বুধবার, এপ্রিল ৮, ২০২০
নৌবাহিনীর বার্ষিক মহড়ায় সফল মিসাইল উৎক্ষেপণ
১৫জানুয়ারী,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বঙ্গোপসাগরে সফল মিসাইল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বার্ষিক সমুদ্র মহড়া সমাপ্ত হয়েছে। দীর্ঘ ১৮ দিনের এই মহড়া বুধবার শেষ হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী। পরিকল্পনামন্ত্রী যুদ্ধজাহাজ বানৌজা বঙ্গবন্ধু থেকে মহড়া পরিদর্শন করেন। এর আগে সকালে মন্ত্রী জাহাজে পৌঁছালে কমান্ডার বিএন ফ্লিট রিয়ার অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বানৌজা বঙ্গবন্ধুর অধিনায়ক ক্যাপ্টেন কেইউএম আমানত উল্লাহ তাকে স্বাগত জানান। নৌবাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল জাহাজে মন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেয়। ১৮ দিনব্যাপী মহড়ায় বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর ফ্রিগেট, করভেট, ওপিভি, মাইন সুইপার, পেট্রল ক্রাফট, মিসাইল বোট, মেরিটাইম পেট্রল এয়ার ক্রাফট ও হেলিকপ্টার প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়েছে। এ ছাড়াও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, সেনা ও বিমানবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট মেরিটাইম সংস্থাগুলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশ নিয়েছে। চার ধাপে অনুষ্ঠিত মহড়ার বিশেষ দিকগুলো হচ্ছে- নৌবহরের বিভিন্ন কলাকৌশল অনুশীলন, সমুদ্র এলাকায় পর্যবেক্ষণ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, লজিস্টিক অপারেশন, ল্যান্ডিং অপারেশন, উপকূলীয় এলাকার নৌ স্থাপনাগুলোর মহড়া ইত্যাদি। চূড়ান্ত দিনের মহড়ায় ছিল বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে মিসাইল উৎক্ষেপণ, শোল্ডার লাঞ্চড স্যাম ফায়ারিং, অ্যান্টি এয়ার রেপিড ওপেন ফায়ার, আরডিসি ফায়ার, ডিবিএসএস/নৌকমান্ডো মহড়া ও নৌযুদ্ধের কলাকৌশল। এবারের মহড়ার মূল প্রতিপাদ্য ছিল- সমুদ্র এলাকায় দেশের সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ, সমুদ্র সম্পদের হেফাজত, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা বিধানসহ চোরাচালান রোধ, জলদস্যুতা দমন, উপকূলীয় এলাকায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সমুদ্র এলাকার প্রহরা নিশ্চিতকরণ।
দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
১৫জানুয়ারী,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি। এর আগে আবুধাবি বিমানবন্দর থেকে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটের দিকে ( বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৫ মিনিট ) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইট বিজি-১১০২ যোগে সফর সঙ্গীদের নিয়ে ঢাকার পথে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান বিমান বন্দরে তাঁকে বিদায় জানান। এ সফরে আবুধাবি সাসটেইনেবিলিটি উইক ও জায়েদ সাসটেইনেবিলিটি অ্যাওয়ার্ড সহ বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত রোববার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আবুধাবির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন শেখ হাসিনা। সেখানে পৌঁছে বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সুসজ্জিত মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তাঁকে আবুধাবির শাংরি-লা হোটেলে নেওয়া হয়। সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। পরে সোমবার সকালে আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারের আইসিসি হলে আবুধাবি সাসটেইনেবিলিটি উইক ও জায়েদ সাসটেইনেবিলিটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে যুবরাজ শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান তাঁকে স্বাগত জানান।
শাহজালালে বিমান চলাচল শুরু
১৫জানুয়ারী,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: টানা ঘন কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা স্বাভাবিক হয়েছে। মঙ্গলবার শেষরাত থেকে ৭ ঘণ্টা বিমান চলাচল বন্ধ ছিল। বিমান চলাচলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তৌহিদ-উল-আহসান। তিনি জানান, বুধবার সকাল ১০টা থেকে ফ্লাইট ওঠানামা শুরু হয়েছে। তৌহিদ-উল-আহসান বলেন, গত এক সপ্তাহের তুলনায় ঘন কুয়াশার পরিমাণ আজ বেশি হওয়ায় রাত সোয়া ৩টা থেকে শাহজালালে সব ধরনের ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়। এরআগে গত ১৩ ও ১৪ জানুয়ারিও একই কারণে প্রায় ৬ ঘণ্টা করে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ ছিল। উল্লেখ্য, সাধারণত বিমানবন্দরের রানওয়ের দৃষ্টিসীমা ভিজিবিলিটি ৬০০ থেকে ৮০০ থাকলে বিমান ওঠানামা করতে পারে। কিন্তু এর নিচে নামলে ফ্লাইট ওঠানামা করতে পারে না।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পায়
