আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল
২৯এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল। ১৯৯১ সালের এ দিনে স্মরণকালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় কক্সবাজারের দ্বীপাঞ্চলসহ উপকূলীয় এলাকা। সব কিছু তছনছ করে মহা ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ। সেই সময় এতবড় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি উপকুলের মানুষ আর কখনো হয়নি। তাই আজও ২৯ এপ্রিল আসলে স্বজন হারা মানুষের কান্নায় ভারি হয় উপকূলের পরিবেশ। সেদিন জলোচ্ছ্বাসের কবলে পড়ে অকালে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মৃতি উপকূলবাসীকে এখনো তাড়ায়। বেদনা অশ্রু ভারাক্রান্ত হন তারা। ক্ষতিগ্রস্তদের মতে, সেদিন আবহাওয়া বিভাগ উপকূলীয় এলাকায় ৯নং সতর্ক সংকেত জারি করলেও অজ্ঞতার বশে লোকজন নিরাপদ স্থানে না যাওয়ায় মহা দুর্যোগের শিকার হন। রাত ১০টার পর ১০ থেকে ২০ ফুট উচ্চতায় সাগরের পানি মুহূর্তেই লোকালয়ে ঢুকে জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবলীলায় অনেক মা হারায় সন্তান, স্বামী হারায় স্ত্রী, ভাই হারায় বোনকে। অনেক পরিবার আছে যাদের গোটা পরিবারই পানির স্রোতে হারিয়ে গেছে। ২৯ এপ্রিলের সে ভয়াল স্মৃতি মনে করে এখনও কাঁদেন স্বজন হারানো উপকূলবাসী। প্রশাসনের হিসাব মতে, ২৯ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় ১৯ জেলার ১০২ থানা ও ৯টি পৌরসভায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন নিহত, ১২ হাজার ১২৫ জন নিখোঁজ, ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৪ জন আহত হন। মাছ ধরার ট্রলার, নৌকা, বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছ-পালা, চিংড়ি ঘের, স্কুল-মাদরাসা, পানের বরজ, লাখ লাখ গবাদি পশু, ব্রিজ কালভার্ট ভেঙ্গে গিয়ে ক্ষতি সাধিত হয় কয়েক হাজার কোটি টাকার। তাই ২৯ বছর পরও অতীতের স্মৃতি মুছতে পারেনি উপকূলবাসী। জানা গেছে, ১৫৬১ সালের জলোচ্ছ্বাসেও উপকূলের বিপুল মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া ১৭৬২ সালে, ১৭৯৫ সালের ৩ জুন, ১৮৯৭ সালের ২৪ অক্টোবরে, ১৯০৫ সালের ২৯ এপ্রিলে, ১৯৬৩ সালের ২৭ মে, ১৯৭২ সালের অক্টোবরে, ১৯৯৭ সালের নভেম্বরে, ১৯৬৫ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে কুতুবদিয়া-দ্বীপসহ উপকুলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসে কুতুবদিয়া খুদিয়ার টেক নামক একটি এলাকা পুরো বিলীন হয়ে গেছে। ১৯৯১ সালের এ দিনে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর উপ-দ্বীপ ধলঘাটা-মাতারবাড়ি, পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়ন, কুতুবদিয়ার প্রায় পুরো উপজেলা এবং সদরের বৃহত্তর গোমাতলী এলাকায়। ওখানে অধিকাংশ বাড়ি থেকে পরিবারের ৫-৬ জন লোক মারা যান। অনেক যৌথ পরিবারে ৪০ জন মারা যায়। তাই এ দিনটিতে এখনও স্বজন হারানোর বেদনায় বিলাপ করেন অনেকে।
সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর খোকনের মৃত্যু
২৯এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দৈনিক সময়ের আলোর সিটি এডিটর ও চিফ রিপোর্টার হুমায়ুন কবীর খোকন আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৭। তিনি শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রাজধানীর উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। বিকেলে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার বোন স্বপ্না সংবাদমাধ্যমকে জানান, আজ রাত ১০টায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাংগঠনিক সম্পাদক ও সময়ের আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হাবিবুর রহমান বলেন, হুমাযুন কবীর খোকনের করোনাভাইরাসের কিছু লক্ষণ ছিল। তবে করোনার টেস্ট এখনো করা হয়নি। হুমায়ুন কবীর খোকন সময়ের আলোতে যোগদানের আগে আমাদের সময়, মানবজমিনসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন।
