করোনা মোকাবেলায় সুযোগ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ সেনা প্রধানের
২৫,জুন,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ করোনা মোকাবেলায় সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে সেনাবাহিনীকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একই সাথে তিনি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল্যবোধকে ধারণ করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুরক্ষার জন্য যে কোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তত থাকার জন্য সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যের প্রতি আহবান জানান। জেনারেল আজিজ আজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল পদবীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে চলমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা ও ঘূর্ণিঝড় আম্ফানসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্যে এ আহবান জানান। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত চলমান নির্দেশনা অনুসরণ করে এই দরবারের আয়োজন করা হয়। ভিটিসির মাধ্যমে সকল সেনানিবাসে একযোগে সেনাবাহিনী প্রধান বক্তব্য প্রদান করেন। শুরুতেই তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। এছাড়াও তিনি ভাষা আন্দোলন এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত:দানকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা মোকাবেলায় যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আমরা সৈনিক এবং এই যুদ্ধে সর্বোতভাবে নিয়োজিত থেকে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশ ও জনগণের কল্যানে আত: নিবেদন করছি। দেশের এই ক্রান্তিকালে সেনাবাহিনীকে জনগণের সেবায় আত্ম নিয়োগের সুযোগ প্রদানের জন্য সেনাবাহিনীর সকল সদস্যের পক্ষ থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি করোনা মোকাবেলায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী তথা সকল পদবীর সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ভূয়সী প্রসংশা করেন। একই সাথে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় জনগণের সাহায্যে নিরলস প্রচেষ্টার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান। সেনা প্রধান জাতি গঠনমূলক কর্মকান্ড যেমন : এন-৮ এক্সেস কন্ট্রোলড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণসহ অন্যান্য গুনুত্বপূর্ণ কাজে সেনাবাহিনীকে সুযোগ দেয়ার জন্যও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। সকল সেনাসদস্যকে নিষ্ঠার সাথে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন তিনি। জেনারেল আজিজ আহমেদ সেনাবাহিনীর সদস্যদের মনোবল অটুট রাখার লক্ষ্যে গৃহিত সময়োপযোগী কল্যাণমূলক পদক্ষেপসমূহ সবাইকে অবহিত এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাসমূহ উপস্থাপন করেন। তিনি সেনাসদস্যদের আবাসন সমস্যা সমাধান, জীবন বীমা সুবিধা চালু করা, দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের কর্মসংস্থানসহ অন্যান্য কল্যানমূলক কর্মকান্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি শৃঙ্খলা সেনাবাহিনীর প্রাণ এবং আনুগত্য সেনাবাহিনীর চালিকা শক্তি-এই চেতনাকে ধারণ করে সকলকে চেইন অব কমান্ড অনুসরণ করা এবং কোন ধরনের গুজবে প্ররোচিত না হওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যখনই দেশে কোন ভাল কাজ হয় তখনি স্বার্থান্বেষী মহল সেই কৃতিত্বকে মলিন করার অপচেষ্টা করে আসছে। সাম্প্রতিক কালে সেনাবাহিনী করোনা যুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় যখন ভাল কাজ করছে তখন ঐ কুচক্রী মহল সেনাবাহিনীকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চারাচ্ছে। সুশৃংখল সেনাবাহিনীকে অতীতের ন্যায় এধরনের অপচেষ্টা বা প্রপাগান্ডার বিরূদ্ধে সতর্ক থাকতে উপদেশ দিয়ে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী সবসময় সরকার, দেশের সংবিধান ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারাবদ্ধ ।
করোনা পরবর্তী প্রযুক্তি নির্ভর কর্মসংস্থান তৈরীতে কাজ করছে সরকার : পলক
