। তাঁরা কিন্তু বারবারই ঈশ্বরের নামে করা শপথ ভেঙে তাদের ঈশ্বরকে অপমান করছেন বারবার, শপথকে অর্থহীন করছেনই। শপথ প্রক্রিয়ায় ধর্ম বা ঈশ্বরকে আনারই তো দরকার নেই, বিশেষ করে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে। এখনও যে-সব দেশে রাজতন্ত্র বজায় আছে, এখনও সেসব দেশে রাজা রানীকে সেবা করার শপথ নেন সাংসদগণ। কোথাও কোথাও রাষ্ট্রপতিকে মেনে চলার শপথ নেওয়া হয়। ধর্ম থেকে রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করেও ইউরোপের কিছু কিছু দেশ এখনও ঈশ্বরের নামে শপথ নিচ্ছে। অথবা দেশ সেবার জন্য ঈশ্বরের সাহায্য চাইছে। ভালো যে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে আজকাল শপথ নিতে গেলে ঈশ্বরের নামে শপথ নিতে হয় না। ওদিকে বেশির ভাগ মুসলিম রাষ্ট্রে আল্লাহর নামে শপথ নেওয়া হয়। সেদিন ভারতের নতুন সাংসদগণ শপথ করার সময় নিজ নিজ ধর্ম বিশ্বাসের স্লোগান দিলেন। রাজনীতি ক্রমশ স্লোগানসর্বস্ব হয়ে উঠছে। কেউ বললেন, জয় শ্রীরাম, কেউ বললেন আল্লাহু আকবর। সংসদকে কি অন্তত ব্যক্তিগত ধর্ম বিশ্বাস থেকে আলাদা করা যায় না? ভারতে বিভিন্ন লোকের বিভিন্ন ভগবান। কেউ রামে বিশ্বাস করেন তো কেউ গণেশে, কেউ দুর্গায়, কেউ হনুমানে। কিন্তু সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে উত্তর ভারতীয় হিন্দু মৌলবাদীদের স্লোগান। সংসদকে ধর্ম থেকে দূরে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। ভারতীয় উপমহাদেশ ধর্মের কারণে বিভক্ত হয়েছে, এখনও ধর্মীয় মৌলবাদ আর সন্ত্রাস বড় একটি সমস্যা। পাকিস্তানে, বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে সংখ্যালঘু, অসাম্প্রদায়িক মানুষ এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতই নষ্ট হচ্ছে। ভারতের কাশ্মীরে মুসলিম সন্ত্রাসীদের নিয়ে সমস্যা চলছেই, নতুন উপদ্রপ মুসলিম কট্টরপন্থিদের ধরনে গড়ে ওঠা হিন্দু কট্টরপন্থি। তারা মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের অধিকার, সুশিক্ষা, সুস্বাস্থ্যের অধিকার, সকলের সর্বত্র নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার, স্বাধীনভাবে নিজের মত প্রকাশ করার অধিকার দাবি করে স্লোগান দেওয়ার চেয়ে ধর্মের স্লোগান দিতে বেশি আগ্রহী। এ কারণে রাজনীতিকরাও ভোটদাতাদের সন্তুষ্ট করার জন্য ধর্মের সেবা করতেও আগ্রহী হয়ে পড়েন। অথবা রাজনীতিকরাই জনগণকে উৎসাহ দেন ধর্মকে সবার ওপরে স্থান দেওয়ার জন্য। এতে করে জনহিতকর কাজের দায়িত্বও কমে যায় সরকারের, শুধু ধর্মের গোড়ায় জল ঢাললেই, দেখেছে বেশ জনপ্রিয় হওয়া যায়। কিছু কিছু রাজনৈতিক দল সংখ্যালঘুর দেখভাল করতে গিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুর কথা ভুলেই গিয়েছিল। তাদেরও যে অস্তিত্ব আছে, তারাও যে জনতা, তারাও যে ভোটার, ভুলেই গিয়েছিল। এবার হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে তাদের ভুলে গেলে তারাও একদিন না একদিন রুখে ওঠে। রাজনৈতিক দলগুলোকে সেই ভুলে যাওয়ার খেসারত দিতে হয়েছে। হিন্দুর স্বার্থ রক্ষা করার প্রশ্ন উঠলেই হিন্দুত্ববাদী বলে গালি দেওয়ার একটি রেওয়াজ শুরু হয়েছে, কিন্তু যে হিন্দুরা চায় তাদের ঘাড়ের ওপর চড়ে মুসলিম মৌলবাদীদের তোষণ বন্ধ হোক, তারা হিন্দু রাষ্ট্র কায়েম করার জন্য তো আদা-জল খেয়ে লাগেনি। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র না চেয়ে যারা হিন্দু রাষ্ট্র চাইছে, তাদের বরং হিন্দু মৌলবাদী বলা যায়। যদি হিন্দু রাষ্ট্র কায়েমের জন্য হিন্দু মৌলবাদীরা সন্ত্রাসী হয়ে উঠতো, অহিন্দুদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য খুন খারাবি করতো, তাহলে শুধু তাদের হিন্দুরাষ্ট্রবাদী বলা মানায়, তার আগে নয়। তাছাড়া হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য যদি যুগের পর যুগ ঘটতে থাকে, এক সময় বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে ওঠার অর্থ এই নয় যে, হিন্দু রাষ্ট্র কায়েম করে মুসলমানদের মেরে ফেলো অথবা নির্বাসনদ- দাও। তারা নিতান্তই হিন্দুত্ববাদী। আজ যে জয় শ্রীরামের স্লোগান উঠছে উত্তর ভারতে, এমনকী চিরকালের ধর্মনিরপেক্ষ পশ্চিমবঙ্গে, তারও কারণ রাজনীতিকদের দীর্ঘকাল যাবৎ সাধারণ হিন্দু জনতার স্বার্থের কথা না ভেবে শুধু মোল্লা মৌলভীদের স্বার্থের কথা ভাবা। সাধারণ হিন্দুদের এই প্রতিক্রিয়াকে হিন্দুত্ববাদ বলে গালি দেওয়া উচিত নয়। আজও উপমহাদেশের সর্বত্র হিন্দু মুসলমানের সহাবস্থান শান্তিপূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এটি যতদিন না করা সম্ভব হচ্ছে, ততদিন ধর্ম নিয়ে হিন্দু এবং মুসলমান দুই সম্প্রদায়ই মেতে থাকবে। এতে কারও সত্যিকার মঙ্গল হবে কিনা আমার সন্দেহ। যে দল হিন্দুদের অবহেলা করবে না, যে দলের কাছে হিন্দু ভোটের মূল্য আছে, সে দল আজ ভারতে তুমুল জনপ্রিয় এবং ক্ষমতায়। সবাই যে ভালোবেসে এই দলকে ভোট দিয়েছে তা নয়। ভোট দিয়েছে অন্য দলগুলোর বিরুদ্ধে যে দলগুলো এতকাল মোল্লা তোষণে বুঁদ হয়ে থেকেছে। ভারতেই একমাত্র দেখেছি বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলই সংখ্যাগুরুর ভোট পাওয়ার চেয়ে সংখ্যালঘুর ভোট পাওয়ার পেছনে বেশি দৌড়োয়। হিন্দুদের মধ্য থেকে যে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেল, তা রাজনীতিকদের টনক নড়িয়েছে যথেষ্ট। মানুষ হিসেবে সংখ্যাগুরু, সংখ্যালঘু, হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান ইহুদি শিখ নাস্তিক সংশয়বাদী সাদা কালো ধনী গরিব সকলকে সমান মূল্য দেওয়া উচিত। ধর্ম, ধন, শ্রেণি বা জাত দেখে মূল্য কম বেশি করা খুব বড় অপরাধ। এই অপরাধ সব রাজনীতিকই করছেন। কিন্তু তাঁরা কখনও স্বীকার করবেন না যে করছেন। পাকিস্তানে খ্রিস্টান এবং হিন্দুরা মোটেও নিরাপদ নয়। ভারতে আজকাল কিছু হিন্দুর মধ্যে মুসলিম-ঘৃণা বাড়ছে। গরু খাওয়ার অপবাদ দিয়ে তারা কিছু মুসলমানকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। হিন্দু মুসলমানের এই বিদ্বেষের অবসান কবে হবে? যে বিদ্বেষ কমানোর জন্য এত বড় দেশকে দু-টুকরো করা হলো, আজ সত্তর বছর হয়ে গেল দেশ ভাগ হয়েছে, তারপরও বিদ্বেষ কমেনি বিন্দুমাত্র! পরস্পরের প্রতি এই ঘৃণা এবং বিদ্বেষ কি কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা, নাকি এই বিদ্বেষ একেবারেই মৌলিক বিদ্বেষ, যার আদৌ কোনও সমাধান নেই! এভাবে হিন্দু মুসলমান যদি পরস্পরের