চট্টগ্রাম বন্দরে আদা, রসুন ও পেঁয়াজ নিলামে উঠছে
২৮এপ্রিল,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম বন্দরে এক মাসেরও বেশি সময় যাবত পড়ে থাকা আদা, রসুন ও পেঁয়াজ ভর্তি ১২টি কন্টেইনার নিলামে উঠছে। নিয়মানুযায়ি আমদানির ৩০দিন পাড় হওয়ায় এ সব কন্টেইনার নিলামে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দর সুত্র জানায়, বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে এসব কন্টেইনার বন্দর থেকে ছাড় না নিয়ে জমিয়ে রেখেছেন কয়েকজন আমদানিকারক। মূলত দুটি কারণে এসব কন্টেইনার বন্দর থেকে তারা ছাড় নিচ্ছেননা। একটি হচ্ছে দীর্ঘদিন বন্দরে পড়ে থাকায় এসব কন্টেইনারে প্রচুর মাশুল এসেছে। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অপেক্ষা করা। প্রাথমিকভাবে ১ কনটেইনার আদা, ২ কনটেইনার রসুন, ৯ কনটেইনার পেঁয়াজ নিলামে তুলতে চিঠি দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া পণ্যের ২৫ থেকে ২৮ শতাংশই বাণিজ্যিক পণ্য (কমার্শিয়াল আইটেম)। এর মধ্যে আদা, পেঁয়াজ, রসুনের মতো ভোগ্যপণ্যের প্রায় পুরোটাই আসে কনটেইনারে করে। রোজার সময় যত কনটেইনার আসে তার ১০ শতাংশই হলো আদা, পেঁয়াজ, রসুন, খেজুর ও চিনির মতো ভোগ্যপণ্য । এসব কনটেইনারে গড়ে ২৫ টন পণ্য থাকে ।বাসস। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ওপরিকল্পনা) জাফর আলম মঙ্গলবার বিকেলে বলেন, বাজারের ঘাটতি ও সরকারের রাজস্ব সুরক্ষায় আদা, রসুন, পেঁয়াজের মতো নিত্যপণ্যের কনটেইনার বারবার বলার পরও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খালাসের উদ্যোগ নেয়া হয়নি । এরই পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত নিলামের পদক্ষেপ নিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে । তিনি বলেন, বন্দরের অভ্যন্তরে কনটেইনার সংরক্ষণের স্থান বের করা জরুরি হয়ে পড়েছে । পণ্য ভর্তি কনটেইনার দ্রুত ছাড় করা হলে যেমন নতুন পণ্য রাখার সুযোগ তৈরি হবে আবার নিলামযোগ্য কনটেইনার নিয়ম অনুযায়ী নিলামে তুললে বন্দর পরিচালন কার্যক্রমেও গতি আসবে । জাফর আলম আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ৩০ দিন বন্দরে পড়ে থাকার পর সব ধরনের কন্টেইনার ও পণ্য নিলামে তোলার কাজটি করে থাকে কাস্টমস। বন্দর থেকে আমরা তালিকা পেয়ে গেছি। আগামী সপ্তাহের মধ্যে নিলামে তোলার কাজ শুরুকরব। এসব পণ্য বাজারে ছাড়লে রমজানের সময় বাজারে সরবরাহ সংকট কিছুটা হলেও কমবে বলে জানান তিনি। চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপ-কমিশনার (নিলাম) মো. ফরিদ আল মামুন বলেন, আদা, রসুন, পেঁয়াজের ১২টি কনটেইনার নিলামে তোলার জন্য বন্দরের পাঠানো আরএল (রিমুভ লেটার) আমরা পেয়েছি। এখন এসব পণ্যের ইনভেন্টরি সম্পন্ন করে দ্রুত নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
বাংলাদেশ একা রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব নিতে পারে না
২৮এপ্রিল,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দফতরের প্রতিমন্ত্রী লর্ড আহমদ বঙ্গোপসাগরে ভাসমান প্রায় ৫০০ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার জন্য ঢাকাকে অনুরোধ করার প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. একে আবদুল মোমেন আশেপাশের দেশ এবং উন্নত দেশগুলোকে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এই দায়িত্ব নেয়ার জন্য ব্রিটিশ মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মোমেন ব্রিটিশ মন্ত্রীকে বলেন, সংখ্যার বিচারে হয়তো ৫০০ জন অনেক বেশি নয়, কিন্তু উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মানবিক কারণে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। তাছাড়া, তারাতো বাংলাদেশের সীমানার মধ্যেও নেই। এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ মন্ত্রী লর্ড আহমদ গতকাল মোমেনকে ফোন করেন এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে ৫০০ জন রোহিঙ্গা বহনকারী নৌকাগুলোকে এদেশে প্রবেশের জন্য অনুমতি দিতে ঢাকাকে অনুরোধ করেন।বাসস। বিবৃতিতে বলা হয়, মোমেন তাকে বলেন, নৌকাগুলো বাংলাদেশের উপকূলরেখায় অবস্থান করছে না এবং তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, তারা কেন এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশকে বাদ দিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য শুধু একা বাংলাদেশকেই বলছে। তিনি বলেছেন, পাশাপাশি দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশ এবং উন্নত দেশগুলোর উচিত বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দেয়ার দায়িত্ব পালন করা। বিবৃতিতে বলা হয়, মোমেন পরামর্শ দিয়ে বলেন, গভীর সমুদ্রে আটকা পড়া রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করতে এবং তাদের আশ্রয় দিতে যুক্তরাজ্যও একটি রয়্যাল শিপ পাঠাতে পারে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশঙ্কা করেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে, কারণ, তাদের হত্যা ও জাতিগত সংখ্যালঘু মানুষকে তাদের জন্মভূমি থেকে বহিষ্কার করার জন্য সামরিক ক্র্যাকডাউন এখনো চলছে। মোমেন আফসোস করে বলেন, তবুও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ মিয়ানমারে বিনিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বিষয়গুলোতে সোচ্চার নয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মধ্যে অনেক বাংলাদেশী প্রবাসী কর্মী বেকার হয়ে পড়েছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হয়েছে এবং তিনি মানবিক কারণে তাদের প্রতি ব্রিটিশদের সহায়তা কামনা করেন। বিবৃতিতে তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যসহ উন্নত বিশ্বের মানবিক কারণে তাদের (এমইতে অভিবাসী কর্মীদের) চাকরি ধরে রাখতে সোচ্চার হওয়া উচিত। এই বিশ্বব্যাপী সঙ্কট চলাকালীন আরএমজি খাতকে একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এতে যেনো ব্রিটিশ ক্রেতারা বাংলাদেশের গার্মেন্টস পণ্যগুলোর জন্য তাদের অর্ডার বাতিল করা থেকে বিরত থাকে, সেজন্য মোমেন যুক্তরাজ্যেকে সহযোগিতারও আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি করোনভাইরাস মহামারী পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যে তৈরি পোশাকের সরবরাহের ধারা ঘুরে দাঁড় করানোর জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠনেরও আহ্বান জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রীকে জানান, ব্রিটিশ সরকারের মারাত্মক করোনভাইরাস মোকাবেলায় সহায়তা করার জন্য উপহার হিসাবে বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাজ্যে মেডিকেল সামগ্রী প্রেরণ করবে। ব্রিটিশ মন্ত্রীর আহ্বানটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, মালয়েশিয়ার বাধার কারণে সেদেশে প্রবেশে করার ব্যর্থ চেষ্টার পরে আনুমানিক ৫০০ রোহিঙ্গা মহিলা, পুরুষ ও শিশুসহ দু’টি নৌকা সমুদ্রের ওপর ভাসছে। ইউএনএইচসিআর সহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক অধিকার দল এবং সহায়তা সংস্থা পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানিবিহীন কয়েক সপ্তাহ ধরে সমুদ্রে ভাসমান মানুষকে উদ্ধারে ঢাকাসহ এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের ভূমিকার বিষয়ে সমালোচনা করে। মোমেন এর আগে, একটি বিদেশী টিভি চ্যানেলকে বলেন, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে, মালয়েশিয়া পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পরে প্রায় দুই মাস ধরে অচল হয়ে যাওয়া জাহাজ থেকে বাংলাদেশ ৩৯৬ জনকে উদ্ধার করেছে। মোমেন বলেন কেন বাংলাদেশ প্রতিবারই দায়িত্ব নেবে? বাংলাদেশ এরই মধ্যে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা জায়গা দিয়েছে। আমরা এখন আমাদের উদারতার সীমা ছাড়িয়ে গেছি। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গত সপ্তাহে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় সরকারগুলোকে সমুদ্রের রোহিঙ্গাদের জন্য তাৎক্ষণিক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করার আহ্বান জানিয়ে আরও বলেছে, শরণার্থীদের প্রতি তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে কোভিড-১৯ মহামারী একটি অজুহাত। গ্লোবাল রাইট ওয়াচডগের দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক বিরাজ পট্টনায়েক এক বিবৃতিতে বলেছেন, একা এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় শুধু বাংলাদেশকে দায়েত্ব দেয়া যাবে না। অন্যেরাও তাদের নিজেদের দায়বদ্ধতাগুলো বহাল রাখতে হলে এই বিষয়টি ত্যাগ করার কোনো অজুহাত চলতে পারে না। নিউইয়র্ক ভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিও) আরও বলেছে, মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ডসহ সব দেশেরই দায়িত্ব রয়েছে। গত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ক্র্যাকডাউন ও গণহত্যার পরে বাংলাদেশ প্রায় ১১ লাখ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে কক্সবাজার জেলায়।
ফিরলেন আরও ১২১ বাংলাদেশি
২৮এপ্রিল,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কুয়েত থেকে ধারাবাহিকভাবে ফেরত পাঠানো হচ্ছে অবৈধ এবং দণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশিদের। মোট সাড়ে ৪ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে কুয়েত সরকার। সোমবার ১২৬ জন দণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশির দণ্ড মওকুফ করে স্পেশাল ফ্লাইটে তোলে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিলল। মঙ্গলবার ইফতারের পর আরও একটি স্পেশাল ফ্লাইট ঢাকায় পৌঁছেছে। হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তৌহিদ উল আহসান জানিয়েছে জাজিরা এয়ারের ওই ফ্লাইটে ফিরেছেন ১২১ বাংলাদেশি। তবে তারা জেল ফেরত না-কী সাধারণ ক্ষমার আওতায় দেশে ফেরা তাতক্ষনিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সেগুনবাগিচা ও কুয়েতের কূটনৈতিক সূত্র মতে, কুয়েত থেকে এখন ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশিদের ফেরানো হবে। ঈদের আগে ২৫টি ফ্লাইটে প্রায় সাড়ে ৪ হাজারের বেশি বাংলাদেশি ফিরছেন।
অনেক প্রতিষ্ঠান নানা ধরনের ভেন্টিলেটর প্রোটোটাইপ জমা দিয়েছে
২৮এপ্রিল,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা মহমারি মোকাবেলায় জরুরী ভিত্তিতে ভেন্টিলেটর উৎপাদনের চেষ্টা করছে সরকার। এখন পর্যন্ত ১৮টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নানা ধরনের ভেন্টিলেটর প্রোটোটাইপ জমা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই)-এ ভেন্টিলেটরগুলো জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জুনাইদ আহমেদ পলক। ভেন্টিলেটার হলো এমন একটি যন্ত্র যা শ্বাসকষ্টের রোগীদের বিকল্প পন্থায় শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রাখা যায়। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে ফুসফুস অনেক ক্ষেত্রেই ঠিক মতো কাজ করে না। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে অনেকে রোগী মারা যাচ্ছেন। মন্ত্রী বলেন, ভেন্টিলেটরগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে, যাচাই-বাছাই হয়ে গেলে সেগুলোর মধ্য থেকে নির্বাচিতগুলোকে ক্লিনিক্যাল টেস্টের জন্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে জমা দেওয়া হবে। মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় দেশীয় প্রযুক্তি কোম্পানি ওয়ালটনের তৈরি করা ভিন্ন তিন মডেলের তিনটি ভেন্টিলেটরের প্রোটোটাইপ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের কাছে হস্তান্তরের জন্য। বুধবার ভেন্টিলেটরগুলো ক্লিনিক্যাল টেস্টের