১৪জানুয়ারী,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মধ্যপ্রাচ্যে আমদানি-নির্ভর দেশগুলোতে রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য কাজ করতে বাংলাদেশী কূটনীতিকদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশপাশি তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের ৯টি দেশে নিয়োজিত বাংলাদেশের কূটনীতিকদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, বিনিয়োগ ও রপ্তানির ক্ষেত্রে আপনাদেরকে যেটা দেখতে হবে, তা হলো কোন দেশের কি রকম চাহিদা আছে তা অনুসন্ধান করতে হবে। সে অনুযায়ী আপনাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং অগ্রসর হতে হবে। সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবু ধাবিতে সাংগ্রি লা হোটেলে এনভয়জ কনফারেন্সে বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন তিনি। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এ খবর দিয়েছে। এতে বলা হয়, ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত গোলাম মোশি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ইমরান, বাহরাইনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) কেএম মমিনুর রহমান, ইরানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এএফএম গাউসল আজম সরকার, ইরাকে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এএমএম ফরহাদ, কুয়েতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এসএম আবুল কালাম, লেবাননে নিযুক্ত আবদুল মোতালেব সরকার, ওমানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারোয়ার এবং কাতারে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আশুদ আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনের পর সাংবাদিকদের কাছে এ নিয়ে ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী কূটনীতিকদের বলেছেন, এমনভাবে কাজ করতে, যাতে কোনো বাংলাদেশী কর্মী বিদেশে কোনো রকম সমস্যায় না পড়েন। এ সময় তিনি গ্রামে গ্রামে এমন প্রচারণার ওপর গুরুত্ব দেন, যাতে বিদেশী কর্মসংস্থান প্রত্যাশীরা কোনো দালালের শিকারে পরিণত না হন এবং তারা যেন বিদেশে যাওয়ার জন্য তাদের হাতে অতিরিক্ত অর্থ না দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ জন্য আমাদেরকে কাজ করতে হবে। এ ছাড়া মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শক্তিশালী করতে রাষ্ট্রদূতদের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এক সময় দাতাদের কাছ থেকে ঋণ নিতো বাংলাদেশ। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ সেই অবস্থা কাটিয়ে উঠেছে। তাই তারা (দাতারা) এখন আমাদের উন্নয়ন অংশীদার। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গৃহীত বিদেশী নীতি- সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়, উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। কিন্তু তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী চলমান অভিযান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নিজস্ব কৌশলে এই ধারাকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। তবে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে যুক্ত হয়েছে নতুন বিমান। এই অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে অবদান রয়েছে প্রবাসীদের, বিশেষ করে যারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করেন। দারিদ্র্য সম্পর্কে তিনি বলেন, তার সরকার দারিদ্র্যের হার কমিয়ে এনেছে শতকরা ২০ ভাগে। এখন তা থেকে আরো তিন ভাগ কমাতে চান তিনি। এ ছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন সহ বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা আরো একটি বই আমার দেখা নয়া চীন প্রকাশ হতে যাচ্ছে। দুবাইয়ের ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন, প্রবাসী কল্যাণ ও প্রবাসী বিষয়ক মন্ত্রী ইমরান আহমেদ, বিদ্যুত-জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।
ধর্ষকদের একমাত্র শাস্তি হওয়া উচিত এনকাউন্টার
