সংবাদ প্রকাশের বিষয় স্পষ্ট করলেন সুপ্রিম কোর্ট
২১মে,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: আদালতের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় এবং বিচারকাজকে প্রভাবিত করে- এমন সংবাদ পরিবেশন ও প্রচার প্রত্যাশিত নয় বলে নতুন এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। বিচারাধীন মামলার সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে এর আগে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের জারি করা বিজ্ঞপ্তি স্পষ্ট করতে মঙ্গলবার (২১ মে) বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. জাকির হোসেনের সই করা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সবসময় সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আদালতের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা ক্ষুন্ন হয় এবং বিচারকাজ প্রভাবিত হয়- এমন সংবাদ পরিবেশন ও প্রচার প্রত্যাশিত নয়। এ অবস্থায় গত ১৬ মে জারি করা ২৪৭/২০১৯ নম্বর বিজ্ঞপ্তিটি স্পষ্ট করা হলো এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করা হলো। বিচারাধীন বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ নয়- সুপ্রিম কোর্টের এমন নির্দেশনার বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও ব্যাখা দিয়েছেন। গত রোববার (১৯ মে) তিনি বলেন, আমি একটি বিষয় পরিষ্কার বলতে চাই, সাব-জুডিস (বিচারাধীন মামলা) কথাটার একটা অর্থ আছে। সাব-জুডিস হচ্ছে- এমন মামলা, যেটা বিচারাধীন আছে। কিন্তু বিচার কার্যক্রম চলছে না। মামলা যেটা বিচারাধীন আছে, কিন্তু বিচার কার্যক্রম চলছে না- এমন মামলার ব্যাপারে মতামত দেয়ার বিষয়টিই বলেছেন সুপ্রিম কোর্ট। তারা বলেছেন, এই ব্যাপারে মতামত না দিতে। তিনি আরও বলেন, একটা মামলা চলছে, সেটার ব্যাপারে রিপোর্টিং বন্ধ করতে- আমরা মনে হয় না, সুপ্রিম কোর্ট এ কথা বলেছে। আপনারা মামলার রিপোর্টিং করতে পারেন, তবে যে মামলাটা বিচারধীন আছে সেই মামলা নিয়ে আপনারা মতামত দেন তাহলে যেটা হবে সেটা হচ্ছে- মিডিয়াতেই একটা ট্রায়াল হয়ে যাবে। বিজ্ঞ বিচারক বা বিচারপতির এই ব্যাপারে একটু চাপ সৃষ্টি হয়, সে জন্য তারা এই কথাটা বলেছেন।
কুড়িয়ে পাওয়া সেই রাজকুমারীর মূল্য ২০ লাখ টাকা
২১মে,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: দীর্ঘ ৫০ দিন আইনি লড়াই শেষে কুড়িয়ে পাওয়া শিশুর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। জামালপুরের পারিবারিক সহকারী জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক ফারহানা আক্তার রাজকুমারীর (শিশু) নামে ২০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে ব্যাংক রশিদ জমা দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন। আর এই শর্ত মেনে নেওয়ায় বকশীগঞ্জের সুমন দম্পতিকে ৪৫ দিনের জন্য অস্থায়ী অভিভাবক মনোনীত করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার এই রায় দেন আদালত। জানা যায়, চলতি বছরের ২৯ মার্চ বকশীগঞ্জ পৌর শহরের শ্মশান ঘাটে কে বা কারা দুইদিন বয়সী এক কন্যা শিশুকে রেখে পালিয়ে যায়। কান্নাকাটির শব্দ শুনে প্রতিবেশী আছর আলীর স্ত্রী সন্ধ্যি বেগম শিশুটিকে নিজ বাড়িতে নিয়ে প্রাথমিক পরিচর্যা করেন। খবর পেয়ে কশীগঞ্জ থানার পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতকটির নাম রাখা হয় রাজকুমারী। এই নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশের পর পরই ভ্যানচালক থেকে হাই সোসাইটির একাধিক ব্যক্তি রাজকুমারীর সার্বিক দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেন। সর্বশেষ রাজকুমারীকে পেতে জামালপুরের পারিবারিক আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। একটি মামলা দায়ের করেন বকশীগঞ্জ পৌর শহরের বাসিন্দা ব্যাংকার সামিউল হকের স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন রিপা। অপর মামলা দায়ের করেন বকশীগঞ্জ পৌর শহরের কামারপট্টি মোড়ের ভ্যানচালক সুমন মিয়া। উভয় বাদী রাজকুমারীর অভিভাবকত্ব নেওয়ার জন্য মামলা দায়ের করেন। মামলায় ব্যাংকার সামিউল হকের স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন রিপার পক্ষে সাক্ষ্য দেন বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয়। আর ভ্যানচালক সুমন মিয়ার পক্ষে সাক্ষ্য দেন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জুমান, বকশীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর ও মহিলা কাউন্সিলর রহিমা। দীর্ঘ ৫০ দিন আইন লড়াইয়ের পর ২০ মে জামালপুরের পারিবারিক আদালতের বিজ্ঞ সহকারী জজ ফারহানা আক্তার রাজকুমারী মামলার রায় দেন। রায়ে সিটি ব্যাংকে রাজকুমারীর নামে ২০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিটসহ তিনটি বিশেষ শর্তে সুমন দম্পতিকে অভিভাবক মনোনীত করা হয়। টাকা জমা দেওয়াসহ ব্যাংকের যাবতীয় কাজ শেষ করার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে ৪৫ দিন। মামলায় ফারহানা ইয়াসমিন রিপার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন জামালপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট বাকী বিল্লাহ ও অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেন সিরাজী। সুমন দম্পতির পক্ষে ছিলেন সাবেক পিপি মাহফুজুর রহমান মন্টু ও সিনিয়র অ্যাডভোকেট আনিসুজ্জামান। বিষয়টি নিশ্চিত করে অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেন সিরাজী বলেন, ২০ লাখ টাকা ব্যাংকে ডিপোজিট করার শর্তে আদালত সুমন দম্পতির পক্ষে রায় দেন।-আলোকিত বাংলাদেশ
দুধে ভেজাল: অভিযুক্তদের তালিকা চাইলেন হাইকোর্ট
২১মে,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকাসহ সারা দেশের বাজারে পাস্তুরিত (তরল) দুধ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগামী ২৩ মে দুধে ভেজালকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে প্রদানের নির্দেশ দেন আদালত। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ল্যাবের পরিচালক প্রফেসর ড. শাহনীলা ফেরদৌসীর আদালতে দেওয়া বক্তব্য লিখিতভাবে এক মাসের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। বিএসটিআইর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সরকার এম আর হাসান ( মামুন)। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না। এর আগে ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির (এনএফএসএল) করা গবেষণার পক্ষে ব্যাখ্যা দিতে ল্যাবটির প্রধান প্রফেসর ড. শাহনীলা ফেরদৌসী মঙ্গলবার আদালতে হাজির হন। তার ব্যাখ্যা শোনা শেষে সারা দেশের বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির দুধ, দুগ্ধজাত খাদ্য পণ্য ও পশুর খাদ্যপণ্যে কী পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া, কীটনাশক এবং সিসা মেশানো রয়েছে, তা নিরূপণ করে তালিকা ও জড়িতদের বিরুদ্ধে গৃহীত আইনি পদক্ষেপ প্রতিবেদন আকারে দাখিল করেতে পুনরায় নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। প্রসঙ্গত, গত ১১ ফেব্রুয়ারি কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। পত্রিকার ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশে পুষ্টির অন্যতম প্রধান জোগান হিসেবে বিবেচিত গরুর দুধ বা দুগ্ধজাত খাদ্যে এবার মিলেছে মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর নানা উপাদান। ১০ ফেব্রুয়ারি এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে সরকারের জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারের প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়,গরুর খোলা দুধে অণুজীবের সহনীয় মাত্রা সর্বোচ্চ ৪ থাকার কথা থাকলেও পাওয়া গেছে ৭.৬৬ পর্যন্ত।এরপর সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী মামুন মাহবুব। যার ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টের নির্দেশের পর বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মাহবুব কবিরকে আহ্বায়ক করে ১৬ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়। এরপর ওই কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
জুলাই থেকে ১০ বছর মেয়াদী ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট
২১মে,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আগামী জুলাই থেকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) বদলে বাংলাদেশে চালু হচ্ছে ১০ বছর মেয়াদী ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট)। মঙ্গলবার (২১ মে) এই উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই পাসপোর্টের মেয়াদ ১০ বছর হবে বলে জানিয়েছেন। জানা গেছে, ই-পাসপোর্টের ফি হবে দ্বিগুণ। পাশাপাশি ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টও প্রদান কর হবে। বর্তমানে সাধারণ পাসপোর্টের ফি ৩৪৫০ টাকা ও জরুরি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ৬৯০০ টাকা রয়েছে। পাসপোর্ট অধিদপ্তর ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে অতিজরুরি সেবা যোগ করার প্রস্তাব করেছে। যদিও ১৫ শতাংশ ভ্যাটসহ এর জন্যও গুণতে হবে আলাদা ফি। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার গাইড লাইন অনুসারে ২০১০ সালের ১ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বা এমআরপি কার্যক্রম চালু হয়। বর্তমানে দেশে ও বিদেশে অবস্থিত বিভিন্ন বাংলাদেশ মিশনে এমআরপি ইস্যু করা হচ্ছে। তবে জুলাইয়ে চালু হতে যাওয়া ই-পাসপোর্ট আরও বেশি আধুনিক। এতে একটি চিপের মধ্যে একজন নাগরিকের পাসপোর্টের প্রয়োজনীয় সব তথ্য থাকবে। কম্পিউটারে পাঞ্চ করেই পড়া যাবে এর তথ্য। এটি একজন নাগরিকের তথ্য সংরক্ষণের অত্যাধুনিক পদ্ধতি। তবে চিপের পাশাপাশি এতে কাগজের অংশও থাকবে। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সাধারণ নাগরিকরা জুলাই থেকে ই-পাসপোর্টের সুবিধা পাবেন। নাগরিকদের হাতে এই পাসপোর্ট তুলে দিতে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর প্রকল্পটি চলতি অর্থবছর থেকে বাস্তবায়ন শুরু হবে। যা শেষ হবে ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে। তিনি জানান, এটা সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে পাসপোর্টের ফি বৃদ্ধির প্রস্তাব পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন পাসপোর্ট ইস্যু, নিরাপত্তা বৃদ্ধি, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশি পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো এবং ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে বাংলাদেশি ও আগত বিদেশি নাগরিকদের সুষ্ঠুভাবে গমনাগমন নিশ্চিত করতেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সরকার। এটি বাস্তবায়ন হলে বিশ্বের যে কোনো স্থান থেকে একজন পাসপোর্টধারীর নম্বর সার্চের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সব তথ্য পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমআরপি ব্যবস্থায় একজন ব্যক্তির দশ আঙুলের ছাপ ডেটাবেসে সংরক্ষণ না থাকায় একাধিক পাসপোর্ট করার প্রবণতা ধরা পড়ে। ফলে ই-পাসপোর্টের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপকভাবে অনুভব করে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ উদ্বোধনের সময় ই-পাসপোর্ট প্রবর্তনের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর জার্মানি সফরের সময় ২০১৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সে দেশের প্রতিষ্ঠান ভ্যারিডোস জিএমবিএইচ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ই-পাসপোর্ট চালুর বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ই-পাসপোর্ট চালুর।
রাজধানীর কোনো গণপরিবহনে টিকিট ছাড়া যাতায়াত করা যাবে না: সাঈদ খোকন
২১মে,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর কোনো গণপরিবহনে টিকিট ছাড়া যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে টিকিট ব্যবস্থা চালু করার এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রাজধানীতে বিদ্যমান গণপরিবহনসমূহ টিকিট ছাড়া কোনো যাত্রী চলাচল করতে পারবে না। আসন্ন ঈদের পর থেকে এটা কার্যকর হবে। সোমবার (২০ মে) ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) সভাকক্ষে রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে গঠিত বাস রুট রেশনালাইজেসন সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে এসব কথা জানান তিনি। মেয়র বলেন, বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির বৈঠকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ঢাকার শহরের কোথাও টিকিট ছাড়া গণপরিবহনে যাত্রী চলাচল করতে পারবেন না। এতে করে বিদ্যমান যে বাস সংকট এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ সেটির পরিত্রাণ হবে। তাই ডিটিসি, বিআরটিএ, বিআরটিসি, ডিএসসিসি এবং ডিএনসিসি এবং পরিবহন মালিকদের সমন্বয়ে বাসের টিকিট এবং কাউন্টার স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করে পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। ঈদের পর পরই যাতে এটি কার্যকর করা যায় সেজন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মেয়র আরও বলেন, বেঠকে আমরা আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী ২৭ মে থেকে রাজধানীর উত্তরায় চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু হবে। ইতোমধ্যে এই সেবা চালু হয়েছে ধানমন্ডি এলাকায়। তাই উত্তরায় চালু হবার পর মতিঝিল ও সদরঘাট এলাকায়ও চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করা হবে। ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকনের সভাপতিত্বে সভায় ডিএমপি প্রতিনিধি, বিআরটিসি,রাজউক, বিআরটিএ কর্মকর্তাসহ মহানগরীর বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও গণপরিবহন বিশেষজ্ঞগণ উপস্থিত ছিলেন।
সব ধর্মই শান্তির কথা বলে : প্রধানমন্ত্রী
