আরও ৫২ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ
২৬এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরো ৫২ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আজ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত জিও জারি করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ কল্পে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, ত্রাণকার্য পরিচালনা, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধসহ বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে এ বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে ৪৯২টি উপজেলা পরিষদের জন্য ২৪ কোটি ৪৫ লাখ, ৬১টি জেলা পরিষদের জন্য ১৬ কোটি, ১২টি সিটি করপোরেশনের জন্য ৬ কোটি ৮০ লাখ এবং খ ও গ শ্রেণীর ১৩৮টি পৌরসভার জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ইতোপূর্বে গত ২৫ মার্চ করোনা সংক্রমন মোকাবিলায় ১২টি সিটি কর্পোরেশন, ৩২৮টি পৌরসভা ও ৪৯২টি উপজেলা পরিষদের জন্য সর্বমোট ৩৩ কোটি ২ লাখ টাকা বিশেষ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছিল।
তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ায় ত্রাণ নিয়ে অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে আছে
২৬এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি করা জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ায় অনিয়ম এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দফতরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ত্রাণ নিয়ে যেখানেই কোন রকম দুর্নীতির খবর আমরা পেয়েছি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছি। এখানে সীমিত সংখ্যক লোক জড়িত হয়েছে। গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ায় আমি মনে করি বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তাজুল ইসলাম বলেন, অপরাধ সারা পৃথিবীতে আছে। অপরাধের শাস্তি যখন হয় তখন সে অপরাধ কমে যায়। সারা পৃথিবীতে এ প্রক্রিয়াটা অনুসরণ করা হয়। চাল চুরির সংবাদ করতে যাওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান দ্বারা সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাংবাদিক হোক, সরকারি কর্মকর্তা হোক বা সাধারণ কৃষক হোক কারো দ্বারা যদি কেউ অন্যায়ভাবে অপদস্ত বা ক্ষতিগ্রস্থ হয় সেটাকে কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। আমরা যেমন ভালো কাজের জন্য তাদের প্রটেকশন দেবো, তেমনি খারাপ কাজের জন্যও শাস্তি দেবো। ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হয়েছে, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশন কতটুকু প্রস্তুত রয়েছে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই সতর্ক হলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। আর আমরা কীটনাশকের ব্যবস্থা করেছি। আর যেসব খাল ও ড্রেনে বর্জ্য জমে আছে সেগুলো দ্রুত পরিষ্কার করার জন্য সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, রাজউককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, কেউ যেন অনাহারে না থাকে
২৬এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, কেউ যেন অনাহারে না থাকে। তিনি আজ দুপুরে রাজধানীতে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সীমিত পরিসরে অফিস খোলার প্রথম দিন অনলাইনে গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে একথা বলেন। এসময় তথ্যসচিব কামরুন নাহার, প্রধান তথ্য অফিসার সুরথ কুমার সরকার ও মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে যাতে এ বিশেষ পরিস্থিতিতে যারা দিন এনে দিন খায়, যারা দরিদ্র, তাদের অসুবিধা না হয়। সরকারের পাশাপশি বিত্তবান, দয়ালু এবং সমাজসেবীরাও এগিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও সারাদেশে দরিদ্র মানুষের সহায়তা এগিয়ে এসেছে। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য একজন মানুষও যেন অনাহারে না থাকে। সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ড. হাছান জানান, করোনা ভাইরাস থেকে দেশবাসীকে মুক্ত রাখার লক্ষ্যে এবং এ ভাইরাস যাতে জনসাধারণের মাঝে না ছড়ায়, সেজন্যে সরকার ২৬ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল এবং পরবর্তীতে সেই ছুটি বৃদ্ধি করে ৫ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ছুটি চলাকালীনও যেহেতু জরুরি সেবা দিতে হয় সেজন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর যেমন তথ্য অধিদফতর, গণযোগাযোগ অধিদফতর, বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন চালু ছিল। সেকারণে আমাদের কর্মকর্তাদের সীমিত আকারে অফিস করতে হয়েছে। সম্প্রতি সরকার জরুরি বিভিন্ন বিভাগ এবং মন্ত্রণালয়, যেগুলো সবার সাথে যুক্ত সেগুলো খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তগ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ সরকারের নানা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় আছে এবং সহায়তা পাচ্ছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ভিজিডির মাধ্যমে ১০ লাখ ৪০ হাজার পরিবারকে সহায়তা দিচ্ছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা মূল্যে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। সাড়ে ১২ লাখ পরিবার ওএমএসের মাধ্যমে সহায়তা পাচ্ছে। আগামী মাসে ৩ লাখ পরিবার মৎস্য ভিজিএফ পাবে। এর বাইরে জেলা প্রশাসন শাক-সবজি, দুধ কিনে জনগণের মধ্যে বিতরণ করছে। ড. হাছান বলেন, এ বিশেষ পরিস্থিতির কারণে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল পর্যন্ত ১ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন চাল, ৪৯ কোটি টাকা ও শিশুখাদ্যের জন্য বিশেষ নগদ অর্থ ১১ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তাছাড়াও বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, স্বামী পরিত্যক্ত ভাতাসহ নানাবিধ ভাতার মাধ্যমে দেশের আরো প্রায় ১ কোটির কাছাকাছি লোক নানাধরণের সহায়তা পাচ্ছে। অর্থাৎ দেশের এক তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ সরকারের এই সহায়তার আওতার মধ্যে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সংকটের মধ্যেই সম্ভাবনা দেখতে পান সততা এবং সাহসই হচ্ছে তার শক্তির উৎস
২৬এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি করোনা পরিস্থিতি নিয়েও পুরনো নালিশের রাজনীতি শুরু করছে। তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি করোনা নিয়ে পুরনো নালিশের রাজনীতি শুরু করেছে বিএনপি। তারা শুরুতেই ছিল শীতনিদ্রায়, হঠাৎ জেগে আবিষ্কার করল সরকার একলা চলো নীতিতে আছে।ওবায়দুল কাদের আজ রোববার দুপুরে তার সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবন থেকে এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন। বিএনপি মাহসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এক বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ফখরুল সাহেব সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে তথ্য প্রমাণ ছাড়া চিরায়ত ভঙ্গিতে মিথ্যাচার করে একবার চুপ হয়ে গেলেন। এখন বলছে সরকার নাকি তথ্য গোপন করছে। কি তথ্য গোপন করেছে সেটা তো আপনি বললেন না। অভিযোগ করার আগে নির্ভুল তথ্য আপনার হাজির করা উচিত ছিল। শেখ হাসিনা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। আর এটাই আপনাদের গাত্রদাহের কারণ। তিনি বলেন, করোনা সংকট একটি বৈশ্বিক দুর্যোগ, এখানে তথ্য লুকোচুরির কোন বিষয় নেই। বর্তমান বিশ্বে তথ্য লুকোচুরির কথা হাস্যকর। সরকার করোনা সংকট মোকাবেলায় জনগণকে সাথে নিয়ে দিনদিন অধিকতর সক্ষমতা অর্জন করছে। এটা আপনাদের মনোকষ্টের কারণ। ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা কোনো রাজনৈতিক সংকট নয়, এটা করোনা সংকট। এখন দরকার করোনা যোদ্ধা, ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ানসহ যারা ফ্রন্টলাইনে যুদ্ধ করছে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বাত্মক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংকটের মধ্যেই সম্ভাবনা দেখতে পান। সততা এবং সাহসই হচ্ছে তার শক্তির উৎস। সংকট মোকাবেলা শুরু থেকেই দল-মত-নির্বিশেষে আমরা সকলের সহযোগিতা চেয়েছি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, আপনারা সংকটেপতিত মানুষের জন্য এ পর্যন্ত কি কাজ করেছেন। সরকার সকলকে নিয়ে কাজ করছে। ইতোমধ্যে সমন্বয়ে গড়ে তুলেছে কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যায়ে। সকল সরকারি সংস্থা, পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা এ সংকট মোকাবেলায় সফল হবো ইনশাল্লাহ। তিনি বলেন, আমরা এখনো আহ্বান জানাই এই দুর্যোগ মোকাবেলায় ইতিবাচক ভূমিকা নিয়ে আসুন। গুজব নির্ভর ও নেতিবাচক রাজনীতি পরিহার করুন। মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে কাদের বলেন, রমজান মাসে এক শ্রেণীর মুনাফাখোর ও মজুদদার অসৎ ব্যবসায়ী বাজার অস্থিতিশীল করার দুরভিসন্ধিতে লিপ্ত। সরকার এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করোনা যুদ্ধে যারা সাহসীকতার সাথে জীবন বাজি রেখে মাঠে কাজ করছে তাদেরও ধন্যবাদ জানান।
রমজানকে কেন্দ্র করে আবারও সবকিছুর দাম বেড়েছে
২৬এপ্রিল,রবিবার,সাইফুল ইসলাম,ঢাকা,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা আতঙ্কে বেড়ে যাওয়া মশুর ডালের দাম রমজানকে কেন্দ্র করে আবারও বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে চিনির দামও। আর আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে অ্যাংকর, মুগ ডাল ও ছোলা। হঠাৎ করে চিনি ও মশুর ডালের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজান উপলক্ষে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহকারীরা চিনি ও মশুর ডালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। করোনা আতঙ্কে এমনিতেই স্থবির জনজীবন। এরমধ্যে রোজা উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের পণ্যের দাম বাড়ানোকে অমানবিক বলছেন ক্রেতারা। তারা বলছেন, মানুষ আতঙ্কে থাকলেও মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা একের পর এক পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। এমন অমানবিক কাজ অব্যাহত থাকলেও এই অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, খুচরা বাজার চিনি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ৬৫ টাকা কেজি বিক্রি হয়। গত সপ্তাহে ৭৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মোটা দানার মশুর ডালের কেজি ১০০ টাকা ছুঁয়েছে। ৯০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মাঝারি দানার মশুর ডালের দাম বেড়ে হয়েছে ১১৫ টাকা। সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবেও সপ্তাহের ব্যবধানে চিনি ও মশুর ডালের দাম বেড়েছে। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, খুচরা বাজারে এখন চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। টিসিবি বলছে, এক সপ্তাহ আগে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মোটা দানার মশুর ডালের দাম বেড়ে হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। মাঝারি দানার মশুর ডালের দাম বেড়ে হয়েছে ১০০ থেকে ১১৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। এদিকে রোজার কেনাকাটা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাংকর, ছোলা ও মুগ ডালের দাম বেড়ে যায়। সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে এই পণ্য দু’টির দাম বাড়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। আগের মতো অ্যাংকর ডাল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি, ছোলা ৮০ থেকে ৯০, মুগ ডাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। দেশে লাগামহীনভাবে বাড়ছে ভোজ্য তেলের দাম। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে দাম বাড়া শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। করোনা ভাইরাস দেখা দেয়ার পর থেকে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বেড়েছে ২০ টাকা এবং এক লিটারের বোতল জাত সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ১৫ টাকা। আর রমজানকে কেন্দ্র করে ও করোনা ভাইরাসের প্রভাবে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানেই প্রতি ৫ লিটারে (বোতল) বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। আর লিটারে বেড়েছে ৩ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত। সরকারি বিপনন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাজারে ৫ লিটার বোতলের সোয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৪৯০ থেকে ৫৫০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা।
সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের সব আদালত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত
২৬এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে আপাতত সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের সব আদালত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্য বিচারপতিদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্টের ফুল কোর্ট সভা। রোববার (২৬ এপ্রিল) ভিডিও কনফারেন্সে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে ফুল কোর্ট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সুপ্রিম কোর্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ফুল কোর্ট সভায় একটি অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করতে রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানানোর সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, হাইকোর্ট বিভাগের রুলস সংশোধন করে ভার্চুয়াল আদালত স্থাপনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফুল কোর্ট সভা।
কোনো ধরণের অনিয়ম, অপেশাদার আচরণ ও অসদুপায়কে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেওয়া হবে না
২৬এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা পরিস্থিতিতে জনগণের কল্যাণে সেবার বর্তমান ধারা অব্যাহত রাখতে পুলিশের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন আইজিপি। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশের চলমান কার্যক্রম ও স্বাভাবিক আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রসঙ্গে নিয়মিত দিকনির্দেশনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ আজ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সকল পুলিশ ইউনিটের কমান্ডাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি তাদেরকে নানা বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। সাধারণ মানুষের কল্যাণে পুলিশের সকল সদস্যের ত্যাগ ও মানবিক কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণে সেবার এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। দেশের সাধারণ জনগণ ও গুণীজনদের যে অকুণ্ঠ ভালবাসা ও প্রশংসা পুলিশ পাচ্ছে তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মানুষের কল্যাণে পুলিশ কাজ করে যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো ধরণের অনিয়ম, অপেশাদার আচরণ ও অসদুপায়কে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। এসময় পবিত্র রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কালোবাজারি ও মজুদারী রোধে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন তিনি। পণ্যবাহী ট্রাক বা বাহনগুলো পণ্য পৌঁছে দিয়ে ফেরার সময় যেনো কোনো পর্যায়েই হয়রানির শিকার না হয় সেটি নিশ্চিত করতে সকলকে নির্দেশ দেন আইজিপি। পাশাপাশি করোনার বিস্তার রোধে লকডাউন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ নিশ্চিত করতে পুলিশের কার্যক্রমকে অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন। আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদেরকে সুচিকিৎসা প্রদানের সকল আয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালসহ পুলিশের অন্যান্য হাসপাতালগুলোতে করোনা সংক্রান্ত চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া, বিভাগীয় পর্যায়েও নেওয়া হয়েছে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা। পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবারের পাশে বাংলাদেশ পুলিশ রয়েছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, করোনায় আক্রান্ত পুলিশের যে কোনো সদস্যের সুচিকিৎসাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যাপ্ত আয়োজন রাখা হয়েছে। দেশ ও জনগণের কল্যাণে যারা আত্মনিয়োগ করেছেন তাদের প্রতি এ দেশের মানুষেরও অকুন্ঠ ভালবাসা ও শ্রদ্ধা রয়েছে। দায়িত্বপালনরত সকল পুলিশ সদস্যের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সুরক্ষা সামগ্রী সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা বিভিন্ন ইউনিটেও পৌঁছে দেয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ৫ হাজার ছাড়িয়েছে,মারা গেছেন ৫জন
২৬এপ্রিল,রবিবার,আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪১৮ জনের দেহে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। তাছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫জনসহ মোট মৃতের সংখ্যা হয়েছে ১৪৫ জন। আজ রোববার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৬৮০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৭৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৬ হাজার ৫৮৯টি। নতুন যে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে তার মধ্যে ৪১৮ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪১৬ জনে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও পাঁচজন, এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৫ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরও নয়জন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ১২২ জন। প্রসঙ্গত, গত ৮ই মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। শুরুর দিকে রোগীর সংখ্যা কম থাকলেও এখন সংক্রমণ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে চীনের উহানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়। ভাইরাসটি ক্রমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। চীনের পর ইরান, কোরিয়াসহ বেশকিছু দেশে সংক্রমণ ছড়ালেও সবচেয়ে বেশি করোনা আঘাত হানে ইতালি, স্পেনসহ ইউরোপের দেশগুলোতে। তবে এ মুহূর্তে তা-ব চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার করে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার বলছে, বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২ লাখ ৩ হাজার ৩১৯জন মানুষ। এছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা ২৯ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৩ । অন্যদিকে সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ৩৭ হাজার ৬১১ জন।
কাঁচাবাজার ফাঁকা স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ভুমি মন্ত্রণালয়ের
২৬এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে মূল হাট ও বাজারের চৌহদ্দি থেকে কাঁচাবাজার, মাছ বাজার, শাকসবজির বাজারসমূহ নিকটবর্তী সরকারি খাস বা অন্য কোনো সুবিধাজনক স্থানে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়৷ রোববার জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্থানান্তরিত হাট ও বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতার সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণের বিষয়ে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি, স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সহায়তা গ্রহণ করবে। ওই নির্দেশনায় আরও বলা হয়, করোনাভাইরাসজনিত কারণে হাট ও বাজারে ব্যাপক জনসমাবেশ/উপস্থিতি সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকার পরিপন্থী। ফলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, বিশেষ করে কাঁচাবাজার, মাছ বাজার, শাকসবজির বাজারসমূহ মূল বাজার/তোহা বাজারের চৌহদ্দি থেকে নিকটবর্তী সুবিধাজনক স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হওয়াতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মাক্‌ছুদুর রহমান পাটওয়ারী-এর নির্দেশে আজ এ ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভূমি মন্ত্রণালয়। উল্লেখ্য, হাট ও বাজারসমূহের মালিকানা ভূমি মন্ত্রণালয়ের এবং এগুলো The Hats and Bazars (Establishment and Acquisition) Ordinance, 1959-এর অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। আর জেলায় নতুন হাট ও বাজার স্থাপন এবং বিলুপ্তির বিষয়টি জেলা কালেক্টরের (জেলা প্রশাসক) অন্যতম কাজ। এসব ক্ষেত্রে নতুন হাট বাজার সৃষ্টি আবশ্যক হলে কালেক্টর সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করেন। বিশেষ ক্ষেত্রে কিছু সৃষ্ট হাট ও বাজারের ব্যবস্থাপনা বর্তমানে স্থানীয় সরকার বিভাগকেও দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর