সোমবার, মার্চ ৩০, ২০২০
সাংবাদিক আরিফকে গ্রেফতার ও নির্যাতন: দেশজুড়ে প্রতিবাদ
১৪মার্চ,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: টাস্কফোর্স অভিযানের নামে মধ্যরাতে ঘরের দরজা ভেঙে মারধর করে বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগানকে তুলে নিয়ে যেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের জেল দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে এসব তথ্য ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান সাংবাদিকরা। দেশের বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও প্রেসক্লাবের বৈঠক থেকে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করা হয়েছে। জানা যায়, শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত সাড়ে ১২টায় ডিসি অফিসের দুই-তিন জন ম্যাজিস্ট্রেট ১৫-১৬ জন আনসার সদস্যকে নিয়ে দরজা ভেঙে তার বাসায় প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকেই আরিফুল ইসলামকে উদ্দেশ করে বলে তুই অনেক জ্বালাচ্ছিস বলে মারধর শুরু করে এবং তুলে নিয়ে যায়। রাত দুটার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে আরিফের বাসায় আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে তারা। তবে আরিফের স্ত্রী জানিয়েছেন, সেসময় ঘরে কোনও তল্লাশিই চালানো হয়নি। দরজা ভেঙে আরিফকে মারধর করে তুলে নিয়ে গেছেন তারা। শনিবার (১৪ মার্চ) কারাগারে আরিফের সঙ্গে দেখা করে আসার পর তার স্ত্রী মোস্তারিমা নিতু বলেন, আরিফ জানিয়েছেন- রাতে তাকে মারধর করতে করতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তার কাপড় খুলে দু চোখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। পুরো দৃশ্য ভিডিও করা হয়েছে সেসময়। মোস্তারিমা সরদার নিতু আরও জানান, আমার স্বামী খুবই অসুস্থ। সে ঠিকমতো দাঁড়াতে পারছে না। আমাদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলার মতো শক্তি ছিল না তার।এই ঘটনার ব্যাপারে স্থানীয় সংগঠক, শিক্ষক এবং রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির সভাপতি নাহিদ হাসান বলেন, এখানকার একজন সৎ ও সাহসী সাংবাদিক উনি (আরিফুল ইসলাম)। উনার ওপর হামলাকে আমরা বাক স্বাধীনতার ওপর হামলা বলে মনে করছি। আরিফুল ইসলামকে আমরা নিজেদের (স্থানীয়দের) মুখপাত্র বলেই মনে করি, তিনি সেভাবেই নিজেকে গড়ে তুলেছেন। তার ওপর এই হামলাকে আমরা কুড়িগ্রামবাসীর ওপর আঘাত বলেই মনে করছি। ডিসির এই আইন বিরোধী কাজে আমরা ক্ষুব্ধ। এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়েছেন তিনি। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কুড়িগ্রাম জেলা সাধারণ সম্পাদক দুলাল বোস বলেছেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দিচ্ছি আমরা। এই ঘটনার প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাব, স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংষ্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে। জানা যায়, কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে মানববন্ধন করেছে জেলার নাগরিক সমাজ ও সাংবাদিকরা। এসময় বক্তারা বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমার নেতৃত্বে কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেট আনসার সদস্যদের নিয়ে আরিফুলের বাড়িতে গিয়ে দরজা ভেঙে প্রবেশ করে স্ত্রী-সন্তানের সামনেই মারধর করে। এরপর আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা রাখার অভিযোগে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আমরা এই মিথ্যা মামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন মাগুরার সাংবাদিকরা। মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ খান বলেন, একজন সাংবাদিককে মধ্যরাতে তুলে নিয়ে যাওয়া এবং তার প্রতি শারিরীক নির্যাতন দুঃখজনক। প্রকৃত দোষীকে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, মাগুরার সভাপতি অলোক বোস বলেন, এটি সারাদেশের সাংবাদিকদের জন্য একটি অশনিসংকেত। নীলফামারী টেলিভিশন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিল্লাদুর রহমান মামুন জানান, দুর্নীতি ঢাকতে জেলা প্রশাসক একজন সংবাদকর্মীকে রাতের অন্ধকারে সাজা দিয়েছেন। নীলফামারী টেলিভিশন ফোরামের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। নীলফামারী প্রেস ক্লাবের সভাপতি তাহমিনুল হক ববি জানান, একটি নিউজের জন্য একজন জেলা প্রশাসক বেআইনিভাবে এই কাজ করতে পারে না। এটা ডিসির ব্যক্তিগত