ফিরতে শুরু করেছে মানুষ
৮জুন২০১৯,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। আজ শনিবার সকাল থেকে নৌপথে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। কর্মস্থলে যোগ দিতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ঢল নামে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ঘাটে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেককেই লঞ্চ ও স্পিডবোটে করে পার হতে দেখা গেছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুই প্রবেশদ্বার শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ও দৌলতদিয়া ঘাটে রাজধানীমুখী মানুষের ঢল নামে। ফলে অসহনীয় দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ী ঘাট সূত্র জানায়, ঈদের ছুটি শেষে আবার ব্যস্ত হয়ে উঠেছে কাঁঠালবাড়ী ঘাট। ঈদ ফিরতি যাত্রায় যাত্রী দুর্ভোগ এড়াতে বাড়ানো হয়েছে ফেরি সংখ্যাও।
বিশ্ব পর্যটন সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত বাংলাদেশ
৮জুন২০১৯,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার সাধারণ পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সংস্থাটির ক্রেডেনশিয়াল কমিটিরও সদস্য নির্বাচিত হয়েছে।বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার এ কথা জানানো হয়। ৩ ও ৬ জুন ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশ্ব পর্যটন সংস্থার কমিশন ফর সাউথ এশিয়ার ৫৭তম সম্মেলনে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
ছুটি শেষে আগামীকাল খুলছে সরকারি অফিস-আদালত
৮জুন২০১৯,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে আগামীকাল খুলছে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়সহ সব সরকারি অফিস-আদালত। খুলছে অনেক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও।এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে গত বুধবার সারাদেশে পালিত হয় পবিত্র ঈদুল ফিতর। মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার (৪, ৫ ও ৬ জুন) ছিল ঈদুল ফিতরের ছুটি। এরপর শুক্র ও শনিবার (৭ ও ৮ জুন) সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সরকারি চাকুরেরা পাঁচ দিন ছুটি কাটানো সুযোগ পান। আজ শনিবারই শেষ হচ্ছে ছুটি। এর ফলে আগামীকাল থেকে আবার কর্মচঞ্চল হবে অফিস পাড়া।এদিকে ঈদের ছুটিতে যারা বাড়ি গিয়েছিলেন তারা এখন আবার কর্মস্থল রাজধানীমুখী হতে শুরু করেছেন। ফলে আজ থেকে শুরু হয়েছে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ।
আগামীকাল সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী
৮জুন২০১৯,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ড সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল রবিবার বিকালে গণভবনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।সাধারণত কোনো দেশে সরকারি সফর শেষে ফিরে এসে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তবে সংশ্লিষ্ট সফর ছাড়াও সেখানে বিভিন্ন ইস্যুতে প্রশ্ন করার সুযোগ পান সাংবাদিকরা।সর্বশেষ গত ২৫ এপ্রিল ব্রুনাই সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এর প্রায় দেড় মাস পর সংবাদ সম্মেলনে আসছেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। রবিবার বিকাল পাঁচটায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে।
দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
৮জুন২০১৯,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ডে ১১ দিনের সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানের বিশেষ ফ্লাইটটি আজ শনিবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার গণমাধ্যমকে এমন খবর নিশ্চিত করেছেন। ফিনল্যান্ড থেকে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে রওনা হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। দোহার হাম্মাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছিল তার যাত্রাবিরতি। এই সফরে গত ২৮ মে জাপানের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। টোকিওতে দ্য ফিউচার অব এশিয়া সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সফরে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য জাপানের সঙ্গে আড়াইশ কোটি ডলারের উন্নয়ন সহায়তা চুক্তি হয়। জাপান সফর শেষে ওআইসির চতুর্দশ সম্মেলনে যোগ দিতে ৩০শে মে শেখ হাসিনা সৌদি আরবে যান। সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর ওমরাহ পালন করেন তিনি, মহানবী (স.) রওজা জিয়ারত করেন। সৌদি আরব থেকে গত ৩রা জুন ফিনল্যান্ড যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী।
ফিনল্যান্ড থেকে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী
৮জুন২০১৯,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিনল্যান্ডে তাঁর পাঁচ দিনের সরকারি সফর শেষে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এটি ছিল তাঁর ত্রিদেশীয় সফরের তৃতীয় ও চূড়ান্ত সফর। ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কি থেকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য লেখক মো. নজরুল ইসলাম জানান, কাতার এয়ারলাইন্সের একটি বিমান ফিনল্যান্ড সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফর সঙ্গীদের নিয়ে কাতারের রাজধানী দোহার উদ্দেশে হেলসিঙ্কি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। সুইডেনে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম বিমান বন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। বিমানটি স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে কাতারের দোহা হামাদ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করে। দোহায় যাত্রা বিরতির পর প্রধানমন্ত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে শনিবার ভোরে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি শনিবার বেলা পৌনে ১১ টায় হজরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করবে। ফিনল্যান্ডে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪ জুন ফিনিস প্রেসিডেন্ট সাউলি নিনিস্তোর সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন এবং ৫ জুন অল ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ ও ফিনল্যান্ড আওয়ামী লীগ তাঁর সম্মানে আয়োজিত এক সংবর্ধনায় যোগ দেন। সৌদি আরবে তিন দিনের সফর শেষে শেখ হাসিনা গত ৩ জুন ত্রিদেশীয় সফরের দ্বিতীয় গন্তব্য জেদ্দা থেকে হেলসিঙ্কি পৌঁছেন। সৌদি আরবে তিন দিনের সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বাদশাহর আমন্ত্রণে মক্কায় অনুষ্ঠিত ১৪তম ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন। এ ছাড়া তিনি মক্কায় পবিত্র ওমরাহ পালন এবং মদিনায় প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)-এর রওজা জিয়ারত করেন। প্রধানমন্ত্রী গত ২৮মে ত্রিদেশীয় সফরের প্রথম গন্তব্য জাপানের রাজধানী টোকিও যান। জাপানে চারদিন অবস্থানকালে শেখ হাসিনা ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে আড়াই বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় চুক্তিসহ ৪০টি ওডিএ চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ফিউচার ফর এশিয়া বিষয়ক নিক্কেই সম্মেলনেও যোগ দেন। ওই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সফরে তিনি জাপানের ব্যবসায়ী নেতৃতৃন্দের সঙ্গেও গোলটেবিল বৈঠক করেন। শেখ হাসিনা হলি আর্টিজান হামলায় হতাহতদের পরিবার এবং জাইকার প্রেসিডেন্ট শিনিচি কিতাওকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
বাংলাদেশ-ভারত অংশীদারিত্বকে বঙ্গবন্ধুর নির্ধারিত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে চায় ভারত
৭জুন২০১৯,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেনকে গত ৪ জুন লেখা এক পত্রে ভারতের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শংকর বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূচনালগ্নে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ-ভারত অংশীদারিত্বের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দু দেশের অংশীদারিত্বকে সে পর্যায়ে নিয়ে যেতে আমি অঙ্গীকারবদ্ধ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ শুক্রবার এ কথা জানানো হয়। এস. জয়শংকর বলেন, নিকটতম প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও ভারত দু দেশের সম্পর্ক গভীর সম্পর্কে রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি জনগণের ব্যাপক ম্যানডেট নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সরকার গঠন এবং এ মাসে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সেরও জনগণের ব্যাপক ম্যানডেট নিয়ে সরকার গঠন- দু দেশের সুদৃঢ় অংশীদারিত্বের প্রতি উভয় দেশের জনগণের ব্যাপক সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ। এস. জয়শংকর শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আশাবাদও ব্যক্ত করেন।
ঢাকা-হেলসিঙ্কি জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে
৭জুন২০১৯,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সাউলি নিনিস্তোর মধ্যে বৈঠকে বাংলাদেশ ও ফিনল্যান্ড জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। মঙ্গলবারের এ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ১১ লাখ রোহিঙ্গা মানুষকে নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকে দৃঢ় সমর্থন কামনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা লেখক (সচিব) মো. নজরুল ইসলাম এখানে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক মিটার বেড়ে গেলে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ ডুবে যাবে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের পরিণতি মোকাবেলায় তার সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি জলবায়ূু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় নিজের সম্পদ নিয়ে বাংলাদেশ ক্লাইমেট রেসিলিয়েন্স ফান্ড গঠনের কথা উল্লেখ করেছেন। শেখ হাসিনা ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্টকে তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়ে বিশেষ করে বাংলাদেশের উপকূল বরাবর সবুজ বেল্ট নির্মাণ এবং স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রভাবগুলো মোকাবেলার বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে অবগত করেন। ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, জলবায়ুু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্র পৃষ্ঠের উত্থান ঘটলে বাংলাদেশ মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হবে। তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে জলোচ্ছ্বাস থেকে ক্ষতি হ্রাস করার জন্য বৈশ্বিক সতর্কবাণী ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন। রোহিঙ্গা বিষয়ে শেখ হাসিনা উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ এবং রোহিঙ্গা জনগণের বিপুল সংখ্যক লোককে আশ্রয় প্রদান করা খুব কঠিন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মিয়ানমার চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পরও রোহিঙ্গা জনগণকে ফিরিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি রাখেনি। ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ১.১ মিলিয়ন রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক নির্বাসনের পরেও মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়নি। তিনি বলেন, সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়- বাংলাদেশ বন্ধুত্বের এই বৈদেশিক নীতি অনুসরণ করে। বাংলাদেশ প্রতিবেশীদের সাথে খুব ভাল সম্পর্ক বজায় রাখে। প্রধানমন্ত্রী এই বছর ৮.১৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সূচক বর্ণনা করেছেন এবং ফিনল্যান্ডের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তার সরকার ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ফিনল্যান্ডের বিনিয়োগকারীরা যদি চান তবে তাদের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল থাকতে পারে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পরপরই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য তিনি ফিনল্যান্ডের প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন,ফিনল্যান্ড দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ও পরে বাংলাদেশে যে পরিমাণ সহায়তা ও সহযোগিতা করেছিল, তা আমরা সবসময় মূল্যবান বলে মনে করি। প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সারা জীবনের দীর্ঘ সংগ্রাম এবং দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে তার কারাবাসের বর্ণনা দেন। ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা তার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যের সাথে জাতির পিতার হত্যার পর নিজের সংগ্রাম করার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ১৯৮১ সালে তিনি জনগণের সমর্থন নিয়ে দেশে ফিরে আসেন এবং দেশের জনগণই তাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চারবার ভোট দিয়েছেন। ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী তার সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফর করার জন্য ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আমন্ত্রণ জানান এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হককে আইওএমের মহাপরিচালক নির্বাচিত করার জন্য ফিনল্যান্ডের সমর্থন কামনা করেন। বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট তার বাসভবনে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী সেখানে সফরকারীদের বইয়ে স্বাক্ষর করেন। সোমবার বিকেলে পাঁচ দিনের সরকারি সফরে শেখ হাসিনা এখানে পৌঁছেছেন।
আজ ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস
৭জুন২০১৯,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঐতিহাসিক ছয়-দফা দিবস আজ। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ৬-দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী তীব্র গণআন্দোলনের সূচনা হয়। এই দিনে আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে টঙ্গি, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে পুলিশ ও ইপিআর’র গুলিতে মনু মিয়া, শফিক ও শামসুল হকসহ ১১ জন বাঙালি শহীদ হন। এরপর থেকেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আপোষহীন সংগ্রামের ধারায় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে যায় পরাধীন বাঙালি জাতি। পরবর্তী সময়ে ঐতিহাসিক ৬-দফাভিত্তিক নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনই ধাপে ধাপে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিণত হয়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী প্রদান করেছেন। বাণীতে তারা ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য যারা জীবন দিয়েছেন তাদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। আওয়ামী লীগ এ উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করবে। আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- এদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। পাকিস্তানি শাসন-শোষণ বঞ্চনা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে আইয়ুব খান সরকারের বিরুদ্ধে নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি নবাবজাদা নসরুল্লাহ খানের নেতৃত্বে লাহোরে তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সব বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে ডাকা বিরোধী দলীয় এক জাতীয় সম্মেলন আহ্বান করা হয় ১৯৬৬ সালের ৫ফেব্রুয়ারি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদিন অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সাবজেক্ট কমিটিতে ৬-দফা উত্থাপন করেন এবং পরের দিন সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে যাতে এটি স্থান পায় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু এই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর এ দাবির প্রতি আয়োজকপক্ষ গুরুত্ব প্রদান করে নি। তারা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে। প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু সম্মেলনে যোগ না দিয়ে লাহোরে অবস্থানকালেই ৬-দফা উত্থাপন করেন। এ নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন খবরের কাগজে বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা বলে চিহ্নিত করা হয়। পরে ঢাকায় ফিরে বঙ্গবন্ধু ১৩ মার্চ ৬-দফা এবং এ ব্যাপারে দলের অন্যান্য বিস্তারিত কর্মসূচি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদে পাস করিয়ে নেন। ৬-দফার মূল বক্তব্য ছিল- প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় ছাড়া সকল ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকবে। পূর্ববাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তানে দু’টি পৃথক ও সহজ বিনিময়যোগ্য মুদ্রা থাকবে। সরকারের কর ও শুল্ক ধার্য ও আদায় করার দায়িত্ব প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকাসহ দুই অঞ্চলের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা হিসাব থাকবে এবং পূর্ববাংলার প্রতিরক্ষা ঝুঁকি কমানোর জন্য এখানে আধা-সামরিক বাহিনী গঠন ও নৌবাহিনীর সদর দফতর স্থাপন। বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ৬-দফা দাবির মুখে পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খান বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ৬-দফা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে অস্ত্রের ভাষায় উত্তর দেয়া হবে। এদিকে ৬-দফা কর্মসূচি জনগণের মাঝে পৌঁছে দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সমগ্র পূর্ববাংলা সফর করেন এবং ৬-দফাকে বাঙালির বাঁচার দাবি হিসেবে অভিহিত করেন। বঙ্গবন্ধুর সাথে তাজউদ্দিন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান চৌধুরী, জহুর আহমদ চৌধুরী ও নুরুল ইসলাম চৌধুরী গণসংযোগে অংশ নেন। যশোর, ময়মনসিংহ ও সিলেটসহ অন্যান্য কয়েকটি স্থানে ৬ দফার পক্ষে প্রচারকালে বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হন। এ দাবির সপক্ষে বাঙালি জাতির সর্বাত্মক রায় ঘোষিত হয় ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বাঙালিরা বিজয়ী করে। অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর দলকে জনগণ বিজয়ী করলেও স্বৈরাচারী পাক শাসকরা বিজয়ী দলকে সরকার গঠন করতে না দিলে আবারো বঙ্গবন্ধু জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।

জাতীয় পাতার আরো খবর