মজনু একজন- সিরিয়াল রেপিস্ট
০৮জানুয়ারী,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাবি ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মজনু একজন সিরিয়াল রেপিস্ট বলে জানিয়েছে Rab। আজ বুধবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে Rabর মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে RAbর গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাসেম এ কথা জানান। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মজনু তার অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন। মজনু জানিয়েছে, তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর নিজের খারাপ অবস্থার কারণে তিনি আর বিয়ে করতে পারেনি। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন প্রতিবন্ধী নারী এবং ভিক্ষুককে ধর্ষণ করেছেন। সারোয়ার বলেন, মজনু তার আগের অপকর্মগুলোর কথা নিজেই স্বীকার করেছেন। Rab জানায়, মজনু মূলত মানসিক প্রতিবন্ধী নারীদের টার্গেট করতেন এবং সুযোগ বুঝে তাদের ধর্ষণ করতেন। মজনু জানিয়েছে, এই প্রথম তিনি প্রতিবন্ধী নয়-এমন কাউকে ধর্ষণ করেছেন। তিনি নিজে সেদিন গিয়েছিলেন কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে। এরপর ওঁৎ পেতে ছিলেন। সারোয়ার বিন কাসেম বলেন, মজনু ছিল মাদকাসক্ত। এ ধরনের মাদকাসক্তরা তাদের হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আর তখন এ ধরনের কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এর আগে বুধবার রাতে গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে আটকের পর মজনুকে গ্রেফতার দেখিয়েছে Rab। গ্রেফতার যুবকের কাছ থেকে ওই ছাত্রীর মোবাইল ফোন, চার্জার ও ব্যাগ পাওয়া গেছে।
সাইবার ক্রাইম নিয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
০৮জানুয়ারী,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাইবার ক্রাইমের কারণে ছেলেমেয়েরা বিপথে যায়, তাই সাইবার ক্রাইম যেগুলো হচ্ছে সেসব বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস ২০১৯ সম্মাননা পদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছোট ছোট শিশুদের থেকে শুরু করে তরুণ সমাজকেও সচেতন করা একান্ত দরকার। সাইবার ক্রাইম যেগুলো হচ্ছে, সেগুলো সম্পর্কে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ অনেক সময় এটার জন্য ছেলেমেয়ে বিপথে চলে যায়; অনেক ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়; অনেক ধরনের ক্রাইমের সঙ্গে তারা জড়িয়ে পড়ে। তাই এটা যেন না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে। আপনারা বাচ্চাদের হাতে মোবাইল তুলে দিচ্ছেন আর তারা কী দেখছে সে ব্যাপারে নজর রাখতে হবে। আমাদের সোনার ছেলেমেয়েরাই এ দেশকে সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবে। সেভাবেই পরিকল্পনা তৈরি করে দিয়ে যাচ্ছি। আমরা বহুমুখী সেবা দিয়ে যাচ্ছি। মানুষকে বিভিন্ন সেবা দেওয়ার যে সুযোগ আমরা সৃষ্টি করেছি, তাতে জনগণ লাভবান হচ্ছে বলে জানান শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে অন্তত আমরা এতটুকু দাবি করতে পারি যে আজকের বাংলাদেশ সত্যিকারভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ। আমরা এখন বলতে পারি যে, আমাদের দেশের মানুষের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা হয়েছে এবং আমি আজকে যে পুরস্কার দিলাম, যারা পুরস্কার পেয়েছে তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই এ রকম পুরস্কার যেন প্রতিবার আরও বেশি বেশি করে দিতে পারি। সরকারপ্রধান বলেন, আমরা ২০১৭ সাল থেকে ১২ ডিসেম্বর ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে পালন করে যাচ্ছি। বর্তমানে বাংলাদেশে কানেকটিভিটি, দক্ষ মানব সম্পদ উন্নয়ন, ই-গভর্মেন্ট, আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি প্রমোশনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ ঘিরে কাজ করে যাচ্ছি। এর ফলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। স্বাধীনতার সঙ্গে সঙ্গে এই দেশকে একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলার দায়িত্বও তিনি নিয়েছিলেন ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে ফিরে আসার পর। আমাদের যে সংবিধান তিনি দিয়ে গেছেন এর সঙ্গে সঙ্গে আজকে আমরা যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি- তার ভিত্তিটাও তিনি রচনা করে দিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালে ইন্টারন্যাশনার