দেশে একদিনে চার চিকিৎসকের মৃত্যু করোনায়
১৩জুন,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে একদিনে চার চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে।শুক্রবার (১২ জুন) তাদের মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটি-এফডিএসআর যুগ্ম সম্পাদক ডা. রাহাত আনোয়ার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. গাজী জহির হাসান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদ মনোয়ার মারা যান। সন্ধ্যায় রাজধানীর জেড এইচ সিকদার উইমেনস মেডিকেল কলেজের অপথালমোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল হক কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। রাত ১২টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢামেকের ৪৯তম ব্যাচের ছাত্র ডা. আরিফের মৃত্যু হয়। প্রসঙ্গত, দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩০ জন চিকিৎসক। এছাড়া, করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরো পাঁচ জন চিকিৎসক।।
সব সমালোচনাকে অসাড় প্রমাণিত করে এবারের বাজেটও বাস্তবায়িত হবে : তথ্যমন্ত্রী
১২জুন,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সব সমালোচনাকে অসাড় প্রমাণিত করে এবারের বাজেটও বাস্তবায়িত হবে। তিনি বলেন, গত ১১ বছর ধরে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাজেট বাস্তবায়িত হয়েছে। দেশ এগিয়ে গেছে। দারিদ্রতা কমে অর্ধেকে নেমেছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে সাড়ে তিনগুণ। জিডিপি গ্রোথ রেট পৃথিবীর অন্যতম বেশি গ্রোথ রেটের দেশে উন্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। এবারের বাজেটও বাস্তবায়িত হবে। হাছান মাহমুদ আজ বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সাইফ পাওয়ার টেকের উদ্যোগে কোভিট-১৯ মোকাবেলায় একশ অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ, জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোস্তফা খালেদ আহমদ, সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি, সাইফ পাওয়ার টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিন এসময় উপস্থিত ছিলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে একটি সামাজিক কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে চান। সেজন্য তিনি বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ নানা ধরণের ভাতা চালু করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মেয়েরা কখনো ভাবেনি স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা পাবেন, ইউরোপের দেশেও স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা পায় না। এইধরণের ভাতায় বর্তমানে ৮৮ লক্ষ সুবিধাভোগী আছে। এইবার আরো ১১ লাখ মানুষকে নতুন করে সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে রাখা হয়েছে। এই বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের জন্য গত বাজেটের তুলনায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে এবার বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯৫ হাজার ৫শ ৭৪ কোটি টাকা। ড. হাছান মাহমুদ বলেন,এই বাজেটে জননেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছেন। পত্রপত্রিকায় দেখলাম এত বেশি লক্ষ্যমাত্রা কেন স্থির করা হলো তা নিয়ে সমালোচনা করা হচ্ছে। কদিন আগে আইএমএফ বলেছে যদি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব খুব সহসা কেটে যায়, এবং বৈশিক মন্দাও যদি সহসা কেটে যায় তাহলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার নয় শতাংশের বেশি হতে পারে। এটি হচ্ছে আইএমএফ এর প্রাক্কলন। সুতরাং সেটি যদি বিবেচনায় নিই তাহলে ৮.