করোনাসহ যে কোনো বিষয়ে গুজব বা অপপ্রচার ছড়ানো শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ : তথ্যমন্ত্রী
৯জুন,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, করোনা ভাইরাসসহ যে কোনো বিষয়ে গুজব বা অপপ্রচার ছড়ানো শাস্তিযাগ্য ফৌজদারি অপরাধ এবং জনস্বার্থ রক্ষায় সরকার এবিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে। হাছান মাহমুদ আজ দুপুরে রাজধানীতে সচিবালয়ে নিজ দপ্তর থেকে ভিডিও কনফারেন্সে চট্টগ্রামের ইউএসটিসি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালে ১০০ শয্যার কোভিড ইউনিট উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন। ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও চট্টগ্রামের সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। ড. হাছান বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরুতে সারা পৃথিবীতে ভেন্টিলেশন ইউনিটের সংকট ছিল। একারণে ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে ৬৫ বা তদূর্ধ্ব বয়সের মানুষের চেয়ে অপেক্ষকৃত তরুণদের ভেন্টিলেশন ইউনিটের মাধ্যমে চিকিৎসার অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হোয়াইট হাউসের সামনে ও অন্যান্য অঙ্গরাজ্যে পিপিইর জন্য বিক্ষোভ হয়েছে। কানাডায় ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মাস্কের সংকট ছিল। আমাদের দেশে এধরনের সংকট হয়নি। বরং দু দিন আগে নাইজেরিয়া বিমান পাঠিয়ে বাংলাদেশ থেকে ঔষধ, পিপিই ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে গেছে। আমরা এসকল সুরক্ষাসামগ্রী মালদ্বীপেও পাঠিয়েছি। এসত্ত্বেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেটে অনেক সময় নানা গুজব ও অপপ্রচার দেখা যায় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাসসহ যে কোনো বিষয়ে গুজব, আতংক বা অপপ্রচার ছড়ানো ফৌজদারি অপরাধ, যা শাস্তিযোগ্য। ইতোমধ্যে এধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে ঘটলেও সরকার ব্যবস্থা নেবে। চট্টগ্রামের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রাম ৭ আসনের সংসদ সদস্য ড. হাছান মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০, জেনারেল হাসপাতালে ১০০, ইউএসটিসি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালে ১০০, মা ও শিশু হাসপাতালে ৫০ ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ৫০টি বেড ইতোমধ্যেই প্রস্তুত রয়েছে, চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ সংখ্যানুপাতে বৈশ্বিক নিয়মানুসারে ১০ভাগ রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির জন্য যা পর্যাপ্ত। এর বাইরে ফিল্ড হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম সিটি কমিউিনিটি সেন্টারও প্রস্তুত হচ্ছে। একইসাথে আগাম সতর্কতা হিসেবে চট্টগ্রামের আরো কয়েকটি কমিউিনিটি সেন্টারকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে রূপান্তরের জন্য সিটি মেয়রকে অনুরোধ জানান মন্ত্রী। মন্ত্রী এসময় করোনা ইউনিট চালুর জন্য ইউএসটিসি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানানও ইউএসটিসির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক নুরুল ইসলামকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। সদ্যস্থাপিত ১০০ শয্যার কোভিড ইউনিটটি পুলিশ ও সাংবাদিকদের অগ্রাধিকারসহ সর্বসাধারণের চিকিৎসার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এসময় চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যউপকরণ ও বাইরে ঔষধালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় ঔষধের যোগান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার রোধে সাংবাদিকদের সহায়তা চান। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, পুলিশের ইনসপেক্টর জেনারেল বেনজীর আহমেদ ও ইউএসটিসি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালের পক্ষে ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য প্রকৌশলী নূর ই জান্নাত আয়েশা ইসলাম দীনা ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন।
করোনা নেগেটিভ হলেও নাসিমের অবস্থা অপরিবর্তিত
৯জুন,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। পরীক্ষায় তার শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে। আগামীকাল বুধবার আবারও তার নমুনা পরীক্ষা করা হবে। তবে তার শরীরের অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। মেডিকেল বোর্ড আরও ৭২ ঘণ্টা মোহাম্মদ নাসিমকে পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) বাংলাদেশ স্পোশালাইজড হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান চৌধুরী গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মোহাম্মদ নাসিমের কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। শারীরিক অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। তবে আর অবনতিও হয়নি। আরও ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এর আগে সোমবার রাতে বৈঠক করেছেন তার মেডিকেল বোর্ডের ৭ চিকিৎসক। স্বাস্থ্যের অবনতি না হওয়ায় তারা কিছুটা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। তারা কিছু ওষুধ পরিবর্তন করে দিয়েছেন। গত সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হন মোহাম্মদ নাসিম। পরে রাতে তার করোনার পজিটিভ আসে। করোনা ভাইরাস আক্রান্ত অবস্থায় মোহাম্মদ নাসিম গত শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে স্ট্রোক করেন। পরে জরুরিভাবে তার অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর চিকিৎসকরা তাকে ৪৮ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন। এরপর শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তার চিকিৎসায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ড সভা করে তার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে। সেখানে তাকে সময় বাড়িয়ে ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
সংসদের বাজেট অধিবেশন কাল শুরু হচ্ছে
৯জুন,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: একাদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন আগামীকাল ১০ জুন শুরু হচ্ছে। সংসদে বাজেট পেশের ইতিহাসে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিস্থিতিতে বর্তমান জাতীয় সংসদের এ অষ্টম অধিবেশন শুরু হচ্ছে। বুধবার বিকেল ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অধিবেশন শুরু হবে। করোনা মহামারির বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদ সচিবালয় থেকে এবার সম্পূর্ণ নতুনভাবে এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বিধি নিষেধ ও কড়াকড়ি আরোপ করে বাজেট অধিবেশন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের সংসদে না গিয়ে সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে বাজেট অধবেশনের সংবাদ সংগ্রহ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিবেচনায় বাজেট উত্থাপনের দিন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গকে বাজেট প্রত্যক্ষ করার আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার বাজেট অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিও সীমিত করা হয়েছে। ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে তালিকা করে ৮০ থেকে ৯০ জনকে অধিবেশনে যোগদানের জন্য বলা হবে। এরই মধ্যে তালিকা করে হুইপদের পক্ষ থেকে ওই সব সংসদ সদস্যকে বৈঠকে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যারা একটু বয়স্ক সংসদ সদস্য তাদের সংসদে আসতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। অধিবেশন পরিচালনার জন্য সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আসাও সীমিত করা হয়েছে। শুধুমাত্র যাদের প্রয়োজন হবে তারাই আসবেন। আর যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনা পজিটিভ তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। করোনা সংক্রমণ রোধে সংসদে আসন বিন্যাসেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের বেশ কয়েকটি আসন ফাঁকা রাখা হবে। একইভাবে অন্যদের আসনও ফাঁকা রেখে বিন্যাস করা হবে। সংসদে যোগদানকারী সংসদ সদস্যদের অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে হবে। প্রত্যেকের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। এছাড়া টানেলের ভিতর স্থাপন করা জীবাণুমক্তকরণ চেম্বারের ভেতর দিয়ে সব সংসদ সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রবেশ করতে হবে। এছাড়া করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার বাজেট অধিবেশন খুবই সংক্ষিপ্ত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। জানা গেছে ১২ কার্যদিবস চলবে এবারের অধিবেশন। এরইমধ্যে বাজেট অধিবেশন নিয়ে সংসদ সচিবালয় একটি সূচি তৈরি করা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার সংসদের অধিবেশন শুরুর পরদিন ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বিকেল ৩টায় ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেট উত্থাপন করবেন। এবারের বাজেটের আকার হতে পারে ৫ লাখ ৬০ হাজায় কোটি টাকারও বেশি। বাজেট পেশের পর ১২ ও ১৩ জুন সাপ্তাহিক ছুটি অধিবেশনের মুলতবি থাকবে। ১৪ ও ১৫ জুন ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা এবং সম্পূরক বাজেট পাস করা হতে পারে। এর পরদিন ১৬ জুন প্রস্তাবিত (২০২০-২০২১ অর্থ বছরের) সাধারণ বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু হবে। ২৯ জুন সোমবার বাজেটের ওপর সমাপনী আলোচনা হবে। এদিনই পাস হবে অর্থবিল। ৩০ জুন মূল বাজেট ও নির্দিষ্টকরণ বিল পাস করা হবে। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, অধিবেশন শুরু ও বাজেট পেশের দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টায় সংসদের বৈঠক শুরু করে একটানা দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চালানোর কথা রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে করোনা পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে : ডব্লিউএইচও
৯জুন,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বাস্থ্য সংস্থা ( ডব্লিউএইচও ) বলেছে, বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারি পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে। সংস্থাটি আত্মতুষ্টিতে ভোগার বিষয়েও সতর্ক করেছে। গত বছর ডিসেম্বরে চীনের উহানে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর এটি পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। করোনায় বিশ্বে এ পর্যন্ত মারা গেছে চার লাখ তিন হাজার লোক। আক্রান্ত অন্তত ৭০ লাখ লোক। পূর্ব এশিয়ার পর ভাইরাসের মূল কেন্দ্র হয়ে ওঠে ইউরোপ। এখন ইউরোপকে ছাড়িয়ে গেছে আমেরিকা। সোমবার জেনেভায় সংস্থাটির প্রধান টেডরস আধানম গেব্রিয়াসিস ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইউরোপের অবস্থার উন্নতি হলেও বিশ্বজুড়ে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। তিনি বলেন, গত ১০ দিনের মধ্যে ৯ দিনে এক লাখেরও বেশি লোকের সংক্রমিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু গতকাল এক লাখ ৩৬ হাজারেরও বেশি লোকের আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। একদিনে এ পর্যন্ত এ সংখ্যা সর্বোচ্চ। আধানম আরো বলেন, রোববারের সংক্রমণের ৭৫ শতাংশের খবরই এসেছে ১০টি দেশ থেকে। এদের অধিকাংশই আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশ। তিনি আততুষ্টিতে ভোগার বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, যেসব দেশে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে সেখানে আত্মতুষ্টিতেতে ভোগাটাই সবচেয়ে বড়ো হুমকি। ডব্লিউএইচও প্রধান আরো বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ লোক এখনও সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। মহামারির মাত্র ছয়মাস পেরিয়েছে। কোন দেশের জন্যেই এখন ঢিলেমি করার সময় আসেনি। যুক্তরাষ্ট্রে নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ ফ্লয়েড হত্যাকে কেন্দ্র করে যে বিক্ষোভ চলছে তার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, আমরা বিশ্বজুড়ে সকল প্রতিবাদ বিক্ষোভই যথেষ্ট নিরাপদভাবে করার জন্যে উৎসাহিত করছি এদিকে ডব্লিউএইচও বরাবরই সংক্রমিত লোকের খুব কাছে এসেছে এমন ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার বিষয়ে অব্যাহতভাবে জোর তাগিদ দিয়ে আসছে। ডব্লিউএইচও ১শ ১০টি দেশে ৫০ লাখেরও বেশি ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম পাঠিয়েছে বলে উল্লেখ করেন সংস্থাটির প্রধান। এছাড়া ডব্লিউএইচও ১শ ২৬টি দেশে ১২ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি পিপিই পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।