জাতশত্রু হয়েই থেকে যায় যুগের পর যুগ, তাহলে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে আর যা কিছুই প্রতিষ্ঠিত হোক, শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না। কিন্তু কোনও ঘৃণা কোনও দিনই শেষ হওয়ার নয়, কোনও বিদ্বেষের কোনও দিনই ইতি ঘটবে না এ আমি বিশ্বাস করি না। পৃথিবীতে বার বারই মানুষ প্রমাণ করেছে যে কোনও বিদ্বেষেরই ইতি ঘটে। ছোটবেলায় রাস্তার মিছিলে হেঁটে হেঁটে আমিও আর সবার মতো বলতাম, অন্ন চাই, বস্ত্র চাই, বাঁচার মতো বাঁচতে চাই। সবার জন্য স্বাস্থ্য বা সবার জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা না হলে মানবো না, মানবো না স্লোগান দিয়ে শহর কাঁপাতাম। সময় বদলে গেছে। আজকাল অধিকারের দাবির চেয়ে ধর্মের দাবি বা ধর্মের স্লোগান বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। ধর্ম গেলানোর মতো সহজ কাজ আর কিছুই নয়। কঠিন কাজ হলো জনগণের জীবনযাপনের মান উন্নত করা, জনগণকে শিক্ষিত এবং সচেতন করা, জনগণকে কাজ দেওয়া, কাজ করার পরিবেশ দেওয়া, যাবতীয় বৈষম্য দূর করা। রাজনীতিকদের সহজ কাজটি করতে না দিয়ে বরং কঠিন কাজটিই করতে দেওয়া উচিত।তসলিমা নাসরিন
বাংলাদেশের গণমাধ্যম খুব বেশি স্বাধীন নয়,ফ্রিডম হাউজের প্রতিবেদন
৮জুন২০১৯,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:রাজনৈতিক স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা ফ্রিডম হাউজ সমপ্রতি বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই পর্যবেক্ষণ সংস্থা বিশ্বের দেশগুলোতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর ০ থেকে ৪ পয়েন্ট ধরে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। এতে বাংলাদেশ পেয়েছে ১ পয়েন্ট। অপরদিকে গণমাধ্যমের সবথেকে বেশি স্বাধীনতা নিশ্চিতকারী দেশগুলো পেয়েছে ৪ পয়েন্ট। এর মধ্যে রয়েছে সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, উরুগুয়েসহ মোট ২৬টি দেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত পেয়েছে ২ পয়েন্ট, পাকিস্তান ১ পয়েন্ট, নেপাল ২ পয়েন্ট, ভুটান ২ পয়েন্ট, আফগানিস্তান ২ পয়েন্ট, মালদ্বীপ ১ পয়েন্ট ও শ্রীলঙ্কা ২ পয়েন্ট। বাংলাদেশের বিষয়ে এই প্রতিবেদনে বলা হয়, এদেশের গণমাধ্যম খুব বেশি স্বাধীন নয়। এতে চিত্রগ্রাহক শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের খবর প্রচার করায় ও তাদের পক্ষে কথা বলায় শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বাংলাদেশে ব্লগার হত্যা ও তাদের লেখালেখির ওপর কড়াকড়ির সমালোচনা করেছে ফ্রিডম হাউজ। সংস্থাটির দাবি, বাংলাদেশের সাংবাদিকরা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা হারানো, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ভয়ে সেলফ-সেন্সরশিপের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। ফ্রিডম হাউজের গবেষণা ও বিশ্লেষণ বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক সারাহ রেপুচ্চি গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে নিম্নমুখী রাস্তার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি এ গবেষণায় উঠে আসা প্রধান দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। এতে তিনি লিখেছেন, গত এক দশকে বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় সংকুচিত হয়েছে। বিশ্বের প্রভাবশালী গণতন্ত্রগুলোতে পপুলিস্ট নেতাদের উত্থান হয়েছে। যারা মুক্ত গণমাধ্যমের গলা চিপে ধরছে। তবে, বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শুধু সংকুচিতই হয়নি কিছু দেশে এ অবস্থার উন্নতিও লক্ষ্য করা গেছে বলে জানিয়েছে ফ্রিডম হাউজ। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে- ইথিওপিয়া, মালয়েশিয়া, আর্মেনিয়া, ইকুয়েডর ও গাম্বিয়া। এই ৫টি দেশকে অন্ধকারে আলোর পথযাত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সারাহ রেপুচ্চি। এ ছাড়া, আরব বসন্তের পর মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পূর্বের তুলনায় বেড়েছে বলে জানিয়েছে ফ্রিডম হাউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে কর্তৃত্ববাদী সরকার ও প্রভাবশালী মহলের চাপেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দিনদিন হুমকির মুখে পড়ছে। সাংবাদিকরা নানান ধরনের বাধার মুখোমুখি হচ্ছেন। তাদের ওপর গ্রেপ্তার ও নির্যাতন বাড়ছে বলেও জানানো হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। তবে দুর্বল গণতন্ত্র ও নতুন গণতন্ত্রের দেশগুলোতে সবথেকে বেশি চাপের মুখে রয়েছেন তারা। এ ছাড়া চীন ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে শোচনীয় বলে উল্লেখ করেছে ফ্রিডম হাউজ। তাদের তালিকায় চীন পেয়েছে শূন্য পয়েন্ট। সংস্থাটির দাবি, চীন ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সরকার তাদের গণমাধ্যমগুলোকে নিজস্ব মতামত চাপিয়ে দিচ্ছে। চীনে সরকারের মতবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের ওপর চাপ দেয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে এ প্রতিবেদনে। এ ছাড়া চীনের প্রতি সংবাদ সেন্সরের অভিযোগও আনে ফ্রিডম হাউজ। ইউরেশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর বিষয়ে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের তুলনায় এ অঞ্চলের দেশগুলোতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ১১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকদের নানা সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তারা কিছুটা চাপ অনুভব করেন বলে এই প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়। এ নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
ইসলামে সাংবাদিকতা একটি আমানত
৪জুন২০১৯,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাংবাদিকতা এক মহান, মহৎ, মর্যাদাশীল ও দায়িত্বপূর্ণ পেশা। সত্য প্রকাশে আপসহীনতাই একজন আদর্শ সাংবাদিকের মৌলিক বৈশিষ্ট। নতজানু সাংবাদিক দেশ, জাতি ও গণমাধ্যমের বড়শত্রু। সাংবাদিকতা শব্দটি এসেছে সংবাদ থেকে, যার ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো নিউজ আর আরবি প্রতিশব্দ হলো খবর, হাদিস, কিসসা বা নাবা। এই নাবা থেকেই নবী; নবী শব্দের অর্থ সংবাদদাতা, সংবাদ বাহক, দূত ইত্যাদি। এই দৃষ্টিতে প্রত্যেক নবীকেই একেকজন সাংবাদিক বলা যায়।সূত্রঃ আমাদের সময় ।কোরআন ও হাদিসে নাবা শব্দটি অনেকবার এসেছে। ৩০তম পারার প্রথম সূরাটির নাম আন-নাবা তথা সংবাদ। মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) এর যত বাণী রয়েছে সেগুলোকে খবর বা সংবাদ বলা হয়েছে। তিনি সাহাবিদের উপদেশ দিতে গিয়ে এভাবে উল্লেখ করেছেন,আমি কী তোমাদেরকে এমন সংবাদ দিব না যার ওপর আমল করলে তোমরা জান্নাতে যেতে পারবে?যেহেতু প্রত্যেক নবী-রাসূল আল্লাহর দেয়া সংবাদ পৃথিবীর মানুষদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন সেহেতু তাঁরা মূলত ইসলামি সাংবাদিকতা তথা ইসলামের সংবাদ কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আরো বুঝা গেল, সাংবাদিকতা এক মহান, মহৎ, মর্যাদাশীল ও দায়িত্বপূর্ণ পেশা। ইসলামি সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি- ইসলামে সাংবাদিকতার গুরুত্ব অপরিসীম। দাওয়াত তথা আল্লাহর দিকে মানুষকে আহ্বান করা ইসলামের অন্যতম ইবাদত। আর সাংবাদিকতা কিছুতেই দাওয়াত বিমুক্ত হতে পারে না। তাই ইসলামে সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি তিনটি- (এক) দাওয়াত ইলাল খাইর তথা কল্যাণের পথে আহ্বান। (দুই) সৎ, সত্য ও ন্যায়ের আদেশ। (তিন) অসৎ, অসত্য ও অন্যায় থেকে বাধা প্রদান। ইসলামি সাংবাদিকতার নীতিমালা- আমানত বা বিশ্বস্ততা রক্ষা করা: ইসলামে সাংবাদিকতা একটি আমানত। আর এর দাবী হচ্ছে, যেকোনো তথ্য ও সংবাদকে বস্তুনিষ্ঠভাবে গণমাধ্যমে তুলে ধরা। নিজস্ব চিন্তা কিংবা দল-মতের রংচং মাখিয়ে সংবাদকে আংশিক বা পুরোপুরি পরিবর্তন করে উপস্থাপন করা ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম। আল্লাহ বলেন, হে ইমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো।(সূরা আল আহজাব-৭০) আমানতের খেয়ানত ইসলামে কঠোরভাবে নিষেধ আল্লাহ বলেন, হে ঈমানদারগণ! খেয়ানত করোনা আল্লাহর সঙ্গে ও রাসূলের সঙ্গে এবং খেয়ানত করো না নিজেদের পারস্পরিক আমানতে জেনে-শুনে। (সূরা আল আনফাল-২৭) খবরের সত্যতা যাচাই: ইসলামে সততা ও সত্যবাদীতার গুরুত্ব অপরিসীম। মিথ্যা বলা মহাপাপ বা কবিরা গুনাহ। আনাস (রা.) বলেন, রাসূল (সা.)-কে কবিরা গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেন, আল্লাহর সঙ্গে কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করা, মা-বাবার অবাধ্য হওয়া। কাউকে হত্যা করা আর মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া। (বুখারি) তাই সংবাদের তথ্য যাচাই ও সত্যতা নিরুপণ করা সাংবাদিকের অপরিহার্য কর্তব্য। শোনা কথা বা ব্যক্তি বিশেষের দেয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে সংবাদ পরিবেশন জায়েয নয়। মহান আল্লাহ বলেন, হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো বার্তা নিয়ে আসে, তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে। যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি সাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে যাতে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদের অনুতপ্ত হতে না হয়। (সূরা আল হুজুরাত-৬) প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন,যা শুনবে, তা-ই (যাচাই করা ছাড়া) প্রচার করা মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যথেষ্ট। (মুসলিম শরিফ) তথ্য গোপন রোধ: ব্যক্তি স্বার্থ, দলীয় স্বার্থ কিংবা নিজস্ব চিন্তা-চেতনা বিরোধী হওয়ায় অনেকে প্রাপ্ত তথ্য গোপন করে থাকে। নিউজ রুমে অনেক নিউজ কিল করা হয়। এটি ইসলাম সমর্থন করেনা। সত্য ও সাক্ষ্য গোপন করা আল কোরআনের দৃষ্টিতে অসুস্থ মনমানসিকতার পরিচায়ক। আল্লাহ বলেন, আর তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না, আর যে ব্যক্তি তা গোপন করে, অবশ্যই তার অন্তর পাপী। (সূরা আল বাকারা-২৮৩) প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন,আল্লাহ ওই ব্যক্তির চেহারা উজ্জ্বল করুন; যে আমার কথা শুনে অতঃপর তা হুবহু ধারণ করে অবিকল অন্যের কাছে পৌঁছে দেয়।(তিরমিজি শরিফ) ব্যক্তিস্বার্থে কাউকে দোষারোপ করা যাবে না: আক্রোশ তাড়িত হয়ে কাউকে হেয় করার মানসে তার ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা খুবই অন্যায়। আল্লাহ তায়ালা বলেন,হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে সাক্ষ্যদানের ব্যাপারে নীতিবান থাকবে এবং কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদের কখনো যেন সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে।(সূরা মায়েদা : ৮) ব্যক্তি অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট না হলে কারো দোষ-ক্রটি জনগণের সামনে তুলে ধরার অনুমতি ইসলাম দেয় না। বরং প্রিয় নবী (সা.) মানুষের ব্যক্তিগত দোষ-ক্রটি গোপন রাখতে উৎসাহ দিয়েছেন। আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,যে দুনিয়াতে কোনো বান্দার দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।(মুসলিম ও বুখারি) মনে রাখা দরকার, কোনো ব্যক্তির দোষ তার অগোচরে বর্ণনা করার নাম হলো গীবত। গীবত বা পরনিন্দা মহাপাপ। কোরআনে একে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। হাদিস শরীফে গীবতকে ব্যাভিচারের চেয়েও মারাত্মক বলা হয়েছে। আর অপবাদের গুনাহ এর চাইতেও ভয়াবহ। অতএব প্রত্যেক সাংবাদিককে কারো ব্যাপারে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করার আগে অনেকবার চিন্তা করা উচিত। তবে ব্যক্তির দোষ-ত্রুটি যদি এমন পর্যায়ের হয় যে, তার দ্বারা অন্য ব্যক্তি, সমাজ কিংবা রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে তার অত্যাচার, দুর্নীতি ও প্রতারণা থেকে জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে তার আসল চেহারা তুলে ধরতে অসুবিধা নেই। এ বিষয়ে ইসলাম বিশেষ ছাড় দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,আল্লাহ মন্দ কথার প্রচার-প্রসার পছন্দ করেন না, কিন্তু যার ওপর জুলুম করা হয়েছে (তার কথা ভিন্ন)।-(সূরা নিসা-১৪৮) তাফসিরবিদ আল্লামা মুজাহিদ (রহ.) বলেন, এ আয়াতের উদ্দেশ্য হলো, নিপীড়িত জনতার সপক্ষে গিয়ে জালিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা এবং বিষয়টি জনসম্মুখে প্রকাশ করা বৈধ। সত্য প্রকাশে আপোস নয়: অপশক্তির কাছে মাথা নত না করে নির্ভীকচিত্তে সংবাদ পরিবেশন করাই ইসলামের দাবি। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন,অত্যাচারী শাসকের সামনে ন্যায়বিচারের বাণী তুলে ধরা বড় জিহাদ।(তিরমিজি) মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) তার সাথীদের এই আদর্শেই গড়ে তুলেছিলেন। হজরত মুয়াজ (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) আমাকে বলেছেন,হে মুয়াজ, তুমি সত্যই বলবে, যদিও তা তিক্ত হয়। আল্লাহর ব্যাপারে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকের নিন্দা যেন তোমাকে প্রভাবিত না করে। মহান আল্লাহ বলেন,যারা অত্যাচার করেছে, তোমরা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না; অন্যথায় জাহান্নামের আগুন তোমাদের স্পর্শ করবে। (সূরা হুদ- ১১৩) তাই পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ বর্জন এবং নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন সাংবাদিক সমাজের কর্তব্য। অনুমান নির্ভর সংবাদ নয়: কোনো বিষয়ে সংবাদ পরিবেশনের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সঠিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা ইসলামী শরীয়ার অন্যতম বিধান। সুস্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া শুধু অনুমান ও জনশ্রুতি নির্ভর সংবাদ পরিবেশন করা প্রচলিত ও ইসলামী সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী। এ বিষয়ে আল্লাহর নির্দেশ,যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না; নিশ্চয়ই কান, চোখ, অন্তর- এগুলোর প্রতিটি সম্পর্কে কৈফিয়ৎ তলব করা হবে।(সূরা বনি ইসরাঈল-৩৬) হে মুমিনগণ! তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ।(সূরা আল হুজরাত-১২) গুজব ও মিডিয়া সন্ত্রাস কাম্য নয় সংবাদ কখনো গুজবের জন্য হতে পারেনা, এবং তা হতে পারেনা কাউকে বিভ্রান্ত বা প্রতারণা করার জন্য। গুজব ও মিডিয়া সন্ত্রাসের কারণে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে , সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয় এবং দেশ জুড়ে দেখা দেয় বিশৃংখলা। তাই এটা সম্পূর্ণ বর্জনীয়। আল্লাহ বলেন,এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করতে প্রয়াসী হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ অনর্থ সৃষ্টিকারীদেরকে পছন্দ করেন না। (সূরা কাসাস ৭৭) ইসলাম সাংবাদিকের সত্য বলার অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। তাই সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জাতির বিবেক সাংবাদিকদের ভূমিকা হবে আপোসহীন। উচ্চারিত হবে তাদের কন্ঠে তাদেরই অগ্রজ সাংবাদিক বিদ্রোহী কবির শ্লোগান অসত্যের কাছে কভু নত নাহি হবে শীর, ভয়ে কাঁপে কাপুরুষ লড়ে যায় বীর।একজন মুসলিম সাংবাদিক ইসলামী বিধি-বিধানের আলোকে সংবাদ কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা হবে ইবাদত এবং ইহপরকালীন জীবনের মুক্তির কারণ। এর ব্যতিক্রম হলেই একজন সংবাদকর্মী হয়ে যাবেন দুনিয়া ও আখেরাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। আল্লাহ আমাদের সকলকে বুঝার ও মানার তাওফিক দান করুন। আমিন।
সারাদেশে ১ হাজার ৭৯২টি সড়ক দুর্ঘটনা
০৩জুন২০১৯,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে সারাদেশে ১ হাজার ৭৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় এক হাজার ৮৯০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৫৪৩ জন। দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছে ৩১২ শিশু, ২৪২ জন নারী। বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির (এনসিপিএসআরআর) নিয়মিত মাসিক জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ক, আন্তঃজেলা সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কসহ সারাদেশে সংঘটিত দুর্ঘটনার তথ্য সংকলন করা হয়েছে। রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে এনসিপিএসআরআর। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের ২২টি বাংলা ও ইংরেজি জাতীয় দৈনিক, ১০টি আঞ্চলিক সংবাদপত্র এবং আটটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থার তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারিতে ৩৮৩টি দুর্ঘটনায় ৫৩ নারী ও ৭১ শিশুসহ ৪১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৭২৫ জন। ফেব্রুয়ারিতে ৪০১টি দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৪১৫, আহত ৮৮৪ জন। নিহতের মধ্যে নারী ৫৮ জন, শিশু ৬২টি। মার্চে ৩৮৪টি দুর্ঘটনায় ৪৬ নারী ও ৮২ শিশুসহ ৩৮৬ জনের মৃত্যু হয়, আহত হন ৮২০ জন। পরের মাস এপ্রিলে দুর্ঘটনার সংখ্যা ৩২৭টি। এতে ৩৮ নালী ও ৫৩ শিশুসহ মৃত্যু হয় ৩৪০ জনের, আহত হন ৬১০ জন। আর সবশেষ গত মে মাসে ২৯৭টি দুর্ঘটনায় ৪৭ নারী ও ৪৪ শিশুসহ ৩৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫০৪ জন। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিলে সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা কমেছে। তবে একমাসের তথ্যে দুর্ঘটনা-পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যাবে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। জাতীয় কমিটির পর্যবেক্ষণে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য যে ১০টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছিল, সেগুলো অপরিবর্তিত রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। কারণগুলো হলো চালকদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো; দৈনিক-চুক্তিতে চালক, কন্ডাক্টর বা হেল্পারের কাছে গাড়ি ভাড়া দেওয়া; অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগ; সড়কে চলাচলে পথচারীদের অসতর্কতা; বিধি লঙ্ঘন করে ওভারলোডিং ও ওভারটেকিং; দীর্ঘক্ষণ বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানো; ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব; জনবহুল এলাকাসহ দূরপাল্লার সড়কে ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করা; সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেলসহ তিন চাকার যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি; এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি ইঞ্জিনচালিত ক্ষুদ্র যানবাহনে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে বলেন, শুধু কঠোর আইন প্রণয়ন করে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব না। এজন্য সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে সড়ক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ যেমন দরকার, তেমনি আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন : বাংলাদেশের পুনর্জন্মের ভিত্তি