২৫,জুন,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বলেছেন, করোনা পরবর্তী সময়ে বিশ্বের কর্মসংস্থান হবে প্রযুক্তি নির্ভর। এই কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দেশের যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করে তাদের সুযোগ তৈরীতে কাজ করছে সরকার। তৈরী হচ্ছে ভার্চুয়াল বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার জেলার সিংড়া উপজেলা কোর্ট মাঠে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪০ জন বালিকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাইকেল প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি উত্তর সময়ে বিশ্বে কর্মসংস্থানের প্রেক্ষাপট বদলে যাবে। কর্মসংস্থান হবে প্রযুক্তি নির্ভর। দেশের সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থীকে প্রযুক্তি নির্ভর কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলতে সরকার কাজ করছে। ভার্চুয়াল ইউনিভার্সিটি অফ ম্যানেজমেন্ট এন্ড মাল্টিমিডিয়া ইনোভেশন স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে সরকার। আগে থেকেই দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাধ্যমিক পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তি বিষয়কে বাধ্যতামূলক করে প্রতিষ্ঠানিক শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের মাধ্যমে প্রযুক্তিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, করোনাকালীন সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা অব্যাহত রাখেতে সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে পাঁচ হাজার ৬২১টি ক্লাস নেয়া হয়েছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্যে ডিজিটাল ক্লাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে- যার মাধ্যমে পাঠগ্রহণ ছাড়াও শিক্ষার্থীরা থিসিস পেপার জমা দেয়ার মত কাজ করতে পারবেন। করোনাকালীন সময়কে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তি দক্ষতা অর্জনের জন্যে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রী পলক একই সাথে পারিবারিক কৃষির আওতায় সব্জি পুষ্টি বাগান স্থাপনের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে সব্জি বীজও বিতরণ করেন। উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানান, উপজেলার ৩৫২ জন কৃষককে তাদের বাড়ির আঙিনায় সব্জি চাষে উদ্বুদ্ধ করতে আট প্রকার সব্জি বীজ প্রদান ছাড়াও সব্জি বাড়ান পরিচর্যা, বেড়া ও জৈব সার বাবদ জনপ্রতি এক হাজার ৯০০ টাকা করে বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে প্রেরণ করা হবে বলে। একই মাঠে প্রতিমন্ত্রী জলবায়ুর বিরুপ প্রভাব মোকাবেলায় দেশব্যাপী ব্যাপক বনায়নের লক্ষ্যে উপজেলায় মোট ২৫ হাজার চারা বিতরণ করা হবে বলে জানান জেলা অতিরিক্ত বন কর্মকর্তা সত্যেন্দ্র নাথ সরকার। পরে প্রতিমন্ত্রী পলক উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা ৫০টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৪ লাখ টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করেন এবং উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। সবগুলো অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. নাসরিন বানু।
রেমিটেন্স যোদ্ধাদের দুর্দশা লাঘবে মিশনপ্রধানদের সচেষ্ট থাকার আহবান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
২৫,জুন,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন বর্তমান করোনা মহামারির সময়কে একটি বড় যুদ্ধ পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করে মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রবাসী শ্রমিকদের দুর্দশা লাঘবে সচেষ্ট থাকতে বাংলাদেশের বৈদেশিক মিশন প্রধানদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি আজ মধ্যপ্রাচ্যের ৯ টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধানদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে এ আহবান জানান। এ সময় ড. মোমেন প্রবাসী শ্রমিকদের রেমিটেন্স-যোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে তাদের কেউ যেন অভুক্ত না থাকে সেটা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রদূতগণকে সচেষ্ট থাকতে নির্দেশনা দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বালাদেশের কৃষি শ্রমিকরা অত্যন্ত দক্ষ। তিনি বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য কৃষি উৎপাদন, মৎস্য চাষসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধানে রাষ্ট্রদূতগণকে সক্রিয় থাকতে নির্দেশনা প্রদান করেন। করোনা পরবর্তী পৃথিবীর খাদ্য চাহিদা পুরণে মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কৃষিকাজে বাংলাদেশের শ্রমিকরা অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিতে পারবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী শ্রমিকরা বিভিন্ন দেশের উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখে। কেউ যেন হঠাৎ চাকুরিচ্যুত না হয় এবং চাকুরিচ্যুত হলে যেন ৬ মাসের বেতন ও অন্যান্য ভাতা পায় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের সাথে রাষ্ট্রদূতগণকে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে অনুরোধ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোয়ারেন্টাইন সুবিধা নিশ্চিত করে প্রবাসীদের কেউ দেশে ফিরতে চাইলে তাদেরকে ধাপে ধাপে দেশে ফেরত আনা হবে। ড. মোমেন সকল বৈদেশিক মিশনকে আরো আন্তরিকতার সাথে কনস্যুলার সেবা প্রদান করার আহবান জানান। মিশনসমূহে বঙ্গবন্ধু কর্ণার স্থাপন করা হয়েছে বলে এ সময় রাষ্ট্রদূতগণ অবহিত করেন। কাতার, কুয়েত, সৌদিআরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, লেবানন, ওমান, ইরাক এবং জর্ডানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধানগণ এ ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন। ভিডিও কনফারেন্সে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন সংযুক্ত ছিলেন।
বেপরোয়া দখলবাজী, স্ত্রীর নামে সম্পদের পাহাড় দুর্জয়ের
২৪,জুন,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সরকারি খাস জমি কিংবা বেসরকারি মালিকানা; জমি হলেই হলো। ভাগের নামে চাঁদা অথবা বেপরোয়াভাবে দখল নিতে আসবে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের মদদপুষ্ট বাহিনীর লোকেরা। আর এভাবেই স্ত্রী ফারহানা রহমান হ্যাপির নামের আড়ালে তিনি গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। এমনই অভিযোগ উঠেছে সাবেক ক্রিকেটার, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এমপি নাইমুর রহমান দুর্জয় এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। আরও অভিযোগ আছে, জমি দখলের পুরো কাজটি দুর্জয়ের হয়ে নিয়ন্ত্রণ করেন তারই চাচা এবং মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তায়েবুর রহমান টিপু। দুর্জয় বাহিনীর জমি দখলের বিষয়টি এখন মানিকগঞ্জ জুড়ে ওপেন সিক্রেট। জেলায় কেউ জমি কেনাবেচা করতে চাইলে আগেই ভাগ রেখে দিতে হয়। আর যারা ভাগ দেন না, তারা জমি কেনাবেচা করতে পারেন না। আর বেশি ঝামেলা করতে চাইলে সেই জমি চলে যায় দুর্জয়ের দখলে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, দখল ভীতির কারণে জেলার বাইরে থেকে কোনো ব্যক্তি বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ওই এলাকায় জমি কিনতে আসে না। সে কারণে জমি কেনাবেচাও খুবই কম। আর বাংলাদেশ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং সড়ক ও জনপথের মতো সংস্থার সরকারি জমি এবং নদীভাঙা সম্পদ, বাজার বা অন্যান্য খাস জমি দখলে নেওয়া তো এমপির লোকজনের নিত্যদিনের ব্যাপার। ভূমি অফিস ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দুর্জয় এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর বিগত পাঁচ ছয় বছরে শুধু দৌলতপুর এলাকাতেই শতাধিক একর খাস জমি দখল করে নিয়েছেন। উপজেলা সদরের খাল-নালা ভরাট করে তা পজেশন আকারে বিক্রি করার ঘটনাও ঘটেছে। দৌলতপুর বাজারে জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই সরকারি নালা দখল করে ভরাট হয়েছে, সেখানেই এখন গড়ে উঠেছে বড় আকারের মার্কেট। দোকান প্রতি পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পজেশন বরাদ্দও দিয়েছেন টিপু। একইভাবে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় বিআইডব্লিউটিএর কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জায়গা দখল করে নিয়েছে টিপুর বাহিনী। সেখানে এখন শতাধিক দোকানপাটের জন্য পজেশন বরাদ্দের পাঁয়তারা চলছে। জাফরগঞ্জ নৌবন্দর সংলগ্ন যেসব জায়গা জমি কয়েক বছর আগে যমুনাগর্ভে বিলীন হয়েছিল অদৃশ্য কাগজপত্রের সাহায্যে সেসব জায়গার মালিক সেজেছেন এমপির চাচা টিপু। স্ট্যাম্পে লিখিত দেওয়ার মাধ্যমেই নদীর সেই জায়গা বেচাকেনাও করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ আছে, জমি দখলের মহড়ায় যুক্ত আছেন এমপিপত্নী ফারহানা রহমান হ্যাপি। তরা-মুলজান শিল্পাঞ্চলের অনেক জায়গা জমি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে হ্যাপীর নামেও। তার নামে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক সংলগ্ন সড়ক ও জনপথের বহু দামী জায়গা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। মূলজান এলাকায় এই জমিতেই হ্যাপির নামে দুর্জয় পরিবারের শপিং মল তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা যায়। এমপির স্ত্রী হওয়ায় জমি পুনরুদ্ধারে অনেকটাই হতাশ সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তরা ক্রসব্রিজ থেকে মানিকগঞ্জ সদর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার মহাসড়কের অন্তত চারটি পয়েন্টে অন্তত পাঁচ একর জায়গা দখল করা হয়েছে। সেসব স্থান কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে আলাদা সীমানা করে দেওয়া আছে। এছাড়া কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করারও অভিযোগ আছে হ্যাপির বিরুদ্ধে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মেগা ফিড কারখানার পেছনে অন্তত তিনটি স্পটে ফসলি জমি দখল করে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। সেই মাটি আনা-নেওয়ার কাজে ট্রাক চালিয়ে ক্ষতি করা হচ্ছে আশেপাশের ফসলি জমির। অভিযোগ আছে, এভাবেই স্ত্রীর নামে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন নাঈমুর রহমান দুর্জয়। প্রথম দফায় এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতি বছর গড়ে দুর্জয়ের আয় বাড়ে প্রায় ৮ গুণ। এর বাইরেও, স্ত্রী, চাচা এবং পরিবারিকভাবে সম্পর্কিত অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ রেখেছেন তিনি। অবশ্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায়, স্ত্রী ফারহানা রহমান হ্যাপির নামে যথাযথ কোনো আয়ের উৎস দেখাতে পারেননি দুর্জয়। অভিযোগ আছে, অবৈধভাবে অর্জিত এই সম্পদ বিদেশে পাচার করে দুজন মিলে মালয়েশিয়ায় গড়েছেন সেকেন্ড হোম। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অবশ্য সেগুলো অস্বীকার করেন দুর্জয়ের চাচা তায়েবুর রহমান টিপু। আরিচা ও পাটুরিয়া এলাকায় জায়গা জমি নিয়ে দলীয় কর্মীদের মাঝে থাকা বিরোধ তিনি মিটিয়ে দিয়েছেন মাত্র বলে দাবি করেন। তবে হ্যাপির নামে থাকা জমি দিয়ে তিনি কি করবেন সে বিষয়ে অন্য কারও মাথা ব্যথার কারণ দেখেন না বলেও জানান টিপু। আর সম্পদের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দেখবে বলে জানান সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়। অন্যদিকে তার নাম ব্যবহার করে কেউ যদি অন্যায় কাজ করে তাহলে তাদের নাম পরিচয় জানতে চেয়েছেন তিনি। অভিযোগ পেলে নিজেই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন। দুর্জয় বলেন, আয়ের উৎস তো এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) দেখবে। এনবিআর দেখুক আয়ের উৎস, আয়ের টাকা কই গেল? আর মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোমের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগের সূত্র সম্পর্কে জানতে চান।সূত্র: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর
করোনা নিয়ে বিএনপি ও কিছু বিশেষজ্ঞের আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত
২৪,জুন,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপের কারণেই করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি ও কিছু বিশেষজ্ঞের শঙ্কা-আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, সরকার সারাদেশে জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে সামর্থ্য অনুযায়ী সমস্ত মানুষের জন্য চিকিৎসা নিশ্চিত করেছে। বুধবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে নিজ দপ্তর থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের চতুর্থ সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, হুইপ শামসুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরিন আখতার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীনের সঞ্চালনায় এ সভায় অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের সঠিক এবং সময়োচিত পদক্ষেপ ও একই সঙ্গে ব্যাপক ত্রাণ তৎপরতার কারণেই তিন মাসে বাংলাদেশে একজন মানুষও অনাহারে মারা যায়নি। দেশে কোথাও খাদ্যের জন্য হাহাকার নেই। খাদ্যের জন্য হাহাকারের সম্ভাবনা নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ মত দিয়েছেন, তাদের সেই মত ভুল প্রমাণিত হয়েছে। চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রেও সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আরো নতুন নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এগুলো ক্রমান্বয়ে বাড়ানো হচ্ছে। আমরা যদি এভাবে এগিয়ে যেতে পারি, পরম সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে আমরা এই মহামারি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো। চট্টগ্রামের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিভাগীয় কমিশনার জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগে আইসিইউ বেড ১৯৬টি। এরমধ্যে কিছু বেড খালিও আছে। অর্থাৎ, এখানে শুরুতে যে সংকট ছিল, এখন তা নেই। চট্টগ্রামের রোগীরা যাতে আরো ভালোভাবে চিকিৎসা সুবিধা পায় সেজন্য আমরা সর্বোত্তভাবে চেষ্টা করছি, চট্টগ্রামে নিয়মিত সমন্বয় সভা করছি। স্থানীয়ভাবে বিষয়গুলো দেখভাল করার জন্য বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে যে কমিটি করে দেওয়া হয়েছে, তারাও কষ্ট করে অনেক কাজ করেছেন। হাছান মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় কোভিড-১৯ টেস্টের ব্যবস্থা করে যে উদাহরণ তৈরি করেছে, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের অনুসরণ করবে বলে আমি আশা করি। এসময় চট্টগ্রামে করোনা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এবং প্রয়োজনে লাশ দাফনের কাজে এগিয়ে আসা মানুষ ও সংগঠনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, জীবন ও জীবিকা রক্ষা দু’টির মধ্যে সমন্বয় করেই নানান সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, সেজন্য এখন এলাকাভিত্তিক রেড জোন চিহ্নিত করা হচ্ছে। চিহ্নিত এলাকায় যেসব বিধিনিষেধ মেনে চলা প্রয়োজন, আমাদের অবশ্যই কঠোরভাবে সেগুলো মানতে হবে। তাহলেই আমাদের পক্ষে নিজেদের, নিজের পরিবার, নিজের কাছের জনদের সুরক্ষা দেওয়া, সর্বোপরি মহামারি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
করোনামুক্ত হলেন Rab এর ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম
২৪,জুন,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ১৮ দিন পর করোনামুক্ত হয়েছেন Rab সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। বুধবার (২৪ জুন) তিনি নিজেই করোনামুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সারওয়ার আলম লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর অশেষ রহমত ও আপনাদের সকলের দোয়ার বদৌলতে কোভিড-১৯ থেকে মুক্তি পেলাম। কৃতজ্ঞতা আপনাদের সকলের প্রতি। একের পর এক আলোচিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। গত ৭ জুন নিজের করোনা শনাক্তের বিষয়টি জানান তিনি। দেশে করোনা সংক্রমণের পর থেকে সারওয়ার আলম ধারাবাহিকভাবে কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত, নকল মাস্ক, গ্লাভসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছিলেন। এছাড়া, রমজানে ভেজাল বিরোধী অভিযান ছাড়াও অনেকগুলো আলোচিত অভিযান পরিচালনা করেছেন তিনি।