বুধবার, অক্টোবর ১৬, ২০১৯
দেশে এই প্রথমবারের মতো মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে
১৬সেপ্টেম্বর,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা সোমবার মেট্রোরেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৃথক বিশেষ পুলিশ ইউনিট গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। আজ সকালে গণভবনে ম্যাস RAPIED ট্রানজিট (এমআরটি)র অগ্রগতির ওপর একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের সময় প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। ঢাকা ম্যাস RAPIED ট্রানজিট কোম্পানির (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিক পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরী ও এর আশপাশের এলাকায় এমআরটি লাইন নির্মাণের জন্য টাইম বাউন্ড অ্যাকশন প্ল্যান ২০৩০ এর বাস্তবায়নের সার্বিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তিনি ৬ লাইন এমআরটির পাশাপাশি ১, ২, ৩, ৪, ৫ লাইন এমআরটির অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। দেশে এই প্রথমবারের মতো মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)র সহযোগিতায় রাষ্ট্র মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ডিএমটিসিএল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই মেগা প্রকল্পের দ্রুত ও যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কিছু নির্দেশনা দেন। সভায় জানানো হয়, আগস্ট নাগাদ ৬ লাইন প্রকল্পটির (উত্তরা-আগারগাঁও-মতিঝিল) ৩০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও সভায়, আরো জানানো হয়, এখন পর্যন্ত ৬ লাইনের এমআরটির উত্তরা আগারগাঁও অংশের প্রায় ৪৬ শতাংশ কাজ এবং আগারগাঁও-মতিঝিলের ২৪ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন ব্রিটিশ এমপিরা
১৬সেপ্টেম্বর,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:রোহিঙ্গাদের ফেরাতে ব্রিটিশ এমপিদের সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। এদিকে ব্রিটিশ এমপিরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে তারা পাশে থাকবেন। আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশে সফররত ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধি দল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এ বৈঠকে ড. মোমেন রোহিঙ্গা পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এসময় রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফেরাতে ব্রিটিশ এমপিদের সহায়তা চান তিনি। বৈঠকে ব্রিটিশ এমপিরা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন। তারা বাংলাদেশের আরও উন্নয়নে পাশে থাকবেন বলেও জানান।
কোনও রোহিঙ্গাই এনআইডি কার্ড পাননি
১৬সেপ্টেম্বর,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কোন রোহিঙ্গাই বাংলাদেশের ভোটার হতে পারেননি বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনু-বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, কোনও রোহিঙ্গাই ন্যাশনাল আইডি (এনআইডি) কার্ড পাননি। বাংলাদেশে আসা প্রায় ১১ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গার আঙ্গুলের ছাপ ও পরিচিতি সংবলিত সার্ভার কমিশনের কাছে রয়েছে। ফলে তাদের কেউ চাইলেই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না। আজ সোমবার বিকালে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন। এনআইডির ডিজি বলেন, রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার যে তথ্য এসেছে, সেটি মূলত তারা চেষ্টা করেছেন। কিন্তু, কেউই ভোটার হতে পারেননি। কারণ ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় বিশেষ কার্যক্রম শেষ করে সার্ভারে তথ্য আপলোড করা হয়। এরপর ফিঙ্গার প্রিন্ট ম্যাচিং করে যারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য, কেবল তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ ক্ষেত্রে কারও তথ্য অসম্পূর্ণ থাকলে সেটি লক করে দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, লাকী বেগম নামের একজন স্মার্টকার্ড আনতে গেলে মূল সার্ভার থেকে ধরা পড়ে যে, তার এনআইডি সঠিক নয়। জিজ্ঞাসাবাদে চিহ্নিত হয়েছে, তাকে বৈধ এনআইডি দেওয়া হয়নি। তাই, তাকে পুলিশে দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চার সচিবকে সিনিয়র সচিব পদে পদোন্নতি
১৬সেপ্টেম্বর,সোমবার,বিশেষ সংবাদদাতা,নিউজ একাত্তর ডট কম:নির্বাচন কমিশন, জননিরাপত্তা বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের চার সচিবকে সিনিয়র সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। একই সাথে তাদের আগের কর্মস্থলেই সিনিয়র সচিব হিসেবে পদায়ন করে সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. আলমগীর এবং জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীনকে সিনিয়র সচিব হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে সরকারে এখন সিনিয়র সচিবের সংখ্যা দাড়ালো ১২ জনে। সিনিয়র সচিবদের পদমর্যাদা মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সচিবদের মাঝামাঝি।
এ পি জে আব্দুল কালাম স্মৃতি পুরস্কারে ভূষিত শেখ হাসিনা
১৫সেপ্টেম্বর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং পরমাণুবিজ্ঞানী এ পি জে আব্দুল কালামের স্মৃতির উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ এর জন্য মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল সোমবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ পুরস্কার হস্তান্তর করা হবে। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক সুসম্পর্ক স্থাপন করা, দেশের জনকল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করা বিশেষত নারী ও শিশুদের এক্ষেত্রে প্রাধান্য দেয়া এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রীকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। ৮৪ বছর বয়সে ২০১৫ সালের ২৭ জুলাই মারা যান ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে কালাম। এরপর তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত হয় ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড। পুরস্কার প্রবর্তনের পর ২০১৬ সালে প্রথম এই অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয় মালদ্বীপের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিনকে। পরের দুবছর এ অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয় ঘানা ও মরিশাসের প্রেসিডেন্টের হাতে।
ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া নজিরবিহীন
১৫সেপ্টেম্বর,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশে এই প্রথম শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হলো। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং বাধ্যতামূলক পদত্যাগ করানো হয়েছে। বাংলাদেশের অন্য কোনো ছাত্রসংগঠনে এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের নজির নেই। আজ দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জের ভূলতা ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ওবাদুল কাদের বলেন, অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। যে অন্যায় করবে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই ছাত্রলীগের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দেখভাল করছেন। ছাত্রলীগের পরবর্তী সম্মেলন সম্পন্ন করতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে তিনি দায়িত্ব দিয়েছেন। তারা ভবিষ্যতে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর সম্মেলন করার জন্য প্রস্তুতি নেবেন। কাদের আরও বলেন, আমাদের কিছু জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নের সম্মেলন বাকি আছে। এই সময়ের মধ্যে এসব সম্মেলন সম্পন্ন করা হবে। আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। অচিরেই ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে চার লেনে রূপান্তরের কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান। এসময় ভূলতা ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালক গোলাম হায়দার রিয়াজ, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, রুপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম প্রমুখ।
অর্থনৈতিক উন্নয়নে বস্ত্রশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে
১৫সেপ্টেম্বর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:অর্থনৈতিক উন্নয়নে বস্ত্রশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। মন্ত্রী বলেন, প্রতিযোগিতা সক্ষম একটি বস্ত্র ও পাটখাত গড়ে তোলার ভিশন এবং বস্ত্র ও পাট খাতের অপার সম্ভাবনাকে পূর্ণরূপে কাজে লাগিয়ে উৎপাদনশীলতা, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধির মিশন নিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধিসহ সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে বস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রবিবার ( বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় বস্ত্র দিবস-২০১৯ প্রথমবারের মত সফলভাবে উদযাপনের উদ্দেশ্যে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী আরও বলেন, বস্ত্রশিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এজন্য বস্ত্রশিল্পের সফলতা অর্জন ও এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা দেওয়া ও উদ্বুদ্ধ করাসহ উৎসাহিত করা হবে। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ভিশন -২০২১, অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে বস্ত্রখাতের রপ্তানি ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কাজ করছে। এ ধারাবাহিকতায় বস্ত্রখাতের সঠিক বিকাশ ও সুরক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার করণীয় নির্ধারণ করে বিভিন্ন বিষয় সুনির্দিষ্ট করে বস্ত্রনীতি-২০১৭ এবং বস্ত্র আইন-২০১৮ প্রণয়ন করেছে। একটি আনুষ্ঠানিক দিবসের উদযাপন এখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
পুলিশের সাফল্য শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে
১৫সেপ্টেম্বর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:অপরাধের ধরণ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। অপরাধ নির্মূল ও সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। রোববার দুপুরে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৬তম বিসিএস ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গতানুগতিক অপরাধের পাশাপাশি সাইবার ক্রাইম, মানিলন্ডারিং, মানবপাচার ইত্যাদি বৈশ্বিক অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের মতো অশুভ সামাজিক ব্যাধি। জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের অব্যাহত সাফল্য শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এদেশের মাটিতে কোনোভাবেই জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও যুদ্ধাপরাধীদের ঠাঁই হবে না। শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের সমস্যাকে দেখতে হবে একান্ত আন্তরিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে। জনগণের মনে পুলিশ সম্পর্কে যেন অমূলক ভীতি না থাকে সেজন্য জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। সমাজের নারী, শিশু ও প্রবীণদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করতে হবে। সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে জনবান্ধব পুলিশ গঠনে আপনাদের অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করতে হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। মনে রাখতে হবে, একজন মানুষ তার সবচেয়ে বিপদের সময় পুলিশের কাছে সাহায্যের জন্য আসে। তাই আপনাদেরকে সেবা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে গণমানুষের আস্থা অর্জনে সচেষ্ট থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু তার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে সর্বদাই এ দেশের পুলিশকে জনগণের পুলিশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অনুপ্রাণিত করতেন। বঙ্গবন্ধু পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলতেন- আপনারা স্বাধীন দেশের পুলিশ। আপনারা বিদেশি শোষকদের পুলিশ নন, জনগণের পুলিশ। আপনাদের কর্তব্য জনগণের সেবা করা, জনগণকে ভালোবাসা, দুর্দিনে জনগণকে সাহায্য করা। আমি আশা করি আপনারা জাতির পিতার সেই প্রত্যাশা পূরণে আপনাদের ওপর অর্পিত পবিত্র দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে সর্বদা সচেষ্ট থাকবেন। শেখ হাসিনা বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্ন সময় গুজব রটিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এসব গুজব রটনাকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করার কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় বিশেষ হেলিকপ্টার যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে পৌঁছান। পরে প্যারেড মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী তাকে স্বাগত জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী অভিবাদন মঞ্চে গিয়ে নবীন পুলিশদের সশস্ত্র সালাম গ্রহণ করেন। পরে একটি খোলা জিপে চড়ে তিনি নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। প্যারেড কমান্ডার শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার শাহিন আক্তার ও সহকারী প্যারেড কমান্ডার রবিউল ইসলাম খানের নেতৃত্বে এক এক করে মোট ৮টি কন্টিনজেন্ট প্যারেড অংশগ্রহণ করে। ৮টি কন্টিনজেন্ট থাকা মোট ১১৭জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মার্চপাস্ট করে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম জানান। এরপর পতাকাবাহী দল, পুলিশ একাডেমির বিশেষ অশ্বারোহী দল ও সর্বশেষ বাদক দল একে একে মার্চপাস্ট করে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম ও অভিবাদন জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণের সময় বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে ট্রফি বিতরণ করেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপাররা হলেন- বেস্ট শ্যুটার খায়রুল কবির, বেস্ট ফিল্ড পারফমার আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, বেস্ট হর্সম্যানশিপ সালাহউদ্দিন, বেস্ট একাডেমিক সাইফুল ইসলাম খান এবং বেস্ট প্রবেশনার সালাহ্ উদ্দিন। প্যারেডে ১৭ জন নারী অফিসারসহ ১১৭ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বিভিন্ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্যরা, পুলিশের মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী, পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল মো. নজিবুর রহমান, সরকারের সিনিয়র সচিব ও সচিবরা, বিদেশি কূটনীতিকরা, অতিরিক্ত আইজিপিরা, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা, মুক্তিযোদ্ধা, রাজশাহী শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
দৈনিক ভিত্তিতে চালক নিয়োগ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত
১৫সেপ্টেম্বর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গণপরিবহনে মাসিক বেতনের ভিত্তিতে চালক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একটি কোম্পানির অধীনে চালকদের এই নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হাসানের ক্ষতিপূরণ মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে রোববার এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ট্রিপ ও দৈনিক ভিত্তিতে চালক নিয়োগ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। রায়ে বলা হয়েছে, বাস কোম্পানিগুলোকে একটি কোম্পানির অধীনে আনতে হবে। সব মহানগরে জোন বা লাইনভিত্তিক বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজ করতে হবে। যেখানে সব গাড়িকে একটি কোম্পানির অধীনে নিয়ে এসে একেকটি রুটের জন্য ভিন্ন ভিন্ন রঙের বাস সার্ভিস চালু করবে। বাস কোম্পানি ও চালকদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা দূর করতে এই ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয়েছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার সময় চালকদের দৃষ্টিশক্তির পরীক্ষা ও ডোপ টেস্ট করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করবে বিআরটিএ। মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রতিটি ক্রসিংয়ে ও বাস স্টপেজে চালকরা বেপরোয়াভাবে গণপরিবহন চালাচ্ছে কি না, তা নজরদারি করতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। নির্মাণ করতে হবে যাত্রীদের জন্য যাত্রী ছাউনি। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে এ নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করতে বিবাদীদের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয়েছে, বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের দুটি বাসের চালকের বেপরোয়া যান চালনার কারণেই সড়কে প্রান গেছে রাজীবের। এ জন্য রাজীবের দুই ভাই মেহেদী হাসান বাপ্পী ও আবদুল্লাহ হৃদয়কে ওই দুটি বাস কর্তৃপক্ষ দুই মাসের মধ্যে ২৫ লাখ টাকা করে ৫০ লাখ টাকা প্রদান করবে। গত বছরের ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার মোড়ে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের রেষারেষিতে দুই বাসের চিপায় শরীর থেকে হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় রাজীবের। মাথায় আঘাত পান তিনি। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ এপ্রিল মারা যান রাজীব। এ ঘটনায় হাইকোর্টে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। ওই রিটের উপর গত ২০ জুন রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

জাতীয় পাতার আরো খবর