২০মে,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি গ্রহণযোগ্য নয়, সব ধর্মই শান্তির কথা বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই দেশে বসবাসকারী সবাই সম্মানের সাথে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। এটাই তার সরকারের চাওয়া। বৌদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে আজ সোমবার গণভবনে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, সব ধর্মই শান্তির কথা বলে। এটাই বিশ্বাস করি যে ধর্ম যার যার, উৎসব সবার এবং এভাবেই বাংলাদেশে উৎসবগুলো পালন করা হয়। যে ধর্মের উৎসবই হোক, সবাই মিলেই কিন্তু সেটা উদযাপন করে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বাংলাদেশ বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,সহনশীলতা ও এই ভাতৃত্ববোধ সবার মাঝে থাকুক। যেকোনো সম্প্রদায় যেন নিজেদের অবহেলিত মনে না করে। এ সময় সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন,সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ এগুলো এখন সারা বিশ্বে সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। আসলে জঙ্গি জঙ্গিই, তাদের কোনো ধর্ম নাই, দেশ নাই, সমাজ নাই। তারা জঙ্গিই এটাই হলো বাস্তবতা। সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত রেখে আমরা অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে চাই। উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন,দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা, ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে সকল মানুষেরই জীবনমান উন্নত হোক সেটাই আমরা চাই। দেশকে পুরোপুরিভাবে দারিদ্র্যমুক্ত তার সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
রূপপুরের বালিশসহ আসবাব ক্রয়ের তদন্ত রিপোর্ট চেয়েছেন হাইকোর্ট
২০মে,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য নির্মিত ভবনের জন্য কেনা বালিশসহ আসবাবপত্র কেলেঙ্কারির বিষয়ে গণপূর্ত অধিদফতরের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (২০ মে) বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সরওয়ারদীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ আদেশ দেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়্যেদুল হক সুমন। এর আগে রবিবার (১৯ মে) জনস্বার্থে এ রিটটি দায়ের করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়্যেদুল হক সুমন। উল্লেখ্য, পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য নির্মিত ভবনের জন্য কেনা বালিশসহ আসবাবপত্র ক্রয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয় কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই ভবনের জন্য ১ হাজার ৩২০টি বালিশ কেনা হয়েছে। এদের প্রতিটির মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর সেই প্রতিটি বালিশ নিচ থেকে ভবনের ওপরে তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা! এছাড়াও প্রকল্পের ১১০ ফ্ল্যাটের জন্য অস্বাভাবিক মূল্যে আসবাবপত্র কেনা ও ভবনে উঠানোর ব্যয় করা হয়েছে। শুধু একটি ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনে ওঠাতে সব মিলে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা। ৮৬ হাজার ৯৭০ টাকা করে ১১০টি টেলিভিশন ক্রয় করা হয় যার মোট মূল্য ৯৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকায়। আর সেসব টিভি ফ্ল্যাটে ওঠানোর খরচ দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ৯৪ হাজার ২৫০ টাকায় ১১০টি ফ্রিজ ক্রয় করতে খরচ হয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ সাড়ে ৭ হাজার টাকা। সেগুলোর প্রতিটি ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা। সে হিসাবে ফ্রিজ ওঠাতে মোট খরচ ১৩ লাখ ৭৭ হাজার ৩১০ টাকা। একইভাবে ১ লাখ ৩৬ হাজার ১১২ টাকা দরে মোট এক কোটি ৫০ লাখ টাকায় ক্রয় করা ১১০টি ওয়াশিং মেশিন ওঠাতে খরচ দেখানো হয় ৩৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। প্রতিটি ইক্রোওয়েভ ওভেন কেনা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৭৪ টাকায় যার প্রতিটি ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয় ৬ হাজার ৮৪০ টাকা করে। এছাড়াও প্রতিটি কেটলি ভবনে ওঠাতে ২ হাজার ৯৪৫ টাকা, প্রতিটি ইলেক্ট্রিক আয়রন ফ্ল্যাটে ওঠাতে ২ হাজার ৯৪৫ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। এরপর প্রতিটি চুলার ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ৭ হাজার ৭৪৭ টাকা। তা আর তা ওঠানোর খরচ দেখানো হয় ৬ হাজার ৬৫০ টাকা। খাট, সোফা, টেবিল, তোশক, চেয়ারসহ জন্য অন্যান্য আসবাব ক্রয় ও এসব আসবাব ফ্ল্যাটে তোলার ক্ষেত্রেও বিপুল অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে। বালিশ ও আসবাবপত্রের পেছনে এমন অসংঙ্গতিপূর্ণ ব্যয়ের কথা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে সমালোচনা ঝড় বইছে।
বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে জাপান
২০মে,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোইয়াসু ইজুমি বলেছেন, জাপান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার চলমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। জাপানের রাষ্ট্রদূত আজ সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে একথা বলেন। সাক্ষাতের পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, জাপানের দূত প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন জাপান সফরে দুই দেশের মধ্যে আড়াই বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ৪০তম অফিসিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিসটেন্স (ওডিএ) চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। যা গত বছরের চাইতে ৩৫ শতাংশ বেশি। রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে জাপানে তার আসন্ন সফরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। বিগত নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে জাপানের দূত বলেন, আগামী ৫ বছর বাংলাদেশ ও দেশের অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই সময়ে উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশের অর্থনীতি আরো এগিয়ে যাবে। জাপানের রাষ্ট্রদূত এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে জানান, জাপানের সহায়তার নির্মাণাধীন কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর মাতারবাড়িতে ১২শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের আগ্রগতিতে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবেকে তার শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, তিনিও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানের বিভিন্ন অবদনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপান বাংলাদেশের এক মহান বন্ধু। তিনি এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে দেশে রূপসা সেতু নির্মাণে জাপানের সহযোগিতার কথাও স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
যে কারণে হঠাৎ মন্ত্রী সভায় রদল বদল
২০মে,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: একাদশ সংসদ নির্বাচন-উত্তর নতুন সরকার গঠনের ১৩২ দিনের মাথায় মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাস করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাঁচ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন করেছেন টানা তৃতীয়বারের এ প্রধানমন্ত্রী। এর ফলে দুই মন্ত্রীর কর্মক্ষেত্র কমবে। অন্যদিকে দুই প্রতিমন্ত্রীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গতকাল রবিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম স্বাক্ষরিত পৃথক দুই আদেশপত্রে পাঁচ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামকে এখন শুধু স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যকে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে একক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারকে শুধু ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এখন থেকে এককভাবে দায়িত্ব পালন করবেন জুনাইদ আহমেদ পলক। এ বিভাগে আর পূর্ণমন্ত্রী থাকলেন না। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে করা হয়েছে তথ্য প্রতিমন্ত্রী। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬-এর রুল ৩ (৪) অনুযায়ী মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে মন্ত্রণালয়/বিভাগের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট আদেশে বলা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় রদবদল, দপ্তর পুনর্বণ্টন কিংবা আকার বাড়ানো সরকারের নিয়মিত কাজেরই অংশ হলেও সরকার গঠনের পর স্বল্প সময়ের মধ্যে পাঁচ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টনের বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে ও সরকারের উচ্চপর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম দ্রুত সম্পাদন এবং মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্যই প্রধানমন্ত্রী এ উদ্যোগ নিয়েছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-৪ আসন থেকে নির্বাচিত ডা. মুরাদ হাসান এবারই প্রথম মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। কুমিল্লা-৯ আসন থেকে নির্বাচিত মো. তাজুল ইসলামও প্রথমবারের মন্ত্রী। পুনর্বণ্টন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়কে ভাগ করে তাকে শুধু স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের একক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একই মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করে আসা প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যকে। যশোর-৫ আসন থেকে নির্বাচিত এই সাংসদও এবারই প্রথম মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। টেকনোক্র্যাট কোটায় এবার দ্বিতীয়বারের মতো ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান মোস্তাফা জব্বার। সর্বশেষ পুনর্বণ্টনে তার দায়িত্বের ক্ষেত্র কমবে। তাকে শুধু ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে এককভাবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রতিমন্ত্রী নাটোর-৩ আসনের এমপি জুনাইদ আহমেদ পলক। সূত্র জানায়, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মোর্ত্তজাকে নিয়ে গত মাসে ফেসবুকে অশ্লীল ভাষায় মন্তব্য করায় চিকিৎসকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। নিজের নির্বাচনী এলাকার একটি হাসপাতালে এক চিকিৎসককে কর্মক্ষেত্রে না পেয়ে তাকে ফোন করে ধমক দিয়েছিলেন মাশরাফি। এর প্রতিবাদে চিকিৎসকরা মাশরাফির সমালোচনা শুরু করলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চিকিৎসকদের সমালোচনা করেন। সে সময় ডা. মুরাদ বলেন, মাশরাফি জাতীয় সংসদের সদস্য। শ্রদ্ধা-সম্মান কোনোদিন কেউ চেয়ে নিতে পারে না। এটা স্বয়ং আল্লাহতায়ালা দেন। ভুলেও ভাববেন না যে একজন সম্মানের জায়গায় প্রতিষ্ঠিত থাকা মানুষকে অসম্মানিত করে আপনি সম্মানিত হবেন। কোনোদিনও হবেন না। কখনো হতে পারবেন না। এটা দয়া করে মনে রাখবেন চিকিৎসক ভাইয়েরা। সে সময় তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশে আরও প্রশ্ন রাখেন, একজন মাশরাফি সৃষ্টি করতে পারবেন আপনারা? হতে পারবেন নাকি জাতীয় দলের ক্যাপ্টেন? হতে পারবেন একজন জাতীয় ডাক্তার? হয়ে প্রমাণ করুন যে, আপনি মাশরাফিকে নিয়ে কথা বলার যোগ্যতা রাখেন। সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যকে আক্রমণাত্মক দৃষ্টিতে দেখেছে চিকিৎসকসমাজ। চিকিৎসকদের কেন্দ্রীয় সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) নেতারা এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হন। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করায় কেউ কেউ ধারণা করছেন, এর নেপথ্যে বিএমএ নেতাদের ক্ষোভ প্রভাব ফেলেছে। এদিকে অন্য একটি সূত্র বলেছে, নানা বিষয়ে ডা. মুরাদের সঙ্গে তার মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী জাহেদ মালেক স্বপনেরও বনিবনা হচ্ছিল না বলে আলোচনায় ছিল। এটিও মুরাদকে এ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার আরেক কারণ হতে পারে। সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দুই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মধ্যেও নানা বিষয়ে মতভিন্নতা দেখা দেয়। কাজে গতি আনতে মন্ত্রণালয়টি দুই ভাগে ভাগ করে দুজনকে দুই বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনেকে মনে করেন, একই কারণ কাজ করেছে মোস্তাফা জব্বার ও জুনাইদ আহমেদ পলকের ক্ষেত্রেও। সরকার গঠনের মাত্র সাড়ে চার মাসের মাথায় কেন হঠাৎ দপ্তর পুনর্বণ্টন-এমন প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, কাজের সুবিধার্থে মন্ত্রণালয়কে ভাগ করে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এতে করে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা যে কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে নিতে পারবেন। প্রতিমন্ত্রী ফাইলে সই করলে মন্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। আবার মন্ত্রীকেও প্রতিমন্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। এতে করে কাজের গতি আসবে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর গত ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করেন শেখ হাসিনা। দশম সংসদের মন্ত্রিসভার হেভিওয়েট মন্ত্রীদের বেশিরভাগই নতুন মন্ত্রিপরিষদে ঠাঁই পাননি। ২৪ মন্ত্রী, ১৯ প্রতিমন্ত্রী ও ৩ উপমন্ত্রীর সমন্বয়ে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা সাজান প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় পাতার আরো খবর