আরও ৩১৭১ করোনা রোগী শনাক্ত, নতুন মৃত্যু ৪৫
৯জুন,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে গত একদিনে অর্থাৎ শেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ১৭১ জন। আর মৃত্যু হয়েছে আরও ৪৫ জনের। সুস্থ হয়েছেন আরও ৭৭৭ জন। এ পর্যন্ত একদিন ব্যবধানে যে সংখ্যক রোগী মারা গেছেন এবং শনাক্ত হয়েছেন, তার মধ্যে এ দুটোই সর্বোচ্চ; রেকর্ড। মঙ্গলবার (০৯ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, দেশের ৫৬টি ল্যাবের মধ্যে ৫৫টি গত ২৪ ঘণ্টা করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে শেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৪ হাজার ৬৬৪টি টেস্ট করা হয়েছে। যাতে শনাক্ত প্রথমবারের মতো তিন হাজার ছাড়িয়ে ৩১৭১ জন হয়েছেন। করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে সবাইকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লকডাউন পরবর্তী সংশ্লিষ্ট দিকনির্দেশনা বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহার এবং শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
সংসদের ৪৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত
৯জুন,মঙ্গলবার নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আসন্ন বাজেট অধিবেশন উপলক্ষে সংসদের কর্মকর্তাদের করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরীক্ষায় ৪৩ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশের শরীরেই তেমন কোনও উপসর্গ নেই। করোনা পজিটিভ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই ভিআইপি দফতরে অবাধে যাতায়াত করেন। আর অধিবেশন চলাকালীন এদের অনেকের সংসদ কক্ষে দায়িত্ব পালনের কথা ছিল। সংসদ সচিবালয়ে সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন উপলক্ষে সংসদে দায়িত্বরত ৩০০ জনের মতো কর্মকর্তা-কর্মচারীর করোনা পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ২ জুন থেকে এই পরীক্ষা শুরু হয়। সোমবার (৮ জুন) তাদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা শেষ হয়েছে। কিন্তু অধিবেশনে যোগ দিতে পারেন এমন সংসদ সদস্যদের করোনা পরীক্ষার ব্যাপারে কোনও নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। করোনা পজিটিভের বিষয়ে সংসদ মেডিক্যাল সেন্টারের চিফ মেডিকেল অফিসার আরিফুল হক জানান, সংসদে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ৪৩ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে সোমবার ১১ জনের শরীরে, রবিবার ১৬ জনের শরীরে আর শনিবার ৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। বাকিদের শরীরে এর আগে পাওয়া গেছে। পজিটিভ হওয়া কয়েকজন মেডিক্যাল সেন্টারের বাইরে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নমুনা পরীক্ষা করিয়েছেন বলেও তিনি জানান। সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান বলেন, পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। সূত্র জানায়, আক্রান্তদের মোবাইলে করোনা পজিটিভ জানিয়ে মেসেজ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও সংসদের সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস তাদের তালিকা ধরে ফোন দিয়ে জানিয়ে দিচ্ছেন। সংসদে না যাওয়ার জন্য বলছেন। জানা গেছে, সোমবার সংসদ সচিবালয়ের ৩১তম কমিশন বৈঠকে উপস্থিত থাকার ছিল এমন কয়েকজন কর্মকর্তার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়। পরে তারা বৈঠকে যাওয়া থেকে বিরত থাকেন। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‍ও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, করোনা পরীক্ষার জন্য সংসদ সদস্য মেম্বারস ক্লাবে একটি বুথ তৈরি করা হয়। সেখানে নমুনা নিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে অধিবেশনে অংশ নেওয়া এমপিদের করোনা পরীক্ষা করানো হচ্ছে না বলে বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন। তিনি জানান, যাদের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার দরকার ছিল তাদের করানো হচ্ছে। এছাড়া অনেকে নিজ উদ্যোগে পরীক্ষা করিয়েছেন। এমপিদের পরীক্ষার ব্যাপারে চিফ হুইপ বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের ব্যাপারে আমাদের কোনও নির্দেশনা নেই। কারণ, আজকে টেস্ট করলাম কালকে যে পজিটিভ হবে না তার কোনও গ্যারান্টি আছে? তবে চাইলে তারা নিজেরা টেস্ট করিয়ে নিতে পারেন। এদিকে এমপিদের করোনা পরীক্ষা না করায় সংসদে কর্মরতদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কারণ, এ পর্যন্ত সাত জন এমপি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। একজন প্রতিমন্ত্রীর বাসায় কর্মরত চার জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সংসদীয় কমিটির একজন সভাপতির পিএস এবং একাধিক মন্ত্রীর দফতরের কর্মকর্তার কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছে। এজন্য সংসদে যোগ দেবেন এমন এমপিদেরও করোনা পরীক্ষার পরামর্শ দিচ্ছেন অনেকে। এ বিষয়ে সংসদের উপসচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, কেবল তাদের পরীক্ষা করালে কী সুরক্ষা নিশ্চিত হবে? সংসদ সদস্যদেরও করোনা পরীক্ষা করানো উচিত। কারণ, তাদের জনসাধারণের সঙ্গে বেশি মেলামেশা করতে হয়। আগামী ১০ জুন শুরু হচ্ছে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন। অধিবেশন শুরুর পরের দিন অর্থাৎ ১১ জুন বাজেট উত্থাপন হবে। এটি পাস হবে ৩০ জুন। বাজেট অধিবেশন ঘিরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে অনেক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। করোনা সংকটকালে অনুষ্ঠেয় এ বাজেট অধিবেশনে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সংসদ সচিবালয়। এক্ষেত্রে শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং বয়স্ক সংসদ সদস্যদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। রোস্টারভিত্তিক সংসদ সদস্যদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিদিন উপস্থিতি ৮০/৯০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে। অধিবেশন চলাকালে কক্ষে স্বাস্থ্য নিরাপত্তায়ও বড় ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে সাময়িকভাবে আসন বিন্যাসেও পরিবর্তন আনা হবে। প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের বেশ কয়েকটি আসন ফাঁকা রাখা হবে। এক্ষেত্রে সংসদের প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীকে আরও এক সারি পেছনে এবং প্রধানমন্ত্রীর ডান পাশের আসনের সংসদ সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীসহ অন্যদের আরও কয়েক আসন দূরে বসানোর ব্যবস্থা করা হবে। আসন বিন্যাস এবং তালিকা করে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতির বিষয়ে প্রধান হুইপের নেতৃত্বে হুইপরা একদফা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে কোন দিন কোন কোন সদস্যরা অংশ নেবেন তার তালিকা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়।
রাজধানীতে এলাকাভিত্তিক লকডাউন প্রক্রিয়া শুরু
৯জুন,মঙ্গলবার নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ঢাকায় শুরু হয়েছে এলাকা ভিত্তিক লকডাউন। সংক্রমণের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে ঢাকাসহ সারা দেশকে লাল, হলুদ ও সবুজ জোনে ভাগ করে কর্মপন্থা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষামূলকভাবে আক্রান্তের সংখ্যা যেখানে বেশি সেসব এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করে তা লকডাউন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কক্সবাজার পৌরসভার ১০টি ওয়ার্ড ও নারায়ণগঞ্জের তিনটি এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। ঢাকায় মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে পূর্ব রাজাবাজারে শুরু হচ্ছে লকডাউন। পর্যায়ক্রমে ওয়ারিসহ ঢাকার রেড জোনগুলো লকডাউন করা হবে। এক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সহায়তার কাজটি করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও এটুআই। তথ্য সরবরাহ করবেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, স্বাস্থ্য অধিদপ্ততর ও আইইডিসিআর (রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান)। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রেড জোন পুরোপুরি কঠোর লকডাউনের আওতায় থাকবে। এ জোনের মধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রামসহ যেসব জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি সেখানে এলাকাভিত্তিক লকডাউন শুরু হয়েছে। আর ইয়োলো ও গ্রিন জোনে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে তালিকাভুক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মূলত: সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিদিন আক্রান্ত ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর চিহ্নিত করে করোনা মানচিত্র আপডেট করা হবে। আক্রান্তের ঘনত্ব অনুযায়ী এই মানচিত্র রেড, ইয়োলো ও গ্রিন রঙের। রাজধানীতে এই প্রক্রিয়ার শুরুতে লকডাউন শুরু হচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পূর্ব রাজাবাজার লাল এলাকায়। প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের সংক্রমনের জন্য রেড জোন হিসেবে ঘোষিত ওই এলাকা মঙ্গলবার রাত ১২ টার পর থেকে বন্ধ করে দেয়া হবে। গতকাল বিষয়টি এলাকার বাসিন্দাদের জানানো হয়েছে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান জানান, ইতিমধ্যে পূর্ব রাজাবাজার এলাকার বাসিন্দাদের অবগত করা হয়েছে। এজন্য মাইকিং করা হয়েছে। মসজিদে ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি জানান, ওই এলাকার প্রবেশ পথ আটটি। মঙ্গলবার রাত ১২টার পর থেকে সাতটি পথ বন্ধ থাকবে। একটি খোলা থাকবে। সেখানে সার্বক্ষণিক পাহারা থাকবে। অতি জরুরি প্রয়োজনে অনুমতি নিয়ে গ্রীণ রোড সংলগ্ন ওই রাস্তা দিয়ে আসা-যাওয়া করা যাবে। অতি জরুরি প্রয়োজন ও অনুমতি ছাড়া কেউ আসা যাওয়া করতে পারবেন না। ওই এলাকার লোকজনকে যাতে বাইরে যেতে না হয় এজন্য সব ধরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনকি পূর্ব রাজাবাজারের বাসিন্দাদের সুবিধার্তে সেখানে করোনা টেস্টের বুথ থেকে শুরু করে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ওই এলাকায় এখন পর্যন্ত ২৭ জন করোনা আক্রান্ত রোগী ধরা পড়েছে। এখানে বসবাস করছেন অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। প্রাথমিকভাবে লকডাউনের তালিকায় রাজধানীর ওয়ারির একটি জায়গাও রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ওয়ারিসহ অন্যান্য এলাকায় লকডাউন করা হবে। করোনা সংক্রমণ বিবেচনা করে চিহ্নিত করা ঢাকার লাল, হলুদ ও সবুজ এলাকা পরিচালনার বিষয়ে ইতিমধ্যে পরিকল্পনা ঠিক করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় একটি কমিটির অধীনে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলের নেতৃত্ব্বে পুলিশ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করে কমিটি গঠনের মাধ্যমে লকডাউন বাস্তবায়ন করা হবে। জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যে রেড মানচিত্রের এলাকাগুলোতে লকডাউন কার্যকর করা হবে। লকডাউন হতে পারে ১৪-২১ দিনের জন্য। লকডাউন করা এলাকায় আরোপ করা হবে সর্বোচ্চ কড়াকড়ি। এসব এলাকায় চলাচল করতে দেয়া হবে না। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাইরে কেউ বের হতে পারবে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় প্রতি এক লাখে যদি ৪০ জন বা এর বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত থাকে তবে সেটাকে রেড জোন বলা হবে। তিন জনের বেশি কিন্তু ৪০ জনের কম থাকলে ওই এলাকাকে ইয়েলো জোন বলা হবে। এক বা দু’জন বা কেউ না থাকলে সেটাকে গ্রিন জোন বলা হবে। অ্যাপের মাধ্যমে এলাকা ভিত্তিক জোন চিহ্নিত করা থাকবে। আক্রান্তরা সুস্থ হয়ে গেলে, রেড জোন পর্যায়ক্রমে ইয়েলো ও গ্রিন হবে। রেড জোনে শুধু ফার্মেসি, হাসপাতাল, নিত্যপণ্যের দোকান খোলা থাকবে। কাঁচাবাজার, রেষ্টুরেন্ট, চায়ের দোকান, শপিংমলসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আক্রান্ত রোগীদের বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়ার জন্য স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী কাজ করবে। আক্রান্ত রোগীকে আইসোলেশনে রাখা এবং আক্রান্ত রোগীর পরিবারকে কোয়ারেন্টিনে রাখাও নিশ্চিত করা হবে। রেড জোনে জনসমাগম রুখতে কাঁচাবাজার বন্ধ রেখে ভ্রাম্যমাণ ভ্যান ও মাথায় ঢুলি নিয়ে চলা ফেরিওয়ালাদের পণ্য বিক্রি করতে দেয়া হবে। লকডাউন নিশ্চিত হচ্ছে কি না তার জন্য পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক মনিটরিং কমিটি করা হবে। লকডাউন বাস্তবায়ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সংশ্লিষ্ট এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেবে। ইয়েলো জোনে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া হবে। এক্ষত্রে পুরো এলাকা লকডাউন না করে করোনা আক্রান্ত রোগীদের বাড়ি লকডাউন নিশ্চিত করা হবে। স্বাস্থ্যবিধি কড়াভাবে পালন করতে হবে বাসিন্দাদের। যেকোনো ধরনের জনসমাগম রোধে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী বা ওয়ার্ড কমিটি পর্যায়ক্রমে টহল দেবে। প্রয়োজনে এসব এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এখানে ফার্মেসি, হাসপাতাল ও কাঁচাবাজার খোলা থাকলেও অন্য সব বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। গ্রীন জোনে কিছু বিষয়ে কঠোরতা বজায় রাখা হবে। করোনা আক্রান্ত কোনো রোগী এই এলাকায় ঢুকতে না পারে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। এখানে কেউ আক্রান্ত হলে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে রাখা হবে। যাতে এই এলাকায় ভাইরাসের সংক্রমন না বাড়ে। করোনাভাইরাসের কারণে টানা ৬৬ দিন বন্ধের পর গত ৩১শে মে থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস চালু হয়েছে। এরমধ্যেই বাড়ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন। সংক্রমন ঠেকাতে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই রেড জোনগুলোতে লকডাউনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। জোনভিত্তিক লকডাউনের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: করোনা ভাইরাসের অধিক সংক্রমণ এলাকাকে ‘জোনভিত্তিক’ লকডাউনের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতথ্য জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিব জানান, কোনো এলাকায় যদি অধিক সংক্রমণ থাকে সেই এলাকাকে যদি স্পেশালি নিয়ন্ত্রণে নেয়া যায়, সে বিষয়ে মাননীয়? প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন। সেটা এডমিনিস্ট্রিটিভ ওয়েতে করে ফেলতে পারবে আগামীকালই (মঙ্গলবার)। আমাদের যে সংক্রামক ব্যাধি আইন আছে, এটা সেই আইনের মধ্যে দেয়া আছে। সেই অনুযায়ী বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অথরাইজড।
খাদ্যের গুণগতমান, নিরাপত্তা ও মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতির আহবান
৮জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ খাদ্যের গুণগতমান, নিরাপত্তা ও মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ-এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,উৎপাদন থেকে শুরু করে সরবরাহ, বাজারজাতকরণ ও ভোক্তা পর্যন্ত প্রত্যেক স্তরে খাদ্যের গুণগতমান, নিরাপত্তা ও মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে উদ্যোগী হতে হবে। জনগণের নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে বিএবি খাদ্যখাতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনে অনুপ্রাণিত করবে বলে আমার বিশ্বাস। রাষ্ট্রপতি বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস উপলক্ষ্যে আজ এক বাণীতে এ কথা বলেন। আগামীকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের (বিএবি) উদ্যোগে বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস-২০২০ উদযাপিত হতে যাচ্ছে জেনে সন্তোষ প্রকাশ করে আবদুল হামিদ বলেন,বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড জাতীয় মান অবকাঠামো ও সাযুজ্য নিরুপণ পদ্ধতি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা প্রদানের পাশাপাশি দেশীয় পণ্য ও সেবার মনোন্নয়ন, ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক মান ও গাইডলাইন অনুযায়ি কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন,খাদ্য নিরাপত্তার উপর গুরুত্ব দিয়ে এ বছর বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, অ্যাক্রেডিটেশন ইমপ্রুভিং ফুড সেফটি বিশ্বব্যাপী মহামারী কোভিড -১৯&র বর্তমান প্রেক্ষাপটে দিবসটির এবছরের প্িরতপাদ্য যথার্থ বলে রাষ্ট্রপতি মনে করেন। আবদুল হামিদ বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস-২০২০উদযাপনের সাফল্য কামনা করেন।
মন্ত্রিসভায় বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধনী) আইন, ২০২০ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন
৮জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের বয়সসীমার বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধনী) আইন, ২০২০ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর মাধ্যমে ৬৫ বছরের উর্ধ্বের কোন ব্যক্তিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করা যাবে না সংক্রান্ত অনুবিধিটি বিলুপ্ত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন প্রদান করা হয়। পরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বৈঠকের বিষয়ে অবহিত করেন। তিনি বলেন, দি বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ (প্রেসিডেন্টস অর্ডার নম্বর ১২৭, ১৯৭২) এর আর্টিকেল ১০ এর অনুবিধি ৫ এর বিধান অনুযায়ী গভর্নরের কার্যকাল বা মেয়াদ চার বছর এবং তাকে পুনঃনিয়োগ করা যাবে। তবে, উক্ত অনুবিধি (৫) এর শর্তাংশে উল্লেখ রয়েছে যে, ৬৫ বছর বয়স পূর্তির পর কোনো ব্যক্তি গভর্নর পদে আসীন থাকতে পারবেন না বলেন তিনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে আর্থিক খাতে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিকে নিয়োগ প্রদান করা হয়ে থাকে। কিন্তু সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৫ বছর নির্ধারিত থাকায় আর্থিক খাতে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিকে ৬৫ বছরের পর নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালনকারি অভিজ্ঞ ব্যক্তিকেও ৬৫ বছরের পরে পুনঃনিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয় না। যে কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সর্বোচ্চ বয়সসীমা সংক্রান্ত দি বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ ( প্রেসিন্ডেন্টস অর্ডার নং : ১২৭ অব ১৯৭২) এর আর্টিকেল ১০ এর অনুবিধি (৫) এর শর্তাংশ জনস্বার্থে বিলুপ্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যোগ করেন তিনি। খন্দকার আনোয়ার বলেন, আমাদের পাশ^বর্তী দেশ ভারত এবং শ্রীলংকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্ণর পদের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমার উল্লেখ নেই। এছাড়া এদিন, আদালত কতৃর্ক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন এবং সরকারি মালিকানাধীন নর্থ-ওয়েষ্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানী এবং চীনের ন্যাশনাল মেশিনারী ইমপোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন-এর যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানী (প্রাইভেট) লিমিটেড (নবায়নযোগ্য) নামে কোম্পানী গঠনের প্রস্তাব এবং উহা গঠনের লক্ষ্যে এতদসংশ্লিষ্ট জয়েন্ট ভেঞ্চার, মেমোরেন্ডাম অব এসোসিয়েশন এবং আর্টিকেলস অব এসোসিয়েশন এর খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে। একইসঙ্গে প্রতি বছর ২৭ ফেব্রুয়ারি তারিখকে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস হিসেবে ঘোষণা এবং দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত পরিপত্রের খ ক্রমিকে উহা অন্তর্ভূক্তকরণের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়।

জাতীয় পাতার আরো খবর