সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
১৩এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাণঘাতী করোনা ভাইসের প্রাদুর্ভাব থেকে শিগগিরই মুক্তির আশাবাদ ব্যক্ত করে সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে আঁধার আমাদের চারপাশকে ঘিরে ধরেছে, তা একদিন কেটে যাবেই। বৈশাখের রুদ্র রূপ আমাদের সাহসী হতে উদ্বুদ্ধ করে। মাতিয়ে তোলে ধ্বংসের মধ্য থেকে নতুন সৃষ্টির নেশায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন। বাংলা নববর্ষ ১৪২৭ উপলক্ষ্যে তিনি এই ভাষণ দেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি ওয়ার্ল্ড, বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্র, বাংলাদেশ বেতারসহ সকল বেসরকারি টিভি চ্যানেল এবং রেডিও স্টেশন থেকে এই ভাষণ একযোগে সম্প্রচার করা হয়। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নজরুলের প্রলয়োল্লাস কবিতার কয়েকটি পংক্তি উচ্চারণ করেন-ঐ নতুনের কেতন ওরে কাল-বোশেখীর ঝড়/ তোরা সব জয়ধ্বনি কর/তোরা সব জয়ধ্বনি কর/ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? / প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন/ আসছে নবীন- জীবন-হারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাসের যে গভীর আঁধার আমাদের বিশ্বকে গ্রাস করেছে, সে আঁধার ভেদ করে বেরিয়ে আসতে হবে নতুন দিনের সূর্যালোকে। কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ভাষায় তাই বলতে চাই-মেঘ দেখ কেউ করিসনে ভয়/আড়ালে তার সূর্য হাসে,/হারা শশীর হারা হাসি/ অন্ধকারেই ফিরে আসে। শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে বলেন, স্বল্প-আয়ের মানুষকে বিনামূল্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করার জন্য ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল এবং ১ লাখ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ করা হয়েছে। যার মোট মূল্য ২ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। তিনি বলেন, শহরাঞ্চলে বসবাসরত নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য ওএমএস-এর আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রয় কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। আগামী তিন মাসে ৭৪ হাজার মেট্রিক টন চাল এই কার্যক্রমের আওতায় বিতরণ করা হবে। এ জন্য ২৫১ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করা হবে। শেখ হাসিনা বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সশস্ত্র বাহিনী ও বিজিবি সদস্য এবং প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারীর জন্য ৭৫০ কোটি টাকার বীমার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যে সব সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী প্রত্যক্ষভাবে করোনা ভাইরাস রোগীদের নিয়ে কাজ করছেন ইতোমধ্যেই তাঁদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছি। তাঁদের বিশেষ সম্মানী দেওয়া হবে। এ জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনকালে যদি কেউ আক্রান্ত হন, তাহলে পদমর্যদা অনুযায়ী প্রত্যেকের জন্য থাকছে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্যবীমা এবং মৃত্যুর ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ৫ গুণ বৃদ্ধি পাবে। স্বাস্থ্যবীমা ও জীবনবীমা বাবদ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৭৫০ কোটি টাকা। তিনি বলেন, সুরক্ষা সরঞ্জামের কোন ঘাটতি নেই। নিজেকে সুরক্ষিত রেখে স্বাস্থ্যকর্মীগণ সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাবেন- এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। একইসঙ্গে সাধারণ রোগীরা যাতে কোনভাবেই চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে নজর রাখার জন্য তিনি প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান। শেখ হাসিনা বলেন, চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীগণ সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং মৃত্যু ঝুঁকি উপেক্ষা করে একেবারে সামনের কাতারে থেকে করোনাভাইরাস-আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসক এবং নার্সদের পেশাটাই এরকম চ্যালেঞ্জের আখ্যায়িত করে সকলকে মনোবল ধরে রাখার পাশাপাশি সরকার সবসময় জনগণের পাশে রয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী সকলকে আশ্বস্থ করেন। শেখ হাসিনা দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা ভয় পাবেন না। ভয় মানুষের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দূর্বল করে। তিনি বলেন, কেউ আতঙ্ক ছড়াবেন না। আমাদের সকলকে সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। সরকার সব সময় আপনার পাশে আছে। বাঙালি বীরের জাতি এবং অতীতে নানা দুর্যোগ-দুর্বিপাক বাঙালি জাতি সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করেছে,উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। বিজয়ী জাতি আমরা। আমরা সস্মিলিতভাবে করোনা ভাইরাসজনিত মহামারীকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, নতুন বছরে মহান আল্লাহর কাছে কায়মনবাক্যে প্রার্থনা, মহামারীর এই প্রলয় দ্রুত থেমে যাক। আপনারা সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সঙ্কটকালে এটা কোনভাবেই কাম্য নয়। আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। তিনি বলেন, মিডিয়া কর্মীদের প্রতি অনুরোধ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সঠিক তথ্য তুলে ধরে এই মহামারী মোকাবিলা করতে আমাদের সহায়তা করুন। করোনার সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। যা জিডিপির ৩.৩ শতাংশ। করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনীতির উপর সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব উত্তরণে তাঁর সরকার চারটি মূল কার্যক্রম নির্ধারণ করেছে উল্লেখ করে বলেন (১) সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি করা , সরকরি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কর্মসৃজনকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে। (২) আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ প্রণয়ন, অর্থনৈতিক কর্মকা পুনরুজ্জীবিত করা, শ্রমিক-কর্মচারীদের কাজে বহাল রাখা এবং উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অক্ষুন্ন রাখাই হলো আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের মূল উদ্দেশ্য। (৩) সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি, দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী জনগণ, দিনমজুর এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মকা-ে নিয়োজিত জনসাধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণে বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি করা হবে। (৪) মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি করা, অর্থনীতির বিরূপ প্রভাব উত্তরণে মুদ্রা সরবরাহ এমনভাবে বৃদ্ধি করা যেন মুদ্রাস্ফীতি না ঘটে। নববর্ষ উদযাপন সম্পর্কে এদিন পুণরায় বাইরের সকল ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাঙালির সর্বজনীন উৎসব বাংলা নববর্ষ। প্রতিটি বাঙালি আনন্দ উল্লাসের মধ্য দিয়ে উদযাপন করে থাকেন এই উৎসব। এ বছর বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের মহামারীর কারণে পয়লা বৈশাখের বহিরাঙ্গণের সকল অনুষ্ঠানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, এটা করা হয়েছে বৃহত্তর জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে। কারণ, ইতোমধ্যেই এই ভাইরাস আমাদের দেশেও ভয়াল থাবা বসাতে শুরু করেছে। ইতোপূর্বে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধন অনুষ্ঠান এবং স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানও জনসমাগম এড়িয়ে রেডিও, টেলিভিশন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়েছে। পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানও আমরা একইভাবে উদযাপন করবো, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
দোষ খোঁজা বাদ দিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়ান,বিএনপিকে তথ্যমন্ত্রী
১৩এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বিদেশি লবিস্টদের পেছনে অর্থব্যয় আর ঘরে বসে দোষ খোঁজা বাদ দিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আজ দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবন থেকে দেয়া বক্তব্যে এ আহ্বান জানান। হাছান মাহমুদ বলেন, বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দেশের এক-তৃতীয়াংশের মানুষকে যখন সরকার সহায়তা দিচ্ছে, তখন বিএনপি ঘরে বসে এ সকল কাজের দোষ খোঁজায় ব্যস্ত। চিরাচরিত এই অভ্যাস থেকে তারা বেরিয়ে আসতে পারেনি। এসময় আক্ষেপ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের সিনিয়র নেতারা কদিন ধরে নানা বক্তব্য দিচ্ছেন। কিন্তু তারা (বিএনপি) জনগণের পাশে কোথায়! শহরে-গ্রামে কোথাও তাদের নেতা-কর্মীরা জনগণের পাশে নেই। তারা শুধু ঢাকা শহরে কয়েকটা লোক দেখানো ফটোসেশনে ব্যস্ত আর সেই ফটোসেশন করতে গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা ছাড়া আর কিছু নেই। ত্রাণে অনিয়মের বিচার তৎক্ষণাৎ মোবাইল কোর্টে করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের কথা স্মরণ করিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, হাতে গোণা ত্রাণে অনিয়মের কয়েকটি ঘটনা নিয়ে বিএনপি যে কথা বলছে, তাতে তাদেরকে নিজেদের চেহারা আয়নায় দেখতে বলবো। তিনি