১৪জানুয়ারী,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শিশু ও নারী ধর্ষণের সর্বোচ্চ শান্তি মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এ ধরণের অমানবিক ও নিষ্ঠুর কর্মকাণ্ড নিরসনে প্রয়োজনে ধর্ষকদের এনকাউন্টারে দেয়ার দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। বিরোধী দলের দুজন সিনিয়র সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ ও মুজিবুল হক চুন্ন মঙ্গলবার পয়েন্ট অব অর্ডারে এ দাবি জানালে তাদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন সরকারি দলের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদও। তাঁরা বলেছেন, ধর্ষকদের প্রয়োজনে বন্দুকযুদ্ধে দিলে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরণের নিষ্ঠুর ও অমানবিক কর্মকাণ্ড ঘটাতে সাহস পাবে না। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল সংসদে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর এ ইস্যুতে অনির্ধারিত বিতর্কের সূত্রপাত করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াস সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। অনির্ধারিত আলোচনার সূত্রপাত করে জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হলো। ধর্ষণের পর যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জরুরিভাবে সেই ধর্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও গেপ্তার করার পরও জনমনে অনেক প্রশ্ন উঠেছে এটার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের পর পরই সাভারে একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। এরপর ধামরাইতে একই ঘটনা ঘটে। পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ২০১৯ সাল ধর্ষণের মহাৎসব ঘটেছে। কেন ধর্ষণের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে? এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কি? এ বিষয়ে সংসদে দুই ঘণ্টার জন্য সাধারণ আলোচনার সুযোগ দিতে স্পিকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, আমাদের দলের প্রেসিডেন্ট এইচ এম এরশাদ যখন ক্ষমতায় ছিলেন, ওই সময় এসিড নিক্ষেপ করে হত্যাকাণ্ড বেড়ে যায়। তখন এরশাদ সাহেব এটা প্রতিরোধে এসিড মারার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান করেছিলেন। এখন ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। কিন্তু যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে এটা কন্ট্রোল করা যাচ্ছে না। তাই সময় এসেছে চিন্তা করার, ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদ- করা হোক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, এতো ঘটনা ঘটছে, মাদকের জন্য এতো ক্রসফায়ার হচ্ছে। সমানে বন্দুক যুদ্ধে মারা যায়। কিন্তু এই ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ, এখন পর্যন্ত কেন একজন ধর্ষক বন্দুক যুদ্ধে মারা যায় না? বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে যদি ব্যবস্থা না নেয়া যায়, তবে কোনক্রমেই এটা কন্ট্রোল করা যাবে না। একই দাবি জানিয়ে জাতীয় পার্টির অপর প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, টাঙ্গাইলে বাসে ধর্ষণের পর পর পুলিশ ৫ জনকে গেপ্তার করলো। সেদিন যদি পুলিশ ওই পাঁচ ধর্ষককে মধুপুরে নিয়ে গুলি করে মারত, তাহলে কিন্তু অন্য কেউ আবার ধর্ষিত হত না। তিনি বলেন, একটার পর একটা ধর্ষণ হচ্ছে। মেয়েরা বাসে ওঠে, ওই বাসে আগে থেকেই ৪-৫ জন থাকে। নারীরা ওঠার পর দেখা যায় ওরা যাত্রী না, ওরা ধর্ষক। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের পর একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হোক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য, সেখানে গুলি করে মারা হোক। তিনি বলেন, ধর্ষকদের একমাত্র শাস্তি হওয়া উচিত এনকাউন্টারে দিয়ে মেরে ফেলা। যাতে আর কোন ধর্ষক যেন সাহস না পায়। ধর্ষক গেপ্তার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিয়ে ওইখানে গুলি করে মেরে ফেলা হোক। কাজী ফিরোজ রশীদ ও মুজিবুল হক চুন্নুর এমন দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে অনেককে এভাবে শেষ করে দেয়া হয়েছে। ভারতে একবার বাসে এক নারীকে গণধর্ষণ করা হয়। পরে সেখানে পাঁচ ধর্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর ওই পাঁচ ধর্ষককে ক্রসফায়ারে দেয়া হয়েছে। তারপর ভারতে ধর্ষণের ঘটনা কমে গেছে। কাজেই আমি অন্য দুই সংসদ সদস্যে’র সঙ্গে একমত। আমি যদি চিনি যে সে ধর্ষক, সেই এই জঘন্য কাজ করেছে- তার আর এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কোন অধিকার নেই। তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ফ্লোর নিয়ে বলেন, আল্লাহকে হাজির-নাজির করে বলছি, এসব ধর্ষকদের ক্রসফায়ার করলে কোন পাপ হবে না, বরং বেহেস্তে যাওয়া যাবে। কোন অসুবিধা নেই।
ভারতে শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশ বেতারও
১৪জানুয়ারী,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ টেলিভিশনের পর এবার ভারতে শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশ বেতারও। বাংলাদেশ বেতারের অনুষ্ঠান আকাশবাণী চ্যানেলে কলকাতায় এফএম ১০০ দশমিক ১ মেগাহার্টজ এবং আগরতলায় এফএম ১০১ দশমিক ৬ মেগাহার্টজে শোনা যাচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠান বিনিময়ের এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী প্রকাশ জাভাদকার। এছাড়া আকাশবাণী অ্যাপ ও ডিটিএইচের মাধ্যমে সারা ভারতে সকাল সাড়ে ৭টা (ভারতীয় সময়) থেকে সাড়ে ৯টা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা থেকে সাড়ে ৭টা একযোগে সম্প্রচার শুরু হলো। একইসময়ে আকাশবাণীর অনুষ্ঠান বাংলাদেশ বেতারের এফএম ১০৪ মেগাহার্টজেও সম্প্রচার শুরু হলো। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ দায়িত্ব নেয়ার পর গতবছরের ২ সেপ্টেম্বর সারা ভারতে বাংলাদেশ টেলিভিশন সম্প্রচার শুরুর সাড়ে তিন মাসের মাথায় এবার সারা ভারতে শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশ বেতারও। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বেতার ও চলচ্চিত্র খাতে এই সহযোগিতা দুদেশের জনগণ ও সরকারের বন্ধুত্বের এক অনন্য মাইলফলক। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছেন, এই বিনিময় এবং চুক্তি তারই প্রতিফলন। ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী প্রকাশ জাভাদকার বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ভৌগোলিক নৈকট্য, ইতিহাস ও ঐতিহ্যগত। গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে এ সহযোগিতা দুদেশের অন্যান্য খাতে সহযোগিতাকেও প্রসারিত করবে।
প্রতিবাদের মুখে হাসপাতালের তথ্য প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাতিল
১৪জানুয়ারী,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সমালোচনার মুখে হাসপাতালগুলোতে সাংবাদিকদের প্রবেশ ও তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে দেয়া নির্দেশনাটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তাদের নতুন নির্দেশনায় হাসপাতালের তথ্য প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিষয় বাদ দিয়ে দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বলা হয়েছে। আজ উপ-সচিব মো. আবু রায়হান মিঞার স্বাক্ষরে নতুন নির্দেশনাটি প্রকাশ করা হয়। নতুন নির্দেশনায় দেখা গেছে, সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে গত ১২ই জানুয়ারি দেয়া নির্দেশনায় যে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল তা বাদ দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ১২ই জানুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. আবু রায়হান মিঞা স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছিল গবেষণা, জরিপ, অন্য কোনও তথ্য বা সংবাদ সংগ্রহের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। সংগৃহীত তথ্য বা সংবাদের বস্তৃনিষ্ঠতার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। বিনা অনুমতিতে হাসপাতালের ভেতরে রোগী বা স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের কোনও স্থিরচিত্র বা ভিডিওচিত্র ধারণ করতে পারবেন না। সংগৃহীত তথ্য প্রকাশের আগেই বস্তুনিষ্ঠতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সম্মতি গ্রহণ করতে হবে। তবে এ নির্দেশনা জারির পর পর এটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়, গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত সংবাদও প্রকাশিত হয়। তারপরই মন্ত্রণালয় আজ তাদের আগের নির্দেশনা থেকে সরে আসে। বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম এ নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে ১৫ই জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজনের ঘোষণা দেয়। তবে তার আগেই মন্ত্রণালয় এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিলো। সাংবাদিকদের প্রতি দেয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফ আগামীকালের প্রতিবাদ সভা আপাতত বাতিল করা হলো বলে জানিয়েছেন। নতুন