বুধবার টুঙ্গিপাড়ায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: আগামী বুধবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চতুর্থবারের মত প্রধানমন্ত্রী ও একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠন শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে টুঙ্গিপাড়ায় যাবেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব কাজী নিশাত রসুল স্বাক্ষরিত গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমানের কাছে পাঠানো এক ফ্যাক্স বার্তায় জানানো হয়, আগামী বুধবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ৯ টা ৫০ মিনিটে গণভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১০টায় বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে হেলিকপ্টার যোগে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কমপ্লেক্স মাঠে নির্মিত হেলিপ্যাডে অবতরণ করবেন। বেলা ১১টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে উপস্থিত হয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নিবেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার প্রদান করবেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের টুঙ্গিপাড়ায় আগমন উপলক্ষে জেলার সর্বত্র ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আমি সম্পূর্ণ সুস্থ ৮৫ বছর বয়সেও: মুহিত
অনলাইন ডেস্ক: বিদায়ী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ৮৫ বছর বয়সেও আমি সম্পূর্ণ সুস্থ। বার্ধক্য ছাড়া আমার কোনো রোগ নেই। মস্তিষ্কও ঠিকমতো কাজ করছে। তারপরও আমাকে অবসর দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ। আজ সোমবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ সময় নতুন মন্ত্রিসভার পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মুহিত বলেন, আগেও একবার অবসরের আবেদন করেছিলাম। তখন প্রধানমন্ত্রী বললেন, আপনি এখনো পুরোপুরি অ্যাকটিভ। আরো কাজ করতে হবে আপনাকে। অবসরে বই পড়ে ও বই লিখে সময় পার করবেন বলে জানালেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বললেন, আমার সংগ্রহে ৫০ হাজার বই আছে। এগুলো পড়ে শেষ করব। ৩৪টি বই লেখা হয়েছে। আরো একটি বই লেখার কাজে হাত দিয়েছি। এটা শেষ করতে পারলে জীবনে আর কোনো অপূর্ণতা থাকবে না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেননি মুহিত। ২০০৮ ও ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত হন তিনি। এবার ওই আসন থেকে নির্বাচন করে জয়ী হন তাঁরই ছোট ভাই এ কে আবদুল মোমেন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে মোট ১২টি বাজেট উপস্থাপন করেছেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে চলতি অর্থবছর পর্যন্ত টানা ১০টি বাজেট উপস্থাপন করেছেন মুহিত। অন্য দুটি যখন উত্থাপন করেন, তখন রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর শপথ নিলেন শেখ হাসিনা
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। আজ সোমবার বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে বঙ্গভবনের দরবার হলে এই অনুষ্ঠান শুরু হয়। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর বঙ্গভবন জামে মসজিদের পেশ ইমাম কোরআন তিলাওয়াত করেন। এরপরই রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে টানা তৃতীয়বারের মতো শপথবাক্য পাঠ করান। শপথবাক্য পাঠ শেষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করমর্দন করেন। পরে সেখানে রাখা শপথবাক্য পত্রে স্বাক্ষর করেন। এর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঞ্চ থেকে নেমে এসে প্রথমেই সেখানে বসে থাকা ছোট বোন ও বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানাকে জড়িয়ে ধরেন। পরে নিজের আসনে গিয়ে বসেন এবং মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান দেখেন। এর আগে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে বঙ্গভবনে পৌঁছান। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সেখানে পৌঁছান সাড়ে ৩টার দিকে। নতুন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথ পাঠের মধ্য দিয়ে বিলোপ হয়ে গেল পুরোনো মন্ত্রিসভা। শুরু হলো আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন একাদশ জাতীয় সংসদের নতুন মন্ত্রিপরিষদের কাজ। দুপুরের পর থেকেই মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ডাক পেয়েছেন এমন সংসদ সদস্য ও ব্যক্তিরা বঙ্গভবনে আসতে শুরু করেন। তিন স্তরের নিরাপত্তা পেরিয়ে তাঁদের দরবার হলে প্রবেশ করতে হয়। সেখানে প্রায় এক হাজার অতিথি বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিখুঁতভাবে শপথপর্ব সম্পন্ন করার জন্য শেষ মুহূর্তের তদারকির কাজ করছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিপুলভাবে জয়লাভ করে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট। এর পর গত ৩ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ, তার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিকরা এবং জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদ ভবনে শপথ নেন। ওই দিনই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের নেতা শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রপতি তাঁকে সরকার গঠনের আহ্বান জানান। এরপর গতকাল রোববার প্রধানমন্ত্রীসহ ৪৭ সদস্যের মন্ত্রিপরিষদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে আগে মন্ত্রী ছিলেন বা জ্যেষ্ঠ নেতা এমন ৩৬ জন বাদ পড়েছেন। বাদ পড়েছেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিকরাও। মন্ত্রিসভায় নতুন এসেছেন ৩১ জন। এর মধ্যে ২৭ জন একেবারেই নতুন। অন্যান্যবারের মতো এবারও মন্ত্রিপরিষদে শরিকদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে, এটা বিভিন্ন গণমাধ্যমে নানাভাবে আলোচনায় ছিল। কিন্তু মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য ডাক পাওয়ার তালিকায় শরিকদের কারো নাম না থাকায় অনেকেই অবাক হন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা আর বিশ্লেষণ। আজ দুপুর ২টার দিকে বঙ্গভবনে প্রবেশ করতে দেখা গেছে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে ডাক পাওয়া এনামুল হক শামীম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ডা. দীপু মনি, টিপু মুনশি প্রমুখ। আসছেন আজকের অনুষ্ঠানের অতিথিরাও। বঙ্গবভনের ভেতর ও বাইরে থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের অনুষ্ঠানটি কাভার করতে দেখা গেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রদত্ত তালিকা অনুযায়ী ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী ও তিনজন উপমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন। মন্ত্রীরা ও তাঁদের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় হচ্ছে—মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আ ক ম মোজাম্মেল হক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ওবায়দুল কাদের, কৃষি মন্ত্রণালয় মো. আবদুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আসাদুজ্জামান খাঁন, তথ্য মন্ত্রণালয় ড. হাছান মাহমুদ, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় আনিসুল হক, অর্থ মন্ত্রণালয় আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় মো. তাজুল ইসলাম, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ডা. দীপু মনি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কে আবদুল মোমেন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এম এ মান্নান, শিল্প মন্ত্রণালয় নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় গোলাম দস্তগীর গাজী, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় জাহিদ মালেক, খাদ্য মন্ত্রণালয় সাধন চন্দ্র মজুমদার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় টিপু মুনশি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নুরুজ্জামান আহমেদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় শ. ম. রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় মো. শাহাব উদ্দিন, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, ভূমি মন্ত্রণালয় সাইফুজ্জামান চৌধুরী, রেলপথ মন্ত্রলণালয় মো. নূরুল ইসলাম সুজন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় স্থপতি ইয়াফেস ওসমান এবং ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মোস্তাফা জব্বার। ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন—শিল্প মন্ত্রণালয় কামাল আহমেদ মজুমদার, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ইমরান আহমদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জাহিদ আহসান রাসেল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় নসরুল হামিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় মো. আশরাফ আলী খান খসরু, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মন্নুজান সুফিয়ান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় মো. জাকির হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মো. শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ জুনাইদ আহমেদ পলক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ফরহাদ হোসেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় স্বপন ভট্টাচার্য, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জাহিদ ফারুক, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় মো. মুরাদ হাসান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় শরীফ আহমেদ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় কে এম খালিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ডা. মো. এনামুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় মো. মাহবুব আলী এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন বিকেলে
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে বিকেলে। সোমবার (৭ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে তিনটায় বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন। গতকাল রোববার (৬ জানুয়ারি) এক ঝাঁক নতুন মুখ নিয়ে ঘোষণা করা হয় মন্ত্রিসভার ৪৬ সদস্যের নাম। নতুন মন্ত্রিসভার সবাই আওয়ামী লীগের। এ সভায় পূর্ণমন্ত্রী থাকছেন ২৪ জন, প্রতিমন্ত্রী ১৯ এবং উপমন্ত্রী ৩ জন। ৩১ জন নতুন মুখের মধ্যে ২৭ জনই প্রথমবারের মতো স্থান পেয়েছেন মন্ত্রিসভায়। ওবায়দুল কাদের ও ইয়াফেস উসমান ছাড়া দুই মেয়াদে মন্ত্রী ছিলেন এমন কেউই স্থান পাননি নতুন মন্ত্রিসভায়। এই প্রথম শেখ হাসিনার সরকারে শরিকদের কারো জায়গা হয়নি। ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নাম ও দফতর চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে নতুন গাড়ি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ৩ জানুয়ারি নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
ছয় মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর অধীনে
অনলাইন ডেস্ক: সরকার পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে থাকছে ছয় মন্ত্রণালয়। রোববার (৬ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ঘোষণা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর অধীনে যে ছয় মন্ত্রণালয় থাকছে সেগুলো হচ্ছে- মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। নতুন মন্ত্রিপরিষদ শপথ নেবে সোমবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে। এরই মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভায় যারা জায়গা পেতে যাচ্ছেন তাদের শপথ গ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর আগে ২০০৯ সালে নবম সংসদ ও ২০১৪ সালে দশম সংসদের পর এবার টানা তৃতীয় মেয়াদে সংসদ নেতা নির্বাচিত হলেন শেখ হাসিনা। তিনি ১৯৯৬ সালেও সপ্তম সংসদেও সংসদ নেতার ভূমিকায় ছিলেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
নতুনদের জয়জয়কার মন্ত্রিসভায়
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন নতুন মন্ত্রিপরিষদ শপথ নেবে আগামীকাল সোমবার। এরই মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভায় যারা জায়গা পেতে যাচ্ছেন তাদের শপথগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এবারের মন্ত্রিসভায় নতুনদের জয়জয়কার হয়েছে। রোববার বিকেল (৬ জানুয়ারি) সাড়ে ৪টায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য ও তাদের মন্ত্রণালয়ের নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। নতুন মন্ত্রিসভার ৪৬ সদস্যের নাম ও মন্ত্রণালয়- পূর্ণমন্ত্রী হচ্ছেন ২৪ জন। তারা হলেন- আ ক ম মোজাম্মেল হক (মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক) , ওবায়দুল কাদের (সড়ক পরিবহন ও সেতু), আব্দুর রাজ্জাক (কৃষি), আসাদুজ্জামান খান কামাল (স্বরাষ্ট্র), হাছান মাহমুদ (তথ্য), আনিসুল হক (আইন), আ হ ম মুস্তফা কামাল (অর্থ), তাজুল ইসলাম (স্থানীয় সরকার), ডা. দীপু মনি (শিক্ষা), এ কে আবদুল মোমেন (পররাষ্ট্র), এম এ মান্নান (পরিকল্পনা), নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন (শিল্প), গোলাম দস্তগীর গাজী (বস্ত্র ও পাট), জাহিদ মালেক (স্বাস্থ্য), সাধন চন্দ্র মজুমদার (খাদ্য), টিপু মুনশি (বাণিজ্য), নুরুজ্জামান আহমেদ (সমাজকল্যাণ), শ. ম. রেজাউল করিম (গণপূর্ত), মো. শাহাব উদ্দিন (পরিবেশ ও বন), বীর বাহাদুর ঊশৈ সিং (পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক), সাইফুজ্জামান চৌধুরী (ভূমি), নুরুল ইসলাম সুজন (রেলপথ), ইয়াফেস ওসমান-টেকনোক্র্যাট (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি), মোস্তাফা জব্বার- টেকনোক্র্যাট (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি)। ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন : কামাল আহমেদ মজুমদার (শিল্প), ইমরান আহমেদ (প্রবাসীকল্যাণ), জাহিদ আহসান রাসেল (যুব ও ক্রীড়া), নসরুল হামিদ (বিদ্যুৎ ও জ্বালানি), আশরাফ আলী খান খসরু (মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ), মন্নুজান সুফিয়ান (শ্রম), খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (নৌপরিবহন), জাকির হোসেন (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা), শাহরিয়ার আলম (পররাষ্ট্র), জুনায়েদ আহমেদ পলক (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি), ফরহাদ হোসেন (জনপ্রশাসন), স্বপন ভট্টাচার্য (স্থানীয় সরকার), জাহিদ ফারুক (পানিসম্পদ), মো. মুরাদ হাসান (স্বাস্থ্য), শরীফ আহমেদ (সমাজকল্যাণ), কেএম খালিদ (সংস্কৃতি), এনামুর রহমান (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ), মাহবুব আলী (বিমান), শেখ মো. আবদুল্লাহ- টেকনোক্র্যাট (ধর্ম)। ৩ উপমন্ত্রী হচ্ছেন- হাবিবুন নাহার (পরিবেশ), একেএম এনামুল হক শামীম (পানিসম্পদ), মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল (শিক্ষা)
বনানীতে চিরনিদ্রায় শায়িত সৈয়দ আশরাফ
অনলাইন ডেস্ক: সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। রোববার (৬ জানুয়ারি) বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় সৈয়দ আশরাফের মরদেহ দেশে আনার পর আজ সকাল ১০টার দিকে নেয়া হয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। সেখানে জাতীয় ও দলীয় পতাকায় মোড়া কফিনে ফুল দিয়ে এই আওয়ামী লীগ নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের হাজারো নেতাকর্মী আশরাফের জানাজায় অংশ নিয়ে স্মরণ করেন তাদের দুঃসময়ের কাণ্ডারীকে। সততা, নির্লোভ মানসিকতা আর রাজনৈতিক বিচক্ষণতায় নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সৈয়দ আশরাফ শেষযাত্রায় শ্রদ্ধা পেয়েছেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছ থেকেও। একাত্তরের রণাঙ্গনে মুজিব বাহিনীর এই যোদ্ধার প্রতি ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় রাষ্ট্রীয় সম্মান। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজার পর হেলিকপ্টারে করে সৈয়দ আশরাফের মরদেহ নেয়া হয় তার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। সেখানে পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে বেলা ১২টায় তার জানাজা হয়। এরপর দুপুর ২টায় ময়মনসিংহের আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠে আরেক দফা জানাজা হয়। তৃতীয় জানাজা শেষে ঢাকায় এনে আসর নামাজের পর বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। ৬৭ বছর বয়সী সৈয়দ আশরাফ ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। কয়েক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যু হয় তার। আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া তিনি আওয়ামী লীগে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি একাদশ সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ নৌকার প্রার্থী হয়ে আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
শপথ নিলেন এরশাদ
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে সংসদ ভবনে গিয়ে রোববার দুপুরে শপথ নেন তিনি।স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাকে শপথ পড়ান। এর আগে, গতকাল শনিবার বেলা একটার দিকে শারীরিক অসুস্থতার জন্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি হন সাবেক রাষ্ট্রপতি। তার সহকারী একান্ত সচিব মনজুরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানিয়েছেন। অসুস্থতার কারণে গত বৃহস্পতিবার সাংসদ হিসেবে শপথ নিতে যাননি এরশাদ। রংপুর ৩ আসন থেকে এবার সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। তবে অসুস্থতার কারণে নির্বাচনী এলাকায়ও যেতে পারেননি তিনি। গত ১০ ডিসেম্বর চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন এরশাদ। ২৬ ডিসেম্বর দেশে ফিরে ঢাকার বাসায় ছিলেন তিনি। গত ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট বিশাল বিজয় অর্জন করেছে। জাতীয় সংসদের ঘোষিত ফলাফলে ২৯৮ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ একাই পেয়েছে ২৫৭টি আসন। মহাজোটভুক্ত জাতীয় পার্টি জিতেছে ২২টি সংসদীয় আসনে। আগামীকাল সোমবার মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হবে।
কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া মাঠে সৈয়দ আশরাফের জানাজায় লাখো মানুষের ঢল
অনলাইন ডেস্ক: প্রিয়নেতাকে একনজর দেখতে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া মাঠে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নামাজে জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল। অশ্রুসিক্ত চোখে প্রিয়নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ আজ এক কাতারে এসেছেন। প্রিয় মানুষকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে কিশোরগঞ্জ জেলাসহ আশপাশের অন্যান্য জেলার মানুষও এসেছেন। মুক্তিযুদ্ধের বীরসেনানী, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হলো তার জেলা কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নামাজে জানাজায় অংশ নিতে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান জনসমুদ্রে পরিণত হয়। আজ রবিবার বেলা ১:২০ মিনিটে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে আশরাফের নির্বাচনী এলাকাসহ জেলা আওয়ামী লীগ ও সর্বস্তরের জনতার অংশগ্রহণে জানাজা শুরু হয়। এর আগে ঢাকা থেকে তাঁর মরদেহ হেলিকপ্টারে করে কিশোরগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়। সৈয়দ আশরাফের জানাজার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই শোলাকিয়া ময়দানে জনসমাগম বাড়তে থাকে। বেলা ১২টা নাগাদ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় শোলাকিয়া ময়দান। প্রয়াত নেতার স্মরণে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের বহু দোকান ও ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। কালো ব্যাজ ধারণ করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ আশরাফের শুভানুধ্যায়ীরা। জানাজার পর সৈয়দ আশরাফের কফিনে শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ।

জাতীয় পাতার আরো খবর