টেলিকমিউনিকেশন্স ইউনিয়নের সদস্য পদ বাংলাদেশ অর্জন করে। বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী নেতৃত্বেই আমাদের প্রতিটি অর্জনের ভিত্তিটা তিনি রচনা করে গেছেন। যখন রাষ্ট্র পরিচালনা করতে যাই, তখন প্রতিটা ক্ষেত্রেই দেখি তার সেই অবদান রয়েছে। এক দিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলা, অপরদিকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ তিনি নিয়েছিলেন। এ সময় বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, বহুমুখী সেবা আমরা দিয়ে যাচ্ছি। মানুষকে বিভিন্ন সেবা দেওয়ার যে সুযোগ আমরা সৃষ্টি করেছি, তাতে জনগণ লাভবান হচ্ছে। পাশাপাশি এখন বিভিন্ন ধরনের ক্রাইম হয়ে থাকে। মানুষ যেন তাৎক্ষণিক সেবা পেতে পারে, তার জন্য ৯৯৯, ৩৩৩, ১০৯- এসব জায়গায় ফোন দিলে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সেবা পায়। তাতে সাধারণ মানুষের ভেতর আস্থা-বিশ্বাস যেমন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি তৈরি হয়েছে, তেমনি সরকারের ওপরও এসেছে যে কোনও সমস্যা হলে তার একটা সমাধান পাওয়া যায় বা নিরাপত্তা পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, আমরা ডিজিটাল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে দিচ্ছি। আমাদের যে রফতানি খাত আছে- যেমন আমাদের সব থেকে বড় রফতানি খাতটা হচ্ছে পোশাক শিল্প। ধীরে ধীরে এটাকে আমরা বহুমুখী করতে চাচ্ছি। আর সেখানে আমরা আইটি খাতটাকে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিতে চাচ্ছি। কারণ আইটি খাতে আমরা রফতানি করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারব।
ছবি দেখে ধর্ষককে শনাক্ত করেছেন সেই ছাত্রী
০৮জানুয়ারী,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার করা সন্দেভাজন সেই ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী। গ্রেফতার ব্যক্তির ছবি ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীকে দেখানোর পর তিনি তাকে ধর্ষক বলে শনাক্ত করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন Rabর গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন-কাশেম। এর আগে মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) রাতে গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে আটকের পর ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার দেখিয়েছে Rab। আটককৃত ব্যক্তি পেশায় একজন অটোচালক বলে জানা গেছে। এসময় গ্রেফতার যুবকের কাছ থেকে ছাত্রীর মোবাইল ফোন, চার্জার ও ব্যাগ পাওয়া গেছে। বুধবার দুপুরের পর কাওরান বাজারে Rabর মিডিয়া সেন্টারে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে বলে Rabর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এদিকে ধষর্ণের শিকার ওই ছাত্রীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসকদের অনুমতি পেলে কালই তাকে ছাড়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল পরিচালক।- বিডি প্রতিদিন
সৌদি থেকে ফিরলেন ৫ নারীসহ ১৩২ বাংলাদেশি
০৮জানুয়ারী,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সৌদি আরব থেকে ৫ নারীসহ ১৩২ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে সৌদি এয়ারলাইন্সের দুটি বিমানযোগে তারা দেশে ফেরেন। এ নিয়ে গত সাত দিনে ৪০ নারীসহ ৭৬৭ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন। দেশে ফেরাদের অভিযোগ, আকামা তৈরির জন্য কফিলকে (নিয়োগকর্তা) টাকা প্রদান করলেও কফিল আকামা তৈরি করে দেয়নি। পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর কফিলের সাথে যোগাযোগ করলেও দায়িত্ব নিচ্ছে না। বরং কফিল প্রশাসনকে বলেছেন, ক্রুশ (ভিসা বাতিল) দিয়ে দেশে পাঠিয়ে দিতে। সৌদি আবর থেকে ফেরত আসা নুর বেগম (৪০) জানান, ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে তিনি সৌদি আরব গিয়েছিলেন। সেখানে নিয়োগকর্তার নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের সেফ হোমে। একই পরিস্থিতির শিকার হয়ে একসঙ্গে দেশে ফিরেছেন যশোর জেলার খাদিজা বেগম, নারায়ণগঞ্জের সেফালী বেগম, ঝিনাইদহের শিল্পি খাতুন ও ঢাকার সুবর্ণা বেগম। এদিকে ডিপোর্টেশন ক্যাম্পে ১৬ দিন থাকার পর দেশে ফেরা রাজবাড়ী জেলার রউছ শেখ জানান, মাত্র এক বছর আগে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। কর্মস্থল থেকে রুমে ফেরার পথে পুলিশ আটক করে। পুলিশের কাছে আকামা দেখিয়েও কোনো কাজ হয়নি। এমনকি নিয়োগকর্তাও দায়িত্ব না নেয়ায় দেশে ফেরত পাঠানো হয়। রউছ শেখের সাথে দেশে ফিরেছেন নোয়াখালীর ফারুক, কুমিল্লার সাইফুল, চট্টগ্রামের তাসলিম আরিফ, পাবনার জুয়েল শেখসহ আরও ১৩২ বাংলাদেশি।
পিলখানা হত্যা মামলায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
০৮জানুয়ারী,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বুধবার (৮ জানুয়ারি) পিলখানা হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় (ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর) প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের বিচারপতি মো. শওকত হোসেন, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তর বেঞ্চ ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর পর পর দুদিনে এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের অনুলিপি কিছুক্ষণের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক আসামির ফাঁসির আদেশ এসেছে এ মামলার রায়ে। হাইকোর্ট রায়ে ১৩৯ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। এ রায় প্রকাশের মধ্য দিয়ে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালতের দেয়া রায়ের অনুমোদন প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হলো। জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতি মো. শওকত হোসেন মূল রায় লিখেছেন। তিনি প্রায় সাড়ে ১১ হাজার পৃষ্ঠার রায় লিখে বেঞ্চের অপর দুই বিচারপতির কাছে পাঠান। এরপর বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী পৃথকভাবে তার অংশ লেখেন। তিনিও প্রায় ১৬ হাজার পৃষ্ঠা লিখেছেন। এই দুই বিচারপতির সম্মিলিত রায় প্রায় ২৮ হাজার পৃষ্ঠা। এরপর বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার লিখেছেন ১১শ পৃষ্ঠা। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস সদর দপ্তরে সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার ঘটনায় ওই বছরের ৪ মার্চ লালবাগ থানার ওসি নবজ্যোতি খীসা বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলাটি ৭ এপ্রিল নিউ মার্কেট থানায় স্থানান্তর হয়। মামলায় নাম উল্লেখ করে আসমি করা হয় ডিএডি তৌহিদসহ ছয়জনকে। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি দেখানো হয় প্রায় এক হাজার জোয়ানকে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ১২ জুলাই হত্যা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেয়। হত্যা মামলায় ৮২৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ৮০১ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। হত্যা মামলায় বিচার শেষে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর নিম্ন আদালত রায় দেন। সে সময়কার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আক্তারুজ্জামান (বর্তমানে হাইকোর্টের বিচারপতি) এ মামলায় ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও ২৭৮ জনকে বেকসুর খালাস দেন। এরপর নিম্ন আদালত থেকে ফাঁসির আসামিদের সাজা অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয়। আর কারাবন্দি আসামিরাও আপিল করেন।
আমার ওপর ভরসা রাখুন, জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী
০৮জানুয়ারী,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের লক্ষ্য জাতির জীবনে নতুন জীবনীশক্তি সঞ্চারিত করা; স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে জাতিকে নতুন মন্ত্রে দীক্ষিত করে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়া। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বর্তমান সরকারের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা কী করতে চেয়েছিলাম আর কী করতে পেরেছি এ বিষয়ে সব সময়ই সচেতন। আপনারাও নিশ্চয়ই মূল্যায়ন করবেন। তবে আমরা মুখরোচক প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসী নই। আমরা তা-ই বলি, যা আমাদের বাস্তবায়নের সামর্থ্য রয়েছে। তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পূর্বে আমরা রূপকল্প ২০২১ ঘোষণা করেছিলাম। যার অন্তর্নিহিত মূল লক্ষ্য ছিল ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত করা। মাথাপিছু আয় ১২০০ মার্কিন ডলার অতিক্রম করায় বিশ্বব্যাংক ২০১৫ সালে বাংলাদেশকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে যেখানে মাথাপিছু আয় ছিল ৫৪৩ মার্কিন ডলার, ২০১৯ সালে তা ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্রের হার হ্রাস পেয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১.