বলেন, তারা ২০০১ সালে ক্ষমতায় গিয়ে পরপর পাঁচবার দেশকে দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছিল। তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, এবং বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মামলা ঠেকাতে বিদেশি লবিস্টদের পেছনে লাখ লাখ ডলার খরচ করেছে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাংলাদেশে সিটি কর্পোরেশন-জেলা- উপজেলা-ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায় পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৭২ হাজারের মতো স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি রয়েছে। এরমধ্যে ৪৫টি মামলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার ১ জন চেয়ারম্যান ও ২ জন মেম্বারকে বরখাস্ত করেছে, যা আনুপাতিক হারে ২ হাজারের মধ্যে একটি ঘটনা, যদিও একটি ঘটনাও কাম্য নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গতকাল বলেছেন, এধরণের অনিয়মের সাথে জড়িতদের আগে মোবাইল কোর্টে বিচার হবে, পরে নিয়মিত মামলা। বেগম জিয়ার মুক্তি কভার করতে যাওয়া গণমাধ্যমকর্মীর করোনায় আক্রান্তের খবরের প্রতিক্রিয়ায় ড. হাছান উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় যেখানে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপনের জনসমাগম অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে, সেখানে বেগম জিয়ার মুক্তিকালে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলসহ বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতা-কর্মীদের জমায়েত করে বিএনপি যে চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে, তার দায়ভার তাদেরই বহন করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অন্তর্ভুক্ত বিশাল জনগোষ্ঠীর বাইরেও যারা খেটে খাওয়া মানুষ, তাদের জন্য এ করোনা পরিস্থিতিতে ত্রাণ মন্ত্রণালয় পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ৬৬ হাজার মেট্রিক টন চাল, ২৫ কোটি টাকা নগদ ও শিশুখাদ্যের জন্য পৃথক ২ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, জানান তথ্যমন্ত্রী। ড. হাছান বলেন, এছাড়া খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ৫০ লাখ পরিবার অর্থাৎ আড়াই কোটি মানুষ বছরে ৭ মাস খাদ্য সহায়তা পেয়ে থাকে, যা বৃদ্ধির কথা ভাবছে সরকার। একইসঙ্গে ওএমএসের চালের দাম ৩০ টাকা থেকে ১০ টাকায় নামিয়ে এনে সারাদেশে ৬৮৯টি কেন্দ্রে মার্চ ও এপ্রিলে ৩৫ হাজার ৮২৮ মেট্রিক টন চাল বিক্রি করছে সরকার। হাওরের কৃষকদের জন্য আলাদাভাবে ১০ টাকা কেজির ওএমএস চালু করেছে সরকার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে একটি সমাজকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যেসকল পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার মধ্যে চলতি অর্থ বছরে ১৭ লাখ বিধবার জন্য বছরব্যাপী ১ হাজার ২০ কোটি টাকা, ৪৪ লাখ বয়স্ক মানুষের জন্য ২ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা বয়স্কভাতা, দুঃস্থ ১৬ লাখ মানুষের জন্য ১ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা, ভিজিডি-তে ১ হাজার ১৮২ কোটি টাকা, ভিজিএফ হিসেবে ২০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি চাল দেয়া হচ্ছে, তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এভাবে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ১৪৪ উদ্যোগে ও করোনার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ত্রাণ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন, ব্যক্তি উদ্যোগ, জেলা প্রশাসনসহ সরকারি দল, পুলিশের দেশব্যাপী নানান উদ্যোগে দেশের এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ সরকারের সহায়তার আওতায় রয়েছে।বাসস
দেশে নতুন করে করোনা শনাক্ত ১৮২ জনের, নতুন মৃত্যু ৫ জনের
১৩এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে নতুন করে আরও ১৮২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ৫ জন। এ নিয়ে করোনা শনাক্ত হয়ে দেশে মারা গেছেন মোট ৩৯ জন। মোট আক্রান্ত ৮০৩। নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৫৭০ জনের। আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালেক বলেন, যেসব বেসরকারি হাসপাতাল করোনা পরীক্ষায় আগ্রহী তাদের অনুমোদন দেয়া হবে। এখন পর্যন্ত আইসোলেশনে আছেন ৪৩৭ জন। তিনি আরো বলেন, করোনা মোকাবেলায় লকডাউন জোরদার করতে হবে। প্রতিনিয়ত লকডাউন কার্যক্রম চলছে। কিন্তু লকডাউন মানুষ পুরোপুরি মেনে চলছে না। কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে গেছে এটা বুঝতে হবে। হাসপাতালে লক্ষ লক্ষ মানুষকে চিকিৎসা দেয়া উন্নত দেশেও সম্ভব না। তাই সবাইকে ঘরে থাকতে হবে। নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। গতকাল আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ১৩৯ জন। আর মৃত্যু হয়েছিলো ৪ জনের।