আক্রোশ। আরিফুলকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার জন্য আইনমন্ত্রী দৃষ্টি কামনা করছি। টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা বলেন, সাংবাদিক আরিফকে মুক্তি দিয়ে সারাদেশের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি করছি। এর সাথে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য তদন্তের দাবি করেন তিনি। টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাংবাদিক ছাড়াও জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন। সংগঠনের সভাপতি আব্দুস সালাম ও সাধারণ সম্পাদক আমির হুসাইন স্মিথ এক বিবৃতিতে জানান, এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত প্রশাসনের সেই কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য দাবি জানাই। এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও মূল ঘটনা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এ জেড এম ইমাম উদ্দিন মুক্তা। এছাড়াও ময়মনসিংহ টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি বাবুল হোসেন জানান, অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে আরিফুল ইসলামকে মুক্তি দেওয়াসহ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হচ্ছে। কুড়িগ্রামের ডিসিকে প্রত্যাহার এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে। এই ঘটনায় প্রতিবাদ সভা করেছে জয়পুরহাট প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকরা। তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন ঝিনাইদহ জেলাসহ ছয় উপজেলার সাংবাদিকরা। যশোরের সাংবাদিকরা এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এই ঘটনা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যশোর প্রেসক্লাব সম্পাদক আহসান কবীর বলেন, জেলা প্রশাসকের মতো দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ অপ্রত্যাশিত। তিনি অবিলম্বে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার এবং সাংবাদিক আরিফুলের মুক্তি দাবি করেছেন। যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদ রহমান বলেন, গভীররাতে বাড়ির দরজা ভেঙে প্রবেশ, স্ত্রী ও সন্তানদের সামনে মারধর করে ধরে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা রীতিমতো বিস্ময়কর। সাংবাদিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান বলেন, সরকার একদিকে বলছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। আবার দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা হলে মারধর করে জেলে পাঠানোর মতো ঘটনাও ঘটানো হচ্ছে। যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শেখ দিনু আহমেদ বলেন, সাংবাদিক নির্যাতনকারী ওই জেলা প্রশাসকের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন যশোরের আহ্বায়ক সাকিরুল কবীর রিটন বলেন, সত্য সংবাদ প্রকাশে একজন সরকারি কর্মকর্তার এই ধরনের আচরণ উদ্বেগের কারণ। বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন যশোর জেলার সভাপতি মনিরুজ্জামান মুনির বলেন, আমরা এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ, নিন্দা জানাচ্ছি। অবিলম্বে আমরা ওই জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহার দাবি করছি পাশাপাশি সাংবাদিক আরিফুলের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি চাইছি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফরুল আলম জানান, আইনের লোক হয়ে গভীর রাতে বাড়িতে জোর করে প্রবেশ করে তাকে উঠিয়ে নিয়ে এসে ডিসি অফিসে সাজা দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। এটা আরও স্পষ্ট যে, মাদকের যে উপকরণ দেখানো হয়েছে তা আশপাশের কেউ দেখেনি। কাজেই ব্যক্তি আক্রোশেই যে এটা করা হয়েছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। জেলা প্রেসক্লাব চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হুদা অলক এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সিটি প্রেসক্লাব চাঁপাইনবাবগঞ্জের সভাপতি সাজেদুল হক সাজু জানান, এ ধরনের কাজ মাঠ পর্যায়ে সরকার ও প্রশাসনের ওপর জনগণের আস্থা কমায়। বরগুনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক জরুরি সভার মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। প্রেসক্লাবের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বরগুনা জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম, প্রিন্ট মিডিয়া সাংবাদিক ফোরাম ও বরগুনা জেলা অনলাইন সাংবাদিক ফোরাম। প্রেসক্লাব সভাপতি অ্যাড. সঞ্জীব দাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর সালেহ, সাবেক সভাপতি চিত্ত রঞ্জন শীল, মো. হাসানুর রহমান ঝন্টু, সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান ও সাংবাদিক হারুন-অর-রশিদ রিংকু প্রমুখ। বরগুনা জেলা অনলাইন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুমন সিকদার বলেন, পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া ঘরের দরজা ভেঙে মারধর করে তাকে তুলে আনার পেছনের ঘটনা ও এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। বরগুনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর সালেহ বলেন, পুলিশ ছাড়া আনসার সদস্য নিয়ে একজন সাংবাদিককে গভীর রাতে তুলে এনে সাঁজা দেওয়ার তীব্র নিন্দা এবং ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাই। বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাড. সঞ্জীব দাস বলেন, কুড়িগ্রামের ঘটনা আমাদের সাংবাদিকদের জন্য লজ্জার। এই ঘটনার জন্য দায়ীদের প্রতি ধিক্কার জানাই। তিনি আরও বলেন, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ করে আগামী দিনে আরও কর্মসূচি প্রদান করা হবে।- বাংলা ট্রিবিউন
করোনা বিষয়ে তথ্য গোপন করলে আইনের আওতায় আনা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
১৪মার্চ,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা বিষয়ে নির্দেশ অমান্যকারীকে এবং কেউ তথ্য গোপন করলে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। অন্যদিকে শনিবার সকালে ইতালি থেকে দেশে ফেরত ১৪২ জনের সবাইকে রাজধানীর আশকোনা হজ্বক্যাম্পে বাধ্যতামূলক কোয়ারান্টাইনে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরবর্তী সময়ে আক্রান্ত দেশগুলি থেকে কোন যাত্রী দেশে এলে তাকেও বাধ্যতামূলক কোয়ারান্টাইন করা হবে বলে জানান তিনি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক টেলিফোনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদসহ সংশ্লিষ্টদের এই নির্দেশনা দেন। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ইতালির রোম থেকে দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের নম্বরের একটি ফ্লাইটে করে এই যাত্রীরা ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এসে অবতরণ করেন। ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ১৪২ জন যাত্রী নিয়ে এমিরেটসের (ইকে ৫৮২) ফ্লাইটটি ঢাকায় এসে অবতরণ করে। সকালে শাহজালাল বিমানবন্দর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. শাহারিয়ার সাজ্জাদ এ সব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ওই সব ব্যক্তিদের আশকোনা হজ ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়েছে। সম্ভাব্য করোনা-ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে এই ব্যক্তিদের সেখানে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। এদিকে আজ দেশে ফিরে আসা এই ১৪২ ইতালিপ্রবাসী রোম থেকে রওয়ানা হওয়ার আগে সেখানে থার্মাল স্ক্যানারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সেখানে তাদের কারও শরীরে জ্বর ছিল না। থার্মাল স্ক্যানারে জ্বর মাপা হলেও কারও শরীরে জ্বর ধরা পড়েনি। ফিরে আসা যাত্রীদের প্রত্যেকের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সেখান তাদের জ্বরমাপাসহ শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নাম, ঠিকানাসহ তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। আশকোনা হজ ক্যাম্পে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইতালি থেকে যারা দেশে ফিরেছেন তাদেরকে এক নজর দেখার জন্য পরিবারের সদস্য ও আত্মীয় স্বজনরা মূল গেইটের সামনে ভিড় জমায়। এসময় পুলিশ ও সরকারের সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা কঠোর নিরাপত্তায় দায়িত্বপালন করতে দেখা গেছে। কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এর আগে চীনের উহান থেকে আসা বাংলাদেশীদের হজ ক্যাম্পে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল। কারও মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ না পেয়ে ১৪ দিন পর তাদের বাড়িতে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়।- একুশে টেলিভিশন
করোনার কারণে বন্ধ হয়েছে মৈত্রী এক্সপ্রেস
১৪মার্চ,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার মৈত্রী এক্সপ্রেস (রেল যোগাযোগ) চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন তার নিজ বাসভবনে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাসের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা জানান। জানা যায়, শুক্রবার সকালে অল্প সংখ্যক যাত্রী নিয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস কলকাতার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তবে আজকে থেকে ঢাকা-কলকাতা রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক রুটে বাস পরিচালনা করা পরিবহন মালিকরা। এর আগেই আকাশ পথেও একই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ও নভোএয়ার দেশটিতে তাদের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। অন্যদিকে ১৩ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ভারত সরকার দেশটির ভিসা বাতিল করেছে।
করোনা থেকে মুক্তি কামনায় দেশব্যাপী বিশেষ মুনাজাত
১৩মার্চ,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করা প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্তি কামনায় দেশের সকল মসজিদে জুমার নামাজ শেষে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ মুনাজাত। ইসলামী ফাউন্ডেশনের পূর্ব আহ্বান অনুযায়ী জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু করে কারওয়ান বাজার, পান্থপথসহ দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় করোনার প্রকোপ থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে পানাহ চান মুসলিমরা। বায়তুল মোকাররমে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মুহিবুল্লাহিল বাকী। মোনাজাতে বিশ্বের সব দেশকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে এবং এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের আরোগ্য কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন বিভাগের পরিচালকবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মুসল্লিরা দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। জুমার নামাজের খুতবায় করোনার প্রকোপ নিয়ে কথা বলেছেন লালবাগ কেল্লার পাশে অবস্থিত জামেয়া কোরআরনিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন লালবাগ শাহী মসজিদের খতিবও। তিনি বলেন, ‘মহামারি হলে পালিয়ে যাওয়া নয় বরং ধৈর্য ধারণ করতে হবে। করোনার মত ভাইরাসের মহামারিতে যদি কারও মৃত্যু হয় তাহলে সে শহীদের মর্যাদা পাবে বলে উল্লেখ করেন লালবাগ শাহী মসজিদের খতিব। একই সঙ্গে এ খতিব বলেন, ‘মহামারি প্রতিরোধ করার জন্য কেউ যদি হাতে মোজা, মাস্ক ব্যবহার করে সেগুলোর বিষয়ে শরীয়তে কোনো বাধা নিষেধ নেই। তবে কেই যদি মনে করে মাস্ক/ মোজার জন্য ভাইরাস জনিত রোগ হতে বেঁচে গেলাম তাহলে সে শিরক করবে। কারণ রোগ দেওয়ার মালিক আল্লাহ, উনি চাইলেও সকল প্রটেকশনের মধ্যে দিয়েও রোগ দিতে পারেন। তাই আমাদের ঈমান ও আকিদা নিয়ে চলতে হবে। বাংলা খুতবা পাঠের সময় খতিব আরও বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য নানা ব্যবস্থা নিয়েছে। সেগুলো আমাদের মেনে চলতে হবে। বর্তমানে ভাইরাস নিয়ে অনেকেই অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সরকার যে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন তা ভলোর জন্য করবেন। সরকার যদি কোনো এলাকা থেকে বের হওয়ার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করে আমাদের তা মেনে চলতে হবে।’ প্রসঙ্গত, চীন থেকে শুরু হওয়া ভাইরাসটিতে আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা পাঁচ হাজারে পৌঁছেছে। বিশ্বের অন্তত ১১৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত দেড় লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন অন্তত ৬৮ হাজার মানুষ। আর বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এখন পর্যন্ত ৩ জন। দুজন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। সুস্থ দু’জনের মধ্যে একজন বাড়ি ফিরে গেছেন। করোনা ভাইরাস যেন বাংলাদেশে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে না পড়ে সে কামনায় আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর আল্লাহর দরবারে দু’হাত উঁচু করে মুক্তি কামনা করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
করোনা প্রতিরোধে ব্যক্তিপর্যায়ে সচেতন হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
১২মার্চ,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা কম হলেও আতঙ্কিত মানুষের সংখ্যা বেশি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ব্যক্তিপর্যায়ে সচেতন-সতর্ক থাকার কোনো বিকল্প নেই। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু নির্মাণ সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু উদ্বোধন করার পর প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বত্র পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। পরে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
করোনাকে মহামারি ঘোষণা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার
১২মার্চ,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনা ভাইরাসকে মহামারি ঘোষণা করেছে। বুধবার রাতে সংস্থার প্রধান টেড্রোস অ্যাডানোম গ্রেবিয়াসিস জানান, গত দুই সপ্তাহে ভাইরাসটি চীনের বাইরে ১৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রুত গতিতে করোনা ভাইরাসের বিস্তার হতে থাকায় গত ৩০ জানুয়ারিতে বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও। ওই সময়ে সংস্থাটির প্রধান জানান, এর মাধ্যমে দুর্বল স্বাস্থ্য সেবার দেশগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া এবং তাদের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে। বুধবার করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় নিষ্ক্রিয়তার মাত্রা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রোস অ্যাডানোম গ্রেবিয়াসিস। প্রাদুর্ভাবকে মহামারি ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশগুলোর করণীয় নিয়ে দেওয়া ডব্লিউএিইচওর পরামর্শে পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। একই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোন রোগ ছড়িয়ে পড়তে থাকলে তখন মহামারি ঘোষণা করা হয়। ভাইরাস মোকাবিলায় দ্রুত ও সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে টেড্রোস অ্যাডানোম গ্রেবিয়াসিস বলেন, কয়েকটি দেশ দেখিয়ে দিয়েছে যে এই ভাইরাসটি দমন ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। শান্ত থেকে সঠিক ব্যবস্থা নিয়ে বিশ্বের নাগরিকদের রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানান ডব্লিউএইচও প্রধান।-
দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
১২মার্চ,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যা দেশে প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে। তিনি বৃহস্পতিবার তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করেন। ভ্রমণের সময় কমানোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর লোকদের জন্য আরামদায়ক ও নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এশিয়ান হাইওয়ে করিডর-১ এর অংশ এই এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকা প্রান্ত হতে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত দূরত্ব ৫৫ কিলোমিটার। সদ্য নির্মিত এক্সপ্রেসওয়ে ধরে এই দূরত্ব অতিক্রম করতে সাধারণভাবে সময় লাগবে মাত্র ৪২ মিনিট। আর ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে যেতে সময় লাগবে ২৭ মিনিট। অবশ্য এখনই ঢাকা থেকে সরাসরি ভাঙ্গা পর্যন্ত যাওয়া যাবে না। পদ্মা সেতু হওয়ার পর এই সুফল ভোগ করা যাবে। রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালের জুলাই মাসে। ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল এই প্রকল্পের। মাওয়া থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কাজ আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। বাকি ছিল ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার অংশের কাজ। চলতি মাসে এসে প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ হয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৬ হাজার ২৫২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরুর পর পরবর্তিতে সংশোধিত ডিপিপিতে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৮৯২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর বাইরে মূল প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়নি এমন কিছু কাজের জন্য পরবর্তীতে ২০১৮ সালের জুনে চার হাজার ১১১ কোটি টাকার আরেকটি পৃথক ডিপিপি অনুমোদন করে সরকার। এই ডিপিপি অনুযায়ী কাজের মেয়াদ ধরা হয়েছে জুন ২০২০ সাল পর্যন্ত। দুটি ডিপিপি মিলিয়ে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে মোট ব্যয় হচ্ছে ১১ হাজার ৩ কোটি টাকা। আট লেনের এই এক্সপ্রেসওয়েটি সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন-এসডব্লিউও (পশ্চিম)।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে শিশুদের সাজা দেওয়া বৈধ নয়: হাইকোর্ট
১১মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভ্রাম্যমাণ আদালতে শিশুদের সাজা দেওয়া অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিভিন্ন বয়সী ১২১ শিশুকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া সাজা অবৈধ ও বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আবদুল হালিম ও ইশরাত হাসান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। আদালত রায়ে বলেন, এখতিয়ার না থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত কখনোই শিশুদের সাজা দিতে পারবে না। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে একই সময়ে ঐ ১২১টি শিশুকে যে প্রক্রিয়ায় সাজা দেওয়া হয়েছে, তা মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং অমানবিক। একই সঙ্গে এই ধরনের সাজা প্রদান আমাদের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বহির্বিশ্বে দেশের সুনামকে ব্যাহত করেছে। এদের সবার পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও আইনি জ্ঞান কম, এগুলো বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ দরকার। এর আগে গত ৩১ অক্টোবর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ডিত হয়ে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের মুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে শিশু আদালত ব্যতীত অন্যান্য আদালতের অধীনে সাজাপ্রাপ্ত ১২ বছর বয়সী থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত বয়সী শিশুদের ৬ মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। গত কয়েকদিন আগে একটি দৈনিকে আইনে মানা, তবু ১২১ শিশুর দণ্ড শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। বিষয়টি আমলে নিয়ে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদুর হাসান তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বেচ্ছা প্রণোদিত হয়ে রুলসহ এ আদেশ দেন। হাইকোর্ট তার আদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক শিশুদের দণ্ড প্রদানকে অসাংবিধানিক, অবৈধ এবং বাতিল বলে ঘোষণা করেন। এছাড়াও শিশুদের মধ্যে যাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালত দণ্ড দিয়েছে, তাদেরকে দ্রুত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র বা হাজত থেকে ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেন। এছাড়া সাত কার্য দিবসের মধ্যে ওই ১২১টি শিশুকে দণ্ড প্রদানকারী সংশ্লিষ্ট Rab কর্মকর্তাদের যারা অবৈধভাবে দণ্ড দিয়েছেন, তাদেরকে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই দণ্ডপ্রাপ্ত শিশুদের মামলার যাবতীয় নথি আলাদা করে দাখিল করতে বলেন আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক পরিচালিত শিশুদের দণ্ড প্রদানের বিষয়ে শিশু আইন এবং দণ্ডবিধির বিধি বহির্ভূত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের দণ্ড কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েও আদালত রুল জারি করেন। সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এসব রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার যাত্রাবাড়ী-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
১১মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মুজিববর্ষের প্রক্কালে যাত্রাবাড়ী-মাওয়া-ভাঙ্গা রুটে দেশের প্রথমবারের মত এক্সপ্রেসওয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগে প্রবেশ করবে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারী বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরাসরি আনুষ্ঠানিকভাবে এই এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করবেন। ভ্রমণের সময় কমানোর পাশাপাশি দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর লোকদের জন্য আরামদায়ক ও নিরবিচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা সম্বলিত ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হয়। প্রকল্প কর্মকর্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক মানের এই এক্সপ্রেসওয়ে দুইটি সার্ভিস লেনের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীকে যুক্ত করবে। স্থানীয় এক পরিবহন চালক বলেন, এটি একটি চমৎকার এক্সপ্রেসওয়ে, যা ভ্রমণের সময় সাশ্রয় করবে এবং এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহন দ্রুত নির্বিঘ্নে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে চলাচল করবে। প্রকল্পের বিবরণ অনুসারে, এক্সপ্রেসওয়েতে পাঁচটি ফ্লাইওভার, ১৯ টি আন্ডারপাস এবং প্রায় ১০০টি সেতু এবং কালভার্ট রয়েছে, যা দেশের ব্যবসা- বাণিজ্য বাড়িয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখবে। এটিতে মাওয়া থেকে ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এবং ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ পানছার থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত দুটি এক্সপ্রেসওয়ে পুরো খুলনা ও বরিশাল বিভাগ এবং ঢাকা বিভাগের একটি অংশের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঢাকা শহর এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করবে। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা, খুলনা বিভাগের ১০ টি জেলা এবং ঢাকা বিভাগের ছয় জেলাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২২ টি জেলার মানুষ সরাসরি এই আন্তর্জাতিক মানের এক্সপ্রেসওয়ে থেকে উপকৃত হবেন। আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ের দুটি অংশ ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর মধ্য দিয়ে সংযুক্ত হবে, যা বর্তমানে নির্মাণাধীন রয়েছে। দেশের দীর্ঘতম পদ্মা সেতুর চার কিলোমিটার গতকাল মঙ্গলবার ২৬তম স্প্যান বসানোর পরে ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে ট্র্যাফিকের জন্য ব্রিজটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে গেলে, কোনও ভ্রমণকারীকে ভাঙ্গা থেকে ঢাকা আসা এবং যেতে এক ঘন্টা সময় লাগবে না। এই হাইওয়েতে আগামী ২০ বছরের জন্য ক্রমবর্ধমান ট্রাফিকের পরিমাণ বিবেচনা করে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে প্রায় ১১০০৩.৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মিত হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যৌথভাবে ২০১৬ সালে চারটি জেলা ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর এবং ফরিদপুরে এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু করে এবং এটি নির্ধারিত সময়সীমার তিন মাস আগে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে। নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ২০২০ সালের ২০ জুন। ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মুজিব বর্ষ উদযাপন শুরুর প্রাক্কালে এক্সপ্রেসওয়ে ট্রাফিকের জন্য উন্মুক্ত হতে চলেছে। স্থানীয় ও ধীর গতি সম্পন্ন যানবাহনের জন্য এক্সপ্রেসওয়ের দু পাশে দুটি পরিসেবা লেন রাখা হয়েছে যাতে দ্রুত যানবাহনগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে রাস্তায় চলাচল করতে পারে এবং এইভাবে দীর্ঘপথের যাত্রীদের ভ্রমণের সময় হ্রাস করতে পারে। এক্সপ্রেসওয়ের পাঁচটি ফ্লাইওভারের মধ্যে একটি ২.৩ কিলোমিটার কদমতলী-বাবুবাজার লিংক রোড ফ্লাইওভার রয়েছে। অন্য চারটি ফ্লাইওভার হলো আবদুল্লাহপুর, শ্রীনগর, পুলিয়াবাজার এবং মালিগ্রামে। ৫৫ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়েতে জুরাইন, কুচিয়ামোড়া, শ্রীনগর ও আতাদিতে চারটি রেলওয়ে ওভার ব্রিজ রয়েছে এবং চারটি বড় সেতু রয়েছে যার মধ্যে ৩৬৩ মিটার ধলেশ্বরী -১, ৫৯১ মিটার ধলেশ্বরী -২, ৪৬৬-মিটার আড়িয়াল খান এবং ১৩৬-মিটার কুমার সেতু। মাওয়ার নিকটবর্তী রাস্তার পাশে নিরালা রেস্তোঁরার মালিক মোহাম্মদ মাসুদ বলেছেন, এক্সপ্রেসওয়ের কারণে মাওয়া থেকে ঢাকা যেতে আগের দুই ঘন্টার পরিবর্তে এখন ৩০-৪০ মিনিট সময় লাগে। এক্সপ্রেসওয়েতে যানজট না থাকায় বাস ও ট্রাক দ্রুতগতিতে চলাচল করতে পারে, উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর আগে পোস্তগোলা রেলপথ পারাপারে ৩০ মিনিট থেকে ৬০ মিনিট সময় লেগেছিল, তবে এখন মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই স্পটটি অতিক্রম করা যায়। তিনি বলেন, ভ্রমণের সময় হ্রাস হওয়ায় রোগীরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে রাজধানী থেকে খুব সহজেই মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারবেন। দ্রুত যোগাযোগের অগ্রগতির কারণে এখন অনেক লোকই আমাদের এলাকায় ঘরবাড়ি এবং অন্যান্য স্থাপনা তৈরি করতে চায়। তিনি আশাবাদী তাঁর অঞ্চলটি একটি পর্যটন স্পটে পরিণত হবে। বর্তমানে ঢাকায় অবস্থানরত ব্রিটিশ বাংলাদেশী নাগরিক আরিফ চৌধুরী এক্সপ্রেসওয়ে পরিদর্শন করে বলেছেন, এটা চমৎকার, আমি অভিভূত । আমার কাছে মনে হয় আমি যুক্তরাজ্যের কোথাও আছি , এই এক্সপ্রেসওয়ের মান এবং সৌন্দর্য দেখে আমি গর্ব অনুভব করছি। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করছে, বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের মর্যাদা অর্জন করতে চলেছে।- বাসস

জাতীয় পাতার আরো খবর