নির্দেশনায় দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে: প্রকাশিত সরকারি হাসপাতালে শীর্ষক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের সব সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত চিকিৎসা দেয়া সরকারের লক্ষ্য। নিরাপদ চিকিৎসার জন্য রোগীর সঙ্গে আসা দর্শনাথীদের নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। কেননা, তাদের স্বাস্থ্যবিষয়ক অজ্ঞতা এবং রোগ-জীবাণুর সংক্রমণ রোধে করণীয় বিষয়ে জ্ঞানের অভাবে অধিকাংশ সময়ই কাক্সিক্ষত পরিবেশ বা পরিস্থিতির অবনতি হয়। এ অবস্থায় দেশের সব সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে নির্দেশক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা হলো। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক হাসপাতালে দর্শনার্থী পাস চালু করতে হবে এবং প্রতিটি পাসের জন্য নিরাপত্তা জামানত চালু করা যেতে পারে। রোগীর অসুস্থতা বিবেচনায় একজন রোগীকে সহায়তা করার জন্য সর্বোচ্চ দুইজন দর্শনার্থীকে পাস দেয়া যেতে পারে। হাসপাতাল ত্যাগের আগেই পাস ফেরত দিয়ে দর্শনার্থী নিরাপত্তা জামানত ফেরত নিতে পারবেন। নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, হাসপাতালের সব চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মচারীরা বৈধ পরিচয়পত্র দৃশ্যমানভাবে বহন করবেন। আগত দর্শনার্থীদের জন্য পাস ইস্যু করার সময় নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, পরিদর্শনের কারণ ইত্যাদি তথ্য-সংবলিত রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ করা যেতে পারে। দর্শনার্থী বিষয়ক নিয়মাবলি রোগী বা রোগীর সাহায্যকারীকে অবহিত করতে হবে। এছাড়া দর্শনার্থী বিষয়ক নিয়মাবলি সহজে দৃষ্টিগোচর হয় এমন জায়গায় রাখতে হবে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশনার পর সমালোচনা হয়, গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয় । তারপরই মন্ত্রণালয় তাদের আগের নির্দেশনা থেকে সরে আসে।- মানবজমিন
৩০ জানুয়ারিই হবে ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন
১৪জানুয়ারী,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন পেছানোর রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে আগামী ৩০ জানুয়ারিই হতে যাচ্ছে ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন। আজ মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত ও রিটকারী অ্যাডভোকেট অশোক কুমার ঘোষ। রিটের শুনানিতে আদালতে আরও উপস্থিত ছিলেন সুব্রত চৌধুরী। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর উস সাদিক। আর নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম। এর আগে গত ৫ জানুয়ারি সরস্বতী পূজার কারণে ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভোট গ্রহণের নির্ধারিত তারিখ পেছানোর জন্য রিট করেন আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ। ওই সময় আইনজীবী জানিয়েছিলেন, আগামী ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি হিন্দু সম্প্রদায়ের সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হবে। কিন্তু ঢাকায় সিটি নির্বাচন উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এ কারণে সিটি নির্বাচন পেছানোর জন্য রিট করা হয়েছে।
পদ্মাসেতুতে বসছে ২১তম স্প্যান
১৪জানুয়ারী,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে পদ্মাসেতুর ২১ তম স্প্যান বসানোর কাজ চলছে। স্প্যানটি ৩২ ও ৩৩ নম্বর পিলারের উপর বসানো হবে। এতে সেতুর ৩ হাজার ১৫০ মিটার দৃশ্যমান হবে। আজ মঙ্গলবার সকালে কুয়াশার কারণে দেরিতে (১১টায় দিকে) স্প্যান বসানোর কার্যক্রম শুরু হয়। গতকাল সোমবার স্প্যানটি মাওয়ার কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে জাজিরা প্রান্তে আনা হয়েছে। স্প্যানটি মাওয়া থেকে ভাসমান ক্রেনের সাহায্যে এনে ৩২ ও ৩৩ নং পিলারের মাঝামাঝি স্থানে কিছুটা উঁচু করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। দুই পিলারের মাঝা-মাঝি স্থানে অবস্থান করছে স্প্যান বহনকারী ভাসমান ক্রেনটি। এরপর জাহাজটি নোঙ্গর করে ১২টি এ্যাঙ্কর দিয়ে শক্ত করে স্প্যানটি ২ খুঁটির মাঝামাঝি স্থানে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ২০তম স্প্যান বসানোর ১৪ দিনের মাথায় বসতে যাচ্ছে ২১ তম স্প্যানটি। পদ্মাসেতুর ৪২টি পিলারের মধ্যে কাজ শেষ হয়েছে ৩৬টি পিলারের। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো।

জাতীয় পাতার আরো খবর