সরকারের প্যাকেজে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী উপেক্ষিত: সিপিডি
১৩এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করে, করোনা ভাইরাসের কারণে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী উপেক্ষিত হয়েছে। তাদের জন্য কোন সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ নেই। আজ সোমবার কোভিড-১৯ সরকারের পদক্ষেপ সমূহের কার্যকারিতা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও আয় নিরাপত্তা: সিপিডির প্রাথমিক বিশ্লেষণ ও প্রস্তাব শীর্ষক এক ভার্চুয়াল মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। ভার্চুয়াল মিডিয়া ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বিশেষ ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। এতে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান। সরকারের ঘোষণা করা বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ বিশ্লেষণ, প্রান্তিক জনগোষ্টির জন্য খাদ্য ও আয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের অর্থ, খাদ্য, রাজস্ব ও আর্থিক প্রণোদনা লাগতে পারে সে বিষয়ে এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে সিপিডির দেয়া বাজেট প্রস্তাবনা নিয়ে পর্যালোচনা করা হয় এই ব্রিফিংয়ে। ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে সরকার যে বিভিন্ন প্রণোদনা ঘোষণা করেছে সেখানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কোন সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ নেই। তিনি বলেন, ২৫শে মার্চ রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সরকার ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষাণা করেছে। যার সুদের হার দুই শতাংশ। যেটা এ খাতের প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের মজুরি দিতে পারবে। ৫ই এপ্রিল সরকার আরো ৪টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে যার পরিমাণ ৬৭ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। সর্বশেষ কৃষি খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দেয়া হয়েছে ৫ শতাংশ সুদহারে। যে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে এর বেশিরভাগই ব্যাংক নির্ভর। বলা হয়েছে ব্যাংক ও ক্লাইন্টের সম্পর্কের ভিত্তিতে এ প্রণোদনা দেয়া হবে। ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বলার অপেক্ষা রাখে না এই প্রণোদনায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কোন সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ নেই। যদিও প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ঘোষণায় বালেছেন যে বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ করা হবে। ভিজিএফ, ভিজিডির মাধ্যমে খাদ্য বিতরণ করা হবে, খোলা বাজারে চাল বিক্রি করা হবে। বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। যারা অনানুষ্ঠানিক খাতে আছে, দিনমজুর রিকশাওয়ালা ইত্যাদি তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খাদ্যো সহায়তা এবং অর্থ সহায়তা দেয়া হবে। করোনা মোকাবিলায় যে প্রণোদনা ঘোষাণা করা হয়েছে এটার বরাদ্দের ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ড. ফাহমিদা খাতুন। যাতে ক্ষতিগ্রস্ত লোকেরা এবং ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলো এ প্রণোদনা পায়। মূল প্রতিবেদনে তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ১ কোটি ৭০ লাখ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী পরিবারকে আগামী দুই মাসে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য দেয়ার প্রস্তাব করছে সিপিডি। এজন্য ২৬ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা থেকে ২৯ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা লাগবে। আর এটি জিডিপির প্রায় ০ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ। সর্বশেষ খানা আয় জরিপ অনুযায়ী, যাদের আয় ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা তাদের সাহায্যের আওতায় আনার প্রস্তাব জানিয়ে সিপিডির পক্ষ থেকে বলা হয়, যাদের মাসিক আয় ১০ হাজার টাকা, তাদেরকে প্যাকেজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। আমাদের হিসাবে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ পরিবারকে সাহায্য দেয়ার প্রয়োজন আছে। সর্বশেষ খানা আয় ব্যয় জরিপ বিবেচনায় নিয়ে আমরা দারিদ্য রেখায় থাকা পরিবারকে প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা করে দুই মাসে ১৬ হাজার টাকা দেয়ার প্রস্তাব করছি। এজন্য ২৬ হাজার ৯৬২ থেকে ২৯ হাজার ৮৫২ কোটি টাকার মতো দরকার হতে পারে। এ সাহায্য নগদে দিতে হবে। আর এটি জিডিপির প্রায় ০ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ। সিপিডির গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরার সময় প্রতিষ্ঠানটির রিসার্চ ফেলো তৌফিক ইসলাম বলেন, আমরা দেখেছি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বড় অংশই বর্তমান সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে নেই। বয়স্কদের ৬৬ শতাংশ, শিশুদের ৭০ দশমিক ৬০ শতাংশ, নতুন মা হওয়া নারীদের ৭৯ দশমিক ১০ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধীদের ৮১ দশমিক ৫০ শতাংশ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে নেই। তিনি বলেন, বর্তমান কাঠামোর মধ্যে যদি কর্মসূচি চালানো হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্তদের বড় অংশ নিরাপত্তা পাবেন না। বিশেষ করে যারা অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজ করেন তারা এখনও পর্যন্ত সামাজিক নিরাপত্তার মধ্যে আসেননি, সেটা চিন্তার বিষয়। আর একটা বড় চিন্তার বিষয় যারা বিদেশে কাজ করেন, তারা হয়তো ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে আছেন। আমাদের সামাজিক নিরাপত্তার যেসব কর্মসূচি তা গ্রামের জন্য তৈরি করা। শহরের যারা দরিদ্র মানুষ আছেন বা প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত তাদের অন্তর্ভুক্ত করা চ্যালেঞ্জ। অনেক জায়গায় সাহায্য দেয়ার জন্য স্থানীয় সরকারভিত্তিক তালিকা করা হয়। সেই তালিকা অনুযায়ী বড় অংশকে সাহায্য দেয়া যাবে না কি সন্দেহ আছে বলে মনে করেন তৌফিক ইসলাম।
আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
১৩এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজএকাত্তরডটকম:বাংলা নববর্ষ ১৪২৭ উপলক্ষে আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন তিনি। গণমাধ্যমে পাঠানো প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমের সই করা এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। এর পাশাপাশি প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে দেশে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সার্বিক নির্দেশনা দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাত পোহালেই শুরু হবে বাংলার নতুন একটি বছর। প্রতিবছর বাঙালিরা বেশ জাঁকজমকভাবে পালন করে নববর্ষের দিনটি। বর্ণিল উৎসবে মেতে ওঠে পুরো দেশ। গানে গানে, আনন্দ আয়োজনে নতুন বছরটিকে বরণ করে নেয় বাঙালি। ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর আয়োজনে মেতে ওঠে পুরো বাঙালি জাতি। কিন্তু এবার সেই আয়োজন করতে পারছেন না বাঙালি। চীনের উহান শহর থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসের কারণে এবার নববর্ষের অনুষ্ঠান হচ্ছে না। ঝুঁকি এড়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার বাইরে নববর্ষের কোনো অনুষ্ঠান না করার নির্দেশ দিয়েছেন। আজকে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণেও দেশবাসীকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি করোনার কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন নির্দেশনা দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার করবে।
চট্টগ্রামের করোনা আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু
১৩এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজএকাত্তরডটকম:চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত এক শিশুটি মারা গেছে। রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এর আগে ওইদিন সকালে তার দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। শিশুটি প্রতিবন্ধী ছিলো। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মৃত ৬ বছর বয়সি শিশুটি পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। সিভিল সার্জন বলেন, রাত আড়াইটায় ওই শিশুকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। পরে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এখন নিয়ম অনুযায়ী তার দাফনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত, করোনায় মৃতদের নগরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার আরেফিন নগরের একটি কবরস্থানে দাফনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
পাঁচ সংবাদকর্মী করোনায় আক্রান্ত
