মুক্তিযোদ্ধাদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
১৫এপ্রিল,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রোববার বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেশের সব মুক্তিযোদ্ধাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। অন্যান্য উৎসবের মতো বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে শুভেচ্ছার নিদর্শনস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী রাজধানী মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডে অবস্থিত শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্র (মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১)-এ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে ফুল, ফল ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) গাজী হাফিজুর রহমান লিকু, উপ-প্রেস সচিব শাখাওয়াত মুন আজ সকালে তাদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর এ শুভেচ্ছা উপহার পৌঁছে দেন। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ঈদ ও পহেলা বৈশাখের মতো প্রতিটি জাতীয় দিবস ও উৎসবে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করায় তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ও তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এছাড়া মোহাম্মদপুরে ১৩ তলাবিশিষ্ট আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১ নির্মাণসহ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের আবাসনের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তারা গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের পরিবারের সদস্যরা জানান, আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলেই কেবল তারা যথাযথ সম্মান পান। তারা প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী যখন শুধুই দাদী!
১৩এপ্রিল,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রীয় ও দলীয় কাজে সব সময় ব্যস্ত সময় পার করেন এই নেত্রী। দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার পাশাপাশি বিশ্বকে নিয়েও তাকে সর্বদা ব্যস্ত থাকতে হয়। সেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কখনো কখনো হয়ে ওঠেন শুধুই মমতার পরশ মাখা দাদী। নাতি-নাতনিরা যাকে চেনেন শুধু দাদী হিসেবেই, সেখানে রাষ্ট্রীয় আচার কানুনের বালাই থাকে না। প্রধানমন্ত্রীও সেখানে হয়ে ওঠেন তাদের বয়সী একজন শিশু। তেমনই একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন এক ফটোগ্রাফার। শনিবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে ফেসবুকে প্রকাশিত ছবির ক্যাপশনে ফটোগ্রাফার লিখেছেন, ব্যস্ততার ফাঁকে পারিবারিক এক অসাধারণ মুহূর্তে যখন প্রধানমন্ত্রী শুধুই দাদী। গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর রুমে নাতি কাইয়াস মুজিব সিদ্দিক ল্যাপটপে কিছু দেখাচ্ছে, আর গভীর মনোযোগে দেখছে নাতনি লীলাতুলী হাসিনা সিদ্দিক ও দাদী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।-আলোকিত বাংলাদেশ
নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়ায় জড়িত ১৩ জন: পিবিআই
১৩এপ্রিল,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফেনীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন দেয়ায় মোট ১৩ জন জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন,১৩ জনের মধ্যে দুই মেয়েসহ চারজন নুসরাতের শরীরে আগুন দেয়ায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। তিনি জানান, নুসরাত হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাকি ছয়জনকে গ্রেপ্তারে পিবিআই অভিযান চালাচ্ছে। নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়ার পেছনে পিবিআই দুটি কারণ চিহ্নিত করেছে- যৌন হয়রানির অভিযোগে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার অধ্যক্ষ এএসএম সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং এক ছাত্রলীগ নেতার প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা ছাড়াও নুসরাত বেশ কয়েকবার সোনাগাজী ফাজিল মাদরাসা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন শামীমের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। শুক্রবার রাত পৌনে ১টার দিকে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা এলাকা থেকে শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নুসরাত হত্যায় অভিযুক্তরা তাদের পরিকল্পনা নিয়ে কারাগারে মাদরাসা অধ্যক্ষের সাথে দেখা করার পর ৫ এপ্রিল মাদরাসার পশ্চিম হোস্টেলে বৈঠক করেন। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রত্যাহার করতে রাজি না হওয়ায় নুসরাতকে ৬ এপ্রিল মাদরাসার ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া নুসরাত বুধবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের বার্ন ইউনিটে মারা যান।-ইউএনবি