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চয়ই উচ্চাভিলাষী নয়। ড. হাছান বলেন, উচ্চাভিলাষ থাকতে হয়, উচ্চাভিলাষ না থাকলে অভিলাষ পুরণে জাতীর কোন তাগাদা থাকে না। ব্যক্তি জীবনে যেমন অভিলাষ না থাকলে সেই মানুষের লক্ষ্যে পৌঁছানোর কোন তাগাদা থাকে না। রাষ্ট্রিয় জীবনেও লক্ষ্য থাকতে হয় অভিলাষ থাকতে হয়। তাহলেই জাতি এগিয়ে যায়। যেভাবে গত ১১ বছর ধরে সেই বাজেট বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে গেছে সমৃদ্ধি ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপুরণের পথে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই করোনা ভাইরাসের মহামারির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অর্থমন্ত্রী একটি সাহসি বাজেট ঘোষণা করেছেন। পত্রপত্রিকায় অনেক মন্তব্য ও বিশ্লেষণ আমরা দেখতে পাচ্ছি। অনেক বিশেষজ্ঞরা তাদের মতামত দিচ্ছেন। এদের মধ্যে কিছু চিহ্নিত বিশেষজ্ঞ আছে। তারা সবসময় মতামত দেন। গত ১১ বছর ধরে যখনই বাজেট ঘোষণা হয়েছে ততবারই সিপিডি কোনদিন বাজেটের প্রশংসা করতে পারেনি। প্রতিবারই তারা বলেছেন এই বাজেট উচ্ছাকাঙ্খি,এটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়। তথ্যমন্ত্রী বলেন, কিন্তু গত ১১ বছরের আমরা যদি হিসেব নিয়ে থাকি তাহলে দেখতে পাব প্রতিবার বাজেটের ৯৩ থেকে ৯৬ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। এবারও তাদের একই কথার ধারাবাহিকতা আমরা লক্ষ্য করছি। একইভাবে তারা সমালোচনা করছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে এধরণের উচ্চাভিলাষি বাজেট কেন দেয়া হলো। এধরণের কথাবার্তা তারা বলছে। হাছান মাহমুদ বলেন, ১১ বছর ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য ছিল, সেই লক্ষ্য পুরণ করেই বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নিত করা সম্ভব হয়েছে। দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় সাড়ে তিনগুণ বৃদ্ধিকরা সম্ভব হয়েছে। দারিদ্রহার যেটি ৪০ শতাংশের বেশি ছিল সেটি ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যখন সরকার গঠন করা হয় তখন ২০০৮-০৯ সালের বাজেট ছিল ৮৮ সহাজার কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার যে বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে তা ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার। ১১বছরে বাজেটের অংক সাড়ে ৬গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৯ সালে আমরা যখন সরকার গঠন করি তখন বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ৬শ ডলার। আজকে সেটি ২ হাজার ৮০ ডলারে উন্নিত হয়েছে। অর্থাৎ মানুষের মাথাপিছু আয় সাড়ে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘোষিত বাজেট বাস্তবায়নের পর মানুষের জনপ্রতি উপার্জন হবে প্রতিবছর প্রায় ২ লক্ষ টাকা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সমালোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, কালো টাকা সাদা করার সিস্টেম চালু করেছিলেন বিএনপির অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান। তিনি নিজেও কালো টাকা সাদা করেছিলেন, তাদের নেত্রী খালেদা জিয়া নিজেও কালো টাকা সাদা করেছিলেন। অর্থনীতির স্বার্থে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই ধরণের অপ্রদর্শিত টাকাকে বৈধ করার সুযোগ দেয়া হয়। বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদের উচিৎ সেই তথ্য ও উপাত্ত যাচাই বাছাই করা এবং আয়নায় নিজেদের চেহারাটাও একটু দেখার জন্য বলেন তথ্যমন্ত্রী। চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালে রোগীদের ভর্তি করা হচ্ছে না এবং চিকিৎসা না দিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে কোনভাবেই রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হচ্ছে না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে এ নিয়ে কয়েকটি সমন্বয় সভা হয়েছে। কয়েকটি হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। তবে, শুধু চট্টগ্রামে নয় শুধু, সারাদেশ এবং পৃথিবী জুড়েই আইসিইউ সঙ্কট আছে। ইতালি-নিউইর্য়কের মতো দেশে বহু বয়স্ক মানুষকে আইসিইউ সেবা দিতে না পারার কারণে মৃত্যুবরণ করেছে। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, তবে, এভাবে রোগী ফেরত দেওয়া কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। যেসমস্ত প্রতিষ্ঠান এভাবে রোগী ফেরত দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সরকার এটি ধর্তব্যের মধ্যে নিচ্ছে। সময়মত তাদের বিরুদ্ধ ব্যবস্থা নেয়া হবে। শনিবার থেকে প্রশাসন মোবাইল কোর্ট শুরু করবে। প্রয়োজনে তাদের লাইসেন্সও বাতিল হবে বলে জানান তিনি।
অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু
১২জুন,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের অর্থনীতিতে কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাবকে সামনে রেখে সরকার অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন কাজ শুরু করেছে। চলতি বছর ৩০ জুনে সপ্তম পঞ্চমবার্ষিকী পরিকল্পনার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এরই প্রেক্ষিতে কাউকে পিছনে ফেলে নয় শ্লোগানকে সামনে রেখে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন কাজ শুরু হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মোস্তফা কামাল গতকাল জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২০-২১ হতে ২০২২-২৩ মধ্যমেয়াদী সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে এ কথা জানান। নীতি বিবৃতিতে বলা হয়, কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব মূল্যায়নে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন একটি স্টাডি সম্পন্ন করেছে। এই স্টাডির ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি দারিদ্র হ্রাস কার্যক্রম এবং প্রবৃদ্ধির ওপর কি ধরনের প্রভাব ফেলবে উক্ত স্টাডিতে এই দিকটিও বিশেষভাবে ওঠে এসেছে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় যেসব বিষয় সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তা হচ্ছে ত্বরান্বিত সমৃদ্ধি ও অন্তর্ভূক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি। তাই, বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সূচকে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ যাতে এলএসডি হতে উত্তরণে এসডিজি বাস্তবায়নে সফল হয় সেই বিষয়টি অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কোন দরিদ্র জনগোষ্ঠী বা অঞ্চলকে পিছনে ফেলে রেখে উন্নয়ন অভীষ্ঠ লক্ষ্য এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই, ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় যাতে প্রবৃদ্ধির সুবিধা সকলের কাছে সমান ভাবে পৌঁছানো যায় তা বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে নীতি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১ এবং সরকারের ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার অনুসরণ করা হবে। বাংলাদেশ ইতেমধ্যে নি: মধ্যম আয়ের মর্যাদা অর্জন করেছে এবং স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে প্রাথমিক উত্তরণের ভিত্তি স্থাপন করেছে। আগামী পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় প্রস্তুতকৃত মূল সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে নীতি বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।
আরও ৩৪৭১ করোনা রোগী শনাক্ত, নতুন মৃত্যু ৪৬
১২জুন,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে গত একদিনে অর্থাৎ শেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন আরও তিন হাজার ৪৭১ জন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৪৬ জনের। সুস্থ হয়েছেন আরও ৫০২ জন। এ পর্যন্ত একদিন ব্যবধানে যে সংখ্যক রোগী মারা গেছেন এবং শনাক্ত হয়েছেন, তার মধ্যে এ দুটোই সর্বোচ্চ; রেকর্ড। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, এ নিয়ে মোট মৃত্যু সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৫ জনে। আর মোট শনাক্ত দাঁড়িয়েছে ৮১ হাজার ৫২৩ জনে। একইসঙ্গে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৭ হাজার ২৪৯ জন। ডা. নাসিমা বলেন, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৯টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯৫০টি। নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৯০টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে চার লাখ ৭৩ হাজার ৩২২টি। মৃত্যু হওয়া ৪৬ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১১ জন, সিলেট বিভাগে তিনজন, বরিশালে বিভাগে তিনজন, রংপুর বিভাগে পাঁচজন, রাজশাহী বিভাগে দুইজন, ময়মনসিংহ বিভাগে দুইজন, খুলনা বিভাগে একজন। ৪৬ জনের মধ্যে পুরুষ ৩৭ জন। নারী নয়জন। তাদের বয়স বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১০০ বছরের ঊর্ধ্বে একজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ছয়জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন। এরমধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৩২ জন, বাড়িতে ১৪ জন। তিনি আরও বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৪৩৬ জন। মোট আইসোলেশনে আছেন নয় হাজার ১২ জন। করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে সবাইকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লকডাউন পরবর্তী সংশ্লিষ্ট দিকনির্দেশনা বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহার এবং শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
আরো এক চিকিৎসকের মৃত্যু করোনায়
১২জুন,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও এক চিকিৎসকের মৃত্যু হলো। এবার প্রাণ গেলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এর পেডিয়াট্রিক সার্জারির অধ্যাপক ডা. গাজী জহির হাসানের। তিনি আজ শুক্রবার রাত দেড়টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গাজী জহির ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। এই তথ্য নিশ্চিত করেন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সসিবিলিটিসের (এফডিএসআর) জয়েন্ট সেক্রেটারি ডা. রাহাত আনোয়ার চৌধুরী। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৮ জন চিকিৎসক মারা গেছেন। এছাড়াও, পাঁচ জন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।
ভূমিকম্পের বড় ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
১২জুন,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভৌগলিক অবস্থানের কারণেই বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। ঘনবসতি ও অপরিকল্পতি নগরায়ন এ ঝুঁকিকে প্রাণহানিসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দিক ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের। কিন্তু এমন ক্ষতি মোকাবিলা করার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই দেশে। এক্ষেত্রে নতুন বিল্ডিং কোড প্রণয়নের পাশাপাশি এর বাস্তবায়নে কঠোর হওয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের। ভূমিকম্প নিয়ে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ডিজাস্টার ফোরামের তথ্য মতে, গত ১০ বছরে দেশে ৮৫ বার ভূমিকম্প হয়েছে। এসময় নিহত হয়েছেন ১৫ জন। এর মধ্যে ২০১৫ সালে ৬ জন এবং ২০১৬ সালে ৭ জন। এক্ষেত্রে শহরাঞ্চলে ভবন নির্মাণ বিধি না মানায় এ ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এছাড়া ঢাকা সিটি করপোরেশনের এক জরিপে দেখা গেছে, দেশে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে খোদ ঢাকায় তিন লাখ ২৬ হাজার ভবনের মধ্যে ৭২ হাজার ভবনই তাৎক্ষণিক ধসে পড়বে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, পাকা বিল্ডিং যত হবে, এবং সেটার যদি গুণগত মান ঠিক না হয় তাহলে মানুষ হতাহত অনেক বেশি হবে। একই সঙ্গে রিপোর্ট বলছে, আমরা ৯০ শতাংশ দুর্বল মাটিতে বিল্ডিং তৈরি করি। তাই এখনই ভবন নির্মাণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করার পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণে নিয়ম মানার নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ বিশেষজ্ঞদের। সেই সঙ্গে জনসাধারণের মধ্যে ভূমিকম্প নিয়ে আতংকিত না হয়ে, সচেতনতা গড়ে তোলার পরামর্শও দেন তারা ।
ছেলের মৃত্যুর পর বাবা সাংবাদিক নান্নু অগ্নিদগ্ধ
১২জুন,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়েছেন দৈনিক যুগান্তরের সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার ও ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নু। শুক্রবার ভোরে রাজধানীর আফতাবনগরের ৩ নম্বর রোডের বি ব্লকের বাসায় এ ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে জানুয়ারি মাসে একই বাসায় অগ্নিকাণ্ডে নান্নুর একমাত্র ছেলে পিয়াসের (২৪) মৃত্যু হয়। অগ্নিকাণ্ডে নান্নুর শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন আরও জানান, নান্নুর শ্বাসনালি কিছুটা ক্ষতিগস্ত হয়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তির সঙ্গে সঙ্গেই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। এই সাংবাদিকের স্ত্রী শাহীনা আহমেদ পল্লবী জানান, রাত্রিকালীন অফিস শেষ করে বাসায় ফিরে খাওয়া-দাওয়ার পর রাত ৩টার দিকে হঠাৎ করে শব্দ হয়। গ্যাসের গন্ধও পাওয়া যাচ্ছিল। গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে এই অগ্নিকাণ্ড হতে পারে বলে তার ধারণা।
বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে- মেগা প্ল্যান ঘোষণা
১১জুন,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বলা হচ্ছিল এবারের বাজেটের ফোকাস পয়েন্ট হবে করোনা দুর্যোগ। সে হিসেবে স্বাস্থ্যখাতেই মনোযোগ থাকার কথা সবচেয়ে বেশি। বাজেট বলছে সর্বোচ্চ বরাদ্দের ক্রমে ৯ম স্থানে আছে স্বাস্থ্যখাত। করোনা সামলাতে বাজেটে থোক বরাদ্দ থাকছে ১০ হাজার কোটি টাকা। তবে করোনা মহামারিতে বেরিয়ে আশা স্বাস্থ্যখাতের জীর্ণ দশাকে সুস্থতা দিতে স্বাস্থ্যে ৩ বছরের মধ্যম ও ১০ বছরের দীর্ঘ মেয়াদি মেগা প্ল্যান ঘোষণা করা হয়েছে এবারের বাজেটে। খোদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সামান্য কিছু দূরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকল বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের স্বনামধন্য এ মেডিকেলে করোনার নমুনা দিতে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয় শত শত রোগীকে। নেই নিয়ম শৃঙ্খলার বালাই, ভোগান্তির যেন অন্ত নেই। দেশের নামকরা মেডিকেলেরই যদি হয় এ দশা তবে বাকিসব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কী অবস্থা হতে পারে তা কারোরই অজানা নয়। নেই পর্যাপ্ত কিট, নমুনা পরীক্ষায় ধীর গতি, নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী কিংবা আইসিইউ সুবিধা। সর্বত্রই শুধু নিদারুণ নেই আর নেই এর হাহাকার। ২০২০-২১ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থ বছরের তুলনায় যা সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা বেশি। তবে এডিপি বা উন্নয়ন খাতে দেয়া হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। করোনা সামলাতে ডাক্তার, নার্স ও টেকনোলোজিস্ট মিলে সম্প্রতি নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৭ হাজার নতুন জনবল। কর্মীদের বেতনভাতাসহ নতুন বাজেটে অনুন্নয়ন ব্যয় খাতে বরাদ্দ ১৬ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা। যা মোট বরাদ্দের অর্ধেকেরও বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যা বরাদ্দ হয় তার বড় একটি অংশই আবার খরচ করতে না পারার কারণে ফিরে যায়। বাকিটুকুর মধ্যেও চলে লুটপাটের উৎসব। এ করোনা দুর্যোগের মধ্যে দেখা গেল সুরক্ষা সামগ্রী কিনতেও চলেছে নয় ছয়। অর্থনীতিবিদ নাজনীন বলেন, এ করোনাকালে স্বাস্থ্যখাতে যতটুকু বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সেটি যেন ঠিকমত কাজে লাগে সেদিকে আমাদের মনোযোগ বেশি দেয়া দরকার। বিএমএ সাবেক সভাপতি ডা. রশিদ ই মাহবুব বলেন, স্বাস্থ্যখাতের যে বরাদ্দটা এটা বাড়ানোর আগে স্বাস্থ্যখাতটা সংস্কার করতে হবে। অন্যথায় যা আছে তার উন্নতি হবে না। যন্ত্রপাতি কেনার দিকে যতটা আগ্রহ দেখা যায় সেই যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মানুষ আছে কি না তা খোঁজ নেবার আগ্রহ দেখা যায় না। আবার যেখানে গোটা দুনিয়ায় বর্তমানে আইসিইউএর জন্য হাহাকার সেখানে খোদ রাজধানীর শিশু হাসপাতালেই অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে করোনার আইসিইউ শয্যা। বিশেষজ্ঞদের জিজ্ঞাসা, বাজেটে বরাদ্দ বাড়লেই কি সুস্থ হবে স্বাস্থ্যখাত? অতীতের অভিজ্ঞতা তেমনটি বলে না। তারা বলছেন, সরষের ভুত তাড়াতে না পারলে বরাদ্দের আকার যতই বড় হোক স্বাস্থ্যের সেবা অধরাই থেকে যাবে। এ জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুষ্ঠু ব্যয়ব্যবস্থাপনা।
২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন
১১জুন,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আজ ২০২০-২০২১ আর্থিক বছরের জাতীয় বাজেট এবং ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট অনুমোদন করেছেন। অনুমোদিত এই বাজেট সংসদে পেশ করা হবে। রাষ্ট্রপতি আজ বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে তাঁর সংসদ ভবন কার্যালয়ে বাজেটে অনুমোদন দেন। এ সময় অর্থ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব আবদুর রউফ তালুকদার ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান (এনবিআর) মো. মোশাররফ হোসেইন ভূইয়া ও সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি সংসদ ভবনে পৌঁছলে ডেপুটি স্পিকার এম ফজলে রাব্বী মিয়া ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাগণ তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। রাষ্ট্রপতি সংসদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে কয়েকবার দায়িত্ব পালন করেছেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর