চাল চোরদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেয়া উচিত
১১এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কমলিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় মুক্তিমঞ্চের আহ্বায়ক ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, লকডাউনের কারণে সমগ্র দেশে কয়েক কোটি হতদরিদ্র এবং বেকার মানুষ অতি কষ্টে জীবন যাপন করছেন। জাতির এই ক্রান্তিকালে যারা গরিবের হক মেরে খায় তাদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেয়া উচিত। কারণ এরা দেশের শত্রু এবং মানবতার শক্রু। এ ধরনের পশুদের বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। শনিবার এলডিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সালাহউদ্দিন রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মানুষের এই কষ্ট লাঘবের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে স্বল্পমূল্যে চাল এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের মতো এতো বড় মহামারির মধ্যেও দুর্নীতিবাজরা এই ত্রাণ সামগ্রী ও স্বল্পমূল্যের চাল আত্মসাৎ করতে ব্যস্ত। প্রতিদিন আমরা মিডিয়াতে যে পরিমাণ করোনা ভাইরাসের রোগীর তালিকা পাচ্ছি তার চেয়েও বেশি পাচ্ছি চাল চোরের সংখ্যা। কর্নেল (অবঃ) অলি আহমদ সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সরকারকে অনুরোধ করবো এই ত্রাণ সামগ্রী এবং স্বল্পমূল্যের চালগুলো সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের তত্ত্বাবধানে বিতরণ করা একান্তই প্রয়োজন। এতে হতদরিদ্র, বেকার শ্রমিকরা উপকৃত হবে এবং জনগণও শান্তিতে থাকবে ।
আগামীকাল ১৬টি জেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স প্রধানমন্ত্রীর
১১এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:এবার খুলনা ও বরিশাল বিভাগের করোনা সম্পর্কিত খোঁজ খবর নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুই বিভাগের ১৬টি জেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি যুক্ত হবেন আগামীকাল রোববার। গণভবন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, রোববার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে এই ভিডিও কনফারেন্স করবেন শেখ হাসিনা। কনফারেন্সটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার সরাসরি সম্প্রচার করবে। এর আগে ৫ এপ্রিল ভিডিও কনফারেন্সে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের ১৩টি জেলার করোনা সম্পর্কিত খোঁজ নেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জিনপিংকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি
১১এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহবান জানিয়েছেন। এ ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বাংলাদেশে চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ধন্যবাদ জানিয়ে লেখা এক চিঠিটিতে তিনি এ আহবান জানান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী এই মারাত্মক রোগ মোকাবিলার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং এই অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের প্রতি আহবান জানান। প্রধানমন্ত্রী এই মহামারি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা এবং চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করায় চীন সরকারকে ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক টেস্টিং কিট, মাস্ক, পিপিই এবং ইনফ্রারেড থার্মোমিটার প্রদান করায় শেখ হাসিনা চীন সরকার, জনগণ এবং প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী করোনা মোকাবিলায় চিকিৎসা সামগ্রী দেওয়ায় জ্যাক মা ফাউন্ডেশন এবং আলিবাবা ডটকমকে ধন্যবাদ জানান। এই বৈশ্বিক সংকটে চীন সরকার এবং জনগণ বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলেও শেখ হাসিনা দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করেন।সূত্র বাসস। তিনি বলেন, চীনের এই সহযোগিতা রোগ শনাক্তকরণ এবং আমাদের চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিতদের সুরক্ষা প্রদানসহ অনেকদূর পর্যন্ত নিয়ে যাবে।করোনাভাইরাস মোকাবিলায় চীনের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এবং সাফল্যের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমগ্র বিশ্বের কাছে চীন একটি নজির সৃষ্টি করেছে এবং বাংলাদেশও চীনের অভিজ্ঞতা থেকে শিখছে।
পদ্মা সেতুর ৪২০০ মিটার দৃশ্যমান
১১এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:পদ্মা সেতুর ২৮তম স্প্যানটি বসানো হয়েছে। শনিবার সকাল নয়টার দিকে মুন্সীগঞ্জ ও মাদারীপুরের সীমান্ত অংশের ২০ ও ২১নং পিয়ারে বসানো হয় স্প্যানটি। ২৭তম স্প্যান বসানোর ১৪ দিনের মাথায় ২৮তম স্প্যানটি বসানো হয়। এর মাধ্যমে সেতুর ৪ হাজার ২০০ মিটার দৃশ্যমান হলো। প্রকৌশলী সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার সকালে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া কুমারভোগ কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে তিয়ান-ই ভাসমান ক্রেনে স্প্যানটি নির্ধারিত দুটি পিয়ারের কাছে পিলারের কাছে নোঙর করে রাখা হয়। শনিবার সকালে স্প্যানটি বসানোর কার্যক্রম শুরু হয়। নয়টার দিকে স্প্যানটি পিলারের ওপর বসানো হয়। এর মধ্যে মূল সেতুর ৪২টি পিয়ারের কাজ শেষ হয়েছে। সর্বশেষ গত ১ই এপ্রিল পিয়ার ২৬ তৈরি মধ্য দিয়ে মূল সেতুর পিয়ার তৈরির কাজ শতভাগ সর্ম্পূণ হয়। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে বসানো হয় ২৭টি স্প্যান। প্রতিটি স্পেনের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার। ৪২টি পিলারের ওপর ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে সবকটি পিলার দৃশ্যমান হয়েছে। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি)। আর নদী শাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর আগামী ২০২১ সালেই খুলে দেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরও ত্রাণের চাল চুরি,চোরদের শাস্তি দিন
১০এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনাভাইরাসের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির মধ্যে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ ত্রাণের চাল চুরি ও ওএমএসের চাল কালোবাজারে বিক্রির ঘটনায় জড়িতদের মোবাইল কোর্টে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। একইসঙ্গে খাদ্য সহায়তা প্রার্থীদের তালিকা প্রণয়ন ও বিতরণে সমন্বয়হীনতা-দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি-দলীয়করণ বন্ধ করা এবং সঠিক তালিকা প্রণয়ন ও সুষ্ঠুভাবে বিতরণের দাবি করেছে দলটি। শুক্রবার দলটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানান। বিবৃতিতে দলটির সভাপিত ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রী বারবার কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণের পরও করোনা সংকটকালে লকডাউন পরিস্থতিতে দেশের হঠাৎ কর্মহীন নিরূপায় অসহায় মানুষের জন্য সরকার যে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, সেই কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে বহু জায়গাতেই প্রকৃত খাদ্য সহায়তাপ্রার্থীর তালিকা প্রণয়ন ও খাদ্য বিতরণে সমন্বয়হীনতা-দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি-দলবাজি-দলীয়করণ করা হয়েছে। এছাড়া ওএমএসের চাল কালোবাজারে বিক্রি, ত্রাণের চাল আত্মসাৎ ও চুরি, মজুদদারির ঘটনার খবর আসছে। বিবৃতিতে নেতারা এই দুর্নীতির ঘটনার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দল না দেখে, মুখ না দেখে এসব দুর্নীতিবাজ, চোর, আত্মসাৎকারী, কালোবাজারি, মজুদদারদের মোবাইল কোর্টে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানান। করোনা সংকটকালে গত কয়েক দিন ধরেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দ চাল নিয়ে এক শ্রেণির অসাধুদের চালবাজির খবর আসে। যদিও প্রথম থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব বিষয়ে যেন দুর্নীতি না হয় সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। গণমাধ্যমে উঠে আসা সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বলেছেন, ত্রাণ নিয়ে যারা দুর্নীতি করবেন তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
চট্টগ্রামে আরও ২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত,মোট রোগীর সংখ্যা ৭
১০এপ্রিল,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:ফৌজদার হাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজে (বিআইটিআইডি) নমুনা পরীক্ষায় আরও ২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে চট্টগ্রামে এখন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭-এ দাঁড়ালো। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত পৌনে ৯টায় চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শাহরিয়ার কবির এ তথ্য জানান।বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, গত চব্বিশ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে আরও দু'জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭ জন। শুক্রবার করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়া দুজনের মধ্যে একজনের বাড়ি নগরের ফিরিঙ্গি বাজার এলাকায়। তবে অন্য জনের বাড়ির নির্দিষ্ট ঠিকানা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি ডা. শাহরিয়ার কবির। গত ৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের দামপাড়ায় ৬৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে প্রথম করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে। ৫ এপ্রিল ওই ব্যক্তির ২৫ বছর বয়সী ছেলের শরীরেও করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়। এরপর গত ৮ এপ্রিল আরও তিন জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্তের খবর দেন চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির। ৮ এপ্রিল আক্রান্তদের মধ্যে একজনের বয়স ৪৫, একজনের বয়স ৪০ এবং অন্যজনের বয়স ৫০ বছর। তারা নগরের সাগরিকা, হালিশহর ও সীতাকুন্ড এলাকার বাসিন্দা বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছিলেন তিনি। তাদের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্তের পর চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা লকডাউন করে প্রশাসন। চট্টগ্রাম নগরে প্রবেশ কিংবা বের হওয়া বন্ধ করে দেয় পুলিশ।
খাবার কষ্টে ১৪ ভাগ নিম্ন আয়ের মানুষ: ব্র্যাক
১০এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও ঘরে থাকার পরামর্শ মানতে গিয়ে নিম্নআয়ের মানুষের আয় অনেক কমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে চরম দারিদ্র্যের হার আগের তুলনায় বেড়ে গেছে ৬০ শতাংশ। আর ১৪ ভাগ নিম্ন আয়ের মানুষের ঘরে কোনো খাবারই নেই। ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেইঞ্জ প্রোগ্রাম পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপের তথ্যমতে, কী কী ব্যবস্থা অবলম্বনের মাধ্যমে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ করা সম্ভব, সে বিষয়েও ৩৬ শতাংশ উত্তরদাতার পরিষ্কার ধারণা নেই। করোনা সংক্রমণের লক্ষণ (জ্বর কাশি শ্বাসকষ্ট) দেখা দিলে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সরাসরি চলে না আসার যে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়েও ধারণা নেই অধিকাংশের। শতকরা ৫৩ জন উত্তরদাতা বলেছেন, প্রতিবেশীর এসব লক্ষণ দেখা দিলে তাঁকে শহরের হাসপাতাল বা সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেবেন। মাত্র ২৯ শতাংশ হেলপলাইনে ফোন করার কথা বলেছেন। দেশের ৬৪ জেলায় দুই হাজার ৬৭৫ জন মূলত নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে পরিচালিত ওই জরিপ গত ৩১ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিলের মধ্যে পরিচালিত হয়। করোনাভাইরাসের স্বাস্থ্যগত দিকগুলো সম্পর্কে নিম্নআয়ের মানুষের উপলব্ধি এবং এর অর্থনৈতিক সংকট সম্পর্কে ধারণা পেতে জরিপটিতে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করেন ব্র্যাকের মাইক্রোফাইন্যান্স, আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম এবং পার্টনারশিপ স্ট্রেংদেনিং ইউনিটের কর্মীরা।খবর একুশে টেলিভিশন। জরিপে উঠে আসা চিত্রের পরিপ্রেক্ষিতে এতে সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ করা হয় যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে এর ব্যবস্থাপনার জন্য করণীয় সম্পর্কে পৃথক, বৃহৎ মাত্রার প্রচারাভিযান চালাতে হবে। সামাজিক দূরত্বের পদক্ষেপ সঠিক বাস্তবায়নের জন্য দেশব্যাপী খাদ্য সংকটে পড়া মানুষের কাছে অতি শীঘ্র খাদ্য পৌঁছাতে হবে নয়ত তাদের ঘরে রাখা সম্ভব হবে না। জীবিকা অর্জনে তাঁরা বাইরে বের হতে বাধ্য হবেন। শহর থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ গ্রামে ফিরে গেছেন যাঁরা গ্রামকেন্দ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাভুক্ত নন। তাদের কাছে জরুরি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছানোর আশু ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি বোরো ধান কাটা শুরু হবে যা চলবে মে মাসের শেষ পর্যন্। এ সময় কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং সঠিক দাম পান সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে আগাম ধান ক্রয় অভিযান পরিচালনা করা যেতে পারে। গ্রাম থেকে শহরে সবজি, দুধ-ডিম-মাছসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য পরিবহন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে গ্রামে এসবের দাম কমে গেছে। খাদ্যসরবরাহ চেইন যাতে স্বাভাবিক থাকে সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। এছাড়া সংকটপরবর্তী সময়ে গ্রামাঞ্চলের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্ষতি পুষিয়ে পুনরায় ব্যবসা চালু করার জন্য অর্থায়নসহ অন্যান্য সহযোগিতা পৌঁছানোর পদ্ধতি-প্রক্রিয়াও আগাম পরিকল্পনা করা উচিত। এই জরিপে পাওয়া অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে , উপার্জন এবং খাদ্য নিরাপত্তায় প্রভাব, করোনাভাইরাস প্রতিরোধের পদক্ষেপের ফলে নিম্নআয়ের মানুষ জীবিকার দিক থেকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর ফলে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮৯% চরম দরিদ্রে পরিণত হয়েছেন অর্থাৎ দারিদ্র্যরেখার নিম্নসীমার নিচে নেমে গেছেন। করোনাভাইরাসের পূর্বে আয়ের ভিত্তিতে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ২৪% শতাংশ ছিলেন দারিদ্র্যরেখার নিম্নসীমার নিচে এবং ৩৫% শতাংশ ছিলেন দারিদ্র্যরেখার ঊর্ধ্বসীমার নিচে। এতে বোঝা যায় চরমদারিদ্র্য আগের তুলনায় বর্তমানে ৬০% বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনা মহামারির আগে জরিপে অংশ নেয়া ২,৬৭৫ জনের গড় আয় ছিল ১৪,৫৯৯ টাকা। যাদের মধ্যে ৯৩ শতাংশ জানিয়েছে এই করোনা প্রাদুর্ভাবের পর তাদের আয় কমেছে। মার্চ ২০২০ এ এসে তাদের গড় আয় দাঁড়িয়েছে ৩,৭৪২ টাকায়, অর্থাৎ তাদের পারিবারিক আয় ৭৫ শতাংশের মতো কমে এসেছে। চট্টগ্রাম (৮৪%), রংপুর (৮১%) এবং সিলেট বিভাগের (৮০%) মানুষের আয় কমেছে সবচেয়ে বেশি। সরকারি ছুটি বা সামাজিক দূরত্বের কারণে ৭২ শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছেন অথবা তাদের কাজ কমে গেছে। ৮ শতাংশ মানুষের কাজ থাকলেও এখনও বেতন পাননি। কৃষিকাজে সম্পৃক্তদের (৬৫%) তুলনায় অ-কৃষিখাতের দিনমজুর বেশি (৭৭%) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ৫১ শতাংশ রিকশাচালক, ৫৮ শতাংশ কারখানা শ্রমিক, ৬২ শতাংশ দিনমজুর, ৬৬ শতাংশ হোটেল/রেস্তোরাঁকর্মী জানান- চলতি মাসে তাঁদের আয় নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায়। ১৪ ভাগ মানুষের ঘরে কোনো খাবারই নেই। ২৯ শতাংশের ঘরে আছে ১ থেকে ৩ দিনের খাবার। রোগ সম্পর্কে সচেতনতার মাত্রা, শতকরা ৯৯.৬ ভাগ মানুষই এই ভাইরাস সম্পর্কে শুনেছেন। যার মধ্যে ৬৬ ভাগ মানুষ প্রথম বিষয়টি জেনেছেন টেলিভিশন থেকে। মাত্র ৪০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেশন করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাব্য উপায়। করোনা আক্রান্ত হলে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে এ বিষয়ে নারীদের (৩৮ শতাংশ) চেয়ে পুরুষদের (৬০ শতাংশ) ধারণা বেশি। ৪৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন সরকারি হাসপাতালে কোভিড-১৯-এর রোগীর চিকিৎসা হয় না। এছাড়া ৯ শতাংশ মানুষ জানেনই না এই অবস্থায় কী করা উচিত। সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে জনগণের প্রতিক্রিয়া, ৬৮ শতাংশ মানুষ করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের সাধারণ ছুটির ঘোষণাকে সমর্থন করেন, শতকরা ৭ ভাগ সমর্থন করেন না। ছুটি বিষয়ে সাধারণ মতামত হলো, সরকারি ছুটি গড়ে ২২ দিন হতে পারে। এর মধ্যে ৬৪ ভাগ মানুষ ১৪ দিনের বেশি ছুটির পক্ষে। এই মহামারী ঠেকাতে সরকারের ভূমিকা যথেষ্ট বলে মনে করেন বেশির ভাগ মানুষ (৬৪%) । বাকিদের মধ্যে ৩১ শতাংশ গ্রামের মানুষ এবং ৪০ ভাগ শহরের মানুষ এই ধারণাকে সমর্থন করেননি। মাত্র ৪ শতাংশ মানুষ (যাদের বেশির ভাগের বাস শহরে) জরুরি ত্রাণ পেয়েছেন বলে জানান (৫ এপ্রিল পর্যন্ত) । ৪৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন এ পরিস্থিতিতে সরকারের খাদ্য সহায়তা জরুরি, যেখানে শতকরা ২০ ভাগ চান নগদ অর্থ সহায়তা । শহরের মানুষের (৪৪ শতাংশ) চেয়ে গ্রামের মানুষেরাই (৫০ শতাংশ) খাদ্য সহায়তার পক্ষে বেশি মত দেন। এই পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে করণীয়, ৩৬ শতাংশ মানুষ জানেন না এই পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক সংকটের সাথে তাঁরা কীভাবে মানিয়ে নেবেন। ২৩ শতাংশ আশা করেন (যার মধ্যে নারী ৩৮%) এই পরিস্থিতি আরো দীর্ঘায়িত হলে সরকার তাঁদেরকে সহায়তা করবে। শহরের মানুষ গ্রামের মানুষের চেয়ে সরকারি সহায়তার ব্যপারে বেশি আশাবাদী। যদি পরিস্থিতি খুব সহসাই স্বাভাবিক না হয়, তাহলে ধারদেনার চিন্তা করছেন শতকরা ১৯ ভাগ মানুষ।
বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের সঙ্গে দেখা করলেন পরিবারের ৫ সদস্য
১০এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:বঙ্গবন্ধুর খুনি আব্দুল মাজেদের সঙ্গে তার স্ত্রীসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য দেখা করেছেন। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে তার স্ত্রীসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (কেরানীগঞ্জ) সাক্ষাৎ করতে যান। এ বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবীর চৌধুরী জানান, মাজেদের স্ত্রীসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য কারাগারে তার সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তারা সাক্ষাৎ করতে আসেন।মানবজমিন। মাজেদের রায় কার্যকরের বিষয়ে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল আবরার হোসেন জানান, উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের আদেশ পেলেই যে কোন মুহূর্তে রায় কার্যকর করা হবে। গত ৬ই এপ্রিল রাতে ঢাকার গাবতলী এলাকা থেকে মাজেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি দীর্ঘদিন ভারতে পালিয়ে ছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।