১২এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনা ভাইরাস প্রার্দুভাব রোধে সবাই ঘরে থাকলেও কয়েকটি পেশার মানুষকে থাকতে হচ্ছে ঘরের বাইরে। এর মধ্যে আছেন সংবাদ কর্মীরাও। তথ্য দিয়ে মানুষকে সচেতন করার কাজে ব্যস্ত সংবাদ কর্মীরাও নিজেদের অজান্তেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। এ পর্যন্ত অন্তত ৫ জন সংবাদকর্মীর করোনায় আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সর্বশেষ সনাক্ত হয়েছেন এটিএন নিউজের একজন সিনিয়র রিপোর্টার। এটিএন নিউজের পক্ষ থেকে আজ এই তথ্য জানানো হয়েছে। জানা যায়, ওই রিপোর্টার গত মাসে ভারতে একটি প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে এক মাস অবস্থান করছিলেন। পরে গত ২১শে মার্চ ঢাকায় ফিরে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তার বাসায় চলে যান। এবং সেখানে তিনি ১৫ দিনের কোয়ারেন্টিনে থেকে গত ৫ই এপ্রিল স্বেচ্ছায় কর্মস্থলে যোগ দেন। কিন্তু চার দিন অফিস করার পরই গত ৯ই এপ্রিল তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন। পরে কাশি এবং গায়ে ব্যথা শুরু হলে আইইডিসিআর-এ যোগাযোগ করা হলে ১০ এপ্রিল তারা বাসা থেকে তার স্যাম্পল সংগ্রহ করেন। ১১ এপ্রিল রাতে তারা জানিয়ে দেন, তিনি করোনা পজেটিভ। এতে আরও বলা হয়, কভিড-১৯ আক্রান্ত হলেও তিনি মানসিকভাবে চাঙ্গা আছেন। প্রথম থেকেই তার শ্বাসকষ্ট ছিল না। জ্বর, গায়ে ব্যথাও কমে আসছে। তিনি শুরু থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং তিনি বাসায় আইসোলেশনে আছেন। এটিএন নিউজ কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং তার চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছে। ওই রিপোর্টার পজেটিভ নিশ্চিত হওয়ার পরই তার সঙ্গে কথা বলে যে তিনদিন অফিস করেছেন সেই সময় তিনি কাদের সঙ্গে কাজ করেছেন বা কাদের সঙ্গে মিশেছেন, তার তালিকা নেয়া হয়। রিপোর্টিং, ক্যামেরাম্যান, প্রোডিউসার, ডেস্ক মিলিয়ে মোট ২০ জন কর্মীকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী মুন্নীসাহা বলেন, একজন সহকর্মীর করোনা সংক্রমণের খবরে মন খারাপ হলেও এটিএন নিউজের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা আছে। বাকি সবাই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। করোনার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যে সর্বাত্মক লড়াই চলছে, সে লড়াইয়ে সাহসের সঙ্গেই এটিএন নিউজের কর্মীরা মাঠে আছে এবং থাকবে।খবর মানবজমিন। এদিকে গত ১০ এপ্রিল যমুনা টেলিভিশনের একজন সিনিয়র রিপোর্টারের করোনায় আক্রান্তে খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি তিনি নিজেই তার ফেসবুক প্রোফাইলে জানিয়েছেন। তিনিসহ তার পরিবারের আরো দুই জন আক্রান্ত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার ওই সাংবাদিকের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। করোনা আক্রান্ত ওই সাংবাদিক সর্বশেষ ৫ এপ্রিল অফিস করেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তাকে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার প্রতিষ্ঠান যমুনা টিলিভিশন ৩৪ জন কর্মীকে বাসায় কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। সহকর্মীদের ধারণা তিনি সংবাদ সংগ্রহের কাজে গিয়েই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। যমুনা টেলিভিশনের ওই সাংবাদিক আক্রান্ত হওয়ার পরের দিন শুক্রবার দৈনিক বাংলাদেশ খবরের অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদক করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। জানাযায় ওই দিন শুক্রবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে ফোন করে ওই সাংবাদিককে করোনায় আক্রান্তেন কথা জানানো হয়। পাশাপাশি তাকে ঘরে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়। আক্রান্ত হওয়া সাংবাদিক ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ও বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য। করোনা ভাইরাস পজিটিভ জানার পর ওই সাংবাদিক জানান, গত কয়েক দিন জ্বর ও কাশিজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। পরে গত বৃহস্পতিবার বিএসএমএমইউতে গিয়ে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার জন্য নমুনা দিয়ে আসেন। এর পর তাকে জানানো হয় তিনি করোনাভাইরাস পজিটিভ। পাশাপাশি তাকে সেলফ আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ। তিনি আরো জানান, অসুস্থ হওয়ার আগে একদিন মগবাজার এলাকায় গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে অন্য এক সাংবাদিকের সঙ্গে দেখা হয় তার। ওই সাংবাদিকও জ্বর ও কাশিজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। সেখান থেকেই তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন। তবে ওই সাংবাদিক এখনো করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করাননি। এদিকে গত শনিবার দীপ্ত টিভির সাংবাদিকের করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। চ্যানেলটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফুয়াদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার সন্ধ্যাতেই তার নমুনা পরীক্ষায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তবে সে মোটামুটি সুস্থ রয়েছে বলে আমাদের জানিয়েছে। গায়ে হালকা জ্বর ছাড়া কাশি-সর্দি নেই তার। নিজেকে সে বাসাতেই সেলফ আইসোলেশনে রেখেছে। ফুয়াদ চৌধুরী আরও বলেন, আক্রান্ত ওই সাংবাদিক পাঁচদিন আগে ডেস্কে কর্মরত অবস্থায় অসুস্থবোধ করলে তাকে বাসায় বিশ্রামে থাকতে বলা হয়েছিল। সেদিন যারা আক্রান্ত সাংবাদিকের সংস্পর্শে এসেছিলেন তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তিনিও সংবাদ কভার করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে সর্বপ্রথম ৩রা এপ্রিল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া প্রথম সাংবাদিক ইনডিপেনডেন্ট টিভির কর্মী। তিনি এখনো কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের হেড অব নিউজ মামুন আব্দুল্লাহ জানান, আক্রান্ত হওয়ার গত নয় দিন ধরেই ওই সাংবাদিক ছুটিতে আছেন। আক্রান্ত সনাক্ত হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গেই এক ভিডিও বার্তায় ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও এডিটর-ইন-চিফ এম শামসুর রহমান বলেন, করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয়ায় ওই সাংবাদিক ২৬শে মার্চ সেলফ-আইসোলেশনে চলে যান। তার সংস্পর্শে আসে আরও ৪৭ জনের তালিকা আমরা তৈরি করেছি। তাদেরও সেলফ-আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে। ওই সাংবাদিক, দেশে করোনা সনাক্ত হওয়ার পরে বেশ কয়েকটি ইভেন্ট কভার করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে ওইসব স্থান থেকেই তিনি করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন।
মাজেদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় দেশবাসী আনন্দিত
১২এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি আব্দুল মাজেদের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় দেশবাসী স্বস্তি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনির এই ফাঁসির রায়ে দেশবাসী আনন্দিত, আমরাও আনন্দিত। মোহাম্মদ নাসিম আজ রোববার এক ভিডিও বার্তায় প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে একথা বলেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকারী খুনি মাজেদের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় জাতি শক্তি পেয়েছে। ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্যতম এই হত্যাকারীর দন্ড কার্যকরে দেশবাসি আনন্দিত। এই ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি আমরা আনন্দিত। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকান্ডের ব্যাপারে মাজেদ যে সব তথ্য দিয়েছে তা প্রকাশ করারও দাবি জানিয়ে এম মনসুর আলীর সন্তান মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এখন প্রয়োজন এই খুনির তথ্য অনুযায়ী কারা তাকে সহায়তা করেছে তা জানা। বিশেষ করে- জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও খালেদা জিয়ার আমলে একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করে গেল, কিভাবে সরকারি কর্মকর্তা হয়ে ক্যান্টনমেন্টের মত সুরক্ষিত জায়গায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করতে পেরেছে? তিনি বলেন, কিভাবে মাজেদ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে দীর্ঘদিন পলাতক ছিল? কে তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে তা দেশবাসীর জানা প্রয়োজন। খুনির তথ্য অনুযায়ী- এটি দেশবাসীকে জানানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
মাজেদের ফাঁসি মুজিববর্ষেরউপহার:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
১২এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি আবদুল মাজেদের ফাঁসি দেশবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মুজিববর্ষের উপহার বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আজ রোববার দুপুরে ধানমন্ডির বাসায় নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাঁচ পলাতক খুনির মধ্যে দুইজনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে সরকারের হাতে। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। দেশে এনে তাদেরও ফাঁসি কার্যকর করা হবে। আসাদুজ্জামান খান বলেন, সর্বশেষ ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। এতে জাতি আবারও কলঙ্কমুক্ত হলো। মাজেদের ফাঁসি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেশবাসীর জন্য মুজিববর্ষেরউপহার। নৌপ্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, শিপার্স কাউন্সিল অব বাংলাদেশ কর্তৃক দুস্থ ও অসহায়দের মধ্যে বিতরণের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে দুই হাজার প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী হস্তান্তর করেন

জাতীয় পাতার আরো খবর