১৭মে,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: একমাত্র শেখ হাসিনার নেতৃত্বের দৃঢ়তার কারণেই ২০০৯-পরবর্তী বাংলাদেশ সেনা বা সেনাসমর্থিত শাসনের অবসান হয়। বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নয়নের মহাসড়কে বাঙালির স্বাধীন জাতিসত্তা তথা পৃথক জাতি রাষ্ট্রের চেতনার অন্যতম ভিত্তি যদি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনকে ধরে নেওয়া হয় তাহলেও ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় বাঙালির রাষ্ট্রভাষা বাংলা হবে, এর বিরোধীদের মধ্যে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের সংখ্যাও কম ছিল না। তাদের অনেকে আমাদের রাজনীতিতে নেতৃত্বস্থানীয়ও ছিলেন। খাজা নাজিমউদ্দিন ও নুরুল আমিনের নাম সবাই জানলেও ভেতরে ভেতরে তাদের সংখ্যা ছিল প্রচুর। তাদের ধারণা ছিল, সমগ্র পাকিস্তানে উর্দু রাষ্ট্রভাষা হলে তা ইসলাম আর ভূগোলের বিভ্রান্তি নিয়ে সৃষ্ট পাকিস্তানের অখ-তার রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। তারা বাংলা ও বাঙালিত্বের মধ্যে হিন্দুয়ানির গন্ধ সবসময়ই পেত। যার ফলে দেখা যায়, ১৯৬১ সালে রবীন্দ্রসংগীত ও রবীন্দ্রচর্চা নিষিদ্ধ করা হয় পূর্ব পাকিস্তানে। তারও আগে ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের সময়ও বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধেও এ দেশে প্রচুর লোকের অবস্থান ছিল। ৬৬ সালে যখন ছয় দফা ঘোষণা করা হয়, তখনও ছয় দফাকে ভারতীয়দের প্ররোচনায় ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করার লোক এ দেশে প্রচুর ছিল। পরবর্তী সময়ে ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময়ও আইয়ুবশাহীর পক্ষে এবং ৭০-এর নির্বাচনে বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের বিপক্ষে প্রচুর বাঙালি অবস্থান নিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের সংবিধান ও গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও নিপীড়নের সহায়ক হিসেবে কাজ করেছিল হাজার হাজার আলবদর, রাজাকার। জামায়াতে ইসলামীসহ অনেক অতিবাম রাজনৈতিক দল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতা করে পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধে নেমেছিল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দুনিয়ার অধিকাংশ দেশই আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিরোধিতাকে পরাজিত করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এ জাতি বিজয় অর্জন করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। পরাজিত হয় ৫২, ৫৪, ৬১, ৬৬, ৬৯, ৭০-এর বাঙালি চেতনার বিরুদ্ধাবলম্বনকারী শক্তি। কিছুদিনের জন্য পরাজিত শক্তি চুপচাপই ছিল; কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনককে হত্যার মধ্য দিয়ে পুনরায় ক্ষমতাসীন হয় দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের বিরোধীপক্ষ ৭১-এর পরাজিত শক্তি। আসলে ওই দিন যারা রাষ্ট্রক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে তারা মূলত আবার পূর্ব পাকিস্তানকেই কায়েম করে। মোশতাক, জিয়ার নেতৃত্বে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন হয় আজীবন বাঙালিত্বের বিরোধিতাকারী অপশক্তি। ইতিহাসের চাকা ঘুরতে থাকে পেছনের দিকে। ১৯৭৬ সালের ৩ মে এক ফরমান জারি করে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলগুলোকে পুনর্বাসিত করেন। রাজনীতিতে নিয়ে আসা হয় মুক্তিযুদ্ধের প্রধান বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামীকে। ১৯৭৬ সালের ২১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সায়েমের কাছ থেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের পদ কেড়ে নিয়ে কিছুদিন পর স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হন। ১৯৭৭ সালের ৩০ মে আইয়ুবীয় কায়দায় হ্যাঁ-না ভোটে ৮৮.৫ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতিতে ৯৮.৮৮ শতাংশ ভোট তার পক্ষে দিয়েছে বলে প্রচার করেন। ১৯৭৬ সালের ২৮ জুলাই পিপিআর ঘোষিত হওয়ার পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পুনরুজ্জীবিত হয়। যদিও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় আরও দুটি আওয়ামী লীগ তৈরির চেষ্টা করা হয়। আওয়ামী লীগে একাধিক বিভাজন সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু সময়ের পরীক্ষায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মূল আওয়ামী লীগই টিকে যায়। সামরিক শাসনের মধ্যে সেনানিবাসে বসে রাষ্ট্রীয় অর্থে উচ্চাভিলাষী ও ক্ষমতালিপ্সু সামরিক-বেসামরিক পাকিস্তানপন্থি দালাল ও সুবিধাবাদী দলছুট রাজনীতিকদের নিয়ে প্রথমে জাগো দল পরে বিএনপি গঠন করা হয়। ১৯৭৭ সালের ৯ এপ্রিল সেনাপ্রধান ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক থাকা অবস্থায় জিয়াউর রহমান জাগো দলে যোগ দেন। ১৯৭৮ সালের ১ মে থেকে উন্মুক্ত রাজনীতি শুরু হয়। জিয়া নির্বাচনসংক্রান্ত আইন সংশোধন করে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে শুধু সেনাবাহিনী প্রধানের রাজনৈতিক দলের সদস্য এবং রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ব্যবস্থা করেন। ১৯৭৮ সালের ৩ জুন ব্যাপক কারচুপিমূলক নির্বাচনে ৭৮.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জিয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। রাজনীতি রাজনীতিকদের জন্য ডিফিকাল্ট করার রাজনীতির প্রবর্তক ও মানি ইজ নো প্রবলেম অর্থনীতির জনক জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের ব্যাপক জালিয়াতিপূর্ণ নির্বাচনে ২০৭টি আসন পেয়ে ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বরে গঠিত বিএনপি সংসদ দখল করে। প্রথমে মশিউর রহমান যাদু মিয়াকে সিনিয়র মন্ত্রী এবং পরে ১৯৭৯ সালের ১২ মার্চ তিনি মারা গেলে পাকিস্তানপন্থি মুসলিম লীগ নেতা শাহ্ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। বাংলাদেশকে পাকিস্তানিকরণের ষোলকলা পূর্ণ করলেন জিয়াউর রহমান। পুরো দেশ চলে গেল পাকিস্তানি ভাবধারার লোকদের দখলে। বাকি থাকল শুধু পতাকা আর মানচিত্রটি, জাতীয় সংগীতটি বদলানোর চেষ্টার ধৃষ্টতাও দেখালেন তারা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বলবৎ হওয়া সামরিক আইন ও রাত্রিকালীন সান্ধ্য আইন প্রত্যাহার করা হয় ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল। ১৯৮১ সালের ১৩-১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ১৫ আগস্টের হত্যাকা-ের সময় ভাগ্যক্রমে বিদেশে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া শেখ হাসিনা নির্বাসিত জীবনযাপন করছিলেন দিল্লিতে। সভাপতি পদ গ্রহণে শেখ হাসিনাকে রাজি করানো এবং দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগের অংশ হিসেবে দিল্লিতে একাধিক বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগের নেতারা। তাদের মধ্যে ছিলেন আবুল মালেক উকিল, ড. কামাল হোসেন, জিল্লুর রহমান, আবদুল মান্নান, আবদুস সামাদ আজাদ, এম কোরবান আলী, জোহরা তাজউদ্দীন, সাজেদা চৌধুরী, ডা. এসএ মালেক, আমির হোসেন আমু, আবদুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদ। ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দিল্লিতে কয়েক দফা বৈঠক হয় আওয়ামী লীগ নেতাদের। এরই মধ্যে পাকিস্তানপন্থি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বিএনপি দেশব্যাপী প্রচারণা শুরু করে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রতিরোধের জন্য। তারা সারা দেশে প্রচুর লিফলেট ও হ্যান্ডবিল বিতরণ করে। জয় ও পুতুল জলবসন্তে আক্রান্ত হওয়ায় শেখ হাসিনার ঢাকা প্রত্যাবর্তন কয়েকদিন বিলম্বিত হয়। ১৯৮১ সালের ১৭ মে দুপুর ১২টায় পুতুলকে নিয়ে ঢাকায় আসেন শেখ হাসিনা। কিছুটা হলেও ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণের মতো। ওই দিন বঙ্গবন্ধুর অবতরণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামক প্রজাতন্ত্রটি দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছিল। শেখ হাসিনার ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণের মধ্য দিয়ে যে ভিত্তিকে উপড়ে ফেলার চেষ্টায় নড়বড়ে করে ফেলা হয়েছিল, তা পুনঃগ্রথিত হওয়ার যাত্রার শুভসূচনা। শেখ হাসিনাকে পেয়ে বাঙালি তার বাঙালিত্ব ও বাংলাদেশকে ফিরে পাওয়ার আশায় বুক বাঁধল। আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু সে;াগানে। জনস্রোতে কুর্মিটোলা বিমানবন্দরের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছিল। অনেক ঝুঁকি নিয়েই অবতরণ করেছিল শেখ হাসিনাকে বহনকারী ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ৭০৭ বোয়িং বিমানটি। লাখো লাখো মানুষ রাস্তার দু পাশে দাঁড়িয়েছিল। গগনবিদারী সে;াগানের মধ্যে বেরিয়ে আসেন সাদা রঙের ওপর কালো ডোরাকাটা তাঁতের মোটা শাড়ি পরা প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি তখন কাঁদছিলেন, প্রকৃতিও একই পথ ধরল। চারদিক অন্ধকার হয়ে বৃষ্টি শুরু হলো, সঙ্গে ঝড়। ট্রাক ও মিছিল চলছিল খুব ধীরগতিতে। সেই মিছিলে যোগ দেওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। মিছিল বনানী কবরস্থান হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে আসতে তিন ঘণ্টা সময় লাগল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যখন শেখ হাসিনা গণসংবর্ধনার মঞ্চে দাঁড়ালেন, তখনও প্রচ- ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দাঁড়িয়েছিল কমপক্ষে দশ লাখ মানুষ। শেখ হাসিনা কান্নাজড়িত কণ্ঠে আবেগময় ভাষণ দেন। তবে ভাষণে দৃঢ়তার কোনো অভাব ছিল না। আওয়ামী লীগের মতো স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী বৃহৎ সংগঠনটিকে নেতৃত্বদানে যে তিনি নিশ্চিতভাবে সফল হবেন তার বক্তৃতায় সে লক্ষণই পরিলক্ষিত হয়েছিল। তিনি বলেন, বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তি সংগ্রামে অংশ নেওয়ার জন্য আমি এসেছি। আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই। তার আগমনে গণজোয়ার নিয়ে আসে সারা দেশে। হতাশাগ্রস্ত আওয়ামী লীগ কর্মীরা সুসংগঠিত হতে শুরু করে। বিপন্ন যে জাতি দীর্ঘ স্বাধীনতা-সংগ্রামের সব অর্জন হারাতে বসেছিল, তাদের মনে আবারও হারানো মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ফিরে পাওয়ার আশা ফিরে আসে। শুরু হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার আন্দোলনের পথচলা। এরই মধ্যে ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানে নিহত হন। অবশ্য এটি ছিল জিয়ার আমলে অনেক সামরিক অভ্যুত্থানের একটি। ৭৫ থেকে ৮১ সাল পর্যন্ত সময়ে সেনাবাহিনীতে বহু অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানে প্রাণ দিতে হয় হাজার হাজার সেনাসদস্যকে। তাদের অনেককেই বিনাদোষে জিয়াউর রহমান হত্যা করেছিলেন বলে বহু প্রমাণ আছে। জিয়াউর রহমানের হত্যার মধ্য দিয়ে স্বৈরশাসনের অবসান হলো না, বরং উল্টো হেলিকপ্টার-সানগ্লাস-সাফারির জায়গায় জেঁকে বসল ছেঁড়া গেঞ্জি ও ভাঙা সুটকেস বাহিনী। কালুরঘাট এলাকা থেকে কথিত জিয়ার লাশের বাক্স ঢাকায় এনে লুই আই কানের স্থাপত্য নকশার চরম বিচ্যুতি ঘটিয়ে মাজার নির্মাণ করা হলো পবিত্র সংসদ এলাকায়। পাঠক লক্ষ করবেন, জিয়ার কথিত দ্বিতীয় কবরস্থানকে মিডিয়ায় এবং বিএনপির পক্ষ থেকে মাজার হিসেবে প্রচার চালানো হয়। অবশ্য জিয়ার মাজার তৈরির আগেই সংসদ ভবন এলাকায় সামনের দিকে আরেক কোনায় দখল নেয় সবুর খানসহ পাকিস্তানপন্থি কুখ্যাত রাজাকারের দল। সেটাও করেছিলেন জিয়াউর রহমান পরিকল্পিতভাবেই। ১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর ভোট কারচুপি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিচারপতি সাত্তারকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে নিয়ে আসে বাঙালির ইতিহাসের আরেক খলনায়ক এইচএম এরশাদ। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ড. কামাল হোসেনকে প্রার্থী মনোনীত করেছিল। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ ছেঁড়া গেঞ্জি আর ভাঙা সুটকেস বাহিনীর শিখ-ী বৃদ্ধ সাত্তারকে সরিয়ে জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। এরশাদ ক্ষমতা দখল করে জিয়ার পাকিস্তানি অসমাপ্ত কাজে নিবিড়ভাবে হাত দেন। মাজার-পীর ও লেডি সংস্কৃতির নব উত্থান ঘটে রাজনীতিতে। চরম ভ-ামির অংশ হিসেবে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম কায়েম করেন। বিভিন্ন পীর, বিশেষ করে আটরশির পীর চলে আসেন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কে হবেন এ সিদ্ধান্ত আসত আটরশি থেকে। কথিত আছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেট কর্তৃক প্যানেল নির্বাচনের রাতেই এক প্রার্থী চলে গিয়েছিলেন আটরশি; কিন্তু অধিকতর চতুর অন্যজন প্রতিদ্বন্দ্বী বহর আটরশি পৌঁছার আগেই এরশাদের এক বন্ধুকে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ সই করিয়ে নেন। মাদ্রাসা ও মসজিদকে ব্যবহার শুরু করেন রাজনৈতিক লুণ্ঠনের আবরণ হিসেবে। বেঁচে থাকলে যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচারে যার ফাঁসি হতো, এমন রাজাকার নেতা মাওলানা মান্নানকে মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আনোয়ার জাহিদরা পাকিস্তানিকরণের সিপাহসালার হিসেবে যোগ দেন এরশাদ বাহিনীতে। একই ধারাবাহিকতায় চুরির দায়ে এরশাদ জেল খাটার পর খালেদা জিয়ার উজির বাহিনীতে এসে শামিল হন আলবদর বাহিনীর প্রধান মতিউর রহমান নিজামী আর আলী আহসান মুজাহিদ। জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে এরশাদও হ্যাঁ-না গণভোটের খেলা আয়োজন করেছিলেন। এবার ভোটার উপস্থিতি দেখানো হয় ৯৫ শতাংশ, যার ৭১ শতাংশ এরশাদের ১৮ দফা কর্মসূচির পক্ষে। সামরিক শাসন চলতে থাকে। ১৯৮৩ সালের শুরুতে আওয়ামী লীগের ১৫ দলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয়। ৯ এপ্রিল হোটেল ইডেনে অনুষ্ঠিত ১৫ দলীয় ঐক্যজোটের এক সম্মেলনে শেখ হাসিনা সামরিক শাসনবিরোধী ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ১৯৮৬ সালের মার্চে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এরশাদবিরোধী আন্দোলন তুমুল আকার ধারণ করে। ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে কয়েকবার গৃহবন্দি করা হয়। ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার সমাবেশমুখী মিছিলে গুলি চালিয়ে এরশাদের পেটোয়া বাহিনী ৩৮ নেতাকর্মীকে হত্যা করে। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। শুরু হলো শেখ হাসিনাকে হত্যার আনুষ্ঠানিক মহড়া, যা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভাঙা সুটকেস বাহিনীর অন্যতম কর্ণধার হাওয়া ভবনখ্যাত তারেক রহমানের নেতৃত্বে গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ পায়। লেডি (মেরি)-পীর-বাম-রাজাকার-গোয়েন্দা শাসিত শাসনব্যবস্থার ভিত রক্ষার জন্য ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মীয় অনুশাসনের বহু দূরে অবস্থানকারী এরশাদ রাষ্ট্রের জন্য ধর্ম নির্ধারণ করে দেন ইসলাম। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতি নিয়ে রাজনীতিই ছিল এর উদ্দেশ্য। কোনো কিছুতেই এরশাদের শেষরক্ষা হয়নি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এরশাদবিরোধী আন্দোলন এত বেগবান হয় যে, জরুরি অবস্থা জারি করেও এরশাদ ব্যর্থ হন। সামরিক-বেসামরিক আমলারা পক্ষ ত্যাগ করতে শুরু করেন। আ স ম রব ও মওদুদরা পিছুটান দিতে থাকেন। ১৯৯০-এর ৬ নভেম্বর শেখ হাসিনা পান্থপথের জনসভায় সাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ দেখান। ৬ ডিসেম্বর সেই রূপরেখা অনুযায়ী এরশাদ শাসনের অবসান হয়। তারপরও ষড়যন্ত্রকারীরা দমে যায়নি। ১৯৯১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সূক্ষ্ম কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে ক্যান্টনমেন্টবাসী। ক্যান্টমমেন্টে অবস্থানকারী খালেদা জিয়ার দল ৩০ শতাংশ ভোট পেয়ে জামায়াতের সহযোগিতায় ক্ষমতাসীন হয়। ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়েও আসনসংখ্যার হিসাবে আওয়ামী লীগ আবারও রাজপথে। ক্যান্টনমেন্ট নিবাসী খালেদা জিয়া তার উত্তরসূরি ক্যান্টনমেন্টবাসী জিয়া-এরশাদের মতোই নির্যাতন, নিপীড়ন, লুণ্ঠন, সীমাহীন দুঃশাসনের রাজত্ব কায়েম করেন। ১৯৯২ সালে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাসে উদ্যোগী হন। বিভিন্ন কমিটি ও উপকমিটি গঠন করে দলীয় রাজনীতিতে আধুনিক ব্যবস্থাপনায় মেধার সমাবেশ ঘটান। আওয়ামী লীগ তার ঐতিহ্যকে অক্ষুণ রেখে আধুনিক মানসিকতার দলে রূপান্তরিত হয়। ঘাতক-দালাল নির্মূল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে আওয়ামী লীগ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনও বেগবান করা হয়। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রহসনের এক নির্বাচন করে বিএনপি; কিন্তু ক্ষমতায় টিকতে পারেনি। ৩০ মার্চ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পদত্যাগ করেন। ২১ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে অংশ নেন। শেখ হাসিনার বিজয় আঁচ করতে পেরে ক্যান্টনমেন্টবাসী অন্ধকারের শক্তি আবারও অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালায়, জাগ্রত জনতার প্রতিরোধের ভয় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিচক্ষণতায় তা ব্যর্থ হয়। ২৩ জুন সংখ্যাগরিষ্ঠ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। বাংলার জনগণ তাদের হৃত মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ আবার ফিরে পায়। আবার সক্রিয় হয় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা। ২০০১ সালে পাকিস্তানপন্থিদের আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা হয়। এবার জামায়াতে ইসলামী চলে আসে ক্ষমতার কেন্দ্রে, মন্ত্রিসভায় ঠাঁই করে নেয় তারা, জঙ্গি উত্থানের সব পৃষ্ঠপোষকতা শুরু হয় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে, সামরিক গোয়েন্দারা হাওয়া ভবনের সঙ্গে মিলেমিশে শুরু করে অস্ত্র এবং মাদকের ব্যবসা, দশ ট্রাক অস্ত্র এরই অংশ। শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলাসহ পরিচালনা করা হয় একাধিক হত্যাপ্রচেষ্টা। একই ধারায় দেশ চলে ২০০৯ সালের আগ পর্যন্ত। এমনকি ২০০৭-০৮ সালে আবারও দেশকে দখলে নেয় পাকিস্তানি মানসিকতার সামরিক গোয়েন্দা ব্রিগেডিয়ার বারী ও আমিনরা। একমাত্র শেখ হাসিনার নেতৃত্বের দৃঢ়তার কারণেই ২০০৯-পরবর্তী বাংলাদেশ সেনা বা সেনাসমর্থিত শাসনের অবসান হয়। বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নয়নের মহাসড়কে। -অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান,উপাচার্য,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশের ১১.৩ শতাংশ মানুষ অতি দরিদ্র