জন্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন পলক। তিনটি ভেন্টিলেটরের মধ্যে দুটি ওয়ালটনের নিজস্ব মডেল আর একটি করা হয়েছে বিশ্বখ্যাত মেডিকেল ডিভাইস কোম্পানি মেডিট্রনিক্সের নকশা অনুসারে। ডব্লিউপিবি-৫৬০ মডেলের এই ভেন্টিলেটরটি তৈরি করতে মেডিট্রনিক্সের প্রযুক্তিগত সহায়তাও পেয়েছে ওয়ালটন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে ডব্লিউপিবি-৫৬০ মডেলের ভেন্টিলেটরটি খুবই আধুনিক। ভেন্টিলেটরটি মেডিট্রনিক্সের নকশা অনুসারে করা হয়েছে। এছাড়াও তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় তারা এটি পর্যবেক্ষণ করেছে। কিছু যন্ত্রাংশ পেতেও মেডিট্রনিক্সের সহায়তা নিতে হয়েছে। গত ৩১ মার্চ একটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মেডিট্রনিক্স তাদের পিবি-৫৬০ মডেলের ভেন্টিলেটরের পেটেন্ট, ডিজাইন ও সোর্স কোড তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে। ওয়ালটনের এই ভেন্টিলেটরগুলো কোনো হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল টেস্টের জন্যে দেওয়া হবে বা কতদিন এর ক্লিনিক্যাল টেস্ট চলবে, তা এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারেননি কেউ। তবে ওই ক্লিনিক্যাল টেস্টের ওপরেই নির্ভর করছে ভেন্টিলেটরগুলোতে কোনো পরিবির্তন-পরিমার্জন করতে হবে কিনা। জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ক্লিনিক্যাল টেস্টিংয়ের পরেও আর কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা কোনো সংস্থার অনুমোদন লাগবে কিনা সেটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঠিক করবে। এই প্রযুক্তি পণ্যটির মূল্য কতো হবে সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি ওয়ালটন। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ব বাজারে এখন যে দামে ভেন্টিলেটর বিক্রি হচ্ছে অবশ্যই এগুলো তার চেয়ে অনেক কম দামের হবে, যদিও মানের দিক দিয়ে অনেক উচ্চ স্থানে থাকবে। বর্তমানে চীন থেকে একটি ভেন্টিলেটর আমদানি করতে অন্তত সাত লাখ টাকা লাগে। ইউরোপ থেকে আনতে খরচ হয় ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে মাত্র এক হাজারের মতো ভেন্টিলেটর আছে। আর অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে তাতে এখন ভেন্টিলেটার আমদানির কোনো সুযোগ নেই।
জরুরি কিছু অর্ডার থাকায় সীমিত পরিসরে কারখানাগুলো খোলা হয়েছে:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২৮এপ্রিল,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে করোনাভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যেই অর্থনৈতিক ক্ষতি কিছুটা পোষাতে রাজধানীর বেশকিছু পোশাক কারখানা খুলে দিয়েছে সরকার। তবে এসব কারখানায় ঢাকা ও আশপাশে অবস্থান করা শ্রমিকদের দিয়ে চলবে, বাইরে থেকে কোনো শ্রমিক আসবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে বিজিএমই-বিকেএমইএর কর্মকর্তা এবং বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে মন্ত্রী এই কথা জানান। বৈঠকে বিজিএমইএ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সভাপতি রুবানা হক। আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকার বাইরে থাকা শ্রমিকদের এখনই ঢাকায় আসতে হবে না। শুধু যারা ঢাকা আছেন, তারাই কাজে যোগ দেবেন। তাদের দিয়েই কারখানা চালু করা হচ্ছে। ৯৭ শতাংশেরও বেশি কারখানায় শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে ৯৭ শতাংশেরও বেশি কারখানা তাদের বেতন পরিশোধ করেছে। বাকিদেরও দেয়া হবে। আর যারা ঢাকার বাইরে আছেন, তাদের আপাতত ঢাকায় আসার দরকার নেই। সব কারখানা খুললে ঢাকায় আসবেন। মন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা করেই শ্রমিকদের কারখানায় প্রবেশ করাতে হবে। একই সঙ্গে সুরক্ষা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। মূলত জরুরি কিছু অর্ডার থাকায় সীমিত পরিসরে কারখানাগুলো খোলা হয়েছে।
