১ সেপ্টেম্বর থেকে আগের ভাড়ায় গণপরিবহন: ওবায়দুল কাদের
২৯আগস্ট,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আগের বাড়ায় গণপরিবহন চলবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তবে এক্ষেত্রে আসনের অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ও দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়া যাবে না বলেও জানান তিনি। শনিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকা জোনের বিআরটিএ ও বিআরটিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সেতুমন্ত্রী এ কথা জানান। ওবায়দুল কাদের সংসদ ভবন এলাকায় তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ সভায় যুক্ত হন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি ও জনস্বার্থ বিবেচনা করে সরকার আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে গণপরিবহন আগের নির্ধারিত বাড়ায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তবে এক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত সংশ্লিষ্টদের প্রতিপালন করতে হবে। গণপরিবহনের যাত্রী, চালক, সুপারভাইজার, চালকের সহকারী, টিকিট বিক্রয়কারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে। হাত ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত সাবান পানি অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আসন সংখ্যার অতিরিক্ত কোনো যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। অর্থাৎ যত সিট তত যাত্রী পরিবহন নীতি কার্যকর হবে। দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। প্রতিটি ট্রিপের শুরু ও শেষে যানবাহন জীবাণুমুক্ত করতে হবে। সেতুমন্ত্রী এসময় নিয়ম ও শর্ত মেনে পরিবহন চালানোর জন্য পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের আহ্বান জানান। পাশাপাশি যাত্রীসাধারণকেও মাস্ক পরিধানসহ নিজের সুরক্ষায় সচেতন থাকার আহ্বান জানান। ওবায়দুল কাদের নতুন সিদ্ধান্তের বিষয়টি বিজ্ঞপ্তি আকারে জানানোর পাশাপাশি আইন অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত কার্যক্রম জোরদার করতে বিআরটিএকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। একইসঙ্গে তিনি হাইওয়ে পুলিশ, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়টি কঠোরভাবে প্রতিপালনের জন্য অনুরোধ করেন।
বঙ্গবন্ধুকে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে: নৌ-প্রতিমন্ত্রী
২৯আগস্ট,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও দর্শনকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের কোনো অগ্রগতি হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে সক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। ইতিহাসকে বাদ দিয়ে পথ চলা যায় না। গতকাল বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত বঙ্গবন্ধু ও গণমাধ্যম শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নৌ-প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনো বিতর্ক করার প্রয়োজন নেই। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তখনই বিতর্ক হয়, যখন বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের লালন-পালন করা হয়। বিতর্ক তখনই হয়, যখন এ খুনিদের পুনর্বাসন করা হয়, যখন আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। এ বিতর্ক থেকে যতদিন আমরা বেরিয়ে আসতে পারব না; ততদিনই আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আমরা চাই, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর যেই স্বপ্ন, ৩০ লাখ শহীদদের যেই স্বপ্ন, সেই স্বপ্ন এখানে বাস্তবায়ন হবে। রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের স্বপ্ন, এ বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হতে পারে না। বঙ্গবন্ধুর প্রতি এটাই আমাদের ওয়াদা থাকবে। তিনি বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু একমাত্র নেতা, যিনি একটি রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করেছেন। সেই রাজনৈতিক দলকে জনগণের দ্বারে দ্বারে নিয়ে গেছেন। তাদের একই প্লাটফর্মে এনে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন। এবং সেই দলের নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, দেশ স্বাধীন হয়েছে। তার নাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এটা পৃথিবীর ইতিহাসে দ্বিতীয়টি নেই। খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পাকিস্তানের কায়েদে আজম কিন্তু মুসলিম লীগ সৃষ্টি করেননি। তিনি মুসলিম লীগে যোগদান করেছেন। মহাত্মা গান্ধী কিন্তু কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেননি। তিনি কংগ্রেসে যোগদান করেছেন। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সৃষ্টির সঙ্গে ছিলেন। এবং সেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তিনি বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছেন। বাকশালকে ঘিরে যারা বঙ্গবন্ধু হত্যাকে জায়েজ করার চেষ্টা করে, তাদের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাকশালকে একটি নেগেটিভ জায়গায় ফেলে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে যে কথাগুলো বলা হয়, যেগুলো কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। খালিদ মাহমুদ বলেন, উপজেলা পরিষদ সিস্টেম, জেলা পরিষদের বিকেন্দ্রীকরণ বাকশালের কর্মসূচির অংশ। আজকের যে সবুজ বিপ্লব ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বলা হয়, আজকে সেই বাকশালকেই কিন্তু ধারণ করতে হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে গণমাধ্যম কর্মীদের সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা বঙ্গবন্ধুর চিন্তাচেতনা আগলে রাখতেন। আজকে আমাদের দায়িত্ব বাংলাদেশকে আগলে রাখার। গণমাধ্যম এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের অনেক বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যেখানে মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এখানকার মানুষ বিরোধিতা করেছে। নিজ দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে দেশের মানুষের বিরোধিতা করার ঘটনা দ্বিতীয়টি আমার জানা নেই। সেই অংশটি এখনো বাংলাদেশের বিরোধিতা করছে। তারা বিভিন্নভাবে বঙ্গবন্ধুকে খাটো করার চেষ্টা করে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বাংলাদেশ জার্নালের সম্পাদক শাহজাহান সরদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, ডিআরইউর সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করেছেন চসিক প্রশাসক সুজন
২৮আগস্ট,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পরিচালনায় সহযোগিতা চেয়েছেন (চসিক) প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন। সুজন চসিকের বর্তমান পরিস্থিতি, উন্নয়ন এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো মন্ত্রীকে অবহিত করেন। চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসনসহ বিভিন্ন প্রকল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করার জন্য মন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। চট্টগ্রামের জনগণের বিনোদন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ছাড়াও নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণেও মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন চসিক প্রশাসক। সর্বোপরি চসিকের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিও তিনি উত্থাপন করেন। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক হৃদপিণ্ড। চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানেই বাংলাদেশের উন্নয়ন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের গুরুত্ব বিবেচনা করে চট্টগ্রামের মেগা প্রকল্পগুলোতে প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রামের উন্নয়নসহ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তথ্যমন্ত্রী। চসিক প্রশাসক সুজন সুবিধাজনক সময়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে আসার আমন্ত্রণ জানান তথ্যমন্ত্রীকে।- আজাদী অনলাইন
মুক্তির মেয়াদকাল বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেবে খালেদা জিয়া
২৮আগস্ট,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি লিখবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে খালেদার পরিবারের সদস্যরা তার মুক্তির মেয়াদকাল বাড়াতে লিখিত আবেদন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন। সেসময় সরকারপ্রধানের হাতে এ চিঠি পৌঁছে দেয়া হবে। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এ খবর জানালেও দায়িত্বশীল কেউ বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মুখ খুলছেন না। বিএনপি চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার শর্তসাপেক্ষে মুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার আগেই মেয়াদ বাড়াতে আবেদন করবে খালেদার পরিবার। সেজন্য অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ খালেদা জিয়ার চার আইনজীবী তার পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে মুক্তির মেয়াদকাল বাড়ানোর আবেদনের একটি খসড়া প্রস্তুত করেছেন। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এ আবেদন পৌঁছে দেয়া হবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। একটি দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, মুক্তির মেয়াদকাল বাড়ানোই শুধু নয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে খালেদার পরিবারের সদস্যরা তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেয়ার জন্যও আবেদন করবেন। এসময় খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি চিঠিও দেয়া হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুটি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে থাকা খালেদা জিয়াকে ২৫ মাসের মাথায় গত ২৫ মার্চ শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয় সরকার। করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে মানবিক দিক বিবেচনায় ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে এ মুক্তি দেয়া হয়। তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং বিদেশ যেতে পারবেন না, এমন শর্তে সাজা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। শর্তসাপেক্ষে মুক্তির পর সেদিন গুলশানের ভাড়া বাসা ফিরোজায় ওঠেন খালেদা জিয়া। এখন সেখানেই আছেন তিনি। নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, মুক্তি দেয়ার পর অসুস্থতা বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে দিতেও সরকারের হাইকমান্ডের মনোভাব ইতিবাচক দেখা যাচ্ছে। খালেদা জিয়ার পরিবারও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে সরকারের ক্ষমতাশালী উচ্চপর্যায়ে, যারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খালেদার পরিবারের যোগাযোগের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে কৌশলগত কারণে কোনো পক্ষই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে রাজি নয়। দায়িত্বশীল একটি সূত্রের তথ্য, যে মাধ্যমে খালেদা মুক্তি পেয়েছিলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দেশের বাইরে নিতে সরকারের সেই মাধ্যমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে পরিবার। এরই মধ্যে একবার বৈঠকও হয়েছে দুপক্ষের। সেখান থেকে সবুজ সংকেত পেয়েই খালেদার পরিবার করোনার অজুহাতে দেশের কোনো হাসপাতালে তার চিকিৎসা করাননি। সূত্রে জানা গেছে, সরাসরি রাজনীতি থেকে অবসরের কথা না বললেও খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যেতে সরকারের পক্ষ থেকে দুটি শর্তের কথা জানানো হয়েছে। প্রথমত লন্ডনে গিয়েও চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়া প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে পারবেন না। গুলশানের বাসায় যেভাবে বাস করছেন, লন্ডনেও ঠিক তেমনি থাকবেন। দ্বিতীয়ত বিদেশিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ থেকে বিরত থাকবেন। লন্ডনে থাকাবস্থায় থাকতে হবে রাজনৈতিক বক্তব্য-বিবৃতি দেয়া ও সভা-সমাবেশে যোগদান থেকেও। পাশাপাশি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎও করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে খালেদার পরিবার শর্ত মেনেই তাকে বিদেশ নিয়ে চিকিৎসা দিতে রাজি থাকলেও বিএনপি প্রধান শর্ত ছাড়াই লন্ডন যেতে চান। যদিও তার এ অবস্থানের বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য কবে নাগাদ আবেদন করা হবে জানতে চাইলে এ বিষয়ে তার আইনজীবী ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, এটা সরকারের ব্যাপার। আইন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যাপারটি ডিল করবে। অন্যদিকে আমরা আইনজীবীরা নই, পরিবারের সদস্যরা ব্যাপারটি দেখছেন। তবে শিগগির খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আবেদন করা হবে বলে জানান তিনি। খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার জন্য আবেদন করা হবে কি-না জানতে চাইলে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, তার চিকিৎসা বাংলাদেশে হচ্ছে। হাঁটু অপারেশন হয়েছে, সেটার জন্য বিদেশ যেতে হতে পারে। খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে কোনো চিঠি দেয়া হচ্ছে কি-না, এ ব্যাপারে কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন বিএনপির এ যুগ্ম-মহাসচিব। খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম বলেন, মুক্তির পর তিনি এখন পর্যন্ত কোনো শর্ত ভঙ্গ করেননি। তাই এ ব্যাপারে সরকার কঠোর হবে না বলে আমরা মনে করি। তার বিদেশে চিকিৎসা প্রয়োজন। আরও পড়ুন-করোনা টেস্ট বাড়ানোর আহ্বান কাদেরের তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার এখনো তেমন উন্নতি হয়নি। চলাফেরাও করতে পারছেন না। মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে আবেদন তো করতেই হবে। তবে কখন করব সে ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরেই খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার কথা বলে আসছেন। গত ১ আগস্ট ঈদুল আজহার দিন তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, বিদেশে না যাওয়ার জন্য খালেদা জিয়াকে শর্ত দেয়া হয়েছে। কিন্তু তার বিদেশে চিকিৎসাই এখন বেশি প্রয়োজন। খালেদা জিয়া বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন, সেই সুযোগের অপেক্ষায় আছি আমরা। সূত্র: জাগো নিউজ
করোনা টেস্ট বাড়ানো, দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার আহ্বান কাদেরের
২৮আগস্ট,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস শনাক্তে নমুনা পরীক্ষা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। একইসঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসার ভোগান্তি যাতে না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি টেস্ট রিপোর্ট দ্রুত নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক উপ-কমিটি আয়োজিত চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের সংসদ ভবন এলাকায় তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালেকর উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা টেস্ট আরও বাড়াতে হবে। রিপোর্ট দেওয়ার বিষয়টি যাতে বিলম্ব না ঘটে, টেস্টের পরপরই যাতে রিপোর্ট পাওয়া যায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। একজন ডাক্তার তার বাবার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে চিকিৎসা দিতে পারেননি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন ডাক্তার হয়ে বাবা-মাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে পারবেন না, পথে মারা যাবেন, এর চেয়ে বেদনাদায়ক আর কী হতে পারে। আমি স্বাস্থ্যের ডিজিকে অনুরোধ করব, এই যে হাসপাতালে হাসপাতালে চিকিৎসার উপেক্ষা, এটা যাতে দূর হয়, সে ব্যবস্থা নেবেন। যারা প্রবাসে চাকরি করেন, চাকরি আছে, চাকরি ফেরত পাওয়ার জন্য ফিরে যেতে টেস্ট করাতে গিয়ে সময় মতো রিপোর্ট পাওয়া যায় না। ফেরত আসতে হয়। এটা দেখবেন। ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, অনুপ্রবেশকারীরা দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে। দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা সরকার ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কিছু করেন না। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে, সুবিধাবাদী অনুপ্রবেশকারীরা দলের ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। বসন্তের কোকিলরা, সুবিধাবাদীরা দুঃসময়ে দলে থাকে না। ত্যাগী পরীক্ষিত নেতাকর্মীরাই দুঃসময়ে দলকে ধরে রাখেন। তাই আমি সবাইকে বলব, দলের কোনো স্তরে, কোনো পর্যায়ে কোনো প্রকার অনুপ্রবেশকারী, সুবিধাভোগীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবেন না। দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, আমাদের করোনা ভাইরাস চিকিৎসা সামগ্রীর সীমাবদ্ধতা ছিল। বিশ্বের কেউ বলতে পারবে না তাদের চিকিৎসা সামগ্রীর সীমাবদ্ধতা ছিল না। আমরা এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। তবুও মাঝে মধ্যে দুঃসংবাদ আসে।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ ও নাইজেরিয়ার স্মারক ডাকটিকেট অবমুক্ত
২৮আগস্ট,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী স্মরণীয় করে রাখাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন এবং নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিওফ্রে অনিইয়েমা আজ যৌথভাবে স্মারক ডাকটিকেট অবমুক্ত করেছেন। নাইজেরিয়ার ডাকবিভাগের পক্ষ থেকে এ স্মারক ডাকটিকেট আজ অবমুক্ত করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, জাতির পিতার আদর্শ, ত্যাগ ও সারাজীবনের সংগ্রাম পৃথিবীর সকল মুক্তিকামী মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যে স্মারক ডাকটিকেট অবমুক্ত করায় নাইজেরিয়ার সরকারকে তিনি ধন্যবাদ জানান। এ ধরনের উদ্যোগ দু’দেশের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরো গভীর ও দৃঢ় করবে বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নির্যাতন বন্ধ ও তাদের নিজ ভূমি মিয়ানমারে ফেরত নেয়ার বিষয়ে জাতিসংঘসহ অন্যান্য ফোরামে নাইজেরিয়ার জোরালো ভুমিকা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন ড. মোমেন। তিনি উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে গত দশকে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। রোহিঙ্গাদের সর্বশেষ আগমনের তিন বছর পূর্ণ হয়েছে। তারা এখন এদেশের আর্থ-সামাজিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাইজেরিয়াকে আফ্রিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, দু দেশ কৃষি, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা, দ্বৈত কর পরিহারসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে উভয় দেশ কাজ করছে। নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিওফ্রে অনিইয়েমা বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশ উপকৃত হবে। দু দেশের আন্তরিকতার নিদর্শন স্বরূপ এ স্মারক ডাকটিকেট অবমুক্ত করা হয়েছে। এসময় বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। ভার্চুয়াল এ অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সংযুক্ত ছিলেন। এছাড়া নাইজেরিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো: শামীম আহসান, নাইজেরিয়া পোস্টাল সার্ভিসের মহাপরিচালক ড. ইসমাইল আদেবায়াও আদেওশিসহ উভয় দেশের উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং নাইজেরিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা সংযুক্ত ছিলেন।
সিনহা হত্যা: আদালতে ক্ষমাপ্রার্থনা রামু থানার ওসির
২৭আগস্ট,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের ভিডিওচিত্র নির্মাণের সহযোগী শিপ্রা দেবনাথের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় থানা থেকে দু’টি জব্দ তালিকা পাঠানোয় আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. দেলোয়ার হোসেনের আদালতে কারণ দর্শানোর জবাব দাখিল করেন এবং এসময় তিনি আদালতের কাছে নিঃশর্তে ক্ষমা চান। তবে আদালত তাৎক্ষণিক এ সংক্রান্ত কোনো আদেশ দেননি। গত ৩১ আগস্ট রাতে টেকনাফের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে মেজর (অব.) সিনহা নিহত হন। এ ঘটনার পরে সিনহা যে কটেজে থাকতেন সেই হিমছড়ির নীলিমা রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে শিপ্রা দেবনাথকে গ্রেফতার করে রামুর হিমছড়ির ফাঁড়ি পুলিশ। পরদিন তাকে মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এ মামলায় সেই কটেজ থেকে উদ্ধার করা মালামালের একটি জব্দ তালিকা আদালতে জমা দেয় রামু থানা পুলিশ। কিন্তু শিপ্রা দেবনাথের ল্যাপটপ, মোবাইলসহ ২৯ রকমের ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস জব্দ তালিকায় আনা হয়নি। পরে এসব মালামালের আরেকটি জব্দ তালিকা আদালতে জমা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় রামুর থানার ওসি মো. আবুল খায়েরকে আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে আদেশ দেন গত ২০ আগস্ট। পরে আদালতের আদেশে রামু থানায় সংরক্ষিত ২৯ রকম মালামাল মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করে রামু থানা পুলিশ।
অস্ত্র মামলায় রিজেন্ট চেয়ারম্যান সাহেদের বিচার শুরু
২৭আগস্ট,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অস্ত্র মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এ অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামি ১০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত। অভিযোগ গঠনের সময় সাহেদ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন। এর আগে বুধবার (১৯ আগস্ট) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে মামলার চার্জ গঠনের জন্য এদিন ধার্য করেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম জুলফিকার হায়াত মামলার চার্জশিটে (অভিযোগপত্র) স্বাক্ষর করেন। এরপর মামলার নথি বিচারের জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করেন। ৩০ জুলাই ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়ার আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. শায়রুল তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেফতার করে Rab। পরে হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকায় আনা হয়। পরদিন করোনা পরীক্ষার নামে ভুয়া রিপোর্টসহ বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাহেদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর তাকে নিয়ে উত্তরায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় এ মামলা করা হয়।
কাজী নজরুলকে সরকারিভাবে জাতীয় কবি স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি
২৭আগস্ট,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কাজী নজরুল ইসলাম সব সময় মানুষের জয়গান গেয়েছেন। মানুষকে নিয়ে পথ চলেছেন বলেই তার গান, কবিতা, সাহিত্য আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি শিখিয়ে গেছেন চির উন্নত শির হতে, মানুষকে ভালোবাসতে। তাই জাতীয় কবিকে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন কবি পরিবার এবং বিশিষ্ট জনেরা। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় কবির ৪৪তম প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাকে স্মরণ করা হয়। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জাতীয় কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তাকে নিয়ে কথা বলেন বিশিষ্ট জনেরা। সেখানে জাতীয় কবিকে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান তারা। সকালে কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে আক্ষেপ করে নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ফেরদৌস আরা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম জাতীয় কবি, তা আমাদের মেধায় আছে, মননে আছে। কিন্তু তা কোনো সরকারি গেজেটে নেই। অনেকের কথা থাকে, লিখিত রাখার কি দরকার আছে? আমরা তো জানিই যে তিনি জাতীয় কবি। সে কথাই যদি হতো, তাহলে কোথাও কোনো স্বীকৃতির প্রয়োজন হতো না। কোথাও কোনো কাগজে লিখতে হতো না। স্বাক্ষর-সিলের কোনো দরকার ছিল না। কাজী নজরুল ইসলাম জাতীয় কবি, সে হিসেবেই তার স্বীকৃতি হওয়া উচিত। স্বাধীনতার এত বছর পর আজ তার ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী, এতদিনেও আমরা তাকে স্বীকৃতি দিতে পারিনি। একই কথা কবি পরিবারেরও। তাদের আশঙ্কা, গেজেট না হলে এক সময় নতুন প্রজন্ম হয়তো জানতেও পারবে না যে, কাজী নজরুল ইসলাম এ দেশের জাতীয় কবি। এ বিষয়ে কবি পরিবারের পক্ষ থেকে কবির নাতনি খিলখিল কাজী বাংলানিউজকে বলেন, সরকারিভাবে এটা (গেজেট) এখনো করা হয়নি। তিনি জাতীয় কবি, সরকারিভাবে গেজেট করা উচিত বলে আমিও মনে করি। যুগ যুগ পরে, হয়তো এমন একটা সময় আসবে যখন কেউ জানতে পারবে না যে, কাজী নজরুল ইসলাম এ দেশের জাতীয় কবি ছিলেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের পরিবারের দাবি এটা করা হোক। সকাল সাড়ে ৯টায় কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এরপর তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। আমাদের চেতনায় তিনি চির জাগরূক থাকবেন। তার অসাম্প্রদায়িক চেতনায় এ দেশ থেকে সাম্প্রদায়িকতার বিষ বৃক্ষের মূল উৎপাটন করবো বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। একইসঙ্গে নজরুলের চেতনায় সমৃদ্ধি ও সাম্যবাদী সমাজ বিনির্মাণ করবো। সকাল ৭টায় কবির সমাধিতে ফুল দেওয়া হয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। এসময় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব বদরুল আরেফীন বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বিদ্রোহী কবি ছিলেন না, তিনি ছিলেন শান্তি ও সম্প্রীতির কবি। নজরুলের কীর্তি ও রচনা চর্চার মাধ্যমে আমরা আমাদের সাহিত্য অঙ্গন আরও এগিয়ে নেবো। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কবির সমাধিতে ফুল দেওয়ার পর বলেন, যখন গণতন্ত্রের কথা বলা হয়, তখন কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের উদ্বুদ্ধ করেন স্বেচ্ছায় নির্যাতন ভোগ করার। তিনি আমাদের জাতীয় জীবনের প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িত। দুঃশাসনের এ যুগে তিনি আমাদের প্রতিটি ক্ষণ এমনভাবে আচ্ছন্ন করে রেখেছেন, এ দুঃসময় অতিক্রম করার জন্য, সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করার জন্য তিনি আমাদের পাশেই আছেন। তিনি আছেন বলেই এ নিপীড়নের মধ্যেও আমরা মিছিল করছি, সত্য উচ্চারণ করছি। তিনি আছেন বলেই আমরা গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াই করছি। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে প্রেরণার এক অসাধারণ উৎস কাজী নজরুল ইসলাম। কঠিনতম সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে নজরুলের গান ও কবিতা। সকালে আরও বিভিন্ন সংগঠন কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

জাতীয় পাতার আরো খবর