১৪মে,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বর্তমানে বাংলাদেশের ১১.৩ শতাংশ মানুষ অতি দরিদ্র। আর দরিদ্র মানুষের হার ২১.৮ শতাংশ বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। গতকাল হাউজহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেন্ডিচার সার্ভে(এইচআইইএস) প্রকল্পের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। অনুষ্ঠানে এ তথ্য প্রকাশ করেন বিবিএসের মহাপরিচালক ড. কৃষ্ণা গায়েন। এ সময় প্রকল্প পরিচালক ড. দিপংকর রায়, পরিচালক জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং যুগ্ম-পরিচালক একেএম আশরাফুল হক উপস্থিত ছিলেন। ২০১৮ সালের প্রক্ষেপন অনুযায়ী বিবিএস এ তথ্য প্রকাশ করেছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ শতাংশ, সেখানে ২০১৬ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ২৪.৩ শতাংশে। আর ২০০৫ সালে যেখানে অতি দারিদ্র্যের হার ছিল ২৫.১ শতাংশ, সেখানে ২০১৬ সালে তা কমে ১২.৯ শতাংশ হয়েছে।খানার আয় ব্যয়, জরিপ অনুযায়ী দেশের খানা প্রতি মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৯৮৮ টাকা। ২০১০ সালে ছিল ১১.৪৭৯ টাকা। মাথাপিছু আয় ২০১৬ সালে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৪০ টাকা, যা ২০১০ সালে ছিল ২ হাজার ৫৫৩ টাকা। সর্বশেষ হিসেবে পরিবার ভিত্তিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৭১৫ টাকা। ২০১০ সালে যা ছিল ১১ হাজার ২০০ টাকা।এদিকে মাথাপিছু আয় ও ব্যয় বাড়লেও খাদ্যগ্রহণের প্রবণতা কমেছে। বলা হয়েছে, ২০১০ সালে মাথাপিছু ৪১৬ গ্রাম ভাত গ্রহণ করা হলেও এর পরিমাণ নেমেছে ৩৬৭ গ্রামে। ২০১৬ সালে মাথাপিছু গম গ্রহণের প্রবণতা ১৯.৮৩ গ্রামে। ২০১৬ সালের পরিমাণ ২৬.০৯ গ্রাম। মাথাপিছু ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ ২০১৬ সালে ২ হাজার ২১০ কিলোক্যালরিতে নেমে এসেছে। যা ২০১০ সালে মাথাপিছু গড়ে ২ হাজার ৩১৮ কিলোক্যালরি খাদ্য গ্রহণ করা হতো।স্বাধীনতার পর থেকে অর্থের বড় অংশ খাদ্যে ব্যয় করা হলেও এবার খাদ্য বহির্ভূত খাতে বেশি অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে পরিবারগুলোর গড় অর্থ ব্যয়ের ৪৭.৭ শতাংশ ব্যয় হয়েছে খাদ্যে। এ সময়ে খাদ্যবহির্ভূত খাতে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫২.৩০ শতাংশে। যা ২০১৬ সালে খাদ্য খাতে ৫৪.৮ শতাংশ ও অন্য খাতে ৪৫.২০ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছিল। কৃষ্ণা গায়েন জানান, ২০০৫ সালে মোট ১০ হাজার ৮০টি পরিবার, ২০১০ সালে ১২ হাজার ২৪০টি পরিবার নিয়ে জরিপ করা হয়েছিল। ২০১৬ সালে নমুনা খানার সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৬ হাজার ৮০টি করা হয়। এই প্রকল্পের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হয় গত ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে বিশ্ব দারিদ্র্য নিরসন দিবসে। তিনি বলেন, চলতি মাসেই এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন বই আকার প্রকাশ করা হবে।
সড়ক দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৫৫২ জনের মৃত্যু
১২মে,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:দেশের সড়ক মহাসড়কে গত চার মাসে দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৫৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৩৯জন। নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি (এনসিপিএসআরআর) তাদের নিয়মিত মাসিক জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরেছে। শনিবার সংগঠনটি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ২২টি বাংলা ও ইংরেজি জাতীয় দৈনিক, ১০টি আঞ্চলিক সংবাদপত্র এবং আটটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থার তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারিতে ৩৮৩টি দুর্ঘটনায় ৫৩ নারী ও ৭১ শিশুসহ ৪১১ জনের প্রাণহানি এবং ৭২৫ জন আহত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে ৪০১টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হয়েছেন যথাক্রমে ৪১৫ জন ও ৮৮৪ জন। নিহতের তালিকায় ৫৮ নারী ও ৬২ শিশু রয়েছে। মার্চে ৩৮৪টি দুর্ঘটনায় ৪৬ নারী ও ৮২ শিশুসহ ৩৮৬ জন নিহত ও ৮২০ জন আহত হয়েছেন।এপ্রিলে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩২৭টি। এতে ৩৪০ জন নিহত ও ৬১০ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩৮ নারী ও ৫৩ শিশু রয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিলে সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা কমেছে। তবে এক মাসের তথ্যে দুর্ঘটনা-পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যাবে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া জাতীয় কমিটির পর্যবেক্ষণে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য যে ১০টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছিল সেগুলো অপরিবর্তিত রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। কারণগুলো হলো- চালকদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, দৈনিক-চুক্তিতে চালক, কন্ডাক্টর বা হেল্পারের কাছে গাড়ি ভাড়া দেয়া, অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগ, সড়কে চলাচলে পথচারীদের অসতর্কতা, বিধি লঙ্ঘণ করে ওভারলোডিং ও ওভারটেকিং, দীর্ঘক্ষণ বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানো, ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব, জনবহুল এলাকাসহ দূরপাল্লার সড়কে ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেলসহ তিন চাকার যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি ইঞ্জিনচালিত ক্ষুদ্রযানে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন। নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে বলেন, শুধু কঠোর আইন প্রণয়ন করে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব না। এজন্য সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে সড়কখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।

বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর