ঈদের সেই আনন্দ নেই
২৫মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের কারণে আগের মতো ঈদের সেই আনন্দ নেই, নেই হাসিমুখ, নেই কোনো কোলাকুলি। মসজিদে ঈদের নামাজে ঢুকে চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। বিভিন্ন মসজিদ ঘুরে দেখা যায়, আতঙ্ক আর দুশ্চিন্তা নিয়ে মসজিদে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। তবে অন্য বার ঈদের নামাজ শেষে একজন আরেকজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেয়ার যে দৃশ্য দেখা যেত এবার তা দেখা যায়নি। প্রতিবছর ঈদের নামাজের পর হাসিমুখে কোলাকুলির এই দৃশ্য দেখা গেলেও এবার সেই দেখা মিলছে না। এক মাস রোজা রাখার পর খুশির ঈদ এলেও মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে তা নিরানন্দ হয়ে গেছে। ঈদের খুশির বদলে মানুষের মনে আতঙ্ক আর নানা দুশ্চিন্তা ভর করেছে। এক মুসল্লি বলেন, ঈদের দিন এমন হবে কোনোদিন ভাবিনি। রোজার শেষে ঈদ এসেছে, কিন্তু ঈদের সেই আমেজ কোথাও নেই। ঈদের নামাজ পড়েছি আতঙ্ক আর দুশ্চিন্তা নিয়ে। তিনি বলেন, মহামারি করোনাভাইরাস আমাদের সব আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। কবে এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাব তার কোনো ঠিক নেই। আরেক মুসল্লি বলেন, অন্যবার ঈদের দিন বন্ধুরা মিলে কত হইহুল্লোড় করে বেড়িয়েছি। এবার আর কোনো কিছু নেই। একবন্ধু আরেক বন্ধুর বাসায় দাওয়াত খেতে যাব তার সুযোগ নেই। এমন পরিস্থিতির ঈদ খুশির বদলে বেদনা দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, জীবনে আর কখনো ইমন ঈদের দিন আসবে কি-না জানিনা। তবে যতদিন বেঁচে থাকব এই ঈদের দিনের কথা মনে থাকবে। এ কথা কখনো ভুলব না। ষাটোর্ধ্ব মমিনুল ইসলাম বলেন, বয়স আমার কম হয়নি। যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ সবই দেখেছি। কিন্তু এমন দৃশ্য কখনো দেখিনি। কোনো যুদ্ধ নেই, হানাহানি নেই তারপরও মানুষের মনে কোনো আনন্দ নেই। এক কঠিন মুহূর্ত। তিনি বলেন, প্রতিবছরই ঈদের দিন প্রতিবেশীদের সঙ্গে আনন্দ করেছি। বন্ধু, বড় ভাই, পরিচিতজনদের ঈদের নামাজ শেষে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করেছে। এবার কারো সঙ্গে কোলাকুলি করার কোনো সুযোগ হয়নি। দূরে দাঁড়িয়ে একজন আরেকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। কোলাকুলি করতে না পারার বেদনায় বুক ফেটে যাওয়ার মতো অবস্থা। কিন্তু কিছু করার নেই। এ পরিস্থিতি আমাদের সবাইকে মেনে নিতে হবে। এদিকে রাজধানীর বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টায় ঈদুল ফিতরের প্রধান জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিরাপদ শারিরীক দূরত্ব এবং করোনা ভাইরাস পরিস্থিতর জন্য অন্যান্য নির্দেশনা মেনেই এই জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে
২৪ মে,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সোমবার সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনাভাইরাসের বিস্তারের কারণে এবার ভিন্ন মাত্রার ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের জামাত আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সোমবার যে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে যাচ্ছে তা নির্ধারিত হয় শনিবার রাতেই। এদিন চাঁদ না দেখা যাওয়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে ৩০ রোজা শেষে সোমবার ঈদুল ফিতর উদযাপনের দিন নির্ধারণ করা হয়। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা শেষে প্রতিবছরই উদযাপিত হয় এই ঈদ উৎসব। এ উপলক্ষে সাধারণত তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। ছুটিতে স্বজনদের সাথে ঈদ করার জন্য কয়েক দিন ধরেই নাড়ির টানে গ্রামে ছুটে যায় লাখ লাখ মানুষ। রাজধানী ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায়। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম। কারোনা পরিস্থিতির কারণে আগে থেকেই সাধারণ ছুটি চলছে। গণপরিবহন বন্ধ। ব্যক্তিগত গাড়িতে কিছু সংখ্যক মানুষ গ্রামের বাড়িমুখো হলেও অধিকাংশ মানুষই এবার যেতে পারছে না। করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছে। নিজ বাসাবাড়িতে অবস্থান করছে। ঈদের শুরুটা হয় ঈদগাহে সবাই মিলে নামাজ পড়তে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। করোনার কারণে স্মরণকালে এই প্রথম ঈদের জামাত হবে না ঈদগাহে। গত ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো জাতীয় ঈদগাহে নেই জামাতের আয়োজন। করোনার বিস্তার রোধে দেশের কোথাও এবার ঈদগাহে জামাত হবে না। মসজিদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জামাত করার পরামর্শ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৭টায় হবে। পরের জামাতগুলো হবে ৮টা, ৯টা, ১০টা এবং পৌনে ১১টায়। অন্যান্য মসজিদেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে জামাত আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাঙালির কাছে ঈদ শুধু আনন্দের নয়, সব ভেদাভেদ ভুলে পরম শত্রুকেও বুকে টেনে নেওয়ার দিন। কিন্তু করোনার সংকটে এখানেও বাধা রয়েছে। ঈদ জামাতের পর কোলাকুলি করা যাবে না, হাত মেলানো যাবে না।
দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
২৪ মে,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ । করোনা সংকটের শুরু থেকেই প্রায় সব সংসদ সদস্য (এমপি) নিজ নিজ এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।আজ রোববার রাজধানীর মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবনে সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যেককে ঘরে থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছিল, সেটি সবার জন্যই প্রযোজ্য। আর সংসদ সদস্যরা এলাকায় গেলে কিছু লোকসমাগম হয়ই। সেটি যথাসম্ভব এড়ানোরও প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বয়োজ্যেষ্ঠ ও অসুস্থ, যাদের বাসায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, তারা ও দু'একজন ব্যতিক্রম বাদে প্রত্যেক সংসদ সদস্যই নিজ এলাকায় ত্রাণ তৎপরতায় অংশ নিয়েছেন ও নিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, এলাকায় না গিয়েও লোকজনের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করা যায় এবং সেটি প্রত্যেক সংসদ সদস্য শুরু থেকেই করে আসছেন।
দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
২৪ মে,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমি বাংলাদেশের জনগণসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। ঈদ মোবারক। ঈদুল ফিতর মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব হলেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে সকল ধর্ম এবং বর্ণের মানুষ এ উৎসবে সমানভাবে শামিল হয়ে থাকেন। ঈদের আনন্দ সকলে ভাগাভাগি করে উপভোগ করেন। রোববার (২৪ মে) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। সরকারপ্রধান বলেন, এ বছর এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। করোনাভাইরাস নামক এক প্রাণঘাতী ভাইরাস সারাবিশ্বে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। তার ওপর ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঈদগাহ ময়দানের পরিবর্তে মসজিদে মসজিদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাইকে আমি ঘরে বসেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার অনুরোধ জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে সামর্থ্যবানদের প্রতি আহ্বান জানাই, এই দুঃসময়ে আপনি আপনার দরিদ্র প্রতিবেশী, গ্রামবাসী বা এলাকাবাসীর কথা ভুলে যাবেন না। আপনার যেটুকু সামর্থ আছে তাই নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ান। তাহলেই ঈদের আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে আপনার ঘর এবং হৃদয়-মন।
ঈদে কোলাকুলি না করার আহবান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
২৪ মে,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনাভাইরাসের সংক্রমন রোধে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে এবার ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। আজ রোববার করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ আহ্বান জানান। এছাড়া কমপক্ষে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের জামায়াতে শরিক হওয়ার জন্যও তিনি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আগামীকাল (সোমবার) ঈদুল ফিতর। আমরা দেখতে পাচ্ছি অনেকে ইতোমধ্যে শহর ছেড়ে গ্রামে গেছেন এবং এখনও যাচ্ছেন। তবে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ থাকবে, সবাই স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলবেন। সব ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলবেন। কমপক্ষে ৩ ফুট সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের জামায়াতে শরিক হবেন। সব মুসলিম ভাইয়ের প্রতি অনুরোধ, ঈদে কোলাকুলি থেকে বিরত থাকবেন। নাসিমা সুলতানা বলেন, শিশুদের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখবেন। ঈদের আনন্দ উচ্ছলতার কারণে তারা যেন ঝুঁকির সম্মুখীন না হন। অবশ্যই শিশুসহ সবাইকে নিয়ম অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল
২৪ মে,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সবধরনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ঈদের আগে শেষ সময়ে ঢাকা ছাড়ছেন নগরবাসী। দুঃসময়ের এ ঈদযাত্রায় ভাড়া করা যানবাহনে গাদাগাদি করে যাচ্ছেন ঘরমুখো মানুষ। পুলিশ বলছে, গণপরিবহন ছাড়া সব ধরনের পরিবহন চলতে বাধা না থাকায় খুব সহজেই ঢাকা প্রবেশ এবং বের হওয়া যাচ্ছে। এতে বাড়ছে সংক্রমণের ঝুঁকি। করোনা সংক্রমণ রোধে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। তবুও থেমে নেই ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল। ট্রাক, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত কিংবা ভাড়ার গাড়িতে গাদাগাদি করে ছুটছেন অনেকে। সারাদেশে করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকলেও রোববার সকাল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই দেখা যায় মানুষের চলাচল। একজন বলেন, বাঁচি কী মরি তাই বাড়িতে যাচ্ছি। হতে পারে এটা জীবনের শেষ ঈদ। আরেকজন বলেন, দেশে ভাইবোন আছে; তারা আবদার করল তাই বাড়িতে যাই। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ঘরমুখো যাত্রীদের গুনতে হয় কয়েকগুণ বাড়তি টাকা। গণপরিবহন ছাড়া সব ধরনের পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে লকডাউন। এ অবস্থায় ঘরমুখো মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের এক সদস্য বলেন, এ মুহূর্তে আমাদের প্রতি নির্দেশনা রাস্তায় যেন কোনো জটলা সৃষ্টি না হয়। সাধারণ জনগণ যাদের জন্য এতকিছু তাদের আসলে মাথা ব্যথা নেই। তারা ঝুঁকি মেনে নিয়ে যাচ্ছে। দেশে করোনা শনাক্তের পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকলেও সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কে শিথিলতাও চলে এসেছে।
দেশবাসীকে ঈদ উল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের
২৪ মে,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর মুসলিম জাহানের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসবে দেশবাসীকে ঈদ উল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় বৈশ্বিক মহামারী করোনা সংকটে আক্রান্ত বিশ্ব সমাজ। এ সংকটে সুনিশ্চিত ও নিরাপদ ভবিষ্যতের স্বার্থে জনসমাগম এড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঈদ উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রোববার (২৪ মে) সকালে তার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংকালে এ কথা জানান ওবায়দুল কাদের। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অতীতে যেভাবে সংকট পেরিয়ে আশার সুবর্ণা প্রদীপ জ্বলেছে। ঠিক তেমনি করোনা সংকট জয় করে আবারও নবউদ্যমে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ এমন মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। মনের গহীনের আলো জ্বেলে অমানিশার আঁধার দূর করে সহমর্মিতার সহজাত বাঙালির চেতনায় নিজেদের জাগিয়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এবারের ঈদ শেষ নয়,পরবর্তী সুরভিত সকালে বর্ণময় ঈদ আসবে। করোনা সংকটে সকলকে সাহস ও মনোবল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহবান জানিয়ে কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ও মানবিক নেতৃত্বে অতীতের মতো এবারও সংকটের সাগর পেরিয়ে তীরে পৌঁছাবো ইনশাআল্লাহ।
পুলিশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৩ জনে
২৪ মে,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীতে রাজু আহম্মেদ নামে আরো এক পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে পুলিশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৩ জনে। রাজু আহম্মেদ পুলিশের পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটে কর্মরত ছিলেন। রোববার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২ মে অসুস্থবোধ করায় করোনার পরীক্ষা করান পরিদর্শক রাজু আহম্মেদ। পরদিন পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ এলে ৪ মে তিনি রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই দিনই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন থাকা পুলিশের এ কর্মকর্তা রোববার সকালে মারা যান। রাজু আহম্মেদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে। তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। এ পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার) গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মরহুমের মরদেহ পুলিশের উদ্যোগে তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে পাঠানো হয়েছে। সেখানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে। করোনাকালে জনগণকে সেবা ও সুরক্ষা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হন তিনি। করোনা প্রতিরোধের ফ্রন্ট ফাইটার ছিলেন তিনি। করোনাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গ করা বাকি ১২ সদস্য হলেন-ডিএমপির কনস্টেবল জালাল উদ্দিন খোকা (৪৭), সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্রী রঘুনাথ রায় (৪৮), কনস্টেবল জসিম উদ্দিন (৪০), এএসআই মো. আব্দুল খালেক (৩৬), কনস্টেবল মো. আশেক মাহমুদ (৪৩), উপপরিদর্শক (এসআই) সুলতানুল আরেফিন (৪৪), এসবির এসআই নাজির উদ্দীন (৫৫), এসআই মো. মজিবুর রহমান তালুকদার (৫৬) এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কনস্টেবল মো. নঈমুল হক (৩৮), চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কনস্টেবল মোখলেসুর রহমান, ডিএমপির নায়েক মো. আল মামুনুর রশিদ ও রাজশাহী রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সে এসআই আল মোশাররফ হোসেন।
দেশে আরও ১ হাজার ৫৩২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত,মারা গেছেন ২৮ জন
২৪ মে,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে আরও ১ হাজার ৫৩২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে মারা গেছেন ২৮ জন। ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত এটাই সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। করোনাভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে রোববার (২৪ মে) এ তথ্য জানানো হয়েছে। বুলেটিনে অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, গেল ২৪ ঘণ্টায় ৯ হাজার ১৮৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছে ৮ হাজার ৯০৮টি নমুনা। এর মাঝে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৫৩২ জনের শরীরে। তিনি আরও বলেন, এই সময়ের মধ্যে মারা গেছেন ২৮ জন। এ নিয়ে মোট ৪৮০ জন মারা গেলেন। এছাড়া এই সময়ে ৪১৫ জন সুস্থ হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

জাতীয় পাতার আরো খবর