চট্টগ্রামে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত
0৩এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রামে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত একজন শনাক্ত হয়েছে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। তিনি বলেন, ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) নমুনা পরীক্ষায় একজনের শরীরে করোনাভাইরাসের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত রোগী একজন পুরুষ। তার বয়স ৬২ বছর। তিনি পরিবার নিয়ে চট্টগ্রামের দামপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আইসোলোশনে রয়েছেন। আজ চট্টগ্রামে ৩৩ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিলো সেখানেই এই একজনের করোনাভাইরাস পজেটিভ এসেছে। এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৮৮ জনের।- যমুনা টিভি ।
ডাক্তারদের চেম্বার বন্ধ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
0৩এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহামারি করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশে ডাক্তারদের প্রাইভেট চেম্বারগুলো বন্ধ থাকলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। আজ শুক্রবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) অনলাইন লাইভ ব্রিফিংয়ে যোগ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ হুঁশিয়ারি দেন। জাহিদ মালেক বলেন, নার্স এবং ডাক্তার ভাইদের বলি আপনারা অনেক কাজ করেছেন, আপনারাই সৈনিক, আপনারাই এই সংক্রমণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি যে আমাদের কিছু প্রাইভেট হাসপাতালে কাজ কম হচ্ছে। চেম্বারগুলো অনেকাংশে বন্ধ আছে, আমরা সামাজিক মাধ্যমে জানতে পারছি। আমরা নিজেরাও দেখতে পারছি। এই সময়ে আপনাদের পিছপা হওয়াটা যুক্তিসংগত নয় জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ান, মানুষকে সেবা দিন। এটাই সময়। আমরা কিন্তু এটা লক্ষ্য করছি। পরবর্তী সময়ে এই বিষয়ে আমরা অবশ্যই যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার, আমরা কিন্তু সেই ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবো না। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা এই করোনাভাইরাস চিহ্নিত করে আস্তে আস্তে এটাকে নির্মূল করতে পারব। আমাদের কিটসের আপাতত কোনো সংকট নাই। কাজেই পরীক্ষা আপনারা চালিয়ে যাবেন।
দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩১ দফা মেনে চলার আহ্বান
0৩এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শুক্রবার করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দলীয় নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩১ দফা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।এসময় সামাজিক দূরত্ব মেনে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে আহ্বান জানান কাদের।করোনা প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার স্বাস্থ্যসেবায় নবতর ব্যবস্থার উন্নতি করে চলেছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, মানবিক এই সংকটে ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের উজাড় করে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছে।এসময় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে মুক্তাগাছা দরিদ্র পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ
0৩এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) এর প্রাদুর্ভাব রোধ করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী চলমান লকডাউন পরিস্থিতিতে দরিদ্র, অসহায়, দুস্থ, দিনমজুর, শ্রমিক শ্রেণির মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ায় সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি'র ব্যক্তিগত উদ্যোগে আজ তাঁর নির্বাচনী এলাকা ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার মুক্তাগাছা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ১৩৫০টি পরিবারের মাঝে খাদ্যদ্রব্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন মুক্তাগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন সরকার এবং মুক্তাগাছা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও মুক্তাগাছা পৌর আওয়ামী লীগের আহবায়ক আরব আলী। তাঁদের সঙ্গে সহযোগিতায় ছিলেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এসময় প্রতি পরিবারকে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি তেল, ১ কেজি লবণ সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিতরণ করা হয়। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ জানান, ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের কার্যক্রম চলমান থাকবে, ধারাবাহিক ভাবে সকল অসহায় পরিবারের মাঝেই ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে সজাগ
0৩এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতে আটকা ২৫০০ বাংলাদেশিকে ফেরানোর বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশেষে অপারগতার বার্তাই দিলো। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা বিভিন্ন মারফত এতদিন তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টার কথা জানালেও বাস্তবে যেসব বাধা রয়েছে তা-ই প্রকাশ করা হলো ৩রা এপ্রিলের জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। যেটা বলা হয়েছে- তা হলো দিল্লি ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত কোন বিদেশিকে ভারতে ঢুকতে বা বের হতে দিতে চায় না। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আটকেপড়া বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সজাগ দৃষ্টি রাখবে বাংলাদেশ। বিজ্ঞপ্তিটি ছিল এমন- বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ এর ব্যাপক প্রসারের প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে সজাগ দৃষ্টি রাখছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রবাসী প্রতিবছর বিভিন্ন কারণে (চিকিৎসা, পর্যটন, শিক্ষা প্রভৃতি) ভারত গমন করে। গত ২৫ মার্চ থেকে ২১ দিন অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল ২০২০ পর্যন্ত ভারত থেকে সব ধরনের যানবাহন (বাস, রেল, বিমান) চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। নয়াদিল্লীতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সর্বশেষ তথ্যমতে এ মুহূর্তে বিভিন্ন কারণে ভারতে গমন করা বা আটকে পড়া বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় দুই হাজার পাঁচশত। এর মধ্যে এক হাজারের বেশি ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। কোভিড-১৯ এর ব্যাপ্তি রোধকল্পে ভারত সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোন ধরণের বিদেশী (প্রবাসী ভারতীয়সহ) ১৪ এপ্রিল ২০২০ পর্যন্ত ভারতে প্রবেশ করতে পারবে না। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ভারত থেকেও কোন বিদেশী নাগরিকের বহির্গমন নিরুৎসাহিত করছে। তাছাড়া ভারতের আন্তঃরাষ্ট্রীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাও এ মুহূর্তে বন্ধ রয়েছে।
দেশে করোনায় আরও ৫ জন শনাক্ত
0৩এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বে মহামারি আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬১ জনে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। ব্রিফিং করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও করোনা ভঅইরাসে ৫ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এ ভাইরাসে কেউ মারা যায়নি। ফলে দেশব্যাপী এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৬ জনই রয়েছে। ২৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সবার করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করা খুবই জরুরি। সবাই পরীক্ষা করতে আসবেন। এতে নিজেদের পাশাপাশি পরিবারকেও সুরক্ষা দিতে পারবেন। তিনি বলেন, প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে কাজ কম হচ্ছে। এ সময়ে পিছপা হওয়া উচিত না। চিকিৎসা করা উচিত। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসারে আমরা পরীক্ষা বাড়িয়ে দিয়েছি। তিনি বলেন, সব জেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। আমরা ৫১৩টি নমুনা সংগ্রহ করেছি। আইইডিসিআরের বাইরের ল্যাবলেটরিগুলোতে তিনটি পজেটিভ পেয়েছি। তাদের আইসোলেশন ও কীভাবে তারা আক্রান্ত হয়েছেন, সেই অনুসন্ধান শুরু করে দিয়েছি।
দুশ্চিন্তায় কপালে ভাজ পড়েছে পত্রিকা হকারদের,তাদের খবর আমরা কতটুকু রাখি?
0৩এপ্রিল,শুক্রবার,মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,নিউজ একাত্তর ডট কম: দিন-রাত, রোদ-বৃষ্টি, গরম-শীত সব ভুলে, ভোরে মোরগ ডাকার আগেই হকার ছুটে আসেন সমিতি কিংবা এজেন্টের কাছে। সেখান থেকে দৈনিক পত্রিকা সংগ্রহ করে আবার ছুটতে শুরু করেন গ্রাহকের দুয়ারে। দেশ, সমাজ, বিশ্বের খবর মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া যেন তার ব্রত। কিন্তু তাদের খবর আমরা কতটুকু রাখি? তারা থেকে যান অগোচরে। মানুষের অধিকার আদায়ের সংবাদ বিলি করলেও তারা নিজেরা নূন্যতম মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। অথচ তারা খবরের কাগজের সম্পাদক ও পাঠক উভয়ের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। সমাজে হকার নামেই তাদের পরিচয়।সেই ভোর রাত থেকে তারা পথে নামেন। সারা দিনের পরিশ্রমের ফল সর্বসাকুল্যে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। পত্রিকা যেদিন ভালো বিক্রি হয় সেদিন ৩০০ টাকা আয় হয়। পরিবার, পরিজন ও সন্তান লালন-পালন, তাদের শিক্ষা, চিকিৎসাসহ আবাসন ব্যয় মিটিয়ে ঢাকা শহরে তাদের টিকে থাকা কঠিন। জীবন বাজি রেখে খবরের কাগজ তারা পৌঁছে দেন ঠিকই কিন্তু দুর্ঘটনায় তাদের পাশে কেউ দাঁড়ান না।পত্রিকা ও পত্রিকার খবরের গুরুত্ব থাকলেও নাগরিকদের হাতে হাতে এসব পত্রিকা পৌঁছে দেওয়া হকারদের গুরুত্ব তেমন নেই। এই খেদ খোদ হকারদের।করোনাভাইরাস প্রার্দুভাবে কার্যত অচল । কমে গেছে পত্রিকার বিকিকিনিও। এই বাস্তবতায় দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে তাদের। আয় কমে এসেছে প্রায় আশিভাগ। দুশ্চিন্তায় কপালে ভাজ পড়েছে তাদের।প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার আগে দুয়ারে আসে খবরের কাগজ। ধল প্রহরে শান্তির ঘুম বিসর্জন দিয়ে একটি সাইকেলে চেপে বাড়ি বাড়ি খবর কাগজ পৌঁছে দেন হকাররা। লোকে তাদের চেনে পেপারওয়ালা বলে। সম্প্রতি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রভাব পড়েছে এসব হকারদের ওপর। পত্রিকা বিক্রি প্রায় বন্ধের পথে।আসুন আমরা এই হকার বা পেপার ওয়ালাদের পাশে দাড়ায়। সকলের প্রতি অনুরোধ তারা যেন এই পরিস্থিতিতে হকার বা পেপার ওয়ালাদের একটু সহায়তা করেন।
করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ৩১ নির্দেশনা,রোববার সংবাদ সম্মেলন
0৩এপ্রিল,শুক্রবার,স্টাফ রিপোর্টার,নিউজ একাত্তর ডট কম: কভিড মোকাবিলায় ৩১ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে আছে আক্রান্ত হলে লুকিয়ে না রাখা এবং শুধুমাত্র চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা সরঞ্জাম-পিপিই পরার কথা। পাশাপাশি হোম কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেশনে থাকাদের প্রতি মানবিক আচরণ করতে বলেছেন তিনি। নদীপ্রধান এলাকায় করতে বলেছেন নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা। দেয়া হয়েছে অন্যান্য রোগে আক্রান্তদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা অব্যাহত রাখার নির্দেশনা। নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ যেন অভুক্ত না থাকে সে বিষয়েও নজর রাখতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন স্থবির না হয়, বলেছেন সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে।প্রধানমন্ত্রীর ৩১ দফা নির্দেশনাগুলো হলো- ১) করোনাভাইরাস সম্পর্কে চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ভাইরাস সম্পর্কিত সচেতনতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। ২) লুকোচুরির দরকার নেই, করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। ৩) পিপিই সাধারণভাবে সকলের পরার দরকার নেই। চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য পিপিই নিশ্চিত করতে হবে। এই রোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত পিপিই, মাস্কসহ সকল চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত রাখা এবং বর্জ্য অপসারণের ক্ষেত্রে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। ৪) কোভিড-১৯ রোগের চিকিৎসায় নিয়োজিত সকল চিকিৎসক, নার্স, ল্যাব টেকনিশিয়ান, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, অ্যাম্বুলেন্স চালকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে। ৫) যারা হোম কোয়ারেন্টাইনে বা আইসোলেশনে আছেন, তাদের প্রতি মানবিক আচরণ করতে হবে। ৬) নিয়মিত হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। ৭) নদী বেষ্টিত জেলাসমূহে নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে হবে। ৮) অন্যান্য রোগে আক্রান্তদের যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে হবে। ৯) পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। সারাদেশের সকল সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। ১০) আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হবে। জাতীয় এ দুর্যোগে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ সকল সরকারি কর্মকর্তাগণ যথাযথ ও সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন- এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। ১১) ত্রাণ কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। ১২) দিনমজুর, শ্রমিক, কৃষক যেন অভুক্ত না থাকে। তাদের সাহায্য করতে হবে। খেটে খাওয়া দরিদ্র জনগোষ্ঠির জন্য অতিরিক্ত তালিকা তৈরি করতে হবে। ১৩) সোশ্যাল সেফটিনেট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ১৪) অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন স্থবির না হয়, সে বিষয়ে যথাযথ নজর দিতে হবে। ১৫) খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে, অধিক প্রকার ফসল উৎপাদন করতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যা যা করা দরকার করতে হবে। কোনো জমি যেন পতিত না থাকে। ১৬) সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে। যাতে বাজার চালু থাকে। ১৭) সাধারণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে । ১৮) জনস্বার্থে বাংলা নববর্ষের সকল অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে যাতে জনসমাগম না হয়। ঘরে বসে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নববর্ষ উদযাপন করতে হবে। ১৯) স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজের সকল স্তরের জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রশাসন সকলকে নিয়ে কাজ করবে। ২০) সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসমূহ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। ২১) জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন ওয়ার্ডভিত্তিক তালিকা প্রণয়ন করে দুঃস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করবেন। ২২) সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী যেমন: কৃষি শ্রমিক, দিনমজুর, রিক্সা/ভ্যান চালক, পরিবহন শ্রমিক, ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, পথশিশু, স্বামী পরিত্যক্তা/বিধবা নারী এবং হিজড়া সম্প্রদায়ের প্রতি বিশেষ নজর রাখাসহ ত্রাণ সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। ২৩) প্রবীণ নাগরিক ও শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ২৪) দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী (এসওডি) যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য সকল সরকারি কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। ২৫) নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উৎপাদন, সরবরাহ ও নিয়মিত বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া মনিটরিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ২৬) আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় করবেন না। খাদ্যশস্যসহ প্রয়োজনীয় সকল পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। ২৭) কৃষকগণ নিয়মিত চাষাবাদ চালিয়ে যাবেন। এক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে। ২৮) সকল শিল্প মালিক, ব্যবসায়ী ও ব্যক্তি পর্যায়ে নিজ নিজ শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বাড়ি-ঘর পরিষ্কার রাখবেন। ২৯) শিল্প মালিকগণ শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে উৎপাদন অব্যাহত রাখবেন। ৩০) গণমাধ্যম কর্মীরা জনসচেতনতা সৃষ্টিতে যথাযথ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের গুজব ও অসত্য তথ্য যাতে বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। ৩১) গুজব রটানো বন্ধ করতে হবে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে নানা গুজব রটানো হচ্ছে। গুজবে কান দেবেন না এবং গুজবে বিচলিত হবেন না। করোনা ভাইরাসের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার সকাল ১০টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী এ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।
চট্টগ্রামে আরও ১৪ জনের পরীক্ষায়ও করোনা মেলেনি
0২এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রামে সীতাকুন্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকসাস ডিজিজে (বিআইটিআইডি) আরও ১৪ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু কারও দেহেই মেলেনি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ।জ্বর-সর্দি কাশি থাকায় এই ১৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান তিনি।তিনি বলেন, ২৫ মার্চ থেকে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকসাস ডিজিজে (বিআইটিআইডি) করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়। সেই থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ৪৮ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ২৫ মার্চের আগে ১৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। সবকয়টি রেজাল্টই নেগেটিভ আসে বলে জানিয়েছে বিআইটিআইডি কর্তৃপক্ষ।

জাতীয় পাতার আরো খবর