জেল থেকে সিরাজ নির্দেশ দেন হত্যার, পুড়িয়ে মারে শামীম
১৩এপ্রিল,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যা করতে জেলখানা থেকে নির্দেশ দেন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদদৌলা। আর নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনা করেন শাহাদাত হোসেন শামীম। শনিবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার এসব কথা জানান। তিনি বলেন, ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী বোরখা পরিহিত চারজন ভবনের ছাদে নুসরাত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়। এর মধ্যে কমপক্ষে একজন মেয়েও ছিলো। হত্যাকাণ্ড পরিচালনায় এখন পর্যন্ত দুজন মেয়েসহ ১৩ জনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই। গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে পালিয়ে যায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। এ সময় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার বিরুদ্ধে করা যৌন হয়রানির মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে চাপ দেয় তারা। পরে আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার চিকিৎসায় গঠিত হয় ৯ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উন্নত চিকিৎসার জন্য নুসরাতকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোরও পরামর্শ দেন তিনি। কিন্তু সবার প্রার্থনা-চেষ্টাকে বিফল করে ১০ এপ্রিল রাতে না ফেরার দেশে পারি জমান প্রতিবাদী নুসরাত। এদিকে ওই ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, ২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা তার কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। তারই জেরে মামলা করায় নুসরাতকে আগুনে পোড়ানো হয়। ওই মামলার পর সিরাজ উদ-দৌলাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।-আলোকিত বাংলাদেশ
নুসরাতের খুনিরা কেউ ছাড় পাবে না
১২এপ্রিল,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত কেউ ছাড় পাবে না। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার (১২ এপ্রিল) বিকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যারা বোরখা পরে নুসরাতের শরীরে আগুন লাগিয়ে হত্যা করেছে, তারা কেউ ছাড় পাবে না। তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা মেয়েটিকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখজনক মেয়েটি আমাদের ছেড়ে চলে গেলো। এসময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করার পথ দেখিয়েছে বিএনপি। শেখ হাসিনা সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন: নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা, যে অপ্রতিরোধ্য গতিতে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে তা অব্যাহত থাকবে। বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, এইচ টি ইমাম, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সৈয়দ রেজাউল রহমান, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রফেসর আব্দুল খালেদ, প্রফেসর হামিদা বানু, মুকুল বোস, অ্যাম্বাসেডর জমির, মশিউর রহমান, মহীউদ্দিন খান আলমগীরসহ অন্যরা।
হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম এখন ঢাকায়: প্রতিমন্ত্রী
১২এপ্রিল,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য সুখবর। হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম এখন থেকে সৌদি আরবের জেদ্দা বিমানবন্দরের পরিবর্তে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই সম্পন্ন হবে। শুক্রবার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এ তথ্য জানান। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সফররত সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। সেখানেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। উভয় পক্ষ বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন সৌদি আরবের পরিবর্তে বাংলাদেশে সম্পন্ন করার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। তিনি বলেন, এখনকার নিয়মে বাংলাদেশ বিমানের যাত্রীরা আশকোনা হজ ক্যাম্পে এবং সৌদি এয়ারলাইন্সের যাত্রীরা শাহজালাল বিমানবন্দরে বাংলাদেশ অংশের ইমিগ্রেশন করেন। আসন্ন হজেও একই নিয়মে তারা হজ ক্যাম্প ও শাহজালালে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সারবেন। এরপর উভয় বিমানের হজযাত্রীদের শাহজালাল বিমানবন্দরের একটি এক্সক্লুসিভ জোনে নিয়ে যাওয়া হবে। সৌদি আরবের জেদ্দায় যে ইমিগ্রেশনের কাজ হতো তা ওই জোনেই হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এক্সক্লুসিভ জোনের সব কার্যক্রম থাকবে সৌদি আরবের নিয়োজিত টেকনিক্যাল টিমের হাতে। দুই ধাপের ইমিগ্রেশন শেষে হজযাত্রীরা ফ্লাইটে উঠবেন। সৌদি আরবে ইমিগ্রেশনের ঝামেলা আর থাকবে না। ফলে হজযাত্রীদের জেদ্দা বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার বিড়ম্বনা লাঘব হবে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম ঠিকমতো সম্পাদনের লক্ষ্যে এবার হজ ভিসার জন্য দূতাবাসে পাসপোর্ট জমা দেয়ার আগেই দেশের আট বিভাগে প্রত্যেক হজযাত্রীর ১০ আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা হবে। সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ধর্মসচিব মো. আনিছুর রহমান ছাড়াও ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং হাবের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নদীর স্বাভাবিক গতি যেন অব্যাহত থাকে: প্রধানমন্ত্রী
১১এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা জানি, পানির অপর নাম জীবন। পৃথিবীর সব সভ্যতা গড়ে উঠেছে নদীর তীরে। কিন্তু এই পানি অনেক সময় মানুষের জীবন সর্বনাশের দিকে নিয়ে যায়। তাই আমাদের জন্য যেন পানি আর্শীবাদ হয়ে আসে, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পানি দিবস ২০১৯ উদযাপনের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই, যেন দেশের মানুষকে আর কখনো দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হতে না হয়। তিনি বলেন, চৈত্র-বৈশাখ মাস এলেই নদীর পানি শুকিয়ে যায়। আমাদের এমন পদক্ষেপ নিতে হবে যেন শুকনো মৌসুমেও নদীতে পর্যাপ্ত পানি থাকে। আমাদের হাওড়-বাওড়-বিলগুলো জলাধার হিসেবে কাজ করে। এগুলোতে সারাবছর পানি থাকে। সেখান থেকে পানি নদীতে নেমে যায়। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, অধিক ফসলের ফলনসহ বিভিন্ন ধরনের চিন্তা থেকে বাধ দিয়ে এমন অবস্থা তৈরি করা হয় যে জলাধারগুলো নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বর্ষায় যখন পানি আসে, পানি নামার জায়গা পায় না। ভাঙন বেশি হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের প্রয়োজনে অনেক নদীতে ব্রিজ তৈরি করি। আমাদের প্রবণতা থাকে নদী শাসন করার। ব্রিজটা যেন ছোট হয়, সেজন্য নদীকে ছোট করা হয়। আমি এই মতের সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে ভিন্নতা পোষণ করছি। নদীর স্বাভাবিক গতি যেন অব্যাহত থাকে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। বর্ষাকালে যখন বেশি পানি আসে, সেই পানিকে ধারণ করার জন্য বাফার জোন রাখতে হবে। সেভাবে পরিকল্পনা নেওয়া উচিত। আমরা নদীকে বেঁধে ফেলি, কিন্তু নদী বাধ মানে না। সুনামি, সিডরের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমরা দেখেছি, পানির তোড়ে সবকিছু ভেসে যায়। তাই পানিকে বেঁধে না রেখে এর চলাচলের সুব্যবস্থা করে দিতে হবে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে শতবর্ষের বদ্বীপ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও ডেল্টা প্ল্যানের ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী ২২ মার্চ পানি দিবস পালিত হলেও এবার ওই দিন শুক্রবার হওয়ায় দিবসটি পালন করা যায়নি। তাই ১১ এপ্রিল দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত হয়। এ বছর জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব পানি দিবসের প্রতিপাদ্য লিভিং নো ওয়ান বিহাইন্ড। পানি দিবসের এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রমেশ চন্দ্র সেন, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম ও মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার।
না ফেরার দেশে ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত
১১এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগুনে ঝলসে দেয়া ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত ৯টা ৩০ মিনিটে মারা যান তিনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। লাইফ সাপোর্টও তেমন কাজ করছিল না। এরপর চিকিৎসকরা তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। গত মার্চে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে সোনাগাজী থানায় একটি মামলা করে নুসরাতের পরিবার। মামলাটি তুলে না নেয়ায় অধ্যক্ষ তার অনুসারীদের দিয়ে নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ। শরীরের ৮০ শতাংশের বেশি পুড়ে যাওয়া নুসরাত ঢামেকের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। সেখানে পুলিশের কাছে দেয়া জবানবন্দিতে নুসরাত বলেছেন, গত শনিবার সকালে ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রে আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে গেলে তাকে ছাদে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বোরখা পরা চার নারী তাকে মামলা তুলে নিতে বলে। তাতে রাজি না হওয়ায় ওড়না দিয়ে তার হাত বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, মুখ ঢাকা থাকায় ওই চারজনকে চিনতে পারেননি। তবে এক পর্যায়ে তাদের একজন আরেকজনকে শম্পা নামে ডেকেছে, সেটা তার মনে আছে। নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়ার ঘটনায় ভাইয়ের করা করা মামলায় ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজসহ আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি আসামিরা হলেন- পৌর কাউন্সিলর মাকসুল আলম, প্রভাষক আবছার উদ্দিন, সাবেক ছাত্র শাহাদাত হোসেন শামীম, সাবেক ছাত্র নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহম্মদ ও হাফেজ আবদুল কাদের। এছাড়া ঘটনার সময় হাতমোজা, চশমা ও বোরকা পরিহিত আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে এ মামলায়।
আমি লড়বো শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত শেষ চিঠিতে বলেছিল নুসরাত
১১এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুর্বৃত্তদের আগুনে ঝলসে যাওয়া ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার হাতে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার পরে কঠিন পরিস্থিতিতেও ভেঙে না পড়ে বাঁচতে চেয়েছিল ওই শিক্ষার্থী। সহপাঠী বান্ধবীদের উদ্দেশে হার না মেনে লড়াইয়ের কথা লিখেছিলে নুসরাত জাহান রাফি। তার লেখা শেষ চিঠি উদ্ধার করেছে পুলিশ। গেল মঙ্গলবার (০৯ এপ্রিল) রাফির বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া চিঠিতে দিন-তারিখ লেখা না থাকলেও বিষয়বস্তু বিবেচনায় এটি কয়েকদিন আগের লেখা বলে মনে করছে তদন্তকারী সূত্র। চিঠিতে নুসরাত জাহান রাফি তার সহপাঠীদের কাছে যৌন হয়রানির ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অধ্যক্ষের শাস্তি কামনা করেন। পুলিশ জানায়, তার পড়ার টেবিলের খাতায় দুই পাতার ওই চিঠি তামান্না ও সাথী নামে দুই বান্ধবীকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে। গত ২৭ মার্চ ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনাও দিয়েছে রাফি। ওই চিঠিতে রাফি আত্মহত্যা করবে না বলেও উল্লেখ করে। তবে যৌন হয়রানির ঘটনার পর সিরাজ উদ দৌলা গ্রেপ্তার হলে তার মুক্তির দাবির মিছিলে বান্ধবীদের অংশগ্রহণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাফি। তাকে নিয়ে বান্ধবীদের বিভিন্ন কটূক্তিতেও মর্মাহত হওয়ার কথা চিঠিতে লিখেছিল তিনি। চিঠিটিতে রাফি লিখেছেন, তামান্না, সাথী। তোরা আমার বোনের মতো এবং বোনই। ঔ দিন তামান্না আমায় বলেছিল, আমি নাকি নাটক করতেছি। তোর সামনেই বললো। আরও কি কি বললো, আর তুই নাকি নিশাতকে বলেছিস আমরা খারাপ মেয়ে। বোন প্রেম করলে কি সে খারাপ ? ...আমি লড়বো শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। আমি প্রথমে যে ভুলটা করেছি আত্মহত্যা করতে গিয়ে। সেই ভুলটা দ্বিতীয়বার করবো না। মরে যাওয়া মানে তো হেরে যাওয়া। আমি মরবো না, আমি বাঁচবো। আমি তাকে শাস্তি দেবো। যে আমায় কষ্ট দিয়েছে। আমি তাকে এমন শাস্তি দেবো যে, তাকে দেখে অন্যরা শিক্ষা নিবে। আমি তাকে কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি দেবো। ইনশাআল্লাহ।-আরটিভি

জাতীয় পাতার আরো খবর