বৃহস্পতিবার, জুলাই ৯, ২০২০
যুক্তরাজ্যকে বিশেষ তহবিল গঠনের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
১৯মে,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক খাতের আমদানি অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। এক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য সরকারকে সে দেশের ক্রেতাদের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠনের অনুরোধ জানান তিনি। মঙ্গলবার (১৯ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া ও কমনওয়েলথ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লর্ড আহমেদের সঙ্গে ফোনে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ অনুরোধ করেন। এ সময় শাহরিয়ার আলম উল্লেখ করেন, তৈরি পোশাক খাতে যুক্তরাজ্যের ক্রেতারা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত করেছে । ফলে এ সেক্টরে কর্মরত প্রায় ১০ লাখ শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জীবিকা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এ তহবিল বাংলাদেশে এ খাতে কর্মরত শ্রমিক ও তাদের পরিবারদের জন্য সহায়ক হবে। করোনা পরবর্তী বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে কমনওয়েলথের কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ও তাদের মধ্যে আলোচনায় স্থান পায়। লর্ড আহমেদ করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। বৈশ্বিক সমস্যা করোনা বিষয়ক সমস্যা সমাধানে উভয় প্রতিমন্ত্রী বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে একত্রে কাজ করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। এ সময় মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন তার প্রশংসা করেন যুক্তরাজ্যের এ প্রতিমন্ত্রী। যুক্তরাজ্যকে জাতিসংঘে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সক্রিয় দেশ হিসেবে উল্লেখ করে লর্ড আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত নৃশংস ঘটনার ন্যায়বিচার ও এ ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। মিয়ানমারের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল হিসেবে যুক্তরাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন। উভয় প্রতিমন্ত্রী নিকট ভবিষ্যতে আবার দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আলোচনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
করোনা জয় করলেন মুনতাসীর মামুন
১৮মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন করোনা ভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে ১৬দিন পর বাসায় ফিরেছেন। আজ সোমবার অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন করােনা মুক্ত হন। তিনি সর্বশেষ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি ছিলেন। জানা গেছে, ৩রা মে অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন করােনা আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অধ্যাপক মামুনের চিকিৎসার জন্য ছয় সদস্যের মেডিকেল বাের্ড গঠন করা হয়। ৭ই মে অধ্যাপক মামুনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের এইচডিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়। তার সঙ্গে করোনা আক্রান্ত হয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন তার ৮৬ বছর বয়সী মা জাহানারা খান। তিনিও সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন।
আগামীকাল ২ লাখ ৫১৪৫ হাজার কোটি টাকার নতুন এডিপির অনুমোদন
১৮মে,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) আগামীকাল যোগাযোগ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসন্ন ২০২০-২১ অর্থ বছরের জন্য ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অনুমোদন দিতে যাচ্ছে। রাজধানীর শেরে বংলা নগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে আগামীকাল সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এনইসি সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী গনভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যোগদান করবেন। পরিকল্পনা কমিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, নতুন এডিপির মোট ব্যয়ের ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা আসবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং ৭০ হাজার ৫০১ কোটি ৭২ লাখ টাকা পাওয়া যাবে বৈদেশিক সহায়তা বাবদ। তিনি আরো জানান, নতুন এডিপির আকার চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির তুলনায় ১২ হাজার ২২৪ কোটি টাকা বেশি। পরিকল্পনা সচিব মুহাম্মদ নুরুল আমীন বাসসকে বলেন, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের এডিপি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করে এডিবি প্রস্তুত করা হয়েছে, তাই কোন খাতে বরাদ্দের ঘাটতি থাকবে না বলে তিনি জানান। করোনা মহামারির কারণে এডিপি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা তৈরি হচ্ছে কিনা-এমন প্রশ্নের উত্তরে পরিকল্পনা সচিব জানান, করোনা মোকাবেলায় চলতি এডিপির আওতায় প্রধানমন্ত্রী ১১২৭ ও ১৩৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দু’টি পৃথক প্রকল্প অনুমোদন করেছেন। তিনি বলেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী অর্থবছরেও এভাবে প্রকল্প অনুমোদন দেয়া যাবে। এর আগে গত ১২ মে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে পরিকল্পনা কমিশন আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকার এডিপির খসড়া অনুমোদন করে। নতুন এডিপিতে অনুমোদিত প্রকল্প যুক্ত হচ্ছে ১ হাজার ৫৫৮টি।বাসস
দেশের আরও ৬ হাজার ৯৭০টি কওমি মাদ্রাসাকে অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
১৮মে,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের আরও ৬ হাজার ৯৭০টি কওমি মাদরাসাকে ৮ কোটি ৬৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম আজ বাসসকে বলেন, এই টাকা ইলেকট্রনিক তহবিল স্থানান্তর (ইএফটি) পদ্ধতির মাধ্যমে ১৭মে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা বিভাগের ২ হাজার ২০২টি মাদ্রাসার জন্য ২ কোটি ৫৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা, চট্টগ্রাম বিভাগের ১ হাজার ২১১টি মাদ্রাসার জন্য এক কোটি ৭৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ৯৩৭টি মাদ্রাসার জন্য ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা দেয়া হযেছে। পাশাপাশি,রংপুর বিভাগের ৮৩৯টি মাদ্রাসার জন্য ৯৪ কোটি ২৫ লাখ, রাজশাহী বিভাগের ৬৬২টি মাদ্রাসার জন্য ৭৪ লাখ ৪৫ হাজার, খুলনা বিভাগের ৪৩১টি মাদ্রাসার জন্য ৫৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা, সিলেট বিভাগের ৪৮৬টি মাদ্রাসার জন্য ৪৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং বরিশাল বিভাগের ২০২টি মাদ্রাসার জন্য ২৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দেয়া হয়। প্রেস সচিব বলেন, মাদ্রাসার ছাত্রসংখ্যা একশ বা এর কম হলে ১০ হাজার টাকা, শিক্ষার্থীও সংখ্যা ১০১ থেকে ২০০ এরমধ্যে হলে ১৫ হাজার টাকা এবং ২০১ এর অধিক হলে ২০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ গত ১৪ মে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্থ ৫০ লাখ পরিবারের মধ্যে সাড়ে ১২শকোটি টাকা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে প্রদান করার সময় পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই দেশের সকল মসজিদ এবং আরো প্রায় ৭ হাজার মাদ্রাসায় আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, সরকার পবিত্র রমজানের আগেই প্রথম ধাপে ৬ হাজার ৯৫৯টি কওমী মাদ্রাসায় প্রায় ১০ কোটি টাকা অর্থ সাহায্য প্রদান করেছে। তিনি বলেন,দ্বিতীয় ধাপে ঈদুল ফিতরের আগে আমরা আরো প্রায় ৭ হাজার মাদ্রাসায় অর্থ সাহায্য প্রদান করলাম। কোন শ্রেনীর মানুষই যেন অবহেলিত না থাকে সে জন্যই আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি । প্রধানমন্ত্রী বলেন,ঈদের আগেই সরকার সকল মসজিদে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে। এ সময় তিনি বলেন, আমরা জানি মসজিদগুলো সামর্থবান লোকদের অনুদান এবং মসজিদ কমিটির সাহায্যে পরিচালিত হয়। কিন্তু আমাদেরও এক্ষেত্রে দায়িত্ব রয়েছে। কাজেই সকল মসজিদের তালিকা করতে বলা হয়েছে। আমরা সব মসজিদে অর্থ সহায়তা দেব। প্রধানমন্ত্রী পবিত্র রমজান উপলক্ষে যেসব মাদ্রাসায় প্রায় ১০ কোটি টাকার আর্থিক অনুদান দেন তার মধ্যে রংপুর বিভাগের ৭০৩টি, রাজশাহী বিভাগের ৭০৪টি, খুলনা বিভাগের ১০১১টি, বরিশাল বিভাগের ৪০২টি, ময়মনসিংহ বিভাগের ৩৯৭টি, ঢাকা বিভাগের ১৭শ ৮০টি, চট্টগ্রাম বিভাগের ১৪শ ৮১টি এবং সিলেট বিভাগের ৪শ ৮১টি মাদ্রাসা রয়েছে। দেশের কওমী মাদ্রাসা নেতৃবৃন্দ করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে পবিত্র রমজান এবং ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই অনুদান প্রদানে তাঁকে অভিনন্দন জানান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।বাসস
বিএনপির ক্রমাগত জঘন্য মিথ্যাচার ফৌজদারি অপরাধের শামিল : তথ্যমন্ত্রী
১৮মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির ক্রমাগত জঘন্য মিথ্যাচার ফৌজদারি অপরাধের শামিল । আজ দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির সাম্প্রতিক নানা মন্তব্যের প্রতি সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্যমন্ত্রী একথা বলেন। ড. হাছান বলেন, করোনাদুর্যোগে মানুষের জীবনরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। করোনার মধ্যে একজন মানুষও না খেয়ে মারা যায়নি। ৬ কোটির বেশি মানুষ আজ সরকারের ত্রাণ ও সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের আওতায়। পাশপাশি আরো ১ কোটির বেশি মানুষকে ত্রাণ দিয়েছে আওয়ামী লীগ এবং ত্রাণ কার্যক্রমে মানুষ খুশি। তিনি বলেন, বিএনপি মাঝেমধ্যে ঢাকা ও আশেপাশে কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জে ফটোসেশন করে দুই-তিনশ মানুষেকে ত্রাণ দিতে গিয়ে বিষোদগার করছে। ড. হাছান বলেন, যারা জেগেও ঘুমায়, তাদের ঘুম ভাঙ্গানো যায় না। প্রকৃতপক্ষে সরকার যেভাবে এই পরিস্থিতিকে সামাল দিচ্ছে এতে বিএনপি প্রচন্ড হতাশ এবং সেই হতাশা থেকেই তারা এই বক্তব্য রাখছে। তথ্যমন্ত্রী বলেন বিএনপি, বিশেষ করে তাদের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যেভাবে মিথ্যাচার করছেন, তা ফৌজদারি অপরাধের শামিল। তার এই মিথ্যাচার নেশা না করেও নেশাগ্রস্ত মানুষ যেভাবে নেশায় বুঁদ হয়ে বকবক করে তার এই বক্তব্যগুলো ঠিক সেই রকম। আমি আশা করবো, ক্রমাগতভাবে এই মিথ্যাচারের রাজনীতি থেকে তারা বেরিয়ে আসবেন এবং এই রমজান মাসে দয়া করে তা পরিহার করবেন। ড. হাছান বলেন, বিশ্ব প্রেক্ষাপটের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, করোনা ভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাব যখন শুরু হয়, ইউরোপ- আমেরিকার সুপার মার্কেটগুলোতে তখন পণ্য শেষ হয়ে গিয়েছিল। মানুষকে ঘন্টার পর ঘন্টা সুপার মার্কেটের সামনে পণ্য কেনার জন্য লাইন ধরে দাঁড়াতে হয়েছে। বহু সুপার মার্কেটে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়া যায়নি। মন্ত্রী বলেন, ইউরোপ-আমেরিকায় শুরুতে মাস্কের সংকট ছিল। হোয়াইট হাউজের সামনে এবং আমেরিকার অন্যান্য জায়গায় পিপিইর জন্য বিক্ষোভ হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে নিত্যপণ্যের বাজারে সেই পরিস্থিতি হয়নি। তিনি বলেন, নিত্যপণ্য ও মাস্কের কোনো ঘাটতি আমাদের দেশে হয়নি, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে লাখ লাখ পিপিই বিতরণ করা হয়েছে এবং কয়েক লাখ পিপিই মজুদ আছে। ত্রাণ বিতরণ অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে হচ্ছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম ত্রাণ বিতরণে সব দলের মানুষকে আনা হয়েছে। যারা অন্য দল করে তারাও আছে, যারা আওয়ামী লীগকে গালি দেয় এমনকি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিষোদগার করে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তারাও এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের আওতায় এসেছেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ৬৪ হাজারের বেশি স্থানীয় সরকার প্রতিনিধির মধ্যে দুর্নীতিতে ৫৫ জন অভিযুক্ত যা ০.০৮ শতাংশ অর্থাৎ ১ হাজারে ১ জনও নয়। ত্রাণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির ফলেই এরা শনাক্ত হয়েছে। অন্য কেউ নয়, সরকারি প্রশাসনই তাদের শনাক্ত করেছে, সরকারের পুলিশ এবং মন্ত্রণালয়ই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ৫০ লাখ পরিবারকে এককালীন ২ হাজার ৫শ টাকা নগদ পৌঁছার কার্যক্রম সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরির অবকাশ নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে তিন স্তরর তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে এটি সরাসরি গ্রহীতার কাছে যাচ্ছে, কোনো মাধ্যমে নয়। জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা ভোটার আইডি নম্বর, নাম, ঠিকানা, পিতার নাম ও মোবাইল নাম্বার না মিললে যাচ্ছে না। কেউ তালিকা দিলেই পাবেন, তা নয়, পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই করেই দেয়া হচ্ছে।বাসস
পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা
১৮মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বংশালের করোনা আক্রান্ত এক গর্ভবতী নারীর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন বংশাল থানা পুলিশ। কয়েক দিন আগে ওই নারী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোয় পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নারীটির পরিবার। করোনা মহামারিতে সব কিছুই বন্ধ। এমন একটি মুহুর্তে পুরান ঢাকার কামরুন্নাহারের সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছিলো, অন্যদিকে করোনার লক্ষণ প্রকট ছিলো তার শরীরে।করোনায় বন্ধ ছিলো রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালগুলো। কামরুন্নাহারকে কোথায় চিকিৎসা করাবেন আর কোথায় সন্তান প্রসব করাবেন এই নিয়ে মহামুশকিলে পড়ে যান স্বজনেরা। উপায়ান্তর না পেয়ে পুলিশের সহায়তা চেয়ে কল দিলেন। বংশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহীন ফকির-বিপিএম সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ওই বাসায় যান। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও তার স্বামীকে পিপিই, হ্যান্ড গ্লোভস, মাস্ক পরিয়ে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে, স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করে পুলিশের গাড়ীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান এবং পরীক্ষায় করোনা সনাক্ত হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে নিজ বাসাতেই চিকিৎসা চলছিলো ওই সন্তানসম্ভবা নারীর। ১১ মে সকাল অনুমান সাড়ে আটটায় সেই নারীর প্রসব বেদনা শুরু হলে কোন অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে না পেরে তার স্বামী আবারও থানা পুলিশের সহায়তা চান। বংশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহীন ফকির-বিপিএম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ওই বাসায় যান। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও তার স্বামীকে পিপিই, হ্যান্ড গ্লোভস, মাস্ক পরিয়ে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে, স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করে পুলিশের গাড়ীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ওই নারী একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বংশাল থানা ওই নারীকে সহযোগিতা করেই দায়িত্বের ইতি টানেনি, বরং নবজাতক সন্তান ও পরিবারটির নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন বংশাল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহীন ফকির বিপিএম। নিয়মিত খোঁজ খবর নেওয়ার এক পর্যায়ে শাহীন ফকির জানতে পারেন সেই নারীর স্বামী মোঃ জাহিদুর রহমান বংশাল এলাকায় একটি দোকানে কাগজের ব্যবসা করেন। উনার স্ত্রী করোনা পজিটিভ হওয়ায় ব্যবসা সমিতি থেকে তাকে দোকানে যেতে নিষেধ করা হয়। এতে বিপাকে পড়েন তিনি। ব্যবসায় বন্ধ থাকায় পড়েন আর্থিক সংকটে। এমন অবস্থা শুনে কোন রকম কালক্ষেপন না করেই পুলিশ জরুরি খাদ্য সহায়তা নিয়ে হাজির হন জাহিদুরের বাসায়। বর্তমানে প্রসূতি কামরুন্নাহার ও নবজাতক শিশু সূস্থ্য আছে। এক সপ্তাহ পরে মা ও শিশুর করোনা ভাইরাস পরীক্ষা হবে। মা ও শিশু এবং তার পরিবারে সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন বলে জানান মোঃ শাহীন ফকির। প্রসূতি নারীকে সহায়তা করে ঐখানেই থেমে থাকেনি বংশাল থানা পুলিশ। থানা এলাকায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত অন্যান্য রোগীরা যারা বাসায় আইসোলেশন থেকে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন তাদেরকে প্রতিনিয়ত খাদ্যসহ অন্যান্য সহায়তা করছে। সেই নারীর ভাই মো: মাইনুদ্দিন পুলিশের এই মানবিক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সীমাহীন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।একুশে টেলিভিশন। ঢাকা কলেজের ইংরেজির এই স্নাতক ও বারিধারার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী বলেন, করোনায় পুলিশ সদস্যরা জনগনের সবচেয়ে কাছের বন্ধুর ভূমিকা গ্রহন করেছেন। এই অবদানকে আমরা চিরদিন হৃদয়ের গভীরে ধারন করবো।
