রবিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৯
আটঘাট বেঁধে নেমেছি,সব গোডাউন সরিয়ে ফেলব: ওবায়দুল কাদের
২৩ফেব্রুয়ারী,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: পুরান ঢাকার চকবাজারে যত ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক গোডাউন ও কারখানা রয়েছে সবগুলোকেই পর্যায়ক্রমে নিরাপদ স্থানে সরানো হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এ ব্যপারে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন। শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত চকবাজারের ওয়াহেদ ম্যানশন ভবন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, এর আগে একাধিকবার পুরান ঢাকার রাসায়নিক পদার্থের গোডাউন সরানোর কথা হয়েছিল। কিন্তু সম্বনয়হীনতার কারণে সম্ভব হয়নি। এবার সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহায়তা এখানকার সব অবৈধ ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক গোডাউন নিরাপদ স্থানে সরানো হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। আটঘাট বেঁধে নেমেছি। সব গোডাউন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ফেলব। সেতুমন্ত্রী বলেন, আমরা তিনটি বিষয়ের প্রতি প্রাথমিকভাবে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। নিহতের স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর, আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং এখনো যারা নিখোঁজ রয়েছে তাদের স্বজনদের ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে লাশ হস্তান্তর। তিনি জানান, ঘটনা তদন্তে তিনটি কমিটি গঠন করে তাদের তিনদিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম সরাতে সহযোগিতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
২৩ফেব্রুয়ারী,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিকের গুদাম সরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সম্পূর্ণ সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বারবার অভিযান পরিচালনা করার পরেও এখনও সেখানে রাসায়নিকের গুদাম রয়েছে, যা দুঃখজনক। শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন পুরান ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের দেখতে যান তিনি। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, পুরান ঢাকার চকবাজারে চুড়িহাট্টা এলাকায় বুধবার রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৬৭ ব্যক্তি নিহত এবং প্রায় ৪১ জন গুরুতর দগ্ধ হন।-ইউএনবি
অগ্নিকাণ্ডে আহতদের খোঁজ-খবর নিতে ঢামেকে প্রধানমন্ত্রী
২৩ফেব্রুয়ারী,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: চকবাজারের চুড়িহাট্টা মোড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আহতদের খোঁজ-খবর নিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ শনিবার সকাল আজ সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে তিনি সেখানে পৌঁছেন। বুধবার রাত ১০টার পর রাজধানীর চকবাজার এলাকার নন্দকুমার দত্ত সড়কের চুরিহাট্টা মসজিদ গলির চৌরাস্তায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে আগুন ভয়াবহ আকারে আশপাশের ৫টি বিল্ডিংয়ে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট ১৪ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর দুইটি হেলিকপ্টারও যোগ দিয়েছিল। অগ্নিকাণ্ডে ৬৭ জনের প্রাণহানি ঘটে। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে শনাক্ত হওয়া ৪৫ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে ৯ জন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের আইসিউতে ও পোস্ট অপারেটিভে ভর্তি রয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. সামন্তলাল সেন জানান, আমাদের এখানে ১৪ জন এসেছিল। যার মধ্যে ৯ জনকে আইসিউতে ও পোস্ট অপারেটিভে রাখা হয়েছে। বাকিদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে ভর্তি থাকা ৯ জনকে আমরা ঝুঁকিমুক্ত বলবো না যতক্ষণ তারা হাসপাতালে থাকে। এ ৯ জনের সবার শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। যারা এসেছেন তারা প্রত্যেকেই পথচারী ও কেমিকেলের আগুনে দগ্ধ।
রাসায়নিকের কারণে প্রাণহানি বেড়েছে
২৩ফেব্রুয়ারী,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাসায়নিক ভর্তি একেকটি ড্রাম যেন একেকটি বোমা। আগুনের সংস্পর্শে এলেই ঘটতে পারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। এমন মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের। পাশাপাশি রাসায়নিক থেকে সৃষ্ট গ্যাসে প্রাণহানি বহুগুণে বাড়ার আশঙ্কাও তাদের। দ্রুত আবাসিক এলাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম সরানোর তাগিদ দেন তারা। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া ওয়াহেদ ম্যানশনে কেমিক্যাল গোডাউনের কোন অস্তিত্ব নেই বলে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদের বক্তব্য ভুল প্রমাণিত হয়েছে। শিল্পমন্ত্রীর বক্তব্যের একদিন পর ঐ ভবনটির বেজমেন্টেই সন্ধান পাওয়া গেলো শত শত কনটেইনারে রাসায়নিক পদার্থের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেমিক্যালের উপস্থিতি ছাড়া কখনোই আগুন এত দ্রুত ছড়াতে পারেনা। তবে বেজমেন্টে থাকা রাসায়নিকের কনটেইনার পর্যন্ত পৌঁছালে পুরো ভবন উড়ে যাবারও আশঙ্কা ছিল। বুয়েট কেমিকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড.মো.ইয়াসির আরাফাত খান বলেন, এই কেমিক্যাল যখন কন্টেইনারের মধ্যে থাকে, তখন যদি হিট পায় এটা বোমার মতো কাজ করে। এখন এটা যদি প্রথম তলায় থাকে তাহলে পুরো ভবন উড়ে যেতে পারে। এছাড়াও সৃষ্ট গ্যাসে দীর্ঘ এলাকাজুড়ে মানুষের প্রাণহানি হতো পারতো বলেও ধারণা করছেন কেমিক্যাল বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আফতাব আলী শেখ বলেন, রাসায়নিক কেমিক্যালে যদি আগুন ধরে, সেখানে কিন্ত গ্যাসও তৈরি হয়। আর এই গ্যাস মানুষের নাকে টুকলে সাথে সাথে মারা যাবে। এই গ্যাস অনেক ক্ষতিকর। তাই অতি দ্রুত কেমিক্যাল ও রাসায়নিকের গোডাউন দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আবাসিক এলাকাগুলোকে ঝুকিঁমুক্ত করবার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
পুরান ঢাকা থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে কেমিক্যাল গোডাউন: ওবায়দুল কাদের
২২ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল গোডাউন সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন,পুরান ঢাকার চকবাজার ট্রাজেডির দায় সরকার এড়িয়ে যেতে পারে না। নিমতলীর ঘটনার পর কেমিক্যাল গোডাউন সরানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, কিন্তু ক্লোজ মনিটরিংয়ের অভাব ছিল। তাই আবার এখানে গোডাউন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব গোডাউন সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ওবায়দুল কাদের শুক্রবার সকালে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চকবাজার অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের দেখতে গেলে এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, গাড়িতে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিপজ্জনক ঘটনা ঘটাচ্ছে। সিলিন্ডার ব্যবহার না করাই ভালো। তিনি বলেন, গাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার না করার বিকল্প ভাবা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, এ ঘটনার পর সরকার নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে না। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে তার জন্য কাজ করছে সরকার। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপিকে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়। এ সময় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নিহত ৯ জনের পরিবারের সদস্যদের দলের পক্ষ থেকে এক লাখ করে টাকা প্রদান করেন। এছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন। এই টাকার চেক হাজী সেলিম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কাছে হস্তান্তর করেন।
৬৭ জনের মধ্যে ৪৬ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর
২২ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬৭ জনের মধ্যে ৪৬ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত এ মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে কর্তৃপক্ষ। আজ বেলা ১১টার দিকে লাশের সন্ধানে আসা স্বজনদের ডিএনএ পরীক্ষা শুরু হয়। যাদের সঙ্গে ডিএনএ মিলে যাবে তারাই তাদের স্বজনদের মৃতদেহ ফিরে পাবেন। ঢাকা জেলা প্রশাসনের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অ্যান্ড এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মনসুর জানান, মোট ৪৬ মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ২১টি মরদেহ বিভিন্ন মর্গে রয়েছে। তাদের স্বজনদের ডিএনএ নমুনা গ্রহণ করছে সিআইডি। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিআইডির সহকারী ডিএনএ অ্যানালিস্ট নুসরাত ইয়াসমিন বলেন। তিনি জানান, লাশের সন্ধানে থাকা স্বজনদের রক্তের নমুনা রাখা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া দিনব্যাপী চলমান থাকবে। পুরো বিষয়টির জন্য ৭ থেকে ২১ দিন সময় লাগবে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে যারা নিখোঁজ রয়েছেন তাদের অনেকের খোঁজেই স্বজনরা ভিড় করেছেন মর্গের সামনে। স্বজনহারাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। কেউ কেউ ঢাকা মেডিকেলে লাশ না পেয়ে ছুটে গেছে অন্য হাসপাতালের মর্গে। দুদিন ধরে মর্গ থেকে মর্গে প্রিয়জনের মরদেহ খুঁজছেন তারা। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টা মসজিদের পাশে একটি পাঁচতলা ভবনে আগুন লাগে। পরে আগুন আশপাশের আরো তিনটি ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট প্রায় প্রায় ১৫ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। এই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৬৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রায় অর্ধশত জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং অগ্নি দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সুপারিশ দেয়ার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ১২ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটি আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করবে।
বেশকিছু মরদেহের মধ্যে বিস্ফোরকের ছোট ছোট বিভিন্ন টুকরা পেয়েছি: ডা. সোহেল মাহমুদ
২২ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ৪০ জনের মরদেহ সনাক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে নয়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এসময় তিনি আরো জানান, ছোট ছোট বিভিন্ন ধাতব টুকরা পাওয়া গেছে মৃতদেহগুলোর শরীরে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সবগুলো মরদেহের ডিএনএ স্যাম্পলের জন্য থাই মাসল, ব্লাড, দাঁত ও হাড় সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো মালিবাগ সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হবে। ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, এই মরদেহগুলোর সঙ্গে কয়েকটি মানবদেহের অংশ পাওয়া গেছে। ডিএনএ রিপোর্টের পর বলা যাবে সেগুলো একই মানবদেহের নাকি ভিন্ন ভিন্ন মানবদেহের। তিনি আরো বলেন, বেশকিছু মরদেহের মধ্যে আমরা বিস্ফোরকের ছোট ছোট বিভিন্ন টুকরা পেয়েছি। এগুলো কারো কারো পেটে ঢুকে গেছে, কারো মাথায় আঘাত করেছে। এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, এছাড়াও বডি স্প্রের বিভিন্ন আইটেম মরদেহের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে আগুনের পাশাপাশি এসব ধাতব টুকরার আঘাতের কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার পর পুরান ঢাকার চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট প্রায় ১৪ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়।
আদালতের রায় বাংলায় লিখতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
২১ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: আদালতের রায় যদি কেউ ইংরেজিতে লিখতে চান লিখতে পারেন। কিন্তু আমি আহ্বান জানাবো এটা বাংলা ভাষাতেও প্রকাশ করতে হবে। যিনি রায় পাবেন তিনি যেন পড়ে জানতে পারেন বুঝতে পারেন। বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অমর একুশে শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদালতের রায় ইংরেজিতে লেখার সময় যেন সেটা রোমান স্টাইলে না হয়ে একটু সহজ ইংরেজিতে লেখা হয়। তাহলে অন্তত ওই ভাষাটা সবাই বুঝতে পারবে। এছাড়া বাংলায় রায় লিখে ইংরেজিতে ট্রান্সলেশন করে দিতে পারেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি আমাদের যারা আদালতে আছেন তারা যদি মাতৃভাষায় লেখার অভ্যাসটা করেন, সেটা অন্তত স্বল্প শিক্ষিত তাদের জন্য সুবিধা হবে। রায় পড়ে যেন বুঝতে পারেন এখানে বিচারক কি লিখেছেন, কি বলতে চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের দেশে এখন আমরা শিক্ষার হার বাড়িয়েছি। কিন্তু ৯৬ সালে যখন সরকার গঠন করি তখন অক্ষর জ্ঞান সম্পন্নই ছিল মাত্র ৪৫ ভাগ। অধিকাংশ মানুষ বাংলা ভাষাতেও লেখাপড়া জানতো না। ইংরেজিতে যে রায়টা দেয়া হয় সেই রায়ে কি বললো এজন্য নির্ভর করতে হয় আইনজীবীর ওপর। আইনজীবী যা বুঝিয়ে দেবেন সেটাই বুঝতে হবে, নিজে পড়ে জানার কোনো সুযোগ তার থাকে না। অনেক সময়ই তাদেরকে হয়রানির শিকার হতে হয়। তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি। ইংরেজি একটা মাধ্যম হয়ে গেছে সারা বিশ্বে। কাজেই আমাদের দেশে এটা দ্বিতীয় ভাষা। কিন্তু বাংলা ভাষা মাতৃভাষা, যে ভাষার জন্য আমরা জীবন দিয়েছি, সেই ভাষাটাও সবাই যাতে ভালোভাবে শেখে সেই ব্যবস্থাটাও করা একান্তভাবে প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রমুখ।
অগ্নিকাণ্ডে আহতদের চিকিৎসার সব খরচ বহন করবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
২১ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: গতকাল বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে পুরান ঢাকার চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬ জনে। নিহতের পাশাপাশি আহতের সংখ্যাও অনেক। আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে ঢাকা মেডিকেলে। এমন ভয়াবাহ অগ্নিকাণ্ডে আহতদের চিকিৎসার সব খরচ বহন করবে সরকার। এমনটাই জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক শহীদ দিবস ও মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যমকে এমনটি জানান তিনি। চকবাজারের চুড়িহাট্টা মসজিদের পাশে হাজী ওয়াহেদ মিয়ার বাড়ি থেকে ঘটে আগুনের সূত্রপাত। সেখান থেকে শুরু হয়ে আশপাশের আরও চারটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। রাতভর ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে সকালের দিকে। চকবাজারের এই ঘটনায় বাতিল করা হয়েছে ঢাকায় চিকিৎসকদের ছুটি। এ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি খোঁজ নিয়েছি চিকিৎসকরা অগ্নিদগ্ধদের আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসা দিচ্ছেন। যারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তাদের অনেকের অবস্থা খুব বেশি ভালো না। আমরা চেষ্টা করছি তাদের যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখার। চিকিৎসকরাও তাদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করছেন। সকলের দোয়া প্রয়োজন।

জাতীয় পাতার আরো খবর