এটা রাজনীতির সময় নয়, সকলে মিলে জনগণের পাশে দাঁড়াবার সময়:তথ্যমন্ত্রী
২৮এপ্রিল,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন,জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যকারী খুনিচক্র আজও রাজনৈতিক মদদপুষ্ট হয়ে সক্রিয়। আজ শেখ জামালের জন্মদিনে আমাদের প্রত্যয় হবে খুন ও খুনের রাজনীতিকে বাংলাদেশ থেকে চিরতরে বিদায় দেয়া। এজন্য সবাইকেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটায় রাজধানীর বনানী কবরস্থানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দ্বিতীয় পুত্র প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামালের ৬৭তম জন্মদিন উপলক্ষে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন কালে এপ্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। তথ্যমন্ত্রী বলেন, আজ শেখ জামালের ৬৭তম জন্মদিন। তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আমরা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তার কবর জিয়ারত করছি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। শেখ জামালকেও সেদিন হত্যা করা হয়। শেখ জামাল সেনাবাহিনীর একজন মেধাবী অফিসার ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, সংস্কৃতিমনা ছিলেন, তিনি কোনো রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন না, তাকে কেনো হত্যা করা হলো! প্রশ্ন রেখে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই খুনের রাজনীতিকে চিরতরে বিদায় দিতে হবে। এদিকে, চলমান বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনা ভাইরাসের থাবা থেকে বাংলাদেশও মুক্ত থাকেনি, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে তা মোকাবিলা করছেন, আজ সমগ্র বিশ্ব তার প্রশংসা করছে, বলেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটা রাজনীতির সময় নয়, সকলে মিলে জনগণের পাশে দাঁড়াবার সময়। বিএনপির সমসাময়িক ভূমিকা বিষয়ে এসময় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান বলেন 'বিএনপি'র রাজনীতি মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত, তারা জনগণের পাশে দাঁড়ায়নি। ঢাকা শহরে ত্রাণের নামে ফটোসেশান আর সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করাই তাদের কাজ। তাদেরকে সেইপথ পরিহার করে সারাদেশে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ত্রাণ বিতরণে নিয়োজিত আওয়ামী লীগের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানাই। মন্ত্রী এসময় শেখ জামালের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান ও তার আত্মার শান্তি কামনা করে প্রার্থনায় অংশ নেন। আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খানসহ দলীয় নেতা-কর্মীবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪২২ জন চিকিৎসক
২৮এপ্রিল,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪২২ জন চিকিৎসক, এমন তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশন (বিডিএফ)। এরমধ্যে ৩০৮ জন রাজধানী ঢাকায় আক্রান্ত হয়েছেন। আর ঢাকার বাইরে আক্রান্ত হয়েছেন ১১৪জন। বাংলাদেশে ডক্টরস ফাউন্ডেশনের কো চেয়ারম্যান ডা. তাজিন আফরোজ শাহ তথ্যটি নিশ্চিত করেন। বলেন, আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য এটি। ডা. তাজিন আফরোজ শাহ বলেন, অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল পিপিই দেয়নি। চিকিৎসকরা নিজেরাই কিনছেন। এন ৯৫ মাস্ক অফিসিয়ালি মিলছে না। আর চিকিৎসকদের এসব সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহারের কোন ট্রেনিং নেই। বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক আক্রান্তের ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এরইমধ্যে একজন চিকিৎসক করোনায় মারা গেছেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর