বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে সারা দেশে বিক্ষোভ-মানববন্ধন
০৫ডিসেম্বর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কুষ্টিয়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে রাজধানীর মতো সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। এ সময় সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। সেইসঙ্গে দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনারও দাবি তোলেন প্রতিবাদকারীরা। সন্ধ্যা গড়াতেই জয়দেবপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকায় এভাবেই মশাল হাতে বিক্ষোভ মিছিলে কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে স্লোগান দেন গাজীপুর মহানগর যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় অবিলম্বে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িত ও ইন্ধনদাতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। একই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে, রংপুরে সন্ধ্যায় জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে বের হয়। ধর্মের অপব্যাখ্যাকারীরা এঘটনার সঙ্গে জড়িত উল্লেখ করে অবিলম্বে তাদের গ্রেফতারের দাবি জানান। পরে জাহাজ কোম্পানি মোড়ে গিয়ে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা। প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, ঝিনাইদহে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শনিবার সন্ধ্যায় বিশাল একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা ভাস্কর্য ভাঙচুরকারীরা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে উল্লেখ করে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান। একই প্রতিবাদে বরিশাল, রাজশাহী, নেত্রকোনা, মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
ফয়জুল-মামুনুলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার ঘোষণা
০৫ডিসেম্বর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্যের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননার অভিযোগে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির ফয়জুল করিমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মঞ্চের নেতারা এ ঘোষণা দেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন বলেন, কিছুদিন আগে মৌলবাদী অপশক্তি মামুনুল হক ও ফয়জুল করিম কর্তৃক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙে বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। দেশের সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। একই সাথে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। তিনি বলেন, ভাস্কর্যের বিরোধিতার নামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কটাক্ষ ও অবমাননা করে মামুনুল গংরা প্রকাশ্যে বড় বড় গলায় কথা বলছে। মৌলবাদী অপশক্তিরা ধর্মের দোহাই দিয়ে ভাস্কর্য নিষিদ্ধ বলে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এরা ভাস্কর্য ও মূর্তির পার্থক্যের অপব্যাখ্যা দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ না নিলে আমরা দেশ ও জাতির সমূহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করছি। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান রাজু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি মিলন ঢালী, সাধারণ সম্পাদক দ্বীন ইসলাম বাপ্পী। সূত্র: কালের কণ্ঠ
ডিসেম্বর নাগাদ মেট্রোরেলের ৩ সেট কোচ নির্মাণ সম্পন্ন হবে
০৫ডিসেম্বর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাপানে ডিসেম্বরের মধ্যে মেট্রো-ট্রেনের আরো তিন সেট যাত্রীবাহী কোচের নির্মাণ সম্পন্ন হবে। সেপ্টেম্বরে দুই সেট কোচ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা ম্যাস Rapid ট্রানজিট লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন সিদ্দিক বলেন, সেপ্টেম্বর মাসে জাপানের ওসাকার কারখানায় মেট্রো ট্রেনের আরো দুই সেট কোচের নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। আরো তিনটি সেট তৈরীর কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মেট্রো রেলটি ৪০ মিনিটেরও কম সময়ে ২০ কিলোমিটারের পুরো রুট ভ্রমণ করতে পারবে। এ রুটে ৬০ হাজার যাত্রী ঘন্টায় যাতায়াত করতে পারবে। প্রতিটি ট্রেনের ছয়টি কোচের মধ্যে একটি কোচ নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তবে ট্রেনের অন্যান্য কোচে নারী-পুরুষ একসাথে ভ্রমণ করতে পারবে। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রো রেললাইনের প্রথম পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি ৭৭.৫৭ শতাংশ এবং আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত রেললাইনটির ৪৭.৪৯ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সামগ্রিকভাবে রেলপথটির ৫৩.৫৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর জন্য ২০.১ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রো রেল সিস্টেমের একটি অংশ উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রায় ১১.০৪ কিলোমিটার দৃশ্যমান হয়েছে। ৯টি স্টেশনের সাব-স্ট্রাকচার সম্পন্ন হয়ে গেছে। উত্তরা উত্তর, উত্তরা মধ্য ও উত্তরা দক্ষিণের স্টেশনের হলঘরের ছাদ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া স্টেশনের হলঘরের নির্মাণ কাজ চলছে। উত্তরা মধ্য ও উত্তরা দক্ষিণ-এর প্লাটফরম নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে আর উত্তরা উত্তরের প্লাটফরম নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। স্টেশন তিনটির কারিগরি ও বৈদ্যুতিক শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০৭ হস্তান্তরের জন্য টেলিযোগাযোগ, বিদ্যুৎ সাবস্টেশন, সিগন্যালিং ও স্ট্রেশন কন্ট্রোলারের অফিস নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে। সিদ্দিক আশা করছেন, করোনা পরিস্থিতিতে সুরক্ষা নীতি মেনে এখন যেভাবে কাজ চলছে তা অব্যাহত থাকলে, ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই রেলপথটি সম্পন্ন হবে। এমআরটি লেন-৬ নির্মাণকাজে নিয়োজিত কয়েকজন কর্মীর মধ্যে কোভিড-১৯ এর উপসর্গ দেখা দেয়ায় তাদের কাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তাদের কোভিড-১৯ সনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হয়েছে। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে গাবতলি নির্মাণাধীন স্থানে ১০ শয্যার একটি আইসোল্যাশন কেন্দ্র ও উত্তরা পঞ্চবটি নির্মাণস্থানে ১৪ শয্যার একটি আইসোল্যাশন কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে উল্লেখ করে সিদ্দিক বলেন, প্রয়োজনে আরো আবাসিক স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। যাদের দেহে কোভিড-১৯ ধরা পড়েছে তাদেরকে বাড়িতে অথবা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে তাদেরকে করোনার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। ম্যাস Rapid ট্রানজিট-এমআরটি লেন-৬-এর ২১ কিমি দীর্ঘ রুটে মোট ১৬টি স্টেশন থাকবে। স্টেশনগুলো হলো- উত্তরা উত্তর, উত্তরা মধ্য, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণী, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় ও মতিঝিল। দিয়াইবাড়ি, মিরপুর ও মতিঝিল স্টেশনগুলো আইকনিক হবে। অন্যান্য স্টেশনগুলো স্বাভাবিকভাবেই নির্মাণ করা হবে। সিদ্দিক বলেন, যদি সবকিছু স্বাভাবিক থাকে, তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই রাজধানীবাসীরা তাদের স্বপ্নের মেট্রোরেলে চড়ে দিয়াইবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারবেন।
১০ জেলায় অ্যান্টিজেন টেস্ট উদ্বোধন করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
০৫ডিসেম্বর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্তকরণে দেশের ১০ জেলায় অ্যান্টিজেন টেস্ট কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হবে। পর্যাপ্ত রিএজেন্ট আছে। শনিবার (৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনলাইনে ১০ জেলায় এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। স্বাস্থ্য সচিব মো. আব্দুল মানান বলেন, টেস্টের সংখ্যা বাড়াতে দু-চার দিনের মধ্যে মোবাইল ল্যাব চালু করা হবে। দুটি মোবাইল ল্যাব চালু করা হবে প্রাথমিকভাবে। এগুলো আসকোনা ও দিয়াবাড়ির আইসোলেশন সেন্টারের আশপাশে নমুনা পরীক্ষা করবে। অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, পটুয়াখালী, মেহেরপুর, মুন্সীগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, যশোর, মাদারীপুর ও সিলেটে অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে শহীদ শামসুদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং বাকি ৯ জেলায় জেলা সদর হাসপাতালে এ টেস্ট করা হবে। অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে নমুনা পরীক্ষা করা যাবে। স্বাস্থ্য সচিবের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। এসময় ১০ জেলার সিভিল সার্জন অনলাইনে যুক্ত ছিলেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সরকার অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় অনুমতি দেয়।
বিজিবিকে ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
০৫ডিসেম্বর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে একটি ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিজিবি এখন জলে, স্থলে ও আকাশপথে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা অর্জন করেছে। বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামোতে ১৫ হাজার জনবল বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। শনিবার (০৫ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বায়তুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে (বিজিটিসিঅ্যান্ডসি) ৯৫তম রিক্রুট নবীনদের শপথ নেওয়া ও কুচকাওয়াজ আনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও টেলিকনফারেন্স (ভিটিসি)-এর মাধ্যমে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, স্মার্ট বর্ডার ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে সীমান্তে নতুন নতুন বিওপি, বিএসপি নির্মাণসহ অত্যাধুনিক সার্ভেইলেন্স ইকুইপমেন্ট স্থাপন, এটিভি ও অত্যাধুনিক এপিসি, ভেহিক্যাল স্ক্যানার ও দ্রুতগামী জলযান সংযোজন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম দেওয়ার মধ্য দিয়ে নবীন সৈনিককদের শপথ গ্রহণ ও কুচকাওয়াজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। নবীন সৈনিকদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সীমান্তে চোরাচালান রোধে তোমাদের পেশাগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সুশৃঙ্খল ও উন্নত চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। তোমাদের সকলের কর্মজীবন সফল হোক সেই কামনা করছি। তিনি বলেন, সেবা ও কর্তব্যপরায়ণতার মাধ্যমে এই বাহিনীর সদস্যরা জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। দেশ ও জাতির প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও একইভাবে জনকল্যাণমূলক কাজে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। এবছর ১৪ জুন থেকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বায়তুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ঐতিহ্যবাহী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যঅন্ড কলেজে (বিজিটিসিঅ্যান্ডসি)-সহ আরও ৬টি প্রশিক্ষণ ভেন্যুতে ৯৫তম রিক্রুট ব্যাচের মৌলিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এতে বিজিটিসিঅ্যান্ডসিতে প্রশিক্ষণ নেওয়া ৭৯১ জন রিক্রুট মধ্যে ৫৯০ জন পুরুষ এবং ২০১ জন নারী রিক্রুট রয়েছেন। এদিকে বাকি ৬টি প্রশিক্ষণ ভেন্যুতে ৯৫তম রিক্রুট ব্যাচের ১ হাজার ৭৩৩ জন রিক্রুট রয়েছেন। দীর্ঘ ২৪ সপ্তাহের অত্যন্ত কঠোর ও কষ্টসাধ্য এ প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করে আনুষ্ঠানিক সর্বমোট ২ হাজার ৫২৪ জন রিক্রুট (নারী-পুরুষ) শপথ গ্রহণ ও সমাপনী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে তাদের সৈনিক জীবনের শুভ সূচনা করেছেন। শনিবার (০৫ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বায়তুল ইজ্জতে অবস্থিত বিজিবির ঐতিহ্যবাহী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের (বিজিটিসিঅ্যান্ডসি) বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ৯৫তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের প্যারেড কমান্ডার প্যারেড পরিচালনা করেন ৯৫তম রিক্রুট ব্যাচের অফিসার ইনচার্জ মেজর কাজী মনজুরুল ইসলাম। প্যারেড এ্যাডজুটেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পরিচালক বেগ আব্দুল্লাহ আল মাসুম। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে ৯৫তম রিক্রুট সৈনিকদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য দেন বিজিবি মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে ৯৫তম রিক্রুট ব্যাচের সেরা চৌকষ রিক্রুট হিসেবে ১ম স্থান অধিকারী (বক্ষ নম্বর ৪৩১) রিক্রুট (জিডি) মো. খোকন মোল্লার হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন বিজিবির মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন। এসময় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সংসদ সদস্য, সেনাবাহিনী ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ফতোয়াবাজরা নানা সময়ে সমাজে অস্থিরতা তৈরি করেছে: হাছান মাহমুদ
০৪ডিসেম্বর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলো যুগে যুগে দেশকে পিছিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছে। আজকেও দেশের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে, নানা বিষয়ে অপব্যাখ্যা ও ফতোয়া দেওয়া হচ্ছে। এই ফতোয়াবাজরা নানা সময়ে ফতোয়া দিয়ে সমাজে অস্থিরতা তৈরি করেছে। শুক্রবার (০৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবন থেকে অনলাইনে বাংলাদেশ বেতারের খুলনা কেন্দ্রের ৫০ বছরপূর্তি অনুষ্ঠানমালা উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃব্যে সমসাময়িক প্রসঙ্গে তিনি একথা বলেন। তথ্যসচিব খাজা মিয়া, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক হোসনে আরা তালুকদার অনলাইনে এবং খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক, খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুন অর রশীদ খুলনা বেতারকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। খুলনাকেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক মো. বশির উদ্দীন সভায় সভাপতিত্ব করেন। তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, দেশ যাতে প্রগতির দিকে যায় এবং একইসাথে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন দেশপ্রেম, মেধা ও মননের সমন্বয়ে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের তৈরি করতে পারে, সেই লক্ষ্য নিয়েই গণমাধ্যমের অনুষ্ঠান নির্মাণ করতে হবে। বিনোদন দেওয়ার ক্ষেত্রেও আমাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি-ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দিতে হবে, তাহলেই আকাশ- সংস্কৃতির আগ্রাসন মোকাবিলা করে আমরা দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছে দিতে পারবো। তথ্যমন্ত্রী এসময় সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বেতারের খুলনা কেন্দ্রসহ পুরো বেতার পরিবারকে অভিনন্দন জানান। সমুদ্র এবং পাহাড়চূড়াসহ সকল প্রান্তে অবস্থিত জনমানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য বেতারকে অনন্য গণমাধ্যম হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি সবকিছুর সঙ্গে বেতার জড়িয়ে আছে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশ বেতারের সবচেয়ে বড় অর্জন। ১৯৭১ সালে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করে শুনিয়েছিলেন তৎকালীন চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ হান্নান। মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র দেশের সমস্ত মুক্তিকামী মানুষকে প্রেরণা জুগিয়েছে। স্বাধীনতার পর দেশগঠনেও ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে বেতার। খুলনা কেন্দ্রও গত ৫০ বছর ধরে এর ব্যাতিক্রম নয়। কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলাতেও বেতার অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বেতারের সেবাকে আরও এগিয়ে নিতে শিগগিরই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বেতার সম্প্রচার শুরু হবে। তথ্যসচিব খাজা মিয়া খুলনা কেন্দ্রসহ বেতারের সবাইকে সংস্থাটির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান। বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক হোসনে আরা তালুকদার অনুষ্ঠানে সব সময়ে বিশেষ করে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় জনগণকে সঠিক বার্তা, তথ্য ও অনুষ্ঠান উপহার দিতে বেতারের চলমান কর্মপ্রবাহের বর্ণনা দেন।
ভাসানচরে রোহিঙ্গারা
০৪ডিসেম্বর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নোয়াখালীর ভাসানচরে পৌঁছেছে ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা। শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুর দুইটার দিকে নৌবাহিনীর জাহাজে করে ভাসানচরে পৌঁছে রোহিঙ্গারা। এর আগে শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে জাহাজে করে ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা নোয়াখালীর ভাসানচরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গাদের বহন করা জাহাজগুলো শুক্রবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম ছেড়ে যায়। অতিরিক্ত শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা বলেন, দুপুর দুইটার দিকে নোয়াখালীর ভাসানচরে পৌঁছেছে রোহিঙ্গাদের বহনকারী জাহাজগুলো। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পতেঙ্গা এলাকার বোট ক্লাব ঘাট, কোস্টগার্ড ঘাট ও রেডি রেসপন্স বার্থে রাখা জাহাজে রোহিঙ্গাদের তোলা হয়। এর আগে কক্সবাজারের উখিয়া থেকে নোয়াখালীর ভাসানচরে নিতে এসব রোহিঙ্গাদের চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়। ২০টি বাসে করে তাদের চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়। ভাসানচর যেতে আসা এসব রোহিঙ্গাকে বৃহস্পতিবার রাতে রাখা হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনী রেডি রেসপন্স বার্থ ও বিএএফ শাহীন কলেজ মাঠে অস্থায়ী- ট্রান্সজিট ক্যাম্পে।
পদ্মা সেতুর ৬ কিলোমিটার দৃশ্যমান
০৪ডিসেম্বর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতুর ৬ কিলোমিটার। মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে সেতুর ১১ ও ১২ নম্বর পিলারের ওপর ৪০তম স্প্যানটি বসানোয় সেতুর ৬ ছয় কিলোমিটার দেখা যাচ্ছে। শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৫৮ মিনিটের দিকে সেতুর ১১ ও ১২ নম্বর পিলারের ওপর ৪০তম স্প্যান 'টু-ই' সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক (মূল সেতু) দেওয়ান আবদুল কাদের। ৩৯তম স্প্যান বসানোর ৮ দিনের মাথায় বসানো হলো এ স্প্যানটি। আর এখন ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি স্প্যান বসানো হলেই ৬ হাজার ১৫০ মিটার সেতুর অবকাঠামো দৃশ্যমান হবে। গেল দুই মাসে সেতুতে ৮টি স্প্যান বসিয়ে রেকর্ড তৈরি করেছেন দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীরা। বিজয়ের মাসে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে স্প্যান বসানোর কাজটি সম্পন্ন করার ব্যাপারে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা। এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে তিয়ান-ই নামের ভাসমান ক্রেনটি ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের স্প্যানটি নিয়ে রওনা দেয়। এরপর ৪০ মিনিট সময় নিয়ে ১১ ও ১২ নম্বর পিলারের কাছে এসে পৌঁছায়। ওই দিনই ছয়টি ক্যাবলের (তার) মাধ্যমে নোঙর করা হয় ক্রেনটি। শুক্রবার শুধু পিলারের ওপরে স্প্যানটি বসানো হয়। পদ্মা সেতুর প্রকৌশলী সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল থেকে ২ পিলারের মধ্যবর্তী স্থানে স্প্যান বহনকারী ভাসমান ক্রেনটি পজিশনিং করে। এরপর স্প্যানটিকে ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে তোলা হয় পিলারের উচ্চতায়। পরে রাখা হয় ২টি পিলারের বেয়ারিংয়ের ওপর। স্প্যানটি বসানোর জন্য ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রকৌশলীদের বেগ পেতে হয়নি। কোনো রকম বাধা ছাড়াই স্প্যানটি বসাতে পেরে খুশি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে। এরপর প্রথম স্প্যান বসানো হয়েছিল ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। এরপর নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে ধাপে ধাপে স্প্যান বসতে থাকে। আমাজন নদীর পরই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি খরস্রোতা ও প্রমত্তা নদী পদ্মার বুকে দাঁড়িয়েছে পিলার। যাতে বসানো হয় স্প্যানগুলো। কাজের অগ্রগতি কতটা হচ্ছে, তা স্প্যান বসানোর ওপর নির্ভর করে। শুরুর দিকে একেকটি স্প্যান বসানো হতো কয়েক মাসের ব্যবধানে। এরপর কম সময়ের ব্যবধানে স্প্যান বসানোর সংখ্যা বাড়তে থাকে। পাশাপাশি স্প্যান বসানোর অভিজ্ঞতাও বাড়তে থাকে প্রকৌশলীদের। আর এর জন্য স্প্যান বসাতে সময়ও কমেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রকৌশলী জানিয়েছেন, নির্মাণ কাজের শুরুতে মাটির গঠনগত বৈচিত্র‍্য ও গভীরতার ভারসাম্যের তারতম্যের কারণে পিলারের নকশা জটিলতায় পড়েছিল প্রকল্পটি। সবশেষ করোনা পরিস্থিতি প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে গতি কম হলেও একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি কাজ। পদ্মা সেতুতে ৪২টি পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। এ পর্যন্ত বসানো হয়েছে ৪০টি স্প্যান। ১১ ও ১২ নম্বর পিলারের আশেপাশে চলাচলকারী নৌযানগুলো যাতে স্প্যান বসানোর কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত না করে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর জন্য সেনাবাহিনীর বোট সারাক্ষণ সেখানে নজরদারি করেছে। নৌযাগুলোকে নিরাপদ দূরত্ব রেখে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয় সেসময়। এখন ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি স্প্যান বসিয়ে দিলেই বিজয়ের মাসে পদ্মা জয় করবে পদ্মা সেতু। আর এ স্প্যানটিও প্রস্তুত কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে। আর তখন নদীর ওপর দেখা যাবে ৬ হাজার ১৫০ মিটার অর্থাৎ ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের অবকাঠামো। সেতুর কাজে নিয়োজিত দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী, শ্রমিকরাও শেষ স্প্যান বসানোর অপেক্ষায়। চলতি বছর করোনা পরিস্থিতি ও বন্যার কারণে চার মাস স্প্যান বসানো হয়নি। কিন্তু গেল দুই মাসে ৮টি স্প্যান বসানো হয়ে। পরিবার পরিজন থেকে দূরে থেকে নির্মাণ কাজে সংশ্লিষ্টরাও কাজের গতি সচল রেখেছেন। সেতুর অনেকটাই দৃশ্যমান হওয়ায় পদ্মাপাড়ের সবার চোখে মুখে এখন আনন্দের হাসি। পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, স্প্যান বসানোর কাজ এ মাসে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে আমরা আনন্দিত। তবে সবচেয়ে বেশি খুশি হবো যখন যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে সেতুটি। ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি থাকা স্প্যান বসানো হবে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারে প্রথম স্প্যান বসানো হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রয়োজন হবে ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাব। এছাড়া ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে। মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে বসানো স্প্যানগুলোতে এসব স্ল্যাব বসানো হচ্ছে। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে পদ্মা সেতুর কাঠামো। সেতুর ওপরের অংশে যানবাহন ও নিচ দিয়ে চলবে ট্রেন। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।
মহামারি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিন ক্ষেত্রে জোর দেয়ার আহ্বান
০৪ডিসেম্বর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মানসম্মত টিকার সার্বজনীন ও ন্যায়সঙ্গত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত, টিকা উৎপাদনে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং মহামারি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আর্থিক সহায়তাসহ তিনটি ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি আরও বৈশ্বিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনা মহামারির প্রেক্ষিতে শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজি) ৩১তম বিশেষ অধিবেশনে রেকর্ড করা ব্ক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) বর্তমান চেয়ার আজারবাইজান এবং জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হওয়া দুই দিনের এ বিশেষ অধিবেশন ডেকেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, কিছু অগ্রাধিকার ক্ষেত্রে জরুরি মনোযোগ এবং আরও সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রথমত, আমাদের যথাসময়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে ও সাশ্রয়ী মূল্যে সবার জন্য মানসম্মত ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ২০৩০ সালের উন্নয়ন এজেন্ডা সমতার নীতি দ্বারা পরিচালিত এসডিজি অর্জনে সার্বজনীন স্বাস্থ্য কাভারেজের মৌলিক ভূমিকার স্বীকৃতি দেয়। একইভাবে, যখন ভ্যাকসিন প্রাপ্তির কথা আসে, তখন কাউকে পেছনে রাখা সমীচীন হবে না। এটি মহামারি পরাস্ত করতে, জীবন বাঁচাতে এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করতে আমাদের সহায়তা করবে। দ্বিতীয়ত, করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনকে গোটা বিশ্বের জন্য একটি বৈশ্বিক জনপণ্য বিবেচনা করতে হবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ডব্লিবউএইচওর অ্যাক্ট এবং কোভাক্স সুবিধার উদ্যোগ এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোর ট্রিপস চুক্তির আওতায় আইপি রাইটস ওয়েভার ব্যবহার করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে স্থানীয়ভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। বাংলাদেশের সক্ষমতা রয়েছে এবং সুযোগ পেলে ভ্যাকসিন তৈরি করতে প্রস্তুত রয়েছে। তৃতীয় ক্ষেত্র হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারির প্রেক্ষিতে আর্থিক সহায়তাসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলোকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। জাতীয় সরকারসমূহের পাশাপাশি জাতিসংঘ, আইএফআই, সুশীল সমাজকে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং করোনা মোকাবিলায় একে অপরের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতে হবে। তিনি বলেন, করোনা মহামারি বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সর্বত্র নিয়ন্ত্রণে না আনলে এ ভাইরাসকে কখনোই কোনো একটি স্থানে নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না। আসুন, আমরা একটি টেকসই বিশ্বের জন্য ২০৩০ এজেন্ডা সম্পাদনে নতুনভাবে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করি, যেখানে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ভবিষ্যতের মহামারি মোকাবিলায় সমর্থ হবে। জাতিসংঘের এই অধিবেশন করোনা মহামারি মোকাবিলায় যৌথ পদক্ষেপ, বৈশ্বিক সংহতি এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা আশ্বাস দেন, বাংলাদেশ এ বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় সবার সাথে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে। করোনায় বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত ১.৪ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ মারা গেছে এবং প্রতিদিন শত শত মানুষ মারা যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ মহামারি অনেক মানুষকে আরও দরিদ্র করে তুলেছে এবং আরও অনেকে ক্রমে দারিদ্র্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সব দেশে অপুষ্টি, বৈষম্য ও ক্রমবর্ধমান অসমতা চেপে বসছে এবং শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে ব্যবসা, বাণিজ্য ও পর্যটনে প্রবল ধস নামায় মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারি আমাদের মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস গ্রহণের এবং তা আরও উন্নত করতে এ সংকট থেকে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে। দুর্ভাগ্যক্রমে, করোনার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই এখনো শেষ হয়নি। অনেক দেশই দ্বিতীয় বা তৃতীয় ধাক্কার মুখোমুখি হচ্ছে। বাংলাদেশ করোনা মহামারির কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ আমাদের অর্থনীতি, জীবন ও জীবিকা, অভিবাসী জনগোষ্ঠিকে ব্যাপক প্রভাবিত করেছে এবং আমাদের কষ্টার্জিত উন্নয়ন সাফল্যকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। তবে আমরা শুরু থেকেই ও কার্যকরভাবে হস্তক্ষেপ করেছি। এছাড়া আমাদের অর্থনীতি ও জনগণকে মহামারি থেকে রক্ষায় সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছি। আমার সরকার আমাদের ব্যবসায়, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতার ওপর প্রভাব হ্রাস করতে ১৪.১৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যা জিডিপির ৪.৩ শতাংশের সমান।

জাতীয় পাতার আরো খবর