আম্ফান মোকাবিলায় প্রস্তুত সরকার ও আশ্রয় কেন্দ্র
১৮মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। এতে উপকূলের ৫১ লাখ ৯০ হাজার মানুষের জন্য ১২ হাজার ৭৮টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান। আজ সোমবার ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি বিষয়ে অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, আগামীকাল সকাল থেকে মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়ার কাজ শুরু হবে। ইতোমধ্যে মংলা ও পায়রা বন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আজকে সন্ধ্যার পর এটি সুপার সাইক্লোনে রূপ ধারণ করবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ১২ হাজার ৭৮টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। যেখানে প্রায় ৫১ লাখ ৯০ হাজার ১৪৪ জনকে আশ্রয় দেয়ার মতো আমাদের সক্ষমতা রয়েছে। সিপিপি (ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি) ভলান্টিয়ারদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তারা যেন আগামীকাল সকাল থেকে সকলকে আশ্রয় কেন্দ্রে আনার কাজ করেন। এ কাজকে ত্বরান্বিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কাজ করবে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক করোনায় আক্রান্ত
১৮মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) বাবলু কুমার সাহা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। রোববার (১৭ মে) সকালে তার নমুনা পরীক্ষা করা হলে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাসুম আরেফিন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোববার অসুস্থ হয়ে পড়ায় মহাপরিচালক নমুনা পরীক্ষা করান। রাতে টেস্টের রেজাল্ট পজিটিভ আসে। তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর জানায়, এখন পর্যন্ত ৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে আছেন, উপ-পরিচালক (উপ-সচিব) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার, প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ বিভাগ) আতিয়া সুলতানা, সহকারী পরিচালক (তদন্ত) শাহনাজ সুলতানা, সহকারী পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও প্রচার) রজবী নাহার রজনী, গাড়িচালক মিলিয়া খানম। প্রসঙ্গত, নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের প্রতিদিনের বাজার তদারকি, ট্রাকসেল তদারকিতে নিজে অংশ নিতেন বাবলু কুমার সাহা। অভিযানের পাশাপাশি মাঠে থেকে অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রি না করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
করোনায় সরকারি সহায়তা পেয়েছেন যারা
১৮মে,সোমবার,আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসের মতো দুর্যোগে সারাদেশের সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রেখেছে সরকার। এ পর্যন্ত সারাদেশে এক কোটিরও বেশি পরিবারের ৫ কোটি মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে সরকার। নগদ টাকা সাহায্য পেয়েছেন ৩ কোটি ৩ লাখ ৩৮ হাজার ব্যক্তি। আজ সোমবার এক তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, ৬৪ জেলা প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গতকাল পর্যন্ত সারাদেশে জিআর চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এক লাখ ৬৩ হাজার এক মেট্রিক টন এবং বিতরণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। এতে উপকারভোগী পরিবার সংখ্যা ১ কোটি ১৪ লাখ। উপকারভোগী লোকসংখ্যা পাঁচ কোটি এক লাখ ৪৩ হাজার। নগদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৯১ কোটির বেশি টাকা। বিতরণ করা হয়েছে ৫৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। ৬৮ লাখ ৬৯ হাজার পরিবারের কাছে এ টাকা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। শিশু খাদ্য সহায়ক হিসেবে বরাদ্দ ১৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং এ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ১৪ কোটি ৬৯ লাখ ২১ হাজার ৯৮৮ টাকা। এতে উপকারভোগী পরিবার সংখ্যা চার লাখ ৬২ হাজার ২৩৮ এবং লোখ সংখ্যা ১০ লাখ ১৩ হাজার ১৪৪। সূত্র: বাসস

জাতীয় পাতার আরো খবর