৫ শতাংশ। বর্তমানে দারিদ্র্যের হার হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২০.৫ শতাংশে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের হিসেব মতে ২০১০ সালে দারিদ্র্য সীমার নীচে বসবাসরত কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা ছিল ৭৩.৫ শতাংশ। ২০১৮ সালে তা ১০.৪ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। ২০১৮ সালে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে স্থান দিয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির বিকাশের প্রমাণ মেলে তার বার্ষিক আর্থিক পরিকল্পনায়। ২০০৫-৬ অর্থবছরে বিএনপি সরকারের শেষ বছরে বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৬১ হাজার কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাজেটের আকার সাড়ে আট গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকায়। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকায়। বাজেটের নব্বই ভাগই এখন বাস্তবায়ন হয় নিজস্ব অর্থায়নে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার তুলে ধরে তিনি বলেন, গত অর্থবছরে আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮.১৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ শতাংশের নীচে। বছরের শেষ দিকে আমদানি-নির্ভর পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি ব্যতীত অন্যান্য নিত্য-প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম স্বাভাবিক ছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার ওপর ভরসা রাখুন। আমি আপনাদেরই একজন হয়ে থাকতে চাই। জাতির পিতা আজীবন সংগ্রাম করেছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য, তাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। তার কন্যা হিসেবে আমার জীবনেরও একমাত্র লক্ষ্য মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। শেখ হাসিনা বলেন, সাধারণ মানুষকে ঘিরেই আমার সকল কার্যক্রম। আপনাদের ওপর আমরা পূর্ণ আস্থা রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ অসাধারণ পরিশ্রমী এবং উদ্ভাবন-ক্ষমতাসম্পন্ন। তিনি আরও বলেন, বাঙালি জাতি বীরের জাতি। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা এদেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছি। এমন জাতি পৃথিবীতে কোনদিন পিছিয়ে থাকতে পারে না। আমরাও আর পিছিয়ে নেই। বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে। আসুন, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে আমরা দল-মত নির্বিশেষে সকলে মিলে তার স্বপ্নের ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার জন্য নতুন করে শপথ নেই। ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুলভোটে বিজয়ী হয়ে গত বছরের ৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে চতুর্থবারের মত সরকার গঠন করে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার চতুর্থবার শপথ নেয়ার এক বছরপূর্তি উপলক্ষে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি আজ। আপনাদের সবাইকে খ্রিষ্টীয় নতুন বছরের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তিনি বলেন, আমি এই শুভক্ষণে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি জাতীয় চার-নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং দুই লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে। মুক্তিযোদ্ধাদের আমি সালাম জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি গভীর বেদনার সঙ্গে স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের শিকার আমার মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ভাই - মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল ও দশ বছরের শেখ রাসেল- কামাল ও জামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, আমার চাচা মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসের, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জামিল এবং পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের এএসআই সিদ্দিকুর রহমানসহ সেই রাতের সব শহিদকে। তিনি আরও বলেন, এই উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ও গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, স্মরণ করছি ২০০৪ সালের ২১-এ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহত আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী রহমানসহ ২২ নেতা-কর্মীকে। স্মরণ করছি ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতাসীন হওয়ার পর নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার, মঞ্জুরুল ইমাম, মমতাজ উদ্দিনসহ ২১ হাজার নেতাকর্মীকে। তিনি বলেন, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোটের অগ্নি সন্ত্রাস এবং পেট্রোল বোমা হামলায় যারা নিহত হয়েছেন, আমি তাদের স্মরণ করছি। আহত ও স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধিসহ যেসব বিশিষ্ট ব্যক্তি মারা গেছেন, আমি তাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। উল্লেখ্য, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ মুজিব বর্ষ ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ১৭ই মার্চ বর্ণাঢ্য উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালা শুরু হবে। আগামী ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে রাজধানীর পুরাতন বিমানবন্দরে এক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে মুজিব বর্ষের কাউন্টডাউন শুরু হবে।
ইভিএম নিয়ে সব সন্দেহ কেটে যাবে: সিইসি
০৭জানুয়ারী,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইভিএম-এ কারচুপির কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। তিনি বলেছেন, ইভিএমে কারচুপির সুযোগ নেই। এক সময় সব সন্দেহ কেটে যাবে। মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনের আগে বোয়ালখালীতে ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন কে এম নুরুল হুদা। তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তি আসলে তা নিয়ে কিছুটা বিতর্ক থাকে। তারা ভালো করে দেখলে আর সন্দেহ থাকবে না। ইভিএমে কারচুপির সুযোগ নেই। এক সময় সব সন্দেহ কেটে যাবে।
নিরাপদ পানি সরবরাহে ৮৮৫০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন
০৭জানুয়ারী,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে সবার জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে মহাপ্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এর জন্য খরচ হবে ৮ হাজার ৮৫০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরে বাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই প্রকল্পসহ ১১ হাজার ৪২ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ৭টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে ১১৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে জরাজীর্ণ, প্রশস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিদ্যমান বেইলি সেতু ও আরসিসি সেতু প্রতিস্থাপন প্রকল্প, বরিশালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার প্রকল্প, সিংড়া-গুরুদাসপুর-চাটমোহর সড়কের সিংড়া অংশের সড়ক বাঁধ উঁচুকরণসহ পেভমেন্ট পুনঃনির্মাণ ও প্রশস্তকরণ প্রকল্প এবং নরসিংদী বিসিক শিল্পনগরী প্রশস্তকরণ প্রকল্প। বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিলো ২৬.৩৬ শতাংশ। যা আগের অর্থবছরের এই সময়ের তুলনায় কম হলেও টাকার অঙ্কে বেশি। এছাড়া, ডিসেম্বরে এর আগের মাসের তুলনায় মূল্যস্ফীতি কমেছে বলেও জানান তিনি।
পিলখানা হত্যা মামলা: দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ রায় প্রকাশ হতে যাচ্ছে
০৭জানুয়ারী,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের বহুল আলোচিত পিলখানা হত্যা মামলায় প্রায় দুবছর আগে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি আজ মঙ্গলবার অথবা আগামীকাল বুধবার প্রকাশ হতে যাচ্ছে বলে সূত্রের খবর। রায়ের দৈর্ঘ্য এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যার দিক থেকে এটিই বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ রায়। প্রায় ৩০ হাজার পৃষ্ঠার এ রায় লেখা ও এর কপি প্রিন্টের কাজও শেষ। বাকি আছে বিচারপতিদের স্বাক্ষর। তাদের স্বাক্ষর যুক্ত হলেই পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ হবে যেখানে ১৩৯ জনকে ফাঁসি, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন ছাড়াও ২০০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়; খালাস দেওয়া হয় ৭৯ জনকে। হাইকোর্টের বিচারপতি মো. শওকত হোসেন, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত একটি বৃহত্তর বেঞ্চ ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় আসামিদের আপিল ও ডেথরেফারেন্সের শুনানি করে রায় দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ওই রায় ঘোষণার পর থেকেই হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় লেখার কাজ শুরু করেন বিচারপতিরা। রায়টি লেখা শেষ হওয়ার পর এর কপিও প্রিন্ট হয়ে গেছে। তবে গতকাল পর্যন্ত বিচারপতিদের স্বাক্ষরের কাজ শেষ হয়নি। আজ অথবা আগামীকালের মধ্যে এ স্বাক্ষরের কাজ শেষ হলে রায়টি প্রকাশিত হবে। এ রায় প্রকাশের মধ্য দিয়ে ছয় বছর আগে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর নিম্ন আদালতের দেওয়া রায় অনুমোদন প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হবে। জানা গেছে, এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতি মো. শওকত হোসেন মূল রায় লিখেছেন। তিনি প্রায় সাড়ে ১১ হাজার পৃষ্ঠার রায় লিখে বেঞ্চের অপর দুই বিচারপতির কাছে পাঠান। এর পর বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী পৃথকভাবে তার অংশ লিখেছেন। তিনিও প্রায় ১৬ হাজার পৃষ্ঠা লিখেছেন। এ দুই বিচারপতির সম্মিলিত রায় হয়েছে ২৭ হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠা। এর পর সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার লিখেছেন প্রায় ১১শ পৃষ্ঠার ওপর। এই তিনজনের লেখা রায় একত্রিত করে তা চূড়ান্ত করার পর প্রকাশ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আসামির ফাঁসির আদেশ সংবলিত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় প্রকাশের পর আপিল বিভাগে আপিল করতে পারবে উভয়পক্ষই। এর পর আপিলের বিচারের মধ্য দিয়ে বিচার প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হবে। যদিও এর পর রিভিউ আবেদন করার সুযোগ থাকবে। রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি হওয়ার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের সদর দপ্তর পিলখানাকে রক্তে রঞ্জিত করে একই বাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য। তাদের হাতে দেশের মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে প্রাণ দিতে হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় দুটি ভাগে বিচার কাজ চলছে। এর মধ্যে বিস্ফোরক আইনে করা মামলার বিচার প্রায় শেষ পর্যায়ে। আর হত্যার অভিযোগে নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টে করা মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের অপেক্ষায় চলছে। পিলখানা হত্যার ঘটনায় ২০০৯ সালের ৪ মার্চ লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নবজ্যোতি খীসা বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলাটি পরে ৭ এপ্রিল নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তর হয়। মামলায় ডিএডি তৌহিদসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়। অজ্ঞাতনামা আসামি দেখানো হয় প্রায় এক হাজার জওয়ানকে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ১২ জুলাই হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে দুটি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয়। হত্যা মামলায় ৮২৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ৮০১ জনকে আসামি করে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এর মধ্যে হত্যা মামলায় বিচার শেষে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর নিম্ন আদালত রায় দেন। সে সময়কার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আক্তারুজ্জামান (বর্তমানে হাইকোর্টের বিচারপতি) বহুল আলোচিত এ মামলায় ১৫২ জনকে মৃত্যুদ-, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- ও ২৭৮ জনকে বেকসুর খালাস দেন। এর পর নিম্ন আদালত থেকে ফাঁসির আসামিদের সাজা অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয়। আর কারাবন্দি আসামিরাও আপিল করেন। এ ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকেও আপিল করা হয়। সব আবেদনের শুনানির পর হাইকোর্ট বিচার শেষে ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর রায় দেন। হাইকোর্টের রায়ে নিম্ন আদালতে ১৫২ জন ফাঁসির আসামির মধ্যে ১৩৯ জনের ফাঁসির আদেশ বহাল, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ৮ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও চারজনকে খালাস, নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীসহ ১২ জনকে খালাস এবং নিম্ন আদালতে খালাসপ্রাপ্ত ৩৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া নিম্ন আদালত ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিলেও হাইকোর্ট ২০০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর